বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ২৫ / ৬৩ · ২,৪০১২,৫০০ / ৬,৩২৭

২,৪০১.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?
  1. নীরোগ
  2. বাক্‌দান
  3. সন্তাপ
  4. একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
নীরোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরোগ
ব্যাখ্যা

• 'নীরোগ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = নিঃ + রোগ। 

• সন্ধি বিচ্ছেদের নিয়ম: 
ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সাথে ‘র’ এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববতী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়।
যেমন-
নিঃ + রস = নীরস।
নিঃ + রব = নীরব, 
নিঃ + রোগ = নীরোগ।

অন্যদিকে, 
ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ-
- সম্ + তাপ = সন্তাপ (এখানে দন্ত্যধ্বনি ত-এর প্রভাবে ম হয়েছে ন)
- বাক্ + দান = বাগদান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 

২,৪০২.
ওষ্ঠ্য ধ্বনি কোনটি?
  1. ক) ত
  2. খ) ধ
  3. গ) ম
  4. ঘ) ছ
সঠিক উত্তর:
গ) ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ম
ব্যাখ্যা
উচ্চারণ স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনি সাত প্রকার। যথা-

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি: জিভের মূল বা গোড়ালি উঁচু করে কোমল তালুর সামনের বা মাঝের সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা জিহ্বামূলীয় ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ক, খ, গ, ঘ ঙ/ং।

তালব্য ধ্বনি:
জিভের পাতা উঁচু করে অর্থতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- চ, ছ, জ, ঝ ঞ, শ।

দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি:
সমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি উপর পাটি দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা একটু উল্টো করে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হ তাদের দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ট ঠ ড ঢ ণ ড় ঢ়।

দন্ত ধ্বনি: উপর পাটি দাঁতের সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের দন্ত ধ্বনি বলে। যেমন- ত, থ, দ, ধ।

ওষ্ঠ্য ধ্বনি: উপরের ঠোঁটের সঙ্গে নিচের ঠোঁট লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- প, ফ, ব, ভ,

দন্তমূলীয় ধ্বনি: উপর পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের দন্তমূলীয় ধ্বনি বলে। যেমন- ন, য, র, ল, স।

কন্ঠ্য ধ্বনি: স্বরযন্ত্রের ভেতরে যে দুট স্বরতন্ত্রী আছে তাদের সংকোচনের সাহায্যে বায়ুপথ সংকীর্ণ করে, কিন্তু একেবারে বন্ধ না করে যে ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাকে কন্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- হ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৪০৩.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নিচের কোনটি মূর্ধন্য বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ‘ঋ’ বাংলা ভাষার সপ্তম স্বরবর্ণ।
- এর উচ্চারণ-স্থান মূর্ধা।

অন্যদিকে,
• ঔ [ওউ] উচ্চারণ স্থান কণ্ঠ ও ওষ্ঠ।
• ঈ এটি সংস্কৃত দীর্ঘস্বর এবং এর উচ্চারণ-স্থান তালু।
• অ এর উচ্চারণ-স্থান কণ্ঠ।

================
⇒ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন:
বাকপ্রত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলাে ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
২. দন্ত্য ব্যঞ্জন,
৩. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
৪. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
৫. তালব্য ব্যঞ্জন,
৬. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
৭. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

⇒ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: 
দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দম বা জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ তাবল্য ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
২,৪০৪.
’নদ্যম্বু’ শব্দটির সন্ধি-বিচ্ছেদ-
  1. নদ + অম্বু
  2. নদী + অম্বু
  3. নদ + আম্বু
  4. নদী + অম্বূ
সঠিক উত্তর:
নদী + অম্বু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী + অম্বু
ব্যাখ্যা
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বাঈ স্থানে 'য' বা য (্য) ফলা হয়। য-ফলা
লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
অতি + অন্ত =  অত্যন্ত।
 ইতি + আদি =  ইত্যাদি।
 অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
 প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
মসী + আধার = মস্যাধার।
 প্রতি + এক =  প্রত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২,৪০৫.
কোন দুটি স্বরবর্ণের পরে মূর্ধন্য ষ এর প্রয়োগ হয় না?
  1. অ, আ
  2. ই, ঈ
  3. উ, ঊ
  4. এ, ঐ
সঠিক উত্তর:
অ, আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ, আ
ব্যাখ্যা
• অ, আ এই দুটি স্বরবর্ণের পরে মূর্ধন্য ষ এর প্রয়োগ হয় না

• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন -কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৪০৬.
নিচের কোনটি "ট বর্গীয়" বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে স্পর্শ বা বর্গীয় বর্ণ বলে।
যথা:
ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
চ বর্গীয় বর্ণ: চ, ছ, , ঝ, ঞ।
ট বর্গীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ।
ত বর্গীয় বর্ণ: ত, থ, দ, ধ,
প বর্গীয় বর্ণ: প, ফ, ব, ভ,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪০৭.
"দুরাত্মা" এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুরা + আত্মা
  2. দুঃ + আত্মা
  3. দুর্‌ + আত্মা
  4. দুরঃ + আত্মা
সঠিক উত্তর:
দুঃ + আত্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + আত্মা
ব্যাখ্যা
• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্‌ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- ইঃ + অ = ই + র্‌; নিঃ + অন্ন = নিরন্ন, বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।
- ইঃ + আ = ই + রা; নিঃ + আকার = নিরাকার, নিঃ + আশা = নিরাশা।
- উঃ + অ = উ + র; দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা, চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।
- উঃ + আ = উ + রা; দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা, দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪০৮.
'কন্যা' শব্দের অপিনিহিতি কোনটি?
  1. কৈন্যা
  2. কনে
  3. কইন্যা
  4. কইনা 
সঠিক উত্তর:
কইন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কইন্যা
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন,
– আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া » রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

তেমনি,
'কন্যা' শব্দের অপিনিহিতি - 'কইন্যা'।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪০৯.
কোনটি বিপ্রকর্ষের উদাহরণ?
  1. ধাইমা > দাইমা
  2. বলিয়া > বলে
  3. রত্ন > রতন
  4. শাক > শাগ
সঠিক উত্তর:
রত্ন > রতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্ন > রতন
ব্যাখ্যা
• বিপ্রকর্ষ, মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি:
মাঝে মাঝে উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- গ্রাম > গেরাম,
- শ্লোক > শোলোক।

অন্যদিকে, 
-------------------
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। 
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা। 

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ,
- ধোবা > ধোপা,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২,৪১০.
'বধূৎসব' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. বধু + সব
  2. বদু + উৎসব
  3. বধূ + সব
  4. বধূ + উৎসব
সঠিক উত্তর:
বধূ + উৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বধূ + উৎসব
ব্যাখ্যা
• উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ-কার হয়; ঊ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন ধ্বনির সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- মরু + উদ্যান = মরূদ্যান,
- বহু + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব, 
- বধূ + উৎসব = বধূৎসব,
- ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৪১১.
'প্রতিচ্ছবি' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রতি + ছবি
  2. প্রতি + চ্ছবি
  3. প্রত + চ্ছবি
  4. প্রতি + চ্চবি
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ছবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ছবি
ব্যাখ্যা

• সন্ধির নিয়ম:
- স্বরধ্বনির পরে ছ্‌ থাকলে ছ্‌ স্থানে চ্ছ হয়।

যেমন:
- বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া, 
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- পরীক্ষা + ছলে = পরীক্ষাচ্ছলে,
- প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

২,৪১২.
"ঙ" কোন ধরনের ব্যঞ্জন ধ্বনি?
  1. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. কম্পিত ব্যঞ্জন
  3. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
কম্পিত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে। কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

২,৪১৩.
'আ' উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন হয়?
  1. ক) সংবৃত
  2. খ) বিবৃত
  3. গ) অর্ধ-বিবৃত
  4. ঘ) অর্ধ-সংবৃত
সঠিক উত্তর:
খ) বিবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিবৃত
ব্যাখ্যা
- স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। 
যথা- 
• সংবৃত [ই], [উ]; 
• অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও]; 
• অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ]; 
• বিবৃত: [আ]। 


- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; 
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪১৪.
কোন প্রকার শব্দে বিসর্গ সন্ধি ঘটে?
  1. ক) বিদেশি
  2. খ) বাংলা
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) তদ্ভব
সঠিক উত্তর:
গ) তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎসম
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা শব্দে সন্ধি দুই রকমের
- স্বরসন্ধি
- ব্যঞ্জন সন্ধি।

তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার।
- স্বরসন্ধি
- ব্যঞ্জন সন্ধি
- বিসর্গ সন্ধি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪১৫.
'সুবন্ত' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সুপ্ + অন্ত
  2. সূপ্ + অন্ত
  3. সুব্ + অন্ত
  4. সুপ্ + বন্ত
সঠিক উত্তর:
সুপ্ + অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপ্ + অন্ত
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনধ্বনির নিয়ম: (ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি) 

- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ, জ্, ড্ (ড়), দৃ, বৃ হয়।
- পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-

দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
ষট্ + আনন = ষড়ানন।
তৎ + অবধি = তদবধি।
সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত। (প্ + অ = ব)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪১৬.
‘ক্ষ’ যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ষ্ + ক
  2. ঞ্ + ষ
  3. ক্ + ষ
  4. হ্ + ম
সঠিক উত্তর:
ক্ + ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + ষ
ব্যাখ্যা
• [ ক্ + ষ] এই দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তবর্ণ- ক্ষ।

সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না, এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম। যথা:
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত = (ক্+ত),
ক্ম = (ক্+ম),
ক্ষ = (ক্+ষ),
ক্ষ্ম = (ক্+ষ্+ম),
ক্স = (ক্+স),
গু = (গ্+উ),
গ্ধ = (গ্+ধ),
ঙ্গ = (ঙ্+গ),
জ্ঞ = (জ+ঞ),
ঞ্চ = (ঞ+চ),
ঞ্জ = (ঞ+জ),
ষ্ণ = (ষ্+ণ)
হু = (হ্+উ),
হৃ = (হ+ঋ),
হ্ন = (হ্+ন),
হ্ম = (হ্+ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪১৭.
'শহরিয়া > শহুরে' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অপিনিহিতি
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।

যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছাে,
- শহরিয়া > শহইর‍্যা > শহুরে ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৪১৮.
উদ্ধার > উধার > ধার - এটি কি ধরণের ধ্বনির পরিবর্তন?
  1. অপিনিহিত
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ তিন ধরনের হয়ে থাকে।

আদিস্বরলোপ:
যেমন-
অলাবু > লাবু > লাউ,
উদ্ধার > উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ:
অগুরু > অগ্রু,
সুবর্ণ > স্বর্ণ।

অন্ত্যস্বর লোপ:
আশা > আশ,
আজি > আজ চারি > চার (বাংলা),
সন্ধ্যা > সঞঝা সাঁঝ। (স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪১৯.
"শাস্ত্র" শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শাস্‌ত্র
  2. শাস্‌রো
  3. শাষ্‌ত্রো
  4. শাস্‌ত্রো
সঠিক উত্তর:
শাস্‌ত্রো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাস্‌ত্রো
ব্যাখ্যা
র বর্ণের উচ্চারণ:
- র বর্ণের উচ্চারণ [র্‌]। তবে র-ফলা হিসেবে এর উচ্চারণে বৈচিত্র্য আছে।
- শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনাে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে র-ফলা থাকলে দ্বিত্বসহ র-ফলা উচ্চারিত হয়।
যেমন –
- মাত্র [মাত্ত্রো‌], বিদ্রোহ [বিদ্দ্রো‌হাে], যাত্রী [জাত্ত্রি‌]।
- কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে র-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না।
যেমন -
- কেন্দ্র [কেন্‌দ্রো], শাস্ত্র [শাস্‌ত্রো]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
২,৪২০.
ভাষার চারটি মৌলিক উপাদান কী কী?
  1. ধ্বনি, শব্দ, অর্থ, বর্ণ
  2. শব্দ, বাক্য, অর্থ, বর্ণ
  3. ধ্বনি, শব্দ, বাক্য, বর্ণ
  4. ধ্বনি, শব্দ, বাক্য, অর্থ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি, শব্দ, বাক্য, অর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি, শব্দ, বাক্য, অর্থ
ব্যাখ্যা
ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি। কোনো ভাষার উচ্চারিত শব্দকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে তার যে অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশ পাওয়া যায়, তা-ই ধ্বনি। মানুষের বাগ্যন্ত্রের সহায়তায় উচ্চারিত ধ্বনি থেকেই ভাষার সৃষ্টি।
- বস্তুত ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে চারটি মৌলিক উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো হলো-ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ
- মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য 'কথা' বলে। মানুষের 'কথা' হলো অর্থযুক্ত কিছু ধ্বনি।
- ব্যাকরণ শাস্ত্রে মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত শব্দ বা আওয়াজকেই ধ্বনি বলা হয়। বস্তুত অর্থবোধক ধ্বনিসমূহই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি। ধ্বনিই ভাষার মূল ভিত্তি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৪২১.
কোনটি মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন?
  1. ড়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২,৪২২.
'বিপচ্চয়' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বিপৎ + চয়
  2. বিপ + চয়
  3. বিপদ + চয়
  4. বিপচ + চয়
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিপদ + চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদ + চয়
ব্যাখ্যা
• 'বিপচ্চয়' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'বিপদ + চয়'।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 
-------------------------
সন্ধির নিয়ম:
- ত্‌ ও দ্‌ এর পর চ্‌ ও ছ্‌-  থাকলে ত্‌ ও দ্‌ স্থানে চ্‌ হয়। 
যেমন:
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ, 
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া, 
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয়, 
- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪২৩.
'ঙ্ক' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণ নিয়ে গঠিত?
  1. (ন্‌+ক)
  2. (ঙ্‌+ক)
  3. (ণ্‌+ক)
  4. (ম্‌+ক)
সঠিক উত্তর:
(ঙ্‌+ক)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
(ঙ্‌+ক)
ব্যাখ্যা
- 'ঙ্ক' যুক্তবর্ণটি (ঙ্‌+ক) বর্ণ নিয়ে গঠিত।

• যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলােকে দেখে কখনাে সহজে চেনা যায়, কখনাে সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ্জ, ক্ট, জ্ঝ, ঞ্ঝ, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, ন্স, প্ট, প্ত, ব্জ ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্‌+ত), ক্ম (ক্‌+ম), ক্ষ (ক্‌+ষ), ক্ষ্ম (ক্‌+ষ্‌+ম), ক্স (ক্‌+স), গ্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্‌+ক), জ্ঞ (জ্‌+ঞ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
২,৪২৪.
কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) বাগীশ
  2. খ) চলচ্চিত্র
  3. গ) দিগন্ত
  4. ঘ) অন্বিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্বিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্বিত
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনে স্বরসন্ধি গঠিত হয়।

সূত্র: উ বা ঊ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে উ/ঊ এর জাংগায় ব ফলা হয়।
যেমন:
- অনু+ইত = অন্বিত
- তনু+ঈ = তন্বী
- অনু+এষণ = অন্বেষণ
- সু+অচ্ছ = স্বচ্ছ

অন্যদিকে,
স্বরধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনি, ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন:
- দিক্+অন্ত = দিগন্ত
- চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র
- বাক্+ঈশ = বাগীশ

উৎস: প্রমীত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২,৪২৫.
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন নয় কোনটি?
  1. ক) ন
  2. খ) র
  3. গ) ল
  4. ঘ) ম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ম
ব্যাখ্যা

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
ম ওষ্ঠ ব্যঞ্জন। 
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

২,৪২৬.
"চারি > চাইর" — কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. আদি স্বরাগম
  2. অসমীকরণ
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

• অপিনিহিতি: 
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: 
- সত্য  > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

আদি স্বরাগম:
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন:
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।

অসমীকরণ:
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- টপ + টপ >টপাটপ,
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- ফট + ফট > ফটাফট ইত্যাদি।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
অ – রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্‌তি > বসতি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪২৭.
কোনটি তালব্য বর্ণ?
  1. ই 
সঠিক উত্তর:
ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই 
ব্যাখ্যা
• তালব্য ধ্বনি:
জিভের পাতা উঁচু করে অগ্রতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। 
 
'ই' বর্ণ:
- বাংলা স্বরবর্ণমালার তৃতীয় বর্ণ। 
- সংস্কৃতে এটি হ্রস্বস্বর; এর উচ্চারণ-স্থান - তালু।

- স্বরবর্ণের মধ্যে তালব্য বর্ণ হচ্ছে - ই, ঈ।

- ব্যঞ্জণ বর্ণে তালব্য ধ্বনি - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
• এ, ঐ - কণ্ঠ তালব্য ধ্বনি।
• উ, ঊ - ওষ্ঠ্য ধ্বনি।
• ও, ঔ - কণ্ঠৌষ্ঠ ধ্বনি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪২৮.
বিশেষ নিয়মে সাধিত বিসর্গ সন্ধি কোনটি?
  1. ক) মনীষা
  2. খ) বাচস্পতি
  3. গ) আস্পদ
  4. ঘ) অহরহ
সঠিক উত্তর:
ক) মনীষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মনীষা
ব্যাখ্যা
নবম-দশম শ্রেণির পুরনো বইয়ে বাচস্পতি, আস্পদ ও অহরহ শব্দকে বিশেষ নিয়মে বিসর্গ সন্ধি দেখানো হলেও এবং কোনো কোনো বইয়ে নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গ সন্ধি দেখালেও তা ঠিক নয়।
নবম দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ও হায়াত মামুদের বইয়ে এগুলোকে সাধারণ নিয়মে বিশেষ সন্ধি দেখানো হয়েছে। 

তাছাড়াও হায়াৎ মামুদের ভাষা-শিক্ষা গ্রন্থ মনীষা শব্দটিকে বিশেষ নিয়মে সিদ্ধ বিসর্গসন্ধি দেখিয়ে সন্ধিবিচ্ছেদ করা হয়েছে এভাবে,
‘মনীষা’ = মনঃ (মনস্) + ঈষা।
মনীষী শব্দকেও মনঃ (মনস্) + ঈষা + ইন = মনীষী নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গ সন্ধি হিসেবে দেখানো হয়েছে।


উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
২,৪২৯.
কোন যুক্তবর্ণটি সঠিক?
  1. ষ্ + ণ = জ্ঞ
  2. ষ্ + ণ = ষ্ণ
  3. হ্‌ + থ = ত্থ
  4. হ্ + ম = ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
ষ্ + ণ = ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্ + ণ = ষ্ণ
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ত্ + ত্ = ত্ত
ভ্ + র = ভ্র
ত্ + থ = ত্থ
ষ্ + ণ = ষ্ণ
হ্ + ম =হ্ম
জ্‌ + ঞ =জ্ঞ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
২,৪৩০.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণকে নির্দেশ করে?
  1. দ্ধ
  2. স্ক
  3. ন্ধ
  4. ভ্র
সঠিক উত্তর:
স্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ক
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেনি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪৩১.
ঙ, ঞ, ম, ণ, ন এই পাঁচটি ধ্বনিকে বলে-
  1. নাসিক্য ধ্বনি 
  2. অস্তঃস্থ ধ্বনি
  3. উষ্মধ্বনি
  4. অনুনাসিক ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
নাসিক্য ধ্বনি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাসিক্য ধ্বনি 
ব্যাখ্যা

• নাসিক্য ধ্বনি: 
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম– এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস-তাড়িত বাতাস বের হয় বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকী বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ৷

অন্যদিকে,
• অনুনাসিক ধ্বনি:
' ঁ' চন্দ্রবিন্দু চিহ্ন বা প্রতীকটি পরবর্তী স্বরধ্বনির অনুনাসিকতার দ্যোতনা করে। এজন্য এটিকে অনুনাসিক ধ্বনি এবং প্রতীকটিকে অনুনাসিক প্রতীক বা বর্ণ বলে। যেমন- আঁকা, চাঁদ, বাঁধ, বাঁকা, শাঁস ইত্যাদি।

• অন্তঃস্থ ধ্বনি:
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য র ল ব-এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।

• উষ্মধ্বনি:
যে ব্যঞ্জনের উচ্চারণে বাতাস মুখবিবরে কোথাও বাধা না পেয়ে কেবল ঘর্ষণপ্রাপ্ত হয় এবং শিশধ্বনির সৃষ্টি করে, সেটি উষ্মধ্বনি। যেমন- আশীষ, শিশি, শিশু ইত্যাদি। শিশ দেয়ার সঙ্গে এর সাদৃশ্য রয়েছে বলে একে শিশধ্বনিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

২,৪৩২.
'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত বর্ণগুলোকে কী বর্ণ বলা হয়?
  1. ক) মহাপ্রাণ বর্ণ
  2. খ) ওষ্ঠ্য বর্ণ
  3. গ) স্পর্শ বর্ণ
  4. ঘ) ঘোষ বর্ণ
সঠিক উত্তর:
গ) স্পর্শ বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্পর্শ বর্ণ
ব্যাখ্যা
'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি বর্ণকে স্পর্শ বর্ণ বলা হয়।

- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনি কে উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বর্গীয় ধ্বনি।

ক খ গ ঘ ঙ      ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'কণ্ঠ ধ্বনি'       বর্ণ হিসেবে 'ক' বর্গীয়
চ ছ জ ঝ ঞ    ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'তালব্যধ্বনি'    বর্ণ হিসেবে 'চ' বর্গীয়
ট ঠ ড ঢ ণ       ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'মূর্ধন্য ধ্বনি'    বর্ণ হিসেবে 'ট' বর্গীয়
ত থ দ ধ ন       ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'দন্ত্যধ্বনি'       বর্ণ হিসেবে 'ত' বর্গীয়
প ফ ব ভ ম     ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'ওষ্ঠ্য ধ্বনি'      বর্ণ হিসেবে 'প' বর্গীয়

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ]
২,৪৩৩.
সন্ধিতে ই/ঈ-এর পরে অ/আ থাকলে উভয়ে মিলে কী হয়?
  1. ও-কার
  2. এ-কার
  3. য-ফলা
  4. ব-ফলা
সঠিক উত্তর:
য-ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
য-ফলা
ব্যাখ্যা
• সন্ধির সূত্র:
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর  (অ বা আ) থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়। 
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৩৪.
নিচের কোনগুলো দন্ত্যবর্ণ?
  1. ক খ গ ঘ ঙ
  2. চ ছ জ ঝ ঞ
  3. ত থ ধ দ ন
  4. ট ঠ ড ঢ ণ
সঠিক উত্তর:
ত থ ধ দ ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত থ ধ দ ন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহ            উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নাম
ক খ গ ঘ ঙ                             কন্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ
চ ছ জ ঝ ঞ শ য                     তালব্য বর্ণ
ট ঠ ড ঢ ণ ষ র ড় ঢ়                 মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ
ত থ দ ধ ন ল স                       দন্ত্য বর্ণ
প ফ ব ভ ম                             ওষ্ঠ্য বর্ণ  

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
২,৪৩৫.
‘অত্যন্ত’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতি + অন্ত
  2. অতিঃ + অন্ত
  3. অতি + অন্ত্য
  4. অত্য + অন্ত
সঠিক উত্তর:
অতি + অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি + অন্ত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে য বা য ( ্য) ফলা হয়।
- য- ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + উক্তি = অত্যক্তি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ - ২০১৯)।
২,৪৩৬.
' যুক্ত' অর্থে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) যুক্ত
  2. খ) ইতরামি
  3. গ) গেঁয়ো
  4. ঘ) টেকো
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেকো
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 

- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
- আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
- আদর অর্থে: কানু → কানাই।
- জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
- নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
- উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে। 
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪৩৭.
'খেলা > খ্যালা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদিস্বর লোপ
  2. বিষমীভবন
  3. প্রগত সমীভবন
  4. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পরাগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive):
পরবর্তী স্বরের প্রভাবে পূর্ববর্তী স্বরের পরিবর্তন তথা অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- আখো > আখুয়া > এখো,
- দেশি > দিশি, শুনা > শুনো,
- লিখা > লেখা,
- দেশি > দিশি,
- খেলা > খ্যালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• আদিস্বর লোপ (Aphesis):
ধ্বনিলোপের ক্ষেত্রে শব্দের প্রথমের স্বরধ্বনির লোপ হলে তাকে আদিস্বর লোপ বলে। যেমন- অলাবু লাবু লাউ, উদ্ধার উধার > ধারইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন (Progressive):
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন- পক্ব > পক্ক, চন্দন > চন্নন, গলদা > গল্লা, পদ্ম > পদ্দ, লগ্ন লগ্ন, চক্র> চক্কর, রাজ্য > রাজ্জ ইত্যাদি।

• বিষমীভবন (Dissimilation):
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন- তরবার > তরোয়াল, লাঙ্গল > নাঙ্গল, শরীর > শরীল, লালা > নাল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৩৮.
‘ম’ - কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  2. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  3. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. দন্ত্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
 
যেমন: 
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২,৪৩৯.
‘নীরস’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নি + রস
  2. নী + রস
  3. নিঃ + রস
  4. নীঃ + রস
সঠিক উত্তর:
নিঃ + রস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + রস
ব্যাখ্যা
• 'নীরস' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - নিঃ + রস।

• 'নীরস' এর সন্ধি বিচ্ছেদের নিয়ম:
ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সাথে ‘র’ এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববতী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়।
যেমন-
নিঃ + রস = নীরস।
নিঃ + রব = নীরব,
নিঃ + রোগ = নীরোগ,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৪০.
'দুশ্চরিত্র' — শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দু + চরিত্র
  2. দুশ্চ + রিত্র
  3. দুঃ + চরিত্র
  4. দুশ্‌ + চরিত্র
সঠিক উত্তর:
দুঃ + চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + চরিত্র
ব্যাখ্যা

• 'দুশ্চরিত্র' — শব্দটির এর সন্ধি বিচ্ছেদ — 'দুঃ + চরিত্র'। 

• 'দুশ্চরিত্র'-এর সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম:
আগে বিসর্গ ও পরে চ্ বা ছ্ থাকলে বিসর্গ স্থানে শ্ হয়। শ্ পরের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দুঃ + চরিত্র = দুশ্চরিত্র,  
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- নিঃ + চল = নিশ্চল,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- দুঃ + চেষ্টা = দুশ্চেষ্টা,
- নভঃ + চর = নভশ্চর,
- মনঃ + চক্ষু = মনশ্চক্ষু,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২,৪৪১.
নিচের কোনটি নিলীন বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• যে স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নাই তাকে নিলীন বর্ণ বলে।
• ‘অ’ বর্ণটির কোন সংক্ষিপ্ত রূপ না থাকায় ‘অ’ বাংলা বর্ণমালার নিলীন বর্ণ।

অন্যদিকে,
আ, ও, উ এর সংক্ষিপ্ত রূপ যথাক্রমে আ-কার, ও-কার এবং উ-কার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৪২.
নিচের কোন ক্ষেত্রে ‘ণ-ত্ব’ বিধান প্রযোজ্য নয়?
  1. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে 
  2. তৎসম শব্দের বানানে
  3. ঋ, র, ষ - এর পরে
  4. সমাসবদ্ধ শব্দে
সঠিক উত্তর:
সমাসবদ্ধ শব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাসবদ্ধ শব্দে
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৪৩.
বাংলা বর্ণমালায় ‘আ’ একটি -
  1. যৌগিক স্বরবর্ণ
  2. অনুনাসিক ধ্বনি
  3. দ্বিস্বর ধ্বনি
  4. মৌলিক স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• মৌলিক স্বর:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে মৌলিক স্বর বলে।

 • বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি। 
যেমন,
- ই, এ, অ্যা, অ, আ, ও, উ।

• স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণ ছয়টি। যথা: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ।

• অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণ একটি। যথা: ঋ।

• মাত্রাহীন বর্ণ চারটি। যথা: এ, ঐ, ও, ঔ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৪৪.
অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. সত্য > সত্যি
  2. পোখত্ > পোক্ত
  3. ধোবা > ধোপা
  4. দিস্ > দিশা
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
ব্যাখ্যা

• অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ নয়- ধোবা > ধোপা। 

---------------------
• অন্ত্যস্বরাগম:

কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিস্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ,
- ধোবা > ধোপা,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৪৫.
মধ্য স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. ফিল্ম > ফিলিম
  2. পক্ব > পক্ক
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. উদ্ধার ˃ উধার ˃ ধার
সঠিক উত্তর:
ফিল্ম > ফিলিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিল্ম > ফিলিম
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ হচ্ছে "ফিল্ম > ফিলিম"।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:

সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যথা:
অ – রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্‌তি > বসতি ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলক; মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যথা:
চক্র > চক্ক; পক্ব > পক্ক,
পদ্ম > পদ্দ; লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
শব্দের মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ বলে। স্বরলোপ ৩ প্রকার যথা-
ক. আদিস্বরলোপ: শব্দের শুরুর স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরাগম বলে। যেমন, অলাবু ˃ লাবু ˃ লাউ; উদ্ধার ˃ উধার ˃ ধার
খ. মধ্যস্বরলোপ: শব্দের মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বরাগম বলে। যেমন, গামোছা ˃ গামছা, অগুরু ˃ অগ্রু, সুবর্ণ ˃ স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বরলোপ: শব্দের শেষের স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বরাগম বলে। যেমন, আশা ˃ আশ, আজি ˃ আজ, চারি ˃ চার, সন্ধ্যা ˃ সঞ্ঝ্যা ˃ সাঁঝ।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়।
- একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যথা:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৪৬.
নিচের যে শব্দে ভুলভাবে ণ-ত্ব বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে-
  1. ক) বক্ষ্যমাণ
  2. খ) আবর্তণ
  3. গ) প্রণয়
  4. ঘ) আপণ
সঠিক উত্তর:
খ) আবর্তণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আবর্তণ
ব্যাখ্যা

'আবর্তণ' শব্দে ভুলভাবে ণ-ত্ব বিধানের প্রয়োগ ঘটেছে৷ শব্দটির সঠিক বানান 'আবর্তন'
এর অর্থ - মন্থন, আলোড়ন, ঘোটন ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান

২,৪৪৭.
উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

অভিসম্বন্ধ:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৪৮.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অভি + ঈষ্ট= অভীষ্ট
  2. অভি + ইপ্সা = অভীপ্সা
  3. শ্রী + ঈশ = শ্রীশ
  4. সুধী + ঈন্দ্র = সুধীন্দ্র
সঠিক উত্তর:
শ্রী + ঈশ = শ্রীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রী + ঈশ = শ্রীশ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- শ্রী + ঈশ = শ্রীশ।

----------------------------
• স্বরসন্ধির নিয়ম:

প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়।
বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

• সূত্র: ঈ + ই = ঈ:
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র,
- যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র।

• সূত্র: ঈ + ঈ = ঈ:
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- শ্রী + ঈশ = শ্রীশ,
- মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর,
- ফণী + ঈশ্বর = ফণীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪৪৯.
খাঁটি বাংলা স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) যথেষ্ট
  2. খ) শাঁখারি
  3. গ) শুভেচ্ছা
  4. ঘ) বিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
খ) শাঁখারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাঁখারি
ব্যাখ্যা
বাংলা শব্দের স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয় তাকে বাংলা স্বরসন্ধি বলে।
যেমনঃ শাঁখা + আরি = শাঁখারি। এরূপ রূপালি, কতেক, নিন্দুক, হিংসুক ইত্যাদি।
নরাধম, দেবালয়, শুভেচ্ছা, যথেষ্ট, বিদ্যালয় ও মহার্ঘ হলো সংস্কৃত স্বরসন্ধি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী
২,৪৫০.
'মন্বন্তর' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনো + অন্তর
  2. মনব + অন্তর
  3. মন্ব + অন্তর
  4. মনু + অন্তর
সঠিক উত্তর:
মনু + অন্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনু + অন্তর
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার বা উ-কারের পর ঊ-কার। ঊ-কার ছাড়া অন্য স্বর থাকলে উ বাউ স্থানে ব-ফলা হয়। ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে যুক্ত হয়।

সূত্র: উ + অ = ব্‌ + অ:
- মনু + অন্তর = মন্বন্তর। 

এই নিয়মের আরো কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ:
• অনু + অয় = অন্বয়,
• পশু + আচার = পশ্বাচার,
• অনু + অয় = অন্বয়,
• অনু + এষন = অন্বেষণ,
• সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৪৫১.
বাংলা ভাষায় সান্ধ্যক্ষর কয়টি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ২৫টি
  4. ঘ) ৩৯টি
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৫টি
ব্যাখ্যা
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয়। এ রূপে এক সঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর, সন্ধিস্বর, সান্ধ্যক্ষর বা দ্বিস্বর বলা হয়। বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে। বাংলা বর্ণমালায় দ্বিস্বর বা যুগ্ম স্বরধ্বনির বা যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে : ঐ(অ + ই) এবং ঔ(অ + উ) বা (ও + উ)। উদাহরণ : কৈ, বৌ। অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
২,৪৫২.
'ও' উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন?
  1. সংবৃত
  2. অর্ধ-বিবৃত
  3. বিবৃত
  4. অর্ধ-সংবৃত
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-সংবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-সংবৃত
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ ]।

উল্লেখ্য,
• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২,৪৫৩.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ২ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
⇒ উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:  সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৫৪.
'বর্ণসংক্ষেপ' নিচের কোন বর্ণের অন্তর্গত?
  1. ক) কারবর্ণ
  2. খ) যুক্তবর্ণ
  3. গ) অনুবর্ণ
  4. ঘ) সংখ্যাবর্ণ
সঠিক উত্তর:
গ) অনুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুবর্ণ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত 'বর্ণসংক্ষেপ' হলো অনুবর্ণ এর অন্তর্গত।
•অনুবর্ণ
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ।
যেমন- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে, যেমন – ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল- ফলা।
রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।



উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২সংস্করণ)।
২,৪৫৫.
'মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি' কোন নিয়মে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি = ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি; এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে; আ + ছাদন = আচ্ছাদন ।
ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ; বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।

এরূপ- পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪৫৬.
'বৃক্ষচ্ছায়া' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বৃক্ষ + ছায়া
  2. বৃক্ষ + ছয়া
  3. বৃৎ + ছায়া
  4. বৃক্ষ + চ্ছায়া
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ + ছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ + ছায়া
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- স্বরধ্বনির পরে ছ্‌ থাকলে ছ্‌ স্থানে চ্ছ হয়।

যেমন:
স্ব + ছন্দ = স্বচ্ছন্দ,
প্র + ছদ = প্রচ্ছদ, 
বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া
কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৪৫৭.
নিচের কোনটি অভিশ্রুতির উদাহরণ?
  1. মোজা > মুজো
  2. মুড়া > মুড়ো
  3. তুলা > তুলো
  4. মাছুয়া > মেছো 
সঠিক উত্তর:
মাছুয়া > মেছো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছুয়া > মেছো 
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি (Umlaut):
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। যেমন করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
এরূপ-
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
 তুলা > তুলো, মোজা > মুজো, মুড়া > মুড়ো স্বরসঙ্গতির উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৪৫৮.
অর্ধস্বরধ্বনি কোনটি?
  1. [ই্‌]
  2. [উ্‌]
  3. [এ্‌]
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• অর্ধস্বরধ্বনি:
বাংলা ভাষায় যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না তাদেরকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি।
যথা,
- [ই্‌], [উ্‌], [এ্‌], এবং [ও্‌]।

উল্লেখ্য, 
• মৌলিক স্বরধ্বনি:
যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বর বলে। বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি। যথা: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু ( ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২,৪৫৯.
'তপোবন' কোন ধরনের সন্ধি সাধিত শব্দ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি 
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে, অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যেমন:
ততঃ + অধিক= ততোধিক,
তিরঃ + ধান = তিরোধান,
মনঃ + রম = মনোরম,
মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
মনঃ + তাপ = মনস্তাপ,
তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৪৬০.
ফলা বর্ণ নয় কোনটি?
  1. ন-ফলা
  2. ব-ফলা
  3. ম-ফলা
  4. হ-ফলা
সঠিক উত্তর:
হ-ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ-ফলা
ব্যাখ্যা

• ফলা বর্ণ নয়- হ-ফলা। 

-----------------
• অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ, ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা ৬টি।
যেমন: ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র-ফলা, ল-ফলা।

রেফ: 'র'-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ।
যেমন- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উল্লেখ্য,
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কারবর্ণ বলে। স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২,৪৬১.
স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ব্যাকরণ
  2. বর্ণনা
  3. পণ্য
  4. ভাষণ
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
পণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পণ্য
ব্যাখ্যা

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প+অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ + অ + ণ)। এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন- 
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তৃণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

৫. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
৬. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৪৬২.
তালব্যধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
তালব্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান তালু, তাদের তালব্যধ্বনি বলে।
যেমন:
- ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য়, শ তালব্যধ্বনি।

অন্যদিকে, 
• ওষ্ঠ্যধ্বনি:
যেসব ধ্বনির উচ্চারণস্থান ওষ্ঠ, তাদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।
যেমন:
- উ, , প, ফ, ব, , ম ওষ্ঠ্যধ্বনি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৪৬৩.
নিচের কোনগুলো অঘোষ ব্যাঞ্জনের উদাহরণ-
  1. ঙ, হ
  2. ভ, ম
  3. ক, খ
  4. একটিও নয়
সঠিক উত্তর:
ক, খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক, খ
ব্যাখ্যা

• ক, খ - অঘোষ ধ্বনি।
-------------------
• অঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

• ঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

২,৪৬৪.
'ইচ্ছা> ইচ্ছে' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. অপিনিহিতি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. সমীভবন
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি (Vowel Hermony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে, এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি।
যেমন:
- ইচ্ছা > ইচ্ছে,
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মূলা > মূলো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৪৬৫.
ঘোষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ঘোষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি -

ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যেমন - ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, , ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যেমন - প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৬৬.
অর্ধমাত্রার স্বরবর্ণ কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি -(এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং , ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৬৭.
নিচের কোনটি পরাগত সমীভবনের উদাহরণ?
  1. চক্র > চক্ক
  2. পাকা > পাক্কা
  3. কর্তা > কত্তা
  4. লগ্ন > লগ্গ
সঠিক উত্তর:
কর্তা > কত্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তা > কত্তা
ব্যাখ্যা

• কর্তা > কত্তা। 
(র্ ধ্বনি পরবর্তী ত ধ্বনির প্রভাবে লোপ পেয়ে ত্ত হয়েছে)

• পরাগত সমীভবন:

পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হলে তাকে পরাগত সমীভবন বলে। যেমন-
কাদনা > কান্না,
কর্ম > কৰ্ম্ম,
কর্তা > কত্তা,
করতে > কত্তে।  

অন্যদিকে,
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যাঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা;
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

২,৪৬৮.
অভিশ্রুতির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. মাছুয়া > মেছো
  2. করিয়া > করে
  3. ফলাহার > ফলার
  4. দেখিয়া > দেখে
সঠিক উত্তর:
ফলাহার > ফলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলাহার > ফলার
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতির উদাহরণ নয়-  ফলাহার > ফলার। 
- ফলাহার > ফলার অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 

-------------------
• অভিশ্রুতি:

বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
করিয়া > কইর‍্যা > করে;
দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে;
গাছুয়া > গাউছা > গেছো;
মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৪৬৯.
'ক্ষুৎকাতর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি ?
  1. ক্ষুধা + কাতর
  2. ক্ষুধ + কাতর
  3. ক্ষুৎ + কাতর
  4. ক্ষুদ্‌ + কাতর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ + কাতর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুধ + কাতর
ব্যাখ্যা
'ক্ষুৎকাতর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ ক্ষুধ + কাতর।
দ, ধ এর পর ক, প, স থাকলে দ, ধ এর স্থানে ৎ হয় 
যেমন - ক্ষুৎকাতর = ক্ষুধ + কাতর
অনুরূপভাবে,
- ক্ষুধ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা 
- হৃদ + স্পন্দন = হৃৎস্পন্দন

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৭০.
নিচের কোনটি অন্তঃস্থ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অন্তঃস্থ ধ্বনি: 
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য, র, ল, ব-এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।

অন্যদিকে, 
• উষ্মধ্বনি: যে ব্যঞ্জনের উচ্চারণে বাতাস মুখবিবরে কোথাও বাধা না পেয়ে কেবল ঘর্ষণপ্রাপ্ত হয় এবং শিশধ্বনির সৃষ্টি করে, সেটি উষ্মধ্বনি। যেমন- আশীষ, শিশি, শিশু ইত্যাদি। শিশ দেয়ার সঙ্গে এর সাদৃশ্য রয়েছে বলে একে শিশধ্বনিও বলা হয়।
শ, ষ, স তিনটি উম্ম বর্ণ।

হ: হ-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনিটি কণ্ঠনালীতে উৎপন্ন মূল উষ্ম ঘোষধ্বনি। এ উষ্মধ্বনিটি উচ্চারণের সময় উন্মুক্ত কণ্ঠের মধ্য দিয়ে বাতাস জোরে নির্গত হয়। যেমন হাত, মহা, পহেলা ইত্যাদি।

• তাড়নজাত ধ্বনি: ড় ও ঢ়-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি জিহ্বার অগ্রভাগের তলদেশ দ্বারা অর্থাৎ উল্টো পিঠের দ্বারা ওপরের দত্তমূলে দ্রুত আঘাত বা তাড়না করে উচ্চারিত হয়। এদের বলা হয় তাড়নজাত ধ্বনি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)।

২,৪৭১.
'করিয়া > করে' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. অভিশ্রতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।

যেমন:
করিয়া > কইর‌্যা > করে,
দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৭২.
"প্রাদুর্ভাব" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাদু + ভাব
  2. প্রাধুঃ +ভাব
  3. প্রাদুর + ভাব
  4. প্রাদুঃ + ভাব
সঠিক উত্তর:
প্রাদুঃ + ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদুঃ + ভাব
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ/আ ভিন্ন অন্য স্বরের সঙ্গে বিসর্গ এবং পরে স্বরধ্বনি, বর্গের ৩য় / ৪র্থ / ৫ম ধ্বনি অথবা য, র, ল, হ থাকলে বিসর্গ স্থলে র হয়।
যেমন:
→ নিঃ + অবধি = নিরবধি, 
→ নিঃ + গত = নির্গত, 
→ নিঃ + বাক্ = নির্বাক, 
→ আবিঃ + ভাব = আবির্ভাব, 
→ দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা, 
→ দুঃ + গতি = দুর্গতি, 
প্রাদুঃ + ভাব = প্রাদুর্ভাব
→ দুঃ + যোগ = দুর্যোগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২,৪৭৩.
‘বড়দা সক্কাল বেলা তক্ক করার জন্য বউদিকে মাল্ল’- এই বাক্যে কয়টি শব্দে ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ৪ টি
  2. ৫ টি
  3. ৬ টি
  4. ৭ টি
সঠিক উত্তর:
৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ টি
ব্যাখ্যা
• উল্লেখ্য বাক্যে ৫টি শব্দের ধ্বনি পরিবর্তন হয়েছে। ধ্বনি পরিবর্তন গুলো হলো:

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সম উচ্চারণের দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়।
যেমন :
- বউদিদি > বউদি।
- বড়দাদা > বড়দা।

• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন: কখনো কখনো জোর দেওয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় ।
যেমন:
- সকাল > সক্কাল।

• র - কার লোপ: আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়।
যেমন:
- তর্ক > তক্ক।
- মারল  > মাল্ল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৭৪.
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোনটি?
  1.  ভ



সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব,
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, , ধ।
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ,
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২,৪৭৫.
'কন্যা > কইন্যা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অপিনিহিতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অন্ত্যস্বরাগম
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• 'কন্যা> কইন্যা' এ য- ফলার অন্তর্নিহিতি ই-ধ্বনির অপিনিহিতি।

• অপিনিহিতি (Apenthesis):

- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
- যেমন আজি >আইজ, সাধু >সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি >চাইর, মারি >মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
- যেমন: গ্রাম > গেরাম, ধর্ম > ধরম, প্রীতি > পিরীতি। 

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:

- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
- যেমন: বসতি >বস্তি, জানালা> জানলা ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন দিশ্ >দিশা, পোখত্> পোক্ত, বেঞ্চ >বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২,৪৭৬.
'জলৌঘ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. জল + ঔঘ 
  2. জল + লৌঘ
  3. জল + ওঘ
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
জল + ওঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জল + ওঘ
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- মহা + ঔষধ = মহৌষধ,
- মহা + ওষধি = মহৌষধি,
- বন  + ঔষধ = বনৌষধ,
- জল + ওঘ = জলৌঘ,
- গঙ্গা + ওঘ = গঙ্গৌঘ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৪৭৭.
'সদিচ্ছা' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সধ্‌ + ইচ্ছা
  2. সত + ইচ্ছা
  3. সদ্‌ + ইচ্ছা
  4. সৎ + ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
সৎ + ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ + ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনে + স্বরে নিয়মে গঠিত ব্যঞ্জন সন্ধির নয়ম:
পূর্বপদের শেষে বর্গের প্রথম ব্যঞ্জন (ক্‌ /চ্‌ / ট্ / ত্ [ৎ] /প্‌ ) থাকলে, এবং পরপদের প্রথমটি স্বরধ্বনি হলে ব্যঞ্জনধ্বনিটি ওই বর্গের তৃতীয় ধ্বনিতে অর্থাৎ ক স্থানে গ্‌, চ্ স্থানে জ্‌ , ট্‌ স্থানে ড্ [ডু], ত্ স্থানে দু, প্‌ স্থানে ব্‌  হয়। পরপদের স্বরধ্বনি বর্গের তৃতীয় ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর,
- প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- অচ্ + অন্ত = অজন্ত, 
- ষট্ + অঙ্গ = ষড়ঙ্গ,
- ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু,
- ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- সৎ + অর্থক = সদর্থক,
- সৎ + ইচ্ছা = সদিচ্ছা,
- মৃৎ + অঙ্গ = মৃদঙ্গ,
- শরৎ + ইন্দু = শরদিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪৭৮.
"সারঙ্গ" শব্দটি কোন সন্ধিতে গঠিত?
  1. স্বর
  2. নিপাতনে সিদ্ধ
  3. ব্যঞ্জন
  4. বিসর্গ
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২,৪৭৯.
অঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
  1. ক) খ
  2. খ) জ
  3. গ) ড
  4. ঘ) ট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ট
ব্যাখ্যা
অঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ঢ, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।
সুতরাং, 'ট' অঘােষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২,৪৮০.
'মগজ > মজগ' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জন বিচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- মগজ > মজগ,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৪৮১.
'হাটুয়া > হাউটা' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. অন্তর্হিত
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৮২.
'ইতস্তত' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ইত + স্তত
  2. ইতঃ + তত
  3. ইতঃ + স্তত
  4. ইতঃ + সৎ
সঠিক উত্তর:
ইতঃ + তত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতঃ + তত
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ,
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ইতঃ + তত = ইতস্তত,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৪৮৩.
বাংলা ভাষায় কয়টি বর্ণমালা রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫০টি
সঠিক উত্তর:
১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১টি
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালা হলো বাংলা ভাষা লেখার জন্য ব্যবহৃত ৫০টি অক্ষরের সুবিন্যস্ত সমষ্টি।
- বাংলা বর্ণমালার গঠন অনুযায়ী, স্বরবর্ণগুলো হলো: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
- ব্যঞ্জনবর্ণগুলো ক থেকে চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত বিস্তৃত।

- বর্ণ বলতে বোঝায় ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন। 
- স্বরবর্ণ হলো স্বরধ্বনি প্রকাশক চিহ্ন। 
- আর ব্যঞ্জনবর্ণ হলো ব্যঞ্জনধ্বনি প্রকাশক চিহ্ন।
- কোনো ভাষায় ব্যবহৃত সব লিখিত বর্ণসমষ্টিকেই বর্ণমালা বলা হয়। 
- বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে বর্ণমালা একটি।

- এই বর্ণমালায় ৩২টি পূর্ণমাত্রা, ৮টি অর্ধমাত্রা এবং ১০টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে।
- মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি বর্ণের মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ ৩২টির মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ ৮টির মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

- বাংলা বর্ণমালা একটি সিলেবিক লিপি, যা বিশ্বের প্রধান লিখন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত।
- এই বর্ণমালায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি—অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা।
- বাংলা ভাষায় মোট ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।
- তবে এদের মধ্যে শুধুমাত্র দুটি (ঐ এবং ঔ) লিখিত রূপে পাওয়া যায়।
- বাকি ২৩টি যৌগিক স্বর কেবল উচ্চারণে ব্যবহৃত হয় এবং এদের কোনো নির্দিষ্ট লিখিত বর্ণ নেই।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮৪.
“দন্ত স্পৃষ্ট” ব্যঞ্জনের উদাহরণ কোনটি?
  1. ট, ঠ 
  2. ত, থ
  3. চ, ছ
  4. ড, ঢ
সঠিক উত্তর:
ত, থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত, থ
ব্যাখ্যা

“দন্ত স্পৃষ্ট” ব্যঞ্জনের উদাহরণ- ত, থ।
- দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময় দাঁতের সঙ্গে জিভের সংস্পর্শে তৈরি হয়।
----------------------
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: 
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাগযন্ত্র পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথ বন্ধ করে, সেগুলোকেই স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জন নামেও পরিচিত।
- প, ব, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, থ, দ, ধ, চ, ছ, জ, ঝ, ক, খ, গ, ঘ শব্দের প, ব, ট, ঠ, ড, ঢ, ত, থ, দ, ধ, চ, ছ, জ, ঝ, ক, খ, গ, ঘ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন।

- উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী এগুলোকে ওষ্ঠ স্পৃষ্ট, দন্ত স্পৃষ্ট, মূর্ধা স্পৃষ্ট, তালু স্পৃষ্ট এবং কণ্ঠ স্পৃষ্ট—এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা—
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

২,৪৮৫.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. নূন্য = নি+উন
  2. নিচেষ্ট = নি + চেষ্ট
  3. নয়ন = ন+অন
  4. তন্মধ্যে = তদ্‌+মধ্যে
সঠিক উত্তর:
তন্মধ্যে = তদ্‌+মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তন্মধ্যে = তদ্‌+মধ্যে
ব্যাখ্যা
• তন্মধ্যে = তদ্‌+মধ্যে; সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক। 

• সন্ধির নিয়ম: 
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং পরে ৎ + ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে ন্ দ্ + ন হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
- কিন্তু, দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ/দ্ সন্ধিতে ল্ দ্ + ম হয় এবং ল্ পরের ল-এর ৎ+ সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত। 

অন্যদিকে, 
- 'নয়ন' এর শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- 'নে + অন = নয়ন'। 
- 'নিশ্চেষ্ট' এর সন্ধি বিচ্ছেদ: নিঃ + চেষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৪৮৬.
নিচের কোন শব্দটিতে নিত্য মূর্ধন্য 'ষ' বর্তমান?  
  1. কৃষক
  2. পুরস্কার
  3. ভূষণ
  4. সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
ভূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূষণ
ব্যাখ্যা

নিত্য মূর্ধন্য 'ষ' এর উদাহরণ - 'ভূষণ'।

• কিছু নিত্য মূর্ধন্য 'ষ'এর উদাহরণ:
- ভাষণ, ভূষণ, বিশেষ, আষাঢ়, শেষ, মানুষ, ঔষধ, ষড়ঋতু, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ষ- ত্ব বিধান অনুসারে,
- বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।
- 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৪৮৭.
'সন্ন্যাস' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সমঃ + ন্যাস
  2. সম্ + ন্যাস
  3. সৎ + ন্যাস
  4. সদ্‌ + ন্যাস
সঠিক উত্তর:
সম্ + ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + ন্যাস
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।

যেমন:
- সম্ + ধি = সন্ধি, 
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ, 
- সম্ + ন্যাস = সন্ন্যাস
- সম্ + প্রীতি = সম্প্রীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
২,৪৮৮.
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোনটি?
  1. ত 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

২,৪৮৯.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. বন + ওষধি = বনৌষধি
  2. রাজ + ঋষি = রাজর্ষি
  3. মহা + ঔষধ = মহৌষধ
  4. মহা + ঋষি = মহর্ষি
সঠিক উত্তর:
রাজ + ঋষি = রাজর্ষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজ + ঋষি = রাজর্ষি
ব্যাখ্যা

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমন-
• রাজা + ঋষি = রাজর্ষি,
• মহা + ঋষি = মহর্ষি,
• উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ,
• অধম + ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন-
• মহা + ঔষধ = মহৌষধ,
• মহা + ওষধি = মহৌষধি,
• বন + ওষধি = বনৌষধি,
• পরম + ঔষধ = পরমৌষধ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৯০.
ভাষার মূল ভিত্তি হচ্ছে - 
  1. বাক্য
  2. ধ্বনি
  3. শব্দ
  4. বর্ণ 
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
ব্যাখ্যা

ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি।
-----------
• ভাষার মূল ভিত্তি:
- ধ্বনি হলো ভাষার মূল ভিত্তি।
- এটি সবচেয়ে ক্ষুদ্র মৌলিক উপাদান, যা মানুষের বাকযন্ত্রের সাহায্যে উৎপন্ন হয়।
- অ, আ, ক, খ ইত্যাদি ধ্বনির সমন্বয়ের মাধ্যমেই অর্থবোধক শব্দ গঠিত হয় এবং সেই শব্দ থেকেই ভাষার কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে।
- যদিও ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক, তবু এককভাবে এর কোনো অর্থ থাকে না।
- অর্থ সৃষ্টি হয় একাধিক ধ্বনি মিলিত হয়ে শব্দ গঠনের মাধ্যমে।
- এই কারণেই ধ্বনিকে ভাষার ‘মূল বীজ’ বলা হয়।
- ধ্বনি নিজে অর্থহীন হলেও শব্দ ও বাক্য গঠনের মাধ্যমে ভাষায় অর্থ সৃষ্টির প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
--------------------------- 
অন্যদিকে,
• বাক্য ভাষার মূল উপকরণ।
• ভাষার মৌলিক উপাদান- শব্দ।
• ধ্বনি নির্দেশক চিহ্ন - বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,৪৯১.
"স্বয়ংবরা" - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্বয়্‌ + বরা
  2. স্বম + বরা
  3. স্বয়ম্‌ + বরা
  4. স্বয়মঃ + বরা
সঠিক উত্তর:
স্বয়ম্‌ + বরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বয়ম্‌ + বরা
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম: 
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার ( ং) হয়।

যেমন:
- সম্‌ + সার = সংসার,
- সম্‌ + বাদ = সংবাদ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২,৪৯২.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ঞ্‌ + ব = ঞ্ঝ
  2. হ্ + ম = হ্ম
  3. ষ্‌ + ক = ক্ষ
  4. ক্ + ষ + ন = ক্ষ্ম
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম = হ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম = হ্ম
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যেমন:
- হ্ + ম = হ্ম। 

• 'হ্ম' - সহযোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ: ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, ব্রহ্মপুত্র ইত্যাদি।

-----------------
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- ঞ্‌ + ঝ = ঞ্ঝ, 
- ঞ + জ = ঞ্জ,
- ঞ + চ = ঞ্চ,
- ঞ + ছ = ঞ্ছ,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
২,৪৯৩.
'তস্কর' কোন ধরনের সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• তস্কর - নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি

ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ: 
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোস্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- মনস্‌ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২,৪৯৪.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দু + যোগ = দুর্যোগ
  2. বসুন্‌ + ধরা = বসুন্ধরা
  3. যশঃ + ইচ্ছা = যশোচ্ছা
  4. হিম্‌ + সা = হিংসা
সঠিক উত্তর:
যশঃ + ইচ্ছা = যশোচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশঃ + ইচ্ছা = যশোচ্ছা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ - যশঃ + ইচ্ছা = যশোচ্ছা
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

অন্যান্য অপশনগুলোর শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: 
- দুঃ + যোগ = দুর্যোগ,
- বসুম্‌ + ধরা = বসুন্ধরা,
- হিন্‌ + সা = হিংসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪৯৫.
'বহূর্ধ্ব' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বহূ + উর্ধ্ব
  2. বহু + ঊর্ধ্ব
  3. বহু + উর্ধ্ব
  4. বহু + ঊর্দ্ধ
সঠিক উত্তর:
বহু + ঊর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহু + ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে উ-কার হয়, উ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন ধ্বনির সাথে যুক্ত হয়। 

যেমন:
- মরু + উদ্যান = মরূদ্যান, 
- বহু + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব,
- বধূ + উৎসব = বধূৎসব,
- ঊ; ভূ + ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

২,৪৯৬.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের উচ্চারন [ও] এর মতো হবে?
  1. অদ্য
  2. কথা
  3. অনাথ
  4. অনেক
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা
• 'অদ্য' শব্দটিতে অ বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়।

• স্বরবর্ণ  অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২,৪৯৭.
মূর্ধন্য 'ষ' এর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. সংষ্ফুট  
  2. সংষ্করণ
  3. অনুষঙ্গ
  4. সংষ্কার
সঠিক উত্তর:
অনুষঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুষঙ্গ
ব্যাখ্যা

অনুষঙ্গ শব্দে ‘ষ’ ধ্বনির শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

অন্যদিকে, 
• 'সংষ্কার' এর শুদ্ধরূপ- সংস্কার।
• 'সংষ্ফুট' এর শুদ্ধরূপ- সংস্ফুট।
• 'সংষ্করণ' এর শুদ্ধরূপ- সংস্করণ।

-----------------------
• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
- 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
- অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন-অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম ইত্যাদি।
- তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

- কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ষড়যন্ত্র, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২,৪৯৮.
ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অপরাহ্ন
  2. অপরান্ন
  3. অপরাহ্ণ
  4. অপরাণ্ন
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরাহ্ণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী শুদ্ধ বানান- 'অপরাহ্ণ'।  

• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।
- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- অপর, পরা, পূর্ব, প্র- এই কয়টি পূর্ব পদের পর অহ্ন শব্দ বসলে ণত্ব বিধি অনুসারে দন্ত্য ন- এর জায়গায় মূর্ধন্য ণ হয়।  
- যেমন,
অপরাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি। 

• ‘অপরাহ্ণ’ শব্দে যুক্তবর্ণের বিশ্লিষ্ট রূপ হল: হ্ + ণ = হ্ণ। 

• অপরাহ্ণ শব্দের অর্থ:
- মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, বিকেল।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২,৪৯৯.
ব্যঞ্জন বিকৃতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. সত্য > সত্যি
  2. শাক > শাগ
  3. ধোবা > ধোপা
  4. ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
সত্য > সত্যি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সত্যি
ব্যাখ্যা
• 'ব্যঞ্জন বিকৃতি' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়- সত্য > সত্যি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• অন্ত্যস্বরাগম: কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন
- দিশ্ > দিশা;
- পোখত্ > পোক্ত;
- বেঞ্চ > বেঞ্চি;
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৫০০.
ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি -
  1. ক, ন
  2. থ, দ
  3. ব, ঙ
  4. স, হ
সঠিক উত্তর:
ব, ঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব, ঙ
ব্যাখ্যা
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: , ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, , হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, , , ট, ঠ, চ, ছ, শ, , খ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।