বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৫২ / ৬৩ · ৫,১০১৫,২০০ / ৬,৩২৭

৫,১০১.
'মনোহর' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনো + হর
  2. মনোঃ + হর
  3. মনঃ + হর
  4. মন + হর
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মনঃ + হর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃ + হর
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি:
অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তস্থ য, অন্তস্থ ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যেমন:
- সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত,
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + হর = মনোহর,
- তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)
৫,১০২.
নিচের কোন শব্দে ‘ষ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. ঋষি
  2. রোষ
  3. কোষ
  4. ষক
সঠিক উত্তর:
ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষক
ব্যাখ্যা

• ’ষক’ শব্দে ‘ষ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।
- এটি একটি ইংরেজি শব্দ। 
- শব্দটির শুদ্ধরূপ- শক।
অর্থ- কম্পন।

উল্লেখ্য,
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
- যেমন -
- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট. স্টেশন, ইত্যাদি।

• ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়।
যেমন -
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি, কৃষান ইত্যাদি।

• স্বভাবতই 'ষ' হয়= রোষ, কোষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,১০৩.
কোনটি কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
উচ্চারণস্থান অনুসারে বর্ণের নাম:

যেমন:
কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ: অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
তালব্য বর্ণ: ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, য়, শ।
ওষ্ঠ্য বর্ণ: উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম।
মূর্ধন্য বর্ণ: ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫,১০৪.
খাঁটি বাংলা স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মিথ্যুক
  2. খ) তিনেক
  3. গ) চতুষ্পদ
  4. ঘ) কাঁচকলা
সঠিক উত্তর:
ক) মিথ্যুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মিথ্যুক
ব্যাখ্যা
বাংলা শব্দের স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয় তাকে বাংলা স্বরসন্ধি বলে। যেমনঃ শাঁখা + আরি= শাঁখারি। এরূপ সোনালী, রূপালি, মিথ্যুক, শতেক, ধনিক, কতেক, নিন্দুক, হিংসুক ইত্যাদি। নরাধম, দেবালয়, শুভেচ্ছা, যথেষ্ট, বিদ্যালয় ও মহার্ঘ হলো সংস্কৃত স্বরসন্ধি। কাঁচকলা, তিনকে হচ্ছে খাটি বাংলা ব্যঞ্জনসন্ধি এবং চতুষ্পদ হচ্ছে বিসর্গ সন্ধি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,১০৫.
নিচের কোনটি অভিশ্রুতির উদাহরণ নয়?
  1. মাছুয়া > মেছো
  2. দেখিয়া > দেখে
  3. ফাল্গুন > ফাগুন
  4. গাছুয়া > গেছো
সঠিক উত্তর:
ফাল্গুন > ফাগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
- করিয়া > করে,
- দেখিয়া > দেখে,
- গাছুয়া > গেছো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১০৬.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. চিকীর্ষা
  2. অগ্নিষ্যাৎ
  3. চক্ষুষ্মান
  4. অনুষঙ্গ
সঠিক উত্তর:
অগ্নিষ্যাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিষ্যাৎ
ব্যাখ্যা
⇒ ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১০৭.
ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী কোনটি অশুদ্ধ? 
  1. সুষুপ্ত
  2. চক্ষুষ্মান
  3. ধূলিষাৎ
  4. ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
ধূলিষাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূলিষাৎ
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। 
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। 
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। 
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে। 

‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম: 
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। 
যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি। 

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। 
যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।  

৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। 
যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি। 

৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। 
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। 

৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। 
যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ। 

৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি। 

ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়: 
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। 
যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি। 

- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। 
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১০৮.
"পরমৌষধ" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরমা + ঔষধ
  2. পরমঃ + ঔষধ
  3. পরম + ঔষধ
  4. পরম + ওষধ
সঠিক উত্তর:
পরম + ঔষধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরম + ঔষধ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়; ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- বন + ওষধি = বনৌষধি, 
- মহা + ওষধি = মহৌষধি, 
- পরম + ঔষধ = পরমৌষধ
- মহা + ঔষধ = মহৌষধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১০৯.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'মূর্ধন্য-ণ' রয়েছে?
  1. মণি
  2. পরিণাম
  3. নির্ণয়
  4. ক্ষণ
সঠিক উত্তর:
মণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণি
ব্যাখ্যা

• কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা।
আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

অন্যদিকে,
• ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, পরিণাম, কারণ, নির্ণয়, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ০ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্+প অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ষ+ অ + ণ)।
এরূপ- রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ, ক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,১১০.
নিম্নের কোন শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ স্বরসন্ধির অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) উল্লাস
  2. খ) সঞ্চয়
  3. গ) নাবিক
  4. ঘ) নীরস
সঠিক উত্তর:
গ) নাবিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাবিক
ব্যাখ্যা
নাবিক শব্দটি স্বরসন্ধির নিয়মানুসারে গঠিত।
সন্ধিবিচ্ছেদ - নৌ + ইক = নাবিক

উল্লাস, সঞ্চয় শব্দদ্বয় ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে গঠিত।
সন্ধিবিচ্ছেদ - উৎ + লাস = উল্লাস

নীরস শব্দের সন্ধি বিচ্ছের বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০২২ সংস্করণ)
৫,১১১.
স্বরসন্ধির উদাহরণ হলো -
  1. ক) দিক্‌ + অন্ত
  2. খ) বাক্‌ + দান
  3. গ) ততঃ + অধিক
  4. ঘ) শুভ + ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শুভ + ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শুভ + ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা - হচ্ছে স্বরসন্ধির উদাহরণ।

• স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- পালি ও প্রাকৃত ভাষায় এই সন্ধি অধিক দেখা যায়।
- প্রাকৃত থেকে এই রীতি বাংলায় এসেছে।
যেমন-
শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
অতি + ইত = অতীত।
সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়।
মহা+ঋষি = মহর্ষি।
শীত+ঋত = শীতার্ত।
জন+এক = জনৈক।
বন+ওষধি = বনৌষধি।
প্রতি+এক = প্ৰত্যেক।
নৈ + অক = নায়ক।
প্রতি + এক = প্রত্যেক।
গো + আদি = গবাদি।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১১২.
হ্রস্ব এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. রশসো
  2. রশ্‌শো
  3. রশষো
  4. রশশো
সঠিক উত্তর:
রশ্‌শো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রশ্‌শো
ব্যাখ্যা
হ্রস্ব [রশ্‌শো] (বিশেষণ)
- ক্ষুদ্র; খর্ব; বেঁটে; খাটো; বামন।
- হালকা; লঘুভার।
- সামান্য; কম; অল্প।

হ্রস্বতা, হ্রস্বত্ব (বিশেষ্য)
- ক্ষুদ্রতা; খর্বতা।
- লঘুতা।
- অল্পতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫,১১৩.
'অপিনিহিতি' এর উদাহরণ কোনটি?
  1. গ্লাস > গেলাস
  2. স্কুল> ইস্কুল
  3. সাধু > সাউধ
  4. মুলা > মুলো
সঠিক উত্তর:
সাধু > সাউধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু > সাউধ
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
-  সত্য > সইত্য,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'গ্লাস > গেলাস' মধ্য স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।
- 'স্কুল> ইস্কুল'  আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।
- মুলা > মুলো' প্রগত স্বরসঙ্গতি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১১৪.
কোনটি সঠিক যুক্তবর্ণ?
  1. হ্ + ঋ = হৃ
  2. হ্ + ণ = হ্ন
  3. হ্ + ঊ = হু
  4. ঞ্ + ছ = ঞ্চ
সঠিক উত্তর:
হ্ + ঋ = হৃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ঋ = হৃ
ব্যাখ্যা

• সঠিক যুক্তবর্ণ - হ্ + ঋ = হৃ

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ নিম্নে দেওয়া হলো:
- ঞ্ + চ = ঞ্চ।
- হ্ + উ = হু।
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

৫,১১৫.
স্বরধ্বনির সংবৃত উচ্চারণ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) অ
  2. খ) উ
  3. গ) ও
  4. ঘ) আ
সঠিক উত্তর:
খ) উ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উ
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

সংবৃত ঘরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট কম খেলে;
বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১১৬.
স্বরবর্ণের দশটি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোর নাম কি ?
  1. ক) অনুবর্ণ
  2. খ) সংখ্যাবর্ণ 
  3. গ) কারবর্ণ
  4. ঘ) কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
গ) কারবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কারবর্ণ
ব্যাখ্যা
স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোর নাম কারবর্ণ: া , ি ,ী ,ু ,ূ ,ৃ ,ে ,ৈ , ো , ৗে। 
কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই । এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। 
কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হস্‌চিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম - দশম শ্রেণি )
৫,১১৭.
হিংসুক শব্দের সন্ধির সময় কোন স্বরের লোপ হয়?
  1. ক) অ
  2. খ) আ
  3. গ) এ
  4. ঘ) উ
সঠিক উত্তর:
খ) আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আ
ব্যাখ্যা
সন্ধিতে দুটি সন্নিহিত স্বরের একটির লোপ হয়। যেমন- অ + এ = এ (অ লোপ)।যেমন - শত + এক = শতেক। এরূপ কতেক। আ + উ = উ (আ লোপ)। যেমন - মিথ্যা + উক = মিথ্যুক। এরূপ হিংসুক, নিন্দুক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,১১৮.
কোন বাক্যে সন্ধি জনিত ভুল আছে?
  1. বাংলা ব্যাকরণ অত্যন্ত জটিল।
  2. তাঁর দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
  3. জ্ঞানী মানুষ অবশ্যই যশোলাভ করেন।
  4. সে শিরঃপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছে।
সঠিক উত্তর:
তাঁর দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাঁর দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
ব্যাখ্যা

- 'তাঁর দুরাবস্থা দেখে দুঃখ হয়' বাক্যটি সন্ধি জনিত ভুল।
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা হচ্ছে সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ।
- তাই শুদ্ধ বাক্যটি হবে তাঁর দুরবস্থা দেখে দুঃখ হয়।
- অপশনের বাকিগুলোতে সন্ধি জনিত ভুল নেই।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১১৯.
উচ্চারণ স্থানের নামানুসারে চ-বর্গের বর্ণগুলো কী নামে পরিচিত?
  1. কণ্ঠ বর্ণ
  2. তালব্য বর্ণ
  3. দন্ত্য বর্ণ
  4. ওষ্ঠ্য বর্ণ
সঠিক উত্তর:
তালব্য বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য বর্ণ
ব্যাখ্যা
বর্গীয় ধ্বনি:
- ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণস্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছ বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় বর্গীয় ধ্বনি।
- বর্গভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্নগুলোকেও ঐ বর্গীয় নামে অভিহিত করা হয়। যেমন-

বৰ্গ - বৰ্গীয় বৰ্ণ - বর্গের ভাষাবৈজ্ঞানিক নাম:
• ক - ক, খ, গ, ঘ, ঙ - কণ্ঠ্য,
• চ - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ - তালব্য,
• ট - ট, ঠ, ড, ঢ, ণ - মূর্ধন্য,
• ত - ত, থ, দ, ধ, ন - দন্ত্য,
• প - প, ফ, ব, ভ, ম - ওষ্ঠ্য।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১২০.
নিচের কোন শব্দে ণত্ব বিধি অনুসারে 'ণ' -এর ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) কল্যাণ
  2. খ) ব্রাহ্মণ
  3. গ) বিপণি
  4. ঘ) নিক্বণ
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রাহ্মণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্রাহ্মণ
ব্যাখ্যা
তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ণ- এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ঋ, র, ষ - এর পরে স্বরধ্বনি; ষ, য়, ব, হ,ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমনঃ কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্‌, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ণ,) এরূপ- রুক্সিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

- এখানে কল্যাণ,নিক্বণ,বিপণি শব্দগুলোতে স্বভাবতই ণ হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকর, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১২১.
‘দংশন’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দম্ + শন
  2. দম + সন
  3. দম + ষন
  4. দঙ + শন
সঠিক উত্তর:
দম্ + শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দম্ + শন
ব্যাখ্যা
• ‘দংশন’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - দম্ + শন।

সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।  
যেমন:
- সম্‌ + সার = সংসার,
- সম্‌ + বাদ = সংবাদ,
- সম্‌ + যম = সংযম,
- সম্‌ + রক্ষন = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- দম্ + শন = দংশন,
- সম্‌ + হার = সংহার ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১২২.
[অ্যা] উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন?
  1. ক) সংবৃত
  2. খ) অর্ধ-সংবৃত
  3. গ) অর্ধ-বিবৃত
  4. ঘ) বিবৃত
সঠিক উত্তর:
গ) অর্ধ-বিবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্ধ-বিবৃত
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
সংবৃত: [ই], [উ];
অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
বিবৃত: [আ]। 

সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খেলে;
বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খােলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১২৩.
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. স্বরযন্ত্র
  2. কর্ণ
  3. ওষ্ঠ
  4. নাসিকা
সঠিক উত্তর:
কর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণ
ব্যাখ্যা
• বাগ্‌যন্ত্রের অংশ নয়- কর্ণ। 

------------------
• বাগ্‌যন্ত্র:
ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে। মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

বাগ্‌যন্ত্রের অংশসমূহ হলো:
১. ফুসফুস,
২. শ্বাসনালি,
৩. স্বরযন্ত্র,
৪. জিভ,
৫. আলজিভ,
৬. তালু,
৭. মূর্ধা,
৮. দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত),
৯. ওষ্ঠ,
১০. নাসিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৫,১২৪.
কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনি?
  1. [অ]
  2. [উ]
  3. [এ]
  4. [আ]
সঠিক উত্তর:
[এ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[এ]
ব্যাখ্যা

সম্মুখ স্বরধ্বনি:
- সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন:
- [ই], [এ], [অ্যা] সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মধ্য স্বরধ্বনি:
- মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]

পশ্চাৎ স্বরধ্বনি:
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,১২৫.
কোন শব্দে 'আ' 'অ্যা-' এর মতো উচ্চারিত হয়েছে?
  1. আলো
  2. জ্ঞাপন
  3. রাত
  4. আকাশ
সঠিক উত্তর:
জ্ঞাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞাপন
ব্যাখ্যা

'আ' বর্ণের উচ্চারণ:

• আ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [আ]: 
- আকাশ [আকাশ্], রাত [রাত্], আলো [আলো]। 
 
• [আ] জ্ঞ-এর সঙ্গে থাকলে [অ্যা]-এর মতো উচ্চারিত হয়। 
যেমন:
- জ্ঞান [গ্যান্‌], জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাপোন্‌]।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,১২৬.
‘প্রতীতি’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রতি + ঈতি
  2. প্রতি + তীতি
  3. প্রতি + ইতি
  4. প্রত + তীতি
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ইতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ইতি
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত কিছু শব্দ হলো:
• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১২৭.
'শিক্ষা' শব্দের সংযুক্ত বর্ণ কোন কোন বর্ণ নিয়ে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) ক + হ
  2. খ) হ + ম
  3. গ) ক + ষ
  4. ঘ) ষ + ক
সঠিক উত্তর:
গ) ক + ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক + ষ
ব্যাখ্যা
ক্ষ = ক + ষ, যেমন- বক্ষ, রক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি। হ্ম = হ + ম, জ্ঞ = জ + ঞ, ষ্ণ = ষ + ণ। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,১২৮.
'অহংকার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অহম্‌ + কার
  2. অহঃ + কার
  3. অহং + কার
  4. অহোং + কার
সঠিক উত্তর:
অহম্‌ + কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহম্‌ + কার
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌ এর পর যে কোন বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্‌ ধ্বনি টি সেই বর্গের নাসক্য ধ্বনি হয়।
যেমন-
- শম্‌ + কা = শঙ্কা,
- সম্‌ + তাপ = সম্‌ + তাপ,
- সম্‌ + তাপ = সন্তাপ (ম্‌ + ত্‌ = ন্‌ + ত্‌),
- সম্‌ + চয় = সঞ্চয়,
- অহম্‌ + কার = অহংকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১২৯.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়মের বাইরে 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দগুলোতে?
  1. ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড
  2. কৃপণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ
  3. তৃণ, বর্ণ, মরণ
  4. বেণু, অণু, কল্যাণ
সঠিক উত্তর:
বেণু, অণু, কল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেণু, অণু, কল্যাণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধানের নিয়মের বাইরে 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে বেণু, অণু, কল্যাণ শব্দগুলোতে।

স্বভাবতই 'ণ' হয় এমন আরো কিছু শব্দ:

- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, কফণি, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, কণিকা, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কল্যাণ, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

অন্যদিকে
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৩০.
হাটুয়া > হাউটা কিসের উদাহরণ?
  1. দ্বিত ব্যঞ্জন
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
বিপর্যস্থ স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে। যেমনঃ শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, মাছুয়া > মেছো, হাটুয়া > হাউটা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
৫,১৩১.
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী 'ঢ়' কোন ধরনের ব্যঞ্জন?
  1. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৩২.
যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক 
  3. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  4. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + ক = ঙ্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + ক = ঙ্ক 
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন- ঞ্‌ + ক = ঙ্ক। 
- শুদ্ধরূপ: ঙ্‌ + ক = ঙ্ক। 

--------------- 
• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
- জ্‌ + ঞ = জ্ঞ;
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ;
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ;
- ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ; 
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ।
  
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫,১৩৩.
'ব্রাহ্মণ' শব্দের 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক্ + ষ
  2. ষ্‌ + হ
  3. হ্ + ম
  4. ম্‌ + হ
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম
ব্যাখ্যা

• 'ব্রাহ্মণ' শব্দের 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি (হ্ + ম = হ্ম) বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। 

​যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় তাদের কে স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় না তাদের কে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্+ ম = হ্ম,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ + ণ= ষ্ণ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

৫,১৩৪.
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী দন্ত্য বর্ণ ______।
  1. ক) ৫ টি
  2. খ) ৬ টি
  3. গ) ৭ টি
  4. ঘ) ৮ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৭ টি
ব্যাখ্যা

উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী দন্ত্য বর্ণ ৭ টি।
যথা- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৩৫.
'ঔষধ' শব্দের সঠিক উচ্চারণ -
  1. ক) ঔশধ
  2. খ) ওউ্শদধ্‌
  3. গ) ওউ্শ‌সধ্‌
  4. ঘ) ওউ্শ‌ধ্‌
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওউ্শ‌ধ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওউ্শ‌ধ্‌
ব্যাখ্যা
• 'ঔষধ' (বিশেষ্য) শব্দের সঠিক উচ্চারণ [ওউ্শ‌ধ্‌]। 
১. যার দ্বারা রোগ নাশ হয় বা প্রতিকার হয় এমন দ্রব্য; পীড়া ও ক্লেশ নিবারণকারী পদার্থ; ভেষজ দাওয়াই। 
২. (আলঙ্কারিক) প্রতিকার।

• ঔ বর্ণের উচ্চারণ [ওউ]: ঔষধ [ওউ্শ‌ধ্‌], মৌমাছি [মোমাছি]।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৩৬.
'বাক্য > বাইক্য' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অসমীকরণ
  2. অপিনিহিতি
  3. অন্ত্য স্বরাগম
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- সত্য > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

৫,১৩৭.
নিচের কোনটি নিলীন বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

'অ' নিলীন বর্ণ:
- ‘অ' কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায় না।
- কারণ ‘অ’-এর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নেই।
- কিন্তু 'অ' ছাড়া বাকি স্বরধ্বনিগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ আছে বলে সেগুলো কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায়।
যেমন:
- কর = কর্ + অ (‘অ') দেখা যায় না।
- করা = কর্ + আ (‘আ’ দেখা যায়।
- অর্থাৎ ‘অ’ অন্য বর্ণের সঙ্গে লুকিয়ে থাকতে পারে বা নিঃশেষে লীন হয়ে থাকতে পারে বলে নিলীন বর্ণ।

অন্যদিকে,
এ, ঔ, উ এর সংক্ষিপ্ত রূপ যথাক্রমে এ-কার, ঔ-কার এবং উ-কার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,১৩৮.
নিচের কোনটিতে স্বভাবতই ণ হয়নি?
  1. লবণ
  2. কল্যাণ
  3. অণু
  4. তৃণ
সঠিক উত্তর:
তৃণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃণ
ব্যাখ্যা

ঋ, র , ষ - এর পর ণ হয়।
যেমন : তৃণ, ঋণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ ইত্যাদি।
অর্থ্যাৎ, তৃণ শব্দটিতে ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,১৩৯.
'অন্বয়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অনু + ময়
  2. অনু + অয়
  3. অন্ব + ময়
  4. অব + নয়
সঠিক উত্তর:
অনু + অয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনু + অয়
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার বা উ-কারের পর ঊ-কার। ঊ-কার ছাড়া অন্য স্বর থাকলে উ বাউ স্থানে ব-ফলা হয়। ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে যুক্ত হয়।

সূত্র: উ + অ = ব্‌ + অ;
- মনু + অন্তর = মন্বন্তর। 

এই নিয়মের আরো কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ:
• অনু + অয় = অন্বয়;
• পশু + আচার = পশ্বাচার;
• অনু + অয় = অন্বয়;
• তনু + ঈ = তন্বী;
• অনু + এষন = অন্বেষণ;
• সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,১৪০.
বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি নিচের কোন নিয়মটি মেনে গঠিত হয়?
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) আদি-স্বরাগম
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) সমীভবন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমীভবন
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধিঃ
স্বরে আর ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে আর ব্যঞ্জনে এবং ব্যঞ্জনে আর স্বরে মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবন (Assimilation) - এর নিয়মেই হয়ে থাকে। আর তাও মূলত কথ্যরীতিতে সীমাবদ্ধ।
যেমন -
ছোট + দা = ছোড়দা।
বদ্‌ + জাত = বজ্জাদ।
পাঁচ + শ = পাঁশ্‌শ।
উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই।

৫,১৪১.
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ কয়টি?
  1. ক) দশটি
  2. খ) আটটি
  3. গ) এগারটি
  4. ঘ) নয়টি
সঠিক উত্তর:
ক) দশটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দশটি
ব্যাখ্যা
- স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে।
- স্বরবর্ণে কার আছে ১০ টি।
- 'অ' স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। তাই 'অ' একটি নিলীন বর্ণ।

- ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলে।
- ব্যঞ্জনবর্ণে ফলা আছে মোট ৬ টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,১৪২.
'অন্বেষণ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অন্ব + এষণ
  2. অন্বে + ষণ
  3. অনু + এষণ
  4. অন্য + এষণ
সঠিক উত্তর:
অনু + এষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনু + এষণ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার ও উ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।

যেমন:
উ + ই = ব + ই; অনু + ইত = অন্বিত।
উ + এ = ব + এ; অনু + এষণ = অন্বেষণ।
উ + অ = ব + অ; সু + অল্প = স্বল্প।
উ + আ = ব + আ; সু + আগত = স্বাগত।
উ + ঈ = ব + ঈ; তনু + ঈ = তন্বী।

এরূপ- অন্বয়, মন্বন্তর, পশ্বাচার, পশ্বধম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৪৩.
'ষোড়শ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ষোড় + শ
  2. ষোড় + অশ
  3. ষট্ + দশ
  4. ষড় + দশ
সঠিক উত্তর:
ষট্ + দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষট্ + দশ
ব্যাখ্যা
• 'ষোড়শ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'ষট্ + দশ'।
----------------
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
বন + পতি = বনস্পতি,
আ + চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোস্পদ,
পর + পর = পরস্পর,
ষট্ + দশ = ষোড়শ,
এক + দশ = একাদশ,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৫,১৪৪.
‘বাগ্দান’ কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. স্বর + ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন + স্বর
  4. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন সন্ধি: স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।

⇒ ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনি যোগে ব্যাঞ্জনসন্ধি গঠনের ক্ষেত্রে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন:
⇒ বাক্ + দান = বাগ্দান; (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।
⇒ চল + চিত্র = চলচ্চিত্র; (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)।
⇒ বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক; (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)।
⇒ উৎ + লাস = উল্লাস; (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)।
⇒ বাক্ + দান = বাগ্দান; (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।
⇒ তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে; (এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন)।
⇒ শম্ + কা = শঙ্কা; (এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)।
⇒ সম্ + চয় = সঞ্চয়; (এখানে তালব্যধ্বনি চ-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঞ)।
⇒ ষষ্ + থ = ষষ্ঠ; (এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।

৫,১৪৫.
উচ্চারণের সময়ে জিভের কোন উচ্চতার কারণে স্বরধ্বনি ভাগ করা হয়?
  1. ক) উচ্চ স্বরধ্বনি
  2. খ) উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
  3. গ) নিম্ন স্বরধ্বনি
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে;
নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৪৬.
"গঙ্গোর্মি" শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গঙ্গ + ঊর্মি
  2. গঙ্গা + উর্মি
  3. গঙ্গা + ঊর্মি
  4. গঙ্গো + ঊর্মি
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা + ঊর্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা + ঊর্মি
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন-
• অ + উ = ও; সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
• আ + উ = ও; যথা + উচিত যথোচিত।
• অ + উ = ও; গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব।
• আ + উ = ও; গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

এরূপ – নীলোৎপল, চলোর্মি, মহোৎসব, নবোঢ়া, ফলোদয়, যথোপযুক্ত, হিতোপদেশ, পরোপকার, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৫,১৪৭.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শুভ + ঈচ্ছা = শুভেচ্ছা
  2. যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
  3. পরম + ইশ =পরমেশ
  4. মহা + ইশ =মহেশ
সঠিক উত্তর:
যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
ব্যাখ্যা
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন—
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট। 
- পরম + ঈশ =পরমেশ। 
- মহা + ঈশ =মহেশ।

এরূপ –পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, স্বেচ্ছা, নরেশ, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৪৮.
'সংহার' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সং + হার
  2. সঙ + হার
  3. সম্‌ + হার
  4. সৎ + হার
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + হার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + হার
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।

যেমন:
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১৪৯.
কোনটি মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. দিশ্ > দিশা
  2. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. স্কুল > ইস্কুল
  4. শ্লোক > শোলোক
সঠিক উত্তর:
শ্লোক > শোলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্লোক > শোলোক
ব্যাখ্যা
• আদি স্বরাগম (Prothesis):
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন:
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন।

এরূপ- আস্তাবল, আস্পর্ধা।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

৩. অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,১৫০.
অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. আজি > আইজ
  2. সাধু > সাউধ
  3. স্কুল> ইস্কুল
  4. চারি > চাইর
সঠিক উত্তর:
স্কুল> ইস্কুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কুল> ইস্কুল
ব্যাখ্যা

• অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়- স্কুল > ইস্কুল। 
- 'স্কুল > ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তন।

-----------------
• অপিনিহিতি:

পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- সত্য > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,১৫১.
স্পর্শধ্বনি কয়টি?
  1. বিশটি
  2. পঁচিশটি
  3. একুশটি
  4. সাতাশটি
সঠিক উত্তর:
পঁচিশটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঁচিশটি
ব্যাখ্যা

স্পর্শধ্বনি:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণে জিভ মুখের ভেতরে কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দন্ত, ওষ্ঠ প্রভৃতি কোনো না কোনো স্থান স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়, তাদেরকে স্পর্শধ্বনি বলে।
- ক থেকে ম পর্যন্ত এই পঁচিশটি ধ্বনিকে স্পর্শধ্বনি বলা হয়। এই স্পর্শধ্বনি পাঁচ রকমের হতে পারে।
যেমন: কণ্ঠ্যব্যঞ্জন, তালব্যব্যঞ্জন, মূর্ধন্যব্যঞ্জন, দন্ত্যব্যঞ্জন ও ওষ্ঠ্যব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৫,১৫২.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণকে নির্দেশ করে?
  1. ক) দ্ধ
  2. খ) ন্ধ
  3. গ) স্খ
  4. ঘ) ব্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) স্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্খ
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,১৫৩.
'পরিচ্ছদ' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  2. ব্যঞ্জন + স্বর
  3. স্বর + স্বর
  4. স্বর + ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি।
আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৫৪.
কোন উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়?
  1. আ-কারান্ত
  2. এ-কারান্ত
  3. ও-কারান্ত
  4. ই-কারান্ত
সঠিক উত্তর:
ই-কারান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই-কারান্ত
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ - ‘ষ’ হয়।
যেমন,
- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়।
যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,১৫৫.
'আ + ঈ= এ' এই নিয়মের বাইরে নিচের কোনটি?
  1. ক) ঢাকেশ্বরী
  2. খ) গণেশ
  3. গ) রমেশ
  4. ঘ) মহেশ
সঠিক উত্তর:
খ) গণেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গণেশ
ব্যাখ্যা
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন—
• অ + ই = এ, শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
• আ + ই = এ, যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।

• অ + ঈ = এ, পরম + ঈশ =পরমেশ।
এরূপ - গণ + ঈশ = গণেশ

• আ + ঈ = এ, মহা + ঈশ = মহেশ
এরূপ:
- ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী,
- রমা + ঈশ = রমেশ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৫৬.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ণ' ব্যবহৃত হয়নি?
  1. বাণিজ্য
  2. কণিকা
  3. মাণিক্য
  4. ঋণ
সঠিক উত্তর:
ঋণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋণ
ব্যাখ্যা
• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়

যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

অন্যদিকে,
• ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৫৭.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. নিঃ + কর = নিষ্কর
  2. দুঃ + কর = দুষ্কর
  3. ভাঃ + কর = ভাস্কর
  4. বনঃ + পতি = বনস্পতি
সঠিক উত্তর:
বনঃ + পতি = বনস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনঃ + পতি = বনস্পতি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: বনঃ + পতি = বনস্পতি
- সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: বন্‌ + পতি = বনস্পতি।
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দুষ্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = দুঃ + কর।
- 'নিষ্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = নিঃ + কর।
- 'ভাস্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = ভাঃ + কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৫৮.
কোনটি সঠিক?
  1. হ্ + ষ = হ্ম
  2. ঞ্‌ + ছ = ঞ্চ
  3. ষ্ + ণ = ষ্ণ
  4. ঞ্ + ঙ = ঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ষ্ + ণ = ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্ + ণ = ষ্ণ
ব্যাখ্যা
• সঠিক যুক্তবর্ণ - ষ্ + ণ = ষ্ণ

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- ঞ্ + জ = ঞ্জ,
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ,
- হ্ + ম = হ্ম,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
৫,১৫৯.
নিচের কোন শব্দটিতে 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে?
  1. অতি
  2. অনাথ
  3. অণু
  4. অদ্য
সঠিক উত্তর:
অনাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাথ
ব্যাখ্যা

'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,১৬০.
'চারি > চাইর' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরলোপ
  2. অন্তর্হতি
  3. অপিনিহিতি
  4. বিপ্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৫,১৬১.
নিচের কোনটি তালব্য স্পর্শধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে।
এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

অন্যদিকে,
• ক-বর্গীয় ধ্বনি:
ক,খ,গ,ঘ,ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনি:
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে। এগুলোর উচ্চারণে জিহ্বা উল্টা হয় বলে এদের নাম দন্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি। আবার এগুলো ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় মূর্ধন্য ধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি:
ত, থ, দ, ধ, ন- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,১৬২.
'ধ' ধ্বনির উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী কোন ধরনের বর্ণ?
  1. অগ্র দন্তমূল
  2. পশ্চাৎ দন্তমূল
  3. অগ্রতালু
  4. জিহ্বামূল
সঠিক উত্তর:
অগ্র দন্তমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্র দন্তমূল
ব্যাখ্যা
অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ গুলো হলো:
- ত, থ, দ, , ন, ল, স।

অন্যদিকে:
জিহ্বামূলীয় বর্ণ: 
- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

অগ্রতালু বা তালব্য বর্ণ বর্ণ: 
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য়।

মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ:
- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ়।                

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৬৩.
কোন শব্দে ‘ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. তৃণ
  2. দুর্ণিবার
  3. মাণিক্য
  4. উষ্ণ
সঠিক উত্তর:
দুর্ণিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্ণিবার
ব্যাখ্যা

• ‘ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ - দুর্ণিবার
- এর শুদ্ধ বানান - দুর্নিবার।

‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।

৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,১৬৪.
উচ্চ সংবৃত স্বরধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চ সংবৃত স্বরধ্বনি - ই, উ।

• স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. সংবৃত - [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত - [আ]।
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৬৫.
'অহরহ' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অহঃ + অহ
  2. অহ + অহ
  3. অহঃ + রহ
  4. অহো + রহ
সঠিক উত্তর:
অহঃ + অহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহঃ + অহ
ব্যাখ্যা

• 'অহরহ' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- অহঃ + অহ।

সন্ধির নিয়ম:
অ- কারের পরস্থিত র্‌-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।

যেমন:
অন্তঃ + গত= অন্তর্গত,
অহঃ + অহ= অহরহ,
পুনঃ + উক্ত= পুনরুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,১৬৬.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?
  1. গো + অক্ষ = গবাক্ষ
  2. কুল + অটা = কুলটা
  3. অন্য + অন্য = অন্যান্য
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৬৭.
সুবর্ণ > স্বর্ণ কিসের উদাহরণ?
  1. আদিস্বর লোপ
  2. মধ্যস্বর লোপ
  3. অন্ত্যস্বর লোপ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বর লোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বর লোপ
ব্যাখ্যা
মধ্যস্বর লোপ:
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ

অন্যদিকে,
আদিস্বরলোপ:
 যেমন:
- অলাবু > লাবু > লাউ,
- উদ্ধার উধার > ধার।

অন্ত্যস্বর লোপ:

যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- পোকা > পোক্‌ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,১৬৮.
‘উন্নয়ন’ - এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. উন্ন + য়ন
  2. উৎ + নয়ন
  3. উৎ + য়ন
  4. উৎ + অয়ন
সঠিক উত্তর:
উৎ + নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + নয়ন
ব্যাখ্যা
• 'উন্নয়ন’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: উৎ + নয়ন = উন্নয়ন।

এরূপ কিছু শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- উৎ + নত = উন্নত;
- উৎ + নীত = উন্নীত;
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৫,১৬৯.
’হর্ষ > হরষ’ কী ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অসমীকরণ
  2. অপিনিহিত
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. স্বরসাম্য
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি। অনুরূপভাবে, প্রথম >পরথম
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি। 
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,১৭০.
নিম্নের কোনটি মাত্রাহীন স্বরবর্ণ নয়?
  1. ক) ও
  2. খ) ঋ
  3. গ) ঐ
  4. ঘ) ঔ
সঠিক উত্তর:
খ) ঋ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঋ
ব্যাখ্যা
উপযুক্ত বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ।

• মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।

• অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

• পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৭১.
কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. ক) প্রাতরাশ
  2. খ) অহরহ
  3. গ) সতীন্দ্র
  4. ঘ) পুনরায়
সঠিক উত্তর:
গ) সতীন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সতীন্দ্র
ব্যাখ্যা

• কিছু বিসর্গ সন্ধির সন্ধি বিচ্ছেদ হলোঃ
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমনঃ
- রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র,
- অতি + ইত = অতীত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,১৭২.
উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনির উচ্চারণস্থান নয় কোনটি?
  1. কণ্ঠনালীয়
  2. ওষ্ঠ্য
  3. দন্তমূলীয়
  4. তালব্য
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনির উচ্চারণস্থান নয় - ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন।

উষ্ম ব্যঞ্জন:

- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৭৩.
ট, ঠ, ড, ঢ কোন ধরনের স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ক) কণ্ঠ ব্যঞ্জন
  2. খ) তালু ব্যঞ্জন
  3. গ) দন্ত ব্যঞ্জন
  4. ঘ) মূর্ধা ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূর্ধা ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মূর্ধা ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিকে ওষ্ঠ স্পৃষ্ট, দন্ত স্পৃষ্ট, মূর্ধা স্পৃষ্ট, তালু স্পৃষ্ট এবং কণ্ঠ স্পৃষ্ট – এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ
২. দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ
৩. মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ
৪. তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ
৫. কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৭৪.
'ক্ষয়ক্ষতি' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) খয়্‌খোতি
  2. খ) ক্ষয়্‌খতি
  3. গ) খয়খ্তি‌
  4. ঘ) খয়্‌কোতি
সঠিক উত্তর:
ক) খয়্‌খোতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খয়্‌খোতি
ব্যাখ্যা
- 'ক্ষয়ক্ষতি' শব্দের সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে খয়্‌খোতি

• ক্ষয়ক্ষতি:
- এর সঠিক উচ্চারণ খয়্‌খোতি।
- এর ব্যুৎপত্তি শব্দ ক্ষয়+√ক্ষণ্‌+তি।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এর অর্থ হচ্ছে লোকসান।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,১৭৫.
‘আজি > আইজ’ - এখানে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. অপিনিহিতি
  2. ব্যঞ্জনবিকৃতি
  3. অন্ত্যস্বরলোপ
  4. আদিস্বরলোপ
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,১৭৬.
'ঔ' কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
  1. মিলিত স্বরধ্বনি
  2. তালব্য স্বরধ্বনি
  3. যৌগিক স্বরধ্বনি
  4. অর্ধস্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
যৌগিক স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
যৌগিক স্বরধ্বনি:
- পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরুপে উচ্চারিত হয়। এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলে।
- বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ২৫ টি। বাংলা ভাষার দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির প্রতীক ২ টি, যথা: ঔ, ঐ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,১৭৭.
মূর্ধন্য ধ্বনির অপর নাম কী?
  1. জিহ্বামূলীয়
  2. পশ্চাৎ দন্তমূলীয়
  3. অগ্রতালুজাত
  4. অগ্র দন্তমূলীয়
সঠিক উত্তর:
পশ্চাৎ দন্তমূলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চাৎ দন্তমূলীয়
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের স্থানভেদে ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাগ:
ধ্বনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুখবিবরে উচ্চারণের মূল উপকরণ বা উচ্চারক জিহ্বা ও ওষ্ঠ। আর উচ্চারণের স্থান হলো কণ্ঠ বা জিহ্বামূল, অগ্রতাল, মূর্ধা বা পশ্চাৎ দন্তমূল, দন্ত বা অগ্র দন্তমূল, ওষ্ঠ্য ইত্যাদি।

উচ্চারণের স্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়:
১) কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয়,
২) তালব্য বা অগ্রতালুজাত,
৩) মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয়,
৪) দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয় এবং
৫) ওষ্ঠ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৫,১৭৮.
'ঞ্জ' যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. জ্‌ + ঞ
  2. ঙ্‌ + জ
  3. ঞ্‌ + জ
  4. জ্‌ + ঙ
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ
ব্যাখ্যা
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণের গঠন :
- ঞ্ঝ = ঞ + ঝ,
- ষ্ণ = ষ + ণ,
- ঞ্চ = ঞ্‌ + চ,
- ঞ্জ = ঞ্‌  + জ,
- জ্ঞ = জ্‌ + ঞ, 
- হ্ম = হ্‌ + ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,১৭৯.
কোনটি অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন?  
  1. হ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – প, ব, ত, দ, , ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি। 

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ
ধ্বনি। যেমন – , ভ, থ, ধ, ঠ, , ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৫,১৮০.
যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

দ্বিস্বরধ্বনি:
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বিস্বর নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়।
- দ্বিস্বরে দুটি স্বর থাকে একটি পূর্ণ, আর একটি অপূর্ণ।

- বাংলায় পরের স্বরটিই সাধারণত অর্ধ হয়।
- বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।


- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে : ঐ এবং ঔ।
- উদাহরণ : কৈ, বৌ।
- অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনাে বর্ণ নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,১৮১.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. উত্থান
  2. বনস্পতি
  3. অন্বেষণ
  4. বাচস্পতি
সঠিক উত্তর:
বনস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনস্পতি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বনস্পতি

কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:
আ+ চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোষ্পদ,
বন্ + পতি = বনস্পতি,
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
তৎ + কর = তস্কর,
পর্ + পর = পরস্পর,
মনস্ + ঈষা = মনীষা,
ষট্ + দশ = ষোড়শ
এক্ + দশ = একাদশ,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
বাচঃ + পতি = বাচস্পতি একটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধি।  
অনু + এষণ = অন্বেষণ একটি স্বর সন্ধি। 
উৎ + স্থান = উত্থান একটি বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো সন্ধি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৫,১৮২.
'উত্তাপ' শব্দের যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক্‌ + ত
  2. ত্‌ + ত
  3. ও্‌ + ত 
  4. ত্‌ + ও 
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + ত
ব্যাখ্যা

• 'উত্তাপ' শব্দের যুক্তবর্ণটি 'ত্‌ + ত = ত্ত' বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্‌ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = খ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্ + ম = হ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৫,১৮৩.
'ক্ষ' তে কোন কোন বর্ণ আছে?
  1. ক + ষ
  2. ষ + ক
  3. হ + ম
  4. ষ + ণ
সঠিক উত্তর:
ক + ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + ষ
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ন্ড, ম্ফ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ব্ধ (ব্ +ধ),
ক্ত (ক্ + ত),
গু (গ্ + উ)
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
ণ্ড (ণ্ + ড),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ),
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,১৮৪.
কোনটি কম্পিত ব্যঞ্জন?
  1. ড়
  2. ঢ়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
কম্পিত ব্যঞ্জন:
- বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৮৫.
নিচের কোনটি অন্তস্থ ধ্বনি ?
  1. ক) য
  2. খ) ল
  3. গ) র
  4. ঘ) সবকটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে থাকে বলে য, র, ল, ব এ ধ্বনিগুলোকে অন্তস্থ ধ্বনি বলে এবং এই ধ্বনিগুলোর লিখিত রূপকে বলে অন্তস্থ বর্ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,১৮৬.
ব্যঞ্জনবর্ণের কোন ক্রমটি সঠিক?
  1. ক) ফ, ব, ভ, ন
  2. খ) ঠ, ন, ম, য
  3. গ) ষ, স, হ, ড়
  4. ঘ) স, হ, র, ৎ
সঠিক উত্তর:
গ) ষ, স, হ, ড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষ, স, হ, ড়
ব্যাখ্যা

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৫,১৮৭.
"লক্ষ্মী" শব্দের 'ক্ষ্ম' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ষ্‌ + হ্‌ + ম
  2. ষ্‌ + ক্ + ম
  3. ক্ + ষ্‌ + ন
  4. ক্ + ষ্‌ + ম
সঠিক উত্তর:
ক্ + ষ্‌ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + ষ্‌ + ম
ব্যাখ্যা
• "লক্ষ্মী" শব্দের 'ক্ষ্ম' যুক্তবর্ণটি 'ক্ + ষ্‌ + ম'  বর্ণ যোগে গঠিত। 

-----------------
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় তাদের কে স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় না তাদের কে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্+ ম = হ্ম,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ + ণ= ষ্ণ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৫,১৮৮.
"অ/আ + এ/ঐ = ঐ" সন্ধির এই নিয়মে গঠিত শব্দ-
  1. বনৌষধি
  2. জনৈক
  3. অতীত
  4. জলৌকা
সঠিক উত্তর:
জনৈক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনৈক
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
• অ + এ = ঐ;
- জন + এক = জনৈক;
- হিত + এষী = হিতৈষী।

অন্যদিকে,
• অ + ও = ঔ;
- জল + ওকা = জলৌকা;
- বন + ওষধি = বনৌষধি।

• ই + ই = ঈ;
- অতি + ইত = অতীত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,১৮৯.
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কী বলে?
  1. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
 যেমন:
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন: 
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৯০.
'ট, ঠ, ড, ঢ' ধ্বনিগুলো কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. দন্তমূলীয়
  2. তালব্য
  3. কণ্ঠনালীয়
  4. মূর্ধন্য
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- হাতি শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,১৯১.
‘ষড়যন্ত্র’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ষড়+যন্ত্র
  2. ষট্+যন্ত্র
  3. ষট+যন্ত্র
  4. সর+যন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ষট্+যন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষট্+যন্ত্র
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোন বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ) ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র), কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে, প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যেমন:
- বাক্‌ + দান = বাগদান,
- দিক্‌ + বিজয় = দিগ্বিজয়,
- ষট্‌ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র,
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,১৯২.
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ২৬টি
  2. ৩২টি
  3. ৩৪টি
  4. ৩৯টি
সঠিক উত্তর:
৩২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩২টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,১৯৩.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি কোনটি?
  1. পুনরায়
  2. পদস্খলন
  3. পরস্পর
  4. পুনরুক্ত
সঠিক উত্তর:
পরস্পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরস্পর
ব্যাখ্যা

• কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়। যথা:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- বন্ + পতি = বনস্পতি,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
বিসর্গ সন্ধি সাধিত শব্দ নিয়মে গঠিত- 
• পুনঃ+ আয় = পুনরায়, পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত, পদঃ + খলন = পদস্খলন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,১৯৪.
কোনটি মৌলিক স্বরধ্বনি?
  1. ক) ঔ
  2. খ) ঈ
  3. গ) ঐ
  4. ঘ) এ
সঠিক উত্তর:
ঘ) এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এ
ব্যাখ্যা
মৌলিকতা অনুযায়ী, স্বরধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা
মৌলিক স্বরধ্বনি
যৌগিক স্বরধ্বনি

মৌলিক স্বরধ্বনি:
- যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বর বলে।
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।
বাংলা বর্ণমালায় ‘অ্যা’ ধ্বনিজ্ঞাপক কোনাে বর্ণ নেই।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১৯৫.
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ২৫টি
  2. ২৬টি
  3. ৩২টি
  4. ৩৯টি
সঠিক উত্তর:
২৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬টি
ব্যাখ্যা
বর্ণমালার বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ,)।
• অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
• পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবংব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্বিবদ্যালয়।
৫,১৯৬.
"প্রৌঢ়" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্র + ওঢ়
  2. প্র + ঊঢ়
  3. প্র + উঢ়
  4. প্র + ঊড়
সঠিক উত্তর:
প্র + ঊঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্র + ঊঢ়
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:

যেমন:
- স্বৈর = স্ব + ঈর, 
- কুলটা = কুল + অটা,
- অন্যান্য = অন্য + অন্য, 
- প্রৌঢ় = প্র + ঊঢ় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,১৯৭.
'অজ্ঞ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) ওগ্‌গ
  2. খ) ওগ্‌গোঁ
  3. গ) অগ্‌গোঁ
  4. ঘ) অগ্‌গ
সঠিক উত্তর:
গ) অগ্‌গোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অগ্‌গোঁ
ব্যাখ্যা
'অজ্ঞ' এর সঠিক উচ্চারণ = অগ্‌গোঁ 

অজ্ঞ (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় - ন+√জ্ঞ+অ 
অর্থ: মূর্খ, নির্বোধ; জ্ঞানহীন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,১৯৮.
'ধপ + ধপ > ধপাধপ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. অসমীকরণ
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
ব্যাখ্যা
• অসমীকরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,১৯৯.
নিচের কোনটি তালব্য ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• তালব্য ধ্বনি:
জিভের পাতা উঁচু করে অগ্রতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। 
 
'ই' বর্ণ:
- বাংলা স্বরবর্ণমালার তৃতীয় বর্ণ। 
- সংস্কৃতে এটি হ্রস্বস্বর; এর উচ্চারণ-স্থান তালু।

- স্বরবর্ণের মধ্যে তালব্য বর্ণ হচ্ছে - ই, ঈ।

উল্লেখ্য, 
- ব্যঞ্জণ বর্ণে তালব্য ধ্বনি - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।

অন্যদিকে, 
• এ, ঐ - কণ্ঠ তালব্য ধ্বনি।
• উ, ঊ - ওষ্ঠ্য ধ্বনি।
• ও, ঔ - কণ্ঠৌষ্ঠ ধ্বনি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,২০০.
বাংলা ভাষায় কয়টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে?
  1. ৩২টি
  2. ৩০টি
  3. ৩৭টি
  4. ২৭টি
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]; 

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],[ক], [খ], [গা,[ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।