বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৭০১৮০০ / ১,৩২৩

৭০১.
সুশাসন - ধারনাটি জনপ্রিয় করে কোন সংস্থা?
  1. ক) IMF
  2. খ) জাতিসংঘ
  3. গ) UNDB
  4. ঘ) WB
সঠিক উত্তর:
ঘ) WB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) WB
ব্যাখ্যা

১৯৮০ এর দশক থেকেই বিশ্বব্যাংক, UNDP - সুশাসন এর বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক চিন্তাভাবনা শুরু করে। ১৯৮৯ সালে প্রথম বিশ্বব্যাংক প্রথম সুশাসন বিষয়ের ধারনাটি সামনে নিয়ে আসে এবং এই সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী আগ্রহ সৃষ্টি হতে থাকে। বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে “Governance and Development” শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। এ চারটি স্তম্ভ হল−
১.দায়িত্বশীলতা,
২.স্বচ্ছতা
৩.আইনী কাঠামো ও
৪.অংশগ্রহণ।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম) বোর্ড বই।

৭০২.
UNDP-এর দৃষ্টিতে সুশাসন মূলত কী?
  1. রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক  কর্তৃত্বের চর্চা 
  2. রাজনৈতিক আধিপত্য
  3. জনগণের চাহিদা
  4. জনগণের বৈধ অধিকার
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক  কর্তৃত্বের চর্চা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক  কর্তৃত্বের চর্চা 
ব্যাখ্যা

• UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট।

৭০৩.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance' ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ ৪টি।

সুশাসনের সংজ্ঞা:
- ম্যাক করণী বলেছেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭০৪.
নীতিবিদ্যা বলতে মানুষের কোন ক্রিয়াকে বুঝানো হয়?
  1. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
  2. অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
  3. ক ও খ
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৫.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ?
  1. ধর্ম
  2. গনতন্ত্র 
  3. মূল্যবোধ
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
গনতন্ত্র 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গনতন্ত্র 
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

• সুশাসনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো-
- গনতন্ত্র,
- অংশগ্রহন প্রক্রিয়া,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- আইনের শাসন,
- বৈধতা,
- স্বচ্ছতা, 
- দায়িত্বশীলতা, 
- নৈতিক মূল্যবোধ। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭০৬.
লালফিতার দৌরাত্ম্য কোথায় দেখা যায়?
  1. ক) রাজতন্ত্র
  2. খ) গণতন্ত্র
  3. গ) আমলাতন্ত্র
  4. ঘ) একনায়কতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গ) আমলাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
লালফিতার দৌরাত্ম্য হলো সরকারি দপ্তরে কাজের দীর্ঘসূত্রিতা।
আমলারা আনুষ্ঠানিকতা ও বিধি বিধানের আলোকে কাজ করে থাকনে। যার কারণে তাদের কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যের জন্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক উপেক্ষিত হয়।
আমলাতন্ত্র দুর্নীতিবাজ হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যাপক হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হাসিলের জন্যে জনগণকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৭০৭.
বিশ্বব্যাংক সুশাসন মূল্যায়নে কোন খাতের ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করেছে?
  1. ক) আর্থিক
  2. খ) সরকারি
  3. গ) সেবা
  4. ঘ) ব্যক্তি মালিকানা
সঠিক উত্তর:
খ) সরকারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সরকারি
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯৪ সালে ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক একটি প্রকাশ করে।
- এই রিপোর্টে সুশাসনকে নিম্নোক্ত চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।যথাঃ
- সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা,
- জবাবদিহিতা,
- উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো,
- স্বচ্ছতা ও তথ্য 

সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম পত্র) বোর্ড বই।
৭০৮.
ই-গভর্নেন্সের মূল কাজ কোনটি?
  1. তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা
  2. তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা
  3. তথ্য প্রবাহকে বাঁধা দেয়া
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা

→ ই-গভর্নেন্সের মূল কাজ হচ্ছে - তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।

ই-গভর্নেন্স:
- বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রত্যয় হচ্ছে ই-গর্ভনেন্স। বর্তমান পৃথিবীর উন্নত-অনুন্নতসহ বেশিরভাগ রাষ্ট্রেই ই- গর্ভনেন্স এর বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারের ফলে সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
- এখন ইচ্ছে করলে এক মুহূর্তে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে যোগাযোগ ও তথ্য প্রেরণ করা যায়।
- ই-গর্ভনেন্স এর শাব্দিক অর্থ হল ইলেকট্রনিক গর্ভনেন্স বা ইন্টারনেট ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা; অর্থাৎ সরকারি সেবা ও সুযোগ-সুবিধা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া। এর ফলে জনগণের সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০৯.
"সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স" - কে সংজ্ঞাটি প্রদান করে?
  1. অক্সফোর্ড ডিকশনারি
  2. ল্যান্ডেল মিলস
  3. ইউএনডিপি
  4. বিশ্বব্যাংক
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শাসনের ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।
- ল্যান্ডেল মিলস এবং সেরাজেন্ডিন (Landell Mills and seragedino মতে, জনগণ কীভাবে শাসিত হয়, কীভাবে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি পরিচালিত হয়, কীভাবে দেশের রাজনীতি আবর্তিত হয় এবং একই সাথে এ সকল প্রক্রিয়া কীভাবে লোকপ্রশাসন ও আইনের সাথে সম্পর্কিত সে বিষয়কেই গভর্নেন্স বলে।
- The Oxford English Dictionary-Go to of FI, শাসনের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব, ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা হিসেবে গভর্নেসকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭১০.
বাংলাদেশ সরকারিভাবে দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করে কত সাল থেকে? 
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০০৫ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন: 
- জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
​-  দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন শুরু করে।
​- দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতি বছর দিবসটি পালন করলেও দেশে সরকারিভাবে দিবসটি পালিত হতো না।
​- এ প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি দমন কমিশন ০৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের অনুরোধ জানিয়ে ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে পত্র প্রেরণ করে। 
​- তৎপ্রেক্ষিতে সরকার ১৮ জুলাই, ২০১৭ তারিখে ০৯ ডিসেম্বর তারিখকে “আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস” ঘোষণা করে।
​- পাশাপাশি ০৯ ডিসেম্বরকে “আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস”হিসেবে উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত পরিপত্রের ‘খ’ শ্রেণীভূক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভূক্তকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 
​- ২০১৭ সালেই প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালিত হয়েছে।

​উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।[লিঙ্ক​​​]

৭১১.
নাগরিকতার ধারণার উদ্ভব হয় কোন দেশে?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) ইতালি
  3. গ) গ্রীস
  4. ঘ) যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রীস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রীস
ব্যাখ্যা
আড়াইহাজার বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নাগরিকতা ধারণার উদ্ভব হয়।
- গ্রিস তখন ছোট ছোট নগরে বিভক্ত ছিলো যা নগর-রাষ্ট্র নামে পরিচিত। এসব নগর-রাষ্ট্রে যারা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতো তাদের নাগরিক বলা হয়। তাদের ভোটাধিকার ছিলো। তবে নারী, বিদেশি ও দাসদাসীরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো না।
- পরবর্তীতে, সময়ের পরিক্রমায় নাগরিক ও নাগরিকতার ধারণা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭১২.
জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য কয়টি শর্ত উল্লেখ করেছেন? 
  1. ৫টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ২টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন।
- শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭১৩.
সুশাসনের জন্য ' স্বচ্ছতা ও তথ্য ' সম্পর্কে মন্তব্য করেছে -
  1. এডিবি ব্যাংক
  2. এশীয় উন্নয়ন সংস্থা
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
সংজ্ঞা (Definition):
 • সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।

বিশ্বব্যাংকের দৃষ্টিভঙ্গি (World Bank's Perspective):
 •  বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ রিপোর্টে সুশাসনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করেছে:
- সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা,
- জবাবদিহিতা,
- উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো,
- স্বচ্ছতা ও তথ্য

 সুশাসনের গুরুত্ব (Importance of Good Governance):
 • সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৪.
সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও তা বাস্তবায়নে আইনসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করাকে বোঝায় -
  1. ঐকমত্য
  2. সংবেদনশীলতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
• স্বচ্ছতা:
- সাধারণভাবে স্বচ্ছতা বলতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও তা বাস্তবায়নে আইনসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করাকে বোঝায়।
কেবল তাই নয়, স্বচ্ছতা দ্বারা এটিও বুঝানো হয় যে, আইনসম্মতভাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যারা প্রভাবিত হবে তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তথ্য প্রবাহ অবাধ করা এবং তথ্য জানার অধিকার উন্মুক্ত করা। একথার অর্থ হচ্ছে তথ্য প্রবাহ যেন সকল স্তরের জনগণের কাছে সহজবোধ্য হয় এবং বিভিন্ন মাধ্যমে সকলের কাছে পৌঁছায়।

• আইনের শাসন:
- সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আইনের শাসন। সুশাসনের জন্য এমন আইনগত কাঠামোর উপস্থিতি প্রয়োজন যা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে সক্ষম। নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের বিশেষভাবে প্রয়োজন মানবাধিকার সংরক্ষণ, বিশেষ করে চরম দরিদ্র ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য। আবার এসব কিছুর জন্য প্রয়োজন স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

• সংবেদনশীলতা:
- সংবেদনশীলতা হচ্ছে শাসনযন্ত্রের এমন দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য যার মাধ্যমে জনসাধারণের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য সকল বৈধ প্রয়োজন ও দাবী-দাওয়া যথাসময়ে পূরণ করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই সংবেদনশীলতা।

• ঐকমত্য:
- যেকোন রাষ্ট্রেই নানা মত ও স্বার্থের উপস্থিতি বিদ্যমান। এই সব মত ও স্বার্থের মাঝে সমন্বয় সাধন করে সামাজিক ঐক্য ধরে রাখা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য। সুশাসনের ক্ষেত্রে এরূপ সমন্বয় সাধন কাজ এমনভাবে সম্পন্ন করা হয় যাতে সামগ্রিকভাবে সমাজের সকল অংশ লাভবান হয়। এভাবে মত ও স্বার্থের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক একরূপতা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৫.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' এর মূল প্রবক্তা কে? 
  1. জন লক 
  2. এরিস্টটল 
  3. মন্টেস্কু 
  4. কার্ল মার্কস
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু 
ব্যাখ্যা

• ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৬.
'Social Change' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন-
  1. ক) চার্লস ডিকেন্স
  2. খ) রবার্টসন
  3. গ) রিচার্ড ভেসেল
  4. ঘ) অগবার্ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগবার্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগবার্ন
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ নিয়ে বিখ্যাত কিছু বইয়ের নাম হলো:
- 'Social Change' গ্রন্থের রচয়িতা উইলিয়াম এফ অগবার্ন। তাঁর মতে, সংস্কৃতির ধরন দুটি। যথা- বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অবস্তুগত সংস্কৃতি।
- 'A Christmas Carol' গ্রন্থের রচয়িতা চার্লস ডিকেন্স,
- 'Stoicism and the Art of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা ডোনাল্ড জে রবার্টসন,
- 'Nazism and War' গ্রন্থের রচয়িতা রিচার্ড ভেসেল।

৭১৭.
কোনটি সুশাসনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়?
  1. ক) দুর্নীতিমুক্ত সরকার
  2. খ) রাজনৈতিক কোন্দল
  3. গ) স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  4. ঘ) চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব
সঠিক উত্তর:
খ) রাজনৈতিক কোন্দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাজনৈতিক কোন্দল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজমান থাকে। যার ফলে হরতাল, পিকেটিং, জ্বালাও-পোড়াও করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭১৮.
আইনের শাসন, বিকেন্দ্রীকরণ, জনকল্যাণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কে সুশাসনের মূল নিয়ামক হিসেবে অভিহিত করে-
  1. ক) IDA
  2. খ) ADB
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) UNO
সঠিক উত্তর:
খ) ADB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ADB
ব্যাখ্যা
Asian Development Bank বা ADB সুশাসন সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে এর চারটি উপাদান চিহ্নিত করে। এগুলো হলোঃ আইনের শাসন, বিকেন্দ্রীকরণ, জনকল্যাণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। (সূত্রঃ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক)
৭১৯.
রাজনৈতিক ঐক্যমত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় কোনটি?
  1. দুর্নীতি
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. সুশাসন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক ঐক্যমত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় সুশাসন।

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন:
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২০.
সুশাসন নিয়ে 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. African Development Bank
  2. United Nations Development Programme
  3. International Monetary Fund
  4. European Economic Community
সঠিক উত্তর:
European Economic Community
উত্তর
সঠিক উত্তর:
European Economic Community
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community (EEC)।
- EEC, যা পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) হিসেবে পরিচিত, সুশাসনের গুরুত্ব এবং এর প্রচারের জন্য বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে।
- EEC সুশাসনকে একটি ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে যার মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
- এটি তার বিভিন্ন নীতিমালা, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, এবং সামাজিক উন্নয়ন উদ্যোগের মাধ্যমে সুশাসনের প্রচার এবং বাস্তবায়ন করে।

তথ্যসূত্র - European Economic Community ওয়েবসাইট।

৭২১.
‘সুবর্ণ মধ্যক‘ হলো-
  1. ক) একটি জ্যামিতিক ধারণা
  2. খ) একটি সংশয়বাদী ধারণা
  3. গ) দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
  4. ঘ) কোন কিছুর প্রাচুর্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী পন্থা
ব্যাখ্যা
সুবর্ণ মধ্যক বা গোল্ডেন মিন হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থা। এটি একটি দার্শনিক মতবাদ যা গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল ব্যাখ্যা করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৭২২.
সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্র নয় -
  1. পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার রোধ
  2. সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
  3. মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ
  4. বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার রোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার রোধ
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।
- এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।য়
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

⇒ সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল-
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং,
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭২৩.
কোনটি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়?
  1. সংসদীয় ব্যবস্থা
  2. দক্ষ আমলাতন্ত্র
  3. আইনের শাসন
  4. শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
- সুশাসন একটি আধুনিক ধারণা। এর অর্থ হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো আইনের শাসন। আইনের শাসন না থাকলে কখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৭২৪.
যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পদ ও সুযোগের সঠিক বণ্টন কোন ধরনের সাম্য?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. অর্থনৈতিক সাম্য
  3. নাগরিক সাম্য
  4. আইনগত সাম্য
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

♦ সাম্যের বিভিন্ন দিক:
⇒ স্বাভাবিক সাম্য:
- জন্মগতভাবে সব মানুষ সমান। অর্থাৎ, সকল মানুষের মূল্য ও অধিকার জন্মগতভাবে সমান।

⇒ সামাজিক সাম্য:
- সমাজে ব্যক্তির যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়। এখানে সামাজিক বৈষম্য থেকে মুক্তি এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় ।

⇒ অর্থনৈতিক সাম্য:
- যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পদ ও সুযোগের সঠিক বণ্টন। অর্থাৎ, সমাজের সব সদস্য যাতে সমানভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা।

⇒ নাগরিক সাম্য:
- ব্যক্তিগত নাগরিক অধিকার ও সুযোগে সমান অধিকার প্রদান। এর মাধ্যমে সব নাগরিককে সমান মর্যাদা ও সুযোগ দেওয়া
হয় ৷

⇒ রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে সমান অধিকার। এখানে ব্যক্তির রাজনৈতিক অধিকার যেমন ভোটাধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ইত্যাদি সমান থাকে।

⇒ আইনগত সাম্য: আইনের কাছে সকল মানুষ সমান। আইন সকলের জন্য একেবারে সমান এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না৷

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৫.
কত সালে বিশ্ব ব্যাংক 'সুশাসন' প্রত্যয়টি সর্বপ্রথম ব্যবহার করে?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮৭ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে ১৯৯২ সালে।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

৭২৬.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার কোনটি?
  1. সরকারি চাকুরি
  2. সম্পত্তি ভোগ
  3. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  4. দায়মুক্তি
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি ভোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি ভোগ
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
- যেমন - জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।
- সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৭.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে 'শুদ্ধাচার' হচ্ছে-
  1. নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  2. শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
  3. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদন্ড
  4. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- স্লোগান: সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৭২৮.
UNDP সুশাসনের কোন উপাদানটি উল্লেখ করেনি?
  1. সকলের অংশগ্রহণ
  2. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  3. সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
  4. সংবেদনশীলতা
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীল প্রশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীল প্রশাসন
ব্যাখ্যা
দায়িত্বশীল প্রশাসন সুশাসনের উপাদান নয়।

UNDP ও সুশাসন:

- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

• UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

⇒ UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৭২৯.
সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রথম তাদের প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে -
  1. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
  2. ইউএনডিপি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

⇒ বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে বিস্তাড়িত ভাবে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে।

অন্যদিকে,
- ইউএনডিপি সুশাসনের বিষয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করেছে, বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশক থেকে, যখন তারা তাদের প্রতিবেদনে সুশাসনকে টেকসই উন্নয়নের একটি মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে।

⇒ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (IsDB) মূলত ইসলামি অর্থনীতির নীতির ভিত্তিতে সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করে।
- যদিও এই সংস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে, তবে সুশাসনের ধারণাটি প্রথম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এর কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই।

⇒ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বিশ্বব্যাংকের ১৯৮৯ সালের প্রতিবেদনের পরবর্তী।
তাছাড়া, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল সুশাসনের ধারণাটি প্রথম তুলে ধরার পরিবর্তে দুর্নীতি প্রতিরোধে বেশি মনোযোগী।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

৭৩০.
__________ সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
  1. দুর্নীতির বিস্তার
  2. ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
সুশাসন বলতে বোঝায় এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন বজায় থাকে। সুশাসনের লক্ষ্য হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রমকে জনবান্ধব ও কার্যকর করা।

সুশাসনের মূল বৈশিষ্ট্য:
স্বচ্ছতা (Transparency): সরকারি সিদ্ধান্ত, নীতি ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণ সচেতন থাকে এবং তথ্য পাওয়া সহজ হয়।
জবাবদিহিতা (Accountability): সরকারি কর্মকর্তা ও নেতারা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।
আইনের শাসন (Rule of Law): সকল নাগরিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনের অধীন থাকেন এবং সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
নাগরিক অংশগ্রহণ (Participation): জনগণ রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩১.
'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী' বলা আছে সংবিধানের -
  1. ক) ২১ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১৯ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ২৭ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ২৯ নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
গ) ২৭ নং অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের,
- ২৭ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।'

অন্যদিকে,
- ১৯ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'সুযোগের সমতার কথা।
- ২১ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য
- ২৯ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা'র কথা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭৩২.
সুশাসনের পূর্বশর্ত কী?
  1. নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
  2. নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

সুশাসনের পূর্বশর্ত:
যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হচ্ছে:- 
- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা, 
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা, 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, 
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,  
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, 
- বৈধতা প্রভৃতি।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৭৩৩.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) ভবিষ্যৎবাণী
  4. ঘ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।

অন্যদিকে,
- অবাধ তথ্য প্রবাহ হলো বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম উপাদান।

(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
৭৩৪.
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি খুঁজে পাবে তার -
  1. সামাজিক মর্যাদা
  2. ক্ষমতা
  3. পারিবারিক মূল্যবোধ
  4. গ্রহনযোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মর্যাদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মর্যাদা
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন: 
- ব্যক্তির স্বাধীনতা, সাম্য ও অধিকার রক্ষার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে।
- আইনের শাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
- এ.ভি. ডাইসি (A.V. Dicey) এর মতে, আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে, আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্য একই আইন, কাউকে বিনা - অপরাধে গ্রেফতার না করা এবং বিনাবিচারে আটক না রাখা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৩৫.
সুশাসন নিশ্চিত করতে European Economic Community নিচের কোনটি প্রকাশ করে?
  1. Black paper
  2. White paper
  3. Red paper
  4. Yellow paper
সঠিক উত্তর:
White paper
উত্তর
সঠিক উত্তর:
White paper
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community.

উল্লেখ্য,
- শ্বেতপত্র সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি নীতিগত নথি, যেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বা সমস্যার সমাধানে প্রস্তাবিত নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
- এটি সাধারণত আইন, নীতি, অর্থনীতি ও সুশাসন বিষয়ে সুপারিশমূলক দিকনির্দেশনা দেয়।
- EEC বিভিন্ন সময়ে সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবাধিকার, এবং প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য White Paper প্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র: European Economic Community ওয়েবসাইট।
৭৩৬.
UNDP- সুশাসনের কয়টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেন?
  1. ৭টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৭৩৭.
সুশাসনের __________ নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে।
  1. স্বচ্ছতা
  2. সাম্য ও সমতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের নীতি:
- সুশাসনের অন্যতম মূলনীতি হলো অংশগ্রহণ (Participation)।
- সুশাসনের "অংশগ্রহণ" নীতিটি জনগণ ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
- এটি একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে বিভিন্ন সংগঠন, যেমন – শ্রমিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, এনজিও, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
- অংশগ্রহণ নীতি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে জনগণ ও সংগঠনের মতামত নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
- অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের কাছে আরও বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে।

অন্যদিকে:
- স্বচ্ছতা তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করে, কিন্তু সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় সরাসরি ভূমিকা রাখে না।
- সাম্য ও সমতা নাগরিকদের সমান সুযোগ ও অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেয়, তবে সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মূল নীতি নয়।
- জবাবদিহিতা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে সরাসরি সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক।
৭৩৮.
European Economic Community সুশাসন সম্পর্কিত কোনটি প্রকাশ করে?
  1. Blue paper
  2. White paper
  3. Governance paper
  4. Black paper
সঠিক উত্তর:
White paper
উত্তর
সঠিক উত্তর:
White paper
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি। 
সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।
৭৩৯.
জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য কয়টি শর্তের উল্লেখ করেছেন?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।

⇒ জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন।
- শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৪০.
UNDP-এর মতে সুশাসন কী প্রতিষ্ঠা করে?
  1. শক্তিশালী সরকারব্যবস্থা
  2. স্থায়ী সামরিক শাসন
  3. অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ
  4. কেন্দ্রীভূত প্রশাসন
সঠিক উত্তর:
অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ
ব্যাখ্যা

UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।  এতে বলা হয়েছে- 'কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৭৪১.
‘শাসন : বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক রির্পোট প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন’ প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এই রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন , এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪২.
‘সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।’-কার অভিমত?
  1. UNDP
  2. UN
  3. IMF
  4. ADB
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

⇒ UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো -
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৭৪৩.
নিচের কোনটি সামাজিক সাম্য? 
  1. নির্বাচনে অংশগ্রহণ
  2. বাক-স্বাধীনতা
  3. ভোটাধিকার
  4. সংগঠন করার স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
বাক-স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক-স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

 সামাজিক সাম্য: 
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

অন্যদিকে,
রাজনৈতিক সাম্য: 
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৪.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার কোনটি?
  1. সম্পত্তি ভোগ
  2. সরকারি চাকুরি
  3. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  4. দায়মুক্তি
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি ভোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পত্তি ভোগ
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
- যেমন - জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার। সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৫.
UNDP-এর মতে সুশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র
  2. স্বচ্ছতা
  3. আইনের শাসন
  4. সমতা
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

⇒ UNDP-এর মতে সুশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত নয়।

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP ১৯৯৭ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা
প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'|

⇒ UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। যথা :
• স্বচ্ছতা,
• আইনের শাসন,
• সকলের অংশগ্রহণ,
• সংবেদনশীলতা,
• সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
• সমতা,
• ন্যায্যতা,
• জবাবদিহিতা
• কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - UNDP ওয়েবসাইট।

৭৪৬.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা পেলে প্রশাসনে কী নিশ্চিত হয়?
  1. রাজনৈতিক আনুগত্য
  2. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
  3. দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা
  4. আদেশ পালনের প্রবণতা
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, কর্তব্য, সহানুভূতি, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন হলো এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
- এই দুইটি যখন একত্রে সমাজে প্রয়োগ করা হয়, তখন একটি কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র গড়ে ওঠে।
- অর্থাৎ, আমলারা তখন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রবণতা হ্রাস পায়, এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে:
- দুর্নীতি দমন সহজ হয়;
- প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়;
- দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়;
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়;
- ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৭.
কার মতে আদর্শ রাজা হলেন একজন দার্শনিক রাজা?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) প্লেটো
  3. গ) সক্রেটিস
  4. ঘ) কনফুসিয়াস
সঠিক উত্তর:
খ) প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
গ্রিক দার্শনিক প্লেটো প্রচিীন গ্রিসে সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন। তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
কারণ এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগনের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৭৪৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?
  1. সরকারি নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করা
  2. ব্যক্তি স্বার্থ সংরক্ষণ
  3. আমলাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  4. ভূমিকা রাখতে পারে না
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: 
১. সরকারি নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করা: অনেক সময় সরকারি নীতি পরিবর্তনে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে সরকারের ভূলনীতি, গণবিরোধী পদক্ষেপ পরিবর্তনেও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সক্ষম হয়। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

২. আইনসভার ওপর প্রভাব বিস্তার: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আইনসভার সদস্যগণকে প্রভাবিত করে অন্যায় বা গণবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ এবং জনকল্যাণ সাধিত হয়।

এছাড়া,
৩. ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ,
৪. আমলাদের ওপর চাপ প্রয়োগ
৫. জনমত গঠন, 
৬. জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ
প্রভৃতির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ভূমিকা রাখে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৪৯.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. অবাধ তথ্য প্রবাহ
  2. স্বচ্ছতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. ভবিষ্যৎবাণী
সঠিক উত্তর:
অবাধ তথ্য প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবাধ তথ্য প্রবাহ
ব্যাখ্যা
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয় - অবাধ তথ্য প্রবাহ।
• সুশাসন:
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎবাণী।

অন্যদিকে,
- অবাধ তথ্য প্রবাহ হলো বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম উপাদান।

তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট।
৭৫০.
ইলেকট্রনিক গভর্ন্যান্সের লক্ষ্য হলো-
  1. ক) সরকারের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
  2. খ) সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. গ) সরকারের স্বার্থরক্ষা
  4. ঘ) জনগণের অংশগ্রহণ রোধ
সঠিক উত্তর:
খ) সুশাসন প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
- ই-গভর্ন্যান্স বা ইলেক্ট্রনিক গভর্ন্যান্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দ্রুততা, প্রতিযোগিতা, সহজীকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৭৫১.
জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের কোন বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন?
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা
  3. প্রতিক্রিয়াশীলতা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
⇒ জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের প্রধান ৮টি বৈশিষ্ট্যর কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো-
১. অংশগ্রহণ,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনের শাসন,
৪. প্রতিক্রিয়াশীলতা,
৫. ঐক্যমত্য ভিত্তিক,
৬. সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক,
৭. কার্যকারিতা এবং দক্ষতা,
৮. জবাবদিহিতা।

তথ্যসূত্র - UNESCAP ওয়েবসাইট।

৭৫২.
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে-
  1. ক) প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়
  2. খ) আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা হ্রাস পায়
  3. গ) প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
  4. ঘ) সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয়
সঠিক উত্তর:
গ) প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
প্রশাসন ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ হলো ক্ষমতা কেন্দ্রে বা এক জায়গায় কুক্ষিগত না করে স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া। এর ফলে প্রশাসন ব্যবস্থায় গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দৌরাত্ম্য হ্রাস পায়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
৭৫৩.
বিশ্বব্যাংক 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে -
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। 
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৫৪.
SDG-এর কোন লক্ষ্যটিতে ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ০৯
  2. ১১
  3. ১৪
  4. ১৬
সঠিক উত্তর:
১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬
ব্যাখ্যা

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG):
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আদলে ২০১৫ সালের ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টস গোল (এসডিজি) গ্রহণ করে।
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (SDG) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭টি এবং টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৯টি।
- বাস্তবায়নের জন্যে লক্ষ্যস্থির করা হয় ২০৩০ সালের মধ্যে।
- মেয়াদকাল: ২০১৬-২০৩০ সাল।
- বাস্তবায়ন শুরু: ১ জানুয়ারি, ২০১৬ সাল।
- মেয়াদ শেষ: ৩১ ডিসেম্বর, ২০৩০ সাল।

⇒ লক্ষ্যমাত্রাসমূহ হলো:
১) দারিদ্র্য নির্মূল।
২) ক্ষুধামুক্তি।
৩) সুস্বাস্থ্য।
৪) মানসম্মত শিক্ষা।
৫) লিঙ্গ সমতা।
৬) বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন।
৭) সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
৮) উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
৯) শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো।
১০) বৈষম্য হ্রাস।
১১) টেকসই শহর ও জনগণ।
১২) পরিমিত ভোগ ও উৎপান।
১৩) জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ।
১৪) সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান।
১৫) স্থলভাগের জীবন।
১৬) শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।
১৭) অভিষ্টের জন্যে অংশীদারিত্ব।

তথ্যসূত্র - SDG অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৭৫৫.
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের জন্য কোন শর্তটি নির্ধারণ করেনি?
  1. বাক স্বাধীনতা
  2. আইনী কাঠামো
  3. স্বচ্ছতা
  4. দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
বাক স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন: 
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে কল্যাণকর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়।

সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- রাজনৈতিক স্বাধীনতা;
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা;
- আইনের শাসন;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- অংশগ্রহণ;
- বাক স্বাধীনতা;

২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের জন্য চারটি শর্ত নির্ধারণ করে:
- দায়িত্বশীলতা;
- স্বচ্ছতা;
- আইনী কাঠামো;
- অংশগ্রহণ। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
৭৫৬.
নিচের কোনটি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদানের নয়?
  1. কৌশলগত অংশীদারিত্ব
  2. জবাবদিহিতা
  3. অংশগ্রহণ
  4. ভবিষ্যৎবাণী
সঠিক উত্তর:
কৌশলগত অংশীদারিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌশলগত অংশীদারিত্ব
ব্যাখ্যা
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।

এডিবির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।

(তথ্যসূত্র: ADB ওয়েবসাইট)
৭৫৭.
সুশাসনের কোন উপাদানটি প্রাপ্ত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জনে সহায়তা করে?
  1. দক্ষতা
  2. দায়বদ্ধতা
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
দক্ষতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষতা
ব্যাখ্যা
দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন।
- অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৫৮.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী হয়?
  1. ধনী-গরিব ব্যবধান বৃদ্ধি পায়
  2. দুর্নীতি দূর হয়
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  4. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- ১৯৯০-এর দশক থেকেই শাসন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাপী নতুন করে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
- বৃহত্তর অর্থে নাগরিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্য ভালোভাবে শাসন পরিচালনার নামই সুশাসন।
- জনগণকে দেয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি ও তার বাস্তবায়নকেই সুশাসনের আওতায় ভাবা যায়।

⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৭৫৯.
বাংলাদেশ সরকার কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

৭৬০.
সুশাসন বলতে শাসনের কোন দিককে বুঝানো হয়?
  1. বিপরীত দিক
  2. পরিমানগত দিক
  3. গুণগত দিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গুণগত দিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণগত দিক
ব্যাখ্যা

- সুশাসন দ্বারা শাসনের গুণগত দিক বুঝায়।

• সুশাসন:
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- সুশাসন হল রাষ্ট্র, সমাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক ও আপেক্ষিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসন সকলের স্বার্থই রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকে।
- সুশাসনের নির্দিষ্ট কিছু উপাদান রয়েছে।
- সুশাসন চিহ্নিতকরণে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের উপর জোর দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬১.
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের সুশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ -
  1. স্থানীয় সরকার
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

⇒ দুর্নীতি:
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ অনেকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সিপিডি।

৭৬২.
চাকুরীর ক্ষেত্রে নারীদের জন্য কোটা প্রথা বহাল রাখার সাথে নিম্নের কোন নীতিটি জড়িত?
  1. ক) লিঙ্গ বৈষম্য
  2. খ) সমান বৈষম্য
  3. গ) বিপরীত বৈষম্য
  4. ঘ) সামাজিক বৈষম্য
সঠিক উত্তর:
গ) বিপরীত বৈষম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিপরীত বৈষম্য
ব্যাখ্যা
স্বার্থের সম-বিবেচনার মতবাদ:
নিশ্চয়তা না দিয়েও সমতা-নীতি বাস্তবায়নে কথা বলে। ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা তার নিজস্ব ছাঁচে ফেলে বিচার-বিবেচনা করে এসব তত্ত্বের আলোকে সমানাধিকারের প্রশ্নগুলো আলোচনা করতে পারে।
পিছিয়ে পড়াদেরকে এক সারিতে আনার জন্য ‘বিপরীত বৈষম্যের' প্রবর্তন সমতা-নীতির বিরোধী নয়।
সমতার প্রশ্নে “বিপরীত-বৈষম্যের” (reverse discrimination) ধারণাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক সময় বহু সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা অন্যান্যদের চেয়ে কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকে। অন্যান্যদের সমান করার জন্য তাদেরকে তখন ঐসব দিকগুলোতে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়। বাইরের দিক থেকে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে হলেও, তা সমতা-নীতিরই একটি প্রতিফলন। আর একেই বলে ‘বিপরীত-বৈষম্যের' নীতি।
 
 একটা উদাহরণ দেয়া যাক। আমাদের সমাজে মেয়েরা শিক্ষা-দীক্ষায়, চাকুরীতে পুরুষদের চেয়ে পেছনে পড়ে আছে। এমতাবস্হায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদেরকে বিশেষ বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং চাকুরীর ক্ষেত্রে তাদের জন্য কোটা প্রথা রয়েছে। এটা সমতা-নীতির স্বার্থেই। অবশ্য অনেকে একে এ নীতির পরিপন্থী বলেও মনে করেন।
ন্যায়ের আলোচনা খুবই প্রাচীন এবং অধিকার, স্বাধীনতা, সমতা সবগুলো ধারণাই এর সঙ্গে জড়িত।
 
উৎসঃ নীতিবিদ্যা বই (SSHL); উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধটি অপরিহার্য নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. আইনের শাসন
  3. স্বচ্ছতা
  4. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য নয় - অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো:
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- দায়বদ্ধতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৪.
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের কোন স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. ন্যায়বোধ
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
ন্যায়বোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়বোধ
ব্যাখ্যা
- ন্যায়বোধ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৬৫.
সুশাসনের সাথে কোন ধরনের মূল্যবোধের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ-এর সাথে সুশাসনের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো:
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা,
- দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৬.
ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) এর ‘Rule of Law Index 2022’ অনুসারে আইনের শাসনে শীর্ষ দেশ কোনটি?
  1. ক) নরওয়ে
  2. খ) ফিনল্যান্ড
  3. গ) ডেনমার্ক
  4. ঘ) সুইডেন
সঠিক উত্তর:
গ) ডেনমার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
• ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) ‘Rule of Law Index 2022’ বা আইনের শাসন সূচক-২০২২ প্রকাশ করেছে।
- সূচকে সর্বোচ্চ স্কোর ১ এবং সর্বোচ্চ স্কোরকারী দেশ আইনের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্য প্রদর্শনকারী হিসাবে বিবেচিত।
- কোনো দেশের স্কোর কমে যাওয়ার অর্থ হলো সে দেশের আইনের শাসনের অবনতি।

• শীর্ষ পাঁচটি দেশ: 
১. ডেনমার্ক (০.৯০ স্কোর)
২. নরওয়ে (০.৮৯ স্কোর)
৩. ফিনল্যান্ড (০.৮৭ স্কোর)
৪. সুইডেন (০.৮৬ স্কোর)
৫. নেদারল্যান্ডস (০.৮৩ স্কোর) 

সূত্র: ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) ও যুগান্তর।
৭৬৭.
সুশাসন মূল্যায়নে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করেছে কে?
  1. ইউএনডিপি
  2. এডিবি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. আইডিবি
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ''Governance : The World Bank Experience'' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়।
এগুলো হলোঃ
- সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা
- দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
- উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো
- স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট)
৭৬৮.
নিচের কোনটি UNDP উল্লিখিত সুশাসনের অন্যতম উপাদান?
  1. ক) আইনি কাঠামো
  2. খ) কৌশলগত লক্ষ্য
  3. গ) ভবিষ্যৎবাণী
  4. ঘ) সিভিল সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
খ) কৌশলগত লক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৌশলগত লক্ষ্য
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
¬এগুলো হলো:

¬- স্বচ্ছতা
¬- আইনের শাসন
¬- সকলের অংশগ্রহণ
¬- সংবেদনশীলতা
¬- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
¬¬- সমতা
¬- ন্যায্যতা
¬- জবাবদিহিতা এবং
¬- কৌশলগত লক্ষ্য।

অন্যদিকে,
ভবিষ্যৎবাণী এডিবির মতে সুশাসনের উপাদান।

(তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট)
৭৬৯.
নিচের কোনটি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. অনিয়ম ও দুর্নীতি
  3. আইনের শাসন
  4. সংবেদনশীলতা
সঠিক উত্তর:
অনিয়ম ও দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনিয়ম ও দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

– অনিয়ম ও দুর্নীতি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়। 

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম Good Governance শব্দটি ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য, 
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
১. অংশগ্রহণ
২. আইনের শাসন
৩. স্বচ্ছতা, 
৪. সংবেদনশীলতা
৫. ঐকমত্য, 
৬. জবাবদিহিতা। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭০.
জাতিসংঘ সুশাসনের কয়টি উপাদানের কথা বলেছে?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ৭টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ;
-মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- দায়বদ্ধতা;
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
- ন্যাযতা; এবং
- আইনের শাসন।

• সংস্থাভিত্তিক সুশাসনের উপাদানের সংখ্যা: 
- UNDP: ৯টি
- জাতিসংঘ:৮টি
- বিশ্বব্যাংক:৬টি
- UNHCR: ৫টি
- AFDB: ৫টি
- ADB :৪টি 
- IDA : ৪টি
- কৌটিল্য: ৪টি।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৭৭১.
নিম্নের কোনটি সুশীল সমাজের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সংগঠিত গোষ্ঠী
  2. সরকার ও জনগণের মধ্যে দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে ভূমিকা পালন করে
  3. একদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী
  4. ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করে
সঠিক উত্তর:
একদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

⇒ সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান -
১. বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র,
২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
৩. গোপনীয়তা ও
৪. বৈধতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica. 

৭৭২.
কোন মূল্যবোধটি সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. ন্যায়পরায়ণতা
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা
• সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে ‘সৃজনশীলতা’ গুরুত্বপূর্ণ নয়।

- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়পরায়ণতা গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ, কারণ এগুলো সুশাসন নিশ্চিত করে এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখে।
- এছাড়া, বিশ্বস্ততা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ, কারণ এগুলো ন্যায়বিচার, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
- তবে সৃজনশীলতা সাধারণত নীতিনির্ধারণের জন্য অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- যদিও সৃজনশীলতা নতুন ধারণা ও উন্নয়নের জন্য সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতাই প্রধান ভিত্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৩.
দেশে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয় _________ প্রতিষ্ঠার ফলে।
  1. সুশাসন
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. অর্থনৈতিক প্রবাহ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

দেশে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয় সুষম উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার ফলে যেখানে অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সমাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। 

​সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে। বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নিঃস্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ কোনটি?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সহনশীলতা
  3. গ) নির্বাচনে অংশগ্রহন
  4. ঘ) দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) দায়িত্বশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা

দায়িত্বশীলতা - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ। গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বশীল বলেই সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।

৭৭৫.
নিচের কোনটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রদত্ত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ভবিষ্যৎবাণী
  2. স্বচ্ছতা
  3. কৌশলগত অংশীদারিত্ব
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
কৌশলগত অংশীদারিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌশলগত অংশীদারিত্ব
ব্যাখ্যা
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
- এডিবি’র মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
- কৌশলগত অংশীদারিত্ব UNDP বর্ণিত সুশাসনের উপাদান।
(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
৭৭৬.
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনটি বিবেচনা করা হয় না?
  1. ক) সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
  2. খ) ব্যক্তি স্বাধীনতা
  3. গ) দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
  4. ঘ) স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যক্তি স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যক্তি স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance : The World Bank Experience’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
• সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়।
এগুলো হলো:- 
১। সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
২। দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
৩। উন্নয়নের বৈধ কাঠামো এবং
৪। স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।

তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক। 
৭৭৭.
পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনের উৎস কোনটি?
  1. ক) প্রথা
  2. খ) ধর্মগ্রন্থ
  3. গ) বিচারকের রায়
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতির আদেশ
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধর্মগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনের উৎস ধর্মগ্রন্থ। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৭৭৮.
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত কোনটি?
  1. নগররাষ্ট্র গঠন
  2. জেন্ডার সমতা আনয়ন
  3. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  4. সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে জনকল্যাণের লক্ষ্যে পরিচালিত করা হয়।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করে।
- কিন্তু কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়।
- কারণ এই রাষ্ট্র ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখে কল্যাণমূলক সমাজতান্ত্রিক কার্যাবলী সম্পাদন করে।
- মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এই রাষ্ট্র অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বেকারভাতা প্রদান, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: i) পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৭৯.
সুশাসনের একপক্ষ সরকার, অন্যপক্ষ কে?
  1. বিরোধী দল
  2. জনগণ
  3. আমলা
  4. সংবাদমাধ্যম
সঠিক উত্তর:
জনগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের একপক্ষ সরকার হলে এর অন্যপক্ষ হলো জনগণ।
- যারা সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে অর্থাৎ, সুশাসন একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া যেখানে সরকার ও জনগণ উভয়েই অংশীদার এবং দায়িত্বশীল থাকে। 

সুশাসন:
- সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

৭৮০.
সুশাসনের পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ
  2. দক্ষ জনশক্তি
  3. শক্তিশালী সেনাবাহিনী
  4. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- এর অর্থ হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - 'Good Governance'.
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।

• সুশাসনের পূর্বশর্ত:
- যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে। শর্ত গুলো হচ্ছে:
- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা, 
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, 
- বৈধতা প্রভৃতি। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৮১.
রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় বাধা -
  1. অর্থ সম্পদের অভাব
  2. স্থানীয় সরকার কাঠামো দুর্বলতা
  3. দুর্নীতি
  4. নৈতিকতার অভাব
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি হ্রাস:
- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় বাধা দুর্নীতি
- প্রশাসনিক জবাবদিহিতা সরকারি আমলাদের দুর্নীতি হ্রাস করতে পারে।
- দুর্নীতি হ্রাস পেলে কাজের স্থবিরতা দূর হবে এবং সুশাসন নিশ্চিত হবে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৮২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় হচ্ছে -
  1. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  2. রাষ্ট্রের আনুগত্য প্রদর্শন করা
  3. সামাজিক দায়িত্ব পালন করা
  4. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা
সঠিক উত্তর:
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেতে সরকারের করণীয় হলো:
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের করণীয় হলো:
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা।
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন করা।
→ রাষ্ট্রের আনুগত্য প্রদর্শন করা।
→ নিয়মিত কর প্রদান করা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক।
৭৮৩.
'সুশাসনের ফলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদগুলোর টেকসই উন্নয়ন ঘটে'-এ উক্তিটি কার?
  1. UN
  2. UNDP
  3. World Bank
  4. IDA
সঠিক উত্তর:
World Bank
উত্তর
সঠিক উত্তর:
World Bank
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে সুশাসন বলে।

"সুশাসনের ফলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদগুলোর টেকসই উন্নয়ন ঘটে" - এই উক্তিটি বিশ্বব্যাংকের। বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক তাদের একটি প্রতিবেদনে এই ধারণাটি তুলে ধরে, যেখানে সুশাসনকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 
• মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'
• UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৮৪.
সরকারের বাহিরে থেকে সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে-
  1. ক) উপদল
  2. খ) শ্রমিক সংঘ
  3. গ) সুশীল সমাজ
  4. ঘ) কর্মচারী ঐক্যজোট
সঠিক উত্তর:
গ) সুশীল সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ‍সুশীল সমাজ বা সিভিল সোসাইটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুশীল সমাজ সরকারের বাহিরে থেকে সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। UNDP সুশাসনের বিষয়ে সুশীল সমাজের উপস্থিতির উপর গুরুত্ব আরোপ করে। সংস্থাটির মতে টেকসই মানব উন্নয়নের জন্যে সরকারিখাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং সুশীল সমাজ গুরুত্বপূর্ণ।
[সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন এবং UNDP]
৭৮৫.
নিচের কোনটি এডিবি বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
  3. গ) স্বচ্ছতা
  4. ঘ) ভবিষ্যৎবাণী
সঠিক উত্তর:
খ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
ব্যাখ্যা
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
-, স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
অন্যদিকে,
- অবাধ তথ্য প্রবাহ হলো বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম উপাদান।
(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
৭৮৬.
“Law is passionless reason” - কার উক্তি?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) টমাস হবস
  3. গ) জ্যোঁ বোঁদা
  4. ঘ) জন অস্টিন
সঠিক উত্তর:
ক) এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইনের সংজ্ঞায় এরিস্টটল বলেন - “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যাক্তিই হচ্ছে আইন।” (Law is passionless reason)। উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৭৮৭.
'সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে' এটি কার বক্তব্য?
  1. UNDP
  2. UN
  3. IMF
  4. World Bank
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।
- UNDP) ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

⇒ UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৭৮৮.
ই-গভর্ন্যান্সকে 'স্মার্ট গভর্নমেন্ট' বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. ইএম হোয়াইট
  2. লরি পেইজ
  3. নিখিলেস যাদব
  4. চন্দ্রবাবু নাইডু
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উল্লেখ্য:
- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে "SMART" শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৮৯.
CEDAW সনদ গৃহিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৪৯ সালে
  2. খ) ১৯৭২ সালে
  3. গ) ১৯৭৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
- CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
- এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহিত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
- এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট)
৭৯০.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. ই- গভর্ন্যান্স
  2. দক্ষ জনশক্তি
  3. কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা
  4. কর্তৃত্ববাদী শাসন
সঠিক উত্তর:
ই- গভর্ন্যান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই- গভর্ন্যান্স
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- ই-গভর্ন্যান্স বা ইলেক্ট্রনিক গভর্ন্যান্স হলো শাসন ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সেবা প্রাপ্তিকে সহজতর করা।
- ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম সহায়ক উপাদান।
- ই-গভর্ন্যান্স স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দ্রুততা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, সহজীকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,  প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
৭৯১.
‘আইনের শাসন সূচক’ প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. UNCTAD
  2. World Justice Project
  3. Reporters Without Borders
  4. EIU
সঠিক উত্তর:
World Justice Project
উত্তর
সঠিক উত্তর:
World Justice Project
ব্যাখ্যা

সুশাসন সম্পর্কিত সূচক: 
- আইনের শাসন সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: The World Justice Project (USA)

এছাড়াও, 
- গণতন্ত্র সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: যুক্তরাজ্যের ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (EIU)
- মানব উন্নয়ন সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: UNDP 
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: Reporters Without Borders
- সুখ সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: Sustainable Development Solution Network
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: Institute of Economic and Peace (Australia)
- দুর্নীতি সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: Transparency International
- ই-কমার্স সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: UNCTAD (United Nations Conference on Trade and Development)

সূত্র: স্ব স্ব সংস্থার ওয়েবসাইট। 

৭৯২.
কোন সংস্থাটি দেশের উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্বারোপ করেছে?
  1. ক) UNO
  2. খ) IMF
  3. গ) WBG
  4. ঘ) ADB
সঠিক উত্তর:
খ) IMF
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) IMF
ব্যাখ্যা
- IMF বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ১৯৯৬ সাল থেকে সুশাসনের উপর গুরুত্ব প্রদান করে আসছে।
- সংস্থাটি আইনের শাসন, সরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সকল স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ IMF ওয়েবসাইট)
৭৯৩.
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিচের কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. ক) যথার্থতা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) নিরপেক্ষতা
  4. ঘ) নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক।
- তবে এক্ষেত্রে নৈতিকতা বা সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৭৯৪.
“An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy” - কে বলেছেন?
  1. ক) জি. বিলনে
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) রিচার্ড ক্রসম্যান
  4. ঘ) অধ্যাপক ডাইসি
সঠিক উত্তর:
গ) রিচার্ড ক্রসম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রিচার্ড ক্রসম্যান
ব্যাখ্যা
সাধারণত আমলারা নিজেদের জনগণের সেবক মনে না করে প্রভু মনে করে এবং নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণী বলে মনে করে। তাদের জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না উঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদুর পরাহত হয়ে উঠে। এই জন্য রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন - অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকীস্বরূপ।”
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৭৯৫.
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি অনুসারে, সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা
  2. ন্যায্যতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি অনুসারে, 'অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি' সুশাসনের উপাদান নয়।

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে,
“একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন।”
(Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)

• UNDP এর মতে, সুশাসনের উপাদান ৯টি-
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট।
৭৯৬.
দুর্নীতি ও অনিয়ম বাংলাদেশের কোন ধরনের সমস্যা?
  1. স্থানীয় সমস্যা
  2. আঞ্চলিক সমস্যা
  3. জাতীয় সমস্যা
  4. আন্তর্জাতিক সমস্যা 
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সমস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সমস্যা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। যথা:- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো, অংশগ্রহণ।
- দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচার ও কুশাসন হচ্ছে আমাদের জাতীয় সমস্যা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৯৭.
আইনের চোখে সবাই সমান এটি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) ১৯ নং
  2. খ) ২৭ নং
  3. গ) ২৮ নং
  4. ঘ) ৩১ নং
সঠিক উত্তর:
খ) ২৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৭ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতার কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী”।
অন্যদিকে,
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ : সুযোগের সমতা
- ২৮ নং অনুচ্ছেদ : ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য
- ৩১ নং অনুচ্ছেদ : আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
৭৯৮.
শৃঙ্খলা সমাজে কীভাবে প্রভাব ফেলে?
  1. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হ্রাস করে
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে
  3. সমাজকে অগণতান্ত্রিক করে
  4. মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করে 
সঠিক উত্তর:
মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করে 
ব্যাখ্যা

শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- বিশ্বে যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত।
- সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয় এবং সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়।
- তাই পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কলকারখানা, সর্বত্র শৃঙ্খলার প্রয়োজন।
- শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৯৯.
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় কোনটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. দুর্নীতি দমন কমিশন
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 
সঠিক উত্তর:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উল্লেখ্য,
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৮০০.
সুশাসনের প্রধান অন্তরায়- 
  1. সুশৃঙ্খল প্রশাসন
  2. দুর্নীতি 
  3. ন্যায়বিচার
  4. সচেতনতার অভাব
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি 
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি প্রতিরোধ: 
- দুর্নীতি সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়।
- যেমন প্রকল্পে দূর্নীতি, সরকারি রাজস্ব আদায়ে দুর্নীতি, সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, ভূমি জরিপে দুর্নীতি প্রভৃতি। 

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রেই বিচার বিভাগের মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- মানুষের বাকস্বাধীনতা ও জনগণের সচেতনতার জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠাকল্পে অবশ্যই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও স্বজনপ্রীতি পরিহার করে গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়।