বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা / ১৪ · ৩০১৪০০ / ১,৩২৩

৩০১.
মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের পথ প্রশস্ত করতে কোনটি বিকাশ ঘটায়?
  1. ব্যক্তিসত্তা
  2. জাতিসত্তা
  3. গোষ্টিসত্তা
  4. ধর্মীয় সত্তা
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিসত্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিসত্তা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদ শ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩০২.
"শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।"- উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো
  2. সক্রেটিস
  3. এরিস্টটল
  4. ম্যাকইভার
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
ব্যাখ্যা
দার্শনিক প্লেটো:
→ প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
→ তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।
→ সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
→ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৩০৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কী?
  1. সরকারের হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
  3. রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়। এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ।
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩০৪.
সুশাসনের কোন নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. অংশগ্রহণ
  3. সাম্য ও সমতা
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের নীতি:
- সুশাসনের বিভিন্ন নীতি রয়েছে যেমন অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, সাম্য ও সমতা, এবং স্বচ্ছতা ইত্যাদি।
- সুশাসনের 'অংশগ্রহণের নীতি' সংগঠনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করে।
- কারণ এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সকল স্তরের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
• অংশগ্রহণের মাধ্যমে
- সংগঠনের সদস্যদের মতামত এবং উদ্বেগগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়, যা স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংস্থার বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা তাদের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে, যা তাদের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে।
- অংশগ্রহণ সংস্থার অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে, যা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়।

উল্লেখ্য, 
- অন্য নীতিগুলো সুশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তবে অংশগ্রহণ সরাসরি স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩০৫.
দুর্নীতির ক্ষতিকর দিক কোনটি?
  1. জনগণের দরিদ্রতা বৃদ্ধি
  2. জনগণের দুর্ভোগ বৃদ্ধি
  3. জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- ব্যক্তিস্বার্থ অর্জন বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।
- যখন কোনো প্ৰতিষ্ঠান বা ব্যক্তি স্বীয় অবস্থানের সক্রিয় অপব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে লাভবান হয় বা ব্যক্তিস্বার্থ অর্জন করে। 
- এর ফলে অন্যের ক্ষতি সাধিত হয় তখনই দুর্নীতি সংঘটিত হয়। 
 
দুর্নীতির ক্ষতিকর দিকসমূহ নিম্নরূপ:
ক. জনগণের দুর্ভোগ বৃদ্ধি,
খ. জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায়, এবং
গ. জনগণের দরিদ্রতা বৃদ্ধি।  

উৎস: যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট এবং ti-bangladesh.org [link]
৩০৬.
সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশীল সমাজ 
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সুশাসন
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।

⇒ ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

৩০৭.
অবাধ স্বাধীনতা কিসের নামান্তর?
  1. ক) গণতন্ত্রের
  2. খ) ব্যক্তি স্বাধীনতার
  3. গ) স্বেচ্ছাচারিতার
  4. ঘ) শান্তির
সঠিক উত্তর:
গ) স্বেচ্ছাচারিতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বেচ্ছাচারিতার
ব্যাখ্যা
অবাধ স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। এই জন্যই সকল রাষ্ট্র আইন প্রণয়ন করা হয় এবং সুনাগরিকগণ তা মেনে চলে। উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৩০৮.
সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর -
  1. স্থিতিশীল
  2. পরিপূরক
  3. সাংঘর্ষিক
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
পরিপূরক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপূরক
ব্যাখ্যা
- সাম্য ও স্বাধীনতা নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
- স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে অন্যের স্বাধীনতার কথা চিন্তা করাই হল সাম্যচিন্তা।
- রুশো, লাস্কি, বার্কার প্রমূখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ মনে করেন সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর পরিপূরক।
- উভয়ের সম্পর্ক অতি নিবিড়। সাম্য ছাড়া স্বাধীনতার অস্তিত্ব নাই। সমাজে সাম্য না থাকলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি ভেদে বৈষম্য ঘটে।
- লর্ড অ্যাকটন এর মতে “সাম্য অর্জনের আগ্রহ স্বাধীনতার আশাকে ব্যর্থ করে” । মার্কসবাদীগণ সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
সুশাসন নিশ্চিতের জন্যে কে দার্শনিক রাজার কথা উল্লেখ করেন?
  1. এরিস্টটল
  2. মেকিয়াভেলি
  3. প্লেটো
  4. সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন গ্রিসে প্লেটো সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন।
- তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
- কারণ এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগনের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩১০.
জাতিসংঘ সুশাসনের মধ্যে কতটি উপাদান অন্তর্ভুক্ত করেছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
'সুশাসন' ও বিভিন্ন সংস্থার মতে সুশাসনের উপাদান:
→ প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legitimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে 'সুশাসন' (Good Governance) বলে।

জাতিসংঘ সুশাসনের মধ্যে ৮টি উপাদান অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এগুলো হলো:
১) অংশগ্রহণ
২) আইনের শাসন
৩) জবাবদিহিতা
৪) ন্যায়বিচার
৫) স্বচ্ছতা
৬) কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন
৭) দায়বদ্ধতা
৮) সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য

অন্যদিকে, বিভিন্ন সংস্থা সুশাসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উপাদান উল্লেখ করেছে:
→ ইউএনডিপি সুশাসনের ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
→ বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৬টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
→ জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন (UNHCR) সুশাসনের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
→ আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AFDB) সুশাসনের ৫টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
→ আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের ৪টি মূল উপাদান উল্লেখ করেছে।
→ এডিবি (Asian Development Bank) সুশাসনের ৪টি মূল উপাদান বলেছে।
→ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদান উল্লেখ করেছেন।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১১.
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?
  1. সামাজিক অবক্ষয়ের
  2. মূল্যবোধ অবক্ষয়ের
  3. সুশাসনের
  4. শিক্ষার গুণগতমানের
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের
ব্যাখ্যা
• নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায়। 
-------------- 
• সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়।
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।

- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩১২.
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের কারণ নয় কোনটি?
  1. দুর্বল সংসদ
  2. অনুন্নত রাজনৈতিক দল
  3. শক্তিশালী বিরোধীদল
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী বিরোধীদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী বিরোধীদল
ব্যাখ্যা

- জবাবদিহিতার অভাবের কারণ নয়- শক্তিশালী বিরোধীদল।
- জবাবদিহিতার অভাবের কারণ বিরোধীদল দুর্বল হলে।

• রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাব: 

- বাংলাদেশের সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জবাবদিহিতার অভাব।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য কিছু বিষয় কাজ করে।
- এগুলো হল:
- প্রশাসনিক জটিলতা,
- দুর্বল সংসদ,
- অনুন্নত রাজনৈতিক দল,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব এবং
- দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা। 

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সংসদে কোন শক্তিশালী বিরোধীদল ছিল না।
- এ কারণে সংসদ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারছে না। আমলারা অনেক সময় জনগণের সামনে সঠিক ও সত্য তথ্য প্রচার করতে চায় না।
- শাসক শ্রেণীরও একটি অংশ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়।
- এই অস্বচ্ছতা দুর্নীতির জন্ম দেয় এবং সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১৩.
_______ অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
  1. রাজনৈতিক
  2. নৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. সামাজিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার:
- নাগরিকদের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এ রকম সুযোগ-সুবিধাই হল অধিকার।
- এ বিষয়ে টি, এইচ, গ্রীন বলেন, ”অধিকার হচ্ছে সেসব বাহ্যিক অবস্থা যা মানসিক পরিপুষ্টি সাধন করে।” 

• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন-ভিখারীর ভিক্ষা পাবার অধিকার।
- ভিক্ষারীকে ভিক্ষা না দিলেও সে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
- নৈতিক অধিকার সমাজের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে নাগরিকের সুকুমার মনোবৃত্তির বিকাশ ঘটে।
- এই নৈতিক অধিকার সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে।
- নৈতিক অধিকার মানুষের নৈতিক অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল এবং এগুলো কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুরক্ষিত নয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩১৪.
স্বচ্ছতা কেন সু-শাসন সম্পর্কে নাগরিকের ধারনাকে উন্নত ও স্বচ্ছ করে?
  1. এটি প্রশাসনিক চাপ বাড়ায় 
  2. এটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কমায়
  3. এটি জনগনের নজরদারি ও সচেতন মূল্যায়নের জন্য সুযোগ দেয়
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
এটি জনগনের নজরদারি ও সচেতন মূল্যায়নের জন্য সুযোগ দেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি জনগনের নজরদারি ও সচেতন মূল্যায়নের জন্য সুযোগ দেয়
ব্যাখ্যা

● স্বচ্ছতা সু-শাসন সম্পর্কে নাগরিকদের ধারণা উন্নত ও স্বচ্ছ করে কারণ এটি জনগনের নজরদারি ও সচেতন মূল্যায়নের জন্য সুযোগ দেয়।

সুশাসন ও স্বচ্ছতা:

- স্বচ্ছতা সুশাসনের একটি মূল স্তম্ভ।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- যখন আইন এবং নীতি মেনে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়ন করা হয় তখন তাকে স্বচ্ছতা বলে।
- একটি স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের ফলে যারা প্রভাবিত হবে তারা স্বাধীনভাবে এবং সরাসরি সে সকল তথ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।
পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করবে যেটি গণমাধ্যমে সহজেই প্রচার করা যাবে। 
- স্বচ্ছতার স্তম্বগুলো হচ্ছে (১) তথ্য প্রবাহ, (২) তথ্য উন্মুক্তকরণ, (৩) ই-তথ্য সেবা প্রতিষ্ঠা, এবং (৪) দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ। 

⇒ স্বচ্ছতার মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পদ ব্যবহার ও কার্যক্রমের তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্ত থাকে।
- ফলে নাগরিকরা সরকারের কাজকর্ম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করতে পারেন এবং সচেতনভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন।
- এটি সরকারের প্রতি আস্থা বাড়ায়, দুর্নীতি কমায় এবং সু-শাসন সম্পর্কে নাগরিকদের ধারণাকে আরও ইতিবাচক, স্পষ্ট ও উন্নত করে।
- অর্থাৎ স্বচ্ছতার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত ও ব্যয় সম্পর্কে তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্ত করা। 
 
অন্যদিকে,
- প্রশাসনিক চাপ বাড়ায়: এটি স্বচ্ছতার একটি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু স্বচ্ছতার মূল উদ্দেশ্য নয়।
- রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কমায়: স্বচ্ছতা প্রতিযোগিতা কমানোর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়; বরং এটি প্রতিযোগিতাকে আরও ন্যায্য বা বৃদ্ধি করতে পারে।

উৎস: i) The Annual Review of Political Science. ওয়েবসাইট [লিংক] PDF (লিংক)
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিংক]

৩১৫.
নিচের কোনটি প্রতিরোধে মেরিডা কনভেনশন গৃহীত হয়?
  1. সাইবার ক্রাইম
  2. দুর্নীতি
  3. সন্ত্রাস
  4. বাল্যবিয়ে
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
⇒ দুর্নীতি প্রতিরোধে মেরিডা কনভেনশন গৃহীত হয়।

দুর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক এজেন্ডা:
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)
- পরিচয়: জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল: মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী: জাতিসংঘভুক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।

তথ্যসূত্র - UN ওয়েবসাইট ও Mexico সরকারি ওয়েবসাইট।
৩১৬.
অবিচার, কুশাসন ও দুর্নীতি এগুলো বাংলাদেশের কোন ধরনের সমস্যা?
  1. আঞ্চলিক সমস্যা
  2. স্থানীয় সমস্যা
  3. জাতীয় সমস্যা
  4. আন্তর্জাতিক সমস্যা
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সমস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় সমস্যা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Good Governance
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। যথা:- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো, অংশগ্রহণ।
- দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচার ও কুশাসন হচ্ছে আমাদের জাতীয় সমস্যা

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩১৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার উপায় কোনটি?
  1. ক) সকল ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা
  2. খ) হরতালের মাধ্যমে
  3. গ) শাস্তির ভয় দেখিয়ে আইন মানানোর মাধ্যমে
  4. ঘ) ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক) সকল ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সকল ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
সকল ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা, বিবেকবোধ কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রকে মেনে চলা, বিচার বিভাগকে আইন ও শাসন বিভাগ থেকে মুক্ত করার মাধ্যমে জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে৷
৩১৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য-
  1. জনসম্মতি নেওয়া
  2. নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়া
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  4. সংবিধান মেনে চলা
সঠিক উত্তর:
সংবিধান মেনে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধান মেনে চলা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব কর্তব্য: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- সংবিধান মেনে চলা।

অন্যদিকে,
• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক। 
৩১৯.
'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়'-উক্তিটি কার?
  1. মেকিয়াভেলি
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. ম্যাককরনী
  4. জন স্মিথ
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনী
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- ম্যাককরনী বলেছেন যে, 'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা , বৈধতা , স্বচ্ছতা থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন , আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে 'সুশাসন' বলে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩২০.
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. সরলতা
  2. দক্ষতা
  3. নৈতিকতা
  4. দায়িত্বশীলতা
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে নৈতিকতা।
- নৈতিকতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা, সততা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তি তৈরি করে।
- এটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিশ্বাস ও প্রেরণা জাগাতে সহায়ক।
- নৈতিকতা এমন একটি গুণ যা সততা, ন্যায্যতা, এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সঠিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
- নৈতিকতা ছাড়া অন্য গুণাবলিগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
দায়িত্বশীলতা:
দায়িত্বশীলতা একজন প্রশাসকের গুরুত্বপূর্ণ গুণ, তবে এটি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। যদি কোনো প্রশাসক দায়িত্বশীল হলেও নৈতিক না হন, তবে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন না। নৈতিকতা দায়িত্ব পালনের পথনির্দেশক।

দক্ষতা:
দক্ষতা প্রশাসকের কাজের ফলাফল উন্নত করে, তবে নৈতিকতা ছাড়া দক্ষতা ক্ষতিকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দক্ষ ব্যক্তি যদি অনৈতিক হয়, তবে সে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারে (যেমন: দুর্নীতি বা অন্যায় সিদ্ধান্ত)।

সরলতা:
সরলতা একটি ব্যক্তিগত গুণ যা ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে সরলতা সবসময় কার্যকর নয়। নৈতিকতার অভাব থাকলে সরলতা একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে বাধা হতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২১.
ই-গভর্নেন্স চালু হলে -
  1. জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়
  2. দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  3. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২২.
কোন ধরনের মূল্যবোধ দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

» সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা, 
- দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৩.
নাগরিকগণ আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ও অধিকার ভোগ করতে পারে-
  1. মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে
  2. নৈতিকতার প্রতিষ্ঠিত হলে
  3. সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে
  4. জবাবদিহিতার থাকলে
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে
ব্যাখ্যা

নাগরিকগণ আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ও অধিকার ভোগ করতে পারেসুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে।
- সুশাসনের অর্থ : নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের ধারণা হল : বহুমাত্রিক।
-সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা : ২২টি।
- দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের সেবা থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয় : স্বজনপ্রীতির কারণে।
-সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না : সরকার পক্ষ ও কার্যকর প্রশাসন গড়তে ব্যর্থ হলে।
-সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যাহত করে : উচ্চাভিলাষী ও ভুল সিদ্ধান্ত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন(প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক)

৩২৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কোন গুণটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন?
  1. অন্ধভক্তি
  2. উদাসীনতা
  3. সচেতনতা
  4. পেশিশক্তি
সঠিক উত্তর:
সচেতনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সচেতনতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের গুণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য।
- মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় গুণটি হলো সক্রিয় অংশগ্রহণ বা সচেতনতা। এটি নাগরিককে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জবাবদিহিতা দাবি করতে সাহায্য করে। এছাড়া, সুনাগরিক হিসেবে আইনের শাসন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীলতাও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৫.
ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. স্বচ্ছতা আনয়ন করা
  3. প্রশাসনকে স্থিতিশীল করা
  4. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনকে স্থিতিশীল করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশাসনকে স্থিতিশীল করা
ব্যাখ্যা
- প্রশাসনকে গতিশীল করা ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য। প্রশাসনকে স্থিতিশীল করা নয়। 

ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য: 
- ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নিম্নরূপ: 
১. ই-গভর্নেন্স-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
২. সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
৩. প্রশাসনকে গতিশীল করা।
৪. দ্রুত জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ পৌছে দেওয়া।
৫. দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌছানো।
৬. সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া।
৭. প্রশাসনের দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো।
৮. জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি।
৯. ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা।
১০. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের বা সংশ্লিষ্টতার সুযোগ সৃষ্টি।
১১. নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
১২ জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।
১৩. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
১৪. তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
১৫. গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করা।
১৬. ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা।
১৭. সুশাসন নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২৬.
সুশাসনের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা কি?
  1. ক) দারিদ্র্য
  2. খ) বেকারত্ব
  3. গ) রাজনীতি
  4. ঘ) দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
সবগুলোই সুশাসনের প্রতিবন্ধকতা হলেও দূর্নীতি দূরীকরণের মাধ্যমে বাকিগুলো সমাধান করা যায়। সুতরাং, এটিই অন্যতম প্রতিবন্ধকতা।
৩২৭.
সরকারের কর্তব্য হল____
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  3. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  4. উপরের সবকটি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়/কর্তব্য:
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা,
- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা,
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার,
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন,
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৮.
নিচের কোনটি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান?
  1. পৌরনীতি
  2. সুশাসন
  3. অর্থনীতি
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি: 
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতির লক্ষ্য অনেকটা এক ও অভিন্ন।
- উভয়ের লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা।
- পৌরনীতি ও সুশাসন হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান।
- কীভাবে নাগরিকতা অর্জন করা যায়, কীভাবে সুনাগরিক হওয়া যায়, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যসমূহ কী কী ইত্যাদি বিষয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে থাকে।
- অপরদিকে অসীম অভাবের মাঝে সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি লাভ করা যায় অর্থনীতি তারই শিক্ষা প্রদান করে।
- এই শিক্ষা না পেলে নাগরিক জীবন বিষময় হয়ে ওঠে। ফলে কেউ সুনাগরিক হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২৯.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের প্রধান সুফল কোনটি?
  1. শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতি
  2. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতি
  3. সামাজিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতি হ্রাস
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতার বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীকরণ
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতি হ্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতি হ্রাস
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের নৈতিকতা এবং আচরণগত মান উন্নত করে, যা সুশাসনের মাধ্যমে কার্যকরীভাবে সম্পন্ন হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে সমাজে সামাজিক অস্থিরতা ও দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এই প্রক্রিয়া সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, যা দুর্নীতি এবং অসাধু কার্যকলাপ কমাতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে,
রাজনৈতিক ক্ষমতার বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীকরণ: এটি সাধারণত সুশাসনের উদ্দেশ্য নয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সৃষ্টি করতে পারে।
শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতি: যদিও এটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের মূল লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতি: এটি একটি পার্শ্বিক সুফল হতে পারে, তবে সুশাসনের প্রধান সুফল সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং দুর্নীতি হ্রাস।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩০.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক কোন রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. African Development Perspectives
  2. Governance and Development
  3. Governance: Sound Development Management
  4. Policy Paper on Governance
সঠিক উত্তর:
Governance: Sound Development Management
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Governance: Sound Development Management
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি। এগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৩১.
ধর্ম চর্চার অধিকার মানুষের কীরূপ অধিকার?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) রাজনৈতিক
  3. গ) নৈতিক
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক
ব্যাখ্যা
ধর্ম চর্চার অধিকার, সম্পত্তি লাভের অধিকার, চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি সামাজিক অধিকার।
-সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা এসব অধিকার ভোগ করে থাকি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
৩৩২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো -
  1. দারিদ্র্য দূরীকরণ
  2. অধিকার ভোগ করা
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  4. রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• সুশসান:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। একজন নাগরিক যখনই কোনো অধিকার ভোগ করতে চায় তখনই এর সাথে কিছু কিছু কর্তব্য পালনের বিষয়ও চলে আসে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করত হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়। এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

 • সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন।
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
→ আইন মান্য করা।
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন।
→ নিয়মিত কর প্রদান।
→ রাষ্ট্রের সেবা করা।
→ সন্তানদের শিক্ষাদান।
রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৩৩.
কে 'গণতন্ত্রকে' মূর্খের ও অযোগ্যের শাসনব্যবস্থা বলে অভিহিত করেছেন?
  1. ম্যাকাইভার
  2. অধ্যাপক গেটেল
  3. এরিস্টটল
  4. অধ্যাপক ফাইনার
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের দোষ-ত্রুটি:
- মূর্খের শাসন- প্রাচীন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ গণতন্ত্রকে মূর্খের শাসন এবং বিপজ্জনক সরকার মনে করতেন।
-কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত ও মূর্খ হওয়ায় তারা এ ব্যবস্থায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উপযুক্ত সরকার নির্বাচন করতে পারে না।
- এরিস্টটল-'গণতন্ত্রকে' মূর্খের ও অযোগ্যের শাসনব্যবস্থা বলে অভিহিত করেছেন।
- গুণ অপেক্ষা সংখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া- গণতন্ত্র জ্ঞানী-গুণী ও মূর্খ সকলকেই এক ভোটের অধিকারী করে মূর্খ ও দুর্বলদের শাসনে পরিণত হয়।
-গণতন্ত্র মাথা গণনা করে, মেধার বিচার করে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৪.
সুশাসনের ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে কোন সংস্থা?
  1. UNO
  2. IMF
  3. UNDP
  4. WTO
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- UNDP সুশাসনের ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে। 
- বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞাকে আরো সমৃদ্ধ করে UNDP বলে, ‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন’।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৩৩৫.
সুশাসনের সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক কী?
  1. ঘনিষ্ঠ
  2. বিপরীত
  3. অসংলগ্ন
  4. বিরোধপূর্ণ
সঠিক উত্তর:
ঘনিষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘনিষ্ঠ
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও গণতন্ত্র:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন। সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসনের সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক।

• গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসনের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা, যা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। অবাধ নির্বাচন, বাক-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন গণতন্ত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যা সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রগতিতে সহায়তা করে। 
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: গণতন্ত্রে সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে, যা সুশাসনের মূল লক্ষ্য।
- আইনের শাসন: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়, যা সুশাসনের মূল ভিত্তি।
- অংশগ্রহণ: গণতন্ত্রে নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ থাকে, যা স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমন: কার্যকর গণতন্ত্র দুর্নীতি কমিয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

উৎস: সুজন ওয়েবসাইট।

৩৩৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা কোনটি?
  1. ক) নিরপেক্ষ ন্যায়পাল
  2. খ) স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন
  3. গ) সরকারের জবাবদিহিতার অভাব
  4. ঘ) দুর্নীতি দমন কমিশন
সঠিক উত্তর:
গ) সরকারের জবাবদিহিতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সরকারের জবাবদিহিতার অভাব
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
- আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা।
- আইনের শাসনের অভাব।
- সরকারের জবাবদিহিতার অভাব
- বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
- দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।
- স্বজনপ্রীতি।
- দারিদ্র্য।
- জনসচেতনতার অভাব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
  1. নারীদের উন্নয়ন
  2. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  3. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  4. টেকসই উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৩৩৮.
বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. আইনি কাঠামো
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. আইনের শাসন
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ নয়। 

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন: 

- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা, 
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৩৯.
জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের কোন বৈশিষ্ট্যটির উল্লেখ করেননি?
  1. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  2. প্রতিক্রিয়াশীলতা
  3. দক্ষতা
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের যে বৈশিষ্ট্যটির উল্লেখ করেননি - স্বাধীন প্রচার মাধ্যম। 

ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:

- জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের প্রধান ৮টি বৈশিষ্ট্যর কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হলো -
১. অংশগ্রহণ,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনের শাসন,
৪. প্রতিক্রিয়াশীলতা,
৫. ঐক্যমত্য ভিত্তিক,
৬. সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক,
৭. কার্যকারিতা এবং দক্ষতা,
৮. জবাবদিহিতা।

উৎস: UNESCAP ওয়েবসাইট।
৩৪০.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা?
  1. দারিদ্র্য
  2. অধিক জনসংখ্যা
  3. জনসচেতনতার অভাব
  4. একাধিক রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্য
ব্যাখ্যা
দারিদ্র্য ও সুশাসন:
- দারিদ্র্য সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা।
- আর্থিক কারণে দরিদ্র জনগণ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। দরিদ্র ও অশিক্ষিত জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যায়।
- দরিদ্র ও অসচেতন জনগণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায় সম্পর্কে অজ্ঞ ও উদাসীন থাকে।
- সুতরাং দারিদ্র্য সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় বাধা ৷

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪১.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কেমন?
  1. নিবিড় 
  2. পরোক্ষ
  3. বিপরীতমুখী
  4. কোনো সম্পর্ক নেই
সঠিক উত্তর:
নিবিড় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিবিড় 
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক নিবিড় ও পরস্পর নির্ভরশীল।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- আইনের শাসন: সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

- পরমত সহিষ্ণুতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

- স্বচ্ছতা: রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এই মূল্যবোধের চর্চা সাধারণ জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।

- ন্যায়পরায়ণতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়। সমাজে এমন নাগরিকের সংখ্যা বেশি হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হয়। তাই একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতার বোধ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

- সচেতনাবোধ সৃষ্টি: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

- দায়বদ্ধতা: নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করে না বরং রাষ্ট্রের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেগুলোও ভালোভাবে পালন করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কাম্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪২.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের উপস্থিতি জাতীয় উন্নয়নের কোন্ দিকটিকে বেশি টেকসই করে তোলে?
  1. স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধি
  2. অবকাঠামো নির্মান
  3. মানব সম্পদ উন্নয়ন
  4. আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ
সঠিক উত্তর:
মানব সম্পদ উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানব সম্পদ উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

● মূল্যবোধ ও সুশাসনের উপস্থিতি জাতীয় উন্নয়নের মানব সম্পদ উন্নয়নের দিকটিকে সবচেয়ে বেশি টেকসই করে তোলে।

জাতীয় উন্নয়ন:

- দেশের সার্বিক উন্নয়ন বা জাতীয় উন্নয়নের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের সম্পূরক।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা উভয়ই মানবজাতির জন্য ইতিবাচক।

⇒ মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে:
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে। মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; তাই মূল্যবোধ না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।

⇒ জাতীয় উন্নয়ন ও মূল্যবোধ-সুশাসনের সম্পর্ক:
- মূল্যবোধ মানুষের নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলে। এর ফলে মানুষের চরিত্র, দক্ষতা ও আচরণ দীর্ঘমেয়াদে উন্নত হয়।
- সুশাসন দুর্নীতি কমায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সঠিক নীতি ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করে।
- এর ফলে মানব সম্পদ অর্থাৎ জনগণের দক্ষতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নৈতিকতা  দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সার্বিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

অন্যদিকে,
- স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধি: এটি অস্থায়ী, মূল্যবোধ-সুশাসন ছাড়াও হতে পারে কিন্তু টেকসই নয়।
- অবকাঠামো নির্মাণ: ভৌতিক অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সুশাসন ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ বা সঠিক ব্যবহার হয় না—টেকসইতা কম।
- আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ: এটি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ মাত্র, মূল্যবোধ-সুশাসনের সাথে সরাসরি টেকসই উন্নয়নের মূল দিক নয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) GGI Development and Research LLP for the Good Governance Institute. [link]
iii) Governance for Sustainable Development. UNDP [Link]
iv) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪৩.
কত সালে Asian Development Bank (ADB) সুশাসনের ধারণা প্রদান করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি। এগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- ১৯৯৬ সালে IMF সুশাসনকে এজেন্ডা হিসেবে গ্রহণ করে।
- ১৯৯৯ সালে ''আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' তাদের 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪৪.
ই-গভর্নেন্সকে 'SMART সরকার ব্যবস্থা' বলে অভিহিত করেন কে?
  1. এ পি জে আব্দুল কালাম
  2. ই. এম. হোয়াইট
  3. চন্দ্রবাবু নাইডু
  4. উইড্রো উইলসন
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে। এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়। এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৪৫.
অবাধ তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে  নিশ্চিত হয় -
  1. শৃঙ্খলা
  2. জবাবদিহিতা
  3. আইনের শাসন
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ভূমিকা:
- জবাবদিহিতা বলতে নিজের কাজের জন্য অন্যের কাছে ব্যাখ্যা প্রদান করা বুঝায়।
- বাংলাদেশে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।
- স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে কর্মকর্তারা জবাবদিহিতা করতে হয় না।
- সুশাসনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
- অবাধ তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৬.
সুশাসন কোন্ বিষয়টির প্রতিশ্রুতি দেয়? 
  1. শুধুমাত্র কঠোর আইন প্রয়োগের
  2. রাজনৈতিক প্রাধান্য ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রনের
  3. সংস্কার ছাড়া ঐতিহ্য সংরক্ষণের
  4. স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক নেতৃত্বের
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক নেতৃত্বের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক নেতৃত্বের
ব্যাখ্যা

● সুশাসন যে বিষয়টির প্রতিশ্রুতি দেয় - স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক নেতৃত্বের।

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance। সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। 
-সুশাসন মূলত একটি শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক চর্চা, মূল্যবোধের বিকাশ, উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

• মোটকথা সুশাসন হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিফলন যেখানে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, সর্বোচ্চ স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে, আইনের শাসন থাকবে, নীতির গণতন্ত্রায়ন থাকবে, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে, মতামত ও পছন্দের স্বাধীনতা থাকবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। 
- জাতিসংঘের ভাষায়- 'সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন'।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল। আর এ চারটি স্তম্ভ দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো এবং অংশগ্রহণ। বিশ্ব ব্যাংক ১৯৯২ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে 'শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন' (Governance and Development) শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৭.
স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ২০০২ সালে
  2. খ) ২০০৪ সালে
  3. গ) ২০০৫ সালে
  4. ঘ) ২০০৭ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা

- দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ৯ মে দুদক আইন কার্যকরের মাধ্যমে পূর্বেকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোর স্থলে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত।
- দুদকের হটলাইন হলো ১০৬।
(তথ্যসূত্রঃ দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট)

৩৪৮.
কোনটি মানবাধিকারের উৎস?
  1. ক) ন্যায়পাল 
  2. খ) সংবিধান
  3. গ) সরকার 
  4. ঘ) জাতিসংঘ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাতিসংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
- মানবাধিকারের উৎস ও রক্ষক জাতিসংঘ।
- মৌলিক অধিকারের উৎস রাষ্ট্রের সংবিধান এবং রক্ষক রাষ্ট্র ও সংবিধান।
- মানবাধিকার একটি আন্তর্জাতিক অধিকার। এর পরিধি ব্যাপক ও বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪৯.
সুশাসনের ধারণাটি কোন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত হয়?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইউএনডিপি
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
- অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৫০.
অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কোন আইনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ফৌজদারি আইন
  2. দেওয়ানি আইন 
  3. আন্তর্জাতিক আইন 
  4. সাংবিধানিক আইন 
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদারি আইন
ব্যাখ্যা
• আইন:
- ফৌজদারি আইন:
সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা বিধান এবং অপরাধীকে দণ্ড দেয়ার জন্য প্রণীত আইনকে ফৌজদারি আইন বলে।
এছাড়াও - 
- প্রশাসনিক আইন: ব্যক্তি এবং শাসন কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক নির্ধারণকারী আইনই হচ্ছে শাসন সংক্রান্ত আইন। এই আইন রাষ্ট্রের ভিত্তিস্বরুপ। শাসন সংক্রান্ত আইন শাসন বিভাগের গঠন ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করে এবং ব্যক্তিগত অধিকার ভঙ্গের বেলায় প্রতিকার নির্দেশ করে।
- আন্তর্জাতিক আইন: যে আইনের দ্বারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারিত হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৫১.
জাতিসংঘ কত সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩৫২.
অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিকে সুশাসনের মূল রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কোন সংস্থাটি?
  1. ক) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  2. খ) ওআইসি
  3. গ) জাতিসংঘ
  4. ঘ) এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
সঠিক উত্তর:
ক) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিকে সুশাসনের মূল রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়াও তারা আইনকানুনের সংশোধনী এবং দুর্নীতিবিরোধীতাকেও অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে।
Source:adb.org
৩৫৩.
UNDP সুশাসনের কয়টি উপাদান নির্ধারণ করেছে?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ৬ টি
  4. ৪ টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা

- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।

• UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক নীতির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে  সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। UNDP-এর মতে, "একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন" (Good Governance is the exercise of economic, political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

• UNDP এর মতে, সুশাসনের ৯টি উপাদান রয়েছে:
- এগুলো হলো
১। স্বচ্ছতা,
২। আইনের শাসন,
৩। সকলের অংশগ্রহণ,
৪। সংবেদনশীলতা,
৫। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
৬। সমতা,
৭। ন্যায্যতা,
৮। জবাবদিহিতা এবং
৯। কৌশলগত লক্ষ্য।

• বিভিন্ন সংস্থার মত অনুযায়ী সুশাসনের মূল উপাদান ভিন্ন ভিন্নভাবে নির্ধারিত হয়েছে:
• Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
• জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
• বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
• প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্যও সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি উল্লেখ করেছেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও UNDP ওয়েবসাইট।

৩৫৪.
মিশেল ক্যামডেসাস এর অভিমত অনুসারে,
'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য __________ অত্যাবশ্যক।'
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. স্বাধীনতা
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
মিশেল ক্যামডেসাস বলেছেন- 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

• সুশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন উক্তি:
- কফি আনান:
'সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।'

- ম্যাককরনি সুশাসনের সবচেয়ে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন,
'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'

- UNDP- এর মতে,
''সুশাসন হল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়।''

- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
''ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।''

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৫৫.
পৃথিবীর প্রথম শিক্ষা গুরু বলা হয় কাকে?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) রুশো
  4. ঘ) এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
খ) সক্রেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম শিক্ষাগুরু বলা হয় সক্রেটিসকে। সক্রেটিসের ভাষায়, 'শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ।'
সক্রেটিসের ছাত্র ছিলেন প্লেটো। প্লেটোর মতে, 'শিশুর নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী দেহ মনের পরিপূর্ণ ও সার্বিক বিকাশ সাধনই হলো শিক্ষা।'
প্লেটোর ছাত্র ছিলেন এরিস্টটল আর এরিস্টটলের ছাত্র ছিলেন আলেকজান্ডার।
৩৫৬.
টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) শিক্ষা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) আইন
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন। তাই টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ সুশাসন।
বর্তমানে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে দাতা দেশ ও সংস্থাসমূহ সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে সুশাসনের উপর।
বৈদেশিক সাহায্য বা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে সুশাসনের বিকল্প নেই।
দুস্থ, দরিদ্র, অসহায় ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনমানের নিশ্চয়তা বিধান করে সুশাসন।
৩৫৭.
দুর্নীতি দমন কমিশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২০০৩ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০০৫ সালে
  4. ২০০৬ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন:
- দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ৯ মে দুদক আইন কার্যকরের মাধ্যমে পূর্বেকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোর স্থলে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়।
- এটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
- কার্যালয়: ঢাকার সেগুনবাগিচা।
- দুদক দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে।
- তবে নানা সীমাবদ্ধতা কারণে দুদক দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে না।
- বাংলাদেশের 'দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, "ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।" যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।

তথ্যসূত্র - দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৮.
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”- উক্তিটি কার?
  1. জন অস্টিন
  2. জে এস মিল
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. উড্রো উইলসন
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”- উক্তিটি করেছেন - আর্নেস্ট বার্কার।

• সুশাসন:
- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে। স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” (Liberty and law do not quarrel).

এছাড়াও,
- “আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- “আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”- উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ” - উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” - বলেছেন অধ্যাপক ডাইসি।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৯.
জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, কোনটি সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য?
  1. জাতীয় স্বাধীনতার উন্নয়ন
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  4. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। 

⇒ কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩৬০.
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কীসের অন্তরায়?
  1. সামাজিক অবক্ষয়ের
  2. মূল্যবোধ অবক্ষয়ের
  3. সুশাসনের
  4. শিক্ষার গুণগতমানের
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের
ব্যাখ্যা

স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

⇒ সুশাসন:
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে 'সুশাসন' ও 'গণমাধ্যম' এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬১.
'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়'- উক্তিটি করেছেন -
  1. মিশেল ক্যামডেসাস
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. ম্যাককরনি
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে সুশাসন বলে।

⇒ ম্যাককরনি: "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

⇒ ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৬২.
নিচের কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. শাসনপ্রক্রিয়া ও সুশাসন
  2. শাসনপ্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
  3. শাসনপ্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
  4. শাসনপ্রক্রিয়া এবং নৈতিক শাসন 
সঠিক উত্তর:
শাসনপ্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসনপ্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬৩.
আইন ও সালিশ কেন্দ্র কোন ধরনের সংগঠন?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) অর্থনৈতিক
  3. গ) মানবাধিকার
  4. ঘ) সামাজিক
সঠিক উত্তর:
গ) মানবাধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মানবাধিকার
ব্যাখ্যা
•আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসাক) বাংলাদেশ একটি মানবাধিকার এবং আইন সহায়তাকারী বেসরকারি সংগঠন
- ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৯ জন।
- এর মূল লক্ষ্য সমানাধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং লিঙ্গভিত্তিক সমতার ভিত্তিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

উৎস: আসকের ওয়েবসাইট।
৩৬৪.
নিচের কোনটি 'ই-কমার্স সূচক' প্রকাশ করে?
  1. UNCTAD
  2. SDSN
  3. UNDP
  4. IEP
সঠিক উত্তর:
UNCTAD
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNCTAD
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সূচক:
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে - UNCTAD।
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে The Economist Intelligence Unit.
- আইনের শাসন সূচক  প্রকাশ করে -  The World Justice Project (USA).
- মানব উন্নয়ন সূচক  প্রকাশ করে -  UNDP.
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক  প্রকাশ করে -  Reporters without Borders.
- সুখ সূচক  প্রকাশ করে -  Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক  প্রকাশ করে - Institute of Economic and Peace (IEP) (Australia).
- দূর্নীতি সূচক  প্রকাশ করে -  Transparency International.

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৩৬৫.
''সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়'', উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল 
  2. জন স্টুয়ার্ট 
  3. ম্যাককরনি 
  4. মেকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাককরনি 
ব্যাখ্যা

• সুশাসন এর সংজ্ঞা:
- মারটিন মিনোগের মতে, "বৃহৎ অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতিপয় উদ্যোগের সমাহার ও একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে আরো বেশি গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে তোলে"।
- সুশাসন সম্পর্কে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন ম্যাককরনী (MacCorney)। তার মতে সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"
- প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legitimacy), ool (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাক স্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা থাকে তাহলে সে শাসনকে সুশাসন বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬৬.
২০১২ সালে প্রণীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের রূপকল্প কী?
  1. সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
  2. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য:
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ,
৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩৬৭.
ই-গভর্নেন্স শব্দটি নিচের কোনটির সংক্ষিপ্ত রূপ?
  1. ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স
  2. ইলেক্ট্রিক গভর্নেন্স
  3. ইলেক্টেড গভর্নেন্স
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স শব্দটি 'ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স' এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- অনলাইনের মাধ্যমে পাবলিক ডেলিভারি ও সেবা জনগণের কাছে সহজলভ্য করা ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য।
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সাধিত হলে ই-গভর্নেন্স এর উদ্ভব ঘটে।
- জাতিসংঘের মতে, "সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেত এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌঁছানোর ব্যাবস্থাই হল ই-গভর্নেন্স"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৬৮.
'বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভ' এটি নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক অধিকার
  2. খ) সাংস্কৃতিক অধিকার
  3. গ) অর্থনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) সামাজিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
ক) রাজনৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রাজনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক অধিকার সমূহ
১। সরকারি চাকুরি লাভের অধিকার  
২। নির্বাচনের অধিকার
৩। আবেদন করার অধিকার 
৪। স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
৫। বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার 
৬। সরকারের সমালোচনা করার অধিকার।  

সামাজিক অধিকারসমূহ
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার

অর্থনৈতিক অধিকার সমূহ 
১। অবকাশ লাভের অধিকার
২। কর্মের অধিকার
৩। ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার
৪। শ্রমিক সংঘ করার অধিকার প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৬৯.
বাংলাদেশে উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় কোনটি?
  1. নিরক্ষরতা
  2. দুর্নীতি
  3. জবাবদিহিতা
  4. অদক্ষ জনশক্তি
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও দুর্নীতি:
- বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পথে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি।
- দুর্নীতি প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে।
- উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কিন্তু দুর্নীতির কারণে সুশাসনের মূল উপাদান- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

• দুর্নীতি যেভাবে উন্নয়ন ও সুশাসন ব্যাহত করে-
- অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি;
- সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি;
- সুশাসনের অবক্ষয়;
- অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব;
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষতি।

• দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়-
- জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা;
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালী করা;
- আইনের শাসন নিশ্চিত করা;
- প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো;
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৭০.
কোনটিকে সুশাসনের প্রাণ বলা হয়?
  1. ​স্বচ্ছতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. দক্ষতা
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

​স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা। শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

দায়িত্বশীলতা (Responsibility):
- সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা। সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।

দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৭১.
অর্থনীতিবিদ নজরুল ইসলাম ‘গভর্নেন্স ফর ডেভেলপমেন্ট’ গ্রন্থে সুশাসনের মোট কয়টি সূচক চিহ্নিত করেছেন?
  1. ক) চারটি
  2. খ) পাঁচটি
  3. গ) ছয়টি
  4. ঘ) সাতটি
সঠিক উত্তর:
গ) ছয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছয়টি
ব্যাখ্যা
অর্থনীতিবিদ নজরুল ইসলাম ‘গভর্নেন্স ফর ডেভেলপমেন্ট’ বা ‘উন্নয়নের জন্য সুশাসন’—এই নামে একটি বই লিখেছেন (পলগ্রেভ ম্যাকমিলান, নিউইয়র্ক ২০১৬)। পণ্ডিতদের সূত্র অনুসরণ করে নজরুল ইসলাম সুশাসনের মোট ছয়টি সূচক বা ইন্ডিকেটর চিহ্নিত করেছেন। সেগুলো হলো দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি, সরকারের কার্যকারিতা, নিয়মবিধির প্রায়োগিকতা, আইনের শাসন এবং দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণ।
[সূত্রঃ প্রথম আলো পত্রিকা]
৩৭২.
UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৬টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা
- UNDP ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
সংস্থাটির মতে,
- ‘যে শাসনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষিত থাকে, সম্পদ ও অধিকার রক্ষার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়, বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়, মৌলিক পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়, দরিদ্রকে সেবা প্রদান করা হয় এবং সর্বোপরি জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে সুশাসন বলে।’
- সংস্থাটি সুশাসনের ৯টি উপাদানের উল্লেখ করে।
এগুলো হলোঃ
- স্বচ্ছতা
- আইনের শাসন
- সকলের অংশগ্রহণ
- সংবেদনশীলতা
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
- সমতা
- ন্যায্যতা
- জবাবদিহিতা এবং
- কৌশলগত লক্ষ্য।
(তথ্যসূত্রঃ UNDP ওয়েবসাইট)
৩৭৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত কী?
  1. স্বৈরতন্ত্র
  2. রাজতন্ত্র
  3. গণতন্ত্র
  4. অভিজাততন্ত্র
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো- গনতন্ত্র, অংশগ্রহন প্রক্রিয়া, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- স্বৈরতন্ত্র, রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩৭৪.
কোন নৈতিক মানদণ্ডটি সর্বোচ্চ সুখের উপর গুরুত্ব প্রদান করে?
  1. উপযোগবাদ
  2. পরার্থবাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. আত্মস্বার্থবাদ
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

অপরদিকে,
- পরার্থবাদ হলো এমন একটি মতবাদ বা দর্শন যেখানে নিজের স্বার্থের চেয়ে অন্যের মঙ্গলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
- আত্মস্বার্থ সাধারণত নিজের চাহিদা বা আকাঙক্ষার (স্বার্থ) উপর প্রাধান্য দেওয়াকে বোঝায়।
- শূন্যবাদের ইংরেজি প্রতিশব্দ Nihilism যা ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে এসেছে, যার অর্থ কিছুই না।
- শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।

উৎস: নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৩৭৫.
নিম্নের কোনটি নিশ্চিত না হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ হয়ে যায়?
  1. গণতন্ত্রের প্রতি উদাসীনতা
  2. দক্ষতা
  3. আইনের শাসন
  4. শিক্ষার মান বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে। বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নিঃস্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।

⇒ বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসনের অন্ত:সার হচ্ছে সুষ্ঠু, বাস্তবায়নযোগ্য নীতি এবং নীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি পেশাদারী আমলাতন্ত্র এবং শাসনবিভাগ, যা এর কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হবে। সুশাসনের জন্য আরও প্রয়োজন হচ্ছে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী একটি শক্তিশালী সুশীল সমাজ।
- সর্বোপরি সুশাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং  সমাজের সকল সদস্য আইনের শাসন মেনে চলবে।

এছাড়াও,
⇒ সুশাসন নিশ্চিত করার উপায়:
- দুর্নীতি প্রতিরোধ: 
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ
- এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি
- স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
- নারীর ক্ষমতায়ন
- রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ
- রাজনৈতিক সদিচ্ছা

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৬.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. জবাবদিহিতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. দায়বদ্ধতা
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন। সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আবশ্যকীয় উপাদান।
সুশাসনের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা কিংবা নৈতিকতা আবশ্যক নয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩৭৭.
নিম্নের কোন ঘোষণা সুশাসনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে?
  1. Paris Plan of Implementation
  2. London Plan of Implementation
  3. Tokyo Plan of Implementation
  4. Johannesburg Plan of Implementation
সঠিক উত্তর:
Johannesburg Plan of Implementation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Johannesburg Plan of Implementation
ব্যাখ্যা
• Johannesburg Plan of Implementation:
→ Johannesburg Plan of Implementation জোহান্সবার্গ ঘোষণা নামে পরিচিত।
→ ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ শহরে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে Johannesburg Plan of Implementationগৃহীত হয়।
এটি সুশাসনের সঙ্গে Sustainable development (টেকসই উন্নয়ন) এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎসঃ জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচীর ওয়েবসাইট।
৩৭৮.
কোনটি ব্যতীত রাষ্ট্রের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন টেকসই হওয়া সম্ভব নয়?
  1. মূল্যবোধ
  2. আইন
  3. সুশাসন
  4. ধর্ম 
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

নাগরিক গুণাবলির বিকাশ:
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ নাগরিকের মানসিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে।
- সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা, নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া, সময়মত কর পরিশোধ করা।
• সুশাসন প্রতিষ্ঠা: 
- বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।
- সুশাসন ব্যতীত এ রাষ্ট্রের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন টেকসই হওয়া সম্ভব নয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৯.
“গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ” - উক্তিটি কার?
  1. মিলার
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. এরিস্টটল
  4. অধ্যাপক গার্নার
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থহচ্ছে জনগনের শাসন ক্ষমতা।
- আব্রাহাম লিঙ্কনের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণে দ্বারা পরিচালিত,জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।"
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।" 

-গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮০.
নিচের কোনটি একজন আমলার মৌলিক মূল্যবোধ?
  1. কর্মদক্ষতা অর্জন
  2. জনগণের কল্যাণ সাধন
  3. ক্ষমতা প্রদর্শন
  4. জনগণের গণতন্ত্র সুসংহত করা
সঠিক উত্তর:
জনগণের কল্যাণ সাধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের কল্যাণ সাধন
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তা ই মূল্যবোধ।
- একজন জনপ্রশাসক বা আমলার মৌলিক মূল্যবোধ হলো জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
- এই মূল্যবোধের আলোকেই একজন জনপ্রশাসক বা আমলা তার কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৩৮১.
শ্বেতপত্র কী?
  1. সাদা চিঠি
  2. সরকার কর্তৃক প্রকাশিত দলিল
  3. সাদা পাতা
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক প্রকাশিত দলিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক প্রকাশিত দলিল
ব্যাখ্যা
শ্বেতপত্র: 
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে। 
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উদাহরণ স্বরূপ:
- চার্চিল হোয়াইট পেপার (১৯২২) এবং একীভূত প্যালেস্টাইনীয় রাজ্য গঠন সংক্রা্ন্ত শ্বেতপত্র (১৯৩৯) উল্লেখ করা যায়।
- অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতপত্রের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে পূর্ণ কর্মসংস্থান (১৯৪৫) এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শ্বেতপত্র (১৯৬৪)।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮২.
সুশাসনের অন্যতম অন্তরায় কী?
  1. শক্তিশালী গণমাধ্যম
  2. নিরপেক্ষ গণমাধ্যম
  3. স্বাধীন সংবাদমাধ্যম
  4. পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম
সঠিক উত্তর:
পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- সুশাসন মানে হচ্ছে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং আইনের শাসনভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা।
- এর অন্যতম শর্ত হলো তথ্যের মুক্ত প্রবাহ এবং সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার, যাতে জনগণ সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
- সুশাসনের অন্যতম অন্তরায় হলো পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম।
- কারণ এটি সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য প্রবাহে বিঘ্ন ঘটায় এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ নষ্ট করে।

উল্লেখ্য,
- পক্ষপাতিত্বপূর্ণ গণমাধ্যম নিরপেক্ষভাবে সত্য খবর না দিয়ে বিশেষ ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থে তথ্য পরিবেশন করে।
- জনগণ সঠিক তথ্য না পেলে তারা ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা নিরুৎসাহিত হয়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে।
- পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মেরুকরণ সৃষ্টি করে, যা সমাজে বিভাজন বাড়ায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করে।
- অন্যদিকে, শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যম সুশাসনের সহায়ক, কারণ তারা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং জনগণের সচেতনতা বাড়ায়।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৮৩.
কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অপরিহার্য শর্ত কোনটি? 
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
  2. জনগণের অংশগ্রহণ
  3. রাজনৈতিক অঙ্গীকার
  4. ধনী নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রেখে সর্বাধিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করে থাকে।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উল্লেখ্য,
- আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।
- বর্তমান, রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো 'সুশাসন' প্রতিষ্ঠা।
- 'সুশাসন' একদিনে প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।
- সুশাসনের ধারণাও একদিনে গড়ে উঠেনি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৮৪.
কোন সংস্থার অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
  3. জাতিসংঘ
  4. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। 

⇒ কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৩৮৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে কবে 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন' কার্যকর করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে। প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশ জাতিসংঘের United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) এর অনুসমর্থনকারী দেশ।
- দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে' সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই
কনভেনশনে।
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৬) এবং 'রূপকল্প ২০২১' এবং 'পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা ২০১০-২০২১'-এও সমধর্মী কর্মসূচি চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া,
- সুশাসন নিশ্চিতে জরুরি সেবার হটলাইন চালু করেছে সরকার।
- তাহলো বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯; দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার ১০৬; সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার ১৬৪৩০; কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন ১৬১২৩; নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে ১০৯ ইত্যাদি।
- সর্বোপরি সুশাসন বাস্তবায়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা গঠন করা সম্ভব হবে।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩৮৬.
সুশাসনের পথে অন্তরায় রয়েছে -
  1. জবাবদিহিতা
  2. ন্যায়পরায়ণতা
  3. আইনের শাসন
  4. স্বেচ্ছাচারিতা
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচারিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বেচ্ছাচারিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উল্লেখ্য,
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

⇒ এই চ্যালেঞ্জগুলো উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কার্যকর সংসদ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের (নির্বাচন কমিশন, দুদক) স্বাধীনতা ও সক্রিয়তা, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চা, তথ্য অধিকার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন ইত্যাদি সুশাসনকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩৮৭.
কোনটি সুশাসনের পরিচয় দেয়?
  1. গণচেতনা
  2. গণসন্তুষ্টি
  3. গণআকাঙ্ক্ষা
  4. গণস্বার্থ
সঠিক উত্তর:
গণসন্তুষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণসন্তুষ্টি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ইত্যাদি সুশাসনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
- গণসন্তুষ্টি সুশাসনের পরিচয় দেয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩৮৮.
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনের স্তম্ভ নয় কোনটি? 
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. বাক স্বাধীনতা 
  4. অংশগ্রহণ
সঠিক উত্তর:
বাক স্বাধীনতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক স্বাধীনতা 
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ নয় - বাক স্বাধীনতা 

• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের স্তম্ভ:
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৯.
“Good Governance and Development” - বইটির লেখক কে?
  1. ক) ব্রায়ান সি. স্মিত
  2. খ) ব্রায়ান স্মিত
  3. গ) জন কার্ভার
  4. ঘ) ক + খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা
উক্ত বইটি Brian C Smith ও Brian Smith যৌথভাবে লিখেন এবং ২০০৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
Brian C Smith - এর লেখা অন্যান্য বই - Understanding Third World politics, Decentralization: The Territorial Dimension of the State, Quantitative Spectroscopy ইত্যাদি।
৩৯০.
নিচের কোনটি ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব?
  1. নৈতিকতা
  2. ধর্ম
  3. মূল্যবোধ
  4. আইন
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যাতে সুখে-শান্তিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে, রাষ্ট্র সেজন্য আইন প্রণয়ন করে।
- আইন ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।
- আইনের শাসনের মূলকথা হচ্ছে, আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৯১.
কোথায় সুশাসন নেই?
  1. যেখানে দুর্নীতি আছে
  2. যেখানে শিক্ষা নেই
  3. যেখানে সচেতনতা নেই
  4. যেখানে স্বাধীন প্রচার মাধ্যম নেই
সঠিক উত্তর:
যেখানে দুর্নীতি আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেখানে দুর্নীতি আছে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি ⇒ দুর্নীতি।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ অনেকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।

উল্লেখ্য,
- যেখানে শিক্ষা নেই, সেখানেও সুশাসন নেই। তবে যেহেতু উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে দুর্নীতি নেওয়া হয়েছে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সিপিডি।
৩৯২.
সুশাসনের ধারণাটি কেমন?
  1. একমাত্রিক
  2. বহুমাত্রিক
  3. দ্বিমাত্রিক
  4. কোনটিই  নয়
সঠিক উত্তর:
বহুমাত্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহুমাত্রিক
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ : Good Governance. 
- সুশাসনের অর্থ : নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- এর ধারণার উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- এটির ধারণা উদ্ভাবিত হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- সুশাসনের ধারণা হল : বহুমাত্রিক।

উল্লেখ্য, 
- বর্তমান সময়ের প্রায় সব রাষ্ট্রই কল্যাণকর রাষ্ট্র।
- সুশাসন একটি দেশের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৯৩.
UNCAC জাতিসংঘের কোন ধরনের কনভেনশন?
  1. অবকাঠামো
  2. মানবাধিকার
  3. দুর্নীতি বিরোধী
  4. গুম প্রতিরোধ
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি বিরোধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি বিরোধী
ব্যাখ্যা
দূর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক এজেন্ডা:
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)
- পরিচয়: জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল : মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী : জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।

- এটি পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র কভার করে:
i) prevention;
ii) criminalization and law enforcement;
iii) international cooperation;
iv) asset recovery;
v) technical assistance and information exchange.

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Mexico সরকারি ওয়েবসাইট
৩৯৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. আমলাতন্ত্র
  3. দুর্নীতি দমন
  4. স্থানীয় সরকার
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি দমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি দমন
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দুর্নীতি দমনকে বিবেচনা করা হয়। 
- কারণ দুর্নীতি সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।
- দুর্নীতির ফলে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট হয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যায়।
- সুশাসনের মৌলিক উপাদানসমূহ- যেমন ন্যায়বিচার, কার্যকারিতা, অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীলতা- দুর্নীতির কারণে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
- এছাড়া বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার- এই তিনটি ক্ষেত্রের কার্যকারিতাও মূলত দুর্নীতি দমনের উপর নির্ভরশীল। 
- অর্থাৎ দুর্নীতি দমন ছাড়া এসব ক্ষেত্রের কোনোটিই কার্যকরভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৯৫.
বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র কোন ধাঁচের?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. সমাজতান্ত্রিক
  3. উপনিবেশিক
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপনিবেশিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপনিবেশিক
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র এখনো অনেকটাই উপনিবেশিক আমলের ধাঁচে কাজ করে।
- উপনিবেশিক সংস্কৃতির কারণে আমলাতন্ত্রের মধ্যে 'জনগণের সেবক' অপেক্ষা 'জনগণের প্রভু' সংস্কৃতি বেশি দেখা যায়।
- জনপ্রতিনিধিদের অনেকের মধ্যে আবার অমনোযোগিতা অথবা অদক্ষতাজনিত কারণে আমলাদের উপরে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ার মনোভাব দেখা যায়।
- এর ফলে জনগণের সাথে জনগণের প্রতিনিধির দূরত্ব তৈরি হয়, যা বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি বড় অন্তরায় হিসাবে বিরাজ করছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৯৬.
সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে -
  1. শান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলে
  2. আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
  3. সুসম্পর্ক গড়ে তোলে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
- এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৯৭.
সুশাসনের ধারণা উদ্ভব হয় কত সালে?
  1. ১৯৮২ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

উল্লেখ্য,
- তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।
- তৃতীয় বিশ্বে সুশাসনের সমস্যাকে সব সমস্যার মূল কারণ হিসাবে সনাক্ত করেছে দাতারা।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে
- বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৮.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. জবাবদিহিতা
  4. ন্যায়পরায়ণতা
সঠিক উত্তর:
স্বজনপ্রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বজনপ্রীতি
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আবশ্যকীয় উপাদান।

অন্যদিকে,
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি প্রভৃতি সুশাসনকে ব্যাহত করে।
- সুশাসনের উপাদান নয় - স্বজনপ্রীতি

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
৩৯৯.
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কোন স্তম্ভ বলা হয়?
  1. প্রথম স্তম্ভ
  2. দ্বিতীয় স্তম্ভ
  3. তৃতীয় স্তম্ভ
  4. চতুর্থ স্তম্ভ 
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ স্তম্ভ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্থ স্তম্ভ 
ব্যাখ্যা

স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক (Edmund Burke) প্রথম সংবাদপত্রকে "ফোর্থ এস্টেট" বা চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি ১৭৮৭ সালে হাউস অফ কমন্সে বিতর্ক করার সময় এই শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।  গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।
- থমাস জেফারসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমাকে যদি এই বিকল্পটি দেওয়া হয় যে তুমি কি সংবাদপত্রবিহীন সরকার চাও, না সরকারবিহীন সংবাদপত্র চাও? তখন আমি পরেরটা বেছে নেব।’
- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট সংবাদপত্র সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, চারটি আক্রমণাত্মক সংবাদপত্র হাজারটা বেয়নেটের চেয়েও ক্ষতিকর।’
- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, কোনো দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম থাকলে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হানা দিতে পারে না।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। এই মূল ভিত্তিগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়, ক্ষমতার সুষম বন্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে শাসনকার্যকে পরিচালনা করতে সার্বিক সহায়তা করে। স্তম্ভগুলো হলো:
১. আইন বিভাগ,
২. শাসন বিভাগ,
৩. বিচার বিভাগ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।

৪০০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. শিক্ষা ব্যবস্থা
  2. অর্থনৈতিক ভারসাম্য 
  3. নেতৃত্বের বলিষ্ঠতা
  4. গণতান্ত্রিক চর্চা ও আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক চর্চা ও আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক চর্চা ও আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গণতান্ত্রিক চর্চা ও আইনের শাসন। 

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance। সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। 
-সুশাসন মূলত একটি শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক চর্চা, মূল্যবোধের বিকাশ, উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

• মোটকথা সুশাসন হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিফলন যেখানে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, সর্বোচ্চ স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে, আইনের শাসন থাকবে, নীতির গণতন্ত্রায়ন থাকবে, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে, মতামত ও পছন্দের স্বাধীনতা থাকবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। 
- জাতিসংঘের ভাষায়- 'সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন'।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।