বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রোগ, রোগের কারণ ও তার প্রতিকার

মোট প্রশ্ন২৪২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রোগ, রোগের কারণ ও তার প্রতিকার

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৪২

১০১.
ডোপামিন হরমোনের স্বল্পতার কারণে কোন রোগটি হয়? 
  1. এপিলেপসি 
  2. পারকিনসন
  3. প্যারালাইসিস
  4. স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
• পারকিনসন: 
- স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে।
- মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
- পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না।
- ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।
- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়।
- তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক যুবতীদেরও হতে পারে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১০২.
টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীর প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে এটি সেরে যায়
  2. দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না
  3. শরীর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes): 
- ইনসুলিন একটি হরমোন, এটি অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে, এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে। 
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের। যথা- টাইপ-1 এবং টাইপ-2। 
- টাইপ-১ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী অটো-ইমিউন অবস্থা। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষগুলোকে (Beta cells) আক্রমণ করে ধ্বংস করে ফেলে যার ফলে অগ্ন্যাশয় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা একেবারেই সামান্য তৈরি করে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায়। 
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়। 
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও কোনো না কোনো পর্যায়ে ইনসুলিনের স্থায়ী ঘাটতি হয়ে যেতে পারে কিংবা বিভিন্ন অসুখ বা চিকিৎসাপদ্ধতির অংশ হিসেবে সেই সব ঔষধ বন্ধ রাখতে হতে পারে, তখন ইনসুলিন ছাড়া উপায় থাকে না। এ রোগটি সাধারণত বংশগতি এবং পরিবেশের প্রভাবে হয়ে থাকে। 

- এই বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়।
- রক্ত ও প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাণের চেয়ে বেড়ে গেলে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
- লক্ষণগুলো হলো ঘন-ঘন প্রস্রাব হওয়া, অধিক পিপাসা লাগা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও দেহের ওজন কমতে থাকা, দুর্বল বোধ করা, চোখে কম দেখা, চামড়া খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ক্ষতস্থান সহজে না শুকানো ইত্যাদি। 
- পূর্বে ধারণা করা হতো কেবল বয়স্কদের এ রোগটি হয়। এ ধারণাটি সঠিক নয়। ছোট-বড় সব বয়সে এ রোগ হতে পারে। তবে যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না, দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন অথবা অলস জীবন যাপন করেন, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। 
- তাছাড়া স্থূলকায় ব্যক্তিদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। যেহেতু এ রোগ বংশগত, তাই কোনো ব্যক্তির বাবা, মা, দাদা, দাদির এ রোগ থাকলে তার এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি। 
- বংশগতভাবে অনেক শিশুর দেহে ইনসুলিন উৎপাদন কম হয়, ফলে শিশুটি ইনসুলিন ঘাটতিজনিত অসুস্থতায় ভুগতে থাকে।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৩.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়? 
  1. কুষ্ঠ 
  2. পোলিও 
  3. গনোরিয়া 
  4. টাইফয়েড 
ব্যাখ্যা

- ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়- পোলিও, এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। 

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৪.
HIV মূলত কোন রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে?
  1. থ্রম্বোসাইট
  2. প্লাজমা কোষ
  3. লাল রক্তকণিকা 
  4. T-লিম্ফোসাইট 
ব্যাখ্যা

এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। এই কারণে রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 

- AIDS রোগের সংক্রমণ করে এক ধরনের ভাইরাস যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV)। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৫.
নিচের কোন ভাইরাসের নিউক্লিক এসিড হিসেবে DNA পাওয়া যায়?
  1. হেপাটাইটিস বি
  2. পোলিও
  3. র‍্যাবিস
  4. রুবেলা
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
• DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স, হেপাটাইটিস- বি ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

• RNA ভাইরাস:

- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, হাম, রুবেলা, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১০৬.
আমাশয়ে কোন খাদ্য হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে? 
  1. মাংস 
  2. ফলমূল 
  3. দুগ্ধজাত দ্রব্য 
  4. শাকসবজি 
ব্যাখ্যা

আমাশয় (Dysentery): 
- Entamoeba histolytica নামক এক ধরনের প্রোটোজোয়া, সিগেলা (Shigella) নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি জীবাণুর সংক্রমণে আমাশয় হয়। 
- ঘন ঘন মলত্যাগ, মলের সাথে শ্লেষ্মা বের হওয়া, পেটে ব্যথা, অনেক সময় শ্লেষ্মাযুক্ত মলের সাথে রক্ত যাওয়া এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য হজম না হওয়া আমাশয় রোগের লক্ষণ। 
- আমাশয় হলে প্রয়োজনে পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়, কারণ সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে মারাত্মক কিছু ঘটতে পারে। 
- এ রোগ প্রতিরোধে যা করতে হবে তা হলো- 
• বিশুদ্ধ পানি পান করা, 
• শাকসবজি ও ফলমূল উত্তমরূপে পানি দিয়ে ধৌত করা, 
• মল ত্যাগের পর হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া, 
• স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করা, 
• খাওয়ার আগে হাত ও থালাবাসন ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৭.
ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোন মশা?
  1. কিউলেক্স
  2. এডিস
  3. অ্যানোফিলিস
  4. সব ধরনের মশা
ব্যাখ্যা
• ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা।

- Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়।
- এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে।
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ: জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যাথা এবং চর্মে ফুসকুড়ি।
- দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর বলা হয়।
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

অন্যদিকে,
- ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো- অ্যানোফিলিস।
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা- কিউলেক্স।

উৎস: জীববিজ্ঞান- ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং WHO ওয়েবসাইট।
১০৮.
ডেঙ্গু ভাইরাস কোন মশার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়?
  1. এডিস
  2. কিউলেক্স
  3. অ্যানোফিলিস
  4. সব ধরনের মশা
ব্যাখ্যা

- ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা। 
- Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। 
- এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। 
- এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। 
- ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ: জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যাথা এবং চর্মে ফুসকুড়ি। 
- দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। 
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর বলা হয়। 
- এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। 
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

অন্যদিকে, 
- ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো- অ্যানোফিলিস। 
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা- কিউলেক্স। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং WHO ওয়েবসাইট।

১০৯.
স্বাভাবিকভাবে একজন সুস্থ মানুষের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কত থাকে?
  1. ২.৫–৪.০ mmole/L
  2. ৩.৯–৫.৬ mmole/L
  3. ৮.০–১০.০ mmole/L
  4. ৫.৬–৭.৮ mmole/L
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র বা মধুমেহ রোগ: 
- ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- এটি গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মাঝে আসে। 
- প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যেটি রক্তের এই গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- কারও ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না, যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৩.৯-৫.৬ mmole\L কিংবা (৭০-১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি.)। 
- ডায়াবেটিস হলে রক্তে এর পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক বেড়ে যায়। 

- ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়। 
- ডায়াবেটিস হৃদযন্ত্রের রক্তপ্রবাহ রোগের ওপর পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন- হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। 
- ডায়াবেটিস রোগীদের করোনারি হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, এটি হৃৎপিণ্ডকে অচল করে দেয় এবং রোগী মারা যেতে পারে। 
- এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাদের করোনারি হৃদরোগ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি থাকে। 
- শর্করার মাত্রার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন ধরনের ডায়াবেটিসও আছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১০.
মানবদেহে কোনটির অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়?
  1. নিয়াসিন
  2. থায়ামিন
  3. রিবোফ্লাভিন
  4. অ্যাসকরবিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিডের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
-
এই ভিটামিন কোলাজেন গঠনের জন্য অপরিহার্য এবং এর অভাবে মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁত পড়ে যাওয়া, ত্বকে রক্তক্ষরণ এবং ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

• ভিটামিন সি:
- ভিটামিন সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।
- ভিটামিন সি মানুষকে রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে।
- আমলকি, কমলালেবু, লেবু, আনারস প্রভৃতি ভিটামিন সি এর উৎস।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়।
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
- ভিটামিন কে এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- থায়ামিন (ভিটামিন বি১): এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
- রিবোফ্লাভিন (ভিটামিন বি২): এর অভাবে "অ্যারিবোফ্ল্যাভিনোসিস" রোগ হয়। এতে ঠোঁট ফাটা, জিহ্বায় ঘা এবং চোখের সমস্যা হয়, কিন্তু স্কার্ভি হয় না।
- নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩/নিকোটিনিক অ্যাসিড): এর অভাবে পেলাগ্রা রোগ হয়। এই রোগে ত্বকে প্রদাহ, ডায়রিয়া, মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

উৎস:
১।বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

১১১.
জন্ডিসের প্রধান কারণ কী? 
  1. প্লীহার ক্ষয়
  2. রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা কমে যাওয়া
  3. রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া
  4. রক্তে লাল কণিকার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
বিলিরুবিন: 
- বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায় এবং এটি জমা থাকে প্লীহাতে। 
- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়। 
- বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে। 
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে। 
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। 
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কণিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১১২.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার EPI কার্যক্রমের আওতায় কোন টিকাটি প্রদান করা হয় না?
  1. BCG
  2. HIV
  3. Hepatitis B
  4. HPV
ব্যাখ্যা
• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার EPI কার্যক্রমের আওতায় HIV টিকা প্রদান করা হয় না। 

• টিকা দেওয়া বা ভ্যাকসিনেশন (Vaccination):

- ইমিউনিটি অর্জনের জন্য দেহের মধ্যে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পদ্ধতিতে ভ্যাকসিনেশন বলে।

• টিকাকরণের নীতি (Priciples of Vaccination)-
- রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেহে প্রবেশ করিয়ে ইমিউনিটি গড়ে তোলা হয়।
- এই পদ্ধতিতে সক্রিয় অনাক্রমীকরণের মাধ্যমে ইমিউনোলজিক্যাল মেমোরির (immunological memory) সৃষ্টি হয়।
- পরবর্তীতে রোগ সংক্রামক জীবাণু শরীরে প্রবশে করলে দেহ দ্রুততার সঙ্গে প্রবিষ্ট জীবাণুকে ধ্বংস করে।

• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায়  ১৩ টি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয় ।
সেগুলো হলো -
- যক্ষ্মা (BCG),
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিং কাশি (pertussis),
- টিটেনাস (tetanus),
- Haemophilus influenzae type B (Hib),
- Hepatitis B (HepB),
- পোলিও (Polio),
- হাম (Measles),
- Rubella,
- Pneumococcal disease (PNC),
- Rotavirus (Rota),
- Human papillomavirus (HPV),
- COVID-19 (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
- WHO [লিংক] 
১১৩.
শিশুর দেহে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি থাকলে এবং মানসিক বিকাশ ব্যাহত হলে কোন রোগ হতে পারে? 
  1. হাইড্রোসেফালি
  2. ক্রিটিনিজম
  3. মাইক্রোসেফালি
  4. ডাউন সিনড্রোম
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতার সাথে সম্পর্কিত কিছু রোগ রয়েছে যা দেখে সহজে শনাক্ত করা যায়। 
যেমন- 
ক) হাইড্রোসেফালি: 
- মাথার ভিতরে তরল পদার্থ জমে থাকে, ফলে মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক বড় হয়। 

খ) ক্রিটিনিজম: 
- শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বিলম্ব হয়। শিশুর দেহে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন কম হয়। ফলে শিশু খুব ধীরে বেড়ে ওঠে, কপাল ছোট, মুখমন্ডল ও হাত-পা ফোলা ইত্যাদি। 

গ) মাইক্রোসেফালি: 
- মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক ছোট, এরা গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়। 

ঘ) ডাউন সিনড্রোম: 
- মুখোমন্ডল গোলাকার, তীর্যক চোখ, চোখের পাতা পুরু হয়। জন্মের সময় শিশু দুর্বল ও শিথিল থাকে। হাত, পা ও ঘাড় খাটো হয়। উপুর হওয়া, বসা, হাঁটা দেরি হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৪.
নিচের কোনটি জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস? 
  1. র‍্যাবিস ভাইরাস 
  2. অ্যাডিনো ভাইরাস 
  3. ফ্ল্যাভি ভাইরাস 
  4. ভেরিওলা ভাইরাস 
ব্যাখ্যা

- জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস হচ্ছে- র‍্যাবিস ভাইরাস। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 
- বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম নিম্নের ছকে দেওয়া হলো- 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৫.
ডেঙ্গু হলে শরীরে রক্তের কোন উপাদানটি কমে যায়?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু:
- ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা।
- Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়।
- এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে।
- ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।

⇒ ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ:
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে রক্ত কণিকার অনুচক্রিকা উপাদানের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।
- জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যাথা এবং চর্মে ফুসকুড়ি।

উৎস: i) বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) BBC.
১১৬.
থ্যালাসেমিয়া রোগ কোন রক্ত উপাদানের পরিমাণ কমে গেলে হয়? 
  1. রক্তরস 
  2. হিমোগ্লোবিন 
  3. শ্বেত রক্তকোষ 
  4. অণুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা

থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- এ রোগটি মানুষের অটোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের দ্বারা ঘটে। 
- যখন মাতা ও পিতা উভয়ের অটোজোমে এ জিনটি প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে, তখন তাদের সন্তানদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন জিন দুটি একত্রিত হয়ে এই রোগের প্রকাশ ঘটায়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তস্বল্পতার হার কমে যায়। এ রোগে আয়রন বা লৌহযুক্ত খাবার খেয়ে বেশি উপকার হয় না বরং রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। 
- নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন ও অন্যান্য চিকিৎসা করালেও অনেক রোগী অল্প বয়সে মারা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৭.
মা এবং নবজাতককে টিটেনাস থেকে রক্ষা করতে কোন ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়?
  1. Zero dose
  2. Measles vaccine
  3. Tetanus toxoid
  4. Bacillus Calmette Guerin
ব্যাখ্যা

• মা এবং নবজাতককে টিটেনাস থেকে রক্ষা করতে টিটেনাস টক্সয়েড (Tetanus toxoid) ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়। এটি একটি নিরাপদ এবং কার্যকরী ভ্যাকসিন যা গর্ভবতী মহিলাকে দেওয়া হলে নবজাতকেও টিটেনাস থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। ভ্যাকসিনটি মা-এর শরীরে প্রতিরক্ষা শক্তি তৈরি করে এবং শিশুর জন্মের সময় তার শরীরে সেই প্রতিরক্ষা স্থানান্তরিত হয়। এই ভ্যাকসিন সাধারণত গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট ডোজে দেওয়া হয়। ফলে মা ও শিশু দুজনেই টিটেনাস রোগের ঝুঁকিমুক্ত থাকে।

- সঠিক উত্তর: গ) Tetanus toxoid.

• ভ্যাকসিনেশন:
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৮.
প্যানক্রিয়াস থেকে কোন হরমোন রক্তে গ্লুকোজ কমায়?
  1. গ্লুকাগন
  2. অ্যাড্রেনালিন
  3. ইনসুলিন
  4. থাইরক্সিন
ব্যাখ্যা

বহুমূত্র রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৯.
রক্তে উচ্চ কোলেস্টরেলের কারণে কোন রোগ হয়?
  1. ক) বাতজ্বর
  2. খ) এনজিনা
  3. গ) কোলেস্টেরোল্ফোবিয়া
  4. ঘ) রিউম্যাটিক ফিভার
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
১২০.
থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে কোন রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়? 
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. প্লাজমা
  3. শ্বেত রক্ত কণিকা
  4. অনুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত ও রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- রক্ত হলো প্রাণীদেহের একটি লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, লবণাক্ত এবং সামান্য ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 
রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা: 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে (৫০,০০০-১,০০০,০০০) একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। 
- এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

৪। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং 
- মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৭। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২১.
শিশুদের জন্মের ৯ মাস বয়সে কোন টিকা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়? 
  1. Measles Vaccine
  2. Oral Polio Vaccine
  3. BCG Vaccine
  4. Diphtheria and Tetanus Vaccine
ব্যাখ্যা
- শিশুদের জন্মের ৯ মাস বয়সে 'Measles Vaccine' টিকা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২২.
ডায়ালাইসিস কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. যকৃত
  2. বৃক্ক
  3. হৃদপিণ্ড
  4. স্নায়ু
ব্যাখ্যা

• বৃক্ক: 
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পেছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবীজের মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাস বা হাইলাম বলে। হাইলামের ভিতর থেকে ইউরেটার এবং রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনি বৃক্কে প্রবেশ করে। দুটি বৃক্ক থেকে দুটি ইউরেটার বের হয়ে মূত্রাশয়ে প্রবেশ করে। ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে রেনাল পেলভিস বলে।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তনুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- ক্যাপসুল-সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশকে মেডুলা বলে। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত। - মেডুলায় সাধারণত ৮-১২ টি রেনাল পিরামিড থাকে। এদের অগ্রভাগকে রেনাল প্যাপিলা বলে। এসব প্যাপিলা সরাসরি পেলভিসে উন্মুক্ত হয়।
- প্রতিটি বৃক্কে বিশেষ এক ধরনের নালিকা থাকে, যাকে ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে। প্রতিটি ইউরিনিফেরাস নালিকা নেফ্রন এবং সংগ্রাহক বা সংগ্রাহী নালিকা (Collecting tubule)-এই দু'টি প্রধান অংশে বিভক্ত। নেফ্রন মূত্র তৈরি করে আর সংগ্রাহী নালিকা রেনাল পেলভিসে মূত্র বহন করে।
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক হলো নেফ্রন। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ নেফ্রন থাকে।

• বৃক্ক বিকল:
- নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর ইত্যাদি কারণে কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায়। আকস্মিক কিডনি অকেজো বা বিকল হওয়ার কারণগুলো হলো কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।
- কিডনি বিকল হলে মূত্রের পরিমাণ কমে যাবে। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পাবে। তখন রক্তের বর্জ্য দ্রব্যাদি অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর রোগীকে ডায়ালাইসিস করা হয়।

• ডায়ালাইসিস:
- বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধন করার নাম ডায়ালাইসিস।
- সাধারণত 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। এ মেশিনের ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে এবং অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভেতর পুনরায় প্রবেশ করে।
- ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে, যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ) বাইরে নিষ্কাশিত হয়। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

• প্রতিস্থাপন:
- যখন কোনো ব্যক্তির কিডনি বিকল বা অকেজো হয়ে পড়ে তখন কোনো সুস্থ ব্যক্তির কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। এই প্রক্রিয়াকে কিডনি সংযোজন বলে। 
- কিডনি সংযোজন দুভাবে করা যায়: কোনো নিকট আত্মীয়ের কিডনি অথবা কোনো মৃত ব্যক্তির কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১২৩.
মানুষের যক্ষ্মা রোগের জীবানু-
  1. Shigella dysenteriae
  2. Mycobacterium tuberculosis
  3. Bacillus anthracis
  4. Escherichia coli
ব্যাখ্যা

• মানুষের যক্ষ্মা রোগের জীবানু হলো Mycobacterium tuberculosis. এটি একটি ধীরে বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাকটেরিয়া, যা প্রধানত ফুসফুসে সংক্রমণ সৃষ্টি করে। সংক্রমণ সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়, যখন রোগী কাশির মাধ্যমে ক্ষুদ্র থুদি বা ফোঁটা বের করে। যক্ষ্মা রোগে ফুসফুসে ক্ষয় সৃষ্টি হয়, যাকে 'টিউবারকুলোসিস লেশান' বলা হয়। রোগের প্রধান লক্ষণ হলো দীর্ঘমেয়াদী কাশি, রক্ত মিশ্রিত কফ, জ্বর, রাতের ঘাম এবং ওজন কমে যাওয়া। যদিও অন্যান্য জীবাণু যেমন Shigella dysenteriae পায়খানির অসুখ, Bacillus anthracis এনথ্রাক্স এবং Escherichia coli অন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়, তারা যক্ষ্মার কারণ নয়। Mycobacterium tuberculosis সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা, স্বাস্থ্যবিধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।
 
 • অপশন আলোচনা:
ক) Shigella dysenteriae: এটি ডায়রিয়ার ব্যাকটেরিয়া।
খ) Mycobacterium tuberculosis: মানুষের যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগের জীবানু।
গ) Bacillus anthracis: এটি Anthrax রোগের জীবানু।
ঘ) Escherichia coli: এটি সাধারণত আন্ত্রিক জীবাণু, কিছু স্ট্রেইন ডায়রিয়া সৃষ্টি করে।
 
• যক্ষ্মা:
- যক্ষ্মা সাধারণত Mycobacterium Tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে হয় যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।
- যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসের রোগ এই ধারণাটা সঠিক নয়।
- যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস এরকম দেহের প্রায় যেকোনো জায়গায় হতে পারে।
- সংক্রমিত গরুর দুধ খেয়েও যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
- যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।

• এছাড়াও, 
- Bacillus Calmatte Guerin-BCG হলো যক্ষ্মার প্রতিষেধক।
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine).
- টিটি (Tetanus Toxoid) প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয় মায়েদের গর্ভাবস্থায় শিশুকে টিটেনাস রোগ থেকে রক্ষার জন্য।

উৎস:
- ব্রিটানিকা।
- সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

১২৪.
পারকিনসন রোগের লক্ষণ নয় কোনটি?
  1. নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া
  2. সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা
  3. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া
  4. মাংসপেশির কার্যকারিতা হ্রাস
ব্যাখ্যা

• রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া মূলত বিপাকীয় বা হরমোনজনিত (যেমন ইনসুলিন) সমস্যা, যা পারকিনসন রোগের কোনো লক্ষণ নয়।

• পারকিনসন:
- পারকিনসন রোগটি স্নায়ুর ক্ষয়জনিত রোগ।পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়।

- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক-যুবতীদেরও হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রোগটি তার বংশে রয়েছে বলে ধরা হয়।
- স্নায়ু কোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন।
- ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।

• পারকিনসন রোগের লক্ষণ:
- রোগীর হাত-পা কাঁপতে থাকে। ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়।
- চোখের পাতার কাঁপুনি।
- কোষ্ঠকাঠিন্য।
- খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া।
- সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা।
- কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া।
- নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

১২৫.
হিমোগ্লোবিনের অভাবে নিচের কোনটি দেখা যায়?
  1. ক) অ্যানিমিয়া
  2. খ) ফ্যাগোসাইটোসিস
  3. গ) লিউকোমিয়া
  4. ঘ) অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে উপযুক্ত পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তাল্পতা বা রক্তশূণ্যতা (Anemia) দেখা যায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৬.
বিষাক্ত নিকোটিন দেহে কোন রোগ সৃষ্টি করে? 
  1. ক্যান্সার
  2. ওটিটিস
  3. জ্বর
  4. সাইনুসাইটিস
ব্যাখ্যা
ধুমপান: 
- ধুমপান হচ্ছে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ প্রক্রিয়া।
- ধুমপায়ী যে অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভূত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয় ধুমপান বলে।
- অপরদিকে ধুমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাকে নিষ্ক্রিয় ধুমপান বলে।
- ধুমপানে সৃষ্ট ধোয়াতে প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তাদের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো হলো— নিকোটিন, টার ও কার্বন মনোঅক্সাইড।

ধুমপানের প্রভাব: 
১। সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে; কার্বন মনোক্সাইড শ্বাসনালীতে ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে
২। ধুমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আয়তন বেড়ে যায়। 
৩। ধোয়ার প্রভাবে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে এ অবস্থাকে এমফাইসিমা বলে। 
৪। কার্বন মনোক্সাইড এর বৃদ্ধি ঘটে এবং রক্তের O2 পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে। ধমনি গাত্রে কোলেস্টেরল জমতে সাহায্য করে। এতে উচ্চ রক্তচাপ হয়। 
৫। ধুমপান এর ফলে গলবিল ও অন্ননালীতে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। মুখ, গলা ও খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ধুমপায়ীদের অধুমপায়ীর চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি। 
৬। ধুমপায়ী মহিলাদের বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 
৭। ধুমপান পরিবেশ দূষণ ঘটায় এবং অধুমপায়ীদের শ্বাস গ্রহণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৭.
নিচের কোন রোগটি এডিস মশা দ্বারা ছড়ায় না?
  1. ক) ডেঙ্গু জ্বর
  2. খ) জিকা জ্বর
  3. গ) কালা জ্বর
  4. ঘ) পীত জ্বর
ব্যাখ্যা
এডিস মশা দ্বারা ডেঙ্গু জ্বর, জিকা জ্বর, পীত জ্বর এবং চিকনগুনিয়া রোগ ছড়ায়।
সূত্রঃ ৩৮তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১২৮.
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্তপ্রবাহে বাধা পাওয়ার ঘটনা কী নামে পরিচিত? 
  1. ডিমেনশিয়া
  2. স্ট্রোক
  3. হার্ট অ্যাটাক
  4. প্যারালাইসিস
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৯.
নিচের কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ?
  1. কলেরা 
  2. পোলিও 
  3. সিফিলিস
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

- ভাইরাসজনিত রোগ হচ্ছে পোলিও। 

ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে। 
- নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাসজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো- 
• জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে। 
- নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো- 
• যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য যে, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩০.
In which organ system does pneumonia lead to inflammation and fluid accumulation?
  1. Nervous system
  2. Cardiovascular system
  3. Respiratory system
  4. Digestive system
  5. Urinary system
ব্যাখ্যা
• নিউমোনিয়া (Pneumonia): 
- নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় মানবদেহের ফুসফুস। 
- এ দ্বারা শ্বসণতন্ত্র বা, Respiratory system আক্রান্ত হয় এবং ফুসফুসে প্রদাহ হয় এবং পানি জমতে থাকে।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়। 
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। 

কারণ: 
- নিউমোকক্কাস ( Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে। 

লক্ষণ: 
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়। 
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। 
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়। 
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩১.
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে যখন প্লেটলেটের স্তর নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়, তখন সেটিকে কী বলা হয়?
  1. Thrombocytopenia
  2. Thrombocytosis
  3. Leukopenia
  4. Polycythemia
ব্যাখ্যা
• রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 

যেমন- 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে, এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৫। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে।

৭।  থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া:
- ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে যখন প্লেটলেটের স্তর নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়, তখন সেটিকে বলা হয় - থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া।
- এটি সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর, অটোইমিউন রোগ, বা কিছু চিকিৎসা পদ্ধতির কারণে ঘটে।
- প্লাটিলেটের অভাবের কারণে রক্তপাত এবং সহজে ফুলে যাওয়ার মত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩২.
নিচের কোনটি কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. প্রোটোজোয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কলেরা:
- কলেরা (Cholera) একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ।
- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholerae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ:
- হঠাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া।
- বমি।
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, ও যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়, মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়:
- বিশুদ্ধ পানি পান করা।
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- ভ্যাকসিন (Oral Cholera Vaccine - OCV) গ্রহণ।
- ORS (Oral Rehydration Salts) দ্রুত প্রয়োগ।

উৎস:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- World Health Organization (WHO)

১৩৩.
যে সকল প্রাণী এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে রোগ জীবাণু বহন করে, তাদের কী বলে?
  1. এজেন্ট
  2. হোস্ট
  3. ভেক্টর
  4. হোস্টেজ
ব্যাখ্যা
• ভেক্টর (Vector):
- যে সকল প্রাণী এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে রোগ জীবাণু বহন করে, তাদের রোগ বাহক বা ভেক্টর (Vector) বলে।
- ভেক্টর এমন প্রাণী, সাধারণত কীটপতঙ্গ বা আর্থ্রোপড, যারা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু (যেমন, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্রোটোজোয়া) বহন করে এবং এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে স্থানান্তর করে।
- এরা নিজে রোগ সৃষ্টি করে না, তবে রোগ ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- উদাহরণ:
• মশা:
- এডিস মশা: ডেঙ্গু এবং জিকা ভাইরাস বহন করে।
- কিউলেক্স মশা: ফাইলেরিয়া রোগ ছড়ায়।
- এনোফিলিস মশা: ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি প্রাণীবিজ্ঞান।
১৩৪.
প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতাকে কী বলা হয়?
  1. Natural Passive Immunity
  2. Innate Immunity
  3. Artificial Passive Immunity
  4. Acquired Immunity
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতা-
- মানবদেহে যে প্রতিরক্ষা অমরার মাধ্যমে প্রাপ্ত ও জন্মের সময় থেকে আজীবন উপস্থিত থাকে এবং প্রতিরক্ষায় দ্রুত কার্যকর হয় তাকে সহজাত প্রতিরক্ষা বলা হয়।
- এটি নন স্পেসিফিক ইমিউনিটি।
- সহজাত অনাক্রম্যতা বা Innate Immunity কে প্রাকৃতিক অনাক্রম্যতাও বলা হয়। 

• মানবদেহে সহজাত প্রতিরক্ষায় কতগুলো উপাদান সক্রিয় অংশগ্রহণ করে।
→ এগুলো হলো-
- প্রতিবন্ধক,
- প্রদাহ,
- কমপ্লিমেন্ট,
- ইন্টারেরন,
- সহজাত মারণকোষ,
- সহজীবী ব্যাকটেরিয়া। 

• সহজাত অনাক্রম্যতার প্রধান কাজ-
- সংক্রমণ স্থানে অনাক্রম্য কোষগুলোকে নিযুক্ত করে সাইটোকাইনস (cytokines)-এর মতো রাসায়নিক দূত উৎপাদন করা।
- কমপ্লিমেন্ট তন্ত্রকে সক্রিয় করে ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত করা এবং মৃত কোষ পরিস্কার করা।
- অঙ্গ, কলা বা লসিকাতে উপস্থিত বহিরাগত বস্তুগুলোকে বিশেষ শ্বেতরক্তকণিকা দিয়ে শনাক্ত করা ও বর্জন করা।
- অর্জিত ইমিউন তন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 
- প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৫.
নিচের কোনটি শ্বাসনালির রোগ?
  1. পারকিনসন
  2. এপিলেপসি
  3. নিউমোনিয়া
  4. স্ট্রোক
ব্যাখ্যা

• শ্বাসনালি-সংক্রান্ত রোগ
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে অনেক সময় এ অঙ্গটি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। - - বায়ুদূষণ, বিভিন্ন প্রকার ভাসমান কণা এবং রাসায়নিকের প্রভাবেও ফুসফুস অসুস্থ হতে পারে।
- অনেক সময় অজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারণে ফুসফুসে নানা জটিল রোগ দেখা দেয় এবং সংক্রমণ ঘটে।
- ফুসফুসের সাধারণ রোগগুলোর কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও সাবধানতাগুলো জানা থাকলে অনেক জটিল সমস্যা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো যায়।
- অ্যাজমা বা হাঁপানি, যক্ষ্মা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার হচ্ছে শ্বাসনালির রোগ।

• নিউমোনিয়া:
- নিউমোনিয়া একটি ফুসফুসের রোগ।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়।
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ।

কারণ:
নিউমোকক্কাস (Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে।

লক্ষণ:
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়।
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়।
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়।

প্রতিকার:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
- তরল ও গরম পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো।
- বেশি করে পানি পান করানো।

প্রতিরোধ:
- শিশু ও বয়স্কদের যেন ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।
- ধূমপান পরিহার করা।
- আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা।
- রোগীকে সহনীয় উষ্ণতায় ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা।

- অপরদিকে পারকিনসন, এপিলেপসি ও স্ট্রোক হলো স্নায়ুবিক রোগ।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১৩৬.
রক্তশূন্যতার প্রধান কারণ কী? 
  1. দেহে চর্বির পরিমাণ কমে যাওয়া
  2. রক্তে প্লাজমার পরিমাণ কমে যাওয়া
  3. রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
  4. রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
রক্তশূন্যতা (Anemia): 
- দেশে শিশু ও মহিলাদের রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা রোগটি সাধারণত দেখা যায়। 
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়াই রক্তাশূন্যতার প্রধান কারণ। 
- খাদ্যের প্রধান উপাদান ভিটামিন বি২ এর অভাবে এ রোগ দেখা যায়। 
- বাংলাদেশ সাধারণতঃ লৌহ ঘটিত আমিষের অভাবে এ রোগ দেখা যায়। 
- শিশুদের ও গর্ভধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মহিলাদের ক্ষেত্রে এ রোগ বেশি সংঘটিত হয়। 

লক্ষণ: 
- দুর্বলতা অনুভব করা, 
- মাথা ব্যথা, 
- অনিদ্রা, 
- চোখে অন্ধকার দেখা, 
- খাওয়ার অরুচি, 
- বুক ধড়পড় করা ইত্যাদি। 

প্রতিরোধ: 
- লৌহ সমৃদ্ধ খাবার যেমন- কলা, ঢেঁড়স, যকৃত, ডিম, চিনা বাদাম, শাকসব্জি, বরবটি, মশুর ড়াল, খেঁজুরের গুড় খাওয়া। 
- অন্ত্রে ক্রিমি বা হুকওয়ার্ম এর সংক্রমণ নিশ্চিত হয়ে ক্রিমিনাশক ঔষধ সেবন করা। 
- প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী লৌহ উপাদানযুক্ত ঔষধ সেবন করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৭.
ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নিচের কোনটি? 
  1. হুপিংকাশি
  2. সর্দি
  3. জলবসন্ত
  4. হেপাটাইটিস
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। 
যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া,  টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি। 
- আবার ব্যাকটেরিয়া গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- গরু-মহিষের যক্ষ্মা, হাঁস-মুরগির কলেরা, ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স, গলাফোলা, ইঁদুরের প্লেগ ইত্যাদি। 

ভাইরাস: 
- সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, নিউমোনিয়া, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগ সবই ভাইরাসজনিত রোগ। 
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ, আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- বিজ্ঞানী এন.ডব্লিউ.পিরি (N.W. Piri) এবং এফ.সি.বাওডেন (F.C. Bawden) ১৯৩৭ সালে ভাইরাসের রাসায়নিক প্রকৃতি বর্ণনা করেন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে ভাইরাস দেহ গঠিত এই কথা বলেন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৮.
AIDS এর বিস্তার ঘটে না- 
  1. নারী পুরুষের যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে
  2. সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে
  3. সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করলে
  4. একই জামা-কাপড় পরিধান করলে
ব্যাখ্যা
• AIDS এর বিস্তার ঘটে না- একই জামা-কাপড় পরিধান করলে।

• AIDS এর বিস্তার:

- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
যেমন-
- সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার,
- সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ,
- সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু,
- সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা,
- দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী
- নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ ইত্যাদি।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৯.
কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়? 
  1. ডেঙ্গু
  2. জলাতঙ্ক
  3. কলেরা
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা
ব্যাখ্যা
ভাইরাস: 
- সাধারণ সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, ভাইরাল হেপাটাইটিস ইত্যাদি সবই ভাইরাসজনিত রোগ। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। 
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। 
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। 
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। 

অন্যদিকে, 
- কলেরা একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪০.
TT টিকা এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Tetanus Toxin
  2. Tuberculosis Toxin
  3. Tetanus Toxoid
  4. Typhoid Toxoid
ব্যাখ্যা
• TT  টিকা এর পূর্ণরূপ Tetanus Toxoid.
- সাধারণত ধনুষ্টকার রোগ প্রতিরোধে এই টিকা দেওয়া হয়ে থাকে।

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষার টিকা: বিসিজি B.C.G(Bacillus Calmette-Guérin)। 
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকারের টিকা: ডিপিটি (D.P.T)। 
- পোলিও টিকা: ওপিভি OPV( Oral Polio Vaccine)। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৪১.
এপিলেপসি মূলত শরীরের কোন অঙ্গের ব্যাধি?
  1. হৃদপিণ্ড
  2. ফুসফুস
  3. মস্তিষ্ক
  4. যকৃৎ
ব্যাখ্যা

• এপিলেপসি মূলত মস্তিষ্কের একটি রোগ।

এপিলেপসি:
- এটি মস্তিষ্কের একটি রোগ।
- এ রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর খিঁচুনী বা কাঁপুনি দিতে থাকে।
- অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়।
- অনেক সময় রোগী হঠাৎ সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে কাঁপুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
- কোন কারণে রোগী পানিতে পড়লে নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। ফলে ডুবে মারা যায়।
- এ রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে।
- তবে ৫-২০ বছর বয়সে ব্যাপকতা বেশি দেখা যায়।

কারণ:
- এপিলেপসির মূল কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি।
- তবে প্রধান কারণ হলো- মস্তিষ্কের অবস্থাগত কারণ, ইসকেমিক' স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে, মাথায় আঘাতজনিত কারণ, যেমন মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, এইডস, মস্তিষ্কের বিকৃতি, টিউমার ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪২.
নিউমোনিয়ায় ফুসফুসে জমে থাকা তরল পদার্থকে কী বলা হয়?
  1. সেরাম
  2. প্লাজমা
  3. শ্লেষ্মা
  4. রক্তরস
ব্যাখ্যা

নিউমোনিয়া (Pneumonia): 
- মানবদেহের ফুসফুস নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়।
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়। 
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। 

কারণ: 
- নিউমোকক্কাস ( Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে। 

লক্ষণ: 
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়। 
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। 
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ বেশি জ্বর হয়। 
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে গুড়গুড় আওয়াজ হয়, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৩.
Rheumatic fever is caused by-
  1. ক) Streptococcus
  2. খ) Staphylococcus
  3. গ) Enterococcus
  4. ঘ) Diplococcus
ব্যাখ্যা
স্ট্রেপটোকক্কাসের সংক্রমণে রিউম্যাটিক ফিভার বা বাতজ্বর হয়৷ এর লক্ষণগুলো হচ্ছে শ্বাসনালীর প্রদাহ, টনসিলের প্রদাহ, ফুসকুড়িযুক্ত সংক্রামক জ্বর৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
১৪৪.
এইচআইভি ভাইরাস প্রধানত কোন কোষকে আক্রমণ করে?
  1. বি-লসিকা কোষ
  2. অণুচক্রিকা
  3. বেসোফিল
  4. T4 লসিকা কোষ
ব্যাখ্যা

◉ এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) মূলত CD4+ T lymphocytes বা T4 লসিকা কোষ-কে আক্রমণ করে। এই কোষগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (immune system) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা অন্যান্য প্রতিরক্ষা কোষকে সক্রিয় করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

​AIDS:
- AIDS হলো Acquired (অর্জিত) Immune (ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) Deficiency (ডেফিসিয়েন্সি বা হ্রাস) Syndrome (সিনড্রোম বা অবস্থা) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে।
Human Immunodeficiency Virus, সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়।
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্তকণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
- এতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যায়।
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। এইডস বিশ্বব্যাপি বিস্তৃত (pandemic) একটি ভয়াবহ যৌন রোগ যা প্রতিনিয়ত আরো বিস্তৃত হচ্ছে।

​আক্রমণের ধাপ:
- HIV ভাইরাসের envelope এ থাকা gp120 প্রোটিনের মাধ্যমে এটি CD4 receptor-এর সাথে যুক্ত হয়।
- ভাইরাস কোষে প্রবেশ করে এবং নিজের প্রতিলিপন করে।
- ধীরে ধীরে T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস হয়ে যায়।
- রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, এর ফলে চূড়ান্ত অবস্থায় সাধারণ রোগেও মৃত্যু হতে পারে।

​প্রতিরোধ:
- নিরাপদ যৌনমিলন করা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি-বিধান মেনে চলা।
- যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করা।
- অস্বাভাবিক যৌনমিলন, বহুগামিতা, সহকামিতা এবং পতিতাগামিতা পরিহার করা।
- যৌনসঙ্গী নির্বাচনে সতর্ক থাকা।
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকা।
- এইডস আক্রান্ত মায়ের সন্তান ধারণ অথবা সন্তানকে বুকের দুগ্ধ পান করানো থেকে বিরত রাখা।
- রক্ত গ্রহণের আগে HIV সংক্রমিত কিনা তা পরীক্ষা করা।
- ইনজেকশন গ্রহণের সময় পরিশোধিত বা নতুন সিরিঞ্জ ও সুঁই ব্যবহার করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।

১৪৫.
নিচের কোন হরমোনকে 'Fight or Flight' হরমোন বলা হয়?
  1. কর্টিসল
  2. অক্সিটোসিন
  3. অ্যাড্রেনালিন
  4. ইনসুলিন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) অ্যাড্রেনালিন

'Fight or Flight' হলো শরীরের একটি জরুরি প্রতিক্রিয়া (emergency response), যা বিপদের সময় (যেমন: হঠাৎ কোনো হুমকি বা ভয়ের মুখোমুখি হলে) শরীরকে তাৎক্ষণিকভাবে লড়াই করার বা পালানোর জন্য প্রস্তুত করে। এই প্রতিক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে দায়ী হরমোন হলো অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline), যাকে ইংরেজিতে Epinephrine-ও বলা হয়।

অ্যাড্রেনালিন যেভাবে কাজ করে-
যখন মস্তিষ্ক বিপদ অনুভব করে, তখন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (কিডনির উপরে থাকা ছোট গ্রন্থি) থেকে অ্যাড্রেনালিন খুব দ্রুত রক্তে ছেড়ে দেয়।
এটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শরীরে নিচের পরিবর্তনগুলো ঘটায়:
⋅ হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় (heart rate increases)। 
⋅ রক্তচাপ বাড়ে। 
⋅ ফুসফুসে বাতাসের প্রবাহ বাড়ে → শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়। 
⋅ রক্তে শর্করা (গ্লুকোজ) ও চর্বি থেকে দ্রুত শক্তি উৎপন্ন হয়। 
⋅ পেশিতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে (যাতে লড়াই বা দৌড়ানোর জন্য শক্তি পাওয়া যায়)। 
⋅ চোখের পিউপিল বড় হয় → দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়। 
⋅ হজম প্রক্রিয়া ও অন্যান্য অ-জরুরি কাজ থেমে যায় (যাতে শক্তি বাঁচে)। 


এই সব পরিবর্তন একসাথে ঘটে বলে আমরা হঠাৎ "এনার্জি বুস্ট" অনুভব করি — যেমন ভয় পেলে হাত-পা কাঁপা, হৃৎপিণ্ড দ্রুত চলা ইত্যাদি। এজন্যই অ্যাড্রেনালিনকে "Fight or Flight" হরমোন বলা হয়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৬.
অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে কোন অবস্থা দেখা দেয়? 
  1. থ্রম্বোসাইটোসিস
  2. লিউকোসাইটোসিস
  3. পারপুরা 
  4. পলিসাইথেমিয়া
ব্যাখ্যা

- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে যে অস্বাভাবিক অবস্থা দেখা দেয়, তা হলো থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া (Thrombocytopenia), যার একটি উদাহরণ হলো রক্তক্ষরণজনিত রোগ পারপুরা (Purpura)

- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 
যেমন-
- রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা নিম্নে দেওয়া হলো- 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে, একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৫। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্ত নালিতে রক্ত জমাট বাধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৭। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- এই রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৭.
Mpox (monkeypox) কী?
  1. ভাইরাসজনিত রোগ
  2. ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
  3. ছত্রাকজনিত রোগ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
Monkeypox:
- মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাসজনিত প্রাণীজাত (জুনোটিক) রোগ।
- মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে অর্থোপক্স ভাইরাস।
- এ জাতির ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে গুটিবসন্ত ও কাউপক্স।
- এ জন্য মাঙ্কিপক্সের সাথে গুটিবসন্ত বা স্মলপক্সের মিল দেখা যায়।
- আবার মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের রয়েছে দু’টো ক্লেড বা উপজাতি।
- দুটি ভিন্ন ক্লেড বিদ্যমান: ক্লেড-১ এবং ক্লেড-২।
- একটি হচ্ছে মধ্য আফ্রিকা ক্লেড-এ উপজাতির মাঙ্কিপক্সে মৃত্যুহার ১০% পর্যন্ত হতে পারে।
- আরেকটি হচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকা ক্লেড-এ উপজাতির মাঙ্কিপক্সে মৃত্যু তেমন হয়নি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৮ সালে ডেনমার্কের একটি বিজ্ঞানাগারে এক বানরের দেহে সর্বপ্রথম এ রোগ শনাক্ত হয় বলে একে মাঙ্কিপক্স বলা হয়।
- এ নামটি বদল করে নতুন বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়ার জন্য বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থা উদ্যোগ নিয়েছে।
- কারণ এ নাম থেকে মনে হতে পারে বানরই এ রোগের জন্য দায়ী, যা সঠিক নয়।
- এ রোগটির প্রাদুর্ভাব ১৯৭০ সাল থেকে প্রধানত মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার ১১টি দেশে দেখা যায়।
- ২০২২-২৩ সালে ক্লেড IIb নামে পরিচিত একটি স্ট্রেন দ্বারা mpox-এর একটি বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল।
- আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে ২০২৪ সালের শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ এমপক্সে আক্রান্ত হয়েছে আর এতে ৪৫০’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

⇒ লক্ষণ:
- এর সাধারণ লক্ষণগুলি হলো ত্বকের ফুসকুড়ি বা মিউকোসাল ক্ষত যা জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, পিঠে ব্যথা, কম শক্তি এবং ফোলা লিম্ফ নোড সহ ২-৪ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
- Mpox সংক্রামক, দূষিত পদার্থ বা সংক্রামিত প্রাণীর সাথে শারীরিক যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হতে পারে।

⇒ প্রতিকার:
- গুটিবসন্তের জন্য উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন এবং থেরাপিউটিকস এবং কিছু দেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কিছু পরিস্থিতিতে mpox- এর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
- Mpox আছে এমন কারো সাথে শারীরিক যোগাযোগ এড়িয়ে Mpox প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
- টিকা ঝুঁকিপূর্ণ লোকেদের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

উৎস: World Health Organization.
১৪৮.
জেরোফথ্যালমিয়া নামক রোগ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়? 
  1. ভিটামিন 'এ'
  2. ভিটামিন 'বি'
  3. ভিটামিন 'সি'
  4. ভিটামিন 'ডি'
ব্যাখ্যা

রাতকানা (Night Blindness): 
- ভিটামিন 'এ'-এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরোফথ্যালমিয়া (Xerophthalmia) নামক রোগ হয়
অর্থাৎ, এই রোগের সর্বনিম্ন মাত্রা রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন 'এ'-এর অভাব পূরণ না হলে রোগটির মাত্রা ও তীব্রতা বাড়তে থাকে। 
- জেরোফথ্যালমিয়ার সাত থেকে আটটি মাত্রা রয়েছে, যার সর্বনিম্ন মাত্রা হচ্ছে রাতকানা। 
- সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। 
- এতে চোখের সংবেদী 'রড' কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্বল্প আলোতে ভালো দেখতে পায় না, চোখে সবকিছু ঝাপসা দেখা যায়। 
- রোগটা বেড়ে গেলে কর্নিয়া ঘোলাটে হয়ে যায়। 
- রাতকানা দশা থেকে শুরু করে চতুর্থ বা পঞ্চম মাত্রার জেরোফথ্যালমিয়া ভিটামিন 'এ'-সহ কিছু ওষুধ প্রয়োগে ভালো হয়, কিন্তু রোগ চূড়ান্ত মাত্রায় বা তার কাছাকাছি পৌঁছে গেলে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার ছাড়া আর তেমন কিছু করার থাকে না। 
- এই রোগ প্রতিরোধের জন্য ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন: মাছের যকৃতের তেল, কলিজা, সবুজ শাকসবজি, রঙিন ফল (পাকা আম, কলা ইত্যাদি) ও সবজি (মিষ্টি কুমড়া, গাজর ইত্যাদি) এবং মলা-ঢেলা মাছ খাওয়া উচিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৯.
পানিবাহিত রোগ নয় কোনটি?
  1. ডায়রিয়া
  2. টাইফয়েড
  3. ম্যালেরিয়া
  4. আমাশয়
ব্যাখ্যা
পানিবাহিত রোগ:

• যে সব রোগ দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বা ছড়ায় তাদেরকে পানিবাহিত রোগ বলে।
• পানিবাহিত অনুজীবসমূহ মূলত দেহের পাকস্থলিতে আশ্রয় গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে অভীষ্ট অঙ্গে বা অন্ত্রে স্থানান্তরিত হয়।
• পানিবাহিত রোগসমূহের মধ্যে - ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা, পোলিও, হেপাটাইটিস বি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

• ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুবাহী মশা হলো- অ্যানোফিলিস।

• ভেক্টর বাহিত রোগ:
- মশাঃ ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসিস।
- মাছি:  উদরাময়, আমাশয়, ক্রিমি সংক্রমণ, কালাজ্বর, চ্যাগাস ডিজিস, স্লিপিং সিকনেস, চোখের কৃমি (deer fly)।

অন্যদিকে, 
- যে সকল রোগ হাঁচি-কাশি বা কথাবার্তা বলার সময় বায়ুতে জীবাণু ছড়ানোর মাধ্যমে হয় সেগুলোকে বায়ুবাহিত রোগ বলে। 
- যেমন: সোয়াইন ফ্লু, হাম, গুটিবসন্ত, যক্ষা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫০.
কার্ডিওলজি চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোন শাখা?
  1. মস্তিষ্ক সম্পর্কিত
  2. কিডনি সম্পর্কিত
  3. হৃদযন্ত্র সম্পর্কিত
  4. ফুসফুস সম্পর্কিত
ব্যাখ্যা

কার্ডিওলজি (Cardiology) হল চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেই শাখা, যা হৃদযন্ত্র (Heart) এবং রক্ত সংবহনতন্ত্র (Circulatory System) নিয়ে গবেষণা ও চিকিৎসার সাথে সম্পর্কিত।

কার্ডিওলজির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:
- হৃদযন্ত্রের গঠন ও কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ, 
- হৃদরোগের কারণ ও প্রতিরোধ, 
- হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন ব্যাধি, যেমন হার্ট অ্যাটাক, ব্লকেজ ও উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় ও চিকিৎসা। 

কার্ডিওলজির কিছু প্রধান রোগ:
- হৃদরোগ (Heart Disease), 
- উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension), 
- হার্ট অ্যাটাক (Myocardial Infarction), 
- অ্যারিথমিয়া (Arrhythmia) – অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, 
- কার্ডিওমায়োপ্যাথি (Cardiomyopathy) – হৃদপেশির দুর্বলতা। 

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র নিয়ে গবেষণা করা হয় 'নিউরোলজি (Neurology)' শাখায়।
খ) কিডনির চিকিৎসা 'নেফ্রোলজি (Nephrology)' শাখার অন্তর্ভুক্ত।
ঘ) ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ নিয়ে গবেষণা করা হয় 'পালমোনোলজি (Pulmonology)' শাখায়।

উৎস:
১) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) Accessible Dictionary by Bangla Academy. 

১৫১.
পানিবাহিত রোগ নয় কোনটি?
  1. কলেরা
  2. টাইফয়েড
  3. চর্মরোগ
  4. আমাশয়
ব্যাখ্যা
পানিবাহিত রোগ: 
- পানিবাহিত রোগ হলো সেইসব রোগ যা দূষিত পানি পান, ব্যবহার বা খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
- এই রোগগুলো সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া ও অন্যান্য প্যাথোজেনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। 
- পানিবাহিত রোগ এর মধ্যে অন্যতম হলো- কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ, ডায়রিয়া ও আমাশয় ইত্যাদি। 
- পানিবাহিত রোগের কারণগুলো হচ্ছে - 
• অপরিষ্কার পানি পান করা। 
• দূষিত পানিতে রান্না/ফল ধোয়া। 
• সঠিক স্যানিটেশন না থাকা। 
• অপরিচ্ছন্ন নালা/ব্রিজের পানি ব্যবহার। 

অন্যদিকে, 
- চর্মরোগ (Skin disease) পানির মাধ্যমে নয়, সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, ভাইরাস বা অ্যালার্জি ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে। কিছু চর্মরোগ ছোঁয়াচে হলেও পানিবাহিত নয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং WHO-Waterborne Diseases.
১৫২.
যেসকল অনুজীব রোগ সৃষ্টি করতে পারে তাদেরকে কী বলে?
  1. টক্সিন
  2. জীবাণু
  3. প্যাথজেনিক
  4. হোস্ট
ব্যাখ্যা
• প্যাথজেনিক:
- প্যাথজেনিক শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ "pathos" (রোগ) এবং "gen" (উৎপাদন করা) থেকে, যার অর্থ "রোগ সৃষ্টিকারী"।
- এই ধরনের অনুজীব বিভিন্ন জীবের (হোস্টের) দেহে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটিয়ে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
যেমন:
- ব্যাকটেরিয়া: টিউবারকুলোসিস (যক্ষ্মা), কলেরা। 
- ভাইরাস: ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু। 
- ছত্রাক: দাদ, কান্ডিডিয়াসিস। 
- প্রোটোজোয়া: ম্যালেরিয়া, অ্যামিবিক ডায়রিয়া। 

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
- টক্সিন (Toxin): এটি জীবাণু বা অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান দ্বারা নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ, যা দেহের ক্ষতি করে। যেমন: ব্যাকটেরিয়ার উৎপন্ন বটুলিনাম টক্সিন।
- জীবাণু (Germ/Microbe): এটি সাধারণভাবে সকল অনুজীবকে বোঝায়, তবে সব জীবাণুই রোগ সৃষ্টি করে না।
- হোস্ট (Host): এটি সেই জীবকে বোঝায় যার দেহে প্যাথজেনিক অনুজীব প্রবেশ করে এবং রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৫৩.
যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর নাম- 
  1. Escherichia coli
  2. Mycobacterium tuberculosis
  3. Staphylococcus aureus
  4. Plasmodium vivax
ব্যাখ্যা

• যক্ষ্মা রোগের জীবাণুর নাম হচ্ছে Mycobacterium tuberculosis. 

- যক্ষ্মা  Mycobacterium tuberculosis নামের জীবাণুঘটিত দীর্ঘস্থায়ী এক সংক্রামক ব্যাধি।
- এ রোগ TB নামেও পরিচিত। যক্ষ্মা একটি প্রাচীন রোগ।
- সম্ভবত পঞ্চম শতকের প্রথম দিক থেকেই এটি মারাত্মক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
- যক্ষ্মা জীবাণুর বিভিন্ন জাত গৃহপালিত পশু ও বন্যপ্রাণীদের মধ্যেও সংক্রমণ ঘটায়।
- এ রোগ সচরাচর ফুসফুসের ক্ষতি করে, কিন্তু শ্বাসতন্ত্র, অস্থি ও অস্থিসন্ধি, ত্বক, লসিকাগ্রন্থি, অন্ত্র, কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রও আক্রমণ করে।
- শ্বাসগ্রহণের সময় জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলেই সাধারণত সংক্রমণ ঘটে। 
- দূষিত খাদ্যগ্রহণেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
- যক্ষ্মাগ্রস্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে নির্গত কফ বা থুথুর কণাগুলি অন্যের শরীরে ও বাতাসে জীবাণু ছড়ায়।
- এসব জীবাণু বাতাসে, শুষ্ক কফ ও থুথুতে এবং ধূলাবালিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় থাকে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।

১৫৪.
কোন মশা ফাইলেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে? 
  1. কিউলেক্স
  2. অ্যানোফিলিস
  3. এডিস
  4. অ্যাডালিস
ব্যাখ্যা
• ফাইলেরিয়া রোগের জীবাণু বহন করে কিউলেক্স মশা।
- যখন কিউলেক্স মশা কোনো আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ায়, তখন সেই ফাইলেরিয়া জীবাণু মশার শরীরে প্রবেশ করে।
- পরবর্তীতে সেই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে জীবাণু দেহে প্রবেশ করে এবং রোগ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে,
- ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস ইত্যাদির বাহক এডিস মশা।
- ম্যালেরিয়ার বাহক অ্যানোফিলিস মশা।

উৎস: ব্রিটানিকা ও World Health Organization (WHO)।
১৫৫.
DNA ভাইরাসঘটিত রোগ কোনটি? 
  1. রুবেলা
  2. ভেরিওলা
  3. মাম্পস
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা বি
ব্যাখ্যা
DNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। 
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- হার্পিস সিমপ্লেক্স (মানব), Tipula irridescent, Rabbitpox, Vaccinia (bovine), ভেরিওলা (মানব), Pustular dermatitis (Sheep), এডেনা গ্রুপ, প্যাপিলোমা (মানব), পলিওমা, ΦX174 কলিফাজ, Cauliflower mosaic ও Adenoassociaed ইত্যাদি। 

RNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (মানব), পোলিও (মানব), রুবেলা (মানব), পীতজ্বর (মানব), ডেঙ্গু (মানব), Encephalitis (Human), Leukemia (cat), মাম্পস (মানব), Measles (Human), Cold (Human), Newcastle disease (fowl), Rous sarcoma (bird), Rabies (dog), Potato yellow dwarf, Vesicular stomatitis (cattle), Tobacco mosaic, Sugarcane mosaic, fd (Pseudomonas), Cucumber mosaic, f2, fr1, R17কলিফাজ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং ভাইরাসতত্ত্ব পরিচয় (আহমেদ মাতীন)।
১৫৬.
নিচের মধ্যে কোনটি বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়?
  1. টাইফয়েড
  2. পোলিও
  3. জন্ডিস
  4. বসন্ত
ব্যাখ্যা

•  বসন্ত বায়ুবাহিত রোগ।
- বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ সাধারণত সেই রোগের জন্য হয় যা শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে টাইফয়েড, পোলিও, এবং জন্ডিস সাধারণত খাদ্য বা পানি দ্বারা সংক্রমিত হয়। অন্যদিকে, বসন্ত বা হালকা জ্বর ও চর্মরোগের সাথে যুক্ত রোগটি প্রধানত শ্বাসনালি বা বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। অর্থাৎ, আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির ফোঁটা বা শ্বাস-প্রশ্বাসে থাকা জীবাণু অন্য ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করলে তারাও আক্রান্ত হতে পারে। তাই বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমিত রোগের উদাহরণ হিসেবে “বসন্ত” সঠিক উত্তর।
 
• বায়ুবাহিত রোগ:
- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হপিং কফ, নিউমোনিয়া, সাধারণ ঠান্ডা জ্বর, বসন্ত, হাম ইত্যাদি।
- প্রতিরোধ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হপিং কফ এবং হামের টিকা নেয়া। এই জাতীয় রুগী থেকে দূরে থাকা। পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হলে আলাদা রেখে চিকিৎসা করা।

• সংক্রামক রোগ:
- রোগের জীবাণু যখন পরোক্ষভাবে বাতাস, পানি, মশা-মাছি, কীট-পতঙ্গ, জীব-জন্তু ইত্যাদি দ্বারা অথবা সরাসরি পরস্পরের সংস্পর্শে এক দেহ থেকে অন্য দেহে খুব সহজেই বিস্তার লাভ করে তখন তাদেরকে সংক্রামক রোগ বলা হয়।

• পানিবাহিত রোগ:
- জন্ডিস, পোলিও, ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, রক্ত আমাশা (ডিসেন্ট্রি) বিভিন্ন ধরনের কৃমি রোগ ইত্যাদি।
- প্রতিরোধ: পানি ফুটিয়ে পান করা, টিউবওয়েলের পানি পান করা, ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, যেখানে সেখানে মলমূত্র পরিত্যাগ না করা, জুতা স্যান্ডেল পায়ে চলাফেরা করা, পোলিও রোগের টিকা নেয়া।

উৎস: পরিবেশ শিক্ষা-বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৭.
কর্টিসল হরমোনকে সাধারণত কী নামে ডাকা হয়?
  1. বৃদ্ধি হরমোন
  2. স্ট্রেস হরমোন
  3. ইনসুলিন
  4. থাইরক্সিন
ব্যাখ্যা

কর্টিসল হরমোনকে সাধারণত "স্ট্রেস হরমোন" বলা হয়। 
কারণ এটি শরীরের মানসিক ও শারীরিক চাপের (stress) প্রতি প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।
এটি অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতে শরীরকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। 

কেন অন্য অপশনগুলো ভুল
ক) বৃদ্ধি হরমোন: এটি সোমাটোট্রপিন হরমোন নামেও পরিচিত এবং শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
গ) ইনসুলিন: এটি একটি পেপটাইড হরমোন যা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ঘ) থাইরক্সিন: এটি থাইরয়েড গ্রন্থি দ্বারা উৎপাদিত একটি হরমোন যা শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া (metabolism) নিয়ন্ত্রণ করে। 

১৫৮.
মা ও নবজাতককে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে কোন টিকা প্রয়োজন?
  1. Tetanus toxoid
  2. Measles vaccine
  3. Zero dose
  4. Bacillus Calmette Guerin
ব্যাখ্যা

• মা ও নবজাতককে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে Tetanus toxoid টিকা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় এই টিকা দেওয়া হলে মা তার শরীরে টিটানাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে, যা প্লাসেন্টার মাধ্যমে নবজাতকেও সঞ্চারিত হয়। ফলে শিশুটি জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস ধরে টিটানাস থেকে সুরক্ষিত থাকে। এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ নবজাতক টিটানাস একটি প্রাণঘাতী সংক্রমণ এবং এটি প্রধানত নোংরা বা অপরিষ্কার কেটে বা জন্মকালীন সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায়। অন্য টিকাগুলি যেমন Measles vaccine, BCG বা Zero dose টিটানাস প্রতিরোধে কার্যকর নয়। তাই মা ও শিশু দুজনকেই সুরক্ষিত রাখতে Tetanus toxoid অপরিহার্য।

• ভ্যাকসিনেশন:
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৯.
ডায়বেটিস রোগ সম্পর্কে যে তথ্যটি সত্য নয় সেটি হলো -
  1. চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে এই রোগ হয়
  2. এই রোগ হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়
  3. এই রোগ মানবদেহের কিডনি বিনষ্ট করে
  4. ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের অভাবে এই রোগ হয়
ব্যাখ্যা

[অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন হরমোনের অভাব হলে প্রোটিন, শর্করা ও স্নেহজাতীয় খাবারের বিপাক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়, একে ডায়াবেটিস রোগ বলা হয়। চিনি জাতীয় খাবারের সাথে এ রোগের সম্পর্ক নেই। ডায়াবেটিস হলে হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদি অঙ্গের স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি হয়।] 

ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উল্লেখ্য যে, 
- চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে ডায়াবেটিস রোগ হয় এ তথ্যটি সত্য নয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬০.
ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হওয়ার শেষ ধাপ দেহের কোন অঙ্গে ঘটে?
  1. ত্বক
  2. কিডনি
  3. লিভার
  4. অন্ত্র 
ব্যাখ্যা

রিকেটস (Rickets) রোগ: 
- রিকেটস (Rickets) রোগ কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন। 
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি কিডনিতে সংঘটিত হয়
- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়। 

- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। 
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো, এতে সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়। 
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬১.
HIV ভাইরাস প্রধানত কোন রক্ত কণিকাকে আক্রমণ করে?  
  1. প্লেটলেট 
  2. লোহিত কণিকা 
  3. B-লিম্ফোসাইট 
  4. T-লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা

এইডস রোগ: 
- এইডস (AIDS) একটি সংক্রামক রোগ যা সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় এই রোগ চিহ্নিত হয়, এবং তখন থেকেই এটি একটি মরণব্যাধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। 
- প্রাকৃতিকভাবে মানুষের শরীরে রোগজীবাণু প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকে, যা ইমিউনিটি হিসেবে পরিচিত। 
-  HIV (Human Immuno Deficiency Virus) ভাইরাসটি AIDS রোগ সৃষ্টি করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। 
- HIV ভাইরাস যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন এটি রক্তের T-লিম্ফোসাইট (শ্বেত রক্তকণিকা) আক্রমণ করে, ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়। 
- HIV সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, তবে এই সময়েই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে। 
- এইডস সংক্রমিত হয় প্রধানত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে, তবে মায়ের বুকের দুধ বা রক্ত সঞ্চালন বা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে এটিতে সংক্রমণ হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬২.
কোন রোগের ভাইরাসে নিউক্লিয়িক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে?
  1. Rabies
  2. Harpes simplex
  3. Mumps 
  4. Influenza B
ব্যাখ্যা

DNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। 
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- Harpes simplex (Human), Tipula Iridescent, Rabbitpox, Vaccinia (bovine), Variola (Human), Pustular dermatitis (Sheep), এডেনা গ্রুপ, প্যাপিলোমা (মানব), পলিওমা, ΦX174 কলিফাজ, Cauliflower mosaic, Adenoassociaed ইত্যাদি। 

RNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- Influenza B (Human), পোলিও (মানব), Rubella (Human), পীতজ্বর (মানব), ডেঙ্গু (মানব), Encephalitis (Human), Leukemia (cat), Mumps (Human), Measles (Human), Cold (Human), Newcastle disease (fowl), Rous sarcoma (bird), Rabies (dog), Potato yellow dwarf, Vesicular stomatitis (cattle), Tobacco mosaic, Sugarcane mosaic, filamentous bacteriophage fd (Pseudomonas), Cucumber mosaic, f2, fr1, R17কলিফাজ ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং ভাইরাসতত্ত্ব পরিচয় (আহমেদ মাতীন)।

১৬৩.
Which vitamin deficiency is the cause of Rickets disease?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Vitamin D
  4. Vitamin E
  5. Vitamin K
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 

- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি -এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। 
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৪.
জন্মের কত দিনের মধ্যে শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন (OPV-0) দিতে হয়?
  1. ৪৫ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

• টিকা দেওয়া বা ভ্যাকসিনেশন (Vaccination):
- ইমিউনিটি অর্জনের জন্য দেহের মধ্যে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পদ্ধতিতে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন বলে।
- টিকা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেহে প্রবেশ করিয়ে ইমিউনিটি গড়ে তোলা হয়। এই পদ্ধতিতে সক্রিয় অনাক্রমীকরণের মাধ্যমে ইমিউনোলজিক্যাল মেমোরির (immunological memory) সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রোগ সংক্রামক জীবাণু শরীরে প্রবশে করলে দেহ দ্রুততার সঙ্গে প্রবিষ্ট জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- প্রকৃতপক্ষে, দেহে প্রবিষ্ট ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিজেন নির্দিষ্ট T ও B-লিম্ফোসাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং মেমোরি সেল উৎপন্ন ভ্যাকসিনেশন প্রধানত অণুজীবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও বিভিন্ন বিষ (toxins), যেমন-সাপের বিষ (snake venoun), মাকড়সার বিষ প্রভৃতির বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়।
- জীবাণু বা পরজীবীর আক্রমণে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে ভ্যাকসিনেশন আর কোনো কাজে আসে না। 

• পোলিও:
পোলিও (Poliomyelitis) একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা Poliovirus দ্বারা সৃষ্ট। এটি মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে স্থায়ী পক্ষাঘাত ঘটাতে পারে।
- পোলিও প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকাকে পোলিও ভ্যাকসিন বলা হয়। এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

 • পোলিও টিকার প্রকারভেদ: 
১। OPV (Oral Polio Vaccine):
- মুখে খাওয়ানো টিকা।
- জীবিত কিন্তু দুর্বল ভাইরাস থাকে।
- বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। 
- জন্মের একমাস বা ৩০ দিনের মধ্যে শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন (OPV-0) দিতে হয়। যা দ্রুত সুরক্ষার জন্য নিয়মিত টিকাদান তালিকার অংশ হিসেবে ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে দেওয়া ডোজের আগে দেওয়া হয়। 

২। IPV (Inactivated Polio Vaccine):
- ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
- মৃত ভাইরাস ব্যবহার করা হয়।
- এটি পোলিও ভাইরাসের কারণে হওয়া পক্ষাঘাত প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
- সাধারণত শিশুদের পোলিও টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ডোজ হিসেবে ২ মাস বয়সে দেওয়া হয়।



উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৫.
নিচের কোনটি জিনবাহিত রোগ?
  1. বেরিবেরি 
  2. হিমোফিলিয়া
  3. স্ট্রোক
  4. এইডস 
ব্যাখ্যা

• হিমোফিলিয়া একটি জিনবাহিত রোগ (genetic disorder)। 

• হিমোফিলিয়া (Hemophilia):
- হিমোফিলিয়া (Hemophilia) হলো একটি জিনগত রক্তক্ষরণজনিত রোগ।
-  এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী প্রোটিনের ঘাটতি থাকে।
-  এর ফলে সামান্য আঘাতেও রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে দেরি হয় বা বন্ধ হয় না।
-  এটি এক্স লিঙ্কড ডিজঅর্ডার বা এক্স ক্রোমোসোম বাহিত রোগ, যা সাধারণত ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। 
-  কারন যেহেতু এটি কেবল এক্স ক্রমোসোম এর মাধ্যমে বাহিত হয় এবং ছেলেদের মধ্যে একটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে তাই সেটি আক্রান্ত থাকলে ছেলেদের মধ্যে রোগটি হয়। কিন্তু মেয়েদের মধ্যে দুটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে বিধায় একটি এক্স আক্রান্ত থাকলেও মেয়েদের মাঝে রোগ প্রকট না হয়ে মেয়েরা বাহক ও হতে পারে। 

• হিমোফিলিয়া দুইরকমের হয়ে থাকে। এগুলো হলো- 
- Hemophilia A: রক্ত জমাট বাঁধার Factor VIII এর অভাবে এটি হয়।
- Hemophilia B: রক্ত জমাট বাঁধার Factor IX এর অভাবে এটি হয়। 

• হিমোফিলিয়া রোগের লক্ষন:
- সহজে রক্তপাত হওয়া।
- হাড়-জোড়ায় রক্ত জমা হওয়া।
- দাঁতের চিকিৎসা বা কাটা লাগলে দীর্ঘ সময় রক্ত পড়া।
- মস্তিষ্কে রক্তপাত মারাত্মক হতে পারে।

• প্রতিকার/চিকিৎসা:
→ ক্লটিং ফ্যাক্টর প্রতিস্থাপন থেরাপি:
নিয়মিতভাবে রক্তে জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় Factor VIII বা Factor IX ইনজেকশন দেওয়া হয়।
→ জিন থেরাপি (Gene Therapy):
- সাম্প্রতিক গবেষণায় জিন থেরাপি ব্যবহার করে দেহে ঘাটতিপূর্ণ জিন প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা চলছে।
- এটি ভবিষ্যতে স্থায়ী প্রতিকারের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

অন্যদিকে,
 • স্ট্রোক (Stroke): এটি মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হলে ঘটে। এটি জিনবাহিত নয়, বরং জীবনধারা ও শারীরিক সমস্যার সাথে সম্পর্কিত।
 • বেরিবেরি (Beriberi): এটি ভিটামিন-B1 (থায়ামিন) এর অভাবে হয়। এটি পুষ্টিজনিত রোগ, জিনবাহিত নয়।
 • এইডস (AIDS):  এটি এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট সংক্রামক রোগ। জিনবাহিত নয়।

তথ্যসূত্র: 
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; গাজী আজমল।
- ব্রিটানিকা। 

১৬৬.
স্ট্রোক এর লক্ষণসমূহ হলো-
  1. চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা
  2. হঠাৎ দুর্বলতা অনুভব হওয়া বা শরীরের কোন অংশ অবশ হয়ে যাওয়া
  3. হঠাৎ তন্দ্রাচ্ছন্নতা হওয়া বা চলতে ফিরতে সমস্যা অনুভব করা
  4. উপরের সবগুলো বা যে কোন একটি
ব্যাখ্যা
স্ট্রোক:
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়।
- স্ট্রোক একটি স্নায়বিক রোগ।

স্ট্রোকের কারণ:
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে।
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়।
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে।

লক্ষণ:
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া, মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া, শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি।

প্রতিরোধের উপায়:
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা।
- উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৭.
কোন রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়?
  1. এইডস
  2. কলেরা
  3. বসন্ত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের উপকারিতা:
- বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়
- ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
- ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
- কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
- জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা - ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
- লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৮.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস - র‍্যাবিস ভাইরাস
  2. ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস - ফ্ল্যাভি ভাইরাস
  3. গুটিবসন্ত রোগের ভাইরাস - রুবিওলা ভাইরাস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস: 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ।
- ভাইরাস হলো এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অণুজীব যারা জীবিত কোষের ভিতরেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া , সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করতে পারে। আবার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বাতাস, মাটি, জল  ইত্যাদি প্রায় সব জড় মাধ্যমে ভাইরাস অবস্থান করে।
- ভাইরাসের আকার সাধারণত ১০ nm থেকে ৩০০ nm পর্যন্ত হয়ে থাকে।
 
• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রোগের ভাইরাস:
- জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস - র‍্যাবিস ভাইরাস   
- ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস - ফ্ল্যাভি ভাইরাস
- গুটিবসন্ত রোগের ভাইরাস - ভেরিওলা ভাইরাস 
- হাম রোগের ভাইরাস - রুবিওলা ভাইরাস 
 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৯.
Which mosquito is the carrier of the Chikungunya virus?
  1. Anopheles
  2. Aedes
  3. Culex
  4. Sand fly
  5. Haemagogus
ব্যাখ্যা

• চিকুনগুনিয়া ভাইরাস মূলত সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে, এডিস ইজিপ্টি (Aedes aegypti) এবং এডিস অ্যালবোপিকটাস (Aedes albopictus) এই ভাইরাস ছড়ানোর জন্য দায়ী প্রধান দুটি প্রজাতি। এই মশাগুলো ডেঙ্গু এবং জিকা ভাইরাসের সুপরিচিত বাহক হিসেবেও পরিচিত।

• চিকনগুনিয়া:
- চিকুনগুনিয়া এক ধরণের ভাইরাল সংক্রমণ যেটা এডিস নামের একটি মশার কামড়ানোর ফলে হয়।
- এটি চিকনগুনিয়া ভাইরাস (CHIKV) নামক একটি আরএনএ (RNA) ভাইরাসের কারণে হয়।
-এই মশাটি সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়।
- চিকুনগুনিয়া সংক্রামিত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
- ২০২৩ সালের শেষের দিকে এফডিএ (FDA) চিকনগুনিয়ার জন্য প্রথম টিকা হিসেবে IXCHIQ অনুমোদন করে।

• চিকুনগুনিয়া রোগের লক্ষণসমূহ:
১. প্লাটিলেট কমে যায়। শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখ লাল হওয়া ও চোখ ব্যথা, চোখ থেকে পানি পড়া, অরুচি বা বমি বমি ভাব ইত্যাদি দেখা দেয়।
২. বিভিন্ন স্থানে হামের মতো র‍্যাশ হতে পারে।
৩. গায়ে রক্ত জমে ছিটা ছিটা দাগ থাকতে পারে।

সূত্র- ব্রিটানিকা। [link]

১৭০.
বায়ুদূষণের ফলে বায়ুতে কোন গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত সমস্যা দেখা যায়?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• কার্বন মনোক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে রক্তে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত করে, ফলে শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসজনিত জটিলতা দেখা দেয়।
 
• বায়ুদূষণের প্রভাব:
- বায়ু দূষিত হলে সেই বায়ুতে ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
- বায়ুতে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে মানুষের শ্বাসকষ্টজনিত রোগ থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।
- এছাড়া শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুতে মিশে গিয়ে অম্লীয় বৃষ্টি সৃষ্টি করতে পারে।
- এই অম্লীয় বৃষ্টি শুধু মানুষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, জলজ প্রাণীকেও ক্ষতি করে।
- এর ফলে বনভূমি ধ্বংস হয়।

• বায়ুদূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা:
- বায়ুদূষণের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বিজ্ঞানীদের মতে, এভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বেড়ে যাবে।
- এর ফলে পৃথিবীর সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাবে।
- আবার কোনো কোনো অঞ্চলে খরা দেখা দিতে পারে।
- এর ফলে স্থানীয় জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটবে।
- এতে শুধু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
- পরিশেষে সার্বিকভাবে পৃথিবী ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।

১৭১.
শিশুর খাদ্যে নিচের কোনটির ঘাটতির জন্য রক্তাল্পতা বা এ্যানিমিয়া দেখা যায়?
  1. লৌহ
  2. ক্যালসিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. গন্ধক
ব্যাখ্যা
রক্তাল্পতা বা এ্যানিমিয়া: 
- আয়রন বা লৌহ, লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের গঠন উপাদান।
- শিশু ও সন্তান সম্ভবা মায়ের খাদ্যে লৌহের ঘাটতির জন্য রক্তাল্পতা দেখা যায়।
- সাধারণত শিশুদের পেটে কৃমি হলে রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে।
এর লক্ষণগুলো হলো-
• দুর্বলতাবোধ, মাথা, গা ঝিমঝিম করা।
• বুক ধড়ফড় করা।
• মাথা ঘোরানো, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে উঠা।
• ওজন হ্রাস ও খাওয়ায় অরুচি দেখা দেয়।

প্রতিকার: 
- লৌহ সমৃদ্ধ শাকসবজি, ফল, মাংস, ডিমের কুসুম, যকৃৎ ও বৃক্ক ইত্যাদি বেশি করে খাওয়া।
- প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা।
- রোগ কঠিন আকার ধারণ করলে হৃৎপিন্ডের দ্রুত রক্ত সঞ্চালন ও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১৭২.
কোন হেপাটাইটিস ভাইরাস রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় না?
  1. Hepatities A
  2. Hepatities B
  3. Hepatities C
  4. Hepatities D
ব্যাখ্যা
• হেপাটাইটিস:
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের ( এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে।
- হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কময়ে দিতে শুরু করে।
- হেপাটাইটিসের ভাইরাসগুলোর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
- প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিৎসা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

• ভাইরাসের নাম- ধরণ- সংক্রমণের মাধ্যম:
- Hepatities A- RNA - পানি, দূষিত খাবার;
- Hepatities B- DNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
- Hepatities C- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
- Hepatities D- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম, লালা;
- Hepatities E- RNA- পানি, দূষিত খাবার।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৭৩.
ভিটামিন ডি তৈরির চূড়ান্ত ধাপটি সংঘটিত হয়- 
  1. যকৃতে
  2. অন্ত্রে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. কিডনিতে
ব্যাখ্যা
রিকেটস (Rikets): 
- এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন।
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে। 

- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।
- এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়।
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো।
- এতে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়।
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৪.
রক্তশূন্যতার জন্য নিম্নের কোন উপাদানটি দায়ী নয়?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) ভিটামিন বি-12
ব্যাখ্যা
রক্তশূন্যতা হচ্ছে দেহের এমন একটি অবস্থা, যখন বয়স এবং লিঙ্গভেদে রক্তে হিমােগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। খাদ্যের মুখ্য উপাদান লৌহ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-12 ইত্যাদির অভাব ঘটলে এ রােগ দেখা যায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৫.
মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরে ভূমিকা রাখে কোনটি?
  1. এন্টিজেন
  2. নিউট্রোফিল
  3. ম্যাক্রোফেজ
  4. লাইসোজাইম এনজাইম 
ব্যাখ্যা

মানবদেহের প্রতিরক্ষা:
- রোগ জীবাণু কিংবা পরজীবী আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মানবদেহে সাধারণভাবে তিন ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা লক্ষ করা যায়।

- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর: ত্বক, সিলিয়া ও মিউকাস, এসিড, লাইসোজাইম এনজাইম ও রক্ত জমাট।
- দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: শ্বেত রক্তকণিকা থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন ধরনের ফ্যাগোসাইটিক কোষ (ম্যাক্রোফেজ, নিউট্রোফিল ইত্যাদি), প্রদাহ সৃষ্টিকারী সাড়া ও দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রভৃতি দেহে দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক উৎপাদিত প্রোটিন দু'ভাবে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করে।
- যেমন- ভৌত পদ্ধতি ও ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া। ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু নিধন চারটি পর্যায়ক্রমিক ধাপে সম্পন্ন হয়।
- যথা- কেমোট্যাক্সিস, সংলগ্নীকরণ, গ্রাসকরণ ও হত্যা এবং পরিপাক।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৬.
কোন রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে
  2. থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
  3. গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
  4. লিউকোমিয়া চিকিৎসায়
ব্যাখ্যা
• থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ব্যবহৃত হয়।

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- এই রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৭.
HIV ভাইরাস কোন রক্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে?
  1. প্লাজমা
  2. লোহিত রক্ত কোষ 
  3. শ্বেত রক্ত কোষ
  4. অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome বা AIDS):
বর্তমান বিশ্বে এইডস একটি মারাত্মক ঘাতক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত। 1981 সালে রোগটি আবিষ্কৃত হয়।
Acquired Immune Deficiency Syndrome-এর শব্দগুলোর আদ্যক্ষর দিয়ে এ রোগটির নামকরণ
করা হয়েছে AIDS।
- UNAIDS কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় 40.8 মিলিয়ন মানুষ HIV-এ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় 53 শতাংশ হলো নারী।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে HIV/AIDS এর প্রায় সব দেশেই বিস্তার আছে এবং এটি এখনো একটি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV ভাইরাসের আক্রমণে এইডস হয়।
- HIV ভাইরাস শ্বেত রক্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে (CD4 T-লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকোষ) এবং এ কোষের এন্টিবডি তৈরিসহ রোগ প্রতিরোধ-সংক্রান্ত কাজে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে শ্বেত রক্ত কোষের সংখ্যা  ও এন্টিবডির পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে।
- এই ভাইরাস মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় অনেক দিন থাকতে পারে।
- এই ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায় বলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। কারণ এইডস রোগীর রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার মতো কোনো ঔষধ এখনও আবিষ্কার হয়নি।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহণে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)।
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে।
- রক্তকোষ তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)।
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহণ করে।
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে।    - অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

১৭৮.
তামাকে উপস্থিত সবচেয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ কোনটি?
  1. মিথানল
  2. নিকোটিন
  3. ইথানল
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা

নিকোটিন হলো তামাকে উপস্থিত সবচেয়ে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর পদার্থ।
- এটি একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন (স্নায়ুবিষ)।
- অত্যন্ত আসক্তিকারক পদার্থ - হেরোইনের চেয়েও বেশি আসক্তি সৃষ্টি করে।
- স্নায়ুতন্ত্রের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করে
রক্তনালী সংকুচিত করে।
- মাত্র ৫০-৬০ মিলিগ্রাম একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে।
- হার্টের সমস্যা, ফুসফুসের ক্যান্সার, স্ট্রোক, এবং অন্যান্য শ্বাসনালী রোগ মূলত নিকোটিনসহ তামাকের রাসায়নিক যৌগগুলো দ্বারা ঘটে।

• ধুমপান:
- ধুমপান হচ্ছে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ প্রক্রিয়া।
- ধুমপায়ী যে অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভুত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয় ধুমপান বলে।
- অপরদিকে ধুমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাকে নিষ্ক্রিয় ধুমপান বলে।
- ধুমপানে সৃষ্ট ধোয়াতে প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তামাকের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো হলো নিকোটিন, টার ও কার্বন মনো-অক্সাইড।

• ধুমপানের প্রভাব:
১। সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে; কার্বন মনোক্সাইড শ্বাসনালীতে ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে।
২। ধুমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আয়তন বেড়ে যায়।
৩। ধোয়ার প্রভাবে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে এ অবস্থাকে এমফাইসিমা বলে।
৪। কার্বন মনোক্সাইড এর বৃদ্ধি ঘটে এবং রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে।

উৎস:
১। প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১৭৯.
অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে নিচের কোন রোগটি হয়? 
  1. স্কার্ভি
  2. রিকেটস
  3. ডায়াবেটিস
  4. কোয়াশিয়রকর
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮০.
ভিটামিন সি এর অভাবে কোন রোগ হয়?
  1. স্বার্ভি
  2. রাতকানা
  3. বেরিবেরি
  4. রিকেটস
ব্যাখ্যা

ভিটামিন সি:
- ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড।
- ভিটামিন সি মানুষকে রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতস্থান গুকাতে সাহায্য করে।
- আমলকি, কমলালেবু, লেবু আনারস প্রভৃতি ভিটামিন সি এর উৎস।

অন্যান্য অপশনসমূহ,
ভিটামিন A: রাতকানা (Night Blindness) রোগের জন্য দায়ী।
ভিটামিন B: বিভিন্ন B-ভিটামিনের অভাবে বেরিবেরি, পেলাগ্রা, ওয়ার্নিকি সিনড্রোম ইত্যাদি হতে পারে।
ভিটামিন D: রিকেটস (Rickets) এবং অস্টিওমালাসিয়া (Osteomalacia) রোগের জন্য দায়ী।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮১.
কলেরা রোগের জন্য সাধারণত  কোন জীবাণু দায়ী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা

- কলেরা কলেরা রোগের জন্য সাধারণত  ব্যাকটেরিয়া দায়ী।

- কলেরা:
- কলেরা একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ।
- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholera নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ:
- হটাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া।
- বমি।
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়:
- বিশুদ্ধ পানি পান করা।
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা করা।
- ভ্যাকসিন (Oral cholera vaccine- OCV) গ্রহণ 
- ORS (Oral rehydration salts) দ্রুত প্রয়োগ।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮২.
হেপাটাইটিস B হয় কোন ধরনের জীবাণু দ্বারা?
  1. DNA ভাইরাস
  2. RNA ভাইরাস
  3. ব্যাক্টেরিয়া
  4. ছত্রাক
ব্যাখ্যা
• হেপাটাইটিস B ভাইরাস মূলত DNA ভাইরাস।

• হেপাটাইটিস:
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের ( এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি, রক্ত, যৌন ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। 

উল্লেখ্য,
- Hepatities A, Hepatities C, Hepatities D ও Hepatities E - RNA ভাইরাস।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৮৩.
মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের-
  1. এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
  2. অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেলে
  3. এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেলে
  4. এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেলে
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৪.
মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য কোন ভ্যাকসিন দেওয়া হয়?
  1. Bacillus Calmette Guerin
  2. Tetanus toxoid
  3. Measles vaccine
  4. Zero dose
ব্যাখ্যা
• মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 

• ভ্যাকসিনেশন:

- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৫.
যক্ষ্মা রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম কোনটি?
  1. Salmonella typhosa
  2. Vibrio cholerae
  3. Mycobacterium tuberculosis
  4. Clostridium tetani
ব্যাখ্যা

• রোগ: যক্ষ্মা, ব্যাকটেরিয়ার নাম: Mycobacterium tuberculosis.

• রোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার তালিকা:

- যক্ষ্মা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Mycobacterium tuberculosis.

- নিউমোনিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Diplococcus pneumoniae.

- টাইফয়েড:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Salmonella typhosa.

- কলেরা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Vibrio cholerae.

- ডিপথেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Corynebacterium diphtheriae.

- আমাশয়: 
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bacillus dysenteriae.

- ধনুষ্টঙ্কার:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Clostridium tetani.

- হুপিং কাশি:
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bordetella pertussis.

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৬.
ভিটামিন D তৈরি হওয়ার শেষ ধাপ কোন অঙ্গে ঘটে? 
  1. কিডনিতে 
  2. হাড়ে 
  3. যকৃতে 
  4. ত্বকে 
ব্যাখ্যা

রিকেটস (Rikets): 
- এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন। 
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে। 

- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়। 
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। 
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো। এতে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়। 
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৭.
AIDS রোগে শরীরের কোন কোষ আক্রান্ত হয়? 
  1. প্লেটলেট
  2. নিউট্রোফিল
  3. লোহিত রক্ত কণিকা
  4. T-লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 

- এইডস এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৮.
AIDS রোগ প্রথম আমেরিকায় কোন সালে চিহ্নিত হয়? 
  1. ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। 

- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৯.
দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি, কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে?
  1. হাইপো-থাইরয়ডিজম (HYPOTHYROIDISM)
  2. রাতকানা
  3. এনিমিয়া
  4. কোয়াশিয়রকর (KWASHIORKOR)
ব্যাখ্যা
- সামুদ্রিক মাছ/শৈবাল আয়োডিনের ভাল উৎস। 
- আয়োডিনের অভাবে হাইপো-থাইরয়ডিজম বা গলগণ্ড রোগ হয়। 
- ফলে দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি থাকলে আয়োডিনের অভাবজনিত হাইপো-থাইরয়ডিজম রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে। 
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই গলগণ্ড (Goitre) বলে। 
- গলগন্ড (Goiter)  খাদ্য ও খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব, সংক্রমণজনিত প্রদাহ, টিউমার, অথবা গলগ্রন্থির কম কার্যকারিতার কারণে গলগ্রন্থির (thyroid) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। 

- ''Severe and prolonged iodine deficiency, may lead to a deficient supply of thyroid hormones. This condition is referred to as hypothyroidism.'' 

উৎস: WHO and US National Library of Medicine National Institutes of Health এবং বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১৯০.
পারপুরা রোগে কোন উপাদান প্রভাবিত হয়?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. অনুচক্রিকা
  3. শ্বেত রক্ত কণিকা
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন-
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

২। পলিসাইথিমিয়া: 
- দেহে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়াকে পলিসাইথিমিয়া রোগ বলে। 

৩। পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। এ রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯১.
মানবদেহে হিমোগ্লোবিনের অভাবজনিত রোগ কোনটি? 
  1. মেরাসমাস
  2. রক্তশূন্যতা
  3. বেরিবেরি
  4. স্কার্ভি
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণও খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- খনিজ পদার্থ প্রধানত কোষ গঠনে সাহায্য করে। 
- প্রাণীরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে খনিজ পদার্থ পায়। 
- লৌহ (Fe) রক্তের একটি উপাদান যা খনিজ পদার্থ হিসেবে রক্তে থাকে। 
- প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg। 
- যকৃৎ, অস্থিমজ্জা, প্লীহা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে। 
- লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি। আর প্রাণিজ উৎস হচ্ছে মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। 
- লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা। 
- আর হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়। 

রক্তশূন্যতা রোগের কিছু লক্ষণ হলো: 
- চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, 
- হাত-পা ফোলা, 
- দুর্বলতা, 
- মাথা ঘোরা, 
- বুক ধরফড় করা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯২.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ
  2. প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়
  3. মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো  ৯ - ১৪.৫ mmol/L
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস, বহুমূত্র বা মধুমেহ রোগ:

- ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। দেহে গ্রহণকৃত খাদ্য গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মধ্যে আসে।
- দেহে গ্রহণকৃত খাদ্য গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মধ্যে আসে।
- প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যেটি রক্তের  গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে।  - কারও ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৩.৯ - ৫.৬ mmol/L কিংবা (৭০ - ১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি.)। ডায়াবেটিস হলে রক্তে এর পরিমাণ দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক বেড়ে যায়।
- ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়
- ডায়াবেটিস হৃদযন্ত্রের রক্তপ্রবাহ রোগের ওপর পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
- ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গের, যেমন- হৃৎপিণ্ড, কিডনি, চোখ ইত্যাদির স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। 
- ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাদের করোনারি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি থাকে। এটি হৃৎপিণ্ডকে অচল করে দেয় এবং রোগী মারা যেতে পারে।
- এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়। উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

১৯৩.
বাংলাদেশে প্রদানকৃত টায়ফয়েডের টিকার নাম কী?
  1. DPT
  2. TT
  3. TCV
  4. BCG
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে প্রদানকৃত টায়ফয়েডের টিকার নাম TCV (Typhoid Conjugate Vaccine)।
- বিশ্বখ্যাত ইংল্যান্ডের GlaxoSmithKline কোম্পানি মূলত টাইফয়েড কনজুগেট টিকাটি তৈরি করেছিল।
- পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের GlaxoSmithKline-এর সাথে যৌথভাবে এবং তাদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান ও ফর্মুলা অনুসরণ করে Biological E Limited-এর ব্যবস্থাপনায় ভারতে টাইফয়েড টিকাটি তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকার শিশুদের নিরাপদ টিকা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
- টাইফয়েড টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক পরীক্ষিত, সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর।
- ২০১৯ সাল থেকে পাকিস্তানেও ভারতের তৈরি টাইফয়েড টিকা সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষার টিকা: বিসিজি B.C.G(Bacillus Calmette-Guérin)। 
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকারের টিকা: ডিপিটি (D.P.T)। 
- পোলিও টিকা: ওপিভি OPV( Oral Polio Vaccine)। 

উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

১৯৪.
Which of the following is a DNA virus-induced disease?
  1. Dengue
  2. Polio
  3. Corona
  4. Small pox
  5. None of these
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা(স্মলপক্স) , TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১৯৫.
দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি, কোন রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে?
  1. হাইপো-থাইরয়ডিজম
  2. রাতকানা
  3. এনিমিয়া
  4. কোয়াশিয়রকর
ব্যাখ্যা
- সামুদ্রিক মাছ/শৈবাল আয়োডিনের ভাল উৎস।
- আয়োডিনের অভাবে হাইপো-থাইরয়ডিজম বা গলগণ্ড রোগ হয়।
- ফলে দৈনিক খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ/শৈবালের অন্তর্ভুক্তি থাকলে আয়োডিনের অভাবজনিত হাইপো-থাইরয়ডিজম রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতে সাহায্য করবে
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকেই গলগণ্ড (Goitre) বলে।
- গলগন্ড (Goiter) খাদ্য ও খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব, সংক্রমণজনিত প্রদাহ, টিউমার, অথবা গলগ্রন্থির কম কার্যকারিতার কারণে গলগ্রন্থির (thyroid) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। 
- "Severe and prolonged iodine deficiency, may lead to a deficient supply of thyroid hormones. This condition is referred to as hypothyroidism."

উৎস: WHO and US National Library of Medicine National Institutes of Health এবং বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১৯৬.
HIV ভাইরাসের আক্রমণে কী ঘটে?
  1. দেহের হাড় দুর্বল হয় 
  2. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয় 
  3. দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমে 
  4. দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় 
ব্যাখ্যা

এইডস (AIDS): 
- এইডস একটি সংক্রামক রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। 
- এইডস হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome (AIDS)। 
- ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এইডস রোগ শনাক্ত হয়। তবে, আফ্রিকার দেশগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। 
- মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থাকে। 
- Human Immune Deficiency Virus (HIV) নামক ভাইরাসের আক্রমণে দেহের এই স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় যার ফলে শরীরে নানা ধরনের রোগ যেমন-শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের রোগ, টিউমার ইত্যাদি হয়। 
- এইডস এর চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই একে মরণব্যাধি রোগ বলা হয়। 

এইডস সংক্রমণ: 
- এইডস যেহেতু সংক্রামক রোগ সেহেতু এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। 
অর্থাৎ, এইডস রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আসলে অন্য ব্যক্তিরও এইডস হতে পারে। 
- বিভিন্নভাবে এইডস সংক্রমিত হয়। 
যেমন- 
১। এইডস-এর জীবাণু একজন মানুষের দেহে সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে এবং বায়ু সংস্পর্শে অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। 
২। যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে HIV সুস্থ দেহে প্রবেশ করে। 
৩। এইডস আক্রান্তগর্ভবতী মায়ের গর্ভের সন্তানের মধ্যে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৪। এইডস আক্রান্ত স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ হতে নবজাতকের দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৫। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে ও সিরিঞ্জের সাহায্যে ড্রাগ ব্যবহারকারী অন্যান্য ব্যক্তির দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৬। রক্ত, বীর্য, লালা ও অশ্রুর মাধ্যমে এ রোগ অসুস্থ দেহ হতে সুস্থ দেহে সংক্রমিত হতে পারে। 
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে এইডস দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। 
- এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজচ্যুত না করে তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 
- খাদ্য, পানি, কীটপতঙ্গ বা রোগীর সাধারণ স্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৭.
কলেরা ভ্যাকসিন কোন ধরণের টিকা?
  1. মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা
  2. নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা
  3. নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা
  4. দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু
ব্যাখ্যা

টিকার প্রকারভেদ:
মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন।
এগুলো হলো-
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine):
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি।
- উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine):
- এ ধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি।
- উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন।

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine):
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি।
- উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন।

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু (Surface chemical molecule):
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
- উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি।

৫। ডিএনএ টিকা (DNA vaccine):
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৮.
রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার অবস্থাকে কী বলা হয়?
  1. ডায়াবেটিস
  2. হাইপারগ্লাইসেমিয়া
  3. হাইপোগ্লাইসেমিয়া
  4. অ্যানিমিয়া
ব্যাখ্যা

• রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে।

• শর্করা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যের প্রভাব:
- আহারে শর্করা কম বা বেশি গ্রহণ উভয়ই দেহের জন্য ক্ষতিকর।
- শর্করার অভাবে দেহে অপুষ্টি দেখা দেয়।
- রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে দেহে বিপাক ক্রিয়ার সমস্যা সৃষ্টি হয়।

• হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia):
- রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে গেলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া দেখা দেয়।
- এ অবস্থায় বিভিন্ন শারীরিক লক্ষণ প্রকাশ পায়।

• হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণসমূহ:
- ক্ষুধা অনুভব করা,
- বমি বমি ভাব,
- অতিরিক্ত ঘামানো,
- হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

১৯৯.
ধনুষ্টঙ্কার রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার নাম কী?
  1. Bordetella pertussis
  2. Clostridium tetani
  3. Corynebacterium diphtheriae
  4. Bacillus dysenteriae
ব্যাখ্যা

• রোগ: ধনুষ্টঙ্কার, ব্যাকটেরিয়ার নাম: Clostridium tetani.

• রোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার তালিকা:

- যক্ষ্মা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Mycobacterium tuberculosis.

- নিউমোনিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Diplococcus pneumoniae.

- টাইফয়েড:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Salmonella typhosa.

- কলেরা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Vibrio cholerae.

- ডিপথেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Corynebacterium diphtheriae.

- আমাশয়: 
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bacillus dysenteriae.

- ধনুষ্টঙ্কার:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Clostridium tetani.

- হুপিং কাশি:
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bordetella pertussis.

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০০.
লিউকেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ কোনটি?
  1. হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটি
  2. অনুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া
  3. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি
  4. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

- লিউকেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি, যা অপরিণত ও অকার্যকর শ্বেত রক্ত কণিকা হিসেবে অস্থি মজ্জা ও রক্তে জমা হয়ে স্বাভাবিক রক্তকণিকা উৎপাদন ব্যাহত করে। 

রক্ত ও এর অস্বাভাবিক অবস্থা: 

- রক্ত হলো প্রাণীদেহের একটি লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, লবণাক্ত এবং সামান্য ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 

রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা: 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে (৫০,০০০-১,০০০,০০০) একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৪। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

৫। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

৬। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৭। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।