বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা / ১৪ · ১০১২০০ / ১,৩২৩

১০১.
সুশাসনের কোন উপাদানটি শাসনব্যবস্থার আইন-কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্তকে স্পষ্ট ও বোধগম্য করে তোলে?
  1. গণতন্ত্র
  2. আইনের শাসন
  3. স্বচ্ছতা
  4. দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল।
- দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা।
- শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়।
- নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১০২.
ধর্ম চর্চার অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক অধিকার
  2. খ) নৈতিক অধিকার
  3. গ) অর্থনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
- সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা যেসব অধিকার ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।
বিভিন্ন সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
১০৩.
কত সালের রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছে?
  1. ১৯৮৯ সাল
  2. ১৯৯১ সাল
  3. ১৯৯২ সাল
  4. ১৯৯৪ সাল
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান: 
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছে।
- এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
- ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।
- ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৪.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী হিসেবে অভিহিত করেন?
  1. স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  2. লবি গোষ্ঠী
  3. স্বার্থকারী গোষ্ঠী
  4. সমদৃষ্টিসম্পন্ন গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন। অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন। অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

- অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন।

যেমন:- 
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী, 
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী, 
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী, 
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী। 

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৫.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হিসেবে কোনটিকে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. আইনসভা
  2. নির্বাচন
  3. জনমত
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র:
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- বর্তমান সময়ের বিশালায়তন রাষ্ট্রগুলোর বিপুল জনগোষ্ঠীর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে তাই জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- এই নির্বাচনকার্য সম্পন্ন হয় দলীয় ভিত্তিতে।
- বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকারকে তাই দলীয় সরকার বলা হয়।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১০৬.
ই-গভর্নেন্স প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে?
  1. সরকার থেকে নাগরিক
  2. নাগরিক থেকে সরকার
  3. সরকার থেকে সরকারি কর্মচারী
  4. ক, খ ও গ
ব্যাখ্যা
ই-গভর্ন্যান্স:
- সকল প্রকার সরকারি ও বেসরকারি সেবা-প্রদান, 'ব্যাক-অফিস' কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদান, লেনদেন এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইলেক্ট্রনিক, কম্পিউটিং এবং আইসিটির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে, কম খরচে, সঠিকভাবে এবং সহজে সকল ধরনের কর্মকাণ্ড বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াকে ই-গভর্নেন্স বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায় যে, শাসন ব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি কার্য-প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক্স বা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগই হচ্ছে ই-গভর্নেন্স।
- আর সে কারণেই ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্সও বলা হয়ে থাকে।
- কোনো একটি দেশে সুপ্রশাসনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।
- আর ডিজিটাল গভর্নেন্স প্রচলনের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব।
- ফলে নাগরিক-হয়রানি এবং সেবা-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় হয়রানির অবসান ঘটে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। 

⇒ ই-গভর্নেন্সে সরকারি- বেসরকারি সেবা ও তথ্যাদি আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াটি সরকার থেকে সরকারি সংস্থা (Government to Government Agencies i.e. G2G), সরকার থেকে নাগরিক (Government to Citizen i.e. G2C), নাগরিক থেকে সরকার (Citizen to Government i.e. C2G), সরকার থেকে সরকারি কর্মচারী (Government to Employee i.e. G2E) এবং/অথবা সরকার থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে (Government to Business i.e. G2B) সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৭.
নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের -
  1. ধর্ম
  2. সংস্কৃতি
  3. জীবন যাপন
  4. আচরণ
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের - আচরণ৷
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে৷
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

১০৮.
“Compassion is the basis of morality.” - কার উক্তি?
  1. ক) Georg Wilhelm Friedrich Hegel
  2. খ) Arthur Schopenhauer
  3. গ) Immanuel Kant
  4. ঘ) Karl Marx
ব্যাখ্যা
Arthur Schopenhauer - একজন জার্মান দার্শনিক।
১০৯.
UNCAC কোন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) মানবপাচার বোধ
  2. খ) যুদ্ধবন্দিদের অধিকার
  3. গ) দুর্নীতি রোধ
  4. ঘ) সংখ্যালঘু অধিকার
ব্যাখ্যা
UNCAC (United Nations Convention Against Corruption) হলো জাতিসংঘ গৃহীত দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক একটি বৈশ্বিক কনভেনশন।

- এটি ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয় এবং ২০০৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। বাংলাদেশসহ ১৮৭টি দেশ এটির অংশীদার।

(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
১১০.
UNDP (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি) সুশাসনের কোন উপাদানের উল্লেখ করেনি?
  1. ক) সহানুভূতিশীলতা
  2. খ) সকলের অংশগ্রহণ
  3. গ) কৌশলগত লক্ষ্য
  4. ঘ) সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
ব্যাখ্যা
UNDP (জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে এবং সুশাসনের ৯ টি উপাদানের উল্লেখ করে। এগুলো হলোঃ স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা এবং কৌশলগত লক্ষ্য। সূত্র- ইউএনডিপি ওয়েবসাইট।
১১১.
'শ্বেতপত্র' কী?
  1. সাদা চিঠি
  2. সংবাদপত্র
  3. আইন
  4. সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ব্যাখ্যা বিবরণী
ব্যাখ্যা
'শ্বেতপত্র' হলো সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ব্যাখ্যা বিবরণী।

শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উদাহরণ স্বরূপ:
- চার্চিল হোয়াইট পেপার (১৯২২) এবং একীভূত প্যালেস্টাইনীয় রাজ্য গঠন সংক্রা্ন্ত শ্বেতপত্র (১৯৩৯) উল্লেখ করা যায়।
- অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতপত্রের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে পূর্ণ কর্মসংস্থান (১৯৪৫) এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শ্বেতপত্র (১৯৬৪)।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১২.
রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  2. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
  3. আইনের শাসন
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• আইনের শাসন:
- সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা 
  2. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
  3. রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ
  4. আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ।
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা, রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করণীয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১১৪.
নিম্নের কোনটি বিশ্বব্যাংকের দেওয়া সুশাসনের চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. দুর্নীতি
  2. অংশগ্রহণ
  3. আইনি কাঠামো
  4. দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা

- দুর্নীতি বিশ্বব্যাংকের দেওয়া সুশাসনের চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়।

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:

- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১১৫.
সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামক নয় কোনটি?
  1. নারীর ক্ষমতায়ন
  2. গণতান্ত্রিক সরকার
  3. দক্ষ আমলাতন্ত্র
  4. গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব
ব্যাখ্যা
- গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামক নয়। 

সুশাসন:

- এর অর্থ যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- জনগণের অংশগ্রহণমূলক আইনের শাসন ও অবাধ তথ্য প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের উন্নত সেবা পাওয়ার অধিকার সুশাসন নিশ্চিত করে।
- 'গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব' সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামক নয়।
- এই পক্ষপাতিত্বে কোন একটি বিশেষ ব্যক্তি, দল বা মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে এবং জনমত বিভ্রান্ত হয়।
- গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব প্রতিরোধে সঠিক ভাবে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

- সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামক: 
→ আইনের শাসন,
→ গণতান্ত্রিক সরকার,
→ ই-গভর্ন্যান্স,
→ দক্ষ আমলাতন্ত্র,
→ স্বাধীন বিচার বিভাগ,
→ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,
→ নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৬.
নিচের কোনটি সুশাসনকে বাঁধাগ্রস্ত করে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. সৃজনশীলতা
  3. কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা যথার্থ শাসন। অংশগ্রহণ, দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রভৃতি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

-অন্যদিকে,
নৈতিকতা কিংবা সৃজনশীলতা সুশাসনের ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়।
কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা জনগণের মৌলিক অধিকারকে সংকোচিত করে যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১১৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে নিচের কোনটি নিশ্চিত করতে হবে?
  1. একদলীয় শাসন ব্যবস্থা
  2. একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি
  3. মত প্রকাশের উপর নিষেধাজ্ঞা
  4. জনসম্মতির অভাব
ব্যাখ্যা

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

সুশাসন:

- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয় ।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়। এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সরকারের করণীয়:
• সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
• মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
• শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
• দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
• জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
• দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
• জনসম্মতি।
• সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ৷
• স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
• একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১১৮.
সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয় কোনটিকে?
  1. সততাকে
  2. মূল্যবোধকে
  3. সুশাসনকে
  4. নৈতিকতাকে
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।

⇒ 'সুশাসন' হলো একটি কাঙিক্ষত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও  সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

১১৯.
রাষ্ট্রের উপাদানসমূহের মধ্যে সরকার কততম স্থানে রয়েছে?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের উপাদান:
- রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে।

⇒ উপাদান সমূহ:
১) জনসমষ্টি।
২) নির্দিষ্ট নির্দিষ্ট ভূখন্ড।
৩) সরকার।
৪) সার্বভৌমত্ব।

- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও
সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বোর্ড বই ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২০.
নিচের কোনটি ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) আমলাতন্ত্র
  2. খ) বিচার বিভাগ
  3. গ) সংসদীয় ব্যবস্থা
  4. ঘ) গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
- বিচার বিভাগ একটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচারের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
- এটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষা, আইনের শাসন বজায় রাখা, সংবিধানকে সমুন্নত রাখা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১২১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করনীয়-
  1. মত প্রকাশ করা
  2. নিয়মিত কর প্রদান
  3. জাতীয় সম্পদ রক্ষা না করা 
  4. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

 • সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করনীয়: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক।

১২২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কোন প্রতিষ্ঠানটি সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি সেক্টরের উপস্থিতির উপর গুরুত্বারোপ করেছে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. UNDP
  4. IMF
ব্যাখ্যা
UNDP সুশাসনের বিষয়ে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি সেক্টর এবং সুশীল সমাজের উপস্থিতির উপর গুরুত্ব আরোপ করে।
- সংস্থাটির মতে টেকসই মানব উন্নয়নের জন্যে বেসরকারি সেক্টর এবং সুশীল সমাজ গুরুত্বপূর্ণ।
(সূত্রঃ UNDP)
১২৩.
সুশাসনকে সরকারের কোন দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. রাজনৈতিক শক্তি
  2. অর্থনৈতিক নীতি
  3. উচ্চতর দক্ষতা
  4. সামাজিক প্রভাব
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১২৪.
উৎপত্তিগত অর্থে governance শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ফারসি
  2. গ্রিক
  3. স্প্যানিশ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
Governance:
- Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এর অর্থ শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।
- মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।

উল্লেখ্য,
- উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল। ল্যাটিন ভাষায় গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে।

⇒ Good Governance:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Good Governance শব্দটির অর্থ কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: i) ICSI.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১২৫.
কোন ধরনের অনুভূতি সমাজের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে?
  1. সুশীলতা 
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. সহমর্মিতা
  4. সচেতনতা
ব্যাখ্যা

সহমর্মিতা: 
- সহমর্মিতা একটি অন্যতম মানবীয় গুন।
- সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যকে আমরা পরের তরে, এটা সহমর্মিতার মূল কথা।
- সহমর্মিতার অনুভূতি সমাজের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

অপরদিকে, 
- সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ  নাগরিকের অন্যতম গুন।
- সব ধরনের শ্রমের মর্যাদার প্রতি  শ্রদ্ধা করাকে শ্রমের মর্যাদা  বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১২৬.
সুশাসনের পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা 
  2. শক্তিশালী সরকার
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4.  অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সরকার ও জনগণকে আস্থার সম্পর্কের ভিত্তিতে বাঁধার নাম সুশাসন।
- সুশাসন জনপ্রশাসনের একটি- নব্য সংস্কৃতি।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- সুশাসনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য-টেকসই মানবাধিকার উন্নয়ন।
- সুশাসনের ধারণাটি- আপেক্ষিক।
- সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে- সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি, ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৭.
সুশাসনের ধারণাটি কোন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত হয়?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. সার্ক
ব্যাখ্যা
• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১২৮.
কীসের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে?
  1. ক) উচ্চশিক্ষা
  2. খ) অধিকার ভোগ
  3. গ) ধর্মীয় শিক্ষা
  4. ঘ) রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার অপরিহার্য।
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা। এগুলো ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২৯.
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?
  1. সুশাসন
  2. সামাজিক অবক্ষয়
  3. মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. শিক্ষার অবক্ষয়
ব্যাখ্যা

গণমাধ্যম:
- যেসব মাধ্যমে জনগণের কাছে সংবাদ, মতামত ও বিনোদন পৌঁছানো বা পরিবেশন করা হয় তাকে গণমাধ্যম বলে। এটি সাধারণ মানুষের সিংহভাগে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহৃত যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম।
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ধরা হয়।
- নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় ধরা হয়।
- গণমাধ্যম জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন সুসংহত করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৩০.
উপযোগবাদ তত্ত্বের জনক -
  1. ক) আইভরি জেনিংস
  2. খ) জেরেমি বেন্থাম
  3. গ) আরজ আলী মাতব্বর
  4. ঘ) অধ্যাপক লাস্কি
ব্যাখ্যা
- উপযোগবাদ তত্ত্বের জনক বা প্রতিষ্ঠাতা ইংরেজ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম।
- তিনি ছিলেন একজন আইনতত্ত্ববিদ ও সমাজ সংস্কারক।
- তিনি যুক্তরাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'.
- এই গ্রন্থে তিনি উপযোগবাদ তত্ত্বটি প্রথম ব্যাখ্যা করেন।
- এই মতবাদ অনুযায়ী, 'যা কিছু আনন্দদায়ক তাই ভালো।'
১৩১.
নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) স্বাধীন বিচার বিভাগ
  2. খ) অস্বচ্ছতা
  3. গ) জবাবদিহিতা
  4. ঘ) অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সমঅংশীদারিত্ব, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা ইত্যাদি সুশাসনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

পক্ষান্তরে,

দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অস্বচ্ছতা, ক্ষমতার অপব্যবহার প্রভৃতি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১৩২.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৬টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

আইন ও আইনের উৎস:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

♦ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
• প্রথা,
• ধৰ্ম,
• বিচারকের রায়,
• ন্যায়বিচার,
• বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, 
• আইনসভা।

♦ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
• প্রথা
• ধর্ম,
•  বিচারকের রায়,
• ন্যায়বিচার,
• বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
• আইনসভা,
• জনমত।

♦  জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
• সার্বভৌমের আদেশ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৩৩.
'জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন' সুশাসনের কয়টি উপাদান উল্লেখ করেছে?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন (UNHRC) সুশাসনের উপাদানের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
এগুলো হলো:
- স্বচ্ছতা
- দায়বদ্ধতা
- জবাবদিহিতা
- অংশগ্রহণ এবং
- সংবেদনশীলতা।

(তথ্যসূত্র: UNHRC ওয়েবসাইট)
১৩৪.
কোনটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার?
  1. ভোটাধিকার
  2. মানবাধিকার
  3. মৌলিক অধিকার
  4. নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
মানুষের অধিকার:
- মানবাধিকার হলো ব্যক্তির বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা।
- মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত অধিকার, যা তাকে পূর্ণভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে।
- মানবাধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, অর্থাৎ স্থান বা আইনের পার্থক্য অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হয় না।
- যদিও মানবাধিকার আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত, এগুলোর অস্তিত্ব রাষ্ট্রব্যবস্থা শুরু হওয়ার আগেও ছিল।

অন্যদিকে,
- মৌলিক অধিকার হলো মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য অধিকার, যা সাধারণত সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র নির্ধারিত করে থাকেন।
- আইনগত অধিকার হলো আইনের দ্বারা নির্ধারিত অধিকার।
- ভোটাধিকার হলো একটি মৌলিক অধিকার, যার মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী সরকার গঠন বা পরিবর্তন করার জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
- ভোটাধিকার স্বীকৃতি সাধারণত রাষ্ট্র বা সরকার দেয়।
- নৈতিক অধিকার হলো মানুষের বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত অধিকার, যার আইনি ভিত্তি নেই।

তথ্যসূত্র:- সিভিক এডুকেশন, বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩৫.
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
  1. ক) কার্ল মার্ক্স
  2. খ) ম্যাকিয়াভেলি
  3. গ) জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. ঘ) মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা
• মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill (1806-1878)]-এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
• জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা। আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।
• মিলের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছে তাঁর দু'টি কালজয়ী গ্রন্থের মাধ্যমে। এই দু'টি গ্রন্থ হল On Liberty এবং Representative Government।
• ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলতে রাষ্ট্রের কার্যসংক্রান্ত সেই মতবাদকে বুঝায় যা রাষ্ট্রের কার্যক্ষেত্রকে সংকুচিত করে এবং ব্যক্তিকে অধিক মাত্রায় স্বাধীনতা দান করে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা রাষ্ট্রকে ক্ষতিকর অথচ প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান মনে করে। 

অন্যদিকে, 
• ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কুকে।
• জাতি রাষ্ট্রের প্রবক্তা ম্যাকিয়াভেলি।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় কোনটি?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. অস্বচ্ছতা
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৩৭.
AFDB - এর মতে সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) আইন ও বিচার বিভাগীয় সংস্করণ
  2. খ) অংশগ্রহণ
  3. গ) দুর্নীতি দমন
  4. ঘ) সহানুভূতিশীলতা
ব্যাখ্যা
- AFDB সুশাসন এর ৫টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা:-
১.জবাবদিহিতা
২.স্বচ্ছতা
৩.দুর্নীতি দমন
৪.অংশগ্রহণ
৫. আইন ও বিচার বিভাগীয় সংস্করণ।

তথ্যসূত্র:- AFDB এর ওয়েবসাইট।
১৩৮.
বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী সুশাসনের স্তম্ভ কোনটি?
  1. ক) সুযোগের সমতা
  2. খ) মানবাধিকার
  3. গ) জবাবদিহিতা
  4. ঘ) আইনী কাঠামো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের স্তম্ভ
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। এ চারটি স্তম্ভ হল - 
(১) দায়িত্বশীলতা 
(২) স্বচ্ছতা 
(৩) আইনী কাঠামো ও 
(৪) অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট। 
১৩৯.
‘Government of the people, by the people, for the people’ কার উক্তি?
  1. ম্যাকাইভার
  2. স্যার জন সীলি
  3. মার্টিন লুথার কিং
  4. আব্রাহাম লিংকন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- গণতন্ত্র বলতে জনগণের হাতে ক্ষমতা রয়েছে এমন সরকারকে বোঝায়।
- গণতন্ত্রের নিখুঁত সংজ্ঞা দিয়েছেন লিংকন।
- আব্রাহাম লিংকন-এর ভাষ্য মতে, ‘Government of the people, by the people, for the people’.
- অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’

উল্লেখ্য,
- আব্রাহাম লিংকন ছিলেন একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী।
- ১৮৬১ সালে আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেন।
- তিনি আমেরিকার অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট।

তথ্যসূত্র:  i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
              ii) ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১৪০.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের যে চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) প্রাতিষ্ঠানিকতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) আইনী কাঠামো
ব্যাখ্যা
''সুশাসন'' প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন। সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’।
সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Government এর মতই Governance শব্দটি এসেছে ‘‘kubernao’’ নামক ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হল−
(i) দায়িত্বশীলতা
(ii) স্বচ্ছতা
(iii) আইনী কাঠামো
(iv) অংশগ্রহণ

উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন বই।
১৪১.
সুশাসনের মূলনীতির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  2. কর্তৃত্ববাদী শাসন
  3. কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  4. স্বজন প্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Good Governance.
- সুশাসন প্রত্যয়টি সর্বপ্রথম ব্যবহার করে - জাতিসংঘ।
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- জাতিসংঘের সংস্থা UNDP সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে - সুশাসন।
- সুশাসনের মূলনীতি হচ্ছে - স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। 
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন - আইনের শাসন।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকার গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত এবং সম্পাদিত কাজের জন্য আইনসভার নিকট
দায়বদ্ধ থাকে।
- আইন সভার সদস্যগণ জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৪২.
সুশাসনকে গতিশীলতা দান করে -
  1. জনগণের অংশগ্রহণ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক দূরদর্শীতা
  4. নতুন আইন প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
• জনগণের অংশগ্রহণ:
- অংশগ্রহণ অর্থ হলো রাজনৈতিক ও শাসন কাজে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ, নীতি প্রণয়নে নাগরিকের সম্পৃক্ততা, তথ্য, মত ও  পরামর্শমূলক কাজে জনগণের অংশীদারিত্ব, রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যৌথ উদ্যোগ, যৌথ পরিকল্পনা এবং জনগণের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ।
- রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসনকে গতিশীলতা দান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৪৩.
জাতীয় সংহতির জন্যে কী প্রয়োজন?
  1. ক) সম্পদের সুষম বন্টন
  2. খ) শক্তিশালী সামরিক বাহিনী
  3. গ) রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু বিকাশ
  4. ঘ) সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
- জাতীয় সংহতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একই ভূখণ্ডে বসবাসকারী পৃথক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জাতীয় একাগ্রতা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার জন্যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১৪৪.
'সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।' উক্তিটি কার?
  1. ডাইসি
  2. গার্নার
  3. লাস্কি
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।"
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।"
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে।
- আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১৪৫.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. জনকল্যাণ
  4. কেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা

• সুশাসনের অন্যতম প্রধান উপাদানসমূহ-
- আইনের শাসন,
- জবাবদিহিতা,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- স্বচ্ছতা,
- সমতা ও ন্যায্যতা,
- সংবেদনশীলতা,
- কার্যকারিতা ও দক্ষতা,
- কৌশলগত দৃষ্টি,
- বিকেন্দ্রীকরণ
- জনকল্যাণ,
- সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা,
- দুর্নীতি প্রতিরোধ
- জবাবদিহিতা ইত্যাদি।

• অপরদিকে, সুশাসনের পথে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।

১৪৬.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সুশাসনের কতটি উপাদানের উল্লেখ করেছে?
  1. ৮টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
(তথ্যসূত্র: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ওয়েবসাইট)
১৪৭.
রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস কে?
  1. ক) জনগণ
  2. খ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. গ) রাজনৈতিক দল
  4. ঘ) আমলা 
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে নেতারা জনমত গঠন করেন।
- জনগণ রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস।
- জনগণ যাতে রাষ্ট্রীয় কার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে সেদিকে নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারণ নাগরিকেরা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যদি অংশগ্রহণ করে তাহলে সে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন করা হয় কবে? 
  1. ৮ ডিসেম্বর
  2. ৯ ডিসেম্বর
  3. ১০ ডিসেম্বর
  4. ১২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

- ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক ৩০টি ধারা সম্বলিত সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরের দিন ১০ ডিসেম্বরকে প্রতিবছর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে মোট ৩০ টি ধারা রয়েছে।
- এটি প্রস্তুত করেন নোবেল বিজয়ী ওরেন ক্যাসিন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট ও ব্রিটানিকা।

১৪৯.
সুশাসন হচ্ছে একটি-
  1. ক) পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা
  2. খ) পুরাতন ধ্যান-ধারণা
  3. গ) আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  4. ঘ) আদর্শ পরিচালনা ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ইত্যাদি থাকে তাকে সুশাসন বলে। তাই সুশাসন আদর্শ পরিচালনা ব্যবস্থা। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৫০.
‘খ্যাতি বা সম্মান অর্জনের অধিকার’ কোন শ্রেণির অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. সাংস্কৃতিক অধিকার
  2. আইনগত অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. রাজনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে।  
- সামাজিক অধিকার সমূহ নিম্নরূপ:
i. জীবনের অধিকার,
ii. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার,
iii. চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
iv. সভা-সমিতির অধিকার, 
v. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার ইত্যাদি । 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।

১৫১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় হচ্ছে -
  1. সন্তানদের শিক্ষাদান
  2. আইন মান্য করা
  3. সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  4. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
→ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
→ দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
→ জনসম্মতি।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
→ স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
→ একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৫২.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. Transparency
  2. Predictability
  3. Participation
  4. Responsiveness
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় Responsiveness বা প্রতিক্রিয়াশীলতা। 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও সুশাসন:

- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি। এগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)।

উৎস: i) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৫৩.
জাতিসংঘ কত সালে সুশাসনের 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১৫৪.
ইউএনডিপি (UNDP) এর মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।
- ইউএনডিপি এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: ইউএনডিপি ওয়েবসাইট।

১৫৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো -
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. জনসচেতনতা বৃদ্ধিকরণ
  3. সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান
  4. অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া
ব্যাখ্যা
• সুশসান:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। একজন নাগরিক যখনই কোনো অধিকার ভোগ করতে চায় তখনই এর সাথে কিছু কিছু কর্তব্য পালনের বিষয়ও চলে আসে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করত হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়। এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

 • সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন।
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
→ আইন মান্য করা।
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন। (অর্থাৎ সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান।)
→ নিয়মিত কর প্রদান।
→ রাষ্ট্রের সেবা করা।
→ সন্তানদের শিক্ষাদান।

উল্লেখ্য, 
সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন (Selection of honest and qualified leadership):
- নির্বাচনে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সততা ও বিজ্ঞতার সাথে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচিত করা উচিত।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
-এই জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের অন্যতম কর্তব্য হলো সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৫৬.
ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস - 
  1. ৫টি 
  2. ৬টি 
  3. ৭টি 
  4. ৮টি 
ব্যাখ্যা

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৫৭.
জাতিসংঘ দুর্নীতি বিরোধী সংস্থায় (UNCAC) বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে- 
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থায় (UNCAC) বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে : ২০০৭ সালে। 

• মেরিডা কনভেনশন:
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯১টি দেশ।
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

১৫৮.
ই-গভর্ন্যান্স প্রচলনের মাধ্যমে কোন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব হয়?
  1. সরকারি ব্যবস্থায়
  2. বেসরকারি ব্যবস্থায়
  3. ক ও খ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ই-গভর্ন্যান্স:
- সকল প্রকার সরকারি ও বেসরকারি সেবা-প্রদান, 'ব্যাক-অফিস' কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদান, লেনদেন এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইলেক্ট্রনিক, কম্পিউটিং এবং আইসিটির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে, কম খরচে, সঠিকভাবে এবং সহজে সকল ধরনের কর্মকাণ্ড বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াকে ই-গভর্নেন্স বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায় যে, শাসন ব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি কার্য-প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক্স বা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগই হচ্ছে ই-গভর্নেন্স।
- আর সে কারণেই ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্সও বলা হয়ে থাকে।
- কোনো একটি দেশে সুপ্রশাসনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।
- আর ডিজিটাল গভর্নেন্স প্রচলনের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব।
- ফলে নাগরিক-হয়রানি এবং সেবা-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় হয়রানির অবসান ঘটে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ ই-গভর্নেন্সে সরকারি- বেসরকারি সেবা ও তথ্যাদি আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াটি সরকার থেকে সরকারি সংস্থা (Government to Government Agencies i.e. G2G), সরকার থেকে নাগরিক (Government to Citizen i.e. G2C), নাগরিক থেকে সরকার (Citizen to Government i.e. C2G), সরকার থেকে সরকারি কর্মচারী (Government to Employee i.e. G2E) এবং/অথবা সরকার থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে (Government to Business i.e. G2B) সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৯.
আমলাতন্ত্র পেশাগত ও নিম্নের কোন মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে?
  1. নৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৬০.
কোনটি রাষ্ট্রের মুখ্য উপাদান নয়?
  1. ক) জাতীয়তাবাদ
  2. খ) সার্বভৌমত্ব
  3. গ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  4. ঘ) জনসমষ্টি
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র অবশ্যই একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড।

- রাষ্ট্রের মূখ্য উপাদান চারটি। যথা:
১. স্থায়ী জনসমষ্টি,
২. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
৩. সরকার ও
৪. সার্বভৌমত্ব।

- রাষ্ট্রের গৌণ উপাদান:
১. স্থায়িত্ব,
২. জাতীয়তাবাদ,
৩. অধিকার ও সাম্য,
৪. সম্পর্ক স্থাপনের স্বাধীনতা,
৫. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইত্যাদি।

১৬১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নিম্নলিখিত কোন উপাদানটি আবশ্যক নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. দক্ষতা
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. মানবাধিকার সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
'স্বেচ্ছাচারিতা' সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যক নয়, এটি সুশাসনের অন্তরায় নয়।
 
সুশাসনের জন্য নিম্নলিখিত উপাদানগুলি আবশ্যক:
⇒ আইনের শাসন;
⇒ অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
⇒ স্বচ্ছতা;
⇒ জবাবদিহিতা;
⇒ দক্ষতা;
⇒ সমতা ও অন্তর্ভুক্তি;
⇒ দুর্নীতি দমন;
⇒ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো;
⇒ দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি;
⇒ মানবাধিকার সংরক্ষণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৬২.
কোন সংস্থার এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. আইএমএফ 
  3. ইউএনডিপি 
  4. জাতিসংঘ 
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৩.
Worldwide Governance Indicators (WGI) কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন সূচক:
- বিশ্বব্যাংকের Worldwide Governance Indicators (WGI) হলো বিশ্বের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত শাসনব্যবস্থা (governance) পরিমাপের সূচক।
- এটি ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু হয়ে ১৯৯৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- WGI মোট ৩৫টি আন্তঃদেশীয় তথ্যসূত্র থেকে সংগৃহীত উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়। এসব তথ্যসূত্রের মধ্যে রয়েছে গৃহস্থালি জরিপ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জরিপ এবং বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন। এই সূচকগুলো প্রতিবছর প্রকাশিত হয়।

• WGI প্রতিবছর শাসনের ছয়টি মাত্রাকে কেন্দ্র করে যৌগিক সূচক প্রকাশ করে। এই ছয়টি মাত্রা হলো:
১) মত প্রকাশ ও জবাবদিহিতা (Voice and Accountability),
২) রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা (Political Stability),
৩) সরকারি কার্যকারিতা (Government Effectiveness),
৪) নিয়ন্ত্রক গুণমান (Regulatory Quality),
৫) আইনের শাসন (Rule of Law) এবং
৬) দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ (Control of Corruption)।

উৎস: i) বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) The Worldwide Governance Indicators 2025 Methodology.
iii) WGI 2025 Revision: Governance Estimates and Absolute Scores (1996-2024).

১৬৪.
'Political Man' বইটি কার লেখা?
  1. স্যামুয়েল হান্টিংটন
  2. সেইমুর মার্টিন লিপসেট
  3. ডেভিড স্টরম্যান
  4. গ্যাব্রিয়েল আলমন্ড
ব্যাখ্যা

- "Political Man" গ্রন্থের লেখক হলেন সেমুর মার্টিন লিপসেট।
- গ্রন্থটি তার রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের বিশ্লেষণ ও তাত্ত্বিক গুরুত্বের জন্য আমেরিকান সোসিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানজনক ম্যাকআইভার পুরস্কার অর্জন করে।

• সেমুর মার্টিন লিপসেট গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই:
- Political Man.
- American Exceptionalism: A Double-Edged Sword.
- Political Man: The Social Bases of Politics.
- The First New Nation: The United States in Historical and Comparative Perspective.
- Revolution and Counterrevolution: Change and Persistence in Social Structures.

উৎস: ব্রিটানিকা, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।

১৬৫.
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সুশাসনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলা হয়েছে কোনটিকে?
  1. নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায়ন
  3. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  4. দারিদ্র বিমোচন
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ;
- মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- দায়বদ্ধতা;
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
- ন্যাযতা; এবং
- আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

১৬৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কোন উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে?
  1. ক) জাতীয় সুশাসন নীতিমালা
  2. খ) জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল
  3. গ) ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান
  4. ঘ) গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট)
১৬৭.
সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনটি অপরিহার্য?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) ন্যায়বিচার
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুশাসন অপরিহার্য।
- শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই সুশাসনের ভূমিকা শেষ হয়ে যায় না। উন্নয়নের ফলাফল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ন্যায্যতার সাথে ভোগ করতে পারাই সুশাসনের লক্ষণ।

- একটি সমাজে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ শ্রেণি পেশার মানুষ থাকে। যেমন, বাংলাদেশে রয়েছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ।
এছাড়াও দেশটিতে আছে নানা জাতিসত্তার মানুষ। এখন এ সকল মানুষের কাছে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন না হলে সামাজিক অসন্তোষ বাড়বে।

- শুধু সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন হলেই সুশাসন হবে না। যদি সংখ্যালঘু মানুষেরা স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে তার সম্পত্তির অধিকার ভোগ না করতে পারে তাহলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্যও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। অনগ্রসর নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা তথা আইন সংস্কার জরুরি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
IDA-এর মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- International Development Association (IDA) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- এগুলো হলো: আইনের শাসন, অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা।

এছাড়াও,
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১৬৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রের সেবা করা
  2. নিয়মিত কর প্রদান
  3. আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- একজন নাগরিক যখনই কোনো অধিকার ভোগ করতে চায় তখনই এর সাথে কিছু কিছু কর্তব্য পালনের বিষয়ও চলে আসে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিম্নরূপ:
১. সামাজিক দায়িত্ব পালন
২. রাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন
৩. আইন মান্য করা
৪. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
৫. নিয়মিত কর প্রদান
৬. রাষ্ট্রের সেবা করা
৭. সন্তানদের শিক্ষাদান
৮. রাষ্ট্রীয় উন্নয়ণ কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ
৯. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
১০. আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা
১১. সচেতন ও সজাগ হতে হবে
১২. সংবিধান মেনে চলা
১৩. সুশাসনের আগ্রহ
১৪. উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭০.
সুশাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. ক) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  2. খ) সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা
  3. গ) নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম
  4. ঘ) দক্ষ জনশক্তি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের জন্যে অন্যতম পূর্বশর্ত হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ ব্যতীত আইনের শাসন তথা সুশাসন নিশ্চিত সম্ভব নয়। একইভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও সুশাসনের জন্যে অত্যাবশ্যক।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১৭১.
জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের -
  1. নব্য সংস্কৃতি
  2. প্রাণ
  3. চাবিকাঠি
  4. চালিকাশক্তি
ব্যাখ্যা
জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭২.
সুশাসনের মূল ভিত্তি কোনটি? 
  1. মতপ্রকাশ 
  2. আইনের শাসন 
  3. সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা
  4. অংশগ্রহন
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- সুশাসনের মূল ভিত্তি আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্র বা সমাজে সুবিচার, ন্যায়বিচার ও সুশৃঙ্খল প্রশাসন নিশ্চিত করে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে সবাই সমানভাবে আইনের আওতায় থাকবে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।
- এর ফলে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
- আইনের শাসন ব্যতীত জনগণের মতপ্রকাশ, ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হতে পারে না।

উল্লেখ্য, 
- সুশাসনের জন্য এমন আইনগত কাঠামোর উপস্থিতি প্রয়োজন যা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে সক্ষম।
- আবার এসব কিছুর জন্য প্রয়োজন স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

তথ্যসূত্র:  পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৩.
নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. জবাবদিহিতা
  3. অদক্ষতা
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো উত্তম শাসন বা আইনের শাসন। সুশাসন একটি চলমান ও সম্মিলিত প্রক্রিয়া। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার ও নাগরিক উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, আইনের শাসন প্রভৃতি আবশ্যকীয় উপাদান।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১৭৪.
নিচের কোনটি সুশাসনের অন্তরায়?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. ন্যায়পরায়ণতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. অস্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি হলো সুশাসনের উপাদান। এসবের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।

অন্যদিকে,
অস্বচ্ছতা, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা ইত্যাদি সুশাসনের পথে অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১৭৫.
নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্য কোনটি প্রতিষ্ঠা জরুরি?
  1. সুশাসন
  2. স্বাধীন বিচার বিভাগ
  3. কার্যকরী আমলাতন্ত্র
  4. পারিবারিক আদালত
ব্যাখ্যা
নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।

সামাজিক উন্নয়নে সুশাসন:

- সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুশাসন অপরিহার্য।
- শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই সুশাসনের ভূমিকা শেষ হয়ে যায় না।
- উন্নয়নের ফলাফল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ন্যায্যতার সাথে ভোগ করতে পারাই সুশাসনের লক্ষণ।

উল্লেখ্য,
- একটি সমাজে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ শ্রেণি পেশার মানুষ থাকে।
- যেমন, বাংলাদেশে রয়েছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ।
- এছাড়াও দেশটিতে আছে নানা জাতিসত্তার মানুষ।
- এখন এ সকল মানুষের কাছে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন না হলে সামাজিক অসন্তোষ বাড়বে।
- শুধু সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন হলেই সুশাসন হবে না।
- যদি সংখ্যালঘু মানুষেরা স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে তার সম্পত্তির অধিকার ভোগ না করতে পারে তাহলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না।
- নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্যও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।
- অনগ্রসর নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা তথা আইন সংস্কার জরুরি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭৬.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত ও ঘোষিত হয় কবে?
  1. ১৯৪৬ সালের ১০ ডিসেম্বর
  2. ১৯৪৭ সালের ১০ ডিসেম্বর
  3. ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর
  4. ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
মানবাধিকার ঘোষণাপত্র: 
- ব্যক্তি সমাজ জীবনে যেসব সুযোগ ও সুবিধার দাবিদার হয় এবং যা ছাড়া তার ব্যক্তিত্ব বিকশিত হতে পারে না, তাই মানবাধিকার।
- মানবাধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার।
- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মৌলিক মানবাধিকারসমূহ গৃহীত ও ঘোষিত হয়।
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ যে মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ঘোষণা করে সেখানে ১-৩০ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত সর্বত্রই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকারের ঘোষণা রয়েছে।
- এ জন্যই ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সনদকে বিশ্বের সকল মানুষের ম্যাগনা কাটা' বলে অভিহিত করা হয়।
- বিশ্বের যেসব দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বা প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা হচ্ছে সেসব দেশ মানবাধিকারের এই নীতিগুলোর প্রতিও শ্রদ্ধাশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭৭.
'সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন করা' উক্তিটি যে সংস্থার -
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউএনডিপি
  4. এডিবি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

⇒ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১৭৮.
সুশাসনের জন্যে কোন ধরনের শাসনব্যবস্থা উপযোগী?
  1. ক) সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
  2. খ) রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
  3. গ) গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
  4. ঘ) স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
সুশাসন ধারণাটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
সুশাসনের অন্যতম মূল বিষয় হলো কার্যকর অংশগ্রহণ।
আর শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব।
তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।

(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১৭৯.
'Critique of Pure Reason'- গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ডি এইচ পার্কার
  2. নিকোলাস রেসার
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. মেটা স্পেন্সার
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
-'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

১৮০.
Johannesburg Plan of Implementation কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা

Johannesburg Plan of Implementation:
- জোহানেসবার্গ প্ল্যান অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (Johannesburg Plan of Implementation) ২০০২ সালে গৃহীত হয়।
- এটি 'টেকসই উন্নয়নের উপর বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন (World Summit on Sustainable Development)'-এর একটি অংশ ছিল যা দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 

⇒ জোহানেসবার্গ প্ল্যান অব ইমপ্লিমেন্টেশন হলো জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা।
- ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন। 
- বিশ্বের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতীয় প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রধান গোষ্ঠীর নেতারা সহ কয়েক হাজার অংশগ্রহণকারী একত্রিত থয়েছে এই সম্মেলনে।
- খাদ্য, পানি, আশ্রয়, স্যানিটেশন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা সহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন একটি বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সহ কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই সম্মেলনে।
- মূলত এই সম্মেলন সুশাসনের টেকসই উন্নয়ন এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

১৮১.
'আইনের শাসন' এর অর্থ কি?
  1. ক) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  2. খ) আবেদন করার অধিকার
  3. গ) আইনের প্রাধান্য স্বীকার
  4. ঘ) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
- আইনের শাসনের মূল বক্তব্য হলো আইনের চোখে সবাই সমান। কেউই আইনের উর্ধ্বে নয় এবং সবাই আইনের অধীন।
অর্থ্যাৎ, আইনের শাসন মূলত আইনের প্রাধান্য স্বীকার করা।
- আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পূর্বশর্ত হচ্ছে - আইনের শাসন।
সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১৮২.
সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো-
  1. ক) গণতন্ত্র
  2. খ) বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) সংবিধান
  4. ঘ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
যথার্থ আইনের শাসন গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। যে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে, জনসাধারণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সমাজের সকল মানুষ সমান আইনগত ও বিচারিক সুবিধা পেয়ে থাকে - এমন সমাজকে বলা হয় সভ্য সমাজ। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
১৮৩.
সুশাসনের পথে সরাসরি বাধা কোনটি?
  1. রাজনৈতিক অস্থিরতা
  2. নেতৃত্বের সংকট
  3. দুর্নীতি
  4. জনগণের অসচেতনতা
ব্যাখ্যা

সুশাসনের পথে সরাসরি বাধা দুর্নীতি।

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

⇒ বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ অনেকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সিপিডি।

১৮৪.
নৈতিকতা কী ধরনের বিষয়?
  1. ক) আধুনিক
  2. খ) ধর্মীয়
  3. গ) মানসিক
  4. ঘ) রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১৮৫.
সুশাসন প্রত্যয়টির উদ্ভাবক কে?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।

⇒ 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৮৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একজন নাগরিকের করণীয় হলো-
  1. ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা
  2. সামাজিক দায়িত্ব পালন করা
  3. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা
  4. শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার ও নাগরিক উভয়কেই তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নাগরিকের করণীয় হলো:
- রাষ্ট্রের আনুগত্য প্রদর্শন করা
- আইন মেনে চলা
- নিয়মিত কর প্রদান করা
- সামাজিক দায়িত্ব পালন করা প্রভৃতি।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় হলো:
- স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা
- সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করা
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
১৮৭.
সুশাসনের কোন উপাদানটি বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. আইনি কাঠামো
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৮৮.
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ কোন ধরনের সাম্য রক্ষা করে?
  1. স্বাভাবিক
  2. আইনগত
  3. সামাজিক
  4. ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ আইনগত সাম্য রক্ষা করে।

• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা। সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৯.
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' - এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
• বিশ্বব্যাংক:
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- চারটি স্তম্ভ হল:-
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো, অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৯০.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে __________ সরকার পরিবর্তিত হয়।
  1. গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে
  2. সামরিক অভ্যুত্থানে মাধ্যমে
  3. নির্বাচনের মাধ্যমে
  4. অভিশংসনের মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
→ যে শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে।
→ এটি এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যেখানে শাসনকার্যে জনগণের সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে।
→ এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসন ব্যবস্থা।
→ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে।
→ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়। 
→ একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে, সকলের স্বার্থ রক্ষার সুযোগ থাকে এবং নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
→ বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ইত্যাদিসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯১.
সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. ধর্মীয় অনুশাসন
  3. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
  4. বিকেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো মূল্যবোধ।

সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বচ্ছতা,
- বৈধতা,
- দায়িত্বশীলতা,
- জবাবদিহিতা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা ,
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা,
- সুশীল সমাজ;
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৯২.
বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন সূচকে কোনো দেশের সূচক ০.০০ হলে, সে দেশের সু-শাসনের অবস্থা কি বলে পরিগনিত হবে? 
  1. নিচু মানের
  2. উচু মানের 
  3. মাঝারি মানের
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

“বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন সূচক” বলতে সাধারণত Worldwide Governance Indicators (WGI)–এর মূল সূচক-মান (governance estimate) বোঝানো হয়। এই স্কেলে কোনো দেশের সূচক 0.00 হলে সেটি গড়/মাঝারি অবস্থান নির্দেশ করে।

বিশ্বব্যাংক (WGI) একই “indicator”–কে একাধিকভাবে প্রকাশ করে। এবং এটা নিয়ে বিভ্রান্তি অস্বাভাবিক নয়। 

Governance estimate (প্রায় –2.5 থেকে +2.5)
WGI-এর composite indicator/মূল সূচক-মান (governance estimate) প্রকাশ করা হয় standard normal units–এ, যেখানে mean ≈ 0, এবং সাধারণত মান থাকে –2.5 থেকে +2.5;
বেশি মান = ভালো শাসন।
তাই 0.00 এখানে গড়/মাঝারি বোঝায়।

Absolute 0–100 score (Mapped score, rank নয়)
WGI আরও একটি absolute 0–100 score দেয়, যা “best-case” ও “worst-case” constructed benchmark ধরে Estimate-কে 0-100 স্কেলে ম্যাপ করে।
এখানে “0” হলো constructed worst-case anchor; বাস্তবে সবচেয়ে খারাপ দেশও সাধারণত 0 পায় না (কারণ কেউই constructed worst-case পর্যন্ত পৌঁছায় না)।
তাই “Absolute score = 0.00” ধরে সোজা ‘নিচু মানের’ সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তিসংগত নয়।


The Worldwide Governance Indicators 2025 Methodology অনুসারে:
"The figure highlights an important feature of the absolute scale: even the lowest-performing observed countries do not receive a score of zero, because none attains the constructed worst possible benchmark. Instead, each country receives an absolute score that reflects its level of governance when mapped onto the fixed 0–100 scale. This property—anchoring all estimates of governance to a fixed global scale—allows the revised WGI to report estimates of governance that are directly interpretable across both countries and years."

প্রশ্ন থেকে, "বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন সূচকে কোনো দেশের সূচক ০.০০ হলে" - যেটা Abosolute Score এ কোন দেশের ক্ষেত্রেই সাধারণত হয়না

WGI এর Excel ফাইল থেকে কয়েকটি ছোট উদাহরণ (লজিক পরিষ্কার করতে)

একই বছরে একই মাত্রায় (যেমন Voice and Accountability) দেখা যায় -

Estimate প্রায় 0 হলে স্কোরও সাধারণত মাঝামাঝি ধাঁচের এলাকায় পড়ে:
Albania (2024): estimate ≈ –0.0124, score ≈ 56.63 → অর্থাৎ 0.00 Estimate “মাঝামাঝি/মধ্যম” অবস্থান বোঝায়।

Estimate খুব কম (খুব নেগেটিভ) হলে স্কোর অনেক কম হয় এবং Estimate খুব বেশি (পজিটিভ) হলে স্কোর অনেক বেশি হয়:
Eritrea (2024): estimate ≈ –2.2898, score ≈ 16.77
Norway (2024): estimate ≈ 1.9294, score ≈ 90.62

খেয়াল করুন,
-২.৫ স্কেলে Voice and Accountability-তে সর্বনিম্ন সূচকের দেশ ইরিত্রিয়া এর মান –2.2898 হলেও,
০-১০০ এর স্কেলে Score ≈ 16.77.
অর্থাৎ, Absolute scale-এ 0 এবং 100 হলো constructed benchmark; তাই বাস্তবে সবচেয়ে খারাপ দেশও সাধারণত 0 পায় না - স্কোরটি fixed 0–100 স্কেলে ম্যাপ করা মান।

WGI-এর মূল সূচক-মান (estimate) ধরে 0.00 -> মাঝারি মানের (গ) সঠিক উত্তর ধরে নেয়া হচ্ছে।

এছাড়াও, WGI একই indicator-কে ‘percentile rank (0–100)’ হিসেবেও প্রকাশ করে; যদি প্রশ্নে র‍্যাঙ্ক/পারসেন্টাইল বোঝানো হতো, 0.00 মানে সর্বনিম্ন অবস্থান হতো - কিন্তু প্রশ্নে র‍্যাঙ্ক বলা নেই, সূচক বলা আছে।

বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন সূচক:

- Worldwide Governance Indicators (WGI) হলো শাসনব্যবস্থা পরিমাপের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগ। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে। বিশ্বব্যাংক এটি প্রকাশ করে।
- WGI মোট ৩৫টি আন্তঃদেশীয় তথ্যসূত্র থেকে সংগৃহীত উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়। এসব তথ্যসূত্রের মধ্যে রয়েছে গৃহস্থালি জরিপ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জরিপ এবং বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন। এই সূচকগুলো প্রতিবছর প্রকাশিত হয়।

- WGI প্রতিবছর শাসনের ছয়টি মাত্রাকে কেন্দ্র করে যৌগিক সূচক প্রকাশ করে। এই ছয়টি মাত্রা হলো:
১) মত প্রকাশ ও জবাবদিহিতা (Voice and Accountability),
২) রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা (Political Stability),
৩) সরকারি কার্যকারিতা (Government Effectiveness),
৪) নিয়ন্ত্রক গুণমান (Regulatory Quality),
৫) আইনের শাসন (Rule of Law) এবং
৬) দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ (Control of Corruption)।

উৎস:
i) বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট। [link]
ii) The Worldwide Governance Indicators 2025 Methodology [Link]
iii) WGI 2025 Revision: Governance Estimates and Absolute Scores (1996-2024) (Excel) [Link]

১৯৩.
নিচের কে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন?
  1. রাষ্ট্রপ্রধান
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. আমলাগণ 
  4. জনগণ
ব্যাখ্যা
 সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়ন:
- সরকার যে সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে থাকে আমলাতন্ত্র।
- অর্থাৎ আমলাগণ সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন।
- আমলারা সরকারের আদেশ-নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করে।
- আমলাদের দ্বারা সরকারি নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নের উপর সরকারের সাফল্য ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায় নয় কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. স্বজনপ্রীতি
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের পূর্বশর্ত, অন্তরায় নয়।

• সুশাসনের উপাদান:
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি।

• সুশাসনের অন্তরায়:
- স্বজনপ্রীতি,
- দুর্নীতি,
- অস্বচ্ছতা,
- স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৯৫.
একজন সুনাগরিকের গুণাবলি হিসেবে কোন গুনসমূহ সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে?
  1. প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা এবং বুদ্ধি
  2. বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক
  3. সহিষ্ণুতা, নিষ্ঠা এবং কর্তব্যবোধ
  4. জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
• সুনাগরিক:
- 'সু' শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

সুনাগরিকের গুণাবলি:
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে সুনাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- তবে, লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
(১) বুদ্ধি,
(২) আত্মসংযম,
(৩) বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৬.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কীভাবে প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. নিয়মিত সুষ্ঠু নির্বাচন করে
  2. নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে
  3. নাগরিকদের ভাতা প্রধান করে
  4. বেকারত্বের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
সরকার ও সুশাসন:
-সরকার একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে যা সুশাসনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই নীতি ও আইন কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে।
- যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সম্পন্ন হয়, তবে এটি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
- সরকারের মূল দায়িত্ব হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা সুশাসনের একটি অপরিহার্য দিক।

উল্লেখ্য,
- যদিও গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সুশীল সমাজও সুশাসনে ভূমিকা রাখে, তবে সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা, আইন, এবং কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে।

অন্যদিকে,
- নিয়মিত সুষ্ঠু নির্বাচন করে: নিয়মিত সুষ্ঠু নির্বাচন সুশাসনের একটি অংশ হলেও, এটি এককভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়।
- নাগরিকদের ভাতা প্রদান করে: ভাতা প্রদান একটি সামাজিক সুরক্ষা নীতি হতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক মাধ্যম নয়।
- বেকারত্বের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে: কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উদ্যোগ, তবে এটি সুশাসনের একটি উপাদান মাত্র।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৯৭.
জনমত গঠনের জন্যে অত্যাবশ্যক?
  1. ক) তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ
  2. খ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. গ) রাজনৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা
ব্যাখ্যা
জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
- জনমত গঠনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে গণমাধ্যম, সভা-সমিতি, আইনসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রধান।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
১৯৮.
ই-গভর্নেন্সের ফলে কী কী সুফল অর্জিত হয়?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়
  2. সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  3. সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• ই-গভর্নেন্স:
-  ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৯৯.
কোনটি সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসন?
  1. সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র রক্ষা
  2. রাজনৈতিক অংশগ্রহন বৃদ্ধি
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব:
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলছে। 

⇒ সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব:
- প্রথমেই ধরা যাক সামাজিক ক্ষেত্রের কথা। সুশাসন ছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা ও তা বজায় রাখা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ; সন্তানসন্ততিকে শিক্ষিত, রুচিবান ও সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কেননা এগুলো সবই সম্ভব সুশাসিত সমাজ ও রাষ্ট্রে।

⇒ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সুশাসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইন না মানলে শাস্তি পেতে হবে, সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। সব থেকে বড় কথা আইন মানুষের অধিকার উপভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। আইনের উপস্থিতি ছাড়া উৎকৃষ্ট নাগরিক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে আইন সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় না এবং নাগরিক অধিকার উপভোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে সততা ও সতর্কতার সাথে একজন নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ ও প্রার্থী বাছাই করতে পারে না, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে না৷

⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২০০.
সুশাসনের অভাবে কোনো দেশের পরিস্থিতিতে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে?
  1. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  2. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
  3. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন: ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি খ)  সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি  গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত।

ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, কারণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।
খ) সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়, এবং যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, কারণ অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।