বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

উপমহাদেশের রাজনৈতিক দল

মোট প্রশ্ন৬৬এই পাতা৬৬প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

উপমহাদেশের রাজনৈতিক দল

PrepBank · পাতা / · ৬৬ / ৬৬

.
নিচের কোনটিতে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অধিক মাত্রায় প্রভাব দেখা যায়?
  1. শাসন বিভাগে
  2. জাতীয় কল্যাণে
  3. রাজনৈতিক দলে
  4. আইন বিভাগে
ব্যাখ্যা
শাসন বিভাগের উপর চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব অধিক মাত্রায় প্রভাব দেখা যায়।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আইন পরিষদকে প্রভাবিত করে থাকে।
- চাপ প্রয়োগকারী সংস্থার নেতৃবৃন্দ আইন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের কাছে তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরে এবং তাদের অনুকূলে আইন পাশ করার ব্যবস্থা করে। 
- স্বার্থকামী গোষ্ঠীগুলো মন্ত্রিপরিষদকেও প্রভাবিত করে। 
- এমন কি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শাসন বিভাগের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। 

উৎস:  রাষ্টবিজ্ঞান-৩, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন পরিস্থিতিতে একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে?
  1. দলটি যদি পরপর দুইটি সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে
  2. দলটি যদি দেশের আইন লঙ্ঘন করে
  3. দলটি যদি নির্বাচনে জয়ী না হয়
  4. দলটি যদি নির্বাচন কমিশনকে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়
ব্যাখ্যা

• নিবন্ধন বাতিল:
- কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারণে বাতিল হবে, যথা:
- দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিবদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করা হলে;
- নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে;
- এই আইন ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে;
- রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে;

এছাড়াও,
- কমিশন নিবন্ধন বাতিলের পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করবেন।
- বিলুপ্ত ঘোষিত নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দলের নাম অনুযায়ী অপর কোন দলকে নিবন্ধিত করা হবে না।
- বিলুপ্ত ও বাতিলকৃত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

.
“যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই” উক্তিটি কার-
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. অ্যালান বল
  3. ম্যাকাইভার
  4. হ্যারল্ড লাসওয়েল
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই” উক্তিটি করেন জন স্টুয়ার্ট মিল।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য,
- ‘Comparative Politics and Government’ নামক গ্রন্থের লেখক অ্যালান বল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

.
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্ত অনুযায়ী, সর্বনিম্ন কতটি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন থানায় কার্যালয় থাকতে হবে?
  1. ৯০টি
  2. ১০০টি
  3. ১২০টি
  4. ২০০টি
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

এছাড়াও,
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।
- প্রথমত, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়;
- দ্বিতীয়ত, ওই সব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনে মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি;
- তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা অফিস থাকতে হবে। আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এবং BBC পত্রিকা রিপোর্ট। 

.
রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী উভয়ই কোন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত?
  1. রাজনৈতিক প্রক্রিয়া
  2. সামাজিক প্রক্রিয়া
  3. অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া
  4. রাষ্ট্র পরিচালনা প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

 • রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উভয়েই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।
- উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নির্ধারক। 
- উভয়েই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের দাবি ও মনোভাব ব্যক্ত করে। 
- রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী উভয়ই স্বার্থের সংহতি সাধনের সাথে জড়িত। 
- উভয়েই রাজনৈতিক নিয়োগ বা রাজনৈতিক ভূমিকায় নাগরিকদের অবতীর্ণ করানোর দায়িত্ব বহন করে। 
- রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারা উভয়ের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
- বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ বা পরিবর্তন, গণ-সংযোগ সাধন, তথ্য সরবরাহ, জনমত গঠন, সরকারের সমালোচনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে সাদৃশ্য দেখা যেতে পারে। 

 তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. শামসুল আলম
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. শামসুল হক
  4. শরিফুল হক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:

- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম।
- পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়।
- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
- ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্তি এ চারটি মূলনীতির উপর দলটি পরিচালিত হচ্ছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পুনর্গঠন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটি অনবদ্য অবদান রেখেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয় কোনটি?
  1. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
  2. আইন ও সালিশ কেন্দ্র
  3. দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. সুশাসনের জন্যে নাগরিক
ব্যাখ্যা
- দুর্নীতি দমন কমিশন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয়।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক কেমন ?
  1. পরিপূরক
  2. বিপরীত 
  3. সম্পূরক
  4. কোন সম্পর্ক নেই
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্র ও রাজনৈতিকদলের সম্পর্ক:
-  গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক একে অপরের পরিপূরক।
- গণতন্ত্র ছাড়া যেমন রাজনৈতিক দল টিকতে পারে না। তেমনি রাজনৈতিক দল না থাকলে গণতন্ত্রও সম্ভব নয়।
-  গণতন্ত্র মানে হল রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সকলের অংশগ্রহণ। স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল।
-  ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করা হয়। 
-  মূল সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির একটি হল গণতন্ত্র, যা সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
-  স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় - ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ ।
 
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কোন আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন?
  1. ঢাকা - ১০
  2. ঢাকা - ১২
  3. ঢাকা - ১৭
  4. ঢাকা - ৯
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সংসদ:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ১৫টি।
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে জয়লাভ করে।
- বঙ্গবন্ধু সে সময় ঢাকা-১২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন।
- প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন মুহম্মদুল্লাহ
- ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বায়তুল্লাহ।

উৎস: লাইভ এম সি কিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।
১০.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দলে নারী সদস্যের ন্যূনতম অংশ কত শতাংশ হতে হবে?
  1. ২৫%
  2. ৪৫%
  3. ৩৫%
  4. ৩৩%
ব্যাখ্যা

• নারী সদস্যের অন্তর্ভুুক্তি:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর সবচাইতে আলোচিত পরিবর্তন আনা হয় আদেশ এর Chapter-VI-এ এর মাধ্যমে।
- নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়।
- নিবন্ধনের শর্তগুলোতে মহিলা নেতৃত্ব এবং রাজনীতিতে মহিলাদের উৎসাহিত করার জন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের তৃণমূল হতে কেন্দ্রীয় কমিটিগুলোতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারীদের অন্তর্ভুুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)।
- ২০০৮ সালে নিবন্ধন নেওয়ার সময় দলগুলো তা পূরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল।
- কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করতে পারেনি নিবন্ধিত দলগুলো।
- বর্তমান কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার সময়সীমা ২০২০ এর পরিবর্তে ২০৩০ সাল করার প্রস্তাব দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

১১.
উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করে কে?
  1. সরকার
  2. বিরোধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

• বিরোধী দল:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে। 
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা। 
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১২.
রাজনৈতিক দল সাধারণত কোন ভিত্তিতে গঠিত হয়?
  1. নীতি ও মতের ভিত্তিতে
  2. নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
  3. স্বজাতিবোধের ভিত্তিতে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
আইন ও সালিশ কেন্দ্র কী ধরনের সংস্থা?
  1. সরকারি সংস্থা
  2. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান
  3. দাতব্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান
  4. মানবাধিকার সংস্থা
ব্যাখ্যা

• আইন ও সালিশ কেন্দ্র:
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বাংলাদেশের একটি মানবাধিকার এবং আইন সহায়তাকারী বেসরকারি সংস্থা।
- ১৯৮৬ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৯ জন।
- শুরুতে আসক ঢাকা শহরের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারী, কর্মজীবী শিশু এবং শ্রমিকদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করে।
- এর মূল লক্ষ্য সমানাধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং লিঙ্গভিত্তিক সমতার ভিত্তিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র: আইন ও সালিশ কেন্দ্র ওয়েবসাইট।

১৪.
বাংলাদেশে সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল 'গণসংহতি আন্দোলন' দলের প্রতীক কী? [নভেম্বর - ২০২৪]
  1. গামছা
  2. মাথাল
  3. ট্রাক
  4. কেটলি
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দল হলো গণতন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি।
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ মতাদর্শগতভাবে একমত পোষণ করে এবং ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে।
- রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে।
- রাজনৈতিক দলের একটি স্থায়ী সংগঠন থাকে এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে এটি কাজ করে।
- একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের জন্য কাজ করে।
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে মতাদর্শ ভিত্তিক সুসংবদ্ধ সংগঠন।
- এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করা।
- রাজনৈতিক দলকে জনসমর্থন আদায়ের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরেও, আর্থ-সামাজিক বিষয়াদি নিজ কর্মসূচিতে সন্নিবেশিত করতে হয়।
- বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৪৮টি।
- সর্বশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে 'গণসংহতি আন্দোলন' নামে একটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন লাভ করে।
- 'গণসংহতি আন্দোলন' দলের প্রতীক মাথাল।
- নিবন্ধন নং: ৫৩।
- প্রধান সমন্বয়কারী: জনাব জোনায়েদ সাকি।

উৎস: নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট ও পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) কোন রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল?
  1. বিএনপি
  2. জাতীয় পার্টি
  3. বাসদ
  4. ন্যাপ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): 
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের অন্যতম  শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দল।
- বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)। 
- ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠিত হয়।
- জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনকে অসামরিকীকরণের অভিপ্রায়ে ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে একটি দল গঠন করেন।
- উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুল সাত্তার ছিলেন এর আহবায়ক।
- জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে, বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলের কর্মকান্ডে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিবেচনায় রেখে ঢাকার রমনা ময়দানে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠনের ঘোষণা দেন।
- অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রথম মহাসচিব। জিয়াউর রহমান ছিলেন এর আহবায়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৬.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. দলীয় সংগঠনবিহীন
  2. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  3. নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয়।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- নিম্নে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলঃ

১। দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই। এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়। সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষণ।

২। দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই। এটি নির্দলীয় সংগঠন। এরা শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের জন্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

৩। নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না। তবে অনেক সময় তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অর্থ কিংবা জনবল দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়াও কোন কোন দেশে চাপসৃষ্টিকারী কোন কোন গোষ্ঠীকে পছন্দের দলের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিতে দেখা যায়।

৪। সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।

৫। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মোট সংসদ সদস্যদের মধ্যে নারী সদস্য কত শতাংশ? 
  1. ৭ শতাংশ
  2. ১৩ শতাংশ
  3. ১৬ শতাংশ
  4. ১৯ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ নারী প্রার্থী: 
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে মোট ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি সিট রয়েছে — যার মধ্যে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত এবং ৫০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
- এবার নির্বাচনে ৭ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে ছয়জনই বিএনপির। একজন স্বতন্ত্র। 
- সে হিসাবে সংসদে মোট নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা হবে ৫৭।
- অর্থাৎ সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব হবে ১৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য, 
- এবার ২৯৯টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন।
-  যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৪ শতাংশ।
- এবার নারীর তুলনায় পুরুষেরা মনোনয়ন পেয়েছেন ২২ গুণ বেশি।
- মনোনয়নের তুলনায় জয় পেয়েছেন ৮ শতাংশের বেশি নারী।
-  পুরুষেরা যত মনোনয়ন পেয়েছেন, তার তুলনায় জয় পেয়েছেন ১৫ শতাংশ। 

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link) (Link) 

১৮.
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কোনটি থাকা অতি আবশ্যক?
  1. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. সুশীল সমাজ
  3. বিরোধী দল
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
বাংলাদেশে কোন বছরে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।
- ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট। 

২০.
স্বত্ববিলোপ নীতি আরোপ করেন কে?
  1. লর্ড কর্নওয়ালিস
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
• স্বত্ববিলােপ নীতি
ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যেসব নীতি অবলম্বন করে সেগুলির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযােগ্য হল স্বত্ববিলােপ নীতি।

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তক ও প্রবর্তনকাল 
বড়োলাট লর্ড ডালহৌসি ১৮৪৮ খ্রি: স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবর্তন করেন ।
 
• স্বত্ববিলোপ নীতির মূল বক্তব্য 
- লর্ড ডালহৌসির উল্লেখযােগ্য সাম্রাজ্য বিস্তার নীতি ছিল স্বত্ববিলােপ নীতি ।
- তিনি এক ঘােষণায় বলেন যে , কোনাে ব্রিটিশ আশ্রিত দেশীয় রাজ্যের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে সেই রাজ্যটি সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হবে ।
- এই নীতি স্বত্ববিলােপ নীতি নামে পরিচিত।

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ পদ্ধতি 
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়ােগ করার আগে দেশীয় রাজ্যগুলিকে তিনভাগে ভাগ করেন –
(ক) স্বাধীন দেশীয় রাজ্য
(খ) কোম্পানির সৃষ্ট রাজ্য
(গ) কোম্পানির আশ্রিত বা কোম্পানির অধীনস্থ রাজ্য

• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ 
- স্বত্ববিলোপ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে ডালহৌসী প্রথমেই ব্রিটিশ প্রভাবাধীন সাতারা রাজ্যটি দখল করেন ১৮৪৮ খ্রিঃ,
- এরপর ১৮৫৩ সালে নাগপুরের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তাঁর রাজ্যটি গ্রাস করা হয়, এক্ষেত্রে ডালহৌসীর যুক্তি ছিল যে, নাগপুর রাজ্যটি নাকি ইংরেজরাই সৃষ্টি করেছিল।
- ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও-এর প্রয়াণ হলে ডালহৌসী তাঁর দত্তক পুত্রকে মেনে নিতে রাজি হলেন না এবং ঝাঁসির রানির মতামতকে উপেক্ষা করেই ঝাঁসি রাজ্যটি দখল করা হল।
- এছাড়া ভগৎপুর, করৌলী, সম্বলপুর, উদয়পুর, বাগৎ প্রভৃতি রাজ্যগুলি একই কারণে গ্রাস করা হয়, যদিও উদয়পুর কোম্পানির সৃষ্ট দেশীয় রাজ্য ছিল না।

উৎস: দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস ১ম পত্র বই।
২১.
উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে 'ছায়া মন্ত্রিসভা' গঠন করে কারা?
  1. সরকারি দল
  2. বিরোধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. সশস্ত্র বাহিনী
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে। 
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা। 
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন। 

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২২.
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯০৬ সালে
ব্যাখ্যা

মুসলিম লীগ: 
- মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ঢাকায়।
- এর পেছনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
- মুসলিম সমাজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ঢাকার শাহবাগে সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের অধিবেশনে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, এটি মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণে নিবেদিত থাকবে।
- সভার সভাপতি নওয়াব ভিকার-উল-মুলক প্রস্তাবটি সমর্থন করেন এবং এর মাধ্যমে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
- দলটি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের শিক্ষা, প্রতিনিধি অধিকার এবং রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা।
- পরবর্তীকালেই এই দলটি পাকিস্তান সৃষ্টির মূল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

২৩.
রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে কি বলে?
  1. Poliology
  2. Stasiology
  3. Political party
  4. Soteriology
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের ধারণা:
- বর্তমান যুগে রাজনৈতিক দলের সাহায্যেই শাসনকার্য পরিচালিত হয়।
- আধুনিক অর্থে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয় সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে।
- রাণী প্রথম এলিজাবেথের রাজত্বকালে হুইগ (Whig) ও টোরি (Tory) নামক দুইটি দলের সৃষ্টি হয়।
- রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা মূলত: শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে।
- রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তা "Stasiology” বা (স্টাসিউলজি) নামে পরিচিত।
- ‘Stasis’ শব্দের অর্থ বিরোধীতার মনোভাব।
- এই শব্দটি গ্রিক থেকে ইংরেজি ভাষায় এসেছে।
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ মতাদর্শগতভাবে একমত পোষণ করে এবং ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. সেনাবাহিনী
  2. রাজনৈতিক দল
  3. বিচার বিভাগ
  4. স্থানীয় সরকার
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

রাজনৈতিক ব্যবস্থা:

- বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- বিভিন্ন সময়ে একাধিক রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নেই এ দেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৫ থেকে ১৯৯১ সময়ে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত ছিলো।
- বাংলাদেশের আইনসভা জাতীয় সংসদ নামে পরিচিত যা এককক্ষ বিশিষ্ট।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা: নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
২৫.
কোন জাতীয় সংসদে প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা লক্ষ্য করা যায়?
  1. তৃতীয় জাতীয় সংসদে
  2. দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে
  3. প্রথম জাতীয় সংসদে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বিরোধীদলীয় নেতা:
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা লক্ষ্য করা যায় । 
- জাতীয় সংসদের প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান খান (দ্বিতীয় সংসদ)।     
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- ষষ্ঠ সংসদ দেশের সবচেয়ে স্বল্পকালীন সংসদ যার স্থায়িত্ব ছিলো মাত্র ১২ দিন। 

সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
২৬.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য?
  1. নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ
  2. সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা লাভ
  3. স্থানীয় ও জাতীয় অবস্থান
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ মতাদর্শগতভাবে একমত পোষণ করে এবং ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে।
- রাজনৈতিক দল হলো গণতন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি।

• রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
i) সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি: সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি রাজনৈতিক দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিক দলে বিভিন্ন জাতি ধর্ম বর্ণ,লিঙ্গের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলও লক্ষ্য করা যায়।

ii) নির্দিষ্ট নীতি ও আর্দশ: প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলেরই নির্দিষ্ট কিছু নীতি ও আদর্শ থাকে। এ নীতি ও আর্দশের ভিত্তিতেই জনগণ সংঘবদ্ধ হয়ে থাকে। সাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা লাভ করলে দলটি তাদের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চায়। যেমন: জার্মানির গ্রীন পার্টি, পরিবেশ সংরক্ষণই এ রাজনৈতিক দলের মূল উদ্দেশ্য।

iii) সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা লাভ: বর্তমানে সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা লাভের কোন বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলোও সেভাবে তাদের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে। কোন একটি দলের পক্ষে এককভাবে ক্ষমতা লাভ সম্ভব না হলে জোটগতভাবে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা করে।

iv) সাংগঠনিক কাঠামো: রাজনৈতিক দল একটি সংগঠন। তাই এটি পরিচালনার জন্য লিখিত নিয়মকানুন (গঠনতন্ত্র) থাকে। যার ভিত্তিতে একটি সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়। আদর্শ রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাঠামো গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়।

v) স্থানীয় ও জাতীয় অবস্থান: রাজনৈতিক দল স্থানীয়, জাতীয় বা ঊভয় অবস্থানেই কার্যক্রম পরিচালনা করে। পৃথিবীর বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোতে অনেক স্থানীয় রাজনৈতিক দল দেখা যায়। যেমন ভারতের সমাজবাদী দল কেবল দক্ষিণ ভারতে সক্রিয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, যেখানে কোনো বিরোধী দল নেই, সেখানে কোনটি অনুপস্থিত থাকে?
  1. স্বাধীনতা
  2. গণতন্ত্র
  3. জবাবদিহিতা
  4. ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা

• বিরোধী দল: 
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার
  2. সরকারি ক্ষমতা অর্জন
  3. সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা।
  4. গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করা
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ার উপরে প্রভাব
বিস্তার করে।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
- এরা সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
- সরকারি ক্ষমতা দখল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য নয় বরং সরকারি  নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করাই এর উদ্দেশ্য।
- সরকারি নীতি নির্ধারণে চাপ প্রয়োগ করে গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করাই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

২৯.
ভাসানীর নেতৃত্বে কত সালে 'ন্যাপ' প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৭ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি:
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, আবদুল মতিন, ওয়ালি খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- এ প্রশ্নে দলের ডানপন্থী নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং বামপন্থী অংশ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
- ফলে আওয়ামী লীগ আদর্শিক কারণে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ঐ বছর ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন।
- আওয়ামী লীগের বামপন্থী অংশের উদ্যোগে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ২৪-২৫ জুলাই গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ সম্মেলনে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০.
বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. গোলাম মোহাম্মদ কাদের
  2. জিয়াউর রহমান
  3. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
  4. আন্দালিভ রহমান
ব্যাখ্যা
জাতীয় পার্টি: 
- তৎকালীন সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।
- মূলত সামরিক ক্ষমতার বেসামরিকীকরণের অংশ হিসেবে তিনি দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি দুই বার (১৯৮৬ ও ১৯৮৮) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ দু'টি নির্বাচনই বর্জন করে।
- ১৯৯০ সালে অন্যান্য রাজনৈতিকগুলোর সম্মিলিত আন্দোলনে জাতীয় পার্টি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।
- জাতীয় পার্টির নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ স্বৈরাচার হিসেবে আখ্যায়িত হন।
- ২০০০ সালে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে জাতীয় পার্টি তিনটি অংশে ভাগ হয়ে যায়।

জাতীয় পার্টি:
প্রতীকের নাম: লাঙ্গল
চেয়ারম্যান: গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি

জাতীয় পার্টি - জেপি:
প্রতীকের নাম:  বাইসাইকেল
চেয়ারম্যান: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এম.পি

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি:
প্রতীকের নাম: গরুরগাড়ী
চেয়ারম্যান: ব্যারিষ্টার আন্দালিভ রহমান

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট। 
৩১.
সুশীল সমাজের কাজ কোনটি?
  1. সরকারের বিরোধিতা করা
  2. সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
  3. বিতর্ক সৃষ্টি করা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সরকার বা কোন কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা সুশীল সমাজের কাজ নয়।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২.
নিম্নের কোনটি রাজনৈতিক দলের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. রাষ্ট্রীয় সমস্যা নির্ধারণ
  2. জনমত গঠন
  3. নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন
  4. বিরোধী ভূমিকা পালন
ব্যাখ্যা

- নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান; এটি রাজনৈতিক দলের কাজ নয়।

• গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি: 
- আধুনিক গণতন্ত্র বলতে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রকেই বোঝায়।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হচ্ছে রাজনৈতিক দল।

• রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি:
- রাষ্ট্রীয় সমস্যা নির্ধারণ
- নীতি-নির্ধারণ ও কর্মসূচি প্রণয়ন
- জনমত গঠন
- প্রার্থী মনোনয়ন
- প্রচারণা
- ভোটারদের স্বার্থ সংরক্ষণ
- বিরোধী ভূমিকা পালন
- রাজনৈতিক চেতনা ও শিক্ষার প্রসার
- স্বেচ্ছাচার প্রতিরোধ
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ
- শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা পরিবর্তন
- সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সংযোগ সাধন
- জাতীয় ঐক্যবোধ সৃষ্টি
- সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
- স্বার্থের একত্রীকরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৩৩.
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কিভাবে সরকারকে জনস্বার্থের প্রতি সচেতন রাখে?
  1. সংযোগ সাধন করে
  2. নেতৃত্ব দান করে
  3. সমালোচনা করে
  4. ঐক্যবোধ সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
নিম্নোক্ত কোনটির উপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছে?
  1. নীতি ও মতের ভিত্তিতে
  2. নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
  3. স্বজাতিবোধের ভিত্তিতে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫.
সুশীল সমাজের কাজ কোনটি?
  1. সরকারের বিরোধিতা করা
  2. সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
  3. বিতর্ক সৃষ্টি করা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• সুশীল সমাজ:
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সরকার বা কোন কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা সুশীল সমাজের কাজ নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬.
রাজনৈতিক দল কীসের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন করে?
  1. আন্তর্জাতিক চাপ
  2. সরকারি নীতি
  3. ব্যক্তিস্বার্থ
  4. দলীয় মতাদর্শ
ব্যাখ্যা
• মতাদর্শের পার্থক্য:
- রাজনৈতিক দল ব্যাপক মতাদর্শের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। মতাদর্শগত অঙ্গীকার পূরণের জন্য রাজনৈতিক নানাবিধ কর্মসূচি প্রণয়ন করে।
- কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অঙ্গীকার সাধারণত স্বার্থের প্রতি, রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি নয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
বিরোধী দলের কাজ কোনটি?
  1. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  2. অধিকার বাস্তবায়ন
  3. রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
মুসলিম লীগ কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. লাহোর
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. আলীগড়
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ:
- মুসলিম লীগ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল,
- এর প্রতিষ্ঠা হয় বাংলাদেশের ঢাকায়।
- ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় আয়োজিত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের অধিবেশনে এ দলের সূচনা ঘটে।
- শুরুতে আগা খানের নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে পরিচালিত মুসলিম লীগ মুসলিম জাতীয়তাবাদের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এই দলটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টিতে মূল নেতৃত্ব দেয়।
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে বাংলায় মুসলিম লীগ সাফল্য অর্জন করে।
- একই বছরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগদান করলে তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা কার্যত মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভায় রূপান্তরিত হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩৯.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের প্রস্তাব করেন কে?
  1. খাজা নিজামুদ্দিন
  2. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. নবাব খাজা সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা

 • মুসলিম লীগ:
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গের গোঁড়াসমর্থক ঢাকার নওয়াব  খাজা সলিমুল্লাহ কংগ্রেস সমর্থকদের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি এ সভায় একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের প্রস্তাব করেন।
- সভার সভাপতি নওয়াব ভিকার-উল-মুলক প্রস্তাবটি সমর্থন করেন এবং এভাবে সর্ব ভারতীয় মুসলিম লীগ সৃষ্টি হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না। 
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪০.
CPD-এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রেহমান সোবহান
  2. ড. আতিউর রহমান
  3. ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
  4. মুহিত কামাল
ব্যাখ্যা

- প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান CPD প্রতিষ্ঠা করেন।

• CPD:
- CPD-এর পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- CPD হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে এর সদর দপ্তর ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত।
- সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

তথ্যসূত্র: CPD ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকা।

৪১.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের উদ্যোগ নেন কে?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. নবাব সলিমুল্লাহ
  4. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ গঠন: 
- মুসলিম লীগ ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। 
- এ দলটি মুসলিম জাতীয়তাবাদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে এবং অবশেষে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে।  - বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) পরবর্তী রাজনীতির আলোকে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠন করা হয়।
- ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ মুসলিম লীগ গঠনের উদ্যোগ নেন।

- নওয়াব আব্দুল লতিফ মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি গঠন করেন। 
- সৈয়দ আমীর আলী সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪২.
নিচের কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত?
  1. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
  2. সুশাসনের জন্যে নাগরিক
  3. এফবিসিসিআই
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ।তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৪৩.
রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রের মধ্যে সম্পর্ক কেমন?
  1. সম্পূরক
  2. বিপরীত
  3. পরিপূরক
  4. কোন সম্পর্ক নেই
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র ও রাজনৈতিকদলের সম্পর্ক:
-  গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক একে অপরের পরিপূরক।
- গণতন্ত্র ছাড়া যেমন রাজনৈতিক দল টিকতে পারে না। তেমনি রাজনৈতিক দল না থাকলে গণতন্ত্রও সম্ভব নয়।
-  গণতন্ত্র মানে হল রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সকলের অংশগ্রহণ। স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল।
-  ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করা হয়। 
-  মূল সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির একটি হল গণতন্ত্র, যা সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
-  স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় - ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ ।
 
উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্য নাম কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. সেবামূলক সংস্থা
  3. স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী
  4. প্রশাসনিক গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর আরেকটি নাম হলো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। 
- এ গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিক দলের মতো সরাসরি সরকারি ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে না, তবে সরকারি নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় প্রভাব ফেলতে চায়। এদের লক্ষ্য হলো নিজেদের নির্দিষ্ট স্বার্থ বা লক্ষ্যকে সামনে রেখে নীতিনির্ধারকদের উপর চাপ সৃষ্টি করা।  

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- বর্তমানে যে কোন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী অত্যন্ত প্রভাবশালী অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। 
- রাজনৈতিক দলের মত সরকারি ক্ষমতা দখল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য নয়। কিন্তু সরকারি নীতি নির্ধারণের ব্যাপারে এই গোষ্ঠীগুলো কার্যকরী প্রভাব বিস্তার করে। 
- প্রভাব বিস্তার বা চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে আনার বিষয়ে সচেষ্ট থাকে। 
- বিশেষ স্বার্থযুক্ত এই গোষ্ঠীসমূহ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশে রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের উপরেও প্রভাব বিস্তার করে। 
- সেজন্য দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জনসাধারণের বিভিন্ন রকম সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, বৃত্তিগত প্রভৃতি স্বার্থকে কেন্দ্র করে এই গোষ্ঠীসমূহের সৃষ্টি হয়। 
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর নামকরণ ও সংজ্ঞা সম্পর্কে কিছু সমস্যা আছে। অনেকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure group), স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী (Interest group), লবি (Lobby), মনোভাব কেন্দ্রিক গোষ্ঠী (Attitude group) এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে (Political group) সমার্থক শব্দরূপে গণ্য করেন।  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪৫.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সর্বাধিক কোন ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে?
  1. শাসন বিভাগে
  2. জাতীয় কল্যাণে
  3. রাজনৈতিক দলে
  4. আইন বিভাগে
ব্যাখ্যা

শাসন বিভাগের উপর চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব অধিক মাত্রায় প্রভাব দেখা যায়।

• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আইন পরিষদকে প্রভাবিত করে থাকে।
- চাপ প্রয়োগকারী সংস্থার নেতৃবৃন্দ আইন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের কাছে তাদের দাবি দাওয়া তুলে ধরে এবং তাদের অনুকূলে আইন পাশ করার ব্যবস্থা করে। 
- স্বার্থকামী গোষ্ঠীগুলো মন্ত্রিপরিষদকেও প্রভাবিত করে। 
- এমন কি প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শাসন বিভাগের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। 

তথ্যসূত্র:  রাষ্টবিজ্ঞান-৩, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬.
সম্প্রতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি'র প্রতীক কী? [ফেব্রুয়ারি, ২০২৫]
  1. ফুলকপি
  2. মাথাল
  3. কেটলি
  4. ট্রাক
ব্যাখ্যা
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল: 
- বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৪৯টি। [৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫]
- সর্বশেষ দল: বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি
- প্রতীক: ফুলকপি
- নিবন্ধন তারিখ: ০২/০২/২০২৫

উৎস: Bangladesh Election Commission.
৪৭.
সংসদীয় ব্যবস্থায় ‘আস্থা ভোট’ মূলত কোন বিষয়ের প্রতি সমর্থন পরীক্ষা করে?
  1. জনগণের প্রতি আস্থা যাচাই
  2. রাষ্ট্রপতির প্রতি আস্থা যাচাই
  3. বিরোধীদলের সমর্থন যাচাই
  4. সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন যাচাই
ব্যাখ্যা

- সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় "আস্থা ভোট" বলতে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন যাচাই বোঝায়। 

• আস্থা ভোট:
- সংসদীয় ব্যবস্থায় "আস্থা ভোট" (Vote of Confidence) বলতে বোঝায় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা সরকারের প্রতি তাদের আস্থা আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট দিয়ে থাকেন।
- যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, তাহলে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকে; কিন্তু যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন, তবে সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।

⇒ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা (এমপি) নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না। তাতে বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) প্রথম আলো। 

৪৮.
বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ কবে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ২০২০ সালে
  2. ২০২১ সালে
  3. ২০২২ সালে
  4. ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ:
- গণঅধিকার পরিষদ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল।
- ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর এই দলটি আত্মপ্রকাশ করে।
- ড. রেজা কিবরিয়া এর আহ্বায়ক এবং নুরুল হক নূর এই দলটির সদস্য সচিব।
- নুরুল হক নূর কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে খ্যাতি পান। পরে তিনি ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
BBC বাংলা। 
৪৯.
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কী?
  1. রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ
  2. প্রার্থী মনোনয়ন
  3. জনমত গঠন
  4. সরকার গঠন
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি বহুমুখী।

• অন্যান্য নানাবিধ কার্যাবলি-
- রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব সংরক্ষণ।
- রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- রাজনৈতিক নিয়োগ।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ।
- সমস্যা নির্বাচন ও সমস্যা সমাধান।
- জনমত গঠন ও প্রার্থী মনোনয়ন ইতাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৫০.
‘স্বার্থকামী গোষ্ঠী' হিসেবে পরিচিত কারা?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. সরকারি দল
  4. বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
- চাপসৃষ্টিকারী দল কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তবুও আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী দলের ভূমিকা অপরিহার্য।
- প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপ সৃষ্টিকারী দলের প্রধান কাজ।
- মূলত: গোষ্ঠী স্বার্থ আদায়ে কাজ করলেও, কোন কোন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কখনো কখনো বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক বা জাতীয় স্বার্থে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলেও অভিহিত করেন।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
কোন শাসন ব্যবস্থার জন্য একাধিক রাজনৈতিক দল অপরিহার্য?
  1. একনায়কতান্ত্রিক
  2. রাজতান্ত্রিক
  3. গণতান্ত্রিক
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
- রাজনৈতিক দল মূলত জনগণের দাবি দাওয়া প্রকাশের প্লাটফর্ম।।
- এটি মূলত এক দল জনসমষ্টি যারা নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ এবং লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।
- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক দল অন্যতম।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত
হওয়া।
- তবে যে সব রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই সে সব রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলও নেই।
- যেমন: সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার এ রাজতন্ত্র বিদ্যমান। ।
- রাজপরিবার ও পরিষদই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে
- তাছাড়া সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে। তবে শিক্ষা, জ্ঞান- বিজ্ঞানের বিকাশের ফলে রাজনৈতিক দল সৃষ্টির প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হচ্ছে।

সূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
বঙ্গবন্ধু কবে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন?
  1. ১ মার্চ ১৯৬৬
  2. ২৫ মার্চ ১৯৬৬
  3. ২৬ মার্চ ১৯৬৬
  4. ১৫ মার্চ ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
আওয়ামী মুসলিম লীগ 
- মুসলিম লীগে নিজেদের উপদলীয় কোন্দলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আদুল হামিদ খান ভাসানী কোণঠাসা হয়ে পড়েন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় এক রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনে গঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ।
- নতুন দলের সভপতি নির্বাচিত হন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- সাধারণ সম্পাদক হন টাঙ্গাইলের শামসুল হক।
- তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে দলটির অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক এবং ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়।
- ১৯৫৫ সালে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ' নিজের ভাবমূর্তি অসাম্প্রদায়িক করতে নাম থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেয়।
- এ সময় দলটির মূলনেতা নির্বাচিত হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয়ে দলটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৬৬ সালের ১ মার্চে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩.
নিম্নের কোনটি রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. ঐক্যবদ্ধ, সচেতন ও ক্ষমতায় আগ্রহী জনগোষ্ঠী
  2. শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন ব্যক্তি সমষ্টি
  3. স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
  4. শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সমষ্টি
ব্যাখ্যা

- রাজনৈতিক দল হচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি, যারা রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়।
- এরা জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সরকার গঠনে প্রতিযোগিতা করে।

• রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা: 
- যখন কোন জনসমষ্টি রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে একমত পোষণ করে, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা আরোহণে আগ্রহী এবং রাজনীতি সচেতন হয়ে সংঘবদ্ধ হয় তখন এই সংঘবদ্ধ একদল লোককে 'রাজনৈতিক দল' বলে।
- বার্ক বলেন, "রাজনৈতিক দল এরূপ একটি জনসমষ্টি যারা কিছু ঐক্যবদ্ধ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ অর্জনের জন্যে সংঘবদ্ধ হয়েছে।”
- অধ্যাপক গেটেল বলেন, “রাজনৈতিক দল বলতে কম-বেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিকভাবে এককরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।”
- অধ্যাপক ফাইনার বলেন, "আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।”
- ম্যাকাইভার বলেন, রাজনৈতিক দল বলতে সেই জনগোষ্ঠীকে বোঝায় যারা সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার গঠনে প্রয়াসী।”
অধ্যাপক সুম্পিটার রাজনৈতিক দলের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ উত্তম সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "রাজনৈতিক দল এমন একটি সংস্থা যার সদস্যবৃন্দ রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় ঐক্যবদ্ধ।”
- বস্তুত রাজনৈতিক দল বলতে এমন এক সংঘবদ্ধ জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে যায়। প্রকৃত রাজনৈতিক দলের কাছে নেতা ও দলের চেয়ে দেশের স্বার্থ বড়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এস এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫৪.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা-
  1. একদলীয়
  2. দ্বি-দলীয়
  3. বহুদলীয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন রূপ: 
- রাজনৈতিক দলকে মোটামুটিভাবে তিনভাগে ভাগ করা যায়।
যথা− একদলীয়, দ্বি-দলীয় এবং বহুদলীয়।

⇒  একদলীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকে।
যেমন− ইতালীর ফ্যাসিষ্ট দল এবং জার্মানীর নাৎসী দল।
- এক দলীয় ব্যবস্থায় জনমত প্রকাশের সুবিধা থাকে না। 
- বর্তমানে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এত সমস্যা থাকে যে, শুধু একটি বা দুটি দল সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

⇒  দ্বি-দলীয় ব্যবস্থায় মাত্র দুটি রাজনৈতিক দল থাকে। বৃটেনে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান।

- বহুদলীয় ব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রে বহু দল থাকে। যেমন- বাংলাদেশ।

- গণতন্ত্রকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য বহুদলীয় ব্যবস্থা অত্যন্ত আবশ্যক। 
- অপ্রয়োজনীয় ও জনসমর্থনহীন অসংখ্য রাজনৈতিক দল গড়ে উঠলে তা গণতন্ত্রের জন্য হয় হুমকিস্বরূপ।

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৫৫.
'ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ' (TIB) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯৪ সালে 
  2. ১৯৯৫ সালে 
  3. ১৯৯৬ সালে 
  4. ১৯৯৮ সালে 
ব্যাখ্যা

→ TIB ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

• 'Transparency International Bangladesh (TIB):
- এটি সুশীল সমাজের অংশ।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রাথমিকভাবে এটি একটি ট্রাস্ট হিসেবে গঠিত হয় এবং পরে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে একটি নিবন্ধিত বেসরকারি সংস্থা (NGO) হিসেবে নিবন্ধিত হয় ।
- টিআইবি একটি নির্দলীয়, অলাভজনক এবং স্বাধীন সংস্থা যা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নিবেদিত যেখানে সরকার, রাজনীতি, ব্যবসা, নাগরিক সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবন থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা হবে।
- টিআইবি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কল্পনা করে।
- এটি সচেতনতা বৃদ্ধি, সততা বৃদ্ধি এবং উন্নত সমাজের জন্য নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি অর্জনের চেষ্টা করে।
- টিআইবি নাগরিকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে, পদক্ষেপ নিতে এবং সুশাসন ও স্বচ্ছতার জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে সক্ষম করার জন্য গবেষণা তথ্য, অ্যাডভোকেসি রিসোর্স এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা ব্যবহার করে।


তথ্যসূত্র: TIB ওয়েবসাইট।

৫৬.
Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে বিভক্ত করেছেন -
  1. ৪ ভাগে
  2. ৫ ভাগে
  3. ২ ভাগে
  4. ৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
• যে গোষ্ঠীর সদস্যগণ একই মনোভাব ও স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ হয় তাকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলে।
• Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন।
যথা-
- Institutional Interest Groups,
- The Associational Interest Groups,
- Anomic Interest Groups and
- Non-Associational Interest Groups.

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব কে করেছিলেন?
  1. অক্টোভিয়ান হিউম
  2. ফিরোজ শাহ মেহতা
  3. উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি
  4. এ টি তেলাঙ্গা
ব্যাখ্যা

- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হলো সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন।
- এটি 
১৮৮৫ সালে তৎকালীন বড়লাট ডাফরিনের সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।
- শুরুতে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিলো শিক্ষিত ভারতীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন সম্পর্কে ভারতীয়দের অসন্তোষ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্রিটিশ শাসকদের নিকট তুলে ধরা।

- ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে কংগ্র্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে মুম্বাইয়ে।
- এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি।


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮.
আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা কোন সংঘটনটি?
  1. মুসলিম লীগ
  2. সর্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  3. আর.এস.এস.
  4. জমিয়তে-ই-হিন্দ
ব্যাখ্যা

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব:
→ দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন, যার মতে হিন্দু ও মুসলমানরা ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন জীবনাচার ও ভিন্ন ঐতিহ্যের কারণে একই জাতি নয়; তারা দুটি স্বতন্ত্র জাতি। তাই তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকা আবশ্যক।

দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আশিস নন্দী, শশী থারু প্রমুখ :
- আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা মুসলিম লীগ।
- তারা আরও মনে করেন যে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।
- মূলত তাদের মতে, বিনায়ক দামোদর সাভারকর জিন্নাহর দ্বিজাতি ত্বত্তের ১৬ বছর পূর্বে দ্বিজাতি ত্বত্ত প্রদান করেছিলনে। 
- এবং বিনায়ক দামোদর সাভারকর ছিলেন হিন্দু মহাসভার সভাপতি।
- প্রসঙ্গত, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে বলেছে যে, "নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (CAB) প্রয়োজন হয়েছিল কারণ কংগ্রেস ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করেছিল।"
- এর উত্তরে শশী থারুর প্রশ্ন করছেন, "অমিত শাহ কি ইতিহাস জানেন না? জিন্নাহ, দুই-জাতির তত্ত্ব, মুসলিম লীগের পাকিস্তান রেজোলিউশন এসব কি তিনি জানেন না? বাস্তবে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।"

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও সৈয়দ আহমদ খান এর ভূমিকা:
→ সৈয়দ সায়্যদ আহমদ খান মীরাটে ১৬ মার্চ ১৮৮৮ সালের এক বক্তৃতায় হিন্দু ও মুসলিমকে আলাদা করে ‘two nations’ উল্লেখ করেন; এই মীরাট-বক্তৃতাই আধুনিক 'দ্বি-জাতি' ধারণার সবচেয়ে প্রাথমিক স্পষ্ট রূপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
→ মীরাটে দেওয়া বক্তৃতায় সৈয়দ আহমদ খান স্পষ্টভাবে বলেন: 'হিন্দু এবং মুসলমান দুটি পৃথক সম্প্রদায়, যাদের ধর্ম, ঐতিহ্য এবং জীবনধারা ভিন্ন। একটি যৌথ রাষ্ট্রে তাদের একসঙ্গে শাসন করা কঠিন হবে।'
→ মীরাট বক্তব্যে সৈয়দ সরাসরি আলাদা রাষ্ট্র দাবি করেননি; তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের ওপর জোর দিয়ে সম্ভাব্য ক্ষমতা-অসাম্য তুলে ধরেছিলেন।
→ তিনি মনে করতেন যে হিন্দু ও মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ আলাদা।
→ এই বক্তৃতা এবং তাঁর অন্যান্য লেখনীতে তিনি মুসলমানদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁর এই ধারণা দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব'।
- ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আল্লামা ইকবাল এর ভূমিকা:
→ ১৯৩০ সালে আল্লামা ইকবাল এলাহাবাদে All India Muslim Legue-এর বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং এতে সমর্থন ব্যক্ত করেন।
→ এই ভাষণে তিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে একত্র করে স্বশাসিত মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেন।
→ তাঁর কবিতা ও রচনা মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় জাগ্রত করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।
→ ইতিহাসবিদদের মতে, স্যার সাইয়্যদের বপন করা বীজকে ইকবাল দার্শনিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেন, যা পরবর্তীতে জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনের রূপ নেয়।

উৎস:
i) Shashitharoor Website। [Link]
ii)The Demonic and the Seductive in Religious Nationalism: Vinayak Damodar Savarkar and the Rites of Exorcism in Secularizing South Asia by Ashis Nandy। [Link]
iii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iv) বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা ও কয়েকটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
v) Dwan ওয়েবসাইট।

৫৯.
রাজনৈতিক দল সাধারণত কোন ভিত্তিকে অনুসরণ করে গঠিত হয়?
  1. নীতি ও মত
  2. নীতি ও কর্মসূচি
  3. স্বজাতিবোধ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণকে কী বলা হয়?
  1. সাংস্কৃতিক দল
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সংবাদ মাধ্যম
  4. সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দলকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল বা সরকার গঠন করা।
- এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দল জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- সংবাদ মাধ্যম জনমতের প্রকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিডিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করতে সক্ষম হয় এবং এটি নীতি নির্ধারণ ও সরকারী কর্মকাণ্ডের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৬১.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. সম্প্রদায়ের স্বার্থ উদ্ধার
  2. সরকারি স্বার্থ উদ্ধার
  3. নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার
  4. রাষ্ট্রীয় স্বার্থ উদ্ধার
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

এছাড়াও,
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এক প্রকার সুসংবদ্ধ স্বার্থকামী গোষ্ঠী।
- এদের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।
- সরকারের সকল বিভাগ ও রাজনৈতিক দলের উপর চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।
- তবে শাসন বিভাগে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব সর্বাধিক।
- নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যে এরা সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানকেও প্রভাবিত করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২.
'কৃষক-প্রজা পার্টি' রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. চিত্তরঞ্জন দাস
  3. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক:
- তার পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরের অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন ১৯২৭ সালে।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন ১৯৩৭ সালে। 
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসের মাাধ্যমে সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধি রহিত করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফ্লাউড কমিশন গঠিত হয় এবং এ কমিশনের সুপারিশেই ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজাপুর উপজেলার ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।

৬৩.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণকে কী বলা হয়?
  1. সাংস্কৃতিক দল
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সংবাদ মাধ্যম
  4. সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দলকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল বা সরকার গঠন করা।
- এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দল জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- সংবাদ মাধ্যম জনমতের প্রকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিডিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করতে সক্ষম হয় এবং এটি নীতি নির্ধারণ ও সরকারী কর্মকাণ্ডের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৬৪.
সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের ক্ষমতা চর্চা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে?
  1. আদালতের মাধ্যমে
  2. সাংবাদিকতার মাধ্যমে
  3. প্রশাসনিক বিভাগের মাধ্যমে
  4. রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক দল:
- সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
- এই ব্যবস্থায় সরকারের ক্ষমতাচর্চা সাংবিধানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে, যা তাত্ত্বিকভাবে জনগণের হাতে থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলো দ্বারা পরিচালিত হয়।
- উন্নত গণতন্ত্রে কার্যকর বিরোধী দলগুলো ক্ষমতাসীন দলগুলোর চেয়ে বেশি অবদান রাখে।
- সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
- সরকার ও বিরোধী দলের সৌহার্দপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কে ছিলেন?
  1. সামছুল হক
  2. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. আতাউর রহমান
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রস্তাব অনুযায়ী সেই দলের নামকরণ করা হয় 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ'।
- ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবরের তৃতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়।
- ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, যুবক ও মহিলাদের মধ্যে এই দলের অঙ্গ-সংগঠন রয়েছে।

⇒ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি নিম্নরুপ:
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন- সামছুল হক।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি- আতাউর রহমান ও আব্দুস সালাম খান।
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

⇒ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগই ছিল প্রথম বিরোধী দল।
- পাকিস্তানি শাসনের সূচনালগ্ন থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাভাষাকে স্বীকৃতি, এক মানুষ এক ভোট, গণতন্ত্র, শাসনতন্ত্র প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার পদ্ধতি, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং দুই প্রদেশের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ ইত্যাদি ছিল আওয়ামী লীগের প্রধান দাবি।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬.
“চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ অংশীদারী মনোভাবের দ্বারা আবদ্ধ”- উক্তিটি কার?
  1. অ্যালেন পটার
  2. অ্যালমন্ড-গ্যাব্রিয়েল
  3. অ্যালান বল
  4. এইচ. জিগলার
ব্যাখ্যা

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে।
- কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।
- অ্যালান বলের মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ।"

অপরদিকে, 
- এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না।
- বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।
- অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, "স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।