বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ২২ / ২৩ · ২,১০১২,২০০ / ২,২২৭

২,১০১.
গলবিল থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত বিস্তৃত নালিটির নাম
  1. ক) বৃহদন্ত্র
  2. খ) ক্ষুদ্রান্ত্র
  3. গ) অন্ননালি
  4. ঘ) কৈশিক নালি
সঠিক উত্তর:
গ) অন্ননালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্ননালি
ব্যাখ্যা
গলবিল থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত বিস্তৃত নালিটির নাম অন্ননালি। খাদ্যবস্তু এই নালির মধ্যে দিয়ে পাকস্থলীতে পৌছে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
২,১০২.
ভিটামিনসমূহ কোন ধরনের পদার্থ?
  1. পানি 
  2. খনিজ লবণ 
  3. জৈব রাসায়নিক পদার্থ 
  4. অজৈব রাসায়নিক পদার্থ 
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক পদার্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক পদার্থ 
ব্যাখ্যা

খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: 
- খাদ্যে শর্করা, আমিষ, স্নেহ পদার্থ, খনিজ লবণ ছাড়াও আরও এক প্রকার সূক্ষ্ম জাতীয় উপাদানের প্রয়োজন যা খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন। 
- এই খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিনের অভাবে শরীর নানা রোগে (যেমন- রাতকানা, বেরিবেরি, স্কার্ভি ইত্যাদি) আক্রান্ত হয়।
- ভিটামিন বলতে খাদ্যের ঐ সব জৈব রাসায়নিক পদার্থকে বুঝায় যা খাদ্যে সামান্য পরিমাণে উপস্থিত থাকে
- ভিটামিনসমূহ প্রত্যক্ষভাবে দেহ গঠনে অংশগ্রহণ না করলেও এদের অভাবে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন বা তাপশক্তি উৎপাদন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্রিয়াগুলো সুসম্পন্ন হতে পারে না। 

ভিটামিনের প্রকারভেদ: 
- দ্রবণীয়তার গুণ অনুসারে ভিটামিনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. স্নেহ জাতীয় পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন: যেমন- ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, এবং ভিটামিন কে। 
২. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: যেমন- ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি। 

ভিটামিনের উৎস: 
- গাছের সবুজ পাতা, কচি ডগা, হলুদ ও সবুজ বর্ণের সবজি, ফল ও বীজ ইত্যাদি অংশে ভিটামিন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২,১০৩.
হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণের নাম-
  1. পেরিকন্ড্রিয়াম
  2. পেরিঅস্ট্রিয়াম
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. প্লুরা
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃদপিণ্ড: 

- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
- আর হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি। যথা-
• এপিকার্ডিয়াম,
• মায়োকার্ডিয়াম ও
• এন্ডোকার্ডিয়াম।

- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।
- অস্থির আবরণের নাম: পেরিঅস্ট্রিয়াম।
- তরূণাস্থির আবরণের নাম: পেরিকন্ড্রিয়াম। 
- ফুসফুসের আবরণের নাম: প্লুরা। 

Image Source: কালের কণ্ঠ পত্রিকা
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১০৪.
মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁতের সংখ্যা কত? 
  1. ১৬ 
  2. ২০ 
  3. ২৪ 
  4. ২৮ 
সঠিক উত্তর:
২০ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ 
ব্যাখ্যা

দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধ দাঁতের সংখ্যা ২০টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন- 
১। কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
২। ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
৩। অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
৪। পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 

- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৮ টি কর্তন দাঁত, ৪ টি ছেদন দাঁত, ৮ টি অগ্রপেষণ দাঁত, ৮ টি পেষণ দাঁত এবং ০-৪ টি আক্কেল দাঁত থাকে। 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
১। মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ, 
২। মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
৩।  গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১০৫.
গর্ভাবস্থায় অমরা (placenta) অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বহন করে কোন অ্যান্টিবডি?
  1. IgA
  2. IgM
  3. IgE
  4. IgG
সঠিক উত্তর:
IgG
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IgG
ব্যাখ্যা

IgG হলো একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে। যা নবজাতকের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অ্যান্টিবডি:
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে।
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু।
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট।
- লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ।
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়।
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে।
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে।

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ:
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), ε-(epsilon) এবং δ-(delta)।
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। যেমন-

১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA |
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে।
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেহে স্থানান্তরিত হয়।

২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD):
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে IgD ।
- রক্ত, লসিকা ও লিম্ফোসাইট B-কোষে এ lg পাওয়া যায়।
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে।

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE):
- দেহের মোট ।g-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE।
- এটি দুর্লভ Ig।
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়।
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে।

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG):
- দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG |
- রক্ত, লসিকা, অন্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে।
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে।
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে।

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM):
- দেহের মোট IG-এর ৫-১০% IgM ।
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের।
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়।
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়।
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

২,১০৬.
ইনসুলিন হরমোন কোন অঙ্গ থেকে নির্গত হয়? 
  1. থাইরয়েড
  2. লিভার 
  3. প্যানক্রিয়াস
  4. কিডনি
সঠিক উত্তর:
প্যানক্রিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যানক্রিয়াস
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১০৭.
ইনসুলিন কোন অঙ্গের কোন কোষ থেকে নিঃসৃত হয়?
  1. অগ্ন্যাশয়ের α কোষ
  2. অগ্ন্যাশয়ের β কোষ
  3. যকৃৎ কোষ 
  4. হাড়ের মজ্জার কোষ 
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়ের β কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়ের β কোষ
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা (β) কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১০৮.
মানুষের মধ্যে র‍্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণ কোন রোগ ঘটায়?
  1. নিউমোনিয়া
  2. জলাতঙ্ক
  3. ডেঙ্গু
  4. গুটিবসন্ত
সঠিক উত্তর:
জলাতঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাতঙ্ক
ব্যাখ্যা

• মানুষের মধ্যে র‍্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণ জলাতঙ্ক (Rabies) রোগ ঘটায়। এই রোগ সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা লালা মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। ভাইরাস কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে, যার ফলে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, এবং অস্বাভাবিক উদ্দীপনা দেখা দেয়। পরে রোগীর মধ্যে জলের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা (hydrophobia), চিৎকার, প্রচণ্ড উদ্দীপনা, এবং বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। যদি সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, জলাতঙ্ক প্রায়শই মারাত্মক হয়ে যায়। তাই আক্রান্ত প্রাণীর কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত টিকা এবং চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

- সঠিক উত্তর: খ) জলাতঙ্ক।

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১০৯.
অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে কয়ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৬
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৩
সঠিক উত্তর:
গ) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২
ব্যাখ্যা
কোষের প্রকারভেদ:

- অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- 
- দেহ কোষ।
- জনন কোষ।
• দেহ কোষ,
- যে সকল কোষ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে তাদেরকে বলা হয় দেহ কোষ। যেমন— পেশি কোষ, জাইলেম কোষ ইত্যাদি।
- দেহ কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার দ্বিগুণ থাকে। তাই দেহ কোষকে ডিপ্লয়েড (2n) কোষ বলা হয়।
জনন কোষ,
-  জীব দেহের যে সকল কোষ জনন কার্যে অংশ নেয় তাদেরকে বলা হয় জনন কোষ। জনন কোষ কেবল মাত্র যৌন জননক্ষম জীবে সৃষ্টি হয়। যেমন- শুক্রাণু, ডিম্বাণু, পরাগরেণু ইত্যাদি।
- জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক। তাই জনন কোষকে হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ বলা হয়।

অন্যদিকে,
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
আদি কোষ।
প্রকৃত কোষ। 

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১০.
নিচের কোন প্রাণীর দেহে কখনোই নটোকর্ড থাকে না?
  1. অ্যাসিডিয়া
  2. ঘাস ফড়িং
  3. অ্যাম্ফিঅক্সাস
  4. সোনাব্যাঙ
সঠিক উত্তর:
ঘাস ফড়িং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘাস ফড়িং
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন দেহের পৃষ্ঠ-মধ্যরেখা বরাবর অবস্থিত কিছুটা নমনীয়, স্থিতিস্থাপক ও ছিদ্রযুক্ত টিস্যুর দণ্ডকে নটোকর্ড বলে।
- যেসব প্রাণীর দেহে কখনোই নটোকর্ড থাকে না তাদের ননকর্ডেট বলে। যেমনঃ কেঁচো, ঘাসফড়িং ইত্যাদি।
- যেসব প্রাণীর দেহে আজীবন বা শুধু ভ্রূণ অবস্থায় নটোকর্ড থাকে তাদের কর্ডেট বলে৷ যেমনঃ অ্যাসিডিয়া, অ্যাম্ফিঅক্সাস, ল্যাং ফিশ, মানুষ, পাখি, সোনাব্যাঙ ইত্যাদি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,১১১.
মনেরাকে ব্যাকটেরিয়া রাজ্য হিসেবে পুনঃনামকরণ করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) Carl Linnaeus
  2. খ) Margulis
  3. গ) Robert Whittaker
  4. ঘ) Thomas Cavalier Smith
সঠিক উত্তর:
ঘ) Thomas Cavalier Smith
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Thomas Cavalier Smith
ব্যাখ্যা

২০০৪ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির Thomas Cavalier Smith, জীবজগতের Protista রাজ্যকে Protozoa এবং Chromista নামে দুইটি ভাগে ভাগ করেন।
তিনি মনেরাকে ব্যাকটেরিয়া রাজ্য হিসেবে পুনঃনামকরণ করেন। এভাবে তিনি পুরো জীবজগতকে মোট ছয়টি রাজ্যে ভাগ করেছেন।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

২,১১২.
Which system in the brain controls voluntary muscle movements?
  1. Nervous system
  2. Respiratory system
  3. Digestive system
  4. Endocrine system
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Nervous system
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nervous system
ব্যাখ্যা
• স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু: 
- প্রাণী দেহের যে কলা উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু বলে। 
যেমন- মস্তিষ্ক, সুষুম্না কাণ্ড ইত্যাদি। 
- স্নায়ুটিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন। 
- মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। 

• প্রতিটি নিউরন তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
যথা-
(ক) কোষদেহ,
(খ) ডেনড্রন এবং
(গ) অ্যাক্সন। 

স্নায়ুটিস্যুর কাজ: 
• দেহের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও সংবেদন গ্রহণকারী অঙ্গ থেকে গৃহীত উদ্দীপনা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। 
• দেহের কার্যকর অংশ এ উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। 
যেমন- মশা কামড়ালে এ অনুভূতি মস্তিষ্কে পাঠায়, মস্তিষ্ক হাতকে এ কথা জানায় তখন হাত মশা মারার চেষ্টা করে। 

• উদ্দীপনা বা ঘটনাকে স্মৃতিতে ধারণ করে। 
• দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,১১৩.
মানব দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য কতটি খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান:

- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ৬টি খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়।
- খাদ্য উপাদান ৬টি। যথা:
• আমিষ বা প্রোটিন।
• শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট।
• স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট।
• ভিটামিন বা খাদ্যপ্ৰাণ।
• খনিজ লবণ বা মিনারেল।
• পানি।

তথ্যসুত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১৪.
হৃৎপিণ্ড কতটি স্তর বিশিষ্ট পেশি দ্বারা গঠিত?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডে বাইরের দিক থেকে যথাক্রমে এপিকার্ডিয়াম, এন্ডোকার্ডিয়াম ও মায়োকার্ডিয়াম এই তিন স্তরে গঠিত।
সূত্রঃ ২৭তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
২,১১৫.
রক্তের অস্বাভাবিকতার কারণে-
  1. ক) হার্ট এটাক হয়
  2. খ) এনজিনা হয়
  3. গ) বাতজ্বর হয়
  4. ঘ) লিউকোমিয়া হয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিউকোমিয়া হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিউকোমিয়া হয়
ব্যাখ্যা
রক্তের ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া রক্তের অস্বাভাবিকতাজনিত রোগ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
২,১১৬.
অগ্ন্যাশয় থেকে কোন উৎসেচক নিঃসৃত হয়?
  1. লাইপেজ
  2. গ্লুকাগন
  3. পেপসিন
  4. মিউকাস
সঠিক উত্তর:
লাইপেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইপেজ
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয়: 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়, আর এই অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন, যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১১৭.
____ বেড়ে গেলে এনজিনা হয়।
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) রক্তরস
  3. গ) চর্বি
  4. ঘ) পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) চর্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চর্বি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১১৮.
মানবদেহের পৌষ্টিক নালির অংশ নয় নিচের কোনটি?
  1. গলবিল 
  2. যকৃত
  3. মুখছিদ্র
  4. পাকস্থলী
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের পৌষ্টিক নালির অংশ নয়- যকৃত, এটি পৌষ্টিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। 

পরিপাকতন্ত্র (Digestive system): 

- এই তন্ত্র খাদ্যগ্রহণ, পরিপাক, শোষণ এবং অপাচ্য খাদ্যাংশ নিষ্কাশনের সাথে জড়িত। 
- পরিপাকতন্ত্রের দুটি প্রধান অংশ থাকে। 
যথা: পৌষ্টিক নালি (digestive canal) এবং পৌষ্টিক গ্রন্থি (digestive glands)। 
- মুখছিদ্র, মুখগহ্বর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলী, ডিওডেনাম, ইলিয়াম, রেকটাম বা মলাশয় এবং পায়ুছিদ্র নিয়ে পৌষ্টিক নালি গঠিত। 
- মানুষের লালাগ্রন্থি, যকৃত এবং অগ্ন্যাশয় পৌষ্টিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।
- এসব গ্রন্থির নিঃসৃত রস খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১১৯.
জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে-
  1. ক) লাইসোজোম
  2. খ) কোষগহ্বর
  3. গ) রাইবোজোম
  4. ঘ) গলজি বস্তু
সঠিক উত্তর:
ক) লাইসোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাইসোজোম
ব্যাখ্যা

- লাইসোজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
- এর উৎসেচক আগত জীবাণুগুলো হজম করে ফেলে।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১২০.
লোহিত রক্তকণিকার উৎপত্তি হয় কোথায়? 
  1. ফুসফুস
  2. বৃক্কে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. মেডুলায়
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা

• অস্থিমজ্জা (Bone Marrow) হলো RBC উৎপাদনের মূল কেন্দ্র।

- লোহিত রক্তকণিকা বা RBC (Red Blood Cell) হলো রক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা অক্সিজেন বহন করে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ফিরিয়ে আনে।

উৎপত্তিস্থল
- বিশেষ করে লাল অস্থিমজ্জা (Red Bone Marrow) তে রক্তকণিকা তৈরি হয়।
- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পাঁজর, করোটি, শ্রোণি, ও দীর্ঘ অস্থির প্রান্তে এটি সক্রিয় থাকে।

উৎপাদন প্রক্রিয়া:
- এই প্রক্রিয়ায় স্টেম সেল থেকে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়।
- এরিথ্রোপয়েটিন (Erythropoietin) নামক হরমোন, যা বৃক্ক (Kidney) থেকে নিঃসৃত হয়, RBC উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগায়।

RBC এর আয়ু:
- গড়ে ১২০ দিন।
- পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত RBC লিভার ও প্লীহায় (Spleen) ভেঙে যায়।

গঠন ও কার্য:
- নিউক্লিয়াসবিহীন (nucleus নেই)।
- হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) নামক লৌহযুক্ত প্রোটিন থাকে, যা অক্সিজেন বহন করে।
- দেহের প্রতিটি টিস্যুকে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ফেরত নেয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

২,১২১.
কার্ডিয়াক চক্রের কোন ধাপে অ্যাট্রিয়াম দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে?
  1. ক) অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোল
  2. খ) অ্যাট্রিয়ামের সিস্টোল
  3. গ) ভেন্ট্রিকলের সিস্টোল
  4. ঘ) ভেন্ট্রিকলের ডায়াস্টোল
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোল
ব্যাখ্যা
• কার্ডিয়াক চক্রের অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোল ধাপে অ্যাট্রিয়াম দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে।
• কার্ডিয়াক চক্র চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়-
১ অ্যাট্রিয়ামের ডায়াস্টোল: এ সময় অ্যাট্রিয়াম দুটি প্রসারিত অবস্থায় থাকে।
- ফলে দেহের রক্ত ডান ও বাম আ্যাট্রিয়ামে প্রবেশ করে।
২ অ্যাট্রিয়ামের সিস্টোল: অ্যাট্রিয়াম দুটি রক্তপূর্ণ হলে অ্যাট্রিয়াম দুটি সংকুচিত হয়।
- বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা দিয়ে রক্ত ভেন্ট্রিকলে প্রেরিত হয়।
৩ ভেন্ট্রিকলের সিস্টোল: ভেন্ট্রিকল দুটি সংকুচিত হয়।
- এ সময় ট্রাইকাসপিড ও বাইকাসপিড কপাটিকা বন্ধ এবং সেমিলুনার কপাটিকা খোলা থাকে।
৪. ভেন্ট্রিকলের ডায়াস্টোল: ভেন্ট্রিকলে সিস্টোলের পর পরই ভেন্ট্রকলের ডায়াস্টোল শুরু হয়।
- ডায়াস্টোলের সময় বাইকাসপিড ও ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২২.
DNA-তে কোন নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক থাকে না? 
  1. থাইমিন
  2. ইউরাসিল
  3. সাইটোসিন
  4. অ্যাডিনিন
সঠিক উত্তর:
ইউরাসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউরাসিল
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA): 
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid. 
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%। 
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট। 
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত। 
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে। 

ডিএনএ (DNA): 
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান। 
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%। 
- এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। 
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। 
যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৩.
বিবর্তন শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে?
  1. ক) গ্রীক
  2. খ) ল্যাটিন
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) ফরাসি
সঠিক উত্তর:
খ) ল্যাটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ল্যাটিন
ব্যাখ্যা
বিবর্তন
- গভীর যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আধুনিক মানুষের ধারণা হয়েছে যে জীব সৃষ্টির মূলেই রয়েছে বিবর্তন।
- ল্যাটিন শব্দ ‘Evolveri' থেকে বিবর্তন শব্দটি এসেছে
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন।
- যে ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন দ্বারা কোনো সরলতর উদবংশীয় জীব পরিবর্তিত হয়ে জটিল ও উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটে, তাকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বা ইভোলিউশন বলে।
- সময়ের সথে কোনো জীবের পরিবর্তনের ফলে যখন নতুন কোনো প্রজাতি সৃষ্টি হয়, তখন তাকে বলে জৈব বিবর্তন।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,১২৪.
DNA এর পূর্ণরূপ ____। 
  1. Deoxyribonucleic Acid
  2. Dinucleotide Acid
  3. Deoxygenated Nucleic Acid
  4. Dual Nucleic Acid
সঠিক উত্তর:
Deoxyribonucleic Acid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Deoxyribonucleic Acid
ব্যাখ্যা

• পূর্ণরূপ: DNA = Deoxyribonucleic Acid

- DNA হলো জিনগত তথ্য সংরক্ষণকারী অণু, যা জীবদেহের সমস্ত ধরণের বৈশিষ্ট্য এবং জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

DNA এর বৈশিষ্ট্য:
- “Deoxyribo” মানে হলো ডিএক্সিও রাইবোজ (Deoxyribose) চিনি, যা DNA এর শৃঙ্খলের একটি অংশ।
- “Nucleic” নির্দেশ করে যে এটি নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায়।
- “Acid” নির্দেশ করে এর রাসায়নিক প্রকৃতি, যা অ্যাসিডিক।

গঠন:
- DNA হলো ডাবল হেলিক্স (Double helix)।
- এটি নিউক্লিয়োটাইডের শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত, যেখানে প্রতিটি নিউক্লিয়োটাইডে ফসফেট, ডিএক্সিওরাইবোজ চিনি, এবং নাইট্রোজেন ভিত্তি থাকে।

কার্য:
- জিনগত তথ্য সংরক্ষণ।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনে সহায়ক।
- উত্তরাধিকার সূত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্য প্রজন্মান্তরে স্থানান্তর।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

২,১২৫.
হিমোফিলিয়া রোগটি কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অস্থি
  2. রক্ত
  3. ত্বক
  4. লালা
সঠিক উত্তর:
রক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ত
ব্যাখ্যা
হিমোফিলিয়া (Hemophilia) হলো একটি জিনগত রক্তক্ষরণজনিত রোগ অর্থাৎ এটি রক্তের সাথে সম্পর্কিত।
-  এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী প্রোটিনের ঘাটতি থাকে।
-  এর ফলে সামান্য আঘাতেও রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে দেরি হয় বা বন্ধ হয় না।
-  এটি এক্স লিঙ্কড ডিজঅর্ডার বা এক্স ক্রোমোসোম বাহিত রোগ, যা সাধারণত ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। 
-  কারন যেহেতু এটি কেবল এক্স ক্রমোসোম এর মাধ্যমে বাহিত হয় এবং ছেলেদের মধ্যে একটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে তাই সেটি আক্রান্ত থাকলে ছেলেদের মধ্যে রোগটি হয়। কিন্তু মেয়েদের মধ্যে দুটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে বিধায় একটি এক্স আক্রান্ত থাকলেও মেয়েদের মাঝে রোগ প্রকট না হয়ে মেয়েরা বাহক ও হতে পারে। 

হিমোফিলিয়া দুইরকমের হয়ে থাকে। এগুলো হলো- 
- Hemophilia A: রক্ত জমাট বাঁধার Factor VIII এর অভাবে এটি হয়।
- Hemophilia B: রক্ত জমাট বাঁধার Factor IX এর অভাবে এটি হয়। 

• হিমোফিলিয়া রোগের লক্ষন:
- সহজে রক্তপাত হওয়া।
- হাড়-জোড়ায় রক্ত জমা হওয়া।
- দাঁতের চিকিৎসা বা কাটা লাগলে দীর্ঘ সময় রক্ত পড়া।
- মস্তিষ্কে রক্তপাত মারাত্মক হতে পারে।

অন্যদিকে,
 অস্থি: হাড়ের সমস্যা যেমন অস্টিওপোরোসিস বা রিকেটস রোগ হাড়ের সাথে সম্পর্কিত।

 ত্বক: ত্বকের সমস্যা যেমন ছত্রাক ঘটিত, এলার্জি বা চর্মরোগ এখানে প্রযোজ্য নয়।

লালা: লালার সমস্যা মূলত মুখগহ্বর বা হজমসংক্রান্ত হয়, হিমোফিলিয়ার সাথে সম্পর্ক নেই।

তথ্যসূত্র
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
২,১২৬.
মানবদেহে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড কয়টি?
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ৯টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৮টি
ব্যাখ্যা
আমিষের গঠনআমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2)। আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়। 

এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ৮টি।
এগুলো হল:
- লাইসিন
- ট্রিপেটোফ্যান
- মিথিওনিন
- ভ্যালিন
- লিউসিন
- আইসোলিউসিন
- ফিনাইল অ্যালানিন ও
- থ্রিওনাইন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৭.
মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তরে কোনটি ভূমিকা পালন করে?
  1. লিম্ফোসাইট
  2. ত্বক
  3. ইন্টারফেরন
  4. পাকস্থলীর অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
ইন্টারফেরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্টারফেরন
ব্যাখ্যা

◉ ইন্টারফেরন (Interferon) এক ধরনের প্রোটিন, যা ভাইরাস আক্রান্ত কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং অন্যান্য কোষকে ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে।
- এটি ভাইরাস প্রতিরোধী প্রোটিন তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ভাইরাসের বিস্তার কমায়।
- এটি প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (Innate Immunity) অংশ।

মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রতিরোধব্যবস্থা বিদ্যমান। যথা-
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রথম স্তর হলো প্যাথোজেনকে (রোগজীবাণুকে) দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) ত্বক,
(ii) মিউকাস মেমব্রেন,
(iii) শ্বসনতন্ত্রের সিলিয়া,
(iv) পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং
(v) চোখের আবরণ ও অশ্রু।

২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে কোনো রোগজীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে গেলে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হয়।
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) ব্যাথাদায়ক সাড়া,
(ii) ফ্যাগোসাইটসমূহ,
(iii) কমপ্লিমেন্ট,
(iv) ইন্টারফেরন এবং
(v) ন্যাচারাল কিলার সেল।

৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- এ ব্যবস্থায় আছে-
(i) লিম্ফোসাইট,
ii) MHC অণু এবং
(ii) ক্লোনাল সিলেকশন।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

২,১২৮.
কর্ডাটা পর্বের প্রাণি কোনটি?
  1. ক) তারামাছ
  2. খ) প্রজাপতি
  3. গ) জোঁক
  4. ঘ) রুই মাছ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রুই মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রুই মাছ
ব্যাখ্যা
কর্ডাটা পর্বের প্রাণি- মানুষ, কুনোব্যাঙ, রুই মাছ ইত্যাদি৷
একাইনোডারমাটা পর্বের প্রাণি- তারামাছ, সমুদ্র শশা।
কাঁকড়া, প্রজাপতি, চিংড়ি, তেলাপোকা ইত্যাদি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণি।
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণি হলো- কেঁচো, জোঁক
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২,১২৯.
মানুষের গায়ের রং নিচের কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. ক্যারোটিন
  3. থায়ামিন
  4. মেলানিন
সঠিক উত্তর:
মেলানিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলানিন
ব্যাখ্যা
মানুষের ত্বক:
- মানুষের ত্বকে উপস্থিত মেলানোসাইট নামক কোষ মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন করে যা গায়ের রঙ ফর্সা বা কালো হওয়ার জন্য দায়ী।
- পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন নামক রাসায়নিক উৎপন্ন হতে পারে যা ঘুমের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
- মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়।
- এটাই অ্যালবিনিজম নামে পরিচিত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,১৩০.
প্রাণিজ আমিষের উদাহরণ না কোনটি?
  1. ক) মাছ
  2. খ) পনির
  3. গ) ছানা
  4. ঘ) বাদাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাদাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাদাম
ব্যাখ্যা

উৎস দিয়ে বিবেচনা করা হলে আমিষ দুই প্রকার: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ।
প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির- এগুলাে প্রাণিজ আমিষ।
উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। ডাল, শিমের বিচি, মটরশুটি, বাদাম হচ্ছে উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২,১৩১.
আমিষে নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রায় কত শতাংশ? 
  1. ৮%
  2. ১২%
  3. ১৬%
  4. ২৫%
সঠিক উত্তর:
১৬%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬%
ব্যাখ্যা

খাদ্যের প্রধান উপাদান ও উৎস: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত তাই এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি নিহিত, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলে। 
- উপাদান অনুসারে খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আমিষ, শর্করা এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য। 
- এছাড়াও তিন প্রকার উপাদান দেহের জন্য দরকার। 
যথা- ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। 

আমিষ বা প্রোটিন: 
- আমিষ জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে এবং সালফার, ফসফরাস ও আয়রন সামান্য পরিমাণে থাকে
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
(ক) প্রাণীজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা ইত্যাদি এসব খাদ্যে প্রচুর অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায় বলে এদের জৈব মূল্য বেশি। তাই খাদ্যে শতকরা ২০ ভাগ প্রাণীজ আমিষ থাকা প্রয়োজন। 

(খ) উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনা বাদাম, চাল, আটা, শিমের বীচি ইত্যাদি এগুলো প্রাণীজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর। 
- বীজে আমিষের পরিমাণ অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি থাকে। 
- উদ্ভিজ্জ আমিষে অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিমাণ কম থাকে বিধায় এর জৈব মূল্য কম তাই এটি নিম্নমানের আমিষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৩২.
ভিটামিন-ই এর রাসায়নিক নাম কী?
  1. ক) রেটিনোয়িক এসিড
  2. খ) ক্যালসিফেরল
  3. গ) টোকোফেরল
  4. ঘ) মেনাডায়ন
সঠিক উত্তর:
গ) টোকোফেরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টোকোফেরল
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন-ই এর রাসায়নিক নাম - টোকোফেরল, টোকোট্রাইনল।
• ভিটামিন-এ এর রাসায়নিক নাম - রেটিনল, রেটিনাল, রেটিনোয়িক এসিড।
• ভিটামিন-সি এর রাসায়নিক নাম - অ্যাসকরবিক এসিড।
• ভিটামিন-ডি এর রাসায়নিক নাম - ক্যালসিফেরল, কোলিক্যালসিফেরল।
• ভিটামিন-কে এর রাসায়নিক নাম - মেনাকোয়াইনন, মেনাডায়ন।

তাছাড়া, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন বি এর নাম -
• B1 - Thiamin (থায়ামিন)
• B2 - Riboflavin (রিবোফ্লাভিন)
• B3 - Niacin (নিয়াসিন)
• B5 - Pantothenic acid (প্যানটোথেনিক এসিড)
• B6 - Pyridoxine (পাইরিডক্সিন)
• B7 - Biotin (বায়োটিন)
• B9 - Folate [folic acid] (ফোলেট, ফলিক এসিড)
• B12 - Cobalamin (কোবালামিন)

কয়েকটি ভিটামিন স্নেহজাতীয় পদার্থে দ্রবীভূত হয়, আবার কয়েকটি ভিটামিন পানিতে দ্রবীভূত হয়।
যেমন:
স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন A, ভিটামিন D, ভিটামিন E ও ভিটামিন K
পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন: ভিটামিন B কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন C

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা [লিংক]
২,১৩৩.
মানুষের স্পাইনাল কর্ডের ওজন কত?
  1. ক) ১৮ গ্রাম
  2. খ) ৩৫ গ্রাম
  3. গ) ৪৭ গ্রাম
  4. ঘ) ৫২ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) ৩৫ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩৫ গ্রাম
ব্যাখ্যা
The spinal cord is about 43 cm long in adult women and 45 cm long in adult men and weighs about 35-40 grams.
সূত্রঃ ৩০তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
২,১৩৪.
লোহিত রক্তকণিকার প্রধান কাজ কোনটি?
  1. ক) অক্সিজেন পরিবহন করা
  2. খ) রোগ প্রতিরোধ করা
  3. গ) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) অক্সিজেন পরিবহন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অক্সিজেন পরিবহন করা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৩৫.
মানুষের সুষুম্না স্নায়ুর সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১২ টি
  2. খ) ১২ জোড়া
  3. গ) ২৭ জোড়া
  4. ঘ) ৩১ জোড়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩১ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩১ জোড়া
ব্যাখ্যা
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
- মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ হলো স্নায়ুকোষ।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া এবং সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৩৬.
মানুষের স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ৩২
  3. গ) ৩৩
  4. ঘ) ৩৬ 
সঠিক উত্তর:
খ) ৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩২
ব্যাখ্যা

মানুষের স্থায়ী দাঁতের সংখ্যা ৩২ টি।

প্রতি চোয়ালে ১৬টি করে দাঁত থাকে। এসব দাঁত চার প্রকার হয়ে থাকে। যথা-
১. কর্তন দাঁত খাবার ছোট ছোট করে কাটে।
২. ছেদন দাঁত দিয়ে মাংস ও অন্যান্য শক্ত জিনিস ছিঁড়ে ও কাটে।
৩. অগ্রপেষণ দাঁত দিয়ে খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণ করা যায়।
৪. পেষণ দাঁতগুলো খাদ্যবস্তু চিবাতে ও পিষতে সাহায্য করে।

সূত্র: বিজ্ঞান বই, সপ্তম শ্রেণি। 

২,১৩৭.
একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্র এবং নদীর বাস্তুতন্ত্রের পার্থক্য কোন বৈচিত্র্যের উদাহরণ? 
  1. জীবাশ্ম বৈচিত্র্য
  2. বংশগতীয় বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা

- পুকুর ও নদীর বাস্তুতন্ত্রের পার্থক্য হলো বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem Diversity)-এর উদাহরণ, কারণ এটি বিভিন্ন ধরনের আবাসস্থল (যেমন পুকুর ও নদী) এবং সেগুলোর মধ্যে থাকা জীব সম্প্রদায় ও প্রক্রিয়ার ভিন্নতাকে বোঝায়। 

জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 

- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- এক প্রজাতির সাথে অন্য প্রজাতির বিভিন্ন বিষয়ের ভিন্নতাই হলো প্রজাতিগত বৈচিত্র্য। 
- সাধারণভাবে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকেই বোঝায়। 
যেমন- বাঘের সাথে হরিণের আকার, স্বভাব, হিংস্রতা, সংখ্যা, বৃদ্ধির ধরন ইত্যাদি ভিন্ন হয়। 

২। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য একটি বাস্তুতন্ত্রের ভৌত উপাদান ও জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে। 
- এ পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সেখানে বসবাসরত জীবের মধ্যেও পরিবর্তন সাধিত হয়। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যে জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকেই বলা হয় বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 
যেমন- একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে যে সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসতি গড়ে উঠে তা নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে ভিন্নতর। 

৩। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity): 
- এ পৃথিবীতে একই প্রজাতিভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও অনেক বিষয়ে পার্থক্য দেখা যায়, এ পার্থক্যগুলো তৈরি হয় তাদের জিন সংগঠনের সামান্য বৈচিত্র্যের কারণে। 
- এ বৈচিত্র্যতার কারণ হচ্ছে জিনের মাধ্যমেই জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বংশানুক্রমে সঞ্চালিত হয়। 
- প্রাণিদেহের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদা আলাদা জীন দায়ী। 
- বিভিন্ন কারণে এ জীনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তন হয়ে জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটায় এবং নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়। 
- এ বংশানুক্রমিক প্রক্রিয়ায় জীবের মধ্যে যে বৈচিত্র্য ঘটে তাকেই বংশগতীয় বৈচিত্র্য বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৩৮.
খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে কোন খনিজের অভাব হয় না?
  1. সেলেনিয়াম
  2. দস্তা
  3. আয়রন
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফসফরাস
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P): 
- দেহে পরিমাণের দিক থেকে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরই ফসফরাসের স্থান। 
- ফসফরাসও ক্যালসিয়ামের মতো হাড়ের একটি প্রধান উপাদান। 
- ফসফরাস হাড়, যকৃৎ এবং রক্তরসে সঞ্চিত থাকে। 
- নিউক্লিক এসিড, নিউক্লিয় প্রোটিন তৈরি এবং শর্করা বিপাকের দ্বারা শক্তি উৎপাদনে ফসফরাস প্রধান ভূমিকা রাখে। 
- ফসফরাসের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: দানা শস্য, শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- ফসফরাসের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, কলিজা ইত্যাদি। 
- ক্যালসিয়ামের মতো হাড় এবং দাঁত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ। 
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষরতা, দন্তক্ষয়- এইসব রোগ দেখা দেয়। 
- খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে ফসফরাসের অভাব হয় না। 

ক্যালসিয়াম (Ca): 

- এটি প্রাণীদের হাড় এবং দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্তে এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি লক্ষণীয়। 
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, পালংশাক, কচুশাক, লালশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি এবং ফল। 
- ক্যালসিয়ামের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় এবং দাঁতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৩৯.
হিস্টোলজি হচ্ছে -
  1. ক) টিস্যুবিদ্যা
  2. খ) শারীরস্থান বিদ্যা
  3. গ) শারীরবিদ্যা
  4. ঘ) সাইটোলজি
সঠিক উত্তর:
ক) টিস্যুবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) টিস্যুবিদ্যা
ব্যাখ্যা
হিস্টোলজি - টিস্যুবিদ্যা
সাইটোলজি - কোষবিদ্যা।
এনাটমি - শারীরস্থান বিদ্যা, 
ফিজিওলজি - শারীরবিদ্যা এবং
মরফোলজি - অঙ্গসংস্থান বিদ্যা।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৪০.
মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB । 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪১.
কোন খাদ্যে প্রোটিন বেশি?
  1. ভাত
  2. গরুর মাংস
  3. মসুর ডাল
  4. ময়দা
সঠিক উত্তর:
মসুর ডাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মসুর ডাল
ব্যাখ্যা
- ডাল প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার আবার গরুর মাংসেও প্রোটিন থাকে তবে এতে চর্বির পরিমাণ বেশি বলে ডাল ই হচ্ছে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। 
- প্রতি ১০০ গ্রাম মসুর ডালে প্রোটিনের পরিমান হচ্ছে ২৫.১ গ্রাম এবং গরুর মাংসে হচ্ছে ২২.৬ গ্রাম। 

সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) অনুসারে, 
- ডাল বীজে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ, 
- লাল মাংসে আমিষের পরিমাণ ১৬-১২ শতাংশ, 
- মাছে আমিষের পরিমাণ ১৮-২৫ শতাংশ এবং 
- মুরগির মাংসে আমিষের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ। 

উৎস: ais.gov.bd 
২,১৪২.
'হুপিং কাশি' রোগের ভ্যাকসিন কোনটি?
  1. OPV
  2. BCG
  3. DPT
  4. Mumps
সঠিক উত্তর:
DPT
উত্তর
সঠিক উত্তর:
DPT
ব্যাখ্যা
• 'হুপিং কাশি' রোগের ভ্যাকসিন DPT.

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষ্মা: BCG
- ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার: DPT
- পোলিও: OPV
- হাম, রুবেলা: MR ভ্যাকসিন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২,১৪৩.
কোষ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিয়োলাস অদৃশ্য হয়?
  1. ক) প্রোফেজ
  2. খ) অ্যানাফেজ
  3. গ) মেটাফেজ
  4. ঘ) প্রোমেটাফেজ
সঠিক উত্তর:
গ) মেটাফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মেটাফেজ
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়োলাস
- নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত ক্ষুদ্র, অপেক্ষাকৃত ঘন, গোলাকার বস্তুটি হচ্ছে নিউক্লিয়োলাস। 
- বিজ্ঞানী ফন্টানা ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে এটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করলেও বাউম্যান ১৮৪০ সালে এর নামকরণ করেন। 
- নিউক্লিয়োলাসের আকার কোষের কর্মক্ষমতার উপর নির্ভর করে। 
- সাধারণত প্রত্যেক কোষে একটি নিউক্লিয়োলাস থাকে তবে প্রজাতি ভেদে এর সংখ্যা দুটি বা এর বেশিও হতে পারে। 
- যে সকল কোষ অধিক মাত্রায় প্রোটিন সংশ্লেষণ করে সে সকল কোষে নিউক্লিয়োলাস বড় এবং একাধিক হয়। 

- নিউক্লিয়োলাস নির্দিষ্ট ক্রোমোসোমের নির্দিষ্ট অংশে সংযুক্ত থাকে। 
- ক্রোমোসোমের যে স্থানটিতে এটি সংযুক্ত থাকে সে স্থানটিকে নিউক্লিয়ার অর্গানাইজিং রিজিয়ন (NOR) বলা হয়। 
- কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় নিউক্লিয়োলাস অদৃশ্য হয় এবং বিভাজন শেষে প্রতিটি অপত্য নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়োলাসের আবির্ভাব ঘটে। 
- নিউক্লিয়োলাস নিউক্লিক অ্যাসিড এর ভান্ডার হিসেবে কাজ করে, রাইবোসোম প্রস্তুত করে, প্রোটিন ও RNA সংশ্লেষণ করে এবং জিন হতে নির্দিষ্ট বার্তা গ্রহণ করে সাইটোপ্লাজমে নিয়ে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৪.
দেহের মোট পানির কত শতাংশ কোষের মধ্যে থাকে?
  1. ২৫%
  2. ৫০%
  3. ৭৫%
  4. ৯০%
সঠিক উত্তর:
৫০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০%
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পরিমাণের দিক থেকে দেহের প্রধান গঠন উপাদান পানি। 
- একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির দেহের ওজনের প্রায় ৭০% পানি। 
- দেহের প্রতিটি কোষেই পানি থাকে, দেহে মোট পানির ৫০% থাকে কোষের মধ্যে। অবশিষ্ট পানি কোষের বাইরে দুই কোষের মধ্যবর্তী স্থান, রক্ত, লসিকা, কলারস ইত্যাদিতে অবস্থান করে। 
- বিশুদ্ধ খাবার পানি, ডাবের পানি, দুধ, বিভিন্ন রসালো ফল, শাক সবজি পানির প্রাকৃতিক উৎস। 
- প্রস্তুতকৃত বা রন্ধনকৃত খাবারের মধ্যে স্যুপ, সরবত, চা, ঘোল, লাচ্ছি, ফলের রস ইত্যাদি পানীয় জাতীয় খাদ্য। 

কাজ: 
১। পানি খাদ্য পরিপাক ও শোষণে সহাযতা করে। 
২। পুষ্টি উপাদানসমূহ দেহের এক অংশ হতে অন্য অংশে বহন করে নিয়ে যায়। 
৩। দেহের বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান পানিতে দ্রবীভূত হয়ে বিপাক ক্রিয়ায় অংশ নেয়। 
৪। বিপাক ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে দেহ হতে বের করে দেয়। 
৫। দেহ হতে ঘাম নিঃসরণ করে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। 
৬। রক্তের তারল্য বজায় রাখে। 
৭। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 
৮। দেহ তরতাজা ও সজীব রাখে। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
১। কোনো কারণে দেহ হতে প্রচুর পানি বের হয়ে গেলে (বমি, ডায়রিয়া, কলেরা, ঘাম) দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। 
২। পানিশূন্যতায় ঠোঁট শুকিয়ে যায়, গলা শুকিয়ে যায়, ত্বক ঢিলা হয়ে, কুঁচকে আসে ইত্যাদি। 
৩। দেহের পরিপাক, শোষণ ও বিপাক ব্যহত হয়। 
৪। কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। 
৫। রক্তের তারল্য কমে যায়। 
৬। মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যায়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৫.
অ্যান্টিজেন বলতে কী বোঝায়?
  1. দেহের নিজস্ব প্রোটিন
  2. দেহে উপস্থিত এনজাইম
  3. বহিরাগত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড
  4. দেহে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি
সঠিক উত্তর:
বহিরাগত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিরাগত প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড
ব্যাখ্যা

• অ্যান্টিজেন হলো non-self বা বহিরাগত পদার্থ।

• অ্যান্টিজেন (Antigen):

- অ্যান্টিজেন হলো যেকোনো বিজাতীয় প্রোটিন বা পলিস্যাকারাইড, যা দেহে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকে না।
- এই ধরনের পদার্থ দেহে প্রবেশ করলে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়।

উদাহরণ:
- ব্যাকটেরিয়া বা তাদের নিঃসৃত বিষাক্ত পদার্থ (Toxin) দেহে প্রবেশ করলে,
- দেহকোষে উপস্থিত নির্দিষ্ট প্রোটিনের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে।

• অ্যান্টিজেন–অ্যান্টিবডি সম্পর্ক:
- একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন দেহে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি (Antibody) উৎপন্ন হয়।
- এই প্রক্রিয়াকে Antibody generation বলা হয়।

• অ্যান্টিজেনের বৈশিষ্ট্য:
- অ্যান্টিজেন অবশ্যই non-self বা বহিরাগত পদার্থ হতে হবে।
- এতে ইমিউনোজেনিসিটি (Immunogenicity) অর্থাৎ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
- অধিকাংশ অ্যান্টিজেন প্রোটিনধর্মী বা জটিল গঠনবিশিষ্ট হয়।
- অ্যান্টিজেনের আণবিক ভর সাধারণত ১০,০০০ ডাল্টনের বেশি হয়।

• অ্যান্টিজেনের গঠনগত প্রকৃতি:
- অ্যান্টিজেন সাধারণত—
- প্রোটিন,
- বৃহৎ পলিস্যাকারাইড,
- গ্লাইকোপ্রোটিন অথবা,
- নিউক্লিওপ্রোটিন,
- প্রকৃতির হতে পারে।

• অ্যান্টিবডির সাথে সম্পর্ক:
- অ্যান্টিজেনের নির্দিষ্ট অংশের সাথে অ্যান্টিবডি যুক্ত হয়ে দেহকে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪৬.
প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের কত শতাংশ প্রােটিন?
  1. ক) ১৫%
  2. খ) ২৫%
  3. গ) ৩৫%
  4. ঘ) ৫০%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫০%
ব্যাখ্যা

প্রাণীদেহের গঠনে প্রােটিন অপরিহার্য। দেহকোষের বেশির ভাগই প্রােটিন দিয়ে তৈরি। দেহের হাড়, পেশি, লােম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলাে সবই প্রােটিন দিয়ে তৈরি হয়।
প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রােটিন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২,১৪৭.
কোনটিতে আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) তাজা ছোট মাছ
  2. খ) মাংস
  3. গ) ডিম
  4. ঘ) শুঁটকি মাছ
সঠিক উত্তর:
ঘ) শুঁটকি মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শুঁটকি মাছ
ব্যাখ্যা
- ডিমে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে ১৩ গ্রাম। 
- তাজা ছোট মাছে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে প্রায় ২০ গ্রাম।  
- মাংসে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে ২৬ গ্রাম। 
- শুঁটকি মাছে প্রতি ১০০ গ্রামে আমিষ থাকে ৬২ গ্রাম। 

উৎস: USDA ওয়েবসাইট 
২,১৪৮.
HIV -AIDS ছড়ায় না-
  1. পানির মাধ্যমে
  2. রক্তের মাধ্যমে
  3. যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পানির মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• পানির মাধ্যমে HIV -AIDS ছড়ায় না।

• HIV:

- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

• HIV সংক্রমণের কারণ:
- প্রধানত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়।
- মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে।
- রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৪৯.
নিচের কোন উৎস প্রাণিজ স্নেহপদার্থ নয়? 
  1. ঘি
  2. ডালডা
  3. ডিমের কুসুম
  4. সয়াবিন তেল
সঠিক উত্তর:
সয়াবিন তেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সয়াবিন তেল
ব্যাখ্যা
স্নেহজাতীয় খাদ্য (Fats): 
- চর্বি একটি প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন দিয়ে তৈরি এই উপাদানটির মুখ্য কাজ হলো তাপ উৎপাদন করা। 
- এই উপাদানটি পাকস্থলীতে অনেকক্ষণ থাকে, তাই তখন ক্ষুধা পায় না। 
- দেহের ত্বকের নিচে চর্বি জমা থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন অঙ্গ যেমন: যকৃৎ, মস্তিষ্ক, মাংস পেশিতেও চর্বি জমা থাকে। দেহের এ সঞ্চিত চর্বি উপবাসের সময় কাজে লাগে। 
- শর্করা ও আমিষের তুলনায় চর্বিতে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ক্যালরি থাকে (ক্যালরি হলো প্রাণিদেহে শক্তি মাপার একটি একক)। 
- খাবার তেল বা ঘি দিয়ে রান্না করা খাবার বেশ সুস্বাদু হয়, সঙ্গে এর পুষ্টিমানও বেড়ে যায়। যেমন সিদ্ধ আলুর চেয়ে ভাজা আলু, রুটির চেয়ে লুচি বা পরোটা শুধু মুখরোচকই নয়, এতে ক্যালরিও বেশি পাওয়া যায়। 
- কোনো কোনো চর্বিতে ভিটামিন 'এ' আছে, আবার কোনোটিতে আছে ভিটামিন 'ই'। 

- উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের। 
যেমন- 
১। উদ্ভিজ্জ স্নেহপদার্থ: 
- সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখী এবং ভুট্টার তেল ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম। 

২। প্রাণিজ স্নেহপদার্থ: 
- চর্বি, ঘি, ডালডা ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ। 
- ডিমের কুসুমে স্নেহপদার্থ আছে, কিন্তু সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। 
- স্নেহপদার্থ পানিতে অদ্রবণীয়, পানির চেয়ে হালকা বলে পানির উপর ভাসে। 
- একজন সুস্থ সবল পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৫০-৬০ গ্রাম চর্বির প্রয়োজন হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৫০.
স্তন্যপ্রায়ী প্রাণিতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশীর ব্যবধায়ক পর্দকে কি বলে?
  1. ডায়াফ্রাম
  2. অ্যালভিওলাস
  3. ইন্টারকোস্টাল পেশী 
  4. স্বরযন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ডায়াফ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াফ্রাম
ব্যাখ্যা

• স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশী (ডায়াফ্রাম):

- স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীর দেহে বক্ষগহ্বর (Thoracic cavity) ও উদরগহ্বর (Abdominal cavity) কে পৃথক করে যে অনুপ্রস্থ পেশীযুক্ত পর্দা থাকে, তাকে ডায়াফ্রাম বলা হয়।
- ডায়াফ্রাম শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- শ্বাস নেওয়ার সময় ডায়াফ্রাম সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নামে, ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করে।
- শ্বাস ছাড়ার সময় ডায়াফ্রাম শিথিল হয়ে উপরের দিকে উঠে যায়, ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে যায় এবং ফুসফুস থেকে বাতাস বের হয়ে যায়।
- এটি একটি শক্তিশালী অনুপ্রস্থ পেশী যা শুধুমাত্র স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীদের মধ্যেই সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
- অ্যালভিওলাস হলো ফুসফুসের ভেতরের বায়ুথলি, ইন্টারকোস্টাল পেশী পাঁজরের মাঝখানে থাকে এবং স্বরযন্ত্র শব্দ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত—এগুলো বক্ষ ও উদর পৃথক করে না।

সুতরাং, স্তন্যপ্রায়ী প্রাণীতে বক্ষ ও উদর পৃথককারী অনুপ্রস্থ পেশীর ব্যবধায়ক পর্দার নাম হলো ডায়াফ্রাম।

সঠিক উত্তর: ক) ডায়াফ্রাম। 

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৫১.
'মৌমাছি' এর বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি? 
  1. ক) Periplaneta americana
  2. খ) Copsychus saularis
  3. গ) Apis indica
  4. ঘ) Plasmodium vivax
সঠিক উত্তর:
গ) Apis indica
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Apis indica
ব্যাখ্যা
সাধারণ নাম         বৈজ্ঞানিক নাম
মৌমাছি                  Apis indica
দোয়েল                   Copsychus saularis
আরশোলা               Periplaneta americana
ম্যালেরিয়া জীবাণু    Plasmodium vivax


উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
২,১৫২.
ভিটামিন B12 (কোবালামিন)-এর অভাবে প্রধানত কোন সমস্যা দেখা দেয়?
  1. রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব
  2. রক্তশূন্যতা
  3. ত্বক খসখসে হওয়া
  4. রাতকানা
সঠিক উত্তর:
রক্তশূন্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তশূন্যতা
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন B12 (কোবালামিন)-এর অভাবে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়, কারণ এটি রক্তকণিকা তৈরিতে অপরিহার্য।

• ভিটামিন B কমপ্লেক্স:
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স হলো পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের একটি গোষ্ঠী।
- এদের মধ্যে B1, B2, B3, B6, B9 ও B12 গুরুত্বপূর্ণ।
- এসব ভিটামিন দেহের বিপাক, স্নায়ু কার্যক্রম ও রক্তগঠন–এ ভূমিকা রাখে।
 
• কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (ভিটামিন B12):
- ভিটামিন B12 দেহে লাল রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- ভিটামিন B12-এর অভাবে দেহে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়।
- দীর্ঘদিন অভাব থাকলে শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
 
• ভিটামিন B12-এর অভাবজনিত প্রভাব:
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়।
- অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত হয়।
- ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়।
- এ অবস্থাকে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- রক্ত জমাট বাঁধতে বিলম্ব → এটি প্রধানত ভিটামিন K-এর অভাবে ঘটে।
- রাতকানা → ভিটামিন A-এর অভাবে হয়।
- ত্বক খসখসে হওয়া → ভিটামিন B3-এর অভাবে দেখা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

২,১৫৩.
মানব ডিম্বাণু কোথায় নিষিক্ত হয়?
  1. ডিম্বাশয়
  2. ফ্যালোপিয়ান টিউব
  3. জরায়ু
  4. যোনি
সঠিক উত্তর:
ফ্যালোপিয়ান টিউব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যালোপিয়ান টিউব
ব্যাখ্যা
• মানব ডিম্বাণু স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের ফেলোপিয়ান নালি বা ডিম্বনালিতে নিষিক্ত হয়। 

• নিষেক:
- পরিণত শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন প্রক্রিয়াকে নিষেক বলা হয়। 

• মানবদেহে যে নিষেক ঘটে তা মূলত সেকেন্ডারি উওসাইট ও পরিণত শুক্রাণুর নিউক্লিয়াসের একীভবন। 
- এ প্রক্রিয়ায় শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে তাদের হ্যাপ্লয়েড (n) ক্রোমোজোমবাহী নিউক্লিয়াসের মিলন ঘটিয়ে ডিপ্লয়েড (2n) ক্রোমোজোমবাহী জাইগোট গঠন করে।
- মানুষের নিষেক অন্তঃনিষেক ধরনের।
• নিষেক সাধারণত ফেলোপিয়ান নালি বা ডিম্বনালির উর্ধ্বাংশে সংঘটিত হয়।

• ফ্যালোপিয়ান টিউব:
- ফেলোপিয়ান টিউব হল মানব নারীর প্রজনন তন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এটি ডিম্বাশয় থেকে জরায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত পেশল নলাকার অঙ্গ, যা ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুকে মিলিত হতে এবং নিষিক্ত ডিম্বাণুকে জরায়ুতে পরিবহন করতে সাহায্য করে। 

• ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া:
→ ডিম্বাণু তৈরি: ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু তৈরি হয়।
→ ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ: ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ করে।
→ শুক্রাণুর সাথে মিলন: শুক্রাণু ফ্যালোপিয়ান টিউবে প্রবেশ করার পর তা ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে নিষেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাইগোট তৈরি করে।
→ জরায়ুতে স্থানান্তর: নিষিক্ত ডিম্বাণু (ভ্রূণ) ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে জরায়ুতে স্থানান্তরিত হয়।
→ ইমপ্লান্টেশন: নিষেকের ৬-৯ দিনের মধ্যে জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে ইমপ্লান্টেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্থাপিত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
২,১৫৪.
রক্তরসের প্রধান উপাদান কোনটি? 
  1. প্রোটিন 
  2. হরমোন 
  3. পানি
  4. এন্টিবডি 
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। 
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি। 
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে। 
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৫৫.
হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) আয়রন
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) ম্যাগনেশিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফসফরাস
ব্যাখ্যা
• ফসফরাস দাঁত ও অস্থি গঠন, রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

অন্যদিকে,
• আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিনের অন্যতম প্রধান উৎস।
• ম্যাগনেসিয়াম শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং
• আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্লান্ডের কর্মকান্ড ব্যাহত হয় এবং গলগন্ড, বামনত্ব, প্রভৃতি দেখা দেয়।

উৎস:- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৫৬.
মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা কত?
  1. ক) ১০ মিলিয়ন
  2. খ) ১০ বিলিয়ন
  3. গ) ১০০ বিলিয়ন
  4. ঘ) ৫০ মিলিয়ন
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ বিলিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা
• মস্তিস্ক হলো স্নায়ুতন্ত্র অঙ্গ।
• স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।
মস্তিষ্কে নিউরন থাকে ১০ বিলিয়ন।
• মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
• মস্তিষ্ক আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৫৭.
শ্বেত রক্ত কণিকা কোন প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে গ্রাস করে?
  1. ডিফিউশন
  2. অসমোসিস
  3. ফটোসিন্থেসিস 
  4. ফ্যাগোসাইটোসিস
সঠিক উত্তর:
ফ্যাগোসাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এইগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে এই কণিকাকে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৫৮.
প্রথম ক্লোন শিশু 'ইভ' --এর জন্ম তারিখ কত?
  1. ক) নভেম্বর ২০, ২০০২
  2. খ) ডিসেম্বর ২৬, ২০০২
  3. গ) জানুয়ারি ৭, ২০০৩
  4. ঘ) মার্চ ২৩, ২০০৩
সঠিক উত্তর:
খ) ডিসেম্বর ২৬, ২০০২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডিসেম্বর ২৬, ২০০২
ব্যাখ্যা
- বিশ্বের প্রথম ক্লোন করা শিশুর জন্ম হয় ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর। 
- প্রথম ক্লোন শিশুর নাম হলো ইভ। 
 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট 

২,১৫৯.
কোন এনজাইমটি পাকস্থলীতে শর্করার পরিপাকে ভূমিকা রাখে?
  1. ল্যাকটেজ
  2. মলটেজ
  3. অ্যামাইলেজ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 
- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে: 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটে। 

মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 
টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত: সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে। 
মলটেজ: ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬০.
নিচের কোন রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তিতে সরাসরি ছড়ায়?
  1. ডায়াবেটিস
  2. সর্দি-কাশি
  3. উচ্চ রক্তচাপ
  4. ক্যান্সার
সঠিক উত্তর:
সর্দি-কাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্দি-কাশি
ব্যাখ্যা

সংক্রামক রোগ:  
- যেসব রোগ আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে কোনো মাধ্যমে আশেপাশের অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়িয়ে পড়ে তাদের সংক্রামক রোগ বলে। 
যেমন- সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর, ইনফ্লুংয়েঞ্জা, হাম, বসন্ত, জন্ডিস ইত্যাদি। 

অসংক্রামক রোগ: 
- যেসব রোগ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ দেহে ছড়ায় না তাদের অসংক্রামক রোগ বলে। 
যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, হৃদরোগ ইত্যাদি। 

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৬১.
নিচের কোন খাদ্যটি প্রাণিজ আমিষ হিসেবে পরিচিত?
  1. মাছ
  2. বাদাম
  3. ডাল
  4. সয়াবিন
সঠিক উত্তর:
মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছ
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৬২.
উভচর প্রাণীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. দেহত্বক আঁইশযুক্ত
  2. ত্বক নরম, পাতলা ও ভেজা
  3. শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী
  4. পানিতে ডিম পাড়ে
সঠিক উত্তর:
দেহত্বক আঁইশযুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেহত্বক আঁইশযুক্ত
ব্যাখ্যা
উভচর প্রাণী:
- প্রাথমিক অবস্থায় পানিতে বাস করে এবং ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
- পরবর্তীতে স্থলে বাস করে এবং ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়।
- দেহত্বক আঁইশবিহীন।
- ত্বক পাতলা, নরম, ভেজা ও গ্রন্থিযুক্ত।
- শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী।
- পানিতে ডিম পাড়ে।
উদাহরণ- কুনোব্যাঙ, সোনাব্যাঙ ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী, NCTB।
২,১৬৩.
নিচের কোনটি বিবর্তনের একটি মতবাদ? 
  1. জড়তা তত্ত্ব
  2. কোষ তত্ত্ব
  3. ল্যামার্কিজম
  4. নিউটনীয় তত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ল্যামার্কিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যামার্কিজম
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- বিবর্তনের অপর নাম অভিব্যক্তি। 
- বিবর্তন বলতে সাধারণভাবে বুঝায় কোনো কিছু বিকশিত হওয়া, ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়া। 
- বিবর্তনের মতবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. ল্যামার্কিজম, ২. ডারউইনিজম ও ৩. নব্য ডারউইনিজম। 
- বিবর্তন এর উল্লেখযোগ্য প্রমাণগুলো হলো- 
১। অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ, 
২। ভ্রূণতত্ত্বীয় প্রমাণ, 
৩। ভৌগোলিক প্রমাণ, 
৪। শারীরবৃত্তীয় প্রমাণ, 
৫। শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ, 
৬। জিনতত্ত্বীয় প্রমাণ ও 
৭। জীবাশ্মগত প্রমাণ ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৪.
Which is the optimal pH for digesting food in the stomach?
  1. 2
  2. 4.4
  3. 6
  4. 7.2
সঠিক উত্তর:
2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2
ব্যাখ্যা
pH:

- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45.
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7.
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2. 

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৫.
আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যে প্রধানত কোন উপাদানগুলো থাকে? 
  1. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার 
  2. কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার, ক্লোরিন 
  3. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন 
  4. কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, ক্লোরিন 
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন 
ব্যাখ্যা

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি; জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২,১৬৬.
শর্করা যকৃতে সঞ্চিত হয়- 
  1. সেলুলোজরূপে
  2. হেমিসেলুলোজরূপে
  3. গ্লিসারলরূপে
  4. গ্লাইকোজেনরূপে
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেনরূপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেনরূপে
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

কাজ: 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৬৭.
হৃৎপিণ্ড কোন পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে? 
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. এপিডার্মিস
  4. পেরিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ডের গঠন: 
- হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ। 
- এটি হৃৎপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত। 
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে। 
যথা- 
১। বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম: 
- বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত। 
- এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে। 
- এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে। 

২। মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম: 
- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে। 
- এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 

৩। অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম: 
- এটি সব থেকে ভেতরের স্তর। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে। 
- অন্তঃস্তরটি হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে। 
- হৃৎপিণ্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৬৮.
বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন 
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
ব্যাখ্যা

বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা- ভাজক ও স্থায়ী টিস্যু।

যে কোষগুলো বিভাজিত হয় তা হলো ভাজক কোষ, আর ভাজক কোষ দিয়ে গঠিত টিস্যুই হলো ভাজক টিস্যু।

ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্য গুলো হলোঃ
(১) কোষগুলো জীবিত, অপেক্ষাকৃত ছোট এবং সমব্যাসীয়।
(২) ভাজক টিস্যুর কোষগুলো সর্বদাই বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন।
(৩) ভাজক টিস্যুর কোষগুলো সাধারণত আয়তকার, ডিম্বাকার, পঞ্চভুজ বা ষড়ভুজ আকৃতির হয়।
(৪) এই টিস্যুর কোষগুলো সেলুলোজ নির্মিত প্রাচীর বিশিষ্ট হয়।
(৫) কোষের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড় আকারের এবং দানাদার ঘন সাইটোপ্লাজমে পূর্ণ থাকে।
(৬) ভাজক টিস্যুর কোষে সাধারণত কোষ গহবর থাকে না।
(৭) কোষ গুলো ঘন সন্নিবিষ্ট হওয়ায় এদের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে না।

যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম সে টিস্যুকে স্থায়ী টিস্যু বলে। এ টিস্যুর কোষগুলো পূর্ণভাবে বিকশিত এবং সঠিক আকার-আকৃতি বিশিষ্ট অর্থাৎ এরা আকার-আকৃতি ও বিকাশে স্থায়িত্ব লাভ করেছে, তাই এরা স্থায়ী টিস্যু। বিশেষ অবস্থা ছাড়া এরা আর বিকশিত হতে পারে না। ভাজক টিস্যু হতে কোষের পূর্ণ বিকাশ লাভের পর বিভাজন ক্ষমতা স্থগিত হওয়ার মাধ্যমে স্থায়ী টিস্যুর উদ্ভব হয়।
স্থায়ী টিস্যুর কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো–
খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করা।
দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। 

২,১৬৯.
কোন খাদ্যে লৌহের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) পালংশাক
  2. খ) লালশাক
  3. গ) কঁচুশাক
  4. ঘ) পুঁইশাক
সঠিক উত্তর:
গ) কঁচুশাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কঁচুশাক
ব্যাখ্যা
খনিজ লবণ:
- দেহ কোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যক।
- মানব দেহে Ca, Fe, S, Zn, Na, K, ইত্যাদি খনিজ লবণ থাকে। এগুলো খাদ্য ও মানব দেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব ও অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে।
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান।
- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসব্জি, লাল শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম। 
- কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কঁচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে
- দুধ, মাছ, বাদাম, ডাল হতে ফসফরাস পাওয়া যায়।
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে।
- মাছ, মাংস ও খাবার লবণে ক্লোরিন থাকে।
- সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস ও শ্যাওলায় আয়োডিন থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,১৭০.
বৃক্কের মাধ্যমে কোন বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশিত হয়?
  1. ক) নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য
  2. খ) কার্বন ডাই-অক্সাইড
  3. গ) পিত্ত রঞ্জক
  4. ঘ) ঘাম
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য
ব্যাখ্যা
প্রাণিদেহের সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থের শতকরা ৭৫ ভাগ অংশ রেচনকার্য সম্পন্ন করে বৃক্ক। এজন্য বৃক্ককে প্রধান রেচন অঙ্গ বলা হয়। মানবদেহে ফুসফুসের সাহায্যে কার্বন ডাই অক্সাইড, ত্বকের সাহায্যে ঘাম জাতীয় পদার্থ, যকৃতের সাহায্যে পিত্তরঞ্জক এবং বৃক্কের সাহায্যে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ বা মূত্র (টৎরহব) নিষ্কাশিত হয়। সকল ধরনের বর্জ্য বা রেচন পদার্থের নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন পদ্ধতি বলা হলেও, প্রকৃতপক্ষে রেচন বলতে আমিষ জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে বহিষ্কার করার পদ্ধতিকে বুঝায়। কাজেই মূত্রই মানবদেহের একটা প্রধান রেচন দ্রব্য এবং বৃক্কই মূত্র নিষ্কাশনের প্রধান অঙ্গ।
২,১৭১.
শর্করা কোন উপাদানগুলোর সমন্বয়ে তৈরি হয়?
  1. ক) কার্বন ও অক্সিজেন
  2. খ) অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
  3. গ) কার্বন ও নাইট্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন - 

উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৭২.
যকৃতের বেশির ভাগ অংশ মানবদেহের কোথায় অবস্থিত?
  1. উপরে ডানদিকে
  2. উপরে বামদিকে
  3. পাকস্থলির নিচে
  4. অগ্ন্যাশয়ের নিচে
সঠিক উত্তর:
উপরে ডানদিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরে ডানদিকে
ব্যাখ্যা
যকৃৎ (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃৎ বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃৎ মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। 
- ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা। 
- পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। 
- এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 

যকৃতের অবস্থান:

figure: Liver in the human body (image source: hepctrust.org.uk)

যকৃতের কাজ: 
- যকৃৎ থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। 
- তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৩.
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে কোনটি?
  1. ধমনি
  2. শিরা
  3. কৈশিকনালি
  4. রক্তকণিকা
সঠিক উত্তর:
ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধমনি
ব্যাখ্যা
• ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।

• রক্তনালি:

- যে নালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়, তাকে রক্তনালি বলে।
- মানুষের দেহে তিন ধরনের রক্তনালি আছে। যথা- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালি।

• ধমনি:
- যে সকল রক্তবাহী নাশি হূৎপিণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে, তাকে ধমনী বলে।
- এরা দেহের ভিতর দিকে অবস্থিত।
- ধমনির প্রাচীর পুরু পর ছোট এবং এর গহ্বরে কপাটিকা থাকে না।
- ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।

• শিরা:
- যে সকল রক্তনালি দ্বারা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে তাকে শিরা বলে।
- শিরা প্রাচীর অপেক্ষকৃত পাতলা।
- এদের গহ্বরটি বড় ও গহ্বরের প্রাচীরপাত্রে কপাটিকা থাকে।
- দেহের কৈশিক জালিকা থেকে শিরার উৎপত্তি ঘটে।
- কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া শিরা সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত বহন করে।

• কৈশিকনালি:
- ধমনি ক্রমান্বয়ে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত অতিসূক্ষ্ম নালি তৈরি করে। এই সকল সূক্ষ্মনালিকে কৈশিকনালি বা কৈশিক জালিকা বলে।
- কৈশিকনালি থেকে শিরার উৎপত্তি।
- এক স্তরবিশিষ্ট পাতলা এপিথেলিয়াল কোষ দিয়ে কৈশিকনালির প্রাচীর গঠিত।
- কৈশিকনালি দেহকোষের চারপাশে অবস্থান করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,১৭৪.
কোষ বিভাজনের সময় মাকুযন্ত্র গঠন করে কোনটি?
  1. ক) মাইক্রোফিলামেন্ট
  2. খ) ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট
  3. গ) মাইক্রোটিউবিউলস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) মাইক্রোটিউবিউলস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাইক্রোটিউবিউলস
ব্যাখ্যা

মাইক্রোটিউবিউলস কোষ বিভাজনের সময় মাকুযন্ত্র গঠন করে। 
কোষ বিভাজনের সময় মাকুযন্ত্র গঠন করা এবং সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে সংযুক্ত হয়ে ক্রোমসোমকে পৃথক করতে পাশাপাশি বিপরীত মেরুতে পৌছাতে সাহায্য করে।
মাইক্রোটিউবিউলস (Microtubules)-
ভৌত গঠন (Physical Structure) : মাইক্রোটিউবিউলস দেখতে লম্বা, শাখাহীন, ফাঁপা টিউব জাতীয়।
রাসায়নিক গঠন (Chemical Composition) : প্রতিটি মাইক্রোটিউবিউলসে ১৩টি প্রোটোটিউবিউল সর্পিলাকারে সজ্জিত থাকে। মাইক্রোটিউবিউলসের প্রতিটি প্রোটোটিউবিউল ডাইমেরিক প্রোটিন দিয়ে গঠিত।

কাজ :
১. ফ্ল্যাজেলা, সিলিয়া ইত্যাদির বিচলনে সাহায্য করে।
২. কোষ বিভাজনের সময় মাকুযন্ত্র গঠন করে; সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে সংযুক্ত হয়ে ক্রোমোসোমকে পৃথক করতে এবং বিপরীত মেরুতে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
৩. মাইক্রোফাইব্রিলের বিন্যাস নির্দেশ করে। এরা কোষ প্রাচীর গঠনেও সাহায্য করে।
৪. সেল মেমব্রেন, নিউক্লিয়ার এনভেলপ ও অন্যান্য অঙ্গাণুর সাথে সংযুক্ত থেকে এদের সাথে যোগাযোগ ও পরিবহন কার্যে সাহায্য করে।
৫. এরা সাইটোস্কেলিটন বা কোষীয় কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে এবং কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
৬. যোগাযোগ ও পরিবহনে সাহায্য করে।

সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

২,১৭৫.
ইনসুলিনের অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. রাতকানা
  2. রিকেটস
  3. ডায়াবেটিস
  4. আমাশয়
সঠিক উত্তর:
ডায়াবেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা

• ডায়াবেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৭৬.
ভাইরাসজনিত রোগ নয় কোনটি?
  1. ক) জন্ডিস
  2. খ) এইডস
  3. গ) নিউমোনিয়া
  4. ঘ) চোখ ওঠা
সঠিক উত্তর:
গ) নিউমোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা

নিউমোনিয়া হলো ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। এ রোগের জীবাণুর নাম হলো স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া।

অন্যদিকে জন্ডিস, এইডস এবং চোখ ওঠা হল ভাইরাস জনিত রোগ।

২,১৭৭.
কোন রক্ত গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়?
  1. ক) এ
  2. খ) ও
  3. গ) এবি
  4. ঘ) বি
সঠিক উত্তর:
খ) ও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ও
ব্যাখ্যা
'ও' গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিজেন থাকে না যার কারণে যেকোন গ্রুপের রক্তকেই ‘ও’ গ্রুপের রক্ত দেওয়া যায়। এজন্যে ‘ও’ গ্রুপকে সার্বজনীন দাতা গ্রুপ বলে।

এবি গ্রুপের রক্তের সিরামে কোন অ্যান্টিবডি না থাকায় সকল গ্রুপের রক্তই এবি গ্রুপ নিতে পারে বিধায় এবি গ্রুপকে বলা হয় সার্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ।

সূত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৭৮.
নিচের কোনটি শ্বেত রক্তকনিকার অংশ নয়?
  1. মনোসাইট
  2. বেসোফিল
  3. নিউট্রোফিল
  4. ক্রিয়েটিনিন
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়েটিনিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়েটিনিন
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা।
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়।
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
- এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪।
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬° - ৩৮° সেলসিয়াস।
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত।
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%।

রক্তের উপাদান:
- মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত।
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে।
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।


- শ্বেতকণিকার ধরনগুলো হলো দানাদার কোষ (নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল, বেসোফিল) ও অদানাদার কোষ (মনোসাইট ও লিম্ফোসাইট)।

অন্যদিকে,
- ক্রিয়েটিনিন রক্তরস বা প্লাজমার অংশ। 

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৯.
খেজুরে প্রধানত কোনটি পাওয়া যায়?
  1. গ্লুকোজ
  2. ফ্রুকটোজ
  3. সুক্রোজ
  4. সেলুলোজ
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
• শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়।
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে।

• শর্করার উদ্ভিজ উৎস:
- শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি।
- গ্লুকোজ: আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদি।
- ফ্রুকটোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রুকটোজ থাকে।
- সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
- সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে।

• শর্করার প্রাণিজ উৎস:
- ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে।
- গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে গ্লাইকোজেন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
২,১৮০.
টিবি রোগের জন্য সাধারণত কোন জীবাণু দায়ী? 
  1. প্রোটোজোয়া
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

• টিবি রোগের জন্য সাধারণত ব্যাকটেরিয়া দায়ী। বিশেষভাবে, এটি Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এই ব্যাকটেরিয়া প্রধানত ফুসফুসে সংক্রমণ সৃষ্টি করে, কিন্তু শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তি খাঁচা, কাশির ফোঁটা বা স্পর্শের মাধ্যমে অন্যের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে। টিবি রোগ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিকভাবে হালকা লক্ষণ যেমন হাঁপানি, কাশি, জ্বর, ওজন কমা দেখা দেয়। ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি এবং রোগের প্রকৃতির কারণে টিবি রোগের চিকিৎসায় সাধারণভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, যা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। সুতরাং, টিবি রোগের মূল দায়ী জীবাণু হলো ব্যাকটেরিয়া।

- সঠিক উত্তর: গ) ব্যাকটেরিয়া।

• যক্ষ্মা: 
- যক্ষ্মা একটি পরিচিত বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।

- যেকোনো লোক, যেকোনো সময়ে এ রোগ দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।
- যারা অধিক পরিশ্রম করে, দুর্বল, স্যাঁতসেঁতে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে, অপুষ্টিতে ভোগে অথবা যক্ষ্মা রোগীর সাথে বসবাস করে, তারা এ রোগে সহজে আক্রান্ত হয়। 
- যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসের রোগ নয়। যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস এরকম দেহের প্রায় যেকোনো স্থানে হতে পারে।
- দেহে এ রোগের আক্রমণ ঘটলে সহজে এর লক্ষণ প্রকাশ পায় না। যখন জীবাণুগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধক শ্বেত রক্তকণিকাকে পরাস্ত করে দেহকে দুর্বল করে, তখনই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

• রোগের কারণ:
- সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।
- তবে Mycobacterium গণভুক্ত আরও কিছু ব্যাকটেরিয়া যক্ষ্মা সৃষ্টি করতে পারে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে অতি সহজে দেহে রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

২,১৮১.
রেটিনার প্রধান কাজ কী? 
  1. রক্ত সরবরাহ করা
  2. চোখকে আর্দ্র রাখা
  3. বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করা
  4. আলোর প্রতিফলন ঘটানো
সঠিক উত্তর:
বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি করা
ব্যাখ্যা
রেটিনা (Retina): 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী। 
- এতে আলোক সংবেদী কোষ (Photoreceptor) থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 
- রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮২.
রক্তরসে কোন অ্যান্টিবডি সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে?
  1. IgA
  2. IgG
  3. IgE
  4. IgM
সঠিক উত্তর:
IgE
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IgE
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৩.
লিউকেমিয়ায় কোন রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হয়? 
  1. লোহিত রক্ত কণিকা 
  2. প্লাজমা 
  3. অনুচক্রিকা 
  4. শ্বেত রক্ত কণিকা 
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা 
ব্যাখ্যা

রক্ত ও এর অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- রক্ত হলো প্রাণীদেহের একটি লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, লবণাক্ত এবং সামান্য ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 

রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা: 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। 
- এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

৩। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে (৫০,০০০-১,০০০,০০০) একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৫। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৭। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৮৪.
নিচের কোনটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের তিনটি ‘D’-এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. Diet
  2. Drug
  3. Disease
  4. Discipline
সঠিক উত্তর:
Disease
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Disease
ব্যাখ্যা
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের তিনটি ‘D’-এর অন্তর্ভুক্ত নয়- Disease

বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes): 

- অগ্ন্যাশয়ের ভিতর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস নামক এক ধরনের গ্রন্থি আছে, এই গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন (Insulin) নিঃসৃত হয়। 
- ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন, যা দেহের শর্করা পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে। 
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের, টাইপ-1 এবং টাইপ-2 । 
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়। 
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। 
- তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও কোনো না কোনো পর্যায়ে ইনসুলিনের স্থায়ী ঘাটতি হয়ে যেতে পারে কিংবা বিভিন্ন অসুখ বা চিকিৎসাপদ্ধতির অংশ হিসেবে সেই সব ঔষধ বন্ধ রাখতে হতে পারে, তখন ইনসুলিন ছাড়া উপায় থাকে না। 
- এ রোগটি সাধারণত বংশগতি এবং পরিবেশের প্রভাবে হয়ে থাকে, এটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়।  
- রক্ত ও প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাণের চেয়ে বেড়ে গেলে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
- লক্ষণগুলো হলো ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অধিক পিপাসা লাগা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও দেহের ওজন কমতে থাকা, দুর্বল বোধ করা, চোখে কম দেখা, চামড়া খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ক্ষতস্থান সহজে না শুকানো ইত্যাদি। 

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: 
- রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- চিকিৎসা করে ডায়াবেটিস রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না, কিন্তু এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 
- ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক। 
যেমন: Discipline, Diet ও Drug
(i) শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া নিয়মিত এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, রোগীর দেহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। 

(ii) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়। তবে যার ডায়াবেটিস নেই, তার মিষ্টি খাওয়া বা না খাওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই। 

(iii) ঔষধ সেবন (Drug): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যদি ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান, তখন তাকে বসিয়ে গ্লুকোজ বা চিনির পানি খাইয়ে দিলে অনেক সময় খারাপ পরিণতি এড়ানো যেতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৮৫.
পূর্ণবয়স্কদের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত হয়?
  1. ৯০/৬০ mmHg
  2. ১২০/৫০ mmHg
  3. ১২০/৮০ mmHg
  4. ১৬০/১১০ mmHg
সঠিক উত্তর:
১২০/৮০ mmHg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০/৮০ mmHg
ব্যাখ্যা
• পূর্ণবয়স্কদের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ mmHg। 

• রক্তচাপ (Blood Pressure):
- রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে।

• হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধমনির গায়ে রক্তচাপের মাত্রা সর্বাধিক থাকে। একে সিস্টোলিক চাপ (Systolic Pressure) বলে।
-  হৃৎপিন্ডের (প্রকৃতপক্ষে নিলয়ের) প্রসারণ বা ডায়াস্টোল অবস্থায় রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে। একে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic Pressure) বলে।

• চিকিৎসকদের মতে, পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্তচাপ (Blood pressure) সাধারণত ১২০/৮০ mmHg |
- রক্তের সিস্টোলিক (Systolic) চাপের আদর্শ মান ১২০ mmHg এর নিচে।
- রক্তের ডায়াস্টোলিক (Diastolic) চাপের আদর্শ মান ৮০ mmHg এর নিচে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২,১৮৬.
'শরীরের ওজন অতিরিক্ত' বিএমআই অনুযায়ী নিচের কোন মানকে নির্দেশ করে?
  1. ১৮.৫ - ২৪.৯
  2. ২৫.০-২৯.৯
  3. ৩০.০ - ৩৪.৯
  4. ৩৫.০-৩৯.৯
সঠিক উত্তর:
২৫.০-২৯.৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫.০-২৯.৯
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে।
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
  বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার) । 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৮৭.
রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ-এর মধ্যে কোন ধরনের বৈচিত্র্য বিদ্যমান? 
  1. জিনগত বৈচিত্র্য 
  2. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য 
  4. স্বভাবগত বৈচিত্র্য 
সঠিক উত্তর:
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
ব্যাখ্যা

জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৮৮.
নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. পেলেগ্রা 
  2. রিকেটস 
  3. বেরিবেরি 
  4. পারকিনসন 
সঠিক উত্তর:
পেলেগ্রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেলেগ্রা 
ব্যাখ্যা

ভিটামিন B কমপ্লেক্স: 
- পানিতে দ্রবণীয় ১২টি ভিটামিন B রয়েছে, ভিটামিনের এই গুচ্ছকে ভিটামিন B কমপ্লেক্স বলা হয়। 
- দেহের স্বাভাবিক সুস্থতার জন্য খাবারে ভিটামিন B কমপ্লেক্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- দেহের বৃদ্ধি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ, দেহকোষে বিপাকীয় কাজ, প্রজনন ইত্যাদি সম্পন্ন করার জন্য খাদ্যে ভিটামিন B কমপ্লেক্সের উপস্থিতি অতি আবশ্যক। 
- ভিটামিন B কমপ্লেক্সভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলোর উৎস এবং অভাবজনিত রোগ নিচে দেওয়া হলো- 
১। থায়ামিন (B1): 
উৎস: ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, ডাল, তেলবীজ, বাদাম, যকৃৎ, টাটকা ফল ও সবজি। প্রাণিজ উৎসের মাঝে রয়েছে যকৃত, ডিম, দুধ, মাছ ইত্যাদি। 
অভাবজনিত রোগ: দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। 

২। রাইবোফ্ল্যাভিন (B2): 
উৎস: যকৃৎ, দুধ, ডিম, সবুজ শাকসবজি, গাছের কচি ডগা, অঙ্কুরিত বীজ। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়। 

৩। নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3): 
উৎস: মাংস, যকৃৎ, আটা, ডাল, বাদাম, তেলবীজ, ছোলা, শাকসবজি। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়, পেলেগ্রা রোগের প্রধান উপসর্গ হলো ত্বকে প্রদাহ, ডায়রিয়া এবং স্মৃতিভ্রংশ হওয়া। 

৪। পাইরিডক্সিন (B6): 
উৎস: চাল, আটা, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ছোলা, ছত্রাক, বৃক্ক, ডিমের কুসুম। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে খাওয়ায় অরুচি, বমিভাব ও অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 

৫। কোবালামিন বা (B12) সায়ানোকোবালামিন: 
উৎস: যকৃৎ, দুধ, মাছ, মাংস, ডিম, পনির, বৃক্ক প্রভৃতি। 
অভাবজনিত রোগ: এর অভাবে রক্তস্বল্পতা রোগ দেখা দেয়। স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৮৯.
এপিলেপসি রোগের আরেকটি পরিচিত নাম কী?
  1. স্ট্রোক
  2. ব্রঙ্কাইটিস
  3. মৃগী রোগ
  4. পক্ষাঘাত
সঠিক উত্তর:
মৃগী রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃগী রোগ
ব্যাখ্যা
এপিলেপসি (Epilepsy): 
- এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিতে থাকে। 
- অনেক ক্ষেত্রে এই রোগে রোগীরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে, এই রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়। 
- অনেক ক্ষেত্রে এই রোগের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করেই সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, শরীর কাঁপুনি ও খিঁচুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। 
- আগুন বা পানির সাথে এপিলেপসির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু রোগাক্রান্ত অবস্থায় কোথাও পড়ে গেলে রোগী নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। এই কারণে এসব রোগীকে জলাশয় বা আগুন কিংবা অন্যান্য বিপজ্জনক বস্তু বা স্থান থেকে দূরে রাখতে হয়। 

- এপিলেপসির মূল কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে জানা যায়নি। 
- স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের মৃগী রোগ দেখা দেয়। 
- মাথায় আঘাতের কারণে ম্যানিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, জন্মগত মস্তিষ্কের বিকৃতি, টিউমার ইত্যাদি কারণেও এপিলেপসির উপসর্গ দেখা দেয়। 
- এপিলেপসি যেকোনো বয়সে হতে পারে। 
- কোনো কোনো এপিলেপসির কোনো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব নেই, আবার কোনোটা মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। 
- তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এপিলেপসির ধরন নির্ণয় করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করা প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৯০.
ত্বকের স্তর-
  1. ক) ১ টি
  2. খ) ২ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৭ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ টি
ব্যাখ্যা
ত্বকের দুইটি স্তর। অন্তঃত্বক এবং বহিঃত্বক।
উৎসঃ ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,১৯১.
শিশুদের রিকেটস রোগটি কোন খনিজের অভাবজনিত রোগ?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. জিংক 
  3. সোডিয়াম 
  4. আয়রন 
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

- শিশুদের রিকেটস রোগটি মূলত ক্যালসিয়াম-এর অভাবজনিত রোগ। শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে ক্যালসিয়াম সঠিকভাবে শোষিত হতে পারে না, যার ফলে হাড় নরম হয়ে যায় এবং বেঁকে যায়। 

ক্যালসিয়াম (Calcium): 

- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত। শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক। 
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে। এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। 

ক্যালসিয়ামের উৎস: 
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি। 
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা: 
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে। 
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে। 
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে। 

ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ: 
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়। 
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia)- এতে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৯২.
খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল ও গিলতে সাহায্য করে কোনটি?
  1. এনজাইম
  2. মলটোজ
  3. মিউসিন
  4. ট্রিপসিন
সঠিক উত্তর:
মিউসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিউসিন
ব্যাখ্যা
লালা: 
- লালা একপ্রকার বর্ণহীন তরল পদার্থ।
- মুখের পেছনে অবস্থিত লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসৃত হয়।
- খাদ্য পরিপাকে লালার বিশেষ ভূমিকা আছে।
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত মিউসিন খাদ্যবস্তুকে পিচ্ছিল করে ও গিলতে সাহায্য করে
- লালায় এক ধরনের অনুঘটক বা এনজাইম থাকে।

এনজাইম: 
- এনজাইম হলো এমন একটি বস্তু, যা খাদ্যবস্তুর সাথে মিশে রাসায়নিক ক্রিয়ায় সাহায্য করে, কিন্তু ক্রিয়া-বিক্রিয়া শেষে নিজে অপরিবর্তিত থাকে। 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পর্যন্ত এনজাইম ভাল কাজ করে। 
• নির্দিষ্ট এনজাইম নির্দিষ্ট কাজ করে। 
যেমন- ট্রিপসিন এনজাইম শুধুমাত্র আমিষের উপর ক্রিয়া করে। 
- লালার এনজাইম শ্বেতসারকে পরিবর্তন করে শর্করায় (মলটোজ) পরিণত করে, এ কারণে শর্করা জাতীয় খাবার চিবানোর পর কিছুক্ষণ মুখে রাখলে মিষ্টি লাগে। 
- জিহ্বা খাদ্যবস্তু গিলতে সাহায্য করে। 
- মুখের শেষ প্রান্ত থেকে দুটি নল দেহের ভিতরের দিকে নেমে গেছে, এদের একটি অন্ননালী ও অন্যটি শ্বাসনালি। 
- শ্বাসনালির পেছনে নলের মতো অংশটিকে অন্ননালী বলে। এই নালি দিয়ে খাদ্য ও পানীয় পাকস্থলিতে পৌঁছায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২,১৯৩.
ভিটামিন B1 কমপ্লেক্স এর অপর নাম কী?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) রাইবোফ্ল্যাভিন
  3. গ) পিরিডক্সিন
  4. ঘ) সায়ানোকোবালামিন
সঠিক উত্তর:
ক) থায়ামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) থায়ামিন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন B কমপ্লেক্স
- থায়ামিন (B1) - দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- রাইবোফ্ল্যাভিন (B2) - এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়।
- নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) - অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। 
- পিরিডক্সিন (B6) - এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দেয়।।
- কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (B12) - এর অভাবে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়।

সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
২,১৯৪.
কোন অঙ্গাণুকে দেহের চালক বলা হয়?
  1. কান
  2. নাক
  3. চোখ
  4. মস্তিষ্ক
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা
সংবেদি অঙ্গ: 
- দেহের চালক হচ্ছে মস্তিষ্ক। 
- মস্তিষ্ককে মগজ বলা হয়, দেহের সব কাজই চলছে মস্তিষ্কের হুকুমে। 
- মস্তিষ্ক থাকে মাথার খুলির মধ্যে, খুলির মাঝখানে বসেই দেহের বাইরের ও ভিতরের কাজকর্ম চালায়। 
- চোখ, কান, নাক, ত্বক ও জিহ্বা বাইরের সকল খবরা-খবর জোগাড় করে মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয়। 

কান বা কর্ণ: 
- কান না থাকলে মানুষ শুনতে পেত না, কারণ কথা বলা শিখতে হয় শুনে শুনে। 
- মাথার দুই পাশে দুটো কান বা কর্ণ আছে। 
- কর্ণ বা কান শুনতে ও দেহের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান অঙ্গ হিসেবেও কাজ করে। 
- কান তিনটি অংশে বিভক্ত। 
যথা- 
১। বহিঃকর্ণ: 
- পিনা, কর্ণকুহর ও কর্ণপটহ নিয়ে বহিঃকর্ণ গঠিত। 
(ক) পিনা: 
- এটি কানের বাইরের অংশ, মাংস ও কোমলাস্থি দিয়ে গঠিত। 
- শব্দ কর্ণকুহরে পাঠানো এর প্রধান কাজ। 
(খ) কর্ণকুহর: 
- পিনা একটি নালির সাথে যুক্ত, এ নালিটিকে কর্ণকুহর বলে। 
(গ) কর্ণপটহ: 
- কর্ণকুহর শেষ হয়েছে একটা পর্দায়, এ পর্দাটির নাম কর্ণপটহ বা টিমপেনিক পর্দা। 
- কর্ণপটহ বহিঃকর্ণের শেষ অংশ। 

২। মধ্যকর্ণ: 
- বহিঃকর্ণ ও অন্তঃকর্ণের মাঝখানে মধ্যকর্ণ অবস্থিত। 
- এটা একটা বায়ুপূর্ণ থলি যার মধ্যে ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস নামে তিনটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হাড় বা অস্থি রয়েছে। 
- অস্থিসমূহের মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ বা ঢেউ অন্তঃকর্ণে পৌঁছায়। 
- কানের সাথে গলার সংযোগের জন্য ইউস্টেশিয়ান টিউব নামে একটি নল আছে, এ নলটির কাজ হলো কর্ণপটহের বাইরের ও ভেতরের বায়ুর চাপ সমান রাখা। 

৩। অন্তঃকর্ণ: 
- এটি অডিটরি ক্যাপসুল অস্থির মধ্যে অবস্থিত। অন্তঃকর্ণ দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। 
(ক) ইউট্রিকুলাস ও (খ) স্যাকুলাস। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,১৯৫.
কোন রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়?
  1. ক) ও পজেটিভ
  2. খ) এবি পজেটিভ
  3. গ) ও নেগেটিভ
  4. ঘ) এবি নেগেটিভ
সঠিক উত্তর:
গ) ও নেগেটিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ও নেগেটিভ
ব্যাখ্যা
 
ও নেগেটিভ - সর্বজনীন দাতা গ্রুপ।
এবি পজেটিভ - সর্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ।
সূত্রঃ www.thebloodcenter.org
২,১৯৬.
নিচের কোনটি যোজক কলার অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৃদপিণ্ড
  2. সুষুম্নাকাণ্ড
  3. হাড়
  4. জিহ্বা
সঠিক উত্তর:
হাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাড়
ব্যাখ্যা
প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গ বা একই অঙ্গের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে যোজক কলা।
- এই কলা দ্বারা সৃষ্ট কঙ্কাল প্রাণীর দেহ কাঠামোগত রূপ প্রদান করে। কোনো কোনো যোজক কলা শরীরের প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনী পদার্থ পরিবহণে সাহায্য করে।
- এই কলা মূলত ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপত্তি লাভ করে।

গঠন প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে এদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
এই ভাগ তিনটি হলো- 
১. প্রকৃত যোজক কলা: কোলাজেন টিস্যু, মেদকলা ইত্যাদি।
২. কঙ্কাল যোজক কলা: হাড়, তরুণাস্থি।
৩. তরল যোজক কলা: রক্ত, লসিকা। 

- হৃদপিণ্ড এবং জিহ্বা হলো পেশিকলার অন্তর্ভুক্ত। 
- সুষুম্নাকাণ্ড হলো স্নায়ুকলার অন্তর্ভুক্ত। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২,১৯৭.
কোনটিকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়?
  1. ক) রাইবোজোম
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
সঠিক উত্তর:
গ) নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- জীবদেহের প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৯৮.
দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে -
  1. হিমোগ্লোবিন 
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. লোহিত রক্তকণিকা 
  4. অণুচক্রিকা 
সঠিক উত্তর:
অণুচক্রিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অণুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা: 
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। 
যথা - 
১. লোহিত রক্তকণিকা, 
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও 
৩. অনুচক্রিকা। 

লোহিত রক্তকণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস নেই। 
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 
- লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। 

শ্বেত রক্তকণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন। 
- শ্বেত রক্ত কণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়। 

অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের। 
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০দিন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৯৯.
মানুষের করোটিক স্নায়ু কয় জোড়া?
  1. ১০ জোড়া
  2. ১২ জোড়া
  3. ১৪ জোড়া
  4. ১৫ জোড়া
সঠিক উত্তর:
১২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০০.
প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কোন উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত হয়?
  1. কার্বন, হাইড্রোজন, হিলিয়াম এবং অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজন, অক্সিজেন, সোডিয়াম এবং নাইট্রোজেন
  3. কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন
  4. কার্বন, হাইড্রোজন, পটাশিয়াম এবং নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: আমিষ, শর্করা ও স্নেহ। 

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। যথা- 

১। প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃত ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। 
- এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

২। উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
- অনেক সময় দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।