বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৩৪ / ৬৩ · ৩,৩০১৩,৪০০ / ৬,৩২৭

৩,৩০১.
বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করা হয় কী বুঝাতে?
  1. হ্রস্বস্বর
  2. ঘর্ষণজাত
  3. অর্ধমাত্রা ধ্বনি
  4. অনুনাসিক স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অনুনাসিক স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুনাসিক স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়।
- স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
মৌলিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
অনুনাসিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যাঁ], [], [অ], [ও], [উ]।

অন্যদিকে,
• অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

• ঘর্ষণজাত:
দুটি বাগযন্ত্র খুব কাছাকাছি আসে, কিন্তু একসঙ্গে যুক্ত হয় না। ফলে বাতাস বাধা পায় ও সংকীর্ণ পথে বের হওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে বলে এগুলি ঘর্ষণজাত ধ্বনি বা শিস ধ্বনি বলা হয়।
যেমন: শ, ষ, স, হ।

• হ্রস্বস্বর:
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে।
যেমন: অ, ই, উ, ঋ এই (৪টি হ্রস্বস্বর)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৩০২.
'মিঠা > মিঠে' - কোন ধরনের স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
  2. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  4. প্রগত স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• 'মিঠা > মিঠে' - চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

স্বরসঙ্গতি:

- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন-
- দেশি দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

প্রগত স্বরসঙ্গতি:
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন –
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা তুলো।

পরাগত স্বরসঙ্গতি:

- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
- আখো > আখুয়া > এখো,
- দেশি দিশি।

মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:

- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
- বিলাতি > বিলিতি।

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
- আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন –
- মোজা > মুজো।

চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
যেমন:
- গিলা > গেলা,
- মিলামিশা > মেলামেশা,
- মিঠা > মিঠে,
- ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২)ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩০৩.
নিম্নের কোনটি অনুবর্ণ নয়?
  1. ক) ৎ
  2. খ) র ফলা
  3. গ) ঋ কার
  4. ঘ) রেফ
সঠিক উত্তর:
গ) ঋ কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঋ কার
ব্যাখ্যা
• অনুবর্ণ
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।
 
ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে,
যেমন – ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল-ফলা।

রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ। 
যেমন ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত। 

• অন্যদিকে,
ঋ স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ ঋ- কার

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩০৪.
'ক্ম' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণ দিয়ে তৈরি?
  1. ক্ + ণ
  2. ক্ + হ
  3. ক্ + ম
  4. ক্ + ন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + ম
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। যেমনঃ
- ক্ + ত = ক্ত,
- ক্ + ম = ক্ম,
- ক্ + র = ক্র,
- ক্ + হ = ক্হ,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + স = ক্স,
- ঙ্ + ক = ঙ্ক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩০৫.
ণ-ত্ব বিধান মতে ঋ, র, ষ এর পরে যুক্ত হয়-
  1. ন অথবা ণ
  2. কোন নিয়ম নেই
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী ঋ, র, ষ এর পরে যুক্ত হয়- 'ণ'। 
-----------------------------
• ণ-ত্ব-বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় তাকে ণত্ব-বিধান বলে।

- ঋ, র বা ষ-এর পরে যদি স্বরধ্বনি, য, ব, হ কিংবা ক-বর্গ ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকে, তবে তার পরবর্তী দন্ত্য ন পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য ণ হয়। 
- যেমন—
- হরিণ (র-এর পরে ই, তারপর ণ),
- অর্পণ (র + প + অ + ণ),
- লক্ষণ (ষ-এর পরে ক, তারপর ণ), 
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প, তারপর ণ) ইত্যাদি। 
- যেমন: 
- অকর্মণ্য, অগ্রহায়ণ, আরোহণ, অপরাহ্ণ, উৎক্ষেপণ, ক্ষেপণাস্ত্র, গৃহিণী, গ্রহণ, গ্রামীণ, চর্বণ, দর্পণ, দ্রবণ, পার্বণ, ভ্রমণ, পূর্বাহ্ণ, শ্রবণ, সন্তর্পণ ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩,৩০৬.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. তদ্‌ + অবধি = তদবধি
  2. সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
  3. ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত
  4. দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + অবধি = তদবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + অবধি = তদবধি
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - তদ্‌ + অবধি = তদবধি। এর শুদ্ধরূপ - তৎ + অবধি = তদবধি।

ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম (ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি):

- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্জ, ড্ (ড়), দ্‌, ব্‌ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত;
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত;
- ষট্ + আনন = ষড়ানন;
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,৩০৭.
ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নামই-
  1. ক) রসতত্ত্ব
  2. খ) রূপতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) ক্রিয়ার কাল
সঠিক উত্তর:
গ) বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

ধ্বনিতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বকে বাক্যে যথাযথভাবে ব্যবহার করার বিধানের নাম - বাক্যতত্ত্ব।
- ইংরেজি Syntax শব্দের প্রতিশব্দ হিসাবে বাংলায় বাক্যতত্ত্ব কথাটি ব্যবহৃত হয়।
- Syntax শব্দটি গ্রীক শব্দ Syntaxis থেকে এসেছে। এর অর্থ - 'একত্র বিন্যাস'।
- এটা থেকে বাক্যমধ্যে শব্দসমূহের একত্র বিন্যাসের তত্ত্ব অর্থক্রমে Syntax বা বাক্যতত্ত্ব কথাটি প্রচলিত।
উৎসঃ ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩০৮.
কম্পনজাত ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• কম্পনজাত ব্যঞ্জনধ্বনি:
জিভ কম্পিত হয়ে বা দন্তমূল বারবার আঘাত করে উচ্চারিত হয় বলে এ-জাতীয় ব্যঞ্জনগুলিকে বলে কম্পনজাত।
- এ শ্রেণির বাংলা ব্যঞ্জন একটি: র।
যেমন- বার, ধার। 

অন্যদিকে,
- 'ল' একটি পার্শ্বিক ধ্বনি।
- ড় ও ঢ় হলো তাড়নজাত ধ্বনি।
- শ, ষ, স শিশধ্বনি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩০৯.
অর্ধমাত্রা স্বরবর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১টি 
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
১টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি 
ব্যাখ্যা

• বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি -(এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ , ং , ঃ , ঁ )।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩১০.
কোনটি প্রগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. দেশি > দিশি
  2. কুমড়া > কুমড়ো
  3. বিলাতি > বিলিতি
  4. জিলাপি > জিলিপি
সঠিক উত্তর:
কুমড়া > কুমড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমড়া > কুমড়ো
ব্যাখ্যা

• প্রগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ - কুমড়া > কুমড়ো।

স্বরসঙ্গতি:

- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: 
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

প্রগত:
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো, 
- কুমড়া > কুমড়ো

পরাগত:
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- আখো > আখুয়া > এখো,
- দেশি > দিশি

মধ্যগত:
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- বিলাতি > বিলিতি,
- জিলাপি > জিলিপি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩১১.
ণ-ত্ব বিধি অনুসারে কোন জোড়া অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) দুর্নিবার, নবারুণ
  2. খ) হরিণ, মূল্যায়ন
  3. গ) কেরাণি, পরগণা
  4. ঘ) পণ, প্রণয়ন
সঠিক উত্তর:
গ) কেরাণি, পরগণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কেরাণি, পরগণা
ব্যাখ্যা
শব্দদ্বয়ের শুদ্ধরূপ হলো : কেরানি, পরগনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান
৩,৩১২.
‘চারি > চার’ এটি কোন ধরনের ধ্বনিলোপ?
  1. ক) আদিস্বর
  2. খ) মধ্যস্বর
  3. গ) অন্ত্যস্বর
  4. ঘ) র-কার
সঠিক উত্তর:
গ) অন্ত্যস্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্ত্যস্বর
ব্যাখ্যা
শেষে স্বরধ্বনি লোপ হবে। 
আশা > আশ
আজি > আজ
চাকা > চাক
চারি > চার

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৩,৩১৩.
'ছ' এর উচ্চারণ স্থানগত অবস্থান কোনটি?
  1. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. তালব্য ব্যঞ্জন
  4. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- দন্ত্য ব্যঞ্জন ,
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
- মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
- তালব্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠনালী ব্যঞ্জন।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা, প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩,৩১৪.
বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রা বর্ণের সংখ্যা কতটি?
  1. ১০
  2. ৭ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৮টি। 

বর্ণ :
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩১৫.
'পাভেল ও হুমায়ারা নতুন পোশাক পড়ে ষ্টুডিওতে ছবি তুলতে গেল।' - বাক্যটির নিম্নরেখ শব্দগুলোতে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার -
  1. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  2. প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  3. দুটোই শুদ্ধ
  4. দুটোই অশুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'পাভেল ও হুমায়ারা নতুন পোশাক পড়ে ষ্টুডিওতে ছবি তুলতে গেল।' - বাক্যটির নিম্নরেখ শব্দগুলোতে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার - প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট, স্টেশন, স্টুডিও ইত্যাদি।
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩১৬.
ণিজন্ত- শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো-
  1. ক) ণিচ + অ
  2. খ) নিচ্ + অন্ত
  3. গ) ণিচ্ + অন্ত
  4. ঘ) নিচ + অন্ত
সঠিক উত্তর:
গ) ণিচ্ + অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ণিচ্ + অন্ত
ব্যাখ্যা

- ক্‌, চ্‌, ট্‌, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্,, দ্, ব্ হয়।

যেমনঃ
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন,
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত,
- বাক্‌ + অর্থ = বাগর্থ,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৩,৩১৭.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণের গঠন কোনটি?
  1. গ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  2. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  3. ঞ্ + ণ = জ্ঞ
  4. ঞ্‌ + জ = জ্ঞ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণের গঠন-  জ্ঞ =  জ্‌ + ঞ।

• 'জ্ঞ' যুক্তবর্ণদ্বারা গঠিত শব্দ-
যেমন- জ্ঞান, সংজ্ঞা, বিজ্ঞান।

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ হলো:
• ঞ্চ (ঞ্চ) = ঞ্‌ + চ। যেমন- অঞ্চল, সঞ্চয়, পঞ্চম।
• ঞ্ছ = ঞ্‌ + ছ। যেমন-বাঞ্ছিত, বাঞ্ছনীয়, বাঞ্ছা।
• ঞ্জ = ঞ্‌ + জ। যেমন- গঞ্জ, রঞ্জন, কুঞ্জ।
• ঞ = ঞ্‌ + ঝ। যেমন- ঝঞ্ঝা, ঝঞ্ঝাট।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১৮.
‘সংগীত’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. সং + গিত
  2. সমঃ + গিত
  3. সং + গীত
  4. সম্ + গীত
সঠিক উত্তর:
সম্ + গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + গীত
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম:
- সন্ধি বিচ্ছেদে নাসিক্য বর্ণের পরিবর্তে’ ম ‘ হয়।
এরূপ-
- সম্ + গীত = সংগীত,
- সম্+ ধি = সন্ধি,
- সম্+ চয় = সঞ্চয়,
- সম্+তাপ = সন্তাপ,
- কিম+ভূত = কিম্ভূত,
- সম্+সার = সংসার,
- সম্+বাদ = সংবাদ ইত্যাদি।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ);
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩১৯.
'ক থেকে ম' পর্যন্ত ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৩৯ টি
  2. ২৮ টি
  3. ২৫ টি
  4. ২০ টি
সঠিক উত্তর:
২৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০ টি।
- স্বরবর্ণ ১১টি ও
- ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• বৰ্গীয় বৰ্ণ:
ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে
স্পর্শ বা বৰ্গীয় বৰ্ণ বলে।
যথা:

- ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
- চ বৰ্গীয় বর্ণ : চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
- ট বর্গীয় বর্ণ ট, ঠ, ড, ঢ, ণ৷
- ত বৰ্গীয় বর্ণ : ত, থ, দ, ধ, ন৷
- প বর্গীয় বর্ণ : প, ফ, ব, ভ, ম৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩২০.
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে যথাক্রমে -
  1. ৪টি ও ২৮টি
  2. ৫টি ও ২৭টি
  3. ৬টি ও ২৮টি
  4. ৬টি ও ২৬টি
সঠিক উত্তর:
৬টি ও ২৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি ও ২৬টি
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ = ৫০টি (স্বরবর্ণ - ১১ ও ব্যঞ্জনবর্ণ - ৩৯টি)।
তারমধ্যে,
- পূর্ণমাত্রার বর্ণ - ৩২টি (স্বরবর্ণ - ৬ ও ব্যঞ্জনবর্ণ - ২৬টি)
- অর্ধমাত্রার বর্ণ - ৮টি (স্বরবর্ণ - ১ ও ব্যঞ্জনবর্ণ - ৭টি) ও
- মাত্রাহীন বর্ণ - ১০টি (স্বরবর্ণ - ৪ ও ব্যঞ্জনবর্ণ - ৬টি) 
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ
৩,৩২১.
“ও + অন্য স্বর” সন্ধির নিয়ম সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. শয়ন
  2. নাবিক
  3. গবাদি
  4. নায়ক
সঠিক উত্তর:
গবাদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবাদি
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে। যেমন:
⇒ ও + অন্য স্বর - গো + আদি = গবাদি।
⇒ ঔ + অন্য স্বর - নৌ + ইক = নাবিক।
⇒ এ + অন্য স্বর - শে + অন = শয়ন।
⇒ ঐ + অন্য স্বর - নৈ + অক = নায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৩,৩২২.
‘স' বর্ণের উচ্চারণ [স] হয়েছে কোন শব্দে?
  1. আস্তে
  2. সাধারণ
  3. সামান্য
  4. শ্রমিক
সঠিক উত্তর:
আস্তে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আস্তে
ব্যাখ্যা
• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

• শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
• শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শ্রদ্ধা [স্রোদ্‌ধা], শৃগাল [স্রিগাল]।
• ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
• স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন্‌], সামান্য [শামান্‌নো] ।
• স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আস্‌তে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩২৩.
তালব্য ব্যঞ্জন রয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. কলা
  2. লাল
  3. হাত
  4. শসা 
সঠিক উত্তর:
শসা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শসা 
ব্যাখ্যা

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
- হাত শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- নানা, রাত, লাল, কলা,  সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৩২৪.
'আশাতীত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আশ + অতীত
  2. আশাঃ +অতীত
  3. আ + শাতীত
  4. আশা + অতীত
সঠিক উত্তর:
আশা + অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশা + অতীত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আকারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন
• অ + অ = আ:
- নর + অধম = নরাধম।
এরূপ-হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।

• অ + আ = আ:
- হিম + আলয় = হিমালয়।
এরূপ - দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।

• আ + অ = আ:
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- আশা + অতীত = আশাতীত।
এরূপ কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।

• আ + আ = আ:
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ- কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩২৫.
কোন বর্ণগুলো মহাপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ব, ত, দ
  2. ড, ঝ, খ
  3. ঢ, ঢ়, ছ
  4. ফ, ভ, শ
সঠিক উত্তর:
ঢ, ঢ়, ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢ, ঢ়, ছ
ব্যাখ্যা

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি। 

যেমন:
- ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। 

যেমন: 
- প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩,৩২৬.
কোনটি অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ?
  1. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  2. গ্ + ণ  = গু
  3. ঙ্ + গ = ঙ্গ
  4. গ্ + ধ =গ্ধ
সঠিক উত্তর:
গ্ + ণ  = গু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্ + ণ  = গু
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ - গ্ + ণ  = গু। 
- এর শুদ্ধরূপ - গ্ + উ  = গু।

অন্যদিকে,
- গ্ + ধ =গ্ধ,
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- জ + ঞ = জ্ঞ।
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি( ২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩২৭.
'সার + অঙ্গ = সারঙ্গ' কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. বিসর্গ সন্ধি
  2. ব্যঞ্জন সন্ধি
  3. স্বর সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩২৮.
অস্তঃস্থ ধ্বনি নয় কোনটি?
  1. র  
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অস্তঃস্থ ধ্বনি নয়- ম।  
- 'ম' নাসিক্য ধ্বনি। 

• অস্তঃস্থ ধ্বনি:

স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য র ল ব-এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,৩২৯.
'ব্রাহ্মণ' শব্দের 'হ্ম' এর বিশ্লেষিত রূপ-
  1. ক) হ্‌ + ম
  2. খ) ক্ + খ
  3. গ) ক্ + ষ + ম
  4. ঘ) ক্ + ষ + ণ
সঠিক উত্তর:
ক) হ্‌ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হ্‌ + ম
ব্যাখ্যা
হ্ম = হ্‌  + ম: ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম। 
ক্ষ্ম = ক্‌ + ষ্‌+ ম্‌: লক্ষ্মণ, লক্ষ্মী ।  

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৩০.
কোনটি মধ্যস্বর লোপের উদাহরণ?
  1. সুবর্ণ > স্বর্ণ
  2. আশা > আশ
  3. আজি > আজ
  4. পোকা > পোক্‌
সঠিক উত্তর:
সুবর্ণ > স্বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবর্ণ > স্বর্ণ
ব্যাখ্যা

মধ্যস্বর লোপ:
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ

অন্যদিকে,
অন্ত্যস্বর লোপ:
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- পোকা > পোক্‌ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৩৩১.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন: নবান্ন-
  1. ক) নব + অন্ন
  2. খ) নবীন + অন্ন
  3. গ) নবঃ + অন্ন
  4. ঘ) নবা + অন্ন
সঠিক উত্তর:
ক) নব + অন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নব + অন্ন
ব্যাখ্যা
- উপরোক্ত নবান্ন শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: নব + অন্ন = নবান্ন।
- নবান্ন হলো স্বরসন্ধির উদাহরণ।

স্বরসন্ধি 
• স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনের স্বরসন্ধি বলে।
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন- অ+অ = আ, নব + অন্ন = নবান্ন। এরূপ- হিমাচল, হিতাহিত, প্রাণাধিক ইত্যাদি। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৩৩২.
'মধ্বভাব' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মৃদু + অভাব
  2. মধ্য + অভাব
  3. মধু + অভাব
  4. মধ + ভাব
সঠিক উত্তর:
মধু + অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধু + অভাব
ব্যাখ্যা
'মধ্বভাব' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ = মধু + অভাব
এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। 
- সূত্র = উ+আ=ব 
- যেমন - মধ্বভাব = মধু + অভাব
              স্বচ্ছ = সু + আগত 
             অন্বয় = অনু + অয় 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৩,৩৩৩.
নিচের কোন সন্ধি-বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ক) মহা + ইশ = মহেশ
  2. খ) সাদা+ এব= সদেব
  3. গ) ভাব + ঐক্য = ভাবৈক্য
  4. ঘ) মহা+ওষধি = মহৌষধ
সঠিক উত্তর:
গ) ভাব + ঐক্য = ভাবৈক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাব + ঐক্য = ভাবৈক্য
ব্যাখ্যা
• এখানে সঠিক উত্তর ভাব + ঐক্য = ভাবৈক্য

• অ কিংবা আ ধ্বনির পর এ কিংবা ঐ ধ্বনি থাকলে উভয় মিলে ঐ হয়। ঐ কার রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়। 
যেমন: মহা+ ঐক্য = মহৈক্য

• অন্য অপশনগুলোর সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ: 
- মহা + ঈশ = মহেশ।
- সাদা+ এব= সদৈব।
- মহা+ওষধি = মহৌষধি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, হায়াৎ মাহমুদ।
৩,৩৩৪.
নিচের কোনটি মাত্রাহীন স্বরবর্ণ?
  1. ঋ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

মাত্রাহীন স্বরবর্ণ হচ্ছে- এ।

• বর্ণ:

- বর্ণ হচ্ছে- ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক।
- ভাষায় ভাব প্রকাশের জন্য উচ্চারিত ধ্বনিকে লেখায় রূপ দেওয়ার যে চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বর্ণ বলা হয়।
- অর্থাৎ ধ্বনি কানে শোনা যায় কিন্তু সেই ধ্বনির প্রতীক বর্ণ চোখে দেখা যায় এবং তা লিখে প্রকাশ করা হয়।
- ভাষার নির্মাণে বর্ণ মূল ভিত্তি, কারণ শব্দ গঠনের সবচেয়ে ছোট একক হলো বর্ণ।
- বাংলায় মোট ৫০টি বর্ণ আছে—এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

- বাংলা বর্ণমালায় ১০টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে:
স্বরবর্ণ: এ, ঐ, ও, ঔ;
• ব্যঞ্জনবর্ণ: ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ।

- আবার অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি:
• যার মধ্যে ১টি স্বরবর্ণ (ঋ) এবং
• ৭টি ব্যঞ্জনবর্ণ (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

- বাকি ৩২টি বর্ণ পূর্ণমাত্রার - যেখানে ৬টি স্বরবর্ণ এবং ২৬টি ব্যঞ্জনবর্ণ।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১);
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৩,৩৩৫.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. স্পষ্ট
  2. ঊষা
  3. ঋষি
  4. বর্ষা
সঠিক উত্তর:
ঊষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊষা
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৩৬.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অক্ষ + উহিণী = অক্ষৌহিণী
  2. কুল + অটা = কুলাটা
  3. প্র + ঊঢ় = প্রোঢ়
  4. সীমন + অত = সীমন্ত
সঠিক উত্তর:
সীমন + অত = সীমন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমন + অত = সীমন্ত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ - সীমন + অত = সীমন্ত

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড, 
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৩৭.
ট-বর্গীয় ধ্বনি নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ট-বর্গীয় ধ্বনি নয় -

• বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।

এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৩৮.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. ক) পরস্পর
  2. খ) আশ্চর্য
  3. গ) বনস্পতি
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
উপরের সবগুলো নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ। 

⇒ কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। 

নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হল:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য
- গো + পদ = গোষ্পদ 
- পর + পর = পরস্পর
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক+ দশ = একাদশ
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৩৯.
“স্থ” যুক্তবর্ণে কি কি বর্ণ আছে?
  1. ক) ষ + থ
  2. খ) হ + থ
  3. গ) স + থ
  4. ঘ) স + ত
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) স + থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স + থ
ব্যাখ্যা

“স্থ” যুক্তবর্ণে স + থ দুটি বর্ণ আছে।
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৪০.
ব্যাকরণের বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. তিন ভাগে
  2. চার ভাগে
  3. পাঁচ ভাগে
  4. ছয় ভাগে
সঠিক উত্তর:
তিন ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন ভাগে
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• মাত্রাহীন বর্ণ:
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ,)।

• অর্ধমাত্রার বর্ণ:
বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

• পূর্ণমাত্রার বর্ণ:
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৪১.
বাংলা ব্যাকরণ কোন পদে সংস্কৃতের লিঙ্গের নিয়ম মানে না ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• বাংলা ব্যাকরণের বিশেষণ পদ সংস্কৃত লিঙ্গের নিয়ম মানে না। 

• তৎসম (সংস্কৃত) পুরুষবাচক বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে পুরুষবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয় এবং স্ত্রীবাচক বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে স্ত্রীবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়। 
যেমন-
বিদ্বান লোক এবং বিদুষী নারী। এখানে, 'লোক' পুরুষবাচক বিশেষ্য এবং 'নারী' স্ত্রীবাচক বিশেষ্য। 'বিদ্বান' পুরুষবাচক বিশেষণ এবং 'বিদুষী' স্ত্রীবাচক বিশেষণ।

কিন্তু,
বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে সংস্কৃত ব্যাকরণের এ নিয়ম মানা হয় না।
যেমন,
সংস্কৃতে 'সুন্দর বালক' ও 'সুন্দরী বালিকা' হবে কিন্তু বাংলায় 'সুন্দর বালক' ও 'সুন্দর বালিকা' হবে। 

-------------------------- 
লিঙ্গ অন্যান্য পদ ও শব্দরে লিঙ্গ পরিবর্তনের নিয়ম:
• বাংলা লিখিত ভাষায় কখনো কখনো সংস্কৃতপ্রধান শৈলীতে বিশেষ্য ও বিশেষণের লিঙ্গসাযুজ্য ঘটে। যেমন- দুঃখিনী, জন্মভূমি, বিপুলা।
• বাংলা ভাষায় সর্বনাম শব্দে নারী-পুরুষবাচক পার্থক্য করা হয় না। আমি, তুমি, সে, তারা, এটা, ওটা ইত্যাদি সর্বনাম স্ত্রী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই একই রূপে ব্যবহৃত হয়।
• তৎসম পুরুষবাচক শব্দের শেষে -আ, -ঈ, -আনী, -নী ইত্যাদি নারীবাচক প্রত্যয় যোগে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করা হয়। 
• ভিন্ন ভিন্ন নারীবাচক প্রত্যয় যোগে একই পুরুষবাচক শব্দের একাধিক নারীবাচক রূপ হতে পারে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৪২.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা
  2. খ) কৃষ্‌ + টি = কৃষ্টি
  3. গ) তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে
  4. ঘ) তৎ + রূপ = তদ্রুপ
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষ্‌ + টি = কৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষ্‌ + টি = কৃষ্টি
ব্যাখ্যা
কৃষ্‌ + টি = কৃষ্টি; সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়।
এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 
কৃষ্‌ + তি = কৃষ্টি;

সন্ধির নিয়ম:
ষ্‌- এর পরে ত্‌ বা থ থাকলে, যথাক্রমে ত্‌ এবং থ্‌ স্থানে ট ও ঠ হয়। 
যেমন: 
কৃষ্‌ + তি = কৃষ্টি;
ষষ্‌ + থ্‌ = ষষ্ঠ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৪৩.
'তন্বী' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তণু + ই
  2. তনু + ঈ
  3. তনু + ই
  4. তণু + ঈ
সঠিক উত্তর:
তনু + ঈ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তনু + ঈ
ব্যাখ্যা
• 'তন্বী' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ-  তনু + ঈ।

 সূত্র:
• উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
- উ + অ = ব + অ; সু + অল্প = স্বল্প।
- উ + আ = ব + আ; সু + আগত স্বাগত।
- উ + ই = ব + ই;  অনু + ইত = অন্বিত।
- উ + ঈ= ব + ঈ; তনু + ঈ = তন্বী।
- উ + এ = ব + এ;  অনু + এষণ অন্বেষণ।
এরূপ- পশ্বধম, পশ্বাচার, অন্বয়, মন্বন্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৩৪৪.
"ইত্যাদি" শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বর
  2. ব্যঞ্জন
  3. বিসর্গ
  4. নিপাতনে সিন্ধ
সঠিক উত্তর:
স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর
ব্যাখ্যা

• "ইত্যাদি" শব্দটি 'স্বরসন্ধির' নিয়মে গঠিত।

সন্ধির নিয়ম:

- ই-কার বা ঈ-কারের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়, য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৩৪৫.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ৭টি 
  2. ২৫টি 
  3. ৩০টি 
  4. ৩২টি 
সঠিক উত্তর:
৩০টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০টি 
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]; 

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],[ক], [খ], [গা,[ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।

৩,৩৪৬.
'বুদ্ধ' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বুধ + ত
  2. বুদ + ধ
  3. বুধ + ধ
  4. বুদ + ত
সঠিক উত্তর:
বুধ + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুধ + ত
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- আগে ধ্‌, ভ্‌ কিংবা হ্ থাকলে এবং পরে ত থাকলে সন্ধিতে (ধ্‌ + ত) স্থলে দ্ধ, (ভ্ + ত) স্থলে ব্ধ এবং (হ্ + ত) স্থলে গ্ধ হয়।

যেমন:
- বুধ + ত = বুদ্ধ,
- লভ্ + ত = লব্ধ,
- বিমুহ্ + ত = বিমুগ্ধ,
- দুহ্ + ত = দুগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৪৭.
কোন সন্ধিটি নিপাতনে সিদ্ধ?
  1. এক + দশ = একাদশ
  2. বাক্ + দান = বাগদান
  3. কথা + ছলে= কথাচ্ছলে
  4. উৎ + লাস = উল্লাস
সঠিক উত্তর:
এক + দশ = একাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক + দশ = একাদশ
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• বাক্ + দান = বাগদান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।
• স্বরধ্বনির পর 'ছ' থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়। যথা- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে। 
• উৎ + লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৪৮.
'অহরহ' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অহঃ + অহ
  2. অহ + রহ
  3. অহঃ + অহঃ
  4. অহঃ + রহ
সঠিক উত্তর:
অহঃ + অহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহঃ + অহ
ব্যাখ্যা
• 'অহরহ' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ - অহঃ + অহ

বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৪৯.
বিসর্গ (ঃ) সন্ধিঘটিত শুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. ক) দূরন্ত
  2. খ) দুর্গতি
  3. গ) দূর্বার
  4. ঘ) দুর্মতী
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুর্গতি
ব্যাখ্যা
দুর্গতি 
সন্ধি বিচ্ছেদ: দুঃ+তি
পদ:
বিশেষ্য পদ
উচ্চারণ:
দুরগোতি 

অর্থ-
১ শোচনীয় অবস্থা।
২ দারিদ্র্য।
৩ নিগ্রহ

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৩৫০.
'উ' উচ্চারণের সময় জিভের অবস্থান-
  1. ক) উচ্চ- সম্মুখ
  2. খ) নিম্ন- সম্মুখ
  3. গ) উচ্চ- পশ্চাৎ
  4. ঘ) নিম্ন- পশ্চাৎ
সঠিক উত্তর:
গ) উচ্চ- পশ্চাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উচ্চ- পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি ই, উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

⇒ জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত:
- সম্মুখ স্বরধ্বনি [ই], [এ], [অ্যা];
- মধ্য স্বরধ্বনি [আ];
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি [অ], [ও], [উ]।

এখানে, 'উ' উচ্চারণের সময় জিভের অবস্থান- 'উচ্চ- পশ্চাৎ'। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৩৫১.
অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে?
  1. ক) চাঁদা
  2. খ) চানা
  3. গ) চালা
  4. ঘ) চাঁটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) চাঁটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চাঁটি
ব্যাখ্যা
অভিধানে শব্দগুলো অক্ষরিক ক্রমানুসারে সাজানো হয়। অর্থাৎ, প্রথমে শব্দটির প্রথম অক্ষর দিয়ে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় এবং তারপর পরবর্তী অক্ষরগুলো আসে।

এখানে, সমস্ত শব্দের প্রথম অক্ষর 'চ'। তবে পরবর্তী অক্ষরগুলো বিচার করলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, 'আ' আসে 'আ' এর পরে। তাই, আমরা এই শব্দগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ,
ত, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ

- তাই, শব্দগুলি বাংলা বর্ণমালার অনুযায়ী ক্রম হবে -
চাঁটি > চাঁদা > চানা > চালা

সুতরাং, সঠিক উত্তর হবে 'চাঁটি' (ঘ). এটি অভিধানে অন্য তিনটি শব্দের চেয়ে আগে বসবে।
৩,৩৫২.
১৪. বাংলা বর্ণমালায় কয়টি “ব” আছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় ১টি “ব” আছে। এটি প - বর্গের অন্তর্গত ওষ্ঠধ্বনি।

বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ = ৫০টি (স্বরবর্ণ - ১১ ও ব্যঞ্জনবর্ণ - ৩৯টি)।
তারমধ্যে,
- পূর্ণমাত্রার বর্ণ - ৩২টি (স্বরবর্ণ - ৬ ও ব্যঞ্জনবর্ণ - ২৬টি)
- অর্ধমাত্রার বর্ণ - ৮টি (স্বরবর্ণ - ১ ও ব্যঞ্জনবর্ণ - ৭টি) ও
- মাত্রাহীন বর্ণ - ১০টি (স্বরবর্ণ - ৪ ও ব্যঞ্জনবর্ণ - ৬টি) 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৩৫৩.
কোন দুটি শব্দের বানান শুদ্ধ?
  1. গণিকা, লবন
  2. কোণ, লাবন্য
  3. কণিকা,ফণী
  4. আপণ, চিক্কন
সঠিক উত্তর:
কণিকা,ফণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণিকা,ফণী
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান জোড় - কণিকা,ফণী

ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৫৪.
নিম্নের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ নয়?
  1. ক) ব্জ
  2. খ) স্খ
  3. গ) ন্ড
  4. ঘ) হু
সঠিক উত্তর:
ঘ) হু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হু
ব্যাখ্যা
হু (হ্+উ) = অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ

• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
 এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ন্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ণ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, প্স, ব্জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ্ল, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
- ক্ত (ক্+ত), 
- ক্ম (ক্+ম), 
- ক্ষ (ক্+ষ), 
- ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম),
- ক্স (ক্+স), 
- গু (গ্+উ),
- গ্ধ (গ্+ধ), 
- ঙ্গ (ঙ্+গ), 
- জ্ঞ (জ+ঞ), 
- ঞ্চ (ঞ+চ), 
- ঞ্জ (ঞ+জ), 
- ষ্ণ (ষ্+ণ)
- হু (হ্+উ), 
- শু (শ্‌+উ) 
- হৃ (হ+ঋ), 
- হ্ন (হ্+ন), 
- হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৩৫৫.
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে?
  1. পরাগত
  2. স্বরলোপ
  3. প্রগত
  4. অনোন্য
সঠিক উত্তর:
প্রগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত
ব্যাখ্যা
• 'প্রগত' স্বরসঙ্গতি এবং প্রগত সমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

প্রগত স্বরসঙ্গতি :
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো।

• প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।

অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
চক্র > চক্ক, পক্ব > পক্ক, পদ্ম > পদ্দ, লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।
-------------------------- 
সমীভবন:

শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন- জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।
অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
চক্র > চক্ক, পক্ব > পক্ক, পদ্ম > পদ্দ, লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
গল্প > গপ্প, তৎ + জন্য > তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত, উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ, সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন ধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন -
বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৫৬.
'স্মরণ' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শরণ
  2. শঁরোন্‌
  3. শ্বোঁরণ্‌
  4. শরোন
সঠিক উত্তর:
শঁরোন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শঁরোন্‌
ব্যাখ্যা
ম বর্ণের উচ্চারণ:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়,
যেমন:
- শ্মশান [শঁশান্],
- স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়,
যেমন:
- আত্মীয় [আতিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্- এর উচ্চারণ বজায় থাকে,
যেমন:
- যুগ্ম [জুগ্‌মো],
- জন্ম [জমো],
- গুল্ম [গুমো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৩৫৭.
‘শাক > শাগ’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত?
  1. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  2. ঘোষীভবন
  3. স্বরভক্তি
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
ঘোষীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোষীভবন
ব্যাখ্যা
• ঘোষীভবন:
অঘোষধ্বনি ঘোষধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে ঘোষীভবন বলে।
যেমন:
- কাক > কাগ,
- শাক > শাগ,
- শালা > হালা।

উল্লেখ্য,
এটি পরাগত সমীভবন বা স্বরসঙ্গতির উদাহরণ নয়। কারণ, সমীভবনে এক ধ্বনিতে রূপ লাভ করে। এগুলো বরং এক ধরনের ব্যঞ্জন বিকৃতি। যে কারণে অনেক গ্রন্থে আলাদা করে এগুলো দেওয়া নেই।

-------------------
অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়, এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি ।
যেমন:
- বউদিদি > বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা,
- ছোটদাদা > ছোটদা ইত্যাদি।

• মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- প্রীতি > পিরীতি ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
এরূপ -
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৫৮.
'ফ' বর্ণ উচ্চারিত হয়-
  1. ক) দন্ত থেকে
  2. খ) তালু থেকে
  3. গ) ওষ্ঠ্য থেকে
  4. ঘ) মূর্ধা থেকে
সঠিক উত্তর:
গ) ওষ্ঠ্য থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওষ্ঠ্য থেকে
ব্যাখ্যা
'ফ' বর্ণ উচ্চারিত হয়- ওষ্ঠ্য থেকে।

• উচ্চারণ স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনি সাত প্রকার। যথা-

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি: জিভের মূল বা গোড়ালি উঁচু করে কোমল তালুর সামনের বা মাঝের সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা জিহ্বামূলীয় ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ক, খ, গ, ঘ ঙ/ং।
তালব্য ধ্বনি: জিভের পাতা উঁচু করে অর্থতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন - চ, ছ, জ, ঝ ঞ, শ।
দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি: সমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি উপর পাটি দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা একটু উল্টো করে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হ তাদের দন্তমূলায় মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ট ঠ ড ঢ ণ ড় ঢ়।
দন্ত ধ্বনি: উপর পাটি দাঁতের সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের দন্ত ধ্বনি বলে। যেমন- ত, থ, দ, ধ।
ওষ্ঠ্য ধ্বনি: উপরের ঠোঁটের সঙ্গে নিচের ঠোঁট লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন— প, ফ, ব, ভ, ম।
দন্তমূলীয় ধ্বনি: উপর পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের দন্তমূলীয় ধ্বনি বলে। যেমন - ন, য, র, ল, স।
কন্ঠ্য ধ্বনি: স্বরযন্ত্রের ভেতরে যে দুট স্বরতন্ত্রী আছে তাদের সংকোচনের সাহায্যে বায়ুপথ সংকীর্ণ করে, কিন্তু একেবারে বন্ধ না করে যে ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাকে কন্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- হ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,৩৫৯.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. তস্কর
  2. গোষ্পদ
  3. মার্তণ্ড
  4. আশ্চর্য
সঠিক উত্তর:
মার্তণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্তণ্ড
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ - মার্তণ্ড।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৩৬০.
‘হ’-এর ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) অঘোষ ধ্বনি
  2. খ) ঘোষ ধ্বনি
  3. গ) কণ্ঠনালীয় ধ্বনি
  4. ঘ) শিস ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিস ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিস ধ্বনি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময় অনেকক্ষণ শ্বাস ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয় বলে শিস ধ্বনি বলা হয়।
শিস ধ্বনি - ২ টি।
যথা : স, শ। 

‘হ’ ক্ষেত্রবিশেষে ঘোষ ও অঘোষ হয়।
কণ্ঠনালীয় ধ্বনি ১ টি। সেটি হলো ‘হ’।
সুতরাং, 'হ' শিস ধ্বনি নয়।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।
৩,৩৬১.
বাংলা বর্ণমালায় 'ফলা' নয় কোনটি?
  1. ঝ-ফলা
  2. ল-ফলা
  3. ম-ফলা
  4. ব-ফলা
সঠিক উত্তর:
ঝ-ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝ-ফলা
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় 'ফলা' নয়- ঝ-ফলা। 

• অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ, ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা ৬টি।
যেমন: ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র-ফলা, ল-ফলা

রেফ: 'র'-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ।
যেমন- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উল্লেখ্য,
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কারবর্ণ বলে। স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩,৩৬২.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. হ্ + ণ = হ্ন
  2. ঞ্ + জ = জ্ঞ
  3. হ্ + ম = হ্ম
  4. ক্ + ষ = ম্ম
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম = হ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম = হ্ম
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত (ক্ + ত), 
ক্ম (ক্ + ম), 
ক্ষ (ক্ + ষ), 
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স), 
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ), 
ঙ্গ (ঙ্ + গ), 
জ্ঞ (জ্ + ঞ), 
ঞ্চ (ঞ্ + চ), 
ঞ্জ (ঞ্ + জ), 
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ), 
হৃ (হ্ + ঋ), 
হ্ন (হ্ + ন), 
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৩৬৩.
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয় - কোন নিয়মে এ সন্ধি হয়েছে?
  1. আ + উ = ও
  2. অ + উ = ও
  3. ও + উ = ও
  4. অ + উ = অউ
সঠিক উত্তর:
অ + উ = ও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ + উ = ও
ব্যাখ্যা
• সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল।
- যেমন 'আমি এখন চা আনতে যাই' বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র অনুযায়ী 'আম্যেখন চানতে যাই' বলা যায় না।
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ-প্রত্যয় দিয়ে এবং সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

• সন্ধি তিন প্রকার:
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জনসন্ধি ও
- বিসর্গসন্ধি।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন—
- অ + উ = ও - সূর্য + উদয় = সূর্যোদয় ৷
- আ + উ = ও - যথা + উচিত = যথোচিত।
- আ + ঊ = ও - গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

এরূপ – নীলোৎপল, চলোর্মি, মহোৎসব, নবোঢ়া, ফলোদয়, যথোপযুক্ত, হিতোপদেশ, পরোপকার, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৬৪.
'সংবাদ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ -
  1. সং + বাদ
  2. সমং + বাদ
  3. সম্ + বাদ
  4. সব + বাদ 
সঠিক উত্তর:
সম্ + বাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + বাদ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) সম্ + বাদ

ম্-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়। যেমন-
সম্ + যম = সংযম,
সম্ + বাদ = সংবাদ,
সম্+ রক্ষণ = সংরক্ষণ,
সম্ + লাপ = সংলাপ
সম্ + শয় = সংশয়
সম্ + সার = সংসার,
সম্ + হার = সংহার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৩,৩৬৫.
নিচের কোন শব্দটিতে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি আছে?
  1. ক) খাওয়া
  2. খ) টাকা
  3. গ) লাল
  4. ঘ) পাকা
সঠিক উত্তর:
গ) লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লাল
ব্যাখ্যা
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ।
৩,৩৬৬.
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে?
  1. ছকবাঁধা 
  2. ছককাটা 
  3. ছকড়া 
  4. ছক্কা
সঠিক উত্তর:
ছককাটা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছককাটা 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে শব্দগুলো বর্ণানুক্রমিক (অর্থাৎ অ-আ-ই-ঈ-উ-ঊ... এই ক্রমে) সাজানো হয়। বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ,
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ।

এখানে প্রশ্নের শব্দগুলোর প্রথম অক্ষর সবই ছ, তাই পরবর্তী অক্ষর দেখতে হবে:
• তাই সঠিকক্রম হবে: ছককাটা → ছকড়া → ছকবাঁধা → ছক্কা
• সঠিক উত্তর: খ) ছককাটা (অর্থাৎ সবচেয়ে আগে এটিই বসবে)।

বাংলা বর্ণমালার ক্রম অনুযায়ী: চ < দ < য় < ল। সুতরাং সঠিক ক্রম হলো: নিরবচ্ছিন্ন → নিরবদ্য → নিরবয়ব → নিরবলম্ব। 
অভিধানে নিরবচ্ছিন্ন শব্দটি সবচেয়ে আগে আসবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৩৬৭.
অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. কবাট > কপাট
  2. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. ফাল্গুন > ফাগুন
  4. ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
ব্যাখ্যা
• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিস্ > দিশা;
- পোখত্ > পোক্ত;
- বেঞ্চ > বেঞ্চি;
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৬৮.
‘তদ্রুপ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) তৎ+রূপ
  2. খ) তদ+রূপ
  3. গ) ত+দ্রুপ
  4. ঘ) তদ+রুপ
সঠিক উত্তর:
ক) তৎ+রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৎ+রূপ
ব্যাখ্যা
• ‘তদ্রুপ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - তৎ+রূপ = তদ্রুপ

এরুপ কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে:
- উৎ+ ঘাটন = উদ্ঘাটন
- উৎ+ যোগ = উদ্যেগ
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
- তৎ +মধ্যে = তন্মধ্যে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৩৬৯.
ঘোষবৎ স্বরধ্বনির (অ, আ, ই, ঈ, উ) প্রভাবে ‘ক’ পরিবর্তিত হয়ে কোনটিতে পরিণত হয়?
  1. ক) খ
  2. খ) গ
  3. গ) চ
  4. ঘ) ম
সঠিক উত্তর:
খ) গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ
ব্যাখ্যা

ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব।
যেমন – দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত, সৎ + উপায় = সদুপায়।

স্বরধ্বনিগুলাে ঘােষবৎ হয়। এখানে ঘােষবৎ স্বরধ্বনির (ক, চ, ট, ত, প) প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘােষ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ঘােষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৩,৩৭০.
‘বিমুগ্ধ’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বিমহ্ + ত
  2. বিমুহ্ + ত
  3. বি + মুগ্ধ
  4. বিমু + গ্ধ
সঠিক উত্তর:
বিমুহ্ + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমুহ্ + ত
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে:
আগে ধ্, ভ্ কিংবা হ্ থাকলে এবং পরে ত থাকলে সন্ধিতে (ধ্ + ত) স্থলে দ্ধ, (ভ্ + ত) স্থলে ব্ধ এবং (হ্ + ত) স্থলে গ্ধ হয়।
যেমন:
- বুধ্ + ত = বুদ্ধ,
- লভ্ + ত = লব্ধ,
- বিমুহ্ + ত = বিমুগ্ধ,
- দুহ্ + ত = দুগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৭১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অগ্রনায়ক
  2. দুর্নিবার
  3. ত্রিনয়ন
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• সবগুলোই শব্দের বানান শুদ্ধ।

•  সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।

যেমন:
- ত্রিনয়ন,
- সর্বনাম,
- দুর্নীতি,
- দুর্নাম,
- দুর্নিবার,
- পরনিন্দা,
-অগ্রনায়ক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৩৭২.
উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা কম হলে সেগুলোকে কী বলে?
  1. মহাপ্রাণ
  2. অল্পপ্রাণ 
  3. ঘোষ
  4. অঘোষ
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ 
ব্যাখ্যা

ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
- ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু প্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
- ক) অল্পপ্রাণ।
- খ) মহাপ্রাণ।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। 
যেমন:
- প,
- ব,
- ত,
- দ,
- স,
- ট,
- ড,
- ড়,
- চ,
- জ,
- শ,
- ক,
- গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি। যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্র ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১। ঘোষ - যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ধ্বনি।
২। অঘোষ - যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষধ্বনি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৬ সংস্করণ)।

৩,৩৭৩.
স্বরধ্বনির অনুনাসিকতা বোঝাতে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৩,৩৭৪.
কোন বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ‘ন’ কখনো ‘ণ’ হয় না?
  1. ত-বর্গ
  2. চ-বর্গ
  3. প-বর্গ
  4. ক-বর্গ
সঠিক উত্তর:
ত-বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত-বর্গ
ব্যাখ্যা
• ত-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত 'ন' - কখনো 'ণ' হয় না।

• ণ-ত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। 
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৭৫.
'শিরঃপীড়া' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি ?
  1. শিরঃ + পীড়াঃ
  2. শিরঃ + পীড়া
  3. শির + পীড়াঃ
  4. শিরো + পীড়া
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + পীড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + পীড়া
ব্যাখ্যা

শিরঃপীড়া শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- শিরঃ + পীড়া।
- এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ হয় না। যেমন-
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া – শিরঃপীড়া।

• আবার, যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্থ কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃত থাকে অথবা লোপ পায়। যেমন-
- নিঃ + স্তব্ধ = নিঃস্তব্ধ কিংবা নিস্তব্ধ।
- দুঃস্থ = দুঃস্থ কিংবা দুস্থ।
- নিঃ+ স্পন্দ = নিঃস্পন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৩,৩৭৬.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ক্র
  2. জ্ঝ
  3. ক্ষ্ম
  4. ঙ্ক
সঠিক উত্তর:
জ্ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঝ
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ঝ, ঞ্ঝ, ড্ড, ন্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্ল, ন্স, ব্জ, ব্দ, ম্ফ, স্ক, র. ল্ট, ন্ড, ল্প, ফ্ল, শ্চ,শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্খ, স্ট, স্ফ ইত্যাদি।
• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্স (ক্+স), ক্র (ক্‌ +র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ+ম), ক্স (ক্+স), ও (অ+উ), গ্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ +ক), ঙ্গ (ঙ+গ), জ্ঞ (জ+ঞ), ঞ্চ (ঞ +চ), ঞ্ছ(ঞ+ছ), ঞ্জ (ঞ+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত),ত্থ (ত্+থ), ত্র (ত+র), ণ্ড (প্+ঢ), দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্‌+ধ), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভ্‌+র), ভ্রূ (ভ্‌+র+উ), রু (র+উ), রূ (র,+ঊ),  ষ্ণ (ষ্‌+ণ), হু (হ+উ), হৃ (হ্‌+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্‌+ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩,৩৭৭.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক্রন্দণ
  2. কঙ্কণ
  3. পিণাক
  4. বেণু
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দণ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - ক্রন্দণ

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন:
- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন

অন্যদিকে,
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৭৮.
মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ কোনটি?
  1. স 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনি:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, , ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- ত, , দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- ন, , ল, দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৭৯.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উৎ+ চ্ছ্বাস = উচ্ছ্বাস
  2. দুঃ + থ = দুস্থ
  3. পিতা + ইচ্ছা = পিত্রিচ্ছা
  4. শমঃ+ কা = শঙ্কা
সঠিক উত্তর:
দুঃ + থ = দুস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + থ = দুস্থ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ হলো:
- দুঃ + থ = দুস্থ।

অন্যদিকে,
• ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমন:
- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।

• ঋ ধ্বনির পর যদি ঋ না থেকে অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ঋ এর জায়গায় র হয়। র ফা পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- পিতৃ + অর্থ = পিত্রর্থ।
- পিতৃ + ইচ্ছা = পিত্রিচ্ছা।

• ব্যঞ্জন সন্ধিসাধিত শব্দ হচ্ছে ‘শঙ্কা’
সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ: শম্ + কা = শঙ্কা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৩৮০.
'অহরহ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অহ + রহ
  2. অহঃ + রহ
  3. অহঃ + অহ
  4. অহ + রহঃ 
সঠিক উত্তর:
অহঃ + অহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহঃ + অহ
ব্যাখ্যা

• 'অহরহ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: অহঃ + অহ = অহরহ।

------------------------------
• বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- অহঃ + নিশা= অহর্নিশ,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৮১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. পাষাণ
  2. জিনিষ
  3. পোষ্ট
  4. ভূমিষাৎ
সঠিক উত্তর:
পাষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাষাণ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - পাষাণ। 

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন -ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

৮. বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

৯. সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৮২.
কোনটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র
  2. সতী + ইশ = সতীশ
  3. পরি + ইক্ষা = পরীক্ষা
  4. অতি + ঈত = অতীত
সঠিক উত্তর:
সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র
ব্যাখ্যা

• সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র

সন্ধির নিয়ম:

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- অতি + ইত = অতীত,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- সতী + ঈশ = সতীশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৮৩.
”জনৈক” শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1.  জন + ঐক 
  2.  জন্য + ওক 
  3.  জনৈ + এক 
  4.  জন + এক 
সঠিক উত্তর:
 জন + এক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 জন + এক 
ব্যাখ্যা

”জনৈক” শব্দের সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ =  জন + এক ।

• কিছু গুরত্বপূর্ণ  স্বরসন্ধির উদাহরণ:
মরু + উদ্যান = মরূদ্যান;
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা;
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
মহা + ঋষি = মহর্ষি;
শীত + ঋত = শীতার্ত;
জন + এক = জনৈক;
বন + ওষধি বনৌষধি;
প্রতি + এক = প্রত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

৩,৩৮৪.
বর্ণ হচ্ছে- 
  1. শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ
  2. একসঙ্গে উচ্চারিত ধ্বনিগুচ্ছ
  3. ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক
  4. ধ্বনির শ্রুতিগ্রাহ্য রূপ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি নির্দেশক প্রতীক
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি ও বর্ণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা। 

• বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি। 
• মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ্ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
• অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি ( খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
• পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৮৫.
'চক্র > চক্ক' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত?
  1. পরাগত সমীভবন
  2. ব্যঞ্জন দ্বিত্ব
  3. প্রগত সমীভবন
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎপরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

যেমন:
- চক্র > চক্ক, 
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৩৮৬.
এক প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি সমষ্টিকে কী বলে? 
  1. বর্ণ
  2. অক্ষর
  3. শব্দ
  4. লিপি
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
ব্যাখ্যা

• অক্ষর:
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা),
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)।
​ 
উদাহরণ:  
​'বাংলাদেশ' শব্দে ৩ টি অক্ষর রয়েছে (বাং + লা + দেশ)।
অক্ষর নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে দুটো বিষয় লক্ষণীয় - যতগুলো কার আছে এবং যতগুলো এক প্রয়াসে উচ্চারিত শব্দাবলী তার সমষ্টি হবে অক্ষর সংখ্যা।

​উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৮৭.
'জরুরি > জরুলি' এখানে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন পরিলক্ষিত?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. বিষমীভবন
  3. অভিশ্রুতি
  4. সমীভবন
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- জরুরি > জরুলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
আটমেসে > আটাসে, কুটুম্ব > কুটুম, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
করিয়া > কইর‍্যা > করে, দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

• সমীভবন বা সমীকরণ:
শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত অসম ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সুবিধার্থে একে অপরের প্রভাবে সঙ্গতি বা সাম্য লাভকরলে, তাকে বলা হয় সমীভবন বা সমীকরণ।
যেমন:
জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,৩৮৮.
"তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়" এই নিয়ম অনুসারে 'ষ' হয়েছে কোন শব্দে?
  1. ভূষণ
  2. বর্ষণ
  3. সৃষ্টি
  4. চক্ষুষ্মান
সঠিক উত্তর:
বর্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ষণ
ব্যাখ্যা
'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
• 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম ইত্যাদি।

তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ষড়যন্ত্র, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,৩৮৯.
পরাশ্রয়ী বর্ণযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. স্বত্ব
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. পাঁচালি
  4. পল্লব
সঠিক উত্তর:
পাঁচালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচালি
ব্যাখ্যা

• পরাশ্রয়ী বর্ণ:
যেসব বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এবং বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়, সে বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।

• বাংলা বর্ণমালায় তিনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ রয়েছে।
যথা- ং, ঃ ও ঁ।

এই তিনটি বর্ণের বৈশিষ্ট্য:
- এরা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় না।
- অন্য ধ্বনির সাথে মিলিত হয়ে উচ্চারিত হয়।
- এদের কোনো কার বা ফলা নেই।

প্রশ্নের অপশনগুলো:
ক) স্বত্ব - কোনো পরাশ্রয়ী বর্ণ নেই। 
খ) আকাঙ্ক্ষা - কোনো পরাশ্রয়ী বর্ণ নেই।
গ) পাঁচালি - এতে ঁ (চন্দ্রবিন্দু) রয়েছে। এখানে ( ঁএকটি পরাশ্রয়ী বর্ণ।)
ঘ) পল্লব - কোনো পরাশ্রয়ী বর্ণ নেই।

সুতরাং সঠিক উত্তর - গ) পাঁচালি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

৩,৩৯০.
'চতুষ্কোণ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. চতু + কোণ
  2. চার + কোণ
  3. চতুর + কোণ
  4. চতুঃ + কোণ
সঠিক উত্তর:
চতুঃ + কোণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুঃ + কোণ
ব্যাখ্যা
•'চতুষ্কোণ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ চতুঃ + কোণ।

সূত্র:
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন-
- অ এর পরে বিসর্গঃ + ক = স্ + ক; নমঃ + কার = নমস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গঃ + খ = স্ + খ; পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গঃ + ক = ষ + ক; নিঃ + কর = নিষ্কর।
- উ এর পরে বিসর্গঃ + ক = ষ + ক; দুঃ + কর = দুষ্কর।

এরূপ পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৩৯১.
'যথোচিত, সন্তাপ' শব্দগুলো কোন প্রক্রিয়ায় গঠিত?
  1. সমাস
  2. সন্ধি
  3. উপসর্গ
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
ব্যাখ্যা

যথা+উচিত = যথোচিত। সম্ + তাপ = সন্তাপ।
যা সন্ধির নিয়মে গঠিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৩,৩৯২.
শব্দের মৌলিক একক কী?
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) বর্ণ
  3. গ) অক্ষর
  4. ঘ) কার
সঠিক উত্তর:
খ) বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বর্ণ
ব্যাখ্যা

মানুষের বাগযন্ত্র ও নিশ্বাসবায়ুর সমবায়ে উচ্চারিত আওয়াজকে 'ধ্বনি' বলে। অন্যদিকে, ধ্বনি নির্দেশক সাংকেতিক চিহ্নকে বলে বর্ণ।
- ভাষার মূল উপাদান - ধ্বনি
- শব্দের ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি
- শব্দের মৌলিক একক - বর্ণ

উৎসঃ
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৩,৩৯৩.
কোনটি অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ?
  1. ধোবা > ধোপা
  2. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. শাক > শাগ
  4. ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
ব্যাখ্যা
• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিস্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ,
- ধোবা > ধোপা,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৯৪.
কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধি সাধিত নয়?
  1. অন্তর্গত
  2. মনস্কাম
  3. অত্যাচার
  4. তিরোধান
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অত্যাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যাচার
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধি:
বিসর্গের সাথে স্বর বা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। বিসর্গ সন্ধি দুই ভাগে বিভক্ত যথা-
 ১. র্-জাত বিসর্গ।
 ২. স্-জাত বিসর্গ।

সংস্কৃত ভাষার নিয়মে সংস্কৃত শব্দের শেষে ‘স্’ বা ‘র্’ থাকলে ‘স’ বা ‘র’ লোপ পেয়ে বিসর্গ সন্ধি হয়।
যেমন:
• র্-জাত বিসর্গ: নির্>নিঃ; দুর্>দুঃ, অন্তর্>অন্তঃ ইত্যাদি।
• স্-জাত বিসর্গ: সরস্>সরঃ; মনস্>মনঃ; পুরস্>পুরঃ ইত্যাদি।

বিসর্গ সন্ধির বৈশিষ্ট্য হলো সন্ধির ফলে র্-জাত বিসর্গের ‘র’ এবং স্-জাত বিসর্গের ‘স’ অনেক ক্ষেত্রে লোপ পেয়ে আবার ‘র’ এবং ‘স’ ফিরে আসে।
- র্-জাত বিসর্গ সন্ধি হলো: অন্তঃ + গত = অন্তর্গত।
- স্-জাত বিসর্গ সন্ধি হলো: মনঃ + কাম =  মনস্কাম।

• কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
- ভাঃ + কর = ভাস্কর,
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ, 
- তিরঃ + ধান = তিরোধান, 
- তপঃ + বন= তপোবন
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সূত্র: ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় য হয়।
যেমন: 
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৩৯৫.
নিচের কোন বানানে স্বভাবতই মূর্ধণ্য (ণ) হয়?
  1. ক) হরিণ
  2. খ) কারণ
  3. গ) অর্পণ
  4. ঘ) বাণ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাণ
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়। যেমনঃ বাণিজ্য, লবণ, মণ, বাণ, পণ্য, গুণ, পণ, কল্যাণ ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩,৩৯৬.
'ট' বর্গের বর্ণসমূহের উচ্চারণ স্থান কোনটি?
  1. মূর্ধন্য
  2. দন্ত্য
  3. ওষ্ঠ্য
  4. তালব্য
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা
• ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি স্পর্শধ্বনি।
- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 

উচ্চারণ স্থান- কণ্ঠ্য; ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
উচ্চারণ স্থান- তালব্য; চ বর্গীয় বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
উচ্চারণ স্থান- মূর্ধন্য; ট বর্গীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
উচ্চারণ স্থান- দন্ত্য; ত বর্গীয় বর্ণ: ত, থ, দ, ধ, ন।
উচ্চারণ স্থান- ওষ্ঠ্য; প বর্গীয় বর্ণ: প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৯৭.
কোন বানান-জোড় শুদ্ধ?
  1. কঙ্কণ, ভাণ
  2. কোণ, গনিকা
  3. গৌণ, মানিক্য
  4. স্থাণু, চিক্কন
সঠিক উত্তর:
কঙ্কণ, ভাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্কণ, ভাণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান-জোড়: কঙ্কণ, ভাণ

ণ-ত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়।
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৩৯৮.
কোনটি ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. নাতি + বৌ = নাতবৌ
  2. মা + এর = মায়ের
  3. কুড়ি + এক = কুড়িক
  4. রুপা + আলি = রুপালি
সঠিক উত্তর:
নাতি + বৌ = নাতবৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাতি + বৌ = নাতবৌ
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

যেমন:
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- উৎ + চারণ = উচ্চারণ, 
- চার + টি = চাট্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- স্বরসন্ধির উদাহরণ:
রুপা + আলি = রুপালি, 
কুড়ি + এক = কুড়িক, 
মা + এর = মায়ের।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৩৯৯.
বর্গের প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম ধ্বনিগুলো কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. অঘোষ ধ্বনি
  2. মহাপ্রাণ ধ্বনি
  3. ঘোষ ধ্বনি
  4. অল্পপ্রাণ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ধ্বনি
ব্যাখ্যা

অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
- প্রত্যেক বর্গের প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম ধ্বনির উচ্চারণকালে বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে বলে এদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে। যেমন: ক, গ, ঙ, চ, জ, ঞ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- প্রত্যেক বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ ধ্বনির উচ্চারণকালে বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে বলে এদের মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে। যেমন: খ, ঘ; ছ, ঝ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৩,৪০০.
কোনটি মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন ধ্বনি?
  1. ক) শ
  2. খ) জ
  3. গ) ঢ়
  4. ঘ) ড়
সঠিক উত্তর:
গ) ঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢ়
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি, যথা:
প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।