বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Optional Laws-1

মোট প্রশ্ন৩৫১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Optional Laws-1

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৩৫১

১০১.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ কত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবেন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৯০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ২৮ ধারার বিধান আপীল: 
- ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে, হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবেন।
১০২.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর মিথ্যা মামলা দায়ের বা অভিযোগ দায়েরের শাস্তি অনধিক _____ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭: মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের ইত্যাদির শাস্তি

(১) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অন্য কোন ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ করার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান তাহা হইলে মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়ের করাইয়াছেন উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

(২) কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল উপ-ধারা (১) এর অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করিতে পারিবে।

Section 17: Punishment for filing any false case, complaint etc.

i. If any person files or causes to be filed any case or complaint against a person under this Act for the purpose of causing injury to that person, although he knows that he had not any proper or; legal ground to do so, the person filing or causing to be filed that case or complain shall be punished with rigorous imprisonment for either description which may extend to seven years and also with fine.

ii. The Tribunal can take cognizance and adjudicate any offence under subsection (і), on a written application by any person.
১০৩.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩১(২) অনুযায়ী, মাদক অপরাধের তদন্ত ৬০ দিনের মধ্যে শেষ না হলে অতিরিক্ত কত দিন সময় দেওয়া যায়?
  1. ৭ কার্যদিবস
  2. ১৫ কার্যদিবস
  3. ৩০ কার্যদিবস
  4. ৪৫ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা
⇒ "মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮" এর ধারা ৩১(২) অনুযায়ী, মাদক অপরাধের তদন্ত ৬০ দিনের মধ্যে শেষ না হলে অতিরিক্ত ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া যায়। 
- ধারা ৩১(১)(খ) অনুযায়ী, যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের সময় হাতেনাতে ধৃত না হয়, তবে তদন্ত প্রাথমিক তথ্যপ্রাপ্তি বা তদন্তের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তবে, ধারা ৩১(২) এ উল্লেখ আছে যে, কোনো যুক্তিসংগত কারণে এই সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে, তদন্তকারী অফিসার কারণ লিপিবদ্ধ করে অতিরিক্ত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।

অর্থাৎ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩১(২)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
যদি ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করা সম্ভব না হয়, তদন্তকারী অফিসার যুক্তিসঙ্গত কারণ লিপিবদ্ধ করে, অতিরিক্ত ১৫ (পনেরো) কার্যদিবসের সময় পাবেন তদন্ত শেষ করার জন্য।

প্রাসঙ্গিক অংশ:
"কোনো যুক্তিসংগত কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্তকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে, তদন্তকারী অফিসার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অতিরিক্ত ১৫ (পনেরো) কার্যদিবসের মধ্যে মাদকদ্রব্য অপরাধের তদন্তকার্য সম্পন্ন করিবেন..."
১০৪.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৩ ধারায়, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত অবৈধ সম্পদ ও অর্থ যাচাইয়ের জন্য কোন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নিতে হবে?
  1. দণ্ডবিধি, ১৮৬০
  2. আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪
  3. মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৩: ব্যাংক হিসাব, ইত্যাদি নিরীক্ষা ও নিষ্ক্রিয়করণ:
(১) যদি মহাপরিচালক অথবা তদন্তকারী অফিসারের এইরূপ বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধের সহিত জড়িত থাকিয়া অবৈধ অর্থ ও সম্পদ সংগ্রহে লিপ্ত রহিয়াছেন এবং উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের বিধান অনুসারে কার্যক্রম গ্রহণের নিমিত্ত তাহার ব্যাংক হিসাব অথবা আয়কর অথবা সম্পদের কর সম্পর্কীয় রেকর্ডপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন, তাহা হইলে তদন্তকারী অফিসার মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

(২) তদন্তকারী অফিসার মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ২ এর উপ-ধারা (শ) এ উল্লিখিত সম্পৃক্ত মাদকদ্রব্য অপরাধ (অবৈধ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা) নিয়ন্ত্রণের জন্য তদন্তকারী অফিসার হিসাবে গণ্য হইবেন এবং তিনি অবৈধ মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ অথবা সম্পদ সম্পর্কে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী তদন্তসহ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(৩) প্রয়োজনে তদন্তকারী অফিসার উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া উক্ত হিসাব অথবা রেকর্ডপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব নিষ্ক্রিয়করণ (Freezing) করা কিংবা সম্পদ যাচাই-বাছাইয়ের (Scrutinizing) অনুমতি প্রদানের জন্য 23[এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে] আবেদন করিতে পারিবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন পেশকৃত আবেদন পর্যালোচনা করিয়া এবং আবেদনকারীকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া 24[এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত] আবেদনটি নিষ্পত্তি করিবে এবং যদি তিনি প্রার্থিত অনুমতি যুক্তিসংগত বলিয়া মনে করেন, তাহা হইলে অনুমতি প্রদান করিবেন এবং উহার একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, কর অফিসার অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন অনুমতিপ্রাপ্ত অফিসার তাহার পরীক্ষা-নিরীক্ষার অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতকে নির্ধারিত সময়ে অবহিত করিবে।
১০৫.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার কত দিনের মধ্যে পলাতক আসামিকে হাজির করার জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ২০ দিন
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২১ (আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার):
ফৌজদারী কার্যবিধির Section 87, 88 ও 339B এ ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের এই মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারের জন্য সোপর্দকরণ এড়াইবার জন্য পলাতক রহিয়াছেন বা আত্মগোপন করিয়াছেন এবং তাহার আশু গ্রেফতারের কোন সম্ভাবনা নাই, সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী বিশ দিনের মধ্যে উক্ত অনুপস্থিত বা পলাতক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাজির করিবার নিমিত্ত তথ্যপ্রযুক্তির যে কোন উপযুক্ত মাধ্যমে বা একটি বাংলা দৈনিক জাতীয় খবরের কাগজে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা বা অন্যবিধ যুক্তিসংগত যে কোন উপায়ে উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ জারি করিয়া হাজির হইবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির না হন, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল তাহার অনুপস্থিতিতে বিচার করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির হইবার পর বা তাহাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করিবার পর বা তাহাকে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জামিনে মুক্তি দেওয়ার পর পলাতক হন, তাহা হইলে তাহার ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিধান প্রযোজ্য হইবে না, এবং সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তাহার বিচার সম্পন্ন করিতে পারিবে।]
১০৬.
শিশু-আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিকার কী?
  1. শুধু আপিল
  2. শুধু রিভিশন
  3. আপিল ও রিভিশন উভয়
  4. কোনো প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা

শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৪১ অনুযায়ী:
শিশু-আদালতের প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করা যেতে পারে। এছাড়াও, একই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পুনর্বিবেচনা (Revision) করা যেতে পারে। অতএব, শিশু-আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে উভয় প্রতিকারই প্রযোজ্য।

শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪১: "আপিল ও পুনর্বিবেচনা":
(১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ বা রায় প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে। 

(২) শিশু-আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনা (Revision) করা যাইবে।

(৩) এই ধারার অধীন আপিল বা, ক্ষেত্রমত, পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হইলে উক্ত আবেদনটি দায়েরের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

১০৭.
সুমি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামি সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে আপীল করবে। এক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক?
  1. ট্রাইব্যুনালে আপীল করতে হবে
  2. সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে পারবেন
  3. আপীল করার জন্য হাইকোর্টে অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে
  4. আপীল করার জন্য ট্রাইব্যুনালে অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে পারবেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২৮ অনুযায়ী,
ট্রাইব্যুনালের রায়, আদেশ বা দণ্ডে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রায়ের তারিখ হইতে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে পারেন। এতে কোনো পূর্বানুমতি বা অনুমতির প্রয়োজন নেই।
১০৮.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংঘটিত অপরাধের অভিযোগসহ কেউ থানায় গেলে অফিসার ইনচার্জ প্রথমে কী করবেন?
  1. ঘটনা তদন্ত করবেন
  2. অভিযোগটি এজাহারভুক্ত করবেন
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাবেন
  4. ঘটনা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০: ধারা ২৫ক: থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব:
(১) এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধের প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণসহ কোনো অভিযোগকারী থানায় হাজির হইলে অফিসার ইনচার্জ তাৎক্ষণিকভাবে তাহার অভিযোগটি এজাহারভুক্ত করিবেন এবং ক্ষেত্রমত এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে অপরাধের শিকার ব্যক্তির প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।

(২) অভিযোগকারী প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণসহ থানায় হাজির হইলে তাহাকে কেবল এই যুক্তিতে ফিরাইয়া দেওয়া যাইবে না যে, তাহার ঘটনাটি অন্য থানার এখতিয়ারাধীন এলাকায় ঘটিয়াছে, বরং যেই থানাতেই অভিযোগ করা হউক না কেন, উক্ত থানার অফিসার ইনচার্জ অবিলম্বে অভিযোগকারীর বক্তব্য লিপিবদ্ধ করিবেন, অপরাধের শিকার ব্যক্তির প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করিবেন এবং অনতিবিলম্বে কেস ডায়েরিসহ অভিযোগটি উপযুক্ত থানায় প্রেরণ করিবেন।
১০৯.
বিশেষ ক্ষমতা আইন,১৯৭৪ এর ১৪ ধারায় কে আটককৃত ব্যক্তিকে অস্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে পারে?
  1. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
  2. সরকার
  3. উপদেষ্টা বোর্ড
  4. হাইকোর্ট
ব্যাখ্যা
১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৪ ধারা সরকার আটককৃত ব্যক্তিকে অস্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে পারে। এমন অস্থায়ীভাবে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্ধারিত স্থান এবং সময়ে আত্মসমর্পণ করবে। যদি সে নিজেকে আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হয় সে যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে যার মেয়াদ ২ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে বা জরিমানাসহ বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

Section 14: Temporary release of persons detained

(1) The Government may, at any time, direct that any person detained in pursuance of a detention order may be released for any specified period either without conditions or upon such conditions specified in the direction as that person accepts, and may, at any time, cancel his release. 
(2) In directing the release of any person under sub-section (1), the Government may require him to enter into a bond, with or without sureties, for the due observance of the conditions specified in the direction. 
(3) Any person released under sub-section (1) shall surrender himself at the time and place, and to the authority, specified in the order directing his release or cancelling his release, as the case may be. 
(4) If any person fails without sufficient cause to surrender himself in the manner specified in sub-section (3), he shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to two years, or with fine, or with both. 
(5) If any person released under sub-section (1) fails to fulfil any of the conditions imposed upon him under the said sub-section or in the bond entered into by him, the bond shall be declared to be forfeited and any person bound thereby shall be liable to pay the penalty thereof.
১১০.
অপরাধ সংঘটনের সময় বাজেয়াপ্তযোগ্য মাদকদ্রব্যের সাথে বৈধ মাদকদ্রব্য পাওয়া গেলে, প্রাপ্ত বৈধ মাদকদ্রব্য-
  1. ফেরত দেওয়া হবে
  2. বিক্রি করে দেয়া হবে
  3. বাজেয়াপ্তযোগ্য হবে
  4. আদালতে পেশ করতে হবে
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৬: বাজেয়াপ্তযোগ্য মাদকদ্রব্য, বস্তু, ইত্যাদি:
(১) কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটিত হইলে মাদকদ্রব্য, মাদকদ্রব্যের সহিত জব্দকৃত অর্থ, সাজ-সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, উপকরণ, আধার, পাত্র, মোড়ক, যানবাহন অথবা অন্য কোনো বস্তু সম্পর্কে অথবা সহযোগে উক্ত অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে সেইগুলি বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে।

(২) মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের সময় বাজেয়াপ্তযোগ্য মাদকদ্রব্যের সহিত যদি কোনো বৈধ মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়, তাহা হইলে উক্ত মাদকদ্রব্যও বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে।

(৩) কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য যদি কোনো সরকারি অথবা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো যানবাহন ব্যবহার করা হয়, তাহা হইলে উহা জব্দযোগ্য হইবে এবং মামলা রুজুকারী অফিসার সরকারি কার্যের স্বার্থে উক্ত যানবাহন সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী অফিসারের জিম্মায় প্রদান করিতে পারিবেন, তবে বিষয়টি এজাহারে উল্লেখ করিতে হইবে।

(৪) জব্দকৃত মাদকদ্রব্য এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের আদেশক্রমে উহা ধ্বংস করিতে হইবে।
১১১.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী যৌতুকের জন্য সাধারণ জখমের সর্বনিম্ন শাস্তি কত বছর?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
• নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১১- যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
১১২.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী নারী অর্থ ______ বয়সের নারী।
  1. যে-কোনো
  2. ১৬ বৎসর
  3. ১৪ বৎসর
  4. ১৮ বৎসর
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ ধারা ২ (ছ) অনুযায়ী  “নারী” অর্থ যে কোন বয়সের নারী।
১১৩.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ৩৩ ধারা কোন বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. আদালতের রায় কার্যকরকরণ
  2. অপরাধ তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ
  3. মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকরণ
  4. সরকারকে প্রতিবেদন প্রেরণ
ব্যাখ্যা
বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ধারা ৩৩: সরকারকে পুলিশ অফিসারের প্রতিবেদন প্রেরণ:
এই আইনের অধীন বিচারযোগ্য কোনো অপরাধের সাথে সম্পর্কিতভাবে যদি কোনো পুলিশ অফিসার কাউকে গ্রেফতার করেন, তবে তিনি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে পেশ করার পরপরই, ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদত্ত গ্রেফতারের সংক্রান্ত প্রতিবেদনটির একটি অনুলিপি সরকারকে প্রেরণ করবেন—যাহা সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্দেশিত কোনো অফিসারের মাধ্যমে সম্পন্ন করিতে বলিতে পারে।
১১৪.
The Special Powers Act, 1974 এর Section 25B (2) তে বর্ণিত অপরাধের সর্বনিম্ন শাস্তি-
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ২ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ২৫বি (২):

নিষিদ্ধ পণ্য বাংলাদেশে এনে বিক্রি, বা বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রস্তাব বা প্রদর্শন, অথবা নিজ অধিকারে বা নিয়ন্ত্রণে রাখার অপরাধ করলে, উক্ত অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ এবং সর্বনিম্ন ১ বছরের কারাদণ্ড, এবং অর্থদণ্ড।
 
Section 25B(2)- Penalty for smuggling
Whoever sells, or offers or displays for sale, or keeps in his possession or under his control for the purpose of sale, any goods the bringing of which into Bangladesh is prohibited by or under any law for the time being in force shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to seven years and shall not be less than one year, and shall also be liable to fine.
১১৫.
শিশু আইন, ২০১৩ এর অধীনে শিশু আদালতের বিচার কত দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে?
  1. ১২০ দিন
  2. ১৮০ দিন
  3. ২৭০ দিন
  4. ৩৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩২: বিচার সমাপ্তির সময়সীমা:
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত উক্ত আদালতে শিশুর প্রথম উপস্থিত হইবার তারিখ হইতে ৩৬০ (তিনশত ষাট) দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে। 
(২) কোন যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তব কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে শিশু-আদালত, উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা আরও ৬০ (ষাট) দিন বর্ধিত করিতে পারিবে।
(৩) শিশু-আদালতে বিচার আরম্ভ হইবার পর হইতে, বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত 15[ যতদূর সম্ভব,] একাদিক্রমে উহার কার্যক্রম প্রত্যেক কার্যদিবসে বিনা বিরতিতে চলিতে থাকিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করা না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণ্য বা গুরুতর অপরাধের দায়ে দায়েরকৃত মামলা ব্যতীত, শিশু-আদালতের বিবেচনায় তাহার বিরুদ্ধে আনীত লঘু মাত্রার অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবে এবং একই অপরাধের জন্য তাহার বিরু্দ্ধে অন্য কোন বিচার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাইবে না: 
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট মামলায় কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অভিযুক্ত থাকিলে তাহার মামলা অব্যাহত থাকিবে।

১১৬.
শিশু আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপিল করতে হবে?
  1. দায়রা আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. আপিল বিভাগে
  4. কোনো আপিল চলবে না
ব্যাখ্যা
⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ৪১ ধারার বিধান- আপিল ও পুনর্বিবেচনা:
(১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ বা রায় প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে। 

(২) শিশু-আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনা (Revision) করা যাইবে।

(৩) এই ধারার অধীন আপিল বা, ক্ষেত্রমত, পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হইলে উক্ত আবেদনটি দায়েরের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
১১৭.
চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ কত বার মাদকদ্রব্য ক্রয় করা যাবে?
  1. ৩ বার
  2. ২ বার
  3. ১ বার
  4. যতবার প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ১২: মাদকদ্রব্যের ব্যবস্থাপত্র প্রদান সম্পর্কে বিধি-নিষেধ:
(১) চিকিৎসক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য ঔষধ হিসাবে ব্যবস্থাপত্র প্রদান করিতে পারিবেন না। 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে একবারের অধিক মাদকদ্রব্য ক্রয় করা যাইবে না।
১১৮.
বিষেশ ক্ষমতা আইনের কত ধারায় 'সান্ধ্য আইন (Curfew)' এর বিধান আছে?
  1. ১৫
  2. ২৪
  3. ২৫
  4. ২৫গ
ব্যাখ্যা
⇒বিষেশ ক্ষমতা আইনের ২৪ ধারার বিধান: সান্ধ্য আইন (Curfew):
(১) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সরকারের নিয়ন্ত্রন সাপেক্ষে আদেশ জারীর মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করতে পারেন যে, আদেশে নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম বাদে, আদেশে নির্দিষ্ট এলাকা বা এলাকা সমূহে উপস্থিত কোন ব্যক্তিই আদেশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তির মঞ্জুরীকৃত লিখিত অনুমতিপত্রের প্রধিকার ব্যতিত ঘরের বাহিরে আসতে পারবে না।
(২) এ ধারানুসারে দেয়া আদেশ যদি কোন ব্যক্তি লঙ্ঘন করে তবে তার ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড বা জরিমানা বা উভয় প্রকার শাস্তি হতে পারে।
---------------------------------
Section-24: Curfew:
 (1) The District Magistrate 1[or the Police Commissioner in 2[a Metropolitan Area]] may, subject to the control of the Government, by order direct that, subject to any exemption specified in the order, no person present within any area or areas specified in the order shall, between such hours as may be specified in the order, be out of doors except under the authority of a written permit granted by a specified authority or person.

(2) If any person contravenes any order made under this section, he shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
১১৯.
কোনো ব্যক্তি যদি মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের সময়ে হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হন, তাহলে তার তদন্ত সম্পন্ন করতে কত কার্যদিবস সময়সীমা নির্ধারিত?
  1. ২০ কার্যদিবস
  2. ৩০ কার্যদিবস
  3. ৪৫ কার্যদিবস
  4. ৬০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য অপরাধের তদন্তের সময়সীমা সম্পর্কিত ধারা ৩১, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে নিম্নলিখিত নিয়মাবলী প্রযোজ্য:

১. তদন্তের সময়সীমা-
হাতেনাতে ধৃত হলে: অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের সময় হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হন, তবে তার ধৃত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।
হাতেনাতে ধৃত না হলে: অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি হাতেনাতে ধৃত না হন, তবে প্রাথমিক তথ্যপ্রাপ্তির তারিখ থেকে পরবর্তী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে।
গ্রেফতার ও পলাতক: যদি একই মামলায় গ্রেফতার ও পলাতক ব্যক্তি থাকে, তবে উক্ত মামলার তদন্ত উপরের নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

২. অতিরিক্ত সময়সীমা-
যুক্তিসংগত কারণে: যদি কোনো যুক্তিসংগত কারণে উপরের সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব না হয়, তবে তদন্তকারী অফিসার কারণ উল্লেখপূর্বক অতিরিক্ত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।
অতিরিক্ত সময়ের পর: যদি অতিরিক্ত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেও তদন্ত সম্পন্ন না হয়, তবে তদন্তকারী অফিসার উক্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।

৩. তদন্তভার হস্তান্তর-
নিয়ন্ত্রণকারী অফিসারের সিদ্ধান্ত: যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হয় এবং তদন্তকারী অফিসার দায়ী হন, তবে নিয়ন্ত্রণকারী অফিসার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তভার অন্য কোনো অফিসারের নিকট হস্তান্তর করতে পারেন।
নতুন সময়সীমা: নতুন তদন্তকারী অফিসারকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে, যা সাধারণত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে।

৪. অদক্ষতা ও শাস্তি-
যদি কোনো তদন্তকারী অফিসার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হন এবং তাকে দায়ী করা হয়, তবে তার অদক্ষতা তার বাৎসরিক গোপনীয় প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে চাকরি বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই নিয়মাবলী মাদকদ্রব্য অপরাধের তদন্তে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করতে সহায়ক।
১২০.
মুনিয়া’কে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যৌতুকের জন্য হত্যার চেষ্টা করে, কিন্তু সে বেঁচে যায়। এক্ষেত্রে, হত্যাচেষ্টার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১১: যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(কক) মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে বা অনধিক বার বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক পাঁচ বৎসর কিন্তু অন্যূন দুই বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

১২১.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ 'নবজাতক শিশু' অর্থ অনূর্ধ্ব - দিন বয়সের কোনো শিশু
  1. ২১
  2. ৩০
  3. ৪০
  4. ৬০
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২(চ) এর বিধান “নবজাতক শিশু” অর্থ অনূর্ধ্ব চল্লিশ দিন বয়সের কোন শিশু।
১২২.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ অনুযায়ী, নিচের কোনটি 'আইনগত সহায়তা'-এর অন্তর্ভুক্ত ?
  1. আইনজীবীর সম্মানী প্রদান।
  2. মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদান।
  3. মামলা দায়েরের জন্য আইনগত পরামর্শ।
  4. উল্লিখিত সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ (ধারা ২(ক)) অনুযায়ী, আইনগত সহায়তা অন্তর্ভুক্ত করে: 
- কোনও আদালতে দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান (ধারা ২(ক)(অ))
- মধ্যস্থতা বা সালিশ কার্য পরিচালনার জন্য সম্মানী প্রদান (ধারা ২(ক)(আ))
- মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্যান্য সহায়তা (ধারা ২(ক)(ই))
- উপরের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য আইনজীবীকে নির্ধারিত হারে সম্মানী প্রদান (ধারা ২(ক)(ঈ))
তাই এই তিনটি কার্যই আইনগত সহায়তার অংশ।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর প্রস্তাবনায় এই আইনের উদ্দেশ্য দেয়া আছে। বলা আছে যে 'আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানকল্পে প্রণীত আইন।'
-যেহেতু আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদান সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ২(ক) ধারার বিধান: “আইনগত সহায়তা” অর্থ আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীকে-
(অ) কোন আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান;
(আ) Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের বিধান অনুসারে মধ্যস্থতা বা সালিশের মাধ্যমে কোন মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী বা সালিশকারীকে সম্মানী প্রদান;
(ই) মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোন সহায়তা প্রদান; এবং
(ঈ) উপ-ধারা (অ) হইতে (ই) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে আইনজীবীকে সম্মানী প্রদান।

১২৩.
জেলা কমিটি 'ক' এর আইনগত সহায়তার আবেদন অগ্রাহ্য করলে, 'ক' কত দিনের মধ্যে জাতীয় পরিচালনা বোর্ডে আপিল করতে পারবেন?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ 'ক' সিদ্ধান্তের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিচালনা বোর্ডে আপিল (appeal) পেশ করতে পারবেন।

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০, ধারা ১৬- আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন:
(১) এই আইনের অধীন আইনগত সহায়তার জন্য সকল আবেদন সুপ্রীম কোর্ট কমিটি, জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটির নিকট পেশ করিতে হইবে৷ 

(২) এই আইনের অধীন কোন আবেদন বা দরখাস্ত জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হইলে উহা মঞ্জুরীর জন্য সংক্ষুব্ধ বিচারপ্রার্থী উক্তরূপ সিদ্ধান্তর তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে বোর্ডের নিকট আপীল পেশ করিতে পারিবেন এবং এই ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷

এখানে, “বোর্ড” বলতে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ৬ ধারার অধীন গঠিত জাতীয় পরিচালনা বোর্ড বুঝানো হয়েছে।
১২৪.
'ক' তার স্ত্রী 'খ' কে তার বাবার বাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা এনে দিতে বলে।'খ' রাজি না হওয়ায়, 'ক' রাগান্বিত হয়ে 'খ' এর মাথায় রড দিয়ে বাড়ি দেয়, যার দরুণ 'খ' এর মাথা ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এক্ষেত্রে 'ক' নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কী শাস্তি পেতে পারে?
  1. সর্বোচ্চ ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  4. সর্বোচ্চ ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০

ধারা ১১- যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি

যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
১২৫.
কোন অপরাধটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়?
  1. যৌতুকের জন্য সাধারণ জখম
  2. ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে শিশুর অঙ্গহানি
  3. ধর্ষণের চেষ্টা
  4. দাসত্বমূলক শ্রম
ব্যাখ্যা
⇒ দাসত্বমূলক শ্রম অপরাধটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯ ধারায় ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, ইত্যাদির শাস্তি,  ১১ ধারায় যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি এবং ১২ ধারায় ভিক্ষাবৃত্তি, ইত্যাদির উদ্দেশ্যে শিশুকে অঙ্গহানি করার শাস্তির বিধান রয়েছে।
---------------------
ধারা ৯ ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, ইত্যাদির শাস্তি:
 (১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

ব্যাখ্যা৷- যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।
(২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
(৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
 
(৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-
(ক) ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
(৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোন নারী ধর্ষণের শিকার] হন, তাহা হইলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষণের শিকার] নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

⇒ ধারা ১১-যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
 যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম simple hurt) করেন তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-
 
(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
 
ধারা ১২-ভিক্ষাবৃত্তি, ইত্যাদির উদ্দেশ্যে শিশুকে অঙ্গহানি করার শাস্তি:
 যদি কোন ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তি বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির উদ্দেশ্যে কোন শিশুর হাত, পা, চক্ষু বা অন্য কোন অংগ বিনষ্ট করেন বা অন্য কোনভাবে বিকলাংগ বা বিকৃত করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
১২৬.
কোনো ব্যক্তি যথাযথ কারণ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে আত্মসমর্পণ না করলে, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৪(৪) ধারা অনুসারে সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. ৬ মাসের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
  2. ১ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
  3. ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
  4. ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়
ব্যাখ্যা
The Special Powers Act, 1974: ধারা ১৪: আটক ব্যক্তিদের সাময়িক মুক্তি:
(১) সরকার যেকোনো সময় নির্দেশ দিতে পারেন যে, কোনো ব্যক্তি যাকে আটকাদেশের মাধ্যমে আটক করা হয়েছে, তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে, হয় শর্তবিহীন অথবা এমন শর্তের অধীনে যা ওই ব্যক্তি মেনে নেবেন, এবং যেকোনো সময় তার মুক্তি বাতিল করতে পারেন।

(২) কোনো ব্যক্তিকে উপ-ধারা (১)-এর অধীনে মুক্তি দেওয়ার সময়, সরকার তাকে শর্তাবলী পূরণের জন্য বন্ডে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করতে পারেন, যা শর্তসাপেক্ষে বা শর্তবিহীন হতে পারে।

(৩) উপ-ধারা (১)-এর অধীনে মুক্তি পাওয়া কোনো ব্যক্তি, মুক্তির আদেশ বা মুক্তি বাতিলের আদেশে নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে এবং কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন।

(৪) যদি কোনো ব্যক্তি যথাযথ কারণ ছাড়া নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে আত্মসমর্পণ না করেন, তবে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

(৫) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১)-এর অধীনে মুক্তি পাওয়ার পর শর্তাবলী বা বন্ডের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন, তবে বন্ড বাতিল করা হবে এবং বন্ডের অধীনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি শাস্তির জন্য দায়ী হবেন।
১২৭.
The Special Powers Act, 1974 এর তফসিলে কোন আইনের উল্লেখ নেই?
  1. ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫
  2. বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪
  3. জরুরি ক্ষমতা আইন, ১৯৭৫
  4. বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮
ব্যাখ্যা

⇒ বিস্ফোরক আইন, ১৮৮৪ তফসিলে উল্লেখিত নয়।

⇒ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের তফসিল:
১. এই আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ;
৩. অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ (Arms Act, 1878) এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ;
৪. বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ১৯০৮ (Explosive Substances Act, 1908) এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ;
৪ক. জরুরি ক্ষমতা আইন, ১৯৭৫ (Emergency Powers Act, 1975) অনুযায়ী গৃহীত নিয়ম বা সেই নিয়মের অধীনে প্রদত্ত কোনো আদেশ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ;
৫ক. ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ (Formalin Control Act, 2015) এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ;
৬. উপরোক্ত যেকোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা বা প্রস্তুতি।

১২৮.
শিশু আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী, কার জন্য পৃথকভাবে পুলিশ রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হয়?
  1. শুধুমাত্র শিশুদের জন্য
  2. শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য
  3. প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ের জন্য আলাদা আলাদা
  4. রিপোর্ট একটাই যথেষ্ট
ব্যাখ্যা
শিশু আইন, ২০১৩, ধারা ১৫: পুলিশ রিপোর্ট (investigation report) বা অনুসন্ধান প্রতিবেদন (inquiry report) বা তদন্ত প্রতিবেদন (enquiry report) পৃথকভাবে প্রস্তুত ও আমলে গ্রহণ:
(১) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো অপরাধ সংঘটনে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশু জড়িত থাকিলে, পুলিশ রিপোর্ট (জি.আর মামলার ক্ষেত্রে) বা ক্ষেত্রমত, অনুসন্ধান প্রতিবেদন (সি.আর মামলার ক্ষেত্রে) বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুর জন্য পৃথকভাবে প্রস্তুত করিয়া দাখিল করিতে হইবে। 

(২) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশু কর্তৃক একত্রে সংঘটিত কোনো অপরাধ আমলে গ্রহণের ক্ষেত্রে তাহাদের অপরাধ পৃথকভাবে আমলে গ্রহণ করিতে হইবে।]
১২৯.
মীমাংসার ক্ষেত্রে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার পারেন না-
  1. মধ্যস্থতাকারী হিসাবে ভূমিকা রাখতে
  2. বিরোধ সম্পর্কিত তথ্যসংগ্রহ করতে
  3. স্ব-উদ্যোগে আইনগত প্রশ্নে মতামত প্রদান করতে
  4. মীমাংসা সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করতে
ব্যাখ্যা
• আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ২১ক ধারা অনুযায়ী সরকার লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ দিয়ে থাকেন। 

• 'আইনগত প্রশ্নে মতামত প্রদান না করা' শিরোনামে আইনগত সহায়তা প্রদান (আইনী পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) বিধিমালা, ২০১৫-এর ১৫ বিধিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে- 'কোনো বিরোধ আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড অফিসার, উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতি ব্যতীত, বিরোধের সাথে জড়িত আইনি প্রশ্নে মতামত প্রদানে, যতদূর সম্ভব, বিরত থাকবেন।'

অর্থাৎ- মীমাংসার ক্ষেত্রে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার স্ব-উদ্যোগে আইনগত প্রশ্নে মতামত প্রদান করতে পারেন না। তবে, উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতি নিয়ে মতামত প্রদান করতে পারেন।

• উল্লেখ্য,
আইনগত সহায়তা প্রদান (আইনী পরামর্শ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ৯(১)(খ) অনুযায়ী-মীমাংসা সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারেন। বিধি ১১(গ) অনুযায়ী- বিরোধ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
বিধি ১১ (জ) অনুযায়ী- মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন।
১৩০.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিচের কোনটি 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কোকা গাছ ও কোকা পাতা
  2. গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ
  3. অপিয়াম পপি গাছের বীজ
  4. তাঁড়ি, পঁচুই, ইত্যাদি
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর প্রথম তপশিল অনুযায়ী মাদকদ্রব্যগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে: 'ক', 'খ', এবং 'গ'। প্রতিটি শ্রেণির মাদকদ্রব্যের সংজ্ঞা এবং অন্তর্ভুক্ত পদার্থগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত।
⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর প্রথম তপশিল অনুযায়ী, 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো গাঁজা গাছ, ভাং গাছ, তাদের শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল, এবং এগুলোর সাথে প্রস্তুতকৃত নেশা বা আসক্তি সৃষ্টিকারী পদার্থ।

প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে:
ক) কোকা গাছ ও কোকা পাতা: এটি 'ক' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
খ) গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ: এটি 'খ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
গ) অপিয়াম পপি গাছের বীজ: এটি 'ক' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
ঘ) তাঁড়ি, পঁচুই, ইত্যাদি: এটি 'গ' শ্রেণির মাদকদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত।
সঠিক উত্তর: খ) গাঁজা গাছ ও ভাং গাছ।

১৩১.
শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪(১) অনুসারে, কত বছর বয়সের নিচের কোনো শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার বা আটক রাখা যাবে না?
  1. সাত বৎসরের নিম্নে
  2. নয় বৎসরের নিম্নে
  3. বার বৎসরের নিম্নে
  4. ষোল বৎসরের নিম্নে
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।"
সুতরাং, ৯ বছর বয়সের নিচের কোনো শিশুকে আইনত গ্রেফতার বা আটক রাখার কোনো বিধান এই আইনে নেই।

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৪: গ্রেফতার, ইত্যাদি:
(১) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না।
(২) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে নিবর্তনমূলক আটকাদেশ সংক্রান্ত কোন আইনের অধীন গ্রেফতার বা আটক করা যাইবে না।
(৩) শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্ত্ত, ইত্যাদি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন এবং প্রাথমিকভাবে তাহার বয়স নির্ধারণ করিয়া নথিতে লিপিবদ্ধ করিবেন : 
 তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতার করিবার পর কোন শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা, উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির সময় প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদ্‌ঘাটনপূর্বক যাচাই-বাছাই করিয়া তাহার বয়স লিপিবদ্ধ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন শিশু কিন্তু সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করিয়াও দালিলিক প্রমাণ দ্বারা তাহা নিশ্চিত হওয়া যায় না, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের বিধান অনুযায়ী শিশু হিসাবে গণ্য করিতে হইবে।
(৫) সংশ্লিষ্ট থানায় শিশুর জন্য উপযোগী কোন নিরাপদ স্থান না থাকিলে গ্রেফতারের পর হইতে আদালতে হাজির না করা সময় পর্যন্ত শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ক্ষেত্রে শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক বা ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন এইরূপ কোন শিশু বা অপরাধী এবং আইনের সংস্পর্শে আসা কোন শিশুর সহিত একত্রে রাখা যাইবে না।

১৩২.
শিশু আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী কোন ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত শিশুকে পুলিশ জামিন দিতে পারে?
  1. জামিনযোগ্য
  2. জামিনঅযোগ্য
  3. ক বা খ উভয় ক্ষেত্রে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই পারবে না
ব্যাখ্যা
ধারা ৫২- জামিন, ইত্যাদি:
(১) ফৌজদারি কার্যবিধিসহ বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা এই আইনের অন্য কোন বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর এই আইনের অধীন মুক্তি প্রদান বা বিকল্প পন্থায় প্রেরণ করা অথবা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে হাজির করা সম্ভবপর না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে, ক্ষেত্রমত, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বা প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শর্ত ও জামানত সাপেক্ষে, অথবা, শর্ত ও জামানত ব্যতীত জামিনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবেন। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শিশুকে জামিনে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধ জামিনযোগ্য বা জামিন অযোগ্য কি না তাহা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বিবেচনায় লইবেন না। 
 
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধের প্রকৃতি গুরুতর বা ঘৃণ্য প্রকৃতির হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে উহা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু কোন কুখ্যাত অপরাধীর সাহচর্য লাভ করিতে পারে বা নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হইতে পারে বা জামিন প্রদান করা হইলে ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হইবার আশঙ্কা থাকিলে শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিশুকে জামিন বা মুক্তি প্রদান করিবেন না। 
 
(৪) গ্রেফতারকৃত শিশুকে উপ-ধারা (৩) এর অধীন জামিনে মুক্তি প্রদান করা না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, গ্রেফতারের পর আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ সময় ব্যতীত, ২৪ (চবিবশ) ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিশুকে নিকটস্থ শিশু-আদালতে হাজির করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন। 
 
(৫) থানা হইতে জামিনপ্রাপ্ত হয় নাই এমন কোন শিশুকে শিশু-আদালতে উপস্থাপন করা হইলে শিশু-আদালত তাহাকে জামিন প্রদান করিবে বা নিরাপদ স্থানে বা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার আদেশ প্রদান করিবে।
১৩৩.
শিশু আইনের অধীন শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার মেয়াদ হবে-
  1. ৭ দিনের জন্য
  2. ৩০ দিনের জন্য
  3. ১৫ দিনের জন্য
  4. যথাসম্ভব স্বল্পতম সময়ের জন্য
ব্যাখ্যা
ধারা ২৬: শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা-

১. শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখার বিষয়টি সর্বশেষ পন্থা হিসাবে বিবেচনা করতে হবে, যার মেয়াদ হবে যথাসম্ভব স্বল্পতম সময়ের জন্য।

২. সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ হেফাজতে রক্ষিত শিশুকে বিকল্পপন্থায় পরিচালনার জন্য প্রেরণ করতে হবে।

৩. শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা একান্ত প্রয়োজন হলে শিশু-আদালত, সংশ্লিষ্ট শিশুকে উক্ত আদালত হতে যুক্তিসঙ্গত দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত কোন প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করার জন্য আদেশ প্রদান করবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীন কোন শিশুকে প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হলে উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকারী অধিক বয়স্ক শিশুদের হতে প্রেরিত শিশুকে পৃথক করে রাখতে হবে।
১৩৪.
"Trial de-novo" বলতে কী বোঝায়?
  1. তদন্ত শুরু করা
  2. সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ রাখা
  3. নতুন করে বিচার শুরু করা
  4. আপিল আবেদন দায়ের করা
ব্যাখ্যা
"Trial de-novo" বলতে বোঝায় "নতুন করে বিচার শুরু করা"।

⇒ "De-novo" শব্দটি ল্যাটিন ভাষার, যার অর্থ হলো "from the beginning" বা "আবার নতুন করে"। সুতরাং, "Trial de-novo" মানে হলো, পূর্বে যে বিচার কার্যক্রম বা সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করা হয়েছিল তা উপেক্ষা করে একেবারে শুরু থেকে আবার নতুন করে পুরো বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা।

উদাহরণ:
যদি কোনো আদালতে বিচার চলাকালীন বিচারক বদলানো হয়, তবে নতুন বিচারক চাইলে মামলাটি "trial de-novo" হিসাবে শুরু করতে পারেন — অর্থাৎ আগের রেকর্ড বাদ দিয়ে আবার নতুনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিচার শুরু করতে পারেন।

The Special Powers Act, 1974 এর ধারা ৩১: নতুনভাবে পুনঃবিচারের উপর নিষেধাজ্ঞা (Bar on trial de-novo):
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, যদি ভিন্নভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে- এমন কোনো সাক্ষীকে পুনরায় হাজির করানো বা পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে না, যার সাক্ষ্য ইতোমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে; বা পূর্বে গৃহীত কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে বাধ্য থাকবে না; বরং,
ট্রাইব্যুনাল পূর্বে গৃহীত বা রেকর্ডকৃত সাক্ষ্য ও প্রমাণের উপর ভিত্তি করে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে এবং মামলা যেই পর্যায়ে রয়েছে, সেই পর্যায় থেকেই বিচার চালিয়ে যেতে পারবে।
১৩৫.
আইনগত সহায়তার কোন আবেদন জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হলে, তার বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে-
  1. সুপ্রীম কোর্ট কমিটির নিকট
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের নিকট
  4. আপীল বিভাগে
ব্যাখ্যা
• আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০

ধারা ১৬ তে বলা আছে-

'আইনগত সহায়তার জন্য সকল আবেদন সুপ্রীম কোর্ট কমিটি, জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটির নিকট পেশ করতে হবে।'

উল্লেখ্য, কোন আবেদন জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হলে তা মঞ্জুরের জন্য সংক্ষুদ্ধ বিচারপ্রার্থী উক্তরুপ সিদ্ধান্তের তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের নিকট আপীল পেশ করবে এবং এই ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
১৩৬.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী দ্বিতীয়বার মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তি পুনরায় অপরাধ করলে ধারা ৩৬(৩) অনুযায়ী উক্ত অপরাধের দণ্ড মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হলে কী দণ্ড প্রযোজ্য?
  1. সর্বোচ্চ দণ্ডের দ্বিগুণ
  2. অন্তত ২০ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  4. ৫-১০ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৬(৩) অনুসারে: "(৩) কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য দ্বিতীয়বার দণ্ডিত হইয়া দণ্ড ভোগ করিবার পর যদি কোনো ব্যক্তি পুনরায় কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ করেন তাহা হইলে উক্ত অপরাধের দন্ড মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অন্যূন ২০ (বিশ) বৎসর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।"
- এখানে "অন্যূন ২০ বৎসর" বলতে কমপক্ষে ২০ বছর বোঝায়। অর্থাৎ তৃতীয়বার মাদক অপরাধের জন্য শাস্তি হবে অন্তত ২০ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড (যেখানে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অন্তর্ভুক্ত না হলে)।
→ অর্থাৎ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৬(৩) অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয়বার মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়ে দণ্ড ভোগ করার পর পুনরায় মাদকদ্রব্য অপরাধ করেন, তাহলে উক্ত অপরাধের দণ্ড মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হলে তিনি অন্তত ২০ (বিশ) বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

১৩৭.
Under Section 34A of The Special Powers Act, 1974, what are the permitted methods for executing a death sentence?
  1. Hanging only
  2. Shooting only
  3. Lethal injection only
  4. Hanging or shooting
ব্যাখ্যা
The Special Powers Act, 1974: Section 34A: Execution of death sentences:
When a person is sentenced to death under this Act, the sentence may be executed by hanging him by the neck till he is dead or by shooting him in the prescribed manner till he is dead as the Special Tribunal may direct.

ধারা ৩৪ক – মৃত্যুদণ্ড কার্যকর:
“যখন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই আইনের অধীনে কারো মৃত্যুদণ্ড রায় প্রদান করে, তখন সে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ করলে সেই ব্যক্তি নিম্নলিখিত যেকোন পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে—
১. ঘাড়ে ফাঁসি দিয়ে, যতক্ষণ না সে মারা যাবে, অথবা
২. নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী গুলি করে, যতক্ষণ না সে মারা যায়।”
১৩৮.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ-এ উল্লিখিত তফসিলে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার (Pre-case Mediation) জন্য কতটি আইন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
  1. ৭ টি
  2. ৮ টি
  3. ৯ টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ-এ বর্ণিত তফসিলে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার জন্য মোট ৯টি আইন/বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
১. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ - ধারা ৫
২. বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১
৩. সহকারী জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন সম্পর্কিত বিরোধ
৪. State Acquisition & Tenancy Act, 1950 - Section 96
৫. Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 - Section 24
৬. পিতামাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ - ধারা ৮
৭. Negotiable Instruments Act, 1881 - Section 138 (অনধিক ৫ লক্ষ টাকা)
৮. যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ - ধারা ৩ ও ৪
৯. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ - ধারা ১১(গ)

সুতরাং, সঠিক উত্তর ৯টি।

১৩৯.
অসচ্ছল ব্যক্তির বার্ষিক গড় আয় অনধিক কত হলে সুপ্রীম কোর্টে আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য হবে?
  1. ৫০,০০০ টাকা
  2. ১,০০,০০০ টাকা
  3. ১,৫০,০০০ টাকা
  4. ২,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ ব্যক্তিগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা 'আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪ নামে' নীতিমালা প্রণয়ন করে।

উক্ত নীতিমালার অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী, এই নীতিমালার অধীন নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ আইনগত সহায়তা পাবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন-

⇒ অসচ্ছল বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তির বার্ষিক গড় আয় অনধিক ১,৫০,০০০ টাকা (সুপ্রীম কোর্টে আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ) এবং অন্যান্য আদালতের ক্ষেত্রে ১,০০,০০০ টাকা।
⇒ কর্মে অক্ষম, আংশিক কর্মক্ষম, কর্মহীন কোন ব্যক্তি;
⇒ অক্ষম কোন মুক্তিযোদ্ধার বাৎসরিক আয় অনধিক ১,৫০,০০০ টাকা; এবং
⇒ কোন শ্রমিক যার বার্ষিক গড় আয় অনধিক ১,০০,০০০ টাকা।
১৪০.
‘নিয়ন্ত্রিত বিলি (Control Delivery)’ কী?
  1. মাদকদ্রব্য বিদেশে পাঠানোর পদ্ধতি
  2. মাদকদ্রব্য সরাসরি আদালতে জব্দ করার কৌশল
  3. মাদক চালান তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করার পদ্ধতি
  4. মাদক চালান প্রক্রিয়ায় যুক্ত অপরাধী সনাক্ত করার তদন্ত কৌশল
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ ধারা ২(১৫)-
‘নিয়ন্ত্রিত বিলি (Control Delivery)’ অর্থ কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করিবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ তদন্ত কৌশল, যাহাতে কোনো মাদকদ্রব্য, উহার উৎসবস্তু, উপাদান অথবা মিশ্রণের বেআইনি অথবা সন্দেহজনক চালানকে তদন্তের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো আইন প্রায়োগকারী সংস্থার (সরকারের) জ্ঞাতসারে ও তত্ত্বাবধানে শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পরিবহন ও বিতরণ অথবা হস্তান্তর করিতে দেওয়া যাহার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত উক্ত মাদকদ্রব্যের উৎস হইতে গন্তব্য পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রমের সহিত জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেফতার করা যায়।
১৪১.
'ক' একজন ভিক্ষুক। সে ১০ বছর বয়সী একটি শিশুকে প্রতিদিন তার সঙ্গে রাস্তায় ভিক্ষা করায়। এই কাজের জন্য তার সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. ১ বছরের কারাদণ্ড
  2. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  3. ৫ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৭১: “শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োগের দণ্ড”:
কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগ করেন বা কোন শিশুর দ্বারা ভিক্ষা করান অথবা শিশুর হেফাজত, তত্ত্বাবধান বা দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুকে ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নিয়োগদানে প্রশ্রয়দান করেন বা উৎসাহ প্রদান করেন বা ভিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১৪২.
“অন্তর্ঘাতমূলক কার্য (Sabotage)” এর শাস্তি কোন আইনের অধীনে নির্ধারিত?
  1. দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪
  2. বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪
  3. মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮
  4. মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২
ব্যাখ্যা
⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ১৫ ধারার বিধান- অন্তর্ঘাতী কার্য/নাশকতা (Sabotage):
(১) কোনো ব্যক্তি যদি নিম্নলিখিত কোনো সম্পদ বা সেবার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে, তবে তা অন্তর্ঘাত হিসেবে গণ্য হবে:
(ক) সরকার বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা জাতীয়কৃত বাণিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যবহৃত বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোনো ভবন, যানবাহন, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ বা অন্যান্য সম্পদ;
(খ) কোনো রেলপথ, আকাশ রোপওয়ে, সড়ক, খাল, সেতু, কালভার্ট, কজওয়ে, বন্দর, ডকইয়ার্ড, বাতিঘর, বিমানবন্দর, টেলিগ্রাফ বা টেলিফোন লাইন বা পোস্ট, বা টেলিভিশন বা বেতার স্থাপন;
(গ) কোনো রেলপথের রোলিং স্টক বা কোনো জাহাজ বা বিমান;
(ঘ) কোনো ভবন বা অন্যান্য সম্পদ যা কোনো মৌলিক পণ্য উৎপাদন, বিতরণ বা সরবরাহের সাথে সম্পর্কিত, কোনো স্যুয়েজ কাজ, খনি বা কারখানা;
(ঙ) এই আইনের অধীনে বা অন্য কোনো আইনের অধীনে নিষিদ্ধ বা সুরক্ষিত কোনো স্থান বা এলাকা;
(চ) কোনো পাট, পাটজাত পণ্য, পাট গোডাউন, পাট মিল বা পাট বেলিং প্রেস।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক এইরূপ কোনো কার্য করা হইতে বিচ্যুতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক যে কার্য করা সরকারের বা সরকারি কর্তৃপক্ষের বা কোনো ব্যক্তির প্রতি তাহার কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

(৩) কোনো ব্যক্তি যদি এই ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে, বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক চৌদ্দ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে, এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হইবেন।
১৪৩.
শিশু আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যায়-
  1. দায়রা জজ আদালতে
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. হাইকোর্ট বিভাগে
  4. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে
ব্যাখ্যা
⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ৪১ ধারার বিধান আপিল ও পুনর্বিবেচনা:
- (১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ বা রায় প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে। 

- (২) শিশু-আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনা (Revision) করা যাইবে।

- (৩) এই ধারার অধীন আপিল বা, ক্ষেত্রমত, পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হইলে উক্ত আবেদনটি দায়েরের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
১৪৪.
'ক' মজুতদারি ও কালোবাজারি কারবারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। এক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ ‘ক’ যদি মজুতদারি ও কালোবাজারি (hoarding বা black‑market dealing)–এর জন্য দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ২৫: মজুতদারি ও কালোবাজারি কারবারের শাস্তি-
(১) যদি কোনো ব্যক্তি মজুতদারি ও কালোবাজারি কারবারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে, বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক চৌদ্দ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ডে, বা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মজুতদারি অপরাধের ক্ষেত্রে, এইরূপ অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি প্রমাণ করিতে পারেন যে, তিনি আর্থিক বা অন্যকোনো লাভ করিবার উদ্দেশ্য ব্যতীত মজুত করিয়াছিলেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ডে, এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হইবেন।

(২) আদালত মজুতদারি বা কালোবাজারি কারবারের অপরাধে দণ্ড দানের সময় অপরাধের সহিত সম্পৃক্ত সবকিছু সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিবে।

‘ক’ কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ মজুতদারি বা কালোবাজারি-এই ধারার অন্তর্ভুক্ত—সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে 'মৃত্যুদণ্ড' প্রযোজ্য হয়।
১৪৫.
বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন দণ্ড কে বাতিল করার অধিকারী?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. সরকার
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩০ক ধারায় সরকার বিশেষ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন দণ্ড যেকোন সময় হ্রাস, বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে।

Section 30A: Power of Government to remit, suspend or commute any sentence
Without prejudice to the provisions of Chapter XXIX of the Code, the Government may at any time remit, suspend or commute any sentence passed by Special Tribunal under this Act.
১৪৬.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে কী করতে হয়?
  1. তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে হয়
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন নিতে হয়
  3. আপিল বিভাগে নথি প্রেরণ করতে হয়
  4. হাইকোর্ট বিভাগে নথি প্রেরণ করতে হয়
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০: ধারা ২৯: মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন:
এই আইনের অধীনে কোন ট্রাইব্যুনাল, মৃত্যুদণ্ড প্রদান করিলে সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র অবিলম্বে ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ এর বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত বিভাগের অনুমোদন ব্যতীত মৃতুদণ্ড কার্যকর করা যাইবে না।
১৪৭.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অধীনেএখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা কত?
  1. ১৫ কার্যদিবস
  2. ৩০ কার্যদিবস
  3. ৪৫ কার্যদিবস
  4. ৬০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ৩০ কার্যদিবস।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা
৫৩- আপিল:
এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে, রায় প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে, আপিল করা যাইবে।
তবে শর্ত থাকে যে, রায়ের জাবেদা নকল পাওয়ার জন্য যে সময় অতিবাহিত হইবে উহা উক্ত সময় হইতে কর্তন করিতে হইবে।

১৪৮.
শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিশু-আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে কত দিনের মধ্যে?
  1. ৩০ দিনের মধ্যে
  2. ৬০ দিনের মধ্যে
  3. ৯০ দিনের মধ্যে
  4. ১২০ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৪১(১) অনুযায়ী, শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে।
- ধারা ৪১(১): এই ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, শিশু-আদালতের আদেশ বা রায় প্রদানের তারিখ থেকে অনধিক ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করা যাবে। এটি ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান থেকে ভিন্ন হলেও শিশু আইনের এই নির্দিষ্ট বিধান প্রাধান্য পায়।
- আপিলের সময়সীমা: এই ৬০ দিনের সময়সীমা শিশুদের বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তাদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত। এই সময়ের মধ্যে আপিল দায়ের না করলে সাধারণত আপিলের সুযোগ থাকে না, যদি না বিশেষ কারণে আদালত সময় বাড়ানোর অনুমতি দেয়।

⇒ শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৪১ আপিল ও পুনর্বিবেচনা:
(১) ফৌজদারী কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ বা রায়] প্রদানের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে। 
(২) শিশু-আদালতের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে পুনর্বিবেচনা (Revision) করা যাইবে।
(৩) এই ধারার অধীন আপিল বা, ক্ষেত্রমত, পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করা হইলে উক্ত আবেদনটি দায়েরের তারিখ হইতে অনধিক ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিতে হইবে।

১৪৯.
According to Section 2(f) of The Special Powers Act, 1974, which of the following is not a potential result of a prejudicial act?
  1. Creating fear or alarm to the public
  2. Aiding in the maintenance of law and order
  3. Prejudice to the economic or financial interests of the State
  4. Prejudice to the maintenance of essential community supplies and services
ব্যাখ্যা
Section 2(f): “prejudicial act” means any act which is intended or likely- 
 (i) to prejudice the sovereignty or defence of Bangladesh; 
(ii) to prejudice the maintenance of friendly relations of Bangladesh with foreign states; 
(iii) to prejudice the security of Bangladesh or to endanger public safety or the maintenance of public order; 
(iv) to create or excite feelings of enmity or hatred between different communities, classes or sections of people; 
(v) to interfere with or encourage or incite interference with the administration of law or the maintenance of law and order; 
(vi) to prejudice the maintenance of supplies and services essential to the community; 
(vii) to cause fear or alarm to the public or to any section of the public; 
(viii) to prejudice the economic or financial interests of the State;

"প্রতিকূল কাজ" (prejudicial act) এমন একটি কাজ যা দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা বা জনগণের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করতে পারে বা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থে ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া এটি জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বা ভীতি সৃষ্টি করতে পারে। "আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা (Aiding in the maintenance of law and order)" কোনো ক্ষতিকর কার্য হিসেবে বিবেচিত নয়।
১৫০.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ এর বিধানমতে বেআইনি বা হয়রানিমূলক তল্লাশীর সর্বোচ্চ কারাদণ্ড-
  1. ২ বৎসর
  2. ১ বৎসর
  3. ৬ মাস
  4. ৩ মাস
ব্যাখ্যা
• মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ রহিত করে মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস, অপব্যবহার ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮ প্রণীত হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮ এর ধারা ৩৯ অনুসারে,

যদি তল্লাশি, আটক অথবা গ্রেফতার করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো অফিসার- 
(ক) সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কোনো কারণ ব্যতিরেকে তল্লাশির নামে কোনো স্থানে প্রবেশ করেন ও তল্লাশি চালান, 
(খ) হয়রানিমূলকভাবে বাজেয়াপ্তযোগ্য কোনো বস্তু তল্লাশি করিবার নামে কোনো ব্যক্তির কোনো সম্পদ আটক করেন, এবং 
(গ) কোনো ব্যক্তিকে হয়রানিমূলক তল্লাশি করেন অথবা গ্রেফতার করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
১৫১.
The Special Powers Act, 1974-এর ধারা ৮(২) অনুযায়ী আটককৃত ব্যক্তিকে আটকের কারণ সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে জানাতে হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ The Special Powers Act, 1974 এর ধারা ৮(২) অনুসারে, আটকের আদেশ জারি করা হলে আটককৃত ব্যক্তিকে তার আটকের কারণ (grounds of detention) নিম্নলিখিত সময়ের মধ্যে জানাতে হবে:
- আটকের সময়ই অথবা
- তার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তবে আটকের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে।
সুতরাং, স্পষ্টভাবে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সময়সীমা হল ১৫ দিন।
------------
⇒ The Special Powers Act, 1974, Section-8-Communication of grounds of order:
(1) In every case where an order has been made under section 3, the authority making the order shall, as soon as may be, but subject to the provisions of sub-section (2), communicate to the person affected thereby the grounds on which the order has been made to enable him to make a representation in writing against the order, and it shall be the duty of such authority to inform such person of his right of making such representation and to afford him the earliest opportunity of doing so: 
Provided that nothing in this section shall require the authority to disclose the facts which it considers to be against the public interest to disclose. 
(2) In the case of a detention order, the authority making the order shall inform the person detained under that order of the grounds of his detention at the time he is detained or as soon thereafter as is practicable, but not later than fifteen days from the date of detention.

১৫২.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী লাইসেন্স, পারমিট বা পাস বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে কত দিন সময় দেওয়া হয়?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ১৬(২) অনুসারে, লাইসেন্স, পারমিট বা পাস বাতিলের আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ১৬-লাইসেন্স, ইত্যাদি বাতিল:
(১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাসের কোনো শর্ত ভঙ্গ করেন অথবা যদি কোনো লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাসধারী ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য দণ্ডিত হন, তাহা হইলে লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাস প্রদানকারী অফিসার তাহাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিয়া তাহার লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাস বাতিল করিতে পারিবে। 
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশের দ্বারা কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে- 
(ক) আদেশটি যদি মহাপরিচালকের অধস্তন কোনো অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত হইয়া থাকে, তাহা হইলে মহাপরিচালকের নিকট আপিল করিতে পারিবে; এবং 
(খ) আদেশটি যদি মহাপরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত হইয়া থাকে, তাহা হইলে সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবে। 
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত আপিল কর্তৃপক্ষের রায় চূড়ান্ত হইবে এবং উহার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা দায়ের করা যাইবে না।

১৫৩.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১১ অনুসারে, যৌতুকের জন্য কোন নারীকে সাধারণ জখম (simple hurt) করার সর্বনিম্ন শাস্তি কী?
  1. ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১১(গ) অনুসারে, যৌতুকের জন্য কোন নারীকে সাধারণ জখম (simple hurt) করার শাস্তি নিম্নরূপ: "(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক পাঁচ বৎসর কিন্তু অন্যূন দুই বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।"
এর অর্থ হলো:
- সর্বনিম্ন শাস্তি: ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
- সর্বোচ্চ শাস্তি: ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
অতিরিক্ত: অর্থদণ্ড। 
--------
⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১১-যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-
(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;(
কক) মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে বা অনধিক বার বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক পাঁচ বৎসর কিন্তু অন্যূন দুই বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

১৫৪.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী কোনো নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. ৭ বছর কারাদণ্ড
  2. ১,০০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড
  3. ১০ বছর কারাদণ্ড
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
ধারা ৯ক- নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা, ইত্যাদির শাস্তি

কোন নারীর সম্মতি ছাড়া বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত (Wilful) কোন কার্য দ্বারা সম্ভ্রমহানি হইবার প্রত্যক্ষ কারণে কোন নারী আত্মহত্যা করিলে উক্ত ব্যক্তি উক্ত নারীকে অনুরূপ কার্য দ্বারা আত্মহত্যা করিতে প্ররোচিত করিবার অপরাধে অপরাধী হইবেন এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক দশ বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
১৫৫.
What is the maximum punishment for violating a curfew order under Section 24 of The Special Powers Act, 1974?
  1. 6 months imprisonment
  2. 1 year imprisonment
  3. 2 years imprisonment
  4. 3 years imprisonment
ব্যাখ্যা
Correct Answer: খ) 1 year imprisonment.

• বিশেষ ক্ষমতা আইন,১৯৭৪: ধারা ২৪: সান্ধ্য আইন:
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনার সান্ধ্য আইন [Curfew] জারি করতে পারে। উক্ত কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সান্ধ্য আইন এর আদেশে নির্ধারিত কোন এলাকা বা এলাকাসমূহের মধ্যে এবং নির্ধারিত সময়ের ভিতর কোন ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে পারবে না। যদি কেউ এই আদেশ ভঙ্গ করে তাহলে সে ১ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা জরিমানাসহ বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

Section 24: Curfew:
(1) The District Magistrate or the Police Commissioner in a Metropolitan Area may, subject to the control of the Government, by order direct that, subject to any exemption specified in the order, no person present within any area or areas specified in the order shall, between such hours as may be specified in the order, be out of doors except under the authority of a written permit granted by a specified authority or person.

(2) If any person contravenes any order made under this section, he shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.
১৫৬.
শিশু আইন, ২০১৩ এর অধীনে 'সুবিধাবঞ্চিত শিশু' এর সংজ্ঞা কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ধারা ৮৪
  2. ধারা ৮৫
  3. ধারা ৮৯
  4. ধারা ৯২
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩-এর অধীনে 'সুবিধাবঞ্চিত শিশু' এর সংজ্ঞা ধারা ৮৯-এ দেওয়া আছে।
- ধারা ৮৯(১): এই ধারায় 'সুবিধাবঞ্চিত শিশু' হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণির শিশুদের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
→ মাতা-পিতার একজন বা উভয়ের মৃত্যুবরণকারী শিশু।
→ আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবকহীন শিশু।
→ গৃহহীন বা জীবনধারণের অবলম্বনহীন শিশু।
→ ভিক্ষাবৃত্তি বা শিশুর মঙ্গলের পরিপন্থী কাজে লিপ্ত শিশু।
→ যৌন নির্যাতন বা হয়রানির শিকার শিশু।
→ প্রতিবন্ধী শিশু, মাদকাসক্ত শিশু, অসৎ সঙ্গে পতিত শিশু, বস্তিবাসী শিশু, রাস্তায় বসবাসকারী শিশু, হিজড়া শিশু, বেদে ও হরিজন শিশু, এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত শিশু, এবং শিশু-আদালত বা বোর্ড কর্তৃক বিশেষ সুরক্ষা প্রয়োজন বলে বিবেচিত শিশু।
ধারা ৮৯(২): সরকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা, এবং উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।
------
⇒ শিশু আইন, ২০১৩-এর ৮৯ ধারা সুবিধাবঞ্চিত শিশু:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিম্নবর্ণিত শিশুগণ সুবিধাবঞ্চিত শিশু হিসাবে গণ্য হইবে, যথা:-
(ক) যে শিশুর মাতা-পিতার যেকোন একজন বা উভয় মৃত্যুবরণ করিয়াছে;
(খ) আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবকহীন শিশু;
(গ) নির্দিষ্ট কোন গৃহ বা আবাসস্থলহীন এবং জীবনধারণের জন্য দৃশ্যমান অবলম্বনহীন কোন শিশু;
(ঘ) ভিক্ষাবৃত্তি বা শিশুর মঙ্গলের পরিপন্থী কোন কার্যে লিপ্ত শিশু;
(ঙ) কারাভোগরত মাতা-পিতার ওপর নির্ভরশীল বা কারাভোগরত মাতার সহিত কারাগারে অবস্থানরত শিশু;
(চ) যৌন নির্যাতন বা হয়রানির শিকার শিশু;
(ছ) যৌনবৃত্তি বা সমাজবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি বা অপরাধীর বাসস্থান বা কর্মস্থলে অবস্থানকারী বা গমনাগমনকারী শিশু; 
(জ) যে কোন ধরনের প্রতিবন্ধী শিশু; 
(ঝ) মাদক বা অন্য কোন কারণে অস্বাভাবিক আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিশু; 
(ঞ) অসৎ সঙ্গে পতিত বা নৈতিক অবক্ষয়ের সম্মুখীন হইতে পারে অথবা অপরাধ জগতে প্রবেশের ঝুঁকির সম্মুখীন শিশু; 
(ট) বস্তিতে বসবাসকারী শিশু; 
(ঠ) রাস্তা-ঘাটে বসবাসকারী গৃহহীন শিশু; 
(ড) হিজড়া শিশু; 
(ঢ) বেদে ও হরিজন শিশু; 
(ণ) এইচআইভি-এইড্‌স এ আক্রান্ত (infected) বা ক্ষতিগ্রস্ত (affected) শিশু; অথবা 
(ত) শিশু-আদালত বা বোর্ড কর্তৃক বিবেচিত কোন শিশু, যাহার বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 
(২) সরকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুর বিশেষ সুরক্ষা, যত্ন-পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবে।

১৫৭.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর উদ্দেশ্য কী?
  1. সহায়-সম্বলহীন জনগণকে সহায়তা প্রদান
  2. নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদান
  3. আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগণকে সহায়তা প্রদান
  4. উল্লিখিত সব গুলো
ব্যাখ্যা
⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর প্রস্তাবনায় এই আইনের উদ্দেশ্য দেয়া আছে। বলা আছে যে 'আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদানকল্পে প্রণীত আইন।'
-
যেহেতু আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদান সমীচীন ও প্রয়োজনীয়।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ২(ক) ধারার বিধান: “আইনগত সহায়তা” অর্থ আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীকে-
(অ) কোন আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান;
(আ) Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের বিধান অনুসারে মধ্যস্থতা বা সালিশের মাধ্যমে কোন মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী বা সালিশকারীকে সম্মানী প্রদান;
(ই) মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোন সহায়তা প্রদান; এবং
(ঈ) উপ-ধারা (অ) হইতে (ই) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে আইনজীবীকে সম্মানী প্রদান;
১৫৮.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ভরণপোষণের ব্যয় সাধারণত কত বয়স পর্যন্ত প্রদান করা হয়?
  1. ১৪ বছর পর্যন্ত
  2. ১৮ বছর পর্যন্ত
  3. ২১ বছর পর্যন্ত
  4. ২৫ বছর পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১৩(১)(ঘ) অনুসারে, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর ভরণপোষণের ব্যয় সাধারণত বয়স একুশ (২১) বছর পূর্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রদেয় হয়। তবে দুটি বিশেষ ক্ষেত্রে এই সময়সীমা আরও বর্ধিত হতে পারে:
১. একুশ বছরের অধিক বয়স্ক কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে – তার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত।
২. পঙ্গু সন্তানের ক্ষেত্রে – তিনি স্বীয় ভরণপোষণের যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত।
- সুতরাং, সাধারণ নিয়মে ভরণপোষণ ২১ বছর বয়স পর্যন্ত প্রদান করা হয়।

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১৩ ধারার বিধান: ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জন্মলাভকারী শিশু সংক্রান্ত বিধান:
(১) অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধর্ষণের কারণে কোন সন্তান জন্মলাভ করিলে-
(ক) উক্ত সন্তানকে তাহার মাতা কিংবা তাহার মাতৃকুলীয় আত্মীয় স্বজনের তত্ত্বাবধানে রাখা যাইবে;
(খ) উক্ত সন্তান তাহার পিতা বা মাতা, কিংবা উভয়ের পরিচয়ে পরিচিত হইবার অধিকারী হইবে;
(গ) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহণ করিবে;
(ঘ) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় তাহার বয়স একুশ বৎসর পূর্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রদেয় হইবে, তবে একুশ বত্সরের অধিক বয়স্ক কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে তাহার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত এবং পঙ্গু সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি স্বীয় ভরণপোষণের যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত প্রদেয় হইবে।
(২) সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিবে।
(৩) এই ধারার অধীন কোন সন্তানকে ভরণপোষণের জন্য প্রদেয় অর্থ সরকার ধর্ষকের নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবে এবং ধর্ষকের বিদ্যমান সম্পদ হইতে উক্ত অর্থ আদায় করা সম্ভব না হইলে, ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হইবেন সেই সম্পদ হইতে উহা আদায়যোগ্য হইবে।

১৫৯.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে কোনো লাইসেন্স অথবা পারমিট একাদিক্রমে _____ বৎসর নবায়ন না করা হইলে উহা পুনরায় নবায়নের যোগ্য হইবে না।
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
⇒মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ১৩ ধারার বিধান লাইসেন্স, ইত্যাদি: 
 (১) লাইসেন্স, পারমিট ও পাস বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ফরমে, শর্তে এবং ফিস প্রদান সাপেক্ষে মহাপরিচালক অথবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো অফিসার কর্তৃক প্রদান করা যাইবে। 
(২) লাইসেন্স, পারমিট অথবা পাসের মেয়াদ উহাতে উল্লিখিত শর্তে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অথবা উহার প্রদানের তারিখ হইতে সংশ্লিষ্ট অর্থ বৎসর সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে: 
তবে শর্ত থাকে, কোনো লাইসেন্স অথবা পারমিট একাদিক্রমে ৩ (তিন) বৎসর নবায়ন না করা হইলে উহা পুনরায় নবায়নের যোগ্য হইবে না।
১৬০.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এ বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  4. ৩ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯খ: বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দণ্ড:
যদি কোন ব্যক্তি দৈহিক বলপ্রয়োগ ব্যতীত বিবাহের প্রলোভন দেখাইয়া ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সংগে যৌনকর্ম করেন এবং যদি উক্ত ঘটনার সময় উক্ত ব্যক্তির সহিত উক্ত নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন
১৬১.
মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন কার্যে নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে, তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর কোন ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য?
  1. ধারা ৪১
  2. ধারা ৪২(১)
  3. ধারা ৪২(২)
  4. ধারা ৪৩
ব্যাখ্যা
ধারা ৪২- শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় নাই, এইরূপ মাদকদ্রব্য অপরাধের দণ্ড:
(১) কোনো ব্যক্তি যদি এই আইন অথবা বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে যাহার জন্য উহাতে স্বতন্ত্র কোনো দণ্ডের ব্যবস্থা নাই, তাহা হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ডে এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(২) মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন কার্যে নিয়োজিত কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যকে তাহার দায়িত্ব পালনকালে কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে অসহযোগিতা করিলে অথবা বাধা প্রদান করিলে কিংবা কোনোভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিলে তাহা মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা হিসাবে গণ্য হইবে এবং তজ্জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্যূন ২ (দুই) বৎসর, অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
১৬২.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কত ধারায় ডিএনএ পরীক্ষার বিধান রয়েছে?
  1. ৩২ ধারায়
  2. ৩১ক ধারায়
  3. ৩৩ ধারায়
  4. ৩২ক ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৩২ক- অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) পরীক্ষা

এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ধারা ৩২ এর অধীন মেডিক্যাল পরীক্ষা ছাড়াও, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪ (২০১৪ সনের ১০ নং আইন) এর বিধান অনুযায়ী ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) পরীক্ষা করিতে হইবে।
১৬৩.
১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাবাস
  3. ১৪ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাবাস
  4. ১০ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাবাস
ব্যাখ্যা
চোরাচালান

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫খ ধারায় চোরাচালান একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫খ (১) ধারায় বলা হয়েছে, বর্তমানে বলবৎ কোন আইন দ্বারা বা আইনের অধীন অরোপিত বাধানিষেধ লঙ্ঘন করে বা বর্তমানে বলবৎ কোন আইনের অধীন আদায়যোগ্য কোন শুল্ক বা কর ফাঁকি দিয়ে-
ক. বাংলাদেশী পাট, স্বর্ণ বা রুপা, স্বর্ণ বা সিলভার প্রস্তুতির দ্রব্যাদি, মুদ্রা, খাদ্যপণ্য, ঔষধসমূহ, আমদানিকৃত পণ্য বা অন্যকোন পণ্যসমূহ বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে যায়;
খ. যেকোন পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসে তাহলে সেটা চোরাচালান বলে গণ্য হবে।

শাস্তি
২৫খ (১) ধারায় চোরাচালানের (Smuggling) শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাবাস বা ১৪ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাবাস কিন্তু ২ বৎসরের কম না এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
অন্যদিকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এর ২৫খ (২) ধারা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কোন পণ্য বিক্রি করে বা বিক্রির প্রস্তাব দেয় বা বিক্রির জন্য প্রদর্শন করে বা নিজ নিয়ন্ত্রণে বা দখলে রাখে তাহলে সে ২৫খ(২) ধারায় উল্লেখিত চোরাচালানের জন্য দণ্ডিত হবে এবং ২৫খ (২) ধারায় উল্লেখিত শাস্তি অর্থাৎ ৭ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১ বৎসরের নিচে নয় এমন দণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
১৬৪.
শিশু আইনে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিকল্প পন্থা গ্রহণ করবেন-
  1. শিশু আদালত
  2. প্রবেশন কর্মকর্তা
  3. শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা
  4. শিশুর আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৮- বিকল্প পন্থা (diversion)

(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে গ্রেফতার বা আটকের পর হইতে বিচার কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রমের পরিবর্তে, শিশুর পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, নৃতাত্ত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক ও শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনাপূর্বক, বিরোধীয় বিষয় মীমাংসাসহ তাহার সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে বিকল্প পন্থা (diversion) গ্রহণ করা যাইবে। 
 
(২) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুর গ্রেফতারের পর হইতে বিচার কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালত আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নিমিত্ত বিকল্প পন্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি প্রবেশন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে। 
 
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার শর্ত প্রতিপালন করিতেছে কি না প্রবেশন কর্মকর্তা তাহা লক্ষ্য রাখিবেন এবং বিষয়টি, সময় সময়, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন। 
 
(৪) শিশু, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে প্রবেশন কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত আকারে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন। 
 
(৫) বিকল্প পন্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে। 
 
(৬) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অধিদপ্তর বিকল্প পন্থা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ যুগোপযোগী ও বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে।
১৬৫.
শিশু আইন, ২০১৩ এর ৩০ ধারায় শিশু-আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে কয়টি বিবেচ্য বিষয়ের কথা উল্লেখ আছে?
  1. ১০
  2. ১১
ব্যাখ্যা
⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ৩০ ধারার বিধান: শিশু-আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়:
- এই আইনের অধীন কোন আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে শিশু-আদালত নিম্নবর্ণিত বিষয় বিবেচনা করিবে, যথা :-
(ক) শিশুর বয়স ও লিঙ্গ;
(খ) শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা;
(গ) শিশুর শিক্ষাগত যোগ্যতা বা শিশু কোন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত;
(ঘ) শিশুর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক অবস্থা;
(ঙ) শিশুর পরিবারের আর্থিক অবস্থা;
(চ) শিশুর ও তাহার পরিবারের জীবন-যাপন পদ্ধতি;
(ছ) অপরাধ সংঘটনের কারণ, দলবদ্ধতা তথ্য, সার্বিক পরিস্থিতি ও পটভূমি;
(জ) শিশুর অভিমত;
(ঝ) সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন; এবং
(ঞ) শিশুর সংশোধন ও সর্বোত্তম স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আনুষঙ্গিক যে সকল বিষয় বিবেচনার্থে গ্রহণ করা আবশ্যক ও প্রয়োজন।

-শিশু আইন, ২০১৩ এর ৩০ ধারায় শিশু-আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে এই ১০টি বিবেচ্য বিষয়ের কথা উল্লেখ আছে।
১৬৬.
'Control Delivery' বলতে বোঝায় ____________ ব্যক্তিদের সনাক্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ তদন্ত কৌশল।
  1. মানব পাচার অপরাধ সংঘটনে জড়িত
  2. মানিলন্ডারিং আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে জড়িত
  3. বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে জড়িত
  4. মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত
ব্যাখ্যা
• ‘নিয়ন্ত্রিত বিলি' বিধানটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮ আইনে উল্লেখ রয়েছে।
 
• মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮ এর ২(১৫) ধারায় উল্লেখ আছে-
 
‘নিয়ন্ত্রিত বিলি (Control Delivery)’ অর্থ কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করিবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ তদন্ত কৌশল, যাহাতে কোনো মাদকদ্রব্য, উহার উৎসবস্তু, উপাদান অথবা মিশ্রণের বেআইনি অথবা সন্দেহজনক চালানকে তদন্তের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো আইন প্রায়োগকারী সংস্থার (সরকারের) জ্ঞাতসারে ও তত্ত্বাবধানে শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পরিবহন ও বিতরণ অথবা হস্তান্তর করিতে দেওয়া যাহার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত উক্ত মাদকদ্রব্যের উৎস হইতে গন্তব্য পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রমের সহিত জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেফতার করা যায়।
১৬৭.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯খ অনুযায়ী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনকর্ম করলে সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১৪ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯খ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দৈহিক বলপ্রয়োগ ব্যতীত বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ১৬ বছরের অধিক বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে যৌনকর্ম করেন এবং ঘটনার সময় উক্ত ব্যক্তির সঙ্গে নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। সঠিক উত্তর: খ) ৭ বছর।

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯খ বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম করিবার দণ্ড:
- যদি কোন ব্যক্তি দৈহিক বলপ্রয়োগ ব্যতীত বিবাহের প্রলোভন দেখাইয়া ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সংগে যৌনকর্ম করেন এবং যদি উক্ত ঘটনার সময় উক্ত ব্যক্তির সহিত উক্ত নারীর আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

১৬৮.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর কত ধারায় পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশির ক্ষমতার বিধান আছে?
  1. ধারা ১৯
  2. ধারা ২১
  3. ধারা ২৩
  4. ধারা ২৫
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৩- পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, ইত্যাদির ক্ষমতা:
(১) মহাপরিচালক অথবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে সাধারণ অথবা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো অফিসার, অথবা পুলিশের উপ-পরিদর্শক অথবা তদূর্ধ্ব কোনো অফিসার অথবা কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা] অথবা সমমানসম্পন্ন অথবা তদূর্ধ্ব কোনো অফিসার অথবা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ল্যান্স নায়ক অথবা তদূর্ধ্ব কোনো অফিসার অথবা কোস্ট গার্ড বাহিনীর পেটি অফিসার অথবা তদূর্ধ্ব কোনো অফিসারের এইরূপ বিশ্বাস করিবার কোনো কারণ থাকে যে, কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ কোনো স্থানে সংঘটিত হইয়াছে, হইতেছে অথবা হইবার আশংকা রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া লাইসেন্স প্রিমিজেস ব্যতীত, যে কোনো সময়-ঃ
 
(ক) উক্ত স্থানে প্রবেশ করিয়া তল্লাশি করিতে পারিবেন এবং প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হইলে, বাধা অপসারণের জন্য দরজা-জানালা ভাঙ্গাসহ যে-কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন;

(খ) উক্ত স্থানে তল্লাশিকালে প্রাপ্ত মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার্য মাদকদ্রব্য অথবা বস্তু এই আইনের অধীন আটক অথবা বাজেয়াপ্তযোগ্য বস্তু এবং কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ প্রমাণে সহায়ক কোনো দলিল, দস্তাবেজ অথবা জিনিসপত্র আটক করিতে পারিবেন;

(গ) উক্ত স্থানে উপস্থিত যে-কোনো ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করিতে পারিবে; এবং

(ঘ) উক্ত স্থানে উপস্থিত কোনো ব্যক্তিকে কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ করিয়াছেন অথবা করিতেছেন বলিয়া সন্দেহে গ্রেফতার করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সূর্যাস্ত হইতে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো স্থানে প্রবেশ করিয়া তল্লাশি পরিচালনা না করিলে মাদকদ্রব্য অপরাধ সম্পর্কীয় কোনো বস্তু নষ্ট অথবা লুপ্ত হইবার অথবা অপরাধী পালাইয়া যাইবার আশংকা রহিয়াছে বলিয়া উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত কোনো অফিসারের বিশ্বাস করিবার সংগত কারণ থাকিলে অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া তিনি উক্ত সময়ের মধ্যে উক্ত স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশি করিতে পারিবে।
১৬৯.
The Special Powers Act, 1974 এর কোন ধারায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ গুলি করে কার্যকরের বিধান আছে?
  1. 31
  2. 34A
  3. 34
  4. এমন কোন বিধান নেই
ব্যাখ্যা
♦ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারামতে কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে দণ্ডাদেশে নির্দেশ থাকিবে যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে তার গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
-তবে ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আদালত ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছিল।

- ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের (Special Powers Act, 1974) ৩৪ক ধারামতে ২ ভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে। যথা- i) ফাঁসি দিয়ে; অথবা ii) গুলি করে।
১৭০.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ অনুযায়ী, একজন আটক ব্যক্তির আটক স্থান নির্ধারণের কর্তৃপক্ষ কে?
  1. পুলিশ 
  2. আদালত
  3. সরকার
  4. স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল
ব্যাখ্যা

⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ অনুযায়ী, সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করে যে, আটক ব্যক্তিকে কোন স্থানে রাখা হবে এবং কোন শর্তাবলীর অধীনে রাখা হবে।

⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ধারা ৫: আটক স্থান ও আটক অবস্থার শর্তাবলী নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা:
যে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি করা হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বাধ্য থাকিবেন-
(ক) এমন স্থানে আটক থাকিতে এবং এমন শর্তাবলীর অধীন থাকিতে, যার মধ্যে শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য শাস্তির শর্তও অন্তর্ভুক্ত, যাহা সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারেন; এবং
(খ) সরকার কর্তৃক আদেশ প্রদানের মাধ্যমে এক স্থান হইতে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হইবার জন্য।
------------
⇒ The Special Powers Act, 1974, Section-5. Power to regulate place and conditions of detention:
Every person in respect of whom a detention order has been made shall be liable- 
(a) to be detained in such place and under such conditions, including conditions as to discipline and punishment for breaches of discipline, as the Government may, by general or special order specify; and 
(b) to be removed from one place of detention to another place of detention by order of the Government.

১৭১.
ধর্ষণ মামলার বিচার কত কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে?
  1. ৬০ কার্যদিবস
  2. ৯০ কার্যদিবস
  3. ১২০ কার্যদিবস
  4. ১৮০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০: ধারা ২০: বিচার পদ্ধতি:
(১) ধারা ৩৫ এর বিধান সাপেক্ষে এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার ধারা ২৬ বা, ক্ষেত্রমত, ধারা ২৬ক এর অধীন গঠিত ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হইবে।]

(২) ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানী শুরু হইলে উহা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা চলিবে।

(৩) বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ হইতে একশত আশি কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল বিচারকার্য সমাপ্ত করিবে।
(৩ক) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছু থাকুক না কেন, ধারা ৯ এর অধীন ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার বিচারকার্য ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের তারিখ হইতে নব্বই কার্যদিবসের মধ্যে সমাপ্ত করিবে।

 (৪) উপ-ধারা (৩) এবং উপ-ধারা (৩ক) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে মামলার বিচারকার্য সমাপ্ত করিবার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন না হইবার জন্য কোন সরকারি কর্মকর্তা দায়ী তাহা হইলে উহা দায়ী ব্যক্তির অদক্ষতা ও অসদাচারণ বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং উক্ত অদক্ষতা ও অসদাচরণ তাহার বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে লিপিবন্ধ করা হইবে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।]

(৫) কোন মামলার বিচারকার্য শেষ না করিয়া যদি কোন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বদলী হইয়া যান, তাহা হইলে তিনি বিচারকার্যের যে পর্যায়ে মামলাটি রাখিয়া গিয়াছেন, সেই পর্যায় হইতে তাহার স্থলাভিষিক্ত বিচারক বিচার করিবেন এবং তাহার পূর্ববর্তী বিচারক যে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করিয়াছেন সেই সাক্ষীর সাক্ষ্য পুনরায় গ্রহণ করার প্রয়োজন হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে যদি বিচারক কোন সাক্ষীর সাক্ষ্য পুনরায় গ্রহণ করা অপরিহার্য বলিয়া মনে করেন, তাহা হইলে তিনি সাক্ষ্য গ্রহণ করা হইয়াছে এমন যে কোন সাক্ষীকে তলব করিয়া পুনরায় তাহার সাক্ষ্য গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(৬) কোন ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে কিংবা ট্রাইব্যুনাল স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করিলে এই আইনের ধারা ৯ এর অধীন অপরাধের বিচার কার্যক্রম রুদ্ধদ্বার কক্ষে (trial in camera) অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।

(৭) কোন শিশু এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে অভিযুক্ত হইলে বা উক্ত অপরাধের সাক্ষী হইলে তাহার ক্ষেত্রে 62[শিশু আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ২৪ নং আইন)] এর বিধানাবলী যতদূর সম্ভব অনুসরণ করিতে হইবে।

(৮) কোন নারী বা শিশুকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখিবার আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল, উক্ত নারী বা শিশুর কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষার্থে তাহার মতামত গ্রহণ ও বিবেচনা করিবে।

(৯) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কেবল ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত মনে করিলে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করিয়া বিচারকার্য সম্পন্ন করিতে পারিবে।
১৭২.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে বিচারাধীন মামলার বিচারকার্য সর্বোচ্চ কতদিনের জন্য মুলতবি করা যেতে পারে?
  1. ৩ কার্যদিবস
  2. ৫ কার্যদিবস
  3. ৭ কার্যদিবস
  4. ১০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী,
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে বিচারাধীন মামলার বিচারকার্য আরম্ভ হলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিরত চলবে। তবে, যদি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারকার্য মুলতবি করা একান্ত প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে তিনি তা সর্বোচ্চ তিন কার্যদিবসের জন্য মুলতবি করতে পারবেন।
১৭৩.
নিচের কোনটি আইনগত সহায়তা হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. সালিশকারীকে সম্মানী প্রদান
  2. মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদান
  3. আইনগত পরামর্শ প্রদান
  4. সবগুলো আইনগত সহায়তা হিসেবে গণ্য হবে
ব্যাখ্যা

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ২(ক) ধারার বিধান:
“আইনগত সহায়তা” অর্থ আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীকে-
(অ) কোন আদালতে দায়েরযোগ্য, দায়েরকৃত বা বিচারাধীন মামলায় আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান;
(আ) Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের বিধান অনুসারে মধ্যস্থতা বা সালিশের মাধ্যমে কোন মামলা নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী বা সালিশকারীকে সম্মানী প্রদান;
(ই) মামলার প্রাসঙ্গিক খরচ প্রদানসহ অন্য যে কোন সহায়তা প্রদান; এবং
(ঈ) উপ-ধারা (অ) হইতে (ই) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে আইনজীবীকে সম্মানী প্রদান;

১৭৪.
'গ্রেফতার করার পর কোন শিশুকে হাতকড়া লাগানো যাবে না।'- শিশু আইন, ২০১৩ এর কত ধারায় এই বিধান উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৩৩ ধারায়
  2. ৪৪ ধারায়
  3. ৫৪ ধারায়
  4. ৬৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
শিশু আইন, ২০১৩: ধারা ৪৪- গ্রেফতার, ইত্যাদি:
(১) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না। 
 
(২) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে নিবর্তনমূলক আটকাদেশ সংক্রান্ত কোন আইনের অধীন গ্রেফতার বা আটক করা যাইবে না। 
 
(৩) শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্তু, ইত্যাদি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন এবং প্রাথমিকভাবে তাহার বয়স নির্ধারণ করিয়া নথিতে লিপিবদ্ধ করিবেন: 
তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতার করিবার পর কোন শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না। 
 
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা, উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির সময় প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদ্‌ঘাটনপূর্বক যাচাই-বাছাই করিয়া তাহার বয়স লিপিবদ্ধ করিবেন: 
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন শিশু কিন্তু সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করিয়াও দালিলিক প্রমাণ দ্বারা তাহা নিশ্চিত হওয়া যায় না, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের বিধান অনুযায়ী শিশু হিসাবে গণ্য করিতে হইবে। 
 
(৫) সংশ্লিষ্ট থানায় শিশুর জন্য উপযোগী কোন নিরাপদ স্থান না থাকিলে গ্রেফতারের পর হইতে আদালতে হাজির না করা সময় পর্যন্ত শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে: 
তবে শর্ত থাকে যে, নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ক্ষেত্রে শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক বা ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন এইরূপ কোন শিশু বা অপরাধী এবং আইনের সংস্পর্শে আসা কোন শিশুর সহিত একত্রে রাখা যাইবে না।
১৭৫.
একজন ম্যাজিস্ট্রেট কোন আইনের অপরাধের Cognizance গ্রহণ করতে পারেন না?
  1. Penal Code,1860
  2. The Negotiable Instruments Act,1881
  3. The Dowry Prohibition Act,1980
  4. The Special Powers Act,1974
ব্যাখ্যা
• The Special Powers Act, 1974 ২৬ ধারায় Special Tribunal গঠন এবং গঠিত Tribunal -এর কার্যপদ্ধতি ২৭ ধারা আলোচনা করা হয়েছে।

বিচারক নিয়োগ:
২৬(২) ধারা অনুযায়ী- Special Tribunal গঠিত হলে নিজস্ব দায়রা বিভাগের ৩ ধরনের বিচারক Special Tribunal-এর বিচারক হতে পারবে-

০১. দায়রা জজ;
০২. অতিরিক্ত দায়রা জজ;
০৩. যুগ্ম দায়রা জজ।

অভিযোগ গ্রহণ:
২৬(২) ধারার অধীনে গঠিত Special Tribunal এই আইনের তফসিলে বর্ণিত (৫টি আইনের) অপরাধসমূহের Cognizance গ্রহণ করতে পারে। তবে, Sub-Inspector পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তার লিখিত রিপোর্ট ব্যতীত Special Tribunal কোনো অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করবে না (shall not take cognizane)। অর্থাৎ The Special Powers Act,1974 এর অধীন গঠিত Special Tribunal শুধুমাত্র মামলা আমলে নিতে পারবে, ম্যাজিস্ট্রেট নয়।

বি.দ্র.: অপরাধ বিচারার্থে আমলে নেওয়া এবং বিচার করা ভিন্ন বিষয়। ম্যাজিস্ট্রেট CrPC'র ১৯০ ধারানুযায়ী ৩ উপায়ে অপরাধ আমলে নেন এবং CrPC'র ১৯৩ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধীসহ নথি পাঠালে দায়রা আদালত সে অপরাধ আমলে নেন, তবে মূল এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত হিসেবে অপরাধ আমলে নেন না।
১৭৬.
ভাটার ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করলে শাস্তি -
  1. অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড
  2. অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড
  3. অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত আইন, ২০১৩ এর ধারা ৬ এ বলা হয়েছে-

কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসাবে কোনো জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৬ লঙ্ঘন কর ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করেন, তাহলে ওই ব্যক্তিকে তিন বছর কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
১৭৭.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে আপীল করতে হবে কত দিনের মধ্যে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ "নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন" এর ধারা ২৮ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডে সংক্ষুব্ধ পক্ষকে উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল দায়ের করতে হবে
- এটি আইনের স্পষ্ট বিধান,  প্রাসঙ্গিক অংশ:
"ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে, হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবেন।"

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ধারা ২৮ আপীল:
- ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে, হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবেন।
১৭৮.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর অধীন মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের শাস্তি অনধিক কত বছর কারাদণ্ড?
  1. ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর বিনাশ্রম বা সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭: মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের ইত্যাদির শাস্তি-
 
(১) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অন্য কোন ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ করার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান তাহা হইলে মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়ের করাইয়াছেন উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
 
(২) কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল উপ-ধারা (১) এর অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করিতে পারিবে।
 
Section 17: Punishment for filing any false case, complaint etc.
 
i. If any person files or causes to be filed any case or complaint against a person under this Act for the purpose of causing injury to that person, although he knows that he had not any proper or; legal ground to do so, the person filing or causing to be filed that case or complain shall be punished with rigorous imprisonment for either description which may extend to seven years and also with fine.
 
ii. The Tribunal can take cognizance and adjudicate any offence under subsection (і), on a written application by any person.
১৭৯.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী সাধারণ জখমের সর্বোচ্চ শাস্তি কত বৎসর?
  1. ১২
ব্যাখ্যা
⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১ ধারার বিধান যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
- যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-
(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
১৮০.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর কত ধারায় ডিজিটাল রেকর্ডকে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে?
  1. ৫৫ ধারায়
  2. ৫৬ ধারায়
  3. ৫৭ ধারায়
  4. ৫৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৫৬: ক্যামেরায় গৃহীত ছবি, রেকর্ডকৃত কথাবার্তা, ইত্যাদির সাক্ষ্য মূল্য:
Evidence Act, 1872 (Act No.I of 1872) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি বা তদন্তকারী সংস্থার কোনো সদস্য বা অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ বা ক্ষতি সংঘটন বা সংঘটনের প্রস্তুতি গ্রহণ বা উহা সংঘটনে সহায়তা সংক্রান্ত কোনো ঘটনার ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ বা গ্রহণ করিলে বা কোনো কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা টেপ রেকর্ড বা ডিস্কে ধারণ করিলে উক্ত ভিডিও, স্থিরচিত্র, টেপ বা ডিস্ক উক্ত অপরাধ বা ক্ষতি সংশ্লিষ্ট মামলা বিচারের সময় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।
১৮১.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪(১) ধারায় প্রদত্ত সর্বনিম্ন শাস্তি কী?
  1. অনধিক চৌদ্দ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড
  3. অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. অনধিক দশ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০ এর ৪(১) ধারায় 'দহনকারী, ক্ষয়কারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোন শিশু বা নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার' শাস্তির বিধান রয়েছে। উক্ত ধারানুসারে,

⇒ সর্বোচ্চ শাস্তি- মৃত্যুদণ্ড;
⇒ সর্বনিম্ন শাস্তি- যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড;
⇒ অর্থদণ্ড- অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা।

ধারা ৪- দহনকারী, ইত্যাদি পদার্থ দ্বারা সংঘটিত অপরাধের শাস্তি:

(১) যদি কোন ব্যক্তি দহনকারী, ক্ষয়কারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোন শিশু বা নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

(২) যদি কোন ব্যক্তি কোন দহনকারী, ক্ষয়কারী বা বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোন শিশু বা নারীকে এমনভাবে আহত করেন যাহার ফলে উক্ত শিশু বা নারীর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট হয় বা শরীরের কোন অংগ, গ্রন্থি বা অংশ বিকৃত বা নষ্ট হয় বা তাহার শরীরের অন্য কোন স্থান আহত হয়, তাহা হইলে উক্ত শিশুর বা নারীর-

(ক) দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট বা মুখমণ্ডল, স্তন বা যৌনাংগ বিকৃত বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকার অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) শরীরের অন্য কোন অংগ, গ্রন্থি বা অংশ বিকৃত বা নষ্ট হওয়ার বা শরীরের কোন স্থানে আঘাত পাওয়ার ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি অনধিক চৌদ্দ বৎসর কিন্তু অন্যূন সাত বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

(৩) যদি কোন ব্যক্তি কোন দহনকারী, ক্ষয়কারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ কোন শিশু বা নারীর উপর নিক্ষেপ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, তাহার উক্তরূপ কার্যের দরুণ সংশ্লিষ্ট শিশু বা নারীর শারীরিক, মানসিক বা অন্য কোনভাবে কোন ক্ষতি না হইলেও, অনধিক সাত বৎসর কিন্তু অন্যূন তিন বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

(৪) এই ধারার অধীন অর্থদণ্ডের অর্থ প্রচলিত আইনের বিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে বা তাহার বিদ্যমান সম্পদ, বা তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর সময় রাখিয়া যাওয়া সম্পদ হইতে আদায় করিয়া অপরাধের দরুণ যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটিয়াছে তাহার উত্তরাধিকারীকে বা, ক্ষেত্রমত, যেই ব্যক্তি শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন, সেই ব্যক্তিকে বা সেই ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে, তাহার উত্তরাধিকারীকে প্রদান করা হইবে।
১৮২.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর অধীনে গঠিত সুপ্রীম কোর্ট কমিটির সদস্য-সচিব কে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. অ্যাটর্নি-জেনারেল
  3. লিগ্যাল এইড অফিসার
  4. হাইকোর্ট বিভাগের মনোনীত বিচারপতি
ব্যাখ্যা

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ৮ক- সুপ্রীম কোর্ট কমিটি:
(১) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে সুপ্রীম কোর্ট কমিটি নামে একটি কমিটি থাকিবে এবং উহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:  
(ক) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
(কক) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন রেজিস্ট্রার;]
(খ) সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এবং উক্ত সমিতি কর্তৃক মনোনীত সমিতির অন্য একজন সদস্য;
(গ) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত মানবাধিকার ও সমাজকল্যাণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী দুইজন আইনজীবী, যাহাদের মধ্যে একজন মহিলা থাকিবেন;
(ঘ) বোর্ড কর্তৃক মনোনীত জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত আইন ও মানবাধিকার ইস্যুতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি সংস্থার দুইজন প্রতিনিধি;
(ঙ) বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল কর্তৃক মনোনীত একজন অন্যূন ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল;
(চ) বোর্ডের চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত সংস্থার অন্যূন উপ-পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;
(ছ) লিগ্যাল এইড অফিসার, সুপ্রীম কোর্ট, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন;

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এবং (ঘ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

১৮৩.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কত ধারায় “অপহরণ” এর সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. ২(ঘ)
  2. ২(খ)
  3. ২(চ)
  4. ২(ছ)
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২(খ) এর বিধান-

“অপহরণ” অর্থ বলপ্রয়োগ বা প্রলুব্ধ করিয়া বা ফুসলাইয়া বা ভুল বুঝাইয়া বা ভীতি প্রদর্শন করিয়া কোন স্থান হইতে কোন ব্যক্তিকে অন্যত্র যাইতে বাধ্য করা।
১৮৪.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর অধীন নাশকতার (Sabotage) সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪, ধারা ১৫(৩) অনুযায়ী:
নাশকতা বা অন্তর্ঘাত (Sabotage) করলে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড।

⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ১৫ ধারার বিধান- অন্তর্ঘাতী কার্য/নাশকতা (Sabotage):
(১) কোনো ব্যক্তি যদি নিম্নলিখিত কোনো সম্পদ বা সেবার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে, তবে তা অন্তর্ঘাত হিসেবে গণ্য হবে:
(ক) সরকার বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা জাতীয়কৃত বাণিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যবহৃত বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোনো ভবন, যানবাহন, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ বা অন্যান্য সম্পদ;
(খ) কোনো রেলপথ, আকাশ রোপওয়ে, সড়ক, খাল, সেতু, কালভার্ট, কজওয়ে, বন্দর, ডকইয়ার্ড, বাতিঘর, বিমানবন্দর, টেলিগ্রাফ বা টেলিফোন লাইন বা পোস্ট, বা টেলিভিশন বা বেতার স্থাপন;
(গ) কোনো রেলপথের রোলিং স্টক বা কোনো জাহাজ বা বিমান;
(ঘ) কোনো ভবন বা অন্যান্য সম্পদ যা কোনো মৌলিক পণ্য উৎপাদন, বিতরণ বা সরবরাহের সাথে সম্পর্কিত, কোনো স্যুয়েজ কাজ, খনি বা কারখানা;
(ঙ) এই আইনের অধীনে বা অন্য কোনো আইনের অধীনে নিষিদ্ধ বা সুরক্ষিত কোনো স্থান বা এলাকা;
(চ) কোনো পাট, পাটজাত পণ্য, পাট গোডাউন, পাট মিল বা পাট বেলিং প্রেস।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক এইরূপ কোনো কার্য করা হইতে বিচ্যুতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক যে কার্য করা সরকারের বা সরকারি কর্তৃপক্ষের বা কোনো ব্যক্তির প্রতি তাহার কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

(৩) কোনো ব্যক্তি যদি এই ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে, বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক চৌদ্দ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে, এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হইবেন।

১৮৫.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর কত ধারায় সরকারকে দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৩০
  2. ধারা ৩০ক
  3. ধারা ৩১
  4. ধারা ৩৪ক
ব্যাখ্যা
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ৩০ক- দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা:
ফৌজদারী কার্যবিধির অধ্যায় ২৯ এর বিধানাবলি ক্ষুণ্ণ না করিয়া, সরকার যে কোনো সময় এই আইনের অধীন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো দণ্ড মওকুফ করিতে, সাময়িকভাবে স্থগিত করিতে বা হ্রাস করিতে পারিবে।

[Without prejudice to the provisions of Chapter XXIX of the Code, the Government may at any time remit, suspend or commute any sentence passed by Special Tribunal under this Act.]
১৮৬.
শিশু আইনে প্রদত্ত সময়সীমার মধ্যে শিশু আদালতে বিচারকার্য সম্পন্ন না করলে এবং বিচার্য অভিযোগ লঘু প্রকৃতির হলে,অভিযুক্ত শিশুর ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে?
  1. পুনরায় অভিযোগ গঠন হবে
  2. অব্যাহতি পাবে
  3. খালাস পাবে
  4. মুক্তি পাবে
ব্যাখ্যা
শিশু আইন,২০১৩

ধারা ৩২- বিচার সমাপ্তির সময়সীমা
 
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত উক্ত আদালতে শিশুর প্রথম উপস্থিত হইবার তারিখ হইতে ৩৬০ (তিনশত ষাট) দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে। 

(২) কোন যুক্তিসঙ্গত ও বাস্তব কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব না হইলে শিশু-আদালত, উক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য সম্পন্নের সময়সীমা আরও ৬০ (ষাট) দিন বর্ধিত করিতে পারিবে। 

(৩) শিশু-আদালতে বিচার আরম্ভ হইবার পর হইতে, বিচার কার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যতদূর সম্ভব, একাদিক্রমে উহার কার্যক্রম প্রত্যেক কার্যদিবসে বিনা বিরতিতে চলিতে থাকিবে। 

(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এ বর্ণিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করা না হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণ্য বা গুরুতর অপরাধের দায়ে দায়েরকৃত মামলা ব্যতীত, শিশু-আদালতের বিবেচনায় তাহার বিরুদ্ধে আনীত লঘু মাত্রার অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবে এবং একই অপরাধের জন্য তাহার বিরু্দ্ধে অন্য কোন বিচার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা যাইবে না: 

তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট মামলায় কোন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অভিযুক্ত থাকিলে তাহার মামলা অব্যাহত থাকিবে।
১৮৭.
প্রচলিত কোন আইনের বাধা নিষেধ ভঙ্গ করে বেআইনিভাবে কোন জিনিসপত্র বাংলাদেশে আনা বা অন্য কোন দেশে পাচার করার জন্য (Special Powers Act) এর অধীন সর্বোচ্চ শাস্তি কি?
  1. ১৪ বছরের কারাদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. মৃত্যুদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদন্ড
ব্যাখ্যা
চোরাচালান

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫খ ধারায় চোরাচালান একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫খ (১) ধারায় বলা হয়েছে, বর্তমানে বলবৎ কোন আইন দ্বারা বা আইনের অধীন অরোপিত বাধানিষেধ লঙ্ঘন করে বা বর্তমানে বলবৎ কোন আইনের অধীন আদায়যোগ্য কোন শুল্ক বা কর ফাঁকি দিয়ে-
ক. বাংলাদেশী পাট, স্বর্ণ বা রুপা, স্বর্ণ বা সিলভার প্রস্তুতির দ্রব্যাদি, মুদ্রা, খাদ্যপণ্য, ঔষধসমূহ, আমদানিকৃত পণ্য বা অন্যকোন পণ্যসমূহ বাংলাদেশের বাইরে নিয়ে যায়;
খ. যেকোন পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসে তাহলে সেটা চোরাচালান বলে গণ্য হবে।

শাস্তি
২৫খ (১) ধারায় চোরাচালানের (Smuggling) শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাবাস বা ১৪ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাবাস কিন্তু ২ বৎসরের কম না এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
অন্যদিকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এর ২৫খ (২) ধারা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কোন পণ্য বিক্রি করে বা বিক্রির প্রস্তাব দেয় বা বিক্রির জন্য প্রদর্শন করে বা নিজ নিয়ন্ত্রণে বা দখলে রাখে তাহলে সে ২৫খ(২) ধারায় উল্লেখিত চোরাচালানের জন্য দণ্ডিত হবে এবং ২৫খ (২) ধারায় উল্লেখিত শাস্তি অর্থাৎ ৭ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১ বৎসরের নিচে নয় এমন দণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
১৮৮.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীন অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ট্রাইব্যুনাল কাকে নির্দেশ দিতে পারে?
  1. জেলা জজকে
  2. পুলিশ সুপারকে
  3. জেলা প্রশাসককে
  4. জেলা কালেক্টরকে
ব্যাখ্যা

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৬ অনুযায়ী, অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য ট্রাইব্যুনাল জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দিতে পারে। ট্রাইব্যুনাল জেলা কালেক্টরকে অপরাধীর স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুত করে ক্রোক, নিলাম বিক্রয়, বা সরাসরি নিলামের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের নির্দেশ দিতে পারে, এবং এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৬ - অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদ্ধতি:
১৬। এই আইনের অধীনে কোন অর্থদণ্ড আরোপ করা হইলে, ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট জেলার কালেক্টরকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বা অনুরূপ বিধি না থাকিলে, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অপরাধীর স্থাবর বা অস্থাবর বা উভয়বিধ সম্পত্তির তালিকা প্রস্তুতক্রমে ক্রোক ও নিলাম বিক্রয় বা ক্রোক ছাড়াই সরাসরি নিলামে বিক্রয় করিয়া বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং ট্রাইব্যুনাল উক্ত অর্থ অপরাধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রদানের ব্যবস্থা করিবে।

১৮৯.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর কত ধারায় “অপহরণ” এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ২(খ)
  2. ধারা ২(গ)
  3. ধারা ২(ঘ)
  4. ধারা ২(চ)
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২(খ):
“অপহরণ” অর্থ বলপ্রয়োগ বা প্রলুব্ধ করিয়া বা ফুসলাইয়া বা ভুল বুঝাইয়া বা ভীতি প্রদর্শন করিয়া কোন স্থান হইতে কোন ব্যক্তিকে অন্যত্র যাইতে বাধ্য করা।

⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২(খ) অনুযায়ী, “অপহরণ” অর্থ এমন একটি কার্য, যেখানে বলপ্রয়োগ, প্রলুব্ধ করা, ফুসলানো, ভুল বুঝানো বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে এক স্থান থেকে অন্যত্র যেতে বাধ্য করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ,
কেউ যদি একটি মেয়েকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বলে যে সে তাকে বিয়ে করবে, আর সেই আশ্বাসে মেয়েটি বাড়ি ছেড়ে তার সঙ্গে চলে যায়- তাহলেও এটি “অপহরণ” হিসেবে গণ্য হবে। আবার যদি কোনো শিশুকে লজেন্স দেখিয়ে বা খেলনার লোভ দেখিয়ে এক স্থান থেকে তুলে নেওয়া হয়, সেটাও অপহরণ।
১৯০.
কোনো এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে লিখিত আদেশ দ্বারা কোনো মাদকদ্রব্যের দোকান বা পানশালা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে পারে-
  1. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  2. পুলিশ কমিশনার
  3. বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
ধারা ১৯- মাদকদ্রব্যের দোকান অথবা পানশালা (Bar) সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করিবার ক্ষমতা

(১) মহাপরিচালকের অনুমোদন ব্যতীত লাইসেন্স প্রাপ্ত কোনো মদের দোকান অথবা পানশালা বন্ধ করা যাইবে না: 
তবে শর্ত থাকে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশ কমিশনার যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে তাহার অধীন কোনো এলাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে কোনো মাদকদ্রব্যের দোকান বা পানশালা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রয়োজন, তাহা হইলে তিনি লিখিত আদেশ দ্বারা অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের জন্য উক্ত দোকান বা পানশালা বন্ধ করিতে পারিবেন। 

(২) বিশেষ জরুরি অবস্থায় মহাপরিচালকের পূর্বানুমোদনক্রমে এই মেয়াদ আরও ৩০ (ত্রিশ) দিন পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবেন। 

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন জারিকৃত কোনো আদেশের অনুলিপি অবিলম্বে মহাপরিচালকের নিকট তাহার অবগতির জন্য প্রেরণ করিতে হইবে।
১৯১.
শিশু আইনের অধীন কোন আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে শিশু আদালত নিম্নবর্ণিত কোন বিষয় বিবেচনা করবে না?
  1. শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা
  2. শিশু ও তার পরিবারের জীবন-যাপন পদ্ধতি
  3. শিশুর অভিভাবকের অভিমত
  4. শিশুর অভিমত
ব্যাখ্যা
ধারা ৩০- শিশু আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়:

এই আইনের অধীন কোন আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে শিশু-আদালত নিম্নবর্ণিত বিষয় বিবেচনা করিবে, যথা :- 
 
(ক) শিশুর বয়স ও লিঙ্গ; 
(খ) শিশুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা; 
(গ) শিশুর শিক্ষাগত যোগ্যতা বা শিশু কোন্ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত; 
(ঘ) শিশুর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক অবস্থা; 
(ঙ) শিশুর পরিবারের আর্থিক অবস্থা; 
(চ) শিশুর ও তাহার পরিবারের জীবন-যাপন পদ্ধতি; 
(ছ) অপরাধ সংঘটনের কারণ, দলবদ্ধতার তথ্য, সার্বিক পরিস্থিতি ও পটভূমি; 
(জ) শিশুর অভিমত;
(ঝ) সামাজিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন; এবং 
(ঞ) শিশুর সংশোধন ও সর্বোত্তম স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আনুষঙ্গিক যে সকল বিষয় বিবেচনার্থে গ্রহণ করা আবশ্যক ও প্রয়োজন।
১৯২.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মজুতদারি বা কালোবাজারির সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ২৫ এ মজুতদারি বা কালোবাজারির জন্য শাস্তির বিধান দেওয়া আছে।
- ধারা ২৫(১) অনুসারে: "মজুতদারি বা কালোবাজারির অপরাধে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, বা ১৪ বছর পর্যন্ত কঠোর কারাদণ্ড এবং জরিমানা।"
- এখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড উভয়ই উল্লেখ আছে।
- তবে বিশেষ ক্ষেত্রে: ধারা ২৫(২) অনুসারে, যদি মজুতদারি আর্থিক বা অন্য কোনো সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে না হয়, তবে শাস্তি সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
- কিন্তু সাধারণভাবে মজুতদারি/কালোবাজারির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

১৯৩.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কোন অপরাধ আপসযোগ্য?
  1. মিথ্যা মামলা দায়ের
  2. নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা
  3. যৌতুকের জন্য নারীকে সাধারণ জখম
  4. মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কোন নারী বা শিশুকে আটক
ব্যাখ্যা
ধারা ১৯- অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ, ইত্যাদি

(১) এই আইনের অধীন সকল অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণীয় হইবে, এবং ধারা ১১ এর দফা (গ) এ উল্লিখিত অপরাধ আপসযোগ্য হইবে।

(২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত মূল এবং প্রত্যক্ষভাবে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হইবে না, যদি-
(ক) তাহাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদনের উপর অভিযোগকারী পক্ষকে শুনানীর সুযোগ দেওয়া না হয়; এবং
(খ) তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হন।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোন ব্যক্তি নারী বা শিশু হইলে কিংবা শারীরিকভাবে অসুস্থ (sick or infirm) হইলে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কারণে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হইবে না মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইবে।

(৪) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ব্যক্তি ব্যতীত এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের জন্য অভিযুক্ত অন্য কোন ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া ন্যায়সংগত হইবে মর্মে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হইলে তদ্‌মর্মে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনাল জামিনে মুক্তি দিতে পারিবে।

ধারা ১১- যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি

যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন 15[কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-

(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
১৯৪.
কোনো ব্যক্তি সরকারি আইনগত সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কোন ধরনের সেবা গ্রহণের জন্য যোগ্য হবেন?
  1. আইনগত তথ্য সেবা গ্রহণ
  2. আইনগত পরামর্শ গ্রহণ
  3. বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির
  4. উল্লিখিত সকল সেবা
ব্যাখ্যা
• আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪:

অনুচ্ছেদ ৪: তথ্য সেবা গ্রহণ, ইত্যাদি


অনুচ্ছেদ ২ এ বর্ণিত বিধান সত্ত্বেও যে কোন ব্যক্তি, তাহার আর্থিক সামর্থ্য যাই হোক না কেন, সরকারি আইনগত সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত আইনগত তথ্য সেবা গ্রহণ, আইনগত পরামর্শ গ্রহণ কিংবা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির সেবা গ্রহণের জন্য যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন।
১৯৫.
মাদকদ্রব্য অপরাধ সংক্রান্ত কোনো ঘটনার ভিডিও বা স্থিরচিত্র আদালতে কীভাবে ব্যবহারযোগ্য?
  1. শুধুমাত্র তদন্তের কাজে
  2. বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য হিসেবে
  3. অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে
  4. ব্যবহারযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৫৬: ক্যামেরায় গৃহীত ছবি, রেকর্ডকৃত কথাবার্তা, ইত্যাদির সাক্ষ্য মূল্য:
Evidence Act, 1872 (Act No.I of 1872) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি বা তদন্তকারী সংস্থার কোনো সদস্য বা অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ বা ক্ষতি সংঘটন বা সংঘটনের প্রস্তুতি গ্রহণ বা উহা সংঘটনে সহায়তা সংক্রান্ত কোনো ঘটনার ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ বা গ্রহণ করিলে বা কোনো কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা টেপ রেকর্ড বা ডিস্কে ধারণ করিলে উক্ত ভিডিও, স্থিরচিত্র, টেপ বা ডিস্ক উক্ত অপরাধ বা ক্ষতি সংশ্লিষ্ট মামলা বিচারের সময় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।

১৯৬.
কোনো শিশু যদি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য নয় এমন অপরাধে দোষী হয়, তবে শিশু-আদালত সর্বাধিক কত বছর মেয়াদে আটকাদেশ প্রদান করবে?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩৪- শিশু-আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আটকাদেশ, ইত্যাদি:
(১) কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দোষী প্রমাণিত হইলে শিশু-আদালত তাহাকে অনুর্ধ্ব ১০ (দশ) বৎসর এবং অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে আটকাদেশ প্রদান করিয়া শিশুউন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শিশু মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় নয় এমন কোন অপরাধে দোষী প্রমাণিত হইলে শিশু-আদালত তাহাকে অনধিক ৩ (তিন) বৎসর মেয়াদে আটকাদেশ প্রদান করিয়া শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
 
(২) শিশু-আদালতের আদেশে অথবা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আটকাদেশপ্রাপ্ত শিশুর আচরণ, চারিত্রিক ও ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটিলে এবং হত্যা, ধর্ষণ, দস্যুতা, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন জঘন্য, ঘৃণ্য বা গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত না হইলে, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ শিশুর বয়স ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইবার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট শিশুকে মুক্তি প্রদানের লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য, ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইবার অন্যূন ৩ (তিন) মাস পূর্বে, সরকারের নিকট সুপারিশ প্রেরণ করিতে পারিবে।
 
(৩) হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, দস্যুতা বা মাদক ব্যবসা বা অন্য কোন গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত শিশুর বয়স ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইলে এবং মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকিলে অথবা উল্লিখিত অপরাধের মামলায় আদালতের আদেশ অনুযায়ী আটকাদেশপ্রাপ্ত শিশুর বয়স ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইলে, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বা প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ, শিশু-আদালতের অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে প্রেরণ করিবে।
 
(৪) কারাগার কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রেরিত ব্যক্তিকে, কারাগারে অবস্থানরত অন্য কোন আইনের অধীনে দণ্ডপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন আসামীদের হইতে পৃথক করিয়া ভিন্ন ওয়ার্ডে রাখিবার ব্যবস্থা করিবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাহার আটকাদেশের মেয়াদ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, আটকাদেশের অবশিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত অবস্থান করিবেন।
 
(৫) কোন শিশুর বিচার প্রক্রিয়া ১৮ (আঠার) বৎসর পূর্ণ হইবার পর সমাপ্ত হইলে এবং বিচার সমাপ্তির পর তাহাকে আটকাদেশ প্রদান করা হইলে উক্ত শিশুকে শিশু-আদালত সরাসরি কেন্দ্রীয় বা জেলা কারাগারে প্রেরণ করিবে।
 
(৬) এই ধারায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশু-আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, কোন শিশুকে উপ-ধারা (১) এর অধীন শিশুউন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার পরিবর্তে যথাযথ সতর্কীকরণের পর খালাস প্রদানের অথবা সদাচারণের জন্য প্রবেশনে মুক্তি দানের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
 
(৭) কোন শিশুকে, উপ-ধারা (৬) এর অধীন, প্রবেশনে মুক্তির ক্ষেত্রে শিশু-আদালত সংশ্লিষ্ট শিশুকে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে অথবা তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য অথবা অন্য কোন উপযুক্ত ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে সোপর্দ করিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শিশুকে তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্যের অনুকূলে সোপর্দ করা হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উক্ত শিশুর, অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কাল, সদাচরণের জন্য দায়ী থাকিবেন মর্মে জামিনসহ বা বিনা জামিনে অথবা আদালত যেইরূপ নির্দেশ প্রদান করিবে সেইরূপ মুচলেকা প্রদান করিতে হইবে।
 
(৮) প্রবেশন কর্মকর্তার নিকট হইতে রিপোর্ট প্রাপ্তি অথবা অন্য কোনভাবে যদি আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, প্রবেশনে মুক্ত শিশু তাহার প্রবেশনকালে সদাচরণ করে নাই, তাহা হইলে আদালত, যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ তদন্ত করিবার পর, সংশ্লিষ্ট শিশুকে প্রবেশনের অসমাপ্ত সময়ের জন্য প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে আটক রাখিবার জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

১৯৭.
Within how many days must the Government place the detention order’s grounds before the Advisory Board under The Special Powers Act, 1974?
  1. 30 days
  2. 60 days
  3. 90 days
  4. 120 days
ব্যাখ্যা
Section 10 of The Special Powers Act, 1974: Reference to Advisory Board:
In every case where a detention order has been made under this Act, the Government shall, within one hundred and twenty days from the date of detention under the order, place before the Advisory Board constituted under section 9 the grounds on which the order has been made and the representation, if any, made by the person affected by the order.

উপদেষ্টা বোর্ডের কাছে রেফারেন্স (ধারা ১০):
যে কোনো ক্ষেত্রে, যেখানে এই আইনের অধীনে কোনো আটকাদেশ জারি করা হয়েছে, সরকারকে আটকাদেশের তারিখ থেকে একশো বিশ (১২০) দিনের মধ্যে ধারা ৯ অনুযায়ী গঠিত উপদেষ্টা বোর্ডের সামনে সেই আটকাদেশ জারির কারণ এবং সেই আটকাদেশে প্রভাবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে যদি কোনো আপত্তি বা দাবি থাকে তা উপস্থাপন করতে হবে।
১৯৮.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর কত ধারা অনুযায়ী আপিল আদালত জামিন দিতে পারে?
  1. ধারা ৪৭(১)
  2. ধারা ৪৭(২)
  3. ধারা ৪৮
  4. ধারা ৪৭(৯)
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ধারা ৪৭(২) অনুসারে, আপিল আদালতও জামিন অনুমোদন করতে পারে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর ধারা ৪৭ (জামিন সংক্রান্ত বিধান):
(১) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তি প্রদান করা হইবে না, যদি-
(ক) তাহাকে মুক্তি প্রদানের আবেদনের উপর রাষ্ট্র বা, ক্ষেত্রমত, অভিযোগকারী পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান করা না হয়; এবং
(খ) তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে মর্মে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত সন্তুষ্ট হন; অথবা
(গ) তিনি নারী বা শিশু অথবা শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ না হন এবং তাহাকে জামিনে মুক্তি প্রদানের কারণে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হইবে না মর্মে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত সন্তুষ্ট না হয়।

(২) কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধের তদন্ত সমাপ্তির পর, তদন্ত প্রতিবেদন বা সেই সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে যদি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত বা, ক্ষেত্রমত, আপিল আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোনো ব্যক্তি উক্ত অপরাধের সহিত জড়িত নহেন বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে, তাহা হইলে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত বা আপিল আদালত সংশ্লিষ্ট তথ্য ও কারণ উল্লেখপূর্বক উক্ত ব্যক্তিকে জামিনে মুক্তির আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
১৯৯.
৯ বছরের নিচের শিশুকে কোন পরিস্থিতিতে গ্রেফতার করা যাবে?
  1. গুরুতর অপরাধে
  2. আদালতের আদেশে
  3. অভিভাবকের অনুমতিতে
  4. কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা যাবে না
ব্যাখ্যা
শিশু আইন, ২০১৩, ধারা ৪৪: গ্রেফতার, ইত্যাদি:
(১) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ৯ (নয়) বৎসরের নিম্নের কোন শিশুকে কোন অবস্থাতেই গ্রেফতার করা বা, ক্ষেত্রমত, আটক রাখা যাইবে না। 
 
(২) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে নিবর্তনমূলক আটকাদেশ সংক্রান্ত কোন আইনের অধীন গ্রেফতার বা আটক করা যাইবে না। 
 
(৩) শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতারের কারণ, স্থান, অভিযোগের বিষয়বস্ত্ত, ইত্যাদি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন এবং প্রাথমিকভাবে তাহার বয়স নির্ধারণ করিয়া নথিতে লিপিবদ্ধ করিবেন : 
তবে শর্ত থাকে যে, গ্রেফতার করিবার পর কোন শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাইবে না। 
 
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা, উক্ত সনদের অবর্তমানে স্কুল সার্টিফিকেট বা স্কুলে ভর্তির সময় প্রদত্ত তারিখসহ প্রাসঙ্গিক দলিলাদি উদ্‌ঘাটনপূর্বক যাচাই-বাছাই করিয়া তাহার বয়স লিপিবদ্ধ করিবেন: 
 তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন শিশু কিন্তু সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করিয়াও দালিলিক প্রমাণ দ্বারা তাহা নিশ্চিত হওয়া যায় না, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের বিধান অনুযায়ী শিশু হিসাবে গণ্য করিতে হইবে। 
 
(৫) সংশ্লিষ্ট থানায় শিশুর জন্য উপযোগী কোন নিরাপদ স্থান না থাকিলে গ্রেফতারের পর হইতে আদালতে হাজির না করা সময় পর্যন্ত শিশুকে নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে : 
 তবে শর্ত থাকে যে, নিরাপদ স্থানে আটক রাখিবার ক্ষেত্রে শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক বা ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হইয়াছেন এইরূপ কোন শিশু বা অপরাধী এবং আইনের সংস্পর্শে আসা কোন শিশুর সহিত একত্রে রাখা যাইবে না।
২০০.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর বিধান অনুযায়ী, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কে নিয়োগ দেন?
  1. সরকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. জাতীয় পরিচালনা বোর্ড 
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ২১(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, "সংস্থার একজন নির্বাহী পরিচালক থাকিবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷"
- অর্থাৎ, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নির্বাহী পরিচালককে নিয়োগ দেন সরকার। ধারা ২১(৪) এ আরও উল্লেখ আছে যে নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান কর্তৃক একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করা যায়, কিন্তু নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে সরকার।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ২১- নির্বাহী পরিচালক:
(১) সংস্থার একজন নির্বাহী পরিচালক থাকিবেন এবং তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷
(২) নির্বাহী পরিচালক, সংস্থার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন এবং বোর্ডের নির্দেশ মোতাবেক সংস্থার কার্য সম্পাদন করিবেন।
(৩) সংস্থা, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ না হওয়া অবধি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্য হইতে চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত কোন কর্মকর্তা নির্বাহী পরিচালক]রূপে কাজ করিবেন৷
(৫) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ না হওয়া অবধি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় উহার বিদ্যমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্য হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী দ্বারা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কার্য সম্পাদনে 52[নির্বাহী পরিচালক]কে সহায়তা প্রদান করিবে।