উত্তর
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'উৎস' শব্দের সঠিক উচ্চারণ - উত্শো।
• 'উৎস' শব্দের অর্থ:
১) উৎপত্তিস্থল; আদিকারণ।
২) প্রস্রবণ, ঝরনা, ফোয়ারা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৪৫ / ৬৩ · ৪,৪০১–৪,৫০০ / ৬,৩২৭
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'উৎস' শব্দের সঠিক উচ্চারণ - উত্শো।
• 'উৎস' শব্দের অর্থ:
১) উৎপত্তিস্থল; আদিকারণ।
২) প্রস্রবণ, ঝরনা, ফোয়ারা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
আ: আ-এর উচ্চারণও দু রকম:
স্বাভাবিক (আ-এর মতো):
- আগামী (আগামি), আশা (আশা), আকাশ (আকাশ্), আলো (আলো)।
সংবৃত বা পরিবর্তিত (অ্যা-এর মতো):
- জ্ঞান (গ্যাঁন্), বিখ্যাত (বিক্খ্যাতো)।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
শব্দের অ-ধ্বনির দুই রকম উচ্চারণ পাওয়া যায়৷
১. সংবৃত বা ও-ধ্বনির উচ্চারণ৷
যেমনঃ অতি, করুণ, প্রভাত, প্রত্যয় ইত্যাদি৷
২. বিবৃত বা স্বাভাবিক উচ্চারণ৷
যেমনঃ অমল, অমানিশা, অনেক, কত ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷
তালব্য অল্পপ্রাণ ধ্বনির পরে নাসিক্য ধ্বনি আসলে নাসিক্য ধ্বনিটিও তালব্য নাসিক্য ধ্বনি হয়।
অর্থাৎ, ‘চ/জ’ এর পরে ঙ, ঞ, ণ, ন, ম (নাসিক্য ধ্বনি) থাকলে সেগুলো ‘ঞ’ হয়ে যায়।
চ+ন = চ+ঞঃ
যাচ+না = যাচ্ঞা
রাজ+নী = রাজ্ঞী।
জ+ন = জ+ঞঃ
যজ+ন = যজ্ঞ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণঃ
- মার্তণ্ড
- কুলটা,
- অন্যান্য,
- শুদ্ধোদন,
- গবাক্ষ ইত্যাদি।
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণঃ
- আশ্চর্য,
- তস্কর,
- পতঞ্জলি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• স্পর্ধা > আস্পর্ধা আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
---------------------------
• স্বরাগম:
- স্বরাগম হলো ধ্বনি পরিবর্তনের এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে স্বরধ্বনি শব্দের কোনো স্থানে যুক্ত হয়ে উচ্চারণকে সহজ বা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে। - নতুন করে স্বরবর্ণের আগমন হচ্ছে স্বরাগম।
- স্বরাগমের তিনটি প্রধান ধরণ রয়েছে:
• আদি স্বরাগম (Prosthesis):
- উচ্চারণের সুবিধা বা অন্যান্য কারণে যখন কোনো শব্দের শুরুতে একটি স্বরধ্বনি (সাধারণত 'ই' বা 'উ') যুক্ত করা হয়, তখন তাকে আদি স্বরাগম বা Prothesis বলা হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় মূল শব্দের শুরুতে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি যোগ হয়ে নতুন উচ্চারণ বা রূপ তৈরি হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা।
• মধ্য স্বরাগম / বিপ্রকর্ষ / স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- উচ্চারণের সুবিধা বা ছন্দ রক্ষার জন্য কখনো কখনো সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে একটি স্বরধ্বনি প্রবেশ করে, যাকে মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলা হয়।
- এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা উচ্চারণে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম।
• অন্ত্যস্বরাগম (Apotheosis):
- কোনো শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি যুক্ত হলে তাকে অন্ত্যস্বরাগম বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- দিশ > দিশা,
- সত্য > সত্যি,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• ধ্বনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুখবিবরে উচ্চারণের মূল উপকরণ বা উচ্চারক হচ্ছে জিহ্বা ও ওষ্ঠ (ঠোঁট)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• আদি স্বরাগম:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন:
স্কুল > ইস্কুল,
স্টেশন > ইস্টিশন,
স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
-----------------
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
শরীর > শরীল,
লাল > নাল,
লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
উদাহরণ: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
‘বসুন্ধরা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - বসুম্ + ধরা = বসুন্ধরা
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• উপযুক্ত বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ।
মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন ধ্বনি:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
সঠিক উত্তর: গ) বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি
বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি
- বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধির উদাহরণ:
উৎ + স্থান = উত্থান
সম্ + কার = সংস্কার
উৎ + স্থাপন = উত্থাপন
সম্ + কৃত = সংস্কৃত
পরি + কার = পরিষ্কার
এরূপ: সংস্কৃতি, পরিষ্কৃত ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি একটি নিপাতনে সিদ্ধসন্ধি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- স কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, আবার কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
যেমন:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষোলো [শোলো]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারোন), সামান্য [শামান্নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণস্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন- লাউ শব্দের ‘আ’ পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং ‘উ্’ অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি ‘আউ্’ তৈরি হয়েছে।
দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
(আই্); তাই, নাই।
(এই্); সেই, নেই।
(আও্); যাও, দাও।
(আএ্); খায়, যায়।
• বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।
• ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি ‘ও’ এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি ‘ই্’।
• একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি ‘ও’ এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি ‘উ্’।
অন্যদিকে,
- ‘ক্ষ’ হচ্ছে যুক্তবর্ণ ক্ + ষ = ক্ষ।
- ঙ ও ঞ হচ্ছে ব্যঞ্জনবর্ণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
- পরগণা ফারসি শব্দ, সুতরাং নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শব্দে ণ হবে না।
তাই শুদ্ধরূপ হবে পরগনা।
- দূরবিন ফারসি শব্দ, তাই ঊ-কার হবে না।
শুদ্ধরূপ দুরবিন।
- অন্তরিণ ইংরেজি শব্দ, সুতরাং ণ হবে না।
শুদ্ধরূপ অন্তরিন।
- ভান্ডার খাঁটি বাংলা বলে ট-বর্গের সঙ্গে যুক্ত হয়েও ন হয়েছে।
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি। যথা- অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
যৌগিক স্বরধ্বনি - ২৫ টি।
যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ রয়েছে দুটি। যথা – ঐ, ঔ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি
• ন্ধ - অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ষ্ট ইত্যাদি।
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ষ্ণ (ষ্ + ণ) ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
উষ্ম ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে:
- ভ, ম - ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন।
- ন, র - দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন।
- ত, দ - দন্ত্য ব্যঞ্জন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
বর্ণমালা:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎপরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'প্রাতরাশ'-এর সন্ধি- প্রাতঃ + আশ।
• বিসর্গসন্ধি:
- বিসর্গসন্ধি হলো এমন একটি সন্ধি যেখানে শব্দের শেষে থাকা বিসর্গ (ঃ) পরবর্তী স্বর বা ব্যঞ্জনের সঙ্গে মিলিত হয়ে উচ্চারণের সুবিধার্থে রূপ বদলায়।
- অনেক ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায়, কখনও ‘র্’ বা ‘স্’-জাত বিসর্গে রূপান্তরিত হয়, আবার কোথাও ‘ও’-কারে বা দীর্ঘ স্বরে পরিবর্তিত হয়।
• ‘র্’-জাত বিসর্গ:
- শব্দের শেষে থাকা র্ → বিসর্গ (ঃ) হয়ে পরবর্তী স্বরের সঙ্গে মিললে আবার র ধ্বনিতে ফিরে আসে।
- উদাহরণ:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ।
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ।
- পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান।
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত।
• ‘স্’-জাত বিসর্গ:
- যখন বিসর্গের পরে ক, খ, প, ফ প্রভৃতি ধ্বনি (বিশেষত অ/আ-কারের পর) আসে, তখন বিসর্গ ধ্বনি ‘স্’-এ রূপান্তরিত হয়। ফলে নতুন শব্দ গঠনে স যুক্ত হয়ে উচ্চারণ সহজ হয়।
- উদাহরণ :
- ভাঃ + কর → ভাস্কর।
- নমঃ + কার → নমস্কার।
-পুরঃ + কার → পুরস্কার।
• বিসর্গ → ‘ও’-কার বা বিসর্গধ্বনি:
- বিসর্গের পর যদি স্বরধ্বনি বা ঘোষ ব্যঞ্জন থাকে, তাহলে বিসর্গ অনেকসময় ও–কার বা তার কাছাকাছি ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়
- উদাহরণ:
- মনঃ + রম = মনোরম।
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।
• বিসর্গ লোপ হয়ে স্বর দীর্ঘ হওয়া:
- বিসর্গ পরে র এলে বিসর্গ লোপ পায় এবং আগের স্বর দীর্ঘ হয়।
- উদাহরণ:
- নিঃ + রব = নীরব।
- নিঃ + রোগ = নীরোগ।
• বিসর্গ → ‘শ/ষ’ ধ্বনি:
- বিসর্গের পর শ / ষ আসলে বিসর্গ শ / ষ–এ পরিণত হয়।
- উদাহরণ:
- দুঃ + শাসন = দুঃশাসন।
- নিঃ + শব্দ = নিঃশব্দ।
• নিপাতনে সিদ্ধ (ব্যতিক্রম):
- এগুলো প্রচলিত নিয়ম মেনে হয়না ; তাই এগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা হয়।
- উদাহরণ:
- বনস্পতি (বন্ + পতি)।
- পরস্পর (পর্ + পর)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
আদি স্বরাগম - স্কুল > ইস্কুল।
ধ্বনি বিপর্যয় - রিক্সা > রিসকা
অপিনিহিতি - 'সত্য > সইত্য'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
উ/ঊ এরপরে উ/ঊ ছাড়া অন্য কোন স্বরধ্বনি থাকলে উ/ঊ-র জায়গায় ব (ব-ফলা, ব) হয় এবং তা ই/ঈ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
উ+অ = ব-ফলা+অঃ
সু+অল্প = স্বল্প
পশু+অধম = পশ্বধম
অনু+অয় = অন্বয়
মনু+অন্তর = মন্বন্তর
উ+আ = ব-ফলা+আঃ
সু+আগত = স্বাগত
পশু+আচার = পশ্বাচার
উ+ই = ব-ফলা+ইঃ
অনু+ইত = অন্বিত
উ+ঈ = ব-ফলা+ঈঃ
তনু+ঈ = তন্বী
উ+এ = ব-ফলা+এঃ
অনু+এষণ = অন্বেষণ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।
‘ষ্ণ’ যুক্তবর্ণটিকে দেখলে ষ+ঞ মনে হলেও আসলে এখানে ষ +ণ আছে।
এটি প্রাচীন সংস্কৃত রূপ থেকে এসেছে।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ (নতুন)
ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন-
- ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক,
- জাপানি রিক্সা বাংলা রিস্কা
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল।
অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ: কবাট> কপাট, ধোবা> ধোপা, ধাইমা> দাইমা ইত্যাদি।
- বিষমীভবনে উদাহরণ: শরীর> শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দ হলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সেই শব্দগুলো, যেগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এসেছে।
- ‘তৎ’ মানে সংস্কৃতের এবং ‘সম’ মানে তুল্য বা অপরিবর্তিত।
- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য-ণ (ণ) ব্যবহারের নিয়ম মূলত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
- এ নিয়মকে বলা হয় ণত্ব বিধান।
- ণত্ব বিধান অনুযায়ী, তৎসম শব্দে দন্ত্য-ন (ন) নির্দিষ্ট পরিবেশে মূর্ধন্য-ণ (ণ)-এ রূপান্তরিত হয় এবং সেই বানান অবিকৃতভাবেই রাখতে হয়।
- বাংলা তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দে সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
- যেমন— কুরআন,সিলেবাস, স্টেশন ইত্যাদি শব্দে কখনোই ণত্ব বিধান খাটে না।
------------------------
• ণত্ব বিধানের প্রধান নিয়ম হলো—
- ঋ, র, রেফ (র্), র-ফলা ও ষ-এর পরে যদি দন্ত্য-ন থাকে, তবে তা মূর্ধন্য-ণ হয়।
- উদাহরণ—
- ঋ-এর পরে: ঋণ, ঘৃণা, মৃণাল।
- র-এর পরে: কারণ, বরণ, মরণ।
- রেফ (র্)-এর পরে: বর্ণ, চূর্ণ, শীর্ণ।
- র-ফলা-এর পরে: ত্রাণ, দ্রোণ, অগ্রহায়ণ।
- ষ-এর পরে: ভীষণ, বিশেষণ, পাষাণ।
- এছাড়া ঋ, র বা ষ-এর পরে যদি স্বরবর্ণ, ক-বর্গীয় বা প-বর্গীয় ব্যঞ্জন, য, ব, হ কিংবা অনুস্বার থাকে, তাহলে তার পরবর্তী দন্ত্য-নও ণ হয়ে যায়।
- যেমন— কৃপণ, নির্বাণ, গ্রহণ, অগ্রহায়ণ।
- যুক্তব্যঞ্জনে ট-বর্গীয় বর্ণের আগে থাকা দন্ত্য-ন সাধারণত মূর্ধন্য-ণ হয়।
- যেমন— ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড, ভণ্ড।
- কিছু শব্দ আছে যেগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
- এগুলোকে বলা হয় নিপাতনে সিদ্ধ শব্দ।
- যেমন— চাণক্য, মাণিক্য, গণ, কল্যাণ, শোণিত, মণ, বেণু, অণু, পুণ্য ইত্যাদি।
উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ - যদ্যপি।
- 'যদ্যপি' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ - যদি + অপি।
সন্ধির নিয়ম:
- ই-কার বা ঈ-কারের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়, য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ - তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি, অপ + ময় = অম্ময়।
বিসর্গ সন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ - অন্তঃ + ঈপ = অন্তরীপ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- বিষমীভবন (Dissimilation): দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন- শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
- ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন – ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা> বাংলা রিস্কা ইত্যাদি। অনুরূপ- পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনগুচ্ছের উদাহারণ- ড, ড়, চ।
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।
• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ৎ বা দ্ এবং ন্ / ম্ থাকলে ৎ বা দ্ স্থানে 'ন্' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ‘কুলটা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কুল + অটা।
- কুলটা শব্দটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি অনুযায়ী গঠিত হয়েছে।
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি হলো সেই সকল স্বরসন্ধি, যেগুলো প্রচলিত ব্যাকরণীয় নিয়মে না পড়ে ব্যতিক্রমী বা বিশেষ রূপে গঠিত।
- নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ কিছু উদাহরন:
• কুলটা: কুল + অটা;
• শুদ্ধোদন: শুদ্ধ + ওদন;
• প্রৌঢ়: প্র + ঊঢ়;
• অন্যান্য: অন্য + অন্য;
• মার্তণ্ড: মার্ত + অণ্ড;
• বিম্বষ্ঠো: বিম্ব + ওষ্ঠ;
• পরোক্ষ: পর+ অক্ষ;
• গবেন্দ্র: গো + ইন্দ্র;
• গবাক্ষ: গো+অক্ষ;
• স্বৈর: স্ব+ঈর;
• সীমন্ত: সীম+অন্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প], [ফ], [ব], [ভ], [ত], [খ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ], [চ], [ছ], [জ], [খ], [ক], [খ], [গ], [ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স], [শ], [হ], [ল], [র], [ড়], [ঢ়]।
[এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।]
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর মতে, যে ধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ব্যতিরেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পরিস্ফুটভাবে উচ্চারিত হয় এবং যাহাকে আশ্রয় করিয়া অন্য ধ্বনি প্রকাশিত হয় তাহাকে স্বরধ্বনি বলে।
- অন্যদিকে যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাইরে বের হওয়ার আগে বাম্প্রত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- ধ্বনির বিভাজন অনুযায়ী বর্ণমালাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। স্বরধ্বনির প্রতীক স্বরবর্ণ। ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক ব্যঞ্জনবর্ণ।
বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি। তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ। মূল বর্ণগুলো স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণে বিভক্ত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
- আত্মসাৎ শব্দে সাৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে বলে স হয়েছে।
- আপস ও মাস্টার বিদেশি শব্দ বলে স হয়েছে।
- ষ্টিল বিদেশি শব্দ। তাই স হবে। শুদ্ধরূপ - স্টিল।
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়মে সাধিত হয় না এমন সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি:
- পর্ + পর পরস্পর,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি,
- ষট্ + দশ = যোড়শ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- এক + দশ = একাদশ।
-------------------
কতগুলো স্বর সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।
যথা: কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়), গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়), প্র + উঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়), অন্য + অন্য = অন্যান্য, মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড, শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।