বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৩০ / ৬৩ · ২,৯০১৩,০০০ / ৬,৩২৭

২,৯০১.
উচ্চারণের একক (Unit)- কে কী বলা হয়?
  1. অক্ষর
  2. অনুসর্গ
  3. উপসর্গ
  4. ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের এক (Unit)- কে বলা হয় অক্ষর।

• অক্ষর (Syllable):

- বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার। 
যথা:
১. মুক্তাক্ষর ও
২. বদ্ধাক্ষর।

• মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন:
- ‘ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?’
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর। 

- মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে। 
যেমন: অপরিচিত। 

• বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে। 
যেমন : 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
[এখানে (সোম্) (বার্) (দিন্) (রাত) (হর্) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর।] 

বদ্ধাক্ষর ( - ) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯০২.
‘ক্ষুৎপিপাসা’ সন্ধির গঠন কোনটি?
  1. ক্ষুদ্ + পিপাসা
  2. ক্ষুত্ + পিপাসা
  3. ক্ষুধ্ + পিপাসা
  4. ক্ষুৎ + পিপাসা
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ্ + পিপাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ্ + পিপাসা
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে দ্‌ বা ধ্‌ এবং পরে ক্‌, প্‌, স্‌- ধ্বনি থাকলে দ্‌, বা ধ্‌ এর স্থানে ৎ হয়।
যেমন:
- তদ্‌ + কাল = তৎকাল।
- তদ্‌ + পর = তৎপর।
- তদ্‌ + সম = তৎসম।
- ক্ষুধ্‌ + কাতর = ক্ষুৎকাতর।
- ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯০৩.
'কথোপকথন' শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. ব্যঞ্জন সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):  
- সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
- প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তরায়। 

• অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- নব + উঢ়া = নবোঢ়া;
- সর্ব+ ঊর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব ইত্যাদি।

• আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- যথা + উচিত = যথোচিত;
- কথা + উপকথন = কথোপকথন;
- যথা + উপযুক্ত = যথোপযুক্ত ইত্যাদি।

• আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- গঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি;
- মহা + উর্মি = মহোের্মি;
- মহা + ঊর্ধ্ব = মহোর্ধ্ব ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯০৪.
কোনটি মূর্ধন্য ব্যঞ্জন ধ্বনি?
  1. ঢ়
সঠিক উত্তর:
ঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢ়
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
কম্পিত ব্যঞ্জন:
- বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
 যেমন: 
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, , ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৯০৫.
"মারি > মাইর" কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. ধ্বনি-বিপর্যয়
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৯০৬.
নিচের কোনটি অল্পপ্রণ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ক) ঢ
  2. খ) খ
  3. গ) ভ
  4. ঘ) ড়
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ড়
ব্যাখ্যা
• ‘ড়’ হচ্ছে অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি।

• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, , থ, ধ, ঠ, , ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯০৭.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. দ্ম
  2. ন্ধ
  3. ভ্র
  4. ট্ট
সঠিক উত্তর:
দ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্ম
ব্যাখ্যা
• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: দ্ম ( দ্ + ম)।

• অন্যদিকে,
- অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ন্ধ= ন্ + ধ,
ভ্র = ভ্ + র
ট্ট = ট্ + ট।

উল্লেখ্য,
• যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২,৯০৮.
কোনটি কণ্ঠ তালব্য ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• এ, ঐ - কণ্ঠ তালব্য ধ্বনি।

অন্যদিকে, 
- স্বরবর্ণের মধ্যে তালব্য বর্ণ হচ্ছে - ই, ঈ।
- ব্যঞ্জণ বর্ণে তালব্য ধ্বনি - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
• উ, ঊ - ওষ্ঠ্য ধ্বনি।
• ও, ঔ - কণ্ঠৌষ্ঠ ধ্বনি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯০৯.
'দিগ্‌নির্ণয়' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দিক + নির্নয়
  2. দিগ্ + নির্ণায়
  3. দিক্ + নির্ণয়
  4. দিগ্‌ + নির্ণয়
সঠিক উত্তর:
দিক্ + নির্ণয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিক্ + নির্ণয়
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• ঙ, ঞ, ণ, ন, ম পরে থাকলে পূর্ববর্তী অঘোষ অল্পপ্রাণ স্পর্শধ্বনি সেই বর্গীয় ঘোষ স্পর্শধ্বনি কিংবা নাসিক্যধ্বনি হয়।
যথা:
- দিক্ + নির্ণয় = দিগ্‌নির্ণয়,
- তৎ + মধ্যে = তদ্‌মধ্যে।

লক্ষণীয়:
- এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণত নাসিক্য ব্যঞ্জনই বেশি প্রচলিত।
যেমন:
- বাক্ + ময় = বাঙ্ময়,
- তৎ + ময় = তন্ময়,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- জগৎ + নাথ = জগন্নাথ ইত্যাদি।
• এরূপ উন্নয়ন, উন্নীত, চিন্ময় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯১০.
নিচের কোনটি সম্প্রকর্ষের উদাহরণ?
  1. আজি > আজ
  2. চারি > চাইর
  3. তুলা > তুলো
  4. বিলাতি > বিলিতি
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
ব্যাখ্যা
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন - বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বৰ্ণ ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

অন্যদিকে,
- চারি > চাইর - অপিনিহিতি। 
- তুলা > তুলো - স্বরসঙ্গতি। 
- বিলাতি > বিলিতি - স্বরসঙ্গতি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৯১১.
নিচের কোনটি স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ?
  1. ক) উচ্ছেদ
  2. খ) মরূদ্যান
  3. গ) বিপচ্চয়
  4. ঘ) সংহার
সঠিক উত্তর:
খ) মরূদ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মরূদ্যান
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• সূত্র: উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ-কার হয়।
স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ - মরু + উদ্যান = মরূদ্যান। 

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম সাধিত সন্ধি হচ্ছে:
- সম্ + হার = সংহার।
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯১২.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণের গঠন কোনটি?
  1. ত্‌ + ত = ক্ত
  2. হ্‌ + ম = ক্ষ
  3. ক্ + স = ক্স
  4. ঙ্‌ + চ = ঞ্চ
সঠিক উত্তর:
ক্ + স = ক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + স = ক্স
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণের গঠন- ক্ + স = ক্স। 

-----------------
সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না, এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই
রকম। যথা:
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ণ্ড, ন্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ্ফ, শ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ক, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত = (ক্ + ত),
ক্ম = (ক্ + ম),
ক্ষ = (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম = (ক্ + ষ + ম),
ক্স = (ক্ + স),
গু = (গ্‌ + উ),
গ্ধ = (গ্‌ + ধ),
ঙ্গ = (ঙ্‌ + গ),
জ্ঞ = (জ্‌ + ঞ),
ঞ্চ = (ঞ্‌ + চ),
ঞ্জ = (ঞ্‌ + জ),
ষ্ণ = (ষ্‌ + ণ)
হু = (হ্ + উ),
হৃ = (হ্‌  + ঋ),
হ্ন = (হ্ + ন),
হ্ম = (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২,৯১৩.
ণত্ব ও ষত্ব বিধান বাংলা ব্যাকরণে কোন অংশের আলোচ্য বিষয়? 
  1. রূপতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়: 
- প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে। 
যেমন- 
১. ধ্বনি (Sound), 
২. শব্দ (Word), 
৩. বাক্য (Sentence) এবং 
৪. অর্থ (Meaning)। 

- সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়। 
যেমন- 
১. ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology), 
২. শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology), 
৩. বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax) এবং 
৪. অর্থতত্ত্ব (Semantics)। 
- এ ছাড়া অভিধানতত্ত্ব (Lexicography), ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়। 

ধ্বনিতত্ত্ব: 
- মানুষের বাক-প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালী, মুখবিবর, জিহ্বা, আল-জিহ্বা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে ‘ধ্বনি’ বলা হয়। 
- বাক-প্রত্যঙ্গজাত ধ্বনির সূক্ষ্মতম মৌলিক অংশ বা একককে (Unit) ধ্বনিমূল (phoneme) বলা হয়। 

বর্ণ: 
- বাক-প্রত্যঙ্গজাত প্রত্যেকটি ধ্বনি এককের জন্য প্রত্যেক ভাষারই লেখার সময় এক একটি প্রতীক বা চিহ্ন (Symbol) ব্যবহৃত হয়। 
- বাংলায় এ প্রতীক বা চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ (Letter)। 
যেমন-বাংলায় ‘বক’ কথাটির প্রথম ধ্বনিটির প্রতীকরূপে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ব’, ইংরেজিতে সে ধ্বনির জন্য ব্যবহৃত হয় B বা b (বি), আবার আরবি, ফারসি ও উর্দুতে একই ধ্বনির জন্য ব্যবহৃত হয় (বে)। 
- ধ্বনির উচ্চারণপ্রণালী, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিন্যাস, ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৪.
"লাফ > ফাল" - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. বিষমীভবন
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিকসা > রিস্কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৯১৫.
'গ্রাম > গেরাম' কিসের উদাহরণ?
  1. আদি স্বরাগম
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই  - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯১৬.
নতুন শব্দ গঠনের জন্য কোন ধ্বনিতত্ত্বের প্রয়োজন হয়? 
  1. ণত্ব বিধান 
  2. সন্ধি 
  3. ষত্ব বিধান 
  4. ধ্বনির পরিবর্তন 
সঠিক উত্তর:
সন্ধি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি 
ব্যাখ্যা

'সন্ধি':
- 'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন বা সংযোগ।
- দ্রুত উচ্চারণের ফলে পরস্পর সন্নিহিত দুইটি ধ্বনির মিলনে যে ধ্বনিগত পরিবর্তন হয় তাকেই সন্ধি বলে।
- খুব কাছাকাছি দুটি ধ্বনি দ্রুত উচ্চারণের ফলে কখনো একটি ধ্বনিতে পরিণত হয়;
- কখনো একটি ধ্বনির লোপ হয় বা একটির রূপান্তর হয়;
- এবং কখনো দুটি ধ্বনিই রূপান্তরিত হয়ে নতুন ধ্বনি তৈরি করে, যেমন:
• ধ্বনির মিলন বা রূপান্তর: রবি ইন্দ্র = রবীন্দ্র।
• ধ্বনি-লোপ: চন্দ্র + আলয় = চন্দ্রালয়।
• পূর্বধ্বনির বদল: সত্ + য = সত্য়।
• পরধ্বনির বদল: রাজ্ + নী = রাজ্ঞী। 

• সন্ধির প্রয়োজনীয়তা:
- ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
- নতুন শব্দ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
- শব্দের আকার সংক্ষিপ্ত করতে সাহায্য করে।
- ভাষাকে সুন্দর ও সাবলীল করে।
- উচ্চারণ সহজ করে।
- উচ্চারণের সৌন্দর্য, শ্রুতিমাধুর্য ও ভাষার প্রাঞ্জলতা বাড়ায়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯১৭.
'দুস্থ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি ?
  1. দুঃ + থ 
  2. দুঃ + থঃ
  3. দু + থঃ
  4. দু + থ 
সঠিক উত্তর:
দুঃ + থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + থ 
ব্যাখ্যা

দুস্থ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- দুঃ + থ।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ ( ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ বা ছ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ, ট বা ঠ থাকলে ষ ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন-
- দুঃ + তর = দুস্তর।
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়।
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯১৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) অঘ্রান
  2. খ) ঝরনা
  3. গ) কল্যাণ
  4. ঘ) গভর্ণর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গভর্ণর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গভর্ণর
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন। 

এখানে 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'। 

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২,৯১৯.
সন্ধির ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. সন্ধিতে প্রত্যেক শব্দের অর্থ বজায় থাকে।
  2. সন্ধিতে ধ্বনি লোপ পায় না।
  3. সন্ধিতে পদ থেকে বিভক্তি লোপ পায়না, সংকুচিত হয়।
  4. সন্ধিতে শব্দগুলো ক্রম পরিবর্তিত না হয়ে যুক্ত হয়।
সঠিক উত্তর:
সন্ধিতে ধ্বনি লোপ পায় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধিতে ধ্বনি লোপ পায় না।
ব্যাখ্যা
• পাশাপাশি ব্যবহৃত দুটি ধ্বনির বা বর্ণের মিলনকে সন্ধি বলে। যেমন- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত, পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।
সন্ধির বৈশিষ্ট্য:
- সন্ধিতে প্রত্যেক শব্দের অর্থ বজায় থাকে।
- সন্ধির মিলন মূলত উচ্চারণগত বা ধ্বনির মিলন।
- সন্ধিতে পদ থেকে বিভক্তি লোপ পায় না, সংকুচিত হয়।
- সন্ধিতে শব্দগুলো ক্রম পরিবর্তিত না হয়ে যুক্ত হয়।
- সন্ধি দুই বর্ণের মধ্যে যোগ চিহ্ন (+) ব্যবহার করে দেখাতে হয়।
- সন্ধিতে কয়েকটি পদ মিলে একাকার হয়ে যায়। যেমন- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত।
- সন্ধিতে ধ্বনি লোপ পায়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৯২০.
নিচের কোন সন্ধি-বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ক) নৈ+অক = নায়ক
  2. খ) মহা+ঋর্ষি =মহর্ষি
  3. গ) জন+অক = জনৈক
  4. ঘ) নৌ+বিক = নাবিক
সঠিক উত্তর:
ক) নৈ+অক = নায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নৈ+অক = নায়ক
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে: [ঐ+অন্য স্বর = আয়্+স্বর] নৈ+অক = নায়ক

অন্যান্য গুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
[অ/আ+ঋ = অর্] মহা+ঋষি = মহর্ষি।
[ঔ+অন্য স্বর = আব্+স্বর] নৌ+ইক = নাবিক।
[অ/আ+এ/ঐ =ঐ] জন+এক = জনৈক।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯২১.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. ক) পরিষ্কার
  2. খ) ষড়ানন
  3. গ) সংস্কার
  4. ঘ) ষোড়শ
  5. ঙ) পরিষ্কৃত
সঠিক উত্তর:
ঘ) ষোড়শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ষোড়শ
ব্যাখ্যা
কতকগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়। যেমনঃ আশ্চর্য, গোষ্পদ, বনস্পতি, ষোড়শ, একাদশ ইত্যাদি।
২,৯২২.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র
  2. বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর
  3. ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য
  4. শরৎ + ইন্দু = শরদিন্দু
সঠিক উত্তর:
হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
এরূপ কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো-
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নিয়ম অনুসারে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ-
- বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর। 
- ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য।  
- শরৎ + ইন্দু = শরদিন্দু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯২৩.
'হ্ন' যুক্তবর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. হ্ + ম
  2. ঞ্ + হ
  3. হ্ + ন
  4. ন্ + হ
সঠিক উত্তর:
হ্ + ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ন
ব্যাখ্যা

• 'হ্ন' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে - হ্ + ন = হ্ন

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

২,৯২৪.
কোনটি জিহ্বামূলীয় বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

উচ্চারণস্থান অনুসারে বর্ণের নাম:

যেমন:
কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ: অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, , হ।
তালব্য বর্ণ: ই, , চ, ছ, জ, ঝ, , য, য়, শ।
ওষ্ঠ্য বর্ণ: উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম।
মূর্ধন্য বর্ণ: , ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২,৯২৫.
নিচের কোনটি ঘোষ অল্পপ্রাণ বর্ণ?
  1. ফ 
  2. ড 
সঠিক উত্তর:
ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড 
ব্যাখ্যা

• 'ড’ - ঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫)।

২,৯২৬.
নিচের কোনটি অনুনাসিক ধ্বনি?
  1. ক) ম
  2. খ) ং
  3. গ) প
  4. ঘ) খ
সঠিক উত্তর:
ক) ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ম
ব্যাখ্যা
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম— এগুলোর উচ্চারণকালে মুখবিবরের বাতাস নাক দিয়ে বের হয়ে বলে এগুলোকে নাসিক্য বা অনুনাসিকধ্বনি বলে৷
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷
২,৯২৭.
কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি?
  1. উৎ + স্থান = উত্থান
  2. গো + পদ = গোষ্পদ
  3. আ+ চর্য = আশ্চর্য
  4. তৎ + কর = তস্কর
সঠিক উত্তর:
উৎ + স্থান = উত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + স্থান = উত্থান
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো সন্ধি:

যেমন:
সম্ + কৃত = সংস্কৃত,
উৎ + স্থান = উত্থান
পরি + কার = পরিষ্কার, 
সম্ + কার = সংস্কার,
উৎ + স্থাপন = উত্থাপন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:
তৎ + কর = তস্কর,
আ+ চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোষ্পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯২৮.
কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. উত্থান
  2. উদ্ভব
  3. উদ্যম
  4. উদ্যোগ
সঠিক উত্তর:
উত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্থান
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি - উত্থান

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুসারে,
ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- ক্+দ = গ্‌ + দ ⇒ বাক্ + দান = বাগদান।
- ট্ + য = ড়্‌ + য ⇒ ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র।
- ত্‌ + ঘ = দ্‌+ ঘ ⇒ উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন।
- ত্ + য = দ্‌ + য ⇒ উৎ + যোগ = উদ্যোগ; উৎ + যম = উদ্যম; উৎ + ভব = উদ্ভব
- ত্ + ব = দ্‌ + ব ⇒ উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন।
- ত্ + র = দ্‌ + র ⇒ তৎ + রূপ = তদ্রূপ।

এরূপ - দিগ্বিজয়, উদ্‌গার, উদ্‌গিরণ, বাগ্‌জাল, সদ্‌গুরু, বাগ্দে‌বী ইত্যাদি।

বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্‌ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯২৯.
নিচের কোনটি ঘৃষ্টধ্বনি নয়?
  1. ক) ঝ
  2. খ) চ
  3. গ) জ
  4. ঘ) ল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ল
ব্যাখ্যা
ঘৃষ্টধ্বনি উচ্চারণে ক্রমান্বয়ে দুটি প্রক্রিয়া চলে। প্রথমে দুটি উচ্চারক বাতাসের প্রবাহকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়, এরপর বাতাসে চাপে সেই বাধা ধীরে ধীরে অপসারিত হয়ে শ্রবণযোগ্য ঘর্ষণধ্বনি উৎপন্ন করে।
অর্থাৎ ঘৃষ্টধ্বনিগুলো আসলে স্পৃষ্ট ও উষ্মধ্বনির সম্মিলন। স্পৃষ্ট + উষ্ম = ঘৃষ্ট।

বাংলায় ঘৃষ্ট ধ্বনি ৪ টি।
যথা : চ, ছ, জ, ঝ।
প্রচলিত ব্যাকরণে প্রাচীন সংস্কৃতের স্মৃতি থেকে স্পৃষ্ট তালব্য ব্যঞ্জন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 

পক্ষান্তরে ‘ল’ হলে পার্শ্বিক ধ্বনি।

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।
২,৯৩০.
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে ______ বলে।
  1. ক) তাড়িত ব্যঞ্জন
  2. খ) নাসিক্য ব্যঞ্জন
  3. গ) উষ্ম ব্যঞ্জন
  4. ঘ) কম্পিত ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ক) তাড়িত ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তাড়িত ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
২,৯৩১.
বাংলা ভাষায় বর্গীয় বর্ণ কয়টি?
  1. ৫০টি
  2. ৫টি
  3. ২৫টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
২৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫টি
ব্যাখ্যা
• ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে স্পর্শ বা বর্গীয় বর্ণ বলে।

যথা:
ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
চ বর্গীয় বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
ট বর্গীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
ত বর্গীয় বর্ণ: ত, থ, দ, ধ, ন।
প বর্গীয় বর্ণ: প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৩২.
নিচের কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) নিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত
  2. খ) বাক + ঈশ = বাগীশ
  3. গ) বুধ্ + ত = বুদ্ধ
  4. ঘ) তনু + ঈ = তন্বী
সঠিক উত্তর:
ঘ) তনু + ঈ = তন্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তনু + ঈ = তন্বী
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে। যেমন - অতি + অন্ত = অত্যন্ত, তনু + ঈ = তন্বী, উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ।
ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে বা পরে স্বর অথবা ব্যঞ্জন যে কোন ধ্বনি সংযুক্ত হয়ে যে সন্ধি হয় তা ব্যঞ্জন সন্ধি। যেমন - দিক + অন্ত = দিগন্ত, বাক + ঈশ = বাগীশ। এরূপ ণিজন্ত, বুদ্ধ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী
২,৯৩৩.
নিচের কোন সন্ধি-বিচ্ছেদটি নিয়মানুসারে হয় নি?
  1. ষট্‌ + আনন = ষড়ানন
  2. কথা + ছলে = কথাচ্ছলে
  3. গো + এষণা = গবেষণা
  4. অন্য + অন্য = অন্যান্য
  5. দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত
সঠিক উত্তর:
অন্য + অন্য = অন্যান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্য + অন্য = অন্যান্য
ব্যাখ্যা
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়মানুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
যেমন -
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়)
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়)
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়)
- অন্য + অন্য = অন্যান্য (অনন্য নয়)
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন ইত্যাদি

উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই।
২,৯৩৪.
'তদবধি' এর সন্ধিবিচ্ছেদ -
  1. তদ্‌ + অবধি
  2. তৎ + অবধি
  3. তদ্‌ + বধি
  4. তৎ + বধি
সঠিক উত্তর:
তৎ + অবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + অবধি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্‌, ড্ (ড়), দ্‌, ব্‌ হয়।
- পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- ক্ + অ = গ; দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
- চ্ + অ = জ; ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
- ট্ + আ = ড়; ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- ত্ + অ = দ; তৎ + অবধি = তদবধি।
- প্ + অ= ব; সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৯৩৫.
ঋ'এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়- নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. বর্ষণ
  2. কৃষক
  3. চিকীর্ষা
  4. ষড়ঋতু
সঠিক উত্তর:
কৃষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষক
ব্যাখ্যা

• ষ-এর ব্যবহারের নিয়ম:
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৩. ঋ'এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ ইত্যাদি।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

'ষ' এর ব্যবহার প্রযোজ্য নয় যেসব ক্ষেত্রে-
বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৯৩৬.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনি
  1. অ্যা
সঠিক উত্তর:
অ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২,৯৩৭.
"মাছুুয়া > মেছো" কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. অন্তর্হতি
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৩৮.
কোন শব্দে 'ম' বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব এবং সামান্য অনুনাসিক হয়েছে?
  1. শ্মশান
  2. যুগ্ম
  3. জন্ম
  4. আত্মীয়
সঠিক উত্তর:
আত্মীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মীয়
ব্যাখ্যা

ম উচ্চারণ:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়,
- যেমন: শ্মশান [শশাঁন্‌], স্মরণ [শরোঁন্]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়, যেমন- আত্মীয় [আত্‌তীঁয়], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে, যেমন- যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫)।

২,৯৩৯.
“মাথায় ” শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) মাথা + আয়
  2. খ) মাথা + য়
  3. গ) মাথা + অয়
  4. ঘ) মাথা + এ
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাথা + এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাথা + এ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের শেষে স্বরধ্বনি এবং পরপদের প্রথমে এ-ধ্বনি থাকলে সন্ধিতে এ-ধ্বনি বিকৃত হয়ে য় অথবা য়ে হয় এবং পরপদের প্রথমে আ-ধ্বনি থাকলে তা বিকৃত হয়ে য়া হয়। যেমন- আমা + এ = আমায়; অনুরূপভাবে, মাথা + এ = মাথায়। বাবু + আনা = বাবুয়ানা।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ
২,৯৪০.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. পাষন্ড
  2. পাসন্ড
  3. পাষণ্ড
  4. পাসণ্ড
সঠিক উত্তর:
পাষণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাষণ্ড
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - পাষণ্ড

ণ-ত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন - ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড, পাষণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৪১.
উচ্চারণের স্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলােকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৫ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৫ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের স্থানভেদে ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাগ:
- ধ্বনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুখবিবরে উচ্চারণের মূল উপকরণ বা উচ্চারক জিহবা ও ওষ্ঠ।
- আর উচ্চারণের স্থান হলাে কণ্ঠ বা জিহ্বামূল, অগ্রতাল, মূর্ধা বা পশ্চাৎ দন্তমূল, দন্ত বা অগ্র দন্তমূল, ওষ্ঠ্য ইত্যাদি।

- উচ্চারণের স্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলােকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়:
যেমন:
১) কণ্ঠ্য বা জিহ্বামুলীয়,
২) তালব্য বা অগ্রতালুজাত,
৩) মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয়,
৪) দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয় এবং
৫) ওষ্ঠ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৯৪২.
বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ কয়টি?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. দুইটি
  4. তিনটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে : ঐ এবং ঔ।
উদাহরণ : কৈ, বৌ।

- বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।

- অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনাে বর্ণ নেই।

- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।

- বাংলা বর্ণমালায় ‘অ্যা’ ধ্বনিজ্ঞাপক কোনাে বর্ণ নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪৩.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. দিগন্ত
  2. প্রেষণ
  3. বাগাড়ম্বর
  4. বাগীশ
সঠিক উত্তর:
প্রেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেষণ
ব্যাখ্যা

প্রেষণ একটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। 

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি 
সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র,
গো+অক্ষ = গবাক্ষ,
প্র+এষণ = প্রেষণ,
কুল+অটা = কুলটা,
পর+পর = পরস্পর,
অন্য + অন্য = অন্যান্য।

• সন্ধির নিয়ম:
ক, চ, ট, ত, প থাকলে এবং তাদের পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ, জ, ড (ড়), দ, ব হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• ক্+অ = গ+অ:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।

• ক্ + আ = গ + আ:
- বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর।

• ক্ + ঈ = গ + ঈ:
- বাক্ + ঈশ = বাগীশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২,৯৪৪.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি কোনটি?
  1. বাক + দান = বাগদান
  2. জল + ওকা = জলৌকা
  3. সম + তান = সন্তান
  4. তদ + কাল = তৎকাল
  5. গো + পদ = গোষ্পদ
সঠিক উত্তর:
গো + পদ = গোষ্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গো + পদ = গোষ্পদ
ব্যাখ্যা
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।
যেমনঃ আ + চর্য = আশ্চর্য, গো + পদ = গোষ্পদ, তৎ + কর = তস্কর, বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি ইত্যাদি।
২,৯৪৫.
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ কয়টি?
  1. ১৩ টি
  2. ১০ টি
  3. ১২ টি
  4. ১১ টি
সঠিক উত্তর:
১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ টি
ব্যাখ্যা
• বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪৬.
বাংলাভাষার বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি?
  1. ৭ টি
  2. ৮ টি
  3. ১০ টি
  4. ১২ টি
সঠিক উত্তর:
১০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ টি
ব্যাখ্যা
• বর্ণ:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ।
- এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- ধ্বনির বিভাজন অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- স্বরধ্বনির প্রতীক স্বরবর্ণ।
- ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক ব্যঞ্জনবর্ণ।

• মাত্রাহীন বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা - ১০টি।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা - ৪টি।
যথা: এ, ঐ, ও, ঔ।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা - ৬টি।
যথা: ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ।

উল্লেখ্য,
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০টি।
- বাংলা বর্ণমালায় ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যা ৩৯টি।
- বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের সংখ্যা ১১টি।
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৮টি।
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৪৭.
কোনটি ঘৃষ্টধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ঘৃষ্টধ্বনি:
- , ছ, জ, ঝ-এই ধ্বনিগুলোর উচ্চারণকালে জিহ্বা বা তালুর স্পর্শের পর পরই উভয়ের মধ্যে বায়ুর ঘর্ষণজাত ধ্বনি সৃষ্টি হয় বলে এগুলোকে ঘৃষ্টধ্বনি বলে।

অন্যদিকে,
ওষ্ঠ্যধ্বনি:
- যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান ওষ্ঠ, তাদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে। উ, ঊ, প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্যধ্বনি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৯৪৮.
উচ্চ -মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি কোনটি? 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

 উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও  নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৯৪৯.
'সন্ন্যাস' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) শন্‌ন্যাশ্‌ 
  2. খ) শোন্‌ন্যাশ্‌ 
  3. গ) শোন্‌নাশ্‌ 
  4. ঘ) শন্‌নাশ্‌ 
সঠিক উত্তর:
খ) শোন্‌ন্যাশ্‌ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শোন্‌ন্যাশ্‌ 
ব্যাখ্যা
'সন্ন্যাস' এর সঠিক উচ্চারণ =শোন্‌ন্যাশ্‌ 

সন্ন্যাস(বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: সংসার ত্যাগ করে ঈশ্বরচিন্তায় নিমগ্ন থাকার আশ্রম, চতুরাশ্রমের শেষটি। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২,৯৫০.
'বাংলাদেশ' শব্দে কয়টি অক্ষর?
  1. তিন
  2. চার
  3. পাঁচ
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
অক্ষর:
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা), 
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)। 

- 'বাংলাদেশ' শব্দে ৩ টি অক্ষর রয়েছে (বাং + লা + দেশ)। 

• অক্ষর নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে দুটো বিষয় লক্ষণীয় - যতগুলো কার আছে এবং যতগুলো এক প্রয়াসে উচ্চারিত শব্দাবলী তার সমষ্টি হবে অক্ষর সংখ্যা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯৫১.
কোন শব্দটি 'ই + ই = ঈ' নিয়মে সাধিত সন্ধি?
  1. গিরীশ
  2. অতীত
  3. অধীশ্বর
  4. শচীন্দ্র
সঠিক উত্তর:
অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতীত
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়।
বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

• সূত্র: ঈ + ই = ঈ:
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র,
- যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র।

• সূত্র: ঈ + ঈ = ঈ:
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- শ্রী + ঈশ = শ্রীশ,
- মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর,
- ফণী + ঈশ্বর = ফণীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ২য় পত্র ,এস এসসি প্রোগাম,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৫২.
নাসিক্য ব্যঞ্জন রয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. লাল 
  2. বাড়ি
  3. হাঙর 
  4. শত 
সঠিক উত্তর:
হাঙর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঙর 
ব্যাখ্যা

• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে। মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

অন্যদিকে,
• উম্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলোকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে। সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ। উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলোর মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শ্বাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয়।

• তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূ্র্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'বাড়ি, মূঢ়' প্রভৃতি শব্দের 'ড়, ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি

• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে। লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৯৫৩.
নিচের কোনটি 'সংবৃত' স্বরধ্বনি?
  1. ক) [ই], [উ]
  2. খ) [এ], [ও]
  3. গ) [অ্যা] [অ]
  4. ঘ) [আ]
সঠিক উত্তর:
ক) [ই], [উ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) [ই], [উ]
ব্যাখ্যা
[ই], [উ]- 'সংবৃত' স্বরধ্বনি। 

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।
উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২,৯৫৪.
ষ-ত্ব বিধান অনুসারে কোন বানানটি সঠিক? 
  1. মূমুর্ষু
  2. মুমূর্ষু
  3. মূমুর্ষ
  4. মুমূর্ষ
সঠিক উত্তর:
মুমূর্ষু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুমূর্ষু
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। 
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। 
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। 
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে। 

‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম: 
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। 
যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি। 

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। 
যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি। 

৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। 
যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি। 

৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। 
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। 

৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। 
যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ। 

৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৫৫.
'মহেশ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহ + ঈশ
  2. মহা + ইশ
  3. মহ + ইশ
  4. মহা + ঈশ
সঠিক উত্তর:
মহা + ঈশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + ঈশ
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। 
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

২,৯৫৬.
নাসিক্য ব্যঞ্জন নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• নাসিক্য ব্যঞ্জন নয়- হ।
- ‘হ’ উষ্ম ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

• উষ্ম ব্যঞ্জন:

যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ)- এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

----------------
• নাসিক্য ব্যঞ্জন:

যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।
২,৯৫৭.
'অজ্ঞ' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ঞ্ + ছ
  2. ঞ্ + জ
  3. জ + জ
  4. জ্ + ঞ
সঠিক উত্তর:
জ্ + ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ + ঞ
ব্যাখ্যা
• 'অজ্ঞ' শব্দের যুক্তবর্ণ 'জ্ঞ' সঠিক রূপ  = জ্ + ঞ।

• আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- ষ্ণ = ষ + ণ,
- ঞ্চ = ঞ্ + চ,
- ঞ্ছ =  ঞ্ + ছ,
- ঞ্জ = ঞ্ + জ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯।
২,৯৫৮.
শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তৎ + শক্তি = তচ্ছক্তি
  2. দুর্ + যােগ = দুর্যোগ
  3. প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ
  4. পৎ + হতি = পদ্ধতি
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ: প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

-------------
• সন্ধি:
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।

• নিয়ম:
ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় য হয়।
যেমন:
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

• নিয়ম:
ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমন:
- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।
- তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি।
- পদ্ + হতি = পদ্ধতি।
- তদ্ + হিত = তদ্ধিত।

• নিয়ম:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন-
দুঃ + যােগ = দুর্যোগ,
নিঃ + আকার = নিরাকার।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
২,৯৫৯.
'তন্মাত্র' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তৎ + মাত্র
  2. তন্‌ + মাত্র
  3. তদ্‌ + মাত্র
  4. তধ্‌ + মাত্র
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + মাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + মাত্র
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন্‌' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্‌' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।

যেমন:
- উৎ + নীত = উন্নীত,
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
- তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
- উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৯৬০.
বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি কোনটি?
  1. উত্থাপন
  2. উদ্‌গিরণ
  3. উদ্‌ঘাটন
  4. উদ্বন্ধন
সঠিক উত্তর:
উত্থাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্থাপন
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি - উত্থাপন

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুসারে,
ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- ক্+দ = গ্‌ + দ ⇒ বাক্ + দান = বাগদান।
- ট্ + য = ড়্‌ + য ⇒ ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র।
- ত্‌ + ঘ = দ্‌+ ঘ ⇒ উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন
- ত্ + য= দ্‌ + য ⇒ উৎ + যোগ = উদ্যোগ।
- ত্ + ব = দ্‌ + ব ⇒ উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
- ত্ + র = দ্‌ + র ⇒ তৎ + রূপ = তদ্রূপ।

এরূপ - দিগ্বিজয়, উদ্যম, উদ্‌গার, উদ্‌গিরণ, উদ্ভব, বাগ্‌জাল, সদ্‌গুরু, বাগ্দে‌বী ইত্যাদি।

বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্‌ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৬১.
'উন্নতি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উন + নতি
  2. উৎ + নতি
  3. উদ + নতি
  4. উধ + নতি
সঠিক উত্তর:
উৎ + নতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + নতি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯৬২.
'অনুষঙ্গ' শব্দে যে নিয়মে 'ষ' হয়?
  1. 'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
  2. 'ন' এর পরে বসেছে বলে
  3. 'ষঙ্‌' মূলরূপ থেকে উৎসারিত হওয়ায়
  4. স্বভাবত 'ষ' বসে
সঠিক উত্তর:
'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৬৩.
'অপরাহ্ন' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন দুটি বর্ণ যুক্ত হয়েছে?
  1. ন + ণ
  2. ন + হ
  3. হ + ন
  4. হ + ণ
সঠিক উত্তর:
হ + ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ + ন
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যুক্ত হওয়া বর্ণ গুলোকে দেখে কখনো সহজে  চেনা যায়, কখনো যায় না।
যুক্তবর্ণ দুই রকমের হয়,
- স্বচ্ছ,
- অস্বচ্ছ।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
ঙ্ + গ = ঙ্গ,
ন্ + ধ = ন্ধ,
হ্ + উ = হু,
হ্ + ঋ = হৃ,
হ্ + ন = হ্ন,
হ + ণ = হ্ণ,
হ্ + ম = হ্ম,
ণ্ + ড = ণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৬৪.
বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩০টি
  3. ২৫টি
  4. ৩২টি
সঠিক উত্তর:
২৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫টি
ব্যাখ্যা
মৌলিকতা অনুযায়ী, স্বরধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মৌলিক স্বরধ্বনি, 
২. যৌগিক স্বরধ্বনি। 

• মৌলিক স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বর বলে। বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন:
ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।
বাংলা বর্ণমালায় 'অ্যা' ধ্বনিজ্ঞাপক কোনো বর্ণ নেই।

• যৌগিক স্বরধ্বনি:
একাধিক স্বরধ্বনি মিলে যে ধ্বনি সৃষ্টি হয় তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বিস্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫টি। এর মধ্যে মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে।
যথা:
ও + ই = ঐ,
ও+ উ = ঔ।

বাকি ২৩টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই।

অর্থ্যাৎ, 
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ২৫। কিন্তু বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দু টো বর্ণ রয়েছে। যথা : ঐ এবং ঔ। অন্য যৌগিক স্বরের প্রতীক স্বরূপ কোন বর্ণ নেই। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৬৫.
নিচের কোন শব্দে তাড়নজাত ধ্বনি রয়েছে?
  1. ফলা
  2. ঘোষ
  3. মূঢ়
  4. বন
সঠিক উত্তর:
মূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূঢ়
ব্যাখ্যা
• তাড়নজাত ব্যঞ্জনধ্বনি:
তাড়িত ব্যঞ্জন যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
বাংলায় তাড়নজাত ধ্বনি: ড় এবং ঢ়
 
যেমন- 
বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্য অপশন:
ক) ফলা - কোনো তাড়নজাত ধ্বনি নেই;
খ) ঘোষ - কোনো তাড়নজাত ধ্বনি নেই;
ঘ) বন - কোনো তাড়নজাত ধ্বনি নেই।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি,  (২০২১ সংস্করণ)।
২,৯৬৬.
যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. ম্‌ + হ = হ্ম
  2. ক্‌ + ষ্‌ + ন = ক্ষ্ম
  3. ক্ + স = ক্স
  4. জ্‌ + ঞ = ঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ক্ + স = ক্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + স = ক্স
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন- ক্ + স = ক্স। 

অশুদ্ধ যুক্তবর্ণগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• হ্‌ + ম = হ্ম।
• ক্‌ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম।
• ঞ্‌ + জ = ঞ্জ।

-----------------------
সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না, এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম। যথা:
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ট, ণ্ঠ, ন্ড, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত = (ক্ + ত), 
ক্ম = (ক্ + ম), 
ক্ষ = (ক্ + ষ), 
ক্ষ্ম = (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স = (ক্ + স), 
গু = (গ্ + উ),
গ্ধ = (গ্ + ধ), 
ঙ্গ = (ঙ্ + গ), 
ণ্ড = (ণ্ + ড),
জ্ঞ = (জ + ঞ), 
ঞ্চ = (ঞ্ + চ), 
ঞ্জ = (ঞ্ + জ), 
ষ্ণ = (ষ্ + ণ)
হু = (হ্ + উ), 
হৃ = (হ + ঋ), 
হ্ন = (হ্ + ন), 
হ্ম = (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি( ২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৬৭.
স্বভাবত মূর্ধন্য-ষ হয়নি কোনটিতে?
  1. ক) কলুষ
  2. খ) পাষাণ
  3. গ) বিষম
  4. ঘ) কোষ
  5. ঙ) ঔষধ
সঠিক উত্তর:
গ) বিষম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিষম
ব্যাখ্যা
কলুষ, পাষাণ, কোষ, ঔষধ শব্দগুলোতে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়েছে। এরূপ আরো কিছু শব্দ হলো মানুষ, আষাঢ়, দ্বেষ, রোষ, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি। বিষম শব্দটি ই-কারান্ত উপযোগে গঠিত হওয়ায় এতে ষ হয়েছে। এরূপ অভিষেক, প্রতিষ্ঠান, প্রতিষেধক। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৯৬৮.
বাংলা অনুনাসিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কতটি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি 
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৭টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি 
ব্যাখ্যা

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: 
যথা- 
[ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি: 
যথা- 
[ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

২,৯৬৯.
"গবাদি" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গব + আদি
  2. গোঃ + আদি
  3. গৌ + আদি
  4. গো + আদি
সঠিক উত্তর:
গো + আদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গো + আদি
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৭০.
‘সন্মার্গ’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সদ্ + মার্গ
  2. সৎ + মার্গ
  3. সন্ + মার্গ
  4. সম্ + মার্গ
সঠিক উত্তর:
সৎ + মার্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ + মার্গ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯৭১.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী শুদ্ধ?
  1. ভবিষ্যৎ
  2. খোষ 
  3. অগ্নিষাৎ 
  4. নকষা 
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
- ‘ভবিষ্যৎ’ শব্দটিতে ষ-ত্ব বিধান সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
- নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো শব্দে ‘অ’ বা ‘আ’-এর ভিন্ন স্বরধ্বনি এবং ক বা র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ থাকে, তবে সেটি মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়ে লেখা হয়।
- ‘ভবিষ্যৎ’ শব্দে দেখা যায়, ‘ভ’ এর সঙ্গে ‘ই’ কার যুক্ত আছে, যা ‘অ/আ’ থেকে ভিন্ন স্বরধ্বনি, এবং প্রত্যয়ের পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে ‘স’ এর স্থলে ‘ষ’ বসানো হয়েছে।
 --------------------------
অন্যদিকে,
• খোষ বানানটি অশুদ্ধ। 
- শুদ্ধ বানান- খোশ। 
- খোশ ফারসি শব্দ। 
- ফারসি শব্দের পরে 'ষ' ব্যবহার করা হয়না। 

• সাৎ প্রত্যয়যুক্ত শব্দে 'ষ' হয়না। তাই অগ্নিষাৎ শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী অশুদ্ধ। 

• নকশা আরবি শব্দ। আরবি শব্দের পরে 'ষ' হয়না। তাই নকষা শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী অশুদ্ধ। 

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৯৭২.
ভয়ার্ত শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কি?
  1. ভয় + আর্ত
  2. ভয় + ঋত
  3. ভয়া + রত
  4. ভয় + ঋ
সঠিক উত্তর:
ভয় + ঋত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভয় + ঋত
ব্যাখ্যা

- অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির পরে ঋত শব্দের ঋ থাকলে সন্ধিতে আর্ হয়।
- বানানে আর্ - এর আ-কার আগের বেঞ্জনেযুক্ত এবং ঋ - ধ্বনি রেফ হয়ে ত এর মাথায় বসে।
- সংক্ষেপে:
- অ+ ঋত= আর্ত
- আ+ ঋত = আর্ত 
- উদাহরণ 
- দূঃখ + ঋত= দূঃখার্ত
- শীত+ ঋত = শীতার্ত
- ভয় + ঋত = ভয়ার্ত 
- তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত 
- পিপাসা + ঋত = পিপাসার্ত

[উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ]

২,৯৭৩.
কোনটি ঘৃষ্ট ধ্বনি?
  1. জ্
সঠিক উত্তর:
জ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্
ব্যাখ্যা

ঘৃষ্ট ধ্বনি:
- এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য দুই ধরনের-বাতাস প্রথমে স্পৃষ্ট ধ্বনির মতো মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয় কিন্তু দ্রুত বের না হয়ে কিছুটা বিলম্বে ঘর্ষণ ধ্বনি তৈরি করে বের হয়।
সে-হিসাবে এ জাতীয় ধ্বনির উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য হলো: স্পৃষ্ট + ঘর্ষণজাত = ঘৃষ্ট। ইংরেজি child, jam শব্দের ch, j এ জাতীয় ধ্বনি। বাংলা কাচ, মাছ, কাজ, মাঝ, শব্দের [চ্, ছ্, জ্, ঝ্ ] ঘৃষ্ট ধ্বনি।

অন্যদিকে,
- শ উষ্ম ধ্বনি।
- ম নাসিক্য ধ্বনি।
- ঘ স্পৃষ্ট ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।

২,৯৭৪.
"প্রাগুক্ত" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রা + গুক্ত
  2. প্রাগ্ + উক্ত
  3. প্রাক্ + উক্ত
  4. প্রা + উক্ত
সঠিক উত্তর:
প্রাক্ + উক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাক্ + উক্ত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- বর্গের প্রথম ব্যঞ্জনের (ক্ / চ্‌  / ট্‌ / ত / প) পরে স্বরধনি থাকলে বর্গের প্রথম ব্যঞ্জনস্থলে তৃতীয় ব্যঞ্জন (গ্‌ / জ্ / ড্/ দ্‌ /ব্‌) হয়।

যেমন:
→ দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
→ বাক্ + অর্থ = বাগর্থ, 
→ প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত
→ বাক্ + ঈশ = বাগীশ, 
→ ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত, 
→ অচ্ + অন্তা = অজন্তা,
→ ষট্ + আনন = ষড়ানন, 
→ ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৯৭৫.
ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে কী বলে?
  1. একাক্ষর
  2. যুক্তাক্ষর
  3. বদ্ধাক্ষর
  4. মুক্তাক্ষর
সঠিক উত্তর:
বদ্ধাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদ্ধাক্ষর
ব্যাখ্যা

 অক্ষর (Syllable):
- বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার। 
যথা:
১. মুক্তাক্ষর ও
২. বদ্ধাক্ষর।
• মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন:
- ‘ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?’
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর। 

- মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে। 
যেমন: অপরিচিত। 

• বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে। 
যেমন : 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
[এখানে (সোম্) (বার্) (দিন্) (রাত) (হর্) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর।] 

বদ্ধাক্ষর ( - ) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৯৭৬.
স্বরধ্বনির অর্ধ-সংবৃত উচ্চারণ ঘটেছে নিচের কোন বর্ণে?
  1. ক) [উ]
  2. খ) [এ]
  3. গ) [ই]
  4. ঘ) [অ্যা]
সঠিক উত্তর:
খ) [এ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) [এ]
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট কম খেলে;
• বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৯৭৭.
'কাক > কাগ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  2. ঘোষীভবন
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘোষীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোষীভবন
ব্যাখ্যা
• 'কাক > কাগ'- ঘোষীভবন এর উদাহরণ। 

• ঘোষীভবন:
অঘোষধ্বনি ঘোষধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে ঘোষীভবন বলে। 
যেমন : 
কাক > কাগ, 
শাক > শাগ,  
শালা > হালা।

উল্লেখ্য, 
এটি পরাগত সমীভবন বা স্বরসঙ্গতির উদাহরণ নয়। কারণ, সমীভবনে এক ধ্বনিতে রূপ লাভ করে। এগুলো বরং এক ধরনের ব্যঞ্জন বিকৃতি। যে কারণে অনেক গ্রন্থে আলাদা করে এগুলো দেওয়া নেই। 

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়, এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি ।
যেমন: বউদিদি > বউদি , বড়দাদা > বড়দা, ছোটদাদা > ছোটদা ইত্যাদি।

• মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
 যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম, 
- প্রীতি > পিরীতি ইত্যাদি।

ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। 
যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৯৭৮.
'মহৈশ্বর্য' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী হবে?
  1. মহা + ঐশর্য
  2. মহা + ঐশ্বর্য
  3. মহ + ঐশ্বর্য
  4. মহা + ঔশ্বর্য
সঠিক উত্তর:
মহা + ঐশ্বর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + ঐশ্বর্য
ব্যাখ্যা
• মহা + ঔশ্বর্য =মহৈশ্বর্য; স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• সূত্র:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + এ = ঐ;  জন + এক = জনৈক।
- আ + এ = ঐ; সদা + এব = সদৈব।
- অ + ঐ = ঐ; মত + ঐক্য = মতৈক্য।
- আ + ঐ = ঐ; মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৯৭৯.
'এ' বর্ণের বিকৃত উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. একটা
  2. দেশ
  3. এক্‌টি
  4. এলো
সঠিক উত্তর:
একটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটা
ব্যাখ্যা

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি। এ একটি মৌলিক স্বরধ্বনি।
- ‘এ’ বর্ণের দুটি উচ্চারণ রয়েছে। যথা: [এ] এবং [অ্যা]। 

• সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো 'অ্যা' উচ্চারিত হয়। 
- 'এ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [এক্‌টি], দেশ [দেশ্‌], এলো [এলো]।
- 'এ' বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাকটা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি,  নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)। 

২,৯৮০.
নিচের কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. শরীর > শরীল
  2. রিক্সা > রিস্কা
  3. বিলাতি > বিলিতি
  4. ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
রিক্সা > রিস্কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিক্সা > রিস্কা
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন-ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি।

অনুরূপ - পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

অন্যদিকে,
---------------
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন: শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৯৮১.
'মনস্তাপ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনস্‌ + তাপ
  2. মনঃ + তাপ
  3. মনোঃ + তাপ
  4. মনোস্‌ + তাপ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মনঃ + তাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃ + তাপ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে, অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যেমন:
- ততঃ + অধিক= ততোধিক।
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ,
- তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৯৮২.
'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে কী বলে?
  1. পরাশ্রয়ী বর্ণ
  2. ওষ্ঠ্য বর্ণ
  3. শিশধ্বনি
  4. স্পর্শ বর্ণ
সঠিক উত্তর:
স্পর্শ বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পর্শ বর্ণ
ব্যাখ্যা
• ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে স্পর্শ বা বর্গীয় বর্ণ বলে।
যথা:
ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
চ বর্গীয় বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
ট বর্গীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
ত বর্গীয় বর্ণ: ত, থ, দ, ধ, ন।
প বর্গীয় বর্ণ: প, ফ, ব, ভ, ম।

অন্যদিকে,
• পরাশ্রয়ী বর্ণ:
যেসব বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এবং বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়, সে বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।
- বাংলা বর্ণমালায় তিনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ রয়েছে।
যথা- ৎ, ং ও ঁ।

• প- বর্গীয় ধ্বনি: প, ফ, ব, ভ, ম এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে।
- তাই এদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি এবং প্রতীকগুলোকে ওষ্ঠ্য বর্ণ বলা হয়।

• শ, ষ, স, হ - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৮৩.
'স্বাধীনতা' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সু + অধীনতা
  2. স + অধীনতা
  3. শ + অধীনতা
  4. স্ব + অধীনতা
সঠিক উত্তর:
স্ব + অধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব + অধীনতা
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - স্ব + অধীনতা। 

সন্ধির নিয়ম:
- উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমন-
অনু + এষণ = অন্বেষণ,
তনু + ঈ = তন্বী,
অনু + ইত = অন্বিত,
স্ব + অধীন = স্বাধীন,
স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা,
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৮৪.
কোনটি দন্ত ব্যঞ্জনধ্বনি নয়?
  1. ক) ত
  2. খ) থ
  3. গ) দ
  4. ঘ) ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ন
ব্যাখ্যা

দন্ত্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

২,৯৮৫.
নিচের কোনটি অনুবর্ণ নয়?
  1. সংখ্যাবর্ণ
  2. ফলা
  3. রেফ
  4. বর্ণসংক্ষেপ
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যাবর্ণ
ব্যাখ্যা
• অনুবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। যেমন ফলা (এ), ল-ফলা ()। ন-ফলা (,), ব-ফলা (৫), ম-ফলা (J), য-ফলা (্য),
• রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ ()।
• বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ। যেমন ড, দ, ন, ম, স ইত্যাদি। এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
২,৯৮৬.
উচ্চারণ স্থান অনুসারে 'র' কেমন ধ্বনি?
  1. কণ্ঠ্য
  2. তালব্য
  3. মূর্ধন্য
  4. দন্ত্য
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য
ব্যাখ্যা

• উচ্চারণের স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ। 
সে হিসেবে, অপশন অনুসারে গ্রহণযোগ্য উত্তর- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২,৯৮৭.
‘ইতস্তত’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ইত + তত
  2. ইতঃ + তত
  3. ইতস্ + তত
  4. ইত + স্তত
সঠিক উত্তর:
ইতঃ + তত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতঃ + তত
ব্যাখ্যা
'ইতস্তত' শব্দটি বিসর্গ সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ।
- 'ইতস্তত' শব্দের সঠিক বিচ্ছেদ : ইতঃ + তত। 

কয়েকটি বিসর্গ সন্ধি-
তিরঃ + ধান = তিরোধান,
মনঃ + রম = মনোরম,
মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
মনঃ + হর = মনোহর,
তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৯৮৮.
'নীরস' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. নিঃ + রস
  2. নী + রস
  3. নীঃ + রস
  4. নি + রস
সঠিক উত্তর:
নিঃ + রস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + রস
ব্যাখ্যা
• 'নীরস' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ: 'নিঃ + রস'। 

• 'নীরস' এর সন্ধি বিচ্ছেদের নিয়ম: 
ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সাথে ‘র’ এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববতী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়।
যেমন-
নিঃ + রস = নীরস।
নিঃ + রব = নীরব, 
নিঃ + রোগ = নীরোগ,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২,৯৮৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করতেন কেন? 
  1. এ-কার মাত্রা যুক্ত বলে
  2. 'এ' মাত্রাহীন বর্ণ বলে 
  3. 'এ' উচ্চারণ বোঝাতে
  4. 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে।

• ‘এ’ এবং 'অ্যা' - এর উচ্চারণ:
‘এ’- কারের উচ্চারণ ভিন্নতা (‘এ’ এবং 'অ্যা') নির্দেশকল্পে রবীন্দ্রনাথ ‘এ’-কারের মুদ্রণে মাত্রাযুক্ত ও মাত্রাহীন ব্যবহার প্রচলন করেন; যা নির্দেশ করে ধ্বনির পার্থক্য—‘এ’ এবং ‘অ্যা’। শব্দের শুরুতে মাত্রাহীন ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ সংবৃত হয়, অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে ‘এ’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘মেলা’ শব্দটি যদি মাত্রাহীন ‘এ’-কার দিয়ে লেখা হয়, তার উচ্চারণ হবে স্বাভাবিক ‘মেলা’, যা ‘গেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। এ ধরনের উচ্চারণের আরও উদাহরণ হলো: দেবী, সেরা, সেই, বেদনা, মেয়ে, গেলা, জেলা ইত্যাদি।

অপরদিকে, শব্দের আদিতে মাত্রাযুক্ত ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ বিবৃত হয়, অর্থাৎ ‘অ্যা’ ধ্বনি প্রকাশ পায়। যেমন, ‘মেলা’-র উচ্চারণ হবে ‘ম্যালা’, যা ‘ঠেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। তদ্রূপ, কেমন, যেমন, যেন, ফেনা প্রভৃতি শব্দেও এই ধ্বনির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৯৯০.
'প্রাতরাশ'  শব্দটি কোন সন্ধিযোগে গঠিত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিসর্গসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গসন্ধি
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ-ধ্বনির সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে অ, আ, উ-ধ্বনি থাকলে বিসর্গ ও অ-ধ্বনি মিলে র হয়।

যেমন:
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৯৯১.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ণ্ড
  2. স্ম
  3. প্ট
  4. ল্প
সঠিক উত্তর:
ণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণ্ড
ব্যাখ্যা

সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না, এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম। যথা:
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, স্ম, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ন্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্র, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্ফ, ক্ষ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত = (ক্+ত),
- ক্ষ = (ক্ + ষ),
- ক্ষ্ম = (ক্+ ষ + ম),
- ক্স = (ক্ + স),
- গু = (গ্‌ + উ),
- গ্ধ = ( + ধ),
- ঙ্গ = (ভ্ + গ),
- ণ্ড = (ণ্‌ + ড),
- জ্ঞ = (জ্‌ + ঞ),
- ঞ্চ = (ঞ্‌ + চ),
- ঞ্জ = (ঞ্‌ + জ),
- ষ্ণ = (ম্ + ণ)
- হু = (হ্ + উ),
- হৃ = (হ+ ঋ),
- হ্ন = (হ্ + ন)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

২,৯৯২.
নিচের কোন যুক্তবর্ণটি সঠিক ?
  1. ক) ঞ্জ = জ্ + ঞ
  2. খ) ঞ্জ = ঞ্ + চ
  3. গ) ঞ্জ = ঞ্ + ঝ
  4. ঘ) ঞ্জ = ঞ্ + জ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঞ্জ = ঞ্ + জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঞ্জ = ঞ্ + জ
ব্যাখ্যা
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- ঞ্জ = ঞ্ + জ
- গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলোঃ
- ঞ্ + চ = ঞ্চ
- ষ্ + ণ = ষ্ণ
- হ্ + ম = হ্ম
- ঞ্ + ছ = ঞ্ছ
- ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]
২,৯৯৩.
অপনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. আজি > আজ
  2. রাখিয়া > রাইখ্যা
  3. সত্য > সত্যি
  4. অগুরু > অগ্রু
  5. বেঞ্চ > বেঞ্চি
সঠিক উত্তর:
রাখিয়া > রাইখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখিয়া > রাইখ্যা
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য।

---------------------------
অন্যদিকে,
• স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ:
দ্রুত উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের শুরুতে বা মাঝে বা শেষে স্বরধ্বনি লোপ ঘটলে তাকে স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ বলে।
স্বরলোপ তিন প্রকার। যথা :
ক. আদি স্বরলোপ: অলাবু > লাবু > লাউ।
খ. মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বলোপ: আজি > আজ; চারি > চার ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৯৪.
হর্ষ > হরষ - ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়মে হয়েছে?
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) স্বর বিকৃতি
  3. গ) মধ্যস্বরাগম
  4. ঘ) স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
গ) মধ্যস্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মধ্যস্বরাগম
ব্যাখ্যা

মধ্য স্বরাগম: সময় সময় উচ্চারণের জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একেই বলা হয় মধ্য স্বরাগম। মধ্য স্বরাগমের অপর নাম বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি।



পরের ই-কার ও উ-কার আগে উচ্চারিত হলে এবং যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে অপিনিহিতি হয়।
যেমন : আজি - আইজ, সাধু - সাউধ। অথবা কন্যা - কইন্যা, কাব্য - কাইব্য।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।

২,৯৯৫.
নিচের কোনটি মধ্য স্বরাগম পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্কুল > ইস্কুল
  2. ভ্রু > ভুরু
  3. দিশ্ > দিশা
  4. সত্য > সইত্য
সঠিক উত্তর:
ভ্রু > ভুরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রু > ভুরু
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- 'স্কুল > ইস্কুল' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'দিশ্ > দিশা' অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'সত্য > সইত্য' অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৯৯৬.
'ব্রহ্ম' শব্দে ব্যবহৃত 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের যোগে গঠিত?
  1. হ্ + ন
  2. হ্ + ণ
  3. ম + হ
  4. হ্ + ম
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম
ব্যাখ্যা

• 'ব্রহ্ম' শব্দে ব্যবহৃত 'হ্ম' যুক্তবর্ণটি 'হ্ + ম' দুটি বর্ণের যোগে গঠিত।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ণ = হ্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

২,৯৯৭.
কোনটি অন্যান্য সমীভবনের দৃষ্টান্ত?
  1. সত্য > সচ্চ
  2. লগ্ন > লগ্গ 
  3. তৎ + হিত > তদ্ধিত
  4. চক্র > চক্ক
সঠিক উত্তর:
সত্য > সচ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সচ্চ
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম;
- কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক;
- পদ্ম > পদ্দ;
- লগ্ন > লগ্গ  ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য;
- তৎ + হিত > তদ্ধিত;
- উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যান্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ;
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৯৯৮.
'ব্রহ্মপুত্র' শব্দের 'হ্ম' যুক্তব্যঞ্জনটিতে কোন কোন বর্ণ আছে?
  1. ক) ক + ষ
  2. খ) হ + ষ
  3. গ) হ + ম
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) হ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হ + ম
ব্যাখ্যা
হ্ম-এই যুক্তব্যঞ্জনে বর্ণ আছে - হ + ম। হ্ম-সহযােগে গঠিত কয়েকটি শব্দ ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রহ্ম, ব্রহ্মাণ্ড, ব্রহ্মপুত্র। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৯৯৯.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি কোনটি?
  1. ক) স্বৈর
  2. খ) হিমাচল
  3. গ) অর্ধেক
  4. ঘ) প্রত্যেহ
সঠিক উত্তর:
ক) স্বৈর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বৈর
ব্যাখ্যা
স্ব + ঈর = স্বৈর নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। এরূপ- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড, রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ, শার + অঙ্গ = শারঙ্গ ইত্যাদি। অন্যদিকে হিম + অচল = হিমাচল, অর্ধ + এক = অর্ধেক, প্রতি + অহ = প্রত্যেহ স্বরসন্ধির উদাহরণ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,০০০.
কোনটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ?
  1. রাজ + জ্ঞী = রাজ্ঞী
  2.  সম্ + চয় = সঞ্চয়
  3. যদ্য + অপি = যদ্যপি
  4. শ + অন = শয়ন
সঠিক উত্তর:
 সম্ + চয় = সঞ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 সম্ + চয় = সঞ্চয়
ব্যাখ্যা

• সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -  সম্ + চয় = সঞ্চয়।

ব্যঞ্জনসন্ধি:
- ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
যেমন:
- সম্ + চয় = সঞ্চয়,
- শম্ + কা = শঙ্কা,
- সম্ + তাপ = সন্তাপ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদের শুদ্ধরূপ:
- যদি + অপি = যদ্যপি,
- রাজ্ + নী = রাজ্ঞী,
- শে + অন = শয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।