বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ১৮ / ৬৩ · ১,৭০১১,৮০০ / ৬,৩২৭

১,৭০১.
শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ নির্ণয় করুন - 
  1. কিম্ + চিত = কিঞ্চিৎ
  2. সম্ + আবেশ = সন্নিবেশ
  3. কিম্ + তু = কিন্তু
  4. সন্‌ + ধি = সন্ধি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কিম্ + তু = কিন্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিম্ + তু = কিন্তু
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - কিম্ + তু = কিন্তু

সন্ধির নিয়ম:

- আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।

যেমন:
- কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিৎ,
- সম্ + ত্রাস = সন্ত্রাস,
- সম্ + ধি = সন্ধি,
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,৭০২.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. অবগ্নি
  2. অজন্ত
  3. আস্পদ
  4. অবিন্ধন
সঠিক উত্তর:
আস্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আস্পদ
ব্যাখ্যা
⇒ নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি:
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এসব সন্ধিকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।

যেমন:
• তদ্ + কর = তস্কর;
• এক + দশ = একাদশ।
• দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক।
• ষট্ + দশ = ষোড়শ।
• হরি + চন্দ্র= হরিশ্চন্দ্র।
• বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
• আ + চর্য = আশ্চর্য।
•  গো + পদ = গোষ্পদ।
• আ + পদ = আস্পদ।
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি।
• পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ।
• বাক্ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী।
• বিশ্ব+ মিত্র = বিশ্বামিত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে, ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
• অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন।
• অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
• অপ্ + অগ্নি = অবগ্নি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭০৩.
'মুখচ্ছবি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মুখো + ছবি
  2. মুখ + ছবি
  3. মুখ + চ্ছবি
  4. মুখঃ + ছবি
সঠিক উত্তর:
মুখ + ছবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখ + ছবি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি। 

----------------
• ব্যঞ্জনসন্ধি:

স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা:
- অ + ছ = চ্ছ; এক ছত্র = একচ্ছত্র।
- আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
- ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

এরূপ- মুখচ্ছবি, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১,৭০৪.
বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ কোনটি?
  1. ক) ঋ
  2. খ) ঈ
  3. গ) এ
  4. ঘ) ঐ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঐ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ঐ
ব্যাখ্যা
যৌগিক স্বরধ্বনি:
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরুপে উচ্চারিত হয়। এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলে।
যেমনঃ
- অ + ই = অই (বই)
- অ + এ = অয় (বয়, ময়না)

- বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা - পঁচিশটি।
- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটি বর্ণ রয়েছে - ঐ এবং ঔ।
- অন্য যৌগিক স্বরগুলোর চিহ্নস্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭০৫.
"ব্যাকরণ" শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ব্যাকরোণ্‌
  2. ব্যাকরোন্‌
  3. ব্যাকরন্‌
  4. ব্যাকোরন্‌
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরোন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরোন্‌
ব্যাখ্যা
অ্যা ধ্বনির উচ্চারণ:
- পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে 'অ্যা' ধ্বনির কোনো স্বতন্ত্র ধ্বনি-চিহ্ন নেই। কয়েকটি ক্ষেত্রে আ ধ্বনির উচ্চারণ অ্যা হয়।

১. শব্দের শুরুতে যুক্ত ব্যঞ্জনের জ্ঞ আ-কার থাকলে জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাঁপন]।

২. য-ফলা যুক্ত ব্যঞ্জনের সঙ্গে আ-কার বা আ-ধ্বনির উচ্চারণ প্রায় ক্ষেত্রেই অ্যা হয়।
যেমন: খ্যাতি [খ্যাতি], ব্যাপার [ব্যাপার], ত্যাগ [ত্যাগ্‌], ব্যাকরণ [ব্যাকরোন্‌]

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭০৬.
কোন দুটি স্বরবর্ণের পরে 'ষ' এর প্রয়োগ হয় না? 
  1. ঐ, উ
  2. ই, ঋ
  3. অ, আ
  4. এ, ঐ 
সঠিক উত্তর:
অ, আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ, আ
ব্যাখ্যা

ষত্ব বিধান:
- বাংলা ব্যাকরণের ষত্ব বিধান সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না।
- বিশেষ করে ‘অ’ ও ‘আ’ স্বরবর্ণের পরে সাধারণত মূর্ধন্য ‘ষ’ বসে না; সেখানে দন্ত্য ‘স’-ই ব্যবহৃত হয়।
- কারণ এই দুই স্বর উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান এমন থাকে যে ‘ষ’ ধ্বনি উচ্চারণের প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হয় না।
- কিন্তু ই, উ, ঋ প্রভৃতি স্বরবর্ণের পরে কিংবা ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ব্যঞ্জনের পরে, উচ্চারণকে সহজ করতে অনেক সময় স → ষ রূপান্তর ঘটে।

- এই নিয়মের কারণেই পুরস্কার, অসৎ, আসন—এ ধরনের শব্দে ‘স’ ব্যবহৃত হয়, ‘ষ’ নয়।
-----------------------
- ষত্ব বিধানের নিয়ম:
• ঋ, র, ষ বর্ণের পরে মূর্ধন্য ষ হয়।
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পরে মূর্ধন্য ষ হয়।
• ট বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত দন্ত্য স মূর্ধন্য ষ হয়।
--------------------------
উল্লেখ্য,
- যেসব ক্ষেত্রে ‘ষ’-এর ব্যবহার হয় না—
১. খাঁটি বাংলা শব্দ এবং ক্রিয়াপদে কখনোই ‘ষ’ হয় না। যেমন—করিস, দিস্‌, যাস ইত্যাদি।
২. বিদেশি শব্দে কখনোই ‘ষ’ হয় না। যেমন—পোশাক, জিনিস, অফিস, স্টেশন ইত্যাদি।
৩. ‘স্পৃহ’ বা ‘স্পন্দ’ ধাতুর ‘স’ কখনো ‘ষ’ হয় না। যেমন—নিস্পৃহ, নিস্পন্দ ইত্যাদি।
৪. চ-বর্গীয় বর্ণ অর্থাৎ তালব্য বর্ণ এবং ত-বর্গীয় বর্ণ অর্থাৎ দন্ত্য বর্ণের সঙ্গে কখনোই ‘ষ’ যুক্ত হয় না। যেমন—নিশ্ছিদ্র, বিস্তর, দুস্থ ইত্যাদি।

উৎস: 
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; 
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৭০৭.
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঈর্ষা
  2. আষাঢ়
  3. পাষাণ
  4. ভাষণ
সঠিক উত্তর:
ঈর্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈর্ষা
ব্যাখ্যা

ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, কৃষ্ণ, তৃষ্ণা, তৃষা ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’/রেফ-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ, বর্ষী, ঈর্ষা, পর্ষদ, শীর্ষক।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭০৮.
'ক্ষ্ম' যুক্তবর্ণটি কয়টি বর্ণ নিয়ে গঠিত?
  1. ২টি
  2. ১টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষ্ম' যুক্তবর্ণটি 'ক্‌ + ষ্‌ + ম' '৩টি' বর্ণ নিয়ে গঠিত।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ: 
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্+ ম = হ্ম,
- হ্ + ন  = হ্ন,
- ষ্ + ণ= ষ্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত,  নবম ও দশম শ্রেণি, (সংস্করণ- ২০২১ )।
১,৭০৯.
নিম্ন - মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. অ্যা
সঠিক উত্তর:
অ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা
ব্যাখ্যা

• [অ্যা] নিম্ন-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।

অন্যদিকে,
- [ই] উচ্চ সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [উ] উচ্চ পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [এ]  উচ্চ-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [ও]  উচ্চ-মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [অ্যা]  নিম্ন - মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [অ]  নিম্ন - মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [আ]  নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

১,৭১০.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক?
  1. ঋণ, ঘর্ষণ, বর্ন
  2. কাণ্ড, দ্বেষ, ক্রন্দণ
  3. অন্ত, উষ্ণ, পোষ্ট
  4. গ্রন্থ, ঘণ্টা, সুষুপ্ত
সঠিক উত্তর:
গ্রন্থ, ঘণ্টা, সুষুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রন্থ, ঘণ্টা, সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে সঠিক - গ্রন্থ, ঘণ্টা, সুষুপ্ত

ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন - ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন

ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

২. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন - বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৩. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

৪. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭১১.
'শ্মশান' - শব্দের উচ্চারণ কোনটি সঠিক?
  1. শঁশান্‌
  2. শ্মশান
  3. শশান্
  4. শমশান
সঠিক উত্তর:
শঁশান্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শঁশান্‌
ব্যাখ্যা

'ম' বর্ণের উচ্চারণ:
- বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শঁশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৭১২.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ নয় কোনটি? 
  1. জ্ঝ
  2. ক্ষ্ম 
  3. ঞ্চ
  4. ঙ্গ 
সঠিক উত্তর:
জ্ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঝ
ব্যাখ্যা

-  অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ নয়: জ্ঝ।  

• যুক্তবর্ণ : 

সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না, এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম। যথা:
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ঝ, ঞ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ন্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্ফ, ষ্ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত = (ক্ + ত), 
ক্ম = (ক্ + ম), 
ক্ষ = (ক্ + ষ), 
ক্ষ্ম = (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স = (ক্ + স), 
গু = (গ্ + উ),
গ্ধ = (গ্ + ধ), 
ঙ্গ = (ঙ্ + গ), 
ণ্ড = (ণ্ + ড),
জ্ঞ = (জ + ঞ), 
ঞ্চ = (ঞ্ + চ), 
ঞ্জ = (ঞ্ + জ), 
ষ্ণ = (ষ্ + ণ)
হু = (হ্ + উ), 
হৃ = (হ + ঋ), 
হ্ন = (হ্ + ন), 
হ্ম = (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি( ২০২২ সংস্করণ)। 

১,৭১৩.
‘নাসিক্য’ বর্ণ কোনগুলো?
  1. ক) অ, ঋ, ব
  2. খ) ণ, ন, ম
  3. গ) উ, ঊ, য়
  4. ঘ) শ, স, ষ
সঠিক উত্তর:
খ) ণ, ন, ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ণ, ন, ম
ব্যাখ্যা

ঙ, ঞ, ণ, ন, ম - এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস তাড়িত বাতাস বের হয়ে বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকী বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭১৪.
"সাধু > সাউধ" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. অপিনিহিতি
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
• আজি > আইজ,
• সাধু > সাউধ,
• রাখিয়া > রাইখ্যা,
• বাক্য > বাইক্য,
• সত্য > সইত্য,
• চারি > চাইর,
• মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭১৫.
‘যদ্যপি’ এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যদ + পি
  2. যদি + অপি
  3. যদ্য + পি
  4. যদ্য + অপি
সঠিক উত্তর:
যদি + অপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি + অপি
ব্যাখ্যা
• সূত্র:
 • ই-কার বা ঈ-কারের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়, য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।

যেমন:
- ইতি + অন্ত = অত্যন্ত ,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি,
- যদি + অপি = যদ্যপি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৭১৬.
উচ্চারণের সময়ে জিভ এর উচ্চতা অনুযায়ী 'আ' এর অবস্থান-
  1. ক) উচ্চ স্বরধ্বনি
  2. খ) উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
  3. গ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
  4. ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে;
- নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে। 

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত করা যায়।
যথা-
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭১৭.
মানবদেহের যে প্রত্যঙ্গ ঘোষতা নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে-
  1. ক) জিভ
  2. খ) স্বরতন্ত্রী
  3. গ) কণ্ঠনালী
  4. ঘ) মুখবিবর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বরতন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বরতন্ত্রী
ব্যাখ্যা

বাগযন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রত্যঙ্গ হল স্বরযন্ত্র এবং স্বরযন্ত্রের মধ্যবর্তী স্বরতন্ত্রী। স্বরযন্ত্রের মাঝে দুটো সূক্ষ্ম তন্ত্রী আছে, এদেরকে স্বরতন্ত্রী বলে। এর মাঝখান দিয়ে ফুসফুসে বাতাস আসে আর যায়। বাতাস বের হওয়ার সময় স্বরতন্ত্রীকে কাপিয়ে বের হলে ধ্বনি ঘোষ হয়।
যে ধ্বনি উচ্চারনের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না তাকে অঘোষ এবং স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হলে তাকে ঘোষ ধ্বনি বলে।

অর্থাৎ, মানবদেহের স্বরতন্ত্রী ঘোষতা নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭১৮.
ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. যুগ্ম
  2. শ্মশান
  3. জন্ম 
  4. গুল্ম 
সঠিক উত্তর:
শ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্মশান
ব্যাখ্যা

• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন: শ্মশান [শঁশান্], স্মরণ [শঁরোন্]।

• শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন: আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

• কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন: যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১,৭১৯.
কোন ধ্বনির উচ্চারণ গাম্ভীর্যহীন ও মৃদু হয়?
  1. মহাপ্রাণ ধ্বনি
  2. ঘোষ ধ্বনি
  3. অল্পপ্রাণ ধ্বনি
  4. অঘোষ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অঘোষ ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঘোষ ধ্বনি
ব্যাখ্যা
অঘোষ ধ্বনি:
- কোনো কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না।
- তখন ধ্বনিটির উচ্চারণ গাম্ভীর্যহীন ও মৃদু হয়।
- এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যেমন:
- ক, খ, চ, ছ, প, ফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ঘোষ ধ্বনি:
- ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হলে ঘোষ ধ্বনি হয়।
যেমন:
- গ, জ, ড, ঘ, ঝ, ধ, ণ ইত্যাদি।

অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
- কোনো কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযোজিত হয় না। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি (Unaspirated)।
যেমন-ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- কোনো কোনো ধ্বনি উচ্চারণের সময় নিঃশ্বাস জোরে সংযোজিত হয়। এরূপ ধ্বনিকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি (Aspirated)।
যেমন- খ, ঘ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭২০.
স্বর সংগতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) রাত্রি > রাইত
  2. খ) দেশী > দিশী
  3. গ) হইবে > হবে
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) দেশী > দিশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দেশী > দিশী
ব্যাখ্যা
দেশী > দিশী- স্বর সংগতির উদাহরণ।

স্বরসংগতি ধ্বনি পরিবর্তন: 
- একটি স্বরধনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসংগতি বলে। যেমন- 
• দেশি > দিশি 
• বিলাতি > বিলিতি 
• মুলা > মুলো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭২১.
শীতার্ত এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শী+তার্ত
  2. শী+আর্ত
  3. শীত+আর্ত
  4. শীত+ঋত
সঠিক উত্তর:
শীত+ঋত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীত+ঋত
ব্যাখ্যা

• 'শীতার্ত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে - 'শীত + ঋত'।
- এটি একটি স্বরসন্ধি (তৎসম শব্দের)।
 
• সন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়।
যেমন:
- অ + ঋ = আর, শীত + ঋত = শীতার্ত।
- আ + ঋ = আর, তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭২২.
কোনটি অপনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সত্য > সত্যি
  2. সত্য > সইত্য
  3. সত্য > সচ্চ
  4. সত্য > সত্ত
সঠিক উত্তর:
সত্য > সইত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সইত্য
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ;
- সাধু > সাউধ;
- রাখিয়া > রাইখ্যা;
- বাক্য > বাইক্য;
- সত্য > সইত্য;
- চারি > চাইর;
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অন্ত্যস্বরাগম - সত্য > সত্যি।
• অন্যোন্য সমীভবন -  সত্য > সচ্চ।
• প্রগত সমীভবন - সত্য > সত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭২৩.
'ম্ফ' যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. স্‌ + ফ
  2. খ্‌ + ফ
  3. ম্‌ + ফ
  4. ন্‌ + ফ
সঠিক উত্তর:
ম্‌ + ফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্‌ + ফ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ- ম্‌ + ফ = ম্ফ।  

--------------
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ন্ঠ, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, ষ্ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ণ্ড (ণ্ + ড),
রূ ( র্ + ঊ),
ভ্রূ ( ভ্ + র্ + ঊ)
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্ + উ),
ত্র (ত্ + র)
গ্ধ (গ্ + ধ),
ট্ট (ট্ + ট),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৭২৪.
কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসলে তাকে বলা হয়-
  1. Prothesis
  2. Anaptyxis
  3. Apenthesis
  4. Apothesis
সঠিক উত্তর:
Apothesis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Apothesis
ব্যাখ্যা

• আদি স্বরাগম (Prothesis):
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন
 - স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন। 

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
 - রত্ন > রতন, প্রীতি > পিরীতি, মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক তুরুক, ভ্রূ ভুরু ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন
দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ >বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি (Apenthesis): 
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
 যেমন
- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৭২৫.
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুসারে, কোনটি উচ্চ স্বরধ্বনি?
  1. ও 
  2. এ 
  3. ই 
  4. অ 
সঠিক উত্তর:
ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই 
ব্যাখ্যা

• 'ই'- উচ্চ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।

১,৭২৬.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধানের নিয়মসিদ্ধ উপায়ে গঠিত?
  1. ক) দর্ষন
  2. খ) অর্ষ
  3. গ) আষাঢ়
  4. ঘ) বিষম
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিষম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিষম
ব্যাখ্যা
• ই -কারান্ত এবং উ -কারান্ত উপসর্গের পর কতকগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমনঃ অভিসেক > অভিষেক, বিসম > বিষম ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন- রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• দর্শন, আদর্শ, অর্শ, বর্শা ইত্যাদি শব্দে ষ হয় না।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭২৭.
অর্ধমাত্রার বর্ণ কোনটি?
  1. ৎ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি ও বর্ণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং , ঃ  , ঁ।

• অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
• পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২৮.
কম্পিত ব্যঞ্জনের উপস্থিতি আছে কোন শব্দে?
  1. হঠাৎ
  2. চানাচুর
  3. গাঢ়
  4. বড়ো
সঠিক উত্তর:
চানাচুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চানাচুর
ব্যাখ্যা
• 'চানাচুর' শব্দে কম্পিত ব্যঞ্জন 'র' এর উপস্থিতি আছে।

কম্পিত ব্যঞ্জন:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হঠাৎ শব্দের কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- 'গাঢ়' এবং 'বড়ো' শব্দের 'ঢ়' এবং 'ড়' মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭২৯.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়েছে?
  1. ক) অপরাহ্ণ
  2. খ) কল্যাণ
  3. গ) উত্তরায়ণ
  4. ঘ) নারায়ণ
সঠিক উত্তর:
খ) কল্যাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কল্যাণ
ব্যাখ্যা
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন-
- কল্যাণ, 
- নিপুণ,
- মাণিক্য,
- বাণিজ্য,
- লবণ,
- মণ,
- গুণ,
- বিপণি,
- পাণি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৩০.
কোনটি 'বৈশাখ' শব্দের উচ্চারণ?
  1. বই্‌শাখ্‌
  2. বোই্‌শাখ্‌
  3. বই্‌সাখ্‌
  4. বোই্‌সাখ্‌
সঠিক উত্তর:
বোই্‌শাখ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোই্‌শাখ্‌
ব্যাখ্যা
• বানান: বৈশাখ।
- সঠিক উচ্চারণ: বোই্‌শাখ্‌
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: বিশাখা + অ।
- অর্থ: বাংলা বছরের প্রথম মাস, গ্রীষ্মঋতুর প্রথম মাস।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৭৩১.
কোনটি ভুল?
  1. ক) উৎ + হার = উদ্ধার
  2. খ) ষট্ + আনন = ষড়ানন
  3. গ) উৎ + ডীন = উড্ডীন
  4. ঘ) ক্ষুধা + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষুধা + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষুধা + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা
ব্যাখ্যা
ক্ষুধ্ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা। ধ এর পরে প থাকলে ধ এর স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ত হয়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৭৩২.
"কাকা" শব্দে কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ওষ্ঠ্য
  2. কণ্ঠ্য
  3. দন্ত্য
  4. মূর্ধন্য
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য
ব্যাখ্যা
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, কাকা গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৭৩৩.
'ছ, জ, ঝ, শ' - এইগুলো কোন ধরনের বর্ণ?
  1. তালব্য ব্যঞ্জন
  2. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  4. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন: পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্ত্য ব্যঞ্জন: তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৭৩৪.
'জানালা > জান্‌লা' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রতি
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে > আটাসে, 
- কুটুম্ব > কুটুম, 
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭৩৫.
বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি কোনটি?
  1. ক) আশ্চর্য
  2. খ) বনস্পতি
  3. গ) বৃহস্পতি
  4. ঘ) সংস্কার
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংস্কার
ব্যাখ্যা

কিছু কিছু সন্ধি কিছু বিশেষ নিয়মে হয়। এগুলোকে বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধি বলে।

বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধিঃ
সম্‌+কার = সংস্কার।
সম্‌+কৃত = সংস্কৃত।
উৎ+স্থান = উত্থান।
উৎ+স্থাপন = উত্থাপন।
পরি+কার = পরিষ্কার।
সম্‌+কৃতি = সংস্কৃতি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১,৭৩৬.
কোনটি অপনিহিতির উদাহরণ?
  1. ক) শুনিয়া
  2. খ) রাইত
  3. গ) জলো
  4. ঘ) চলতি
সঠিক উত্তর:
খ) রাইত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাইত
ব্যাখ্যা
ভাষার পরিবর্তন ধ্বনির পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। অপিনিহিতি তার মধ্যে অন্যতম।

অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন – আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া » রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি
অনুরূপভাবে, রাতি > রাইত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৩৭.
কোনটি সঠিক যুক্তবর্ণ?
  1. গু = গ্‌ + ঊ
  2. জ্ঞ = জ্‌ + গ
  3. ঞ্জ = ঙ্‌ + জ
  4. ঙ্গ = ঙ্‌ + গ
সঠিক উত্তর:
ঙ্গ = ঙ্‌ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ্গ = ঙ্‌ + গ
ব্যাখ্যা

• সঠিক যুক্তবর্ণ - ঙ্গ = ঙ্‌ + গ

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ নিম্নে দেওয়া হলো:
- গু = গ্‌ + উ।
- জ্ঞ = জ্‌ + ঞ।
- ঞ্জ = ঞ্‌ + জ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

১,৭৩৮.
ভাই শব্দে ‘ভ’ কোন ধরণের ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. কন্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৩৯.
"ধােবা > ধােপা" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে,
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
- গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলা,
- আলাহিদা > আলাদা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৪০.
কোন ধরনের ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী বেশি অনুরণিত হয়?
  1. অঘোষ ধ্বনি
  2. অল্পপ্রাণ ধ্বনি
  3. ঘোষ ধ্বনি
  4. মহাপ্রাণ ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘোষ ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘোষ ধ্বনি
ব্যাখ্যা
ঘোষ ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাকে ঘোষ ধ্বনি বলে।
যেমন- গ, জ, ড, ঘ, ঝ, ধ, ব ইত্যাদি ঘোষ ধ্বনি৷

অন্যদিকে,
অঘোষ ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যেমন- ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি।

অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
- প্রত্যেক বর্গের প্রথম, তৃতীয় ও পঞ্চম ধ্বনির উচ্চারণকালে বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে বলে এদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে।
যেমন: ক, গ, ঙ, চ, জ, ঞ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- প্রত্যেক বর্গের দ্বিতীয় ও চতুর্থ ধ্বনির উচ্চারণকালে বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে বলে এদের মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
যেমন: খ, ঘ; ছ, ঝ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭৪১.
"পরীক্ষাচ্ছলে" শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরিক্ষা + চ্ছলে
  2. পরীক্ষা + ছলে
  3. পরীক্ষা + চ্ছলে
  4. পরিক্ষা + ছলে
সঠিক উত্তর:
পরীক্ষা + ছলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরীক্ষা + ছলে
ব্যাখ্যা

• সন্ধির নিয়ম:
- স্বরধ্বনির পরে ছ্‌ থাকলে ছ্‌ স্থানে চ্ছ হয়।

যেমন:
- বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া, 
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- পরীক্ষা + ছলে = পরীক্ষাচ্ছলে,
- প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,৭৪২.
কোন কোন বর্গের ধ্বনিগুলো অঘোষ ধ্বনি?
  1. ক) ১ম ও ৩য়
  2. খ) ১ম ও ৫ম
  3. গ) ২য় ও ৪র্থ
  4. ঘ) ১ম ও ২য়
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১ম ও ২য়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১ম ও ২য়
ব্যাখ্যা
যে বর্ণগুলাে উচ্চারণ করতে ফুসফুস থেকে অপেক্ষাকৃত কম বাতাস প্রবাহিত হয় এবং কম নাদিত হয়, তাদের অঘােষ বর্ণ বলে। যথা: বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ এবং স। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,৭৪৩.
কোন জাতীয় শব্দে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার হয় না?
  1. ইংরেজি
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন,
জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না।
যেমন,
অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৪৪.
'নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল' শব্দের বানানে মোট অক্ষর সংখ্যা কয়টি?
  1. ৮টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
⇒ অক্ষর:
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)

• 'নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল' শব্দে ৭ টি অক্ষর রয়েছে (না + তি + শী + ত + উষ্ণ + মণ্‌ + ডল) 

⇒ অক্ষর নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে দুটো বিষয় লক্ষণীয় - যতগুলো কার আছে এবং যতগুলো এক প্রয়াসে উচ্চারিত শব্দাবলী তার সমষ্টি হবে অক্ষর সংখ্যা।
১,৭৪৫.
'কৃষ্ণ' শব্দের যুক্তাবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ষ্ + ঞ
  2. ষ্ + ণ
  3. ষ্ + ঙ
  4. ণ্‌ + ষ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ষ্ + ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্ + ণ
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্ণ' শব্দের যুক্তাবর্ণটি 'ষ্ + ণ' বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।

কিছু যুক্তবর্ণ:
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৭৪৬.
'ষট্ + দশ = ষোড়শ' - কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. বিসর্গসন্ধি
  2. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  3. স্বরসন্ধি
  4. ব্যঞ্জনসন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
- 'ষোড়শ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = ষট্ + দশ।
- এটি নিপাতনে সন্ধি বিচ্ছেদের উদাহরণ। 

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
• বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
• আ + চর্য = আশ্চর্য,
• গো + পদ = গোষ্পদ,
• পর্‌ + পর = পরস্পর,
• ষট্ + দশ = ষোড়শ,
• এক্‌ + দশ = একাদশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৪৭.
ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. জিনিষ
  2. মাষ্টার
  3. ষ্টেশন
  4. প্রতিষেধক
সঠিক উত্তর:
প্রতিষেধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিষেধক
ব্যাখ্যা

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট. স্টেশন, ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭৪৮.
সংযুক্ত বর্ণের কোন গঠনটি শুদ্ধ?
  1. ক্‌ + ত = ক্ত
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ত্‌ + উ = ত্রু
  4. ঞ + গ = ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ক্‌ + ত = ক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্‌ + ত = ক্ত
ব্যাখ্যা

• সংযুক্ত বর্ণের শুদ্ধরূপ- ক্‌ + ত = ক্ত। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ত্‌ + র্‌ + উ = ত্রু,
- ক্‌ + ত = ক্ত, 
- ভ্ + র = ভ্র, 
- ত্ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্ + ম = হ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৭৪৯.
ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনগুলো?
  1. ছ, ঝ, খ
  2.  ত, ট, চ
  3. গ, ঙ, ল
  4. থ, স, হ
সঠিক উত্তর:
গ, ঙ, ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ, ঙ, ল
ব্যাখ্যা
•ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি- গ, ঙ, ল।

• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

• ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১,৭৫০.
নিচের কোনটি নাসিক্য ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• নাসিক্য ধ্বনি:
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস-তাড়িত বাতাস বের হয় বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকী বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ।

অন্যদিকে,
, ষ, স, - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি।
- কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,৭৫১.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয় এমন উদহরণ কোনটি?
  1. কৃষক
  2. কোষ
  3. চিকীর্ষা
  4. চক্ষুষ্মান
সঠিক উত্তর:
কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষ
ব্যাখ্যা
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স য হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ (ভ্ + অ + + ই+) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান),
যেমন:
- মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'য' হয়।
যেমন-
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'য' হয়।
যেমন-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ।
১,৭৫২.
'সংবিধান' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সমঃ + বিধান
  2. সঙ্ + বিধান
  3. সমঙ্ + বিধান
  4. সম্ + বিধান
সঠিক উত্তর:
সম্ + বিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + বিধান
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো সন্ধি হচ্ছে-
সম্ + কার = সংস্কার,
সম্ + বিধান = সংবিধান,
উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
সম্ + কৃত = সংস্কৃত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৫৩.
কোনটি অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ?
  1. ক) মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট
  2. খ) প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল
  3. গ) মনঃ + কামনা = মনঃকামনা
  4. ঘ) আন্তঃ + করণ = আন্তঃকরণ
সঠিক উত্তর:
গ) মনঃ + কামনা = মনঃকামনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনঃ + কামনা = মনঃকামনা
ব্যাখ্যা
অঘােষ অল্পপ্রাণ ও অঘােষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘােষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থালে অঘােষ মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন
অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = স + ক - নমঃ + কার = নমস্কার।
    অনুরূপভাবে, মনঃ + কামনা = মনস্কামনা
অ এর পরে বিসর্গ ঃ+ খ = স + খ - পদঃ + খলন =পদস্খলন।
ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = ষ + ক - নিঃ + কর = নিষ্কর।
উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = ষ + ক - দুঃ + কর = দুষ্কর।

এরূপ- ভাস্কর, বাচস্পতি, চতুষ্কোণ, আবিষ্কার, দুস্কৃতি, বিহিস্কৃত, দুষ্প্রাপ্য, নিষ্পাপ, নিষ্ফল, চতুষ্পদ, রিস্কার, মনস্কামনা, পুরস্কার ইত্যাদি।

৬. কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লােপ পায় না।
যেমন
শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া
মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট 
প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল। 
আন্তঃ + করণ = আন্তঃকরণ

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৪.
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে নিচের কোন শব্দটি গঠিত?
  1. বৃহস্পতি
  2. একাদশ
  3. উল্লাস
  4. নাবিক
সঠিক উত্তর:
উল্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লাস
ব্যাখ্যা
নাবিক শব্দটি স্বরসন্ধির নিয়মানুসারে গঠিত।
সন্ধিবিচ্ছেদ - নৌ + ইক = নাবিক

উল্লাস শব্দটি ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে গঠিত।
সন্ধিবিচ্ছেদ - উৎ + লাস = উল্লাস

বৃহস্পতি ও একাদশ শব্দ দুটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির মাধ্যমে গঠিত শব্দের উদাহরণ।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)
১,৭৫৫.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনির প্রকরণ নয় কোনটি?
  1. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
  2. মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
  3. কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
  4. দন্তমূলীয় স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয় স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয় স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণস্থান অনুযায়ী স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনির প্রকরণ নয় - দন্তমূলীয় স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন।

⇒ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:

যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১,৭৫৬.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি কোনটি?
  1. গােষ্পদ
  2. শুভেচ্ছা
  3. পিত্রাদেশ
  4. নায়ক
সঠিক উত্তর:
গােষ্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােষ্পদ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলােকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন: 
- গাে + পদ = গােষ্পদ,
- এক + দশ = একাদশ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
• অ/আ + ই/ঈ = এ। সূত্রযোগে সন্ধি বিচ্ছেদ ঘটেছে 'শুভেচ্ছা' শব্দে।
যেমন – শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
 
• ঋ-কারের পর ঋ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ‘ঋ’ স্থানে ‘র’ হয় এবং
- তা র-ফলা রূপে পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়,
- পিতৃ + আদেশ = পিত্রাদেশ।
 
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব ও আব হয়।
যেমন-
গৈ + অক = গায়ক,
নে + অন = নয়ন,
নৈ + অক = নায়ক,
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৫৭.
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

মৌলিক স্বরধ্বনি:
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন:
- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।

অন্যদিকে:
- বাংলা ভাষায় মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা ৩০টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৫৮.
উচ্চারণস্থান অনুসারে কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন
বাক্‌প্রত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলো ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়: ১. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন, ২. দন্ত্য ব্যঞ্জন, ৩. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন, ৪. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন, ৫. তালব্য ব্যঞ্জন, ৬. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন, ৭. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধানি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধানি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ওষ্ঠ্যব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দস্থা ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দস্তামূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যাঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিজ্যের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়  মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধানির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কন্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।
১,৭৫৯.
দন্ত্য বর্ণ কোনগুলো?
  1. ক, খ, গ, ঘ
  2. প, ফ, ব, ভ
  3. ত, থ, দ, ধ
  4. ট, ঠ, ড, ঢ
সঠিক উত্তর:
ত, থ, দ, ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত, থ, দ, ধ
ব্যাখ্যা
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
 ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো-
- ক, খ, গ, ঘ ঙ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৬০.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. আষাঢ়
  2. উৎকৃষ্ঠ
  3. পৌষ
  4. দ্বেষ
সঠিক উত্তর:
উৎকৃষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎকৃষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - উৎকৃষ্ঠ।

• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৬১.
কোন দুটি অঘোষ ধ্বনি?
  1. দ ধ
  2. ব ভ
  3. ড ঢ
  4. চ ছ
সঠিক উত্তর:
চ ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ ছ
ব্যাখ্যা
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৭৬২.
নিচের কোন বানানগুচ্ছের সব বানান শুদ্ধ?
  1. ক) সিক্ত, সেবা, সুপ্ত
  2. খ) নিষুপ্ত, পরিস্কার, ভাস্কর
  3. গ) অভিষেক, নমষ্কার, পরস্পর
  4. ঘ) তিরস্কার, নিষ্পন্ন, নিস্পাপ
সঠিক উত্তর:
ক) সিক্ত, সেবা, সুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিক্ত, সেবা, সুপ্ত
ব্যাখ্যা

- প্রথম অপশনের সব বানান ঠিক।
- দ্বিতীয় অপশনের নিষুপ্ত ও ভাস্কর ঠিক। পরিস্কার ভুল, শুদ্ধ হবে পরিষ্কার।
- তৃতীয় অপশনে অভিষেক, নিষ্পন্ন ঠিক। নিস্পাপ ভুল, শুদ্ধরূপ হবে নিষ্পাপ।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

১,৭৬৩.
নিচের কোন শব্দটি স্বরসন্ধির নিয়ম অনুসারে গঠিত হয় নি?
  1. গবেষণা
  2. অন্বেষণ
  3. গবাদি
  4. শুদ্ধোদন
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধোদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধোদন
ব্যাখ্যা

অনু + এষণ = অন্বেষণ [উ + এ = ব + এ]
গো + এষণা = গবেষণা [ও + এ = অব্‌ + এ]
গো + আদি = গবাদি [ও + আ = অব্‌ + আ]

অন্যদিকে,
শুদ্ধোধন একটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরস্বন্ধির উদাহরণ।
শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোধন।

আরো কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি হলো:
- প্রৌঢ় = প্র + ঊঢ়
- কুলটা = কুল + অটা
- গবাক্ষ = গো + অক্ষ
- মার্তন্ড = মার্ত + অন্ড
- অন্যান্য = অন্য + অন্য

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)

১,৭৬৪.
‘বর্তুল স্বর' কীভাবে উচ্চারিত হয়?
  1. ক) উচ্চারণে ঠোঁট সবচেয়ে বেশি খোলা থাকে
  2. খ) উচ্চারণে ঠোঁট মাঝামাঝি খোলা থাকে
  3. গ) উচ্চারণে ঠোঁট সবচেয়ে কম খোলা থাকে
  4. ঘ) উচ্চারণে ঠোঁট গোল হয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচ্চারণে ঠোঁট গোল হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচ্চারণে ঠোঁট গোল হয়
ব্যাখ্যা
বর্তুল শব্দের অর্থ - গোলাকার; বৃত্ত সদৃশ।

• বর্তুল স্বর (round vowel) এমন একটি স্বর যা উচ্চারণের সময় ঠোঁটের চারপাশে একটি বর্তুল আকারের খোলা থাকে। এটি সাধারণত তৈরি হয় যখন ঠোঁট সামনে আগায় এবং মুখের ভেতরে একটি বর্তুল আকারের খোলা থাকে। 

• বর্তুল স্বর হলো ভাষা বিজ্ঞানে একটি টার্ম, যা উচ্চারণের সময় মুখের ভেতরের অবস্থানকে বর্ণনা করে। বর্তুল স্বরের উচ্চারণ হয় যখন জিহ্বার অগ্রভাগ এবং তালুর মধ্যভাগের মধ্যে একটি গোলাকার খালি স্থান তৈরি হয়।


- বর্তুল স্বরের উদাহরণগুলি হিসেবে আপনি ইংরেজি ভাষায় 'cool' বা 'go' এর 'o' স্বর পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। বাংলা ভাষায় এর উদাহরণ হিসেবে 'অ' এবং 'ও' স্বরগুলি উল্লেখ করা যেতে পারে।

- বাংলা ভাষায় বর্তুল স্বরের উদাহরণ হিসেবে আমরা উল্লেখ করতে পারি 'অ' (যেমন, 'অপরাধ', 'অগ্রিম', 'অস্তিত্ব') এবং 'ও' (যেমন, 'ওলা', 'ওজন', 'ওরফে')। এই স্বরগুলোর উচ্চারণে মুখের ভেতর একটি গোলাকার ফাঁকা স্থান তৈরি হয়।
১,৭৬৫.
'গায়ক' এর সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গো + অক
  2. গা + অক
  3. গা + য়ক
  4. গৈ + অক
সঠিক উত্তর:
গৈ + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৈ + অক
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।

যেমন:
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭৬৬.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধি নয়?
  1. তস্কর
  2. দুষ্কর
  3. নিষ্কর
  4. ভাস্কর
সঠিক উত্তর:
তস্কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তস্কর
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি নয় - তস্কর = তৎ + কর।
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার। 
অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর
উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর

এরূপ - পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৬৭.
নিচের কোন বানানটি ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী সঠিক?
  1. গ্রহণ
  2. অপনয়ণ
  3. অনুশীলণ
  4. ত্রিনয়ণ
সঠিক উত্তর:
গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গ্রহণ বানান সঠিক।
• সুত্র:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়. ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
- যেমন: কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), গ্রহণ (র-এর পরে 'হ' তার পরে 'ণ'), অর্পণ (র্ + প + অ +ণ), লক্ষণ (ক্+ষ্‌ + অ+ণ)।
- এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'অপনয়ণ' এর সঠিক বানান 'অপনয়ন'।
- 'অনুশীলণ' এর সঠিক বানান 'অনুশীলন'।
- 'ত্রিনয়ণ' এর সঠিক বানান 'ত্রিনয়ন'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৭৬৮.
কোনটিতে ব্যঞ্জন বিকৃতি ঘটেছে?
  1. ক) ফাল্গুন > ফাগুন
  2. খ) বড়দাদা > বড়দা
  3. গ) শাক > শাগ
  4. ঘ) নকশা > নশকা
সঠিক উত্তর:
গ) শাক > শাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শাক > শাগ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিতি হয়ে যদি কোনো নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়, তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
ধোবা > ধোপা, শাক > শাগ ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: শব্দের শেষে পাশাপাশি সমউচ্চরণ সম্পন্ন দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি থেকে একটি লোপ পাওয়াকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বা ধ্বনিচ্যুতি বলে।
যেমন: 
বড়দিদি > বড়দি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• ধ্বনিবিপর্যয়: উচ্চারণের সময় শব্দের কোনো কোনো ধ্বনি স্থান পরিবর্তন হলে ধ্বনিবিপর্যয় ঘটে।
যেমন:
পিশাচ > পিচাশ, রিক্সা > রিস্কা, নকশা > নশকা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি: শব্দের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন:
ফলাহার > ফলার, ফাল্গুন > ফাগুন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৬৯.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত:
- সম্মুখ স্বরধ্বনি [ই], [এ], [অ্যা]:
- মধ্য স্বরধ্বনি [আ];
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি [অ], [ও], [উ]।
- সম্মুখ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়; পশ্চাৎ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,৭৭০.
‘লাউ’ শব্দে কোন দুটি স্বরধ্বনি আছে?
  1. আ + এ্‌
  2. আ + ই্‌
  3. অ + ই্‌
  4. আ + উ্‌
সঠিক উত্তর:
আ + উ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ + উ্‌
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না, সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে। 
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি।
যথা- [ই্‌], [উ্‌], [এ্‌] এবং [ও্‌]।
 
• স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না। 
যেমন:
- ‘চাই” শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্‌]। 
- এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি। 

একইভাবে, 
- ‘লাউ’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্‌]। 
এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৭৭১.
‘তদবধি’ এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি ?
  1. ক) তত + বধি 
  2. খ) তত + অবোধি
  3. গ) তৎ + অবধি
  4. ঘ) তত + অবধি 
সঠিক উত্তর:
গ) তৎ + অবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তৎ + অবধি
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত প্রশ্নে সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে - তৎ + অবধি

জেনে রাখা ভালো, - ক্, চ্, ট্, ত্, প্ এর পর স্বরধ্বনি থাকলে এর পর যথাক্রমে- গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্, বসে।
যেমন-
ষট্+আনন = ষড়ানন
তৎ+অবধি = তদবধি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭২.
‘মোড়ক‘ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) মোড় + অক
  2. খ) মুড়ি + অক
  3. গ) মোড় + অক
  4. ঘ) মুড় + অক
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুড় + অক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুড় + অক
ব্যাখ্যা
• ‘মোড়ক‘ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ = মুড় + অক।

• 'মোড়ক' শব্দটি বাংলা 'অক' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।
- যার সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে √মুড়্ + অক = মোড়ক।
- এরূপঃ √ঝল্ + অক = ঝলক ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৭৩.
‘দুর্নিরীক্ষ্য’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. ক) দুঃ + নিরীক্ষা
  2. খ) দু + নিরীক্ষ্য
  3. গ) দুঃ + নিরীক্ষ
  4. ঘ) দুঃ + নিরীক্ষ্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুঃ + নিরীক্ষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুঃ + নিরীক্ষ্য
ব্যাখ্যা

এটি একটি বিসর্গ সন্ধি। এক্ষেত্রে টেকনিকটি হলো : রেফ (র্ ) = ঃ
যেমন :
দুর্গতি = দুঃ + গতি
দুর্ভাবনা = দুঃ + ভাবনা
দুর্নিরীক্ষ্য = দুঃ + নিরীক্ষ্য
দুর্বিরোধ = দুঃ + বিরোধ
অন্তর্ঘাত = অন্তঃ + ঘাত

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

১,৭৭৪.
নিচের কোনটি উষ্মবর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উষ্মধ্বনি:
'শ, ষ, স, হ' - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলােকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।

উল্লেখ্য,
- শ ষ স - এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘােষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘােষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
• প- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।
• থ - দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• চ - তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৭৫.
সন্ধির নিয়মানুসারে কোন বানানটি ভুল?
  1. মস্যাধার
  2. প্রত্যেক
  3. নদ্যম্বু
  4. প্রত্যুষ
সঠিক উত্তর:
প্রত্যুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যুষ
ব্যাখ্যা

• সন্ধির নিয়ম:
ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বাঈ স্থানে 'য' বা য ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
- ইতি + আদি = ইত্যাদি।
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
- মসী + আধার = মস্যাধার;
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
- প্রতি + এক = প্রত্যেক।

• সঠিক উত্তর বিশ্লেষণ:
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'প্রত্যুষ' শব্দটিও শুদ্ধ।
সন্ধির দৃষ্টিতে - 'প্রত্যুষ' শব্দটি এসেছে "প্রতি + উষ" থেকে।

মাধ্যমিক ব্যাকরণ (পুরাতন সংস্করণ) অনুসারে, "প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ" দেওয়া আছে।
সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী এখানে প্রত্যাশিত রূপ হওয়া উচিত - প্রত্যূষ।
‘প্রত্যুষ’ শব্দটি সে অনুসারে অশুদ্ধ ধরা হয়েছে। 
তাই ‘প্রত্যুষ’ সন্ধির নিয়মে গঠিত নয় / ব্যতিক্রম।

রিয়েল জবের পরীক্ষা বিধায় আমরা বই অনুসারে সঠিক উত্তর: ঘ) প্রত্যুষ নিয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৭৭৬.
নিচের কোনটি স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত?
  1. ণিজন্ত
  2. অত্যধিক
  3. ষড়ানন
  4. তদবধি
সঠিক উত্তর:
অত্যধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যধিক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অত্যধিক।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে স্বরসন্ধি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে দুটি স্বরধ্বনি পাশাপাশি এসে মিলিত হয় এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে একটি নতুন শব্দ বা ধ্বনি গঠিত হয়।

স্বরসন্ধির সূত্র:
ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় য হয়।
যেমন: 
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মে গঠিত:
- ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
- তৎ + অবধি = তদবধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭৭৭.
বিসর্গ সন্ধিকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই ভাগে
ব্যাখ্যা

যে দুইটি ধ্বনির মিলনে সন্ধি হবে, তাদের একটি যদি বিসর্গ হয়, তবে তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
বিসর্গ সন্ধি ২ ভাবে সম্পাদিত হয়-
- বিসর্গ + স্বরধ্বনি
- বিসর্গ + ব্যঞ্জনধ্বনি

বিসর্গসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধির সম্পর্কঃ
সংস্কৃত নিয়ম অনুযায়ী শব্দ বা পদের শেষে ‘র্’ বা ‘স্’ থাকলে তাদের বদলে ‘ঃ’ বা অঘোষ ‘হ’ উচ্চারিত হয়।
এর উপর ভিত্তি করে বিসর্গকে ২ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

র-জাত বিসর্গঃ ‘র্’ ধ্বনির জায়গায় যে বিসর্গ হয়, তাকে র-জাত বিসর্গ বলে।
যেমন : অন্তর- অন্তঃ, প্রাতর- প্রাতঃ, পুনর- পুনঃ, ইত্যাদি।

স-জাত বিসর্গঃ ‘স্’ ধ্বনির জায়গায় যে বিসর্গ হয়, তাকে স-জাত বিসর্গ বলে।
যেমন : নমস- নমঃ, পুরস- পুরঃ, শিরস- শিরঃ, ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১,৭৭৮.
পাশাপাশি অবস্থিত দুটো ধ্বনির মিলনে এক ধ্বনি সৃষ্টি হওয়াকে কি বলে?
  1. স্বরসন্ধি
  2. সন্ধি
  3. ব্যঞ্জন সন্ধি
  4. বিসর্গ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
ব্যাখ্যা
• সন্ধি হলো বাংলা ব্যাকরণে সন্নিহিত দুটি ধ্বনি (স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনি) এর মিলন, যার ফলে শব্দের রূপ পরিবর্তিত হয় এবং একটি নতুন ধ্বনি বা রূপ তৈরি হয়। এটি শব্দের উচ্চারণকে সহজ ও শ্রুতিমধুর করে। উদাহরণ:

 আশা + অতীত = আশাতীত: এখানে স্বরধ্বনি "আ" এবং "অ" মিলিত হয়ে "আ" ধ্বনি তৈরি করেছে।
- হিম + আলয় = হিমালয়: এখানে "অ" এবং "আ" ধ্বনির সংযোগে "আ" ধ্বনি হয়েছে।
- তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে: এখানে ব্যঞ্জনধ্বনি "ত" এবং "ম" মিলে "ন্ম" ধ্বনি তৈরি হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় ধ্বনির সংকোচন বা পরিবর্তন ঘটে, যা শব্দের গঠনকে সংক্ষিপ্ত ও সরল করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৭৯.
'নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল' শব্দে কয়টি অক্ষর রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৭টি
  3. ৬টি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
অক্ষর: 
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.

অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)

যেমন:
• 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।
• 'নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল' শব্দে ৭ টি অক্ষর রয়েছে (না + তি + শী + ত + উষ্ণ + মণ্‌ + ডল)।

উৎস: ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৮০.
'নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল' শব্দে মোট অক্ষরের সংখ্যা-
  1. ক) ৬টি
  2. খ) ৭টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ৯টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭টি
ব্যাখ্যা

অক্ষর: বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)

যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।
'নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল' শব্দে ৭ টি অক্ষর রয়েছে (না + তি + শী + ত + উষ্ণ + মণ্‌ + ডল) 
অক্ষর নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে দুটো বিষয় লক্ষণীয় - যতগুলো কার আছে এবং যতগুলো এক প্রয়াসে উচ্চারিত শব্দাবলী তার সমষ্টি হবে অক্ষর সংখ্যা।
১,৭৮১.
'মঙ্গল' শব্দের যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ঙ + গ
  2. ঞ + গ
  3. ঙ + ঈ
  4. ন + গ
সঠিক উত্তর:
ঙ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ + গ
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: খ) ঙ + গ।

ব্যাখ্যা:
‘মঙ্গল’ শব্দের যুক্তবর্ণ হল ঙ্গ, — যা ঙ + গ বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।

যেমন:
ঙ + গ = ঙ্গ।
যা 'অঙ্গ', 'সঙ্গ', 'মঙ্গল' ইত্যাদি শব্দে ব্যবহৃত হয়েছে।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্‌ + ম = হ্ম। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিকন বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৭৮২.
বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ কয়টি? 
  1. ৪৭
  2. ৪৯
  3. ৫০
  4. ৫২
সঠিক উত্তর:
৫০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০ টি।
- স্বরবর্ণ ১১টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- পঞ্চাশটি বর্ণে পূর্ণমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণের সংখ্যা- বত্রিশ।
- পঞ্চাশটি বর্ণে অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণের সংখ্যা- আট।
- পঞ্চাশটি বর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা- দশ।
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণের সংখ্যা ছাব্বিশটি। যথা- ক ঘ চ ছ জ ঝ ট ঠ ড ঢ ত দ ন ফ ব ভ ম য র ল ষ স হ ড় ঢ় য়।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রা বিশিষ্ট বর্ণের সংখ্যা সাতটি। যথা- খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ছয়টি। যথা- ঙ ঞ ৎ ং ঃ ঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৮৩.
'শ্রীশ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শ্রি+ ঈশ
  2. শ্রী + ইশ
  3. শ্রী + ঈশ
  4. শ্রী+ ঈশ্ব
সঠিক উত্তর:
শ্রী + ঈশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রী + ঈশ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়। বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ঈ + ঈ = ঈ:
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- শ্রী+ ঈশ = শ্রীশ,
- মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর,
- ফণী + ঈশ্বর = ফণীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৮৪.
নিচের কোনটি মহাপ্রাণ ধ্বনির উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• 'হ' - মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
• স, ত, ড - অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

• মহাপ্রাণ ধ্বনি: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যথা:
- (খ, ঘ), (ছ, ঝ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি। 

• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭৮৫.
নাসিক্য বর্ণ কয়টি?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৭
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
ক) ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫
ব্যাখ্যা
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম - এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস তাড়িত বাতাস বের হয়ে বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকী বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৭৮৬.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন - 'তৎকাল'
  1. তত্‌ + কাল
  2. তদ্‌ + কাল
  3. তৎ্‌ + কাল
  4. তধ্‌ + কাল
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + কাল
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর - তদ্‌ + কাল

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে,
দ্ ও ধ্‌ এর পরে ক, চ, ট, ত, প, খ, ছ, ঠ, থ, ফ থাকলে দ্ ও ধ্‌ স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হয়।
যেমন -
- দ্‌ > ত্  ⇒  তদ্‌ + কাল = তৎকাল
- ধ্‌ > ত্  ⇒  ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

এরূপ - হৃৎকম্প, তৎপর, তত্ত্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৮৭.
যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে কী বলে?
  1. দীর্ঘস্বর
  2. দ্বিস্বরধ্বনি
  3. অর্ধস্বরধ্বনি
  4. পূর্ণস্বর
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি:
[ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

অন্যদিকে,
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন:
- লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।
- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে।
যথা:
- ঐ এবং ঔ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৭৮৮.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ‘ফ’ কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  2. দন্ত স্পৃষ্ট
  3. তালু স্পৃষ্ট
  4. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
⇒ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১,৭৮৯.
মধ্যগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. মুলা > মুলো
  2. আখো > আখুয়া > এখো
  3. বিলাতি > বিলিতি
  4. মোজা > মুজো
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• ‘বিলাতি > বিলিতি’ পরাগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ।
---------------------
স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন - দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো;
- শিকা > শিকে;
- তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- আখো > আখুয়া > এখো;
- দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন: মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন: মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে- উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৯০.
'ফিল্ম > ফিলিম' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরভক্তি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন স্বপন, হর্ষ > হরষ, ইত্যাদি।

ই - প্রীতি >পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক> তুরুক, ইত্যাদি।

এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ >সেরেফ ইত্যাদি।

ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ> মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৭৯১.
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে স্বরগত অল্প-বিস্তর পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনকে বলা হয় -
  1. ক) অভিশ্রুতি
  2. খ) অপশ্রুতি
  3. গ) সম্প্রসারণ
  4. ঘ) বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
খ) অপশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপশ্রুতি
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতু বা শব্দের মধ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে স্বরগত অল্প-বিস্তর পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনকে অপশ্রুতি বলে।
অপশ্রুতি তিনভাবে প্রকাশ পায়। যথা: গুণ, বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৯২.
'সন্ন্যাস' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ -
  1. সৎ + ন্যাস
  2. সম্ + ন্যাস
  3. সমঃ + ন্যাস
  4. সনো + ন্যাস
সঠিক উত্তর:
সম্ + ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + ন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'সন্ন্যাস' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - সম্ + ন্যাস।

• ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।

যেমন:
- সম্ + ধি = সন্ধি,
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ,
- সম্ + ন্যাস = সন্ন্যাস,
- সম্ + প্রীতি = সম্প্রীতি ইত্যাদি।
এরূপ – কিম্ভুত, সন্দর্শন, কিন্নর, সম্মান, সন্ধান, সন্ন্যাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৭৯৩.
নিচের কোনটি বর্ণ বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. ধাইমা > দাইমা 
  2. রিকসা্‌ > রিস্‌কা
  3. বউদিদি > বউদি
  4. ফাল্গুন > ফাগুন
সঠিক উত্তর:
রিকসা্‌ > রিস্‌কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিকসা্‌ > রিস্‌কা
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয় বা বর্ণ বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা,
- তলোয়ার > তরোয়াল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জন বিকৃতি: 
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: 
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
 যেমন- বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি: 
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন- ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৭৯৪.
'মৃন্ময়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মৃন + ময়
  2. মৃত + ময়
  3. মৃৎ + ময়
  4. মৃণ + ময়
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময়
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭৯৫.
নিচের কোনটি 'ত' বর্গীয় বর্ণ?
  1. ক) ধ
  2. খ) ণ
  3. গ) ফ
  4. ঘ) ভ
সঠিক উত্তর:
ক) ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি নির্দেশক চিহ্নকে বলা হয় বর্ণ।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ সংখ্যা ৫০ টি।
- স্বরবর্ণ ১১টি ও
- ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে স্পর্শ বা বৰ্গীয় বৰ্ণ বলে। যথা:

- ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
- চ বৰ্গীয় বর্ণ : চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
- ট বর্গীয় বর্ণ ট, ঠ, ড, ঢ,
- ত বৰ্গীয় বর্ণ : ত, থ, দ, , ন৷
- প বর্গীয় বর্ণ : প, , ব, , ম৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৭৯৬.
'তৎ+হিত >তদ্ধিত' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্যোন্য সমীভবন
  2. প্রগত সমীভবন
  3. পরাগত সমীভবন
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
পরাগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- তৎ+জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ+হিত >তদ্ধিত,
- উৎ+মুখ > উন্মুখ।

অন্যদিকে:
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন: চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৯৭.
ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ কোনটি?
  1. শরীর > শরীল
  2. লাল > নাল
  3. লালাট > নালাট
  4. ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
ধাইমা > দাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধাইমা > দাইমা
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন-
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা, 
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন-
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লালাট>নালাট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৭৯৮.
নিচের কোন ক্ষেত্রে সন্ধি করা অনুচিত?
  1. বাংলা শব্দের সঙ্গে সংস্কৃত শব্দের সন্ধি করা অনুচিত
  2. সমাসবদ্ধ পদে সন্ধি করা অনুচিত
  3. ধাতুর সঙ্গে প্রযুক্ত উপসর্গে সন্ধি করা অনুচিত।
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য :
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

• সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয় :
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না।
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।
- খাটি বাংলা শব্দের সাথে তৎসম শব্দের সন্ধি করা যায় না। এতে গুরুচণ্ডালী দোষ হয়। 
- সমাসবদ্ধ শব্দে সন্ধি করা যায় না।
- ক্রিয়ারমূল বা ধাতুর সঙ্গে সন্ধি করা অনুচিত।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ

১,৭৯৯.
কোন দুটি মূর্ধন্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. ঝ, শ
  2. ল, স
  3. ছ, জ
  4. ঢ, ড়
সঠিক উত্তর:
ঢ, ড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢ, ড়
ব্যাখ্যা

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
তালব্য ব্যঞ্জন - চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন - নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,৮০০.
কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধোবা > ধোপা
  2. ফাল্গুন > ফাগুন
  3. বউদিদি > বউদি
  4. বড় দাদা > বড়দা
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধোবা > ধোপা
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্তর্হতি - ফাল্গুন > ফাগুন।
ব্যঞ্জনচ্যুতি - বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।