বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৯ / ২৩ · ১,৮০১১,৯০০ / ২,২২৭

১,৮০১.
মানুষের চোখের শ্বেত মন্ডলের সামনের অংশের নাম -
  1. রেটিনা
  2. কর্নিয়া
  3. আইরিস
  4. তারার
সঠিক উত্তর:
কর্নিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্নিয়া
ব্যাখ্যা
চোখ: 
- কর্নিয়ার পেছনে অস্বচ্ছ আবরণীকে আইরিশ বলা হয়। 
- একটি শক্ত গোলকের মধ্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থের সমন্বয়ে চক্ষু গঠিত, গোলকটির নাম অক্ষি গোলক। 
- গোলকটির বাইরের অংশ একটি শক্ত সাদারঙের অস্বচ্ছ তন্তু দিয়ে আবৃত, এই আবরণীর নাম শ্বেতমন্ডল। 
- শ্বেত মন্ডলের সামনে খানিকটা অংশ উত্তল ও স্বচ্ছ, এই অংশের নাম কর্নিয়া। 
- শ্বেত মন্ডলের ভেতরের গায়ে কালো রঙের আস্তরণ থাকে এক বলে কৃষ্ণমন্ডল। 
- আইরিশ চোখের উপর পতিত আলো নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন মানুষের আইরিশের রঙ বিভিন্ন হয়। 
- অক্ষিগোলকের ভেতরের পৃষ্ঠে গোলাপী রঙের ঈষদচ্ছ আলোক সংবেদন আবরণকে রেটিনা বলে। 
- এটি রড এবং কোন নামে কতগুলো স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত এবং এগুলো চক্ষু স্নায়ুর সাথে সংযুক্ত থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০২.
নিচের কোনটি মানবদেহের রাসয়নিক দূত হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) উৎসেচক
  2. খ) হরমোন
  3. গ) স্নায়ুতন্ত্র
  4. ঘ) পেশী
সঠিক উত্তর:
খ) হরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হরমোন
ব্যাখ্যা

যে জৈব-রাসায়নিক তরল শরীরের কোনো কোষ বা গ্রন্থি থেকে শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশে নিঃসরিত হয়ে রক্তরস বা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে বাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্রিয়ার পর ধ্বংস প্রাপ্ত হয় তাদের হরমোন বলে।

সে হিসেবে হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলা যায়।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,৮০৩.
অমরা গ্রন্থি থেকে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়?
  1. প্রোজেস্টেরন
  2. থাইরক্সিন
  3. অ্যাড্রানালিন
  4. ইস্ট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
প্রোজেস্টেরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোজেস্টেরন
ব্যাখ্যা

• অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এই গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে এবং যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।

• ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এই অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে, ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে, গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

• অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে এবং স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮০৪.
কোন প্রাণী জিহ্বার সাহায্যে শোনে?
  1. ঘড়িয়াল
  2. কচ্ছপ
  3. গিরগিটি
  4. সাপ
সঠিক উত্তর:
সাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ
ব্যাখ্যা

- সাপ জিহ্বার সাহায্যে শোনে। সাপের কান নেই।
- গিরগিটি গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে।
- কচ্ছপ দীর্ঘজীবী প্রাণী। কচ্ছপ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
- ঘড়িয়াল বিরল প্রজাতির মিঠা জলের কুমির বর্গের সরীসৃপ প্রাণী।

১,৮০৫.
থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে রক্তের কোন কণিকা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়? 
  1. অনুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. লোহিত রক্ত কণিকা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে।

৬। পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০৬.
মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের- 
  1. অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেলে
  2. এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেলে
  3. এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
  4. এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেলে
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০৭.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. আয়োডিন
  4. লৌহ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা
হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়। 
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা। 
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে। 
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে। 
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে। 

- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৮.
রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে কোন নালির মাধ্যমে?
  1. ফুসফুসীয় ধমনী
  2. ধমনী
  3. শিরা
  4. কৈশিক জালিকা
সঠিক উত্তর:
শিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরা
ব্যাখ্যা
শিরা (Vein):

• যেসব নালির ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত বা সঞ্চালিত হয়, তাকে রক্তনালি বা রক্তবাহিকা বলে।
• গঠন, আকৃতি এবং কাজের ভিত্তিতে রক্তবাহিকা বা রক্তনালি তিন ধরনের - ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা।
• ধমনী: অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে সমগ্র দেহে নিয়ে যায়।  
• কৈশিক জালিকা: ক্ষুদ্রতম ধমনি এবং ক্ষুদ্রতম শিরার মধ্যে সংযোগ সাধন করে। 
• শিরা: যেসব নালি দিয়ে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তাদের শিরা বলে। 
• শিরার প্রাচীর ধমনির মতো তিন স্তরবিশিষ্ট।
• শিরার প্রাচীর কম পুরু, কম স্থিতিস্থাপক ও কম পেশিময়।
• এদের নালিপথ একটু চওড়া এবং কপাটিকা থাকে।
• ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে আসা শিরাটি ছাড়া অন্য সব শিরা কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে।
• ফুসফুসীয় শিরা বা পালমোনারি শিরা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে পৌঁছে দেয়।
• একইভাবে, পালমোনারি ধমনী কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুস্ফুসে নিয়ে যায়। 
• লসিকা এক রকম হালকা হলুদ বর্ণের স্বচ্ছ ক্ষারীয় তরল যোজক কলা।


উৎস: উচ্চ-মাধ্যামিক জীববিজ্ঞান বই। 
১,৮০৯.
HIV সাধারণত কোন মাধ্যমে সংক্রমিত হয় না? 
  1. রক্ত 
  2. মাতৃ দুধ 
  3. পানি বা খাদ্য 
  4. যৌন সংস্পর্শ 
সঠিক উত্তর:
পানি বা খাদ্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি বা খাদ্য 
ব্যাখ্যা

এইডস (AIDS): 
- এইডস একটি সংক্রামক রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। 
- এইডস হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome (AIDS)।
- ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এইডস রোগ শনাক্ত হয়। তবে, আফ্রিকার দেশগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। 
- মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থাকে। 
- Human Immune Deficiency Virus (HIV) নামক ভাইরাসের আক্রমণে দেহের এই স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শরীরে নানা ধরনের রোগ যেমন-শ্বাসতন্ত্রের রোগ, মস্তিষ্কের রোগ, পরিপাকতন্ত্রের রোগ, টিউমার ইত্যাদি হয়। 
- এইডস এর চিকিৎসা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই একে মরণব্যাধি রোগ বলা হয়। 

এইডস সংক্রমণ: 
- এইডস যেহেতু সংক্রামক রোগ সেহেতু এ রোগ এক দেহ হতে অন্য দেহে সংক্রমিত হয়। 
অর্থাৎ, এইডস রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে আসলে অন্য ব্যক্তিরও এইডস হতে পারে। 
- বিভিন্নভাবে এইডস সংক্রমিত হয়। 
যেমন- 
১। এইডস-এর জীবাণু একজন মানুষের দেহে সুপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকে এবং বায়ু সংস্পর্শে অতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। 
২। যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ হতে HIV সুস্থ দেহে প্রবেশ করে। 
৩। এইডস আক্রান্তগর্ভবতী মায়ের গর্ভের সন্তানের মধ্যে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৪। এইডস আক্রান্ত স্তন্যদানকারী মায়ের দুধ হতে নবজাতকের দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৫। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের মাধ্যমে ও সিরিঞ্জের সাহায্যে ড্রাগ ব্যবহারকারী অন্যান্য ব্যক্তির দেহে HIV সংক্রমিত হতে পারে। 
৬। রক্ত, বীর্য, লালা ও অশ্রুর মাধ্যমে এ রোগ অসুস্থ দেহ হতে সুস্থ দেহে সংক্রমিত হতে পারে। 
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তি মাদকদ্রব্য গ্রহণ করলে এইডস দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে। 
- এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমাজচ্যুত না করে তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। 
- খাদ্য, পানি, কীটপতঙ্গ বা রোগীর সাধারণ স্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১০.
নিম্নের কোন উপাদানটি রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে?
  1. চর্বি
  2. শর্করা
  3. আমিষ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা

রক্তের হিমোগ্লোবিন:
- দেহের অস্থি, পেশি, বিভিন্ন অঙ্গতন্ত্র, রক্তকণিকা ইত্যাদি অধিকাংশই আমিষ দ্বারা তৈরি।
- আমিষ দেহের এন্টিবডি উৎপাদনে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
- আমিষ/ প্রোটিন রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে।

⇒ রক্ত:
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা।
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের।
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮১১.
নিচের কোনটি স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. পারকিনসন'স
  2. উচ্চ রক্তচাপ
  3. সিওপিডি
  4. মায়োকার্ডাইটিস
সঠিক উত্তর:
পারকিনসন'স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারকিনসন'স
ব্যাখ্যা
পারকিনসন'স ডিজিজ স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত।

• স্নায়ুরোগ:

- স্নায়ুরোগ হল স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অবস্থা।
- স্নায়ুতন্ত্র শরীরের একটি জটিল নেটওয়ার্ক যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করে।
- স্নায়ু রোগের ফলে বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
- স্নায়ুতে ব্যথা, অসাড়তা, ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া;
- মাংসপেশীর দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত;
- চলাফেরায় অসুবিধা;
- সমন্বয়ের অভাব;
- বক্তৃতা বা গিলে ফেলার সমস্যা;
- মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো;
- সংবেদনশীলতা হ্রাস;
- জ্ঞান হারানো।
- উদাহরণ: স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
- নিউমোনিয়া, অ্যজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮১২.
পিত্তরসের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. অম্লীয়
  2. নিরপেক্ষ
  3. ক্ষারীয়
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ক্ষারীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষারীয়
ব্যাখ্যা

যকৃৎ (Liver): 
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। 
- যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। 
- যকৃৎ-এর রং লালচে খয়েরি। 
- যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। 
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে যে কোষ পিত্তরস (bile) তৈরি করে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে যেখানে পিত্তরস জমা হয়। এই পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। এটি যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮১৩.
স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH কত?
  1. ৭.০
  2. ৭.২
  3. ৭.৪
  4. ৭.৭
সঠিক উত্তর:
৭.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭.৪
ব্যাখ্যা
pH:
- পাকস্থলীতে স্বাভাবিকের তুলনায় এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অবস্থাকে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি বলে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
- কোনো দ্রবণের pH মান নির্ণয়ের জন্য যে পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাকে pH মিটার বলে।
- মাটির pH সাধারণত 4-8 হয়ে থাকে।
- স্বাভাবিক অবস্থায় মানব দেহের রক্তের pH = 7.45।
- বিশুদ্ধ পানির pH 20°-27°C তাপমাত্রায় 7।
- মূত্রে pH-এর মান 7-এর কম থাকে অর্থাৎ মূত্র মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।
- মানুষের জিহ্বার লালার pH 6.6 এর কাছাকাছি হলে খাদ্য দ্রব্য হজমে তা বেশি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য দ্রব্য হজম করার জন্য উপযোগী pH হল 2।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৪.
রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ-এর মধ্যে কোন ধরনের বৈচিত্র্য বিদ্যমান? 
  1. জিনগত বৈচিত্র্য 
  2. স্বভাবগত বৈচিত্র্য 
  3. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য 
  4. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
সঠিক উত্তর:
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য 
ব্যাখ্যা

জীব-বৈচিত্র্য: 
- পৃথিবীতে জীবের বৈচিত্র্যতা রয়েছে। এর জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে সর্বত্রই প্রাণীর অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়। 
- প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনোটি এতোই ছোট যে এদের খালি চোখে দেখা যায় না, আবার কোনোটি আকারে বড় তাই খালি চোখে দেখা যায়। 
- এদের মধ্যে কোনোটি মানুষের জন্য উপকারি, কোনোটি ক্ষতিকর। 
- এদের স্বভাব, বৈচিত্র্য, আবাস স্থলের ভিন্নতা ও দলগতভাবে এদের বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 
- তাই প্রাণিদের শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞান থাকা অতীব প্রয়োজনীয়। 
 
প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity): 
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে। 
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- 
১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। 
 
২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity): 
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। 
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। 
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। 
- যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে। 
 
৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity): 
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথস্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। 
যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি । 
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। 
যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৮১৫.
নিচের কোনটিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়?
  1. ক) পিঁপড়া
  2. খ) তেলাপোকা
  3. গ) রাজকাঁকড়া
  4. ঘ) মশা
সঠিক উত্তর:
গ) রাজকাঁকড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজকাঁকড়া
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম:
কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ।
অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

সূত্র: নব জীবনের সুচনা, বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১৬.
RNA ভাইরাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. Harpes simplex
  2. Mumps 
  3. Rubella 
  4. Influenza B 
সঠিক উত্তর:
Harpes simplex
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Harpes simplex
ব্যাখ্যা

- RNA ভাইরাসের উদাহরণ নয়- Harpes simplex.

DNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 

- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়। 
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- Harpes simplex (Human), Tipula Iridescent, Rabbitpox, Vaccinia (bovine), Variola (Human), Pustular dermatitis (Sheep), এডেনা গ্রুপ, প্যাপিলোমা (মানব), পলিওমা, ΦX174 কলিফাজ, Cauliflower mosaic, Adenoassociaed ইত্যাদি। 

RNA ভাইরাসঘটিত রোগ: 
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়। 
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- Influenza B (Human), পোলিও (মানব), Rubella (Human), পীতজ্বর (মানব), ডেঙ্গু (মানব), Encephalitis (Human), Leukemia (cat), Mumps (Human), Measles (Human), Cold (Human), Newcastle disease (fowl), Rabies (dog), Vesicular stomatitis (cattle), Tobacco mosaic, Sugarcane mosaic, filamentous bacteriophage fd (Pseudomonas), Cucumber mosaic ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং ভাইরাসতত্ত্ব পরিচয় (আহমেদ মাতীন)।

১,৮১৭.
মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম কী? 
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. পেরিকার্ডিয়াম
  3. অস্ট্রিয়াম
  4. মেনিনজেস
সঠিক উত্তর:
মেনিনজেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেনিনজেস
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১৮.
রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন কোনটি?
  1. ইস্ট্রোজেন
  2. অ্যাড্রেনালিন
  3. থাইরক্সিন
  4. ইনসুলিন
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
ব্যাখ্যা

•  ইনসুলিন হলো রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন।

• ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

অন্যান্য অপশন:
- ইস্ট্রোজেন: ওভারি (ডিম্বাশয়) থেকে নিঃসৃত হয়ে প্রজনন এবং সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, গ্লুকোজের সাথে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- অ্যাড্রেনালিন: এটি স্ট্রেসের সময় অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে অস্থায়ীভাবে রক্তের শর্করা বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ করে না।
- থাইরক্সিন: এটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে দেহের বিপাকীয় হার (Metabolic Rate) নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু গ্লুকোজের সরাসরি নিয়ন্ত্রক নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১৯.
কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে? 
  1. ভিটামিন ‘কে’
  2. ভিটামিন ‘সি’ 
  3. ভিটামিন ‘বি’
  4. ভিটামিন ‘ডি’
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ‘কে’
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন ‘কে’
ব্যাখ্যা

- 'ভিটামিন কে' রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন কে (Vitamin K): 
- ভিটামিন কে-এর রাসায়নিক নাম ফাইলোকুইনন বা ন্যাপথোকুইনন। 
- এটি তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। 

ভিটামিন কে -এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়ার যায়। 

ভিটামিন কে-এর কাজ: 
১. কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
২. পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩. যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত অবস্থা: 
- এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়। ফলে, সামান্য কাটা ছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২০.
নিচের কোনটি মানবদেহের শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষাকারী স্নায়ু হিসেবে পরিচিত?
  1. অডিটরি স্নায়ু
  2. ট্রকলিয়ার স্নায়ু
  3. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু
  4. হাইপোগ্লোসাল স্নায়ু
সঠিক উত্তর:
অডিটরি স্নায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিটরি স্নায়ু
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষাকারী স্নায়ু হিসেবে পরিচিত "অডিটরি স্নায়ু"।

•  স্নায়ুতন্ত্র:
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ মস্তিষ্ক।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
- মস্তিষ্কের আবরণীর নাম মেনিনজেস।
- একটি পূর্নাঙ্গ স্নায়ু কোষকে নিউরন বলে।
- মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) নিউরন থাকে।

• করোটিক স্নায়ু:

- করোটিক স্নায়ু মস্তিষ্ক, মুখ, ঘাড় এবং ধড়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়।
- আমরা যে স্বাদ, গন্ধ, কথা শুনতে এবং অনুভূতি অনুভব করি তাতে করোটিক স্নায়ু সহায়তা করে।
- মানুষের ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু রয়েছে।

• নিম্নে আরো কিছু করোটিক স্নায়ুর নাম ও কাজ উল্লেখ করা হলো:
(১) অলফ্যাক্টরি - ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
(২) অপটিক - দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
(৩) অকুলোমোটর - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
(৪) ট্রকলিয়ার - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠ-পার্শ্বদেশে অবস্থান)
(৫) ট্রাইজেমিনাল - সংশ্লিষ্ট অঙ্গ থেকে সংবেদ মস্তিষ্কে প্রেরণ।
(৬) অ্যাবডুসেন্স - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (পনস ও মেডুলার সংযোগস্থলের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
(৭) ফ্যাসিয়াল - স্বাদ গহণ, চর্বন, গ্রীবা সঞ্চালন।
(৮) অডিটরি (অ্যাকাউস্টিক) - শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা।
(৯) গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল - স্বাদ গ্রহণ, জিহ্বা ও গলবিলের সঞ্চালন।
(১০) ভেগাস (নিউমোগ্যাস্ট্রিক) - সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ।
(১১) স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি - মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন।
(১২) হাইপোগ্লোসাল - জিহ্বার সঞ্চালন।

উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি), গাজী আজমল ও গাজী আসমত।
১,৮২১.
মানবদেহে ইনসুলিন নিঃসরণ করে ___। 
  1. থাইরয়েড
  2. যকৃত
  3. কিডনি
  4. অগ্ন্যাশয়
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা

• ইনসুলিন হলো মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমোন, যা ইনসুলিন নিঃসরণ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

- রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে ইনসুলিন নিঃসরণ হয় এবং কোষে গ্লুকোজ প্রবেশ করিয়ে শক্তি উৎপাদন ও সংরক্ষণে সাহায্য করে।
- এটি দেহকে সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য।

• অগ্ন্যাশয় ও ইনসুলিনের সম্পর্ক:
- প্যানক্রিয়াস হলো একটি অঙ্গ যা পেটের পিছনের দিকে অবস্থান করে।
- এটি দুটি প্রধান কাজ করে; এটি পাচন শক্তি নিঃসরণ এবং হরমোন নিঃসরণ উভয় কাজ করে।
- অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে ল্যাংগারহ্যান্স (Islets of Langerhans) নামে বিশেষ কোষ থাকে।
- এই ল্যাংগারহ্যান্স এর মধ্যে বিটা কোষ (Beta cells) ইনসুলিন হরমোন উৎপন্ন করে।
- ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করায় এবং গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন (যকৃত ও মাংসপেশিতে) বা চর্বি হিসেবে সংরক্ষণে সাহায্য করে।
- এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

১,৮২২.
ম্যালপিজিয়ান নালিকা কোন পর্বের প্রাণীর রেচন অঙ্গ?
  1. Echinodermata
  2. Platyhelminthes
  3. Arthropoda
  4. Annelida
সঠিক উত্তর:
Arthropoda
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Arthropoda
ব্যাখ্যা
•  Arthropoda পর্বের প্রাণীর রেচন অঙ্গ ম্যালপিজিয়ান নালিকা।

• আথ্রোপোডা (Arthropoda):
- এই পর্বটি প্রাণিজগতের সবচেয়ে বৃহত্তম পর্ব। এরা পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র সকল পরিবেশে বাস করতে সক্ষম। এদের বহু প্রজাতি অন্তঃপরজীবী ও বহিঃপরজীবী হিসেবে বাস করে। বহু প্রাণী স্বলে, স্বাদু পানিতে ও সমুদ্রে বাস করে। এ পর্বের অনেক প্রজাতির প্রাণী ডানার সাহায্যে উড়তে পারে।
- দেহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিভক্ত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
- মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
- নরম দেহ কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আরণী দ্বারা আবৃত।
- দেহে রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমােসিল নামে পরিচিত।
- উদাহরণ : প্রজাপতি, চিংড়ি, আরশােলা, কাঁকড়া ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা:
• Echinodermata পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ পঞ্চঅরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভাজ্য এবং এদের রেচনতন্ত্র নেই।
• Annelida পর্বের প্রাণীদের দেহের প্রায় প্রতিটি খণ্ডকে অবস্থিত নেফ্রিডিয়া নামক প্যাঁচানো নালিকা প্রধান রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
• Platyhelminthes পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র শিখা কোষ নিয়ে গঠিত।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৩. অষ্টম শ্রেণি, বিজ্ঞান।
১,৮২৩.
শরীরে পানি কত ভাগ কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়?
  1. ১৬%
  2. ১২%
  3. ১৪%
  4. ১০%
সঠিক উত্তর:
১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০%
ব্যাখ্যা

• মানব শরীরের প্রায় ৬০%- ৭৫% জল দিয়ে গঠিত। জল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি পরিবহন এবং পদার্থবিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানি কমে গেলে ডিহাইড্রেশন হয়। যদি শরীরের মোট পানির পরিমাণের প্রায় ১০%–১৬% কমে যায়, তখন মারাত্মক প্রভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষভাবে, শরীরে প্রায় ১০% পানি হ্রাস হলে স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব পড়ে এবং মানুষ সংজ্ঞা হারাতে পারে। এই পর্যায়ে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, অজ্ঞান হওয়া সম্ভব এবং জীবনসংকটজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাই পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

সঠিক উত্তর: গ) ১০%
 
- উল্লেখ্য, অধিকাংশ মানুষ ৩–৪% পরিমাণ শরীরের জল কমে গেলেও তা সহজেই সহ্য করতে পারে এবং এতে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয় না। ৫–৮% হ্রাস হলে ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে। মোট শরীরের জলের ১০% এর বেশি হ্রাস হলে শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে, যা তীব্র তৃষ্ণার সঙ্গে যুক্ত থাকে। শরীরের জলের ১৫–২৫% ক্ষতি হলে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

 • মানবদেহ ও পানি:
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান।
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না।
- আমাদের দৈহিক ওজনের ৬০%- ৭৫% হচ্ছে পানি।
- আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন।
পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে।
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং
- বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়।
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেকদিনই আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮২৪.
মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে মাছ কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. Amphibia
  2. Aves
  3. Mammalia
  4. Pisces
সঠিক উত্তর:
Pisces
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pisces
ব্যাখ্যা
- মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে মাছ Pisces শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
- Amphibia এ শ্রেণির প্রাণীরা প্রথম স্থলচর মেরুদণ্ডী। মূলত স্থলচর হলেও জননকালে ডিম পাড়তে এরা পানিতে আসতে বাধ্য হয়। মেরু অঞ্চলসহ পৃথিবীর প্রায় সব বসবাসযোগ্য স্থানে উভচর পাওয়া যায়। বর্তমানে এদের প্রজাতির সংখ্যা ৭,১৭১।
- Aves শ্রেণিভুক্ত প্রাণিদের পাখি বলা হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে ১০ হাজারের বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে।
- বিবর্তনের দিক থেকে Mammalia সবচেয়ে আধুনিক প্রাণি। বর্তমানে প্রায় ৬০০০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী রয়েছে। মানুষও এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত প্রাণি।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. [springer.com]
১,৮২৫.
tRNA- এর 'ক্লোভার-লিফ' মডেল কে প্রণয়ন করেন?
  1. ক) James Watson
  2. খ) R.Holley
  3. গ) Gregor Mendel
  4. ঘ) Walther Flemming
সঠিক উত্তর:
খ) R.Holley
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) R.Holley
ব্যাখ্যা

tRNA- এর 'ক্লোভার-লিফ' মডেল R.Holley ও তার সহকর্মীরা ১৯৬৫ এ মডেল প্রণয়ন করেন।

এ মডেল অনুযায়ী tRNA এর বাহ্যিক গঠন ক্লোভার পাতার ন্যায় এবং এতে পাঁচটি বাহু থাকে। বাহুগুলো হল- এমাইনো এসিড বাহু, T বাহু, D বাহু, অতিরিক্ত বাহু এবং অ্যান্টিকোডন বাহু।
অপরদিকে, Walther Flemming ১৮৮২ সালে ক্রোমোসোম আবিষ্কার করেন 
Gregor Mendel হলেন বংশগতিবিদ্যার জনক।
James Watson and Francis Crick ১৯৫৩ সালে DNA এর ডাবল হেলিক্স আবিষ্কার করেন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৮২৬.
ডারউইনবাদ কিসের ওপর ভিত্তি করে গঠিত?
  1. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার
  2. পরিবেশগত চাপ
  3. প্রাকৃতিক নির্বাচন
  4. জীন পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাকৃতিক নির্বাচন
ব্যাখ্যা

• ডারউইনবাদ বা ডারউইনিজম মূলত প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) মতবাদের ওপর ভিত্তি করে গঠিত।
- উল্লেখ্য: 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার' হলো ল্যামার্কবাদের মূল ভিত্তি।

• ডারউইনবাদ বা ডারউইনের তত্ত্ব:
- ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন।
- বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin, 1809-1882) ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এরপর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে 1837 খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় 20 বছর পরে 1859 খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' (Origin of Species by Means of Natural Selection) নামক বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন।
- ডারউইনের তত্ত্বটি বিবর্তন তত্ত্ব নামে প্রচলিত হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে জৈব অভিব্যক্তি তথা বিবর্তনের আবিষ্কারক নন।
- ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক -বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার (mechanism) ধারণা প্রতিষ্ঠা করা, যা জৈব অভিব্যক্তির যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে।
- জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace, 1823-1913), একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ত্ব প্রণয়ন করেন।
- তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের নামেই তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮২৭.
অণুচক্রিকা (Platelet) সম্পর্কে কোনটি সঠিক? 
  1. এটি রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে 
  2. এতে নিউক্লিয়াস থাকে 
  3. এটি দীর্ঘায়ু কোষ যা প্রায় ৬ মাসের উপড়ে বেঁচে থাকে
  4. এটি সম্পূর্ণরূপে অস্থিমজ্জার অংশ নয়
সঠিক উত্তর:
এটি রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে 
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইটকে ইংরেজিতে প্লেটলেট (Platelet) বলে। অণুচক্রিকাগুলো গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা রড আকারের হতে পারে। এদের সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং সাইটোপ্লাজমে কোষ অঙ্গাণু- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- অনেকের মতে, অণুচক্রিকাগুলো সম্পূর্ণ কোষ নয়; এগুলো অস্থিমজ্জার বৃহদাকার কোষের ছিন্ন অংশ। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় দেড় থেকে সাড়ে চার লাখ। অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা সাধারণত আরো বেশি বা কম হয়। 

- অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে (blood clotting) সাহায্য করা। 
- যখন কোনো রক্তবাহিকা বা কোনো টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায়, তখন সেখানকার অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাসটিন (Thromboplastin) নামক পদার্থ তৈরি করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রমবিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে। 
- থ্রমবিন পরবর্তীকালে রক্তরসের প্রোটিন-ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাঁধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায়। 
- ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে। এটি ক্ষতস্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। 
- তবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াটি আরও জটিল, এ প্রক্রিয়ার জন্য আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম আয়ন জড়িত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮২৮.
রক্ত কণিকার উৎপত্তি কোথায় ঘটে?
  1. ফুসফুস 
  2. হৃৎপিণ্ড
  3. অস্থিমজ্জা
  4. যকৃত
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

• রক্ত কণিকার উৎপত্তি প্রধানত অস্থিমজ্জাতে ঘটে। অস্থিমজ্জা হল হাড়ের মধ্যবর্তী স্পঞ্জ জাতীয় অংশ, যা লাল ও হলুদ মজ্জা দ্বারা গঠিত। লাল অস্থিমজ্জা মূলত রক্তকণিকা উৎপাদনের জন্য দায়ী। এখানে স্টেম সেল বা মূল কোষ থাকে, যেগুলো থেকে লোহিত কণিকা, শ্বেতকণিকা এবং রক্তের অন্যান্য কোষ গঠিত হয়। শিশু ও তরুণদের হাড়ের অধিকাংশ অংশে লাল অস্থিমজ্জা থাকে, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি কিছুটা কমে যায় এবং হলুদ মজ্জার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই রক্ত কণিকার উৎপত্তি অস্থিমজ্জাই।

- সঠিক উত্তর: গ) অস্থিমজ্জা।

• রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ।
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

• রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা-
- লোহিত রক্ত কণিকা,
- শ্বেত রক্ত কণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB।

১,৮২৯.
লিউকোমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার হয়-
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা বেড়ে গেলে
  2. খ) অণুচক্রিকা কমে গেলে
  3. গ) শ্বেত রক্তকণিকা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে
  4. ঘ) শ্বেত রক্তকণিকা কমে গেলে
সঠিক উত্তর:
গ) শ্বেত রক্তকণিকা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্বেত রক্তকণিকা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে
ব্যাখ্যা
নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিকোমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি৷
১,৮৩০.
যকৃত কোন ভিটামিন সঞ্চয় করতে পারে না?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন ডি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন কে
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা
- যকৃতের ভিটামিন সি সঞ্চয় করা সম্ভব নয়, কারণ ভিটামিন সি (আসকর্বিক অ্যাসিড) একটি জলে-দ্রবণীয় ভিটামিন, যা শরীরের মাধ্যমে সহজে ফেলে দেওয়া হয়। 

যকৃত: 

- দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃত। 
- যকৃত পেটের উপরিভাগে ডানদিকে অবস্থিত। 
- প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- যকৃত থেকে পিত্তরস নামক এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়ে যকৃতনালীর মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এসে পিত্তথলিতে জমা হয়। 
- পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলে। 

- যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে চর্বিরূপে জমা রাখে। 
- যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে। 
- যকৃত ভিটামিন এ, ডি, ই, কে ও ফলিক এসিড সঞ্চয় করে। 
- যকৃতের হেপাটোসাইট কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা করে। 
- যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে। 
- যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে। 
- এছাড়াও যকৃত চর্বি ও কোলেস্টেরল পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩১.
আমিষের গঠন একক কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অ্যামাইনো অ্যাসিড
  3. কার্বন
  4. ম্যালিক এসিড
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন:
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (০₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়।
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
- উৎস অনুসারে আমিষ দুই প্রকার-
• প্রাণিজ আমিষ।
• উদ্ভিজ্জ আমিষ।

⇒ আমিষের কাজ:
• দেহ কোষ ও পেশি গঠন।
• ক্ষয়পূরণ।
• দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি।
• দেহকে এডিমা (শরীরে পানি জমা) হতে রক্ষা করা।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৩২.
রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কোনটি?
  1. ৫০-১০০ mg/dl
  2. ১০০-২০০ mg/dl
  3. ১৫০-২৫০ mg/dl
  4. ২৫০-৩৫০ mg/dl
সঠিক উত্তর:
১০০-২০০ mg/dl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০-২০০ mg/dl
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা- 
১। উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং 
২। নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)। 

- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl. 
- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে। 
- মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 
-  রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে LDL-এর পরিমাণ বেড়ে যায় আর HDL-এর পরিমাণ কমে যায়। 
- LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৩৩.
আরশোলা কোন পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণী? 
  1. ক) Annelida
  2. খ) Arthropoda
  3. গ) Mollusca
  4. ঘ) Platyhelminthes
সঠিক উত্তর:
খ) Arthropoda
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Arthropoda
ব্যাখ্যা

আরশোলা Arthropoda পর্বের প্রাণী।
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. কাইটিন নির্মিত বহিঃকঙ্কাল দিয়ে দেহ আবৃত এবং সম্পূর্ণ জীবনকালে পুরানো বহিঃকঙ্কালটি একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিত্যক্ত হয় এবং পর্যায়ক্রমে নতুন বহিঃকঙ্কাল গঠিত হয়।
২. বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত দেহের প্রতি খণ্ডকে পার্শ্বীয় সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ (Jointed appendages) বর্তমান।
৩. হিমোসিল (Haemocoel) নামক প্রকৃত সিলোম উপস্থিত যা রক্ত তথা দেহ তরলে (Body fluid) পূর্ণ।
৪. মস্তকের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি পুঞ্জাক্ষি (Compound eye) বর্তমান।
৫. এদের রেচন অঙ্গ হচ্ছে সবুজ গ্রন্থি (Green glands) অথবা মালপিজিয়ান নালিকা (Malpighian tubules)।
৬. শ্বসন চলে দেহপ্রাচীর (Body surface), ফুলকা (Gills), ট্রাকিয়া (Tracheae) অথবা গ্রন্থ-ফুসফুস (Book-lungs) এর মাধ্যমে।
৭. সাধারণত একলিঙ্গ (Dioecious)। এদের নালীযুক্ত প্রজনন অঙ্গ বর্তমান। অনেকে পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) প্রক্রিয়ায় বংশ বিস্তার করে থাকে।
৮. নিষেক সাধারণত অভ্যন্তরীণ, পরিস্ফুটন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ, পরোক্ষ পরিস্ফুটনের ক্ষেত্রে এক বা একাধিক লার্ভা দশা দেখতে পাওয়া যায়।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

১,৮৩৪.
প্রাণিদেহের তরল যোজক কলা কোনটি?
  1. ক) কোমলাস্থি
  2. খ) লসিকা
  3. গ) মূত্র
  4. ঘ) ঘাম
সঠিক উত্তর:
খ) লসিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লসিকা
ব্যাখ্যা

- তরল যোজক কলার মাতৃকা তরল। মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। তরল যোজক কলা দুই ধরনের- রক্ত এবং লসিকা।
- কোমলাস্থি ও অস্থি হলো স্কেলিটাল যোজক টিস্যু।
- মূত্র ও ঘাম হলো দেহ থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থ।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

১,৮৩৫.
জীবদেহের কোথায় শ্বসন সংঘটিত হয়?
  1. ক) নিউক্লিয়াসে
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়ায়
  3. গ) কোষ গহ্বরে
  4. ঘ) ক্রোমোজোমে
সঠিক উত্তর:
খ) মাইটোকন্ড্রিয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাইটোকন্ড্রিয়ায়
ব্যাখ্যা

মাইট্রোকন্ডিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। মাইট্রোকন্ডিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৩৬.
কোষঝিল্লির গঠন কোন মডেল দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. Fluid Mosaic Model
  2. Double Helix Model
  3. Cell Theory
  4. Osmotic Model
সঠিক উত্তর:
Fluid Mosaic Model
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fluid Mosaic Model
ব্যাখ্যা

• কোষঝিল্লি হলো একটি দ্বিস্তরীয় লিপিড যার মধ্যে প্রোটিন অণুগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। S. J. Singer ও G. L. Nicolson ১৯৭২ সালে প্রস্তাব করেন যা ফ্লুয়িড মোজাইক মডেল হিসেবে পরিচিত।

- কোষঝিল্লি হলো কোষের বহিঃস্তর যা কোষের ভেতরের উপাদানকে বাইরের পরিবেশ থেকে আলাদা করে রাখে।
- এটি আর্ধভেদ্য, অর্থাৎ কিছু পদার্থকে প্রবেশ করতে দেয় এবং কিছু পদার্থকে বাধা দেয়।
- কোষের ভিতরে বাইরে পানি, আয়ন ও পুষ্টির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য কোষঝিল্লি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লুয়িড মোজাইক মডেলর মূল ধারণা:
- তরল: বোঝায় যে ঝিল্লির গঠনটি স্থির নয়, বরং চলমান ও নমনীয়।
- মোজাইক: বোঝায় প্রোটিন ও লিপিড অণুর ছকছক বিন্যাস, যা একে মোজাইক চিত্রের মতো দেখায়।

ফ্লুয়িড মোজাইক মডেলর বৈশিষ্ট্য:
- ঝিল্লি নমনীয় ও গতিশীল।
- প্রোটিনগুলো লিপিড স্তরের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- কোষঝিল্লি selective permeability প্রদর্শন করে।
- এটি communication, transport ও recognition প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
 
 তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

১,৮৩৭.
একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন কতটুকু?
  1. ক) প্রায় ২-৩ কেজি
  2. খ) প্রায় ১.৫-২ কেজি
  3. গ) প্রায় ০.৫-১ কেজি
  4. ঘ) প্রায় ৩-৪ কেজি
সঠিক উত্তর:
খ) প্রায় ১.৫-২ কেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রায় ১.৫-২ কেজি
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver):
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়।
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত।
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি।
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত।
- ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে।
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা।
- পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়।
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ।
- এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে।
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই।
- তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৮.
প্রাপ্তবয়স্কদের ভিটামিন ডি-এর অভাবে প্রধানত কোন রোগ হতে পারে?
  1. স্কার্ভি 
  2. ডায়াবেটিস
  3. অস্টিওমালেসিয়া
  4. হার্ট অ্যাটাক
সঠিক উত্তর:
অস্টিওমালেসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্টিওমালেসিয়া
ব্যাখ্যা

- প্রাপ্তবয়স্কদের ভিটামিন ডি-এর অভাবে যে রোগটি হতে পারে তা হলো অস্টিওমালেসিয়া, যা হাড় নরম ও দুর্বল করে তোলে এবং হাড়ে ব্যথা ও পেশী দুর্বলতার কারণ হয়; এটি শিশুদের রিকেটসের প্রাপ্তবয়স্কদের রূপ, যেখানে হাড় পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। 

ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- এই ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি -এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি-এর অভাবে শিশুদের রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওমালেসিয়া রোগ হয়, যেখানে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায়। 
- দৈনিক চাহিদার থেকে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে হাইপারক্যালসেমিয়া হতে পারে, যার ফলে বমি, দুর্বলতা, মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি, হাড়ের ব্যথা এবং কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- স্কার্ভি (Scurvy) ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত রোগ। 
- ভিটামিন ডি-এর অভাব ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি অভাবজনিত রোগ নয়। 
- দীর্ঘস্থায়ী ভিটামিন ডি-এর অভাব হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি অভাবজনিত রোগ নয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৩৯.
প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের প্রাণীদের দেহ কেমন আকৃতির? 
  1. গোলাকার
  2. লম্বাটে
  3. চ্যাপ্টা
  4. শুঁড়বিশিষ্ট
সঠিক উত্তর:
চ্যাপ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ্যাপ্টা
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথেস (Platyhelminthes): 
- Platy শব্দের অর্থ চ্যাপ্টা এবং helminthes শব্দের অর্থ কৃমি, এই শব্দ দুটি থেকে প্লাটিহেলমিনথেস শব্দটি এসেছে। 
- এই পর্বের প্রাণীদের জীবনযাত্রা বেশ বৈচিত্র্যময়। 
- এই পর্বের বহু প্রজাতি বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য জীবদেহের বাইরে বা ভিতরে বসবাস করে। 
- তবে কিছু প্রজাতি মুক্তজীবী হিসেবে স্বাদু পানিতে আবার কিছু প্রজাতি লবণাক্ত পানিতে বাস করে। 
- এই পর্বের কোনো কোনো প্রাণী ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বাস করে। 
যেমন- যকৃত কৃমি, ফিতা কৃমি এই পর্বের অন্তর্গত। 

প্লাটিহেলমিনথেস পর্বের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
দেহ চ্যাপ্টা, উভলিঙ্গ। 
• বহিঃপরজীবী বা অন্তঃপরজীবী। 
• দেহ পুরু কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
• দেহে চোষক ও আংটা থাকে। 
• দেহে শিখা অঙ্গ নামে বিশেষ অঙ্গ থাকে, এগুলো রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। 
• পৌষ্টিকতন্ত্র অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত। 
উদাহরণ: Fasciola (যকৃৎ কৃমি) Taenia (ফিতা কৃমি)। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৮৪০.
কোন পর্বের সকল প্রাণী সামুদ্রিক?
  1. ক) মলাস্কা
  2. খ) একাইনোডার্মাটা
  3. গ) নিডারিয়া
  4. ঘ) পরিফেরা
সঠিক উত্তর:
খ) একাইনোডার্মাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একাইনোডার্মাটা
ব্যাখ্যা

এই পর্বের সকল প্রাণী সামুদ্রিক। পৃথিবীর সকল মহাসাগরে এবং সকল গভীরতায় এদের বসবাস করতে দেখা যায়। এরা অধিকাংশ মুক্তজীবী।
দেহত্বক কাঁটাযুক্ত। দেহ পাঁচটি সমান ভাগে বিভক্ত।
পানি সংবহনতন্ত্র থাকে এবং নালিপদের সাহায্যে চলাচল করে। পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে, অঙ্কীয় ও পৃষ্ঠদেশ নির্ণয় করা যায় কিন্তু মাথা চিহ্নিত করা যায় না।
উদাহরণ: তারামাছ, সমুদ্র শশা।

১,৮৪১.
কোন স্তন্যপায়ী প্রাণীটি ডিম দেয়?
  1. ক) কচ্ছপ
  2. খ) সীল
  3. গ) বাদুর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রায় সকল স্তন্যপায়ী প্রাণী, যেমন- বাদুড়, ক্যাঙ্গারু, সীল ইত্যাদি সন্তান প্রসব করে।
কিন্তু একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী প্লাটিপাস ডিম পাড়ে । প্লাটিপাসকে জীবন্ত জীবাশ্মও বলা হয়ে থাকে।

কচ্ছপ স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮৪২.
DNA কী?
  1. ক) ক্রোমোজোম
  2. খ) জাইগোট
  3. গ) নিউক্লিওপ্লাজম
  4. ঘ) নিউক্লিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউক্লিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউক্লিক এসিড
ব্যাখ্যা
• মানব দেহে দুই ধরনের নিউক্লিক এসিড থাকে- DNA এবং RNA।
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid।
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA।
- এটি একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- ডিএনএ হলো দ্বিসূত্রকবিশিষ্ট পলিনিউক্লিয়োটাইডের সর্পিলাকার গঠন।
- ডিএনএ অণুর আকৃতি অনেকটা প্যাঁচানো সিঁড়ির ন্যায়। 
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক বিজ্ঞানীদ্বয় ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কার করেন। 

 উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৩.
কোন হরমোনের প্রভাবে মানুষের মাথার চুল পড়ে যায়?
  1. ক) টেস্টোস্টেরন হরমোন
  2. খ) অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন
  3. গ) সোমাটোট্রফিন হরমোন
  4. ঘ) প্যারাথাইরয়েড হরমোন
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন
ব্যাখ্যা

নারীর চুল পড়া ও পুরুষের টাকের সবচেয়ে বড় কারণ - অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন।
- এই হরমোন সাধারণত পুরুষের শরীরে বেশি পরিমাণে থাকে।
- যাদের শরীরে এই হরমোনের প্রভাব বেশি, তাদেরই বেশি করে চুল পড়ে।
- নারীর মেনোপজের সময় ও পরে অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়। তখন হঠাৎ চুল বেশি করে পড়তে শুরু করে।

অন্যদিকে, 
- অ্যাড্রেনালিন হরমোনের প্রভাবে ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয়।
- টেস্টোস্টেরন হরমোনের জন্য দাড়ি গোঁফ গজায়।
- প্যারাথাইরয়েড হরমোন রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট। 

১,৮৪৪.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. আয়োডিন
  4. লৌহ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা

হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা।
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে।
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
 
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৪৫.
মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা কতটি?
  1. ৩১ টি
  2. ৩২ টি
  3. ৩৩ টি
  4. ৩৪ টি
সঠিক উত্তর:
৩৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩ টি
ব্যাখ্যা
• মেরুদন্ড :
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দন্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া বলে।
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখন্ডক সমন্বয়ে মেরুদন্ড গঠিত।
- এ সকল অস্থিখন্ডককে কশেরুকা বলে।
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে।
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৬.
বহিঃক্যারোটিড ধমনির কোনটি গলবিলে রক্ত বহন করে? 
  1. লিঙ্গুয়াল ধমনি
  2. ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
  3. অক্সিপিটাল ধমনি
  4. সুপিরিয়র থাইরয়েড ধমনি
সঠিক উত্তর:
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
ব্যাখ্যা
বহিঃক্যারোটিড ধমনি: 
- এটি মাথার ত্বক এবং ঘাড়ে রক্ত সরবরাহ করে। 
- বহিঃক্যারোটিড ধমনি থেকে উৎপন্ন শাখাগুলো- 
সুপিরিয়র থাইরয়েড ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি ও ল্যারিংক্সে রক্ত বহন করে। 
লিঙ্গুয়াল ধমনি: জিহ্বা ও সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থিতে রক্ত বহন করে। 
ফেসিয়াল ধমনি: মুখমণ্ডল, চোখ, সাব-ম্যাক্সিলারি গ্রন্থি এবং মুখমণ্ডলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
অক্সিপিটাল ধমনি: অক্সিপিটাল অঞ্চলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত বহন করে। 
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি: গলবিলে রক্ত বহন করে। 
- এছাড়া বহিঃক্যারোটিড ধমনি আন্তঃম্যাক্সিলারি ও সুপারফিসিয়াল টেমপোরাল ধমনিতে বিভক্ত হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৭.
ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে কোন জাতীয় ওষুধ দেওয়া নিষেধ?
  1. অ্যাসিটামিনোফেন
  2. স্যালাইন
  3. এসপিরিন
  4. প্যারাসিটামল
সঠিক উত্তর:
এসপিরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসপিরিন
ব্যাখ্যা
• ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত রোগ।
- এই ভাইরাসের জীবাণুর নাম ফ্ল্যাভি ভাইরাস বা ভেঙ্গী ভাইরাস।
- এটি একটি RNA ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের বাহক হলো Aedes aegypti L. ও Aedes albopictus নামক মশকী (স্ত্রী মশা)।
- এর পোষক দেহ হলো মানুষ।
- প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। 
- ডেঙ্গু জ্বরে ১০৩-১০৫° ফারেনহাইট হয়ে থাকে।
- সাধারণত ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর ২-৭ দিন পর জ্বর দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীর তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেট ব্যাথা, কপাল ব্যথা ও গলা ব্যথা হয়।
- মেরুদণ্ডের ব্যথাসহ কোমরে ব্যথা এই রোগের বিশেষ লক্ষণ। একে হাড়ভাঙ্গা জ্বর বলে। 
- প্লেটিলেট পরীক্ষায় রক্তের অনুচক্রিকার সংখ্যা ১৫০০০০/mm এর অনেক নিচে নেমে আসে।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না
- ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৮৪৮.
বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কোন প্রাণীর ‘জিনগত নকশা‘ উন্মোচন করেছেন?
  1. ক) গরু
  2. খ) ভেড়া
  3. গ) ছাগল
  4. ঘ) মহিষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহিষ
ব্যাখ্যা
প্রাণী হিসেবে প্রথম মহিষের জিন নকশা উন্মোচনে সফলতা লাভ করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।

বেসরকারি কোম্পানি লাল তীর লাইভস্টক লিমিটেড চীনের বেইজিং জেনোম ইনস্টিটিউটের (বিজেআই) সহায়তায় ২০১৪ সালে এই সফলতা অর্জন করে।
মহিষের জীবনরহস্য উন্মোচনের এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজেআইয়ের চেয়ারম্যান জিয়ান উয়াং এবং লাল তীরের বিজ্ঞানী মো. মনিরুজ্জামান। মোট ১৪ জন বিজ্ঞানী দুই বছর তিন মাস সময় ধরে এই গবেষণাটি করেছেন।

এর আগে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাটবিষয়ক মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে দেশি ও তোষা পাট এবং ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচিত করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: প্রথম আলো ও অন্যান্য পত্রিকা রিপোর্ট
১,৮৪৯.
কেঁচোর রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে –
  1. ক) শ্বেতকণিকায়
  2. খ) লোহিত
  3. গ) রক্তরসে
  4. ঘ) কোনোটাতেই না
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তরসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তরসে
ব্যাখ্যা
- কেঁচো, যাকে অ্যাঙ্গেলওয়ার্মও বলা হয়, লুমব্রিকাস প্রজাতির সদস্য।
- সতেরোটি স্থানীয় প্রজাতি এবং ১৩ টি প্রবর্তিত প্রজাতি (ইউরোপ থেকে) পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যায়, যার মধ্যে এল. টেরেস্ট্রিস সবচেয়ে সাধারণ। কেঁচো মাটির  আর্দ্রতা এবং জৈব উপাদান টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
- অধিকাংশ প্রজাতি লালচে বাদামী, তবে কিছু কেঁচো (যেমন, Allolobophora chlorotica, গ্রেট ব্রিটেনের স্থানীয়) সবুজ।
- এল. টেরেস্ট্রিসের লালচে আভা, তার রক্তরসে পিগমেন্ট হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির ফলে।

উৎস: ব্রিটানিকা 
১,৮৫০.
শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে কোন খাদ্য উপাদান?
  1. আমিষ
  2. খনিজ লবণ
  3. ভিটামিন
  4. শর্করা
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
ব্যাখ্যা

• শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে ভিটামিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, এবং ভিটামিন এ ইমিউন সেলের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি ফলমূল ও সবজিতে থাকে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন ডি সূর্যের আলো থেকে পাওয়া যায় এবং ইমিউন সিস্টেমের ব্যালান্স বজায় রাখে। ভিটামিন এ চোখ, ত্বক ও শ্বেতরক্তকোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে পর্যাপ্ত ভিটামিন থাকা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, যাতে শরীর বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারে।

- সঠিক উত্তর: গ) ভিটামিন।
 
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 
 
- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন: 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 
 
- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৫১.
নিচের কোনটি মানবদেহে অবস্থিত সাইনাস নয়?
  1. Nasal sinus
  2. Frontal sinus
  3. Maxillary sinus
  4. Sphenoid sinus
সঠিক উত্তর:
Nasal sinus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nasal sinus
ব্যাখ্যা
• শ্বসন অঙ্গের সমস্যা: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক অথবা অন্য কোন এজেন্ট দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে, যা নানা রকম রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- 
সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 

- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫২.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী?
  1. ক) টিকটিকি
  2. খ) জিরাফ
  3. গ) ডাইনোসর
  4. ঘ) সাপ
সঠিক উত্তর:
খ) জিরাফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জিরাফ
ব্যাখ্যা

- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- উদাহরণ: তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।
- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।

১,৮৫৩.
কোনটি রক্তের কাজ নয়?
  1. কলা (Tissue) হতে ফুসফুসে বর্জ্য পদার্থ বহন করা
  2. ক্ষুদ্রান্ত্র হতে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা
  3. হরমোন বিতরণ করা
  4. জারক রস (enzyme) বিতরণ করা
সঠিক উত্তর:
জারক রস (enzyme) বিতরণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারক রস (enzyme) বিতরণ করা
ব্যাখ্যা
• জারক রস বিতরণ করা রক্তের কাজ নয়।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

• রক্তের কাজ:
- অক্সিজেন পরিবহন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ,
- খাদ্যসার পরিবহন,
- তাপের সমতা রক্ষা,
- বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন,
- হরমোন পরিবহন,
- রোগ প্রতিরোধ,
- রক্ত জমাট বাঁধা।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫৪.
কোন রস শর্করা ও আমিষ উভয়কে পরিপাক করে?
  1. ক) টায়ালিন
  2. খ) পেপসিন
  3. গ) গ্যাস্টিক রস
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয় রস
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্ন্যাশয় রস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্ন্যাশয় রস
ব্যাখ্যা
- অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে কতকগুলো এনজাইম নিঃস্রাবী ও নালিযুক্ত গ্রন্থি থাকে, এদেরকে এসিনাই বলে ।
- এরা লোবিউল গঠন করে এবং লোবিউল থেকে ছোট ছোট নালিকা বের হয়ে একত্রিত হয়ে ‘উইরসাং’ নালি গঠন করে।
- এই উইরসাং নালি অগ্ন্যাশয়ের দৈর্ঘ্য বরাবর ডিওডেনামের কাছে অভিন্ন পিত্তথলির সাথে মিলিত হয়ে অ্যাম্পুলার মাধ্যমে ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়।
- অগ্ন্যাশয় থেকে এ নালির মাধ্যমে ক্ষরিত রসকে অগ্ন্যাশয়িক রস বলে ।
- অগ্ন্যাশয় রসে প্রোটিন, শর্করা ও লিপিড বা ফ্যাট পরিপাককারী এনজাইম থাকে যা খাদ্য পরিপাকে সহায়ক

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৫৫.
পৌষ্টিক নালির ভেতরের অংশ কোনটি?
  1. ক) গ্যাষ্ট্রিক গ্রন্থি
  2. খ) যকৃত
  3. গ) লালাগ্রন্থি
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয়
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যাষ্ট্রিক গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গ্যাষ্ট্রিক গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিকগ্রন্থি:
- যে সকল গ্রন্থির ক্ষরণ সরাসরি খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে সে সকল গ্রন্থিসমূহকে বলা হয় “পৌষ্টিকগ্রন্থি”।
- মানুষের পরিপাক গ্রন্থিগুলোকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

১। পৌষ্টিক নালির বাইরে অবস্থিত কিন্তু পৌষ্টিক নালির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত গ্রন্থি।
যেমন- লালাগ্রন্থি, যকৃত ও অগ্ন্যাশয়।

২। পৌষ্টিক নালির ভেতরের অংশের গ্রন্থি।
যেমন- গ্যাষ্ট্রিক গ্রন্থি ও আন্ত্রিক গ্রন্থি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৫৬.
মানুষের দেহে মোট কতটি ক্রোমোসোম থাকে?
  1. ক) ৪৪টি
  2. খ) ৪৫টি
  3. গ) ৪৬টি
  4. ঘ) ৪৭টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৪৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪৬টি
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। অপর এক জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
১,৮৫৭.
ট্রিপসিন এনজাইম _____ পরিপাকে সহায়তা করে।
  1. আমিষ
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. চর্বি
  4. লিপিড
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা
- রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে যা পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়।
- আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহাজ্য করে ট্রিপসিন এনজাইম।
- এটি শুধু আমিষের উপর কাজ করে।
- গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি পাকস্থলীর প্রাচীরে থাকে।
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় ট্রিপসিন, লাইপেজ, এমাইলেজ যা গ্যাস্ট্রিক জুস বা প্যাক রস নামে পরিচিত।
- লালারসে টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৮৫৮.
সাধারণভাবে, মানুষের দেহে মোট কতটি হাড় থাকে?
  1. ২১৬
  2. ২০৬
  3. ১২৬
  4. ২৩৬
সঠিক উত্তর:
২০৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৬
ব্যাখ্যা

মানুষের কঙ্কালতন্ত্র: 
- একজন মানুষের দেহে ২০৬ টুকরা হাড় থাকে। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) অক্ষীয় কঙ্কাল, 
(২) উপানীয় কঙ্কাল। 

- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঞ্চালিক গঠনকে করোটি বলে। করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে। 
- করোটির যে অংশ মস্তিষ্ক আবৃত করে রাখে তাকে করোটিকা বলে। 
- সর্বমোট ১৪টি অস্থি নিয়ে মুখমণ্ডল গঠিত। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫৯.
মানুষের লোহিত রক্ত কণিকা কোথায় তৈরি হয়?
  1. প্লীহাতে
  2. অস্থিমজ্জায়
  3. হৃদপিন্ডে
  4. যকৃতে
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা

• অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে।
• এদের গড় আয়ু ১২০ দিন।
• হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় রক্ত লাল দেখায়।
• এরা প্রধানত অক্সিজেন এবং সামান্য পরিমান কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে।
• রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে রক্তশূন্যতা বা Anaemia বলে।
• ভিটামিন বি-১২, ফলিক এসিড, আমিষ বা লৌহ স্বল্পতা হলে Anaemia হয়।
• লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।



উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৮৬০.
প্রােটিন তৈরি হয়-
  1. ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে
  2. ফলিক অ্যাসিড দিয়ে
  3. অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিনাে অ্যাসিড দিয়ে
ব্যাখ্যা
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ গঠিত। আমিষের একক হল অ্যামিনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামিনো এসিডে পরিণত হয়। মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামিনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো এসিড।

- সাধারণত ২০ টি অ্যামিনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে বলা হয় প্রোটিন অ্যামিনো এসিড।

উৎসঃ ব্রিটানিকা, বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
১,৮৬১.
আমাদের দেহের গ্রন্থিগুলো তৈরি হয় কোন ধরণের টিস্যুর সাহায্যে?
  1. ক) রিপ্রোডাক্টিভ টিস্যু
  2. খ) মাসক্যুলার টিস্যু
  3. গ) এপিথেলিয়াল টিস্যু
  4. ঘ) কানেক্টিভ টিস্যু
সঠিক উত্তর:
গ) এপিথেলিয়াল টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এপিথেলিয়াল টিস্যু
ব্যাখ্যা
যে টিস্যু দেহের খোলা অংশ ঢেকে রাখে এবং দেহের ভিতরের আবরণ তৈরি করে তাকে আবরণী টিস্যু বা এপিথিলিয়াল টিস্যু বলে৷
আমাদের ত্বকের বাইরের আবরণ মুখগহ্বরের ভিতরের আবরণ ইত্যাদি আবরণী টিস্যু নিয়ে গঠিত৷ দেহের বিভিন্ন গ্রন্থিগুলোও আবরণী টিস্যু দিয়ে গঠিত হয়৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি
১,৮৬২.
নিচের কোনটি কোষের গুণাবলি রক্ষা করে?
  1. খাদ্যপ্রাণ
  2. আমিষ
  3. স্নেহ
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত, এ রাসায়নিক উপাদানগুলোকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। 
- কেবলমাত্র একটি উপাদান দিয়ে গঠিত-এমন খাদ্যবস্তুর সংখ্যা খুবই কম। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১. আমিষ বা প্রোটিন: এটি ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও দেহ গঠন করে। 
২. শর্করা বা শ্বেতসার বা কার্বোহাইড্রেট: এটি শক্তি উৎপাদন করে। 
৩. স্নেহ বা চর্বি বা লিপিড: এটি তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া অন্যান্য তিন প্রকার উপাদান বিশেষ প্রয়োজন। 
যথা- 
১. খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: এটি রোগ প্রতিরোধ, শক্তি বৃদ্ধি, বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
২. খনিজ লবণ: এটি বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। 
৩. পানি: পানি দেহে পানির সমতা রক্ষা করে, কোষের গুণাবলি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ অঙ্গাণুসমূহকে ধারণ ও তাপের সমতা রক্ষা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৮৬৩.
কুকুরের দেহকোষে ক্রোমোজোমে সংখ্যা-
  1. ক) ১২ জোড়া
  2. খ) ২৩ জোড়া
  3. গ) ৩০ জোড়া
  4. ঘ) ৩৯ জোড়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৯ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৯ জোড়া
ব্যাখ্যা
All dogs have 78 chromosomes, or 39 pairs of chromosomes (humans have 23 pairs), and one member of each pair comes from each parent. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৮৬৪.
মানবদেহের মেরুদণ্ডে হাড়ের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ২৯টি
  2. খ) ২৫টি
  3. গ) ৬০টি
  4. ঘ) ২৬টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২৬টি
ব্যাখ্যা

একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ২৬টি।
আর নবজাতকের শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ৩৩টি।
পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে থাকেঃ
- ৭টি গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা
- ১২টি বক্ষদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি কটিদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি হাড় একীভূত হয়ে একটি শ্রোণিদেশীয় কশেরুকা
- ৪টি হাড় একীভূত হয়ে একটি পুচ্ছদেশীয় কশেরুকা 
- এই সর্বমোট ২৬টি কশেরুকা।
শৈশাবস্থায় শ্রোণিদেশীয় ও পুচ্ছদেশীয় হাড়গুলো একীভূত না হওয়ায় তখন মেরুদণ্ডে মোট অস্থির সংখ্যা থাকে ৩৩টি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৮৬৫.
চোখের কোন অংশে সবচেয়ে ভাল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়?
  1. লেন্স
  2. কর্নিয়া 
  3. রেটিনা
  4. ফোবিয়া সেন্ট্রালিস
সঠিক উত্তর:
ফোবিয়া সেন্ট্রালিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোবিয়া সেন্ট্রালিস
ব্যাখ্যা

ফোবিয়া সেন্ট্রালিস (Fovea centralis):
- অন্ধবিন্দুর কাছাকাছি রেটিনার একটি অংশে প্রচুর কোণ কোষ দেখা যায়, রড কোষ থাকে না।
- এ অংশকে হলুদ বিন্দু (yellow spot) বা ফোবিয়া সেন্ট্রালিস বলে।
কাজ: এখানে সবচেয়ে ভাল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

- লেন্স:
- পিউপিলের পিছনে অবস্থিত ও সিলিয়ারী বডির সাথে সাসপেনসরি লিগামেন্টযুক্ত হয়ে ঝুলে থাকা একটি স্বচ্ছ স্থিতিস্থাপক ও দ্বিউত্তল চাকতির মতো অংশকে লেন্স বলে।
লেন্স (Lens) এর কাজ: লেন্সের মাধ্যমে বস্তু থেকে আগত আলোক রশ্মি রেটিনার নির্দিষ্ট অংশে প্রতিফলিত হয়।

কর্নিয়া (Cornea):
- স্ক্লেরা আবরণীর সম্মুখ ভাগের স্বচ্ছ অংশের নাম কর্নিয়া।
কাজ: কর্নিয়ার মাধ্যমে চোখের ভেতরে আলো প্রবেশ করে।

 রেটিনা (Retina):
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা।
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী।
- এতে আলোক সংবেদী কোষ (Photoreceptor) থাকে।
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত।
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ।
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী।
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী।
কাজ: রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৬৬.
ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে কোন ধমনি?
  1. ভার্টিব্রাল ধমনি
  2. ফ্রেনিক ধমনি
  3. সার্ভিকাল ধমনি
  4. সিলিয়াক ধমনি
সঠিক উত্তর:
ফ্রেনিক ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রেনিক ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
 ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৬৭.
ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. জ্বর
  2. ডায়রিয়া
  3. ডায়াবেটিস
  4. কাশি
সঠিক উত্তর:
ডায়রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়রিয়া
ব্যাখ্যা

◉ ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।

- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।

ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ: 
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড), 
- গ্লুকোজ, 
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড, 
- সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট। 

উৎস: 
১। জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট। 

১,৮৬৮.
মানুষের শরীরে মোট কতধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে?
  1. ক) ২৬
  2. খ) ৩৬
  3. গ) ৫৬
  4. ঘ) ৬৬
সঠিক উত্তর:
ক) ২৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৬
ব্যাখ্যা
মানুষের শরীরে মোট ২৬ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৮৬৯.
কোন ধরনের খাদ্য থেকে একই পরিমাণ খাওয়ার পরেও তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তি আহরণ করা যায়?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) কার্বোহাইড্রেট
  3. গ) ফ্যাট
  4. ঘ) শ্বেতসার
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্যাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফ্যাট
ব্যাখ্যা

এক হাজার ক্যালরি সমান এক কিলােক্যালরি বা এক খাদ্য ক্যালরি (One Food Calorie)। খাদ্যের ক্যালরিকে কিলােক্যালরি দিয়ে বােঝানাে হয়।
উদাহরণ দেওয়ার জন্য বলা যায়, শর্করা এবং প্রােটিনের ক্যালরি প্রায় সমান, ৪ kcal/g।
স্নেহজাতীয় খাদ্যে অর্থাৎ ফ্যাটের ক্যালরি সবচেয়ে বেশি— এর পরিমাণ ৯ kcal/g। একটা খাদ্যের খাদ্য ক্যালরি বলতে বােঝায় খাদ্যটি সম্পূর্ণভাবে জারণ হলে কতখানি শক্তি বের হবে।
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক ২৫০০ kcal এবং একজন নারীর ২০০০ kcal এর সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়ােজন।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,৮৭০.
জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকতে প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে কতটুকু অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন?
  1. ৫.০ মিলিগ্রাম
  2. ০.৫ মিলিগ্রাম
  3. ০.০৫ মিলিগ্রাম
  4. ০.০০৫ মিলিগ্রাম
সঠিক উত্তর:
৫.০ মিলিগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫.০ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা
- পানিতে বসবাসকারী প্রাণীদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেনের দরকার হয়। 
- আর তারা এই অক্সিজেন পায় পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকা অক্সিজেন থেকে। 
- জলজ প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫.০ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা দরকার
- এই অক্সিজেন নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে কমে গেলে জলজ প্রাণীগুলোর সমস্যা হতে থাকে। 
- যদি পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন না থাকে, তাহলে মাছসহ অন্যান্য প্রাণী বাচঁতেই পারবে না। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৭১.
একজন টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে কোন্‌ বক্তব্যটি সঠিক? 
  1. নির্দিষ্ট কোষের ইনসুলিন প্রতিরোধিতা 
  2. বিটা কোষগুলির অটো-ইমিউন ধ্বংসের কারণে অগ্ন্যাশয় অপর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে
  3. অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ দ্বারা গ্লুকাগনের অতিরিক্ত উৎপাদন 
  4. প্রো-ইনসুলিন থেকে ইনসুলিনে রূপান্তরে ত্রুটি
সঠিক উত্তর:
বিটা কোষগুলির অটো-ইমিউন ধ্বংসের কারণে অগ্ন্যাশয় অপর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিটা কোষগুলির অটো-ইমিউন ধ্বংসের কারণে অগ্ন্যাশয় অপর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করে
ব্যাখ্যা

- টাইপ-১ ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী অটো-ইমিউন অবস্থা। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষগুলোকে (Beta cells) আক্রমণ করে ধ্বংস করে ফেলে যার ফলে অগ্ন্যাশয় শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা একেবারেই সামান্য তৈরি করে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায়। 

বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস (Diabetes): 
- ইনসুলিন একটি হরমোন, এটি অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে, এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজনমতো ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থায়ীভাবে বেড়ে যায়, প্রস্রাবের সাথে গ্লুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস মেলিটাস (সংক্ষেপে: ডায়াবেটিস) বলে। 
- ডায়াবেটিস প্রধানত দুই ধরনের। যথা- টাইপ-1 এবং টাইপ-2। 
- টাইপ-1 এ আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারেই ইনসুলিন তৈরি হয় না। তাই নিয়মিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়। 
- অন্যদিকে টাইপ-2 রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ঔষধ, অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে। তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিসেও কোনো না কোনো পর্যায়ে ইনসুলিনের স্থায়ী ঘাটতি হয়ে যেতে পারে কিংবা বিভিন্ন অসুখ বা চিকিৎসাপদ্ধতির অংশ হিসেবে সেই সব ঔষধ বন্ধ রাখতে হতে পারে, তখন ইনসুলিন ছাড়া উপায় থাকে না। এ রোগটি সাধারণত বংশগতি এবং পরিবেশের প্রভাবে হয়ে থাকে। 
- এই বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগটি সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ নয়। 

- রক্ত ও প্রস্রাবে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাণের চেয়ে বেড়ে গেলে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
- লক্ষণগুলো হলো ঘন-ঘন প্রস্রাব হওয়া, অধিক পিপাসা লাগা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও দেহের ওজন কমতে থাকা, দুর্বল বোধ করা, চোখে কম দেখা, চামড়া খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া, ক্ষতস্থান সহজে না শুকানো ইত্যাদি। 
- পূর্বে ধারণা করা হতো কেবল বয়স্কদের এ রোগটি হয়। এ ধারণাটি সঠিক নয়। ছোট-বড় সব বয়সে এ রোগ হতে পারে। তবে যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না, দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন অথবা অলস জীবন যাপন করেন, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। 
- তাছাড়া স্থূলকায় ব্যক্তিদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। যেহেতু এ রোগ বংশগত, তাই কোনো ব্যক্তির বাবা, মা, দাদা, দাদির এ রোগ থাকলে তার এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি। 
- বংশগতভাবে অনেক শিশুর দেহে ইনসুলিন উৎপাদন কম হয়, ফলে শিশুটি ইনসুলিন ঘাটতিজনিত অসুস্থতায় ভুগতে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৭২.
কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু-
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ ধরনের
ব্যাখ্যা

• কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু ৩ ধরনের। যথা:
- স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু,
- কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু এবং
- কলামনার আবরণী টিস্যু।

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৭৩.
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে কোন দুটি হরমোন নির্গত হয়?
  1. ইনসুলিন ও অ্যাড্রেনালিন
  2. ইনসুলিন ও গ্লুকাগন
  3. থাইরক্সিন ও ক্যালসিটোনিন
  4. গ্রোথ হরমোন ও প্রোল্যাকটিন
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন ও গ্লুকাগন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন ও গ্লুকাগন
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স (Islets of Langerhans) থেকে প্রধানত যে দুটি হরমোন নির্গত হয় তা হলো ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন।

ইনসুলিন: অগ্ন্যাশয়ের বিটা (β) কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

গ্লুকাগন: আলফা (α) কোষ থেকে নিঃসৃত হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
এই দুটি হরমোন একসাথে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লুকোজ হোমিওস্ট্যাসিস)। 

অন্যদিকে,
ক) ইনসুলিন ও অ্যাড্রেনালিন: অ্যাড্রেনালিন হরমোন অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়, অগ্ন্যাশয় থেকে নয়।

গ) থাইরক্সিন ও ক্যালসিটোনিন: থাইরক্সিন এবং ক্যালসিটোনিন হরমোন থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।

ঘ) গ্রোথ হরমোন ও প্রোল্যাকটিন: গ্রোথ হরমোন এবং প্রোল্যাকটিন পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৭৪.
নিচের জোড়গুলো বিবেচনা করুন-
ভিটামিন              অভাবজনিত রোগ
i) ভিটামিন -D      রিকেট (Ricket)
ii) ভিটামিন E       রাতকানা (Night blindness)
উপরের কোন জোড়টি সঠিকভাবে সম্পর্কযুক্ত?
  1. শুধু i
  2. শুধু ii
  3. i ও ii উভয়
  4. i ও ii কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
শুধু i
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুধু i
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ডি: 
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়। 
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস। 
- বাধাঁকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। 
- ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে। 
- ভিটামিন ডি -এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হয়। 
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়। এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিন্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। 
 
অন্যদিকে, 
- ভিটামিন এ -এর অভাবে রাতকানা রোগ হয় কিন্তু অপশনে ভিটামিন ই দেওয়া যা সঠিক নয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৭৫.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী?
  1. কুমির
  2. টিকটিকি
  3. কচ্ছপ
  4. নীল তিমি
সঠিক উত্তর:
নীল তিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল তিমি
ব্যাখ্যা
• Chordata পর্বের Mammalia শ্রেণির স্তন্যপায়ী প্রাণী:
- নীল তিমি,
- বাদুড়,
- ডলফিন,
- মানুষ,
- বানর

• Chordata পর্বের Reptalia শ্রেণির সরীসৃপ প্রাণী:
- ঘড়িয়াল,
- কুমির,
- কচ্ছপ,
- সাপ,
- টিকটিকি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮৭৬.
তরুণাস্থি কোন ধরনের টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) তরল যোজক টিস্যু
  2. খ) তন্তুজ যোজক টিস্যু
  3. গ) কঙ্কাল যোজক টিস্যু
  4. ঘ) স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু
সঠিক উত্তর:
গ) কঙ্কাল যোজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কঙ্কাল যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
তরুণাস্থি- এরা এক ধরনের নমনীয় কঙ্কাল যোজক টিস্যু। এদের মাতৃকা কঠিন অথচ কোমল হয় এবং কোষগুলোর মধ্যে বড় ফাঁকা স্থান থাকে।
যেমন- স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাকের ও কানের পিনার তরুণাস্থি, হিউমেরাস, ফিমার ইত্যাদি অস্থির দু’প্রান্তে অবস্থিত তরুণাস্থি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৭৭.
স্নায়ুতন্ত্রকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ১ ভাগে
  2. খ) ২ ভাগে
  3. গ) ৩ ভাগে
  4. ঘ) ৪ ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) ২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২ ভাগে
ব্যাখ্যা

প্রাণিদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও এর অসংখ্য কোষের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করে স্নায়ুতন্ত্র। স্নায়ুতন্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় - মেরুদন্ডী প্রাণিতে।
মেরুদন্ডী প্রাণীরা আজ পৃথিবীতে প্রাধান্য বিস্তারকারী গোষ্ঠী। এ আধিপত্যের অন্যতম কারণ - উন্নত মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে মস্তিষ্ক এবং একক হচ্ছে - নিউরন। অসংখ্য নিউরনের সমন্বয়ে মস্তিষ্ক গঠিত।
মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central nervous system)
২. প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (Peripheral nervous system)

উৎসঃ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।

তবে, মাধ্যমিক (উন্মুক্ত) ও অষ্টম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বইতে স্নায়ুতন্ত্রকে ৩ ভাগে বিভক্ত দেখানো হয়েছে।
যথা - কেন্দ্রীয়, প্রান্তীয় ও স্বয়ংক্রিয়।

তবে, এই ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞান বোর্ড বইগুলো অধিকতর গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ২ ভাগকে সঠিক উত্তর ধরে নিচ্ছি।

১,৮৭৮.
যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন কোনটি?
  1. ক) টেস্টোস্টেরন
  2. খ) গ্লুকাগন
  3. গ) থাইরক্সিন
  4. ঘ) অ্যাড্রেনালিন
সঠিক উত্তর:
ক) টেস্টোস্টেরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) টেস্টোস্টেরন
ব্যাখ্যা
টেস্টোস্টেরন পুরুষের যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন। তবে, নারীদের স্বাস্থ্যগত অনেক দিকের সঙ্গেও এই হরমোনের প্রভাব রয়েছে।
১,৮৭৯.
ডেনড্রাইটের মূল কাজ কী?
  1. অন্য নিউরনকে পুষ্টি প্রেরণ করা
  2. স্নায়ু উদ্দীপনা সংরক্ষণ করা
  3. অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করা
  4. স্নায়ু উদ্দীপনা প্রেরণ করা
সঠিক উত্তর:
অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করা
ব্যাখ্যা

- ডেনড্রাইটের প্রধান কাজ হল অন্য নিউরন বা পরিবেশ থেকে স্নায়বিক সংকেত বা তথ্য গ্রহণ করা এবং তা নিউরনের কোষদেহের দিকে পরিচালিত করা। 

নিউরনের গঠন: 
- প্রতিটি নিউরন কোষদেহ এবং প্রলম্বিত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
(a) কোষদেহ (Cell body): 
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত।  এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে। 

(b) প্রলম্বিত অংশ: 
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। 
- প্রলম্বিত অংশ দুই ধরনের। 
(i) ডেনড্রন (Dendron): 
- কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে।
- ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে। 

(ii) অ্যাক্সন (Axon): 
- কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তদুটির নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে, একে মায়েলিন (Myelin) বলে। অ্যাক্সনের শেষ মাথা অ্যাক্সন টারমিনালে বিভক্ত হয়ে যায়, এবং এই টারমিনালগুলো দিয়ে সিন্যাপস মারফত অন্য নিউরনের ডেনড্রাইটে স্নায়ু তাড়না প্রেরণ করা হয়। 
- বহুসংখ্যক অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট মিলিত হয়ে স্নায়ু গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৮০.
নিচের কোনটি জীবের বংশগতিতে অবদান রাখে?
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) ক্রোমাটিন জালিকা
  3. গ) নিউক্লিউপ্লাজম
  4. ঘ) নিউক্লিয়ার ঝিল্লী
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমাটিন জালিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রোমাটিন জালিকা
ব্যাখ্যা

ক্রোমাটিন জালিকা জীবের বংশগতিতে অবদান রাখে।

ক্রোমাটিন জালিকা (Chromatin reticulum):
কোষের বিশ্রামকালে কেন্দ্রিকায় কুণ্ডলী পাকানো সূক্ষ্ম সুতার ন্যায় অংশই ক্রোমাটিন জালিকা। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাট হয় তাই তখন তাদের আলাদা আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়।

ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলো বংশগতির গুণাবলি বহন করে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে নিয়ে যায়। কোনো একটি জীবের ক্রোমোজোম সংখ্যা ওই জীবের জন্য নির্দিষ্ট। এসব ক্রোমোজোমে বংশধারা বহনকারী জিন অবস্থান করে। পুরুষানুক্রমে বংশের বৈশিষ্ট্য বহন করা ক্রোমোজোমের কাজ।

কোষ জীবদেহের (উদ্ভিদ ও প্রাণী) গঠনের একক। এককোষী ও বহুকোষী প্রাণীদের কোষে কাজ ভিন্ন ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়। পৃথিবীর আদি সব ধরনের ক্রিয়াকলাপ যেমন খাদ্যগ্রহণ, দেহের বৃদ্ধি ও প্রজনন ওই এক কোষের মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে। বহুকোষী প্রাণীদের দেহকোষের মাঝে ভিন্নতা আছে, আছে বৈচিত্র্যতা।

মানবদেহে নানা ধরনের কোষ আছে যারা ভিন্ন ভিন্ন কাজে নিয়োজিত। মানবদেহের স্নায়ুকোষ জালের মতো ছড়িয়ে থাকে। দেহের যে কোনো অংশের উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্কে প্রেরণ করা, আবার মস্তিষ্কের কোনো বার্তা শরীরের নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছে দেওয়াই এদের কাজ।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১,৮৮১.
প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ কতভাগ?
  1. ক) ৯০
  2. খ) ৯৩
  3. গ) ৯৫
  4. ঘ) ৯৮
সঠিক উত্তর:
ক) ৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯০
ব্যাখ্যা

প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ সাধারণত শতকরা ৬৭ থেকে ৯০ ভাগ হয়ে থাকে।
প্রোটোপ্লাস্টের নির্জীব অংশ বাদে অবশিষ্ট অংশটিই প্রোটোপ্লাজম অর্থাৎ, কোষের সমস্ত সজীব অংশকে একত্রে প্রোটোপ্লাজম বলে। অন্যভাবে, কোষের অভ্যন্তরে স্বচ্ছ, আঠালো এবং জেলির ন্যায় অর্ধতরল, কলয়ডালধর্মী সজীব পদার্থকে প্রোটোপ্লাজম বলে। গ্রিক শব্দ protos-প্রথম, plasma-আকার থেকে Protoplosm শব্দটির উৎপত্তি।

আবিষ্কার ও নামকরণ : বিজ্ঞানী পারকিনজি (Purkinje, ১৮৪০) সর্বপ্রথম প্রোটোপ্লাজম কথাটি ব্যবহার করেন। প্রোটোপ্লাজমই যে প্রাণের ভৌত ভিত্তি সে সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন বিজ্ঞানী ম্যাক্স সূজ (Max Schultze, ১৮৬৩) এবং টমাস হাক্সলে (Thomas Huxley, ১৮৬৮)।

প্রোটোপ্লাজমের ভৌত বৈশিষ্ট্য:
ক. প্রোটোপ্লাজম অর্ধস্বচ্ছ, বর্ণহীন, জেলি সদৃশ অর্ধতরল আঠালো পদার্থ।
খ. এটি দানাদার ও কলয়ডালধর্মী।
গ. ইহা কোষস্থ পরিবেশ অনুযায়ী জেলি থেকে তরলে এবং তরল থেকে জেলিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
ঘ. প্রোটোপ্লাজমের আপেক্ষিক গুরুত্ব পানি অপেক্ষা বেশি থাকে।
ঙ. উত্তাপ, অ্যাসিড ও অ্যালকোহলের প্রভাবে প্রোটোপ্লাজম জমাট বাধেঁ।

প্রোটোপ্লাজমের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য-
রাসায়নিকভাবে প্রোটোপ্লাজমে জৈব এবং অজৈব পদার্থ আছে। এতে অধিক পরিমাণে আছে পানি। জৈব পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে বিভিন্ন ধরণের প্রোটিন, এরপর আছে কার্বোহাইড্রেট ও লিপিড ও ভিটামিন। এছাড়াও আছে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, কপার, ইত্যাদি।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

১,৮৮২.
কোন প্রাণীর তিনটি হৃৎপিণ্ড?
  1. ক) হাঙ্গর
  2. খ) ক্যাটল ফিস
  3. গ) সিল মাছ
  4. ঘ) কচ্ছপ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাটল ফিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাটল ফিস
ব্যাখ্যা
ক্যাটল ফিস ও অক্টোপাস উভয়ের তিনটি করে হৃৎপিন্ড আছে।
তাছাড়া ব্যাঙের হৃদপিন্ডে ৩টি প্রকোষ্ঠ এবং মানুষের হৃৎপিণ্ডে ৪ টি প্রকোষ্ঠ আছে।
১,৮৮৩.
মানবদেহে শারীরিক চাপ ও বিপদজনক পরিস্থিতিতে সহায়তাকারী হরমোন কোনটি? 
  1. গ্লুকাগন
  2. ইনসুলিন
  3. থাইরক্সিন
  4. অ্যাডরেনালিন
সঠিক উত্তর:
অ্যাডরেনালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাডরেনালিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহের কয়েকটি মুখ্য নালিবিহীন গ্রন্থির পরিচিতি: 
১। পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland): 
- পিটুইটারি গ্রন্থি বা হাইপোফাইসিস মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত। এটি মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি, কারণ একদিকে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সংখ্যায় যেমন বেশি, অপরদিকে অন্যান্য গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও বেশি। দেহের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নালিবিহীন গ্রন্থি হলেও এটি আকারে সবচেয়ে ছোট। এই গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH), এডরেনোকর্টিকোট্রপিন ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নির্গত করে। 

২। থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland): 
- থাইরয়েড গ্রন্থি গলায় ট্রাকিয়ার উপরের অংশে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে প্রধানত থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণ হয়। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিন (Thyroxine) সাধারণত মানবদেহে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েডের আরেকটি হরমোন ক্যালসিটোনিন (calcitonin) ক্যালসিয়াম বিপাকের সাথে জড়িত। 

৩। প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি (Parathyroid gland): 
- একজন মানুষের সাধারণত চারটি প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থাকে, যার সবগুলোই থাইরয়েড গ্রন্থির পিছনে অবস্থিত। এই গ্রন্থি হতে নিঃসৃত প্যারাথরমোন (Parathormone) মূলত ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। 

৪। থাইমাস গ্রন্থি (Thymus gland): 
- থাইমাস গ্রন্থি গ্রীবা অঞ্চলে অবস্থিত। থাইমাস গ্রন্থি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিকাশে সাহায্য করে। শিশুকালে এই গ্রন্থি বিকশিত থাকে পরে বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে ছোট হয়ে যায়। এই গ্রন্থি থেকে থাইমোসিন (thymosin) হরমোন নিঃসরণ হয়। পূর্ণবয়স্ক মানুষে সাধারণত এই হরমোন থাকে না, থাকলেও খুবই নিম্ন মাত্রায়। 

৫। অ্যাডরেনাল বা সুপ্রারেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland): 
- অ্যাডরেনাল গ্রন্থি কিডনির উপরে অবস্থিত। অ্যাডরেনাল গ্রন্থি দেহের অত্যাবশ্যকীয় বিপাকীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি মূলত কঠিন মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে পরিত্রাণে সাহায্য করে। অ্যাডরেনালিন (adrenalin) এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলোর একটি। 

৬। আইলেটস অফ ল্যাংগারহ্যানস (Islets of langerhans): 
- আইলেটস্ অফ ল্যাংগারহ্যানস অগ্ন্যাশয়ের মাঝে অবস্থিত, এই কোষগুচ্ছ শরীরের শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। এর নালিহীন কোষগুলো ইনসুলিন (insulin)ও গ্লুকাগন (glucagon) নিঃসরণ করে যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

৭। গোনাড বা জনন অঙ্গ গ্রন্থি: 
- এটি মেয়েদের ডিম্বাশয় এবং ছেলেদের শুক্রাশয়ে অবস্থিত। জনন অঙ্গ থেকে নিঃসৃত হরমোন দেহের পরিণত বয়সের লক্ষণগুলো বিকশিত করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও প্রাণীর জনন অঙ্গের বৃদ্ধির পাশাপাশি জননচক্র এবং যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। জনন অঙ্গ থেকে পরিণত বয়সের পুরুষ-দেহে টেস্টোস্টেরন (testosterone) এবং স্ত্রী-দেহে ইস্ট্রোজেন (estrogens) হরমোন উৎপন্ন হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮৪.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কোন এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে? 
  1. লাইপেজ
  2. ট্রিপসিন
  3. টায়ালিন
  4. পেপসিন
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮৫.
আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে কোনটি?
  1. ট্রিপসিন
  2. টায়ালিন
  3. অ্যামাইলেজ
  4. লাইপেজ
সঠিক উত্তর:
ট্রিপসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। 
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮৮৬.
কোনটির অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়?
  1. ভিটামিন B1
  2. ভিটামিন B12
  3. ভিটামিন B2
  4. ভিটামিন B3
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন B3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন B3
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন B কমপ্লেক্স: 

• থায়ামিন (B1)- দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
• রাইবোফ্ল্যাভিন (B2)- এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়।
• নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়।
• এই রোগের উপসর্গগুলি হল স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া), উদরাময় এবং চর্মরোগ বা ডার্মাটাইটিস। 
• পিরিডক্সিন (B6) এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দেয়।।
• ফলিক এসিড (B9) এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া এর অভাবে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশ ব্যাহত হয়।
• কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (B12) এর অভাবে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) রোগ দেখা দেয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 
১,৮৮৭.
কানের পিনা হচ্ছে -
  1. তরুণাস্থি
  2. অস্থি
  3. অস্থিসন্ধি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তরুণাস্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরুণাস্থি
ব্যাখ্যা

• অস্থি (Bone):
- অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা।
- অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত। মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে।
- একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। বয়স বাড়লে অবশ্য এমনিতেই ভারসাম্যটি হাড় ক্ষয়ের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি। এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে।  

• তরুণাস্থি (Cartilage):

- তরুণাস্থি অস্থির মতো শক্ত নয়। এগুলো অপেক্ষাকৃত নরম এবং স্থিতিস্থাপক। এটি যোজক কলার ভিন্নরূপ।
- এর কোষগুলো একক বা জোড়ায় জোড়ায় খুব ঘনভাবে স্থিতিস্থাপক মাতৃকাতে বিস্তৃত থাকে।
- তরুণাস্থি কোষগুলো থেকে কন্ড্রিন নামক এক ধরনের শক্ত, ঈষদচ্ছ রাসায়নিক বস্তু বের হয়। 
- সব তরুণাস্থি একটি তন্তুময় যোজক কলা নির্মিত আবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে, একে পেরিকন্ড্রিয়াম বলে। এই আবরণটি দেখতে চকচকে সাদা, তাই আমরা সাধারণত তরুণাস্থিকে সাদা, নীলাভ এবং চকচকে দেখতে পাই।
- আমাদের দেহে কয়েক রকম তরুণাস্থি আছে (যেমন কানের পিনার তরুণাস্থি)। তরুণাস্থি বিভিন্ন অস্থির সংযোগস্থলে, কিংবা অস্থির কিছু অংশে উপস্থিত থাকে।

• অস্থিসন্ধি (Joint):
- দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে।
- প্রতিটি অস্থিসন্ধির অস্থিগুলো একরকম স্থিতিস্থাপক রজ্জুর মতো বন্ধনী দিয়ে দৃঢ়ভাবে আটকানো থাকে, ফলে অস্থিগুলো সহজে সন্ধিস্থল থেকে বিচ্যুত হতে পারে না।
- সন্ধিস্থল বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১,৮৮৮.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী নিচের কোনটি?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) লিউকোসাইট
  3. গ) প্লেইটলেট
  4. ঘ) হেপারিন
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেইটলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্লেইটলেট
ব্যাখ্যা
- অণুচক্রিকা বা প্লেইটলেট অস্থায়ী প্লেইটলেট প্লাগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে। রক্তজমাট ত্বরাণ্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে৷ আবার প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনেও সাহায্য করে৷
- বেসোফিলের সাইটোপ্লাজমে যে দানা থাকে তা থেকে হেপারিন তৈরি হয়। হেপারিন রক্তবাহিকার ভিতরে রক্তজমাট প্রতিরোধ করে।
- লোহিত রক্তকণিকা বা শ্বেত রক্তকণিকা রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সম্পর্কিত নয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮৮৯.
ভাইরাসঘটিত রোগ নয় কোনটি?
  1. পোলিও
  2. টাইফয়েড
  3. জন্ডিস
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা
সঠিক উত্তর:
টাইফয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

টাইফয়েড হলো একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।

ভাইরাসজনিত রোগ:
- এইডস,
- পোলিও,
- ডেঙ্গু,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- পীতজ্বর,
- হাম,
- রুবেলা,
- মাম্পস,
- জন্ডিস,
- হার্পিস ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- আমাশয়,
- টাইফয়েড,
- কলেরা,
- কুষ্ঠ,
- যক্ষ্মা,
- ধনুষ্টংকার,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিং কাশি ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

১,৮৯০.
নিচের কোনটি চোখের একমাত্র আলোকসংবেদী অংশ?
  1. পিউপিল
  2. আইরিশ
  3. রেটিনা
  4. অন্ধবিন্দু
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
ব্যাখ্যা

• চোখের একমাত্র আলোকসংবেদী অংশ হলো রেটিনা (গ)। রেটিনা চোখের ভেতরের পেছনের অংশে অবস্থিত এক সূক্ষ্ম ঝিল্লি, যেখানে আলোর রশ্মি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। এতে অসংখ্য আলোকগ্রাহী কোষ বা ফটোরিসেপ্টর (রড ও কোণিকা) থাকে, যা আলো ও রঙ শনাক্ত করে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এই সংকেত থেকেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। অন্যদিকে পিউপিল হলো আলো প্রবেশের পথ, আইরিশ রঙ নিয়ন্ত্রণ করে, আর অন্ধবিন্দুতে কোনো আলোকসংবেদী কোষ নেই। তাই রেটিনাই একমাত্র অংশ যা সরাসরি আলো অনুভব করতে সক্ষম।

রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

১,৮৯১.
অস্থি মূলত কোন ধরণের কলার রূপান্তরিত রূপ? 
  1. স্নায়ুকলা
  2. যোজককলা
  3. পেশিকলা
  4. আবরণী কলা
সঠিক উত্তর:
যোজককলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজককলা
ব্যাখ্যা
অস্থি (Bone): 
- অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। 
- এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা। 
- অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে। 
- একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে। 
- এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। 
- বয়স বাড়লে অবশ্য এমনিতেই ভারসাম্যটি হাড় ক্ষয়ের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। 
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি। 

- এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে। 
- জীবিত অস্থিকোষে 40% জৈব এবং 60% অজৈব যৌগ পদার্থ নিয়ে গঠিত। 
- অস্থি বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন 'ডি' এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। 
- এসব খাবারের অভাবে অস্থির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 
- সূর্যের আলো ত্বকে অবস্থিত কোলেস্টেরলের এমন রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়, যা যকৃৎ এবং বৃক্কে আরও কিছু ধারাবাহিক পরিবর্তনের পর ভিটামিন ডি সংশ্লেষণ করে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসা উচিত। 
- যারা সবসময় ঘরে বসে থাকেন বা সারা শরীর আবৃতকারী পোশাক পরেন, তাদের ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৯২.
Which organ produces bile?
  1. Brain
  2. Kidney
  3. Gallbladder
  4. Liver
  5. Stomach
সঠিক উত্তর:
Liver
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Liver
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে যকৃৎ থেকে পিত্তরস উৎপন্ন হয়। 

• পিত্তরস (Bile) বা পিত্ত:
- যকৃত কোষ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস হলদে-সবুজ, আঠালো, তিক্ত স্বাদধারী ক্ষারীয় তরল পদার্থ। এর pH মান 8-8.6

• যকৃত কোষ (হেপাটোসাইট) অবিরাম পিত্ত ক্ষরণ করে এবং পিত্তথলিতে জমা রাখে।
- যকৃত কোষ স্টেরয়েড থেকে পিত্ত লবণ, যেমন-সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট (sodium glycocholate) ও সোডিয়াম টরোকোলেট (sodium taurocholate) সংশ্লেষ করে।
- পরিপাক অঙ্গ হিসেবে যকৃতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পিত্ত উৎপাদন ও ক্ষরণ।

• পিত্তরসের কাজ:
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশন (emulsification) প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে।
- পিত্তলবণ চর্বি পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজকে সক্রিয় করে পরিপাকে সাহায্য করে।
- পিত্তলবণ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E, K-কে শোষণে সহায়তা করে ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 
১,৮৯৩.
মানুষের চোখে রড কোষের কাজ কী?
  1. রং দেখা
  2. অন্ধকারে দেখা
  3. আলোর প্রতিসরণ
  4. চোখের আকৃতি বজায় রাখা
সঠিক উত্তর:
অন্ধকারে দেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকারে দেখা
ব্যাখ্যা

- মানুষের চোখে প্রধানত দুই ধরনের আলোক সংবেদনশীল কোষ থাকে রড (Rod) এবং কোন (Cone)
- এই কোষগুলো চোখের রেটিনাতে অবস্থান করে এবং আলো শোষণ করে আমাদের দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করে।

• রড কোষ হলো এমন কোষ যা বিশেষভাবে কম আলো, রাত, বা অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা প্রদান করে।


• রড কোষের বৈশিষ্ট্য ও কাজ:
- অন্ধকারে দৃষ্টি: রড কোষ খুবই সংবেদনশীল, তাই দুর্বল আলো বা অন্ধকারে দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখে।
- রং শনাক্ত করতে অক্ষম: রড কোষ কেবল আলোর উপস্থিতি এবং তীব্রতা শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রং চিনতে পারে না। ফলে অন্ধকারে সবকিছু ধূসর বা সাদাটে দেখা যায়।
- চলমান ও নরম আলোর জন্য উপযুক্ত: রড কোষ রাতের আলোতে বা কম আলোতে সৃজনশীল এবং অঙ্গভঙ্গি সমন্বয় করতে সাহায্য করে।

• কোন কোষের সঙ্গে তুলনা:
- কোন কোষ সাধারণ আলোতে রং এবং সূক্ষ্ম বিবরণ দেখতে সাহায্য করে।
- কোন কোষ রঙের তিনটি প্রকার শনাক্ত করতে পারে লাল, সবুজ, নীল।
- রড কোষ কেবল গ্রেস্কেল বা কালো-সাদা আলোর মাত্রা শনাক্ত করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, রড কোষ হলো রাতের বা দুর্বল আলোতে দৃষ্টি রক্ষাকারী কোষ, যা আমাদের অন্ধকারে দৃষ্টি এবং পরিবেশের আলো অনুযায়ী চোখের অভিযোজন নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
- Britannica [লিংক]।

১,৮৯৪.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের জন্য কোন গ্যাস দায়ী?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) ক্লোরিন
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

গ্রীনহাউজ গ্যাস (CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাবার ফলে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায় যাকে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট বলা হয়। গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল। এছাড়া সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাবে, ঝড় ও জ্বলোচ্ছ্বাস এর তীব্রতা বেড়ে যাবে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। সামগ্রিকভাবে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

 
১,৮৯৫.
নিচের কোনটিকে কোষের 'Protein Factory' বলা হয়?
  1. নিউক্লিওলাস
  2. প্লাস্টিড
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. রাইবোসোম
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা। 
- এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। 
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৮৯৬.
ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয় কোন অংশ থেকে?
  1. ক) শুক্রাশয়
  2. খ) অগ্নাশয় গ্রন্থি
  3. গ) ডিম্বাশয়
  4. ঘ) থাইমাস গ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
গ) ডিম্বাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডিম্বাশয়
ব্যাখ্যা
ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্ট্রেরণ ও রিলাক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়।
১,৮৯৭.
মেরুদণ্ডী প্রাণী কোনটি? 
  1. কেঁচো
  2. ব্যাঙ
  3. কাঁকড়া 
  4. প্রজাপতি 
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাঙ
ব্যাখ্যা

- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

২। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১,৮৯৮.
আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে অ্যানিম্যালিয়া জগতের প্রাণীদের কয়টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৮
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ১০
সঠিক উত্তর:
গ) ৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯
ব্যাখ্যা

আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসে সকল প্রাণী অ্যানিম্যালিয়া জগতের অন্তর্ভুক্ত। অ্যানিম্যালিয়া জগতের প্রাণীদের নয়টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে।
এই নয়টি পর্বের প্রথম আটটি পর্বের প্রাণীরা অমেরুদণ্ডী এবং শেষ পর্বের প্রাণীরা মেরুদণ্ডী।
(উৎসঃ ৪১ থেকে ৫০ নং সবগুলো প্রশ্নের ব্যাখ্যাই ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান থেকে নেয়া)

১,৮৯৯.
বাঘের হৃৎপিণ্ড কয় প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
গ) চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চার
ব্যাখ্যা
স্তন্যপায়ী (Mammalia) শ্রেণির প্রাণীর দেহ লোমে আবৃত থাকে; ব্যতিক্রমি স্তন্যপায়ী প্রাণী ছাড়া এরা সবাই সন্তান প্রসব করে; উষ্ণ রক্তের প্রাণী; চোয়ালে বিভিন্ন ধরনের দাঁত থাকে; শিশুরা মাতৃ দুগ্ধ পান করে বড় হয়; এবং এদের হৃৎপিন্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। উদাহরণ : মানুষ, উট, বাঘ। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
১,৯০০.
মানবদেহের রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তরের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. লাইসোজোম
  2. গ্যাস্ট্রিক জুস
  3. সিলিয়া
  4. লিম্ফোসাইট
সঠিক উত্তর:
লিম্ফোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
• প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর:
- ত্বক,
- লোম,
- লাইসোজাইম এনজাইম
- সিলিয়া,
- কানের মোম,
- অশ্রু, শ্লেষ্মা ও লালা,
- পাকস্থলির অ্যাসিড ও এনজাইম,
- রেচন ও জনন অঙ্গের অ্যাসিড,
- মাইক্রোবায়োম, 

• দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- ফ্যাগোসাইটস,
- ন্যাচারাল কিলার কোষ,
- কমপ্লিমেন্ট তন্ত্র,
- সাইটোকাইনস,
- ইন্টারফেরন,
- অ্যাকিউট ফেজ প্রোটিন,
- প্রদাহ,
- জ্বর,
- রক্ত তঞ্চন,
• সুনির্দিষ্ট বা স্পেসিফিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মানবদেহের তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর গঠন করে
- স্পেসিফিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (অর্জিত অনাক্রম্যতা)

• তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:

- লিম্ফোসাইটস,
- অ্যান্টিবডি,
- স্মৃতিকোষ,

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।