বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা / ১৪ · ১০০ / ১,৩২৩

.
জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. স্থানীয় সরকার
  3. এনজিও
  4. পরিবার
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

⇒ শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে কবে 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন' কার্যকর করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে। প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশ জাতিসংঘের United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) এর অনুসমর্থনকারী দেশ।
- দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে' সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই
কনভেনশনে।
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৬) এবং 'রূপকল্প ২০২১' এবং 'পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা ২০১০-২০২১'-এও সমধর্মী কর্মসূচি চিহ্নিত করা হয়েছে।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
.
'সুশাসন ৪টি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' এই অভিমত প্রকাশ করে -
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  4. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
ব্যাখ্যা
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল'-এই অভিমত প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:

- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতির জন্য দায়ী প্রধান কারণ কী?
  1. অসৎ নেতৃত্ব
  2. নৈতিকতার অভাব
  3. অর্থনৈতিক অভাব
  4. আইনের প্রয়ােগের অভাব
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতির জন্য দায়ী প্রধান কারণ হল 'নৈতিকতার অভাব'।

⇒ দুর্নীতি ও নৈতিকতা: 
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব সমাজের শাসন ও প্রশাসনে দুর্নীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- কারণ এটি ব্যক্তির আচরণ এবং সমাজের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
- যখন ব্যক্তিরা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারে না বা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়, তখন তারা দুর্নীতির দিকে ঝুঁকতে পারে।

⇒ উল্লেখ্য,
- যদিও অন্যান্য কারণগুলোও দুর্নীতির জন্য দায়ী হতে পারে, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- যদি মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ এবং সততার অভাব থাকে, তবে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- অসৎ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক অভাব ও আইনের প্রয়োগের অভাব দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করে, কিন্তু নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাবই প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
E-Governance এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. Efficient Governance
  2. Electronic Governance
  3. Eminent Governance
  4. Enhanced Governance
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance.
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
সুশাসনের ধারণা কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রথম উদ্ভাবিত হয়?
  1. বিশ্বব্যাংক 
  2. জাতিসংঘ 
  3. আইএমএফ 
  4. ইউনিসেফ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ধারণাটি প্রথম বিশ্বব্যাংক কর্তৃক উদ্ভাবিত হয়।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে। বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত “Governance and Development” (শাসন ও উন্নয়ন) শীর্ষক প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তন ও পরিচিত করানো হয়েছিল, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। 

⇒ সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

⇒ 'সবুজ বিপ্লব' আর 'কাঠামো সমন্বয় কর্মসূচি'র ব্যর্থতার পর বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নের শর্ত হিসাবে এ ধারণার অবতারণা করে। মোটা দাগে সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল -
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সাংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

.
কোনটিকে সরকার ও জনগণের Win Win Game বলা হয়?
  1.  জবাবদিহিতা
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4.  সুশাসন
ব্যাখ্যা

- সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

• সুশাসন:

- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
• 'সুশাসন' হলো একটি কাঙিক্ষত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
• মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও
জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

.
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কোনটি সুশাসনের মূলসূত্র হিসেবে কাজ করে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. উদারনীতি
  3. মানবাধিকার
  4. প্রশাসনিক দক্ষতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও জবাবদিহিতা:
- 'জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ' সুশাসনের একটি মৌলিক উপাদান।
- জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি এবং অপব্যবহার বৃদ্ধি পেতে পারে।
- সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।
- জবাবদিহিতা সুশাসনের মূলসূত্র, কারণ এটি সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতেই স্বচ্ছতা বজায় রাখে।

উল্লেখ্য 
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হয় এবং জনগণের কাছে তাদের কার্যক্রমের ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয়।
- জনগণ জানতে পারে যে সরকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের উদ্দেশ্য এবং ফলাফল কী।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
.
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য একান্ত অপরিহার্য-
  1. জনমত
  2. সহনশীলতা
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০.
কোন সংস্থা সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে?
  1. UNEP
  2. UNESCO
  3. USAID
  4. World Bank
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ? 
  1. শিক্ষার হার কম হওয়া
  2. আইনের শাসনের অভাব
  3. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  4. দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

• বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সিপিডি।

১২.
”সুশাসন” ধারণাটি প্রথম উদ্ভাবন করে-
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. UNDP
  4. IMF
ব্যাখ্যা
• সুশাসন (Good Governance.):
- সুশাসন  অর্থ নির্ভুল, দক্ষ, কার্যকারী শাসন।
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় বিশ্বব্যাংক।
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ”সুশাসন” প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৩.
সুশাসনের জন্যে অপরিহার্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. বহুদলীয় ব্যবস্থা
  2. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  3. বিকেন্দ্রীকরণ
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:

- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো মূল্যবোধ।

♦ সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বচ্ছতা,
- বৈধতা,
- দায়িত্বশীলতা,
- জবাবদিহিতা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা ,
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা,
- সুশীল সমাজ
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৪.
“সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়”- এটি কার অভিমত?
  1. জাতিসংঘ
  2. এডিএ
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত সংজ্ঞা ও উক্তি:
→ “সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়”- এই অভিমত প্রকাশ করে - বিশ্বব্যাংক।
→ “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”-উক্তিটি করে - UNDP.

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা নয় কোনটি?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া
  3. দারিদ্র্য
  4. আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
→ বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
→ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা, 
→ সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
→ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
→ আইনের শাসনের অভাব,
→ রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব,
→ রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
স্বজনপ্রীতি,
→ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
→ জনঅংশগ্রহণের অভাব,
দারিদ্র্য,

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৬.
নিচের কোনটি সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায়?
  1. ক) শক্তিশালী আমলাতন্ত্র
  2. খ) অনুন্নত অবকাঠামো
  3. গ) বিচারহীনতার সংস্কৃতি
  4. ঘ) প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
সুশাসন নিশ্চিতের জন্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ প্রভৃতি আবশ্যক।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১৭.
নিচের কোনটি সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে?
  1. ক) জিটুজি
  2. খ) জিটুবি
  3. গ) জিটুসি
  4. ঘ) জিটুই
ব্যাখ্যা
- জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) হলো সরকারের সাথে সরকারের বা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া।
অন্যদিকে,
- জিটুসি (গভর্নমেন্ট টু সিটিজেন) সরকারের সাথে নাগরিক বা ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- জিটুই (গভর্নমেন্ট টু এমপ্লয়ি) সরকারের সাথে সরকারি কর্মচারীদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- জিটুবি হলো সরকারের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্পর্ক।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
১৮.
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ই-গভর্নেন্সের উদ্যোগ কোনটি?
  1. ই-নথি
  2. ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার
  3. বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধকরণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভর্ন্যান্স:
- সকল প্রকার সরকারি ও বেসরকারি সেবা-প্রদান, 'ব্যাক-অফিস' কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদান, লেনদেন এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইলেক্ট্রনিক, কম্পিউটিং এবং আইসিটির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে, কম খরচে, সঠিকভাবে এবং সহজে সকল ধরনের কর্মকাণ্ড বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াকে ই-গভর্নেন্স বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায় যে, শাসন ব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি কার্য-প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক্স বা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগই হচ্ছে ই-গভর্নেন্স।
- আর সে কারণেই ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্সও বলা হয়ে থাকে।
- কোনো একটি দেশে সুপ্রশাসনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।
- আর ডিজিটাল গভর্নেন্স প্রচলনের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব।
- ফলে নাগরিক-হয়রানি এবং সেবা-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় হয়রানির অবসান ঘটে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ বাংলাদেশ সরকারের ই-গভর্নেন্সের বিশেষ কতকগুলো উদ্যোগ এখানে তুলো ধরা হলো:
• ই-নথি:
- ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে নথি নিষ্পত্তি এবং অনলাইন অফিস ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ই-নথি সেবা চালু করেছে।
• সরকারি সার্টিফাইং অথরিটি প্রতিষ্ঠা:
- দেশে ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রবর্তন ও Public Key Infrastructure (PKI)-এর উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালে কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজ প্রতিষ্ঠা করেছে।
• জাতীয় পরিচয়পত্রকে ডিজিটালকরণ:
- রাষ্ট্রের হাতে সংরক্ষিত নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র চালু করা হয়েছে।
• সরকারি কর্মচারীদের তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমকে ডিজিটালাইজেশন:
- সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০১৬ সালে সকল সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে চ্যাটিং, অনলাইন অডিও ও ভিডিও কল, ফাইল শেয়ারের ইত্যাদি সুবিধা সহকারে আলাপন নামে একটি ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ চালু করেন।
• ডিসি ও ডিআরএস:
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ইনফো-সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে "কনটেইনার ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার" স্থাপন করেছে।
- এর ফলে কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ডাটা-সেন্টার যদি নষ্ট/ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই রিকভারি সেন্টার সাহায্য করতে পারে।
• ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক চালুকরণ:
- জাতীয় পর্যায়ে সর্বস্তরের জনগণকে নানান তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে মোবাইল ফোনভিত্তিক (৯৯৯) হেল্পডেস্ক চালু করে যার মাধ্যমে নাগরিক বিনামূল্যে ফোন করে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার স্টেশন নম্বর, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্যসহ জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত নানান তথ্য জানতে পারবেন।
• বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধকরণ:
- বাংলা ভাষাকে সহজীকরণ, বাংলা লিখিত নমুনা (কর্পাস) ও বাংলা ফন্টের মান উন্নয়ন, এবং বিশ্বমানের বাংলা কম্পিউটিং চালু করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে "গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ" নামের এক প্রকল্প চালু করে।
• ডিজিটাল জোন গড়ে তোলা:
- বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মহেশখালীকে একটি "ডিজিটাল আইল্যান্ড" হিসেবে গড়ে তুলবার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে "কনভার্টিং মহেশখালী ইনটু ডিজিটাল আইল্যান্ড" নামের একটি প্রকল্প হাতে নেয়।
• ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প:
- বিচারিক ব্যবস্থার সকল যোগাযোগ, ফাইলিং, সাক্ষ্য-প্রমাণ রেকর্ডিং ও সংরক্ষণ, মামলার নথি সংরক্ষণ, আদেশ-রায় প্রেরণ ও প্রদর্শন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে ই- জুডিশিয়ারি প্রকল্প হাতে নেয়।
• ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার:
- সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও শেয়ারিংয়ের পাশাপাশি নানান প্রযুক্তিকে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে দেশের বৃহত্তম ও বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম জাতীয় ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন।
• অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা চালুকরণ:
- সরকারি দপ্তর এবং আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার প্রতিশ্রুত সেবা, সেবা প্রদান পদ্ধতি এবং সেবা অথবা পণ্যের মান সম্পর্কে যদি জনগণের কোন অসন্তোষ বা মতামত থাকে তবে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৯ সালে এই অনলাইন ভিত্তিক অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা চালু করে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
সুশাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রগুলোর কী নিশ্চিত করতে হবে?
  1. সংবিধান পরিবর্তন
  2. শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন
  3. শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক
  4. বিদেশী সাহায্যের ওপর নির্ভরতা
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র ও সুশাসন:

- আধুনিক বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ কল্যাণমুখী হতে চায়, যেখানে জনগণের কল্যাণ সাধনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে তৎপর থাকতে হয়।
- তবে, অনেক রাষ্ট্রে এটি কেবল কাগজে-কলমেই প্রতীয়মান, বাস্তবে তা সঠিকভাবে কার্যকর হয় না।

⇒ সুশাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য, রাষ্ট্রগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে:

• শাসক ও শাসিতের সুসম্পর্ক;
• স্বাধীন বিচার বিভাগ;
• আইনের শাসন;
• নীতির গণতন্ত্রায়ণ;
• মানবাধিকারের নিশ্চয়তা;
• পছন্দ ও মতামত প্রদানের স্বাধীনতা;
• স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২০.
লালফিতার দৌরাত্মের ফলে নিম্নের কোনটি ব্যাহত হয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  3. আইন
  4. জনগণের সন্তুষ্টি
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২১.
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' -এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. UN
  2. World Bank
  3. ADB
  4. UNDP
ব্যাখ্যা
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' -এই অভিমত প্রকাশ করে World Bank.

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২২.
জাতিসংঘের মতে সুশাসনের কয়টি উপাদান রয়েছে?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. সাতটি
  4. আটটি
ব্যাখ্যা

◉ জাতিসংঘের মতে সুশাসনের ৮টি উপাদান হলো: অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, সহানুভূতিশীলতা, ঐক্যমতাভিত্তিক, ন্যায়বিচার, কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা।

• সুশাসনের উপাদান:
- এডিবির মতে সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- জাতিসংঘের মতে সুশাসনের উপাদান ৮টি।
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংকের (AFDB) মতে সুশাসনের উপাদান ৫টি।
- UNHCR মতে সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি। 
- আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সমিতির (IDA) মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৩.
বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ১৪ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ১৫ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ১৬ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক প্রয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়,

- “রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:
- (ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
- (খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
- (গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
- (ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্যলাভের অধিকার৷”

অন্যদিকে,
- ১৪ নং অনুচ্ছেদ : কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
- ১৬ নং অনুচ্ছেদ : গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ : সুযোগের সমতা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
২৪.
জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের মূল লক্ষ্য কী?
  1. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা
  2. রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি
  3. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  4. আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জাতিসংঘ:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ; জবাবদিহিতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; দায়বদ্ধতা; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; স্বচ্ছতা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

২৫.
E-Governance-এর ফলে কোনটি হ্রাস পায়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. দুর্নীতি
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- সাধারনত তিনটি স্তরে বা পর্যায়ে এই ই-গর্ভনেন্স সেবা পাওয়া যায়-(১) সরকার ও সেবা গ্রহীতা (ব্যক্তি) (২) সরকার ও ব্যবসা-বাণিজ্য (৩) সরকার থেকে সরকার।
- বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে ঘোষিত ভিশন-২০২১ এর প্রধান লক্ষ্যই হল সরকারি সেবা ও শাসনব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা।
- ই- গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে সাধারণ নাগরিক।
- এটি চার ধরনের কাজ করে যার কেন্দ্রে থাকে নাগরিক সেবা।
- একাজগুলো হচ্ছে ব্যক্তিকে অবগতকরণ, ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্বকরণ, ব্যক্তিকে পরামর্শ প্রদান এবং ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্তকরণ।
- ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের সাথে জনগণের দ্রুত সংযোগ সাধন, দ্রুত গতিতে সরকারি সেবাদান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৬.
‘সুশাসন’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Good Government
  2. Good Governor
  3. Good Governmental
  4. Good Governance
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- জাতিসংঘের সংস্থা UNDP সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে সুশাসন।
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে জবাবদিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২৭.
সুশাসনের জন্য স্বচ্ছতা প্রয়োজন কেন?
  1. ক) দুর্নীতি রোধ করে
  2. খ) আমলা নির্ভরতা কমায়
  3. গ) আইনের শাসন নিশ্চিত করে
  4. ঘ) ধনী গরিবের বৈষম্য কমে৷
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার স্পষ্ট ও নির্ভুল। শাসন ব্যবস্থার আইন-কানুন, নীতি-সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট,, পরিষ্কার হয়, যদি এর একাধিক অর্থ ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২৮.
সুশাসন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে কীভাবে?
  1. বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে
  2. বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে
  3. ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধি করে
  4. বিনিয়োগ পরিবেশ অস্থিতিশীল করে
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- সুশাসন বলতে বোঝায়- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, কার্যকর প্রশাসন, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশের সমন্বিত রূপ।
- একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো যখন জনকল্যাণে দক্ষভাবে পরিচালিত হয়, তখন তাকে সুশাসনের উদাহরণ বলা হয়।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
- একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ অপরিহার্য।
- সুশাসনের ফলে দুর্নীতির পরিমাণ কমে, ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ পরিবেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
- সুশাসনের মাধ্যমে সরকার নীতি পরিবর্তনে স্থিরতা বজায় রাখে।
- সুশাসন অর্থবছরের বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দক্ষ ব্যয় নিশ্চিত করে, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
২৯.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. বিশ্বস্ততা
  2. সৃজনশীলতা
  3. নিরপেক্ষতা
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে সৃজনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

সুশাসন:
- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।
- এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।
- আর্থ-রাজনৈতিক অগ্রগতিকে প্রাধান্য দেয়।
- বাংলাদেশে পুঁজিবাদের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটেনি।
- দাঙ্গা-হাঙ্গামা, হরতাল-অবরোধ রাজনীতির নিত্য সঙ্গী।
- আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতির হার অত্যন্ত উচ্চ।
- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নয়ন হলেও বাংলাদেশে সুশাসনের মাত্রা সন্তোষজনক নয়।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

⇒ সুশাসনের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ হল-
(ক) রাজনৈতিক: গণতন্ত্র ও সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
(খ) অর্থনৈতিক: মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বেসরকারিকরণ,
(গ) সামাজিক-সংস্কৃতিক: পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রসার এবং,
(ঘ) তথ্য ও প্রযুক্তি: বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসার।

⊕ সুশাসনের প্রধান উপদান -
১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা,
২. অংশগ্রহণ,
৩. আইনের শাসন,
8. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা,
৫. জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা ও বিকেন্দ্রীকরণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩০.
প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে সুশাসন সম্পর্কে কী বলেছেন?
  1. “শাসনপ্রক্রিয়া আইন নির্ভর হওয়া উচিত।”
  2. “শাসকের নৈতিকতা আইন দ্বারা নির্ধারিত।”
  3. “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন।”
  4. “শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন শক্তিশালী।”
ব্যাখ্যা
⇒ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে সুশাসন সম্পর্কে “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন।” এই উক্তিটি বলেছেন।

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় 'The Republic' গ্রন্থে।
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বইটি Plato’s Republic নামে পরিচিত।
- তার লেখা অন্যান্য বই:
- Symposium
- Apologia Sokrates
- Allegory of the Cave
- The Laws (348 BCE)
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।  

উল্লেখ্য,
- কোন রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সহজেই নাগরিকগণ তা অনুধাবন করতে পারে।
- অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, ঐকমত্য, কর্তব্য ও ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতার মত বৈশিষ্ট্যগুলো তখন খুব সহজেই অনুমেয় হয়।
- সুশাসন এমন একটি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যা সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং আইন অনুসরণ করে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক ও ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
৩১.
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স ____________ স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩২.
দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা কোন বিভাগের কাজ?
  1. ক) বিচার বিভাগ
  2. খ) সুশীল সমাজ
  3. গ) আইন বিভাগ
  4. ঘ) শাসন বিভাগ 
ব্যাখ্যা
একটি  রাষ্ট্রকে সামগ্রিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকারের ৩টি বিভাগ থাকে। যথাঃ 
১. আইন বিভাগ, 
২. শাসন বিভাগ ও 
৩. বিচার বিভাগ।

- সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ হচ্ছে প্রশাসন পরিচালনা করা,  আইন প্রণয়ন করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। 
- এগুলোর মধ্যে বিচার বিভাগের অন্যতম কাজ হচ্ছে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা।

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৩.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান কয়টি?
  1. ৯টি
  2. ৮টি
  3. ৬টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে। বিশ্ব ব্যাংক ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি। যথা-
১. বাক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা,
২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি,
৩. সরকারের কার্যকারিতা,
৪. নিয়ন্ত্রণ গুণ,
৫. আইনের শাসন,
৬. দুর্নীতি দমন।

৩৪.
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে কোনটি বৃদ্ধি পায়?
  1. জঙ্গীবাদ
  2. উগ্রতা
  3. হিংস্রতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাব (Lack of Communal Harmony):
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা বা সফল করা সম্ভব নয়।
- কেননা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে জঙ্গীবাদ, উগ্রতা, হিংস্রতা বৃদ্ধি পায়
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাবে জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানবাধিকার ভুলুষ্ঠিত হয়।
- এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
৩৫.
সুশাসন নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রে কী প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. আইনের শাসন 
  2. জবাবদিহিতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক। এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।
- সুশাসন নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুশাসন নিশ্চিত করার উপায়:
- দুর্নীতি প্রতিরোধ,
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
- এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা,
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ,
- নারীর ক্ষমতায়ন,
- রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ,
- রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬.
'সুবর্ণ মধ্যক' নামক দার্শনিক ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. এরিস্টটল
  3. আরজ আলী মাতুব্বর
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
- গোল্ডেন মিন (সুবর্ণ মধ্যক) ধারণাটির প্রবর্তক এরিস্টটল।
- তিনি সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটি ব্যবহার করেন দুটি চরমপন্থার বা মতবাদের মধ্যবর্তী অবস্থান বুঝাতে।
- অর্থাৎ সুবর্ণ মধ্যক হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা।
যেমন- একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো সুবর্ণ মধ্যক।
- এটি নীতিবিদ্যার সাথে জড়িত একটি বিষয়।

অন্যদিকে: 
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- 'নব নৈতিকতার' প্রবর্তক হলেন আরজ আলী মাতুব্বর।
- জেরেমি বেন্থাম হলেন উপযোগবাদের জনক।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৩৭.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ব্যক্তিস্বার্থের উন্নয়নের জন্য
  2. জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জনের জন্য
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণের জন্য
ব্যাখ্যা
সুশাসন:

- সুশাসন একটি আধুনিক ধারণা।
- জনগণের অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠিত আইনের শাসন ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের সাথে সাথে জনগণের উন্নত সেবা পাওয়ার অধিকার হলো সুশাসন।
- আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক শোষণ, স্বৈরশাসন, সামরিক শাসন প্রভৃতি হতে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে সুশাসনের বিকল্প নেই।
- সুশাসন এমন এক আদর্শ ও ব্যবস্থা যে, তার প্রভাব রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক গোষ্ঠীকে প্রভাবিত করে।
- জনগণকে ন্যায্য অধিকার প্রদান, সমাজে সাম্য, ন্যায়বিচার, জীবনঘনিষ্ঠ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
৩৮.
IDA (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছে সেগুলো হলো -
  1. ক) জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও দুর্নীতি দমন 
  2. খ) স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, অংশগ্রহণ ও সংবেদনশীলতা
  3. গ) জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও দায়বদ্ধতা
  4. ঘ) জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন। এ এগুলো হল:-
১। Accountability - জবাবদিহিতা
২। Transparency - স্বচ্ছতা
৩। Rule of law - আইনের শাসন ও
৪। Participation - অংশগ্রহণ। 

আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB সুশাসন এর ৫টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা:- 
১। Accountability - জবাবদিহিতা 
২। Transparency - স্বচ্ছতা 
৩। Combating  Corruption - দুর্নীতি দমন 
৪। Stakeholder  Participation - জনঅংশগ্রহণ 
৫। Legal  and  Judicial  Framework - আইন ও বিচার বিভাগীয় সংস্করণ।   

তথ্যসূত্র:- সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৩৯.
সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে -
  1. প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি করা
  2. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  3. দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ
  4. ক্ষমতার অপব্যবহার উৎসাহিত করা
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪০.
সুশাসন কোনটির উপর অধিক গুরুত্ব দেয়?
  1. ক) শিক্ষার অধিকার
  2. খ) পছন্দের অধিকার
  3. গ) নাগরিক অধিকার
  4. ঘ) ধর্মীয় অধিকার
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো উত্তম বা যথার্থ শাসন। এর মাধ্যমে সুশাসন নাগরিক অধিকার ও নাগরিক সুবিধার উপর গুরুত্ব দেয়। সুশাসনের মূল উদ্দেশ্যই হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন সাধন।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক)
৪১.
বিশ্বব্যাংক কত সালে সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

⇒ বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। এ চারটি স্তম্ভ হল- (i) দায়িত্বশীলতা (ii) স্বচ্ছতা (iii) আইনী কাঠামো ও (iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২.
প্লেটোর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে সুশাসনের ধারণাকে কীরূপ প্রত্যয় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. একমুখী প্রত্যয়
  2. দ্বিমুখী প্রত্যয়
  3. সরল প্রত্যয়
  4. জটিল প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

- প্লেটো সুশাসনকে সরকার ও জনগণ - এই দুই পক্ষের মধ্যে একটি সম্পর্কযুক্ত দ্বিমুখী প্রত্যয় হিসেবে দেখেছেন, যেখানে উভয়েরই দায়িত্ব ও অধিকার রয়েছে। 

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে প্রথম সুশাসনের ধারণা পাওয়া যায়। তিনি একে একটি দ্বিমুখী প্রত্যয় বলে অবহিত করেন, এক পক্ষ জনগণ ও অন্য পক্ষ সরকার। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও পত্রিকা রিপোর্ট।

৪৩.
UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান কোনটি?
  1. সমতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. ন্যায্যতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে,
"একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন।"
(Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

⇒ UNDP এর মতে, সুশাসনের উপাদান ৯টি-
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - UNDP ওয়েবসাইট।

৪৪.
সুশাসনে বিকেন্দ্রীকরণের মূল অর্থ কী?
  1. ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা
  2. ক্ষমতা ও দায়িত্ব বন্টন করা
  3. প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি করা
  4. আমলাতন্ত্র শক্তিশালী করা 
ব্যাখ্যা

সুশাসনে বিকেন্দ্রীকরণের মূল অর্থ ক্ষমতা ও দায়িত্ব বন্টন করা।

বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি। এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমেই সকল বিভাগ সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
- এটি প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা কমিয়ে দেয় এবং প্রশাসনকে জনগণের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দেয়।
- তাই একটি রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতিটি বিভাগে বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৫.
সুশাসনের পূর্বশর্ত নিচের কোনটি ?
  1. গ্রহণযোগ্যতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• সুশাসনের পূর্বশর্ত:
যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হচ্ছে:- 
- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা, 
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা, 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, 
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,  
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, 
- বৈধতা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৪৬.
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনয়নে কোনটি গ্রহণ করা হয়েছে?
  1. ক) E-TP
  2. খ) E-GP
  3. গ) E-T
  4. ঘ) E-G
ব্যাখ্যা
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউমেন্ট ইউনিট এর অধীনে e-gp চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের যাবতীয় ক্রয় কর্মকাণ্ড অনলাইনে পরিচালিত হয়। (সূত্রঃ eprocure.gov.bd)
৪৭.
বাংলাদেশে ন্যায়পাল আইন প্রণীত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৭ সালে
  3. গ) ১৯৭৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
ন্যায়পাল হলো রাষ্ট্র নিযুক্ত কর্মকর্তা বা কমিশনার যিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করতে পারেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের বিধান রয়েছে। সেই বিধান অনুসারে ১৯৮০ সালের ন্যায়পাল আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু এ যাবৎ কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। (সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
৪৮.
সুশাসনের ধারণার উপর জোর দিতে কত সালে Commission on Global Governance গঠিত হয়?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

Commission on Global Governance:
- সুশাসনের ধারণার উপর জোর দিতে ১৯৯২ সালে 'কমিশন অন গ্লোবাল গভর্নেন্স' (Commission on Global Governance) গঠিত হয়েছিল।
- এর লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক আন্তঃনির্ভরতার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ব ব্যবস্থার সংস্কার করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা অন্বেষণ করা। 
- এর ফলাফল ১৯৯৫ সালে "Our Global Neighbourhood" নামে প্রকাশিত হয়, যা সুশাসনের ধারণা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
- উদ্দেশ্য: স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। 

উৎস: Britannica.

৪৯.
ই-গভর্নেন্সের মূল কাজ কোনটি?
  1. তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা
  2. তথ্য প্রবাহকে বাঁধা দেয়া
  3. তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- ই-গভর্নেন্সের মূল কাজ হচ্ছে - তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।

• ই-গভর্নেন্স:
- বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রত্যয় হচ্ছে ই-গর্ভনেন্স। বর্তমান পৃথিবীর উন্নত-অনুন্নতসহ বেশিরভাগ রাষ্ট্রেই ই- গর্ভনেন্স এর বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারের ফলে সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
- এখন ইচ্ছে করলে এক মুহূর্তে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে যোগাযোগ ও তথ্য প্রেরণ করা যায়।
- ই-গর্ভনেন্স এর শাব্দিক অর্থ হল ইলেকট্রনিক গর্ভনেন্স বা ইন্টারনেট ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা; অর্থাৎ সরকারি সেবা ও সুযোগ-সুবিধা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া। এর ফলে জনগণের সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০.
আইনের মূল কথা কোনটি?
  1. ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষক
  2. আইনের চোখে সবাই সমান
  3. বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  4. মানুষের বিবেক জাগ্রত করে
ব্যাখ্যা
আইনের সংজ্ঞা:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'। সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।”
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে আইনের মূল কথা হল আইন মানুষের "বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে"।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে।
- আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

উল্লেখ্য, 
- আইনের শাসনের মূল কথা 'আইনের চোখে সবাই সমান' কিন্তু আইনের মূল কথা আইন মানুষের "বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে"।
- বিষয়টা খেয়াল করুন আইন আর আইনের শাসন এক নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১.
“Economic and Philosophic Manuscripts of 1844” - কার লেখা বই?
  1. ক) Vladimir Lenin
  2. খ) Karl Marx
  3. গ) Jean-Jacques Rousseau
  4. ঘ) Robert Morrison MacIver
ব্যাখ্যা
কার্ল মার্ক্স এর লেখা অন্যান্য বই - Das Kapital, The Communist Manifesto, A Contribution to the Critique of Political Economy ইত্যাদি।
৫২.
অধ্যাপক ডাইসির 'আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান'-উক্তিটির মধ্যে কী প্রকাশ পেয়েছে?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. তথ্যপ্রবাহ
  3. অর্থায়ন
  4. মানবাধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ অধ্যাপক ডাইসির 'আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান'-উক্তিটির মধ্যে মানবাধিকার পেয়েছে।

আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।

উল্লেখ্য:
- 'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান'-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- এই তত্বে বলা হয়েছে আইনের ওপরে কেউ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির গতিবিধি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন ও সাধারণ আদালতের বিচারাধীন। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সাধারণ নাগরিকের মতই আইন মান্য করবে এবং আইন লঙ্ঘন করলে তাদেরও শাস্তি হবে। এইভাবেই জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সাম্য ও স্বাধীনতার অধিকার।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও Elective Commerce Honours, নেতাজী সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩.
সরকার ও জনগণের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করে -
  1. সরকার
  2. বিরোধীদল
  3. মামলা
  4. সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
সংবাদপত্র:
- সংবাদপত্রের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক খবর সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে।
- সরকারি কোন সিদ্ধান্তের ভালো মন্দ জেনে জনগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে পারে।
- সরকার ভালো কাজ করলে সংবাদপত্র জনগণের হয়ে সরকারের প্রশংসা করে, আর জনবিরোধী কার্যক্রম করলে তার প্রতিবাদ করে।
- এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গড়ে উঠে।
- এভাবে সংবাদপত্র জনমত গঠন করে জনগণের অধিকার রক্ষা করে থাকে।
- তাই সরকার ও জনগণের মধ্যে সংবাদপত্র আয়নার মতো কাজ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৪.
সর্বপ্রথম ‘সুশাসন প্রত্যয়টি' ব্যবহার করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি
  3. আইএমএফ
  4. বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- এ চারটি স্তম্ভ হলো: দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন প্রত্যয়টি' ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে তা' পূরণের শর্তে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের ঋণ সাহায্য ও প্রকল্প সাহায্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়৷

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৫.
টেকসই উন্নয়নের জন্য সু-শাসন অপরিহার্য কারন এটি-
  1. দ্রুত শিল্পায়ন নিশ্চিত করে
  2. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়ের ভারসাম্য রক্ষা করে
  3. জনসংখ্যা হ্রাস করে
  4. রাজনৈতিক দ্বন্দ দূর করে
ব্যাখ্যা

● টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়ের ভারসাম্য রক্ষা করে।

সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও আইনের শাসনভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা যা জনস্বার্থ রক্ষা করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মূল লক্ষ্য মানব উন্নয়ন।
- এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘ প্রত্যেক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দিচ্ছে।
- একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে, যা দারিদ্র বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা, লিঙ্গগত বৈষম্য রোধ করে। 

• বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নিঃস্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।

উল্লেখ্য,
- টেকসই উন্নয়ন বলতে এমন একটি জীবনযাপনকে বোঝায় যা বর্তমানের প্রয়োজন মেটায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে না এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে। একটি সমাজের কল্যাণ এবং আমাদের সুস্থতা টেকসই উন্নয়নকে লালন করার উপর নির্ভর করে। 
- টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে একসাথে তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য প্রয়োজন: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ।
- সু-শাসন এই ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য কারণ: এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যার ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত ও টেকসই হয়। একই সাথে সামাজিক ন্যায় রক্ষা করে অর্থাৎ সম্পদের সুষম বণ্টন, দারিদ্র্য হ্রাস, লিঙ্গ সমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ইত্যাদি নিশ্চিত করে। ফলে অর্থনৈতিক লাভ যাতে সামাজিক অসমতা বাড়িয়ে না দেয় বা পরিবেশ ধ্বংস না করে, সেটা সু-শাসনের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা পায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) Bangladesh Labour Foundation - BLF ওয়েবসাইট।

৫৬.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় নয়?
  1. ক) ক্ষমতার ভারসাম্যের অভাব
  2. খ) রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ
  3. গ) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  4. ঘ) জনসচেতনতার অভাব
ব্যাখ্যা

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় নয়।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান সমস্যা/অন্তরায়গুলো হলো-
১. বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা,
৩. সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
৪. আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
৫. আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা,
৬. আইনের শাসনের অভাব,
৭. সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা,
৮. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
৯. রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
১০. স্বজনপ্রীতি,
১১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
১২. জনঅংশগ্রহণের অভাব,
১৩. জনসচেতনতার অভাব
১৪. ক্ষমতার ভারসাম্যের অভাব,
১৫. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অভাব,
১৬. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব ইত্যাদি।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।

৫৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. আমলাতন্ত্র
  3. দুর্নীতি দমন
  4. স্থানীয় সরকার 
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দুর্নীতি দমনকে বিবেচনা করা হয়। 
- কারণ দুর্নীতি সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।
- দুর্নীতির ফলে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট হয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যায়।
- সুশাসনের মৌলিক উপাদানসমূহ- যেমন ন্যায়বিচার, কার্যকারিতা, অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীলতা- দুর্নীতির কারণে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
- এছাড়া বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার- এই তিনটি ক্ষেত্রের কার্যকারিতাও মূলত দুর্নীতি দমনের উপর নির্ভরশীল। 
- অর্থাৎ দুর্নীতি দমন ছাড়া এসব ক্ষেত্রের কোনোটিই কার্যকরভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৮.
বিশ্বব্যাংক কবে প্রথম ‘সুশাসন’ শব্দটি ব্যবহার করে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় ‘সুশাসন’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়।

সুশাসন:
- 'গভর্নেন্স' প্রপঞ্চটির সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে 'সুশাসন' শব্দটির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে।
- এর ফলে 'গভর্নেন্স'-এর নরমেটিভ উপাদানের প্রকাশ ঘটেছে।
- এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- একটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে 'সুশাসন' ধারণাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এ চারটি স্তম্ভ হলো-
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৫. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৫৯.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে ‘শুদ্ধাচার’ হচ্ছে-
  1. শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
  2. সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  3. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  4. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- স্লোগান: সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

⇒ শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৬০.
“The Quest for Good Governance” - কার লেখা বই?
  1. ক) Amartya Sen
  2. খ) Philip Cotler
  3. গ) Alina Mungiu-Pippidi
  4. ঘ) Sam Agere
ব্যাখ্যা
বইটির পূর্ণ নাম - “The Quest for Good Governance: How Societies Develop Control of Corruption”। বইটি ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়।
৬১.
আইন প্রণয়ন কোন বিভাগের কাজ?
  1. সুপ্রীম কোর্ট
  2. বিচার বিভাগ
  3. শাসন বিভাগ
  4. আইন বিভাগ
ব্যাখ্যা
• আইন প্রণয়ন: 
- আইন বিভাগের প্রধান কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন।
- রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলোকে সমুন্নত রেখে আইনসভা প্রচলিত আইনের কিংবা প্রথাগত বিধানের সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে থাকে। - আইনসভা শাসন প্ররিচালনার নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬২.
সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার-
  1. জনগণ
  2. ই-সার্ভিস
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. ই-প্রশাসন
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স।
- সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম একটি হাতিয়ার হলো ই-গভর্নেন্স।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।
- বর্তমানে সুশাসন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ই-গভর্নেন্সকে।
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি অন্যতম পদক্ষেপ হতে পারে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।
- সুশাসনের উপাদানসমূহ সমাজে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব সরকারের।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হচ্ছে গণতন্ত্র।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩.
UNDP- এর দৃষ্টিতে গভর্ন্যান্স মূলত - 
  1. দুর্নীতি রোধ করা
  2. কর্তৃত্বের চর্চা
  3. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা
  4. ক্ষমতার ব্যবহার
ব্যাখ্যা

- ইউএনডিপি এর মতে একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতি হলো সুশাসন।

এছাড়াও,
- ই-গভর্ন্যান্স হলো ইলেক্ট্রনিক গভর্ন্যান্স। এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- ই-গভর্ন্যান্স স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দ্রুততা, প্রতিযোগিতা, সহজীকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি,  প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

৬৪.
একজন নাগরিকের জীবনে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের গুরুত্ব কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটায়
  2. প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে
  3. নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে
  4. এটি শুধুমাত্র সরকারি প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ব্যক্তির দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একজন নাগরিকের জীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- একজন নাগরিকের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
→ সুশাসন অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হলেও, এটি মূল্যবোধ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়।
→ প্রযুক্তিগত শিক্ষা মূল্যবান, কিন্তু এটি মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য নয়।
→ মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন শুধু প্রশাসনের জন্য নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ কোন ধরনের সাম্য?
  1. সামাজিক
  2. আইনগত
  3. রাজনৈতিক
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• সামাজিক সাম্য (Social Equality):
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও পেশাগত কারণে যখন মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য করা হয় না তখন তাকে সামাজিক সাম্য বলে।
- সামাজিক সাম্যের মূল কথা হলো সমাজে বসবাসরত সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের কাজ নয় কোনটি?
  1. ক) দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
  2. খ) সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
  3. গ) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
▪ সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় সমূহের মধ্যে রয়েছে - 
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
▪ সুশাসন হলো দক্ষ ও কার্যকরি শাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও অনেক করণীয় রয়েছে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করণীয়সমূহ হলো - 
- নিয়মিত কর প্রদান করা 
- সামাজিক দায়িত্ব পালন করা
- আইন মান্য করা
- আনুগত্য প্রদর্শন
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৬৭.
সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল - এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
– বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
– সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
– সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
– ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের সংজ্ঞা:
ম্যাক করণী বলেছেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

সুশাসনের স্তম্ভ:
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা,
ii) স্বচ্ছতা,
iii) আইনী কাঠামো,
iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮.
জাতিসংঘ প্রদত্ত সুশাসনের ৮টি উপাদানের সাথে ইউএনডিপি কোনটি যোগ করেছে?
  1. ক) দায়বদ্ধতা
  2. খ) সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
  3. গ) কৌশলগত লক্ষ্য
  4. ঘ) স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
যথা-
- অংশগ্রহণ,
- আইনের শাসন,
- জবাবদিহিতা,
- ন্যায়বিচার,
- স্বচ্ছতা,
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন,
- দায়বদ্ধতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য।

ইউএনডিপি এই ৮টি উপাদানের সাথে আরও একটি উপাদান যোগ করে সেটি হচ্ছে - কৌশলগত লক্ষ্য


উৎস: জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির ওয়েবসাইট।
৬৯.
জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো -
  1. অলিগার্কির সূচনা করা
  2. মৌলিক অধিকার রক্ষা
  3. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  4. নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের মতে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- এ লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি মূলনীতি উল্লেখ করেছে।
- অংশগ্রহণ
- স্বচ্ছতা
- জবাবদিহিতা
- দায়িত্বশীলতা
- ন্যায্যতা
- কার্যকারিতা
- আইনের শাসন এবং
- ঐক্যমত্যের শাসন।

উৎস: UN chronicle.
৭০.
‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স'- কত সালে বিশ্বব্যাংক এই সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭১.
মূল্যবোধের কোন উপাদান নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) স্বচ্ছতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৭২.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. নিরপেক্ষতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. যথার্থতা
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক বা গুরুত্বপূর্ণ ।
- এগুলো সুশাসনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক।
- তবে এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়। এটি ঐচ্ছিক বিষয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৭৩.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয় কোনটি?
  1. সাম্য
  2. আইন
  3. স্বাধীনতা
  4. ভ্রাতৃত্ব
ব্যাখ্যা

⇒ আইন গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয়।

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪.
সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে— উক্তিটি কার?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
  3. আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
  4. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক 
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ও সুশাসন:
- "সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে" -এই উক্তিটি মূলত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP)।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।

উল্লেখ্য,
- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকার জনগণের সেবা করে, আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং দুর্নীতির কোনো স্থান থাকে না।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৭৫.
পশ্চিমা মতে সুশাসন প্রক্রিয়া কোনটির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে?
  1. আইনের
  2. ধর্মীয় বিধানের
  3. রাজনৈতিক দলের
  4. অর্থনৈতিক নীতির
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন: 
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের কয়টি স্তম্ভ ঘোষণা করে?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. তিনটি
ব্যাখ্যা
• সুশাসন (Good Governance.):
 - সুশাসন  অর্থ নির্ভুল, দক্ষ, কার্যকারী শাসন।
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় বিশ্বব্যাংক।
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হল-
(i) দায়িত্বশীলতা
(ii) স্বচ্ছতা
(iii) আইনী কাঠামো ও
(iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৭.
'রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা' হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের -
  1. ক) রূপকল্প
  2. খ) প্রতিপাদ্য
  3. গ) স্লোগান
  4. ঘ) অভিলক্ষ
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল গ্রহণ করা হয় ২০১২ সালে।
- এটি গ্রহণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। 

এর রূপকল্প হলো: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
এর স্লোগান হলো: 'সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়'। 
এর অভিলক্ষ হলো:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৮.
সুশাসনের ধারণাটি -
  1. একমাত্রিক
  2. দ্বিমাত্রিক
  3. ত্রিমাত্রিক
  4. বহুমাত্রিক
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক- সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯.
বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. রাজনৈতিক ক্ষমতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- (i) দায়িত্বশীলতা (ii) স্বচ্ছতা (iii) আইনী কাঠামো ও (iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০.
কোনটি প্রতিষ্ঠিত হলে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়?
  1. ক) গণতন্ত্র
  2. খ) আইন
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে। তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৮১.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যে বিশেষ বিধান গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়েছে?
  1. ক) ৩২ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ২৮(২) নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ২৮(৪) নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ২৯(১) নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ২৮(৪) নং অনুচ্ছেদে পিছিয়ে পড়া বা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্যে বিশেষ বিধান গ্রহণের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে,
“নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্যে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।”
অন্যদিকে,
- ২৮(২) নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভের কথা বলা হয়েছে।
- ২৯(১) নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভে সকলের সমতার কথা বলা হয়েছে।
- ৩২ নং অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৮২.
কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
  2. শাসন প্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
  3. শাসন প্রক্রিয়া ও নৈতিক শাসন প্রক্রিয়া
  4. শাসন প্রক্রিয়া ও সুশাসন
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৩.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী হয়?
  1. বেকারত্ব হ্রাস
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি
  3. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৮৪.
"সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স" - কে সংজ্ঞাটি প্রদান করে?
  1. সেরাজেন্ডিন
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. অক্সফোর্ড ডিকশনারি
  4. ল্যান্ডেল মিলস
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শাসনের ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।
- ল্যান্ডেল মিলস এবং সেরাজেন্ডিন (Landell Mills and seragedino মতে, জনগণ কীভাবে শাসিত হয়, কীভাবে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি পরিচালিত হয়, কীভাবে দেশের রাজনীতি আবর্তিত হয় এবং একই সাথে এ সকল প্রক্রিয়া কীভাবে লোকপ্রশাসন ও আইনের সাথে সম্পর্কিত সে বিষয়কেই গভর্নেন্স বলে।
- The Oxford English Dictionary-Go to of FI, শাসনের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব, ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা হিসেবে গভর্নেসকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৫.
‘নেতৃত্ব’ হচ্ছে নেতার−
  1. সামাজিক ও রাজনৈতিক গুণ
  2. অর্থনৈতিক গুণ
  3. নৈতিক গুণ
  4. ধৈর্য গুণ 
ব্যাখ্যা
নেতৃত্বের ধারণা:
→ যিনি নির্দেশ প্রদান করেন, পথ দেখান এবং সামনে থেকে পরিচালনা করেন তাকে নেতা (Leader) বলে। আর নেতার গুণাবলিকে বা যোগ্যতাকে বলা হয় নেতৃত্ব।
→ ‘নেতৃত্ব’ বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘নেতৃত্ব’ শব্দটি এত সঙ্কীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয় না।
→ কোন ব্যক্তি বা কোন দলের নেতা কতখানি গুণের অধিকারী এবং তা অন্যদেরকে কতখানি প্রভাবিত করতে পারে, তার নিরীখেই নেতৃত্বের পরিমাপ হয়।
 → নেতৃত্ব হচ্ছে একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক গুণ। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৬.
সুশাসন সম্পর্কিত 'Framework for Enhanced Engagement on Governance' শীর্ষক কর্মপন্থা গ্রহণ করে কোন সংস্থা?
  1. ADB
  2. World Bank
  3. IMF
  4. UNDP
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ১৯৯৭ সালে The Role of the IMF in Governance Issues নামে সুশাসন সম্পর্কিত পলিসি গ্রহণ করে।
- পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পলিসিটির সহায়ক হিসেবে Framework for Enhanced Engagement on Governance নামে আারেকটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ করে।
- সংস্থাটি আইনের শাসন, সরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সকল স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ওয়েবসাইট)
৮৭.
শাসক ও শাসিতের মাঝে সুসম্পর্ক করে কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
- এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৮.
রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ কোনটি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. আইনের শাসন
  3. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
  4. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ আইনের শাসন।

আইনের শাসন:
- সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯.
কোন প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিতে 'দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স'?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. এডিবি
  4. আইএমএফ
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।
- বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
- বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।

⇒ বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশের জন্যও প্রয়োজন সুশাসন।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯০.
বিচার বিভাগ শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা কেন প্রয়োজন?
  1. আইন প্রয়োগ করতে
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য
  3. প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা:
- বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করার মূল উদ্দেশ্য হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
- এটি নির্বাহী বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষা করে।
- বাংলাদেশে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ আইনি কাঠামোতে বিদ্যমান।

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার কার্যক্রম পৃথক ব্যক্তিবর্গ বা প্রতিষ্ঠানসমূহের হাতে ন্যস্ত করাকে বোঝায়।
- এর উদ্দেশ্য হলো এক বিভাগের ক্ষমতায় অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা।
- আধুনিক যুগে হবস, লক প্রভৃতি দার্শনিক স্বতন্ত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মন্টেস্কু সুস্পষ্টভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের নীতি উপস্থাপন করেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের সম্পর্ককে বুঝিয়েছেন কে?
  1. ম্যাক করণী
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

এছাড়াও,
- ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের দায়িত্ব কোনটি?
  1. আইন অমান্য করা
  2. সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ
  3. নিয়মিত কর প্রদান করা
  4. স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করা যায়।
- নাগরিক কর্তব্য যেমন-নির্বাচনে অংশগ্রহণ, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন, তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে আইনের দারস্থ হওয়া, সরকারকে জবাবদিহি করা, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সরকারকে সহযোগিতা করা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা ও নিয়মিত কর প্রদান করে সরকারি সেবা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখে সুশাসন নিশ্চিত করা যেতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সুশাসনের কোন উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি?
  1. আইনের শাসন 
  2. স্বচ্ছতা 
  3. জবাবদিহিতা 
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সুশাসনের যে উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি তা হলো আইনের শাসন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও সুশাসন:

- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেন। এগুলো হলো:
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ওয়েবসাইট।

৯৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা নয় কোনটি?
  1. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা
  2. জনঅংশগ্রহণের অভাব
  3. দারিদ্র্য
  4. স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালীকরণ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
→ বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
→ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা, 
→ সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
→ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
→ আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা, 
→ আইনের শাসনের অভাব,
→ দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
→ রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব,
→ রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
→ স্বজনপ্রীতি,
→ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
→ জনঅংশগ্রহণের অভাব,
→ দারিদ্র্য,
→ জনসচেতনতার অভাব,
→ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৫.
‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন’ উক্তিটি করেছেন-
  1. ক) কফি আনান
  2. খ) বিশ্ব ব্যাংক
  3. গ) UNDP
  4. ঘ) হালফ্যানি
ব্যাখ্যা
[সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৯৬.
সুনীতি গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করার দায়িত্ব কার?
  1. বিদেশীদের
  2. নাগরিকের
  3. আমলাদের
  4. সামরিকবাহিনীর
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিক ও সরকারের ভূমিকা:
- সুশাসন একটি জটিল ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের সকল নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।
- নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।
- শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করতে গিয়ে সরকার বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে।
- এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন অভিমত সরকারের কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় ও অর্থবহ করে তোলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের প্রধান করণীয় হচ্ছে ব্যক্তিগত অথবা সংগঠিতভাবে সরকারকে জনকল্যাণে সুনীতি গ্রহণে বাধ্য করা।
- এক্ষেত্রে তারা আলোকিত মতামত দিয়ে সরকারকে সাহায্য করতে পারে বা সরকারের অন্যায় বা ভুল নীতির সমালোচনা বা প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৭.
উৎপত্তিগত অর্থে 'Governance' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. হিব্রু
  2. ফারসি
  3. ল্যাটিন
  4. গ্রিক
ব্যাখ্যা
Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
এর অর্থ - শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।

According to Oxford Dictionary:
Middle English: from Old French, from governer, from Latin gubernare ‘to steer, rule’, from Greek kubernan ‘to steer’.

মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।
------------------------------------------------
- উল্লেখ্য, উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল।
- ল্যাটিন ভাষায় গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে। 

Good Governance শব্দটির অর্থ - কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন। সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৮.
আমলাতন্ত্রের সংস্কার - বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সুশাসনের কোন স্তম্ভের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) আইনি কাঠামো
  3. গ) দায়িত্বশীলতা
  4. ঘ) অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে,
'Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.'

UNDP এর মতে, সুশাসন হল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়।

বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল।
আর এ চারটি স্তম্ভ হল-
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো এবং
- অংশগ্রহণ।
================

১. দায়িত্বশীলতা:
দায়িত্বশীলতার অন্তর্ভূক্ত বিষয়গুলো হলো:
- দক্ষতা নির্মাণ
- সরকারি খাত ব্যবস্থাপনায়
- দক্ষতা আনায়ন
- অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা
- আমলাতন্ত্রের সংস্কার

২. স্বচ্ছতা:
স্বচ্ছতার অন্তর্ভূক্ত বিষয়গুলো হলো:
- তথ্য প্রবাহ
- তথ্য উন্মুক্তকরণ
- ই-তথ্য সেবা প্রতিষ্ঠা
- দুর্নীতি প্রতিরোধ
- কার্যকর পদক্ষেপ

৩. আইনি কাঠামো:
আইনি কাঠামোর অন্তর্ভূক্ত বিষয়গুলো হলো:
- আইন প্রয়োগ
- আইন ও কাঠামো
- বেসরকারি খাতের উন্নয়ন
- আইনি কাঠামো
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ

৪. অংশগ্রহণ:
অংশগ্রহণের অন্তর্ভূক্ত বিষয়গুলো হলো:
- অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন
- প্রভাবিত গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ
- রাষ্ট্রীয় ও সেবামূলক কর্মকান্ডের বিকেন্দ্রীকরণ
- বেসরকারি সংগঠনের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা


উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের কোন স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি?
  1. দারিদ্র্য বিমোচন
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. আইনী কাঠামো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'

- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, 'সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়।'

- পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামের রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
- সংস্থাটির মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার পেছনে সুশাসনের অনুপস্থিতি মুখ্যত দায়ী অভাব।

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
চারটি স্তম্ভ হল- 
(i) দায়িত্বশীলতা 
(ii) স্বচ্ছতা 
(iii) আইনী কাঠামো ও 
(iv) অংশগ্রহণ।  

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।

১০০.
আইনের শাসন বলতে বোঝায় -
  1. ক্ষমতাশালীর শাসন
  2. দলীয় শাসন
  3. আইনের চোখে সবাই সমান
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
- আইনের শাসন বলতে বোঝায় আইনের চোখে সবাই সমান।

• অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো: 
​ক. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, 
​খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা, 
​গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
​​- এই শর্ত তিনটি মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।