সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক নিবিড় ও পরস্পর নির্ভরশীল।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।
• সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- আইনের শাসন: সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- পরমত সহিষ্ণুতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
- স্বচ্ছতা: রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এই মূল্যবোধের চর্চা সাধারণ জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।
- ন্যায়পরায়ণতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়। সমাজে এমন নাগরিকের সংখ্যা বেশি হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হয়। তাই একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতার বোধ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।
- দায়বদ্ধতা: নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করে না বরং রাষ্ট্রের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেগুলোও ভালোভাবে পালন করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কাম্য।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।