বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৩ · ৪০১৫০০ / ২,২২৭

৪০১.
অ্যামিবা, ডায়াটম জীব জগতের নিচের কোন রাজ্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মনেরা
  2. খ) প্রোটিস্টা
  3. গ) ফানজাই
  4. ঘ) প্লানটি
ব্যাখ্যা
প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত জীবের উদাহরণ হলো- প্রোটোজোয়া (অ্যাামিবা, প্যারাম্যাসিয়াম) ও এককোষী শৈবাল (যেমন, ডায়াটম)।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০২.
অঙ্গ গঠিত হয়-
  1. ক) একগুচ্ছ কোষের সমন্বয়ে
  2. খ) এক বা একাধিক তন্ত্র নিয়ে
  3. গ) এক বা একাধিক টিস্যু নিয়ে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
টিস্যু : একই আকার ও আকৃতির কিছু সংখ্যক কোষ গুচ্ছবদ্ধ হলে তাদের বিশেষ কাজ করতে দেখা যায়। এদের উৎসও এক। এ গুচ্ছবদ্ধ কোষগুলোই টিস্যু। অর্থাৎ অবিচ্ছিন্ন ও সুসংগঠিত একগুচ্ছ কোষ যাদের উৎপত্তি এবং প্রধান প্রধান কাজ একই প্রকার সে সকল কোষগুচ্ছ হলো টিস্যু।

অঙ্গ- এক বা একাধিক টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত এবং নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে সক্ষম প্রাণীদেহের অংশবিশেষকে অঙ্গ বলা হয়।
কোন অঙ্গে একই অথবা একাধিক ধরনের টিস্যু থাকে। এ সকল অঙ্গ কোন না কোন নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে।
অবস্থানভেদে মানবদেহে দু’ধরনের অঙ্গ রয়েছে। যথা- বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ। চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, হাত, পা, মাথা ইত্যাদি মানবদেহের বাহ্যিক অঙ্গসমূহ এবং পাকস্থলি, ডিওডেনাম, ইলিয়াম, মলাশয়, হৃদপিন্ড, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, প্লীহা, ফুসফুস, বৃক্ক, শুক্রাশয়, ডিম্বাশয় ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ।

তন্ত্র- একাধিক অঙ্গ মিলিত হয়ে একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করলে তাকে তন্ত্র বলা হয়। যেমন- শ্বসন কাজ পরিচালনার জন্য শ্বাসনালী, ফুসফুস ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত হয় প্রাণীর শ্বসন তন্ত্র। এ রকম আরও কিছু তন্ত্র হলো পরিপাক তন্ত্র, রেচন তন্ত্র, প্রজনন তন্ত্র ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৩.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) Taxonomy
  2. খ) Morphology
  3. গ) Histology
  4. ঘ) Embryology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের Morphology শাখায় জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয়।
দেহের বাহ্যিক অংশগুলোর বর্ণনাকে External Morphology এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে Internal Morphology বলে।
Taxonomy শাখায় জীবের শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
জীবদেহের টিস্যুর গঠন, বিন্যাস, এবং কার্যাবলী Histology শাখায় আলোচনা করা হয়।
জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রুনের সৃষ্টি এবং  বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৪০৪.
কৈশিক জালিকা কী?
  1. রক্তরস
  2. শিরা
  3. ধমনি
  4. রক্তনালি
ব্যাখ্যা
হৃদপিন্ড:
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃদপিন্ড।
- এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।
- মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান নিলয় নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃদপিন্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ড এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।

কৈশিক জালিকা:
- ধমনি ও শিরার সংযোগস্থলে অবস্থিত কেবল এক স্তর বিশিষ্ট এন্ডোথেলিয়াম দিয়ে গঠিত যে সব সূক্ষ্ম রক্তনালি জালিকা আকারে বিন্যস্ত থাকে, সেগুলোকে কৈশিক জালিকা বলে।
- কৈশিক জালিকার মাধ্যমে রক্ত ও কলারসের মধ্যে ব্যাপন প্রক্রিয়ার দ্বারা পুষ্টিদ্রব্য, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, রেচন পদার্থ, ইত্যাদির আদান-প্রদান ঘটে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৫.
নিচের কোনটি প্রাণিজ আমিষের উৎস নয়? 
  1. মাছ 
  2. ডাল 
  3. ডিম 
  4. দুধ 
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা-
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- প্রোটিনের বিশেষ একটি প্রাকৃতিক ধরনের কোড নাম P-49 নামে পরিচিত, যা দেহের জটিল জৈবিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৪০৬.
একটি পূর্ণাঙ্গ ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা কত লিটার?
  1. ৪ লিটার
  2. ৫ লিটার
  3. ৬ লিটার
  4. ৮ লিটার
ব্যাখ্যা
• একটি পূর্ণাঙ্গ ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার।

• ফুসফুস (Lungs):
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
- বক্ষগহ্বরের ভিতর হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত।
- মানুষের হালকা গোলাপী বর্ণের স্পঞ্জের মত নরম দুটি ফুসফুস থাকে।
- বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুসটি আকারে বড় ও তিন লোব বিশিষ্ট।
- ফুসফুস দুই স্তর যুক্ত প্লিউরা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- ভেতরের পর্দাকে ভিসেরাল প্লিউরা এবং বাইরের পর্দাকে প্যারাইটাল প্লিউরা বলে।
- ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৭.
হৃৎপিণ্ডের কোন স্তর পাম্পের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে? 
  1. এপিকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি মোচাকৃতির অঙ্গ। 
- এটা পেরিকার্ডিয়াম নামে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- হৃৎপিণ্ড হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত, হৃৎপেশি এক ধরনের স্বাধীন অনৈচ্ছিক পেশি, যা কারো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিজে নিজেই সংকোচন ও প্রসারণে সক্ষম। 
- প্রতি মিনিটে কম বেশি ৭২ বার হৃৎপিণ্ড সংকোচিত ও প্রসারিত হয়। 
- হৃৎপিণ্ড তিন সতরে গঠিত। 
যথা- ক. বাইরের স্তর বা এপিকার্ডিয়াম খ. মাঝের স্তর বা মায়োকার্ডিয়াম এবং গ. ভিতরের স্তর বা এন্ডোকার্ডিয়াম। 
- এদের মধ্যে মায়োকার্ডিয়ামই সবচেয়ে পুরু এবং এর সংকোচনের কারণে হৃৎপিণ্ড পাম্প করে রক্ত সঞ্চালন করে। 

- হৃৎপিণ্ড একটি চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফাঁপা অঙ্গ। 
- হৃৎপিণ্ডের উপরের প্রকোষ্ঠ দুটির নাম ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয়। 
- অলিন্দে প্রাচীর পাতলা ও নিলয়ের প্রাচীর পুরু থাকে, বাম নিলয়ের প্রাচীর অধিকতর পুরু থাকে। 
- অলিন্দ ও নিলয় দুটি আলাদা প্রাচীর দ্বারা পৃথক থাকে, আয়তনে অলিন্দগুলো নিলয়ের চেয়ে আকারে ছোটো হয়। 
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে ডান অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র থাকে, ঐ ছিদ্রপথে তিন কপাট বিশিষ্ট কপাটিকা থাকে। রক্ত এ ছিদ্রপথে অলিন্দ থেকে নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- অনুরূপভাবে বাম অলিন্দ ও নিলয়ের দুই কপাট বিশিষ্ট মাঝে কপাটিকা থাকে, এক্ষেত্রেও বাম অলিন্দ থেকে রক্ত কেবল মাত্র নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- এছাড়া মহাধমনি ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে ও ফুসফুসীয় ধমনি এবং ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকা রয়েছে, এ কপাটিকাগুলো রক্তের গতিপথ একদিকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৪০৮.
DNA তে কয় ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে?
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা
জীনের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA। DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
যথা-
১. অ্যাডেনিন,
২. গুয়ানিন,
৩. সাইটোসিন ও
৪. থাইমিন।

অপরদিকে, RNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেসের শুধু থায়ামিনের পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৯.
মানুষের কয়টি লালাগ্রন্থির আছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৬
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
মানুষের তিন জোড়া লালাগ্রন্থি আছে। দুই কানের সামনে ও নিচে এক জোড়া প্যারোটিড গ্রন্থি। চোয়ালের নিচে একজোড়া সাব ম্যাক্সিলারি গ্রন্থি এবং চিবুকের নিচে একজোড়া সাব-লিঙ্গুয়াল গ্রন্থি। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১০.
পালমোনারি শিরা কী ধরনের রক্ত পরিবহন করে?
  1. নাইট্রোজেনযুক্ত রক্ত
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত
  3. অক্সিজেনযুক্ত রক্ত
  4. ইউরিয়াযুক্ত রক্ত
ব্যাখ্যা

পালমোনারি শিরা হলো একটি ব্যতিক্রমী শিরা, যা ফুসফুস থেকে গ্যাসীয় আদান-প্রদান শেষে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত হৃৎপিণ্ডের বাম অলিন্দে পরিবহন করে।

• শিরা:
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে।
- পালমোনারি শিরা এই নিয়মের ব্যতিক্রম এবং এটিই মানবদেহের একমাত্র শিরা যা বিশুদ্ধ বা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে।
- এই অক্সিজেনযুক্ত রক্তই পরে বাম নিলয় থেকে মহাধমনীর মাধ্যমে সারা দেহে সঞ্চালিত হয়।
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়।
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়।
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে।
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে।
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়।

• ধমনি:
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artery) বলে।
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট।
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়।
- ধমনির স্পন্দন আছে।
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriole) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়।
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়।
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery, CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১১.
ভার্টিব্রাল ধমনি রক্ত সরবরাহ করে- 
  1. বৃক্কে 
  2. ঘাড়ে 
  3. মেরুদণ্ডে 
  4. পাকস্থলীতে 
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- মানবদেহের প্রতি পাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১২.
একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক কত কিলোক্যালরি সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন?
  1. ক) ১৫০০ কিলোক্যালরি
  2. খ) ২০০০ কিলোক্যালরি
  3. গ) ২৫০০ কিলোক্যালরি
  4. ঘ) ৩৫০০ কিলোক্যালরি
ব্যাখ্যা
- একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের অনুপাত ৪ : ১ : ১
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ২৫০০ কিলোক্যালরি সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
- একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর দৈনিক ২০০০ কিলোক্যালরির সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

উৎস- নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৪১৩.
মানবদেহের কোন অঙ্গ হতে পিত্তরস উৎপন্ন হয়?
  1. ক্ষুদ্রান্ত্র
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. যকৃৎ
  4. পিত্তথলি
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে যকৃৎ থেকে পিত্তরস উৎপন্ন হয়। 

• পিত্তরস (Bile) বা পিত্ত:
- যকৃত কোষ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস হলদে-সবুজ, আঠালো, তিক্ত স্বাদধারী ক্ষারীয় তরল পদার্থ। এর pH মান 8 - 8.6 

• যকৃত কোষ (হেপাটোসাইট) অবিরাম পিত্ত ক্ষরণ করে এবং পিত্তথলিতে জমা রাখে।
- যকৃত কোষ স্টেরয়েড থেকে পিত্ত লবণ, যেমন-সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট (sodium glycocholate) ও সোডিয়াম টরোকোলেট (sodium taurocholate) সংশ্লেষ করে।
- পরিপাক অঙ্গ হিসেবে যকৃতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পিত্ত উৎপাদন ও ক্ষরণ।

• পিত্তরসের কাজ-
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশন (emulsification) প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে।
- পিত্তলবণ চর্বি পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজকে সক্রিয় করে পরিপাকে সাহায্য করে।
- পিত্তলবণ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E, K-কে শোষণে সহায়তা করে ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৪১৪.
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীরা কোনটির সাহায্যে আত্মরক্ষা এবং খাদ্যগ্রহণ করে?
  1. নিমাটোসিস্ট
  2. ফ্ল্যাজেলা
  3. সিলিয়া
  4. মেসোগ্লিয়া
ব্যাখ্যা

• নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের (যেমন: হাইড্রা) বিশেষ এক ধরণের কোষ থাকে যাকে 'নিডোসাইট' বলা হয়। এই কোষের অভ্যন্তরে নিমাটোসিস্ট নামক একটি বিষাক্ত অঙ্গাণু থাকে। এটি হিপনোটক্সিন নামক বিষের সাহায্যে শিকারকে অবশ করে খাদ্য গ্রহণে এবং শত্রুর হাত থেকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।

• নিডারিয়া (Cnidaria):
- প্রাণিজগতের প্রধান পর্বসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো নিডারিয়া (Cnidaria) । 
- নিডারিয়া বলতে ডিপ্লোব্লাস্টিক (Diploblastic) প্রাণী অর্থাৎ দ্বিস্তর ভ্রূণ বিশিষ্ট প্রাণিদের কে বোঝায়।
- এদের অধিকাংশই সামুদ্রিক, কিছু স্বাদুপানির বাসিন্দা।

• নিডারিয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য:
- প্রাণীগুলো সামান্য টিস্যু মাত্রার (tissue grade) বহুকোষী ও অরীয় প্রতিসম প্রাণী।
- দেহপ্রাচীর দ্বিস্তরী কোষযুক্ত বা ডিপ্লোব্লাসটিক (diploblastic); বাইরের স্তরটি এপিডার্মিস এবং ভিতরের স্তর এন্ডোডার্মিস বা গ্যাস্ট্রোডার্মিস নামে পরিচিত।
- উভয় স্তরের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে আঠালো জেলির মতো অকোষীয় মেসোগ্লিয়া (mesoglea)। 
- নেমাটোটিস্ট ধারণকারী নিডোসাইট (cnidocyte) নামক বিশেষ ধরনের কোষ উপস্থিত। কর্ষিকায় এগুলো সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
- নিডারিয়ানদের দংশন অঙ্গাণু (stinging organelles) হচ্ছে নেমোটোটিস্ট। প্রাণী এর সাহায্যে আত্মরক্ষা, খাদ্য গ্রহণ ও দেহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করে।
- দেহাভ্যন্তরে সিলেন্টেরন (coelenteron) নামে একমাত্র পরিপাক সংবহন গহ্বর (gastro- vuscular cavity) থাকে যা একটি ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত। ছিদ্রটি মুখ ও পায়ুর কাজ করে।
- খাদ্যবস্তু বহিঃকোষীয় ও অন্তঃকোষীয় উভয়ভাবেই পরিপাক হয় ।
- অনেক প্রজাতি বহুরূপীতা প্রদর্শন করে।

উল্লেখ্য:
- ফ্ল্যাজেলা: অন্ত্রের ভেতরে থাকে; পরিপাকে ও খাদ্য সঞ্চালনে সাহায্য করে।
- সিলিয়া: সূক্ষ্ম রোম সদৃশ; সংবেদী উদ্দীপনা গ্রহণে কাজ করে।
- মেসোগ্লিয়া: অকোষীয় স্তর; এটি দেহের কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে এবং পেশি সংযোগ দেয়।

তথ্যসূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।

৪১৫.
প্রাণিবিজ্ঞানের জনক-
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. রবার্ট হুক
  3. উইলিয়াম হার্ভে
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

- গ্রিক বিজ্ঞানী এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- কোষবিদ্যার জনক রবার্ট হুক।
- শারীরবিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে।

৪১৬.
মানুষের লালায় কোন এনজাইম থাকে?
  1. পেপসিন ও আইসোমলটেজ
  2. সুক্রেজ ও ল্যাকটেজ
  3. অ্যামাইলেজ ও মলটেজ
  4. টায়ালিন ও মলটেজ
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকাঃ
মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। লালারসে মিউসিন এবং দু’প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথাঃ টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
১. লালা রসে:টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

- মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।
- টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে।

সুত্রঃ প্রাণিবিদ্যা, এইচএসসি।

- পেপসিন পাওয়া যায় পাকস্থলিতে
- ট্রিপসিন পাওয়া যায় অগ্ন্যাশয় রসে।

উৎসঃ ব্রিটানিকা
৪১৭.
পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট জীব কি?
  1. অ্যামিবা
  2. তেলাপোকা
  3. বাদুরা
  4. বানর
ব্যাখ্যা
- এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ পৃথিবীর প্রথম সৃষ্ট জীব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও মতভেদ রয়েছে। 
তবে অপশনে দেওয়া সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তর হলো- অ্যামিবা। 
কারণ- 
- অ্যামিবা একটি এককোষী জীব, যা জটিল বহুকোষী জীবের তুলনায় অনেক সরল। 
- প্রাথমিক জীবনের বিকাশ সম্ভবত এককোষী জীব দিয়ে শুরু হয়েছিলো। 
- আর তেলাপোকা, বাদুড় ও বানর সবগুলোই জটিল বহুকোষী প্রাণী, যা অনেক পরে বিবর্তিত হয়েছে। 
৪১৮.
ফুসফুস আবৃত থাকে কোন পর্দা দ্বারা? 
  1. ডায়াফ্রাম
  2. প্লুরা
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. আলভিওলাস
ব্যাখ্যা
ফুসফুস (Lung): 
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- বক্ষগহ্বরের ভিতর হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। 
- এটি স্পঞ্জের মতো নরম, কোমল ও হালকা লালচে রঙের। 
- ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে এবং বাম ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। 
- ফুসফুস দুই ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দিয়ে আবৃত। 
- দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনো ঘর্ষণ হয় না। 
- ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। 
- বায়ুথলিগুলোকে বলে অ্যালভিওলাস (Alveolus)। 
- বায়ুথলিগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুক্লোম শাখাপ্রান্তে মৌচাকের মতো অবস্থিত। 
- নাসাপথ দিয়ে বায়ু সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করতে পারে। 
- বায়ুথলি পাতলা আবরণী দিয়ে আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দিয়ে পরিবেষ্টিত। 
- বায়ু প্রবেশ করলে এগুলো বেলুনের মতো ফুলে ওঠে এবং পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। 
- বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এত পাতলা যে এর ভিতর দিয়ে গ্যাসীয় আদানপ্রদান ঘটে। 


উৎস:
 জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪১৯.
দেহের প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে কোনটি? 
  1. রক্ত 
  2. অ্যান্টিজেন 
  3. প্রোটিন 
  4. অ্যান্টিবডি 
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২০.
AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি?
  1. ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা
  2. প্রচুর পানি পান করা
  3. ব্যায়াম করা
  4. HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা
ব্যাখ্যা

- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা, কারণ সচেতনতার মাধ্যমে নিরাপদ যৌন অভ্যাস (যেমন-কনডম ব্যবহার), জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় 

এইডস রোগ: 

- এইডস (AIDS) একটি সংক্রামক রোগ যা সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় এই রোগ চিহ্নিত হয়। তখন থেকেই এটি একটি মরণব্যাধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আফ্রিকার দেশগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। 
- প্রাকৃতিকভাবে মানুষের শরীরে রোগজীবাণু প্রতিরোধের ক্ষমতা থাকে, যা ইমিউনিটি হিসেবে পরিচিত। 
-  HIV (Human Immunodeficiency Viruses) ভাইরাসটি AIDS রোগ সৃষ্টি করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে ফেলে। এই HIV ভাইরাস যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন এটি রক্তের T-লিম্ফোসাইট (শ্বেত রক্তকণিকা) আক্রমণ করে, ফলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায়। 
- HIV সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, তবে এই সময়েই আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারে। 
- এইডস সংক্রমিত হয় প্রধানত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে, তবে মায়ের বুকের দুধ বা রক্ত সঞ্চালন বা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমে এটিতে সংক্রমণ হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে HIV সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪২১.
যকৃত থেকে কী নিঃসৃত হয়? 
  1. হরমোন
  2. লালা
  3. পাচক রস
  4. গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। 
- যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কার্যাবলি: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। 
- পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। 
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। 
- যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২২.
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক কত ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন?
  1. ক) ৪ ঘণ্টা
  2. খ) ৬ ঘণ্টা
  3. গ) ১০ ঘণ্টা
  4. ঘ) ১২ ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
একজন মানুষের দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন। 

বিশ্রামের গুরুত্ব : শরীর চর্চার পাশাপাশি শারীরিক বিশ্রামও অত্যন্তপ্রয়োজন। এছাড়া মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমের পরই বিশ্রাম প্রয়োজন। ঘুমানো, শুয়ে থাকা ইত্যাদি বিশ্রামের অংশ। বিশ্রামের ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে পুনঃশক্তি সঞ্চয় হয় এবং স্নায়ুবিক শক্তি উজ্জীবিত হয়। কর্মে নতুন উদ্দীপনা ফিরিয়ে এনে কর্মক্ষম করে তোলে । একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার জন্য দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা বিশ্রাম বা ঘুমানো আবশ্যক।

সূত্র: ৬৬ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৩.
স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক কোনটি?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. ডেনড্রাইট
  4. সিনাপস
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ুতন্ত্র এক বিশেষ ধরনের টিস্যু দ্বারা গঠিত, এ বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় স্নায়ু টিস্যু। 
- এরা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে দেহের ভেতরে পরিবাহিত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। 
- স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ু কোষ বা নিউরন বলা হয়, তাই নিউরন হলো স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক। এটা ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম জাত। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। 
- একটা পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন। 
- কোষ দেহ বহুভুজাকৃতি এবং নিউকিদ্বয়াসযুক্ত। কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, রাইবোসোম, আন্তঃপ্লাজমীয় নালিকা ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে। তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিয়োল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না। 

- কোষ দেহ থেকে একাধিক শাখা কোষ বের হয়। 
- এরা উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না নিউরনের (সেনসরি নিউরন) দেহের দিকে পরিবাহিত করে। 
- সাধারণত এরা অ্যাক্সন এর বিপরীত দিকে হয় এবং সংখ্যায় এক বা একাধিক থাকে। 
- নিউরনের কোষ দেহ থেকে একটা লম্বা তন্তু স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পরিবহন করে। 
- একটা নিউরনে একমাত্র অ্যাক্সন থাকে। 
- পর পর দু'টো নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটা স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়। একে সাইন্যাপস বা সিনাপস বলা হয়।
- সিনাপস এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়। স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে।
- এরা উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে, উচ্চতর প্রাণীতে স্মৃতি সংরক্ষণ করে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৪.
হৃদপিণ্ডকে আচ্ছাদিত করা পাতলা ঝিল্লিটিকে কী বলা হয়?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. এপিকার্ডিয়াম
  4. মায়োকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃদপিণ্ডের আবরণ:
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে।
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- পেরিকার্ডিয়াম হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে।
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

হৃদপিণ্ডের প্রাচীর:
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে।
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট।
যেমন -
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি।
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium):
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৫.
কোনটির প্রভাবে রক্তের রং লাল হয়? 
  1. নিউট্রিফিল
  2. অনুচক্রিকা
  3. হিমোগ্লোবিন
  4. অক্সিগ্লোবিন
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২৬.
প্রাণিবিজ্ঞানের কোন শাখায় পাখি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) Ornithology
  2. খ) Ichthyology
  3. গ) Herpetology
  4. ঘ) Conchology
ব্যাখ্যা

- Ornithology শাখায় পাখি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Ichthyology শাখায় মৎসবিদ্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Herpetology শাখায় সরীসৃপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
- Conchology শাখায় কম্বোজ প্রাণী বা Mollusca পর্বভুক্ত প্রাণী সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪২৭.
ডিমের নরম খোসা শক্ত হয় কি কারণে?
  1. বাতাসের সংস্পর্শে
  2. এলবুমিনের সংস্পর্শে
  3. আলোর সংস্পর্শে
  4. বাতাস ও আলোর সংস্পর্শে
ব্যাখ্যা
ডিম গঠন প্রক্রিয়া
- মুরগির বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণুগুলো আকারে বড় হতে থাকে।
- ডিম্বাণুগুলোর ভেতরে আস্তে আস্তে কুসুম জমা হয়ে পূর্ণাঙ্গ কুসুমে পরিণত হয়। এক একটি কুসুম ভাইটালিন মেমব্রেন নামক এক প্রকার পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- মুরগি যখন বয়স্কা হয় তখন কয়েকটি ডিম্বাণু পর পর শীঘ্র বড় হয়ে পূর্ণ কুসুমে পরিণত হয়। কুসুমের পূর্ণতার পর থলির শিরা উপশিরা বিহীন নির্দিষ্ট স্থানে ফাটল ধরার পরে ঐ স্থান দিয়ে বের হয়ে আসে। এই প্রক্রিয়াকে কুসুমক্ষরণ (ovulation) বলে।
- ডিম্বাশয় নালির প্রথম ভাগ এই নির্গত কুসুমটিকে ধরে ফেলে এবং পরে ডিম্বাশয় নালির বাকি অংশগুলোর মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়।
- নিষিক্তকরণের পরক্ষণ থেকেই কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মুরগির দলে মোরগ না রাখলেও ডিম পাড়ার কোন ব্যাঘাত বা ডিমের সংখ্যার তারতম্য হয় না, কুসুমটি নিষিক্তকরণ হোক তা না হোক উহা যখন ডিম্বাশয়নালির বাকি অংশ দিয়ে আস্তে আস্তে অগ্রসর হয় তখন ওটা ডিমের সাদা অংশ, খোসার পর্দা, খোসা ইত্যাদি সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ ডিমে পরিণত হয়।
- একটি শক্তিশালী ডিমের খোসা গঠনের জন্য সঠিক CO2 মাত্রা অপরিহার্য।
- ওভাবে পূর্ণ ডিমটি তৈরি হতে ২৪-২৫ ঘণ্টা সময় লাগে। একটি ডিম কুসুম, ভ্রণ, ঘন সাদা অংশ, পাতলা সাদা অংশ, চ্যালেজা, খোসার আবরণ, বায়ুকোষ ও খোসা নিয়ে গঠিত।
- ডিমের নরম খোসা শক্ত হয় বায়ুর সংস্পর্শে এসে। 
- সম্পূর্ণ ডিমটার আছে - জল ৬৩.৬%, আমিষ-১২.৮৩, খনিজ ১০.৭০, স্নেহ ১০.৬ খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন।
- এ জন্য ডিমকে Nature’s multivitamin বলে।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ও ব্রিটানিকা। 
৪২৮.
দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি কোন খাদ্য উপাদান থেকে তৈরি হয়?
  1. স্নেহ
  2. প্রোটিন
  3. শর্করা
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন বা আমিষ: 
- মাছ, ডিম, মাংস ও দুগ্ধজাত খাদ্য এগুলো প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। 
- উৎসের উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে প্রাণিজ এবং উদ্ভিজ প্রোটিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 
- মাছ, মাংস, ডিম ও দুগ্ধজাত দ্রব্য প্রোটিনের উৎস প্রাণী, তাই এগুলো প্রাণিজ প্রোটিন। 
- অপরদিকে ডাল, বাদাম, শিম ও বরবটির বীজ ইত্যাদির উৎস উদ্ভিদ, তাই এগুলো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। 
- শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব ঘটলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। 
- এ রোগের কারণে দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। 
- শিশুদেহের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হলে শিশু পুষ্টিহীনতা বা অপুষ্টিতে ভোগে। 

প্রোটিনের কাজ: 
১. প্রোটিনের প্রধান কাজ হচ্ছে দেহে বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা। 
যেমন- দেহের পেশি, হাড় বা অস্থি, রক্ত কণিকা ইত্যাদি প্রোটিন দ্বারা গঠিত। 
২. দেহে শক্তি উৎপন্ন করা। 
৩. দেহে রোগ প্রতিরোধকারী এন্টিবডি প্রোটিন থেকে তৈরি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪২৯.
শ্বসনতন্ত্রের অঙ্গ নয় কোনটি?
  1. ইলিয়াম
  2. নাসিকা
  3. গলবিল
  4. ব্রংকাস
ব্যাখ্যা
শ্বসনতন্ত্র: 
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত।
- বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে, পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়। 

ক্ষুদ্রান্ত্র: 
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশই হচ্ছে ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা- 
• ডিওডেনাম, 
• জেজুনাম ও 
ইলিয়াম। 
- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া ঘটে। 
- জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে। 
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩০.
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে কী বলে?
  1. পৃথকীকরণ সূত্র
  2. স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র
  3. মনোহাইব্রিড সূত্র
  4. ডাইহাইব্রিড সূত্র
ব্যাখ্যা
• মেন্ডেলের সূত্র: 
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

• মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র: 
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে পৃথকীকরণ সূত্র বলা হয়।
- ‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'। 

• মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র: 
- ‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়'। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩১.
রক্তের তরল হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থটির নাম কি?
  1. ক) যোজক কলা
  2. খ) রক্তরস
  3. গ) রক্ত কণিকা
  4. ঘ) অ্যান্টিটক্সিন  
ব্যাখ্যা
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা।
- এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত।
- এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে।
- এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- রক্তের দু’টি উপাদান (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা।
- সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা।
- রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের, যথা: লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। 

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
৪৩২.
এইচআইভি ভাইরাস মানব দেহের কোনটিকে ধ্বংস করে?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) প্লাজমা
ব্যাখ্যা

মানবদেহে এইচআইভি এর আক্রমণে এইডস রােগ হয়।
এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকনিকা ধ্বংস হয়। ফলে দেহের রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা লােপ পায়।
এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায়ে হলাে এইডস। মানব দেহে এইচআইভি ভাইরাস প্রবেশ করার ৬ মাস থেকে ১০ বছরের মধ্যে শরীরে এইডসের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এইডস রােগের কোন নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই।

৪৩৩.
ডায়াস্টোলিক চাপ বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) হৃৎপিন্ডের সংকোচন চাপ
  2. খ) হৃৎপিন্ডের প্রসারণ চাপ
  3. গ) হৃৎপিন্ডের সংকোচন চাপ ও প্রসারণ চাপ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ডায়াস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায় হৃৎপিন্ডের প্রসারণ চাপ

হৃৎপিন্ডের রক্ত সঞ্চালন:
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃদপিন্ড, ধমনি, শিরা ও কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত।
- মানুষের হৃদপিন্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত পরিবহন করে।
- হৃদপিন্ডের স্বতঃস্ফুর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (Systole) এবং স্বতঃস্ফুর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (Diastole) বলে।
- উল্লেখ্য, অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, নিলয়ে তখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৪.
মানবদেহের রক্তে শতকরা কতভাগ রক্তরস থাকে?
  1. ক) ৫৫%
  2. খ) ৪৫%
  3. গ) ৬০%
  4. ঘ) ৬৫%
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের রক্তে রক্তরস থাকে শতকরা- ৫৫% ভাগ। 

রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)।
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা।
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
- রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা-
• লোহিত রক্তকণিকা
• শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
• অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৩৫.
হৃৎপিণ্ডকে বেষ্টিত করে কোন পর্দা?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. মিসেন্ট্রিয়াম
  3. মেনিনজেস 
  4. প্লুরা
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প। 
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি উপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে। 
- উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যেটি হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে  ডান  এবং বাম নিলয় ( Ventricles) বলে। - দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে। 
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে। ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩৬.
‘জেজুনাম’ নিচের কোনটির অংশ?
  1. ক্ষুদ্রান্ত্র
  2. বৃহদন্ত্র
  3. শ্বসনতন্ত্র
  4. ব্রংকাস
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র:
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশই হচ্ছে ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা:
(i) ডিওডেনাম,
(ii) জেজুনাম ও 
(iii) ইলিয়াম।
- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া ঘটে।
- জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে।

বৃহদন্ত্র:
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত। - বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা:
(i) সিকাম,
(ii) কোলন ও 
(iii) মলাশয়।

শ্বসনতন্ত্র:
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ ৷
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে।
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত। বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে। পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়।
- ব্রংকাস শ্বসনতন্ত্রের একটি অংশ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৭.
লসিকায় কোন উপাদানের পরিমাণ সবেচেয়ে বেশি? 
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. পানি
  4. স্নেহ পদার্থ
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৮.
DNA অণুতে অনুপস্থিত-
  1. ইউরাসিল
  2. গোয়ানিন
  3. এডিনিন
  4. সাইটোসিন
ব্যাখ্যা

• DNA অনুতে অনুপস্থিত - ইউরাসিল। 
• জীবকোষে দুই প্রকার নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে। এদের একটি DNA এবং অপরটি হলো RNA ।  

• নিউক্লিক অ্যাসিডে দুই প্রকার নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে। নাইট্রোজেন, কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে এই ক্ষরকসমূহ গঠিত। ক্ষারকগুলো এক রিং বিশিষ্ট বা দুই রিং বিশিষ্ট হতে পারে।
• এই রিং এর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ক্ষারক দুই প্রকার;
যথা-
(i) পিউরিন:
- দুই রিং বিশিষ্ট ক্ষারককে বলা হয় পিউরিন। । নিউক্লিক অ্যাসিডে দুই প্রকার পিউরিন ক্ষারক থাকে।
যথা-
- অ্যাডিনিন ( A )
- গুয়ানিন ( G )

(ii) পাইরিমিডিন:
- এক রিং বিশিষ্ট ক্ষারক কে বলা হয় পাইরিমিডিন। নিউক্লিক অ্যাসিডে তিন প্রকার পাইরমিডিন ক্ষারক থাকে।
যথা- 
- থাইমিন ( T )
- সাইটোসিন ( C )
- ইউরাসিল ( U )

• ক্ষারকগুলোর মাঝে থাইমিন উপস্থিত থাকে কেবল DNA তে এবং ইউরাসিল উপস্থিত থাকে কেবল RNA তে। 
অর্থাৎ নাইট্রোজেন ক্ষারক গুলোর মধ্যে ইউরাসিল DNA তে অনুপস্থিত থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৪৩৯.
মানবকোষে অক্সিজেন পরিবহন হয় কোনটির মাধ্যমে? 
  1. ফুসফুস
  2. হৃৎপিণ্ড
  3. যকৃত 
  4. রক্ত 
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে রক্ত সংবহন (Blood Circulation in human body):
- রক্ত জীবনীশক্তির মূল।
- রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্ত দেহের সর্বত্র প্রবাহিত হয় এবং কোষে অক্সিজেন ও খাদ্য উপাদান সরবরাহ করে।
- ফলে দেহের সব কোষ সজীব এবং সক্রিয় থাকে। যে তন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত প্রতিনিয়ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অংশে চলাচল করে, তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।
- এ তন্ত্রে প্রবাহিত রক্তের মাধ্যমেই খাদ্য, অক্সিজেন এবং রক্তের বর্জ্য পদার্থ দেহের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয়।
- মানবদেহে রক্তপ্রবাহ কেবল হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালিগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কখনো এর বাইরে আসে না।
- এ ধরনের সংবহনতন্ত্রকে বদ্ধ সংবহনতন্ত্র (Close circulatory system) বলা হয়।
- সারা দেহে রক্ত একবার সম্পূর্ণ পরিভ্রমণের জন্য মাত্র এক মিনিট বা তার চেয়েও কম সময় লাগে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪৪০.
নিচের কোনটি দ্বি-শর্করার উৎস?
  1. ক) মধু
  2. খ) চিনি
  3. গ) আলু
  4. ঘ) সবুজ শাক-সবজি
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:
শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। শর্করার মৌলিক উপাদান - কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন।

শর্করার শ্রেণিবিভাগ:
১. এক শর্করা (Monosaccharide):
- একটি মনোমার বিশিষ্ট শর্করা
উদাহরণ: - গ্লুকোজ
উৎস: মধু, ফুলের রস ইত্যাদি।

২. দ্বি-শর্করা (Disaccharide):
- দুইটি মনোমার বিশিষ্ট (ডাইমার) শর্করা।
উদাহরণ: সুক্রোজ, ল্যাকটোজ
উৎস: চিনি ও দুধ ইত্যাদি

৩. বহু শর্করা (Polysaccharide):
- বহু মনোমারবিশিষ্ট (পলিমার) শর্করা
উদাহরণ: - শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন
উৎস: চাল, আটা, আলু, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪১.
মানবদেহের রাসায়নিক গবেষণাগার কোনটি?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. যকৃৎ
  3. লালাগ্রন্থি
  4. গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিক গ্রন্থি (Digestive glands):
- যেসব গ্রন্থির রস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয় তাদেরকে পরিপাকগ্রন্থি বা পৌষ্টিকগ্রন্থি বলে।
- মানবদেহে পৌষ্টিকগ্রন্থিগুলো হলো:
• লালাগ্রন্থি, 
• যকৃৎ, 
• অগ্ন্যাশয়, 
• গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি, 
• আন্ত্রিক গ্রন্থি। 

যকৃৎ (Liver):
• মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
• এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
• যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।
• যকৃতে পিত্তরস (bile) তৈরি করে।
• পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন।
• যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয় ৷

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪২.
হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
ব্যাখ্যা
Calcium plays a role in making the jaw bones healthy and strong to hold the teeth in place. However, calcium needs phosphorus to maximise its bone strengthening benefits. Children's teeth need adequate calcium and phosphorus to form a hard structure during growth.
Source: ncbi.nlm.nih.gov
৪৪৩.
সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়?
  1. জিন ক্লোনিং 
  2. সেল ক্লোনিং 
  3. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং 
  4. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 

- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৪৪.
ফলকে টিনজাত করে সংরক্ষণ করাকে কী বলে?
  1. মোম আবৃতকরণ
  2. স্টোরেলাইজেশন
  3. ক্যানিং
  4. নির্জলীকরণ
ব্যাখ্যা
ক্যানিং বা টিনজাত করে সংরক্ষণ (Canning) :
- আম, আনারস, লিচু, কমলা ইত্যাদি ফলকে টিনজাত করে সংরক্ষণ করা যায়।
- সাধারণত মানসম্পন্ন টাটকা, পাকা ফল পরিস্কার করে খোসা ছাড়ানো হয় এবং ছোট ছোট টুকরা করা হয়।
- টিনজাত করার আগে ফলকে ষ্টেরিলাইজেশন করে নেয়া হয় এবং প্রিজারভেটিভ যোগ করে স্টেরিলাইজড পাত্রে রাখা হয় । পাত্রটিকে বায়ুশুন্য করা হয় এবং বায়ুরোধী অবস্থায় ঠান্ডা করে লেবেল লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

মোম আবৃতকরণ পদ্ধতি :
সম্পূর্ণ ফলকে মোম দিয়ে আবৃত করা হয়। এ কারণে ফলে শ্বসন ও প্রস্বেদন কম হয়। রোগ জীবাণু ও পোকামাকড় দ্বারাও ফল আক্রান্ত হয় না । এই অবস্থায় ফলকে অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়।

 স্টোরেলাইজেশন:
স্টোরেলাইজেশন বলতে একটি পৃষ্ঠ, উপাদান বা পরিবেশ থেকে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং স্পোর সহ সমস্ত ধরণের অণুজীবকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল বা মেরে ফেলার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এটি সাধারণত চিকিৎসা, পরীক্ষাগার এবং শিল্প সেটিংসে ব্যবহৃত হয় যাতে নিশ্চিত করা হয় যে সরঞ্জাম, যন্ত্র এবং পৃষ্ঠগুলি যে কোনও কার্যকর অণুজীব থেকে মুক্ত যা সম্ভাব্য সংক্রমণ বা দূষণের কারণ হতে পারে।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৫.
যকৃতের রোগ কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা
ব্যাখ্যা
জন্ডিস: 
- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত। 
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪৬.
উচ্চ রক্তচাপ হয় -
  1. ক) সিস্টোলিক চাপ ১২০ মিলিমিটার পারদের নিচে
  2. খ) ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মিলিমিটার পারদের নিচে
  3. গ) ক ও খ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উচ্চ রক্তচাপ (High blood pressure or hypertension): উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে গণ্য করা হয়। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপাের্টে বলা হয়েছে 2020 সালের মধ্যে স্ট্রোক ও করােনরি ধমনির রােগ হবে বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলােতে এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়বে মহামারী আকারে। হৃদ্‌রােগ এবং স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ হলাে উচ্চ রক্তচাপ।
উচ্চ রক্তচাপ কী? রক্ত চলাচলের সময় রক্তনালিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। আর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্তচাপকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত সিস্টোলিক চাপ ১২০ মিলিমিটার পারদের নিচে এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মিলিমিটার পারদের নিচের মাত্রাকে কাক্ষিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয়। আর এই রক্তচাপ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয় তখনই আমরা তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলে থাকি।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান

৪৪৭.
শীত, গ্রীষ্ম, লজ্জা, ক্রোধ প্রভৃতি অনুভূতিবোধ থাকে -
  1. ক) চোখে
  2. খ) সেরিব্রাল কর্টেক্সে
  3. গ) মনে
  4. ঘ) অস্থিতে
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম।
সেরিব্রামের বাইরের স্তরের নাম কর্টেক্স, কর্টেক্সের অপর নাম গ্রে ম্যাটার। এটা ডান ও বাম খন্ডে বিভক্ত। এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে।
মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত। এই দুইখন্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে।
কোন উদ্দীপকের প্রতি কি সাড়া দিবে, সে সিদ্ধ্বান্ত গ্রহণে সাড়া দিবে। এই যেমন আমাদের কোন কিছু অপছন্দ হলে আমাদের রাগের অনুভূতি জন্মায়, কোন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়লে আমরা লজ্জা পাই।
দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে বা সেরিব্রামে অবস্থিত।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণী
৪৪৮.
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতি প্রধানত কয়টি ?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত বাস্তুতত্ত্ববিদ E.P. Odum (1971) এর মতে ‘মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক, সুন্দর, ও সুখময় জীবন ধারা অক্ষুন্ন রাখার উদ্দেশ্যে অনুকূল ভারসাম্যপূর্ণ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদে জীব সম্প্রদায়কে অপচয়, ধ্বংস ও বিলুপ্তির কবল থেকে রক্ষার জন্য সুপরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কৌশলকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বলে’।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পদ্ধতি : জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতি মূলত দুটি। যথা-
(ক) ইন সিটু কনজারভেশন এবং
(খ) এক্স সিটু কনজারভেশন।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৯.
নিচের কোন এনজাইমটি আন্ত্রিক রসে নেই?
  1. ক) মলটেজ
  2. খ) সুক্রেজ
  3. গ) ল্যাকটেজ
  4. ঘ) টায়ালিন
ব্যাখ্যা
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে।
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 
- লালারসে টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।
- পাকস্থলি রসে শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
- অগ্ন্যাশয় রসে অ্যমাইলেজ ও মলটেজ থাকে।
- আন্ত্রিক রসে অ্যমাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

সূত্র: প্রাণিবিদ্যা, এইচএসসি। 
৪৫০.
ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স রোগ কোন অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়?
  1. ভাইরাস
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। 
যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া,  টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি। 
- আবার ব্যাকটেরিয়া গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- গরু-মহিষের যক্ষ্মা, হাঁস-মুরগির কলেরা, ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স, গলাফোলা, ইঁদুরের প্লেগ ইত্যাদি। 

ভাইরাস: 
- সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, নিউমোনিয়া, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগ সবই ভাইরাসজনিত রোগ। 
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ, আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ নয় কোনটি?
  1. জ্বর
  2. জন্ডিস
  3. টিটেনাস
  4. গণোরিয়া
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ নয় বসন্ত।
- এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ।

• ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- ডিপথেরিয়া,
- গণোরিয়া,
- টাইফয়েড,
- জ্বর,
- কুষ্ঠ,
- টিটেনাস,
- নিউমোনিয়া,
- কলেরা ইত্যাদি।

• ভাইরাস জনিত রোগ:
- বসন্ত,
- হাম,
- সর্দি,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- জন্ডিস,
- এইডস,
- পোলিও ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৫২.
বিলিরুবিন তৈরি হয় -
  1. কিডনীতে
  2. পিত্তথলিতে
  3. প্লিহায়
  4. যকৃতে
ব্যাখ্যা
- বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। এটি জমা থাকে প্লীহাতে। 

বিলিরুবিন: 
- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যেটা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়। 
- বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে। 
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে।  
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। 
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কনিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে। 

• ব্রিটানিকা থেকে -
Bilirubin, a brownish-yellow pigment of bile, secreted by the liver in vertebrates, which gives to solid waste products (feces) their characteristic color.
It is produced in bone marrow cells and in the liver as the end product of red-blood-cell (hemoglobin) breakdown.

উৎস: University of California Website ও ব্রিটানিকা। 
৪৫৩.
ডাইনোসর কত বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে? 
  1. কয়েক শত বছর আগে
  2. কয়েক দশক আগে
  3. কয়েক হাজার বছর আগে
  4. কয়েক মিলিয়ন বছর আগে
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্ধতি, এর প্রকৃত অর্থ হলো ক্রমবিকাশ। 
- পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূ-মন্ডলে আবির্ভূত হয়েছে, আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়েছে। 
যেমন- ডাইনোসর আজ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে, আবার কোন কোন জীব ধীর গতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। 
- কয়েক লক্ষ বা হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলা হয়। 

- 'Evolution' পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার। 
- তিনি বলেন ধীর অথচ ক্রমাগত ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোন সত্ত্বা সরল থেকে জটিল হওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিবর্তন। 
- কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ ধীরে ধীরে ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়াকে অভিব্যক্তি বলা হয়। 
- অভিব্যক্তির মূল কথা হলো প্রজাতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জীবের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। 
- ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তাঁর মতামত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর 'The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৪.
নিচের কোনটি এককোষী প্রাণীর উদাহরণ?
  1. হাইড্রা
  2. ব্যাঙ
  3. প্রজাপতি
  4. অ্যান্টামিবা
ব্যাখ্যা

- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica) দেহ শুধুমাত্র একটি কোষ নিয়ে গঠিত

কোষের ভিত্তিতে প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস:
- কোষের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১। এককোষী প্রাণী:
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী প্রাণী বলে।
যেমন- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica)।

২। বহুকোষী প্রাণী:
- যে সকল প্রাণীর দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে বহুকোষী প্রাণী বলে।
যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris)।

অন্যদিকে,
- প্রজাপতি একটি জটিল বহুকোষী প্রাণী।
- ব্যাঙ একটি বহুকোষী প্রাণী, যার উন্নত অঙ্গ ও তন্ত্র রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৪৫৫.
'স্তরবিহীন প্রাণী' নিচের কোনটি?
  1. স্কাইফা
  2. মানুষ
  3. অরেলিয়া
  4. অ্যামিবা
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 

ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৬.
নিচের কোনটি শর্করা বিশ্লেষী এনজাইম?
  1. লাইপেজ
  2. গ্যাস্ট্রিন
  3. টায়ালিন
  4. কোলাজিনেজ
ব্যাখ্যা
• টায়ালিন একটি শর্করা বিশ্লেষী এনজাইম। 

• পরিপাক:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মানুষের পৌষ্টিক নালির অভ্যন্তরে জটিল, অদ্রবণীয়, অশোষণযোগ্য খাদ্য উপাদানগুলো নির্দিষ্ট উৎসেচক বা এনজাইম এবং প্রাণরস বা হরমোনের উপস্থিতিতে বিশ্লেষিত হয়ে শোষণযোগ্য এবং দ্রবণীয় সরল উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।

• খাদ্য পরিপাক প্রণালী:
- মানুষে অধিকাংশ খাদ্য (শর্করা, আমিষ ও স্নেহদ্রব্য) বৃহৎ অণু হিসেবে মুখগহ্বরে গৃহীত হয়।
- খাদ্যবস্তুর এমন বৃহত্তর জটিল অণুগুলো ক্ষুদ্রতম অণুতে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত শোষণ উপযোগী হয় না। 
- মানবদেহে শর্করা , আমিষ ও স্নেহ জাতীয় খাদ্যগুলো জটিল অবস্থা থেকে কতকগুলো এনজাইমের ক্রিয়ায় পরিপাক হয়ে সরল উপাদানে পরিণত হয়। 

• শর্করা জাতীয় খাদ্য- ভাত, রুটি, চিনি, শাক-সবজি।
→ শর্করা বিশ্লেষী বা অ্যামাইলোলাইটিক এনজাইম: টায়ালিন, অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ। 
→ উৎপন্ন সরল উপাদান: গ্লুকোজ

• আমিষ জাতীয় খাদ্য: মাছ, মাংস, ডিম, ডাল। 
→ আমিষ বিশ্লেষী বা প্রোটিওলাইটিক এনজাইম: পেপসিন, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন ইত্যাদি। 
→ উৎপন্ন সরল উপাদান: অ্যামিনো এসিড

• স্নেহদ্রব্য জাতীয় খাদ্য- ভোজ্যতেল, ঘি, মাখন, প্রাণিজ চর্বি)
→ স্নেহ বিশ্লেষী বা লাইপোলাইটিক এনজাইম: পাকস্থলিয় ও আন্ত্রিক লাইপেজ, ফসফোলাইপেজ, কোলেস্টেরল এস্টারেজ, লেসিথিনেজ ইত্যাদি। 
→ উৎপন্ন সরল উপাদান: ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৪৫৭.
নিচের কোনটি মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয়?
  1. মিথিওনিন
  2. সিস্টিন
  3. থ্রিওনাইন
  4. ট্রিপেটোফ্যান
ব্যাখ্যা
• "সিস্টিন" মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয়।

• আমিষ:

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়।
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং ইত্যাদি সবগুলোই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন।
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
• ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। যথা:
- লাইসিন,
- ট্রিপেটোফ্যান,
- মিথিওনিন,
- ভ্যালিন,
- লিউসিন,
- আইসোলিউসিন,
- ফিনাইল অ্যালানিন ও
- থ্রিওনাইন

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৮.
পাচক রস নামে পরিচিত কোন গ্রন্থি?
  1. ক) Liver
  2. খ) Salivary glands
  3. গ) Pancreas
  4. ঘ) Gastric glands
ব্যাখ্যা

পাচক রস গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি নামে পরিচিত। 

গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি পাকস্থলীর প্রাচীরে থাকে।
এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস (ট্রিপসিন, লাইপেজ, এমাইলেজ) গ্যাস্ট্রিক রস বা, পাচক রস নামে পরিচিত।
যকৃৎ এর ইংরেজি হচ্ছে Liver. একে আবার কলিজাও বলা হয়। শরীরের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হচ্ছে যকৃৎ। এটি পরিপাকতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর রং লালচে খয়েরি।
মানুষের দেহে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি আছে। দুই কানের সামনে ও নিচে এক জোড়া চোয়ালের নিচে একজোড়া এবং চিবুকের নিচে একজোড়া রয়েছে।
অগ্নাশয় পাকস্থলীর পেছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। ইহা বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪৫৯.
রক্ত কোন ধরনের টিস্যু? 
  1. স্নায়ু টিস্যু 
  2. পেশী টিস্যু 
  3. তরল যোজক টিস্যু 
  4. আবরণী টিস্যু 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)। 

- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে। 

- রক্তকোষ তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)। 
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬০.
DNA-এর ডাবল হেলিক্স মডেলের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন কে?
  1. ওয়াটসন
  2. চার্লস ডারউইন
  3. গ্রেগর মেন্ডেল
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা

জেমস ডি. ওয়াটসন (James D. Watson) এবং ফ্রান্সিস ক্রিক (Francis Crick) ১৯৫৩ সালে DNA-এর ডাবল হেলিক্স গঠন আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কারের মাধ্যমে জিনের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া বোঝা সম্ভব হয়।
- ১৯৬২ সালে নোবেল পুরস্কার ওয়াটসন, ক্রিক ও মরিস উইলকিনস কে দেয়া হয় Physiology or Medicine ক্ষেত্রে।

অপরদিকে,
চার্লস ডারউইন: বিবর্তন তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন।
গ্রেগর মেন্ডেল: বীজানুতত্ত্বের (Genetics) মৌলিক নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন।
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: পেনিসিলিন আবিষ্কার করেছিলেন।

তথ্যসূত্র:NCTB জীববিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

৪৬১.
নিম্নের কোনটি আদি কোষ নয়?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) সায়ানোব্যাকটেরিয়া
  3. গ) নীলাভ সবুজ শৈবাল
  4. ঘ) মানব দেহ
ব্যাখ্যা

অপশনটা হবে, মানব দেহের কোষ বা জীব কোষ। যাইহোক, উত্তর ঠিক আছে।
আদিকোষঃ
এ ধরনের কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম থাকে।
ক্রোমােজোমে কেবল DNA থাকে।
নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell):
এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত।
এসব কোষে রাইবােজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। ক্রোমােজোমে DNA, প্রােটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়।

৪৬২.
ট্রিপসিন এনজাইম কাজ করে কীসের উপর?
  1. ক) লিপিড
  2. খ) চর্বি
  3. গ) কার্বোহাইড্রেট
  4. ঘ) আমিষ
ব্যাখ্যা
ট্রিপসিন এনজাইম সবসময় শুধু আমিষের উপর কাজ করে৷
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪৬৩.
ক্রোমোসোমে একটি নির্দিষ্ট জিনের অবস্থানকে কী বলা হয়? 
  1. অ্যালিল
  2. ফিনোটাইপ
  3. লোকাস
  4. জেনোটাইপ
ব্যাখ্যা
জেনেটিক্সে ব্যবহৃত কয়েকটি প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা: 
জিন (Gene): 
- উইলহেম জোহানসেন (গ্রিক genes-born) ১৯০৯ খিস্টাব্দে জিন শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেল এর অনুমানকৃত জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক বস্তুটি হলো এলিমেন্টিস বা ফ্যাক্টর (elementes or factor) যা পরবর্তীকালে জিন নামে অভিহিত হয়। 
- জিন হচ্ছে বংশগতির মৌলিক একক এবং এরা বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে বংশগতিধারা অব্যাহত রাখে। 
- জিন হচ্ছে পলিপেপটাইড সংশ্লেষের জন্য সংকেত প্রদানকারী DNA অণুর অংশ বিশেষ। 

লোকাস: 
- ক্রোমোসোমে একটি নির্দিষ্ট জিনের অবস্থানকে লোকাস বলা হয়। 

অ্যালিল: 
- ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়। 
- জিনগুলোর একত্রে অবস্থান করাকে অ্যালিলোমর্ফ বলে। 

জেনোটাইপ: 
- জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জেনোটাইপ বলে। 

ফিনোটাইপ: 
- জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। 
- ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ। 
- মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩ : ১ এবং দ্বিতীয় সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯ : ৩ : ৩ : ১। 

হোমোজাইগাস জীব: 
- জীবে একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিন জোড়া একই রকমের (উভয় জিনই প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) হলে তাকে হোমোজাইগাস জীব বলে। 

হেটারোজাইগাস জীব: 
- জিন জোড়া ভিন্ন রকমের হলে সে জীবকে হেটারোজাইগাস জীব বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৪.
পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন কোনটি? 
  1. vit - A
  2. vit - K
  3. vit - C
  4. vit - D
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) vit - C

ভিটামিন শোষণ (Absorption of Vitamins):

• চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন
- চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন গুলো হচ্ছে A, D, E, K।
- এগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ে শোষিত হয়।
- সাধারণ পিত্তলবণ এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

• পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন
- পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন C ও কয়েক প্রকার B ভিটামিন।
- ব্যাপন ও সক্রিয় শোষণ প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়াম অংশে শোষিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)। 

৪৬৫.
মানব দেহের রক্তের গ্রুপিংয়ের জন্য দায়ী হচ্ছে:
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. বিলিভার্জিন
  3. এন্টিবডি
  4. অ্যান্টিজেন
ব্যাখ্যা
[রক্তের গ্রুপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ এগুলি রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার উপর উপস্থিত থাকে এবং এন্টিবডির সাথে প্রতিক্রিয়া করে। বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি রক্তের গ্রুপ যেমন A, B, AB, বা O নির্ধারণ করে।]

- মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় 'A' এবং 'B' নামক দু'ধরনের অ্যান্টিজেন (Antigen) এবং রক্ত রসে 'a' ও 'b' দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (Antibodies) থাকে।
- অ্যান্টিজেন এক প্রকারের পদার্থ যা কোন জীবদেহে প্রবেশ করানোর ফলে ঐ জীবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং অ্যান্টিবডি হলো এক প্রকারের পদার্থ যা জীবদেহে রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।
- অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয় যাকে রক্তের গ্রুপ বলে।
- বিজ্ঞানী কার্লল্যান্ড স্টেইনার ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O' এবং ‘AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
- আজীবন মানুষের রক্তের গ্রুপ একই রকম থাকে যা পরিবর্তন হয় না।
- অতএব রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে রক্তের গ্রুপকে চিহ্নিত করা যায়।
- নিম্নের ছকে রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি দেখানো হলো -

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৬.
মানুষের হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে-
  1. সিস্টোল
  2. স্ফিগমোম্যানোমিটার
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. ডায়াস্টোল
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃৎপিণ্ড (Heart): 

• একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে প্রতি মিনিটে হৃৎপিণ্ড সংকুচিত ও প্রসারিত হয় ৭০ থেকে ৮০ বার এবং গড় হিসাবে ৭৫ বার। (হৃদচক্রের হার- ০.৮ সেকেন্ড)
• পূর্ণ বয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় ২৫০-৩৫০ গ্রাম।
• হৃৎপিণ্ড ৩ স্তর বিশিষ্ট পেশি দ্বারা গঠিত। যথা: এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম এবং এন্ডোকার্ডিয়াম।
• পেরিকার্ডিয়াম নামের পর্দার/ ঝিল্লির আবরণে ঢাকা থাকে পুরো হৃৎপিণ্ড।
• মানুষের হৃৎপিণ্ডে প্রকোষ্ঠের সংখ্যা চারটি।
• হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে- ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে বলে- সিস্টোল।

• প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ দেয় তাকে রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ ২ প্রকার। যথা:
১. সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)
২. ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)

• একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ। একে ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।
• মানবদেহের রক্তচাপ (Blood Pressure) নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- স্ফিগমোম্যানোমিটার।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৬৭.
কোন ধরনের ভিটামিন দাঁত ও হাড়ের জন্য প্রয়োজন?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি
  3. গ) ভিটামিন সি
  4. ঘ) ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন।
- রিকেটস (Rikets) কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে।
- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।
- এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
৪৬৮.
সিলিয়াযুক্ত আবরণী টিস্যু কোথায় বিদ্যমান?
  1. ক) হাইড্রার এন্ডোডার্ম
  2. খ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্বাসনালীর প্রাচীরে
  3. গ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর অন্ত্রে
  4. ঘ) শুক্রাণুতে
ব্যাখ্যা

সিলিয়াযুক্ত আবরণী টিস্যু বিদ্যমান মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্বাসনালীর প্রাচীরে।

হাইড্রার এন্ডোডার্ম এ রয়েছে ফ্লাজেলাযুক্ত আবরণী টিস্যু।
হাইড্রার এন্ডোডার্ম ও মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অন্ত্রে ক্ষণপদযুক্ত আবরণী টিস্যু রয়েছে।
শুক্রানু এবং ডিম্বাণুতে জনন অঙ্গের আবরণী টিস্যু রয়েছে। এরা প্রজননে অংশগ্রহণ করে প্রজাতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৪৬৯.
মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে কয়টি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

হৃদপিন্ড:
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃদপিন্ড।
- এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।
- মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান নিলয় নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃদপিন্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ড এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭০.
নিচের কোনটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী?
  1. ক) ব্যাঙ
  2. খ) সাপ
  3. গ) কচ্ছপ
  4. ঘ) অক্টোপাস
ব্যাখ্যা
মেরুদন্ডের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণিকুলকে দুভাগে ভাগ করা হয়- মেরুদন্ডী প্রাণী ও অমেরুদন্ডী প্রাণী।
- যেসব প্রাণিদেহে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া উপস্থিত তাদের মেরুদন্ডী প্রাণী বলে। যেমন: মাছ, ব্যাঙ, বাদুর, তিমি, সাপ, কচ্ছপ ইত্যাদি।
- যেসব প্রাণিদেহে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া অনুপস্থিত তাদের অমেরুদন্ডী প্রাণী বলে। যেমন: তেলাপোকা, শামুক, মশা, অ্যামিবা, অক্টোপাস ইত্যাদি।

সূত্র: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭১.
অণুচক্রিকা মূলত কোথায় উৎপন্ন হয়?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. ত্বক 
  3. লিভার 
  4. অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অণুচক্রিকা মূলত অস্থিমজ্জার মধ্যে উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭২.
'এপিলেপসি' রোগ দেহের কোথায় হয়?
  1. ক) হৃৎপিণ্ডে
  2. খ) মস্তিষ্কে
  3. গ) ফুসফুসে
  4. ঘ) যকৃতে
ব্যাখ্যা
- এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাপুনি দিতে থাকে।
- এই রোগকে মৃগী রোগ ও বলা হয়।
- স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের এই রোগ দেখা যায়। 
- মাথায় আঘাতের কারণে ম্যানিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, জন্মগত মস্তিষ্কের বিকৃতি, টিউমার ইত্যাদি কারণেও এপিলেপসির উপসর্গ দেখা যায়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪৭৩.
জীবের শ্রেণিবিন্যাসের শাখাটিকে কী বলা হয়? 
  1. ইকোলজি
  2. ট্যাক্সোনমি
  3. অ্যানাটমি
  4. মাইক্রোবায়োলজি
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিবিন্যাস: 
- আজ পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্ভিদের প্রায় চার লক্ষ এবং প্রাণীর প্রায় তের লক্ষ প্রজাতির নামকরণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা চূড়ান্ত নয়, কেননা প্রায় প্রতিদিনই আরও নতুন নতুন প্রজাতির বর্ণনা সংযুক্ত হচ্ছে। 
- এই অসংখ্য জীবকে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করা বা সাজানোর প্রয়োজন। জীবজগৎকে একটি স্বাভাবিক নিয়মে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা অবশ্য অনেক আগে থেকেই প্রকৃতিবিদগণ অনুভব করেছিলেন। 
- সেই প্রয়োজনের তাগিদেই জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে, যার নাম ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের লক্ষ্য হচ্ছে মূলত এই বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা। 

- শ্রেণিবিন্যাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন সুইডিস প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস (1707-1778)। 
- তিনি 1735 সালে উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভের পর ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমির অধ্যাপক নিযুক্ত হয়েছিলেন। 
- বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ, বিশেষ করে ফুল সংগ্রহ আর জীবের শ্রেণিবিন্যাসে তাঁর অনেক আগ্রহ ছিল। 
- তিনিই প্রথম জীবের পূর্ণ শ্রেণিবিন্যাসের এবং নামকরণের ভিত্তি প্রবর্তন করেন। 
- অসংখ্য নমুনা জীবের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে তিনি জীবজগৎকে দুটি ভাগে, যথা- উদ্ভিদজগৎ এবং প্রাণিজগৎ হিসেবে বিন্যস্ত করেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৪.
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ কোনটি?
  1. ক) সুষুম্না স্নায়ু
  2. খ) করোটিকা স্নায়ু
  3. গ) সুষুম্নাকাণ্ড
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪৭৫.
ডায়াস্টোল (Diastole) কী বোঝায়?
  1. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
  2. হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
  4. ধমনীতে রক্তের চাপ বৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা

- ডায়াস্টোল বলতে হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলোর শিথিলকরণ বা প্রসারণের পর্যায়কে বোঝায়, যে সময়ে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলি রক্তে পূর্ণ হয়। এই পর্যায় চলাকালীন ধমনীতে রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, যা ডায়াস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৭৬.
স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যাক্সন
  2. নিউরন
  3. ডেনড্রাইট
  4. সাইন্যাপস
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ুতন্ত্র এক বিশেষ ধরনের টিস্যু দ্বারা গঠিত, এ বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় স্নায়ু টিস্যু। 
- এরা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে দেহের ভেতরে পরিবাহিত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। 
- স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ু কোষ বা নিউরন বলা হয়, তাই নিউরন হলো স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক। 
- এটা ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম জাত। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। 
- একটা পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন। 
- কোষ দেহ বহুভুজাকৃতি এবং নিউকিদ্বয়াসযুক্ত। 
- কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, রাইবোসোম, আন্তঃপ্লাজমীয় নালিকা ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে। তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিয়োল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না।
- কোষ দেহ থেকে একাধিক শাখা কোষ বের হয়। এরা উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না নিউরনের (সেনসরি নিউরন) দেহের দিকে পরিবাহিত করে।

- সাধারণত এরা অ্যাক্সন এর বিপরীত দিকে হয় এবং সংখ্যায় এক বা একাধিক থাকে।
- নিউরনের কোষ দেহ থেকে একটা লম্বা তন্তু স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পরিবহন করে।
- একটা নিউরনে একমাত্র অ্যাক্সন থাকে।
- পর পর দু'টো নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটা স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়, একে সাইন্যাপস বা সিনাপস বলা হয়।
- সিনাপস এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়।
- স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে।
- উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে, উচ্চতর প্রাণীতে স্মৃতি সংরক্ষণ করে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৭.
Cnidaria পর্বের প্রাণীর দেহের প্রতিসম কেমন?
  1. অসম
  2. অরীয়
  3. ত্রিপার্শ্বীয়
  4. দ্বিপার্শ্বীয়
ব্যাখ্যা
Cnidaria (নিডারিয়া): 
- ১৮৪৭ সালে লিউকার্ট (Leuckart) সিলেন্টারেটা ইকাইনোডার্ম থেকে পৃথক করে একটি স্বতন্ত্র পর্বের মর্যাদা দেন। তবে লিউকার্টের সিলেন্টারেটায় স্পঞ্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
- এরপর ১৮৮৮ সালে হ্যাশ্চেক (Hatschek) কর্তৃক লিউকার্টের সিলেন্টারেটা বিভক্ত হয়ে Cnidaria (Gr.knide = দংশক/কাঁটা ল্যাটিন aria = সংযুক্ত) নামক পৃথক পর্ব হিসেবে মর্যাদা পায়। 

বৈশিষ্ট্য: 
• সম্পূর্ণভাবে জলজ, অধিকাংশই সামুদ্রিক তবে কিছু মিঠাপানিতে পাওয়া যায়। 
মুখ ও পরাঙমুখ বরাবর অনুদৈর্ঘ্য অক্ষকে ঘিরে অরীয় প্রতিসম। 
• এদের অনেক প্রজাতি বহুরূপীতা পরিদর্শন করে। বহুরূপী সদস্যদের মৌলিক একক পলিপ এবং মেডুসা। 
• দেহ প্রাচীর দ্বিস্তরী। 
• দেহাভ্যন্তরে সিলেন্টেরন নামক পরিপাক-সংবহন গহ্বর থাকে। 
• সাধারণত সিলিয়াযুক্ত মুক্ত সন্তরণক্ষম প্লানুলা লার্ভার মাধ্যমে পরিস্ফুটন ঘটে। 
উদাহরণ: Aurelia aurita (জেলিফিশ), Hydra vulgaris (হাইড্রা) ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৮.
প্রোটিস্টাদের কোষে নিচের কোনটি থাকে না? 
  1. ভ্রুণ
  2. অঙ্গাণু
  3. নিউক্লিয়ার পর্দা
  4. ক্রোমাটিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিস্টা (Protista) বৈশিষ্ট্য: 
- এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট।
- কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। 
- ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। 
- কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। 
- খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। 
- মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। 
- কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না। 
উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, এককোষী ও বহুকোষী শৈবাল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৯.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়?
  1. টিকটিকি
  2. বাদুড়
  3. শুশুক
  4. ইঁদুর
ব্যাখ্যা
টিকটিকি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী।

স্তন্যপায়ী প্রাণী:

- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- যেমন- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী:
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৮০.
মানবদেহের শতকরা পানির পরিমান কত?
  1. ক) ৬০-৮০%
  2. খ) ৬৫-৮৫%
  3. গ) ৬০-৯০%
  4. ঘ) ৬০-৭৫%
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে যত প্রকার তরল পদার্থ পাওয়া যায়, পানি তার মধ্যে সবচেয়ে সহজলভ্য।
মানবদেহে শতকরা ৬০-৭৫% ভাগ পানি
মাছ, মাংস, শাক-সবজি প্রভৃতিতে শতকরা ৬০-৯০ ভাগ পানি থাকে।
পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৭৫ ভাগই পানি দ্বারা গঠিত।
লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, এর মধ্যে ব্যবহার উপযোগী পানি মাত্র শতকরা ১ ভাগ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। পৃষ্ঠা - ৩৫।

উল্লেখ্য, জীববিজ্ঞান বোর্ড বই ২০২০ অনুসারে, ৫০ - ৬৫%।
মূল পরীক্ষায় অপশন দেখে নিজের বিবেচনা থেকে উত্তর করবেন।

৪৮১.
অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীদের দেহ গঠন কেমন? 
  1. গোলাকার ও রেডিয়াল প্রতিসম
  2. চ্যাপ্টা ও বিকেন্দ্রিক 
  3. গোলাকার এবং অসম প্রতিসম 
  4. লম্বা, নলাকার ও দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম 
ব্যাখ্যা

Annelida (অ্যানিলিডা): 
- ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী ল্যামার্ক (Lamarck) উন্নত খণ্ডায়িত প্রাণীদের অ্যানিলিডা (ল্যাটিন, annulus/annelus = little ring ছোট আংটি + eidos = form রূপ) নামে চিহ্নিত করেন। 

বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ লম্বা, নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পরপর রৈখিকভাবে সজ্জিত। 
- দেহে প্রকৃত সিলোম বিদ্যমান, দেহত্বক কাইটিনবিহীন পাতলা ও নমনীয় কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
- সিটা বা প্যারাপোডিয়া চলনে সাহায্য করে। 
- নেফ্রিডিয়ার মাধ্যমে রেচন ঘটে, রেচনাঙ্গ খণ্ডে খণ্ডে সজ্জিত থাকে। 
- পৌষ্টিকনালী নলাকার ও সম্পূর্ণ (মুখ পায়ু ছিদ্র সমন্বিত)। 
- রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির, রক্তের বর্ণ লাল। 
- পরোক্ষ পরিস্ফুটনের ক্ষেত্রে মুক্ত সন্তরণক্ষম ট্রোকোফোর নামক লার্ভার বিকাশ ঘটে। 
- উভলিঙ্গ সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ পরিস্ফুটন ঘটে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অযৌন জনন ঘটে থাকে। 
উদাহরণ: Hirudo medicinalis (জোক), Metaphire posthuma (কেঁচো)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮২.
প্রাণিবিজ্ঞানের জনক-
  1. ক) থিওফ্রাস্টাস
  2. খ) উইলিয়াম হার্ভে
  3. গ) অ্যারিস্টটল
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
গ্রিক বিজ্ঞানী এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
শারীরবিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে।
৪৮৩.
হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলির প্রাচীরকে রক্ষা করে কোনটি? 
  1. ট্রিপসিন
  2. মল্টোজ
  3. টায়ালিন
  4. মিউসিন
ব্যাখ্যা
পাকস্থলি: 
- বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে প্রায় ২৫ সে. মি. লম্বা ও ১৫ সে.মি. চওড়া বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলি। 
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। 
যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি। 
- পাকস্থলির প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। 
- এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। 

কাজ: 
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- HCI জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। 
- মিউসিন HCI (হাইড্রোক্লোরিক এসিড) -এর ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলির প্রাচীরকে রক্ষা করে। 
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো HCI-এর উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৪.
হৃৎপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলা হয়? 
  1. শিরা
  2. অলিন্দ
  3. নিলয়
  4. ধমনি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। 
- এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। 
- এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। 
- এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium)। 
- নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। 
- অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৫.
BMI( Body Mass Index) এর আদর্শমান কত?
  1. ২০.৫ - ২৫
  2. ২০ - ২৪.৯
  3. ১৮ - ২৬
  4. ১৮.৫ - ২৪.৯
ব্যাখ্যা
• বিএমআই (BMI): 
- বডি মাস ইনডেক্স (BMI- Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে ।
- অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট বয়সে সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরের দৈর্ঘ্যের সাথে চর্বির পরিমাণগত সম্পর্ক নির্দেশ করে।

• বিএমআই (BMI) মান নির্ণয় :
বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)২

• মান নির্দেশিকা:
- কম ওজন = <18.5;
- স্বাভাবিক ওজন = 18.5-24.9;
- অতিরিক্ত ওজন = 25-29.9;
- স্থূলতা = BMI 30 বা তার বেশি।

উৎস: National Heart, Lung, and Blood Institute,USA.
৪৮৬.
অলফ্যাক্টরি স্নায়ু কোন ধরনের স্নায়ু? 
  1. মিশ্র
  2. সংবেদী
  3. অসংবেদী
  4. আজ্ঞাবাহী
ব্যাখ্যা
করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৭.
সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক একজন মানুষের স্বাভাবিক রক্ত চাপ পারদ স্তম্ভের কত মিলিমিটার?
  1. ক) ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)
  2. খ) ৯০-১১০ মিলিমিটার (mm Hg)
  3. গ) ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)
  4. ঘ) ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
ব্যাখ্যা
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনি প্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়।


- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা ও রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে। নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে।


- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ মিলিমিটার (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়।


- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪৮৮.
শ্বেত রক্তকণিকা কোন প্রক্তিয়ার মাধ্যমে জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে এবং তাকে গ্রাস করে?
  1. ফটোসিন্থেসিস 
  2. অসমোসিস
  3. ডিফিউশন
  4. ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা

• শ্বেত রক্তকণিকা দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা দেহে প্রবেশ করা জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকর কণার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুকে শনাক্ত করে তার দিকে অগ্রসর হয় এবং একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে গ্রাস করে ধ্বংস করে। এই প্রক্রিয়াটির নাম ফ্যাগোসাইটোসিস। ফ্যাগোসাইটোসিসে শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে নিজের ভেতরে নিয়ে যায় এবং এনজাইমের সাহায্যে তাকে ভেঙে ফেলে। ফটোসিন্থেসিস উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া, অসমোসিস ও ডিফিউশন হলো পদার্থ পরিবহনের প্রক্রিয়া, কিন্তু জীবাণু গ্রাস করার কাজটি শুধুমাত্র ফ্যাগোসাইটোসিসের মাধ্যমেই হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) ফ্যাগোসাইটোসিস।
 
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এইগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে এই কণিকাকে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৯.
পলিসাইথেমিয়া বলতে কি বুঝায়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
  2. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাওয়া
  3. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
  4. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা

মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন:-
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।
২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০- ৩০,০০০ হয়।
৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।
সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪৯০.
মস্তিষ্ক কোন তন্ত্রের অংশ? 
  1. স্নায়ুতন্ত্র
  2. রেচনতন্ত্র
  3. শ্বসনতন্ত্র
  4. পরিপাকতন্ত্র
ব্যাখ্যা
স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু: 
- প্রাণী দেহের যে কলা উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু বলে। 
যেমন- মস্তিষ্ক, সুষুম্না কাণ্ড ইত্যাদি। 
- স্নায়ুটিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন। 
- মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। 
- প্রতিটি নিউরন তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
যথা- (ক) কোষদেহ (খ) ডেনড্রন এবং (গ) অ্যাক্সন। 

স্নায়ুটিস্যুর কাজ: 
• দেহের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও সংবেদন গ্রহণকারী অঙ্গ থেকে গৃহীত উদ্দীপনা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। 
• দেহের কার্যকর অংশ এ উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। 
যেমন- মশা কামড়ালে এ অনুভূতি মস্তিষ্কে পাঠায়, মস্তিষ্ক হাতকে এ কথা জানায় তখন হাত মশা মারার চেষ্টা করে। 
• উদ্দীপনা বা ঘটনাকে স্মৃতিতে ধারণ করে। 
• দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৯১.
স্ট্রোক হলে শরীরে সাধারণত কোন প্রভাব দেখা যায়?
  1. উচ্চ রক্তচাপ কমে
  2. হজম সমস্যা
  3. স্নায়বিক কাজ বন্ধ হয়
  4. হাড় দুর্বল হয়
ব্যাখ্যা
• স্ট্রোক (Stroke) হলো একটি মেডিকেল ইমারজেন্সি যেখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা রক্তক্ষরণ হয়।
এতে ঐ অংশের স্নায়ুকোষ অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না, ফলে তা দ্রুত মারা যেতে শুরু করে। ফলে স্নায়ুবিক কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 

শরীরে যে প্রভাব দেখা দেয়- 
- হঠাৎ করে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া। 
- কথা বলায় অসুবিধা। 
- চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস।
- চলাফেরায় ভারসাম্য হারানো। 
- স্মৃতি ও বোধশক্তির সমস্যা। 

অন্যদিকে, 
উচ্চ রক্তচাপ কমে → এটি সঠিক নয়।  বরং স্ট্রোকের সময় রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

হজম সমস্যা → এটি সরাসরি স্ট্রোকের সাথে সম্পর্কিত নয়।

হাড় দুর্বল হয় → স্ট্রোক হাড়ের সমস্যা তৈরি করে না, যদিও দীর্ঘমেয়াদে চলাফেরা না করলে হাড় দুর্বল হতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- WHO: Stroke Facts.
৪৯২.
চোখের কোনটি মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগায়?
  1. চোখের মণি
  2. আইরিস
  3. রেটিনা
  4. কর্ণিয়া
ব্যাখ্যা
• রেটিনা:
- রেটিন হলো চক্ষু লেন্সের পেছনের দিকে অবস্থিত অক্ষিগোলকের ভিতরের পৃষ্টে গোলাপী রঙের ইষদচ্ছ আলোকসংবেদন আবরণ।
- রেটিনা রড ও কোণ নামক কতগুলি স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত ।
- রেটিনার ওপর আলো পড়লে তা স্নায়ুতন্ত্রে এক প্রকার উত্তেজনা সৃষ্টি করে ফলে মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগে
- রেটিনা ক্যামেরার ফিল্মের মতো কাজ করে, ফটোরেসেপ্টরের মাধ্যমে চিত্রটি ক্যাপচার করে।
- রেটিনার কাজ হলো:
১) বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন করা।
২) আলোক গ্রাহক হিসেবে কাজ করে উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে ।

- মানব চোখের লেন্সটি উভ উত্তল বা দ্বি উত্তল।
- কোনো বস্তু হতে আলোক রশ্মি চোখের লেন্স দ্বারা প্রতিসরিত হয়ে রেটিনায় বিম্ব গঠন করে।
- রেটিনায় গঠিত বিম্বটি হয় সদ, উল্টো ও খর্বিত।
- রেটিনা আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে পরিণত করে।
- মানুষের চোখে রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থান ভিট্রিয়াস হিউমার নামক জেলী জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। 

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
২. পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৩.
আমাশয় রোগ প্রতিরোধের উপায় কী?
  1. ক) হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করা
  2. খ) বিশুদ্ধ খাবার ও পানি পান করা
  3. গ) মাদকদ্রব্য সেবন পরিহার করা
  4. ঘ) অনিরাপদ যৌনসংসর্গ এড়িয়ে চলা
ব্যাখ্যা

আমাশয় রোগটি ব্যাকটেরিয়া কিংবা পরজীবী উভয় কারণে হতে পারে। দূষিত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
তাই বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ ও বিশুদ্ধ পানি পানের মাধ্যমে আমাশয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৪৯৪.
আয়োডিনের প্রাপ্তির জন্য সবচেয়ে কার্যকর উৎস কোনটি?
  1. সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
  2. বাদাম 
  3. শাকসবজি
  4. ডাল
ব্যাখ্যা

• আয়োডিনের প্রাপ্তির জন্য সবচেয়ে কার্যকর উৎস হল সামুদ্রিক উদ্ভিদ। এটি কারণ, সমুদ্রের পানিতে আয়োডিন প্রচুর পরিমাণে থাকে, এবং সামুদ্রিক উদ্ভিদ যেমন শৈবাল, কেল্প ইত্যাদি এই আয়োডিন শোষণ করে। মানুষ যখন এই উদ্ভিদ খায়, তখন সহজেই প্রয়োজনীয় আয়োডিন শরীরে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে, বাদাম, শাকসবজি বা ডালে আয়োডিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুব কম থাকে, তাই এগুলি আয়োডিনের প্রধান উৎস হিসেবে যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণ জরুরি, কারণ এটি থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে সাহায্য করে। তাই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হিসেবে সামুদ্রিক উদ্ভিদকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
 
খনিজ লবণ (Mineral salts): 
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে। 
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস। 
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। 
- আয়োডিনের ভালো উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৫.
ব্যাকটেরিয়ায় কোন ধরনের কোষ বিভাজন লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) মিয়সিস
  3. গ) অ্যামাইটোসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, এমিবা ইত্যাদি এককোষী জীবে এমাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে বংশবৃদ্ধি করে।
যে কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।
মাইটোসিস: এই কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত বা সুকেন্দ্রিক কোষ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। মাইটোসিসে নিউক্লিয়সি একবার বিভাজিত হয়, প্রায় সমানভাবে। | নিউক্লিয়াসের প্রতিটি ক্রোমাজোমও একবার করে বিভাজিত হয়। সাইটোপ্লাজমও বিভাজিত হয় একবারই। তাই মাইটোসিস বিভাজনে কোষের মাতৃকোষ এবং অপত্য কোষে ক্রোমাজোম সংখ্যা, তথা DNA-এর পরিমাণ সমান থাকে। শুধু যে পরিমাণে একই থাকে তা নয়, মাতৃকোষের DNA-এর প্রায় হুবহু অনুলিপি অপত্য কোষে পাওয়া যায়। একে সমীকরণিক বিভাজনও বলে।
মিয়সিস: মিয়সিস বিভাজনের এক চক্রে নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজিত হয়। প্রথমবারে নিউক্লিয়াসের ক্রোমাজোম পরিমাণে অর্ধেক হয়ে যায়। এই বিভাজনে মাতৃকোষের যে দুটি নিউক্লিয়াস পাওয়া যায়, দ্বিতীয়বারে তার প্রতিটিই আবার দুটি কোষে বিভাজিত হয়।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

৪৯৬.
বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে কোনটি?
  1. রাফেজ
  2. সেলুলোজ
  3. পেকটিন
  4. লিগনিন
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে যা কোনো পুষ্টি না জোগালেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান।  
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৭.
পাখি সম্পর্কিত বিদ্যা-
  1. ক) Herpetology
  2. খ) Ichthyology
  3. গ) Ornithology
  4. ঘ) Entomology
ব্যাখ্যা

- পাখি সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ornithology বলে।
- মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ichthyology বলে।
- উভচর ও সরীসৃপ বিষয়ক বিদ্যাকে Herpetology বলে।
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে।
উৎসঃ প্রাণিবিদ্যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৪৯৮.
AIDS -এর সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. গর্ভবতী মহিলা এ রোগে আক্রান্ত হলে তার সন্তানের মধ্যে এ রোগ হতে পারে
  2. রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
  3. স্তন পানের মাধ্যমে মহিলার দেহ থেকে শিশুর AIDS হতে পারে
  4. AIDS রোগীর সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
ব্যাখ্যা
এইডস: 

- AIDS হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

AIDS এর বিস্তার: বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যেমন- 
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, 
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, 
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, 
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, 
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, 
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

অর্থাৎ সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায় না। যদিও অধিকাংশ মানুষের এই বিষয়ে ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৯.
মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. তিনটি
  4. দুইটি
ব্যাখ্যা
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB। 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০০.
পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়-
  1. পটকা মাছ
  2. শুশুক মাছ
  3. হাঙ্গর
  4. জেলীফিস
ব্যাখ্যা
- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি।
- কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য ডলফিন বা শুশুক মাছ মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে। 
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই।

- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 - This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

Source: uk.whales.org