বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৩৬ / ৬৩ · ৩,৫০১৩,৬০০ / ৬,৩২৭

৩,৫০১.
নিচের কোন শব্দে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. কলুষ
  2. জিনিষ
  3. অনুষঙ্গ
  4. অভিষেক
সঠিক উত্তর:
জিনিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনিষ
ব্যাখ্যা
• ‘জিনিষ’ শব্দে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বানান: জিনিস।

-----------------
• ষ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫০২.
কোনটি ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ?
  1. ধাইমা > দাইমা
  2. কবাট > কপাট
  3. নকশা > নশকা
  4.  বউদিদি > বউদি
সঠিক উত্তর:
 বউদিদি > বউদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 বউদিদি > বউদি
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বড়দাদা > বড়দা;
- বউদিদি > বউদি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনবিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি নতুন কোন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জনবিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

ধ্বনি বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে।
যেমন:
- নকশা > নশকা,
- রিক্সা > রিস্কা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫০৩.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) ঞ্চ= ঞ্ +ণ
  2. খ) ঞ্ছ= ঞ +ছ
  3. গ) ঞ্জ= ঞ্ +জ
  4. ঘ) ঞ্ঝ = ঞ+ঝ
সঠিক উত্তর:
ক) ঞ্চ= ঞ্ +ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঞ্চ= ঞ্ +ণ
ব্যাখ্যা
কতিপয় সংযুক্ত বর্ণ।
ঞ্চ (ঞ্চ)= ঞ্ +চ। যেমন- অঞ্চল, সঞ্চয়, পঞ্চম।
• ঞ্ছ= ঞ +ছ। যেমন-বাঞ্ছিত, বাঞ্ছনীয়, বাঞ্ছা।
• ঞ্জ= ঞ্ +জ। যেমন— গঞ্জ, রঞ্জন, কুঞ্জ।
• ঞ্ঝ = ঞ+ঝ। যেমন- ঝঞ্ঝা, ঝঞ্ঝাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫০৪.
‘চিহ্ন’ শব্দের কোন উচ্চারণটি শুদ্ধ?
  1. চিন্ no
  2. চিন্ho
  3. চিন্nho
  4. চিন্‌অ
সঠিক উত্তর:
চিন্nho
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিন্nho
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘চিহ্ন’ শব্দের সঠিক উচ্চারণ: 'চিন্nho'। 

• ‘চিহ্ন’ সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত- প্রত্যয়: '√ চিহ্ন্‌ + অ'। 
- শব্দের অর্থ: দাগ, ছাপ, নিদর্শন।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 
৩,৫০৫.
‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটিতে কয়টি অক্ষর রয়েছে?
  1. ৭টি
  2. ৬টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

⇒ 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।

⇒ অক্ষর:
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা:
• মুক্তাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- ক/লা)।
• বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- দিন, রাত)।

৩,৫০৬.
ঘৃষ্ট ধ্বনি কোনটি?
  1. ণ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ঘৃষ্ট ধ্বনি:
এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য দুই ধরনের-বাতাস প্রথমে স্পৃষ্ট ধ্বনির মতো মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয় কিন্তু দ্রুত বের না হয়ে কিছুটা বিলম্বে ঘর্ষণ ধ্বনি তৈরি করে বের হয়।

সে-হিসাবে এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য হলো: স্পৃষ্ট + ঘর্ষণজাত = ঘৃষ্ট। ইংরেজি child, jam শব্দের ch, j এ জাতীয় ধ্বনি। বাংলা কাচ, মাছ, কাজ, মাঝ, শব্দের [চ্, ছ্, জ্, ঝ্ ] ঘৃষ্ট ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- শ উষ্ম ধ্বনি।
- ত দন্ত্য ধ্বনি।
- ণ নাসিক্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।

৩,৫০৭.
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. মানিয়া > মেনে
  2. সত্য > সইত্য
  3. করিয়া > করে
  4. মাছুয়া > মেছো
সঠিক উত্তর:
সত্য > সইত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সইত্য
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়- সত্য > সইত্য। 

• অভিশ্রুতি:

অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় যেমন অপিনিহিতির প্রাচুর্য, পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক কথ্যভাষা ও মান্যচলিত ভাষায় তেমনি অনেক অভিশ্রুতি শব্দ লক্ষ করা যায়।
যেমন:
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।

এরূপ-
- মানিয়া > মাইন্যা > মেনে;
- করিয়া > কইর‍্যা > করে;
- বাছিয়া > বাইছ্যা > বেছে;
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো;
- মাছুয়া > মাউছ্যা > মেছো;
- আজি > আইজ > আজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
--------------------
•  অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫০৮.
'জ' এর উচ্চারণ স্থানগত অবস্থান কী?
  1. দন্তমূলীয়
  2. তালব্য
  3. মূর্ধন্য
  4. কণ্ঠ
সঠিক উত্তর:
তালব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন, 
- দন্ত্য ব্যঞ্জন, 
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন, 
- মূর্ধন্য ব্যঞ্জন, 
- তালব্য ব্যঞ্জন, 
- কন্ঠ্য ব্যঞ্জন, 
- কন্ঠনালী ব্যঞ্জন। 

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৫০৯.
সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1. লাফ > ফাল
  2. লাল > নাল
  3. মারি > মাইর
  4. কাদনা > কান্না
সঠিক উত্তর:
কাদনা > কান্না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাদনা > কান্না
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভকরে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
জন্ম > জম্ম;
কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------------------
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিকসা > রিস্কা ইত্যাদি।

• বিষমীভবন:
দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫১০.
যেসকল ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণে ফুসফুস থেকে কম বায়ু নির্গত হয়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন
  2. অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
  3. ঘোষ ব্যঞ্জন
  4. অঘোষ ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স ,ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।  
-------------------
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণে সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন- হ, ফ, ভ , থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২২ সংস্করণ।
৩,৫১১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) উৎ + শাস = উচ্ছ্বাস
  2. খ) উৎ + ছ্বাস = উচ্ছ্বাস
  3. গ) উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস
  4. ঘ) উদ + শ্বাস= উচ্ছ্বাস
সঠিক উত্তর:
গ) উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ এর স্থলে চ এবং শ এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। এরূপ- উৎ+শ্বাস=উচ্ছ্বাস, চল+শক্তি= চলচ্ছক্তি, উৎ+ শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম- দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৩,৫১২.
পাশাপাশি দুটি ধ্বনি বা বর্ণের মিলনকে কি বলে?
  1. ক) উপসর্গ
  2. খ) অনুসর্গ
  3. গ) সমাস
  4. ঘ) সন্ধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সন্ধি
ব্যাখ্যা
সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷ সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা। 
- পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল।
- যেমন আমি এখন চা আনতে যাই বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র মনুযায়ী ‘আম্যেখন চানতে যাই বলা যায় না।
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি,  ২০২২ সংস্করণ।
৩,৫১৩.
কোনটি অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বউদিদি > বউদি
  2. শুনিয়া > শুনে
  3. ফলাহার > ফলার
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
সঠিক উত্তর:
শুনিয়া > শুনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুনিয়া > শুনে
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।


যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছাে,
- শহরিয়া > শহইর‍্যা > শহুরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্তর্হতি - ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার।
ব্যঞ্জনচ্যুতি - বউদিদি> বউদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৫১৪.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. ক) উৎ + স্থাপন = উত্থাপন
  2. খ) কৃষ্‌ + তি = কৃষ্টি
  3. গ) তদ্‌ + কাল = তৎকাল
  4. ঘ) তৎ + কর = তস্কর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তৎ + কর = তস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তৎ + কর = তস্কর
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মে পড়ে না।
এসব সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
যেমন-
তদ্ +কর = তস্কর,
এক + দশ = একাদশ
দিব্ + লোক = দ্যুলোক,
ষট্ + দশ = ষোড়শ ,
হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি
আ + চর্য = আশ্চর্য
গো + পদ = গোষ্পদ
আ + পদ = আস্পদ
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি, 

[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
৩,৫১৫.
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনগুচ্ছ কোনটি?
  1. ছ, থ, খ
  2. স, ট, ড
  3. জ, শ, ঝ
  4. ঠ, ঢ, ঢ়
সঠিক উত্তর:
স, ট, ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স, ট, ড
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৩,৫১৬.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. অচ্ + অন্ত =  অজন্ত
  2. অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন
  3. তদ্‌ + জন্য = তজ্জন্য
  4. তত্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে।
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তত্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তত্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে।
ব্যাখ্যা

তত্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে; সন্ধিবিচ্ছেদটি ভুল।
সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

অন্যদিকে,
অচ্ + অন্ত =  অজন্ত; অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন; তদ্‌ + জন্য = তজ্জন্য সন্ধিবিচ্ছেদগুলো সঠিক।

সূত্র:

- আগে ৎ বা দ এবং পরে ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ স্থানে 'ন' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
কিন্তু, ৎ বা দ এর পর ল্ থাকলে ৎ বা দ  সন্ধিতে 'ল' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- জগৎ + নাথ = জগন্নাথ।
- তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- তদ্‌ + নিষ্ঠ= তন্নিষ্ঠ।
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি।
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ।
- তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
- তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে।
- উৎ + লাস = উল্লাস, 
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত।
- তদ্‌ + লিখিত = তল্লিখিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৩,৫১৭.
‘গায়ক’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গৈ + য়ক
  2. গৈ + অক
  3. গৌ + অক
  4. গায় + অক
সঠিক উত্তর:
গৈ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৈ + অক
ব্যাখ্যা
• ‘গায়ক’ শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ: 'গৈ + অক'। 

• সন্ধির নিয়ম: 
এ, ঐ, ও, ঔ এরপরে অন্য কোন স্বরধ্বনি আসলে ‘এ’ এর জায়গায় ‘অয়’, ‘ঐ’ এর জায়গায় ‘আয়’, ‘ও’ এর জায়গায় ‘অব’ এবং ‘ঔ’ এর জায়গায় ‘আব’ হয়।
যেমন: 
- গায়ক - গৈ + অক;
- নায়ক - নৈ + অক;
- নাবিক - নৌ + ইক;
- ভাবুক - ভৌ + উক;
- পবিত্র - পো + ইত্র;
- গবাদি - গো + আদি;
- গবেষণা - গো + এষণা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫১৮.
তালব্য ব্যঞ্জনগুচ্ছ কোনটি?
  1. ল, স 
  2. দ, ধ
  3. ঝ, শ
  4. জ, ঢ় 
সঠিক উত্তর:
ঝ, শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝ, শ
ব্যাখ্যা

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্ত্য ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৫১৯.
"পৃথিবী + ঈশ্বর = পৃথিবীশ্বর" এটি কোন ধরনের সন্ধি?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
• "পৃথিবী + ঈশ্বর = পৃথিবীশ্বর" এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

ই, ঈ ধ্বনির সন্ধি:
যেমন:
- রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র,
- অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর, 
- মহী + ইন্দ্র = মহীন্দ্র, 
- পৃথিবী + ঈশ্বর = পৃথিবীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৫২০.
'সংগীত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী হবে?
  1. সং + গীত
  2. সঃ + গীত
  3. সোং + গীত
  4. সম্‌ + গীত
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + গীত
ব্যাখ্যা
• সংগীত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ- সম + গীত।

• সূত্র:
- ম্-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন-
- সম্ + যম = সংযম,
- সম্ + বাদ = সংবাদ,
- সম্+ রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্ + লাপ = সংলাপ
- সম্ + শয় = সংশয়
- সম্ + সার = সংসার,
- সম্ + হার = সংহার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৫২১.
বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করা হয় কী বোঝাতে?
  1. অনুনাসিকতা
  2. ব্যঞ্জনা
  3. দীর্ঘস্বর
  4. অর্ধস্বর
সঠিক উত্তর:
অনুনাসিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুনাসিকতা
ব্যাখ্যা

• 'অনুনাসিকতা' বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করা হয়।
- বাংলা ভাষায় অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
- এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
- কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়।
- এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়।
- স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• মৌলিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
• অনুনাসিক ষ্বরধ্বনি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।

৩,৫২২.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নিচের কোনটি তাবল্য বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

 • ঈ বাংলা স্বরবর্ণমালার চতুর্থ বর্ণ। 
- এটি সংস্কৃত দীর্ঘস্বর এবং এর উচ্চারণ-স্থান তালু।

অন্যদিকে,
 • ঔ [ওউ] উচ্চারণ স্থান কন্ঠ ও ওষ্ঠ।
 • ঋ এর উচ্চারণ-স্থান মূর্ধা।
 • অ এর উচ্চারণ-স্থান কন্ঠ।
================

⇒ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন:
বাকপ্রত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলাে ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
২. দন্ত্য ব্যঞ্জন,
৩. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
৪. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
৫. তালব্য ব্যঞ্জন,
৬. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
৭. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

⇒ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: 
দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দম বা জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ তাবল্য ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫২৩.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন: 'আশ্চর্য'
  1. আশ + চর্য
  2. আঃ + চর্য
  3. আ + চর্য
  4. আশ + অর্য
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আ + চর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ + চর্য
ব্যাখ্যা
- 'আশ্চর্য' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = আ + চর্য।
- এটি নিপাতনে সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫২৪.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. আবিষ্কার
  2. তিরস্কার
  3. পরিষ্কার
  4. পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
পরিষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিষ্কার
ব্যাখ্যা
• পরিষ্কার = পরি + কার বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ নয়।
- এটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর।

এরূপ - পুরস্কার, আবিষ্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৫২৫.
'আশ্চর্য' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আঃ + চর্য
  2. আস্‌ + চর্য
  3. আ + চর্য
  4. আঃ + চার্য
সঠিক উত্তর:
আ + চর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ + চর্য
ব্যাখ্যা

• 'আশ্চর্য' একটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে-  আ + চর্য।

• আরো কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি হলো-
- মনীষা = মনস্‌ + ঈষা,
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি,
- আশ্চর্য = আ + চর্য,
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি,
- তস্কর = তৎ + কর,
- বনস্পতি = বন্‌ + পতি,
- পরস্পর = পর্‌ + পর,
- একাদশ = এক্‌ + দশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৫২৬.
‘বজ্র’ শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) বজ্রো
  2. খ) বজ্জ্রো
  3. গ) বজ্‌রো
  4. ঘ) বজরো
সঠিক উত্তর:
খ) বজ্জ্রো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বজ্জ্রো
ব্যাখ্যা
বজ্র (বজ্জ্রো)
-সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃত প্রত্যয় - √বজ্ + র
অর্থ: 
- বাজ্ অশনি কুলিশ্
- দধিচীর অস্থি দ্বারা মির্মিত ইন্দ্রের অস্ত্র।
- হীরক।

উৎস:- আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৫২৭.
‘কাদনা > কান্না’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. সমীভবন
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমীভবন
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি পরিবর্তন:
উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবণতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় ধ্বনি পরিবর্তন।
 
• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন-
জন্ম > জম্ম;
কাদনা > কান্না ইত্যাদি।
----------------------- 
অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে ।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন: বড়দাদা > বড়দা; বউদিদি > বউদি ইত্যাদি।
 
• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন: ফলাহার > ফলার; আলাহিদা > আলাদা; ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।
 
উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৮.
বাংলা বর্ণমালায় কোন বর্ণকে নিলীন বর্ণ বলা হয়?
  1. উ 
  2. ই 
  3. ও 
  4. অ 
সঠিক উত্তর:
অ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ 
ব্যাখ্যা

নিলীন বর্ণ- অ। 
---------------------- 
• নিলীন বর্ণ:
- বাংলা ভাষায় ‘অ’ বর্ণকে নিলীন বর্ণ বলা হয়।
- কারণ এর কোনো নিজস্ব স্বরচিহ্ন নেই।

- এটি আলাদাভাবে লেখা না হয়ে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে মিশে অন্তর্নিহিত স্বরধ্বনি হিসেবে প্রকাশ পায়।
- যেমন ‘ম’ বর্ণে- ম্‌ + অ ধ্বনি থাকলেও লেখায় ‘অ’-এর কোনো চিহ্ন দেখা যায় না;
- কিন্তু উচ্চারণে তা স্পষ্টভাবে ধ্বনিত হয়।
- এই লুক্কায়িত অবস্থার জন্যই ‘অ’ বর্ণকে নিলীন বা লুক্কায়িত বর্ণ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩,৫২৯.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি শুদ্ধ?
  1. নো + অন = নয়ন
  2. বধূ + উৎসব = বধূৎসব
  3. বহূ + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব
  4. লে + অন = লবণ
সঠিক উত্তর:
বধূ + উৎসব = বধূৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বধূ + উৎসব = বধূৎসব
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ - বধূ + উৎসব = বধূৎসব
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- বাকি অপশনগুলোও স্বরসন্ধির উদাহরণ। 
- যাদের শুদ্ধরূপ -
→ নে + অন = নয়ন,
→ বহু + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব,
→ লো + অন = লবণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৩০.
'হু' যুক্তবর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. হ্ + উ
  2. উ + হ্
  3. হ্ + ও
  4. হ্‌ + ঊ
সঠিক উত্তর:
হ্ + উ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + উ
ব্যাখ্যা
'হু' = হ্ + উ 

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ
- ন্ + ধ = ন্ধ
- হ্ + ঋ = হৃ
- হ্ + ন = হ্ন
- হ্ + ম = হ্ম
- ণ্ + ড = ণ্ড

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১।]
৩,৫৩১.
নিচের কোনটি অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ?
  1. প্রীতি > পিরীতি
  2. আজি > আইজ
  3. টপ টপ > টপাটপ
  4. বেঞ্চ > বেঞ্চি
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
অ = রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই = প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ = মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ = গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও = শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ >মোরগ ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম :
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন
- ধপ ধপ > ধপাধপ, টপ টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ,নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।

৩,৫৩২.
কোন শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. সুষুপ্ত
  2. ভবিষ্যৎ
  3. পোষাক
  4. স্পষ্ট
সঠিক উত্তর:
পোষাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোষাক
ব্যাখ্যা
• 'পোষাক' শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ। 
- শুদ্ধ বানান: পোশাক। 

----------------
• ষ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক,মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,৫৩৩.
'দুর্জন > দুরুজন' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্তর্হতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সমীভবন
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্যস্বরাগম/স্বরভক্তি/বিপ্রকর্ষ:
শব্দের মাঝখানে নতুন করে অথবা সংযুক্ত বর্ণের ঠিক মাঝখানে স্বরধ্বনি আসবে।

• অ ধ্বনির আগমন:
যত্ন > যতন, শক্তি > শকতি, লগ্ন লগন, রত্ন > রতন, নির্জন > নিরজন, ভক্তি > ভকতি, প্রাণ > পরান, বর্ষিল > বরষিল, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ। 

• ই ধ্বনির আগমন:
প্রীতি > পিরিতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফ্লিম > ফিলিম, ত্রিশ > তিরিশ, স্নান > সিনান। 

• উ ধ্বনির আগমন:
ভ্রু > ভুরু, দুর্জন > দুরুজন, শুক্রবার > শুকুরবার, মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক। 

• এ ধ্বনির আগমন:
গ্রাস > গেরাস, গ্রাম > গেরাম, স্রেফ > ধেয়ান, প্রায় > পেরায়, ঘ্রাণ > সেরেফ, ধ্যান > ঘেরান, ব্ল‍্যাক > বেল্যাক। 

• ও ধ্বনির আগমন:
শ্লোক > শোলোক, কুর্ক > কোরোক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৩৪.
'ব্রহ্মলোক' শব্দের 'হ্ম' কোন দুটি বর্ণের যুক্তরূপ?
  1. ক্‌ + ম
  2. ক্‌ + ষ
  3. ষ্‌ + ম
  4. হ্‌ + ম
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ম
ব্যাখ্যা
• ‘ব্রহ্মলোক’ শব্দে ব্যবহৃত ‘হ্ম’ যুক্তবর্ণটি 'হ্ ও ম' এই দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।
- হ্ + ম = হ্ম।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ণ্ + ড = ণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৫৩৫.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয় নি?
  1. ক) ষড়ঋতু
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) ঊষা
  4. ঘ) ভূষণ
সঠিক উত্তর:
খ) ওষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে ‘ষ' যুক্ত হয়।
- যথা : কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৩৬.
‘পশ্চার্ধ’ কোন ধরনের সন্ধির উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জনসন্ধি
  2. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. স্বরসন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি:
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এসব সন্ধিকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।

যেমন:
• তদ্ + কর = তস্কর;
• এক + দশ = একাদশ।
• দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক।
• ষট্ + দশ = ষোড়শ।
• হরি + চন্দ্র= হরিশ্চন্দ্র।
• বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
• গো + পদ = গোষ্পদ।
• আ + পদ = আস্পদ।
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি।
• পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ।
• বাক্ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী।
• বিশ্ব+ মিত্র = বিশ্বামিত্র ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৫৩৭.
'তস্কর' - কোন নিয়মে সাধিত সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• তস্কর - নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।

• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ- 
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোস্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- মনস্‌ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৩৮.
'স্বাগত' কোন ধরনের সন্ধি সাধিত শব্দ?
  1. ব্যঞ্জন সন্ধি 
  2. স্বরসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি 
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অনু + এষণ = অন্বেষণ,
- সু + অল্প = স্বল্প, 
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,৫৩৯.
"চ, ছ, জ" এই তিনটি ধ্বনির উচ্চারণ স্থান কোথায়?
  1. ওষ্ঠ
  2. জিহ্বামূল
  3. অগ্রতালু
  4. অগ্র দন্তমূল
সঠিক উত্তর:
অগ্রতালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্রতালু
ব্যাখ্যা
• "চ, ছ, জ" এই তিনটি ধ্বনির উচ্চারণ স্থান - অগ্রতালু

অগ্রতালু বা তালব্য বর্ণ বর্ণ:
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য়।

অন্যদিকে,
অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ গুলো হলো:
- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।

অন্যদিকে,
জিহ্বামূলীয় বর্ণ:
- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

ওষ্ঠ বর্ণ:
- প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৪০.
'রাজ্ঞী' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. রাজ্‌ + নি
  2. রাগ্‌ + নী
  3. রাজ্‌ + নী
  4. রাঙ্‌ + নী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রাজ্‌ + নী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজ্‌ + নী
ব্যাখ্যা

• উত্তর: গ) রাজ্‌ + নী।
---------------
• সন্ধির নিয়ম: 
- ব্যঞ্জসন্ধিতে চ্‌ ও জ্‌ এর পর নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়। 
যেমন:
যাচ্‌ + না = যাচ্ঞা, 
রাজ্‌ + নী = রাজ্ঞী।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি বিচ্ছেদ:
ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,
ষষ্‌ + থ্‌ = ষষ্ঠ,
সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
উৎ + ডীন = উড্‌ডীন,
উৎ + লাস = উল্লাস ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫৪১.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন: 'নরাধম' -
  1. নর + আধম
  2. নর + অধম
  3. নর + ধম
  4. নরধ + ম
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নর + অধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নর + অধম
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন -
- অ + অ = আ ⇒ নর + অধম = নরাধম।
এরূপ - হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
- অ + আ = আ ⇒ হিম + আলয় = হিমালয়।
এরূপ - দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
- আ + অ = আ ⇒ যথা + অর্থ = যথার্থ।
এরূপ - আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
- আ + আ = আ ⇒ বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ - কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৪২.
শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে -
  1. ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়
  2. দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়
  3. দ্বিত্ব হয় এবং অনুনাসিক হয় না
  4. ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়
ব্যাখ্যা
• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৫৪৩.
'মরূদ্যান' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ-
  1. মরূ + উদ্যান
  2. মরূ + দ্যান
  3. মরু + উদ্যান
  4. মরূ + ঊদ্যান
সঠিক উত্তর:
মরু + উদ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরু + উদ্যান
ব্যাখ্যা

• 'মরূদ্যান' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ 'মরু + উদ্যান'। 
- এটি স্বরসন্ধি।

সূত্র:
- উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে উ-কার হয়;
- উ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন ধ্বনির সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
- উ+ উ = ঊ; মরু + উদ্যান = মরূদ্যান।
- উ+ ঊ = ঊ; বহু + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব।
- ঊ+ উ = ঊ; বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
- ঊ+ ঊ = ঊ; ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৫৪৪.
‘অপরাহ্ণ’ শব্দে যুক্তবর্ণের বিশ্লিষ্ট রূপ-
  1. ক) হ্ + ন
  2. খ) হ্ + ণ
  3. গ) হ্ + ম
  4. ঘ) ন্ + ণ
সঠিক উত্তর:
খ) হ্ + ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হ্ + ণ
ব্যাখ্যা
‘অপরাহ্ণ’ শব্দে যুক্তবর্ণের বিশ্লিষ্ট রূপ হল হ্ + ণ = হ্ণ।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
৩,৫৪৫.
'রত্ন > রতন' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. মধ্য স্বরাগম
  2. আদি স্বরাগম
  3. বিষমীভবন
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন-
- অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্ৰূ > ভুরু ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

• অন্যদিকে:
• অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- মারি > মাইর, আজি > আইজ, সাধু > সাউধ।

• বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

• আদি স্বরাগম:
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন – স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন। এরূপ – আস্তাবল, আস্পর্ধা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৫৪৬.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নষ্ট
  2. কৃষক
  3. কোষ
  4. বর্ষা
সঠিক উত্তর:
কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষ
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট,স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৪৭.
'কণিকা' শব্দের 'ণ' বসেছে কোন নিয়মে?
  1. ক) ক-এর পরে 'ণ' বসে
  2. খ) 'ক' এর পূর্বে 'ণ' বসে
  3. গ) ক এবং ক এ মাঝে 'ণ' বসে
  4. ঘ) স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমনঃ
চাণক্য মাণিক্য গণ, বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি, স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী, নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্কণ তূণ, কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩,৫৪৮.
'অহর্নিশ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অহ + নিশ
  2. অহ + নিশা
  3. অহঃ + নিশা
  4. অহঃ + নিশ
সঠিক উত্তর:
অহঃ + নিশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহঃ + নিশা
ব্যাখ্যা
• 'অহর্নিশ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ 'অহর্নিশ = অহঃ + নিশা'।

বিসর্গ সন্ধি:

- সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধি:
- বাচস্পতি = বাচঃ + পতি,
- ভাস্কর = ভাঃ + কর,
- অহর্নিশ = অহঃ + নিশা,
- অহরহ= অহঃ+অহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৪৯.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ব্যাকরণ
  2. কণিকা
  3. ভাষণ
  4. মরণ
সঠিক উত্তর:
কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণিকা
ব্যাখ্যা

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫৫০.
‘অধ্যাপক’ শব্দের উচ্চারণ হচ্ছে -
  1. অদ্‌ধাপোক্‌
  2. ওদ্‌ধাপোক্‌
  3. ওধ্যাপোক্
  4. ওদ্‌ধাপক্‌
সঠিক উত্তর:
ওদ্‌ধাপোক্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওদ্‌ধাপোক্‌
ব্যাখ্যা
• অধ্যাপক।
- সঠিক উচ্চারণ (ওদ্‌ধাপোক্),
- তৎসম বা সংস্কৃত।
অর্থ: শিক্ষক; ওস্তাদ; আচার্য। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পদবিশেষ। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান।

৩,৫৫১.
'তিরােধান' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) তির + আধান
  2. খ) তির + উত্থান
  3. গ) তিরঃ + ধান
  4. ঘ) তিরং + ধান
সঠিক উত্তর:
গ) তিরঃ + ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিরঃ + ধান
ব্যাখ্যা
'তিরােধান' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = তিরঃ + ধান
এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। 
বিসর্গ সন্ধিতে কখনো কখনো বিসর্গ ও হয়ে যায়:
মনঃ+যােগ = মনােযােগ,
তিরঃ+ধান = তিরােধান,
তপঃ+বন = তপোবন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৫৫২.
'সংসার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সং + সার
  2. সম্ + ছার
  3. সম্ + সার
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সম্ + সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + সার
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।  

যেমন:
- সম্ + যম = সংযম, 
- সম্ + বাদ = সংবাদ,
- সম্+ রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্+ লাপ = সংলাপ 
- সম্ + শয় = সংশয়
- সম্ + সার = সংসার,
- সম্ + হার = সংহার।
- এরূপ-বারংবার, কিংবা, সংবরণ, সংযোগ, সংযোজন, সংশোধন, সর্বংসহা, স্বয়ংবরা।
- ব্যতিক্রম:সম্রাট (সম্+ রাট)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫৫৩.
"তচ্চিত্র" শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তচ্ + চিত্র
  2. তত্ + চিত্র
  3. তৎ + চিত্র
  4. তদ্ + চিত্র
সঠিক উত্তর:
তদ্ + চিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ + চিত্র
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- ত্ [ৎ] কিংবা দ্-এর পরে চ্ কিংবা ছ্‌ থাকলে ত্ বা দ্‌ স্থানে চ্ হয়।

যেমন:
→ চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র, 
তদ্ + চিত্র = তচ্চিত্র
→ চলৎ + ছবি = চলচ্ছবি, 
→ উদ্‌ + ছেদ = উচ্ছেদ,
→ উৎ + চারণ = উচ্চারণ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৩,৫৫৪.
'লবণ' শব্দের 'ল' কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. নাসিক্য ব্যঞ্জন
  2. উষ্ম ব্যঞ্জন
  3. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
  4. কম্পিত ব্যঞ্জন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ল- পার্শিক ব্যঞ্জনধ্বনি। 

পার্শ্বিক ব্যঞ্জন: 
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।

যেমন- 
- 'লবণ' শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৫৫৫.
'নায়ক' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নে + অক
  2. নৈ + অক
  3. নো + অক
  4. নৌ + অক
সঠিক উত্তর:
নৈ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈ + অক
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
​• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

​যেমন: 
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- পো + ইত্র = পবিত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫৫৬.
নিচের কোন শব্দে এ- বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ ঘটেছে?
  1. বেলা
  2. যেন
  3. খেলা
  4. বেগুন
সঠিক উত্তর:
বেগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগুন
ব্যাখ্যা
এ-এর দু রকম উচ্চারণ হয়:
স্বাভাবিক (এ-এর মতো):
- একটি (এক্‌টি ), কেক (কেক্‌), কেটলি (কেট্লি), মেয়ে (মেয়ে), বেগুন (বেগুন্‌), মেষ (মেশ্)।

সংবৃত বা পরিবর্তিত (অ্যা-এর মতো):
- এক (অ্যাক্), খেলা (খ্যালা), বেলা (ব্যালা), কেন (ক্যানো), যেন (য্যানো)।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৫৫৭.
'মূর্ধন্য-ষ' এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পৌষ 
  2. পোষাক
  3. পরুষ
  4. পৌষ্টিক
সঠিক উত্তর:
পোষাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোষাক
ব্যাখ্যা

• 'মূর্ধন্য-ষ' এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে- পোষাক শব্দে। 
• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'মূর্ধন্য-ষ' হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

-----------------
• ষ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ, পৌষ্টিক ইত্যাদি।

৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, পরুষ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

৩,৫৫৮.
ফলা বর্ণ নয় কোনটি?
  1. ল-ফলা
  2. য-ফলা
  3. ত-ফলা
  4. ব-ফলা
সঠিক উত্তর:
ত-ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত-ফলা
ব্যাখ্যা
• ফলা বর্ণ নয়- ত-ফলা।

---------------
• অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা:
ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি।
যেমন:
ন-ফলা,
ব-ফলা,
ম-ফলা,
য-ফলা,
র- ফলা,
ল-ফলা।

• রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।
• বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ। যেমন ভ, দ, ন, ম, য, স ইত্যাদি। এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩,৫৫৯.
উচ্চারণস্থান অনুসারে কোনটি মূর্ধন্য বর্ণ?
  1. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণস্থান অনুসারে - 'ড়' মূর্ধন্য বর্ণ।

উচ্চারণস্থান অনুসারে বর্ণের নাম:

কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ:

- অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, , হ।

তালব্য বর্ণ:
- ই, ঈ, চ, ছ, জ, , ঞ, য, য়, শ।

ওষ্ঠ্য বর্ণ:
- উ, উ, প, ফ, ব, ভ,

মূর্ধন্য বর্ণ:
ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৫৬০.
'সতীশ' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি হবে?
  1. সতী + ঈশ
  2. সতি + ঈশ
  3. সতী + ইশ
  4. সতি + ইশ
সঠিক উত্তর:
সতী + ঈশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতী + ঈশ
ব্যাখ্যা

 • ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়।
দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন- 
• ই+ ই = ঈ;  অতি + ইত = অতীত।
• ই+ঈ= ঈ;  পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।
• ঈ+ ই = ঈ;  সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
• ঈ+ঈ= ঈ ;  সতী + ঈশ = সতীশ।
এরূপ- গিরীন্দ্র, ক্ষিতীশ, মহীন্দ্র, শ্রীশ, পৃথ্বীশ, অতীব, প্রতীক্ষা, প্রতীত, রবীন্দ্র, দিল্লীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫৬১.
উপরের ও নিচের ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিগুলোকে কী বলে?
  1. ক) দন্ত্য ধ্বনি
  2. খ) দন্তমূলীয় ধ্বনি
  3. গ) ওষ্ঠ্য ধ্বনি
  4. ঘ) দ্বি-ওষ্ঠ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
গ) ওষ্ঠ্য ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওষ্ঠ্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা

উপরের ও নিচের ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিগুলোকে ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে এবং এবং প্রতীকগুলোকে ওষ্ঠ্য বর্ণ বলা হয়।
যেমন- প, ফ, ব, ভ, ম।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৬২.
"ব্ল্যাক > বেল্যাক" কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. মধ্য স্বরলোপ
  2. স্বরভক্তি
  3. অপিনিহিতি
  4. অন্তহর্তি
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ- ধ্বনির আগমন:
- রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।

ই- ধ্বনির আগমন:
- প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ– ধ্বনির আগমন:
- মুক্তা >মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ক্রু > ভুরু, শুক্রবার > শুক্কুরবার ইত্যাদি।

এ– ধ্বনির আগমন:
- গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ, ব্ল্যাক > বেল্যাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৬৩.
’তন্ময়' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তণু + ময়
  2. তৎ + ময়
  3. তনু + ময়
  4. তদ্ + ময়
সঠিক উত্তর:
তৎ + ময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + ময়
ব্যাখ্যা

• সন্ধির নিয়ম: 
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং পরে ৎ + ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে ন্ দ্ + ন হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
- কিন্তু, দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ/দ্ সন্ধিতে ল্ দ্ + ম হয় এবং ল্ পরের ল-এর ৎ+ সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে,
- তৎ + ময় = তন্ময়,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৫৬৪.
'অপিনিহিতি' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. দিশ্ > দিশা
  2. ধোবা > ধোপা
  3. আজি > আইজ
  4. ফলাহার > ফলার
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি পরিবর্তন:
উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবণতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় ধ্বনি পরিবর্তন।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে ।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৬৫.
ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ২৬টি
  2. ৩২টি
  3. ১০টি
  4. ২৭টি
সঠিক উত্তর:
২৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬টি
ব্যাখ্যা
মাত্রাভেদে ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ২৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৭টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ৬টি।

অন্যদিকে,
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৫৬৬.
'ড় এবং ঢ়' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনি
  2. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন ধ্বনি
  3. তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনি
  4. নাসিক্য ব্যঞ্জন ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• তাড়িত ব্যঞ্জন ধ্বনি: 
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মৃঢ় প্রভৃতি শব্দের 'ড়', 'ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনি: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- চানাচুর, কর শব্দের 'র' কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ। 

 • পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'লাল' শব্দের 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি।  

 • নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যে সব ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধাপায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জন ধ্বনি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৫৬৭.
নিচের কোনটি অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ষ্ট
  2. শ্চ
  3. ব্ধ
  4. ল্ক
সঠিক উত্তর:
ব্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্ধ
ব্যাখ্যা
• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ - ব্ধ (ব্+ধ)।

যুক্তবর্ণ: 
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৫৬৮.
বাকযন্ত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) জিহ্বা
  3. গ) দাঁত
  4. ঘ) মুখবিবর
সঠিক উত্তর:
ক) যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যকৃত
ব্যাখ্যা
ধ্বনি সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় মানব শরীরের যেসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হয় তাকে হয় তাদেরকে একত্রে বাগযন্ত্র বলা হয়। আমাদের গলনালি, ‍মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক, ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গ বাগযন্ত্রের অন্তর্গত। যকৃত বা লিভার বাগযন্ত্রের অংশ নয়। এই বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে। (সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৫৬৯.
[উ] উচ্চারণের সময়ে জিভের অবস্থান –
  1. ক) সম্মুখ স্বরধ্বনি
  2. খ) মধ্য স্বরধ্বনি
  3. গ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
  4. ঘ) মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
গ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত:
- সম্মুখ স্বরধ্বনি [ই], [এ], [অ্যা];
- মধ্য স্বরধ্বনি [আ];
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি [অ], [ও], [উ]

• সম্মুখ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়;
পশ্চাৎ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৫৭০.
নিম্নের কোনটি উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত: 
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও]; 
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ]; 
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]। 

- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

৩,৫৭১.
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি কয়টি?
  1. ৩৭টি
  2. ৩০টি
  3. ৩২টি
  4. ২৫টি
সঠিক উত্তর:
৩০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক ধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলােকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], উ]।
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প], [ফ], [ব], [ভ], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ], [চ], [ছ], [জ], [ঝ], [ক], [খ], [গ], [ঘ], [ম],[ন],[ঙ] [স্], [শ], [হ্], [ল], [র], [ড়], [ঢ়]। এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩,৫৭২.
'অন্তর্গত' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) অন্তর + গত
  2. খ) অন্ত + গত
  3. গ) অন্তঃ + গত
  4. ঘ) অন্ত্যঃ + গত
সঠিক উত্তর:
গ) অন্তঃ + গত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্তঃ + গত
ব্যাখ্যা
• 'অন্তর্গত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ- 'অন্তঃ + গত'।

• 'অন্তর্গত' শব্দটির সন্ধির নিয়ম:
অ - কারের পরস্থিত র্‌-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + গত= অন্তর্গত,
- অহঃ + অহ= অহরহ,
- পুনঃ + উক্ত= পুনরুক্ত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৩,৫৭৩.
'প্রাতরাশ'-এর সন্ধি-
  1. প্রাত + রাশ
  2. প্রাতঃ + রাশ
  3. প্রাতঃ + আশ
  4. প্রাত + আশ
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃ + আশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃ + আশ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গসন্ধির নিয়ম:
অন্তঃ, পুনঃ, প্রান্তঃ ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ র হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ,
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা,
- অন্তঃ + ইত = অন্তরিত,
- অন্তঃ + ইন্দ্রিয় = অন্তরিন্দ্রিয়,
- অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ,
- অন্তঃ+ ঈপ = অন্তরীপ,
- পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান,
- পুনঃ+ উক্তি = পুনরুক্তি,
- পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৭৪.
নিচের কোনটি স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. ক) বিলাতি > বিলিতি
  2. খ) মুলা > মুলো
  3. গ) সত্য > সত্যি
  4. ঘ) দেশি > দিশি 
সঠিক উত্তর:
গ) সত্য > সত্যি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সত্য > সত্যি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়-  সত্য > সত্যি। এটি একটি অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।  

⇒ স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তন: 
একটি স্বরধনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন- 
• দেশি > দিশি, 
• বিলাতি > বিলিতি, 
• মুলা > মুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৭৫.
ঢ, ড়, ঢ় বর্ণের উচ্চারণের স্থান কোনটি?
  1. ক) মূর্ধা
  2. খ) ওষ্ঠ্য
  3. গ) কণ্ঠ
  4. ঘ) দন্ত্য
সঠিক উত্তর:
ক) মূর্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মূর্ধা
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢােল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৫৭৬.
‘ঐ’ বর্ণের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. অঈ্
  2. ওঈ্
  3. অউ্
  4. ওই্
সঠিক উত্তর:
ওই্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওই্
ব্যাখ্যা
• ‘ঐ’ বর্ণের উচ্চারণ [ওই্]: ঐকিক [ওইকিক্], তৈল [তোই্লো]।

এরূপ কিছু বর্ণের শুদ্ধ উচ্চারণ হলো:
• এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়। ‘এ’ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: দেশ [দেশ্], এলো [এলো]। ‘এ’ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]। 

• ‘ঔ’ বর্ণের উচ্চারণ [ওউ্]: ঔষধ [ওউ্শধ্], মৌমাছি [মোউ্মাছি]।

• ‘ও’ বর্ণের উচ্চারণ [ও]: ওল [ওল্], বোধ [বোধ্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৩,৫৭৭.
নিচের কোনগুলো অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ক) ফ, ব
  2. খ) প, ত
  3. গ) ব, ভ
  4. ঘ) ট, ঠ
সঠিক উত্তর:
খ) প, ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প, ত
ব্যাখ্যা
ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনি দ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয়। 
ঘোষধ্বনি যথা- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ ইত্যাদি।  


অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয়। 
অঘোষ ধ্বনি যথা - প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ ইত্যাদি 

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স ,ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।  

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণে সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন- ফ, ব, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ ইত্যাদি




[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১, ২০১৯ সংস্করণ]
৩,৫৭৮.
ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?
  1. ৮ টি
  2. ৭ টি
  3. ৫ টি
  4. ৪ টি
সঠিক উত্তর:
৭ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ টি
ব্যাখ্যা
• বর্ণমালা:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩,৫৭৯.
অন্ত্যস্বর লোপের উদাহরণ কোনটি?
  1. অলাবু> লাবু > লাউ
  2. উদ্ধার > উধার > ধার
  3. অগুরু > অগ্র
  4. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

আদি স্বরলোপ:
প্রথম স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরলোপ বলে।
যেমন:
- অলাবু> লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

• মধ্যস্বর লোপ:
শব্দের মধ্যে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- অগুরু > অগ্র,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

• অন্ত্যস্বর লোপ:
শব্দের শেষে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার,
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,৫৮০.
'নাতবৌ' - শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

যেমন:
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- উৎ + চারণ = উচ্চারণ,
- চার + টি = চাট্টি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৫৮১.
'চক্র > চক্ক' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
  3. পরাগত সমীভবন
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা

• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন- জন্ম জন্ম, কাঁদনা কান্না ইত্যাদি।

প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
চক্র > চক্ক,
পক্ব > পক্ক,
পদ্ম > পদ্দ,
লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
তৎ + জন্য = তজ্জন্য,
তৎ + হিত = তদ্ধিত,
উৎ + মুখ = উন্মুখ ইত্যাদি।

অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
- সত্য > সচ্চ,
- বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,৫৮২.
‘সৃষ্টি’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) সৃজ্ + তি
  2. খ) সৃষ্ + ‍তি
  3. গ) সৃট +তি
  4. ঘ) সৃষ + টি
সঠিক উত্তর:
খ) সৃষ্ + ‍তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৃষ্ + ‍তি
ব্যাখ্যা
সূত্র: আগে মূর্ধন্য ষ্ এবং এর পরে ত্ বা থ্ থাকলে, যথাক্রমে ত্ ও থ্ স্থানে ট ও ঠ হয়।
যেমন:
- বৃষ্‌ + তি = বৃষ্টি,
- সৃষ্ + তি = সৃষ্টি,
- ষষ্ + থ = ষষ্ঠ।

অন্যদিকে,
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে ‘সৃষ্টি’ শব্দের প্রকৃত-প্রত্যয় হচ্ছে: সৃজ্ + তি = সৃষ্টি।
------------------
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
ব্যঞ্জনসন্ধি সাধারণত চার নিয়মে হয়, 
১. স্বর+ব্যঞ্জন,
২. ব্যঞ্জন + স্বর,
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন,
৪. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।

যেমন:
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল,
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
৩,৫৮৩.
'হাটুয়া > হাউটা > হেটো' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. প্রগত সমীভবন
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
 বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।

এরূপ-
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো,
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-----------------------
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত
সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি। যেমন- বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,৫৮৪.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) ক্‌+র = ক্ত
  2. খ) ঙ+গ = ঞ্জ
  3. গ) জ্‌+ঞ = ঞ্চ
  4. ঘ) গ্‌ + উ = গু
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্‌ + উ = গু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্‌ + উ = গু
ব্যাখ্যা
সঠিক যুক্তবর্ণ হলো- গ্‌ + উ = গু।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:

- ঞ্চ = ঞ+ঝ
- ক্ষ = ক+ষ
- হ্ম = হ+ম
- ষ্ণ = ষ+ণ
- ঞ্চ = ঞ+চ
- ঙ্গ = ঙ+গ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৫৮৫.
কোনটি ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- অল্পপ্রাণ ধ্বনি : কোনাে কোনাে ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযােজিত হয় না। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি (Unaspirated)। যেমন: ক, গ ইত্যাদি।
- মহাপ্রাণ ধ্বনি : কোনাে কোনাে ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযােজিত হয়। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি (Aspirated)। যেমন:খ, ঘ ইত্যাদি।
- অঘােষ ধ্বনি : কোনাে কোনাে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না। তখন ধ্বনিটির উচ্চারণ গাম্ভীর্যহীন ও মৃদু হয়। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষ ধ্বনি। যেমন- ক, খ ইত্যাদি।
- ঘােষ ধ্বনি : ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হলে ঘােষ ধ্বনি (Voiced) হয়। যেমন- গ, ঘ ইত্যাদি

বাংলা বর্ণমালায়,
- ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি - গ, জ, ড, দ, ব। 
- ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি - ঘ, ঝ, ঢ, ধ, ভ, ।
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হলো - ক, চ, ট, ত, প ৷
- অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি হলো - খ, ছ, ঠ, থ, ফ ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩,৫৮৬.
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির সঙ্গে কোন স্বরধ্বনিটি যোগ করা হয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি হিসাবে ‘অ’ স্বরধ্বনিটি যোগ করে উচ্চারণ করা হয়।
যেমন-
- ক্‌ + অ = ক,
- প্‌ + অ = প,
- ট্‌ + অ = ট ইত্যাদি।
- স্বরধ্বনি সংযুক্ত না হলে অর্থাৎ উচ্চারিত ব্যঞ্জন ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের নিচে হস্‌ বা হল চিহ্ন দিয়ে লিখিত হয়।

স্বরবর্ণ:
- স্বরধ্বনি দ্যোতক লিখিত সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় স্বরবর্ণ।
যেমন অ, আ, ই, ঈ, উ, উ ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনধ্বনি দ্যোতক লিখিত সাংকেতিক চিহ্নকে বলা হয় ব্যঞ্জনবর্ণ।
যেমন-ক ইত্যাদি।

বর্ণমালা: যে কোনো ভাষায় ব্যবহৃত লিখিত বর্ণসমষ্টিকে সেই ভাষার বর্ণমালা (Alphabet) বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৮৭.
'ল, স' কোন ধরনের ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  3. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  4. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। 'হাতি' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৫৮৮.
সন্ধি সাধিত শব্দ 'পবিত্র' কোন ধরনের সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. বিসর্গসন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
• ‘পবিত্র’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে ‘পো + ইত্র = পবিত্র’।
• পো + ইত্র = পবিত্র এটি স্বরসন্ধি সাধিত শব্দ।

♦ এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়।
যেমন:
- নে + অন = নয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৩,৫৮৯.
আনুনাসিক স্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
- এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
- কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়।
- এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়।
- স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- মৌলিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]
- অনুনাসিক স্বরধ্বনি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [আঁ], [ওঁ], [উঁ]। মোট ৭টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩,৫৯০.
কোন ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে?
  1. অনুসর্গে
  2. কারকে
  3. পদ পরিবর্তনে
  4. প্রত্যয়ে
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়ে
ব্যাখ্যা
সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণে সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
 - পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল।
- যেমন 'আমি এখন চা আনতে যাই' বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র অনুযায়ী ‘আম্যেখন চানতে যাই' বলা যায় না।
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৫৯১.
নিম্নে কোনটি ”ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

”ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ= ফ।

উল্লেখ্য,
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
 যেমন:
- প, , ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• চ, ছ, জ, ঝ, শ- তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির  উদাহরণ।
•  , র, ল, স  দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৩,৫৯২.
'লাউ' শব্দে 'উ্‌' কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
  1. মৌলিক স্বরধ্বনি
  2. অনুনাসিক স্বরধ্বনি
  3. দ্বিস্বরধ্বনি
  4. অর্ধস্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: ই্‌, উ্‌, এ্‌, ও্‌।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবে,দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন:
- ‘চাই’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।
- একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।

অন্যদিকে:
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন:
- লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

মৌলিক স্বরধ্বনি: 
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।
- এবং মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলাে উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
- এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ
৩,৫৯৩.
চ বর্গীয় বর্ণের উচ্চারণ স্থান কোনটি?
  1. তালব্য
  2. কণ্ঠ্য
  3. মূর্ধন্য
  4. দন্ত্য
সঠিক উত্তর:
তালব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য
ব্যাখ্যা
ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি স্পর্শধ্বনি। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।

• উচ্চারণ স্থান- কণ্ঠ্য; ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
• উচ্চারণ স্থান- তালব্য; চ বর্গীয় বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
• উচ্চারণ স্থান- মূর্ধন্য; ট বর্গীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
• উচ্চারণ স্থান- দন্ত্য; ত বর্গীয় বর্ণ: ত, থ, দ, ধ, ন।
• উচ্চারণ স্থান- ওষ্ঠ্য; প বর্গীয় বর্ণ: প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,৫৯৪.
ধাতুর শেষের ধ্বনির আগের ধ্বনিকে কী বলে?
  1. টি
  2. ইৎ
  3. অনুবন্ধ
  4. উপধা
সঠিক উত্তর:
উপধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপধা
ব্যাখ্যা
- ধাতুর শেষের ধ্বরি আগের ধ্বনিকে উপধা বলে।
- ধাতুর আদ্যস্বরের পরবর্তী সমুদয় ধ্বনিকে টি বলে।
- প্রত্যরে সঙ্গে বাড়তি কিছু বর্ণ থাকে, কিন্তু প্রত্যয় সাধিত হওয়ার সময় এই বাড়তি বর্ণ লোপ পায়, লোপ পাওয়া বাড়তি বর্ণকে ইৎ বা অনুবন্ধ বলে।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৩,৫৯৫.
দ্বিস্বরধ্বনি 'ঐ' এর মধ্যে কোনটি অর্ধস্বরধ্বনি?
  1. ক) [ই]
  2. খ) [ও]
  3. গ) [উ]
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) [ই]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) [ই]
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন – 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ
• [আই্‌]: তাই, নাই
• [এই্,]: সেই, নেই
• [আও্‌]: যাও, দাও 
• [আএ্‌]: খায়, যায় 
• [উই্‌]: দুই, রুই ইত্যাদি।
- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে।
যথা- ঐ এবং ঔ। 
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্‌]
- একইভাবে, ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ )।
৩,৫৯৬.
নিচের কোনটিতে স্বভাবতই 'ণ' হয়নি?
  1. বিপণি
  2. বণিক
  3. তূণ
  4. প্রাণ
সঠিক উত্তর:
প্রাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাণ
ব্যাখ্যা
• 'প্রাণ' শব্দটি ণ- ত্ব বিধি অনুযায়ী গঠিত শব্দ।

সূত্র:
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়:
চাণক্য মাণিক্য গণ, বাণিজ্য লবণ মণ বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি, স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী, নিপুণ ভণিতা পাণি গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্বণ নিক্বণ তূণ, কফণি (কনুই) বণিক গুণ গণনা পিণাক পণ্য বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৫৯৭.
'স্বাধীন' শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্বা + ধীন
  2. স্ব + অধীন
  3. স্বা + অধীন
  4. স্ব + আধীন
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
স্ব + অধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব + অধীন
ব্যাখ্যা
• 'স্বাধীন' শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হবে-  স্ব + অধীন।

স্বরসন্ধি নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
• অ+অ= আ; 
- নর+ অধম =নরাধম। এরূপ-হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
• অ + আ = আ; 
- হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
• আ+ অ = আ; 
- যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
• আ + আ = আ; 
- বিদ্যা+আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯- সংস্করণ।
৩,৫৯৮.
নিচের কোনটির ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান খাটে?
  1. ক) তৎসম শব্দে
  2. খ) ‘ট’ বর্গীয় বর্ণে
  3. গ) ঋ, র, ষ-বর্ণে
  4. ঘ) সবগুলোতেই প্রযোজ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোতেই প্রযোজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোতেই প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধানঃ
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৫৯৯.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে?
  1. ক) ভীষণ
  2. খ) ভাষণ
  3. গ) আপণ
  4. ঘ) কারণ
সঠিক উত্তর:
গ) আপণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আপণ
ব্যাখ্যা
'আপণ' শব্দে- স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে।

• ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন : ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।  

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
- চিক্কণ
- নিক্বণ
- তূণ
- বণিক
- চাণক্য,
- মাণিক্য,
- গণ,
- বাণিজ্য
- লবণ,
- মণ,
- বেণু,
- বীণা,
- কঙ্কণ
- কণিকা,
- আপণ,
- লাবণ্য,
- বাণী,
- নিপুণ,
- ভণিতা,
- পাণি,
- গৌণ,
- কোণ,
- বাণ ইত্যাদি

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
৩,৬০০.
নিচের কোনটি মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ক) ব
  2. খ) শ
  3. গ) ড
  4. ঘ) ঝ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঝ
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি:
- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি ও মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, , ত, দ, স, ট, , ড়, চ, জ, , ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ,, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।