বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈষ্ণব পদাবলি

মোট প্রশ্ন২১৭এই পাতা১৭প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈষ্ণব পদাবলি

PrepBank · পাতা / · ২০১২১৭ / ২১৭

২০১.
বৈষ্ণব পদাবলিতে কয়টি অভিসারের কথা বলা হয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

• এতে ৮ প্রকার অভিসারের কথা বলা হয়েছে। যথা:
- জ্যোৎস্নাভিসার,
- তামসীভিসার,
- বর্ষাভিসার,
- দিবাভিসার,
- কুজ্ঝাটিকাভিসার,
- তীর্থযাত্রাভিসার,
- উন্মত্তাভিসার,
- সঞ্চরাভিসার।

• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিকা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

• যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২০২.
বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম সংকলন কে?
  1. কানাহরি দত্ত 
  2. বিদ্যাপতি 
  3. আউল মনোহর দাস
  4. ফকির চাঁদ বাউল 
সঠিক উত্তর:
আউল মনোহর দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউল মনোহর দাস
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব সাহিত্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা হলো বৈষ্ণব সাহিত্য।
- মধ্যযুগে ১৬৫ জনের মতো কবি বৈষ্ণব সাহিত্য রচনা করেন। এদের রচিত বৈষ্ণব কবিতার সর্বপ্রথম সংকলন করেন বাবা আউল মনোহর দাস।
- তাঁর বৈষ্ণব কবিতা সংকলের নাম 'পদসমুদ্র'। এতে প্রায় পনের হাজার বৈষ্ণব কবিতা সংকলিত হয়েছে। ষোড়শ শতকের শেষের দিকে তিনি এগুলো সংগ্রহ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২০৩.
শৃঙ্গার রসকে বৈষ্ণব পদাবলিতে কী রস বলে?
  1. কাব্যরস
  2. ভাবরস
  3. প্রেমরস
  4. মধুর রস
সঠিক উত্তর:
মধুর রস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুর রস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• মধুর রস’কে শৃঙ্গার রসও বলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি হুমায়ুন আজাদ।
২০৪.
বৈষ্ণব পদকর্তা 'চণ্ডীদাস’ কতজন?
  1. ক) ৩ জন
  2. খ) ২ জন
  3. গ) ৪ জন
  4. ঘ) ৫ জন
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪ জন
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদকর্তারূপে চণ্ডীদাসের নাম সাহিত্যের ইতিহাসে যেমন সুবিদিত, তেমনি বিতর্কিতও। বৈষ্ণব সাহিত্যে ৪ জন চণ্ডীদাসের নাম পাওয়া যায়- দ্বিজ চণ্ডীদাস, চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস এবং বড়ু চণ্ডীদাস। কোন কোন গবেষকের মতে- এ চারজন একই ব্যক্তি। উৎস: শীকর, বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
খেয়াল করুন, শ্রীকৃষ্ণকীর্তনও বৈষ্ণব কাব্য। পদাবলীর কথা আলাদা করে বলা হয়নি।
২০৫.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলক কে?
  1. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
  2. গোবিন্দদাস
  3. কবি জয়দেব
  4. আউল মনোহর দাস
সঠিক উত্তর:
আউল মনোহর দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউল মনোহর দাস
ব্যাখ্যা
⇒ বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলক বাবা আউল মনোহর দাস।
⇒ বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলনের নাম ‘পদসমুদ্র’। 
⇒ বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলন ‘পদসমুদ্র’। এই সংকলনে মোট ১৫ হাজার পদ ছিল। 

অন্যদিকে,
⇒ কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ মনসামঙ্গল কাব্যের একজন পশ্চিমবঙ্গীয় কবি।
⇒ গৌরচন্দ্রিকার পর্বের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা গোবিন্দদাস।
⇒ বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২০৬.
বৈষ্ণব সাহিত্য কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলস্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২০৭.
বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি-
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. গোবিন্দদাস
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি- বিদ্যাপতি।
- তিনি বাংলা ভাষায় একটি পদ ও না লিখে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- তিনি ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছেন।

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২০৮.
বৈষ্ণব পদাবলির কাব্যরূপ 'পূর্বরাগ' এর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা কে?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) জয়দেব
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
⇒ পূর্বরাগ:
রূপ গোস্বামী ''উজ্জ্বলনীলমণি'' গ্রন্থে পূর্বরাগের সংজ্ঞার্থে বলেছেন -
- মিলনের পূর্বে দর্শন, নাম শ্রবণ প্রভৃতি দ্বারা নায়ক নায়িকার মনে পরস্পরের প্রতি যে অনুরাগ জন্মে, তাকে বলে পূর্বরাগ।

- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে পূর্বরাগ জনপ্রিয় কাব্যরূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২০৯.
জয়দেবের রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি কোন ভাষায় রচিত?
  1. ব্রজবুলি
  2. সংস্কৃত
  3. হিন্দি
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২১০.
বৈষ্ণব পদাবলীতে রাধার কয়টি অবস্থার বর্ণনা পাওয়া যায়?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১২ টি
সঠিক উত্তর:
ক) ৮ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৮ টি
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলীতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধার আটটি অবস্থার বর্ণনা পাওয়া যায়।
সেগুলো হলো :
- অভিসারিকা
- বাসকসজ্জা
- উৎকণ্ঠিতা
- বিপ্রলব্ধা
- খণ্ডিতা
- কলহান্তরিতা
- প্রোষিতভর্তৃকা ও
- স্বাধীনভর্তৃকা
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২১১.
নিচের কোনটি চন্দ্রাবতীর রচনা?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) ভাগবত
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
ক) রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রামায়ণ
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগ তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী।
-  চন্দ্রাবতীর পিতার নাম মনসা মঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ বংশীদাস 
- তিনি পিতার আদেশে ‘রামায়ণ' অনুবাদে হাত দেন। কিন্তু তা সমাপ্ত করার পূর্বেই তিনি মারা যান।
- চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলোর নাম: 
  - মলুয়া 
  - দস্যু কেনারামের পালা 
  - রামায়ণ

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ডঃ. সৌমিত্র শেখর।]
২১২.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
ব্যাখ্যা

•'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন':
• বাংলা ভাষার মধ্যযুগের প্রাচীনতম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং পুঁথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘরের টিনের চালার নিচ থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
• ১৯১৬ সালে তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে প্রকাশিত হয়।
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য মোট ১৩টি খণ্ড ও ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।
• খণ্ডগুলো হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড,
- যমুনাখণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও
- বিরহখণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১৩.
বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম কী?
  1. চৈতন্য মঙ্গল
  2. চৈতন্য-ভাগবত
  3. চৈতন্য-চরিতামৃত
  4. চৈতন্যজীবনী
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
ব্যাখ্যা

• শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল 'বৈষ্ণব সাহিত্য'। তার কল্যাণেই বাঙালির স্বজাত্যবোধ ও নিজসংস্কৃতি রক্ষিত হয়৷
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থের নাম - লোচন দাসের 'চৈতন্য মঙ্গল'।
- বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী - কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিতামৃত' 
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা:
- জীবনীকাব্য,
- বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
- পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২১৪.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ - কাব্যের খণ্ডগুলোর মধ্যে শেষ খণ্ডটির নাম কী?
  1. জন্মখণ্ড
  2. বংশীখণ্ড
  3. রাধাবিরহখণ্ড
  4. কালিয়দমনখণ্ড
সঠিক উত্তর:
রাধাবিরহখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধাবিরহখণ্ড
ব্যাখ্যা

• ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের খণ্ডগুলোর মধ্যে শেষ খণ্ডটির নাম - রাধাবিরহখণ্ড। 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:

- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি। ভাগবত প্রভৃতি পুরাণের কৃষ্ণলীলা-সম্পর্কিত কাহিনি অনুসরণে, জয়দেবের গীতগোবিন্দ কাব্যের প্রভাব স্বীকার করে, লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে কবি বড়ু চণ্ডীদাস শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচনা করেন।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে
পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটান। বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের
দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- পুঁথিটির প্রথম দিকের দুটি পাতা এবং শেষের পাতাটি ছিল না। এ ছাড়া পুঁথির মধ্যেও কিছু পাতা নেই। রীতি অনুযায়ী পুঁথির প্রথম দিকে দেবতার প্রশংসা, কবির পরিচয় ও গ্রন্থনাম উল্লেখিত হয় এবং শেষ দিকের পাতায় পুঁথির রচনাকাল ও লিপিকাল লিখিত থাকে। প্রথম ও শেষ অংশ খণ্ডিত থাকায় কবির আত্মপরিচয় ও রচনাকালের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লোকচক্ষুর আড়ালেই কর আড়ালেই রয়ে গেছে।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। খণ্ডগুলো হল: জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহখণ্ড

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২১৫.
'কড়চা' নামে অভিহিত করা হয়েছে কোন গ্রন্থকে?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. চৈতন্যদেবের জীবনী
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যদেবের জীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যদেবের জীবনী
ব্যাখ্যা
• কড়চা:
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে 'কড়চা' নামে অভিহিত করা হয়েছে। যেমন: মুরারি গুপ্তের কড়চা, স্বরূপ দামোদরের কড়চা, গোবিন্দদাসের কড়চা প্রভৃতি।

- কড়চা কথাটির প্রয়োগ সম্পর্কে ড. সুকুমার সেন লিখেছেন, 'কড়চা শব্দটি আসিয়াছে প্রাকৃত 'কটকচ্চ', সংস্কৃত 'কৃতকৃত্য' হইতে। 'কট' শব্দ প্রাচীন অনুশাসনে 'খসড়া লেখা' (Original draft) অর্থেই পাওয়া গিয়াছে। কড়চার অর্থও এই ব্যুৎপত্তির অনুরূপ-খসড়া রচনা, স্মারক লিপি, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।' কড়চাকে দিনপঞ্জি বা রোজনামচা হিসেবে বিবেচনা করা চলে।

- এতে লেখক নিজের জীবনের ঘটনা বা তাঁর দেখা বা শোনা ঘটনার বিবরণ প্রতিদিন লিখে রাখতেন। পরবর্তী কালে কোন রচনার উপকরণ হিসেবে তা ব্যবহৃত হত। তবে চৈতন্য জীবনীকে কড়চা নামে অভিহিত করাতে কথাটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২১৬.
জয়দেব রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি কোন ভাষায় রচিত?
  1. বাংলা
  2. প্রাকৃত
  3. ব্রজবুলি
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২১৭.
জ্ঞানদাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. অদ্বৈত আচার্য
  2. নিত্যানন্দ প্রভু
  3. জাহ্নবী দেবী
  4. শ্রীচৈতন্যদেব
সঠিক উত্তর:
জাহ্নবী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহ্নবী দেবী
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।