ব্যাখ্যা
- ১৪ জুলাই, ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন।
- 'স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ব' ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১০ / ১১ · ৯০১–১,০০০ / ১,০৫২
• প্যারিস শান্তি চুক্তি:
- প্যারিস শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়- ২৭ জানুয়ারি, ১৯৭৩ সালে।
- স্বাক্ষরের স্থান-প্যারিস, ফ্রান্স।
- পক্ষসমূহ- ভিয়েতনাম-যুক্তরাষ্ট্র।
- এই চুক্তির ফলে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান হয়।
- এই শান্তি চুক্তির কারণে হেনরি কিসিঞ্জার ও লি ডাক থো ১৯৭৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র: Britannica ও History.com, বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর- তারেক শামসুর রেহমান।
- WMD (Weapons of Mass Destruction) হচ্ছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র।
- ২০০৩ সালে WMD আছে এমন আশঙ্কায় ইঙ্গ-মার্কিন জোট ইরাকে আক্রমণ করেছিল।
- Intermediate-Range Nuclear Force (INF) হচ্ছে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।
- Anti-Ballistic Missile (ABM) হচ্ছে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
- MAD (Mutually Assured Destruction) হচ্ছে পারস্পরিক ধ্বংস নিশ্চিতকরণ ক্ষেপণাস্ত্র।
উৎস: ব্রিটানিকা।
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মূলত দুটি বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- এই দুটি বিপ্লব হলো:
• ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও
• বলশেভিক বিপ্লব।
- এই দুটি বিপ্লবকে একত্রে ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব' বলা হয়।
⇒ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়: ফেব্রুয়ারি বিপ্লব।
- এই বিপ্লবের ফলে দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোগ্রাদে (সেন্ট পিটার্সবার্গে) খাদ্য ঘাটতি নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়।
- সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিলে নিকোলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
- রাশিয়ার রাজতন্ত্রের পতন হয় ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের কারণে।
⇒ বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব:
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় ধাপ বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব নামে খ্যাত।
- এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন ও লিওন ট্রটস্কি।
তথ্যসূত্র - History.com & Britannica.com
আরব বসন্ত (Arab Spring):
- মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র উচ্ছেদ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন ২০১০ সালে শুরু হয়, সেগুলোকে একত্রে আরব বসন্ত বলে ।
- আরব বসন্তের শুরু হয়েছিল আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ায়। এই কারনে তিউনিশিয়াকে আরব বসন্তের সূতিকাগার বলা হয়।
- পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম ২০১১ সালে প্রথম মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘটিত গণআন্দোলনকে “আরব বসন্ত” ( Arab Spring ) আখ্যা দেয়।
- ২০১৩ সালের দিকে এসে আরব বসন্তের আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।
- আরব বসন্তের প্রভাবে তিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন, মরক্কো, সিরিয়া প্রভৃতি দেশে - ক্ষমতা বদল বা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি পরিবর্তন ঘটেছে।
- এখনো এই তথাকথিত আরব বসন্তের জেরে সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া প্রভৃতি দেশে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজমান।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
● অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের হুমকির জবাবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ।
অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান (Operation Prosperity Guardian):
- অপারেশন প্রসপারিটি গার্ডিয়ান হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করা হয়।
- এটি লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ড্রোন ও মিসাইল আক্রমণের জবাবে গঠিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক নৌপথে স্বাধীন নেভিগেশন (freedom of navigation) নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষা করা।
⇒ এই অপারেশন Combined Maritime Forces (CMF)-এর অধীনে Task Force 153-এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
- এতে যুক্তরাজ্য, বাহরাইন, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সেশেলস, স্পেনসহ ২০টিরও বেশি দেশ অংশ নেয়।
- এটি হুথিদের হামলার প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া হিসেবে গঠিত হয়।
উল্লেখ্য,
- গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকেই লোহিত সাগরে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী- হুতি।
- ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পাশাপাশি হুতিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে,
- ডেজার্ট স্টর্ম: অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম (Operation Desert Storm) হলো ১৯৯১ সালে ইরাকের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৩৪টি দেশের যৌথ বাহিনী পরিচালিত একটি সামরিক অভিযান যা উপসাগরীয় যুদ্ধের মূল পর্যায় ছিল।
- এন্ডিউরিং ফ্রিডম: অপারেশন এন্ডুরিং ফ্রিডম (OEF) হলো ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর ৯/১১ হামলার জবাবে আফগানিস্তানে শুরু হওয়া মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান। এটি আল-কায়েদা ও তালেবানকে ধ্বংস এবং ওসামা বিন লাদেনকে ধরার লক্ষ্যে শুরু হয়।
- ব্লু হেলমেট: ব্লু হেলমেট (Blue Helmets) হলো জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য যারা বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
উৎস: i) Reuters.
ii) BBC.
iii) U.S. Department of War (.gov) ওয়েবসাইট।
• নুরেমবার্গ ট্রায়াল:
- 'নুরেমবার্গ ট্রায়াল' যুদ্ধাপরাধ-এর সাথে সংশ্লিষ্ট।
- নুরেমবার্গ ট্রায়াল হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫-৪৬ সালে জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের নুরেমবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত বিচার প্রক্রিয়ার নাম।
ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি ট্রাইব্যুনাল হিটলারের নাৎসি বাহিনীর নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ গঠন করে এবং তাদের বিচার করে।
- তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ছিল মূলত চার ধরনের যথা:
১. শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ। যেমন: আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পরিকল্পনা, যুদ্ধের জোগাড় এবং যুদ্ধ শুরু করা।
২. মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। যেমন: মানুষকে সমূলে বিনাশ করা, বাসস্থান থেকে বিতাড়ন করা এবং গণহত্যা।
৩. যুদ্ধাপরাধ তথা যুদ্ধের আইনসমূহ লঙ্ঘন।
৪. উপরিউক্ত তিনটি অপরাধ করার সাধারণ পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র করা।
⇒ আন্তর্জাতিক এই সামরিক ট্রাইবুনালে বিশিষ্ট ২২ জন নাৎসি কর্মকর্তার বিচার শুরু হয়েছিল।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই নুরেমবার্গের আদালতে শীর্ষ নাৎসি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
- যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে বিচার হয় তাদের।
- বিচারাধীনদের মধ্যে ছিল সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিক, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা।
- ১৯৪৫ সালের ২০ নভেম্বর শুরু হয় এই বিচার।
উৎস: Britannica.
• ভেলভেট বিপ্লব (Velvet Revolution):
- ১৯৮৯ সালে চেকোস্লোভাকিয়াতে একটি অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটে।
- এই বিপ্লব খুব শান্তিপূর্ণভাবে সংঘটিত হয়েছিল, তাই একে "Velvet Revolution" বলা হয়।
- ফলাফল: কমিউনিস্ট শাসন থেকে দেশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়।
- এরপর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক টানাপোড়েনের কারণে চেক ও স্লোভাক অঞ্চলের মধ্যে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের দাবি জোরদার হয়।
- চূড়ান্ত বিভাজন: ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি চেকোস্লোভাকিয়া শান্তিপূর্ণভাবে ভেঙে যায়।
- জন্ম নেয় দুটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র:চেক প্রজাতন্ত্র (Czech Republic) ও স্লোভাকিয়া (Slovakia)।
- এই বিভাজনকে বলা হয়: "Velvet Divorce" (ভেলভেট তালাক) কারণ এটি রক্তপাতহীন ও শান্তিপূর্ণভাবে সংঘটিত হয়েছিল।
উৎস: ব্রিটানিকা।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তির প্রধান তিন নেতা ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা জোসেফ স্ট্যালিন। তাদের জোট 'গ্র্যান্ড অ্যালায়েন্স' নামে পরিচিত ছিল এবং বিজয়ের জন্য এটি অপরিহার্য ছিল।
তেহরান সম্মেলন:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩ সালের ২৮ নভেম্বর- ১ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে তেহরান সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনের কোড নাম ‘ইউরেকা’।
- এটি 'দ্য বিগ থ্রি' মিত্র নেতাদের (সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রথম সম্মেলন।
উল্লেখ্য,
- তেহরান সম্মেলনে প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বোচ্চ নেতা জোসেফ স্ট্যালিন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এক সাথে উপস্থিত ছিলেন।
- এরা 'দ্য বিগ থ্রি' নেতা হিসেবে খ্যাত।
- এই সম্মেলনকে ঘিরে তিন পক্ষের আকাঙ্ক্ষা ছিল সর্বোচ্চ।
- শুধুমাত্র জার্মানি এবং জাপানকে পরাজিত করাই এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল না।
- একইসাথে যুদ্ধত্তোর বিশ্ব কেমন হবে এবং সেখানে তাদের ভূমিকা কতটুক থাকবে এসব বিষয়কে আলোচনায় প্রাধান্য দেয়া হয়।
সূত্র: Britannica ও THE NATIONAL WWII MUSEUM NEW ORLEANS ওয়েবসাইট।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War-I):
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ১৯১৪ সালে এবং এর পরিমাপ্তি হয় ১৯১৮ সালে।
- ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
- এই যুদ্ধের কারণ হিসেবে ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য বসনিয়া-হার্জেগোভিনা দখল করা এবং আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।
⇒ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বা দ্য গ্রেট ওয়ার:
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
উল্লেখ্য,
- সুইডেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিরপেক্ষ দেশ ছিল। সুইডেন তার নিরপেক্ষতার জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সুইডেন নিরপেক্ষতা ঘোষণা করে।
উৎস: i) History.com
ii) Britannica.
• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পারমানবিক বোমা:
- ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা লিটল বয় নিক্ষেপ করে।
- ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র আরেক শহর নাগাসাকিতে আরো একটি পারমাণবিক বোমা ফ্যাট ম্যান নিক্ষেপ করে।
- লিটল বয় ও ফ্যাট ম্যান নামক পারমাণবিক বোমা দুটি নিক্ষেপের নির্দেশদাতা ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হেনরি ট্রুম্যান।
উৎস: ব্রিটানিকা।
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- মোট দুইটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী শাসনের পতন ঘটে এবং ১৯২২ সালে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়।
⇒ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব (মার্চ, ১৯১৭):
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রোমানভ রাজবংশের পতন ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে অক্টোবর বিপ্লবে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটায়।
⇒ বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব (নভেম্বর, ১৯১৭):
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন।
- ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি অস্থায়ী সরকারকে উৎখাত করে এবং ক্ষমতা দখল করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- লেনিন বিশ্বের প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের একনায়ক হয়ে ওঠেন।
উৎস: i) History.com
ii) Britannica.
• ট্রাফালগার যুদ্ধ:
- ট্রাফালগার যুদ্ধ ছিলো ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী নৌযুদ্ধ।
- ট্রাফালগারের যুদ্ধ স্পেনে, কেপ ট্রাফালগারের উপকূলে সংঘটিত হয়েছিল।
- ১৮০৫ সালের ২১ অক্টোবর স্পেন উপকূলে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়, ফ্রান্স ও স্পেনের মিলিত নৌশক্তির বিরুদ্ধে এডমিরাল লর্ড নেলসনের নেতৃত্বে ব্রিটেন জয় লাভ করে।
- এই যুদ্ধে ব্রিটেনের বিজয় ও নেলসনের প্রতি সম্মান জানাতে, লন্ডনে নেলসনের সমাধির পাশে ট্রাফালগার স্কয়ার নির্মিত হয়।
- ট্রাফালগার স্কয়ার বর্তমানে ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল লন্ডনে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থল।
উৎস: ব্রিটানিকা.কম, হিস্টোরি ওয়েবসাইট।
ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এই বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই।
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।
উৎস: Britannica.com
ডেটন শান্তি চুক্তি (Dayton Peace Agreement):
ডেটন শান্তি চুক্তির পূর্ণনাম - General Framework Agreement for Peace in Bosnia and Herzegovina। বসনিয়া সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে ডেটন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়ো অঙ্গরাজ্যের ডেটনে অবস্থিত বিমানঘাটিতে এই চুক্তির খসড়া প্রণীত হয়। এই জন্য এই চুক্তিকে ডেটন শান্তি চুক্তি বলা হয়।
- ডেটন চুক্তির মধ্যস্থতাকারী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট - বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী - ওয়ারেন ক্রিস্টোফার।
- চুক্তিটির প্রধান শান্তি আলোচক - রিচার্ড হলব্রোক।
তথ্যসূত্রঃ হিস্টরি.কম ও ব্রিটানিকা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (World War-II):
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ছিল ১৯৩৯ - ১৯৪৫ সাল।
⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পক্ষ ছিলো দুইটি: অক্ষ শক্তি, মিত্র শক্তি।
- অক্ষ শক্তির প্রধানতম দেশ: জার্মানি, ইতালি, জাপান।
- মিত্র শক্তির প্রধানতম দেশ: যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স।
⇒ যুদ্ধের ফলাফল: মিত্রবাহিনী জয়লাভ করে।
- জার্মানি মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে ১৯৪৫ সালের ৮ মে। এই দিনটিকে V-E (Victory in Europe) Day বলে।
- ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর টোকিও বে-তে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস মিসৌরিতে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এই দিনটিকে বলা হয় V-J (Victory over Japan) Day।
উৎস: i) Britannica.
ii) History.com
• গ্রিক-পারস্য যুদ্ধ:
- সাইরাস ছিলেন পারস্যের অ্যাকামেনীয় সম্রাট এবং তার শাসনামলে পারস্য একটি ক্ষতিকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- প্রথমে তিনি গ্রিক অভিযানে অংশ নিয়ে এবং নগর রাষ্ট্র সমূহের ওপর ধ্বংসলীলা চালায়।
• গ্রিক-পারস্য যুদ্ধ (ম্যারাথন):
- খ্রিস্টপূর্ব ৪৯০ অব্দে, ম্যারাথন নামক স্থানে সংঘটিত হওয়া গ্রিক-পারস্য যুদ্ধে সাইরাসের বিপক্ষে গ্রিকরা পারস্য বাহিনীকে পরাজিত ও বিতাড়িত করে।
- এই ঘটনাটি পরবর্তীতে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার জন্ম দেয়।
- প্রতি ৪ বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এ খেলায় বিভিন্ন নগররাষ্ট্রের খেলোয়াড়রা অংশ নেয়।
তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল,
• জার্মানি,
• জাপান,
• ইতালি।
- মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল,
• ব্রিটেন,
• ফ্রান্স,
• যুক্তরাষ্ট্র,
• সোভিয়েত ইউনিয়ন,
• চীন,
• পোল্যান্ড,
• নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান।
তথ্যসূত্র - হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা কম।
- আঠারো শতকের মাঝামাঝি ব্রিটেনে শুরু হওয়া শিল্পবিপ্লব ছিল আধুনিক শিল্পসমাজের সূচনা।
- এটি মূলত কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে যন্ত্রনির্ভর শিল্প অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া।
- প্রথমে বস্ত্রশিল্পে যান্ত্রিক অগ্রগতি ঘটে, পরে ধাতু, খনি ও পরিবহন ব্যবস্থায় তা ছড়িয়ে পড়ে।
- জেমস ওয়াটের বাষ্প ইঞ্জিনের উদ্ভাবন, কারখানা ব্যবস্থা, রেলপথ ও বাষ্পচালিত জাহাজ এই বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করে।
- উৎপাদনশীলতা ও বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলেও গ্রামীণ জীবন থেকে নগরকেন্দ্রিক জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।
- সামাজিক কাঠামো, শ্রমব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলে শিল্পবিপ্লব, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী শিল্পোন্নতির ভিত্তি স্থাপন করে।
উৎস: ব্রিটানিকা।
ন্যুরেমবার্গ আদালত (Nuremberg Trials):
- ন্যুরেমবার্গ আদালত ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নাৎসি জার্মানির শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য মিত্রশক্তি কর্তৃক গঠিত একটি আন্তর্জাতিক সামরিক ট্রাইব্যুনাল।
• ১৯৪৫-১৯৪৬ সালে জার্মানির নুরেমবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত এই বিচার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করে।
- তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ছিল মূলত চার ধরনের। যথা:
১. শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ। যেমন— আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পরিকল্পনা, যুদ্ধের জোগাড় এবং যুদ্ধ শুরু করা।
২. মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। যেমন— মানুষকে সমূলে বিনাশ করা, বাসস্থান থেকে বিতাড়ন করা এবং গণহত্যা।
৩. যুদ্ধাপরাধ তথা যুদ্ধের আইনসমূহ লঙ্ঘন।
৪. উপরিউক্ত তিনটি অপরাধ করার সাধারণ পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র করা।
- প্রধান আসামি: হারম্যান গোরিং, রুডলফ হেস, জোয়াকিম ফন রিবেনট্রপ সহ ২৪ জন শীর্ষ নাৎসি নেতা।
- ১৯৪৫ সালের ২০ নভেম্বর শুরু হয় এই বিচার।
- আদালতের বিচারকদের আনা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চার মিত্র শক্তি আমেরিকা, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেন থেকে।
- প্রধান কৌঁসুলি ছিলেন মার্কিন আইনজীবী রবার্ট জ্যাকসন।
- নুরেমবার্গ আদালতে বিচার কার্য চলে প্রায় ২১৮ দিন ধরে। হাজির করা হয় ২৩৬ জন সাক্ষী, উপস্থিত করা হয় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার নথিপত্র।
- ১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর সামরিক ওই আদালত রায় ঘোষণা করেন।
- প্রধান বিচারে ১২ জন মৃত্যুদণ্ড, ৩ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৪ জন দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড এবং ৩ জন খালাস পান।
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন ছিলেন হ্যারমান গ্যোয়েরিং, যিনি মৃত্যদণ্ড কার্যকর হবার আগেই তার সেলে সায়ানাইড ক্যাপসুল খেয়ে আত্মহত্যা করেন।
উৎস: i) History.com
ii) Britannica.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War I) ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছিল এবং এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ।
- যুদ্ধটি মূলত ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সংঘটিত হলেও এর প্রভাব ছিল পৃথিবীজুড়ে।
⇒ যুদ্ধের পটভূমি:
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।
উল্লেখ্য,
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে অষ্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দকে বসনিয়ার সারায়েভো শহরে হত্যা করা হয়েছিল।
- ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়।
- এই যুদ্ধের কারণ হিসেবে ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য বসনিয়া-হার্জেগোভিনা দখল করা এবং আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দের হত্যাকাণ্ডকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।
উৎস: i) History.com
ii) Britannica.
কমলা বিপ্লব (Orange Revolution):
- ক্ষমতাবদলকে কেন্দ্র করে ২০০৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইউক্রেনে সংঘটিত কিছু সরকার বিরোধী আন্দোলনকে “কমলা বিপ্লব” বা অরেঞ্জ রেভুলুশ্যন বলে।
অপরদিকে,
- গোলাপ বিপ্লব (Rose Revolution): ২০০৩ সালে জর্জিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাবলীর সমষ্টিকে গোলাপ বিপ্লব বলে।
- টিউলিপ বিপ্লব (Tulip Revolution): ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে কিরগিজস্তানে নির্বাচনে কারচুপির পরিপ্রেক্ষিতে টিউলিপ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- জুঁই (জেসমিন) বিপ্লব সংগঠিত হয় ২০১১ সালে। জেসমিন বিপ্লব হয় তিউনিসিয়ায় ১৮ ডিসেম্বর- ১৪ জানুয়ারি ২০১১ সালে।
উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।
ফরাসি বিপ্লব:
- ফরাসি বিপ্লবের স্লোগান ছিল স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- এই বিপ্লব হয়েছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই।
- ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে।
- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফরাসি বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন।
- ভলতেয়ার চেয়েছিলেন এমন একটি সমাজব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার সাধ্যমতো ভালো কাজ করবে।
- পূর্বতন সমাজে তিনটি গোষ্ঠী ছিল। এগুলো হলো যাজক শ্রেণি, অভিজাত শ্রেণি এবং জনসাধারণ। অভিজাত প্রভাবিত পূর্বতন সমাজের প্রতি শহরের জনতা ও বিপ্লবী বুর্জোয়া শ্রেণি অসন্তুষ্ট ছিল।
- ফরাসি বিপ্লবের সময় শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
কোরীয় যুদ্ধ:
- ১৯১০ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া উপদ্বীপ জাপানের অধীনে ছিল।
- কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হওয়ার ফলে ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে ভাগ করে।
- ১৯৪৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্ম হয়।
- শুরু থেকেই দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তপ্ত সম্পর্ক বিরাজ করে। এই যুদ্ধকে 'the Forgotten War' বলে অভিহিত করেছেন।
⇒ যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
- যুদ্ধ সংঘটনকাল: ১৯৫০-১৯৫৩ সাল।
▪ বিবাদমান পক্ষসমূহ: সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সমর্থিত - উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সমর্থিত - দক্ষিণ কোরিয়া।
▪ যুদ্ধের ফলাফল: কোরিয়া সংকটকালীন সময়ে ১৯৫০ সালের ৩ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শান্তির জন্য ঐক্য” (Uniting for Peace) প্রস্তাব পাশ করে এবং উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালায়।
- এ যুদ্ধের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ৩ নভেম্বর, ১৯৫০ সালে 'Uniting for peace resolution' পাশ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে ৩৮° সমান্তরাল রেখা বরাবর দুটি দেশের সীমান্ত নির্ধারিত হয়।
- অবশেষে ২৭ জুলাই, ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
উৎস: UN ওয়েবসাইট।
চে গুয়েভারার নাম শুনলেই চোখে ভাসে একজন রোমান্টিক-বিপ্লবীর অবয়ব।
১৯৬৭ সালে তাঁকে হত্যা করা হয়, কিন্তু দশকের পর দশক জুড়ে চে গুয়েভার হয়ে রয়েছেন তারুণ্যের প্রতীক।
চে গুয়েভার ১৪ জুন ১৯২৮ সালে আর্জেন্টিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৯ অক্টোবর হাজার ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে বলিভিয়ায় তাকে হত্যা করা হয়।
তার জীবন নির্ভর চলচ্চিত্র The Motorcycle Diaries।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও Britannica.com
• রুশ বিপ্লব:
- রাশিয়ার আর্থ-সামাজিক জীবনে এক গুণগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করে বলশেভিক বিপ্লব এর মধ্যদিয়ে।
- রুশ বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী দল- বলশেভিক পার্টি।
- অক্টোবর মাসে সংঘটিত হয়েছিল বলে এই বিপ্লবকে অক্টোবর বিপ্লব ও বলা হয়ে থাকে ।
- এটি পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব।
- এই বিপ্লবকে বলশেভিক বিপ্লব নামে অভিহিত করা হয়।
- এই বিপ্লবের মূলশক্তি ছিল শ্রমিক শ্রেণি।
- রুশ বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিলেন- ভ. ই . লেনিন।
- ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লব বুর্জোয়া যুগের অবসান ঘটিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
উৎস: i). আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)Britannica
• জ্যাকোবিন ক্লাব:
- জ্যাকোবিন ক্লাব ফরাসি বিপ্লবের সবচেয়ে পরিচিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী ছিল।
- ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৪ সালের মধ্যে তারা বিপ্লবের সরকার চালিয়েছিল।
- ক্লাবটি প্রথম শুরু হয়েছিল ভার্সাইলে, যেখানে বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধি মিলিত হয়ে বিপ্লবের পরিকল্পনা করতেন।
- পরবর্তীতে প্যারিসে এসে নাম হয় 'Society of the Friends of the Constitution', কিন্তু সবাই এটিকে 'জ্যাকোবিন ক্লাব' বলেই ডাকে।
- এর নামকরণ করা হয়েছিল Jacobin Convent (একটি ডোমিনিকান মঠ) থেকে, যেখানে সদস্যরা প্রথম সভা করেছিল।
- ক্লাবের উদ্দেশ্য ছিল বিপ্লবের অর্জন রক্ষা করা এবং বিপরীতদের প্রতিহত করা।
- Maximilien Robespierre ছিলেন এর অন্যতম প্রধান নেতা।
তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
বলশেভিক বিপ্লব (অক্টোবর বিপ্লব):
- ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের দুই পর্যায়ের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায় বা অক্টোবর বিপ্লব (যাকে বলশেভিক বিপ্লবও বলা হয়) ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
- ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি অস্থায়ী সরকারকে উৎখাত করে এবং ক্ষমতা দখল করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- লেনিন বিশ্বের প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের একনায়ক হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে,
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রোমানভ রাজবংশের পতন ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়। একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে অক্টোবর বিপ্লবে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটায়।
উৎস: i) History.com
ii) Britannica.
ATACMS ক্ষেপণাস্ত্র:
- যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এটিএসিএমএস (ATACMS) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালিয়েছে।
- এটিএসিএমএস একটি দূরপাল্লার ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র, যার পাল্লা ৩০০ কিলোমিটার।
- এটি সলিড রকেট প্রপোলেন্ট দিয়ে চলে, যা একে দ্রুত ও নির্ভুল করে তোলে।
- এই ক্ষেপণাস্ত্র গুচ্ছবোমা বা একক উচ্চমাত্রার বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
- গুচ্ছবোমা ব্যবহার বড় এলাকা ধ্বংস করতে পারে, তবে এতে অবিস্ফোরিত বোমার ঝুঁকি থাকে।
- এটিএসিএমএস (ATACMS) ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রথম ব্যবহৃত হয়।
- বর্তমানে এটি প্রিসাইশন স্ট্রাইক মিসাইল দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে, যা আরও অত্যাধুনিক এবং ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার।
সূত্র: প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার।
- ১৯১৯ সালে স্বাক্ষরিত ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। এই চুক্তিতে জার্মানিকে যুদ্ধের জন্য দায়ী করা হয় এবং তার উপর কঠোর শর্ত, যেমন বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ এবং সামরিক সীমাবদ্ধতা, আরোপ করা হয়।
ভার্সাই চুক্তি:
- দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি ফলাফল জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা ।
- এই চুক্তির মাধ্যমেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়।
- ২৮ জুন ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ।
- ভার্সাই চুক্তির পক্ষসমূহ ছিল মিত্রশক্তি এবং জার্মানি।
- চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে ।
সূত্র: Britannica.com
রুশ বিপ্লব:
- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় রুশ বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- মোট দুইটি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই দুটি বিপ্লব হলো ফেব্রুয়ারি বিপ্লব ও বলশেভিক বিপ্লব।
- এই বিপ্লবের ফলে রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী শাসনের পতন ঘটে এবং বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
⇒ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব (মার্চ, ১৯১৭):
- রুশ বিপ্লবের প্রথম পর্যায়কে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব বলা হয়।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের নেতৃত্ব ছিলেন আলেক্সান্দ্রো এফ. ক্যারেনস্কি (Aleksandr F. Kerensky)।
- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ফলে রোমানভ রাজবংশের পতন ঘটে এবং জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ ও বন্দি করা হয়।
- একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে অক্টোবর বিপ্লবে বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে রাশিয়ায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটায়।
⇒ বলশেভিক বিপ্লব/অক্টোবর বিপ্লব (নভেম্বর, ১৯১৭):
- রুশ বিপ্লবের দ্বিতীয় পর্যায়কে বলশেভিক বা অক্টোবর বিপ্লব বলে।
- বলশেভিক বিপ্লবের নেতা ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন।
- ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি অস্থায়ী সরকারকে উৎখাত করে এবং ক্ষমতা দখল করে।
- বলশেভিক বিপ্লবের ফলে রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- লেনিন বিশ্বের প্রথম কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের একনায়ক হয়ে ওঠেন।
উল্লেখ্য,
- রুশ বিপ্লবের ফলে ১৯২২ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়।
উৎস: i) History.com
ii) Britannica.
- ১৯৪৪ সালের ৬ জুন মিত্রশক্তি ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে ইতিহাসের বৃহত্তম উভচর সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এই ঘটনা 'ডি-ডে' নামে পরিচিত এবং এটি পশ্চিম ইউরোপকে নাৎসি দখলমুক্ত করার পথ প্রশস্ত করে ।
D-Day:
- D-Day দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত।
- 'D-Day' ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪৪ সালের ৬ জুন দখলকৃত ফ্রান্স উদ্ধারের জন্য মিত্রবাহিনী স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে এক অপারেশন পরিচালনা করে যার কোড নাম ছিলো Operation Overlord।
- ১৯৪৪ সালের ৬ই জুন, নাৎসী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে প্রায় ১ লক্ষ ৫৬ হাজার যৌথ বাহিনীর সদস্য ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলের ৫টি সৈকতে অবতরণ করেন।
- ৬ জুন দিনটিকে ডি ডে (D-Day) হিসাবে পালন করা হয়।
উল্লেখ্য,
- ১৯৪৪ সালের ৬ জুন ফ্রান্সে মিত্রপক্ষের সেনাবাহিনীর অবতরণের দিন স্থির হয়।
- ৬ জুন ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে চার হাজারেরও বেশি জাহাজে করে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার মিত্রবাহিনীর সেনা নর্মান্ডি উপকূলে অবতরণ করে।
সূত্র: History.com
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল,
• জার্মানি,
• জাপান,
• ইতালি।
- মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল,
• ব্রিটেন,
• ফ্রান্স,
• যুক্তরাষ্ট্র,
• সোভিয়েত ইউনিয়ন,
• চীন,
• পোল্যান্ড,
• নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
- ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে।
- ৭ মে ১৯৪৫ জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান।
তথ্যসূত্র - হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা কম।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের একটি।
- এ যুদ্ধের ফলে পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত থাকা দেশগুলোর রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন আসে।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- কেন্দ্রীয়শক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
⇒ যুদ্ধের সূচনা:
- ১৯১৪ সালে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের হবু সম্রাট ডিউক ফার্দিনান্দ সিংহাসনে আরোহণের কিছুদিন আগে সারায়েভো শহরে স্ত্রীসহ সার্বিয়ান বিচ্ছিন্নতাবাদী আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
- অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়ার ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয় এবং ওই বছরের ২৮ জুলাই যুদ্ধ ঘোষণা করে। এ যুদ্ধে দুই দেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে। এতে যোগ দেয় সে সময়ের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী প্রায় সব দেশ। এভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
⇒ যুদ্ধের ফলাফল: কেন্দ্রীয় শক্তির পতন ও মিত্র শক্তির বিজয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে ৪টি সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল। এগুলো হলো: রুশ, জার্মান, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় ও অটোমান।
- ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের ফলে জারতন্ত্রের পতন ঘটে।
- যুদ্ধের শেষে জার্মানি পরাজিত হলে এই সাম্রাজ্যেরও অবসান ঘটে।
- অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য ভেঙে একাধিক ছোট ছোট রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- ১৯২২ সাল নাগাদ অটোমান সাম্রাজ্য সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায় যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসের জন্ম দেয়।
উৎস: i) History.com
ii) Britannica.