উত্তর
ব্যাখ্যা
ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ- বাক্য,
- ভাষার মূল উপাদান/ক্ষুদ্রতম একক- ধ্বনি,
- বাক্যের মৌলিক উপাদান/ক্ষুদ্রতম একক- শব্দ (পদ),
- শব্দের একক - ধ্বনি
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বই।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৫৯ / ৬৩ · ৫,৮০১–৫,৯০০ / ৬,৩২৭
ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ- বাক্য,
- ভাষার মূল উপাদান/ক্ষুদ্রতম একক- ধ্বনি,
- বাক্যের মৌলিক উপাদান/ক্ষুদ্রতম একক- শব্দ (পদ),
- শব্দের একক - ধ্বনি
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বই।
• মূর্ধন্য 'ণ' এর ভুল প্রয়োগ হয়েছে - ক্রন্দণ।
সঠিক বানান হবে ক্রন্দন।
----------------
• ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্), লক্ষণ (ক্+ ষ্ + অ + ণ্)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
২. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়।
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।
৩. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, রন্ধন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• আদি স্বরাগম: উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন-
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা,
- স্তাবল > আস্তাবল ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- প্রীতি > পিরীতি ইত্যাদি।
অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বর্ণ প্রকরণ:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- সু উপসর্গ গঠিত সুস্মিতা শব্দটি ঠিক।
- শুচিস্মিতা শব্দে ষ-ত্ব বিধি অনুসারে ষ হওয়ার কথা থাকলেও বাংলা একাডেমি অভিধানে স দিয়ে লেখা আছে।
তাই সঠিক বানান - শুচিস্মিতা।
- অভিসন্ধি শব্দে ষ-ত্ব বিধি অনুসারে ষ হওয়ার কথা থাকলেও বাংলা একাডেমি অভিধানে স দিয়ে লেখা আছে।
তাই সঠিক বানান - অভিসন্ধি।
- অভিষম্পাত ষ-ত্ব বিধি অনুসারে ষ হওয়ার কথা থাকলেও বাংলা একাডেমি অভিধানে স দিয়ে লেখা আছে।
তাই সঠিক বানান - অভিসম্পাত।
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
• 'সংস্কার' - 'ষ-ত্ব' বিধানের নিয়মে শুদ্ধ।
• 'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী-
- কেবল তৎসম শব্দেই 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য।
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়।
- ষ্টেশন, 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' শব্দগুলো ইংরেজি - তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।
- সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার ও স্টেশন।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
ঞ্জ = ঞ্ + জ (ব্যঞ্জন)
ষ্ণ = ষ্ + ণ (তৃষ্ণা)
ঞ্চ = ঞ্ + চ (অঞ্চল)
জ্ঞ = জ্ + ঞ (যজ্ঞ)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী
• উষ্মধ্বনি:
- "শ, ষ, স, হ "এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি।
- এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি।
- এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
- শ, ষ, স- এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
- রাখিয়া > রেখে,
- করিয়া > করে,
- শুনিয়া > শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
'জ্ঞ' যুক্তবর্ণ গঠিত হয়েছে- জ্ + ঞ।
• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + ট = ক্ট, হ্ণ
- জ্ + জ = জ্জ,
- ঞ্ + চ = ঞ্চ,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ঞ্ + জ = ঞ্জ
- জ্ + ঞ = জ্ঞ
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, সাল, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন-
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উচ্চারণ স্থান অনুসারে ‘র’ বর্ণটি মূর্ধন্য ধ্বনি।
কারণ এটি উচ্চারণের সময় জিহ্বার অগ্রভাগ মূর্ধা-র দিকে ওঠে।
• উচ্চারণের স্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:
১. কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় ২. তালব্য বা অগ্রতালুজাত, ৩. মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয়, ৪. দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয় এবং ৫. ওষ্ঠ্য।
• মূর্ধন্য/পশ্চাৎ দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ়
-------------
অন্যদিকে,
• দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয়:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ৎ বা দ্ এবং ন্ / ম্ থাকলে ৎ বা দ্ স্থানে 'ন্' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প], [ফ], [ব], [ভ], [ত], [খ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ], [চ], [ছ], [জ], [খ], [ক], [খ], [গ], [ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স], [শ], [হ], [ল], [র], [ড়], [ঢ়]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
সঠিক উত্তর - ক) মহা + ঋষি
স্বরসন্ধির ক্ষেত্রে,
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ (') রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
- উদাহরণ:
অ + ঋ = অর্ → দেব + ঋষি = দেবর্ষি
আ + ঋ = অর্ → মহা + ঋষি = মহর্ষি
- এরূপ: অধমর্ণ, উত্তমর্ণ, সপ্তর্ষি, রাজর্ষি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
• অপিনিহিতির উদাহরণ নয়- মাছুয়া > মেছো।
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
--------------------
• অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় যেমন অপিনিহিতির প্রাচুর্য, পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক কথ্যভাষা ও মান্যচলিত ভাষায় তেমনি অনেক অভিশ্রুতি শব্দ লক্ষ করা যায়।
যেমন:
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
এরূপ-
- মানিয়া > মাইন্যা > মেনে;
- করিয়া > কইর্যা > করে;
- বাছিয়া > বাইছ্যা > বেছে;
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো;
- মাছুয়া > মাউছ্যা > মেছো;
- আজি > আইজ > আজ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• সঠিক যুক্তবর্ণ - ঞ্ + ছ = ঞ্ছ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- ঞ্ + জ = ঞ্জ,
- হ্ + ম = হ্ম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
• "তত্ত্বাবধায়ক" শব্দের সঠিক উচ্চারণ - তত্তাবোধায়োক্।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- তত্ত্বাবধানকারী;
- পরিদর্শক; পরিচালক।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ];
• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],[ক], [খ], [গা,[ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
বরঞ্চ (বরোন্চ):
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - বরম্ + চ
শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলায় আগত।
শব্দটির অর্থ - বরং।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য:
- সন্ধি ও সমাস—উভয়ই শব্দগঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হলেও এদের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
১) সন্ধি ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্ব শাখায় আলোচিত হয়, কারণ এতে মূলত ধ্বনির সঙ্গে ধ্বনির মিলন ঘটে।
- অন্যদিকে, সমাস আলোচিত হয় শব্দতত্ত্বে, কারণ এতে ধ্বনির নয়, বরং পদের মিলন ঘটে।
২) সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য হলো উচ্চারণকে সহজ করা এবং ভাষায় ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি করা। ফলে সন্ধিতে শব্দের অর্থের চেয়ে ধ্বনির পরিবর্তনই মুখ্য হয়ে ওঠে।
- সমাসের মূল উদ্দেশ্য হলো বাক্যে ব্যবহৃত শব্দকে সংক্ষেপ করা—অর্থাৎ পরস্পর অর্থসঙ্গত একাধিক পদকে একপদে রূপান্তর করা। এতে ভাষা সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ হয়।
৩) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো—
- সন্ধিবদ্ধ পদ সবসময়ই সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ সেখানে ধ্বনির মিলনের পাশাপাশি অর্থগত সংযোগও থাকতে পারে।
- কিন্তু সমাসবদ্ধ পদ সব সময় সন্ধিবদ্ধ নাও হতে পারে; অনেক ক্ষেত্রে কোনো ধ্বনিগত পরিবর্তন ছাড়াই কেবল পদের সংযোগে সমাস গঠিত হয়।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।
দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই্]: তাই, নাই।
- [এই্]: সেই, নেই।
- [আও্]: যাও, দাও।
- [আএ্]: খায়, যায়।
- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রার বাঞ্জনবর্ণ- ২৬টি।
----------------------------
• বর্ণ:
- বর্ণ হচ্ছে- ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক।
- ভাষায় ভাব প্রকাশের জন্য উচ্চারিত ধ্বনিকে লেখায় রূপ দেওয়ার যে চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলা হয়।
- অর্থাৎ ধ্বনি কানে শোনা যায় কিন্তু সেই ধ্বনির প্রতীক বর্ণ চোখে দেখা যায় এবং তা লিখে প্রকাশ করা হয়।
- ভাষার নির্মাণে বর্ণ মূল ভিত্তি, কারণ শব্দ গঠনের সবচেয়ে ছোট একক হলো বর্ণ।
- বাংলায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে—এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- বাংলা বর্ণমালায় ১০টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে:
• স্বরবর্ণ: এ, ঐ, ও, ঔ;
• ব্যঞ্জনবর্ণ: ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ।
- আবার অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি:
• যার মধ্যে ১টি স্বরবর্ণ (ঋ) এবং
• ৭টি ব্যঞ্জনবর্ণ (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- বাকি ৩২টি বর্ণ পূর্ণমাত্রার - যেখানে ৬টি স্বরবর্ণ এবং ২৬টি ব্যঞ্জনবর্ণ।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
• একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ। যেমনঃ
- ধপ + ধপ = ধপাধপ,
- টপ + টপ = টপাটপ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• সবগুলো যুক্তবর্ণের বিশ্লেষণ সঠিক।
- তাই উত্তর হবে কোনোটিই নয়।
• কয়েকেটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত = (ক্ + ত),
- ক্ম = (ক্ + ম),
- ক্ষ = (ক্ + ষ),
- ক্ষ্ম = (ক্ + ষ্ + ম),
- ক্স = (ক্ + স),
- গু = (গ্ + উ),
- গ্ধ = (গ্ + ধ),
- ঙ্গ = (ঙ্ + গ),
- ণ্ড = (ণ্ + ড),
- জ্ঞ = (জ + ঞ),
- ঞ্চ = (ঞ্ + চ),
- ঞ্জ = (ঞ্ + জ),
- ষ্ণ = (ষ্ + ণ)
- হু = (হ্ + উ),
- হৃ = (হ + ঋ),
- হ্ন = (হ্ + ন),
- হ্ম = (হ্ + ম) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি( ২০২২ সংস্করণ)।
বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।
উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ: অন্তঃ + রাষ্ট্রীয় = অন্তঃরাষ্ট্রীয়।
• পূর্বপদের অন্ত্য-বিসর্গের পর ক/দ/খ/প/ফ/র/শ/স্ থাকলে সন্ধিতে বিসর্গ অপরিবর্তিত বা অক্ষত থাকে।
যেমন
- অধঃ + ক্রম = অধঃক্রম,
- মনঃ কষ্ট = মনঃকষ্ট।
- অধঃ + ক্ষেপ = অধঃক্ষেপ,
- মনঃক্ষুণ্ণ = মনঃক্ষুণ্ণ।
- অতঃ + পর = অতঃপর,
- বহিঃ + প্রকাশ = বহিঃপ্রকাশ।
- অন্তঃ + রাষ্ট্রীয় = অন্তঃরাষ্ট্রীয়।
- দুঃ + শাসন = দুঃশাসন,
- নিঃ+ শেষ = নিঃশেষ।
- দুঃ+ স্বপ্ন = দুঃস্বপ্ন,
- নিঃ সন্দেহ = নিঃসন্দেহ।
• বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনি বা উ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ(ঃ) স্থানে য হয়।
- এবং বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ (ঃ) স্থানে স-ধ্বনি হয়। স পরবর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন:
- চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ।
- আবিঃ + কার = আবিষ্কার।
- নিঃ + পত্তি = নিষ্পত্তি,
- নিঃ + ফল = নিষ্ফল।
- দুঃ + কৃতি = দুষ্কৃতি,
- চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ।
- ভ্রাতুঃ পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।
প্রগত:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।
পরাগত:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।
মধ্যগত:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- বিলাতি > বিলিতি।
অন্যোন্য:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- মোজা > মুজো।
চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
বিশেষ নিয়মে- উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে ক্ + ন থাকলে গঙ + ন হয়৷
যেমন- দিক্ + নির্ণয় = দিগ্নির্ণয় বা দিঙ্নির্ণয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
• 'ধ’ ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।
----------------
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫)।
'আ' বর্ণের উচ্চারণ:
- 'আ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম:
'আ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [আ]:
- আকাশ [আকাশ্], রাত [রাত্], আলো [আলো]।
- [আ] জ্ঞ-এর সঙ্গে থাকলে [অ্যা]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
যেমন:
- জ্ঞান [গ্যান্], জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাপোন্]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।