ব্যাখ্যা
- এর অধীনে রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্যে অনুসরণীয় কতগুলো কৌশল স্থির করা হয়।
(তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট)
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ১৩ / ১৪ · ১,২০১–১,৩০০ / ১,৩২৩
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
বিশ্বব্যাংক:
- 'গভর্নেন্স' প্রপঞ্চটির সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে 'সুশাসন' শব্দটির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে।
- এর ফলে 'গভর্নেন্স'-এর নরমেটিভ উপাদানের প্রকাশ ঘটেছে।
- এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- এ চারটি স্তম্ভ হলো-
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪.অংশগ্রহণ।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
⇒ ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।
অন্যদিকে,
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব কর্তব্য:
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- সংবিধান মেনে চলা।
অন্যদিকে,
• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়:
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় আইনের শাসন।
সুশাসনের উপাদান:
• আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান ৫টি। এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা (Accountability),
- স্বচ্ছতা (Transparency),
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই (Combating Corruption),
- অংশগ্রহণ (Participation),
- আইনি ও বিচারিক কাঠামো (Legal and Judicial Framework).
উৎস: AfDB ওয়েবসাইট।
• Millennium Development Goals:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে।
- সুশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়সংগত ও কার্যকর প্রশাসনের কথা উল্লেখ করা হয়, যা টেকসই মানব উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলে।
- এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (Millennium Development Goals—MDG) অর্জনের ক্ষেত্রেও সুশাসনের গুরুত্ব বিশেষভাবে স্বীকৃত।
- MDG মূলত বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রণীত একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
- ২০০০ সালের ৬–৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন সম্মেলনে ৮টি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
- এবং সেগুলো অর্জনের জন্য ১৫ বছরের সময়সীমা নির্ধারিত হয়।
- এই লক্ষ্যগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় বিশ্বের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- MDG-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল- দারিদ্র্য বিমোচন।
- এটি অর্জনের জন্য মানুষের ন্যূনতম দৈনিক আয় দারিদ্র্যসীমার ওপরে—অর্থাৎ ১.২৫ মার্কিন ডলারের বেশি—নিয়ে আসার ওপর জোর দেওয়া হয়।
- এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং দায়িত্বশীল শাসন অপরিহার্য হওয়ায় MDG বাস্তবায়নে সুশাসনের অর্থনৈতিক মাত্রাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (MDG) হচ্ছে -
• চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল,
• সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন,
• শিক্ষার মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণ,
• শিশু মৃত্যু হ্রাসকরণ,
• মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন,
• এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ,
• পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ,
• উন্নয়নের জন্য একটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের বিকাশ ঘটানো।
উৎস: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- 'সুশাসন' হলো একটি কাঙিক্ষত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ
সাম্যের বিভিন্ন রূপ:
- মানুষের বিভিন্নমুখী বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন।
- নাগরিক জীবনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য সাম্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যেমন- ১। সামাজিক সাম্য, ২। রাজনৈতিক সাম্য, ৩। অর্থনৈতিক সাম্য, ৪। আইনগত সাম্য, ৫। স্বাভাবিক সাম্য ও ৬। ব্যক্তিগত সাম্য।
১. সামাজিক সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সমাজের সকল সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে সামাজিক সাম্য বলে।
- এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না।
২. রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।
৩. অর্থনৈতিক সাম্য:
- যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।
৪. আইনগত সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আইনের দৃষ্টিতে সমান মনে করা এবং বিনা অপরাধে গ্রেফতার ও বিনা বিচারে আটক না করার ব্যবস্থাকে আইনগত সাম্য বলে।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
- সুশাসনের মানদণ্ড জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক
আইনের শাসন:
- অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো:
ক. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান,
খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা,
গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
- এই শর্ত তিনী মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর হয়েছে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
- সুশাসনের জন্য আবশ্যক নয় সামরিক শাসন।
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।
সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র অবশ্যই একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড।
- রাষ্ট্রের মূখ্য উপাদান চারটি। যথাঃ স্থায়ী জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
- স্থায়িত্ব, জাতীয়তাবাদ, অধিকার ও সাম্য, সম্পর্ক স্থাপনের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইত্যাদি কোনো রাষ্ট্রের গৌণ উপাদান।
বিশ্বব্যাংক (World Bank) প্রথমবারের মতো সুশাসন (Good Governance)-এর ধারণা ও সংজ্ঞা প্রদান করে ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে। রিপোর্টের নাম "Governance and Development" (শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন)।
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।
- এটি বিশেষ করে আফ্রিকার প্রেক্ষাপটে (Sub-Saharan Africa) উন্নয়নের বাধা হিসেবে দুর্বল শাসনকে চিহ্নিত করে সুশাসনকে উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
উল্লেখ্য,
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ন্যায়সঙ্গতভাবে একজন নাগরিক সব ধরনের স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রাখে।
- নেতৃত্বের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকা উচিত।
- একনায়কতান্ত্রিক, সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সদগুন:
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।
উল্লেখ্য,
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণে জবাবদিহিতা (Accountability) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সুশাসনের উপাদান:
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আইডিএ (International Development Agency) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
- “শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক” –উক্তিটি গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর।
- শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন।
- প্রজ্ঞা ও মুক্তিই হবে তাদের মূল চালিকাশক্তি।
- এমতাবস্থায় দার্শনিক রাজারা অবিবেচনায় শাসন কার্য পরিচালনা করবেন।
- তাদের পেছনে কোন প্রকার আইনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন।
⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance ।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
সুশাসন ও বিশ্বব্যাংক:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর শাসন ব্যবস্থা, যা আইনের শাসন নিশ্চিত করে এবং দেশের জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ই-গভর্ন্যান্স সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করে তোলে।
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
আমলাতান্ত্রিকতা ও দুর্বল সুশীল সমাজ:
- রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশে আমলাদের কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- তাঁরা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী ক্ষমতা ও নীতিমালা প্রয়োগ করছে।
- দেশের সুশীল সমাজ অত্যন্ত দুর্বল।
- তারা অনেক বিষয়ে রাজনৈতিক মতামত ব্যক্ত করে সরকারের বিভিন্ন অন্যায় কার্যক্রমের সমালোচনা না করে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
- বাংলাদেশের সুশীল সমাজ কার্যত সরকার ও বিরোধী দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
- ফলত সুশীল সমাজ কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, সুশাসন বিষয়ক তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস সুশাসনের গুরুত্ব বুঝাতে ''রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক''।
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) বলেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জনপ্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।
সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
• এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনী কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সুশাসন নিশ্চিতে জরুরি সেবার হটলাইন চালু করেছে সরকার।
- তাহলো বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯; দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার ১০৬; সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার ১৬৪৩০; কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন ১৬১২৩; নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে ১০৯ ইত্যাদি।
এছাড়াও,
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।
⇒ বাংলাদেশ জাতিসংঘের United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) এর অনুসমর্থনকারী দেশ।
- দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে' সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই
কনভেনশনে।
এছাড়া,
- সর্বোপরি সুশাসন বাস্তবায়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা গঠন করা সম্ভব হবে।
উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হল সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম 'সুশাসন' ধারনাটি সামনে নিয়ে আসে। বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনে ৪টি স্তম্ভ বা উপাদান। বিশ্বব্যাংক উক্ত সংজ্ঞাটি ১৯৯৪ সালে প্রদান করেন।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র) বই।
⇒ সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি সহনশীলতা।
সহনশীলতা:
- একটি বহুমাত্রিক সমাজে বিভিন্ন মতাদর্শ, সংস্কৃতি, ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ একত্রে বসবাস করে।
- সহনশীল মানসিকতা ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি করে, যা সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- সহনশীলতা ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানবোধ বৃদ্ধি করে।
- যদি সহনশীলতা না থাকে, তবে সমাজে বিভাজন, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
- সহনশীলতা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পর্কেই নয়, বরং সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থার উন্নতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে সহনশীলতা একটি অপরিহার্য উপাদান বা ভিত্তি।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮ মে, ১৮৭২ ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ, এবং সমাজ চিন্তাবিদ।
- তাঁর সমাজসচেতন লেখনী এবং কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫০ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান।
⇒ তার গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Problem of Philosophy,
- The Conquest of Happiness,
- Religion and Science,
- The Principles of Mathematics,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Philosophical Essays,
- Political Ideals,
- Principles of Social Reconstruction,
- The Analysis of Matter and
- Logic and knowledge.
তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি। এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
বাংলাদেশ সংবিধান:
- অনুচ্ছেদ-২৮ : ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য
- ২৮ (১): কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।
- ২৮(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
- ২৮(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।
- ২৮ (৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।
উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।
উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য:
- গনতন্ত্র,
- অংশগ্রহন প্রক্রিয়া,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
• নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সুশাসন:
- সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সুশাসন (Good Governance) বলা হয়।
- এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- সুশাসনই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে জনগণ নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
- এই শাসনব্যবস্থায় সরকার কীভাবে কাজ করছে, তার জবাবদিহিতা থাকে জনগণের প্রতি।
- সুশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, জনগণের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ প্রদান করে।
- সুশাসনই সেই মূল ভিত্তি যা সরকার ও জনগণের মাঝে বিশ্বাস, সমন্বয় এবং কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি।
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সিপিডি।
⇒ সুশাসনের ফলে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game' বলা হয়৷
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা ।
- ‘সুশাসন' হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
- মূলত ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব
হয় ।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com
সুশাসন :
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হলো জবাবদিহিতা।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও
ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'। সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।
• সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়। সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে। যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- এটি একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চাকে নির্দেশ করে, যেখানে অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচারের মতো উপাদান গুরুত্ব পায়।
• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি:
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং UNDP ওয়েবসাইট।
সমাজ ও সুশাসন:
- সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
- কারণ সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, সততা, এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সৎ, দায়িত্বশীল, এবং আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে সাহায্য করে, যা সমাজে একটি সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- এভাবে, সমাজে আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে,
- আইনের শাসন উপেক্ষা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বা জনমনে ভীতি সৃষ্টি সমাজে অস্থিতিশীলতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, যা সুশাসনের মূল ধারণার পরিপন্থী।
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।