বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যতিচিহ্ন ও যতিচিহ্নের ব্যবহার

মোট প্রশ্ন৪৬০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যতিচিহ্ন ও যতিচিহ্নের ব্যবহার

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৪৬০

.
ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কমা 
  2. হাইফেন 
  3. সেমিকোলন
  4. কোলন 
ব্যাখ্যা

• সেমিকোলন-চিহ্ন (;):
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। মনোভাব প্রকাশের বেলায় একটা ভাব একটিমাত্র বাক্যে শেষ হয়ে সন্নিহিত ভাবের নতুন বাক্য শুরু করতে চাইলে একটু বেশি থামতে হয়। অর্থাৎ একাধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের নিকট-সম্বন্ধ থাকলে বাক্যগুলোকে একটু বেশি থামার চিহ্ন দিয়ে ভাগ করতে হয়। এর জন্যে সেমিকোলন বসে।

• সেমিকোলন-চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
- দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
- কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন। ব্যবহার করা হয়।
- সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে।
- যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমম- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'বিস্ময় চিহ্ন' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ কোনটি?
  1. ১ বলতে যে সময় লাগে
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• 'বিস্ময় চিহ্ন' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ - ১ সেকেন্ড

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
কোন যতিচিহ্নে 'এক বলার দ্বিগুণ সময়' থামতে হয়?
  1. পাদচ্ছেদ
  2. কোলন ড্যাস
  3. অর্ধচ্ছেদ
  4. কোলন
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:

সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়

অন্যদিকে,
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
.
বাক্যে হাইফেন ( - ) এরপর কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. ১ সেকেন্ড
  2. 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময়
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্নের বিরতি-কাল-পরিমাণ:
- দাঁড়ি চিহ্নের বিরামের কাল - ১ সেকেন্ড।
- কমা বা পাদচ্ছেদ এবং উদ্ধরণ চিহ্ন থাকলে - 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
- হাইফেন ( - ) বিরামের সময় - থাকার প্রয়োজন নেই।
- বিস্ময়চিহ্ন ( ! ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- দাঁড়ি ( । ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ( : ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাশ ( :- ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে কোন চিহ্ন বসে?
  1. কমা ( , )
  2. কোলন ( : )
  3. হাইফেন ( - )
  4. সেমিকোলন ( ; )
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন ( ; ):
- কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে সেমিকোলন হয়।
- শব্দ বা পদের পরে সেমিকোলন বসে না।
- সাধারণত বাক্যাংশের পরে বসে।
যেমন:
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে; পৃথিবী সূর্যের চারদিকে।

অন্যদিকে,
- একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা কতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়।
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

.
"১ বলার দ্বিগুণ সময়" থামতে হয় কোন যতিচিহ্নে?
  1. প্রশ্নবোধক
  2. সম্বোধন চিহ্ন
  3. ড্যাস
  4. কোলন ড্যাস
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়
- সেমিকোলনের বিরতিকাল  - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।

• যেসকল যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড':

যেমন:
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- ড্যাস - এক সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
'সেমিকোলন' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ -
  1. এক বলতে যে সময় লাগে
  2. থামার প্রয়োজন নেই
  3. এক সেকেন্ড
  4. এক বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন:
সেমিকোলনের স্থানে কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাড়িঁর চেয়ে কম থামতে হয়। বাক্যের ভেতরে শুধু থামার জন্য কমা-সেমিকোলন ব্যবহার করা হয় না। অর্থ প্রকাশেও কমা ও সেমিকোলন ভূমিকা পালন করে।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
------------------
• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• 'কোলন ড্যাস' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ - ১ সেকেন্ড।

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'সেমিকোলন' চিহ্নের বাংলা পরিভাষা কী?
  1. পূর্ণচ্ছে
  2. কোলন
  3. অর্ধচ্ছেদ
  4. পাদচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 'সেমিকোলন' চিহ্নের বাংলা পরিভাষা কী?

সমাধান:
'সেমিকোলন'- এর বাংলা অর্থ অর্ধচ্ছেদ।

সেমিকোলন:
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাযে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ( ; ) ব্যবহৃত হয়। যেমন - সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা'র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

.
কথা অসমাপ্ত রেখে দেওয়া হচ্ছে বোঝাতে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ত্রিবিন্দু চিহ্ন
  2. হাইফেন চিহ্ন
  3. বিস্ময় চিহ্ন
  4. উদ্ধার চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• কথা অসমাপ্ত রেখে দেওয়া হচ্ছে - বোঝাতে ব্যবহৃত হয় - ত্রিবিন্দু।

ত্রিবিন্দু ব্যবহার করা হয় মোটামুটি দুটি ক্ষেত্রে :
• বর্জনচিহ্ন হিসেবে এর ব্যবহার। কোনো কথা বাদ দেওয়া হয়েছে - বোঝাবার জন্যে ত্রিবিন্দু ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
লেস্কোফ্ একজন যথার্থ লেখক ... ভাষার ওপরে প্রচণ্ড দখল। [এখানে বর্জিত অংশের চিহ্ন এই ত্রিবিন্দু]

• কথা অসমাপ্ত রেখে দেওয়া হচ্ছে - বোঝাতে ত্রিবিন্দু ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- পাগল কি আমিই, নাকি অন্যরা যারা … [এখানে বক্তব্য অসমাপ্ত রেখে দেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণতার চিহ্ন হিসেবে এখানে ত্রিবিন্দু বসেছে।]

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১০.
কোনটি অভ্যন্তর যতি?
  1. বিস্ময়চিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?), 
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!), 
৪. দুই দাঁড়ি (।।)। 

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,), 
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (_), 
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-), 
১১. বিন্দু (.)। 

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('), 
১৩. ত্রিবিন্দু (...), 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."), 
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})), 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)। 
১১.
ণ-ত্ব বিধানের ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. ক) তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর ব্যবহার হয়।
  2. খ) ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়
  3. গ) ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে না।
  4. ঘ) সবগুলো সত্য
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
১২.
অর্ধচ্ছেদ থাকলে কতটুকু থামতে হয়?
  1. 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে
  2. থামার প্রয়োজন হয় না
  3. 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়
  4. এক সেকেন্ড থামতে হয়।
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে:
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়

অন্যদিকে,
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১৩.
"সেমিকোলন" - এর জন্য কতটুকু সময় থামতে হয়?
  1. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  2. 'এক' বলতে যে সময় প্রয়োজন
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
 • ‘সেমিকোলন’:
 ‘সেমিকোলন’ এর বাংলা অর্থ- অর্ধচ্ছেদ।
- এর থামার বা বিরামের সময় হচ্ছে এক বলার দ্বিগুণ সময়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ -
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে --
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে --
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে-- 
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে --
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
বাক্যে হাইফেন যতিচিহ্ন থাকলে বিরতির সময় কত?
  1. এক সেকেন্ড
  2. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  3. থামার প্রয়োজন হয় না
  4. এক বলতে যে সময় লাগে
  5. এক মিনিট
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
বাক্যে কোন যতি চিহ্নের প্রয়োগে থামার প্রয়োজন নেই?
  1. ইলেক চিহ্ন
  2. উদ্ধৃতি চিহ্ন
  3. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  4. বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা
⇒ বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
ইলেক বা লোপ চিহ্ন দিতে হয় -
  1. ক) প্রত্যক্ষ উক্তির জন্য
  2. খ) বিলুপ্ত বর্ণের জন্য
  3. গ) সমাসবদ্ধ পদের জন্য
  4. ঘ) উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে
ব্যাখ্যা
বিলুপ্ত বর্ণের জন্য- ইলেক বা লোপ চিহ্ন দিতে হয়।
 
ইলেক বা লোপ চিহ্ন:
- বাক্যে এক বা একাধিক বর্ণকে বর্জন করা হলে, তা প্রকাশের জন্য বর্জিত স্থানে ইংরেজি ভাষায় অ্যাপস্ট্রফি বলে পরিচিত ( ' ) লোপচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- বাংলায় একে 'উর্ধ্বকমা' বলা হয়।
- আধুনিক- প্রমিত বানানে 'উর্ধ্বকমা' বর্জনীয়।
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন থাকলে - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎমামুদ।
১৭.
শব্দ সংক্ষেপ করার জন্য কোন চিহ্নটি ব্যবহার করা হয় না?
  1. অনুস্বার
  2. বিসর্গ
  3. ডট
  4. কোলন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর- খ) বিসর্গ। 

-----------------
• ব্যাখ্যা:
শব্দ সংক্ষেপ করার সময় সাধারণত ডট (.) বা কোলন (:) চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বিসর্গ (ঃ) কখনও শব্দ সংক্ষেপের জন্য ব্যবহৃত হয় না।

• শব্দ সংক্ষেপ ডট (.)  সবচেয়ে প্রচলিত চিহ্ন। 
উদাহরণ:
ডা. = ডাক্তার। 
প্রা. = প্রাইভেট। 

• কোলন (:) কিছু সংক্ষেপে ব্যবহৃত হয়। 
 উদাহরণ:
বি:দ্র: = বিশেষ দ্রষ্টব্য। 

• উঁয়ো (ঙ)-এর খণ্ডরূপ হলো অনুস্বর (ং)। “ং” (অনুস্বার) কখনো কখনো শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু তার ব্যবহার খুব সীমিত ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দেখা যায়।
 উদাহরণ:
• প্রং = প্রমুখ; 
এটি সবচেয়ে প্রচলিত রূপ। বাংলা লেখালেখিতে (বিশেষত সরকারি চিঠিপত্র, নোট, প্রশ্নপত্র, গবেষণা ইত্যাদিতে) “প্রমুখ” শব্দটি সংক্ষেপে লেখা হয়। যেমন- উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আহমেদ, করিম, রশিদ প্রং। (অর্থাৎ — আহমেদ, করিম, রশিদ প্রমুখ)
 
• সং = সঙ্গে;  “সং” বা “সঙ” — “সহ” বা “সঙ্গে” শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

যেমন- তিনি পরিবার-সং এসেছিলেন। (অর্থাৎ — পরিবার সহ এসেছিলেন)।
 
শব্দ সংক্ষেপের জন্য ডট (.), কোলন (:), এবং মাঝে মাঝে অনুস্বার (ং) ব্যবহার হয়, কিন্তু বিসর্গ (ঃ) কখনও ব্যবহার করা হয় না। বিসর্গ মূলত উচ্চারণ বা ব্যাকরণগত প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয় (যেমন: দুঃখ, নিঃস্ব ইত্যাদি)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৮.
কোলন ড্যাস চিহ্নের বিরতিকাল কত?
  1. কোনোরূপ বিরতির প্রয়োজন নেই
  2. ১ (এক) বলতে যে সময় লাগে
  3. ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ
  4. ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়কাল
ব্যাখ্যা
কোলন ড্যাস (:-)
- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
- কোলন ড্যাস চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ।

যেমন:
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৯.
নিচের কোন চিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড'?
  1. ব্র্যাকেট
  2. লোপ চিহ্ন
  3. হাইফেন
  4. কোলন
ব্যাখ্যা

• নিম্নের উল্লেখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

অন্যদিকে,
• থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০.
বাক্যে যতিচিহ্ন 'দাঁড়ি'- এর বিরতি কাল কত সময়?
  1. ক) ১ সেকেন্ড
  2. খ) ১ বলতে যে সময় লাগে
  3. গ) ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. ঘ) থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
- বাক্যে যতিচিহ্ন 'দাঁড়ি'- এর বিরতি কাল ১ সেকেন্ড

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।



উৎস:
১/ প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩/ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২১.
'উদ্ধরণ চিহ্ন' ব্যবহারে বিরতির সময় কত?
  1. এক উচ্চারণে যে সময় লাগে
  2. এক সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• যতি বা ছেদচিহ্ন:
বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বাক্য-গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তা-ই যতি বা ছেদচিহ্ন।

নিচে বিভিন্ন প্রকার যতিচিহ্নের নাম, আকৃতি এবং তাদের বিরতি কালের পরিমাণ নির্দেশিত হলো:
• কমা (,) ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
• সেমিকোলন (;) ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• দাঁড়ি (পূর্ণচ্ছেদ) (।) এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) এক সেকেন্ড।
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন (!) এক সেকেন্ড।
• কোলন (:) এক সেকেন্ড।
• কোলন ড্যাস (:-) এক সেকেন্ড।
• হাইফেন (-) থামার প্রয়োজন নেই।
• ইলেক বা লোপ চিহ্ন থামার প্রয়োজন নেই।
• উদ্ধরণ চিহ্ন (" ") 'এক' উচ্চারণে যে সময় লাগে।
• ব্র্যাকেট (বন্ধনী-চিহ্ন) '(), [], {}' থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
২২.
মধ্যযুগের কাব্যে পূর্ণ যতি বোঝাতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ত্রিবিন্দু
  2. খ) দুই দাঁড়ি
  3. গ) সেমিকোলন
  4. ঘ) কোলন-ড্যাশ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হল : 
ক, অন্ত্যযতি
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।) 

খ. অভ্যন্তর যতি
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;) 
৭. হাইফেন (-) 
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:) 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি 
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...) 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})) 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)  


দুই দাঁড়ি (।।)
মধ্যযুগের কাব্যে পূর্ণ যতি বোঝাতে দুই দাঁড়ি ব্যবহৃত হত। কবিতা বা গানের স্তবকের শেষেও দুই দাঁড়ির ব্যবহার দেখা যায় ।
মধ্যযুগের কবিতার উদাহরণ :
মহাভারতের কথা অমৃত সমান ।
কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান ॥

গানের উদাহরণ :
তোমার ময়ূরপঙ্খি বোঝাই করি নীল বাদাম উড়াইয়া ।
ভাটিয়ালি গান গাইয়া, অচিন দেশের নাইয়া, কোন দেশে চলেছ বাইয়া ॥
কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাটকের চরিত্র ও সংলাপের সীমানির্দেশেও দুই দাঁড়ির ব্যবহার প্রচলিত আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২৩.
'সেমিকোলন' ব্যবহৃত হয় না -
  1. শব্দ বা পদের পরে
  2. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে
  3. কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে
  4. উপরের সবগুলো কাজে 'সেমিকোলন' ব্যবহৃত হয়
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন (;):
- কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- শব্দ বা পদের পরে সেমিকোলন বসে না। সাধারণত বাক্যাংশের পরে বসে।
যেমন:
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে; পৃথিবী সূর্যের চারদিকে।

সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৪.
কমা-র চেয়ে বেশি কিন্তু দাঁড়ি-র চেয়ে কম বিরতি দেয়ার জন্য কোন যতি-চিহ্নটি ব্যবহার করা হয়?
  1. হাইফেন
  2. সেমিকোলন
  3. ড্যাস
  4. উদ্ধরণ বা উদ্ধৃতি চিহ্ন
ব্যাখ্যা

কমা-র চেয়ে বেশি কিন্তু দাঁড়ি-র চেয়ে কম বিরতি দেয়ার জন্য সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-
আমরা সবাই সবাইকে ভালবাসি; আসলেই কি সবাই ভালবাসি?

যতি চিহ্ন ও সময়কালঃ
কমা - ১ বলতে যে সময় লাগে
দাঁড়ি/ পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড
জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নসূচক চিহ্ন - এক সেকেন্ড
বিস্ময়সূচক বা আশ্চর্যবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড
ড্যাস - এক সেকেন্ড
কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড
সেমি কোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়
উদ্ধরণ বা উদ্ধৃতি চিহ্ন - এক সেকেন্ড
হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, নবম - দশম শ্রেণি।

২৫.
বাড়ী বা রাস্তার নম্বরের পর কোন চিহ্নটি বসে?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন কমা (,) এর ব্যবহার: 
১) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর 'কমা' বসে। 
যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০। 

২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে 'কমা' বসে। 
যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে। 

৩) সম্বোধনের পরে 'কমা' বসে। 
যেমন- রশিদ, এদিকে এসো। 

৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খন্ডবাক্যের পরে 'কমা' বসে।
যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে। 

৫) কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খন্ডবাক্যের শেষে 'কমা' বসে। 
যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ’। 

৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর 'কমা' বসে। 
যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার। 

৭) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে 'কমা' বসে। 
যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে। 

৮) ডিগ্রী পদবি লেখার সময় 'কমা' ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬.
"পাদচ্ছেদ" থাকলে থামার সময় কতটুকু?
  1. দুই সেকেন্ড
  2. ‘এক’ উচ্চারণে যত সময় লাগে
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ -
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

২৭.
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন কতটি?
  1. ক) ১৪
  2. খ) ১৫
  3. গ) ১৬
  4. ঘ) ১৭
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন ১৬টি
সেগুলো হলো : 
ক, অন্ত্যযতি
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।) 

খ. অভ্যন্তর যতি
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;) 
৭. হাইফেন (-) 
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:) 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি 
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...) 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})) 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)  

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ(প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।

• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,
বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্ন ১৩ টি।
২৮.
'অর্থাৎ যা কখনো ঘটে না তাই ঘটলো সেদিন আগুনে দগ্ধ হলো জল' বাক্যটিতে বিরামচিহ্ন বসবে
  1. ক) তিনটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) ছয়টি
ব্যাখ্যা
অর্থাৎ, যা কখনো ঘটে না, তাই ঘটলো সেদিন; আগুনে দগ্ধ হলো জল। 
বাক্যটিতে চারটি বিরাম চিহ্ন বসেছে।
২৯.
'ইলেক বা লোপ চিহ্ন' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ-
  1. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  2. ১ বলতে যে সময় লাগে
  3. ১ সেকেন্ড
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে বিরতিকালের পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩০.
“রবিবার সকালে সূর্য উঠলে পাখিরা গান গাইল বাচ্চারা খেলতে নেমে গেল আর আমরা চায়ের কাপ নিয়ে বারান্দায় বসে গল্প করলাম” বাক্যটিতে সঠিকভাবে কতটি বিরামচিহ্ন বসবে? 
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি 
ব্যাখ্যা

• সঠিকভাবে বিরামচিহ্ন বসালে বাক্যটি হবে:
- রবিবার সকালে সূর্য উঠলে, পাখিরা গান গাইল, বাচ্চারা খেলতে নেমে গেল, আর আমরা চায়ের কাপ নিয়ে বারান্দায় বসে গল্প করলাম।
 এখানে তিনটি কমা ও একটি পূর্ণবিরামচিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে। 
- অর্থাৎ, চারটি বিরামচিহ্ন বসেছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 

৩১.
ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কোলন
  2. ড্যাশ
  3. সেমিকোলন
  4. উদ্ধৃতি
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
লেখার সময়ও বাক্যের মধ্যে বিরতি বুঝিয়ে তা দেখানোর জন্য কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যেগুলোকেই বিরতি চিহ্ন, যতি চিহ্ন, ছেদ চিহ্ন, বিরাম চিহ্ন বা ভাষা চিহ্ন বলে।

সেমিকোলন-চিহ্ন (;):
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন।সেমিকোলনের বিরামের অনুপাত কমার (,) দ্বিগুণ।

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়-
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।
২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- 'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-সস্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।
8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন: আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন- সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না। মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই পাশ করবে।
৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন- মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩২.
বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. বিস্ময়চিহ্ন
  2. সেমিকোলন
  3. কমা
  4. ড্যাশ
ব্যাখ্যা
• ড্যাশ (_):
প্রথমেই ড্যাশ (_) আর হাইফেন (-) চিহ্নের তফাতটা মনে রাখা জরুরি। হাইফেনের চেয়ে ড্যাশ বেশি লম্বা, দুটি হাইফেন পাশাপাশি জোড়া লাগালে ড্যাশ হয়ে যায়।

ড্যাশ চিহ্ন প্রধানত বাক্যের মধ্যে এবং নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়: 
১. কোনো কথার দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বোঝাতে: আমার একমাত্র সম্মল_আপনাদের তরুণদের প্রতি আমার অপরিসীম ভালোবাসা, প্রাণের টান। 

২. বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে:
ক. "বেহাই, আমি তো কিছু বলিতে পারি না। একবার তাহলে বাড়ির মধ্যে_"
খ. বাবা গর্জিয়া উঠিলেন, "বটে রে_"

৩. গল্পে উপন্যাসে প্রসঙ্গের পরিবর্তন বা ব্যাখ্যায়:
ক. শিশির_না, এ নামটা আর ব্যবহার করা চলিল না।
খ. অ্যাঁ_এ হইল কী? কলি কি সত্যই উল্টাইতে বসিল?

৪. নাটক বা গল্প উপন্যাসে সংলাপের আগে: _হ গীত না তর মাথা। _অপরাধ স্বীকার করলে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩.
ক্রম নির্দেশ করতে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. বিন্দু যতিচিহ্ন
  2. বন্ধনী যতিচিহ্ন
  3. ত্রিবিন্দু যতিচিহ্ন
  4. বিকল্প যতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা
• বিন্দু (.) যতিচিহ্ন:
- শব্দসংক্ষেপ ও ক্রম নির্দেশ করতে এই বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- বিন্দু চিহ্নটি ইংরেজি ফুলস্টপ বা পিরিয়ড (.) চিহ্নের সমান।
- সংখ্যা বা বর্ণ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্রমনির্দেশ করা হলে এরপর বিন্দু বসে।

যেমন:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- ভাষার প্রধান উপাদান চারটি: ১. ধ্বনি, ২. শব্দ, ৩. বাক্য ও ৪. অর্থ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩৪.
নিচের কোনটি অন্ত্য-যতিচিহ্ন?
  1. কমা
  2. উদ্ধৃতিচিহ্ন
  3. কোলন-ড্যাশ
  4. বিস্ময়চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে।
ক, অন্ত্যযতি:
১. দাড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

খ. অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (—),
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

গ. অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ(প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
৩৫.
কোন যতি-চিহ্নের বিরতীর সময়কাল ‘১ বলার দ্বিগুণ’?
  1. ক) কমা
  2. খ) সেমিকোলন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:

১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস- এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।=
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্য কিছু না করাই তো পাপ।”
  2. ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
  3. তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান, পেশা ব্যাংকার, আর নেশা সাহিত্যচর্চা।
  4. তার গানের কণ্ঠ দারুণ!
ব্যাখ্যা

⇒ যতিচিহ্নের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে এই বাক্যে: তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান, পেশা ব্যাংকার, আর নেশা সাহিত্যচর্চা।
⇒ যতিচিহ্নের শুদ্ধ প্রয়োগ: তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

• সেমিকোলন (;):
স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের -
বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
- তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

অন্যদিকে,
• কমা (,):

কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ।”

• বিস্ময়চিহ্ন (!):
সাধারণত বিস্ময়, দুঃখ, আনন্দ ইত্যাদি প্রকাশের জন্য বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মানে কী! সে আর চাকরি করবে না।
- তার গানের কণ্ঠ দারুণ!

• কোলন (:):
বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
- সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৩৭.
বাক্যে সম্বোধনের পর কোন বিরাম চিহ্ন বসবে?
  1. দাঁড়ি
  2. ড্যাশ
  3. কোলন
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• বাক্যে সম্বোধনের পর কমা বসে।
যেমন:
- সেতু, পড়তে বসো।
- বিথু, খাবে এসো।
------------------
• কমা (,)
বাক্যে অল্প বিরতি বোঝাতে কমা বসে।

• নানা প্রয়োজনে বাক্যে কমাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:

- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে।
যেমন:
-  সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

- একই ধরনের একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশকে আলাদা করতে কমা বসে।
যেমন:
- শ্রেষ্ঠা ক্লাসে ঢুকল, বই রাখল, তারপর বেরিয়ে গেল।
- আমাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ খুবই আনন্দের দিন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি বোর্ড বই।
৩৮.
তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. হাইফেন
  2. কোলন
  3. কমা
  4. কোলন ড্যাস
ব্যাখ্যা
• কমা:
কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।

কমার ব্যবহারগুলো হলো-
• শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

• উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।
যেমন:
- আমি বললাম, "আমি ভালো আছি।"

• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে 'কমা' বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৯.
নাটক বা গল্প-উপন্যাসের সংলাপের আগে কোন বিরাম-চিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ড্যাশ
  2. খ) হাইফেন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) উদ্ধৃতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা
নাটক বা গল্প উপন্যাসের সংলাপের আগে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হ গীত না তর মাথা।  
- অপরাধ স্বীকার করলে? ইত্যাদি।

আরো কিছু ক্ষেত্রে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়:

• বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে।
• কোন কথার দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বোঝাতে।
• স্থান বা কালগত ব্যবধান নির্দেশ করতে।
• উদ্ধৃতি চিহ্নের পরিবর্তে ড্যাশ-চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
• অভিধানে শব্দ ও তার অর্থের মাঝখানে ড্যাশ বসে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০.
উদ্ধার চিহ্ন কয় প্রকার?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
ব্যাখ্যা
• উদ্ধার চিহ্ন:
- কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।

উদ্ধার চিহ্ন দুই রকম।
যথা-
- একক (' - '),
- দ্বৈত (" - ")।
 
যেমন,
'সিরাজউদ্দৌলা' একটি ঐতিহাসিক নাটক।
শিকক বললেন, "গতকাল তুরস্কে ভয়ানক ভূমিকম্প হয়েছে।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)। 
৪১.
কোন যতি চিহ্নটি হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে বসে?
  1. হাইফেন
  2. বিস্ময়
  3. দাড়ি
  4. কমা
ব্যাখ্যা
- হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে - বিস্ময় চিহ্ন বসে। 

• বিস্ময়চিহ্ন (!):
- অবাক বা বিস্ময়ের ব্যাপার বোঝাতে প্রধানত বাক্যের শেষে বিস্ময়চিহ্ন বসে।
- আবেদন, ভর্তি, হতাশা, আনন্দ ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের ক্ষেত্রেও বিস্ময়চিহ্ন বসে।
- বাক্যের ভেতরে বন্ধনীর মধ্যে, প্রয়োজন হলে বিস্ময়চিহ্ন বসানো যায়।

উদাহরণ:
- ইশ! যতি তুমি থাকতে।
- হঠাৎ বাড়িতে শোরগোল উঠল- চোর! চোর! চোর!

• অন্যদিকে: 
• দাঁড়ি (।):
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 

যেমন:
- আজ আমার সাথে দেখা করো।
- ইমরান পাভেল আজ ঢাকায় যাবে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

• হাইফেন (-):
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন  ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

• কমা (,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।

যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ ৷”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২.
কোনটি অভ্যন্তর যতিচিহ্ন?
  1. বিস্ময়চিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. সেমিকোলন
  4. প্রশ্নচিহ্ন
ব্যাখ্যা
• অভ্যন্তর যতিচিহ্ন- সেমিকোলন (;)।

• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (—),
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
৪৩.
একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. কোলন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়
- সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে - 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

​​যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
- তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৪৪.
যতি ও ছেদ চিহ্ন কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনি তত্ত্ব
  2. খ) শব্দ তত্ত্ব
  3. গ) রূপ তত্ত্ব
  4. ঘ) বাক্য তত্ত্ব
  5. ঙ) অর্থ তত্ত্ব
ব্যাখ্যা
যতি ও ছেদ চিহ্ন বাক্য তত্ত্বে আলোচিত হয়। এছাড়া পদক্রম, বাক্যের গঠনপ্রণালি, বাগধারা বাক্য তত্ত্বে আলোচিত হয়। অর্থ তত্ত্বে বিপরীতার্থক শব্দ, শব্দ ও বাক্যের অর্থবিচার আলোচিত হয়। ধ্বনি, সন্ধি ও ণত্ব-ষত্ব বিধান ধ্বনি তত্ত্বে আলোচিত হয়। রূপ তত্ত্বে পুরুষ, বচন, প্রত্যয়, সমাস প্রভৃতি আলোচিত হয়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৫.
বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন যতিচিহ্ন বসাতে হয়?
  1. ড্যাস
  2. কমা
  3. কোলন
  4. বিন্দু
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• ‘কমা’ যতিচিহ্ন:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

• নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে।
যেমন:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, এমএ. পিএইচডি।

• অন্যথাসূচক শব্দ যদি বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাহলে ওই শব্দের পূর্ববর্তী শব্দের শেষে কমা বসবে।
যেমন: 
- কাল অফিসে যেও, নইলে তোমার চাকরি থাকবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৬.
গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. বিন্দু
  2. সেমিকোলন
  3. কোলন
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৭.
ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কমা
  2. কোলন 
  3. হাইফেন 
  4. সেমিকোলন 
ব্যাখ্যা

• কমা ( , ):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- "কমা" চিহ্নের বিরতিকাল ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- কমা- এর অপর নাম হচ্ছে পাদচ্ছেদ।

কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
৫) কোনো বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ তুমি বললে, ‘আমি কালকে আবার আসবো।’
৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
৭) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০।
৮) ডিগ্রি পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৮.
উদাহরণ, তালিকা, ব্যাখ্যা ও বিশদ মন্তব্যের আগে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. সেমিকোলন
  3. কোলন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
কোলন (:) যতিচিহ্নের ব্যবহার-
১. বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম পাশ করবই।
২. কোনো বিবৃতিকে সম্পূর্ণ করতে দৃষ্টান্ত দিতে হলে কোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- পদ আট প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, যোজক, অনুসর্গ ও আবেগ শব্দ।
৩. উদাহরণ, তালিকা, ব্যাখ্যা, বিশদ মন্তব্যের আগে কোলন বসে। যেমন- বাড়িতে যেসব জিনিস নিতে হবে: আম, চাল, ডাল, তেল ও দুই গজ সাদা সুতি কাপড়। 
8. নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে-রাজা: কে কোথায় আছ, উজির-নাজির সবাই এসো হাজির হও।
৫. কটা বেজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে কোলন বসে। যেমন- ৭:২০; ১১:৪৫; ১২:০৬।
৬. ধারাবাহিক উপস্থাপনের বেলায়। যেমন- ছবিতে বাম থেকে সফিক, শুভ, মোস্তফা, মলি ও সালমা।
৭. চিঠিপত্র ও বিভিন্ন রকমের ফর্মে ভুক্তি, উপভুক্তির পরে কোলন বসে। যেমন- নাম, পিতার নাম: বিষয় প্রসজ্ঞা, ঠিকানা, তারিখ:।
৮. গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ফেলের হার ৪:৮।
৯. প্রশ্ন রচনায় কোলন বসে। যেমন- টীকা লেখ:। ব্যাখ্যা লেখ:।
১০. ও, রা, এবং-এসব অব্যয় ব্যবহার না করে কোলন ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন- বাংলা নাটক: উৎস ও ধারা।
১১. কোনো উদ্ধৃতির আগে কোলন বসে। যেমন- কবি বলেছেন: 'বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৯.
পূর্ণ যতিচিহ্ন কোনটি?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহারে বাক্যের সমাপ্তি ঘটে। সুতরাং 'দাঁড়ি' একটি পূর্ণ যতিচিহ্ন। 

• যতিচিহ্ন:

মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫০.
নিচের বাক্যগুলোর মধ্যে কোনটি কমার সঠিক ব্যবহার নির্দেশ করে?
  1. সুজন, দেখ তো, কে এসেছে।
  2. সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
  3. সুজন দেখ তো, কে এসেছে।
  4. সুজন দেখ তো কে এসেছে।
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ ৷

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫১.
কোন যতিচিহ্ন সামান্য বিরতি নির্দেশ করে?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• কমা (,):
- কমা  সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন -
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫২.
সংখ্যা বা বর্ণ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্রমনির্দেশ করা হলে এরপর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. দাঁড়ি
  4. বিন্দু
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বিন্দু (.) যতিচিহ্ন:
শব্দসংক্ষেপ ও ক্রম নির্দেশ করতে এই বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- বিন্দু চিহ্নটি ইংরেজি ফুলস্টপ বা পিরিয়ড (.) চিহ্নের সমান।

- সংখ্যা বা বর্ণ দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্রমনির্দেশ করা হলে এরপর বিন্দু বসে।
যেমন:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- ভাষার প্রধান উপাদান চারটি: ১. ধ্বনি, ২. শব্দ, ৩. বাক্য ও ৪. অর্থ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৩.
বাক্যে কোলন ড্যাশ ( :- ) থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. ১ সেকেন্ড
  2. 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্নের বিরতিকাল পরিমাণ:
- দাঁড়ি চিহ্নের বিরামের কাল - ১ সেকেন্ড।
- বিস্ময়চিহ্ন ( ! ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ( : ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাশ ( :- ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কমা বা পাদচ্ছেদ এবং উদ্ধরণ চিহ্ন থাকলে - 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
- সেমিকোলন ( ; ) - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- হাইফেন ( - ) বিরামের সময় - থামার প্রয়োজন নেই। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৪.
নিচের কোন বিরামচিহ্নটি বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয় না?
  1. দাঁড়ি ( । )
  2. জিজ্ঞাসাচিহ্ন ( ? )
  3. বিস্ময়চিহ্ন ( ! )
  4. কোলন ( : )
ব্যাখ্যা

কোলন ( : ) বিরামচিহ্নটি বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয় না।

বিরামচিহ্ন:

- লিখিত বাক্যে অর্থ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি ব্যক্ত করার জন্য যে চিহ্নসমূহ ব্যবহার করা হয় তাকে বিরামচিহ্ন বলে।
- একে যতি বা ছেদ-চিহ্নও বলা হয়ে থাকে।
- বিরামচিহ্ন ব্যবহারের ফলে বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট হয়।

• বাক্যের শেষে ব্যবহৃত বিরামচিহ্নগুলো হচ্ছে:
- দাঁড়ি (। ),
- জিজ্ঞাসাচিহ্ন ( ? ),
- বিস্ময়চিহ্ন ( ! )।

অন্যদিকে,
- একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়। যেমন: সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি বোর্ড বই।

৫৫.
একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখতে মাঝে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কমা
  2. কোলন
  3. হাইফেন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন:
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাযে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ( ; ) ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৬.
কোন যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'?
  1. ব্র্যাকেট
  2. লোপ চিহ্ন
  3. কোলন ড্যাস
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
যে যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'-
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

• থামার প্রয়োজন নেই-
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭.
সময়কে সংখ্যায় নির্দেশ করতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়? 
  1. সেমিকোলন 
  2. ত্রিবিন্দু 
  3. হাইফেন 
  4. কোলন
ব্যাখ্যা

কোলন (:) এর ব্যবহার:
- একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে আর একটি বাক্যের অবতারণা করতে গেলে কোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন: সভায় সাব্যস্ত হলো: এক মাস পরে নতুন সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

- কোনো বিবৃতিকে সম্পূর্ণ করতে দৃষ্টান্ত দিতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়। যেমন: পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয়, ক্রিয়া।

- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে কোলন বসে। যেমন- সিরাজ: আমার দুর্ভাগ্য যে আপনাকে আমার অপমান করতে হয়েছে।

- আবেদন পত্রে ভুক্তি, উপভুক্তির পরে কোলন বসে। যেমন- নাম: পিতার নাম: ঠিকানা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বাক্ষর: তারিখ:।
- সময়কে সংখ্যায় নির্দেশ করতে: ১২:৩০, ২:১৫।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮.
প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. কমা চিহ্ন
  2. বিস্ময় চিহ্ন
  3. দাঁড়ি চিহ্ন
  4. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন নয় - কমা।

⇒ বিরাম চিহ্ন:

মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে বসে ৩টি যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্ন। এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে। এগুলো হলো:
- দাঁড়ি চিহ্ন,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং
- বিস্ময় চিহ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৯.
'ব্র্যাকেট' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ কোনটি?
  1. ১ বলতে যে সময় লাগে
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• 'ব্র্যাকেট' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ - থামার প্রয়োজন নেই

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬০.
নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কোলন চিহ্ন 
  2. উদ্ধৃতি চিহ্ন 
  3. বিকল্প চিহ্ন 
  4. হাইফেন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• 'কোলন' যতিচিহ্ন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
• বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
• কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭:২০।
• নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
• গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬১.
সম্বোধন পদের পরে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. ড্যাশ
  2. হাইফেন
  3. বিন্দু
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• 'কমা' যতিচিহ্ন:
কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।

কমা যতিচিহ্নের ব্যবহার-
• শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

• উদ্ধৃতিচিহ্নের আগে কমা বসে।
যেমন:
- আমি বললাম, "আমি ভালো আছি।”

• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে 'কমা' বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬২.
বাংলা ভাষায় যতিচিহ্ন কয়টি?
  1. ৯টি
  2. ১০টি
  3. ১১টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,
- বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্ন ১৩ টি।  

⇒ সেগুলো হলো:
- দাঁড়ি (।),
- কমা (,),
- সেমিকোলন (i),
- প্রশ্নচিহ্ন (?),
- বিস্ময় চিহ্ন (!),
- হাইফেন (-),
- ড্যাশ (—),
- কোলন (:),
- বিন্দু (.),
- ত্রিবিন্দু (...),
- উদ্ধারচিহ্ন ('- -"),
- বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]),
- বিকল্পচিহ্ন (/)।

তবে, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)- এ ত্রিবিন্দু (...) কে যতিচিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
- তাই এতে যতিচিহ্ন ১২ টি উল্লেখ আছে।

⇒ কিন্তু বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হল: 

ক, অন্ত্যযতি, 
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।) 

খ. অভ্যন্তর যতি, 
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;) 
৭. হাইফেন (-) 
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:) 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি, 
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...) 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})) 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

[উল্লিখিত অপশনে ১৬, ১৩ কোনটিই নেই বিধায় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে ১২টি উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হলো যদিও বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে  ১৬টি অধিক গ্রহণযোগ্য  এবং রিয়েল চাকরির পরীক্ষায় অপশনে ১৬টি থাকলে এটিই  উত্তর করতে হবে ]। 
৬৩.
যতিচিহ্নের প্রচলন করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্নের প্রচলন:
- বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রচলন করেন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- বাংলা ভাষায় যতি চিহ্ন প্রচলন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক ও বলা হয়।
- বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থেই তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য বা কবিতা কোথাও যতিচিহ্ন ব্যবহার হতো না।
- শুধু পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়িজ্ঞাপক চিহ্নটি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪.
সেমিকোলন চিহ্ন কোনটি?
  1. (;)
  2. (:)
  3. (;-)
  4. (:-)
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো:
অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (1),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (-),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
৬৫.
নিচের কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. ড্যাস
  4. দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে যতিচিহ্ন বোঝায়।
- যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্ন ২ প্রকার:
 - প্রান্তিক বিরামচিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি।
 - বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৬.
বাক্যে ড্যাস থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. ১ বলতে যে সময় লাগে
  2. এক সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• ড্যাস থাকলে - এক সেকেন্ড থামতে হয়।

♦ বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ -

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭.
'সেমিকোলন' এর অপর নাম কী?
  1. অর্ধচ্ছেদ
  2. পাদচ্ছেদ
  3. পূর্ণচ্ছেদ
  4. দৃষ্টান্তচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• 'সেমিকোলন' এর অপর নাম - অর্ধচ্ছেদ

সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
- তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

অন্যদিকে,
'কমা' এর বাংলা অর্থ- পাদচ্ছেদ।
'দাড়ি' এর অপর নাম - পূর্ণচ্ছেদ।
'কোলন' এর অপর নাম - দৃষ্টান্তচ্ছেদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৮.
বাক্যে সেমিকোলন থাকলে কতক্ষন থামতে হয় ?
  1.  ১ বলতে যে সময় লাগে
  2.  এক সেকেন্ড
  3.  ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা

• সেমিকোলন (;) :
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
• সেমিকোলন এর সময়কাল এক বলার দ্বিগুন সময়।
যেমন-
• সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
• কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
• তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৬৯.
যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. বাক্যকে অলংকৃত করার জন্য
  2. বাক্যের সৌন্দর্যের জন্য
  3. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য
  4. বাক্য সংকোচনের জন্য
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের শেষে কিংবা বাক্যের আবেগ (আনন্দ, বেদনা, দুঃখ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশের উদ্দেশে বাক্যগঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয়।
- লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন।

• বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য,
- বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে,
- বাক্য গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখাবার জন্য,
- যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই যতি বা ছেদচিহ্ন বা বিরাম- চিহ্ন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭০.
নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. বিস্ময়
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নবোধক
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।

এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে-
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন-সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১.
অভ্যন্তর যতি নয় কোনটি?
  1. কোলন-ড্যাশ
  2. সেমিকোলন
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।), 
২. প্রশ্নচিহ্ন (?), 
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!), 
৪. দুই দাঁড়ি (।।)। 

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,), 
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_), 
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)। 

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('), 
১৩. ত্রিবিন্দু (...), 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/"..."), 
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})), 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
৭২.
বাংলা ভাষার ব্যবহৃত "/" চিহ্নটিকে কী চিহ্ন বলে?
  1. ক) বিকল্প
  2. খ) দাঁড়ি
  3. গ) উদ্ধৃতিচিহ্ন
  4. ঘ) ঊর্ধ্বকমা
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে ব্যবহূত বিরামচিহ্নগুলো হচ্ছে:
- কম (,),
- সেমিকোলন (;),
- কোলন (:),
- হাইফেন (-),
- ড্যাস (—),
- ঊর্ধ্বকমা (’),
- উদ্ধৃতিচিহ্ন (“ ”),
- বিকল্প চিহ্ন (/)।

উৎস: প্রথম আলো
৭৩.
প্রান্তিক যতিচিহ্ন কোনটি?
  1. সেমিকোলন
  2. ড্যাশ
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. কমা
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• যতিচিহ্নকে দুভাগে ফেলা যায়। যথা:
১. প্রান্তিক অর্থাৎ বাক্য যেখানে শেষ হয়। যেমন: দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন।

২. বাক্যান্তর্গত অর্থাৎ যেখানে বাক্য শেষ হয় না। যেমন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৪.
প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. দাঁড়ি
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. সেমিকোলন
  4. প্রশ্নচিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় - সেমিকোলন।

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• যতিচিহ্নকে দুভাগে ফেলা যায়।
যথা:
১. প্রান্তিক অর্থাৎ বাক্য যেখানে শেষ হয়।
যেমন: দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন।

২. বাক্যান্তর্গত অর্থাৎ যেখানে বাক্য শেষ হয় না।
যেমন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৫.
'পূর্ণচ্ছেদ' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ কোনটি?
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  3. ১ সেকেন্ড
  4. ১ বলতে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ণচ্ছেদ' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ - ১ সেকেন্ড

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৬.
তারিখ লিখতে কোন যতি চিহ্নের ব্যবহার হয়?
  1. ক) সেমিকোলন
  2. খ) কমা
  3. গ) দাঁড়ি
  4. ঘ) কোলন
ব্যাখ্যা
তারিখ লিখতে- 'কমা' ব্যবহার হয়। 
যেমন: ২রা চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ। 

• অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়।
যথা:
- নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে।
যেমন: ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এমএ. পিএইচডি।
- এক জাতীয় একাধিক বাক্য পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে তাদের আলাদা করতে।
- একই পদের বারবার ব্যবহারের মাঝে কমা বসে।
- সম্বোধনের পর কমা বসে।
- তারিখ লিখতে কমা বসে ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৭.
বাক্যে সামান্য বিরতি নির্দেশ করে-
  1. কমা
  2. দাঁড়ি
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
কমা (,) বাংলা ভাষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ যতিচিহ্ন যা বাক্যে সামান্য বিরতি নির্দেশ করে এবং বক্তব্যকে স্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত করতে সাহায্য করে। এটি পূর্ণযতিচিহ্ন নয়, তাই কমা দিয়ে বাক্য শেষ হয় না। নিচে কমার ব্যবহারের প্রধান ক্ষেত্রগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:

কমার ব্যবহার:
• শব্দ, বাক্যাংশ বা অধীন বাক্য পৃথক করা: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ, বাক্যাংশ বা অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশের ছয়টি ঋতু।

• সম্বোধন পদের পরে: কাউকে সম্বোধন করার সময় নাম বা সম্বোধন পদের পর কমা বসে।
উদাহরণ: সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

• বাক্যের মধ্যে ব্যাখ্যা বা অতিরিক্ত তথ্য আলাদা করা: বাক্যে কোনো অতিরিক্ত তথ্য বা ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

• উদ্ধৃতি বা সরাসরি কথনের আগে: কোনো উদ্ধৃতি বা সরাসরি কথন শুরুর আগে কমা বসে।
উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ।"

• বাক্যে স্পষ্টতা আনতে: বাক্যের গঠন জটিল হলে পড়ার সুবিধার্থে বা অর্থ স্পষ্ট করতে কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।

অন্যদিকে,
• দাঁড়ি, বিস্ময়চিহ্নের মাধ্যমে বাক্যের সমাপ্তি ঘটে। সুতরাং এগুলোপূর্ণ যতিচিহ্ন হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
• বাক্যাংশ বা বাক্যের অংশকে সংযুক্ত করতে এবং নির্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮.
শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহার এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) কমা
  2. খ) বিন্দু
  3. গ) কোলোন
  4. ঘ) ড্যাশ
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন
বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের শেষে কিংবা বাক্যের আবেগ (আনন্দ, বেদনা, দুঃখ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশের উদ্দেশে বাক্যগঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন।

বিন্দু
শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিন্দু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- তিনি পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেছেন।
- রাজু এবার এস.এস.সি পাস করেছে।

উৎস বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
৭৯.
সেমিকোলন চিহ্নে কত সময়ে থামতে হয়?
  1. কমা অপেক্ষা বেশি, দাঁড়ির চেয়ে কম বিরতি
  2. দাঁড়ির চেয়ে বেশি
  3. কমার চেয়ে কম
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে। একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে সেমিকোলন হয়। শব্দ বা পদের পরে সেমিকোলন বসে না। সাধারণত বাক্যাংশের পরে বসে।

যেমন:
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে; পৃথিবী সূর্যের চারদিকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮০.
দুটি পদের সংযোগস্থলে কী বসে?
  1. ক) ড্যাশ
  2. খ) হাইফেন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) কোলন ড্যাশ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- 
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব। 
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮১.
অন্ত্য যতিচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. বিস্ময়চিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• অন্ত্য যতিচিহ্ন নয়- সেমিকোলন। এটি অভ্যন্তর যতিচিহ্ন।

• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।

৮২.
নিচের কোন বিরামচিহ্নকে পদ সংযোগ চিহ্ন বলে?
  1. সেমিকোলন
  2. ড্যাস
  3. কোলন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
হাইফেন:
- হাইফেন হচ্ছে শব্দ বা পদ সংযোগ চিহ্ন।
- হাইফেন সব সময় বসে দুই বা ততোধিক শব্দের মধ্যে।
- হাইফেন দ্বারা সংযুক্ত শব্দ পড়ার ক্ষেত্রে থামার বা বিরামের কোন প্রয়োজন নেই।
যেমন-
সোনা-রূপা-মণি-মুক্তা কোন কিছুতেই আমার লোভ নেই।
[এই বাক্যে সোনা, রূপা, মণি, মুক্তা পড়ার সময় বিরতির কোন প্রয়োজন নেই]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৩.
নিচের কোনটি কোলন ড্যাস যতিচিহ্ন?
  1. (;-)
  2. (:-)
  3. (;_)
  4. (-:)
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কোলন ড্যাস (:-):

- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
- কোলন ড্যাস চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) সেকেন্ড কাল পরিমাণ।
যেমন:
পদ পাঁচ প্রকার:- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮৪.
কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. কোলন
  3. দাঁড়ি
  4. প্রশ্ন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন নয় - কোলন।

⇒ বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

- বাক্যের শেষে বসে ৪টি যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন।
- এগুলো হলো:
১. দাঁড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।
- এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৫.
বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১টি
  2. ১৩টি
  3. ১৪টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,

• বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্ন ১৩ টি। সেগুলো হলো:

- দাঁড়ি (।),
- কমা (,),
- সেমিকোলন (i),
- প্রশ্নচিহ্ন (?),
- বিস্ময় চিহ্ন (!),
- হাইফেন (-),
- ড্যাশ (—),
- কোলন (:),
- বিন্দু (.),
- ত্রিবিন্দু (...),
- উদ্ধারচিহ্ন ('- -"),
- বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]),
- বিকল্পচিহ্ন (/)।

তবে, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)- এ ত্রিবিন্দু (...) কে যতিচিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
- তাই এতে যতিচিহ্ন ১২ টি উল্লেখ আছে।

• কিন্তু, বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:

ক, অন্ত্যযতি,
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।)

খ. অভ্যন্তর যতি,
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;)
৭. হাইফেন (-)
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:)
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি,
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...)
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]}))
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।

[উল্লিখিত বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে ১৬টি অধিক গ্রহণযোগ্য এবং রিয়েল চাকরির পরীক্ষায় অপশনে ১৬টি থাকলে এটিই উত্তর করতে হবে ]।
৮৬.
বাক্যে অর্ধচ্ছেদ যতিচিহ্ন থাকলে বিরতির সময়কাল কত?
  1. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলতে যে সময় লাগে
  4. থামার প্রয়োজন হয় না
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭.
"কমা" চিহ্নের বিরতিকাল কত?
  1. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক বলতে যে সময় প্রয়োজন
  3. এক সেকেন্ড
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
কমা (,)
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- "কমা" চিহ্নের বিরতিকাল - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।

যেমন:
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৮৮.
যতিচিহ্নের অপর নাম কী?
  1. ক) বিস্ময়চিহ্ন
  2. খ) পূর্ণচ্ছেদ
  3. গ) বিরতিচিহ্ন
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্ন বলা হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি  
৮৯.
'একক উদ্ধৃতি চিহ্ন' ব্যবহারে বিরতি কাল কত?
  1. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক উচ্চরণে যে সময় লাগে
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. এক সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
• কমা- ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
• সেমিকোলন- ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ- এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
• কোলন- এক সেকেন্ড।
• ড্যাস- এক সেকেন্ড।
• কোলন- ড্যাস এক সেকেন্ড।
• হাইফেন- থামার প্রয়োজন নেই।
• ইলেক বা লোপ চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
একক উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) থামার প্রয়োজন নেই।
• ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯০.
'লোপচিহ্ন' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ-
  1. 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়
  2. থামার প্রয়োজন হয় না
  3. 'এক' বলতে যে সময় লাগে
  4. 'এক' বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯১.
সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. উদ্ধৃতিচিহ্ন
  2. প্রশ্নচিহ্ন
  3. ড্যাশচিহ্ন
  4. বিস্ময়চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবোধক যতিচিহ্ন (?): 
• বাক্যের মধ্যে সোজাসুজি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
-তোমার নাম কী?
- তুমি সেখানে যাবে?

সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে।
যেমন:
- এটা তোমার বই?
- ঠিক তো?
- তিনি একা আসেননি, সঙ্গে তাঁর স্ত্রী (?) এসেছিলেন। [বাক্যটিতে অনিশ্চয়তার ভাব। স্ত্রী না হয়ে আত্মীয়া/বান্ধবীও হতে পারেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯২.
বাংলা ভাষায় যতি চিহ্নের প্রচলন করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় যতি চিহ্নের প্রচলন করেন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- বাংলা ভাষায় যতি চিহ্ন প্রচলন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক ও বলা হয়।
- বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থেই তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য বা কবিতা কোথাও যতিচিহ্ন ব্যবহার হতো না।
- শুধু পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়িজ্ঞাপক চিহ্নটি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ক) মা বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
  2. খ) সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
  3. গ) কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।
  4. ঘ) গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন  ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

অন্যদিকে,
• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ"।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৪.
বাক্যে ব্যবহৃত কোন যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে 'এক সেকেন্ড’ বিরতির প্রয়োজন হয়?
  1. কমা
  2. সেমিকোলন
  3. হাইফেন
  4. ড্যাস
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৫.
বাক্যে ব্যবহৃত ইলেক চিহ্নের ক্ষেত্রে থামার সময়কাল-
  1. এক সেকেন্ড
  2. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  3. থামার প্রয়োজন নেই
  4. এক বলতে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে-
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে-
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে-
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে-
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৬.
কোন বিরামচিহ্নের বিরতিকাল 'এক বলতে যে সময় লাগে'?
  1. ড্যাশ
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. হাইফেন
  4. উদ্ধৃতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা
• উদ্ধৃতিচিহ্নের বিরতিকাল - এক বলতে যে সময় লাগে।

উদ্ধরণ চিহ্ন / উদ্ধৃতিচিহ্ন (" "):
- বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিকে এই চিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।
যথা-
- শিক্ষক বললেন, "গতকাল তুরস্কে ভয়ানক ভূমিকম্প হয়েছে।”

অন্যদিকে,
→ হাইফেন চিহ্নের বিরতিকাল - কোনোরূপ বিরতির প্রয়োজন নেই।
→ বিস্ময়চিহ্নের বিরতিকাল - এক সেকেন্ড কাল পরিমাণ।
→ ড্যাশ চিহ্নের বিরতিকাল - এক সেকেন্ড কাল পরিমাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯৭.
কোন চিহ্ন দৃষ্টান্ত এবং ব্যাখ্যার শুরুতে ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন ( ; )
  2. কোলন ( : )
  3. কমা ( , )
  4. দাঁড়ি ( । )
ব্যাখ্যা

কোলন বা দৃষ্টান্তচ্ছেদ (:) - দৃষ্টান্ত বা ব্যাখ্যা শুরুতে ব্যবহৃত হয়।

• কোলন (:) 
- কোলন (:) হলো একটি বিরামচিহ্ন, যা কোনো তালিকা, ব্যাখ্যা, স্পষ্টীকরণ, উদ্ধৃতি বা অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপনের আগে ব্যবহৃত হয়
- এটি মূল বাক্যকে পরবর্তী অংশের সঙ্গে যুক্ত করে আরও পরিষ্কারভাবে অর্থ প্রকাশ করতে সাহায্য করে।
- কোলনের ব্যবহার:
• তালিকা দেখাতে: কোনো বিষয়ের উপাদান বা উদাহরণ সাজিয়ে উপস্থাপন করতে কোলন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: “শ্রেণিতে পড়ানো হয়: বাংলা, ইংরেজি, গণিত।”
• স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা দিতে: একটি সম্পূর্ণ ভাবের পর আরও ব্যাখ্যা বা উদ্দেশ্য প্রকাশ করতে কোলন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: “তার একটাই লক্ষ্য: পরীক্ষায় ভালো ফল করা।”
• অপূর্ণ বা নির্দেশমূলক বাক্যের পরে সিদ্ধান্ত জানাতে কোলন ব্যবহৃত হয়জত
উদাহরণ: “সভায় সিদ্ধান্ত হলো : এক মাস পরে নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা হবে।”

অন্যদিকে,
• সেমিকোলন ( ; ) হলো অর্ধচ্ছেদ, যা দুটি স্বাধীন বাক্য সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
• কমা বা পাদচ্ছেদ ( , )  ব্যবহার করা হয়:
- বাক্যের অংশ ভাঙতে;
- তালিকা বা সমতুল্য পদ আলাদা করতে;
- উদ্বোধক বা সম্বোধন চিহ্নিত করতে।
• দাঁড়ি( । ) বা পূর্ণচ্ছেদ - বাক্য শেষ করতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯৮.
হাইফেন কোথায় বসে?
  1. দুই বাক্যের সংযোগ দেখাতে।
  2. দুই শব্দের সংযোগ দেখাতে।
  3. বাক্যে উদ্ধৃতি প্রয়োগ করতে।
  4. উক্তি বা প্রত্যুক্তি বোঝাতে।
ব্যাখ্যা
• দুই শব্দের সংযোগ দেখাতে- হাইফেন বসে। 
--------------- 
• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-):
- সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেনের ব্যবহার হয়।
- একাদিক শব্দ বা পদ সংযোগ দেবার জন্য হাইফেন ব্যবহার করা হয়। 
যেমন -
→ এ আমাদের শ্রদ্ধা-অভিনন্দন, আমাদের প্রীতি-উপহার।

অন্যদিকে,
• কমা ব্যবহৃত হয় - শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে।
• ড্যাস ব্যবহৃত হয় - যৌগিক ও মিশ্র বাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে।
• বিন্দু ব্যবহৃত হয় - ক্রম নির্দেশের কাজে।
• একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে সেমিকোলন হয়। 
• উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাশ চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়। 
• প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা উদ্ধরণ চিহ্ন (‘ ’/“ ”)-এর মধ্যে থাকে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।
৯৯.
জিজ্ঞাসা চিহ্নের যথাযথ ব্যবহার হয়নি কোন বাক্যে?
  1. ঢাকা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  2. তাদেরকে তিনি ভদ্র (?) বলেছেন।
  3. রেজাউল (৪২?) নামের একজন আহত হয়েছেন।
  4. তোমার নাম বলো?
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) তোমার নাম বলো?

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে জিজ্ঞাসা চিহ্ন (?) সাধারণত প্রশ্নবোধক বাক্যে বা কোনো কিছু সম্পর্কে সন্দেহ, অনিশ্চয়তা বা প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বাক্যের শেষে বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বাক্যের মাঝে (বিশেষত সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা প্রকাশের জন্য) ব্যবহৃত হতে পারে। তবে, জিজ্ঞাসা চিহ্নের ব্যবহার অবশ্যই বাক্যের প্রকৃতি ও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

এখানে প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ করা হলো:

ক) ঢাকা কোন নদীর তীরে অবস্থিত?: এটি একটি প্রশ্নবোধক বাক্য, যেখানে জিজ্ঞাসা চিহ্ন বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি শুদ্ধ এবং যথাযথ, কারণ বাক্যটি সরাসরি একটি প্রশ্ন।

খ) তাদেরকে তিনি ভদ্র (?) বলেছেন।: এই বাক্যে জিজ্ঞাসা চিহ্নের ব্যবহার যথাযথ। কারণ বয়সের বিষয়ে সন্দেহ বোঝাচ্ছে।

গ) রেজাউল (৪২?) নামের একজন আহত হয়েছেন।: এই বাক্যে জিজ্ঞাসা চিহ্ন ব্যবহৃত হয়েছে ‘৪২’-এর পর, যা রেজাউলের বয়স সম্পর্কে সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করছে। এটি বাংলায় গ্রহণযোগ্য, কারণ বাক্যের মাঝে জিজ্ঞাসা চিহ্ন ব্যবহার করে কোনো তথ্যের অনিশ্চয়তা বোঝানো যায়। উদাহরণ: “সে ২০২৩ (?) সালে এসেছিল।” তাই এটি যথাযথ।

ঘ) তোমার নাম বলো? → ভুল, কারণ এটি আসলে আদেশমূলক বাক্য, প্রশ্নবোধক নয়। সঠিক রূপ হবে – "তোমার নাম বলো।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১০০.
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলো হলো -
  1. যতিচিহ্ন
  2. বিরামচিহ্ন
  3. বিরতিচিহ্ন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
-------------------- 
• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে বসে তাদের প্রান্তিক বিরামচিহ্ন বলে।
- দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ছাড়া অন্যান্য স্থানে বসে তাদের বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন বলা হয়। 
যেমন- কমা, কোলন, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি। 

• বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলো হলো:
দাঁড়ি (।), কমা (,), সেমিকোলন (i), প্রশ্নচিহ্ন (?), বিস্ময়চিহ্ন (!), হাইফেন (-), ড্যাশ (−), কোলন (:), বিন্দু (.), ত্রিবিন্দু (...), উদ্ধারচিহ্ন (' - ', ""), বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]), বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।