বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পরিবেশ বিজ্ঞান ও দূষণসমূহ

মোট প্রশ্ন১৩৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পরিবেশ বিজ্ঞান ও দূষণসমূহ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ১৩৪

.
রামসার সাইট এর সাথে সম্পর্কিত কোনটি?
  1. বনভূমি
  2. মরুভূমি
  3. জলাভূমি
  4. পাহাড়ি অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
জলাভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাভূমি
ব্যাখ্যা
• রামসার সাইট এর সাথে সম্পর্কিত হলো জলাভূমি। 

• রামসার সাইট:
- রামসার সাইট হলো এমন সব জলাভূমি (Wetlands), যেগুলো আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে স্বীকৃত।
- এই সাইটগুলোকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার নাম "রামসার কনভেনশন (Ramsar Convention)"।
- এটি ইরানের রামসার শহরে ১৯৭১ সালে স্বাক্ষরিত একটি পরিবেশ চুক্তি, যা ইউনেস্কোর পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয়েছিল।

• রামসার সাইট চিহ্নিতকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো:
- জলাভূমিগুলোর সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- জলাভূমিগুলোর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করা।
- জলাভূমিগুলোর উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের অধিকার রক্ষা করা। 

• রামসার সাইট চিহ্নিতকরণের বিবেচ্য বিষয়:
- জলাভূমির প্রকারভেদ (যেমন: ম্যানগ্রোভ, হ্রদ, বিল ইত্যাদি)।
- জলাভূমি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য (যেমন: বিভিন্ন ধরনের পাখি, মাছ, উদ্ভিদ ইত্যাদি)।
- জলাভূমি অঞ্চলের জলবায়ু ও পরিবেশগত গুরুত্ব।
- জলাভূমি অঞ্চলের মানুষের উপর প্রভাব।

তথ্যসূত্র:
- Ramsar website [link]
- ব্রিটানিকা।
.
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ধারণ ক্ষমতা কত ডিবি?
  1. ৪৫-৫৫ ডিবি
  2. ৩৫-৪৫ ডিবি
  3. ৫৫-৬৫ ডিবি
  4. ২৫-৩৫ ডিবি
সঠিক উত্তর:
৪৫-৫৫ ডিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫-৫৫ ডিবি
ব্যাখ্যা
- যে কোনো বস্তুতে ঘর্ষণের ফলে এক ধরনের তরঙ্গ ধ্বনির সৃষ্টি হয়। এই তরঙ্গ ধ্বনি মূলত এক প্রকার শক্তি। 
- এই তরঙ্গ শক্তি মানুষের কানে প্রবেশ করে শ্রবণ অনুভূতি সৃষ্টি করে। ফলে আমরা শুনতে পাই। একে শব্দ বলে। 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের ধারণ ক্ষমতার ঊর্ধ্বে সৃষ্ট যে শব্দ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাকে শব্দ দূষণ বলে। 
-  National Center for Environmental Health (NCEH) এর তথ্যমতে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪৫-৫৫ ডেসিবল। 

 
উৎস: National Center for Environmental Health (NCEH) এবং পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি?
  1. নাইট্রাস অক্সাইড
  2. কার্বন মনোঅক্সাইড
  3. কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. সালফার ডাই অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সালফার ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা
এসিড বৃষ্টি: 
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে। 
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া। 
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে। 
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন- NO, NO2)
- এর মূলে তিনটি এসিডের (H2SO3, H2SO4, HNO3) ভূমিকা রয়েছে; যা প্রাইমারি বায়ুদূষক SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NOx) হতে উৎপন্ন হয়। 
 
অন্যদিকে, 
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়। 
 
উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
.
বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- 
  1. Microbiology
  2. Mycology
  3. Evolution
  4. Embryology
সঠিক উত্তর:
Evolution
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution
ব্যাখ্যা

– বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution. 

অন্যদিকে, 
- ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Embryology, 
- অণুজীব বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় Microbiology,  
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology. 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম কী?
  1. Hertz
  2. Newton
  3. Decibel
  4. Nanometer
সঠিক উত্তর:
Decibel
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Decibel
ব্যাখ্যা
• শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম হলো ডেসিবেল (Decibel)। ডেসিবেল শব্দের তীব্রতা বা আওয়াজের মাত্রা পরিমাপের একটি ইউনিট। এটি একটি লোগারিদমিক স্কেল যা শব্দের চাপ বা শক্তির তুলনামূলক মাত্রা নির্ধারণ করে। সাধারণভাবে, মানুষের কান ০ ডেসিবেল থেকে শুরু করে প্রায় ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ শুনতে পারে, যেখানে ১২০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ ক্ষতিকর হতে পারে। হার্টজ (Hertz) শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি পরিমাপ করে, নিউটন (Newton) বলের একক এবং ন্যানোমিটার (Nanometer) দৈর্ঘ্যের একক। তাই শব্দ দূষণ পরিমাপের সঠিক একক হলো গ) ডেসিবেল।

শব্দদূষণ:

- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল।
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।
সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়।

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ওজোন স্তর ক্ষয়কারী প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  2. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
  3. মিথেন
  4. নাইট্রোজেন অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
ব্যাখ্যা
• ওজোন স্তর ক্ষয়কারী প্রধান উপাদান হলো CFC বা ক্লোরোফ্লুরোকার্বন। 

• ওজোন স্তর:

- ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামুলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে ।

• ওজোন স্তরের ভূমিকা- 
-  সূর্য থেকে বিচ্ছুরিত অতিবেগুনি রশ্মিকে (Ultra-Violet Ray) শোষণ করে ভূপৃষ্ঠে আসতে দেয় না, যার ফলে জীবজগৎ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায় ।
 - বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে ।
 - জীববৈচিত্র রক্ষা করে ।
 - ওজোন গ্যাস সূর্যের তাপ ও অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে, ফলে এই স্তরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলেও তা বায়ুমন্ডলীয় তাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে ।

• CFC (Chlorofluorocarbons) হলো এমন রাসায়নিক যৌগ যা সাধারণত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, স্প্রে ক্যান এবং ফোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- এই যৌগগুলো বায়ুমণ্ডলে উঠে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে (stratosphere) পৌঁছে ওজোন (O3) গ্যাসকে ধ্বংস করে।

• ক্ষয় প্রক্রিয়া:
- CFC গ্যাস UV রশ্মিতে ভেঙে যায় → ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত হয়।
- একটি ক্লোরিন পরমাণু → হাজার হাজার ওজোন অণু ধ্বংস করতে সক্ষম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা।
.
নিচের কোনটি ওজোন স্তরের ক্ষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. প্যারিস চুক্তি
  2. কিটো প্রটোকল
  3. কারটেজেনা প্রটোকল
  4. মন্ট্রিল প্রটোকল
সঠিক উত্তর:
মন্ট্রিল প্রটোকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ট্রিল প্রটোকল
ব্যাখ্যা

প্যারিস চুক্তি:
- জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC) এর মধ্যে প্যারিস চুক্তি ২০১৫ সালে সম্পাদিত একটি ভলান্টারি চুক্তি।
- এই চুক্তিতে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রশমনে, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজন এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের ১৯২ টি সদস্য রাষ্ট্র এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

কিটো প্রটোকল:
- জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ইউনাইটেড নেশনস্ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (United Nations Framework Convention) কিটো প্রটোকল নামে পরিচিত।

কারটেজেনা প্রটোকল:
বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি সম্পর্কিত জীববৈচিত্র্য কনভেনশন (Bio-diversity Convention) কারটেজেনা প্রটোকল (Cartagena Protocol) নামে পরিচিত।

মন্ট্রিল প্রটোকল:
মন্ট্রিল প্রটোকল ওজোন স্তরের ক্ষয় (Montreal Protocol: Ozone layer Depletion) নিয়ে আলোচনা ছিল মূখ্য আলোচ্য বিষয়।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
‘সিএফসি’ কী ক্ষতি করে?
  1. ওজোন স্তর ধ্বংস করে
  2. এসিড বৃষ্টিপাত ঘটায়
  3. বায়ুর তাপ বৃদ্ধি করে
  4. রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে
সঠিক উত্তর:
ওজোন স্তর ধ্বংস করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওজোন স্তর ধ্বংস করে
ব্যাখ্যা

• CFC গ্যাস: 
-  CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর। 
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে। 
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
জীবমণ্ডলে বসবাসকৃত জীবকূলের সাথে পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার সম্পর্ক সংক্রান্ত বিজ্ঞাকে কী বলে?
  1. Horticulture
  2. Meteorology
  3. Ecology
  4. Toxicology
সঠিক উত্তর:
Ecology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ecology
ব্যাখ্যা
Ecology: 

• জীবমণ্ডলে বসবাসকৃত জীবকূলের সাথে পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ার সম্পর্ক সংক্রান্ত বিজ্ঞাকে Ecology বলে। 
• প্রকৃতপক্ষে Ecology বা বাস্তুসংস্থান হচ্ছে পৃথিবী নামক বসবাসকৃত গ্রহে জীবগোষ্ঠীর (উদ্ভিদ, প্রাণী, অনুজীব) সাথে পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্বলিত বিজ্ঞান।
• ইকোলজি হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা।
• আর্নেস্ট হেকেলের মতে, "ইকোলজি হচ্ছে জৈবিক বিশ্ব ব্যবস্থাপনার নিয়ম ও নীতির বিজ্ঞান"।

- অন্যদিকে,
• আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয় Meteorology.
• বিষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Toxicology.
• উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয় Horticulture.

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
১০.
ইকোলজি কী ব্যাখ্যা করে? 
  1. প্রাণির রোগবালাই
  2. জীবের আকার ও গঠন
  3. জিনগত পরিবর্তন
  4. জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক
সঠিক উত্তর:
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক
ব্যাখ্যা
ইকোলজি: 
- ইকোলজি হলো এমনই এক বিজ্ঞান যা জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক মিথস্ত্রিয়া ব্যাখ্যা করে। 
- জীব ও জড় পরিবেশের এই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ককেই বলা হয় বাস্তুসংস্থান। 
- পরিবেশ ও জীবের এই সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং মানুষ, জীব ও পরিবেশ একে অন্যের জীবনধারণের প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। 

বাস্তুসংস্থানের উপাদান: 
- বাস্তুসংস্থানের উপাদান মূলত দুটি। 
যথা- 
ক. সজীব উপাদান: 
- সজীব সম্প্রদায় হলো বাস্তুসংস্থানের জীব উপাদান। 
- সজীব উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, খনিজ লবণ প্রভৃতি জীব উপাদান গ্রহণ করে সৌরশক্তির মাধ্যমে নিজেদের শর্করা জাতীয় খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। এ সবুজ উদ্ভিদই উৎপাদক। 
২. খাদক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক কর্তৃক তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল জীবগোষ্ঠিকে বলে খাদক। খাদক তিন প্রকার। যথা- প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং তৃতীয় স্তরের খাদক। 
৩. বিয়োজক: ইকোসিস্টেম প্রক্রিয়ায় উৎপাদক ও খাদকের মৃতদেহ মাটিতে মিশে ব্যাকটেরিয়া, ক্ষুদ্র পোকামাকড় ইত্যাদির দ্বারা বিয়োজক স্তর গড়ে উঠে। পরিশেষে উৎপাদক জীবগোষ্ঠি পুনরায় বিয়োজক স্তর হতে খাদ্য গ্রহণ করে দেহে পুষ্টি জোগায়। 

খ. জড় উপাদান: 
- পরিবেশের সকল অজৈব ও জৈব উপাদান হলো বাস্তুসংস্থানের জড় উপাদান। 
- জড় উপাদান আবার তিন প্রকার। 
যথা- 
১. অজৈব উপাদান: মাটি, পানি, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, খনিজ লবণ ইত্যাদি হচ্ছে বাস্তুসংস্থানের অজৈব উপাদান। 
২. জৈব উপাদান: উদ্ভিদ ও প্রাণির মৃতদেহ হতে তৈরি হিউমাস ও ইউরিয়া হলো মাটির জৈব উপাদান। 
৩. ভৌত উপাদান: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ বাস্তুসংস্থানের ভৌত উপাদান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
কোন গ্যাস গ্রিন হাউস ইফেক্ট ঘটায়? 
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

- অপশনে উল্লিখিত গ্যাসসমূহের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস গ্রিন হাউস ইফেক্ট ঘটায়। 

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।
- গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 

- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে নিম্নে গ্রিন হাউস গ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- 
• গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ (Green House Gases): 
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2): 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড। জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়। বর্তমানে তরল ও কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে আইসক্রিম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে। 

২। মিথেন (CH4): 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। এছাড়াও জলাভূমিতে পানির নিচে পানা পচনের মাধ্যমে, ধানের বর্জ্য অবশিষ্টাংশের পচন থেকে মিথেন পাওয়া যায়। তাপ ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে মিথেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চাইতে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে। 

৩। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC): 
- সিএফসি সাধারণত বিষমুক্ত, নিষ্ক্রিয় এবং ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। সিএফসি হিমায়নে (ফ্রিজ, এসি) ও স্প্রে-ক্যানে (অ্যারেসোল), মাইক্রো ইলেকট্রিক সার্কিট ও প্লাস্টিক ফোমে ব্যবহৃত হয়। 

৪। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O): 
- অক্সিজেনের সাথে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি করে। এটিও বর্ণহীন, সামান্য মিষ্টিগন্ধযুক্ত। এই গ্যাসের উৎসসমূহ হলো মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, কারখানা। 

অন্যদিকে,
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়, এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে। 
- হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা গ্যাস যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় একটি রংহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন গ্যাস।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
কোন গ্যাসটি গ্রীনহাউস গ্যাস নয়?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. জলীয় বাষ্প
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

নাইট্রোজেন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মূল উপাদান হলেও গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে না। 

​গ্রীনহাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect):
- শীতপ্রধান দেশে গ্রীন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রীন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।

​গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ:
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2),
- মিথেন (CH4),
- নাইট্রাস অক্সাইড (N2O),
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC), 
- ওজোন (O3), 
- জলীয় বাষ্প। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং Royal Society of Chemistry.

১৩.
নিচের মানগুলোর মধ্যে পানির BOD কত হলে তা নিরাপদ পানযোগ্য পানি হিসেবে বিবেচিত হবে?
  1. 0
  2. 10
  3. 20
  4. 25
সঠিক উত্তর:
0
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0
ব্যাখ্যা
• BOD (Biochemical Oxygen Demand) :
- BOD (Biochemical Oxygen Demand) হলো পানির মধ্যে উপস্থিত জৈব বস্তুকে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচনের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের (DO - Dissolved Oxygen) পরিমাণ।
- এটি পানির জৈব দূষণের মাত্রা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- BOD এর মান 0 হলে পানিতে দূষণের পরিমাণ কম এবং তা নিরাপদ পানযোগ্য পানি হিসেবে বিবেচিত হবে।

 - BOD এর মান 1-2 mg/L=খুব পরিষ্কার পানি, দূষণ খুবই কম।
 - BOD এর মান 3-5 mg/L= মাঝারি দূষণযুক্ত পানি।
 - BOD এর মান 6-9 mg/L= উচ্চ মাত্রার দূষণ, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
 - BOD এর মান 10 mg/L বা তার বেশি = অত্যন্ত দূষিত পানি, যা জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক হতে পারে।

- উচ্চ BOD মান = বেশি জৈব দূষণ = পানির গুণমান খারাপ। 
- নিম্ন BOD মান = কম জৈব দূষণ = পানির গুণমান ভালো। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও WHO Website।
১৪.
কোন দূষক পদার্থটি সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না?
  1. নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
  2. সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
  3. সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2)
  4. অ্যামোনিয়া (NH3)
সঠিক উত্তর:
সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
ব্যাখ্যা
• প্রাইমারি দূষক:
যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে।
যেমন:
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
- কার্বন মনোক্সাইড (CO)
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2)
- সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2)
- অ্যামোনিয়া (NH3)
- ছাই, ধুলিকণা
- Volatile organic compounds (VOCs)

• সেকেন্ডারি দূষক:
যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে।
যেমন:
- সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
- নাইট্রিক এসিড (HNO3)
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2)
- সালফিউরিক এসিড (H2SO4)
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2)
- অ্যামোনিয়াম (NH4+)
- ওজোন (O3)

উল্লেখ্য - কিছু দূষণকারী পদার্থ প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উভয় দূষকই হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ: নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড জীবাশ্ব-জালানী থেকে এবং বজ্রপাত থেকে সৃষ্টি হয়, আবার এটি অন্যান্য রাসায়নিক থেকেও বায়ুমণ্ডলে তৈরি হতে পারে।

সূত্র: University of California এবং Energy Education
১৫.
গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে এমন গ্যাসগুলোর মধ্যে কোনটির পরিমাণ বায়ুমণ্ডলে সর্বাধিক?
  1. ওজোন
  2. মিথেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রাস অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

- গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে এমন গ্যাসগুলোর মধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)-এর পরিমাণ সর্বাধিক। 

গ্রীন হাউজ গ্যাস: 
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসকে প্রধান গ্রীন হাউজ গ্যাস বলা হয়। 
- এছাড়াও জলীয় বাষ্প (H2O), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে। 
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি, তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। 

গ্রিন হাউজ গ্যাস ⇔ বায়ুতে % পরিমাণ:
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস ⇔ 49%, 
২। মিথেন (CH4) গ্যাস ⇔ 18%, 
৩। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) গ্যাস ⇔ 6%, 
৪। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) গ্যাস ⇔ 14%, 
৫। ওজোন (O3) গ্যাস ⇔ 8% এবং 
৬। জলীয় বাষ্প ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

১৬.
‘গ্রীন হাউজ ইফেক্ট’ বলতে বুঝায়-
  1. তাপ আটকা পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
  2. উপগ্রহের সাহায্যে দূর থেকে ভূ-মণ্ডলের অবলোকন।
  3. সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণে ঘাটতি।
  4. প্রাকৃতিক চাষের বদলে ক্রমবর্ধমানভাবে কৃত্রিম চাষের প্রয়োজনীয়তা।
সঠিক উত্তর:
তাপ আটকা পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ আটকা পড়ে সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
ব্যাখ্যা
গ্রীন হাউস ইফেক্ট: 
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্রীন হাউস ইফেক্ট বলে। 
- বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় CO2, CFC, N2O2, CO, O3 ইত্যাদি পদার্থের আবরণ পৃথিবীকে আচ্ছাদন রূপে ঢেকে রেখে পৃথিবী পৃষ্ঠ হতে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাঁধা দেয় এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে। 
- পরিবেশ দূষণ এবং গাছপালা কেটে ফেলার ফলে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে, ফলে সূর্য থেকে তাপ বিকিরিত হয়ে পৃথিবীতে ঢোকার পর যতটা আবার পৃথিবীর বাইরে বিকিরিত হওয়া উচিত তা হচ্ছে না, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- গ্রীন-হাউজ ইফেক্ট এর ফলে তাপ আটকে পড়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭.
কোন ধরনের ভূখণ্ডে মেঘ বিস্ফোরণের ফলে আকস্মিক বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?
  1. সমতল, নিচু এলাকা
  2. শহুরে এলাকা
  3. উপকূলীয় অঞ্চল
  4. পাহাড়ি এলাকা
সঠিক উত্তর:
পাহাড়ি এলাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাহাড়ি এলাকা
ব্যাখ্যা
• মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):
- মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst) হলো একটি তীব্র এবং হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভারী বৃষ্টিপাত, যা সাধারণত একটি ছোট অঞ্চলজুড়ে ঘটে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়।
- এই ধরনের ঘটনা বিশেষত পার্বত্য অঞ্চলে ঘটে থাকে এবং এটি বিপজ্জনক বন্যার কারণ হতে পারে।
- মেঘ বিস্ফোরণের সময় বৃষ্টির পরিমাণ সাধারণত প্রতি ঘন্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তারও বেশি হতে পারে।

মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- হঠাৎ ঘটে: মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- সংকীর্ণ এলাকা: এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে। মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- ভারী বৃষ্টিপাত: মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।
- বিপজ্জনক প্রভাব: মেঘ বিস্ফোরণ কারণে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, এবং সম্পত্তি ও জীবনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে, কারণ সেখানে পানির প্রবাহ দ্রুত হয়ে থাকে।

মেঘ বিস্ফোরণের কারণ:
মেঘ বিস্ফোরণের মূল কারণ হলো বায়ুমণ্ডলের অস্থিতিশীল অবস্থা। গরম ও আর্দ্র বায়ু যখন দ্রুত উপরে উঠতে থাকে এবং ঠান্ডা বাতাসের সাথে মিশ্রিত হয়, তখন বৃহৎ মেঘ গঠন হতে শুরু করে। এই মেঘগুলি পানির বিশাল পরিমাণ ধারণ করে। যখন মেঘের অভ্যন্তরে এই জলীয় বাষ্প হঠাৎ ঘনীভূত হয়ে পড়ে, তখন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত শুরু হয়, যা মেঘ বিস্ফোরণের রূপ নেয়।

মেঘ বিস্ফোরণ প্রতিরোধ এবং সতর্কতা:
- মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনা পূর্বাভাস দেয়া বেশ কঠিন, তবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বৃষ্টিপাত এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে কিছুটা পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব। - পার্বত্য অঞ্চলে মেঘ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে এইসব স্থানে অবকাঠামো তৈরি এবং বাসস্থানের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। 
- তাছাড়া, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং জরুরি সেবা ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- সম্প্রতি আগস্ট, ২০২৪-এ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভয়াবহ মেঘ বিস্ফোরণের জন্য ত্রিপুরা সংলগ্ন বাংলাদেশের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী সহ ১১ টি জেলাইয় ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

সূত্র:
১) Britannica [লিংক]
২) The Business Standard [লিংক]
৩) prothomalo [লিঙ্ক]
১৮.
Which of the following ecosystems covers the largest area of the earth's surface?
  1. Desert Ecosystem
  2. Mountain Ecosystem
  3. Freshwater Ecosystem
  4. Marine Ecosystem
সঠিক উত্তর:
Marine Ecosystem
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Marine Ecosystem
ব্যাখ্যা
- The Marine Ecosystem is the largest existing ecosystem on our planet
- Covering over 71% of the Earth’s surface, it’s a source of livelihood for over 3 billion people. 
- The ocean also works as the main “lung” of our planet, releasing more oxygen into the atmosphere, notably through marine plants, than all the forests in the world, and absorbing 30% of the carbon dioxide produced by humans. 

উৎস: un.org
১৯.
পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain) হয় কোন অঞ্চলে?
  1. আর্কটিক অঞ্চল
  2. নাতিশীতষ্ণ অঞ্চল
  3. মেরিটাইম অঞ্চল
  4. ট্রপিকাল অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
ট্রপিকাল অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রপিকাল অঞ্চল
ব্যাখ্যা
• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain) হয় ট্রপিকাল বা নিরক্ষীয় অঞ্চলে।

• পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain):

- পরিচলন বৃষ্টি তখন ঘটে যখন পৃথিবীর একটি অঞ্চলে তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে এবং মাটি গরম হয়ে ওঠে।
- এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে বাতাসের মধ্যে তাপ স্থানান্তর ঘটায়, যা বাতাসকে উপরে উঠতে বাধ্য করে।
- উপরের দিকে উঠতে গিয়ে এই গরম বাতাসে জলীয় বাষ্প কনডেন্স (ঘনীকৃত) হয়ে বৃষ্টি সৃষ্টি করে।
- সাধারণত ট্রপিকাল(নিরক্ষীয়) অঞ্চলে (বিশেষত ইকুয়েটর অঞ্চল) এই ধরনের বৃষ্টি বেশি ঘটে, কারণ এখানে সূর্যের তাপ সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং দিনের বেলা তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে।
- এই ধরনের বৃষ্টির জন্য অপেক্ষাকৃত তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বাতাসের ওঠানামার প্রয়োজন, যা ট্রপিকাল অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২০.
নিচের কোনটি গ্রীনহাউজ গ্যাস নয়?
  1. জলীয় বাষ্প (H2O)
  2. কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2)
  3. মিথেন (CH4)
  4. নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
সঠিক উত্তর:
নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
ব্যাখ্যা
- গ্রীনহাউজ গ্যাস নয়- নাইট্রিক অক্সাইড (NO), এটি মূলত এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী একটি গ্যাস।

গ্রীন হাউজ গ্যাস ও গ্রীন হাউজ প্রভাব:
- শীতপ্রধান দেশে তাপমাত্রা প্রায় 0°C এর কাছাকাছি থাকে, এত কম তাপমাত্রায় শাকসব্জি চাষ চলে না। ফলে কাঁচের ছাউনিযুক্ত ঘর তৈরি করে এর মধ্যে সবুজ (green) শাকসজির চাষ করা হয়।
- সবুজ উদ্ভিদের ঐ কাঁচের ঘরকে গ্রীন হাউজ বলা হয়।
- গ্রীন হাউজের মধ্যে তাপমাত্রা 38°C থেকে 39°C এর মধ্যে থাকে।
- এটি সম্ভব হয় দৃশ্যমান আলোর সব তরঙ্গ গ্রীন হাউজের কাঁচকে ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে পারে।
- ভূপৃষ্ঠ দৃশ্যমান আলো তরঙ্গ (VIBGYOR) দ্বারা উত্তপ্ত হয়, কিন্তু উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ বৃহৎ তরঙ্গযুক্ত ইনফ্রারেড (IR) রশ্মি বিকিরণ করে, IR রশ্মি কাঁচ ভেদ করতে পারে না।

গ্রীন হাউজ গ্যাস:
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলে।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাসকে প্রধান গ্রীন হাউজ গ্যাস বলা হয়।
- এছাড়াও জলীয় বাষ্প (H2O), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রীন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে।
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি। তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
• গ্রিন হাউজ গ্যাস ⇔ বায়ুতে % পরিমাণ
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস ⇔ 49%,
২। মিথেন (CH4) গ্যাস ⇔ 18%,
৩। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) গ্যাস ⇔ 6%,
৪। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) গ্যাস ⇔ 14%,
৫। ওজোন )=(O3) গ্যাস ⇔ 8% এবং
৬। জলীয় বাষ্প।

অন্যদিকে,
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO) এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস।
- এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NO, NO2) ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২১.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়?
  1. মিথেন
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রাস
  4. কার্বন ডাই অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

• অক্সিজেন গ্রীন হাউস গ্যাস নয়।

• গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে -
- জলীয় বাষ্প,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড, 
- মিথেন,
- ওজোন,
- ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি।

- কার্বন ডাই সালফাইড (CS2) এবং কার্বনিল সাইফাইড (COS) পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি - বোর্ড বই, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.

২২.
'গ্রে-হাইড্রোজেন'-এর তুলনায় 'গ্রীন-হাইড্রোজেনের' সুবিধা হল -
  1. এটি উৎপাদন করা সস্তা
  2. এতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়
  3. এটি সংরক্ষণ এবং পরিবহন করা সহজ
  4. প্রতি একক আয়তনে এর শক্তি ঘনত্ব বেশি
সঠিক উত্তর:
এতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এতে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়
ব্যাখ্যা

- গ্রে-হাইড্রোজেনের তুলনায় গ্রীন-হাইড্রোজেনের প্রধান সুবিধা হলো এর উৎপাদন ও ব্যবহারে কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য হয়, যা পরিবেশবান্ধব, যদিও বর্তমানে এটি উৎপাদন করা ব্যয়বহুল। 

হাইড্রোজেনের রঙভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ: 
- ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী সমর্থন, ব্যবহারের বহুমুখীতা এবং উচ্চ শক্তির ঘনত্ব হাইড্রোজেনকে জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের জন্য একটি সম্ভাব্য বিঘ্নকারী প্রযুক্তিতে পরিণত করে। এই ভূমিকা পালনকারী হাইড্রোজেন শক্তিকে সহজতর করার জন্য এমন একটি শ্রেণীবিন্যাস প্রবর্তন করা প্রয়োজন যা ব্যবহৃত হাইড্রোজেনের কার্বন পদচিহ্নকে আলাদা করে। 

হাইড্রোজেনের প্রকারভেদ:
- ন্যাশনাল গ্রিড গ্রুপ বাদামী হাইড্রোজেন এবং গোলাপী হাইড্রোজেন সহ নয় ধরণের হাইড্রোজেনের নামকরণ করেছে।
- তবে সবচেয়ে সাধারণ তিনটি হলো- ধূসর হাইড্রোজেন (Grey Hydrogen), নীল হাইড্রোজেন (Blue Hydrogen) এবং সবুজ হাইড্রোজেন (Green Hydrogen)। 
- হাইড্রোজেনকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করার একটি প্রধান কারণ হলো সবুজ ধোয়ার সুযোগ সীমিত করা। কারণ বর্তমানে উৎপাদিত বেশিরভাগ হাইড্রোজেন দূষণকারী এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভর করে।
- সাধারণ তিনটি হাইড্রোজেন সম্পর্কে নিম্নে বর্ণনা দেওয়া হলো- 
১. ধূসর হাইড্রোজেন (Grey Hydrogen):
- ধূসর হাইড্রোজেন হলো হাইড্রোজেনের সবচেয়ে সাধারণ ধরণ। এটি মূলত বাষ্প মিথেন সংস্কার (SMR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয় যেখানে প্রাকৃতিক গ্যাস বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বভাবতই, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা এটিকে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং গ্রিনহাউস গ্যাস-ভারী করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে, হাইড্রোজেন উৎপাদনের সরাসরি ফলাফল হিসেবে বার্ষিক ৮৩০ মিলিয়ন টনেরও বেশি CO2 উৎপন্ন হয়।

২. নীল হাইড্রোজেন (Blue Hydrogen): 
- নীল হাইড্রোজেন হলো ধূসর হাইড্রোজেন উৎপাদনকে কার্বনমুক্ত করার প্রচেষ্টার ফলাফল। CCS (কার্বন ক্যাপচার এবং স্টোরেজ) প্রযুক্তি এবং CCU (কার্বন ক্যাপচার এবং ব্যবহার) উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে একত্রিত হয়ে মোট কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমায়। তবে, নীল কার্বন প্রকল্পের কার্বন ক্যাপচারের হার ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। 

৩. সবুজ হাইড্রোজেন (Green Hydrogen): 
- সবুজ হাইড্রোজেন হলো কম কার্বন হাইড্রোজেন উৎপাদনের একমাত্র রূপ। এটি সৌর, বায়ু এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে শক্তির উপর নির্ভর করে, যা তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হাইড্রোজেন উৎপাদন করে। প্রক্রিয়াটি সহজ এবং কোনও CO2 নির্গত করে না, যার ফলে সবুজ হাইড্রোজেন সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত প্রকার।

বিশ্বব্যাপী, সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন মোট উৎপাদিত হাইড্রোজেনের ১% এরও কম। সবুজ হাইড্রোজেনকে পিছনে রাখার প্রধান বাধা হল দাম। ২০২১ সালের হিসাবে, সবুজ হাইড্রোজেনের দাম ধূসর হাইড্রোজেনের চেয়ে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি এবং নীল হাইড্রোজেনের দামের দ্বিগুণ। এই দাম সম্ভবত এটিকে শক্তির জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে এবং ধূসর হাইড্রোজেনের সাথে খরচ-প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে, যার ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: International Energy Week Report [লিঙ্ক]।

২৩.
কোন এলাকাগুলো গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে? 
  1. পাহাড়ি এলাকা 
  2. অরণ্য
  3. সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল 
  4. মরুভূমি 
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল 
ব্যাখ্যা

পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব: 
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে আবদ্ধ। 
- লক্ষ লক্ষ প্রজাতির উদ্ভিদ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছে জীববৈচিত্র্য। 
- অরণ্য, পাহাড়, জলাভূমি, সমুদ্র জীববৈচিত্র্যের অতীব প্রয়োজনীয় আঁধার। তাই পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহ যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি প্রয়োজনীয় উপকরণ নিরবিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে।
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যাবে, ফলে চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হবে।
- গ্রীন হাউজ অর্থ সবুজ ঘর, এটি কাচ দিয়ে তৈরি ঘর। প্রয়োজনমত তাপমাত্রা সৃষ্টি করে সবুজ গাছ পালা জন্মানো হয়। 
- সাধারণত শীত প্রধানদেশে এ ধরনের কাচের ঘর তৈরি করে শসা, টমেটো, কপি, লেটুস, ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের শাকসব্জি চাষ করা হয়। সূর্য্যের দৃশ্যমান আলো গ্রীন হাউজের কাচের প্রাচীর ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে কিন্তু বিকিরিত আলোকরশ্মি কাচ ভেদ করে বাইরে আসতে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে তাপ ভেতরে থেকে যায়, কাচের ঘর গরম হয় এবং গাছ জন্মানোর জন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়। 

- গ্রীন হাউজ প্রভাব বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার সাথে সংযুক্ত। 
- সূর্য থেকে আগত দৃশ্যমান আলোক রশ্মি ভূপৃষ্ঠ থেকে ইনফ্রারেড রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে বাইরে চলে যাবার চেষ্টা করে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস (CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) ইনফ্রারেড রশ্মিকে শোষণ করে। ফলে বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে ইনফ্রারেড রশ্মি যেতে পারে না। বায়ুমণ্ডলের গ্যাসসমূহ গ্রীন হাউজের কাচের দেয়ালের ন্যায় কাজ করে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধি পাবার ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বলা হয়। 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল। এছাড়া সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এর তীব্রতা বেড়ে যাবে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। 
- কিন্তু পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীন হাউজের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। 
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বেশি বেশি গাছপালা ধ্বংস করা এবং শিল্পায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড মানুষের মধ্যে তফাৎ লক্ষ্য করা যায়?
  1. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. স্বভাবগত বৈচিত্র্য
  4. জিনগত বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

• মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড মানুষের মধ্যে তফাৎ প্রধানত জিনগত বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে লক্ষ্য করা যায়। এটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও বংশগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
 
জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 

১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
গ্রিন হাউস এফেক্টের ফলে নিচের কোনটি সংঘটিত হবে না? 
  1. আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়া  
  2. ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া 
  3. সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া 
  4. সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া 
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া 
ব্যাখ্যা

- গ্রিন হাউস এফেক্টের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে না, বরং বেড়ে যায়। 

গ্রিন হাউস এফেক্ট: 

- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রিনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রিন হাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 
- গ্রিনহাউস এফেক্টের কারণে- 
• সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
• আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে, 
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
• ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে।
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রিনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬.
কয়লার দহনের সময় কোন গ্যাস বায়ুতে মিশে এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে? 
  1. মিথেন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সালফার ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
জ্বালানি বিশুদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব: 
- জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের ফলে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস, পানি ও তাপের সৃষ্টি হয়। 
- স্বল্প বায়ুতে জ্বালানি দহন করলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের সাথে কিছু পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসও উৎপন্ন হয়। 
- কার্বন মনোক্সাইড (CO) খুব বিষাক্ত গ্যাস, এটি নীরব ঘাতক গ্যাস নামে পরিচিত এবং স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- জীবাশ্ম জ্বালানি কয়লার মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ বর্জ্য সালফার ও নাইট্রোজেন থাকে। 
- কয়লার দহনের সময় বর্জ্য সালফার পরিবর্তিত হয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) এবং নাইট্রোজেন তার বিভিন্ন অক্সাইড যৌগ হিসেবে বায়ুতে মিশে থাকে। সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস বায়ুতে মিশে বায়ুর ঘনত্ব বৃদ্ধি করে এবং জলীয় বাষ্পের সাথে যুক্ত হয়ে সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে থাকে। সালফিউরিক এসিড, এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে। 
- নাইট্রোজেন অক্সাইডও একইভাবে জলীয় বাষ্পের সাথে যুক্ত হয়ে নাইট্রিক এসিড, নাইট্রাস এসিড উৎপন্ন করে যা এসিড বৃষ্টি সৃষ্টিকারী উপাদান। 

- ইঞ্জিনের নকিং ক্ষমতা কমানোর জন্য জ্বালানি তেলের সাথে টেট্রাইথাইল লেড (TEL) মিশ্রিত করে দেয়া হয়। 
- এ ধরনের জ্বালানির দহনের ফলে লেড অক্সাইড (PbO) ও লেড ডাই অক্সাইড (PbO2) যৌগের সৃষ্টি হয় যা মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান। এটি শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটাতে বাঁধা সৃষ্টি করে। 
- এছাড়া যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), অদগ্ধ গ্যাসীয় জ্বালানি বিশেষত মিথেন বায়ুতে মিশে থাকে। 
- এসব বর্জ্য উপাদান বায়ুতে এসে সূর্য্যের আলোর উপস্থিতিতে বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষাক্ত ধোঁয়ার সৃষ্টি করে যা 'ফটোকেমিক্যাল ধোঁয়া' হিসেবে পরিচিত। এ ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে ক্ষয় করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভূমিকা রাখে। এই সবকিছু বিবেচনা করে আমাদেরকে পরিবেশ বান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত বিশুদ্ধ জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা কত? 
  1. ১-১০০ ডেসিবল
  2. ১-৯০ ডেসিবল
  3. ১-১২০ ডেসিবল
  4. ১-৭৫ ডেসিবল
সঠিক উত্তর:
১-৭৫ ডেসিবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-৭৫ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দ দূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আওয়াজই শব্দ দূষণ। 
- মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল। 
- কিন্তু ৮৫ ডেসিবল অথবা তার অধিক হলে একজন মানুষ শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। 
- শব্দ দূষণ প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় কারণেই হতে পারে। 
- তবে মানবসৃষ্ট কারণই মুখ্য। 
- শব্দ দূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়। 
- সাধারণত শহরাঞ্চলে পরিবেশগত এই সমস্যা অধিক হয়ে থাকে। 


উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে জুপ্ল্যাঙ্কটন ভক্ষণকারী ছোট মাছ কোন স্তরের খাদক?
  1. উৎপাদক স্তর
  2. প্রথম স্তরের খাদক
  3. দ্বিতীয় স্তরের খাদক
  4. তৃতীয় স্তরের খাদক
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় স্তরের খাদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় স্তরের খাদক
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয় স্তরের খাদক হলো সেই সকল জীব, যারা প্রথম স্তরের খাদকের ওপর নির্ভর করে খাদ্য গ্রহণ করে; যেমন পুকুরে ছোট মাছ, ব্যাঙ ও কিছু জলজ পতঙ্গ।

• বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem):
- নির্দিষ্ট পরিবেশে সজীব ও নির্জীব উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার গতিময় ব্যবস্থাকে বাস্তুতন্ত্র বলে।
- এখানে জীব ও পরিবেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।

• বাস্তুতন্ত্রের উপাদান:
- বাস্তুতন্ত্র মূলত দুই প্রকার উপাদান নিয়ে গঠিত—অজৈব উপাদান ও জৈব উপাদান।

• অজৈব উপাদান:
- পানি, মাটি, কার্বন ডাইঅক্সাইড, অক্সিজেন, আলো, তাপ, আর্দ্রতা, খনিজ লবণ প্রভৃতি অজৈব উপাদান।
- এগুলো জীবের বেঁচে থাকা ও খাদ্য উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।

• জৈব উপাদান:
- জৈব উপাদান তিন প্রকার—উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক।

• উৎপাদক (Producer):
- সবুজ উদ্ভিদ ও শৈবাল সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে।
- এরা স্বভোজী (Autotroph)।
- উদাহরণ: শৈবাল, জলজ উদ্ভিদ, প্ল্যাঙ্কটন।

• খাদক (Consumer):
- যারা নিজে খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না এবং উৎপাদক বা অন্যান্য জীবের ওপর নির্ভর করে তাদের খাদক বলে।
- খাদক তিন প্রকার—
- প্রথম স্তরের খাদক: উৎপাদককে সরাসরি খায়।
- উদাহরণ: মশার লার্ভা, ভাসমান ক্ষুদ্র প্রাণী (জুপ্ল্যাঙ্কটন), কিছু জলজ পোকা।
- দ্বিতীয় স্তরের খাদক: প্রথম স্তরের খাদককে খায়।
- উদাহরণ: ছোট মাছ, ব্যাঙ, কিছু জলজ পতঙ্গ।
- তৃতীয় স্তরের খাদক: দ্বিতীয় স্তরের খাদককে খায়।
- উদাহরণ: বড় মাছ (শোল, বোয়াল), বক, পানকৌড়ি।

• বিয়োজক (Decomposer):
- মৃত জীবদেহ ভেঙে সরল পদার্থে পরিণত করে।
- উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক।
- বিয়োজিত পদার্থ পুনরায় উৎপাদক ব্যবহার করে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- উৎপাদক → সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনকারী স্বভোজী জীব।
- প্রথম স্তরের খাদক → সরাসরি উৎপাদক ভক্ষণকারী তৃণভোজী প্রাণী।
- তৃতীয় স্তরের খাদক → দ্বিতীয় স্তরের খাদকের ওপর নির্ভরশীল উচ্চস্তরের মাংসাশী প্রাণী।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯.
নিচের কোনটি গ্রিন হাউস গ্যাস নয়?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. মিথেন
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) নাইট্রোজেন

- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো সেই গ্যাস যারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রেখে গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।
- প্রধান গ্রিন হাউস গ্যাসগুলো হলো:
⋅ কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)
⋅ মিথেন (CH4)
⋅ নাইট্রাস অক্সাইড (N2O)
⋅ ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC)
⋅ ওজোন (O3) ইত্যাদি

অন্যদিকে,
- নাইট্রোজেন (N2) এবং অক্সিজেন (O2) বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকলেও (নাইট্রোজেন ≈ ৭৮% এবং অক্সিজেন ≈ ২১%) এরা গ্রিন হাউস গ্যাস নয়। এদের তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা খুবই কম, তাই এরা গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে না।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৩০.
কোন্ গ্যাস গ্রিন হাউস ইফেক্ট ঘটায়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. মিথেন
সঠিক উত্তর:
মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথেন
ব্যাখ্যা

- অপশনে উল্লিখিত গ্যাসসমূহের মধ্যে মিথেন গ্যাস গ্রিন হাউস ইফেক্ট ঘটায়। 

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 

- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।
- গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 

- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে নিম্নে গ্রিন হাউস গ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- 
গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ (Green House Gases): 
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2): 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড। জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়। বর্তমানে তরল ও কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে আইসক্রিম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে। 

২। মিথেন (CH4): 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। এছাড়াও জলাভূমিতে পানির নিচে পানা পচনের মাধ্যমে, ধানের বর্জ্য অবশিষ্টাংশের পচন থেকে মিথেন পাওয়া যায়। তাপ ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে মিথেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চাইতে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে। 

৩। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC): 
- সিএফসি সাধারণত বিষমুক্ত, নিষ্ক্রিয় এবং ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। সিএফসি হিমায়নে (ফ্রিজ, এসি) ও স্প্রে-ক্যানে (অ্যারেসোল), মাইক্রো ইলেকট্রিক সার্কিট ও প্লাস্টিক ফোমে ব্যবহৃত হয়। 

৪। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O): 
- অক্সিজেনের সাথে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি করে। এটিও বর্ণহীন, সামান্য মিষ্টিগন্ধযুক্ত। এই গ্যাসের উৎসসমূহ হলো মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, কারখানা। 

অন্যদিকে,
- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়, এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে। 
- হাইড্রোজেন সবচেয়ে হালকা গ্যাস যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় একটি রংহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন গ্যাস।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
ওজোন গ্যাস রয়েছে-
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) মেসোস্ফিয়ারে
  3. গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ারে
  4. ঘ) আয়নোস্ফিয়ারে
সঠিক উত্তর:
গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্ট্রাটোস্ফিয়ারে
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠ থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ট্রপোস্ফিয়ারের উপরের স্তর স্ট্রাটোস্ফিয়ারে রয়েছে ওজোন গ্যাস যা আমাদেরকে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে৷
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৩২.
গ্রিন হাউজ গ্যাসের উদাহরণ কোনটি? 
  1. আর্গন
  2. হাইড্রোজেন
  3. মিথেন
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথেন
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে। 
- ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে। 
- এর ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে। 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে: 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
মিথেন
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

অন্যদিকে,
- আর্গন, হাইড্রোজেন ও সালফার ডাই-অক্সাইড গ্রীন হাউজ গ্যাস নয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩.
নিচের কোনটি গ্রীনহাউস গ্যাস?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. মিথেন
সঠিক উত্তর:
মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথেন
ব্যাখ্যা

• গ্রীন হাউস গ্যাস: 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে- 
• জলীয় বাষ্প,
• কার্বন ডাই অক্সাইড,
• নাইট্রাস অক্সাইড,
• মিথেন,
• ওজোন,
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি।
- কার্বন ডাই সালফাইড (CS2) এবং কার্বনিল সাইফাইড (COS) পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.

৩৪.
নদী ভরাট বা দখল পরিবেশে কী প্রভাব ফেলে?
  1. নদীর গভীরতা বাড়ে।
  2. মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
  3. বন্যার ঝুঁকি বাড়ে।
  4. পানির প্রবাহ দ্রুত হয়।
সঠিক উত্তর:
বন্যার ঝুঁকি বাড়ে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্যার ঝুঁকি বাড়ে।
ব্যাখ্যা
• নদী ভরাট বা দখল করার ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। যার ফলে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। 

এতে যা ঘটে থাকে —
-  নদীর ধারণক্ষমতা কমে যায়।
-  বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানি নদীতে জায়গা না পেয়ে প্লাবিত হয়।
ফলে বন্যার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।

এছাড়াও,
• নদী ভরাট বা দখলের কারণে— 
- জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
-  মৎস্য সম্পদ হ্রাস পায়।
- জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়।

তথ্যসূত্র: 
-  সপ্তম শ্রেণি, বিজ্ঞান ও পরিবেশ ; জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। 
-  বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB): নদী ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ বিষয়ে প্রতিবেদন।
৩৫.
খাদ্য শৃঙ্খলের উদাহরণ হিসেবে কোনটি সঠিক? 
  1. পাখি → পশু → সাপ → ঘাস
  2. পতঙ্গ → মাটির নিচে প্রাণী → ঈগল
  3. মাছ → পাখি → উদ্ভিদ → ব্যাঙ → সাপ
  4. ঘাস → পতঙ্গ → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল
সঠিক উত্তর:
ঘাস → পতঙ্গ → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘাস → পতঙ্গ → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল
ব্যাখ্যা
খাদ্য শৃঙ্খল: 
- এ পৃথিবীতে সকল শক্তির উৎস সূর্যের আলো। 
- বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদক হচ্ছে সবুজ উদ্ভিদ। 
- প্রাথমিক স্তরের খাদক খাদ্যের জন্য উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল। আবার দ্বিতীয় স্তরের খাদক নির্ভরশীল প্রাথমিক স্তরের খাদকের উপর। তৃতীয় স্তরের খাদক খায় দ্বিতীয় স্তরের খাদকদেরকে। এভাবে একটি বাস্তুতন্ত্রে সকল জীব (উদ্ভিদ ও প্রাণী) পুষ্টি চাহিদার দিক থেকে ধারাবাহিকভাবে সংযুক্ত থাকে আর এভাবে গড়ে উঠে খাদ্যশৃঙ্খল। 
অর্থাৎ, উদ্ভিদ উৎস থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে একে অন্যকে খাওয়ার মাধ্যমে শক্তির যে স্থানান্তর ঘটে, তাই খাদ্যশৃঙ্খল। 
যেমন: ঘাস → পতঙ্গ → ব্যাঙ → সাপ → ঈগল। 

খাদ্যজাল: 
- বাস্তুতন্ত্রে অসংখ্য খাদ্যশৃঙ্খল থাকে। 
- এসব খাদ্যশৃঙ্খল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বিভিন্ন খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। খাদ্যশৃঙ্খলের এ ধরনের সংযুক্তিকে খাদ্যজাল বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
ক) অপশনের শৃঙ্খলটি সঠিক নয় কারণ এখানে পাখি, পশু, সাপ এবং ঘাসের মধ্যে খাদ্য শৃঙ্খল সঠিকভাবে অনুসৃত হয়নি। ঘাস একটি উৎপাদক হিসেবে শুরু হওয়া উচিত ছিল, এবং পশু ও পাখি সাধারণত শিকারি বা ভোক্তা প্রাণী হিসেবে কাজ করে। 
খ) অপশনের শৃঙ্খলেও একটি সঠিক খাদ্য শৃঙ্খল নেই, কারণ মাটির নিচে প্রাণী (যেমন শুঁটকি বা মাটির প্রাণী) পাখির খাদ্য হতে পারে, তবে এখানে উৎপাদক এবং অন্য স্তরের ভোক্তাদের সম্পর্ক সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়নি। 
গ) অপশনের শৃঙ্খলটি সঠিক নয়, কারণ এখানে মাছ, পাখি, উদ্ভিদ, ব্যাঙ, এবং সাপের মধ্যে খাবারের চেইন ঠিকভাবে সাজানো হয়নি। উদ্ভিদ (যেমন ঘাস) সাধারণত খাদ্য শৃঙ্খলের প্রথম স্তরে থাকবে, তারপর ভোক্তা প্রাণীরা আসবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩৬.
পরিবেশ দূষণের প্রাকৃতিক কারণ নয় কোনটি?
  1. বন্যা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. গাছপালা নিধন
  4. অগ্ন্যুৎপাত
সঠিক উত্তর:
গাছপালা নিধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছপালা নিধন
ব্যাখ্যা
পরিবেশ দূষণ (Environment Pollution):

- পরিবেশে জীবের স্বাভাবিক অবস্থা বা জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টিতে সক্ষম ক্ষতিকর অবস্থার নাম দূষণ।
- অন্যদিকে পানি, বাতাস, মৃত্তিকা বা পরিবেশের কোনো উপাদানের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিবর্তনই প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণ।
- মানুষের বহুমুখী কর্মকাণ্ডই পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ।

প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণ:
- প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। যথা:

১/ প্রাকৃতিক কারণ: 
বন্যা ও খরা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।

২/ মানবসৃষ্ট কারণ: 
গাছপালা নিধন, পাহাড় কর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, কীটনাশক ব্যবহার, ভূ-গর্ভস্থ পানি আহরণ, শিল্প র্বজ্য, জ্বালানি দহনের নির্গত ধোঁয়া।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
গ্রীনহাউস এফেক্টের প্রভাবে নিচের কোনটি ঘটে না?
  1. আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়া
  2. ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া
  3. সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া
  4. সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
গ্রীনহাউস এফেক্ট: 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রীনহাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 
 
গ্রীনহাউস এফেক্টের কারণে- 
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে। 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮.
নিম্নের কোনটি বাংলাদেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত
  2. উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল
  3. গ্রীষ্মে কালবৈশাখী ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত
  4. ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর গতির পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীতকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু: 
- কৃষিকাজ আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল। 
- কোন স্থানের জলবায়ু সম্পর্কে জানতে হলে সে স্থানের আবহাওয়া সম্পর্কে প্রথমে জানা দরকার। 
- আবহাওয়া বলতে কোন স্থানের দৈনন্দিন বায়ুমন্ডলের অবস্থা অর্থাৎ কোন স্থানের দৈনিক বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর গতি ও চাপ, সূর্যালোক প্রভৃতির সামগ্রিক অবস্থাকে বোঝায়। 
- আবার জলবায়ু বলতে কোন স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড়কে বোঝায়। 
- বাংলাদেশের জলবায়ু অনেকটা সমভাবাপন্ন। কারণ সারা বছরের জলবায়ুর তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনা। 
- কোন অঞ্চলের কৃষি জলবায়ু সেই অঞ্চলের ফসল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন প্রায় সম্পূর্নভাবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রাপ্ত বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে। 
- আমাদের দেশে দুই ধরণের মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। একটি দক্ষিন পশ্চিম মৌসুমী জলবায়ু যা গ্রীষ্মকালে প্রবাহিত হয়। গ্রীষ্মকালে দক্ষিন পশ্চিম দিক হতে আর্দ্র-মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের প্রধান ফসল ধান, পাট, আখ, চা প্রভৃতি প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয়। 
- আবার শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে আগত শুষ্ক মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়। এসময় তাপমাত্রা কম থাকে। শীতকালে শীতকালীন ফসল যেমন-ডাল, তৈলবীজ, আলু, পেঁয়াজ, শীতকালীন শাক-সবজি ইত্যাদি প্রচুর পরিমানে উৎপন্ন হয়। 
- এদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশী হয় বলে সেখানে চা, রাবার, ইত্যাদির চাষাবাদ হয়। 
- মৌসুমি জলবায়ুর দ্বারা এদেশের বনজ সম্পদও প্রভাবিত হয়। 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদির মধ্যে যথেষ্ঠ পার্থক্য রয়েছে এসব কারণে বিশেষ কোন অঞ্চলে নির্দিষ্ট কিছু ফসল ভাল জন্মে। 
- কোন অঞ্চলে উদ্ভিদ ও কৃষি উৎপাদন দেখে সে স্থানে কৃষি জলবায়ু সম্পর্কে ধারণা করা যায়। 

- বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- 
১. ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর গতির পরিবর্তন হয়, ফলে জলবায়ুতে পরিবর্তন ঘটে। 
২. জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক ও নাতিশীতোষ্ণ শীতকাল। 
৩. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে কাল বৈশাখীসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত এবং বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, কিন্তু শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান -
  1. অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  4. আর্গন ও নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 

• বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
• বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
- অক্সিজেন ২০.৭১%,
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০.
গ্রিন হাউস প্রভাবের মাধ্যমে কী ঘটে? 
  1. বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করা হয়
  2. বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. সূর্যের আলো সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়
  4. বায়ুমণ্ডল থেকে পানি সরাসরি হারিয়ে যায়
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করা হয়
ব্যাখ্যা

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে। 
- গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে? 
  1. ওজোন
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন মনো-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
পরিবেশ দূষণ: 
- প্রাকৃতিক কারণে অথবা মানুষের কার্যকলাপে সৃষ্ট উদ্ভুত দূষিত পদার্থ যখন পরিবেশকে বিষময় করে তোলে তখনই দূষণ শব্দটা ব্যবহার করা হয়। 
- পরিবেশের প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপাদান, যেমন-মাটি, পানি, বায়ু ইত্যাদির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব পরিবর্তন ঘটলে তা জীবজগতের উপর ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে, এটিকে পরিবেশ দূষণ বলে। 
- ক্ষতিকর পদার্থের বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যহত হয়, তখনই পরিবেশ দূষিত হয়। 
- ধরিত্রী তার মানুষ দিয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। 
যেমন- জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যা, বনজ সম্পদ ধ্বংস, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন, নদী-নালা, খাল-বিল ভরাট, ইটভাটা, ভূমিক্ষয়, অচল ও অধিক যানবাহন ব্যবহার ও অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার ইত্যাদি। 

জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট সমস্যা: 
- সমগ্র বিশ্বে আজ জলবায়ুর পরিবর্তনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।
- এই জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন।
- ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা প্রভৃতি দেশ অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে হিমালয়ের বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে।
- বিজ্ঞানীরা বলছেন, এভাবে যদি চলতে থাকে তবে আগামী ৩০ বছরে সমুদ্রের উপকূলবর্তী অনেক দেশ সমুদ্রের তলে বিলীন হয়ে যাবে।
- আমাদের দেশেরও অধিকাংশ ভূমি সমুদ্রতলে হারিয়ে যাবে। বিপন্ন হবে জীবন ও সম্পদ।
- এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খরা, নদীর প্রবাহ হ্রাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস পানযোগ্য পানির অভাব, মৎস্যসম্পদ ধ্বংস, ফসল উৎপাদন হ্রাস, ভূমিকম্প ইত্যাদি ভয়াবহ দুর্যোগে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২.
কোন গ্যাস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী নয়?
  1. CFC
  2. NO3
  3. CO2
  4. N2O
সঠিক উত্তর:
NO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NO3
ব্যাখ্যা

◉ NO3 (নাইট্রেট আয়ন) পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে, গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে না।

গ্রিন হাউজ প্রভাব:
- গ্রিন হাউজ হলো এমন একটি কাঁচের ঘর যেখানে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গাছপালা জন্মানোর জন্য উপযোগী আবহাওয়া তৈরিকরা হয়।
- সূর্যের আলো যখন এই কাঁচের ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে তখন ভিতরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- পৃথিবীও গ্রিন হাউজের মত এমন একটি আবাসস্থল যেখানে প্রতিদিনই তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা পৃথিবী হতে দূরীভূত হচ্ছে না।
- গ্রিন হাউজের তাপমাত্রা ধরে রাখার প্রক্রিয়াটি বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- এ কারণেই গ্রিন হাউজ এর সাথে মিল রেখে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হয়েছে গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া হিসেবে।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- এটিকে গ্রিন হাউজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাসকে দায়ী করা হয়। এগুলো হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম কী?
  1. হার্জ
  2. ডেসিবল
  3. সেন্টিবল
  4. ন্যানোমিটার
সঠিক উত্তর:
ডেসিবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দদূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল। 
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না। 
- ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়। 
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে। 
সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়। 
 
উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
নিচের কোনটি প্রাথমিক দূষক?
  1. ওজোন
  2. সালফিউরিক এসিড
  3. কার্বন মনোক্সাইড
  4. পারঅক্সি অ্যাসাইল নাইট্রেট
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা

দূষক (Pollutant): 
- কোনো পদার্থ পরিবেশে তার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রাচুর্য অপেক্ষা অধিক পরিমাণে উপস্থিত থেকে মনুষ্যজাতি অথবা অন্যান্য জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে ঐ পদার্থটিকে দূষক বলা হয়। 
- বায়ুতে সল্পমাত্রায় (0.1 ppm) CO থাকে, কিন্তু এর পরিমাণ বেড়ে 40 ppm বা তার বেশি হলে এটি দূষক হিসেবে বিবেচিত হয়। 
- দূষক দুই প্রকার।
যথা-
১। প্রাথমিক (প্রাইমারী) দূষক: 
- যেসব দূষক কোনো উৎস হতে নির্গত হয়ে সরাসরি অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে আসে তাদের প্রাইমারী দূষক বলা হয়। 
যেমন- সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), কার্বন মনোক্সাইড (CO), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), NOx, হাইড্রোকার্বনসমূহ, ছাই, ধূলিকণা ইত্যাদি। 

২। গৌণ (সেকেন্ডারী) দূষক: 
- এই প্রকারের দূষক কোনো উৎস থেকে সরাসরি পরিবেশে আসে না। 
- পরিবেশেস্থিত দূষকগুলির পারস্পরিক বিক্রিয়ায় বা প্রাথমিক দূষকের সঙ্গে পরিবেশের কোনো একটি উপদানের বিক্রিয়ায় যেসব ক্ষতিকারক পদার্থ সৃষ্টি হয় তাদের গৌণ দূষক বলে। ওজোন
যেমন- পারঅক্সি অ্যাসাইল নাইট্রেট (PAN), ডাই মিথাইল মার্কারি [(CH3)2Hg], সালফার ট্রাই-অক্সাইড (SO3), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2), ওজোন (O3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৫.
বিশুদ্ধ বায়ুর ৯৯ শতাংশই কোন দুটি উপাদান দ্বারা গঠিত?
  1. নাইট্রোজেন ও আর্গণ
  2. আর্গণ ও অক্সিজেন
  3. ওজোন ও অক্সিজেন
  4. নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডলের উপাদান (Elements of the Atmosphere):
- বায়ুমণ্ডল জলীয় বাষ্প, ধুলিকণা এবং বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বিশুদ্ধ বায়ুর ৯৯ শতাংশই নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন দ্বারা গঠিত।
- বায়ুর বিভিন্ন গ্যাসের মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড এর পরিমাণ ০.০০৩ শতাংশ হলেও এটি বায়ুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- এর মূল কারণ পৃথিবী থেকে বিকিরণকৃত তাপশক্তি শোষণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলকে উষ্ণ রাখে।
- কিন্তু বর্তমানে কার্বন ডাইঅক্সাইড এর মাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি বায়ুমণ্ডলের জন্য হুমকি কারণ এতে পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- বিশুদ্ধ বায়ুতে নাইট্রোজেন (N₂) ৭৮.০২ শতাংশ, অক্সিজেন (O2) ২০.৭১ শতাংশ, অবশিষ্ট ১ শতাংশ আর্গণ (Ar), কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂), ওজোন (O₃) এবং অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস (নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপ্টন, জেনন এবং নাইট্রাস অক্সাইড), জলীয় বাষ্প এবং ধূলিকণা রয়েছে।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬.
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোনো দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম কতভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন?
  1. ১২ ভাগ
  2. ১৩ ভাগ
  3. ১৭ ভাগ
  4. ২৫ ভাগ
সঠিক উত্তর:
২৫ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ ভাগ
ব্যাখ্যা
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোনো দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম ২৫ ভাগ বনভূমি থাকতে হয়। 
- বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা ১৭ ভাগ। 
 
উল্লেখ্য যে, 
- আমাদের দেশের জন্য বনায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
কেননা- 
• গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়। 
• গাছপালা বিভিন্ন ছোট জীবজন্তু ও পাখির আশ্রয়স্থল হিসাবে কাজ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। 
• গাছপালা বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭.
শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক কোনটি?
  1. সেন্টিবল
  2. হার্জ
  3. ডেসিবল
  4. ন্যানোমিটার
সঠিক উত্তর:
ডেসিবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেসিবল
ব্যাখ্যা
শব্দদূষণ: 
- মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ। 
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল। 
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না। 
- ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়। 
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে। 
সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়। 

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮.
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ধাপ নয় কোনটি?
  1. ক) Reduce
  2. খ) Reuse
  3. গ) Recycle
  4. ঘ) Rearrange
সঠিক উত্তর:
ঘ) Rearrange
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Rearrange
ব্যাখ্যা
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উল্লেখযোগ্য তিনটি ধাপ হলো Reduce (হ্রাস করা), Reuse (পুনঃব্যবহার) ও Recycle (পুনঃসঞ্চালন)।
- রিসাইকেল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যবহার অনুপযোগী বা পরিত্যক্ত দ্রব্যাদিকে পরিবর্তন করে নতুন ভাবে ব্যবহার উপযোগী পণ্য সামগ্রী তৈরী করা। - আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যাদি যেমন- ধাতব আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, কাঁচ, প্লাস্টিক, সামগ্রী ইত্যাদি পুরাতন বা পরিত্যক্ত হলে সেগুলোকে বর্জ্য হিসেবে যত্রতত্র ফেলে দিই, ফলে এতে পরিবেশ দূষণ ঘটে ।
- বর্তমানে বিজ্ঞানের আর্শিবাদে এসব বর্জ্যকে রিসাইকেল করে পুর্বের ব্যবহৃত সামগ্রী প্রস্তুত করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দুষণ হ্রাস পায় অপরদিকে নতুন কাঁচামালের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক উৎসসমূহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

সূত্র: ৩৩১ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।   
৪৯.
দূষণহীন শক্তি উৎস কোনটি?
  1. কয়লা
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. সৌরশক্তি
  4. পেট্রোল
সঠিক উত্তর:
সৌরশক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৌরশক্তি
ব্যাখ্যা
• সৌরশক্তি হলো দূষণহীণ শক্তি উৎস। 

• সৌরশক্তি:

- সৌরশক্তি (Solar Energy) হলো সূর্য থেকে আগত তাপ ও আলোক শক্তি।
- সৌর প্যানেলের মাধ্যমে সৌরশক্তি সংগ্রহ করে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়। এটি একটি নবায়নযোগ্য এবং দূষণহীন শক্তি উৎস।

• সৌরশক্তির বৈশিষ্ট্য:
- বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা দূষিত গ্যাস ছড়ায় না।
- অত্যন্ত টেকসই ও নিরাপদ শক্তির উৎস।
- দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব ও খরচ সাশ্রয়ী।

• দূষণহীন শক্তি উৎস:
- দূষণহীন শক্তি উৎস হলো সেইসব শক্তি যা ব্যবহারের সময় বায়ু, মাটি বা পানি দূষণ করে না এবং গ্রিনহাউস গ্যাস (CO2, NOx) নির্গত করে না।
- এগুলো সাধারণত নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy) হিসাবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র:
- International Energy Agency (IEA). 
- ব্রিটানিকা। 
৫০.
জীবাশ্ম জ্বালানির সীমাবদ্ধতা কোনটি?
  1. সহজলভ্য
  2. নবায়নযোগ্য
  3. দূষণ
  4. উচ্চ উৎপাদনশীলতা
সঠিক উত্তর:
দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূষণ
ব্যাখ্যা
• জীবাশ্ম জ্বালানি:  
- জীবাশ্ম জ্বালানি হলো এক প্রকার জ্বালানি যা মৃত গাছপালা এবং প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে লাখ লাখ বছর ধরে পৃথিবীর অভ্যন্তরে চাপা পড়ে তৈরি হয়।
- কয়লা, পেট্রোলিয়াম (তেল) এবং প্রাকৃতিক গ্যাস হলো জীবাশ্ম জ্বালানির প্রধান উদাহরণ। 

• জীবাশ্ম জ্বালানির প্রধান সীমাবদ্ধতাসমূহ:
- জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস) পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট দূষণ এর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা।
- এটি পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি:
→ বায়ুদূষণ:
- জীবাশ্ম জ্বালানি দহনের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) সহ নানা বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়।
→ জলবায়ু পরিবর্তন:
- দূষণের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি পেয়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঘটায়।
→ স্বাস্থ্য ঝুঁকি:
- দূষণের কারণে মানুষের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদরোগসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়।
→ সীমিত মজুদ:
- এগুলো অপুনরায় উৎপাদনযোগ্য নয়, তাই একবার ফুরিয়ে গেলে তা দ্রুত পুনরায় পাওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা।
৫১.
নিম্নের কোনটি পরিবেশের জীব উপাদান? 
  1. নদী
  2. মাটি
  3. গাছপালা
  4. আলো
সঠিক উত্তর:
গাছপালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছপালা
ব্যাখ্যা
পরিবেশের ধারণা: 
- প্রকৃতির সকল দান মিলেমিশে তৈরি হয় পরিবেশ। 
যেমন- নদী, নালা, সাগর, মহাসাগর, পাহাড়, পর্বত, বন, জঙ্গল, ঘর, বাড়ি, রাস্তাঘাট, উদ্ভিদ, প্রাণী, পানি, মাটি ও বায়ু নিয়ে গড়ে ওঠে পরিবেশ। 
- কোনো জীবের চারপাশের সকল জীব ও জড় উপাদানের সর্বসমেত প্রভাব ও সংঘটিত ঘটনা হলো ঐ জীবের পরিবেশ। 
- পরিবেশ বিজ্ঞানী আর্মসের (Arms) মতে, জীবসম্প্রদায়ের পারিপার্শ্বিক জৈব ও প্রাকৃতিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে। 
- পার্ক (C. C. Park) বলেছেন, পরিবেশ বলতে স্থান ও কালের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে মানুষকে ঘিরে থাকা সকল অবস্থার যোগফল বোঝায়। 
- স্থান ও কালের পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবেশও পরিবর্তিত হয়। 
যেমন-শুরুতে মাটি, পানি, বায়ু, উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে ছিল মানুষের পরিবেশ। 
- পরবর্তীকালে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কার্যাবলি, ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন ধরনের পরিবেশ। 

পরিবেশের উপাদান: 
- পরিবেশের উপাদান দুই প্রকার। 
যেমন- জড় উপাদান ও জীব উপাদান। 
- যাদের জীবন আছে, যারা খাবার খায়, যাদের বৃদ্ধি আছে, জন্ম আছে এবং মৃত্যু আছে তাদের বলে জীব। যেমন- গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী হলো পরিবেশের জীব উপাদান। জীবদের নিয়ে গড়া পরিবেশ হলো জীব পরিবেশ। 
- মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, আলো, উষ্ণতা ও আর্দ্রতা হলো পরিবেশের জড় উপাদান। এই জড় উপাদান নিয়ে গড়া পরিবেশ হলো জড় পরিবেশ। 

পরিবেশের প্রকারভেদ: 
- পরিবেশ দুই প্রকার। 
যেমন- ভৌত বা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশ। 
- প্রকৃতির জড় ও জীব উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ, তাকে ভৌত বা প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। এই পরিবেশে থাকে মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, আলো, গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী।
- মানুষের তৈরি পরিবেশ হলো সামাজিক পরিবেশ। মানুষের আচার-আচরণ, উৎসব-অনুষ্ঠান, রীতি-নীতি, শিক্ষা, মূল্যবোধ, অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে, তা হলো সামাজিক পরিবেশ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২.
প্রাইমারি দূষক কোনটি?
  1. সালফার ডাইঅক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড
  3. মিথেন
  4. পারঅক্সিঅ্যাসিটাইল নাইট্রেট (PAN)
সঠিক উত্তর:
সালফার ডাইঅক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

• প্রাইমারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে। যেমন:
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
- কার্বন মনোক্সাইড (CO)
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂)
- সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂)
- অ্যামোনিয়া (NH3)
- ছাই, ধুলিকণা
- Volatile organic compounds (VOCs)

• সেকেন্ডারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে।
- যেমন:
- সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
- নাইট্রিক এসিড (HNO3)
- সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H₂O₂)
- ওজোন (O3)

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
কোন বৈচিত্র্যের কারণে মঙ্গোলয়েড ও নিগ্রয়েড জাতির মানুষের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. স্বভাবগত বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনগত বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
- আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
শক্তি পিরামিডের শীর্ষে অবস্থান করে নিচের কোনটি? 
  1. খাদক
  2. চূড়ান্ত খাদক
  3. উৎপাদক
  4. সেকেন্ডারি খাদক
সঠিক উত্তর:
চূড়ান্ত খাদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চূড়ান্ত খাদক
ব্যাখ্যা
শক্তি পিরামিড: 
- একটি বাস্তুতন্ত্রের নির্দিষ্ট এলাকাতে এবং নির্দিষ্ট সময়কালে বিভিন্ন খাদ্যস্তরের (লেভেল) জীব কর্তৃক ব্যবহৃত মোট শক্তির হিসাব অনুযায়ী অঙ্কিত লৈখিক চিত্রকে শক্তির পিরামিড বলা হয়। 
- সাধারণত কোন বাস্তুতন্ত্রের এক বর্গমিটার এলাকা এবং এক বছর সময়কালের একক হিসেবে ব্যবহৃত শক্তির হিসাব করা হয়। 
- কোন বাস্তুতন্ত্রের এক বর্গমিটার এলাকায় এক বছর সময়কালে প্রথম খাদ্যস্তরের জীব তথা উৎপাদক যে পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করে, তা দ্বিতীয় স্তরের জীব কর্তৃক সংগৃহীত শক্তি থেকে বেশি, আবার দ্বিতীয় স্তরের সংগৃহীত শক্তি তৃতীয় স্তরের জীব কর্তৃক সংগৃহীত শক্তি থেকে বেশি। 
- চতুর্থ স্তরের জীব সবচেয়ে কম শক্তি ব্যবহার করে। 
- এজন্য উৎপাদক পিরামিডের ভূমিতে এবং চূড়ান্ত খাদক শীর্ষে অবস্থান করে। 


খাদ্য শৃঙ্খল সীমিত রাখতে শক্তি পিরামিডের প্রভাব: 
- খাদ্য শৃঙ্খলে শক্তির প্রবাহ সব সময়ই একমুখী, এ শক্তি প্রবাহকে কখনও বিপরীতমুখী করা যায় না। 
- প্রতিটি ধাপে শতকরা ৮০-৯০ ভাগ শক্তি কমে। 
- শক্তির এ ক্রমবর্ধমান ক্ষয় খাদ্য শিকলের আকারকে ৪ বা ৫ টি ধাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে। 
- খাদ্য শিকল যত দীর্ঘ হবে উর্ধ্বতম ট্রফিক লেভেলে শক্তির পরিমাণ ততই কমতে থাকবে এবং এক পর্যায়ে এসে কোন শক্তিই অবশিষ্ট থাকবে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫.
বায়োগ্যাস প্লান্টের মূল অসুবিধা কী?
  1. এটি দুষণমুক্ত জ্বালানী উৎপাদন করে
  2. উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর
  3. পরিবেশ বান্ধব 
  4. রান্নাঘরের ধোঁয়া কমায়
সঠিক উত্তর:
উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর
ব্যাখ্যা

- বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের একটি অন্যতম বড় অসুবিধা হলো এর নিম্ন উৎপাদন দক্ষতা। বর্তমানে ব্যবহৃত সিস্টেমগুলো খুব একটা আধুনিক নয় এবং অল্প খরচে বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর মতো বড় আকারের উৎপাদন ব্যবস্থা এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এছাড়া এর উৎপাদন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট আবহাওয়া ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো বা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কষ্টসাধ্য। 

বায়োগ্যাস প্লান্ট: 
- বায়োগ্যাসমূলত বিভিন্ন গ্যাসের মিশ্রণ, যাতে মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, হাইড্রোজেন, বায়োগ্যাস ইত্যাদি মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। গ্যাস মিশ্রনে উপাদানের সম্ভাব্য শতকরা হার নিম্নরূপ- 

- বায়োগ্যাস প্লান্ট একটি অন্যতম নবায়নযোগ্য জ্বালানী উৎপাদন পদ্ধতি। যে সব স্থানে ঘন বসতি এবং অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সে সকল স্থানে এ পদ্ধতি ব্যবহার করার উপযোগী। জৈব বর্জ, শিল্পবর্জ, পৌর বর্জ্য হতেও এধরণের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এধরণের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট আমাদের দেশের জন্য খুবই উপযোগী। 
- এ ধরনের প্লান্ট ব্যবস্থাপনা একটু অস্বাস্থ্যকর বিধায় আমাদের দেশে এটি এখনও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু উপযুক্ত ট্রেইনিং এর ব্যবস্থা করা গেলে এ ধরণের প্লান্ট খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয়তা পাবে যদিও খুব অল্পসংখক প্লান্ট প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফলতার মুখ দেখেছে। 
- এধরণের প্লান্টে তিন ধরণের সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জালানীগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কম্পোস্ট সার উৎপাদন। 
- বর্তমানে উন্নত দেশেও এ গ্যাসকে বিশুদ্ধ করে সি.এন.জি. হিসাবে গাড়ী ও অন্যান্য ট্রান্সপোর্টে জ্বালানী হিসবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এ গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- নিম্নে বায়োগ্যাস প্লান্টের গঠন প্রণালী দেখানো হলো- 

- এধরণের ট্যাংকে একটি গম্বুজের মত পাত্র থাকে যার নিচের অংশকে ডাইজেষ্টার বলে এবং উপরের অংশকে বলে গ্যাস স্টোরেজ। মিশ্রণ ট্যাংকে গোবর বা গোবাদির মলমূত্র এমনকি মানুষের মলমূত্র পানির সাথে ভালভাবে মিশ্রিত করে ইনলেট ড্রেইন এর মাধ্যমে ডাইজেষ্টারে পাঠানো হয় যেখানে জীবাণুর মাধ্যমে বিক্রিয়ার দ্বারা মিথেন ও অন্যান্য গ্যাস উৎপন্ন হয়ে গম্বুজ আকৃতির গ্যাস স্টোরেজ অংশে জমা হয়। এর উপরের অংশে একটি নল যুক্ত থাকে যার মাধ্যমে গ্যাস বিভিন্ন যন্ত্রে পাঠানো হয়। এই নলে গ্যাস প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের জন্য একটি ভাল্ব লাগানো থাকে। গোবর বা মলমূত্রের মিশ্রন আউটলেট ড্রেইন এর মাধ্যমে বের হয়ে আসে যা পরবর্তিতে কম্পোস্ট সার হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

বায়ো গ্যাসপ্লান্টের সুবিধা-অসুবিধা: 
সুবিধা: 
১) এটি দুষনমুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানী সরবরাহ করে। 
২) এটি জ্বালানী কাঠ সংগ্রহের কষ্ট হতে মুক্তি দেয়। 
৩) রান্না ঘরের ধুয়া ও ময়লা হতে মুক্তি দেয়। 
৪) এটি থেকে বাইপ্রডাক্ট হিসাবে জৈব সার পাওয়া যায় যা পরিবেশ বান্ধব ও শস্য উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে দেয়। 
৫) বর্জ ব্যবস্থাপনায় সহায়তার মাধ্যমে পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখে। 
৬) বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায় যাতে দুর্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎ চাহিদা মেটায়। 
৭) যে কোন পচনশীল বস্তু এতে ফিড হিসাবে ব্যবহার করা যায় ফলে পরিবেশে দূর্গন্ধ ছড়ায় না। 

অসুবিধা: 
১) পদ্ধতিগতভাবে এটি অস্বাস্থ্যকর। 
২) উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো কষ্টকর। 
৩) এটির মিশ্রণে কিছু ক্ষয়কর উপাদান থাকে যা ব্যবহার্য ধাতব যন্ত্রে ক্ষতি করে। 
৪) এটি সব জায়গায় স্থাপন করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬.
‘ইকোলজি’ শব্দটি কিসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত?
  1. জ্যোতির্বিজ্ঞান
  2. পরিবেশ
  3. অর্থনীতি
  4. চিকিৎসাশাস্ত্র
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ
ব্যাখ্যা
‘ইকোলজি’:
- গ্রিক ‘Oikos’ অর্থ "বাসস্থান" এবং "logos" অর্থ "বিদ্যা" ইংরেজি Ecology পরিভাষাটি এসেছে।
- ‘ইকোলজি’ হলো পরিবেশের সাথে প্রাণীজগতের সম্পর্ক বিষয়ক বিদ্যা।
- ১৮৬৯ সালে ‘ইকোলজি’ শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান ভূতাত্ত্বিক আর্নেস্ট হেকেল।
- জীববিজ্ঞানের যে বিশিষ্ট শাখায় পরিবেশে বিন্যস্ত বিভিন্ন জীব ও তার পারিপার্শ্বিক জড় উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া, নির্ভরশীলতা ও মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি বলে।
- জীব একে অপরের সাথে এবং তাদের পরিবেশের সাথে কীভাবে সম্পর্ক রক্ষা করে, সে সম্পর্কিত অধ্যয়ন হল ইকোলজি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৫৭.
নিম্নের কোনটি বিয়োজক?
  1. ছত্রাক
  2. পাখি
  3. পোকামাকড়
  4. ব্যাঙ
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
বায়োম: 
- ইকোসিস্টেম যখন বৃহৎ এলাকা নিয়ে গড়ে উঠে তখন তাকে বায়োম বলে। 
- নির্দিষ্ট পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাবে বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠা জীবমণ্ডলের বৃহৎ ভৌগোলিক এককই বায়োম। তাই বায়োম হচ্ছে জীবমণ্ডলের সর্ববৃহৎ একক। 
বাংলাদেশের বায়োম: 
- বাংলাদেশে পরিবেশের অজীব উপাদান (যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন গ্যাস ইত্যাদি), মাটির জৈব উপাদান (যেমন- মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ পচে সৃষ্ট ইউরিয়া ও হিউমাস, ভূপ্রকৃতি ও মাটি ইত্যাদি) এবং সজীব উপাদানের (যেমিন- উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক ইত্যাদি) প্রভাবে সেখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ভিত্তিতে যে বাস্তুতন্ত্রের একক গড়ে উঠে তাকেই বাংলাদেশী বায়োম বলা হয়। 
- এতে উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে পুষ্টিচক্র সক্রিয় হয় অর্থাৎ শক্তির প্রবাহ অক্ষুণ্ণ থাকে। 
- বাংলাদেশের বায়োম দুই প্রকার। 
যথা-
(ক) বাংলাদেশের স্থলজ বায়োম: 
১। শস্যক্ষেত্রের বায়োম (Biome of Crops): 
- বাংলাদেশের শস্যক্ষেত্রের প্রধান উদ্ভিদ হচ্ছে ধান, পাট, ঘাস, আগাছা ইত্যাদি। 
- এখানে ইকোসিস্টেমের উৎপাদক হচ্ছে ঐ সকল উদ্ভিদসমূহ। 
- কীট-পতঙ্গ প্রথম স্তরের খাদক। 
- দ্বিতীয় স্তরের খাদক ব্যাঙ, পাখি, গরু, ছাগল, ভেড়া, মানুষ ইত্যাদি। 
- তৃতীয় স্তরের খাদক হলো সাপ ও শিকারী পাখি। 
এখানে, মাটিতে বিয়োজক সৃষ্টি হয় ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং কাক, শিয়াল ও পাখির গলিত মৃতদেহের সমন্বয়ে। 

২। বনভূমির বায়োম (Biome of Forest): 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যেসব বনভূমি রয়েছে তাদের বায়োম প্রায় একই প্রকার। 
- তবে খাদ্য শৃঙ্খলে বিভিন্ন স্তরের উৎসগুলো এক প্রকার নয়। এখানে উৎপাদক হচ্ছে তৃণ, গুল্ম, ঘাস, গাছপালা ইত্যাদি। 
- আর প্রথম স্তরের খাদক বানর, হরিণ, বাদুড়, হাতি নানা ধরনে পোকামাকড় ইত্যাদি। 
- দ্বিতীয় স্তরের খাদ্য হচ্ছে- পাখি, ফড়িং, ব্যাঙ, বাঘ। 
- তৃতীয় স্তরের খাদক হচ্ছে- বেজি, সাপ, চিল প্রভৃতি। 
- বনভূমির গাছের পাতা, বিভিন্ন মৃত প্রাণীদের দেহ মাটিতে পঁচে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের প্রভাবে বিয়োজক সৃষ্টি হয়, পরিশেষে পুষ্টিচক্র সক্রিয় থাকে। 
- বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে বনভূমির বায়োমকে কতিপয় বায়োম-এ ভাগ করা যায়। 
যেমন- (১) সুন্দর বনের বায়োম, (২) মধুপুর অরণ্যের বায়োম (৩) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বায়োম এবং (৪) সিলেট অঞ্চলের বনভূমির বায়োম। 

(খ) বাংলাদেশের জলজ বায়োম: 
- বাংলাদেশের জলজ বায়োম আবার দুই প্রকার। 
যথা- স্বাদু পানির বায়োম এবং লবণাক্ত পানির বায়োম। 
- বাংলাদেশের হাওড়, বাঁওড়, বিল প্রভৃতি এলাকার বায়োমকে স্বাদু পানির বায়োম বলা হয়। 
যেমিন- নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জের হাওড়, দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলের বাঁওড়, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের বিল প্রভৃতি বাংলাদেশের স্বাদু পানির বায়োমের উদাহরণ। 
- বাংলাদেশের উপকূলীয় সাগর ও মহাসাগরের লবণাক্ত পানির বায়োমকে লবণাক্ত পানির বায়োম বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
৫৮.
আমাদের দেশে বনায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ-
  1. গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে
  2. গাছপালা O₂ ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
  3. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো অবদান নেই
  4. ঝড় ও বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়
সঠিক উত্তর:
গাছপালা O₂ ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছপালা O₂ ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
ব্যাখ্যা
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোন দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম ২৫ ভাগ বনভূমি থাকতে হয়।
- বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা ১৭ ভাগ।

উল্লেখ্য যে,
- আমাদের দেশের জন্য বনায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ-
গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়।
• গাছপালা বিভিন্ন ছোট জীবজন্তু ও পাখির আশ্রয়স্থল হিসাবে কাজ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
• গাছপালা বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯.
কোনো অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সম্পর্ককে কী বলা হয়?
  1. জীবমণ্ডল
  2. পরিবেশ
  3. বাস্তুতন্ত্র
  4. খাদ্যশৃঙ্খল
সঠিক উত্তর:
বাস্তুতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তুতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• কোন অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ককে বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) বলা হয়।

• পরিবেশ ও এর উপাদান:
- পরিবেশ গঠিত হয় জীব উপাদান ও জড় উপাদান নিয়ে।
- জীব উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব অন্তর্ভুক্ত।
- জড় উপাদানের মধ্যে বায়ু, পানি, মাটি, আলো, তাপ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
- পরিবেশে জীব ও জড় উপাদান সবসময় পারস্পরিক ক্রিয়া ও আদান-প্রদানে যুক্ত থাকে।
 
• বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem):
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ককে বাস্তুতন্ত্র বলা হয়।
- বাস্তুতন্ত্রে জীব উপাদান জড় উপাদানের উপর নির্ভরশীল।
- একইভাবে জীব উপাদানও একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
- এই নির্ভরশীলতার মাধ্যমেই জীবের বেঁচে থাকা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
 
• জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক:
- উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য সূর্যালোক, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে।
- প্রাণী খাদ্য ও অক্সিজেনের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
- বায়ু, পানি ও মাটি ছাড়া কোনো জীবের জীবনধারণ সম্ভব নয়।
- এ সম্পর্ক কখনো সহজ, আবার কখনো জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
 
• বাস্তুতন্ত্রে প্রক্রিয়াসমূহ:
- সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদ ও জড় উপাদানের সম্পর্কের প্রধান প্রক্রিয়া।
- শ্বসন উদ্ভিদ ও প্রাণীর শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া।
- এই দুই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশে গ্যাস ও শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে।
- ফলে জীবমণ্ডলে একটি সামগ্রিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- জীবমণ্ডল → পৃথিবীর সকল বাস্তুতন্ত্রের সমষ্টি।
- পরিবেশ → জীব ও জড় উপাদানের সামগ্রিক অবস্থা।
- খাদ্যশৃঙ্খল → জীবের মধ্যে খাদ্যনির্ভর সম্পর্কের ধারা।

 উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

৬০.
কোনটি একটি প্রাকৃতিক দূষণকারী উপাদান?
  1. আগ্নেয়গিরির ছাই
  2. গাড়ির ধোঁয়া
  3. কলকারখানার বর্জ্য
  4. কৃষিজ রাসায়নিক
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির ছাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির ছাই
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয়গিরির ছাই একটি প্রাকৃতিক দূষণকারী উপাদান, যেটি কোনও মানব ক্রিয়ার ফল নয়।

-  আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই, গ্যাস এবং লাভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বায়ুমণ্ডলে ও পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক দূষণ সৃষ্টি করে।
-  তবে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয় এবং প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের অংশ।

অপরদিকে, 
গাড়ির ধোঁয়া: 
- এটি একটি মানবসৃষ্ট দূষণকারী উপাদান।
- বিভিন্ন যানবাহন পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে। জ্বালানি পোড়ালে কার্বন মনোঅক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) নির্গত হয়।
- এসব উপাদান বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

• কলকারখানার বর্জ্য: 
- এটিও একটি মানবসৃষ্ট দূষণকারী উৎস।
- শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ফ্যাক্টরি থেকে বর্জ্য পদার্থ যেমন– রাসায়নিক, তেল, ভারী ধাতু (lead, mercury), এবং বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে নিক্ষিপ্ত হয়।
- এগুলো জলদূষণ, মৃত্তিকা দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

কৃষিজ রাসায়নিক:
- এটি মানুষ কর্তৃক চাষের জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম উপাদান যেমন– সার (fertilizer), কীটনাশক (pesticide), আগাছানাশক (herbicide)।
- এইসব রাসায়নিক উপাদান মাটির গুণমান নষ্ট করে, ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে, এবং খাদ্যশৃঙ্খলে বিষাক্ত পদার্থ যোগ করে।

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।
৬১.
নিম্নলিখিত কোন গ্যাসটি গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে?
  1. আর্গন
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. হিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
নাইট্রাস অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রাস অক্সাইড
ব্যাখ্যা

অপশনে উল্লিখিত গ্যাসসমূহের মধ্যে নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে।

গ্রিন হাউস প্রভাব:
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।
- গ্রিন হাউস ইফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো-কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC)। 

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে নিম্নে গ্রিন হাউস গ্যাস ও গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ:
১। কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2):
- কার্বন ডাইঅক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাইঅক্সাইড।
- জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাইঅক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়।
- বর্তমানে তরল ও কঠিন কার্বন ডাইঅক্সাইড রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে আইসক্রিম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।
- সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে।

২। মিথেন (CH4):
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন।
- এছাড়াও জলাভূমিতে পানির নিচে পানা পচনের মাধ্যমে, ধানের বর্জ্য অবশিষ্টাংশের পচন থেকে মিথেন পাওয়া যায়।
- তাপ ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে মিথেন কার্বন ডাই অক্সাইডের চাইতে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে।

৩। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC):
- সিএফসি সাধারণত বিষমুক্ত, নিষ্ক্রিয় এবং ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ।
- সিএফসি হিমায়নে (ফ্রিজ, এসি) ও স্প্রে-ক্যানে (অ্যারেসোল), মাইক্রো ইলেকট্রিক সার্কিট ও প্লাস্টিক ফোমে ব্যবহৃত হয়।

৪। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O):
- অক্সিজেনের সাথে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি করে।
- এটিও বর্ণহীন, সামান্য মিষ্টিগন্ধযুক্ত।
- এই গ্যাসের উৎসসমূহ হলো মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, কারখানা।

অন্যদিকে,
- আর্গন (Ar): বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তৃতীয় সর্বাধিক পরিমাণে থাকে। গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
- নাইট্রোজেন (N2): পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ৭৮.০৯% গঠন করে। গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
- হিলিয়াম : এটি একটি নিষ্ক্রিয় (inert) গ্যাস। পর্যায় সারণির Noble gas গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২.
নিম্নের কোনটি রিসাইকেলযোগ্য?
  1. ক) কয়লা
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) পেট্রোল
  4. ঘ) ডিজেল
সঠিক উত্তর:
খ) কাঁচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাঁচ
ব্যাখ্যা
- গৃহস্থালী এবং শিল্পজাত বর্জ্যে এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে কাঁচজাত কঠিন বর্জ্য। কাঁচ ভাঙ্গুর হওয়ায় অন্যান্য ব্যবহার্য দ্রব্যের তুলনায় কাঁচ সামগ্রীর বর্জ্য তুলনামূলকভাবে বেশি।
- কাঁচ 100% রিসাইকেলযোগ্য একটি উপকরণ।

কাঁচ রিসাইক্লিং এর ধাপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো :
১। বর্জ্য কাঁচ সংগ্রহ (Collection of waste glass) : পরিত্যক্ত ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, কাঁচ কারখানার ত্রুটিপূর্ণ কাঁচ দ্রব্য ও বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত কাঁচ সামগ্রী রিসাইকেল কারখানায় নেয়া হয়।
২। পরিষ্কারকরণ (Cleaning) : সংগৃহীত কাঁচ বর্জ্যকে পানি দ্বারা উত্তমরূপে ধৌত করে কাঁচের গায়ে লেগে থাকা মাটি, কাদা, ধুলা-বালি, গাম, লেবেল ইত্যাদি অপসারিত করা হয়।
৩। পৃথকীকরণ (Separation) : পরিষ্কার বর্জ্য কাঁচ মিশ্রণ থেকে রঙ্গিন ও বর্ণহীন কাঁচ দ্রব্য পৃথক করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
৪। চূর্ণকরণ (Crushing) : পৃথকীকৃত কাঁচ বর্জ্যকে ক্রাশার মেশিনের সাহায্যে অতি ক্ষুদ্র আকৃতির টুকরায় পরিণত করা
হয় । চুর্ণীকৃত ক্ষুদ্রাকৃতির এ কাঁচ কিউলেট (cullet) নামে পরিচিত । ৫। অপদ্রব্য অপসারন (Removal of contaminant) : চূর্ণীকরণ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত কিউলেটকে একটি কনভেয়ার বেল্টের উপর পরিচালনা করলে ধাতব কণাসমূহ চুম্বক দ্বারা এবং হালকা ওজনের অপদ্রব্য বায়ু প্রবাহ দ্বারা অপসারিত হয় ।
৬। বিগলন (Smelting) : অপদ্রব্যমুক্ত চূর্ণীকৃত কাঁচের সাথে নির্দিষ্ট অনুপাতে প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন- সোডাঅ্যাশ, বোরাক্স, নাইটার ইত্যাদি মিশানো হয়। অত:পর প্রাপ্ত মিশ্রণকে ট্যাংক ফার্নেসে 1300 1450°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে গলিত কাঁচ পাওয়া যায়।
৭। আকৃতি প্রদান (Shapping) : বিগলিত কাঁচকে যান্ত্রিক উপায়ে ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন ধরনের কাঙ্খিত আকৃতি প্রদান করা হয় ।
৮। কোমলায়ন (Annealing) : বিগলিত কাঁচ থেকে উৎপাদিত নির্দিষ্ট আকৃতি বিশিষ্ট উত্তপ্ত কাঁচ দ্রব্যকে ধীরে ধীরে কক্ষ তাপমাত্রায় এনে কোমলায়ন করা হয়।
৯। সমাপন (Fininishing) : কোমলায়নকৃত কাঁচ বস্তুকে পরিষ্কারকরণ, ঘর্ষণ ও মসৃণ করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়।

সূত্র: ৩৩৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।   
৬৩.
এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি কোন গ্যাসের কারণে হয় না?
  1. Sulfur Dioxide
  2. Nitrogen Dioxide
  3. Carbon Dioxide
  4. Nitric Oxide
সঠিক উত্তর:
Carbon Dioxide
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Carbon Dioxide
ব্যাখ্যা
• এসিড বৃষ্টি:
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে।
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া।
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে।
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন- NO, NO2).
- এর মূলে তিনটি এসিডের (H2SO3, H2SO4, HNO3 এর) ভূমিকা রয়েছে; যা প্রাইমারি বায়ুদূষক SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NOx) হতে উৎপন্ন হয়।

• কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. হাজারী ও নাগ)।
৬৪.
বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. অর্থনৈতিক সুবিধা
  2. রপ্তানি সমস্যা
  3. পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন
  4. উৎপাদন সমস্যা
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার প্রধান কারণ হলো পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা। 

• জীবাশ্ম জ্বালানি:

- জীবাশ্ম জ্বালানি হল কার্বন-ভিত্তিক দাহ্য উপাদান যা পৃথিবীর ভূত্বকের মধ্যে প্রাগৈতিহাসিক জীবের (উদ্ভিদ বা প্রাণী) অবশিষ্টাংশ থেকে গঠিত হয়।

• জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4) ও নাইট্রাস অক্সাইড (N2O)-এর মতো গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়।
- এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে জমে গিয়ে গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে, ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যায় — এটিকেই বলা হয় গ্লোবাল ওয়ার্মিং।

• এর ফলাফল:
- হিমবাহ গলা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। 
- খরা, বন্যা, ঝড়–ঝঞ্ঝার বৃদ্ধি। 
- কৃষিতে বিপর্যয়। 
- জীববৈচিত্র্যের হুমকি। 

• এর ফলে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি (যেমন সৌর, বায়ু, জলশক্তি) ব্যবহার বাড়ানোর প্রতি জোর দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র:
- সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- IPCC Reports (Intergovernmental Panel on Climate Change).
- ব্রিটানিকা।
৬৫.
নিচের কোনটি গ্রিন হাউজ গ্যাস?
  1. CO2
  2. N2O
  3. CFC
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• গ্রিন হাউজ: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস এফেক্ট বলে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ওজোন (O3), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 
- গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গেলে- 
• পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, 
• জলবায়ু পরিবর্তন হয়, 
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে, 
• জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে ইত্যাদি। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 

৬৬.
নিচের কোনটি বায়ুর উপাদান নয়?
  1. হিলিয়াম
  2. আর্গন
  3. নিয়ন
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
ব্যাখ্যা
• বায়ুর উপাদান নয় - ফসফরাস।

• বায়ুর উপাদান:
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি হলো- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকিগুলো শতকরা ১.২৭ ভাগ।

• বায়ুর উপাদানের শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন- ৭৮.০২%
- অক্সিজেন- ২০.৭১%
- আর্গন - ০.৮০%
- কার্বন ডাই অক্সাইড- ০.০৩%
- জলীয় বাষ্প- ০.৪১%
- অন্যান্য গ্যাস (যেমন- নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড)- ০.০২%
- ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭.
‘ইকোলজি’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন -
  1. আর্নেস্ট হেকেল
  2. লেস্টার ব্রাউন
  3. নরম্যান বোরল্যাগ
  4. আরহেনিয়াস
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট হেকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট হেকেল
ব্যাখ্যা
বাস্তুবিদ্যা (Ecology):

- জীববিজ্ঞানের যে বিশিষ্ট শাখায় পরিবেশে বিন্যস্ত বিভিন্ন জীব ও তার পারিপার্শ্বিক জড় উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া, নির্ভরশীলতা ও মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি বলে।
- প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান নিয়ামক : পানি, গাছপালা ইত্যাদি।
- পরিবেশবিজ্ঞানের ইংরেজি পরিভাষা Ecology ইকোলজি। 
- গ্রিক  ওইকোস অর্থাৎ "বাসস্থান" এবং লোগোস অর্থাৎ "বিদ্যা" ইংরেজি Ecology পরিভাষাটি এসেছে।
- ইকোলজি শব্দটি জার্মান বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল ১৮৬৯ সালে সর্বপ্রথম প্রণয়ন করেন।
- ‘ইকোলজি’ হলো পরিবেশের সাথে প্রাণীজগতের সম্পর্ক বিষয়ক বিদ্যা।
- সুইডিশ বিজ্ঞানী সুভনটে আরহেনিয়াস ১৮৯৬ সালে সর্বপ্রথম ‘গ্রিনহাউজ’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- লেস্টার ব্রাউন প্রথম ‘জলবায়ু শরনার্থী’ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন।
- নরম্যান বোরলগ সবুজ বিপ্লবের জনক হিসেবে অভিহিত।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং অ্যাকাডেমিয়া। 
৬৮.
WWF এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. ক) World Wide Federation for Nature
  2. খ) World Wide Fund for Nature
  3. গ) World Warming Federation for Natural  
  4. ঘ) Wild World Fund for Nature
সঠিক উত্তর:
খ) World Wide Fund for Nature
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) World Wide Fund for Nature
ব্যাখ্যা
WWF এর পূর্ণরূপ হচ্ছে World Wide Fund for Nature.

- ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার ( ডব্লিউডবিএফ ) হল একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থা।
- ইহা ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, মরুভূমি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কাজ করে এবং পরিবেশের উপর মানবিক প্রভাব হ্রাস পায়।
- এটি পূর্বে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের নামকরণ করা হয়েছিল, যা কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল নাম।
- লিভিং প্ল্যানেট রিপোর্ট ডব্লিউডএফএফ দ্বারা ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতি দুই বছর প্রকাশিত হয়; এটি একটি লিভিং প্ল্যানেট সূচক এবং পরিবেশগত পদাঙ্ক হিসাব উপর ভিত্তি করে।  
- বিশ্বের বৃহত্তম সংরক্ষণ সংস্থা (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার, সংক্ষেপে নাম) যেটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে, এটি বিভিন্ন দেশগুলিতে বিতরণ করে, প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি উন্নীত করে, বিভিন্ন প্রচারাভিযান, শিক্ষা এবং সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে WWF. 

সূত্র- WWF Website [লিঙ্ক]
৬৯.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা কত? 
  1. ক) ০.০৫ মিলিগ্রাম/লিটার
  2. খ) ০.০৩ মিলিগ্রাম/লিটার
  3. গ) ০.০২ মিলিগ্রাম/লিটার
  4. ঘ) ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার
ব্যাখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার। 

- আর্সেনিক দূষণ  ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণ ধরা পড়ার পর থেকে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাসমূহে আর্সেনিক দূষণের আশঙ্কা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ সালে  নবাবগঞ্জ সদর (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে (School of Environmental Sciences – SOES/ এস.ও.ই.এস) অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারের পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এর পর থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর প্রিভেনটিভ এন্ড সোশাল মেডিসিন (নিপসম), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বি.ডব্লিউ.ডি.বি)-এর গ্রাউন্ড ওয়াটার সার্কেল, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ইত্যাদি সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের ভিতরে আর্সেনিক দূষণের প্রমাণ অনুসন্ধান করা শুরু করে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৭০.
গ্রিন হাউজে গাছ লাগানো হয় কেন?
  1. উষ্ণতা থেকে রক্ষার জন্য
  2. অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
  3. আলো থেকে রক্ষার জন্য
  4. ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য
সঠিক উত্তর:
অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজ: 
- শীতপ্রধান অঞ্চলের অত্যধিক ঠান্ডা থেকে রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তাপ ধরে রাখার জন্য কাঁচ নির্মিত ঘরের মধ্যে গাছ লাগানো হয়। 
- এই কাঁচ নির্মিত ঘরকে গ্রীন হাউজ বলা হয়। 
- গাছকে উষ্ণতা প্রদান করার জন্য গ্রিন হাউজে গাছ লাগানো হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১.
পরিবেশের বিভিন্ন দূষকের মধ্যে ওজনহীন প্রভাবক কোনটি?
  1. তেল
  2. ছাই
  3. ধূলিকণা
  4. গামারশ্মি
সঠিক উত্তর:
গামারশ্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামারশ্মি
ব্যাখ্যা

১। কঠিন আবর্জনা (Solid Wastes):
- যে সকল কঠিন পদার্থ পরিবেশের দূষণ ঘটায় সেগুলো কঠিন আবর্জনার অন্তর্ভুক্ত।
- যেমন- গৃহস্থালি ও জবাইখানার কঠিন বর্জ্য (সবজির অব্যবহৃত অংশ, মাছ, মুরগির ময়লা) পরিবেশকে দূষিত করে।
- এছাড়াও নির্মাণ কাজের পর অবশিষ্ট কঠিন পদার্থ বাতাসের সাথে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
- রান্নার পরে অব্যবহৃত ছাই (Ashes) বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে দূষণ ঘটায়।
- শিল্পজ আবর্জনাও নদী ও সাগরের পানিকে দূষিত করে এবং নির্গত ধোঁয়া বায়ুদূষণও ঘটায়।
- যেমন চিনি কারখানা, সার কারখানা, লৌহ ও ইস্পাত নির্মাণ কারখানা, ইটের ভাঁটা ও চামড়া শিল্পের কারখানা থেকে কঠিন বর্জ্য ও ধোঁয়া পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।

২। তরল আবর্জনা (Liquid Wastes):
- পরিবেশের তরল দূষকসমূহ হলো- তেল, অ্যাসিড, অ্যাসিড বৃষ্টি, তরল কীটনাশক ও অন্যান্য বিষাক্ত তরল পদার্থ।
- বর্তমানে বাংলাদেশের হাওড়, বাওড়, নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা, লঞ্চ, স্টিমারের চলন চালু হওয়ার কারণে তেল নিঃসারণের ফলে জলজ প্রতিবেশ দূষিত হচ্ছে।
- এছাড়া তেলবাহী জাহাজ এর দুর্ঘটনার ফলে সামুদ্রিক প্রতিবেশও দূষিত হয়।
- পানিতে অ্যাসিডের পরিমাণ অধিক হলে এটি জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে যায়।
-   কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত তরল কীটনাশক মাটির উর্বরতা হ্রাস করে এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে নদী ও সাগরের পানিতে মিশে ও জলজ প্রতিবেশের ক্ষতি করে।
- কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত জীবানুনাশক, কীটনাশক যেমন- D.D.T. এলড্রিন, ক্লোরোডেন ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পরিবেশ এবং মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

৩। গ্যাসীয় অবর্জনা (Gaseous Wastes):
- উদ্ভিদ ও প্রাণিকূলের অস্তিত্বের জন্য বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
- প্রাণী শ্বাসপ্রশ্বাস তথা জীবনধারণের জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং উদ্ভিদ সূর্যালোকের সাহায্যে পানি ও ক্লোরোফিল ব্যবহার করে কার্বন ডাই অক্সাইডের সাহায্যে প্রস্তুত করে এবং অক্সিজেন (O2) ত্যাগ করে।
- কিন্তু বর্তমানে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং নগরায়নের কারণে বাতাসে কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), ওজোন (O3) প্রভৃতি গ্যাসের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পরিবেশকে দূষিত করছে।
- এই সব গ্যাসকে পরিবেশের গ্যাসীয় দূষক হিসেবে ধরা হয়।

৪। ওজনহীন প্রভাবক (Waste without weight):
- পরিবেশের ওজনহীন প্রভাবক হিসেবে ধরা হয় এক্সরে রশ্মি, আলফা রশ্মি ও গামা রশ্মিকে
- এই সকল রশ্মির কারণে ক্যান্সার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া শব্দকে ওজনহীন দূষক হিসেবে ধরা হয়।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২.
নিচের কোনটি বায়োম এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. তুন্দ্রা জীবভূমি
  2. মরু জীবভূমি
  3. বন জীবভূমি
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বায়োম:- 
- বায়োম বা জীবভূমি হচ্ছে বিস্তৃত পরিসরের প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম বা প্রতিবেশ।
- অর্থাৎ প্রতিবেশের উদ্ভিদের ভিন্নতার জন্য প্রতিটি বৃহৎ বায়োম বা জীবভূমি পৃথক নামে পরিচিত।
- যেমন- বন জীবভূমি, তৃণ জীবভূমি, মরু জীবভূমি, তুন্দ্রা জীবভূমি, স্বাদুপানির বায়োম ও সামুদ্রিক লবণাক্ত পানির জীবভূমি।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু, সূর্যরশ্মির পতন, সমুদ্রের অবস্থান এবং বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহের ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক পৃথক বায়োম বা জীবভূমি তৈরি হয়েছে।

উৎস:  পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩.
কোন গ্রিন হাউস গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে?
  1. নাইট্রাস অক্সাইড 
  2. ক্লোরোফ্লোরোকার্বন 
  3. মিথেন
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
মিথেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথেন
ব্যাখ্যা

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Green house effect) বলে। 
- গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে নিম্নে গ্রিন হাউস গ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- 
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2): 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড। জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়। বর্তমানে তরল ও কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে আইসক্রিম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে। 

২। মিথেন (CH4): 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। এছাড়াও জলাভূমিতে পানির নিচে পানা পচনের মাধ্যমে, ধানের বর্জ্য অবশিষ্টাংশের পচন থেকে মিথেন পাওয়া যায়। তাপ ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে মিথেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চাইতে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে। 

৩। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC): 
- সিএফসি সাধারণত বিষমুক্ত, নিষ্ক্রিয় এবং ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। সিএফসি হিমায়নে (ফ্রিজ, এসি) ও স্প্রে-ক্যানে (অ্যারেসোল), মাইক্রো ইলেকট্রিক সার্কিট ও প্লাস্টিক ফোমে ব্যবহৃত হয়। 

৪। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O): 
- অক্সিজেনের সাথে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি করে। এটিও বর্ণহীন, সামান্য মিষ্টিগন্ধযুক্ত। এই গ্যাসের উৎসসমূহ হলো মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, কারখানা। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪.
গ্রীনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে?
  1. নাইট্রাস অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
  3. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  4. সি এফ সি
সঠিক উত্তর:
কার্বন-ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

• গ্রীনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) রয়েছে। এটি প্রধানত জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা, তেল এবং গ্যাস পোড়ানোর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে নিঃসৃত হয়। এছাড়া বন উজাড় এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে CO2 নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলের তাপ ধরে রাখে, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অন্যতম প্রধান কারণ। অন্যান্য গ্রীনহাউস গ্যাস যেমন নাইট্রাস অক্সাইড বা সি এফ সি কম পরিমাণে থাকে, এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সাধারণত গ্রীনহাউস গ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয় না। তাই প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় উৎসের কারণে CO2 পৃথিবীর গ্রীনহাউস প্রভাবের প্রধান অবদানকারী।

- উত্তর: গ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড। 

• গ্রীনহাউস গ্যাস:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warning) এর হার বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- আমরা জানি, যে বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এ ক্ষেত্রে বায়ুমন্ডল হলো গ্রীনহাউস বা কাঁচ ঘরের কাঁচের দেয়াল বা ছাদ এবং সূর্যালোক ভূ-পৃষ্ঠ শোষণ করে ও বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে।
- মানুষ যখন গাছ-পালা কেটে, কাঠ-কয়লা পুড়িয়ে, কারখানার ধোঁয়া ইত্যাদির দ্বারা মিথেন, ওজোন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস তৈরি করছে তখন তাকে বলা হয় গ্রীনহাউস গ্যাস।
- বায়ুমন্ডলে তাই গ্রীনহাউস গ্যাসের পুরু চাদর তৈরি হয়েছে কারণ এই সব গ্যাস আর ফিরে যেতে পারে না।
- এই তাপ শোষণের মাত্রা যত বাড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা ততই বাড়বে।
- উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াই হলো গ্রীনহাউস প্রভাব।

• গ্রীনহাউস এফেক্ট: 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রীনহাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 

গ্রীনহাউস এফেক্টের কারণে- 
• সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
• আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে, 
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
• ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে। 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

উৎস:
- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫.
পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. অধিক শিকার
  2. অধিক বৃক্ষনিধন
  3. টেকসই উন্নয়ন
  4. রাসায়নিক ব্যবহার বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
টেকসই উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকসই উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• পরিবেশ সংরক্ষণ বলতে বোঝায়—প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশকে এমনভাবে রক্ষা করা যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তা ব্যবহার করতে পারে।
- এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয় টেকসই উন্নয়ন,
যার মূলনীতি হলো:
“বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানো, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।”  

টেকসই উন্নয়নের মূল দিকগুলো:
- পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা।
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- সামাজিক ন্যায্যতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ। 

এই তিনটি দিক একসঙ্গে সমন্বয় করেই পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সম্ভব।

অন্যদিকে, 
অধিক শিকার:
এটি বন্যপ্রাণীর সংখ্যা হ্রাস করে এবং জৈব বৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট করে। পরিবেশ সংরক্ষণের পরিপন্থী।

অধিক বৃক্ষনিধন:
বৃক্ষ কেটে ফেলার ফলে বায়ু দূষণ বাড়ে, জলবায়ু পরিবর্তন হয় এবং মাটির ক্ষয় ঘটে। এটি পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম কারণ।

রাসায়নিক ব্যবহার বৃদ্ধি:
কীটনাশক ও সার অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটি, পানি ও খাদ্যদূষণ ঘটে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ—দুইয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। 
- সাধারণ বিজ্ঞান – অষ্টম শ্রেণি, NCTB ।
৭৬.
'অভিব্যক্তি' বলতে কী বোঝায়? 
  1. জীবের অপরিবর্তিত থাকা 
  2. ধারাবাহিক পরিবর্তন ছাড়া হঠাৎ রূপান্তর 
  3. পরিবেশের প্রভাবে অস্থায়ী পরিবর্তন 
  4. জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
সঠিক উত্তর:
জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
ব্যাখ্যা

বিবর্তন: 
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্ধতি, এর প্রকৃত অর্থ হলো ক্রমবিকাশ।
- পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে, আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়েছে। যেমন- ডাইনোসর আজ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে, আবার কোন কোন জীব ধীর গতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। 
- কয়েক লক্ষ বা হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলা হয়। 

- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফেন জে. গোল্ড (১৯৯১) এর মতে 'Evolution' পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান জীববিদ Albrecht von Haller (১৭৭৪ সালে)। 
- তিনি বলেন ধীর অথচ ক্রমাগত ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোন সত্ত্বা সরল থেকে জটিল হওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিবর্তন। 
- কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ ধীরে ধীরে ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়াকে অভিব্যক্তি বলা হয়। 
- অভিব্যক্তির মূল কথা হলো প্রজাতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জীবের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭.
প্রাণী ও উদ্ভিদের বিবর্তনের অধ্যয়নকে কী বলা হয়?
  1. Evolution
  2. Microbiology
  3. Mycology
  4. Embryology
সঠিক উত্তর:
Evolution
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Evolution
ব্যাখ্যা

• প্রাণী ও উদ্ভিদের বিবর্তনের অধ্যয়নকে Evolution বা বিবর্তনবিজ্ঞান বলা হয়। এটি জীববিজ্ঞানের একটি শাখা, যা জীবজগতের পরিবর্তন ও প্রজাতির উদ্ভব, বিবর্তন, এবং বিভিন্ন জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করে। বিবর্তনবিজ্ঞান দেখায় কিভাবে প্রজাতি সময়ের সাথে সাথে অভিযোজিত হয় এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায়। উদ্ভিদ ও প্রাণীর শারীরিক, জেনেটিক এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা জীবনের বিবর্তনের পদ্ধতি ও কারণ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ক) Evolution.

অন্যদিকে, 
- ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Embryology, 
- অণুজীব বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় Microbiology,  
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology. 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮.
কত উপায়ে পরিবেশ দূষণ ঘটে থাকে?
  1. ক) দুই উপায়ে
  2. খ) তিন উপায়ে
  3. গ) চার উপায়ে
  4. ঘ) পাঁচ উপায়ে
সঠিক উত্তর:
গ) চার উপায়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চার উপায়ে
ব্যাখ্যা
পরিবেশ দূষণ প্রধানত চার প্রকারের হয়ে থাকে। যথা- পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, মাটি দূষণ এবং শব্দ দূষণ। 

- আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা পারিপার্শিক অবস্থা দূষিত হলে তাকে পরিবেশ দূষণ বলে।
- দূষণকে বিভিন্নভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। যা নিম্নরূপ:
১. বায়ু দূষণ :বিশুদ্ধ বাতাসে ক্ষতিকারক পদার্থ বা বিষাক্ত গ্যাস, অণুজীব, কার্বন ডাই অক্সাইডের মিশ্রণকে বায়ু দূষণ বলে। বায়ু দূষণ সবচেয়ে জটিল অবস্থার একটি।
২. পানি দূষণ : বিশুদ্ধ পানিতে অজৈব ও জৈব এবং ক্ষতিকারক উপাদানের উপস্থিতিকে পানি দূষণ বলে।
৩. মাটি দূষণ: মাটির দূষণ হল মাটির ভৌত, রাসায়নিক এবং জৈবিক বৈশিষ্ট্যের এমন একটি পরিবর্তন যার কারণে এটি মানুষ এবং অন্যান্য জীবকে প্রভাবিত করে।
৪. পানি দূষণ: অপ্রয়োজনীয় ও অবাঞ্ছিত শব্দ যা পরিবেশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তাকে শব্দ দূষণ বলে।

পরিবেশ দূষণের কারণসমূহ-
- বায়ু দূষণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ গাছ কাটা।
- বড় বড় কারখানার ধোঁয়ায় এবং যানবাহনে ব্যবহৃত জ্বালানির কারণেও বায়ু দূষণ বেড়ে যায়।
- বড় বড় কারখানার ধোঁয়ায় বায়ু দূষণও অনেক বেড়ে যায়।
- কীটনাশক, বর্জ্য ও নর্দমা সঠিক জায়গায় না ফেলে বিশুদ্ধ নদী, জলাশয়, হ্রদে ফেলা হয়। যার কারণে বিশুদ্ধ পানি ও মাটি দূষিত হচ্ছে।
- শহরগুলোর জনসংখ্যা ও নগরায়ণ জনসংখ্যা যেমন বাড়ছে, শিল্পায়নও বাড়ছে।
- বৃহৎ মহাসাগরে খনিজ তেল ফুটো হওয়া
- বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন বাড়ছে। এর পাশাপাশি, মেশিন, উড়োজাহাজের, লাউডস্পিকার দ্বারা সৃষ্ট শব্দ শব্দ দূষণের প্রধান কারণ।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৭৯.
পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোন গ্যাস সবচেয়ে বেশি দায়ী?
  1. কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. কার্বন মনো অক্সাইড
  4. ওজোন
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্যাস সবচেয়ে বেশি দায়ী।
- এটি গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কাজ করে, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপ ধারণ করে।

• কার্বন ডাইঅক্সাইড পৃথিবী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর কারণ এটি:
- দীর্ঘস্থায়ী: CO₂ বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যায়, প্রায় ১০০ বছর বা তার বেশি।
- প্রধান উষ্ণায়নকারী গ্যাস: অন্যান্য গ্রীনহাউস গ্যাস যেমন মিথেন (CH₄) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) এর তুলনায় CO₂ বেশি পরিমাণে বায়ুমণ্ডলে থাকে এবং এটি উষ্ণায়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।
- নির্গমন বৃদ্ধি: শিল্পায়ন, যানবাহন, এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে CO₂ নির্গমন বৃদ্ধি পায়, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও U.S. Environmental Protection Agency।
৮০.
গ্রিন হাউস প্রভাবের ফলে পৃথিবীতে কোন পরিবর্তন ঘটে?
  1. বায়ুমণ্ডলের চাপ বৃদ্ধি পায়
  2. রোদ কমে যায়
  3. মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায় 
  4. সমুদ্রের রঙ পরিবর্তিত হয়
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায় 
ব্যাখ্যা

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে, ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে। 
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে। 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে- 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১.
কোন পদার্থের বর্জ্য শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পেছনে দায়ী?
  1. ক) অ্যালুমিনিয়াম
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) প্লাস্টিক
  4. ঘ) পেপার
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাস্টিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লাস্টিক
ব্যাখ্যা
- প্লাস্টিক সামগ্রী পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
- পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয় না বলে অপরিবর্তিত অবস্থায় বছরের পর বছর ধরে মাটিতে থেকে যায়।
- বর্জ্য প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, নদীর নিচে তলানী হিসেবে জমা হয়ে নদীর নাব্যতা কমিয়ে দেয়, জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় ও পানি দূষণ ঘটায়।
- ব্যবহার অনুপোযোগী প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
- প্লাস্টিক রিসাইকেল করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ করা সম্ভব।

সূত্র: Plastics NZ Website [লিঙ্ক]
৮২.
নিচের কোনটি দ্বারা দূষিত বাতাস বোঝায়?
  1. GAS
  2. FOG
  3. SMOG
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
SMOG
উত্তর
সঠিক উত্তর:
SMOG
ব্যাখ্যা
• SMOG বা ধোঁয়াশা: 
- SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস।
- কতিপয় বিষাক্ত পদার্থ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে ধোঁয়াশায় পরিণত হয় যা জীবের পক্ষে আরও ক্ষতিকর, একে আলোক রাসায়নিক ধোঁয়াশা বা ফটোকেমিক্যাল স্মগ (Photochemical smog) বলে।
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- 'SMOG' শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে।
- মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যানসার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস:
১. পরিবেশ রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. National Geographic Society.
৮৩.
ওজোন স্তর নষ্ট হওয়ার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন অক্সাইড
  2. মিথেন
  3. ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
  4. কার্বন ডাইঅক্সাইড
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোফ্লুরোকার্বন
ব্যাখ্যা

• ওজোন স্তর নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFCs)। এটি বিভিন্ন এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, এবং স্প্রে ক্যানের মধ্যে ব্যবহৃত হয়। যখন CFC বায়ুমণ্ডলে উঠে ওজোন স্তরে পৌঁছায়, সানলাইটের আলোর কারণে এটি ক্লোরিন আয়ন বের করে। এই ক্লোরিন আয়ন ওজোন অণুর সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে তাকে ভাঙতে শুরু করে, যার ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়। ওজোন স্তর আমাদেরকে সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে। CFC ছাড়া অন্য উপাদান যেমন নাইট্রোজেন অক্সাইড বা মিথেনও ওজোন ক্ষয় ঘটাতে পারে, তবে তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। তাই CFC কে ওজোন স্তর নষ্টের প্রধান দায়ী ধরা হয়।

• ওজোন স্তর:
- ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামুলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে ।

• ওজোন স্তরের ভূমিকা- 
-  সূর্য থেকে বিচ্ছুরিত অতিবেগুনি রশ্মিকে (Ultra-Violet Ray) শোষণ করে ভূপৃষ্ঠে আসতে দেয় না, যার ফলে জীবজগৎ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায় ।
 - বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে ।
 - জীববৈচিত্র রক্ষা করে ।
 - ওজোন গ্যাস সূর্যের তাপ ও অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে, ফলে এই স্তরের তাপমাত্রা খুব বেশি হলেও তা বায়ুমন্ডলীয় তাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে ।

• CFC (Chlorofluorocarbons) হলো এমন রাসায়নিক যৌগ যা সাধারণত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, স্প্রে ক্যান এবং ফোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- এই যৌগগুলো বায়ুমণ্ডলে উঠে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে (stratosphere) পৌঁছে ওজোন (O3) গ্যাসকে ধ্বংস করে।

• ক্ষয় প্রক্রিয়া:
- CFC গ্যাস UV রশ্মিতে ভেঙে যায় → ক্লোরিন পরমাণু মুক্ত হয়।
- একটি ক্লোরিন পরমাণু → হাজার হাজার ওজোন অণু ধ্বংস করতে সক্ষম।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা।

৮৪.
বায়ু দূষণের জন্য প্রধানত দায়ী-
  1. ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন মনোক্সাইড
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
কার্বন মনো-অক্সাইড (CO)- মানুষের শ্বাসক্রিয়ার পক্ষে চূড়ান্ত ক্ষতিকারক এই গ্যাস বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় ভারসাম্যের বিঘ্ন ঘটাতে পারদর্শী।
- মূলতঃ পুরনো যানবাহনের থেকে এই গ্যাসের উৎপত্তি। এই কারণে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলীতে বিভিন্ন দূষণ-নিয়ন্ত্রণজনিত বিধি করা হয়েছে।
- ইউরো স্টেজ এবং ভারত স্টেজ (ইঞ্জিন-এর রেটিং ব্যবস্থা) এই ধরণের দূষণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে
৮৫.
যানবাহন থেকে নির্গত কালো বিষাক্ত গ্যাসটির নাম কী?
  1. ক) মিথেন
  2. খ) ইথেন
  3. গ) কার্বন মনোক্সাইড
  4. ঘ) ফেরিক অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন মনোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন মনোক্সাইড
ব্যাখ্যা
যানবাহন থেকে নির্গত কালো বিষাক্ত গ্যাসটির নাম হচ্ছে কার্বন মনোক্সাইড। এই গ্যাসটি বায়ু দূষণের জন্য দায়ী। 

- যেসব সংক্রামক উপাদান বায়ু দেমিসে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে সেই সব উপাদান কে বলা হয় দূষক ।
- পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঘটনাকে বলা হয় দূষণ।

বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ- 
১. কার্বন মনোক্সাইড এর প্রভাবে মাথাধরা, ঝিমুনি, শারীরিক শক্তি হ্রাস পায়। 
২. সালফার অক্সাইড-এর প্রভাবে শ্বাসনালির জ্বালা, হাঁপানি, কাশি, নাকজ্বালা। 
৩.  নাইট্রোজেন অক্সাইড-এর প্রভাবে শ্বাসনালির স্ফীতি ও ফুসফুসের জ্বালা। 
৪. সূক্ষ্মণার প্রভাবে চোখ, নাক ও গলার জ্বালা, রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা হ্রাস। 

সূত্র: Texas Commission on Environmental Quality Website [লিঙ্ক]
৮৬.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউজ গ্যাস?
  1. ক) জলীয় বাষ্প
  2. খ) ওজোন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলােকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।
কয়েকটি উল্লেখযােগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে -
- জলীয় বাষ্প,
- কার্বন ডাই অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড,
- মিথেন,
- ওজোন,
- ক্লোরােফ্লোরাে কার্বন ইত্যাদি।
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরােক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।
উৎসঃ ভূগােল, নবম-দশম শ্রেণি - বাের্ড বই, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry।

৮৭.
প্রাইমারি দূষক নয় কোনটি?
  1. SO2
  2. CO2
  3. NH3
  4. SO3
সঠিক উত্তর:
SO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
SO3
ব্যাখ্যা

প্রাইমারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে। যেমন:
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO),
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2),  
- কার্বন মনোক্সাইড (CO), 
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), 
- সালফার ডাইঅক্সাইড (SO2), 
- অ্যামোনিয়া (NH3), 
- ছাই, ধুলিকণা, 
- Volatile organic compounds (VOCs).

• সেকেন্ডারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে। যেমন:
- সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3), 
- নাইট্রিক এসিড (HNO3),
- নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), 
- সালফিউরিক এসিড (H2SO4), 
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2), 
- অ্যামোনিয়াম (NH4+),  
- ওজোন (O3).

উল্লেখ্য: কিছু দূষণকারী পদার্থ প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উভয় দূষকই হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ: নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড জীবাশ্ব-জালানী থেকে এবং বজ্রপাত থেকে সৃষ্টি হয়, আবার এটি অন্যান্য রাসায়নিক থেকেও বায়ুমণ্ডলে তৈরি হতে পারে।


image source: vibe and brie

তথ্যসূত্র: সূত্র: University of California এবং Energy Education

৮৮.
জড় পরিবেশের মূল উপাদান নয় কোনটি?
  1. পানি 
  2. মাটি
  3. উদ্ভিদ 
  4. বায়ু 
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

পরিবেশের উপাদান: 
- পরিবেশকে প্রধানত দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। 
- একটি হলো পরিবেশের সকল সজীব উপাদান, যা জীব উপাদান নামে পরিচিত। 
- এই জীব উপাদানকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সকল উপাদান নিয়ে আর একটি পরিবেশ গঠিত। যাকে বলা হয় জড় পরিবেশ বা অজীব পরিবেশ। 
- জীব পরিবেশের উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী। 
- পরিবেশের প্রাণহীন সব উপাদান নিয়ে জড় পরিবেশ গঠিত । এগুলো অজীব বা জড় উপাদান নামে পরিচিত। 
- জড় পরিবেশের মূল উপাদান হচ্ছে মাটি, পানি এবং বায়ু; কারণ এ উপাদানগুলো ছাড়া কোন জীবই বেঁচে থাকতে পারে না। 
- মাটি, পানি, বায়ু, আলো, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, জলবায়ু ইত্যাদি বিভিন্ন অজীব উপাদান বিভিন্নভাবে পরিবেশের প্রতিটি জীবের স্বভাব এবং বিস্তৃতিকে প্রভাবিত করে 
- এসব উপাদানের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে পরিবেশের একটি নির্দিষ্ট স্থানে কোন ধরনের জীব উপাদান থাকবে।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৮৯.
নিচের কোনটি পরিবেশের জড় উপাদান? 
  1. বায়ুমণ্ডল 
  2. গাছপালা 
  3. কীটপতঙ্গ 
  4. পশুপাখি 
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুমণ্ডল 
ব্যাখ্যা

পরিবেশের উপাদান (Elements of Environment): 
- পরিবেশের প্রধান দুটি উপাদান হলো জড় ও জীব উপাদান। 
- যাদের জন্ম, মৃত্যু, বৃদ্ধি আছে অর্থাৎ যাদের জীবন আছে তারা হলো জীব। 
যেমন- গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণি হলো জীব; অর্থাৎ, এরা পরিবেশের জীব উপাদান। 
- অপরদিকে ভূমি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, সৌরজগত, উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বায়ুমণ্ডল হলো পরিবেশের জড় উপাদান এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান উপকরণ। 
- জীব এবং জড় এই প্রধান দুটি পরিবেশের উপাদান সম্মিলিতভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সামাজিক পরিবেশ তৈরি করছে। 
- প্রাকৃতিক এবং সামাজিক এই উভয় পরিবেশের উপাদানসমূহই পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। 

পরিবেশের প্রকারভেদ (Types of Environment): 
- পরিবেশ মূলত দুই প্রকার। 
যথা- ভৌত বা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশ। 
- প্রকৃতির জড় ও জীব উপাদান যে পরিবেশ তৈরি করে তাকে ভৌত বা প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। 
- অপরদিকে মানুষের আচার-আচরণ, বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় উৎসব, সাংস্কৃতিক উৎসব, রীতি-নীতি, শিক্ষা, মূল্যবোধ, অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে যে পরিবেশ গড়ে উঠে তা হলো সামাজিক পরিবেশ। 
- প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সামাজিক পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করাই হলো ভূগোলের প্রধান আলোচ্য বিষয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশের কোন জেলা জলমগ্ন হয়ে পড়বে?
  1. রংপুর
  2. বগুড়া
  3. দিনাজপুর
  4. নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার পরিণতি: 
- সম্পদের অধিক ব্যবহারে জলজ, বনজ ও স্থলজ এই তিন ধরনের বাস্তুসংস্থান বিদ্যমান, প্রত্যেকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। 
- জলজ বাস্তুসংস্থান নষ্ট হওয়ার ফলে অনেক জলজ প্রাণী ও মাছ বিলুপ্ত। 
- বনজ সম্পদের অনেক বৃক্ষ বিলুপ্ত ও কিছু বৃক্ষ বিলুপ্তির মুখে, এমন কি অনেক বনজ প্রাণী ধ্বংস হয়েছে। বনজঙ্গল বেশি কেটে ফেলার ফলে শৃগাল, খরগোশ, বনবিড়াল প্রভৃতির বাসস্থান নষ্ট হয়েছে, যা খাদ্য শৃঙ্খলকে ভেঙে দিয়েছে। এর প্রভাব স্থলজ প্রাণীর বাস্তুসংস্থানের উপর তথা মানব সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। 
- অতিরিক্ত মাত্রায় সম্পদ ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে উত্তরাঞ্চলে উত্তপ্ততা এবং শৈত্যপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- উন্নত বিশ্বে অতিরিক্ত শিল্পায়নের কারণে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে আমাদের দেশের সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে সাতক্ষীরা, বরিশাল ও নোয়াখালী জেলার অনেক অংশ সমুদ্রের জলমগ্ন হয়ে পড়বে। 
- এছাড়া ভূনিম্নস্থ পানিতে লোনা পানি প্রবেশ করছে। ফলে স্বাভাবিক উদ্ভিদ জন্মানোর পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে; পাহাড় ও ভূমিধস বৃদ্ধি পাচ্ছে ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। 
- পরোক্ষভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের বিভিন্ন সংক্রমণ রোগ, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও পেটের পীড়া। এভাবে চলতে থাকলে পুরো পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে, দেখা দেবে নানা বিপর্যয়। তাই সহনশীল টেকসই পরিবেশই সকলের কাম্য। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১.
প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য দ্বারা কী বোঝানো হয়? 
  1. জীবনের বয়স
  2. মানুষের গায়ের রং
  3. জীবের গড় আকার
  4. ভিন্ন প্রজাতির জীবের বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
ভিন্ন প্রজাতির জীবের বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিন্ন প্রজাতির জীবের বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের জল ও স্থলভাগে বসবাসকারী সকল প্রকার জীবের মধ্যে বিরাজমান জীনগত, প্রজাতিগত ও বাস্তুতান্ত্রিক বিভিন্নতা ও সংখ্যা প্রাচুর্যতা রয়েছে এবং কালের ক্রমধারায় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের বৈচিত্র্যময় অবস্থার পরিবর্তন ও বিকাশ ঘটানোকে বলা হয় জীববৈচিত্র্য। 
- ভৌগোলিক বৈচিত্র্যময় পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতিসমূহের মধ্যে আন্তঃগোষ্ঠিয় বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। 
- প্রাকৃতিক পরিবেশে মানবসৃষ্ঠ কারণে নানা রকম পরিবর্তনের সাথে সাথে তাই জীবজগত ও পরিবেশের বিকাশ, বসবাস, বংশবিস্তারের মধ্যেও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। 
- পৃথিবীতে সময়ের সাথে সাথে হাজার হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণির আবির্ভাব হয়েছে। তবে জীবের প্রয়োজনে অন্য জীবের সৃষ্টি ও বিলুপ্তির প্রক্রিয়াও প্রচলিত রয়েছে। 

জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ: 
- জীববৈচিত্র্যকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্য: 
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিরাজমান জীবের ভৌত ও পারিবেশগত বিভিন্নতাকে বাস্তুতান্ত্রিক জীববৈচিত্র্য বলে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাজমান। প্রত্যেকটি বাস্তুতন্ত্রে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমন্ডিত বৈচিত্র্যময় জীবজগতের সৃষ্টি হয়। 

২. প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য: 
- ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্যতা বিদ্যমান তাকে প্রজাতিগত জীববৈচিত্র্য বলা হয়। এরূপ বৈচিত্র্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বিরাজমান মোট প্রজাতির সংখ্যা দ্বারা পরিমাপিত হয়। 

৩. জীনগত জীববৈচিত্র্য: 
- উদ্ভিদ ও প্রাণির প্রতিটি সদস্যই তাদের জীনগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পরস্পর আলাদা। জীবগোষ্ঠির এই জীনগত বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্যতাই জীনগত জীববৈচিত্র্য। জীনগত ভিন্নতার কারণেই আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ ও আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের গায়ের রং, চুলের প্রকৃতি, নাক ও ঠোঁটের আকৃতি, উচ্চতা ইত্যাদির অনেক পার্থক্য বিদ্যমান। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি? 
  1. N2O
  2. SO2
  3. CO
  4. CO2
সঠিক উত্তর:
SO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
SO2
ব্যাখ্যা

এসিড বৃষ্টি: 
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে। 
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া। 
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে। 
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন: NO, NO2) । 

এসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব: 
- বর্তমানে রিপোর্টে প্রকাশিত ভারতের 'মথুরা অয়েল রিফাইনারি' থেকে নির্গত SO2 বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এসিড বৃষ্টি ঘটাচ্ছে। 
- এ এসিড বৃষ্টি থেকে 'তাজমহল'-এর মার্বেল পাথর আক্রান্ত হচ্ছে। এসিড বৃষ্টিতে বিভিন্ন ধাতুর তৈরি ব্রিজ ও অট্টালিকার ক্ষতি হয়। 
- এসিড বৃষ্টির ফলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ আক্রান্ত হয়। কম pH এর পানিতে মাছের ডিম হ্যাচিং (hatching) বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। অধিক অম্লত্বের কারণে জলাশয়ে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে জলাশয় বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।
- এসিড বৃষ্টির প্রভাবে বৃষ্টি অরণ্য (rain forest)- এর বিশেষ ক্ষতি হতে পারে। বীজের অঙ্কুরোদ্গম এসিড বৃষ্টিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- মাটির উপাদান ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, জিংক ধাতুর ফসফরাস যৌগ এসিড বৃষ্টি ধুয়ে নিয়ে মাটিকে অনুর্বর করে দেয়। 

এসিড বৃষ্টির প্রতিকার: 
- এসিড বৃষ্টি হওয়ার পরে পুকুর ও হ্রদের পানিতে এবং কৃষি জমিতে চুন বা লাইম অথবা চুনাপাথর গুঁড়া ছিটানো দরকার। তখন অতিরিক্ত এসিড ক্যালসিয়াম লবণে পরিণত হয়। এরূপ লাইমিং কাজে অর্থ ব্যয় খুব বেশি। 
- দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ট্রপোস্ফিয়ারকে SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা। 
- এজন্য শিল্পক্ষেত্রে FGD প্ল্যান্ট ও মোটর-কারে ক্যাটালাইটিক কনভার্টার ব্যবহার করে NOx গ্যাসকে বিজারিত করে N2 গ্যাসে পরিণত করা। 

অন্যদিকে, 
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়। 
যেমন- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) দূর্বল কার্বনিক এসিড (H2CO3) তৈরি করে যা এসিড বৃষ্টি তৈরি করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

৯৩.
বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের প্রধান ভূমিকা কী? 
  1. অক্সিজেন উৎপাদন করা
  2. জলীয়বাষ্প সংরক্ষণ করা
  3. অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিফলিত করা
  4. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করা
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করা
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের গঠন উপাদান: 
- জীবন ধারণের জন্য পৃথিবীর জীবকুলের কাছে যেসব জিনিস অপরিহার্য বায়ুমণ্ডল তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- যে গ্যাসীয় আবরণ পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে বলে বায়ুমণ্ডল। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে বায়ুমণ্ডলও ভূপৃষ্ঠের চারদিকে জড়িয়ে থেকে অনবরত আবর্তন করছে। 
- বায়ুমণ্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই, তাই একে খালি চোখে দেখা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়। 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডল বিস্তৃত। 
- বায়ুমণ্ডলের ব্যাপ্তি যত বিশাল হোক না কেন, এর প্রায় ৯৭ ভাগ উপাদানই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। 
- তাই মানুষ, উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। 
- বায়ুমণ্ডল প্রধানত বিভিন্ন প্রকার উপাদান দ্বারা গঠিত। 
যেমন- 
• নাইট্রোজেন (N2) ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন (O2) ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন (Ar) ⇒ ০.৮০, 
• কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ⇒ ০.০৩, 
• অন্য গ্যাসসমূহ (নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, ওজোন, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড) ⇒ ০.০২, 
• জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১, 
• ধূলিকণা ও কণিকা ⇒ ০.০১ । 

- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুটি- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকি শতকরা ১.২৭ ভাগ অন্যান্য গ্যাস, জলীয়বাষ্প ও কণিকাসমূহ জায়গা জুড়ে আছে। 
- জীবজগৎ পরস্পর অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের গ্রহণ ও ত্যাগের মাধ্যমে বেঁচে আছে। 
- ওজোন গ্যাসের স্তর সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে জীবজগৎকে রক্ষা করে। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪.
ওজোন স্তর কিসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. CFC গ্যাস
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন মনোক্সাইড
সঠিক উত্তর:
CFC গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CFC গ্যাস
ব্যাখ্যা
• ওজোন স্তর হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত একটি গ্যাসীয় স্তর, যেখানে ওজোন (O₃) গ্যাসের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি।

- এই স্তরটি পৃথিবীর পৃষ্ঠকে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে। UV-B রশ্মি ত্বক ক্যান্সার, চোখের ছানি এবং উদ্ভিদের DNA ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- ওজোন স্তর এই ক্ষতিকর রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।

CFC:
- CFC বা ক্লোরোফ্লুরো-কার্বন  (Chlorofluorocarbon) হলো এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ যা প্রধানত রেফ্রিজারেটর, এসি, স্প্রে ক্যান এবং ফোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- যখন CFC বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে যায়, তখন সূর্যের UV রশ্মির কারণে তা ভেঙে যায় এবং ক্লোরিন (Cl) মুক্ত হয়।
- এই ক্লোরিন ওজোন অণুর (O₃) সাথে বিক্রিয়া করে তা ভেঙে ফেলে, যার ফলে ওজোন স্তরের ক্ষয় ঘটে।
- একটি CFC অণু প্রায় 1,00,000 ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে।
- এর ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছে ত্বকের ক্যানসার, চোখের সমস্যা ও পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
অর্থাৎ ওজন স্তর CFC গ্যাস এর কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর ভুগোল ও পরিবেশ (NCTB).
- DOE Bangladesh – পরিবেশ অধিদপ্তর।
- UNEP (United Nations Environment Programme)
৯৫.
মানুষের নিঃশ্বাসে শব্দের পরিমাণ কত ডেসিবল হয়ে থাকে?
  1. 50 dB
  2. 10 dB
  3. 30 dB
  4. 40 dB
সঠিক উত্তর:
10 dB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10 dB
ব্যাখ্যা
শব্দের দূষণ: 
- শব্দ জীবনের খুব প্রয়োজনীয় একটি বিষয়, কিন্তু এর বাড়াবাড়ি জীবনকে অসহনীয় করে তুলতে পারে।
- যারা শহরে থাকে বিশেষ করে যারা বড় রাস্তার পাশে থাকে তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছে রাস্তায় বাস, গাড়ি, ট্রাকের ইঞ্জিনের শব্দ এবং অনবরত হর্নের শব্দ প্রায়ই সহনশীল সীমার বাইরে চলে যায়।
- দীর্ঘদিন এই শব্দদূষণে থাকতে থাকতে অনেক সময় তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন শব্দদূষণহীন কোনো নিরিবিলি জায়গায় যাওয়ার সৌভাগ্য হলে হঠাৎ করে শব্দদূষণহীন জীবনের গুরুত্ব ধরা যায়।
- বিভিন্ন ধরনের শব্দের পরিমাণ নিচে দেখানো হয়েছে- 
• জেট ইঞ্জিন → 110-140 dB, 
• ট্রাফিক → 80-90 dB, 
• গাড়ি → 60-80 dB, 
• টেলিভিশন → 50-60 dB, 
• কথাবার্তা → 40-60 dB, 
নিঃশ্বাস → 10 dB এবং 
• মশার পাখার শব্দ → 0 dB । 

- শব্দদূষণের কারণে শোনার ক্ষমতা অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
- অনেকে অপ্রয়োজনেও কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনে, যাতে সমস্যাটি আরো জটিল হয়ে যায়।
- শব্দদূষণ কমানোর জন্য প্রথম প্রয়োজন দেশে এর বিরুদ্ধে আইন তৈরি করা যেন কেউ শব্দদূষণ সৃষ্টি করতে না পারে এবং করা হলে যেন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
- এরপর প্রয়োজন জনসচেতনতা, যথাসম্ভব কম হর্ন ব্যবহার করে চলাচল, কলকারখানায় শব্দ শোষণের যন্ত্র চালু, মাইকের ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া কিংবা বন্ধ করে দেওয়া, কম শব্দের যানবাহন ব্যবহার ইত্যাদি।
- একই সাথে শহরের ফাঁকা জায়গায় প্রচুর গাছ লাগিয়ে শব্দকে শোষণ করার মতো ব্যবস্থাও নেওয়া উচিত।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬.
নিচের কোনটি বাস্তুতন্ত্রের বিযোজক?
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাঙ
  3. কচ্ছপ
  4. সবুজ উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্র: 
- কোনো একটি পরিবেশের অজীব এবং জীব উপাদানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশে যে তন্ত্র গড়ে উঠে, তাই বাস্তুতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল উপাদানের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে।  

বাস্তুতন্ত্রের উপাদান: 
- অজীব এবং জীব এই দুটি প্রধান উপাদান নিয়ে বাস্তুতন্ত্র গঠিত। 
১। অজীব উপাদান: 
- বাস্তুতন্ত্রের প্রাণহীন সব উপাদান অজীব উপাদান নামে পরিচিত। 
- এই অজীব উপাদান আবার দুই ধরনের। 
(ক) অজৈব বা ভৌত উপাদান: অজৈব উপাদানের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার খনিজ লবণ, মাটি, আলো, পানি, বায়ু, তাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদি। 
(খ) জৈব উপাদান: সকল জীবের মৃত ও গলিত দেহাবশেষ জৈব উপাদান নামে পরিচিত। 
- পরিবেশের জীব উপাদানের বেঁচে থাকার জন্য এসব অজৈব ও জৈব উপাদান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

২। জীব উপাদান: 
- পরিবেশের সকল জীবন্ত অংশই বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদান। 
- বাস্তুতন্ত্রের সকল জীব ও অজীব উপাদানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। 
- বাস্তুতন্ত্রকে কার্যকরী রাখার জন্য এ সকল জীব যে ধরনের ভূমিকা রাখে, তার উপর ভিত্তি করে এসব জীব উপাদানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
(ক) উৎপাদক: 
- সবুজ উদ্ভিদ যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে, তারা উৎপাদক নামে পরিচিত। 
- যারা উৎপাদক তারা সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- যার উপর বাস্তুতন্ত্রের অন্যান্য সকল প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 

(খ) খাদক বা ভক্ষক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদ থেকে পাওয়া জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করে, তারাই খাদক বা ভক্ষক নামে পরিচিত। 
- বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরনের খাদক রয়েছে। 
প্রথম স্তরের খাদক: 
- যে সকল প্রাণী উদ্ভিদভোজী তারা প্রথম স্তরের খাদক, এরা তৃণভোজী নামেও পরিচিত। 
- তৃণভোজী প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ছোট কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে অনেক বড় প্রাণী। 
যেমন- গরু, ছাগল ইত্যাদি। 

দ্বিতীয় স্তরের খাদক: 
- যারা প্রথম স্তরের খাদকদেরকে খেয়ে বাঁচে, তারাই দ্বিতীয় স্তরের খাদক, এরা মাংসাশী বলেও পরিচিত। 
যেমন- পাখি, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 

তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক: 
- যারা দ্বিতীয় স্তরের খাদকদের খায়, তারাই তৃতীয় স্তরের খাদক বা সর্বোচ্চ খাদক। 
যেমন- কচ্ছপ, বক, ব্যাঙ, মানুষ ইত্যাদি। 
- এদের মধ্যে কোনো কোনো প্রাণী আবার একাধিক স্তরের খাবার খায়, এদেরকে বলা হয় সর্বভুক। 

(গ) বিযোজক: 
- এরা পচনকারী নামেও পরিচিত। 
- পরিবেশে কিছু অণুজীব আছে, বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক যারা মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে এবং বিযোজিত হয়। 
- এসময় মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে মৃতদেহ ক্রমশ বিযোজিত হয়ে নানা রকম জৈব ও অজৈব দ্রব্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। 
- এসব দ্রব্যের কিছুটা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। 
- মৃতদেহ থেকে তৈরি বাকি খাদ্য পরিবেশের মাটি ও বায়ুতে জমা হয়, যা উদ্ভিদ পুনরায় ব্যবহার করে। 
- এভাবে প্রকৃতিতে অজীব ও জীব উপাদানের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হয়ে বাস্তুসংস্থান সচল থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯৭.
মানসিক চাপ, আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয় নিচের কোনটি?
  1. শব্দ দূষণ
  2. পানি দূষণ
  3. বায়ু দূষণ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
শব্দ দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ দূষণ
ব্যাখ্যা

শব্দ দূষণ:
-অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
- উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে।
- অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
- পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে।
- আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
- সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়।
- ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮.
‘সিএফসি’ কী ক্ষতি করে?
  1. ওজোন স্তর ধ্বংস করে
  2. পানির আর্সেনিক দূষণ ঘটায়
  3. মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি করে
  4. বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতার পরিমাণ কমিয়ে দেয়
সঠিক উত্তর:
ওজোন স্তর ধ্বংস করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওজোন স্তর ধ্বংস করে
ব্যাখ্যা

• CFC গ্যাস: 
-  CFC গ্যাস হলো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু এর মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (সিএফসি) গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 
- সিএফসি এর মধ্যে CFC12 এবং CFC13 সর্বাধিক ক্ষতিকর। 
- CFC12 এবং CFC13 এর কার্বন যৌগপ্তলো জায়মান দশায় ক্লোরিন উৎপাদন করে। 
- উৎপন্ন ক্লোরিন ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনের অণু ধ্বংস করে।
- এক লক্ষ ওজোনের অণু ধ্বংসের জন্য একটি ক্লোরিনের অণুই যথেষ্ট।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯.
নিচের কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব?
  1. মেঘলা আবহাওয়া।
  2. অস্থায়ী বৃষ্টি।
  3. মরুকরণ
  4. নদীতে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি।
সঠিক উত্তর:
মরুকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুকরণ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:  জলবায়ু (Climate) হলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান আবহাওয়ার গড় অবস্থা। এর মধ্যে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি ও দিক ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত ৩০ বছর বা তারও বেশি সময়ের আবহাওয়ার পরিসংখ্যান থেকে একটি অঞ্চলের জলবায়ু নির্ধারিত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন হলো পৃথিবীর জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন যা প্রাকৃতিক কারণ অথবা মানুষের কার্যকলাপের কারণে ঘটতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ের জলবায়ু পরিবর্তন মূলত গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন: কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন) বৃদ্ধির কারণে হচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা (Global Warming) সৃষ্টি করছে।

• জলবায় পরিবর্তনের কারনসমুহ- 
-  জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো (কয়লা, গ্যাস, তেল)
-  বনভূমি ধ্বংস (Deforestation)
-  শিল্প ও যানবাহনের নির্গত গ্যাস
-  গবাদিপশু খামারের মিথেন গ্যাস
 
• জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
- মরুকরণ। 
- গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি । 
- হিমবাহ গলে যাওয়া। 
- জৈববৈচিত্র্যের ক্ষতি। 
- কৃষিজ উৎপাদনে বিঘ্ন। 
• মরুকরণ হলো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যেখানে উর্বর জমি ধীরে ধীরে অনুৎপাদনশীল, শুষ্ক ও অনুর্বর হয়ে পড়ে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব।

অন্যদিকে,
- মেঘলা আবহাওয়া: এটি স্বল্পমেয়াদী জলবায়ুর আচরণ, দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন নয়।

- অস্থায়ী বৃষ্টি: এটি আবহাওয়ার একটি সাময়িক বৈচিত্র্য, জলবায়ুর নয়।

- নদীতে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি: এটি জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাভাবিক বা প্রত্যাশিত প্রভাব নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তথ্যসূত্র: 
- মাধ্যমিক শ্রেনীর ভুগোল ও পরিবেশ (NCTB)। 
- বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর (DOE) প্রকাশনা। 
- Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) Reports
১০০.
পরিবেশ থেকে হঠাৎ কোন প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেলে কি ঘটবে?
  1. ক) প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিবে
  2. খ) বাস্তুতন্ত্র স্থিতিশীল হবে
  3. গ) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে
  4. ঘ) বাস্তুতন্ত্রের কোন পরিবর্তন হবে না
সঠিক উত্তর:
গ) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে
ব্যাখ্যা
মানুষের বসতবাড়িতে বসবাসকারী একজোড়া ইঁদুর বিনা বাঁধায় বংশ বিস্তার করলে বছর শেষে ইঁদুরের সংখ্যা দাড়াবে ৮৮০টিতে।
কিন্তু একটি পেঁচা দিনে কমপক্ষে তিনটি ইঁদুর খেয়ে হজম করতে পারে। চিল, কাক ও শকুন ময়লা পরিস্কারক হিসেবে কাজ করে। আর তা না হলে পৃথিবীতে রোগ জীবাণুর বিস্তার অনেকগুণ বেড়ে যেত।
এ সকল কারণে কোনও জীবকেই অপ্রয়োজনীয় বলা যায় না। পরিবেশ থেকে কোনও প্রজাতি বিলুপ্ত হলে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। তাই বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।