বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৩ · ৬০১৭০০ / ২,২২৭

৬০১.
মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. ২০০-৩০০ mg/dl
  2. ৩০০-৪০০ mg/dl
  3. ৪০০-৫০০ mg/dl
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল:

• কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
• মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
• যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
• স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।

• স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা: 
১. উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং
২. নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL) । 

• রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে।
• রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। একে খারাপ কোলেস্টেরল বলে। 
• রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। একে ভালো কোলেস্টেরল বলে। 
• রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl.
• রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়।
• LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০২.
মাতৃদেহ থেকে ভ্রূণের রক্তে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে কোন অঙ্গ?
  1. জরায়ু
  2. নাভি
  3. অমরা
  4. ডিম্বাশয়
সঠিক উত্তর:
অমরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমরা
ব্যাখ্যা
অমরা (Placenta):
- যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু-টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। 
- ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর 4-5 দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয়। 
- ক্রমবর্ধমানশীল ভ্রূণের কিছু কোষ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ এই অমরা তৈরি করে। 
- নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। 
- এভাবে ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। 
- প্রসবের সময় অমরা দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়। 

- অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। 
- ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের দরকার। শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। 
- অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে। 
- অমরার মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। 
- অমরা একই সাথে বৃক্কের মতো কাজ করে। 
- বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। 
- অমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। এ হরমোন ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও তার স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে। 
- অমরাতে প্রচুর রক্তনালি থাকে। 
- অমরা, আম্বিলিকাল কর্ড দ্বারা ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে, একে নাড়িও বলা হয়। 
- এটা মূলত একটি নালি, যার ভিতর দিয়ে মাতৃদেহের সাথে ভ্রূণের বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় ঘটে। 
- গর্ভাবস্থায় অমরা থেকে এমন কতগুলো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন এবং প্রসব সহজ করতে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৩.
আমিষ পরিপাকে পাচক রসে সাহায্যকারী এনজাইম কোনটি?
  1. প্রোলিডেজ
  2. কোলাজিনেজ
  3. ট্রিপসিনোজেন
  4. পেপসিনোজেন
সঠিক উত্তর:
পেপসিনোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেপসিনোজেন
ব্যাখ্যা
- আমিষ পরিপাকে পাচক রসে সাহায্যকারী এনজাইম হলো- পেপসিনোজেন

পরিপাকতন্ত্রে খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ: 
- দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য। 
- এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো-
১. পাচক রস: পেপসিনোজেন ও জিলেটিনেজ।
২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি। 
৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ

- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়।
- মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না।
- কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৪.
রক্ত জমাট বাঁধার পর হালকা হলুদ রংয়ের স্বচ্ছ যে রস পাওয়া যায়, তাকে কী বলে? 
  1. লসিকা
  2. প্লাজমা
  3. সিরাম
  4. অ্যান্টিজেন
সঠিক উত্তর:
সিরাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাম
ব্যাখ্যা
সিরাম: 
- রক্ত থেকে রক্তকণিকা এবং রক্ত জমাট বাঁধার জন্য যে প্রয়োজনীয় প্রোটিন আছে, সেটাকে সরিয়ে নেওয়ার পর যে তরলটি রয়ে যায়, তাকে সিরাম বলে। 
অর্থাৎ, রক্ত জমাট বাঁধার পর হালকা হলুদ রংয়ের যে স্বচ্ছ রস পাওয়া যায়, তাকে সিরাম বলে। 
- রক্তরস বা প্লাজমা এবং সিরামের মাঝে মূল পার্থক্য হলো রক্তরসে রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় প্রোটিন থাকে, সিরামে সেটি থাকে না। 

রক্তরস বা প্লাজমা: 
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। 
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ। 
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন এবং O, CO, এবং N, জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৫.
কোন নিউরোট্রান্সমিটার মুড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. অ্যাসিটাইলকোলিন
  2. ডোপামিন
  3. গ্লুটামেট
  4. GABA
সঠিক উত্তর:
ডোপামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোপামিন
ব্যাখ্যা

◉ ডোপামিন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার, যা সুখ, প্রেরণা এবং পুরস্কারমূলক অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে।

ডোপামিন:
- ডোপামিন মস্তিষ্কে তৈরি একটি নিউরোট্রান্সমিটার (দুটি স্নায়ু কোষের মধ্যে রাসায়নিক বার্তাবাহক)।
- এটি মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ এবং শরীরের স্নায়ু এবং পেশী কোষের মধ্যে বার্তা যোগাযোগ করতে সহায়তা করে।
- এটি শরীরের নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয়, মেজাজ, স্মৃতি, মনোযোগ, অনুপ্রেরণা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
- এটি শরীরের অনেক কাজের সাথে জড়িত যেমন উত্তেজনা এবং ঘুম, জ্ঞান এবং আচরণ, মেজাজ, স্তন্যদান, শিক্ষা ইত্যাদি। 
- এটি একটি সত্যিকারের চাপের পরিস্থিতিতে শরীরের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন বিপদ সনাক্ত করা এবং এটি থেকে পালানো।
- ডোপামিনের ঘাটতি হলে উদাসীনতা, বিষণ্নতা ও পারকিনসন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- অতিরিক্ত ডোপামিন স্কিজোফ্রেনিয়া ও আসক্তির (Addiction) সাথে সম্পর্কিত।

উৎস:
i) জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Care Hospitals Website. [Link] 

৬০৬.
জেনেটিক কোডের আবিষ্কারক-
  1. ক) রোনাল্ড রস
  2. খ) খোরানা
  3. গ) জোহানসন
  4. ঘ) স্ট্রাসবুর্গার
সঠিক উত্তর:
খ) খোরানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খোরানা
ব্যাখ্যা

- জিন সাধারণত প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে তাদের প্রকাশ ঘটায়। জিনের নিউক্লিওটাইডের পরম্পরা অনুযায়ী জীবকোষ অ্যামাইনো এসিড তৈরি করে।
- অ্যামাইনো এসিড থেকে প্রোটিন উৎপন্ন হয়।
- প্রোটিনে অ্যামাইনো এসিডের ক্রম আর জিনে নিউক্লিওটাইডের ক্রম অভিন্ন রকম হয়ে থাকে।
- নিউক্লিওটাইডের ক্রম আর অ্যামাইনো এসিডের ক্রমের এই সম্পর্ককে জেনেটিক কোড বলে।
- ড. হর গোবিন্দ খোরানা জেনেটিক কোড আবিষ্কার করেন।

৬০৭.
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে কে?
  1. ক) নিউট্রোফিল
  2. খ) ইওসিনােফিল
  3. গ) বেসােফিল
  4. ঘ) হেপারিন
সঠিক উত্তর:
ক) নিউট্রোফিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিউট্রোফিল
ব্যাখ্যা

গ্র‍্যানোলোসাইট শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধরন৷
এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত। গ্রানুলােসাইট শ্বেত কণিকাগুলাে নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার।
যথা: নিউট্রোফিল, ইওসিনােফিল এবং বেসােফিল।

- নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে।
- ইওসিনােফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- বেসােফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্ত বাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৬০৮.
খাদ্যের কোন উপাদান 'খাদ্যপ্রাণ' হিসেবে পরিচিত?
  1. শর্করা
  2. ভিটামিন
  3. আমিষ
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
ব্যাখ্যা
• খাদ্য উপাদান:
- বর্ণ, গন্ধ, ঘনত্ব, আকার, আকৃতি, গঠন, প্রকৃতি ইত্যাদি দিক থেকে যাবতীয় খাদ্যকে তাদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- এদেরকে খাদ্য উপাদান বলা হয়।
- খাদ্যের উপাদান ৬টি। যথা:

১. আমিষ বা প্রোটিন:
- আমিষ জাতীয় খাদ্য প্রধানত দেহ গঠন, বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণের কাজ করে।
- প্রোটিন হতে দেহের প্রয়োজনে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ও অভ্যন্তরীণ ক্রিয়ায় প্রোটিন বিশেষ ভূমিকা রাখে।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, পনির, ছানা, ডাল, শিমের বিচি, বাদাম, মটরশুঁটি ইত্যাদি প্রোটিনের ভালো উৎস।

২. শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:
- শর্করা বা শ্বেতসারজাতীয় খাদ্য হতে প্রধানত তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয়।
- ভাত, রুটি, ভুট্টা, গম, যব, চিড়া, মুড়ি, চিনি, মধু, মিষ্টি ফল, ফলের রস, গুড়, আলু ইত্যাদি শর্করার ভালো উৎস।

৩. স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট:
- স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের প্রধান কাজ দেহের জন্য তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা।
- ফ্যাট জাতীয় খাদ্য হতেই সর্বাধিক পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়।
- মাছ ও মাংসের তেল ও চর্বি, ঘি, মাখন, সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, নারিকেল তেল, অন্যান্য তেল, বাদাম, ডিমের কুসুম ইত্যাদি স্নেহ জাতীয় খাদ্যের প্রধান উৎস।

৪. ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ:
- ভিটামিন ৬ প্রকার।
- যথা: ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই এবং কে।
- সুষম খাদ্যের ভিটামিন খাদ্য উপাদান 'খাদ্যপ্রাণ' হিসেবে পরিচিত।
- রোগ প্রতিরোধ করে দেহকে সুস্থ রাখাই ভিটামিনের প্রধান কাজ।
- সব ধরনের শাক-সবজি, ফল, ঢেকি ছাঁটা চাল, তেল বীজ, অঙ্কুরিত বীজ ইত্যাদি ভিটামিনের উৎস।

৫. খনিজ লবণ বা মিনারেল:
- দেহের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া-বিক্রিয়া, হাড় ও দাঁতের গঠন, রক্ত তৈরি, মস্তিষ্কের বিকাশ, দেহের পানি সমতা রক্ষা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদনে বিভিন্ন খনিজ পদার্থসমূহ অপরিহার্য।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য খনিজ লবণ হলো- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ বা আয়রণ, আয়োডিন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি।
- দুধ, ছোট মাছ, মাংস, ডিমের কুসুম, ডাল, শাক-সবজি, বিভিন্ন ফল, ডাবের পানি, লবণ ইত্যাদি বিভিন্ন খনিজ লবণের উৎস।

৬. পানি:
- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের প্রায় ৭০% পানি।
- দেহ অভ্যন্তরের সব ক্রিয়া-বিক্রিয়া সংঘটন, রক্ত সঞ্চালন, পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের এক স্থান হতে অন্য স্থানে চলাচলে পানি অপরিহার্য।
- দেহের সামগ্রিক সজীবতা রক্ষায় পানি প্রয়োজন।
- পানি ছাড়া বেঁচে থাকা যায় না, তাই পানির অপর নাম জীবন।

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৯.
কোন ধমনি থাইরয়েড গ্রন্থি ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে?
  1. সার্ভিকাল ধমনি
  2. ইলিয়াক ধমনি
  3. মেসেন্টেরিক ধমনি
  4. থাইরোসার্ভিকাল ধমনি
সঠিক উত্তর:
থাইরোসার্ভিকাল ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরোসার্ভিকাল ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন - 
⇒ আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
⇒ সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
⇒ ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬১০.
মানুষের রক্ত লাল রঙের হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. রক্তে লাল তন্তুর উপস্থিতি 
  2. রক্তে লৌহ আয়নের বৃদ্ধি 
  3. হিমোগ্লোবিন নামক লৌহ-ঘটিত প্রোটিনের উপস্থিতি
  4. রক্তে অক্সিজেনের উপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন নামক লৌহ-ঘটিত প্রোটিনের উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন নামক লৌহ-ঘটিত প্রোটিনের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৬১১.
মানুষের হার্টে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।

• হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প।
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত।
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।
- ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম নিলয় ( Ventricles) বলে।
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল।
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে।
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে।
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১২.
প্রাণীকোষে কোনটি অনুপস্থিত?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) নিউক্লিয়াস
  3. গ) কোষগহবর
  4. ঘ) রাইবোজোম
সঠিক উত্তর:
গ) কোষগহবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কোষগহবর
ব্যাখ্যা

প্রাণীকোষে কোষগহবর থাকে না, তবে কোন কোন কোষে যদি থাকেও আকারে খুবই ছোট।

উদ্ভিদকোষে কোষগহবর থাকে এবং আকারে বড় হয়। এ কারণে, উদ্ভিদ কোষে নিউক্লিয়াস একপাশে এবং প্রাণীকোষে নিউক্লিয়াস মাঝামাঝি থাকে। নানা প্রকার জৈব এসিড, লবণ, শর্করা, আমিষ ইত্যাদি কোষ গহবরে দ্রবীভূত অবস্থায় থেকে কোষরস প্রস্তুত করে।

উৎস: সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান (১৭-১৮ পৃষ্ঠা)।

৬১৩.
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য -
  1. শর্করা, আমিষ ও চর্বির শর্করার অনুপাত হবে ৪ : ১ : ১
  2. খাদ্যে প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে
  3. সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১। একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকতে হবে।
২। খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বির শর্করার অনুপাত হবে ৪ : ১ : ১ ।
৩। সুষম খাদ্য তালিকায় ফল ও টাটকা শাকসব্জি থাকতে হবে।
৪। খাদ্যের প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে।
৫। সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে।

সুষম খাদ্যের তালিকা তৈরির জন্য কতকগুলো বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার । যথা—
১। ব্যক্তি বিশেষের লিঙ্গ, পেশা ও শারীরিক অবস্থা ।
২। খাদ্যের মূল্যমান সম্পর্কে জ্ঞান ।
৩। দেহের ক্ষয় পূরণ ও গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আমিষ সরবরাহ নিশ্চিত করা
৪ । খাদ্যে পরিমাণ মতো ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানির উপস্থিতি।
৫। ঋতু, আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জ্ঞান।
৬। পরিবারের আর্থিক বিষয় বিবেচনা করা ও সদস্য সংখ্যা।

- এছাড়া খাদ্য তৈরি, পরিবেশন ও গ্রহণের সময় ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। দৈনিক ৭/৮ গ্লাস পানি পান করা।
- টাটকা সবুজ শাকসব্জি, মৌসুমী ফল-মূল প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় থাকা আবশ্যক। 

সূত্র: ৫৮ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৪.
বাংলাদেশে ইপিআই (EPI) কর্মসূচীতে কয়টি রোগের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১১ টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
• সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি(ইপিআই):
- শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার এবং শিশুর পঙ্গুত্বের হার কমানোর লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু হয়।
- শুরুতে ছয়টি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হলেও বর্তমানে ১০টি রোগের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
এগুলো হলো:
- শিশুদের যক্ষ্মা, পোলিওমাইলাইটিস,  ডিফথেরিয়া,  হুপিং কাশি, এমআর (হাম, রুবেলা), নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া।
- মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি,  হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি জনিত রোগসমূহ।

উৎসঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ICDDR,B ওয়েবসাইট।
৬১৫.
কোনটি কোলেস্টেরল নয়?
  1. Glucagon
  2. HDL
  3. LDL
  4. Triglycerides
সঠিক উত্তর:
Glucagon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Glucagon
ব্যাখ্যা
গ্লুকাগন কোলেস্টেরল নয়। এটি অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানসের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত একধরনের হরমোন। গ্লুকাগন শরীরে অধিক পরিমাণে দেখা গেলে ডায়াবেটিস হতে পারে।

কোলেস্টেরল:

- কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ।
- এটি প্রাণী কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়।
- তিন প্রকার লিপোপ্রোটিন দেখা যায়। যথা:
১. HDL (High-Density Lipoprotein, or “good” cholesterol)-কে সাধারণত ভাল কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

২. LDL (Low-Density Lipoprotein, or “bad” cholesterol)-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়।
- সাধারণত আমাদের রক্তে ৭০% LDL থাকে। ব্যক্তি বিশেষে এর পার্থক্য দেখা যায়।

৩. Triglycerides লিপোপ্রোটিন বা কোলেস্টেরল আমাদের খাদ্যে এবং শরীরে চর্বি হিসেবে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৬১৬.
হৃৎচক্রের স্বাভাবিক সময়কাল কত?
  1. ক) ০.৮ সেকেন্ড
  2. খ) ০.৫ সেকেন্ড
  3. গ) ৭৫ সেকেন্ড
  4. ঘ) ৬০ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
ক) ০.৮ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ০.৮ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির হৃৎস্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে প্রায় ৭০-৮০ বার। প্রতি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন করতে সিস্টোল ও ডায়াস্টোলের যে চক্রাকার ঘটনাবলি অনুসৃত হয় তাকে কার্ডিয়াক চক্র বা হৃৎচক্র বলে। যদি প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৫ বার হৃৎস্পন্দন হয়, তবে হৃৎচক্রের সময়কাল = ৬০/৭৫ সেকেন্ড = ০.৮ সেকেন্ড। স্বাভাবিকভাবেই অ্যাট্রিয়াল চক্র এবং ভেন্ট্রিকুলার চক্র উভয়েরই স্থিতিকাল ০.৮ সেকেন্ড।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬১৭.
Biotechnology শব্দটির প্রবর্তন করেন কে?
  1. ক) গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  2. খ) উইলিয়াম বেটসন
  3. গ) কার্ল এরেকি
  4. ঘ) কার্ল করেন্স
সঠিক উত্তর:
গ) কার্ল এরেকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্ল এরেকি
ব্যাখ্যা
• হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (১৯১৯) সর্বপ্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। জীবপ্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের একটি উন্নয়নশীল ফলিত শাখা।

• Biotechnology শব্দটি Biology এবং Technology এর সমন্বয়ে গঠিত। Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কিত বিদ্যা এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। অর্থাৎ Biotechnology হলো Biological Science এর সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত বিদ্যা। ১৯৭০ এর পর থেকে এ শব্দটি বর্তমান বিশ্বে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

• জৈবপ্রযুক্তি হলো বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত নীতি অনুসরণ ও প্রয়োগ করে জীবদের ব্যবহার করার মাধ্যমে মানুষের জন্য কল্যাণকর ও ব্যবহারযোগ্য প্রয়োজনীয় মালামাল তৈরির বিশেষ প্রযুক্তি। এটি মূলত জীববিদ্যাভিত্তিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে যখন প্রযুক্তি কৃষি, খাদ্য বিজ্ঞান, এবং ঔষধশিল্পে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম দশম ও জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৬১৮.
এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন-এর মৌলিক উপাদান -
  1. প্রোটিন
  2. ক্যালসিয়াম
  3. ভিটামিন
  4. লবণ
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি: 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 

হরমোন:  
 - মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (Human Growth Hormone, HGH) সাধারণভাবে সোমাটোট্রপিন (Somatotrophin) নামে পরিচিত। 
- এটি এক ধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০ টি অ্যামাইনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত। 
- আর আমিষ বা প্রোটিনের গঠনগত একক হলো অ্যামাইনো অ্যাসিড। 
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়। 

এনজাইম:  
- এনজাইম এক ধরণের প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় পদার্থ। 
- জীবকোষ অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়ার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিগণিত। 
- প্রতিটি জীবের পরিপাক, শ্বসন, জনন ইত্যাদি শারীরবৃত্তীয় কাজগুলি জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। 
- এ সমস্ত জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি ও হার কতকগুলি প্রোটিন জাতীয় যৌগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 
- যে প্রোটিন জাতীয় পদার্থ অতি অল্প মাত্রায় বিদ্যমান থেকে জীবদেহে বিক্রিয়ার হারকে ত্বরান্বিত করে কিন্তু বিক্রিয়ার পরে নিজে অপরিবর্তিত থাকে, তাকে এনজাইম বলে। 

উপরোক্ত আলোচনায় বুঝা যাচ্ছে, এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন-এর মৌলিক উপাদান হচ্ছে- প্রোটিন। 

উৎস: (প্রাণিবিজ্ঞান + উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৯.
করোটিতে মোট কতটি অস্থি থাকে?
  1. ২৯
  2. ৩১
  3. ৩২
  4. ৩৩
সঠিক উত্তর:
২৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯
ব্যাখ্যা
• অক্ষীয় কঙ্কাল:
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে।
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা -
(ক) করোটি,
(খ) মেরুদণ্ড ও
(গ) বক্ষপিঞ্জর।

• করোটি:
- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঙ্কালিক গঠনকে করোটি বলে।
- করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে।

• মেরুদণ্ড:
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে।

• বক্ষপিঞ্জর:
বক্ষদেশীয় ১২টি কশেরুকার সঙ্গে ১২ জোড়া পশুকা যুক্ত হয়ে যে খাঁচার মত আকৃতি গঠন করে তাকে বক্ষপিঞ্জর বলে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২০.
কোন খনিজ উপাদান হাড়ের বৃদ্ধি ও গঠন দৃঢ় করে এবং দাঁতের এনামেল মজবুত রাখে?
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
খনিজ উপাদান: 
- খনিজ উপাদানসমূহ দেহের বৃদ্ধি, শরীরবৃত্তীয় বিভিন্ন ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, সুস্থতা ও সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দেহে খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলেও খনিজ লবণ দেহের জন্য অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদান। 
- দেহ গঠনে এসব অজৈব খনিজ পদার্থের অংশগ্রহণ দেহ ওজনের প্রায় ৪% হয়ে থাকে। 
- মূলত খাদ্যবস্তু পোড়ালে যে সাদা ছাই অবশিষ্ট থাকে তাই অজৈব খনিজ লবণ। 
- এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকারের খনিজ লবণ শনাক্ত করা গেছে। 
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রণ (লৌহ), আয়োডিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক (দস্তা), ক্লোরিন, কপার (তামা) ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়াম (Calcium): 
- দেহে প্রয়োজনীয় সবকটি খনিজ উপাদানের মধ্যে ক্যালসিয়ামের (Ca) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহে প্রায় ১২০০ গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। 
- দেহে মোট ক্যালসিয়ামের ৯৯% হাড় ও দাঁতে থাকে, অবশিষ্ট ১-১.৫% ক্যালসিয়াম থাকে দেহরসে। 
- দুধ ও দুধ জাতীয় খাদ্য ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস। এছাড়া কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডিম, সবুজ শাক, কলমিশাক, কালো কচুশাক, শুঁটকি মাছ, পনির, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা ইত্যাদিতে যথেষ্ট পমিাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। 

ক্যালসিয়ামের কাজ: 
১। হাড় ও দাঁতের গঠন ও মজবুত করতে ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। ক্যালসিয়ামের সাথে ফসফরাস যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম ফসফেট তৈরি করে। ক্যালসিয়াম হাড়ের বৃদ্ধি ও গঠন দৃঢ় করে এবং দাঁতের এনামেল মজবুত রাখে
২। এটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
৩। স্নায়ু পেশি তথা স্নায়ুবিক উদ্দীপনা ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করে। 
৪। হৃৎপিন্ডের স্বাভাবিক স্পন্দন বজায় রাখে। 

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত অবস্থা: 
১। দীর্ঘদিন ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের হাড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। হাড়ের গঠন দুর্বল ও খর্বকায় হয়। হাড় বাঁকা হয়ে যায়। শিশুদের রিকেট রোগ হয়। 
২। বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয়। 
৩। প্রাপ্ত বয়স্কদের হাড় নরম ও ভঙ্গুর হয়। 
৪। স্নায়ুবিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। মাংসপেশির খিঁচুনি, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
৫। ভিটামিন ডি এর বিপাক ব্যাহত হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২১.
কোন পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে?
  1. স্নেহ জাতীয় পদার্থে
  2. প্রোটিন জাতীয় পদার্থে
  3. শর্করা জাতীয় পদার্থে
  4. খনিজ জাতীয় পদার্থে
সঠিক উত্তর:
স্নেহ জাতীয় পদার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নেহ জাতীয় পদার্থে
ব্যাখ্যা
ক্যালরি: 
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ হচ্ছে ১ ক্যালরি। 
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। 
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়, এই তাপ দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে। 
- খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক হলো কিলোক্যালরি। 
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়। 
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। 
- তেল বা চর্বি বা স্নেহ জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। 
- স্নেহ জাতীয় পদার্থের প্রতি গ্রামে ৯ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৬২২.
হাইড্রা কোন পর্বের প্রাণী?
  1. ক) Cnidaria
  2. খ) Platyhelminthes
  3. গ) Nematoda
  4. ঘ) Annelida
সঠিক উত্তর:
ক) Cnidaria
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Cnidaria
ব্যাখ্যা

হাইড্রা হল নিডারিয়া পর্বের প্রাণী।

নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য-
1. এই পর্বের প্রাণীদের দেহের ভেতরে একটি মাত্র গব্বর বা গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহবর থাকে।
2. এই পর্বের প্রাণীদের দেহত্বকে ,এমন কি কর্ষিকার গায়ে নিডোব্লাস্ট দংশক ধ্বংস কোষের ভেতরে নিমাটোসিস্ট নামক চাবুকের মত এক প্রকার অঙ্গাণু থাকে যা আত্মরক্ষা ও খাদ্য গ্রহণে সাহায্য করে।
3. নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের জীবনচক্রে পলিপ ও মেডুসা দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ঘটে। একে মেটাজেনেসিস বলে।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৬২৩.
HIV ভাইরাস প্রধানত মানবদেহের কোন কোষ ধ্বংস করে?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা 
  2. প্লাটিলেট
  3. ম্যাক্রোফেজ 
  4. নিউট্রোফিল
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্রোফেজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক্রোফেজ 
ব্যাখ্যা

এইডস (AIDS) রোগ: 
- AIDS হলো Acquired Immunodeficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে।
- Human Immunodeficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

এইডস (AIDS) রোগের বিস্তার: 
- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 
যেমন- 
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, 
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, 
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, 
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, 
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, 
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৪.
জন্ডিসে আক্রান্ত হয়-
  1. যকৃত
  2. কিডনি
  3. পাকস্থলী
  4. হৃৎপিণ্ড
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা
• জন্ডিসে শরীরের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি যকৃত বা লিভারে আক্রান্ত হয়।
- কোনাে ব্যক্তি ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে সাধারণত জন্ডিস দেখা দেয়।
- জন্ডিস দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়।
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়।
- জন্ডিস আক্রান্ত ব্যাক্তির দেহত্বক, মুখ, চোখ এবং থুথু হলুদ বর্ণের হয়।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৫.
মানুষের বৃদ্ধি হরমোন কী নামে পরিচিত?
  1. গ্লুকাগন
  2. সোমাটোস্ট্যাটিন
  3. সোমাটোট্রপিন
  4. ইনসুলিন
সঠিক উত্তর:
সোমাটোট্রপিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমাটোট্রপিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহের বৃদ্ধিতে দুটি হরমোন প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- একটি হচ্ছে পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত গ্রোথ হরমোন (Growth Hormone, GH) এবং অন্যটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন (Thyroxine)।

• বৃদ্ধি হরমোন: 

- যে হরমোন দেহের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে তাকে গ্রোথ হরমোন বলা হয়। 
- মানুষের গ্রোথ হরমোন সাধারনভাবে সোমাটোট্রপিন নামে পরিচিত। 

• দেহের বৃদ্ধিতে গ্রোথ হরমোনের ভূমিকা:
- গ্রোথ হরমোন ১৯১টি অ্যামিনো এসিড নিয়ে গঠিত এক শিকল বিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্র প্রোটিন অণু।
- মানুষের উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধিতে এ হরমোন প্রধান ভূমিকা রাখে বলে একে গ্রোথ হরমোন বলা হয়।

• মানুষের বৃদ্ধিজনিত অধিকাংশ শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ এ হরমোন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন-
- পেশির বৃদ্ধি: এ হরমোনের প্রভাবে প্রোটিন পরিপাকের ফলে সৃষ্ট সরল ও তরল অ্যামিনো এসিড কোষে গৃহীত হয় ও এদের গ্রহণ মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে, কোষে প্রোটিন সংশ্লেষের হার বেড়ে যায় ও পেশির বৃদ্ধি সাধন ঘটে।
-  দেহের ক্ষয়রোধ: সাধারণত ক্ষুধার্ত অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ কমে যায়। এ অবস্থায় গ্রোথ হরমোনের প্রভাবে রক্তে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দেহের ক্ষয় রোধ হয়।
- কঙ্কালতন্ত্রের বৃদ্ধি: তরুণাস্থির আয়তন বৃদ্ধি, অস্টিওরাস্টের আবির্ভাব, অস্থিতে ক্যালসিয়াম আয়ন সঞ্চয়, কনড্রিওসাইট ও অস্টিওসাইটের পূর্ণতা প্রাপ্তি ইত্যাদি সব কার্যক্রম এ হরমোন দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- আয়ন বৃদ্ধি: এ হরমোনের প্রভাবে খাদ্যবস্তু থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন আয়ন বিশেষ করে ক্যালসিয়াম আয়ন পৌষ্টিকনালি থেকে শোষিত হয় এবং বৃক্ক থেকে বিভিন্ন আয়ন শোষণের মাধ্যমে দেহে আয়ন বৃদ্ধি ঘটায়। এসব আয়ন দৈহিক বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৬২৬.
নিম্নলিখিত কোনটি পারকিনসন রোগের উপসর্গ নয়?
  1. কোষ্ঠকাঠিন্য
  2. চোখের পাতার কাঁপুনি
  3. মুখের অনড় থাকা
  4. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস
সঠিক উত্তর:
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস
ব্যাখ্যা

- পারকিনসন রোগের উপসর্গ নয়- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস। অন্যদিকে, পারকিনসন রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা এ রোগের অন্তর্ভুক্ত। 

পারকিনসন রোগ (Parkinson's disease): 
- পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়। 
- এই রোগ সাধারণত 50 বছর বয়সের পরে হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে যুবক-যুবতীদেরও হতে পারে, এই ক্ষেত্রে রোগটি তার বংশে রয়েছে বলে ধরা হয়। 
- স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন। 
- ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। 
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না, ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। 
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে পারকিনসনের কারণে রোগীর মাংসপেশি আরও অকার্যকর হয়ে উঠে, ফলে রোগীর চলাফেরা, লেখালেখি ইত্যাদি কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। 

- পারকিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকট রূপে দেখা দেয়। 
- প্রাথমিক অবস্থায় রোগী হালকা হাত বা পা কাঁপা অবস্থায় থাকে, ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়। 
- এছাড়াও চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা, কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ, মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া, নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া, যেমন- চেয়ার থেকে উঠা কিংবা হাঁটতে শুরু করার সময় অসুবিধে হওয়া এমন নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। 
- ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি গ্রহণ, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ এবং সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করার মাধ্যমে রোগী অনেকটা সুস্থ থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬২৭.
কোন রক্তের গ্রুপে কোন এন্টিজেন নেই?
  1. ক) Group A
  2. খ) Group B
  3. গ) Group AB
  4. ঘ) Group O
সঠিক উত্তর:
ঘ) Group O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Group O
ব্যাখ্যা

রক্তের O গ্রুপে কোন এন্টিজেন নেই।
রক্তের AB গ্রুপে কোন এন্টিবডি নেই।
রক্ত কণিকার প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণিবিন্যাসকে রক্ত গ্রুপ (Blood Group) বলে।
আমেরিকার জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner) ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন। রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণিবিন্যাস করেন, তা ABO ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। অনেক সময় একে ল্যান্ডস্টেইনার এর ব্লাড গ্রুপ বলে।
চার ধরনের রক্তের গ্রুপ আছে—A, B, AB এবং O। অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির ওপর ভিত্তি করে মূলত রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৬২৮.
Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে-
  1. শেলী
  2. ডলি
  3. মলি
  4. নেলী
সঠিক উত্তর:
ডলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডলি
ব্যাখ্যা
- Adult cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে ডলি
- ডলি হলো মানব-ইতিহাসে প্রথম সফল স্তন্যপায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ক্লোন প্রাণী।
- ডলির জন্ম হয় ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই।
- ডলির নামকরণ করা হয় আমেরিকার বিখ্যাত শিল্পী ডলি পের্টনের নামে।
- ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফুসফুসে জটিলতার কারণে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে মারা যায় ডলি।
- ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডে সংরক্ষিত আছে ডলির স্টাফ করা দেহ।

উৎস: বিবিসি ওয়েবসাইট।
৬২৯.
পিত্তরসের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. অম্লীয়, লালচে তরল 
  2. অম্লীয়, বাদামী তরল 
  3. ক্ষারজাতীয়, স্বচ্ছ তরল 
  4. ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল 
সঠিক উত্তর:
ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল 
ব্যাখ্যা

যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা, পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ, এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩০.
ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে কোন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না?
  1. প্যারাসিটামল
  2. এন্টিবায়োটিক
  3. এসপিরিন
  4. অ্যাসিটামিনোফেন
সঠিক উত্তর:
এসপিরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসপিরিন
ব্যাখ্যা
• ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না।

• ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত রোগ।
- এই ভাইরাসের জীবাণুর নাম ফ্ল্যাভি ভাইরাস বা ভেঙ্গী ভাইরাস।
- এটি একটি RNA ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের বাহক হলো Aedes aegypti L. ও Aedes albopictus নামক মশকী (স্ত্রী মশা)।
- এর পোষক দেহ হলো মানুষ।
- প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে ১০৩-১০৫° ফারেনহাইট হয়ে থাকে।
- সাধারণত ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর ২-৭ দিন পর জ্বর দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীর তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেট ব্যাথা, কপাল ব্যথা ও গলা ব্যথা হয়।
- মেরুদণ্ডের ব্যথাসহ কোমরে ব্যথা এই রোগের বিশেষ লক্ষণ। একে হাড়ভাঙ্গা জ্বর বলে।
- প্লেটিলেট পরীক্ষায় রক্তের অনুচক্রিকার সংখ্যা ১৫০০০০/mm এর অনেক নিচে নেমে আসে।
- ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৬৩১.
Which is not a part of the forebrain?
  1. Cerebrum
  2. Thalamus
  3. Cerebellum
  4. Hypothalamus
  5. None
সঠিক উত্তর:
Cerebellum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cerebellum
ব্যাখ্যা
⇒ সেরেবেলাম অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয়।
- এটি পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড়, জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক,
(২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
(৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

(১) অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩২.
গয়টার বা গলগন্ড মানবদেহের কোন গ্রন্থির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) পিটুইটারি
  2. খ) যকৃত
  3. গ) থাইরয়েড
  4. ঘ) লালাগ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
গ) থাইরয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) থাইরয়েড
ব্যাখ্যা

গয়টার (Goitre)
প্রচলিত অর্থে গলগণ্ড বলতে থাইরয়েড গ্রন্থির যেকোনাে ফোলাকে বােঝায়। গলগণ্ডের কিছু বিশেষ ধরনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে গয়টার নামে ডাকা হয়, অর্থাৎ সব গলগণ্ড গয়টার নয়।
টিউমার, ক্যান্সার, প্রদাহসহ নানা কারণে থাইরয়েড ফুলে যেতে পারে, সেগুলাে গয়টার নয়। গয়টার থাইরয়েড গ্রন্থির কোনাে নির্দিষ্ট রােগ বােঝায় না, বরং থাইরয়েডের বিভিন্ন রােগের এক সাধারণ বহিঃপ্রকাশকে বােঝায়। নানা কারণে গয়টার হতে পারে। খাবারে আয়ােডিনের অভাব গলগণ্ডের অন্যতম কারণ। সমুদ্র থেকে দূরে উত্তর বঙ্গ এবং পার্বত্য এলাকার মাটিতে আয়ােডিন কম থাকায় ওই সব অঞ্চলের মানুষের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

৬৩৩.
নিচের কোনগুলো রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত প্রধান হরমোন?
  1. থাইরক্সিন ও অ্যাড্রেনালিন
  2. ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
  3. সিক্রেটিন ও গ্যাস্ট্রিন
  4. মেলাটোনিন ও কর্টিসল
সঠিক উত্তর:
ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
ব্যাখ্যা

• ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন হলো অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত প্রধান হরমোন, যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করে।

• অগ্ন্যাশয় (Pancreas):
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি।
- এটি একাধারে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে।
- বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়।
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক এনজাইম থাকে।
- এসব এনজাইম যথাক্রমে আমিষ, স্নেহজাতীয় খাদ্য ও শর্করা পরিপাকে সহায়তা করে।
- অগ্ন্যাশয় দেহের অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা ও দেহতাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
 
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়:
- অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।
- এই অংশ থেকে ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয়।
- ইনস্যুলিন রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশে সহায়তা করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়।
- গ্লুকাগন যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তর করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়।
- এই দুই হরমোনের সম্মিলিত ক্রিয়ায় রক্তের গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকে।
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এরা বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- থাইরক্সিন ও অ্যাড্রেনালিন → বিপাক ও জরুরি প্রতিক্রিয়ায় জড়িত হরমোন।
- সিক্রেটিন ও গ্যাস্ট্রিন → পরিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন।
- মেলাটোনিন ও কর্টিসল → ঘুমচক্র ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৬৩৪.
ত্বকের এপিডার্মিস স্তরে উৎপন্ন মেলানিনের প্রধান কাজ কী?
  1. জীবাণু ধ্বংস করা
  2. ত্বক মসৃণ রাখা
  3. অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা
  4. ঘাম নিঃসরণ করা
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করা
ব্যাখ্যা

• মেলানিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।

• প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা:

- ত্বক মানুষের শরীরের প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
- এটি দেহকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ এবং পরিবেশগত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

• সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা:
- ত্বকের এপিডার্মিস স্তরের কোষে মেলানিন (melanine) নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন হয়, যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ত্বককে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

• যান্ত্রিক বাধা সৃষ্টি:
- ত্বকের বাইরের স্তরটি দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণ দ্বারা গঠিত, যা দেহের ভেতরে জীবাণু, বিষাক্ত পদার্থ ও ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশে একটি কার্যকর বাধা সৃষ্টি করে।

• ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া:
ত্বক কেটে গেলে বা ক্ষত সৃষ্টি হলে, ত্বকে উপস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণুকে গ্রাস করে দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

• অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি:
- ঘাম ও তেল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH মানকে অম্লীয় (pH = 3–5) করে তোলে। এর ফলে অধিকাংশ অণুজীব দীর্ঘ সময় ত্বকে টিকে থাকতে পারে না।

• উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা:
কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থান করে অ্যাসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা ক্ষতিকর অণুজীবের বংশবিস্তার রোধ করে।

• লাইসোজাইমের কার্যকারিতা:
ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে উপস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে।

• লিপিড স্তরের সুরক্ষা:
- ত্বকের নিঃসৃত লিপিড পদার্থ অণুজীবের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে এবং দেহকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখে।
 
 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৫.
কোন প্রাণীর দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত থাকে?
  1. স্কাইফা
  2. অরেলিয়া
  3. মানুষ
  4. অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
স্কাইফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কাইফা
ব্যাখ্যা
- 'স্কাইফা' প্রাণীর দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত থাকে। 

ভ্রূণীয় স্তর: 

- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 

ক. একস্তরী প্রাণী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum) । 

খ. দ্বিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita) । 

গ. ত্রিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens) । 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৬.
প্রাণিদেহে আবরণী টিস্যু কয় ধরনের?
  1. ২ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
ব্যাখ্যা
প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ:

- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) আবরণী টিস্যু,
(খ) যোজক টিস্যু,
(গ) পেশি টিস্যু এবং
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু।

আবরণী টিস্যু: আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে। এ প্রকার টিস্যুর মাতৃকা থাকে না।
• কাজ- কোন অঙ্গের বা নালীর ভেতরের এবং বাইরের আবরণ তৈরি করে। ত্বকীয় টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শোষণ, ব্যাপন এবং পরিবহন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়। এটি রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জার্মিনাল টিস্যুতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

• প্রকারভেদ: কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী আবরণী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-

১. আঁইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু- এ প্রকার টিস্যুর কোষগুলো আঁইশের ন্যায় চ্যাপ্টা এবং নিউক্লিয়াস বড়। যেমন- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর।
কাজ- প্রধানত ছাঁকন এবং আবরণ সৃষ্টি।

২. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়। যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
কাজ- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

৩. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের ন্যায় সরু এবং লম্বা। যেমন- প্রাণীদের অন্ত্রে অন্তঃপ্রাচীর।
কাজ- প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ।



উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৩৭.
শ্বাসনালীর ভেতরে আবৃত প্রদাহকে কী বলে?
  1. ডিপথেরিয়া
  2. নিউমোনিয়া
  3. ব্রঙ্কাইটিস
  4. যক্ষ্মা
সঠিক উত্তর:
ব্রঙ্কাইটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রঙ্কাইটিস
ব্যাখ্যা
ব্রঙ্কাইটিস:

• ব্রঙ্কাইটিস হলো শ্বাসনালীর ভিতরে আবৃত ঝিল্লিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ ।
• শ্বাসনালী হলো ফুসফুসের সাথে বাইরের বাতাসের সংযোগকারী নল।
• ব্রঙ্কাইটিস তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
• অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া, ঠান্ডা লাগা এবং ধূমপান থেকে এ রোগ হতে পারে।

⮚ লক্ষণ:
• কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
• কাশির সাথে কফ থাকে।
• জ্বর হয়।
• শরীর ক্রমান্বয়ে দূর্বল হয়।

⮚ প্রতিকার:
• ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
• ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে ।


Image: Human Lung (Britannica) 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৩৮.
নিচের কোনটি বংশগতির প্রধান উপাদান?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. ক্রোমোজোম
  3. কোষ প্রাচীর
  4. প্লাস্টিড
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।

• ক্রোমোজোম:
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া বা ২ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
- ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো ডিএনএ (DNA) এবং প্রোটিন (হিস্টোন প্রোটিন)।
- ডিএনএ অণুর নির্দিষ্ট অংশকে জিন (Gene) বলা হয়, যা বংশগতির কার্যগত একক।

অন্যান্য অপশনসমূহ: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া: এটি কোষের শক্তি উৎপাদনকারী অঙ্গাণু বা 'পাওয়ার হাউস'। এটি বংশগতির প্রধান উপাদান নয়।
-কোষ প্রাচীর: এটি উদ্ভিদকোষের বাইরের শক্ত আবরণ যা কোষকে সুরক্ষা ও আকার দেয়। এর বংশগতিতে সরাসরি ভূমিকা নেই।
- প্লাস্টিড: এটি প্রধানত উদ্ভিদকোষে পাওয়া যায় এবং খাদ্য প্রস্তুত ও সঞ্চয় (যেমন ক্লোরোপ্লাস্ট, সালোকসংশ্লেষণে সাহায্যকারী) এর সঙ্গে যুক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৯.
বৃক্ক বিকল প্রতিকারের পন্থা নয় কোনটি?
  1. বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
  2. বৃক্ক প্রতিস্থাপন
  3. কম পরিমান পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
  4. ডায়ালাইসিস
সঠিক উত্তর:
বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
ব্যাখ্যা
• বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ বৃক্ক বিকল প্রতিকারের পন্থা নয়।

• বৃক্ক:

- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• বৃক্ক বিকল:
- রোগ-ব্যাধির কারণে বৃক্কের সক্ষমতা কমে যাওয়াকে বৃক্ক বিকল (kidney failure) বলে।
• বৃক্কের বৈকল্য দুই রকমের। যথা-
- দীর্ঘস্থায়ী (chronic), 
- তাৎক্ষণিক (acute) ।

• বৃক্ক বিকল প্রতিকারে করনীয়:
→ নিয়ন্ত্রিত আহার:
- কম পরিমাণ প্রোটিন ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ। 
- কম প্রোটিন গ্রহণ করলে কম ইউরিয়া তৈরি হবে যা বৃক্কের জন্য উপকারী হবে। 
- আহারের সময় কম লবণ গ্রহণ করা। 

→ ডায়ালাইসিস: নিয়ন্ত্রিত আহারের পরও যদি রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা বেশি হয় তাহলে ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা নিতে হবে। 

→ বৃক্ক প্রতিস্থাপন: যদি ডায়ালাইসিসে কাজ না হয় তাহলে সর্বশেষ চিকিৎসা হিসেবে বৃক্ক প্রতিস্থাপন করতে হবে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৬৪০.
রক্ত কোন ধরনের টিস্যু? 
  1. Cuboidal Epithelial Tissue
  2. Skeletal Connective Tissue 
  3. Fluid Connective Tissue
  4. Fibrous Connective Tissue
সঠিক উত্তর:
Fluid Connective Tissue
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fluid Connective Tissue
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
• লোহিত রক্তকণিকা, 
• শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
• অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪১.
ফুসফুসের প্রদাহকে কী বলে? 
  1. নেফ্রাইটিস
  2. নিউমোনিয়া
  3. হেপাটাইটিস
  4. ব্রঙ্কাইটিস
সঠিক উত্তর:
নিউমোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
নিউমোনিয়া ও ফুসফুস: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ হচ্ছে একজোড়া ফুসফুস (lungs)। বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুস আকারে বড়, তিন লোব বিশিষ্ট। 
- ফুসফুসের আবরণকে বলা হয়- প্লুরা। 
- ফুসফুসের প্রদাহকে নিউমোনিয়া বলে। 
- নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় মানবদেহের ফুসফুস। 
- নিউমোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- যকৃতের প্রদাহকে হেপাটাইটিস এবং কিডনির প্রদাহকে নেফ্রাইটিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪২.
লাইপেজ এনজাইম কোন ধরনের খাদ্য হজমে সাহায্য করে? 
  1. স্নেহ 
  2. খনিজ 
  3. প্রোটিন 
  4. শর্করা 
সঠিক উত্তর:
স্নেহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নেহ 
ব্যাখ্যা

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি; জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬৪৩.
রক্ত জমাট বাঁধায় কোন ধাতুর আয়ন সাহায্য করে?
  1. ক) সোডিয়াম
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) আয়রন
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
অণুচক্রিকা
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লেইটলেট (Platelet ) বলে। এগুলো গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা রড আকারের হতে পারে।
- এদের সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং সাইটোপ্লাজমে কোষ অঙ্গাণু- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অনেকের মতে, অণুচক্রিকাগুলো সম্পূর্ণ কোষ নয়; এগুলো অস্থিমজ্জার বৃহদাকার কোষের ছিন্ন অংশ।
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন।
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
- অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরো বেশি হয়।
- অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে (blood clotting) সাহায্য করা।
- যখন কোনো রক্তবাহিকা বা কোনো টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায়, তখন সেখানকার অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাসটিন (Thromboplastin) নামক পদার্থ তৈরি করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রমবিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে।
- থ্রমবিন পরবর্তী কালে রক্তরসের প্রোটিন- ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায়।
- ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে।
- এটি ক্ষত স্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।
- তবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াটি আরও জটিল, এ প্রক্রিয়ার জন্য আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম আয়ন জড়িত থাকে।  

উৎস
: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪৪.
মানবদেহে মূত্র তৈরির পদ্ধতি কতটি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
মানবদেহে মূত্র তৈরির পদ্ধতি:
- মানবদেহের বৃক্কে তিনটি পদ্ধতিতে মূত্র তৈরি হয়। যথা-
১) অতিসূক্ষ্ম পরিস্রাবন (ultrafiltration).
২) নির্বাচিত পুনঃশোষণ (Selective reabsorption).
৩) নালিকা কর্তৃক ক্ষরণ (Tubular secretion).

• অতিসূক্ষ্ম পরিস্রাবন:
- নেফ্রনের গ্লোমেরুলাস আল্ট্রাফিল্টার বা অতিসূক্ষ্ম পরিস্রাবন যন্ত্র হিসেবে কাজ করে।
- এ অংশে যে পরিস্রাবন কৌশল সংঘটিত হয় তা সাধারণ পরিস্রাবন থেকে আলাদা। এক্ষেত্রে পরিস্রাবন প্রক্রিয়াটি চাপ প্রয়োগের ফলে সম্পন্ন হয় বলে একে আল্ট্রাফিলট্রেশন বলে।

• নির্বাচিত পুনঃশোষণ:
- নিকটবর্তী প্যাচানো নালিকা দিয়ে পরিসুত তরল থেকে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় নানা উপাদান যেমন- গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফেট, ভিটামিন ইত্যাদি সক্রিয় পদ্ধতিতে পুনঃশোষিত হয়।

• নালিকা কর্তৃক ক্ষরণ:
- বিপাকে সৃষ্ট কিছু অপ্রয়োজনীয় উপজাত পদার্থ, যথা- ক্রিয়েটিনিন, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড, সেরোটোনিন ইত্যাদি নিকটবর্তী প্যাচানো নালিকার চারপাশে রক্তজালক থেকে সক্রিয় পরিবহনের মাধ্যমে গ্লোমেরুলার পরিস্রুতের সাথে যুক্ত হয় এবং মূত্রের সাথে অপসারিত হয়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৫.
মানুষের রক্তের শ্রেণীবিন্যাস করেন বিজ্ঞানী-
  1. ক) আইজাক নিউটন
  2. খ) কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার
  3. গ) টমাস আলভা এডিসন
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
সঠিক উত্তর:
খ) কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্ল ল্যান্ড স্টেইনার
ব্যাখ্যা
১৯০১ সালে বিজ্ঞানী কার্ল লেন্ড স্টেইনার মানুষের রক্তের শ্রেনিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O', এবং 'AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৬৪৬.
নিচের কোনটি অম্লীয় দ্রবণ নির্দেশ করে?
  1. pH > 7
  2. pH = 7
  3. pH < 7
  4. ক ও খ উভয়
সঠিক উত্তর:
pH < 7
উত্তর
সঠিক উত্তর:
pH < 7
ব্যাখ্যা

• pH < 7, দ্রবণের অম্লীয়তা নির্দেশ করে।

• pH স্কেল:
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়।
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। অর্থাৎ, pH = -log[H+]
-pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়।
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে।
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়।
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৭.
ডান ফুসফুস কতটি খণ্ডে বিভক্ত? 
  1. এক খণ্ডে
  2. দুই খণ্ডে
  3. তিন খণ্ডে
  4. চার খণ্ডে
সঠিক উত্তর:
তিন খণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন খণ্ডে
ব্যাখ্যা
ফুসফুস: 
- ফুসফুস শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- বক্ষগহ্ববরের ভেতর হৃদপিন্ডের দু'পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। 
- এটি স্পঞ্জের ন্যায় নরম ও কোমল, হালকা লালচে রঙের। 
- ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে ও বাম ফুসফুস দু'খণ্ডে বিভক্ত। 


- ফুসফুস দু'ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত।
- দু'ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোন ঘর্ষণ লাগে না। 
- ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। 
- বায়ু থলিগুলোই হলো অ্যালভিওলাস (Alveolus)। 
- বায়ুথলি পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত হয়, প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- এ বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকাগুলোর ভেতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৮.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কয়টি ক্রোমোজম থাকে?
  1. ৪০টি
  2. ৪২টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
৪৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজম:

- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু ।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোক্রোমোজমমোসোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৯.
হাইলামের মধ্য দিয়ে কোনটি বৃক্কে প্রবেশ করে? 
  1. ইউরেটার
  2. পেলভিস
  3. রেনাল ধমনি
  4. রেনাল শিরা
সঠিক উত্তর:
রেনাল ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেনাল ধমনি
ব্যাখ্যা
বৃক্কের বাহ্যিক গঠন: 
- প্রত্যেক বৃক্ক নিরেট, চাপা দেখতে অনেকটা শিম বীজ বা বাংলা "৫” সংখ্যার মতো এবং কালচে লাল রংয়ের। 
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থূলত্ব ৩ সেন্টিমিটার। 
- একেকটির ওজন পুরুষে ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং নারীদেহে ১৩০-১৫০ গ্রাম। 
- বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল ও ভিতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। 
- হাইলামের মধ্য দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বহির্গত হয় এবং রেনাল ধমনি ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- বৃক্কে প্রবেশকারী রেনাল শিরা দেহের সবচেয়ে বড় শিরা। 
- সম্পূর্ণ বৃক্ক ক্যাপসুল (capsule) নামক তন্তুময় যোজক টিস্যুর সুদৃঢ় আবরণে বেষ্টিত। 
- বৃক্কের অগ্রপ্রান্তে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (adrenal gland) টুপির মতো আচ্ছাদন তৈরি করে সংযুক্ত থাকে। 

বৃক্কের অন্তর্গঠন: 
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদে তিনটি সুস্পষ্ট অংশ দেখা যায়। 
যেমন- বাইরে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত গাঢ় অঞ্চলটি কর্টেক্স রেনাল ক্যাপসুল (cortex), মধ্যখানে হালকা লাল রঙের মেডুলা (medulla) এবং ভিতরে সাদাটে পেলভিস (pelvis)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৬৫০.
অস্থি বিন্যাস অনুযায়ী মানুষের অন্তঃকঙ্কালকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র:
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট অস্থি, তরুণাস্থি ও লিগামেন্ট এর সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টি করে, নির্দিষ্ট আকার আকৃতি দান করে, ভার বহন করে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদি সুরক্ষিত রাখে, তাদেরকে একত্রে কঙ্কালতন্ত্র বলে।
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্র ২০৬টি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত। 
- এ ধরনের কঙ্কালতন্ত্রকে অন্তঃকঙ্কাল বলে। কারণ বাইরে থেকে এ কঙ্কাল দেখা যায় না।
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। যথা— (১) অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton) (২) উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular skeleton) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫১.
জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগােট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলােচনা হয় কোথায়?
  1. ক) শারীরবিদ্যা (Physiology)
  2. খ) হিস্টোলজি (Histology)
  3. গ) ভ্রূণবিদ্যা (Embryology)
  4. ঘ) কোষবিদ্যা (Cytology)
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্রূণবিদ্যা (Embryology)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভ্রূণবিদ্যা (Embryology)
ব্যাখ্যা

শারীরবিদ্যাঃ জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালােকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলােচিত হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়।
হিস্টোলজিঃ জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলােচনা করা হয়।
ভ্রূণবিদ্যাঃ জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগােট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলােচনা এ শাখার প্রধান বিষয়।
(উৎসঃ ১ থেকে ৪০ নং সবগুলো প্রশ্নের ব্যাখ্যাই ৯ম- ১০ম শ্রেণির জীববিজ্ঞান থেকে নেয়া)

৬৫২.
মানবদেহের কোষে কত জোড়া অটোজোম থাকে?
  1. ক) ২০ জোড়া
  2. খ) ২১ জোড়া
  3. গ) ২২ জোড়া
  4. ঘ) ২৩ জোড়া
সঠিক উত্তর:
গ) ২২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২২ জোড়া
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে ক্রোমোজোমের সংখ্যা হলো ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি।
- এর মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোসোম এবং ২২ জোড়া বা ৪৪ টি থাকে অটোসোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই।
- বাকি এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম। যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬৫৩.
গুরুমস্তিস্ক বলা হয় কোনটিকে?
  1. সেরিব্রাম
  2. মেডুলা অবলংগাটা
  3. করোটি
  4. পনস
সঠিক উত্তর:
সেরিব্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেরিব্রাম
ব্যাখ্যা
• মস্তিস্কের সেরিব্রামকে গুরুমস্তিস্কও বলা হয়।

- মস্তিষ্কের মধ্যে অগ্রমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম সবচেয়ে বড়।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে করোটিকা বা খুলির মধ্যে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- করোটিকার ভেতরে মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা মস্তিষ্ক আবৃত থাকে।
- আমাদের সকল চিন্তা-ভাবনা এবং কার্যক্রম পরিচালিত হয় মস্তিষ্ক থেকে।
- অসংখ্য নিউরন এবং হরমোনের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কাজগুলো সম্পন্ন হয়।
- মস্তিষ্ক তিনটি অংশে বিভক্ত থাকে। যথা-
১. অগ্রমস্তিষ্ক(Forebrain or Prosencephalon),
২. মধ্যমস্তিষ্ক(Midbrain or Mesencephalon) ও
৩. পশ্চাৎমস্তিষ্ক(Hindbrain or Rhombencephalon)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৪.
মানুষের মস্তিষ্কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল কত?
  1. ক) ১/১০ সেকেন্ড
  2. খ) ১/১০০ সেকেন্ড
  3. গ) ১ সেকেন্ড
  4. ঘ) ১/১০০০ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
ক) ১/১০ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১/১০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
মানুষের মস্তিষ্কে মূল শব্দের অনুভূতি বা শব্দানুভূতির স্থায়িত্ব কাল বা শ্রুতি রেশ ০.১ সেকেন্ড বা ১/১০ সেকেন্ড।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫৫.
বিএমআই মতে, মোটা হওয়ার প্রথম স্তরের মান হিসেবে কোন মানটি বিবেচনা করা হয়?
  1. ২৫ - ২৯.৯
  2. ৩০ - ৩৪.৯
  3. ৩৫.০-৩৯.৯
  4. ১৮.৫ - ২৪.৯
সঠিক উত্তর:
৩০ - ৩৪.৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ - ৩৪.৯
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
     বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৬.
নিম্নের কোন জলজ প্রাণিটির ফুলকা নেই?
  1. স্কুইড
  2. তিমি
  3. অক্টোপাস
  4. ক্লাউন মাছ
সঠিক উত্তর:
তিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিমি
ব্যাখ্যা

তিমি ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাস নেয়, তাই তাদের ফুলকা নেই। 
- তিমি একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী, মাছ নয়।

জলজ প্রাণী:
- জলজ প্রাণী হলো এমন প্রাণী যেগুলো পানিতে বাস করে এবং সাধারণত পানির মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্য গ্রহণ এবং প্রজনন করে।
- উদাহরণ: মাছ, তিমি, অক্টোপাস, স্কুইড ইত্যাদি।

ফুলকা ব্যবহারকারী জলজ প্রাণী:
- ফুলকা হলো পাতলা পর্দাযুক্ত অঙ্গ, যেখানে পানির সংস্পর্শে আসার পর অক্সিজেন রক্তে প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড পানি থেকে বের হয়ে যায়।
- সাধারণত মাছ, অক্টোপাস, স্কুইড, ক্রাস্টেসিয়ান (যেমন কাঁকড়া) ইত্যাদি ফুলকা দিয়ে শ্বাস নেয়।

ফুসফুস ব্যবহারকারী জলজ প্রাণী:
- জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন তিমি, ডলফিন, সামুদ্রিক কচ্ছপ ইত্যাদি ফুসফুসের মাধ্যমে শ্বাস নেয়।
- এরা বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করে। এই প্রাণীরা শ্বাস নেওয়ার জন্য নিয়মিত পানির উপরে ভেসে ওঠে।
- তিমিরা তাদের ফুসফুসে বাতাস ধরে রেখে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে থাকে এবং যখন তাদের অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তখন তারা পানির উপরে ভেসে ওঠে এবং "ব্লোহোল" (blowhole) নামক নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস নেয়।

উল্লেখ্য-
- স্কুইড এবং অক্টোপাস উভয়ই Mollusca পর্বের Cephalopoda শ্রেণীর প্রাণী এবং এদের ফুলকা আছে, যা দিয়ে তারা পানি থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- ক্লাউন মাছ (Clownfish) একটি মাছ এবং মাছের শ্বাসযন্ত্র হিসেবে ফুলকা ব্যবহার করে।

উৎস: 
১। প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

৬৫৭.
শুক্রাশয় গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন কোনটি?
  1. অ্যাড্রানালিন
  2. অ্যান্ড্রোজেন
  3. রিলাক্সিন
  4. প্রোজেস্টেরন
সঠিক উত্তর:
অ্যান্ড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্ড্রোজেন
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোন: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশী বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে। দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোন গ্রন্থি গুলো হলো- পিটুইটারী গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি, অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি, শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি, ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি। 
• পিটুইটারী গ্রন্থি - এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো বৃদ্ধি উদ্দীপক হরমোন এবং উৎপাদক হরমোন।

• থাইরয়েড গ্রন্থি - এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো থাইরক্সিন হরমোন।

• অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি - এ গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো অ্যাড্রানালিন হরমোন।

• শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি - এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন ।
 
কাজ - শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায় ।

•ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি - এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং রিলাক্সিন।
কাজ - নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

 অমরা নিঃসৃত হরমোন হলো- গোনাডোট্রপিক এবং প্রোজেস্টেরন। 
কাজ- ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৮.
খাদ্য আহারের পর শর্করা পরিপাক হয়ে কীসে পরিণত হয়?
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) অ্যামিনো এসিড
  3. গ) ফ্যাটি এসিড
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ক) গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
শর্করা বা শ্বেতসার:
- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়।
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 

উৎস:
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে থাকে। 
- গ্লুকোজ, ল্যাকটোজ ও শ্বেতসার শর্করার বিভিন্ন রূপমাত্র।

প্রকারভেদ
- গঠন পদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এক শর্করা: এক অণুবিশিষ্ট শর্করা গ্লুকোজ। উৎস: মধু, ফলের রস।
- দ্বি-শর্করা: দু’অণুবিশিষ্ট শর্করা সুক্রোজ, ল্যাকটোজ। উৎস: চিনি ও দুধ।
- বহু শর্করা: বহু অণুবিশিষ্ট শর্করা শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন। উৎস: চাল, আটা, আলু, সবুজ পাতা, শাকসবজি।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৯.
ভার্টিব্রাল ধমনি দেহের কোন অঞ্চলে রক্ত সরবরাহ করে?
  1. বৃক্ক
  2. ডায়াফ্রাম
  3. পাকস্থলী 
  4. মেরুদণ্ড
সঠিক উত্তর:
মেরুদণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরুদণ্ড
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনি ও তার শাখাসমূহ: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনির শাখাগুলোর কাজ হলো বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত সরবরাহ করা। 
- প্রধান শাখাগুলোর রক্ত সরবরাহের অঞ্চলসমূহ হচ্ছে- 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬০.
বৃক্কের বাইরের আবরণ হিসেবে কোন ঝিল্লী থাকে? 
  1. পেরিটোনিয়াম
  2. মেনিনজিস
  3. প্লুরা
  4. পেরিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
পেরিটোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিটোনিয়াম
ব্যাখ্যা

• রেচন ও রেচনতন্ত্র: 
- প্রাণীদেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রকার জৈবিক (biological) বা শারীরবৃত্তীয় (physiological) কার্যাবলী সংঘটিত হয়। 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন (Excretion) বলে এবং যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র (Excretory system) বলে। 
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ। 

বৃক্কের গঠন ও কাজ (Structure and function of kidney): 
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ। 
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে। 
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়। 
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল। 
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত। এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে। 

অন্যদিকে, 
- মেনিনজিস: মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুকে আবৃত করে। 
- প্লুরা: ফুসফুস আবৃতকারী ঝিল্লী। 
- পেরিকার্ডিয়াম: হৃৎপিণ্ড আবৃতকারী ঝিল্লী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬১.
অ্যামিবা (Amoeba proteus) কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত? 
  1. স্তরবিহীন
  2. একস্তরী
  3. দ্বিস্তরী
  4. ত্রিস্তরী
সঠিক উত্তর:
স্তরবিহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্তরবিহীন
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
ক) একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ) দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ) ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ) স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬২.
একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে জিনগত পার্থক্যের ফলে যে বৈচিত্র্য দেখা যায়, তাকে কী বলা হয়?
  1. প্রাণিক বৈচিত্র্য
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  3. বংশগতীয় বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
বংশগতীয় বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বংশগতীয় বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর প্রাচুর্য এবং ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য (Biodiversity)। 

জীববৈচিত্র্যের প্রকারভেদ: 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity) এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity)। 

১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: 
- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে সাধারণত পৃথিবীতে বিরাজমান জীবগুলোর মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বুঝায়। 
- পৃথকযোগ্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতি ভিন্নতর হয়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা বৃদ্ধির ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নতাই প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 

২। বংশগতীয় বৈচিত্র্য: 
- একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যগণের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- একই প্রজাতি কিন্তু তাদের গড়ন, আকার, রোগ-প্রতিরোধ এবং পরিবেশ প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা ভিন্ন। এই পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। কারণ জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চারিত হয়। 
- প্রত্যেক বৈশিষ্ট্যের জন্য নির্দিষ্ট জিন থাকে। বিভিন্ন কারণে এই জিনের গঠন এবং বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হয় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে, তাকেই বলা হয় বংশগতীয় বৈচিত্র্য। 

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য: 
- একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান, রাসায়নিক উপাদান এবং জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। এসব পরিবর্তন অবশ্যই ধীর এবং ধারাবাহিক। এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। ফলে যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়, তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
- একটি ছোট পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যেসব উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 
- বন, তৃণভূমি, হ্রদ, নদী, জলাভূমি, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ এক একটি জীব সম্প্রদায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৩.
নিচের কোনটি মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয়?
  1. গ্লাইসিন
  2. ভ্যালিন
  3. লিউসিন
  4. থ্রিওনাইন
সঠিক উত্তর:
গ্লাইসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইসিন
ব্যাখ্যা
আমিষ: 

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। 
- এগুলো হলো:
• লাইসিন,
• ট্রিপেটোফ্যান,
• মিথিওনিন,
• ভ্যালিন,
• লিউসিন,
• আইসোলিউসিন,
• ফিনাইল অ্যালানিন ও
• থ্রিওনাইন। 

- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং ইত্যাদি সবগুলোই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৪.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ড্রাগ বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র অবৈধ মাদকদ্রব্য
  2. এমন পদার্থ যা গ্রহণে স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তন ঘটে
  3. কেবল নেশাজাতীয় দ্রব্য
  4. রোগ নিরাময়ের ওষুধ
সঠিক উত্তর:
এমন পদার্থ যা গ্রহণে স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তন ঘটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমন পদার্থ যা গ্রহণে স্বাভাবিক আচরণের পরিবর্তন ঘটে
ব্যাখ্যা

• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, ড্রাগ হলো এমন পদার্থ যা জীবিত প্রাণী গ্রহণ করলে তার এক বা একাধিক স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন ঘটে।

• মাদকাসক্তি (Drug Addiction):
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ড্রাগের একটি আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা দিয়েছে।
- WHO-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, ড্রাগ এমন পদার্থ যা গ্রহণ করলে জীবের স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন ঘটে।
- ড্রাগ মানেই সবসময় মাদক নয়, তবে সাধারণ ভাষায় ড্রাগকে মাদক বলা হয়।
- ড্রাগ গ্রহণের ফলে শারীরিক, মানসিক বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
 
• মাদকাসক্তি বা ড্রাগ নির্ভরতা:
- যখন কোনো ব্যক্তি ক্রমাগত ড্রাগ সেবন করে।
- তখন ড্রাগের সাথে তার একটি দৈহিক ও মানসিক সম্পর্ক তৈরি হয়।
- নিয়মিত ড্রাগ গ্রহণ না করলে সে ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়ে।
- এই অবস্থাকেই বলা হয় মাদকাসক্তি বা ড্রাগ নির্ভরতা।
 
• আসক্তি সৃষ্টি করে এমন উল্লেখযোগ্য ড্রাগ:
- বিড়ি ও সিগারেট,
- আফিম ও আফিমজাত পদার্থ,
- হেরোইন,
- মদ,
- পেথিড্রিন,
- বারবিচুরেট,
- কোকেন,
- ভাং, চরস ও ম্যারিজুয়ানা,
- এলএসডি।
- এদের মধ্যে হেরোইন একটি মারাত্মক ড্রাগ।
 
• ড্রাগে আসক্ত হওয়ার কারণ:
- কৌতূহল,
- সঙ্গদোষ,
- হতাশা দূর করার প্রচেষ্টা,
- মানসিক যন্ত্রণা ভুলে থাকার চেষ্টা,
- নিজেকে বেশি কার্যক্ষম মনে করার আকাঙ্ক্ষা,
- পারিবারিক অশান্তি থেকে মুক্তির ইচ্ছা,
- পারিবারিক অভ্যাসগত প্রভাব,
- বাবা বা মা মাদকে আসক্ত হলে সন্তানের আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- শুধুমাত্র অবৈধ মাদকদ্রব্য → WHO-এর সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
- কেবল নেশাজাতীয় দ্রব্য → ড্রাগের ব্যাপ্তি এর চেয়ে বেশি।
- রোগ নিরাময়ের ওষুধ → সব ওষুধ ড্রাগ হলেও সব ড্রাগ রোগ নিরাময়ের জন্য নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৬৬৫.
মশা দ্বারা সংক্রমিত রোগ নয় কোনটি?
  1. ক) ইনফ্লুয়েঞ্জা
  2. খ) ফাইলেরিয়া
  3. গ) পীতজ্বর
  4. ঘ) গোদ
সঠিক উত্তর:
ক) ইনফ্লুয়েঞ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইনফ্লুয়েঞ্জা
ব্যাখ্যা
- মশা এক প্রকার পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণী। অস্বাস্থ্যকর নোংরা পানিতে এরা জন্মায়। এনেফিলিস, কিউলেক্স ও অ্যাডিস এই তিন প্রকার মশা হয়ে থাকে।

- ফাইলেরিয়া রোগের সাধারণ নাম হলো গোদ। বিভিন্ন প্রজাতির কিউলেক্স মশকী এই রোগের বাহক। এ রোগের প্রধান লক্ষণ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ যেমন: হাত, পা ইত্যাদি ফুলে যাওয়া।

- পীতজ্বর ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি ব্যাধী। বিভিন্ন প্রজাতির অ্যাডিস মশকী এ রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস প্রাণীর দেহে সংক্রমিত করে। এ রোগে আক্রান্ত হলে প্রচন্ড জ্বর ও তাপের সাথে মাথায় যন্ত্রণা অনুভুত হয়। মুখ ফুলে যায় এবং মুখ লালচে রং ধারণ করে।

- ভাইরাস অতি সূক্ষ, কোষবিহীন রোগ সৃষ্টিকারী জীব। এরা পোষক জীবকোষে দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে থাকে। হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বসন্ত, এইডস প্রভৃতি নানাবিধ মারাত্মক রোগ বিভিন্ন ভাইরাস দিয়ে সংগঠিত হয়।

 সূত্র: পরিবেশ শিক্ষা-বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৬.
কুকুরের মুখে দাঁতের সংখ্যা কত?
  1. ক) ২৮
  2. খ) ৩২
  3. গ) ৪০
  4. ঘ) ৪৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪৪
ব্যাখ্যা
• কুকুরের দুই সেট দাঁত থাকে।
- তাদের চোয়ালের উপরে ২০টি এবং নীচে ২২টি দাঁত থাকে। 
- ২৮টি দাঁত ছয় থেকে আট সপ্তাহ বয়সের মধ্যে ফুটে ওঠে কুকুরছানার। 
- ছয় থেকে সাত মাস বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক কুকুরের ৪২টি দাঁত হয়।
- তবে কুকুর Chow Chow অন্য সব কুকুরের থেকে ভিন্ন। তাদের ৪৪টি দাঁত আছে। 

* অপশনে ৪২ না থাকায় কুকুরের মুখে দাঁতের সংখ্যা ৪৪টি সঠিক উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬৬৭.
পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা কত?
  1. ক) ৩ লিটার
  2. খ) ৫ লিটার
  3. গ) ৬ লিটার
  4. ঘ) ৮ লিটার
সঠিক উত্তর:
গ) ৬ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬ লিটার
ব্যাখ্যা
• পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তির ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার
ফুসফুস (Lungs): মানুষের হালকা গোলাপী বর্ণের স্পঞ্জের মত নরম দুটি ফুসফুস থাকে।
- বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুসটি আকারে বড় ও তিন লোব বিশিষ্ট।
- ফুসফুস দুই স্তর যুক্ত প্লিউরা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- ভেতরের পর্দাকে ভিসেরাল প্লিউরা এবং বাইরের পর্দাকে প্যারাইটাল প্লিউরা বলে।
- ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৮.
পিত্তের বর্ণের জন্য দায়ী-
  1. বিলিরুবিন
  2. জারক রস
  3. ভিটামিন
  4. পিত্তরস
সঠিক উত্তর:
বিলিরুবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলিরুবিন
ব্যাখ্যা
• বিলিরুবিন (Bilirubin):
- বিলিরুবিন (Bilirubin) হলো একটি পিগমেন্ট বা রঞ্জক পদার্থ, যা লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন ভাঙনের ফলে উৎপন্ন হয়।
- এটি প্রধানত যকৃত (লিভার) দ্বারা প্রক্রিয়াকরণ হয়ে পিত্তরসে (Bile) প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে নিঃসৃত হয়।
- বিলিরুবিনের উপস্থিতির কারণেই পিত্তরস হলুদ-সবুজ বর্ণ ধারণ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬৬৯.
যক্ষ্মা রোগের টিকা কোনটি?
  1. ডিপিটি
  2. টিটি
  3. এমএমআর
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা:

• যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।
• কারণ: সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।
• অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে অতি সহজে দেহে রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটে।
• লক্ষণ: 
- রোগীর ওজন কমতে থাকে, আস্তে আস্তে শরীর দুর্বল হতে থাকে।
- সাধারণত তিন সপ্তাহের বেশি সময় কাশি থাকে।
- খুসখুসে কাশি হয় এবং কখনো কখনো কাশির সাথে রক্ত যায়।
- রাতে ঘাম হয়, বিকেলের দিকে জ্বর আসে। দেহের তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়ে না।
- বুকে পিঠে ব্যথা হয়।
- অজীর্ণ ও পেটের পীড়া দেখা দেয়।

• যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা।
• টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
• ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।
• ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
• টিটি (Tetanus Toxoid) প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয় মায়েদের গর্ভাবস্থায় শিশুকে টিটেনাস রোগ থেকে রক্ষার জন্য।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং WHO এর ওয়েবসাইট।
৬৭০.
নিচের কোনটি ডেঙ্গু রোগের বিস্তার ঘটায় না?
  1. ক) স্ত্রী Anopheles মশকী
  2. খ) এডিস এজিপটাই
  3. গ) এডিস এলবোপিকটাস
  4. ঘ) ‘খ’ এবং ‘গ’ উভয়ই
  5. ঙ) উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) স্ত্রী Anopheles মশকী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্ত্রী Anopheles মশকী
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম স্ত্রী Anopheles মশকী। Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া এডিস এলবোপিকটাস মশার কামরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৬৭১.
ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তনালী
  2. খ) পৌষ্টিকনালী
  3. গ) হৃদপেশী
  4. ঘ) হাতের পেশী
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাতের পেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাতের পেশী
ব্যাখ্যা
মানুষের হাত এবং পায়ের পেশী ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ।

- মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন এবং অসংখ্য তন্তুর সমন্বয়ে গঠিত যে টিস্যু সংকোচন ও প্রসারণে সক্ষম তাকে পেশি বলে ।
- মানবদেহে পেশি যথাক্রমে তিন প্রকার । ১) কঙ্কাল পেশী ২) হৃদ পেশী ৩) মসৃণ পেশী।

- পেশির কাজসমূহ- 
১) দেহের নির্দিষ্ট আকার গঠন করা।
২) শক্তি সংরক্ষন করা।
৩) হৃদপেশী দেহে রক্ত সঞ্চালনে সহয়তা করে।
৪) দেহের অঙ্গগুলিকে রক্ষা করা।
৫) দেহের আকৃতি দান করা ও অস্থি চলাচলে সহায়তা করা।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৭২.
কোন জাতীয় খাদ্যের কারণে মুত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়?
  1. প্রোটিন
  2. লিপিড
  3. কার্বোহাইড্রেট
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের কারণে মুত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।

• রেচন পদার্থ:
- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়।
- মানবদেহের রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।
- স্বাভাবিক মূত্রের ভর হিসেবে প্রায় 95% হলো পানি।
- অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ।
- ইউরোক্রোম নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়।
- আমিষ-জাতীয় খাদ্য খেলে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।
- আবার ফলমূল এবং তরিতরকারি খেলে সাধারণত ক্ষারীয় মূত্র তৈরি হয়।

• বৃক্ক (Kidney):
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবিচির মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ এবং কাজ করার একককে নেফ্রন বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৩.
চিকুনগুনিয়া রোগের ভ্যাকসিন কোনটি?
  1. কনভিডেসিয়া
  2. ইক্সচিক
  3. পিসিভি
  4. কোভিশিল্ড
সঠিক উত্তর:
ইক্সচিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইক্সচিক
ব্যাখ্যা
চিকুনগুনিয়া ভ্যাকসিন
- মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বিশ্বে প্রথম টিকা অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।
- বিশ্বে অনুমোদন দেওয়া টিকাটির নাম ‘ইক্সচিক’।
- চিকুনগুনিয়া মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। এ রোগের উপসর্গ হল জ্বর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা।
-  ‘ইক্সচিক’ নামের এই টিকা তৈরি করেছে ইউরোপের ভালনেভা সংস্থা। 
- চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হলে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অনেক জ্বর আসে। এছাড়াও থাকে গাঁটে গাঁটে প্রচণ্ড ব্যথা।
- আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকা মহাদেশে এ রোগের প্রকোপ দেখা যায়। মূলত গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে বেশি।

সূত্র- বিবিসি। 
৬৭৪.
বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুলে কোন ধরনের টিস্যু বিদ্যমান?
  1. ক) Cuboidal Epithelial Tissue
  2. খ) Squamous Epithelial Tissue
  3. গ) Columnar Epithelial Tissue
  4. ঘ) None of the above
সঠিক উত্তর:
খ) Squamous Epithelial Tissue
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Squamous Epithelial Tissue
ব্যাখ্যা

বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুলে স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু বিদ্যমান।

এ ধরনের টিস্যুগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপ্টা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। এ টিস্যু প্রধানত আবরণ ছাড়াও ছাঁকনির কাজ করে থাকে।
কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যুগুলো ঘনাকার অর্থাৎ, কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। এই টিস্যু প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণী কাজে লিপ্ত থাকে।
কলামনার আবরণী টিস্যুগুলো দেখতে স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। যেমন- প্রাণীর অন্ত্রের অন্ত্রপ্রাচীরের কোষগুলো প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ এর কাজ করে থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৬৭৫.
রক্তরসে বিদ্যমান জৈব পদার্থ কোনটি?
  1. ক) পানি
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

- রক্তরসের দুইটি প্রধান উপাদান হলো পানি এবং কঠিন পদার্থ। কঠিন পদার্থ জৈব এবং অজৈব উভয় ধরনের হতে পারে।
- লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, তামা, ফসফরাস ইত্যাদি হলো অজৈব পদার্থ।
- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, বিলিরুবিন, হরমোন ইত্যাদি রক্তরসে বিদ্যমান জৈব পদার্থ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৭৬.
আয়োডিন প্রধানত কোন উপাদানে সবচেয়ে বেশি থাকে? 
  1. আপেল 
  2. গাজর 
  3. সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
  4. বাদাম
সঠিক উত্তর:
সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

খনিজ লবণ: 
- দেহ কোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যক। 
- মানব দেহে Ca, Fe, S, Zn, Na, K, I ইত্যাদি খনিজ লবণ থাকে। 
- এগুলো খাদ্য ও মানব দেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব ও অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসব্জি, লাল শাক, কঁচু শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম। 
- কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কঁচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, বাদাম, ডাল হতে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস ও খাবার লবণে ক্লোরিন থাকে। 
- সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস ও শ্যাওলায় আয়োডিন থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৭.
এককোষী জীবের উদাহরণ কোনটি? 
  1. ব্যাঙ 
  2. মানুষ 
  3. ব্যাকটেরিয়া 
  4. বৃক্ষ 
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া 
ব্যাখ্যা

জীবের বৈশিষ্ট্য: 
- জীবদেহ জীবকোষ (Cell) দ্বারা গঠিত। 
- ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা ইত্যাদি জীব মাত্র একটি কোষ দ্বারা গঠিত, তাই এরা এককোষী (Unicellular) জীব। 
- বৃক্ষ, গুল্ম, পশু-পাখি, মানুষ প্রভৃতি জীব অসংখ্য জীবকোষ দ্বারা গঠিত, তাই এরা বহুকোষী (Multicellular) জীব। 
- জীবকোষে সজীব প্রোটোপ্লাজম থাকে। 
- নিউক্লিয়াসসহ অন্যান্য কোষাঙ্গাণু প্রোটোপ্লাজমে অবস্থান করে। তাই প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি বলা হয়। 
- জড়বস্তু কোন জীবকোষ দ্বারা গঠিত নয় এবং জড়বস্তুতে কোন প্রোটোপ্লাজম নেই। 
- জীবের বংশবৃদ্ধির (Reproduction) তথা শিশু জীব জন্ম দেয়ার ক্ষমতা থাকে যা জড়বস্তুতে নেই। 
-  জীবদেহে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় (Physiological) কার্যকলাপ, যেমন- শ্বসন, পরিপাক, বৃদ্ধি, উত্তেজনায় সাড়া দেয়া, পরিবেশের সাথে অভিযোজন ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- জড় বস্তুতে কোন শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ ঘটে না। 
- জীবের মৃত্যু আছে, জড় বস্তুর মৃত্যু নেই। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৮.
কোনটি  জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ?
  1. Cycas
  2. Pinus
  3. Netum
  4. Royal Plam
সঠিক উত্তর:
Cycas
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cycas
ব্যাখ্যা

• জীবন্ত জীবাশ্ম বা “living fossil” হলো এমন উদ্ভিদ বা প্রাণী যা পৃথিবীতে বহু মিলিয়ন বছর ধরে কম পরিবর্তিত অবস্থায় টিকে আছে। এই প্রজাতিগুলি প্রায় প্রাচীন রূপে বর্তমানেও বিদ্যমান থাকে। প্রশ্নে যে চারটি উদ্ভিদ উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে Cycas জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। Cycas উদ্ভিদটি প্রায় ২ কোটি বছরের বেশি সময় ধরে পৃথিবীতে রয়েছে এবং এর গঠন ও জীবনচক্র প্রায় অপ্রচলিত অবস্থায় রয়ে গেছে। অন্যদিকে Pinus, Netum এবং Royal Palm তুলনামূলকভাবে আধুনিক উদ্ভিদ এবং জীবন্ত জীবাশ্মের সংজ্ঞায় পড়ে না। তাই প্রাচীন গঠন ও ইতিহাসের কারণে Cycas পরিচিত জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে।

• জীবন্ত জীবাশ্ম :
- বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

• Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ:
- এটি Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত।
- এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদি কালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
- Cycadales বর্গের সদস্যদেরকে সাইকাড্স বলে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৯.
'স্ট্রোক' আকস্মিক অজ্ঞান বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে- এটি কী?
  1. হৃৎপিণ্ডের সজোরে সংকোচন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
  2. মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা
  3. হৃৎপিণ্ডের অংশবিশেষের অসাড়তা
  4. ফুসফুসে হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা
ব্যাখ্যা
• মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধার ফলে স্ট্রোক হয়। যাতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যা একটি রক্ত সঞ্চালনের জনিত একটি রোগ।

• স্ট্রোক:
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক বলা হয়।

• স্ট্রোকের কারণ:
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে।
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন: উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়।
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে।

• লক্ষণ:
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা,
- ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া,
- কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া,
- মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া,
- শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া,
- মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি।

• প্রতিরোধের উপায়:
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা,
- যারা উচ্চ রক্ত চাপে ভুগছেন তা নিয়ন্ত্রণে রাখা,
- যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তা নিয়ন্ত্রণে রাখা,
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুন্দর ও সাধারণ জীবন যাপনকরা,
- সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৮০.
কোন খাদ্য উপাদানটিতে স্নেহ পদার্থ থাকে না?
  1. ভুট্টার তেল
  2. ডিমের কুসুম
  3. ঘি
  4. ডিমের সাদা অংশ
সঠিক উত্তর:
ডিমের সাদা অংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিমের সাদা অংশ
ব্যাখ্যা
• ডিমের সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। 

• স্নেহ:
- সুষম খাদ্য উপাদানের মধ্যে স্নেহ একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন দিয়ে তৈরি এই উপাদানটির মুখ্য কাজ হলো তাপ উৎপাদন করা।
- শর্করা ও আমিষের তুলনায় চর্বিতে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি থাকে।

• উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের, যথা
- উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ এবং
- প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।

→ উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ:
- উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থের মধ্যে সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখী এবং ভুট্টার তেল ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম।

→ প্রাণিজ স্নেহপদার্থ:
- চর্বি, ঘি ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।
- ডিমের কুসুমে স্নেহপদার্থ থাকে কিন্তু সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬৮১.
‘ORS’ ব্যবহৃত হয় —
  1. গ্যাস দূর করতে
  2. পানিশূন্যতা রোধে
  3. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
  4. হজম বাড়াতে
সঠিক উত্তর:
পানিশূন্যতা রোধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিশূন্যতা রোধে
ব্যাখ্যা
• পানিশূন্যতা হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন দেহে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও লবণের ঘাটতি ঘটে। 

এর কারন
- ডায়রিয়া (পাতলা পায়খানা)
- বমি
- অতিরিক্ত ঘাম
- জ্বর
- অল্প পানি পান করা

ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য। 
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।

ORS-এ থাকা উপাদান
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড)
- গ্লুকোজ
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড
-সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট। 

এই উপাদানগুলো শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF)। 
৬৮২.
What vitamin is not naturally present in significant amounts in eggs and milk?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin D
  3. Vitamin B12
  4. Vitamin C
  5. Vitamin K
সঠিক উত্তর:
Vitamin C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin C
ব্যাখ্যা
• ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি ছাড়া সকল ভিটামিন রয়েছে।  
 
- ভিটামিন ‘এ’ : দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদি।
 
- ভিটামিন ‘বি’: ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম,
শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদি।

- ভিটামিন ‘সি’: পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস,
কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদি।

- ভিটামিন ‘ডি’: ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।
 
- উপরে উল্লিখিত সকল খাবার হতে ভিটামিন ‘ই’ ও ভিটামিন ‘কে’ পাওয়া যায়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৩.
সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোম কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
চার প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার প্রকার
ব্যাখ্যা
- বংশগতি বস্তুর মুখ্য উপাদান হলো ক্রোমোসোম।
- প্রজাতির বৈশিষ্ট্য অনুসারে প্রত্যেক কোষের নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে।
- ক্রোমোসোমের আকার সাধারণত লম্বা। ক্রোমোসোমে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
- এ সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোম চার প্রকার। যথা- মধ্যকেন্দ্রিক, উপ মধ্যকেন্দ্রিক, উপ প্রান্তকেন্দ্রিক এবং প্রান্তকেন্দ্রিক।
- ক্রোমোসোমের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে-
(১) নিউক্লিক অ্যাসিড,
(২) প্রোটিন এবং
(৩) অন্যান্য উপাদান।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৪.
মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড কয়টি?
  1. ২০টি
  2. ১৬টি
  3. ৮টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
• অ্যামাইনো এসিড:
- অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। আমিষ পরিপাক হওয়ার পর তা অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- দেহগঠনে আমিষ সহায়তা করে থাকে।
- এ পর্যন্ত আমাদের শরীরে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড আবিষ্কৃত হয়েছে।
- এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ৮টি।
এগুলো হলো:
- লাইসিন
- ট্রিপেটোফ্যান
- মিথিওনিন
- ভ্যালিন
- লিউসিন
- আইসোলিউসিন
- ফিনাইল অ্যালানিন ও
- থ্রিওনাইন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
৬৮৫.
সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের প্রাথমিক উৎপাদক কারা?
  1. ছোট মাছ
  2. ফাইটোপ্ল্যাংকটন
  3. জুপ্ল্যাংকটন
  4. সামুদ্রিক শৈবাল
সঠিক উত্তর:
ফাইটোপ্ল্যাংকটন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাইটোপ্ল্যাংকটন
ব্যাখ্যা
◉  ফাইটোপ্ল্যাংকটন হলো অণুজীবীয় জলজ উদ্ভিদ, যা সূর্যালোক ব্যবহার করে প্রকাশ-সংস্লেষণ (Photosynthesis) করে খাদ্য তৈরি করে।
- এরা সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের প্রাথমিক উৎপাদক, কারণ তারা নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে এবং খাদ্যশৃঙ্খলের পরবর্তী স্তরের জন্য শক্তি সরবরাহ করে।
- জুপ্ল্যাংকটন, ফাইটোপ্ল্যাংকটন খেয়ে বেঁচে থাকে।

বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 

উৎপাদক :
উৎপাদক হচ্ছে পুকুরে বসবাসকারী সালোকসংশ্লেষণকারী বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব। পানিতে ভাসমান জীবদেরকে প্লাঙ্কটন (plankton) বলে। প্লাঙ্কটন জাতীয় ক্ষুদ্র উদ্ভিদকে উদ্ভিদ প্লাঙ্কটন বা ফাইটোপ্লাঙ্কটন (phytoplankton) বলে। এ ছাড়া পানিতে অবস্থিত সবুজ শেওলা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে, এ সমস্ত উদ্ভিদকে উৎপাদক বলে ।

প্রথম স্তরের খাদক :
পানিতে ভাসমান বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্রাকার পোকা, মশার শুককীট, প্রাণি প্লাঙ্কটন (zoo plankton) ইত্যাদি প্রথম স্তরের খাদক হিসেবে কাজ করে। এ সমস্ত খাদক নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না এবং সরাসরি উৎপাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ।

দ্বিতীয় স্তরের খাদক :
এরা প্রথম স্তরের খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ছোট ছোট মাছ, জলজ পতঙ্গ, চিংড়ি, ব্যাঙ প্রভৃতি দ্বিতীয় স্তরের খাদকের অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয় স্তরের খাদক :
শোল, বোয়াল, ভেটকি প্রভৃতি বড় আকারের মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি তৃতীয় স্তরের খাদক। এরা দ্বিতীয় স্তরের খাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।

বিয়োজক : 
পুকুরের পানিতে ভাসমান অথবা নিচের কাদায় বিভিন্ন ধরনের অনুজীব (যেমন : ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস ইত্যাদি) বাস করে, এদেরকে বিয়োজক জীব বলা হয়। এরা জীবিত বা মৃত খাদক প্রাণিদের আক্রমণ করে ও পচন ঘটায়, ফলে উৎপাদকের রাসায়নিক পদার্থের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৬.
কোলাজেন কী?
  1. একটি কার্বোহাইড্রেট
  2. একটি প্রোটিন
  3. একটি লিপিড
  4. একটি নিউক্লিক এসিড
সঠিক উত্তর:
একটি প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি প্রোটিন
ব্যাখ্যা
- কোলাজেন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন যা আমাদের ত্বক, চুল, নখ এবং সংযোগকারী টিস্যুগুলির গঠন প্রদান করে।
- আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোলাজেনের উৎপাদন কমে যায়, যার ফলে বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দেয় যেমন বলিরেখা এবং সূক্ষ্ম রেখা।
- কোলাজেন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা তারুণ্য এবং স্বাস্থ্যকর ত্বক বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য।
- মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যেসব প্রোটিন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তার মধ্যে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য।
- রান্না করলে উত্তাপে প্রোটিন জমাট বাঁধে, পেশির কোলাজেন, ইলাস্টিন ইত্যাদি নরম হয়ে জিলাটিনে পরিণত হয়। প্রোটিনের এই রূপান্তর পরিপাকে সাহায্য করে।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
৬৮৭.
জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম-
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) জিন
  3. গ) লোকাস
  4. ঘ) নার্ভ
সঠিক উত্তর:
খ) জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জিন
ব্যাখ্যা

- জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন।
- এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে।
- ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে লোকাস বলে।
- সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে।
- আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন গবেষণার তত্ত্ব থেকে জানা গেছে জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৬৮৮.
প্রকৃতিতে কত ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখতে পাওয়া যায়?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
সঠিক উত্তর:
তিন ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন ধরনের
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখতে পাওয়া যায়।

• প্রাণী-বৈচিত্র্য:
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে।
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়।
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়। যথা-
১. জিনগত বৈচিত্র্য:
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- উদাহরণ: মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।

২. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য:
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে।
- উদাহরণ: রয়েল বেঙ্গল টাইগার  ও সিংহ একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়।
- উদাহরণ: তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৯.
বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক -
  1. ক্রোমোজোম
  2. জিন
  3. ডিএনএ
  4. আরএনএ
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
 
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোসোম। 
- ক্রোমোসোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়। 
- ক্রোমোসোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক। 
- ক্রোমোসোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯০.
নিচের কোনটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী?
  1. প্রজাপতি
  2. মাছ
  3. ব্যাঙ 
  4. মানুষ
সঠিক উত্তর:
প্রজাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাপতি
ব্যাখ্যা

- প্রজাপতি একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী কারণ এর কোনো মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া নেই। 

প্রাণিজগৎ: 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এই কোষগুলোতে প্লাস্টিড থাকে না, তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 
- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

২। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৬৯১.
কোন অঙ্গে O2 এবং CO2 এর বিনিময় ঘটে?
  1. ব্রঙ্কিউল
  2. ব্রঙ্কাস
  3. ট্রাকিয়া
  4. অ্যালভিওলাস
সঠিক উত্তর:
অ্যালভিওলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালভিওলাস
ব্যাখ্যা
অ্যালভিওলাসের গঠন: 
- ফুসফুসে স্কোয়ামাস এপিথেলিয় কোষে গঠিত ও কৈশিক-জালিকাসমৃদ্ধ প্রকোষ্ঠের মতো গ্যাসীয় বিনিময় তলকে অ্যালভিওলাস (বহুবচনে-অ্যালভিওলাই) বলে।
- মানুষের ফুসফুসে প্রায় ৭০-৯০ বর্গমিটার আয়তনের তল জুড়ে ৭০০ মিলিয়ন (৭০ কোটি)-এরও বেশি সংখ্যক অ্যালভিওলাই রয়েছে। 
- প্রত্যেক অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা, মাত্র ০.১µm পুরু, এর বহির্দেশ ঘন কৈশিকজালিকা-সমৃদ্ধ। 
- কৈশিকনালিকাগুলো পালমোনারি ধমনি থেকে সৃষ্টি হয় পরে পুনর্মিলিত হয়ে পালমোনারি শিরা গঠন করে। 
- প্রাচীরটি আর্দ্র স্কোয়ামাস (আঁইশাকার) এপিথেলিয়াম নির্মিত। 
- এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তুও রয়েছে। 
- শ্বসনের সময় সংকোচন-প্রসারণ সহজতর হয়। 

- অ্যালভিওলাস-প্রাচীরের কিছু বিশেষ কোষ প্রাচীরের অন্তঃতলে ডিটারজেন্ট (detergent)-এর মতো রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে, যে পদার্থকে সারফেকট্যান্ট (surfactant) বলে। 
- এ পদার্থ অ্যালভিওলাস-প্রাচীরের তরল পদার্থের পৃষ্ঠটান (surface tension) কমিয়ে দেয়, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ফুসফুস কম পরিশ্রমে সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে। 
- এ পদার্থ বাতাস ও অ্যালভিওলাস-প্রাচীর সংলগ্ন তরল পদার্থে O2 ও CO2-এর দ্রুত বিনিময়ে সাহায্য করে। 
- এ পদার্থ অ্যালভিওলাসে আগত জীবাণুও (ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে। 
- ২৩ সপ্তাহ বয়স্ক মানবভ্রূণে সর্বপ্রথম সারফেকট্যান্ট ক্ষরণ শুরু হয়। 
- এ কারণে ২৪ সপ্তাহের আগে মানবভ্রূণকে স্বাধীন অস্তিত্বের অধিকারী গণ্য করা হয় না। 
- অনেক দেশে তাই এ সময়কাল পর্যন্ত গর্ভপাতের অনুমতি দেয়া হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৬৯২.
জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ অঞ্চলকে কী বলে?
  1. Flora
  2. Fauna
  3. Red List
  4. Hotspot
সঠিক উত্তর:
Hotspot
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hotspot
ব্যাখ্যা
হটস্পট:

- পৃথিবীর যে সকল অঞ্চল বা এলাকা জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সেইসব অঞ্চলকে জীববৈচিত্র্যের হটস্পট বলে।
- ১৯৮৮ সালে ড. সাবিনা ভির্ক সর্বপ্রথম হটস্পট শব্দটি প্রথম প্রচলন করেন।
- মায়ার্সের মতে, বর্তমান পৃথিবীতে সর্বাধিক ৩৪টি হটস্পট রয়েছে।
- ব্রিটানিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৩৬টি জীববৈচিত্র্যের হট স্পট রয়েছে। 
- ব্রাজিলের আটলান্টিক উপকূলবর্তী বনাঞ্চল, মাদাগাস্কার দ্বীপ, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপসমূহে উল্লেখযোগ্য হটস্পট রয়েছে।
- এছাড়াও উল্লেখযোগ্য জীববৈচিত্র্যের হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ব হিমালয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, মাইক্রোনেশিয়া, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম আফ্রিকা, মালয়েশিয়ান উপদ্বীপ, মাদাগাস্কার, ইকুয়েডর, পেরু, কলম্বিয়া, আমাজোনিয়া ইত্যাদি।
- আফ্রিকার কঙ্গো, নাইজার ও জাম্বেসী নদী অববাহিকার গভীর অরণ্যে সর্বাধিক জীববৈচিত্র্য দেখা যায়। 
- জীবকূলের ভিন্নতা এবং জটিল প্রতিবেশগত পরিবেশ জীবমণ্ডলকে একক (unique), ও উৎপাদনশীল বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। জীববৈচিত্র্যতার ভিন্নতাও (Biodiversity varities) পৃথিবীকে সুন্দর এবং বাসযোগ্য রাখে।


অন্যদিকে, 
- Flora বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল উদ্ভিদকে।
- Fauna বলতে বুঝায় পৃথিবীর সকল প্রাণীকে।

উৎস: বিবিএ প্রোগ্রাম, পরিবেশ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 
৬৯৩.
রিকেটস রোগের প্রধান কারণ কী?
  1. ভিটামিন A-এর অভাব
  2. ভিটামিন B-এর অভাব
  3. ভিটামিন D-এর অভাব
  4. ভিটামিন K-এর অভাব
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন D-এর অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন D-এর অভাব
ব্যাখ্যা

• রোগ: রিকেটস,
- মূল কারণ: ভিটামিন D-এর অভাব,
- প্রধান প্রভাব: হাড় দুর্বল ও বেঁকে যাওয়া,
- প্রতিরোধ: সূর্যালোক ও ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাদ্য।

• রিকেটস (Rickets):
- রিকেটস কোনো ভাইরাসজনিত বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়।
- ভিটামিন D-এর অভাবে এ রোগ হয়ে থাকে।
- দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের শোষণ, দাঁত ও হাড়ের গঠনসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ভিটামিন D অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

• ভিটামিন D-এর উৎস:
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙরের তেলে প্রচুর ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা কোলেস্টেরল থেকেও ভিটামিন D তৈরি হয়।
- তবে ভিটামিন D তৈরির শেষ ধাপটি সম্পন্ন হয় কিডনিতে।

• রিকেটস রোগের লক্ষণ:
- দেহের হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া।
- শিশুদের হাঁটা শেখার সময় গিট খুলে যাওয়া।
- হাড় বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া।
- অনেক ক্ষেত্রে দেহের কাঠামো ঠিক না থাকা।
- হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া ও কবজি সরু হয়ে যাওয়া।

• প্রতিরোধ ও করণীয়:
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
- চোখ ও জনসম্মুখ থেকে রক্ষা করে শিশুকে কিছু সময় রোদে রাখা উচিত।
- সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন D তৈরি হয়।
- সারাদিন শিশুকে ঘরের ভেতরে রাখা বা শরীর সম্পূর্ণ ঢেকে রাখলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায় না।
- এর ফলে ভিটামিন D-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং রিকেটস রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৬৯৪.
কোন রোগে মাড়ি দিয়ে রক্ত ও পুঁজ পড়ে?
  1. স্কার্ভি
  2. রিকেট
  3. ম্যানিনজাইটিস
  4. বেরিবেরি
সঠিক উত্তর:
স্কার্ভি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কার্ভি
ব্যাখ্যা
এসকরবিক এসিডের অভাবজনিত অবস্থা: 
১। ভিটামিন সি এর দীর্ঘদিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। 
- স্কার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি ফুলে স্পঞ্জের মতো হয়ে যায়, রক্তক্ষরণ হয়, গোড়া আলগা ও নরম হয়ে যায়, অনেক সময় দাঁত পড়ে যায়। 
২। ত্বক খসখসে হয়, ফুসকুড়ি ওঠে এবং ত্বক চুলকায়। 
৩। অস্থি দুর্বল হয় ও অস্থি সন্ধিতে বা গাঁটে ব্যথা হয়, অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়। 
৪। লৌহের পরিশোষণ ব্যাহত হয় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। 
৬। রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 
৭। ক্ষধামন্দা অলসতা খিটখিটে মেজাজ পরিলক্ষিত হয়। 

অন্যদিকে, 
- রিকেট রোগটি ভিটামিন D এর অভাবে হয় এবং এটি হাড়ের দুর্বলতার সাথে সম্পর্কিত।
- ম্যানিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক ও মস্তিষ্কের চারপাশের মেমব্রেনের প্রদাহজনিত রোগ, এটি মাড়ির সমস্যার সাথে সম্পর্কিত নয়।
- বেরিবেরি হলো ভিটামিন B1 (থায়ামিন) এর অভাবে হওয়া একটি রোগ, যা প্রধানত স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করে।

উৎস: গার্হস্থ্যবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৫.
শ্বেত রক্তকোষে কোন পদার্থ নেই? 
  1. প্রোটিন 
  2. DNA 
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. নিউক্লিয়াস 
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্তকোষ বা লিউকোসাইট: 
- শ্বেত কোষের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই, এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কোষের গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকোষ, ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- শ্বেত কোষের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এটি জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- শ্বেত কোষগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে দ্রুত শ্বেত কোষের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকোষ থাকে। 
- অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা সাধারণত বেড়ে যায়। 
- শ্বেত রক্ত কোষে DNA থাকে। 
- শ্বেত রক্তকণিকায় প্রোটিন থাকে, কারণ এগুলো কোষের অংশ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯৬.
ডিমের সাদা অংশে স্নেহ জাতীয় পদার্থের পরিমাণ -
  1. ক) ১১-১৩%
  2. খ) ৭-৯%
  3. গ) ২-৩%
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- ডিমের সাদা অংশে ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় পদার্থের পরিমাণ প্রায় ০%
- ডিমের সাদা অংশে 'অ্যালবুমিন' নামক প্রোটিন থাকে।
- ডিমের প্রোটিনের পঞ্চাশ শতাংশই অ্যালবুমিন।
- এছাড়াও ডিমের কুসুমে আয়রন, ভিটামিন বি-২, বি-১২ এবং ডি রয়েছে। 



Source: Britannica & healthline.com
৬৯৭.
শারীরবৃত্তীয় বিপাকে ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে কী বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়? 
  1. সালফার
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই–অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
রেচনতন্ত্র (Excretory system): 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯৮.
রক্তের কোন কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে?
  1. প্লাজমায়
  2. রক্তরসে
  3. লোহিত রক্ত কণিকায়
  4. শ্বেত রক্ত কণিকায়
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকায়
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে যার ফলে রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা - 
• খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায়। এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
• রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন-ডাই অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়।
• দেহের মধ্যে সর্বদাই দহন ক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
• নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে। এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
• রক্তের শ্বেত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
• দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
• রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দূষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৯.
নিচের কোনটি মেরুদন্ডী প্রাণী?
  1. মানুষ
  2. হাইড্রা
  3. তারা মাছ
  4. কাঁকড়া
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
মেরুদণ্ডী প্রাণী:
- প্রাণীজগতে কর্ডাটা পর্বের প্রাণীরা মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে পরিচিত।
- এদের ভ্রূণীয় দশায় নটোকর্ড থাকে। 
মেরুদণ্ডের উপস্থিতিতে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- 
ক। মেরুদণ্ডহীন প্রাণী- যে সকল প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই তাদেরকে মেরুদণ্ডহীন প্রাণী বলে।
যেমন- হাইড্রা, তারা মাছ, সমুদ্র শশা, কাঁকড়া ইত্যাদি।
খ। মেরুদণ্ডী প্রাণী- যে সকল প্রাণীর মেরুদণ্ড রয়েছে তাদেরকে মেরদণ্ডী প্রাণী বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, সি হর্স্‌ ইত্যাদি।


উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
৭০০.
উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ নয় কোনটি?
  1. বাদাম তেল
  2. ডালডা
  3. সয়াবিন তেল
  4. ভুট্টার তেল
সঠিক উত্তর:
ডালডা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডালডা
ব্যাখ্যা
• স্নেহ:
- সুষম খাদ্য উপাদানের মধ্যে স্নেহ একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন দিয়ে তৈরি এই উপাদানটির মুখ্য কাজ হলো তাপ উৎপাদন করা। 
- শর্করা ও আমিষের তুলনায় চর্বিতে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি থাকে। 

উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের, যথা
- উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ এবং
- প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।

⇒ উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ:
-উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থের মধ্যে সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখী এবং ভুট্টার তেল ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
-ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম।

⇒ প্রাণিজ স্নেহপদার্থ:
- চর্বি, ঘি, ডালডা ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।

অর্থাৎ ডালডা উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ নয়, বরং প্রাণিজ স্নেহপদার্থ। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।