বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রোগ, রোগের কারণ ও তার প্রতিকার

মোট প্রশ্ন২৪২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রোগ, রোগের কারণ ও তার প্রতিকার

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ২৪২

.
ডিপথেরিয়া রোগের কারণ কোনটি?
  1. ক) Mycobacterium
  2. খ) Bacillus
  3. গ) Corynebacterium
  4. ঘ) Diplococcus
ব্যাখ্যা

Mycobacterium tuberculosis - যক্ষ্মা
Bacillus dysenteri - আমাশয়
Corynebacterium diptheriae - ডিপথেরিয়া
Diplococcus pneumoniae - নিউমোনিয়া

.
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত রোগ নয় কোনটি?
  1. হাম
  2. যক্ষ্মা
  3. ডিপথেরিয়া
  4. সিফিলিস
ব্যাখ্যা

ভাইরাসজনিত রোগ:
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: কোভিড-১৯, পোলিও, জন্ডিস, জলাতঙ্ক, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:

- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: কলেরা, যক্ষ্মা, আমাশয়, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, মেনিনজাইটিস, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

.
এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কোন রক্ত কণিকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়? 
  1. প্লাজমা
  2. অনুচক্রিকা
  3. লোহিত কণিকা
  4. শ্বেত কণিকা
ব্যাখ্যা
এইডস: 
- AIDS হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

AIDS এর বিস্তার: 
- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 
যেমন- 
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, 
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, 
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, 
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, 
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, 
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পারপুরা রোগে রক্তের কোন উপাদানের সংখ্যা কমে যায়? 
  1. শ্বেত রক্ত কণিকা 
  2. লোহিত রক্ত কণিকা 
  3. অনুচক্রিকা 
  4. হিমোগ্লোবিন
ব্যাখ্যা

রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন-
অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এই রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

পলিসাইথিমিয়া: 
- দেহে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়াকে পলিসাইথিমিয়া রোগ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
শিশু যখন ৯ মাস বয়সে পৌঁছায়, তখন কোন টিকা দেওয়ার সুপারিশ থাকে?
  1. Diphtheria and Tetanus Vaccine
  2. BCG Vaccine
  3. Measles Vaccine
  4. Oral Polio Vaccine
ব্যাখ্যা

• ৯ মাস বয়সে শিশুকে সাধারণত Measles Vaccine (গ) দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এটি শিশুদের ক measles রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়, যা খুব সংক্রামক এবং জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। Diphtheria, Tetanus, এবং Pertussis এর জন্য শিশুকে আগেই DTP টিকা দেওয়া হয়, আর BCG টিকা জন্মের সময় দেওয়া হয় যা যক্ষ্মা থেকে সুরক্ষা দেয়। Oral Polio Vaccine বিভিন্ন ডোজে জন্মের পর থেকে প্রদান করা হয়, তবে ৯ মাস বয়সে মূল লক্ষ্য থাকে measles প্রতিরোধ। তাই ৯ মাস বয়সে শিশুর টিকাকরণে Measles Vaccine প্রধান এবং অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. জন্ডিস
  2. ডায়রিয়া
  3. টাইফয়েড
  4. পোলিও
ব্যাখ্যা

- ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।
- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।
- ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ:
১। লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড),
২। গ্লুকোজ,
৩। পটাশিয়াম ক্লোরাইড,
৪। সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট।

উৎস: ১। জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট।

.
নিচের কোনটি খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ?
  1. হেপাটাইটিস বি
  2. এইডস
  3. হেপাটাইটিস এ
  4. সিফিলিস
ব্যাখ্যা
• বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ:
যক্ষ্মা (TB),করোনা ভাইরাস (COVID-19),ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu),হাম (Measles),হুপিং কাশি (Whooping Cough/Pertussis)

• খাদ্য ও পানির মাধ্যমে সংক্রমণ:
- হেপাটাইটিস এ,
- হেপাটাইটিস ই,
- কলেরা,
- টাইফয়েড,
- ডায়রিয়া ।

• সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণ:
- সিফিলিস, গনোরিয়া (যৌন সংক্রমিত রোগ - STDs)
- জন্ডিস (Hepatitis B, C)
- চিকেনপক্স (Varicella)
- স্কেবিস (Scabies - চর্মরোগ)

• প্রাণী বা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে সংক্রমণ:
- ম্যালেরিয়া (Anopheles মশা)
- ডেঙ্গু (Aedes মশা)
- জিকা ভাইরাস (Zika - Aedes মশা)
- রেবিস (Rabies - কুকুর কামড়)

• রক্ত ও শরীরের তরলের মাধ্যমে সংক্রমণ:
- এইচআইভি/এইডস (HIV/AIDS)
- হেপাটাইটিস বি, সি (Hepatitis B, C)

উৎস: WHO website.
.
ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য কোন মশা দায়ী?
  1. স্যান্ড ফ্লাই
  2. অ্যানোফিলিস
  3. কিউলেক্স
  4. এডিস
ব্যাখ্যা

• ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য প্রধানভাবে অ্যানোফিলিস মশা দায়ী। এটি একটি প্রজাতির মশা যা ম্যালেরিয়ার পারাসাইট Plasmodium বহন করে এবং মানুষকে কামড় দিয়ে সংক্রমণ ছড়ায়। অ্যানোফিলিস মশা সাধারণত সন্ধ্যা ও রাতের দিকে সক্রিয় থাকে এবং পরিষ্কার জলাশয় বা পুকুরে ডিম দেয়। কামড়ের সময়, এই মশা শরীরে থাকা Plasmodium স্পোরোজয়াইট রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করায়, যা পরবর্তীতে লিভার ও রক্তকোষে আক্রমণ চালায়। অন্য মশা প্রজাতি যেমন কিউলেক্স, এডিস বা স্যান্ড ফ্লাই বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে, কিন্তু ম্যালেরিয়ার জন্য অ্যানোফিলিসই প্রধান বাহক। তাই ম্যালেরিয়ার নিয়ন্ত্রণে অ্যানোফিলিস মশার বৃদ্ধির স্থান ও কামড় প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, 
- ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহী মশার প্রজাতি হলো- এডিস। 
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা- কিউলেক্স। 
- কালাজ্বরের জীবাণুবাহী মশা- স্যান্ড ফ্লাই। 
- Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া এডিস এলবোপিকটাস মশার কামরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

.
'প্লেগ' সৃষ্টিকারী অনুজীব কোনটি?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. ছত্রাক
  4. অ্যামিবা
ব্যাখ্যা
• প্লেগ (Plague) :
- এটি একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি, যা Yersinia pestis নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।
- এটি প্রধানত ইঁদুরের মত প্রাণীর দেহে থাকা ফ্লি (প্যারাসাইট) মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসে এটি মহামারির রূপ নিয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছিল

• ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:

- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০.
জন্ডিসের প্রধান কারণ হিসেবে কোন ভাইরাসকে চিহ্নিত করা হয়?
  1. র‍্যাবিস 
  2. ফ্ল্যাভি 
  3. হেপাটাইটিস-বি
  4. অ্যাডিনো 
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis-B) ভাইরাস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা জন্ডিসের অন্যতম প্রধান কারণ। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো (A, B, C, D, E) বিশ্বব্যাপী জন্ডিস রোগের প্রধান উৎস। 

ভাইরাস ও তার প্রভাব: 
- ভাইরাস প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- কিছু ভাইরাস মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব, এমনকি অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যদিও স্বল্প পরিসরে ভাইরাস কিছু উপকারও করে, তবে অপকারের পরিমাণই বেশি। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
- ভাইরাস বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের নানা রকমের রোগের কারণ। 
- নিচে কিছু ভাইরাসজনিত রোগ, পোষকের নাম ও ভাইরাসের নাম উল্লেখ করা হলো-  


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
তামাকে সর্বাপেক্ষা বিষাক্ত বস্তুর নাম কি?
  1. সায়ানইড
  2. নিকোটিন
  3. আয়োডিন
  4. কার্বাইড
ব্যাখ্যা
ধুমপান: 
- ধুমপান হচ্ছে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ প্রক্রিয়া। 
- ধুমপায়ী যে অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভূত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয় ধুমপান বলে। 
- অপরদিকে ধুমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাকে নিষ্ক্রিয় ধুমপান বলে। 
- ধুমপানে সৃষ্ট ধোয়াতে প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে। 
- তামাকের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো হলো নিকোটিন, টার ও কার্বন মনো-অক্সাইড। 

ধুমপানের প্রভাব: 
১। সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে; কার্বন মনোক্সাইড শ্বাসনালীতে ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে। 
২। ধুমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আয়তন বেড়ে যায়। 
৩। ধোয়ার প্রভাবে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে এ অবস্থাকে এমফাইসিমা বলে। 
৪। কার্বন মনোক্সাইড এর বৃদ্ধি ঘটে এবং রক্তের O2 পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে। ধমনি গাত্রে কোলেস্টেরল জমতে সাহায্য করে। এতে উচ্চ রক্তচাপ হয়। 
৫। ধুমপান এর ফলে গলবিল ও অন্ননালীতে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। মুখ, গলা ও খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ধুমপায়ীদের অধুমপায়ীর চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি। 
৬। ধুমপায়ী মহিলাদের বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 
৭। ধুমপান পরিবেশ দূষণ ঘটায় এবং অধুমপায়ীদের শ্বাস গ্রহণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
সাম্প্রতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে কোন রোগ বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হবে?
  1. ক) এইডস
  2. খ) এইডিস মশা দ্বারা আক্রান্ত জ্বর
  3. গ) স্ট্রোক ও করোনারি ধমনির রোগ
  4. ঘ) ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগ
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে স্ট্রোক ও করোনারি ধমনির রোগ বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হবে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
ভিটামিন A-এর অভাবে কোন রোগ হতে পারে? 
  1. স্কার্ভি 
  2. রিকেটস 
  3. জেরোফথ্যালমিয়া 
  4. অ্যানিমিয়া 
ব্যাখ্যা

ভিটামিন A: 
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃৎ ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি, যেমন- লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন- আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A রয়েছে। 

ভিটামিন A-এর কাজ: 
- ভিটামিন A যেসব কাজ করে সেগুলো হলো- 
১. দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে। 
২. দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন- ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে। 
৩. হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে। 
৪. দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। 
৫. দেহে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 

অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার: 
- ভিটামিন A-এর অভাবে জেরোফথ্যালমিয়া রোগ হয়। 
- শুরুতে রাতকানা হিসেবে দেখা দিলেও এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে। এই রোগ হলে আক্রান্ত মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 
- ভিটামিন A-এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, প্রস্রাবের সমস্যা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। 
- ভিটামিন A-এর অভাবে ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে। 
- অতিরিক্ত ভিটামিন A গ্রহণ করলেও তা ক্ষতিকারক হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪.
কোন অবস্থার কারণে জন্ডিস হয়?
  1. দেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি 
  2. রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া
  3. রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া
  4. রক্তে বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রা
ব্যাখ্যা

জন্ডিস হলো একটি শারীরিক অবস্থা, যা রক্তে বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রার কারণে হয়।
-  বিলিরুবিন হলো লাল রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার পর উৎপন্ন একটি হলুদ বর্জ্য পদার্থ।
- সাধারণত, যকৃত (liver) এই বিলিরুবিনকে প্রক্রিয়াজাত করে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- যখন যকৃত সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না বা বিলিরুবিন অতিরিক্ত পরিমাণে তৈরি হয়, তখন এটি রক্তে জমা হতে থাকে, যার ফলস্বরূপ ত্বক, চোখ ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়।

বিলিরুবিন:
- বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায় এবং এটি জমা থাকে প্লীহাতে।
- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যা রক্তে উপস্থিত লাল রক্তকণিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়।
- বিলিরুবিন হলো যকৃতে তৈরি হওয়া পাচক তরল পদার্থ অর্থাৎ পিত্তরস বা বাইলের (bile) একটি উপাদান, যা পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে।
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া।
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কণিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য-
- রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া: এই অবস্থাকে লিউকোপেনিয়া বলা হয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়, কিন্তু জন্ডিসের কারণ নয়।
-  রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া: এই অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা। এটি একটি বিপাকীয় সমস্যা, জন্ডিসের সাথে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
- দেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি: এই অবস্থাকে পলিসাইথেমিয়া বলা হয়। এটি রক্তকে অতিরিক্ত ঘন করে তোলে এবং রক্ত জমাট বাঁধাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এর সাথেও জন্ডিসের কোনো সম্পর্ক নেই।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

১৫.
টাইফইয়েড রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কোনটি?
  1. Salmonella typhosa
  2. Bacillus dysenteriae
  3. Clostridium tetani
  4. Vibrio cholerae
ব্যাখ্যা
• টাইফইয়েড রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে Salmonella typhosa.

• কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- ডিপথেরিয়া,
- গণোরিয়া,
- টাইফয়েড,
- জ্বর,
- কুষ্ঠ,
- টিটেনাস,
- নিউমোনিয়া,
- কলেরা ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা: 
- ধ্নুষ্টংকার রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani.
- আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Bacillus dysenteriae.
- কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Vibrio cholerae.

উৎস:
১. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৬.
Which vitamin deficit is the cause of scurvy?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Vitamin D
  4. Vitamin E
  5. Vitamin K
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড: 
- ভিটামিন সি টক স্বাদ বিশিষ্ট। 
- টাটকা শাকসবজি ও ফলে ভিটামিন সি থাকে। 
- আমলকি, লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, কাঁচা, মরিচ, লেটুস পাতা, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, টমেটো, আনারস, কামরাঙা, বাতাবি লেবু ইত্যাদি ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। 
- শুকনা ফল ও টিনজাত খাদ্যে ভিটামিন সি থাকে না। 

কাজ: 
১। দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে। 
২। ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে। 
৩। ক্ষতস্থান দ্রুত পুনর্গঠন করে। 
৪। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করে। 
৫। আমিষ ও স্নেহ পদার্থ বিপাকে সাহায্য করে। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
- দীর্ঘদিন ধরে ভিটামিন সি -এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, ত্বকে ঘা হয়, ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। 
- দাঁত দুর্বল হয়ে অকালে ঝরে পড়ে। 
- অস্থির গঠন মজবুত হয় না। 
- রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যায় ও সহজে ঠান্ডা লাগে। 
- এছাড়া চুল পড়ে ও অরুচি হয়। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন 'এ' এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়। 
- ভিটামিন 'কে' এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। 
- ভিটামিন 'ই' এর অভাব থেকে পেশির দুর্বলতা, অসাড়-ভাব বা চলাফেরায় সমস্যা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭.
ভাইরাসজনিত রোগ নয় কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. এইডস
  3. নিউমোনিয়া
  4. চোখ ওঠা
ব্যাখ্যা
[নিউমোনিয়া ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং অন্যান্য মাইক্রোঅর্গানিজম দ্বারাও সৃষ্ট হতে পারে। সে হিসেবে অপশনের সবগুলো রোগই ভাইরাসজনিত। তবে যেহেতু নিউমোনিয়া ভাইরাস ছাড়াও অন্যান্য অনুজীবের সংক্রমণে হতে পারে, তাই এই প্রশ্নের বেস্ট অপশন হিসেবে নিউমোনিয়া উত্তর হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। মূল পরীক্ষায় আপনার নিজস্ব বিবেচনায় উত্তর করতে পারেন।]
===========================

ভাইরাস ঘটিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: এইডস, জন্ডিস, কোভিড-১৯, হার্পিস, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, পোলিও, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু জ্বর, ইবোলা ইত্যাদি। 

ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ট ইত্যাদি। 

• চোখ ওঠা রোগকে বলে কনজাংটিভাইটিস। চোখের কনজাংটিভা নামক পর্দার প্রদাহই চোখ ওঠা রোগ। এ রোগটি মূলত ভাইরাসজনিত এবং ছোঁয়াচে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের উদ্ভিদবিজ্ঞান বই [লিঙ্ক]
১৮.
AIDS রোগ প্রথম কোন দেশে চিহ্নিত হয়?
  1. আমেরিকা
  2. ব্রাজিল
  3. চীন
  4. জাপান
ব্যাখ্যা

• এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। 

- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯.
হার্ট অ্যাটাকের কারণে কোন অঙ্গ প্রধানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়? 
  1. কিডনি
  2. ফুসফুস
  3. পাকস্থলী
  4. হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা
হার্ট অ্যাটাক: 
- যখন কারও হৃদযন্ত্রের কোনো অংশে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা বাধাগ্রস্ত হয়, তখন হৃৎপিণ্ডের কোষ কিংবা হৃৎপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মায়োকারডিয়াল ইনফ্রাকশন, করোনারি থ্রোমবসিস ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হয়, যেগুলোকে একনামে হার্ট অ্যাটাক বলা হয়। 
- বাংলাদেশে হৃদরোগ, বিশেষ করে করোনরি (coronary) হৃদরোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। হৃৎপিণ্ড রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন এবং খাবারের সারবস্তু অর্থাৎ পুষ্টিকর পদার্থ রক্তনালির মধ্য দিয়ে দেহের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়। নিজের কাজ সঠিকভাবে করার জন্য অর্থাৎ তার হৃৎপেশির অক্সিজেন এবং পুষ্টি অর্জনের জন্য হৃৎপিণ্ডের তিনটি প্রধান রক্তনালি আছে। এগুলোর মধ্যে অনেক সময় চর্বি জমে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ফলে প্রাণঘাতী রোগ হার্ট অ্যাটাক হয়। 
- বর্তমান সময়ে হার্ট অ্যাটাকে শুধু 40-60 বছর বয়সি লোকেরাই আক্রান্ত হচ্ছে না, অনেক সময়ে তরুণরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। 
- এ রোগের সাথে দেহের ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। 
- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যেমন অধিক তেলযুক্ত খাবার (বিরিয়ানি, তেহারি ইত্যাদি), ফাস্টফুড (বার্গার, বিফ বা চিকেন প্যাটিস ইত্যাদি) খাওয়া, অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক পরিশ্রম না করার ফলে এই রোগ দেখা যায়। 
- এ ছাড়াও সব সময় হতাশা, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও বিমর্ষ থাকলে যেকোনো বয়সে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

রোগের লক্ষণসমূহ: 
- হার্ট অ্যাটাক হলে বুকে অসহনীয় ব্যথা অনুভূত হয়। বিশেষ করে বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয়, যা প্রাথমিকভাবে অ্যান্টাসিড ঔষধ খেলেও কমে না। ব্যথা বাম দিকে বা সারা বুকে ছড়িয়ে যেতে পারে।
- ব্যথা অনেক সময় গলা এবং বাম হাতে ছড়িয়ে যায়। 
- রোগী প্রচণ্ডভাবে ঘামতে থাকে এবং বুকে ভারি চাপ অনুভব করছে বলে মত প্রকাশ করে। 
- রোগীর যদি আগে থেকে ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে তার বুকে কোনো ব্যথা ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই রোগী কিছু বুঝে ওঠার আগেই সর্বনাশ হয়ে যায়। এজন্য ডায়াবেটিস রোগী কোনো অসুবিধা বোধ না করলেও নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চেক-আপ করাতে হবে। 

প্রতিকার: 
- এমন অবস্থা দেখা দিলে অবহেলা না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইসিজি করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার। 
- করোনারি হৃদরোগ এক মারাত্মক হৃদরোগ। এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার, যাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেমন: ধূমপান না করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা বা হাঁটা, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা, কাঁচা ফল ও শাকসবজি বেশি বেশি খাওয়া। 
- চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়া, ভাজা খাবার, মশলাযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড না খাওয়া ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০.
ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণ কী? 
  1. রক্তে অক্সিজেনের অভাব 
  2. ভিটামিনের ঘাটতি
  3. ইনসুলিনের অভাব 
  4. অতিরিক্ত পানি পান 
ব্যাখ্যা

- ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণ হচ্ছে- ইনসুলিনের অভাব। 

ডায়াবেটিস রোগ: 

- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন হরমোন নির্গত হয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না, যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১.
কোনটি পোলিও রোগের টিকা?
  1. বিসিজি
  2. এমএমআর
  3. ডিপিটি
  4. ওপিভি
ব্যাখ্যা
• পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি।

• ওপিভি:
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন এবং ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- পোলিও একটি সংক্রামক রোগ।
- পোলিও ভাইরাস একটি আরএনএ এন্টারো ভাইরাস।
- অন্যান্য ভাইরাসের মত এরও কোনো বিপাকীয় এনজাইম নেই।
- এটি দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা দেহে প্রবেশ করে।
- বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত হয় ২০০৬ সালে।

• অন্যান্য অপশনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা:
- যক্ষার টিকা - বিসিজি।
- হাম রোগের টিকা - এমএমআর ভ্যাকসিন।
- ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকা - ডিপিটি।

উৎস:

১. ব্রিটানিকা।
২. প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩. WHO ওয়েবসাইট।
২২.
যকৃতের রোগ কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা

• যকৃতের রোগ হচ্ছে - জন্ডিস। 

• জন্ডিস:
- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে।
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৩.
মানবদেহে কোন ভাইরাস 'গুটিবসন্ত' রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ভেরিওলা ভাইরাস
  2. র‍্যাবিস ভাইরাস
  3. অ্যাডিনো ভাইরাস
  4. ফ্ল্যাভি ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে "ভেরিওলা ভাইরাস" ভাইরাস 'গুটিবসন্ত' রোগ সৃষ্টি করে। 

- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে, তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 

- ভাইরাস নানা রকম প্রাণীর মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে, ফলে প্রাণীর অকাল মৃত্যু সংঘটিত হয়। 

২। প্রাণীর ন্যায় উদ্ভিদের প্রায় ৩০০ ধরনের রোগ ভাইরাস দিয়ে সংঘটিত হয়। 
- এতে ফসলের উৎপাদন বিপুল পরিমাণে হ্রাস পায়। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 

৩। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস: মানুষের উপকারি কিছু ব্যাকটেরিয়াকে ফায ভাইরাস ধ্বংস করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
কলেরা রোগের মূল কারণ কী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ফাঙ্গাস
  4. প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
• কলেরা (Cholera) একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ, যার প্রধান লক্ষণ হলো অতিরিক্ত ডায়রিয়া এবং পানি শূন্যতা (dehydration)।

- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholerae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ- 
- হঠাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া। 
- বমি
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়।

প্রতিকারের উপায়- 
- বিশুদ্ধ পানি পান করা। 
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- ভ্যাকসিন (Oral Cholera Vaccine – OCV) গ্রহণ। 
- ORS (Oral Rehydration Salts) দ্রুত প্রয়োগ। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- World Health Organization (WHO).
২৫.
হেপাটাইটিস 'বি' ভাইরাস শরীরের কোথায় আক্রমণ করে?
  1. যকৃৎ
  2. হৃদপিণ্ড
  3. অগ্ন্যাশয়
  4. ফুসফুস
ব্যাখ্যা
• হেপাটাইটিস:
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের (এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে।
- হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কময়ে দিতে শুরু করে।
- হেপাটাইটিসের ভাইরাসগুলোর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
- প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিৎসা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

উৎস: NIH ওয়েবসাইট।
২৬.
মানবদেহে হিমোগ্লোবিনের অভাবজনিত রোগ কোনটি? 
  1. স্কার্ভি
  2. বেরিবেরি
  3. রক্তশূন্যতা
  4. মেরাসমাস
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণও খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- খনিজ পদার্থ প্রধানত কোষ গঠনে সাহায্য করে। 
- প্রাণীরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে খনিজ পদার্থ পায়। 
- লৌহ (Fe) রক্তের একটি উপাদান যা খনিজ পদার্থ হিসেবে রক্তে থাকে। 
- প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg। 
- যকৃৎ, অস্থিমজ্জা, প্লীহা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে। 
- লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি। আর প্রাণিজ উৎস হচ্ছে মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। 
- লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা। 
- আর হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়। 

রক্তশূন্যতা রোগের কিছু লক্ষণ হলো: 
- চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, 
- হাত-পা ফোলা, 
- দুর্বলতা, 
- মাথা ঘোরা, 
- বুক ধরফড় করা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৭.
প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে কোন রোগ হতে পারে?
  1. অস্টিওপরোসিস
  2. রিকেটস
  3. অ্যানিমিয়া
  4. স্কার্ভি
ব্যাখ্যা

প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির ফলে অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়, যা অস্টিওপরোসিস (Osteoporosis) নামে পরিচিত।

ক্যালসিয়াম খনিজ উপাদান:
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম।
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে।
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধকপি এবং ফল।
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে।
- এর ঘাটতির ফলে হাড়ে মিনারেলের পরিমাণ কমে যায় এবং অস্টিওপরোসিস দেখা দেয়।

অস্টিওপরোসিস (Osteoporosis): 
- দীর্ঘমেয়াদী ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন D এর অভাবের কারণে হাড়ের ঘনত্ব (Bone Density) কমে যায় এবং হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- এর ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- এটি প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়।

অন্যান্য অপশন:
-  রিকেটস: এটি মূলত শিশুদের ভিটামিন D এবং ক্যালসিয়াম এর অভাবজনিত রোগ।
- অ্যানিমিয়া: এটি হলো রক্তাল্পতা, যা প্রধানত লোহা (Iron) বা ভিটামিন B12 এর অভাবে হয়।
- স্কার্ভি: এটি হলো ভিটামিন C এর অভাবজনিত রোগ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

২৮.
What disease is caused by lack of insulin?
  1. Hypothyroidism
  2. Diabetes
  3. Osteoporosis
  4. Hypertension
  5. Cushing's syndrome
ব্যাখ্যা
• ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের ____________ ধ্বংস হয়ে গেলে।
  1. এক-পঞ্চমাংশ
  2. এক-চতুর্থাংশ 
  3. এক-তৃতীয়াংশ
  4. অর্ধেক 
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০.
নিম্নলিখিত রোগগুলির মধ্যে কোনটি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্টি হয়?
  1. হাম
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা 
  3. কলেরা
  4. সোয়াইন ফ্লু
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি। 

• ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাসজনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাসজনিত রোগের নাম দেওয়া হলো- জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য যে, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও বিভিন্ন অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
প্যাপিলোমা ভাইরাসের E6 ও E7 জিন কী কাজ করে?
  1. রক্তচাপ কমায়
  2. অ্যান্টিবডি তৈরি করে
  3. কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে 
  4. নিয়ন্ত্রক প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে
ব্যাখ্যা
অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন: 
- টিউমার, ক্যান্সার এগুলো অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনের ফল। 
- মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। 
- কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমার সৃষ্টি হয় এবং প্রাণঘাতী টিউমারকে ক্যান্সার বলে। 
- ক্যান্সার কোষ এই নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফল। 
- গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু, রাসায়নিক পদার্থ কিংবা তেজস্ক্রিয়তা ক্যান্সার কোষ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। 
- সহস্রাধিক জিনকে ক্যান্সার কোষ তৈরিতে সহায়ক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। 
উদাহরণ- হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের E6 এবং E7 নামের দুটি জিন এমন কিছু প্রোটিন সৃষ্টি করে, যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক প্রোটিন অণুসমূহকে অণুগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে বা স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় জরায়ুমুখের টিউমার। 
- অনেক সময় এ দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিন অণুগুলোর কাজ বন্ধ করে দেয়, ফলে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার কোষ, কিংবা ক্যান্সার। 
- অনেক ধরনের ক্যান্সার রয়েছে এবং সেগুলো সবই কমবেশি মারাত্মক রোগ। 
যেমন- লিভার, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, স্তন, ত্বক, কোলন এবং জরায়ু, অর্থাৎ দেহের প্রায় সকল অঙ্গেই ক্যান্সার হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩২.
পোলিও তে অধিক আক্রান্ত হয়-
  1. নারী
  2. শিশু
  3. বৃদ্ধ
  4. কিশোরী
ব্যাখ্যা
• পোলিও:
- পোলিওমাইটিলিজ' এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা 'পোলিও' নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন এবং ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের পোলিও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- পোলিও ভাইরাস আন্ত্রিক ভাইরাস দলেরই অন্তর্গত, কারণ এটি শরীরের অন্ত্রপথেই দেহে প্রবেশ করে থাকে।
- দূষিত খাদ্য ও পানির সাথে প্রবেশ করার পর পোলিও ভাইরাস রক্তকোষের মধ্যে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে রক্তে সংক্রমণ ঘটায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে কী বলা হয়?
  1. পারপুরা 
  2. পলিসাইথিমিয়া 
  3. লিউকোসাইটোসিস 
  4. থ্রম্বোসাইটোসিস 
ব্যাখ্যা

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১. পলিসাইথিমিয়া: 
- হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এবং রক্তকোষের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া। 

২. অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা: 
- হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩. পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে ত্বকের নিচে রক্তপাত হয়ে এ অবস্থা হতে পারে। এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪. লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কোষের সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যায়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫. থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালির রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থম্বোসিস এবং গুরু মস্তিষ্কের রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬. লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কোষের সংখ্যা সেসবের চাইতেও অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। লিউকেমিয়ার বেশ কিছু ধরন রয়েছে যেগুলো অনেকাংশে নিরাময়যোগ্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪.
অ্যানিমিয়া রোগে কোন রক্ত কণিকা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়? 
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

২। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৩। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

৬। পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৫.
কোন রোগটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফল নয়?
  1. গণোরিয়া
  2. জন্ডিস 
  3. টিটেনাস
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে সাধারণত এমন রোগগুলো হয় যা সরাসরি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট। উদাহরণ হিসেবে গণোরিয়া, কলেরা এবং টিটেনাস ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। তবে জন্ডিস সাধারণত ভাইরাসজনিত বা লিভারের সমস্যার কারণে হয়, তাই এটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফল নয়। তাই এই চারটির মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফল নয় জন্ডিস।
 
 • ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ নয় জন্ডিস।
- এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ।

• ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- ডিপথেরিয়া,
- গণোরিয়া,
- টাইফয়েড,
- জ্বর,
- কুষ্ঠ,
- টিটেনাস,
- নিউমোনিয়া,
- কলেরা ইত্যাদি।

• ভাইরাস জনিত রোগ:
- বসন্ত,
- হাম,
- সর্দি,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- জন্ডিস,
- এইডস,
- পোলিও ইত্যাদি।

- উল্লেখ্য, জ্বর সাধারণত শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য সংক্রমণ।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৩৬.
নিচের কোনটি Viral Disease?
  1. Tuberculosis
  2. Whooping cough
  3. Diphtheria
  4. Influenza
ব্যাখ্যা
• Influenza ভাইরাসঘটিত রোগ।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:

- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
Tuberculosis বা যক্ষ্মা, Whooping cough ও Diphtheria ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৭.
OPV ভ্যাকসিন কোন রোগ প্রতিরোধে দেওয়া হয়?
  1. পোলিও
  2. যক্ষ্মা
  3. নিউমোনিয়া
  4. ধনুষ্টংকার
ব্যাখ্যা
• পোলিও রোগের ভ্যাকসিন হিসেবে OPV(Oral Polio Vaccine) দেওয়া হয়।

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষ্মা: BCG
- ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার: DPT
- হাম, রুবেলা: MR ভ্যাকসিন।
- নিউমোনিয়া - PCV
- ধনুষ্টংকার - TT(Tetanus Toxiod)

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩৮.
নিচের কোনটি স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. অ্যজমা
  2. মায়োকার্ডাইটিস
  3. পারকিনসন
  4. উচ্চ রক্তচাপ
ব্যাখ্যা
স্নায়ুরোগ:

• স্নায়ুরোগ হল স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অবস্থা।
• স্নায়ুতন্ত্র শরীরের একটি জটিল নেটওয়ার্ক যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করে।
• স্নায়ু রোগের ফলে বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
- স্নায়ুতে ব্যথা, অসাড়তা, ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া;
- মাংসপেশীর দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত;
- চলাফেরায় অসুবিধা;
- সমন্বয়ের অভাব;
- বক্তৃতা বা গিলে ফেলার সমস্যা;
- মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো;
- সংবেদনশীলতা হ্রাস;
- জ্ঞান হারানো।

• স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন'স ডিজিজ, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।
• হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
• নিউমোনিয়া, অ্যজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।


উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং The American Parkinson Disease Association (APDA)। 
৩৯.
বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ কোন খনিজের অভাবে হয়? 
  1. পটাসিয়াম
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম খনিজ উপাদান: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 

- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এমনকি এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০.
ইনসমনিয়া কোন ধরণের অসুখ?
  1. নিদ্রহীনতা
  2. স্নায়ুরোগ
  3. সেরিব্রাল পলসি
  4. চোখের রোগ
ব্যাখ্যা
- রাতে ঘুম না আসা বা আসলেও বারবার ভেঙ্গে যাওয়াকে বলা হয় ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা রোগ। 
- ইনসোমোনিয়া হচ্ছে একটি নিদ্রাহীনজনিত সমস্যা। 
- ইনসোমনিয়া রোগের উপসর্গ সমূহ হচ্ছে- 
১. ঘুম না আসা, 
২. মাথা ব্যথা করা, 
৩. কাজে মনোনিবেশ করতে না পারা, 
৪. সারাদিন ক্লান্তিতে কাঁটানো, 
৫. মুড সুয়িং ইত্যাদি। 

উৎস: NHS Website [লিঙ্ক]।
৪১.
নিউমোনিয়া রোগের ভাইরাস কোনটি?
  1. অ্যাডিনো
  2. ইবোলা
  3. ভেরিওলা
  4. র‍্যাবিস
ব্যাখ্যা
- নিউমোনিয়া রোগের ভাইরাস হচ্ছে অ্যাডিনো ভাইরাস। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম নিম্নে দেওয়া হলো- 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
এইডস (AIDS) রোগ প্রথম কোথায় চিহ্নিত হয়? 
  1. আমেরিকায়
  2. আফ্রিকায়
  3. বেলজিয়ামে
  4. লন্ডনে
ব্যাখ্যা
এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। 

- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩.
প্যানক্রিয়াস কোন হরমোন নির্গত করে যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়? 
  1. থাইরক্সিন 
  2. গ্লুকাগন 
  3. ইনসুলিন 
  4. অ্যাড্রিনালিন 
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না যার কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪.
যক্ষ্মা রোগ সাধারণত কোন পথে ছড়ায়? 
  1. বায়ুর মাধ্যমে
  2. পানির মাধ্যমে
  3. খাদ্যের মাধ্যমে
  4. মশার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা রোগ: 
- যক্ষ্মার জীবাণু কেবল ফুসফুসকে আক্রান্ত করে তা নয়, এটি মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি, হাড়সহ দেহের যেকোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সংক্রমণ হতে পারে। 
- তবে ফুসফুসে যক্ষ্মা সংক্রমের হার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সরকারি সচেতনতামূলক প্রচারণায় সেটাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। 
- আমাদের এমন কোন অর্গান (অঙ্গ) নাই, যেখানে যক্ষ্মা হয়না। কারণ যক্ষ্মা হচ্ছে একটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি যেটা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে। আর এই জীবাণু যেকোন অঙ্গেই সংক্রমিত হতে পারে। 
- দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ জন্মগতভাবেই যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বহন করে। তবে শরীরে জীবাণু থাকা মানেই এই নয় যে ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত। 
- তবে জীবাণুর ধারক নিজে আক্রান্ত না হলেও তার মাধ্যমে অন্যের শরীরে যক্ষ্মা ছড়াতে পারে। আর সেটা যেকোন অঙ্গেই হতে পারে। 
- এই জীবাণু থেকে তাদেরই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। 
- এছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের এই জীবাণুতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। 
- এছাড়া পরিবেশ দূষণ, দরিদ্রতা, মাদকের আসক্তি, অপুষ্টি, যক্ষ্মার হার বাড়ার অন্যতম কারণ। 

যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ: 
- ফুসফুসে যক্ষ্মার জীবাণু সংক্রমিত হলে টানা কয়েক সপ্তাহ কাশি, কফের সাথে রক্ত যাওয়ার মতো সাধারণ কিছু লক্ষণের ব্যাপারে কম-বেশি প্রায় সবারই জানা।
- আরোও কয়েকটি লক্ষণ হচ্ছে- 
- শরীরের যে অংশে যক্ষ্মার জীবাণু সংক্রমিত হবে সেই অংশটি ফুলে উঠবে। যেমন গলার গ্লান্ড আক্রান্ত হলে গলা ফুলবে, মেরুদণ্ডে আক্রান্ত হলে পুরো মেরুদণ্ড ফুলে উঠবে।
- ফোলা অংশটি খুব শক্ত বা একদম পানি পানি হবে না। সেমি সলিড হবে। ফোলার আকার বেশি হলে ব্যথাও হতে পারে।
- লিভারে যক্ষ্মা হলে পেটে পানি চলে আসে, তাই পেটও অস্বাভাবিক ফুলে যায়।
- মস্তিষ্কে সংক্রমিত হলে সেখানেও পানির মাত্রা বেড়ে যায়। অর্থাৎ মানুষের মস্তিষ্ক যে ইডিমা বা পানির মধ্যে থাকে, সেটার পরিমাণ বেড়ে যায়।
- এছাড়া চামড়ায় বা অন্য যেখানেই হোক না কেন সেই অংশটা ফুলে ওঠে।
- এছাড়া ক্ষুধামন্দা, হঠাৎ শরীরের ওজন কমে যাওয়া, জ্বর জ্বর অনুভব হওয়া, অনেক ঘাম হওয়া, ইত্যাদি যক্ষ্মার কিছু সাধারণ লক্ষণ। 

যক্ষ্মা রোগ হলে করণীয়: 
- উপরের লক্ষণগুলোর দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 
- সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে যক্ষ্মা পুরোপুরি সেরে যায়, তাই দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দেন চিকিৎসকরা। 
- যক্ষ্মা দীর্ঘমেয়াদি রোগ হওয়ায় এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ খেতে হয়। যেটা ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- এমন অবস্থায় যক্ষ্মারোগীদের ধৈর্যের সাথে নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী পুরো মেয়াদে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। 
- তবে অনেক সময় দুই থেকে তিন মাস ওষুধ খাওয়ার পর রোগী খুব ভালো অনুভব করে। তার রোগের সব লক্ষণ চলে যায়। এমন অবস্থায় অনেকেই সেরে উঠেছেন ভেবে ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেন। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে আবারও যক্ষ্মা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, এবং তার ক্ষেত্রে আগের ওষুধ কোন কাজে আসেনা। 
- সঠিক সময় চিকিৎসা না নিলে এই জীবাণু শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে এবং চিকিৎসা না নেয়ার কারণে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে জীবাণুটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। 
- যক্ষ্মা নির্ণয়ের জন্য সাধারণত এমটি টেস্ট, স্পুটাম টেস্ট, স্মিয়ার টেস্ট, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, কালচার টেস্ট, এফএনএসি এবং বর্তমান যুগের সবচেয়ে আধুনিক জিন এক্সপার্ট পরীক্ষা। 

যক্ষ্মা প্রতিরোধের উপায়: 
- যক্ষ্মার জীবাণু ছড়ানো প্রতিরোধে কিছু বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ- 
• হাঁচি-কাশির সময় মুখে রুমাল দেওয়া , না হলে অন্তত হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বা সবার থেকে দূরে গিয়ে কাশি দেয়া।
• যেখানে সেখানে থুতু-কফ না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে ভালভাবে জায়গাটি পরিষ্কার করা বা মাটি চাপা দেয়া।
• কারও মুখের সামনে গিয়ে কথা না বলা অথবা যক্ষ্মা জীবাণুমুক্ত রোগীর সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলা।
• যক্ষ্মা রোগীর আক্রান্ত স্থান, সুস্থ ব্যক্তির ক্ষত স্থানের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা।
• পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
• রোগী জীবাণুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
• থ্রিএইচটি প্রতিরোধক থেরাপির মাধ্যমে এই জীবাণু থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীকে রিফাপেন্টিং নামে একটি ওষুধ প্রতিমাসে একবার করে তিন মাস খেতে হয়। 

উৎস: বিবিসি বাংলা নিউজ [লিঙ্ক]।
৪৫.
কোনটির অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি রোগ হয়?
  1. ট্যানিক এসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. এসকরবিক এসিড
  4. ম্যালিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি: 
- ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিডের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। 
- ভিটামিন সি মানুষকে রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতস্থান গুকাতে সাহায্য করে। 
- আমলকি, কমলালেবু, লেবু আনারস প্রভৃতি ভিটামিন সি এর উৎস। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়। 
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন কে এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬.
অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোন রোগে?
  1. ম্যালেরিয়া
  2. হিমোফিলিয়া
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

থ্যালাসেমিয়া:
- থ্যালাসেমিয়া একটি রক্তজনিত জিনগত রোগ।
- এটি উত্তরাধিকারসূত্রে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।
- রোগীর শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে ত্রুটি দেখা যায়।
- হিমোগ্লোবিন অস্বাভাবিক হওয়ায় লোহিত রক্তকণিকা সহজে ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা হয়।
- অস্থিমজ্জা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে RBC তৈরি করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাড়ের গঠন বিকৃত হতে পারে
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ -
ম্যালেরিয়া: Plasmodium পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ।
হিমোফিলিয়া: রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৪৭.
এইডস রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটি কোনটি? 
  1. HPV
  2. HSV
  3. HBV
  4. HIV
ব্যাখ্যা
এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 

- এইডস এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮.
নিম্নের কোনটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ?
  1. যক্ষ্মা
  2. পোলিও
  3. ম্যালেরিয়া
  4. কলেরা 
ব্যাখ্যা

◉ পোলিও (Poliomyelitis) একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা Poliovirus দ্বারা সংক্রমিত হয়। এটি মূলত স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী পঙ্গুত্ব সৃষ্টি করতে পারে।

ভাইরাসজনিত রোগ:
- এইডস,
- পোলিও, 
- ডেঙ্গু,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- পীতজ্বর,
- হাম,
- রুবেলা,
- মাম্পস,
- জন্ডিস,
- হার্পিস ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- আমাশয়,
- কলেরা,
- কুষ্ঠ,
- যক্ষ্মা,
- ধনুষ্টংকার,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিং কাশি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, ম্যালেরিয়া — Plasmodium প্রজাতির প্রোটোজোয়া দ্বারা সৃষ্ট, যা মশার মাধ্যমে ছড়ায়।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

৪৯.
What is the specific name of the virus that causes dengue fever?
  1. Filovirus
  2. Togavirus
  3. Bunyavirus
  4. Flavivirus
  5. Orthomyxovirus
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস হচ্ছে- ফ্ল্যাভি ভাইরাস। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো - 
 
অপশন আলোচনা:
ক) Filovirus - Ebola virus (Ebola virus disease),
খ) Togavirus - Chikungunya virus (Chikungunya fever),
গ) Bunyavirus - Hantavirus (Hantavirus pulmonary syndrome),
ঘ) Flavivirus - Dengue virus (Dengue fever), Zika virus (Zika fever),
ঙ) Orthomyxovirus - Influenza virus (Influenza, commonly known as flu).

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০.
নিম্নলিখিত ভাইরাসগুলোর মধ্যে কোনটি ফ্ল্যাভিভাইরাস গোত্রভুক্ত?
  1. ইবোলা ভাইরাস
  2. ডেঙ্গু ভাইরাস
  3. এইচআইভি
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
ব্যাখ্যা

• ফ্ল্যাভিভাইরাস গোত্রভুক্ত ভাইরাস হলো ডেঙ্গু ভাইরাস। ফ্ল্যাভিভাইরাস গোত্রের ভাইরাসগুলো সাধারণত RNA ভাইরাস এবং তারা মশা দ্বারা সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাসগুলো মানুষের মধ্যে বিভিন্ন জ্বরজনিত রোগ সৃষ্টি করতে পারে, যেমন ডেঙ্গু, জিকা, হেপাটাইটিস সি এবং ইয়েলো ফিভার। অন্যদিকে, ইবোলা ভাইরাস হলো ফিলোভাইরাস গোত্রের, যা হেমোরাজিক জ্বর সৃষ্টি করে। এইচআইভি হলো রেট্রোভাইরাস গোত্রের, যা মানুষের ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাসের মাধ্যমে এডস সৃষ্টি করে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস হলো অরথোমিক্সোভাইরাস গোত্রের, যা শ্বাসনালীতে সংক্রমণ ঘটায়। সুতরাং, প্রদত্ত অপশন চারটির মধ্যে শুধুমাত্র ডেঙ্গু ভাইরাস ফ্ল্যাভিভাইরাস।
 
ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
- বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 
 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১.
কলেরা রোগের কারণ কী? 
  1. ভাইরাস 
  2. ব্যাকটেরিয়া 
  3. ছত্রাক 
  4. পরজীবী
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২.
ভিটামিন ‘K’ কোন প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. ইনসুলিন
  3. প্রোথ্রম্বিন
  4. অ্যালবুমিন
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন ‘K’ প্রোথ্রম্বিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

• ভিটামিন ‘K’:
- ভিটামিন ‘K’ প্রধানত সবুজ রঙের শাকসবজি ও কিছু তেলজাত খাদ্যে পাওয়া যায়।

• ভিটামিন ‘K’-এর উৎসসমূহ:
- সবুজ রঙের শাকসবজি,
- লেটুস পাতা,
- ফুলকপি,
- বাঁধাকপি,
- ডিমের কুসুম,
- সয়াবিন তেল,
- যকৃত।

• ভিটামিন ‘K’-এর কাজ:
- দেহে প্রোথ্রম্বিন নামক গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে।
- প্রোথ্রম্বিন রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।

• ভিটামিন ‘K’-এর অভাবজনিত সমস্যা:
- যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়।
- পিত্তরস নিঃসরণে সমস্যা হলে ভিটামিন ‘K’-এর শোষণ কমে যায়।
- ভিটামিন ‘K’-এর অভাবে ত্বকের নিচে ও দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- রক্তক্ষরণ বন্ধ করার ব্যবস্থা না নিলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
- এ অবস্থায় অস্ত্রোপচারের সময় রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না, ফলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

৫৩.
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে রক্ত কণিকার কোন উপাদান স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়? 
  1. অনুচক্রিকা 
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা 
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. লোহিত রক্ত কণিকা 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে, এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৫। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৪.
AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি?
  1. ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা
  2. প্রচুর পানি পান করা
  3. ব্যায়াম করা
  4. HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা
ব্যাখ্যা

- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা, কারণ সচেতনতার মাধ্যমে নিরাপদ যৌন অভ্যাস (যেমন-কনডম ব্যবহার), জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় 

এইডস রোগ: 

- এইডস (AIDS) একটি সংক্রামক রোগ যা সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় এই রোগ চিহ্নিত হয়। তখন থেকেই এটি একটি মরণব্যাধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। 
- প্রাকৃতিকভাবে মানুষের শরীরে রোগজীবাণু প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকে, যা ইমিউনিটি হিসেবে পরিচিত। 
-  HIV (Human Immunodeficiency Viruses) ভাইরাসটি AIDS রোগ সৃষ্টি করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। এই HIV ভাইরাস যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন এটি রক্তের T-লিম্ফোসাইট (শ্বেত রক্তকণিকা) আক্রমণ করে, ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়। 
- HIV সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, তবে এই সময়েই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে। 
- এইডস সংক্রমিত হয় প্রধানত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে, তবে মায়ের বুকের দুধ বা রক্ত সঞ্চালন বা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে এটিতে সংক্রমণ হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৫.
যকৃতের রোগ কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা
জন্ডিস: 
- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত। 
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬.
ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স রোগ কোন অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়?
  1. ভাইরাস
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। 
যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া,  টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি। 
- আবার ব্যাকটেরিয়া গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- গরু-মহিষের যক্ষ্মা, হাঁস-মুরগির কলেরা, ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স, গলাফোলা, ইঁদুরের প্লেগ ইত্যাদি। 

ভাইরাস: 
- সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, নিউমোনিয়া, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগ সবই ভাইরাসজনিত রোগ। 
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ, আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ নয় কোনটি?
  1. জ্বর
  2. জন্ডিস
  3. টিটেনাস
  4. গণোরিয়া
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ নয় বসন্ত।
- এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ।

• ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- ডিপথেরিয়া,
- গণোরিয়া,
- টাইফয়েড,
- জ্বর,
- কুষ্ঠ,
- টিটেনাস,
- নিউমোনিয়া,
- কলেরা ইত্যাদি।

• ভাইরাস জনিত রোগ:
- বসন্ত,
- হাম,
- সর্দি,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- জন্ডিস,
- এইডস,
- পোলিও ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫৮.
স্ট্রোক হলে শরীরে সাধারণত কোন প্রভাব দেখা যায়?
  1. উচ্চ রক্তচাপ কমে
  2. হজম সমস্যা
  3. স্নায়বিক কাজ বন্ধ হয়
  4. হাড় দুর্বল হয়
ব্যাখ্যা
• স্ট্রোক (Stroke) হলো একটি মেডিকেল ইমারজেন্সি যেখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা রক্তক্ষরণ হয়।
এতে ঐ অংশের স্নায়ুকোষ অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না, ফলে তা দ্রুত মারা যেতে শুরু করে। ফলে স্নায়ুবিক কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 

শরীরে যে প্রভাব দেখা দেয়- 
- হঠাৎ করে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া। 
- কথা বলায় অসুবিধা। 
- চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস।
- চলাফেরায় ভারসাম্য হারানো। 
- স্মৃতি ও বোধশক্তির সমস্যা। 

অন্যদিকে, 
উচ্চ রক্তচাপ কমে → এটি সঠিক নয়।  বরং স্ট্রোকের সময় রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

হজম সমস্যা → এটি সরাসরি স্ট্রোকের সাথে সম্পর্কিত নয়।

হাড় দুর্বল হয় → স্ট্রোক হাড়ের সমস্যা তৈরি করে না, যদিও দীর্ঘমেয়াদে চলাফেরা না করলে হাড় দুর্বল হতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- WHO: Stroke Facts.
৫৯.
আমাশয় রোগ প্রতিরোধের উপায় কী?
  1. ক) হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করা
  2. খ) বিশুদ্ধ খাবার ও পানি পান করা
  3. গ) মাদকদ্রব্য সেবন পরিহার করা
  4. ঘ) অনিরাপদ যৌনসংসর্গ এড়িয়ে চলা
ব্যাখ্যা

আমাশয় রোগটি ব্যাকটেরিয়া কিংবা পরজীবী উভয় কারণে হতে পারে। দূষিত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
তাই বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ ও বিশুদ্ধ পানি পানের মাধ্যমে আমাশয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬০.
AIDS -এর সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. গর্ভবতী মহিলা এ রোগে আক্রান্ত হলে তার সন্তানের মধ্যে এ রোগ হতে পারে
  2. রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
  3. স্তন পানের মাধ্যমে মহিলার দেহ থেকে শিশুর AIDS হতে পারে
  4. AIDS রোগীর সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
ব্যাখ্যা
এইডস: 

- AIDS হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

AIDS এর বিস্তার: বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যেমন- 
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, 
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, 
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, 
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, 
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, 
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

অর্থাৎ সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায় না। যদিও অধিকাংশ মানুষের এই বিষয়ে ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১.
যক্ষ্মার টিকা কোনটি?
  1. টিটি
  2. বিসিজি
  3. ডিপিটি
  4. ওপিভি
ব্যাখ্যা
- যক্ষ্মার টিকা হলো BCG(Bacillus Calmatte Guerin) । 
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন। 
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। 

অন্যদিকে,
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়। 
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine). 
- হাম রোগের টিকা এমএমআর। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬২.
রাণীক্ষেত রোগ কোন প্রাণীর সাথে সম্পর্কিত?
  1. ছাগল
  2. গরু
  3. মুরগি
  4. হাঁস
  5. সবগুলো
ব্যাখ্যা
রানীক্ষেত রোগ: 
- রানীক্ষেত রোগ (Ranikhet Disease) মুরগির একটি তীব্র সংক্রামক রোগ যা খুবই ছোঁয়াচে। 
- এই রোগ ইংল্যান্ডের নিউক্যাসেলে প্রথম সনাক্ত হয় এবং নিউক্যাসল রোগ নামে পরিচিতি লাভ করে। 
- এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। 
- সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক মুরগির তুলনায় ছানারা এই রোগে বেশি সংবেদনশীল। 
- মুরগির পাশাপাশি টার্কি, কোয়েল, কবুতর, গিনি ফাউল, কাক, তোতা প্রভৃতিও এ রোগে আক্রান্ত হয়। 
- পাখিরা সারা বছরই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে, তবে শীত ও বসন্ত ঋতুতে এ রোগের সংক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। 
- রোগের সংক্রমণ সংক্রমিত পাখি এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। 
- সংক্রামিত পাখির বিষ্ঠা, লালা ইত্যাদির সংস্পর্শে বা খাদ্যের মাধ্যমে এই জীবাণু সুস্থ পাখির দেহে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটে। 

লক্ষণ: 
- রোগের তীব্র পর্যায়ে মোরগ/মুরগি হঠাৎ তীব্র শব্দ করে ও লাফাতে থাকে এবং অবশেষে মারা যায়। এই রোগের মৃত্যুর হার প্রায় ১০০%; 
- তীব্র সংক্রমণে মুরগির ডায়রিয়া, ক্ষুধা হ্রাস, কাশি এবং হাঁচি (নাক দিয়ে স্রাব) শুরু হয়। সংক্রামিত পাখির তন্দ্রাচ্ছন্নতার উপসর্গ দেখা যায় এবং মুখ খুলে দীর্ঘ শ্বাসগ্রহণ করে; 
- তন্দ্রা, ডানা ঝরে পড়া এবং মাঝে মাঝে সবুজাভ ডায়রিয়া দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে সদ্য ভূমিষ্ট ছানাগুলির মৃত্যুর হার প্রায় ৯০-৯৫%; 
- সংক্রমণ মৃদু হলে প্রাপ্তবয়স্ক মুরগির শ্বাসকষ্ট হয়। ডিম উৎপাদন নাটকীয়ভাবে কমে যায়, মুরগির বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়। 

প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ: 
- ছানা এবং প্রাপ্তবয়স্ক মুরগির জন্য কঠোরভাবে টিকা সময়সূচি অনুসরণ করা উচিত; 
- হাঁস-মুরগির ঘর অবশ্যই যথাযথভাবে পরিষ্কার করতে হবে; বাড়ির চত্বর, আবাসন সরঞ্জাম এবং আঙিনা যেখানে পাখি পালন করা হয় সেগুলিকে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে ঘন ঘন জীবাণুমুক্ত করতে হবে; 
- চাষের এলাকায় জৈব-নিরাপত্তা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে এবং বাজার থেকে কেনা নতুন পাখিকে সুস্থ পাখি থেকে আলাদাভাবে রাখতে হবে; 
- আক্রান্ত মৃত পাখি মাটির নিচে চাপা দেওয়া উচিত। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মনে রাখতে হবে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। তাই এই রোগ প্রতিরোধের জন্য যথাযথ টিকাদান অপরিহার্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬৩.
ভিটামিন-এ এর অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. রিকেটস 
  2. বেরিবেরি 
  3. স্কার্ভি 
  4. রাতকানা 
ব্যাখ্যা

ভিটামিন এ: 
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃত ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিজ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি যেমন: লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ রয়েছে। 

ভিটামিন-এ এর কাজ: 
- দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে। 
- দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন: ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে। 
- হাঁড় এবং দাঁতের গঠন ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে। 
- দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। 
- দেহে রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ করে। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন-এ এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে, এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে। এই রোগে আক্রান্ত মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি,গলাব্যাথা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪.
রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যানিমিয়া
  2. থ্যালাসেমিয়া
  3. পলিসাইথিমিয়া
  4. থ্রম্বোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা
রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১. পলিসাইথিমিয়া: 
- হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এবং রক্তকোষের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া। 

২. অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা: 
- হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩. লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কোষের সংখ্যা সেসবের চাইতেও অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 
- লিউকেমিয়ার বেশ কিছু ধরন রয়েছে যেগুলো অনেকাংশে নিরাময়যোগ্য। 

৪. লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কোষের সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যায়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫. থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালির রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং গুরু মস্তিষ্কের রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬. পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে ত্বকের নিচে রক্তপাত হয়ে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭. থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- এ রোগটি মানুষের অটোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের দ্বারা ঘটে। যখন মাতা ও পিতা উভয়ের অটোজোমে এ জিনটি প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে, তখন তাদের সন্তানদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন জিন দুটি একত্রিত হয়ে এই রোগের প্রকাশ ঘটায়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। এ রোগের জন্য রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তস্বল্পতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫.
হিউম্যান প্যাপিলোমা একটি -
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হিউম্যান প্যাপিলোমা (Human papilloma-HPV):
- হিউম্যান প্যাপিলোমা একধরনের ভাইরাস।
- হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস Papovaviridae ফ্যামেলি অন্তর্গত ভাইরাসগুলোর একটি উপগোষ্ঠী যা মানুষকে সংক্রামিত করে।
- এর ফলে আঁচিল এবং টিউমারের পাশাপাশি যৌনাঙ্গের ক্যান্সার হয়।
- বিশেষ করে মহিলাদের জরায়ু ক্যান্সার হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৬৬.
বিখ্যাত ‘আইরিশ দুর্ভিক্ষ’-এর কারণ কী?
  1. ভাইরাস আক্রমণ
  2. শৈবাল আক্রমণ
  3. ছত্রাক আক্রমণ
  4. ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ
ব্যাখ্যা

আইরিশ দুর্ভিক্ষ:
- বিখ্যাত ‘আইরিশ দুর্ভিক্ষ’-এর কারণ ছত্রাক আক্রমণ।

⇒ আয়ারল্যান্ডের ঠান্ডা কিন্তু তুষারমুক্ত পরিবেশ ছিল আলু চাষের জন্য অনুকূল।
- এর স্বাদ অল্প সময়ে এতোটাই জনপ্রিয়তা পায় যে শস্যের পর আলুই আইরিশদের বিকল্প প্রধান খাবার হয়ে ওঠে।
- আয়ারল্যান্ডে আলু প্রবেশের পরপরই ১৫৯০ থেকে ১৮৪৫ সালের মধ্যে তাদের জনসংখ্যা ১০ লাখ থেকে বেড়ে ৮০ লাখে দাঁড়ায়।

⇒ ১৮৪৫ থেকে ১৮৫২ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে সংঘটিত হয় একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।
- এই সময়ে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ অনাহারে মারা যায় এবং প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
- এই দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণ ছিল আলু ফসলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের সংক্রমণ, যা আলু ফসলকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে দেয়।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.

৬৭.
HIV ভাইরাস মূলত কোন কোষ ধ্বংস করে? 
  1. প্লেটলেট
  2. নিউরন
  3. লোহিত রক্ত কণিকা
  4. T4 লিম্ফোসাইট ও ম্যাক্রোফেজ
ব্যাখ্যা

এইডস: 
- AIDS হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

AIDS এর বিস্তার: 
- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
যেমন-
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ,
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার,
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ,
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু,
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা,
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮.
গর্ভবতী মায়ের রক্ত স্বল্পতাকালীন সময় কোন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়? 
  1. জিঙ্ক
  2. ভিটামিন
  3. আয়োডিন
  4. আয়রন ও ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন সমস্যা: 
- প্রতিবছর গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতায় আমাদের দেশে বহু নারীর মৃত্যু হয়। 
- গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা ও সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবে মা ও শিশু উভয়ের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। 
- তাই গর্ভকালীন সমস্যা বিষয়ে সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যাই পারে মা ও শিশুর জীবন বাঁচাতে। 

রক্ত স্বল্পতা: 
- অনেক সময় গর্ভাবস্থায় রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। 
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম মাস থেকে ফলিক এসিড এবং ৩ মাসের পর থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে হবে। 
- আয়রনযুক্ত খাবার যেমন- কচু শাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি খেতে হবে। 
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস এবং কাঁচা ফলমূল খেতে হবে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে কী ঘটে?
  1. লিউকেমিয়া
  2. অ্যানিমিয়া
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. পারপুরা
ব্যাখ্যা
লিউকেমিয়া
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা:


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ-মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান।
৭০.
ইনসুলিন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. অ্যান্টিবডি
  2. ভিটামিন
  3. এনজাইম
  4. হরমোন
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন এক ধরনের হরমোন। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় (ডায়াবেটিস) রোগ হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১.
RNA ভাইরাসঘটিত রোগ নয় কোনটি?
  1. মাম্পস
  2. পীতজ্বর
  3. রুবেলা
  4. প্যাপিলোমা
ব্যাখ্যা
RNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (মানব), পোলিও (মানব), রুবেলা (মানব), পীতজ্বর (মানব), ডেঙ্গু (মানব), Encephalitis (Human), Leukemia (cat), মাম্পস (মানব), Measles (Human), Cold (Human), Newcastle disease (fowl), Rous sarcoma (bird), Rabies (dog), Potato yellow dwarf, Vesicular stomatitis (cattle), Tobacco mosaic, Sugarcane mosaic, fd (Pseudomonas), Cucumber mosaic, f2, fr1, R17 কলিফাজ ইত্যাদি।  

DNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। 
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- হার্পিস সিমপ্লেক্স (মানব), Tipula irridescent, Rabbitpox, Vaccinia (bovine), ভেরিওলা (মানব), Pustular dermatitis (Sheep), এডেনা গ্রুপ, প্যাপিলোমা (মানব), পলিওমা, ΦX174 কলিফাজ, Cauliflower mosaic ও Adenoassociaed ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং ভাইরাসতত্ত্ব পরিচয় (আহমেদ মাতীন)।
৭২.
কোনটির অভাবজনিত কারণে গলগন্ড রোগ হয়?
  1. ভিটামিন ডি
  2. ক্যালসিয়াম
  3. আয়োডিন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
গলগন্ড রোগ:
- গলগন্ড রোগ আয়োডিনের অভাবজনিত কারণে হয়।
- আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং তা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, এর ফলে গলগন্ড সৃষ্টি হয়।
- সাধারণত, যে এলাকাগুলির মাটিতে আয়োডিনের পরিমাণ কম, সেসব এলাকায় এই রোগ বেশি দেখা যায়।
- আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলার অংশে স্ফীতি সৃষ্টি হয়, এটি সরল গলগন্ড নামে পরিচিত।
- গলগন্ডের লক্ষণ হিসেবে আলসেমি, নিদ্রাহীনতা, শুকনো চামড়া, ঠান্ডা সহ্য না করতে পারা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি দেখা দেয়।
- এই রোগ প্রতিরোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ এবং খাবারে আয়োডিন মেশানোর মাধ্যমে গলগন্ডের বিস্তার রোধ করা যেতে পারে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৩.
থ্যালাসেমিয়া রোগে হিমোগ্লোবিন অস্বাভাবিক হওয়ার ফলে কী ঘটে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পায়
  2. লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়
  3. রক্তে প্লেটলেট বৃদ্ধি পায়
  4.  লোহিত রক্তকণিকার আকার পরিবর্তিত হয় না
ব্যাখ্যা

থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- এ রোগটি মানুষের অটোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের দ্বারা ঘটে। 
- যখন মাতা ও পিতা উভয়ের অটোজোমে এ জিনটি প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে, তখন তাদের সন্তানদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন জিন দুটি একত্রিত হয়ে এই রোগের প্রকাশ ঘটায়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তস্বল্পতার হার কমে যায়। এ রোগে আয়রন বা লৌহযুক্ত খাবার খেয়ে বেশি উপকার হয় না বরং রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। 
- নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন ও অন্যান্য চিকিৎসা করালেও অনেক রোগী অল্প বয়সে মারা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪.
রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনটি খাওয়া উচিত নয়?
  1. বেলে মাছ
  2. পালং শাক
  3. খাশির মাংস
  4. মুরগির মাংস
ব্যাখ্যা
- 'রেড মিট' বলতে গরু বা খাসির মাংসকে বুঝায়। 
- রক্তে কোলেস্টেরল-এর পরিমাণ বেড়ে গেলে গরু বা খাসির মাংস খাওয়া উচিত নয়। 
- কারণ রেড মিটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। 
- আর উচ্চ রক্তচাপ থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। 
- রেড মিটে যে কোলেস্টেরল থাকে সেটি বেশি বেড়ে গেলে হার্টের শিরায় জমে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দেয়।

উৎস: বিবিসি। 
৭৫.
লৌহের প্রধান কাজ কী? 
  1. দেহে হরমোন উৎপাদন করা
  2. স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা
  3. দেহে শক্তি উৎপাদন করা
  4. হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য ভিটামিনের মতো খনিজ পদার্থ বা খনিজ লবণও খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- খনিজ পদার্থ প্রধানত কোষ গঠনে সাহায্য করে। 
- প্রাণীরা প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে খনিজ পদার্থ পায়। 

আয়রন (Fe) খনিজ উপাদান: 
- লৌহ (Fe) রক্তের একটি উপাদান যা খনিজ পদার্থ হিসেবে রক্তে থাকে। 
- প্রতি ১০০ ml রক্তে লৌহের পরিমাণ প্রায় ৫০ mg.
- যকৃৎ, অস্থিমজ্জা, প্লীহা এবং লোহিত রক্তকণিকায় এটি সঞ্চিত থাকে। 
- লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে ফুলকপির পাতা, নটেশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম, বজরা ইত্যাদি। আর প্রাণিজ উৎস হচ্ছে মাছ, মাংস, ডিম, যকৃৎ ইত্যাদি। 
- লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সাহায্য করা
- আর হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়। 

রক্তশূন্যতা রোগের কিছু লক্ষণ: 
- চোখ ফ্যাকাসে হওয়া, 
- হাত-পা ফোলা, 
- দুর্বলতা, 
- মাথা ঘোরা, 
- বুক ধরফড় করা ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬.
এইডস হতে পারে কখন?
  1. আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলে
  2. রোগীর সেবা করলে
  3. একই বিছানা ব্যবহার করলে
  4. একই সাথে গোসল করলে
ব্যাখ্যা

- আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলে এইডস হতে পারে।

এইচআইভি এবং এইডস-এর বিস্তার:
এইচআইভি একটি নীরব ঘাতক। এই নীরব ঘাতকের বিরুদ্ধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার আগে এইচআইভি ও এইডস কীভাবে বিস্তার লাভ করে তা জানবার জন্য প্রথমেই জানা প্রয়োজন এই ভাইরাস কীসে থাকে। মানুষের শরীরে উৎপন্ন বিভিন্ন তরল পদার্থ যেমন- রক্ত, বীর্য, যৌনিরস, লালা এগুলোতে HIV বাস করে। এ গুলোর মধ্যে মুখের লালায় HIV -র পরিমাণ কম থাকে বলে লালা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কিন্তু রক্ত, যোনিরস ও বীর্য কোনোভাবে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করলে এইচআইভি সংক্রমণ ঘটে। বিভিন্ন উপায়ে এইচআইভি ছড়াতে পারে।
যেমন-
১। অনিরাপদ দৈহিক সম্পর্ক:
এইচআইভি ছড়ানোর সবচেয়ে বড় কারণ অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে সারা বিশ্বের এইচআইভি ব্যক্তিদের শতকরা আশি (৮০%) ভাগই অনিরাপদ দৈহিক মিলনে হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির বীর্য বা যোনিরসের মাধ্যমে যৌন সঙ্গীর দেহে এইডস-এর ভাইরাস প্রবেশ করে। আরও বিপদজনক হলো যৌনসঙ্গিনী যদি সন্তান ধারণ করে তবে ঐ সন্তানের দেহেও এইচআইভি প্রবেশ করে।

২। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তগ্রহণ:
অনেক সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে বা অপারেশনের সময় বা দুর্ঘটনায় পড়লে অন্যের রক্ত নিতে হয়। তাছাড়াও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য একজনের শরীরের অঙ্গ যেমন- কর্নিয়া, হৃৎপিন্ড, কিডনী বা অন্য কোনো অঙ্গ এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়। অসচেতনতা বা দায়িত্বহীনতার কারণে অনেক সময় অপারেশনের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করা হয় না। এইচআইভি সংক্রমিত রক্ত বা এইচআইভি আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির অঙ্গ অন্য কোনো
ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এইচআইভি বিস্তার লাভ করে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই এক সুচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার করে। এতে সুস্থ ব্যক্তির দেহে এইচআইভি ভাইরাসের সংক্রমণ হয়। এইচআইভি বা এইডস আক্রান্ত মায়ের নিকট থেকে তিনটি পর্যায়ে শিশুর শরীরে এর ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। যেমন-
ক) গর্ভকালীন সময়ে, 
খ) প্রসবকালীন সময়ে, 
গ) মায়ের দুধ পানের মাধ্যমে।

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭.
নিচের কোনটি DNA ভাইরাস?
  1. র‍্যাবিস
  2. ভ্যারিওলা
  3. HIV
  4. TMV
ব্যাখ্যা

• ভ্যারিওলা (Variola) হলো একটি DNA ভাইরাস যা গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স (Smallpox) রোগের সৃষ্টি করে।

• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দু' প্রকার।

যথা : (i) DNA ভাইরাস এবং (ii) RNA ভাইরাস।

• DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- উদাহরণ- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস। Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

• RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- উদাহরণ- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিওভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৮.
অ্যানিমিয়া কী কারণে হয়?
  1. লোহিত কণিকার সংখ্যা কমে যাওয়ায়
  2. লোহিত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়
  3. প্লেটলেটের সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায়
  4. শ্বেত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়
ব্যাখ্যা
রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়।
যেমন- 
১. অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়। 

২. পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

৩. লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০-৩০,০০০ হয়। 

৪. লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
নিচের কোনটি যক্ষ্মা রোগের টিকা?
  1. DPT
  2. MR
  3. OPV
  4. BCG
ব্যাখ্যা
 • যক্ষ্মার টিকা হলো BCG(Bacillus Calmatte Guerin) ।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে,
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine).
- হাম রোগের টিকা MR।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮০.
মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. ২০০-৩০০ mg/dl
  2. ৩০০-৪০০ mg/dl
  3. ৪০০-৫০০ mg/dl
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল:

• কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
• মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
• যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
• স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।

• স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা: 
১. উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং
২. নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL) । 

• রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে।
• রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। একে খারাপ কোলেস্টেরল বলে। 
• রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। একে ভালো কোলেস্টেরল বলে। 
• রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl.
• রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়।
• LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১.
বাংলাদেশে ইপিআই (EPI) কর্মসূচীতে কয়টি রোগের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা
• সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি(ইপিআই):
- শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার এবং শিশুর পঙ্গুত্বের হার কমানোর লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু হয়।
- শুরুতে ছয়টি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হলেও বর্তমানে ১০টি রোগের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
এগুলো হলো:
- শিশুদের যক্ষ্মা, পোলিওমাইলাইটিস,  ডিফথেরিয়া,  হুপিং কাশি, এমআর (হাম, রুবেলা), নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া।
- মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি,  হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি জনিত রোগসমূহ।

উৎসঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ICDDR,B ওয়েবসাইট।
৮২.
HIV ভাইরাস প্রধানত মানবদেহের কোন কোষ ধ্বংস করে?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা 
  2. প্লাটিলেট
  3. ম্যাক্রোফেজ 
  4. নিউট্রোফিল
ব্যাখ্যা

এইডস (AIDS) রোগ: 
- AIDS হলো Acquired Immunodeficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে।
- Human Immunodeficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

এইডস (AIDS) রোগের বিস্তার: 
- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 
যেমন- 
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, 
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, 
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, 
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, 
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, 
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩.
নিম্নলিখিত কোনটি পারকিনসন রোগের উপসর্গ নয়?
  1. কোষ্ঠকাঠিন্য
  2. চোখের পাতার কাঁপুনি
  3. মুখের অনড় থাকা
  4. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস
ব্যাখ্যা

- পারকিনসন রোগের উপসর্গ নয়- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস। অন্যদিকে, পারকিনসন রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা এ রোগের অন্তর্ভুক্ত। 

পারকিনসন রোগ (Parkinson's disease): 
- পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়। 
- এই রোগ সাধারণত 50 বছর বয়সের পরে হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে যুবক-যুবতীদেরও হতে পারে, এই ক্ষেত্রে রোগটি তার বংশে রয়েছে বলে ধরা হয়। 
- স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন। 
- ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। 
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না, ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। 
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে পারকিনসনের কারণে রোগীর মাংসপেশি আরও অকার্যকর হয়ে উঠে, ফলে রোগীর চলাফেরা, লেখালেখি ইত্যাদি কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। 

- পারকিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকট রূপে দেখা দেয়। 
- প্রাথমিক অবস্থায় রোগী হালকা হাত বা পা কাঁপা অবস্থায় থাকে, ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়। 
- এছাড়াও চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা, কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ, মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া, নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া, যেমন- চেয়ার থেকে উঠা কিংবা হাঁটতে শুরু করার সময় অসুবিধে হওয়া এমন নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। 
- ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি গ্রহণ, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ এবং সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করার মাধ্যমে রোগী অনেকটা সুস্থ থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৪.
ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে কোন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না?
  1. প্যারাসিটামল
  2. এন্টিবায়োটিক
  3. এসপিরিন
  4. অ্যাসিটামিনোফেন
ব্যাখ্যা
• ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না।

• ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত রোগ।
- এই ভাইরাসের জীবাণুর নাম ফ্ল্যাভি ভাইরাস বা ভেঙ্গী ভাইরাস।
- এটি একটি RNA ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের বাহক হলো Aedes aegypti L. ও Aedes albopictus নামক মশকী (স্ত্রী মশা)।
- এর পোষক দেহ হলো মানুষ।
- প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে ১০৩-১০৫° ফারেনহাইট হয়ে থাকে।
- সাধারণত ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর ২-৭ দিন পর জ্বর দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীর তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেট ব্যাথা, কপাল ব্যথা ও গলা ব্যথা হয়।
- মেরুদণ্ডের ব্যথাসহ কোমরে ব্যথা এই রোগের বিশেষ লক্ষণ। একে হাড়ভাঙ্গা জ্বর বলে।
- প্লেটিলেট পরীক্ষায় রক্তের অনুচক্রিকার সংখ্যা ১৫০০০০/mm এর অনেক নিচে নেমে আসে।
- ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৮৫.
ত্বকের এপিডার্মিস স্তরে উৎপন্ন মেলানিনের প্রধান কাজ কী?
  1. জীবাণু ধ্বংস করা
  2. ত্বক মসৃণ রাখা
  3. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা
  4. ঘাম নিঃসরণ করা
ব্যাখ্যা

• মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।

• প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা:

- ত্বক মানুষের শরীরের প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
- এটি দেহকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এবং পরিবেশগত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

• সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা:
- ত্বকের এপিডার্মিস স্তরের কোষে মেলানিন (melanine) নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন হয়, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ত্বককে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

• যান্ত্রিক বাধা সৃষ্টি:
- ত্বকের বাইরের স্তরটি দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণ দ্বারা গঠিত, যা দেহের ভেতরে জীবাণু, বিষাক্ত পদার্থ ও ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশে একটি কার্যকর বাধা সৃষ্টি করে।

• ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া:
ত্বক কেটে গেলে বা ক্ষত সৃষ্টি হলে, ত্বকে উপস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণুকে গ্রাস করে দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

• অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি:
- ঘাম ও তেল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH মানকে অম্লীয় (pH = 3–5) করে তোলে। এর ফলে অধিকাংশ অণুজীব দীর্ঘ সময় ত্বকে টিকে থাকতে পারে না।

• উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা:
কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থান করে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা ক্ষতিকর অণুজীবের বংশবিস্তার রোধ করে।

• লাইসোজাইমের কার্যকারিতা:
ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে উপস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে।

• লিপিড স্তরের সুরক্ষা:
- ত্বকের নিঃসৃত লিপিড পদার্থ অণুজীবের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে এবং দেহকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখে।
 
 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬.
শ্বাসনালীর ভেতরে আবৃত প্রদাহকে কী বলে?
  1. ডিপথেরিয়া
  2. নিউমোনিয়া
  3. ব্রঙ্কাইটিস
  4. যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা
ব্রঙ্কাইটিস:

• ব্রঙ্কাইটিস হলো শ্বাসনালীর ভিতরে আবৃত ঝিল্লিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ ।
• শ্বাসনালী হলো ফুসফুসের সাথে বাইরের বাতাসের সংযোগকারী নল।
• ব্রঙ্কাইটিস তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
• অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া, ঠান্ডা লাগা এবং ধূমপান থেকে এ রোগ হতে পারে।

⮚ লক্ষণ:
• কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
• কাশির সাথে কফ থাকে।
• জ্বর হয়।
• শরীর ক্রমান্বয়ে দূর্বল হয়।

⮚ প্রতিকার:
• ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
• ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে ।


Image: Human Lung (Britannica) 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৮৭.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ড্রাগ বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র অবৈধ মাদকদ্রব্য
  2. এমন পদার্থ যা গ্রহণে স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তন ঘটে
  3. কেবল নেশাজাতীয় দ্রব্য
  4. রোগ নিরাময়ের ওষুধ
ব্যাখ্যা

• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, ড্রাগ হলো এমন পদার্থ যা জীবিত প্রাণী গ্রহণ করলে তার এক বা একাধিক স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন ঘটে।

• মাদকাসক্তি (Drug Addiction):
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ড্রাগের একটি আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা দিয়েছে।
- WHO-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, ড্রাগ এমন পদার্থ যা গ্রহণ করলে জীবের স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন ঘটে।
- ড্রাগ মানেই সবসময় মাদক নয়, তবে সাধারণ ভাষায় ড্রাগকে মাদক বলা হয়।
- ড্রাগ গ্রহণের ফলে শারীরিক, মানসিক বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
 
• মাদকাসক্তি বা ড্রাগ নির্ভরতা:
- যখন কোনো ব্যক্তি ক্রমাগত ড্রাগ সেবন করে।
- তখন ড্রাগের সাথে তার একটি দৈহিক ও মানসিক সম্পর্ক তৈরি হয়।
- নিয়মিত ড্রাগ গ্রহণ না করলে সে ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়ে।
- এই অবস্থাকেই বলা হয় মাদকাসক্তি বা ড্রাগ নির্ভরতা।
 
• আসক্তি সৃষ্টি করে এমন উল্লেখযোগ্য ড্রাগ:
- বিড়ি ও সিগারেট,
- আফিম ও আফিমজাত পদার্থ,
- হেরোইন,
- মদ,
- পেথিড্রিন,
- বারবিচুরেট,
- কোকেন,
- ভাং, চরস ও ম্যারিজুয়ানা,
- এলএসডি।
- এদের মধ্যে হেরোইন একটি মারাত্মক ড্রাগ।
 
• ড্রাগে আসক্ত হওয়ার কারণ:
- কৌতূহল,
- সঙ্গদোষ,
- হতাশা দূর করার প্রচেষ্টা,
- মানসিক যন্ত্রণা ভুলে থাকার চেষ্টা,
- নিজেকে বেশি কার্যক্ষম মনে করার আকাঙ্ক্ষা,
- পারিবারিক অশান্তি থেকে মুক্তির ইচ্ছা,
- পারিবারিক অভ্যাসগত প্রভাব,
- বাবা বা মা মাদকে আসক্ত হলে সন্তানের আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- শুধুমাত্র অবৈধ মাদকদ্রব্য → WHO-এর সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
- কেবল নেশাজাতীয় দ্রব্য → ড্রাগের ব্যাপ্তি এর চেয়ে বেশি।
- রোগ নিরাময়ের ওষুধ → সব ওষুধ ড্রাগ হলেও সব ড্রাগ রোগ নিরাময়ের জন্য নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮৮.
চিকুনগুনিয়া রোগের ভ্যাকসিন কোনটি?
  1. কনভিডেসিয়া
  2. ইক্সচিক
  3. পিসিভি
  4. কোভিশিল্ড
ব্যাখ্যা
চিকুনগুনিয়া ভ্যাকসিন
- মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বিশ্বে প্রথম টিকা অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।
- বিশ্বে অনুমোদন দেওয়া টিকাটির নাম ‘ইক্সচিক’।
- চিকুনগুনিয়া মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এ রোগের উপসর্গ হল জ্বর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা।
-  ‘ইক্সচিক’ নামের এই টিকা তৈরি করেছে ইউরোপের ভালনেভা সংস্থা। 
- চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হলে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অনেক জ্বর আসে। এছাড়াও থাকে গাঁটে গাঁটে প্রচণ্ড ব্যথা।
- আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকা মহাদেশে এ রোগের প্রকোপ দেখা যায়। মূলত গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে বেশি।

সূত্র- বিবিসি। 
৮৯.
‘ORS’ ব্যবহৃত হয় —
  1. গ্যাস দূর করতে
  2. পানিশূন্যতা রোধে
  3. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
  4. হজম বাড়াতে
ব্যাখ্যা
• পানিশূন্যতা হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন দেহে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও লবণের ঘাটতি ঘটে। 

এর কারন
- ডায়রিয়া (পাতলা পায়খানা)
- বমি
- অতিরিক্ত ঘাম
- জ্বর
- অল্প পানি পান করা

ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য। 
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।

ORS-এ থাকা উপাদান
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড)
- গ্লুকোজ
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড
-সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট। 

এই উপাদানগুলো শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF)। 
৯০.
রিকেটস রোগের প্রধান কারণ কী?
  1. ভিটামিন A-এর অভাব
  2. ভিটামিন B-এর অভাব
  3. ভিটামিন D-এর অভাব
  4. ভিটামিন K-এর অভাব
ব্যাখ্যা

• রোগ: রিকেটস,
- মূল কারণ: ভিটামিন D-এর অভাব,
- প্রধান প্রভাব: হাড় দুর্বল ও বেঁকে যাওয়া,
- প্রতিরোধ: সূর্যালোক ও ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাদ্য।

• রিকেটস (Rickets):
- রিকেটস কোনো ভাইরাসজনিত বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়।
- ভিটামিন D-এর অভাবে এ রোগ হয়ে থাকে।
- দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ, দাঁত ও হাড়ের গঠনসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ভিটামিন D অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

• ভিটামিন D-এর উৎস:
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙরের তেলে প্রচুর ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা কোলেস্টেরল থেকেও ভিটামিন D তৈরি হয়।
- তবে ভিটামিন D তৈরির শেষ ধাপটি সম্পন্ন হয় কিডনিতে।

• রিকেটস রোগের লক্ষণ:
- দেহের হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া।
- শিশুদের হাঁটা শেখার সময় গিট খুলে যাওয়া।
- হাড় বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া।
- অনেক ক্ষেত্রে দেহের কাঠামো ঠিক না থাকা।
- হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া ও কবজি সরু হয়ে যাওয়া।

• প্রতিরোধ ও করণীয়:
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
- চোখ ও জনসম্মুখ থেকে রক্ষা করে শিশুকে কিছু সময় রোদে রাখা উচিত।
- সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন D তৈরি হয়।
- সারাদিন শিশুকে ঘরের ভেতরে রাখা বা শরীর সম্পূর্ণ ঢেকে রাখলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায় না।
- এর ফলে ভিটামিন D-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং রিকেটস রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৯১.
কোন রোগে মাড়ি দিয়ে রক্ত ও পুঁজ পড়ে?
  1. স্কার্ভি
  2. রিকেট
  3. ম্যানিনজাইটিস
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা
এসকরবিক এসিডের অভাবজনিত অবস্থা: 
১। ভিটামিন সি এর দীর্ঘদিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। 
- স্কার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি ফুলে স্পঞ্জের মতো হয়ে যায়, রক্তক্ষরণ হয়, গোড়া আলগা ও নরম হয়ে যায়, অনেক সময় দাঁত পড়ে যায়। 
২। ত্বক খসখসে হয়, ফুসকুড়ি ওঠে এবং ত্বক চুলকায়। 
৩। অস্থি দুর্বল হয় ও অস্থি সন্ধিতে বা গাঁটে ব্যথা হয়, অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়। 
৪। লৌহের পরিশোষণ ব্যাহত হয় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। 
৬। রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 
৭। ক্ষধামন্দা অলসতা খিটখিটে মেজাজ পরিলক্ষিত হয়। 

অন্যদিকে, 
- রিকেট রোগটি ভিটামিন D এর অভাবে হয় এবং এটি হাড়ের দুর্বলতার সাথে সম্পর্কিত।
- ম্যানিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক ও মস্তিষ্কের চারপাশের মেমব্রেনের প্রদাহজনিত রোগ, এটি মাড়ির সমস্যার সাথে সম্পর্কিত নয়।
- বেরিবেরি হলো ভিটামিন B1 (থায়ামিন) এর অভাবে হওয়া একটি রোগ, যা প্রধানত স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করে।

উৎস: গার্হস্থ্যবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
কোনটি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ নয়?
  1. হেপাটাইটিস
  2. গনোরিয়া
  3. কুষ্ঠ
  4. টাইফয়েড জ্বর
ব্যাখ্যা

• হেপাটাইটিস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ নয়; এটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রমণজনিত রোগ। হেপাটাইটিস ভাইরাস (যেমন- হেপাটাইটিস A, B, C) লিভারকে আক্রান্ত করে এবং এর ফলে লিভারের প্রদাহ, জন্ডিস, দুর্বলতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। অন্যদিকে, গনোরিয়া Neisseria gonorrhoeae ব্যাকটেরিয়া দ্বারা, কুষ্ঠ Mycobacterium leprae ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এবং টাইফয়েড জ্বর Salmonella typhi ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়। তাই প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে হেপাটাইটিসই একমাত্র রোগ যা ব্যাকটেরিয়া নয়, বরং ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট।

• ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ:
- জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৯৩.
পেলেগ্রা রোগের প্রধান উপসর্গ কোন ভিটামিনের অভাবে হয়?
  1. B1
  2. B2
  3. B3
  4. B6
ব্যাখ্যা

ভিটামিন B কমপ্লেক্স: 
- পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিন B রয়েছে, ভিটামিনের এই গুচ্ছকে ভিটামিন B কমপ্লেক্স বলা হয়। 
- দেহের স্বাভাবিক সুস্থতার জন্য খাবারে ভিটামিন B কমপ্লেক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- দেহের বৃদ্ধি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ, দেহকোষে বিপাকীয় কাজ, প্রজনন ইত্যাদি সম্পন্ন করার জন্য খাদ্যে ভিটামিন B কমপ্লেক্সের উপস্থিতি অতি আবশ্যক। 
- ভিটামিন B কমপ্লেক্সভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলোর উৎস এবং অভাবজনিত রোগ নিচে দেওয়া হলো- 
১। থায়ামিন (B1): 
• উৎস: ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, ডাল, তেলবীজ, বাদাম, যকৃৎ, টাটকা ফল ও সবজি। প্রাণিজ উৎসের মাঝে রয়েছে যকৃত, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি। 
• অভাবজনিত রোগ: দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। 

২। রাইবোফ্ল্যাভিন (B2): 
• উৎস: যকৃৎ, দুধ, ডিম, সবুজ শাকসবজি, গাছের কচি ডগা, অঙ্কুরিত বীজ। 
• অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়। 

৩। নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3): 
• উৎস: মাংস, যকৃৎ, আটা, ডাল, বাদাম, তেলবীজ, ছোলা, শাকসবজি। 
• অভাবজনিত রোগ: ভিটামিন B3 এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়, পেলেগ্রা রোগের প্রধান উপসর্গ হলো ত্বকে প্রদাহ, ডায়রিয়া এবং স্মৃতিভ্রংশ হওয়া। 

৪। পাইরিডক্সিন (B6): 
• উৎস: চাল, আটা, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ছোলা, ছত্রাক, বৃক্ক, ডিমের কুসুম। 
• অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে খাওয়ায় অরুচি, বমিভাব ও অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 

৫। কোবালামিন বা (B12) সায়ানোকোবালামিন: 
• উৎস: যকৃৎ, দুধ, মাছ, মাংস, ডিম, পনির, বৃক্ক প্রভৃতি। 
• অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে রক্তস্বল্পতা রোগ দেখা দেয়। স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৪.
নিচের কোনটি সংক্রামক রোগ নয়?
  1. ক) যক্ষ্মা
  2. খ) অ্যানথ্রাক্স
  3. গ) ক্যান্সার
  4. ঘ) কলেরা
ব্যাখ্যা

- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, পরজীবী ইত্যাদির কারণে সৃষ্ট রোগগুলো যা আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে খাবার, পানি, বায়ু, সংস্পর্শ ইত্যাদি নানাভাবে ছড়িয়ে পড়ে তাদেরকে সংক্রামক রোগ বলে।
ধনুষ্টংকার, জলবসন্ত, এইডস, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, কলেরা, অ্যানথ্রাক্স ইত্যাদি হলো সংক্রামক রোগ।
- যে রোগগুলো সাধারণভাবে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে না তাকে অসংক্রামক রোগ বলে।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ক্রোনিক কিডনি ডিজিজ, ক্যান্সার ইত্যাদি হলো অসংক্রামক ব্যাধি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯৫.
কোন রোগে অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. থ্যালাসেমিয়া
  2. হিমোফিলিয়া
  3. ম্যালেরিয়া
  4. যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা
◉ থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত রক্তরোগ, যেখানে হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ঘটে। এই রোগে অস্থিমজ্জা (Bone Marrow) অতিরিক্ত পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনের চেষ্টা করে, যা দীর্ঘমেয়াদে অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হাড় বিকৃতির ঝুঁকি বাড়ায়।

থ্যালাসেমিয়া:
- থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে একটি রক্তজনিত সমস্যা।
- থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়ে থাকে।
- আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের ব্যাধি হয়ে থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
হিমোফিলিয়া: রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা।
ম্যালেরিয়া: Plasmodium পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ।
যক্ষ্মা: Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট রোগ।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা। 
৯৬.
নিচের কোনটি DNA ভাইরাস?
  1. TMV
  2. HIV
  3. TIV
  4. Flavi
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridescent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৯৭.
চোখের জন্য উপকারী ভিটামিন কোনটি, যা সবুজ শাকসবজি ও রঙিন ফলমূলে পাওয়া যায়?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন এ চোখের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

• চোখের যত্ন:
- চোখ মানুষের একটি কোমল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
- সঠিকভাবে যত্ন না নিলে চোখে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও সংক্রমণ হতে পারে।
- চোখ সুস্থ রাখতে নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করা জরুরি।
 
• চোখের যত্ন নেওয়ার উপায়:
- ঘুম থেকে উঠে এবং বাইরে থেকে আসার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধোয়া উচিত।
- চোখ মোছার সময় অবশ্যই পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করতে হবে।
- নিয়মিত সবুজ শাকসবজি ও রঙিন ফলমূল খেতে হবে।
- এসব খাদ্যে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে, যা চোখের জন্য উপকারী।
- ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- পর্যাপ্ত ভিটামিন এ গ্রহণ করলে রাতকানা রোগ এড়ানো যায়।
 
• ভিটামিন এ:
- ভিটামিন এ চোখের রেটিনা সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
- এটি অল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা উন্নত করে।
- ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা ও চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- ভিটামিন বি → স্নায়ু ও শক্তি উৎপাদনে সহায়ক।
- ভিটামিন সি → রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- ভিটামিন ডি → হাড় ও দাঁত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
 
 উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

৯৮.
ভ্যাক্সিন বা টিকা কে আবিষ্কার করেন?
  1. এডওয়ার্ড জেনার
  2. রবার্ট কচ
  3. লুই পাস্তুর
  4. জ্যাকব হেইন
ব্যাখ্যা
• টিকা আবিষ্কারের ইতিহাস:
- বসন্তের প্রথম টিকা আবিষ্কার হয়েছিল ১৮ শতকের শেষভাগে ১৭৯৬ সালে।
- এডওয়ার্ড জেনার এ টিকা আবিষ্কার করেন।
- এটিই ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম সফল টিকা।
- পোলিও টিকার আবিষ্কারক জোনাস এডওয়ার্ড সক।
- যক্ষার জীবাণু আবিষ্কার করেন রবার্ট কচ।
- বিসিজি (যক্ষার টিকা) আবিষ্কার করেন ক্যালসাট ও গুয়োচিন।

উৎস:  ব্রিটানিকা।
৯৯.
কোন রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি?
  1. এইডস
  2. কলেরা
  3. জলাতঙ্ক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভাইরাসের উপকারিতা:
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে
সক্ষম হয়েছেন। যথা-
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়।
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০০.
মাটির উর্বরতা শক্তি বিনষ্টকরণে দায়ী অণুজীবটি কী?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

মাটির উর্বরতা শক্তি বিনষ্টকরণ:
-  নাইট্রেট জাতীয় উপাদান মাটিকে উর্বর করে থাকে।
- কিন্তু কতিপয় ব্যাকটেরিয়া মাটিস্থ নাইট্রেটকে ভেঙ্গে মুক্ত নাইট্রেটে পরিণত করে মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস করে ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যায়।

তাছাড়াও
- খাদ্য দ্রব্যের পঁচন ও বিষাক্তকরণ:
- ব্যাকটেরিয়া নানা রকম টাটকা ও সংরক্ষিত খাদ্য দ্রব্যের পঁচন ঘটিয়ে আমাদের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি সাধন করে।
- যেমন Clostridium botulinum নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে বটুলিন নামক বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে।
- এতে মানুষের দেহে বটুলিজম রোগ সৃষ্টি হয় যার ফলে মানুষের মৃত্যুও ঘটতে পারে।

পানি দূষণ:
-  বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়া পানিকে দূষিত করে এবং দূষিত পানি নানা প্রকার রোগের সৃষ্টি করে।
- যেমন-কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, ডায়রিয়া প্রভৃতি দূষিত পানি পানের মাধ্যমে হয়।
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া যেমন কলিফর্ম, ফিকাল কলিফর্ম, Salmonella, Shigella, Bacillus, Pseudomonas, Vibrio, Escherichia coli প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া পানি দূষিতকরণের জন্য দায়ী।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।