বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যতিচিহ্ন ও যতিচিহ্নের ব্যবহার

মোট প্রশ্ন৪৬০এই পাতা৫৮প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যতিচিহ্ন ও যতিচিহ্নের ব্যবহার

PrepBank · পাতা / · ৪০১৪৫৮ / ৪৬০

৪০১.
নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. কমা
  2. সেমিকোলন
  3. ড্যাশ
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০২.
পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. কোলন ড্যাশ
  2. দাঁড়ি
  3. ড্যাশ
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা

দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
- বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।

এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে:
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন: সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৩.
কোনটি ত্রিবিন্দু চিহ্ন?
  1. ...
  2. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
...
উত্তর
সঠিক উত্তর:
...
ব্যাখ্যা
• ত্রিবিন্দু চিহ্ন: ( ... ) 

বিরাম চিহ্ন:

- লেখার সময়ও বাক্যের মধ্যে বিরতি বুঝিয়ে তা দেখানোর জন্য কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যেগুলোকেই বিরতি চিহ্ন, যতি চিহ্ন, ছেদ চিহ্ন, বিরাম চিহ্ন বা ভাষা চিহ্ন বলে।

• ত্রিবিন্দু (...): 
- কোনাে অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
- যেমন -
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা ...।”
- আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪০৪.
জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কী বসবে?
  1. সেমিকোলন (;)
  2. কোলন (:)
  3. কমা (,)
  4. কোলন ড্যাস (:-)
সঠিক উত্তর:
কমা (,)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা (,)
ব্যাখ্যা

কমা (,)
- বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
- পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
- সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
- জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
- উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”
- মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
- বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
- নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪০৫.
সমাসে বিভক্তির বদলে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
  1. কোলন
  2. ড্যাশ
  3. কমা
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
-বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০৬.
নিচের কোনটি বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন?
  1. দাঁড়ি
  2. সেমিকোলন
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. প্রশ্নবোধকচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে বোঝায়।
- যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্নকে ২ প্রকার:
- প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন প্রভৃতি।

- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪০৭.
কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কমা
  2. সেমিকোলন
  3. কোলন
  4. কোলন ড্যাস
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গনিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০৮.
নিচের কোন যতিচিহ্নে ১ বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কোলন
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. উদ্ধরণ চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

বাংলায় কোন কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করে থাকি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় কমা ( , )।
বাক্যের ভিতর বিরাম চিহ্ন হলো কমা।

 বিভিন্ন যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের সময় কাল ভিন্ন। যেমন:
- কমা (,) বিরামের সময় - ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- সেমিকোলন (;) বিরামের সময় - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- বিস্ময়চিহ্ন (!) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- দাঁড়ি (।) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন (:) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- ড্যাস (−)বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- হাইফেন (-) বিরামের সময় - থামার প্রয়োজন নেই।
- উদ্ধরণ চিহ্ন - 'এক' উচ্চারণে যে সময় লাগে।
- কোলন ড্যাশ (:-) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

৪০৯.
শব্দ সংক্ষেপ ও ক্রম নির্দেশ করতে কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহার হয়?
  1. বিন্দু
  2. উদ্ধারচিহ্ন
  3. ত্রিবিন্দু
  4. সেমিকোলন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্দু
ব্যাখ্যা

বিন্দু (.):
- শব্দসংক্ষেপ ও ক্রম নির্দেশ করতে এই বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- বিন্দু চিহ্নটি ইংরেজি ফুলস্টপ বা পিরিয়ড (.) চিহ্নের সমান।
- সংখ্যা বা বর্ণ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্রমনির্দেশ করা হলে এরপর বিন্দু বসে।
যেমন:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।
- ভাষার প্রধান উপাদান চারটি: ১. ধ্বনি, ২. শব্দ, ৩. বাক্য ও ৪. অর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪১০.
তিনি রেগে গিয়ে বললেন, ‘তার মানে তুমি একটা ___।’ এ বাক্যে শূন্যস্থানে যে যতিচিহ্নের ব্যবহার হবে তার নাম –
  1. ক) ইলেক
  2. খ) ত্রিবিন্দু
  3. গ) বিন্দু
  4. ঘ) সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রিবিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রিবিন্দু
ব্যাখ্যা
শূন্যস্থানে ত্রিবিন্দুর  ব্যবহার হবে।

কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
যেমন - 
তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা … ।”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি।
৪১১.
উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে কোন যতিচিহ্ন বসাতে হয়?
  1. কোলন 
  2. কমা 
  3. হাইফেন
  4. সেমিকলন 
সঠিক উত্তর:
কমা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা 
ব্যাখ্যা

•  কমা [পাদচ্ছেদ চিহ্ন (,)]:
ক) বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
খ) পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
গ) সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
ঘ) জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
ঙ) উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খন্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- সাহেব বললেন, "ছুটি পাবেন না।”
চ) মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর 'কমা' বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯৯ সন।
ছ) বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
জ) নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় সংযোজিত হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরে কমা বসবে। যেমন-ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচ.ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪১২.
উদ্ধৃতি চিহ্ন কোথায় বসে?
  1. ক) বাক্যের শেষে
  2. খ) শ্লেষাত্মক বাক্যের মাঝে
  3. গ) সংলাপে
  4. ঘ) প্রশ্নবোধক বাক্যে
সঠিক উত্তর:
গ) সংলাপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংলাপে
ব্যাখ্যা
• উদ্ধৃতি চিহ্ন দুই প্রকার। যথা: একক উদ্ধৃতি চিহ্ন এবং জোড় উদ্ধৃতি চিহ্ন।

উদ্ধৃতি বিরাম চিহ্নের ব্যবহার:
১. কথোপকথন ও সংলাপে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
২. নির্দিষ্ট শব্দে মনোযোগ আকর্ষনের জন্য  উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
৩. নির্দিষ্ট ভবনের নাম বা গ্রন্থের নাম জানানোর জন্য।
৪. বাক্যে কোনো শব্দ বা বিষয়কে গুরুত্ব দিতে কংিবা গুরুত্ব প্রকাশ করতে উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।ব

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১৩.
বাংলা সাহিত্যে যতিচিহ্নের প্রবর্তক কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) উইলিয়াম কেরী
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
হাজার বছরের ঐতিহ্যে ভরপুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য কিন্তু বাংলা ভাষায় সুষ্ঠভাবে বিরাম চিহ্ন ব্যবহার শুরু হয়েছে দেড়শ দুইশ বছর আগে।
- মহামতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) বাংলা গদ্যে বিরাম চিহ্ন ব্যবহারের প্রথম নৈপুর্ণ দেখান।
- এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলেছেন।
- যতি চিহ্নের প্রয়ােগ যথাযথ না হলে বাক্য অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য হতে পারে।
- এমনকি কখনাে কখনাে প্রত্যাশিত অর্থ প্রকাশ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৪.
বিরাম চিহ্ন ব্যবহৃত হয় না-
  1. ক) বাক্যের অর্থ সহজভাবে বুঝাতে
  2. খ) শ্বাস বিরতির জায়গা দেখাতে
  3. গ) বাক্যকে অলংকৃত করতে
  4. ঘ) বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরাম-চিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরাম-চিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা বিরাম-চিহ্নের কাজ:
১. বাক্যে ব্যবহৃত পদগুচ্ছকে অর্থবহ করার জন্য বিরাম-চিহ্নের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পদক্রম অনুসরণ করা হয়।
২. বাক্যের পদগুলোকে নির্দিষ্ট ছক বা রীতি অনুযায়ী সাজিয়ে তোলাই তার কাজ।
৩. বাক্যের পদগুলোর মধ্যে ভাবের পারম্পর্য বা সঙ্গতি রক্ষা করাই যতি বা বিরাম-চিহ্নের কাজ।
৪. তাদের লক্ষ্য বাক্যকে অর্থবহ করা।
৫. যতি চিহ্নের লক্ষ্য বাক্যের বক্তা বা লেখকের নির্দিষ্ট অর্থলক্ষ্যকে সোজাসুজি শ্রোতা বা পাঠকের কাছে পৌছে দেয়া।

সুতরাং, বিরাম-চিহ্ন ব্যবহৃত হয় না- বক্তার মেজাজকে স্পষ্ট করতে।
৪১৫.
ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. ত্রিবিন্দু
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
কমা (,) এর ব্যবহার:
• বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
• পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
• সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
• জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
• কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'
• মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
• ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন-৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম, এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
৪১৬.
‘কমা’ কোথায় বসে?
  1. কোন অপূর্ণ বাক্যের জন্য
  2. সম্বোধন পদের পরে
  3. প্রশ্ন বোঝানোর জন্য
  4. বাক্যের মাঝে কোন পদ ব্যাখ্যা করার জন্য
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন পদের পরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন পদের পরে
ব্যাখ্যা

কমা বা পাদচ্ছেদ চিহ্ন (,):
- অল্পক্ষণ বিরামের জন্যে কমার ব্যবহার হয়। এখানে 'এক' উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়। অল্প বিরাম বোঝাতে নিম্নলিখিত স্থানে কমা ব্যবহৃত হতে পারে:

• বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখানোর জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।
• পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

৪১৭.
‘গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।’—এ বাক্যে কমার ব্যবহার হয়েছে কেন?
  1. উদ্ধৃতি বোঝাতে
  2. সম্বোধন বোঝাতে
  3. একাধিক শব্দ আলাদা করতে
  4. প্রশ্ন প্রকাশ করতে
সঠিক উত্তর:
একাধিক শব্দ আলাদা করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাধিক শব্দ আলাদা করতে
ব্যাখ্যা

⇒ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।—এ বাক্যে কমার ব্যবহার হয়েছে একদিক শব্দের মধ্যে প্রতিটি শব্দ আলাদা করার জন্যে।

• কমা (,)
⇒ কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ,তিনি আমার বাবা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছুনা করাই তো পাপ।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৪১৮.
অন্ত্যযতি নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. কোলন-ড্যাশ
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
কোলন-ড্যাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন-ড্যাশ
ব্যাখ্যা
• অন্ত্যযতি নয়- কোলন-ড্যাশ। 

• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
৪১৯.
কোন যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড'?
  1. ব্র্যাকেট
  2. ইলেক চিহ্ন
  3. হাইফেন
  4. ড্যাস
সঠিক উত্তর:
ড্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড্যাস
ব্যাখ্যা

• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':

যেমন:
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস

অন্যদিকে,
• থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪২০.
বাক্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কোন চিহ্ন বসে?
  1. লোপ চিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. কমা
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• বাক্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।

কমা (,):
- বাক্যে অল্প বিরতি বোঝাতে কমা বসে। নানা প্রয়োজনে বাক্যে কমাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে।
যেমন:
তুমি যাবে, না যাবে না?
সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

২. বাক্যে সম্বোধনের পর কমা বসে।
যেমন:
সেতু, পড়তে বসো।
বিধু, খাবে এসো।

৩. একই পদের একাধিক শব্দ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা বসে।
যেমন:
বিশেষ্য: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদী।
বিশেষণ: সুখ, দুঃখ, আশা, নিরাশা একই মালার ফুল।
সর্বনাম: তুমি, আমি ও রবিন বাজারে যাব।

৪. একই ধরনের একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশকে আলাদা করতে কমা বসে।
যেমন:
শ্রেষ্ঠা ক্লাসে ঢুকল, বই রাখল, তারপর বেরিয়ে গেল।
আমাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ খুবই আনন্দের দিন।

৫. বাক্যে উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।
যেমন:
মা বললেন, "অঙ্ক করতে বসো।"
আমি বললাম, "গল্পের বই পড়তেই ভালো লাগছে।"

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪২১.
বিরতি কাল অনুসারে নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  2. কোলন ড্যাস চিহ্ন
  3. ইলেক চিহ্ন
  4. বিস্ময় চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
ইলেক চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
⇒ বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২২.
নিচের কোন বিরাম চিহ্নকে পদ সংযোগ চিহ্ন বলে?
  1. সেমিকোলন
  2. ড্যাস
  3. হাইফেন
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন:
- হাইফেন হচ্ছে শব্দ বা পদ সংযোগ চিহ্ন।
- হাইফেন সব সময় বসে দুই বা ততোধিক শব্দের মধ্যে।
- হাইফেন দ্বারা সংযুক্ত শব্দ পড়ার ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের কোন প্রয়োজন নেই।
যেমন-
সোনা-রূপা-মণি-মুক্তা কোন কিছুতেই আমার লোভ নেই।
[এই বাক্যে সোনা, রূপা, মণি, মুক্তা পড়ার সময় বিরতির কোন প্রয়োজন নেই]

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৩.
কোন যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ এক সেকেন্ড?
  1. ব্র্যাকেট
  2. লোপ চিহ্ন
  3. বিস্ময় চিহ্ন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা

• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

অন্যদিকে,
• থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪২৪.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।
  2. কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
  3. নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
  4. সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
সঠিক উত্তর:
কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
- তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

অন্যদিকে,
কমা(,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৪২৫.
একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে কোন চিহ্ন ব্যবহার হয়?
  1. দাঁড়ি
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে সেমিকোলন হয়।
- শব্দ বা পদের পরে সেমিকোলন বসে না। সাধারণত বাক্যাংশের পরে বসে।

যেমন:
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে; পৃথিবী সূর্যের চারদিকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২৬.
ইলেক বা লোপ (') যতি চিহ্নটিতে কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. এক সেকেন্ড
  2. থামার প্রয়োজন নেই
  3. এক বলতে যে সময় লাগে
  4. এক বলার দ্বিগুণ সময়
সঠিক উত্তর:
থামার প্রয়োজন নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
ইলেক বা লোপ চিহ্ন:
- বাক্যে এক বা একাধিক বর্ণকে বর্জন করা হলে, তা প্রকাশের জন্য বর্জিত স্থানে ইংরেজি ভাষায় অ্যাপস্ট্রফি বলে পরিচিত ( ' ) লোপচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- বাংলায় একে 'উর্ধ্বকমা' বলা হয়।
- আধুনিক- প্রমিত বানানে 'উর্ধ্বকমা' বর্জনীয়।
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন থাকলে - থামার প্রয়োজন নেই।

• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৭.
'কোলন ড্যাস' কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
  1. কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে
  2. দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে
  3. উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে
  4. বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে
সঠিক উত্তর:
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে
ব্যাখ্যা

কোলন ড্যাস (:-)
- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
 উদ্ধৃতি চিহ্ন (‘ ’): - কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।
ড্যাস: - সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাস ব্যবহৃত হয়।
হাইফেন: - বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪২৮.
বাংলা ব্যাকরণে প্রান্তিক যতিচিহ্নের সংখ্যা কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
• বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে বসে ৪টি যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্ন। এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে। এগুলো হলো:
- দাঁড়ি চিহ্ন (।),
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?), 
- বিস্ময় চিহ্ন (!),
- দুই দাঁড়ি (।।)

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৯.
নিচের কোন বাক্যে কমার সঠিক ব্যবহার হয়েছে?
  1. ৪৫/বি মিরপুর রোড ঢাকা ১২০৫।
  2. ৪৫/বি, মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৫।
  3. ৪৫, বি, মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৫।
  4. ৪৫ বি, মিরপুর-রোড, ঢাকা ১২০৫।
সঠিক উত্তর:
৪৫/বি, মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৫।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫/বি, মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৫।
ব্যাখ্যা
• কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খন্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
৫) কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খন্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ তুমি বললে, ‘আমি কালকে আবার আসবো।’
৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।

৭) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে।
যেমন,
- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০।
- ৪৫/বি, মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৫।

8) ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩০.
প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. ড্যাশ
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. বিস্ময়চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
ড্যাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড্যাশ
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় - ড্যাশ

যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• যতিচিহ্নকে দুভাগে ফেলা যায়। যথা:
১. প্রান্তিক অর্থাৎ বাক্য যেখানে শেষ হয়।
যেমন: দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন
২. বাক্যান্তর্গত অর্থাৎ যেখানে বাক্য শেষ হয় না।
যেমন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৩১.
দুঃখ, আনন্দ ইত্যাদি প্রকাশে কোন বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ত্রিবিন্দুচিহ্ন
  2. বিকল্পচিহ্ন
  3. বিন্দুচিহ্ন
  4. বিস্ময়চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• বিস্ময়চিহ্ন (!):
সাধারণত বিস্ময়, দুঃখ, আনন্দ ইত্যাদি প্রকাশের জন্য বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মানে কী! সে আর চাকরি করবে না।
- তার গানের কণ্ঠ দারুণ!

অন্যদিকে,
• ত্রিবিন্দু (...):
বাক্যের বা উদ্ধিৃতির কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দু ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, "তার মানে তুমি একটা ...।"
- আমাদের ঐক্যের বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

• বিন্দু (.):
শব্দ সংক্ষেপ, ক্রম নির্দেশ ইত্যাদি কাজে বিন্দু ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ড. শহীদুল্লাহ্‌।

• বিকল্পচিহ্ন (/):
একটি বদলে অন্যটির সম্ভাবনা বোঝাতে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহার হয়।
যেমন - শুদ্ধ/অশুদ্ধ চিহ্নিত করুন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৩২.
শব্দসংক্ষেপ, ক্রমনির্দেশ ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়-
  1. বিকল্পচিহ্ন 
  2. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  3. ত্রিবিন্দু 
  4. বিন্দু
সঠিক উত্তর:
বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিন্দু
ব্যাখ্যা

বিন্দু(.)
- শব্দসংক্ষেপ, ক্রমনির্দেশ ইত্যাদি কাজে বিন্দু ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
- ভাষার প্রধান উপাদান চারটি: ১. ধ্বনি, ২. শব্দ, ৩. বাক্য ও ৪. বাগর্থ।

উল্লখ্য,
ত্রিবিন্দু (...)
- কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
যেমন
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, "তার মানে তুমি একটা ...।"
- আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

বিকল্পচিহ্ন (/)
- একটির বদলে অন্যটির সম্ভাবনা বোঝাতে বিকল্পচিহ্নের ব্যবহার হয়।
যেমন
- শুদ্ধ/অশুদ্ধ চিহ্নিত করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৪৩৩.
সম্বোধন পদের পরে কী বসে?
  1. ড্যাশ
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ ৷

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৩৪.
কোন যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড'?
  1. লোপচিহ্ন
  2. বিস্ময় চিহ্ন
  3. হাইফেন
  4. ব্র্যাকেট
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা

• যেসব যতিচিহ্নের বিরতিকালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

• থামার প্রয়োজন নেই -
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৩৫.
বাক্যে ব্যবহৃত দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন ও বিস্ময় চিহ্নের ক্ষেত্রে থামার সময়কাল-
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. এক বলতে যে সময় লাগে
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

♦ বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৬.
কোনটি 'কোলন'?
  1. ;
  2. :
  3. =
  4. '' ''
সঠিক উত্তর:
:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
:
ব্যাখ্যা
(:) কোলন চিহ্ন। 

--------------
• কোলন:

একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

অন্যদিকে, 
• (;) সেমিকোলন চিহ্ন। 
• (=) সমান চিহ্ন।
• ('' '') উদ্ধরণ চিহ্ন।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৩৭.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ক) গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন; “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ”৷
  3. গ) কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।
  4. ঘ) নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন; “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ”৷
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন; “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ”৷
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি অশুদ্ধ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন; “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ”৷
• শুদ্ধ বাক্য:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ"৷
অর্থাৎ, এখানে সেমিকোলন (;) না হয়ে কমা (,) হবে।

• যতিচিহ্ন:

মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ"।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৩৮.
বাক্যে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহারে 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. সেমিকোলন
  3. কমা
  4. ইলেক চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
•  কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
•  সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
•  হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
•  দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৩৯.
নিচের কোনটিকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বলা হয়?
  1. ক) কোলন
  2. খ) ড্যাশ
  3. গ) কমা
  4. ঘ) দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে বসে ৪টি যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্ন। এগুলো হলো: দাঁড়ি চিহ্ন, প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং বিস্ময় চিহ্ন, ডাবল দাড়ি। এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
- কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- কোলন - এক সেকেন্ড।৭. ড্যাস- এক সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
- হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
- একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
- যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
- ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।


উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪০.
অন্ত্যযতি নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি 
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:
অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (1),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।

৪৪১.
নিচের কোনটি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন?
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. দাঁড়ি
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরামচিহ্নকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা - 
-  প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।

• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে বসে তাদের প্রান্তিক বিরামচিহ্ন বলে।
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ছাড়া অন্যান্য স্থানে বসে তাদের বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন বলা হয়। 
যেমন- কমা, কোলন, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪৪২.
বাক্যে পরিসমাপ্তি বোঝাতে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- দাঁড়ি কে আবার পুর্ণচ্ছেদ বলা হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

অব্যদিকে,
কোলন:
• বাক্য অসম্পূর্ণ রেখে প্রাসঙ্গিক অন্য তথ্য জ্ঞাপনের ক্ষেত্রে কোলন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কমিটিতে সিদ্ধান্ত হলো: আগামী মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

• একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন: সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৪৪৩.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
  2. নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
  3. তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।
  4. জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।
সঠিক উত্তর:
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।
ব্যাখ্যা
হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

অন্যদিকে,
কমা(,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
- তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৪৪৪.
'দৃষ্টান্তচ্ছেদ' কোন যতিচিহ্নের অপর নাম?
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. দাড়ি
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• 'কোলন' বিরামচিহ্নের অপর নাম - দৃষ্টান্তচ্ছেদ।

অন্যদিকে, 
• 'কমা' এর বাংলা অর্থ - পাদচ্ছেদ।
• 'দাড়ি' এর অপর নাম - পূর্ণচ্ছেদ।
• 'সেমিকোলন' এর অপর নাম - অর্ধচ্ছেদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪৫.
মাসের তারিখ লেখার সময় কোনটির পর 'কমা' ব্যবহার করতে হয়?
  1. শুধু বারের পর
  2. শুধু তারিখের পর
  3. বার ও মাসের পর
  4. শুধু সালের পর
সঠিক উত্তর:
বার ও মাসের পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার ও মাসের পর
ব্যাখ্যা

কমা (,) :
• বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

• পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।

• সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
• জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
• কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'
• মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।

উৎস: উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

৪৪৬.
কোন যতিচিহ্নকে ‘পাদচ্ছেদ’ বলা হয়?
  1. কোলন
  2. দাঁড়ি
  3. সেমিকোলন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা

কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ , বর্গ ও অধীনে বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- কমাকে ‘পাদচ্ছেদ’ বলা হয়।
- যেমন:
• গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
• সুজন, দেখ তোকে আসছে।

দাঁড়ি:
- দাঁড়ি অর্থ  পূর্ণচ্ছেদ।
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
যেমন:
• প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
• যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

সেমিকোলন:
- সেমিকোলন অর্থ হচ্ছে ‘অর্ধচ্ছেদ’।
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন: 
• সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছব্দ করি।
• কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ না।

কোলন:
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থানের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
• ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
• সভার সিন্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাদাঁ দিতে হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৪৪৭.
নিচের কোনটিতে বিরামচিহ্নের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) ৯, ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  2. খ) ৯, ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
  3. গ) ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
  4. ঘ) ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
সঠিক উত্তর:
গ) ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর- ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

• কমা:
- তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। 
- কমা যার বাংলা অর্থ ‘পাদচ্ছেদ’।
- এর বিরামের সময় ১ বলার যে সময় প্রয়োজন হয়।

• ‘কমা’ এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার:
- সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে। 
- উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খন্ডবাক্যের শেষে) কমে বসে।
- তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে।
- বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসে।
- জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খন্ডবাক্যের পরে কমা বসে।
- একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদের সবগুলোর পরে কমা বসে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪৪৮.
উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোন যতিচিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন এবং ড্যাস
  2. কমা এবং কোলন
  3. কোলন এবং ড্যাস
  4. কোলন এবং হাইফেন
সঠিক উত্তর:
কোলন এবং ড্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন এবং ড্যাস
ব্যাখ্যা
• কোলন ড্যাস (:-):
- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
- কোলন ড্যাস চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ।
যেমন:
- পদ পাঁচ প্রকার:-
- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৪৯.
নিচের কোনটিতে 'কমা' ব্যবহৃত হয়?
  1. বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে
  2. সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে
  3. শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে
ব্যাখ্যা

কমা: 
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন,
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, ও বসন্ত - বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যাবসায়, কঠোর পরিশ্রম  ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।

অন্যদিকে,
হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

ড্যাশ:
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাস ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে - বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৫০.
কোন চিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়?
  1. হাইফেন
  2. সেমিকোলন
  3. লোপ চিহ্ন
  4. ব্র্যাকেট
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। সেমিকোলনচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।
যেমন:

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

অন্যদিকে,
থামার প্রয়োজন নেই - ব্র্যাকেট, লোপ চিহ্ন, হাইফেন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪৫১.
কোন বাক্যটিতে যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার হয়েছে?
  1. ২২, গুলশান এভিনিউ: ঢাকা-১২১২।
  2. ২২, গুলশান এভিনিউ, ঢাকা-১২১২।
  3. ২২; গুলশান এভিনিউ, ঢাকা-১২১২।
  4. ২২, গুলশান এভিনিউ. ঢাকা-১২১২
সঠিক উত্তর:
২২, গুলশান এভিনিউ, ঢাকা-১২১২।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২, গুলশান এভিনিউ, ঢাকা-১২১২।
ব্যাখ্যা
• ‘কমা’ যতিচিহ্ন:
বাংলায় কোনো কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি কমা (,)। বাক্যের ভেতরের বিরাম-চিহ্ন হলো কমা। বাক্যে ব্যবহৃত কমার ক্ষেত্রে ‘এক’ উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়।

অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়।
যথা:
• উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে।
যেমন- সাহেব বললেন, ''ছুটি পাবেন না।''

• নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় দেওয়া হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির আগে কমা বসে।
যেমন- ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি।

• বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে।
যেমন-
৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।
২২, গুলশান এভিনিউ, ঢাকা-১২১২।

• পরস্পর সমন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫২.
বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে কোনটি?
  1. কমা 
  2. সেমিকোলন 
  3. বিকল্পচিহ্ন 
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• 'দাঁড়ি' যতিচিহ্ন:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল ১ সেকেন্ড।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- যাও।
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৫৩.
উদ্ধারচিহ্ন কয় রকম?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
• উদ্ধারচিহ্ন ('-'), ("-"):
- কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।
- উদ্ধারচিহ্ন দুই রকম: একক ও দ্বৈত।
যেমন:
- 'সিরাজউদ্দৌলা' একটি ঐতিহাসিক নাটক।
- আমাদের কণ্ঠ শুনে প্রিয়ন্তি ঘর থেকে বেরিয়ে এল, "ও আপনারা এসে গেছেন! বাসা চিনতে কোনো কষ্ট হয়নি তো?"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৫৪.
পাঠের বর্জনকৃত অংশ নির্দেশ ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) - চিহ্ন
  2. খ) () - চিহ্ন
  3. গ) ... - চিহ্ন
  4. ঘ) “ ” - চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
গ) ... - চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ... - চিহ্ন
ব্যাখ্যা

- লোপ চিহ্ন ব্যবহার করতে হয় শব্দ বা পদের মধ্যে কোন অক্ষর লোপ পেলে। যেমনঃ দু’বেলা ভাতই জোটে না।

() - বন্ধনি চিহ্ন ব্যবহৃত হয় কোনো কিছু ব্যাখ্যা করে বুঝাতে। যেমনঃ বৃত্তি পরীক্ষা (জুনিয়র) আগামী মাসে। 

... - বর্জন চিহ্ন ব্যবহার করা হয় কোনো রচনার অংশবিশেষ বর্জন করা হলে সূচনাতে এটি ব্যবহৃত হয়। যেমন- …তব ঘৃণা তারে যেন/ তৃণসম দহে।

 “ ”- উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয় বক্তার বক্তব্য তুলে ধরার জন্য। যেমনঃ ভাগিনা বলিল,  “মহারাজ পাখিটার শিক্ষা পুরা হইয়াছে”

৪৫৫.
দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে, কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. কোলন ড্যাস
  5. কোনটিই 
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪৫৬.
নিচের বিরামচিহ্নগুলোর মাঝে কোনটিকে পূর্ণচ্ছেদ বলা হয়?
  1. কমা
  2. হাইফেন
  3. দাঁড়ি
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• 'দাঁড়ি'- পূর্ণচ্ছেদ বলা হয়। 

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- দাঁড়ি কে আবার পুর্ণচ্ছেদ বলা হয়। 
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস:
১/ প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২/ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)। 
৪৫৭.
'যতিচিহ্ন' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়

অন্যদিকে,
ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
সন্ধি প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৫৮.
কোনটি বন্ধনীর সঠিক ব্যবহার নয়?
  1. অতিরিক্ত তথ্য দিতে 
  2. কালনির্দেশ দিতে 
  3. বাক্য শেষ করতে
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বাক্য শেষ করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য শেষ করতে
ব্যাখ্যা

বাক্য শেষ করতে বন্ধনীর ব্যবহার করা নয়। 

বন্ধনী (), {}, []
- অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন ও কালনির্দেশের ক্ষেত্রে বন্ধনীর ব্যবহার হয়।
- বন্ধনী তিন প্রকার: প্রথম বন্ধনী (), দ্বিতীয় বন্ধনী {} ও তৃতীয় বন্ধনী []।
- যেমন - তিনি বাংলা ভাষার বিবর্তন (চর্যাপদের সময় থেকে পরবর্তী) নিয়ে আলোচনা করবেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।