উত্তর
ব্যাখ্যা
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৫ / ২৩ · ৪০১–৫০০ / ২,২২৭
জীববিজ্ঞানের Morphology শাখায় জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয়।
দেহের বাহ্যিক অংশগুলোর বর্ণনাকে External Morphology এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে Internal Morphology বলে।
Taxonomy শাখায় জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
জীবদেহের টিস্যুর গঠন, বিন্যাস, এবং কার্যাবলী Histology শাখায় আলোচনা করা হয়।
জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রুনের সৃষ্টি এবং বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
আমিষ বা প্রোটিন:
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়।
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার।
যথা-
১। প্রাণিজ আমিষ:
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ।
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে।
২। উদ্ভিজ আমিষ:
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ।
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- প্রোটিনের বিশেষ একটি প্রাকৃতিক ধরনের কোড নাম P-49 নামে পরিচিত, যা দেহের জটিল জৈবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি মোচাকৃতির অঙ্গ।
- এটা পেরিকার্ডিয়াম নামে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত।
- হৃৎপিণ্ড হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত, হৃৎপেশি এক ধরনের স্বাধীন অনৈচ্ছিক পেশি, যা কারো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিজে নিজেই সংকোচন ও প্রসারণে সক্ষম।
- প্রতি মিনিটে কম বেশি ৭২ বার হৃৎপিণ্ড সংকোচিত ও প্রসারিত হয়।
- হৃৎপিণ্ড তিন সতরে গঠিত।
যথা- ক. বাইরের স্তর বা এপিকার্ডিয়াম খ. মাঝের স্তর বা মায়োকার্ডিয়াম এবং গ. ভিতরের স্তর বা এন্ডোকার্ডিয়াম।
- এদের মধ্যে মায়োকার্ডিয়ামই সবচেয়ে পুরু এবং এর সংকোচনের কারণে হৃৎপিণ্ড পাম্প করে রক্ত সঞ্চালন করে।
- হৃৎপিণ্ড একটি চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফাঁপা অঙ্গ।
- হৃৎপিণ্ডের উপরের প্রকোষ্ঠ দুটির নাম ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয়।
- অলিন্দে প্রাচীর পাতলা ও নিলয়ের প্রাচীর পুরু থাকে, বাম নিলয়ের প্রাচীর অধিকতর পুরু থাকে।
- অলিন্দ ও নিলয় দুটি আলাদা প্রাচীর দ্বারা পৃথক থাকে, আয়তনে অলিন্দগুলো নিলয়ের চেয়ে আকারে ছোটো হয়।
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে ডান অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র থাকে, ঐ ছিদ্রপথে তিন কপাট বিশিষ্ট কপাটিকা থাকে। রক্ত এ ছিদ্রপথে অলিন্দ থেকে নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে।
- অনুরূপভাবে বাম অলিন্দ ও নিলয়ের দুই কপাট বিশিষ্ট মাঝে কপাটিকা থাকে, এক্ষেত্রেও বাম অলিন্দ থেকে রক্ত কেবল মাত্র নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে।
- এছাড়া মহাধমনি ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে ও ফুসফুসীয় ধমনি এবং ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকা রয়েছে, এ কপাটিকাগুলো রক্তের গতিপথ একদিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
• পালমোনারি শিরা হলো একটি ব্যতিক্রমী শিরা, যা ফুসফুস থেকে গ্যাসীয় আদান-প্রদান শেষে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দে পরিবহন করে।
• শিরা:
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে।
- পালমোনারি শিরা এই নিয়মের ব্যতিক্রম এবং এটিই মানবদেহের একমাত্র শিরা যা বিশুদ্ধ বা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে।
- এই অক্সিজেনযুক্ত রক্তই পরে বাম নিলয় থেকে মহাধমনীর মাধ্যমে সারা দেহে সঞ্চালিত হয়।
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়।
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়।
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে।
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে।
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়।
• ধমনি:
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artery) বলে।
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট।
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়।
- ধমনির স্পন্দন আছে।
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriole) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়।
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়।
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery, CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে।
উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবক্লেভিয়াল ধমনি:
- মানবদেহের প্রতি পাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে।
যেমন-
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে।
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে।
• ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে।
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে।
• ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে।
• সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে।
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে।
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের (যেমন: হাইড্রা) বিশেষ এক ধরণের কোষ থাকে যাকে 'নিডোসাইট' বলা হয়। এই কোষের অভ্যন্তরে নিমাটোসিস্ট নামক একটি বিষাক্ত অঙ্গাণু থাকে। এটি হিপনোটক্সিন নামক বিষের সাহায্যে শিকারকে অবশ করে খাদ্য গ্রহণে এবং শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।
• নিডারিয়া (Cnidaria):
- প্রাণিজগতের প্রধান পর্বসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো নিডারিয়া (Cnidaria) ।
- নিডারিয়া বলতে ডিপ্লোব্লাস্টিক (Diploblastic) প্রাণী অর্থাৎ দ্বিস্তর ভ্রূণ বিশিষ্ট প্রাণিদের কে বোঝায়।
- এদের অধিকাংশই সামুদ্রিক, কিছু স্বাদুপানির বাসিন্দা।
• নিডারিয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য:
- প্রাণীগুলো সামান্য টিস্যু মাত্রার (tissue grade) বহুকোষী ও অরীয় প্রতিসম প্রাণী।
- দেহপ্রাচীর দ্বিস্তরী কোষযুক্ত বা ডিপ্লোব্লাসটিক (diploblastic); বাইরের স্তরটি এপিডার্মিস এবং ভিতরের স্তর এন্ডোডার্মিস বা গ্যাস্ট্রোডার্মিস নামে পরিচিত।
- উভয় স্তরের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে আঠালো জেলির মতো অকোষীয় মেসোগ্লিয়া (mesoglea)।
- নেমাটোটিস্ট ধারণকারী নিডোসাইট (cnidocyte) নামক বিশেষ ধরনের কোষ উপস্থিত। কর্ষিকায় এগুলো সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
- নিডারিয়ানদের দংশন অঙ্গাণু (stinging organelles) হচ্ছে নেমোটোটিস্ট। প্রাণী এর সাহায্যে আত্মরক্ষা, খাদ্য গ্রহণ ও দেহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করে।
- দেহাভ্যন্তরে সিলেন্টেরন (coelenteron) নামে একমাত্র পরিপাক সংবহন গহ্বর (gastro- vuscular cavity) থাকে যা একটি ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত। ছিদ্রটি মুখ ও পায়ুর কাজ করে।
- খাদ্যবস্তু বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় উভয়ভাবেই পরিপাক হয় ।
- অনেক প্রজাতি বহুরূপীতা প্রদর্শন করে।
উল্লেখ্য:
- ফ্ল্যাজেলা: অন্ত্রের ভেতরে থাকে; পরিপাকে ও খাদ্য সঞ্চালনে সাহায্য করে।
- সিলিয়া: সূক্ষ্ম রোম সদৃশ; সংবেদী উদ্দীপনা গ্রহণে কাজ করে।
- মেসোগ্লিয়া: অকোষীয় স্তর; এটি দেহের কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে এবং পেশি সংযোগ দেয়।
তথ্যসূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
- গ্রিক বিজ্ঞানী এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- কোষবিদ্যার জনক রবার্ট হুক।
- শারীরবিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে।
অ্যান্টিবডি (Antibody):
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ।
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে।
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে।
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু।
অ্যান্টিবডির প্রকার:
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়।
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE।
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা, কারণ সচেতনতার মাধ্যমে নিরাপদ যৌন অভ্যাস (যেমন-কনডম ব্যবহার), জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।
এইডস রোগ:
- এইডস (AIDS) একটি সংক্রামক রোগ যা সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় এই রোগ চিহ্নিত হয়। তখন থেকেই এটি একটি মরণব্যাধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
- প্রাকৃতিকভাবে মানুষের শরীরে রোগজীবাণু প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকে, যা ইমিউনিটি হিসেবে পরিচিত।
- HIV (Human Immunodeficiency Viruses) ভাইরাসটি AIDS রোগ সৃষ্টি করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। এই HIV ভাইরাস যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন এটি রক্তের T-লিম্ফোসাইট (শ্বেত রক্তকণিকা) আক্রমণ করে, ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়।
- HIV সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, তবে এই সময়েই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে।
- এইডস সংক্রমিত হয় প্রধানত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে, তবে মায়ের বুকের দুধ বা রক্ত সঞ্চালন বা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে এটিতে সংক্রমণ হতে পারে।
- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
হৃদপিণ্ডের আবরণ:
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত।
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে।
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াম হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর:
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট।
যেমন -
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।
খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- Ornithology শাখায় পাখি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Ichthyology শাখায় মৎসবিদ্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Herpetology শাখায় সরীসৃপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Conchology শাখায় কম্বোজ প্রাণী বা Mollusca পর্বভুক্ত প্রাণী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
মানবদেহে এইচআইভি এর আক্রমণে এইডস রােগ হয়।
এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকনিকা ধ্বংস হয়। ফলে দেহের রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা লােপ পায়।
এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায়ে হলাে এইডস। মানব দেহে এইচআইভি ভাইরাস প্রবেশ করার ৬ মাস থেকে ১০ বছরের মধ্যে শরীরে এইডসের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এইডস রােগের কোন নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই।
হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প।
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত।
- হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি উপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে।
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে।
- উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যেটি হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।
- উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম নিলয় ( Ventricles) বলে। - দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল।
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে।
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে। ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• DNA অনুতে অনুপস্থিত - ইউরাসিল।
• জীবকোষে দুই প্রকার নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে। এদের একটি DNA এবং অপরটি হলো RNA ।
• নিউক্লিক অ্যাসিডে দুই প্রকার নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে। নাইট্রোজেন, কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে এই ক্ষরকসমূহ গঠিত। ক্ষারকগুলো এক রিং বিশিষ্ট বা দুই রিং বিশিষ্ট হতে পারে।
• এই রিং এর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ক্ষারক দুই প্রকার;
যথা-
(i) পিউরিন:
- দুই রিং বিশিষ্ট ক্ষারককে বলা হয় পিউরিন। । নিউক্লিক অ্যাসিডে দুই প্রকার পিউরিন ক্ষারক থাকে।
যথা-
- অ্যাডিনিন ( A )
- গুয়ানিন ( G )
(ii) পাইরিমিডিন:
- এক রিং বিশিষ্ট ক্ষারক কে বলা হয় পাইরিমিডিন। নিউক্লিক অ্যাসিডে তিন প্রকার পাইরমিডিন ক্ষারক থাকে।
যথা-
- থাইমিন ( T )
- সাইটোসিন ( C )
- ইউরাসিল ( U )
• ক্ষারকগুলোর মাঝে থাইমিন উপস্থিত থাকে কেবল DNA তে এবং ইউরাসিল উপস্থিত থাকে কেবল RNA তে।
অর্থাৎ নাইট্রোজেন ক্ষারক গুলোর মধ্যে ইউরাসিল DNA তে অনুপস্থিত থাকে।
তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
ক্লোনিং পদ্ধতি:
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত।
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়।
যথা-
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে।
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে।
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়।
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে।
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
উচ্চ রক্তচাপ (High blood pressure or hypertension): উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে গণ্য করা হয়। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপাের্টে বলা হয়েছে 2020 সালের মধ্যে স্ট্রোক ও করােনরি ধমনির রােগ হবে বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলােতে এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়বে মহামারী আকারে। হৃদ্রােগ এবং স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হলাে উচ্চ রক্তচাপ।
উচ্চ রক্তচাপ কী? রক্ত চলাচলের সময় রক্তনালিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। আর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্তচাপকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত সিস্টোলিক চাপ ১২০ মিলিমিটার পারদের নিচে এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মিলিমিটার পারদের নিচের মাত্রাকে কাক্ষিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয়। আর এই রক্তচাপ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয় তখনই আমরা তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে থাকি।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান
- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica) দেহ শুধুমাত্র একটি কোষ নিয়ে গঠিত।
কোষের ভিত্তিতে প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস:
- কোষের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১। এককোষী প্রাণী:
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী প্রাণী বলে।
যেমন- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica)।
২। বহুকোষী প্রাণী:
- যে সকল প্রাণীর দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে বহুকোষী প্রাণী বলে।
যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris)।
অন্যদিকে,
- প্রজাপতি একটি জটিল বহুকোষী প্রাণী।
- ব্যাঙ একটি বহুকোষী প্রাণী, যার উন্নত অঙ্গ ও তন্ত্র রয়েছে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।
পাচক রস গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি নামে পরিচিত।
গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি পাকস্থলীর প্রাচীরে থাকে।
এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস (ট্রিপসিন, লাইপেজ, এমাইলেজ) গ্যাস্ট্রিক রস বা, পাচক রস নামে পরিচিত।
যকৃৎ এর ইংরেজি হচ্ছে Liver. একে আবার কলিজাও বলা হয়। শরীরের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হচ্ছে যকৃৎ। এটি পরিপাকতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর রং লালচে খয়েরি।
মানুষের দেহে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি আছে। দুই কানের সামনে ও নিচে এক জোড়া চোয়ালের নিচে একজোড়া এবং চিবুকের নিচে একজোড়া রয়েছে।
অগ্নাশয় পাকস্থলীর পেছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। ইহা বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।
সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)।
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে।
- রক্তকোষ তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)।
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
জেমস ডি. ওয়াটসন (James D. Watson) এবং ফ্রান্সিস ক্রিক (Francis Crick) ১৯৫৩ সালে DNA-এর ডাবল হেলিক্স গঠন আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কারের মাধ্যমে জিনের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া বোঝা সম্ভব হয়।
- ১৯৬২ সালে নোবেল পুরস্কার ওয়াটসন, ক্রিক ও মরিস উইলকিনস কে দেয়া হয় Physiology or Medicine ক্ষেত্রে।
অপরদিকে,
চার্লস ডারউইন: বিবর্তন তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন।
গ্রেগর মেন্ডেল: বীজানুতত্ত্বের (Genetics) মৌলিক নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন।
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: পেনিসিলিন আবিষ্কার করেছিলেন।
তথ্যসূত্র:NCTB জীববিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]
অপশনটা হবে, মানব দেহের কোষ বা জীব কোষ। যাইহোক, উত্তর ঠিক আছে।
আদিকোষঃ
এ ধরনের কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম থাকে।
ক্রোমােজোমে কেবল DNA থাকে।
নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।
প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell):
এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত।
এসব কোষে রাইবােজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। ক্রোমােজোমে DNA, প্রােটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়।
সঠিক উত্তর - গ) vit - C
ভিটামিন শোষণ (Absorption of Vitamins):
• চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন
- চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন গুলো হচ্ছে A, D, E, K।
- এগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ে শোষিত হয়।
- সাধারণ পিত্তলবণ এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
• পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন
- পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন C ও কয়েক প্রকার B ভিটামিন।
- ব্যাপন ও সক্রিয় শোষণ প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়াম অংশে শোষিত হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
সিলিয়াযুক্ত আবরণী টিস্যু বিদ্যমান মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্বাসনালীর প্রাচীরে।
হাইড্রার এন্ডোডার্ম এ রয়েছে ফ্লাজেলাযুক্ত আবরণী টিস্যু।
হাইড্রার এন্ডোডার্ম ও মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অন্ত্রে ক্ষণপদযুক্ত আবরণী টিস্যু রয়েছে।
শুক্রানু এবং ডিম্বাণুতে জনন অঙ্গের আবরণী টিস্যু রয়েছে। এরা প্রজননে অংশগ্রহণ করে প্রজাতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে।
সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
হৃদপিন্ড:
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃদপিন্ড।
- এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।
- মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান নিলয় নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃদপিন্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ড এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
অণুচক্রিকা:
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- অণুচক্রিকা মূলত অস্থিমজ্জার মধ্যে উৎপন্ন হয়।
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন।
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ডায়াস্টোল বলতে হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলোর শিথিলকরণ বা প্রসারণের পর্যায়কে বোঝায়, যে সময়ে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলি রক্তে পূর্ণ হয়। এই পর্যায় চলাকালীন ধমনীতে রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, যা ডায়াস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত।
হৃৎপিণ্ড (Heart):
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা।
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে।
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সিস্টোল (Systole) হলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়।
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়।
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত।
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে।
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
পৃথিবীতে যত প্রকার তরল পদার্থ পাওয়া যায়, পানি তার মধ্যে সবচেয়ে সহজলভ্য।
মানবদেহে শতকরা ৬০-৭৫% ভাগ পানি।
মাছ, মাংস, শাক-সবজি প্রভৃতিতে শতকরা ৬০-৯০ ভাগ পানি থাকে।
পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৭৫ ভাগই পানি দ্বারা গঠিত।
লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, এর মধ্যে ব্যবহার উপযোগী পানি মাত্র শতকরা ১ ভাগ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। পৃষ্ঠা - ৩৫।
উল্লেখ্য, জীববিজ্ঞান বোর্ড বই ২০২০ অনুসারে, ৫০ - ৬৫%।
মূল পরীক্ষায় অপশন দেখে নিজের বিবেচনা থেকে উত্তর করবেন।
Annelida (অ্যানিলিডা):
- ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী ল্যামার্ক (Lamarck) উন্নত খণ্ডায়িত প্রাণীদের অ্যানিলিডা (ল্যাটিন, annulus/annelus = little ring ছোট আংটি + eidos = form রূপ) নামে চিহ্নিত করেন।
বৈশিষ্ট্য:
- দেহ লম্বা, নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পরপর রৈখিকভাবে সজ্জিত।
- দেহে প্রকৃত সিলোম বিদ্যমান, দেহত্বক কাইটিনবিহীন পাতলা ও নমনীয় কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
- সিটা বা প্যারাপোডিয়া চলনে সাহায্য করে।
- নেফ্রিডিয়ার মাধ্যমে রেচন ঘটে, রেচনাঙ্গ খণ্ডে খণ্ডে সজ্জিত থাকে।
- পৌষ্টিকনালী নলাকার ও সম্পূর্ণ (মুখ পায়ু ছিদ্র সমন্বিত)।
- রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির, রক্তের বর্ণ লাল।
- পরোক্ষ পরিস্ফুটনের ক্ষেত্রে মুক্ত সন্তরণক্ষম ট্রোকোফোর নামক লার্ভার বিকাশ ঘটে।
- উভলিঙ্গ সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ পরিস্ফুটন ঘটে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অযৌন জনন ঘটে থাকে।
উদাহরণ: Hirudo medicinalis (জোক), Metaphire posthuma (কেঁচো)।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• শ্বেত রক্তকণিকা দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা দেহে প্রবেশ করা জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকর কণার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুকে শনাক্ত করে তার দিকে অগ্রসর হয় এবং একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে গ্রাস করে ধ্বংস করে। এই প্রক্রিয়াটির নাম ফ্যাগোসাইটোসিস। ফ্যাগোসাইটোসিসে শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে নিজের ভেতরে নিয়ে যায় এবং এনজাইমের সাহায্যে তাকে ভেঙে ফেলে। ফটোসিন্থেসিস উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া, অসমোসিস ও ডিফিউশন হলো পদার্থ পরিবহনের প্রক্রিয়া, কিন্তু জীবাণু গ্রাস করার কাজটি শুধুমাত্র ফ্যাগোসাইটোসিসের মাধ্যমেই হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) ফ্যাগোসাইটোসিস।
শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এইগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে এই কণিকাকে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম।
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে।
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা
মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন:-
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।
২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০- ৩০,০০০ হয়।
৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।
সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
আমাশয় রোগটি ব্যাকটেরিয়া কিংবা পরজীবী উভয় কারণে হতে পারে। দূষিত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
তাই বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ ও বিশুদ্ধ পানি পানের মাধ্যমে আমাশয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
• আয়োডিনের প্রাপ্তির জন্য সবচেয়ে কার্যকর উৎস হল সামুদ্রিক উদ্ভিদ। এটি কারণ, সমুদ্রের পানিতে আয়োডিন প্রচুর পরিমাণে থাকে, এবং সামুদ্রিক উদ্ভিদ যেমন শৈবাল, কেল্প ইত্যাদি এই আয়োডিন শোষণ করে। মানুষ যখন এই উদ্ভিদ খায়, তখন সহজেই প্রয়োজনীয় আয়োডিন শরীরে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে, বাদাম, শাকসবজি বা ডালে আয়োডিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুব কম থাকে, তাই এগুলি আয়োডিনের প্রধান উৎস হিসেবে যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণ জরুরি, কারণ এটি থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে সাহায্য করে। তাই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হিসেবে সামুদ্রিক উদ্ভিদকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
খনিজ লবণ (Mineral salts):
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে।
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে।
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান।
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস।
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে।
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়।
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে।
- আয়োডিনের ভালো উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, এমিবা ইত্যাদি এককোষী জীবে এমাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে বংশবৃদ্ধি করে।
যে কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।
মাইটোসিস: এই কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত বা সুকেন্দ্রিক কোষ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। মাইটোসিসে নিউক্লিয়সি একবার বিভাজিত হয়, প্রায় সমানভাবে। | নিউক্লিয়াসের প্রতিটি ক্রোমাজোমও একবার করে বিভাজিত হয়। সাইটোপ্লাজমও বিভাজিত হয় একবারই। তাই মাইটোসিস বিভাজনে কোষের মাতৃকোষ এবং অপত্য কোষে ক্রোমাজোম সংখ্যা, তথা DNA-এর পরিমাণ সমান থাকে। শুধু যে পরিমাণে একই থাকে তা নয়, মাতৃকোষের DNA-এর প্রায় হুবহু অনুলিপি অপত্য কোষে পাওয়া যায়। একে সমীকরণিক বিভাজনও বলে।
মিয়সিস: মিয়সিস বিভাজনের এক চক্রে নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজিত হয়। প্রথমবারে নিউক্লিয়াসের ক্রোমাজোম পরিমাণে অর্ধেক হয়ে যায়। এই বিভাজনে মাতৃকোষের যে দুটি নিউক্লিয়াস পাওয়া যায়, দ্বিতীয়বারে তার প্রতিটিই আবার দুটি কোষে বিভাজিত হয়।
সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান
- পাখি সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ornithology বলে।
- মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ichthyology বলে।
- উভচর ও সরীসৃপ বিষয়ক বিদ্যাকে Herpetology বলে।
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে।
উৎসঃ প্রাণিবিদ্যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।