বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ১০ / ৬৩ · ৯০১১,০০০ / ৬,৩২৭

৯০১.
‘নিরাময়’ - এর সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নিরঃ + ময়
  2. নিরা + ময়
  3. নিঃ + আময়
  4. নির + ময়
সঠিক উত্তর:
নিঃ + আময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + আময়
ব্যাখ্যা

• ‘নিরাময়’ - এর সন্ধি-বিচ্ছেদ - নিঃ + আময়।

• নিরাময় (বিশেষণ):
- রোগহীন; নীরোগ; সুস্থ।
- দূরীকৃত; বিতাড়িত (চিকিৎসা দ্বারা নিরাময় করা)।

• নিরাময় (বিশেষ্য):
- দূরীকরণ; বিতাড়ন (অসুস্থতা নিরাময়ের জন্য)।

• নিরাময়:
- শব্দ: তৎসম বা সংস্কৃত।
- সন্ধি বিচ্ছেদ: নিঃ + আময়।
- সমাস: বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: অভিগম্য অভিধান; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৯০২.
কোনটি স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. বিলেত
  2. বসতি
  3. চাদর
  4. পিরীতি
সঠিক উত্তর:
পিরীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিরীতি
ব্যাখ্যা
• প্রীতি > পিরীতি; মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ।

----------------------------
• আদি স্বরাগম:

ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের আদিতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে আদি স্বরাগম বলে। যেমন -
- স্কুল > ইস্কুল, 
- স্ত্রী > ইস্ত্রী,
- স্টেশন > ইস্টেশন,
- স্টিমার > ইস্টিমার ইত্যাদি।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে।
- এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০৩.
নিচের কোন শব্দটি তালব্য ব্যঞ্জন দিয়ে গঠিত?
  1. সালাম
  2. ঝড়
  3. লাল
  4. থালা
সঠিক উত্তর:
ঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝড়
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, , শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৯০৪.
কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. স্খ
  2. ক্ম
  3. ক্ষ্ম
  4. গ্ধ
সঠিক উত্তর:
স্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্খ
ব্যাখ্যা
• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ - স্খ

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:

- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
- ক্ত = (ক্ + ত), ক্ম = (ক্ + ম), ক্ষ = (ক্ + ষ), ক্ষ্ম = (ক্ + ষ্ + ম), ক্স = (ক্ + স), গু = (গ্ + উ), গ্ধ = (গ্ + ধ),  ঙ্গ = (ঙ্ + গ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯০৫.
বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. আ + চর্য = আশ্চার্য
  2. এক + দশ = একাদশ
  3. তৎ + কর = তস্কর
  4. সম্‌ + কার = সংস্কার
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + কার = সংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + কার = সংস্কার
ব্যাখ্যা

বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধির উদাহরনঃ
উৎ + স্থান = উত্থান, সম + কার = সংস্কার
কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়ঃ
আ + চর্য = আশ্চার্য
তৎ + কর = তস্কর
সম্‌ + কার = সংস্কার
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

৯০৬.
নিচের কোনটি দীর্ঘস্বর নয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• দীর্ঘস্বর নয় - ই। 

স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ ও উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য:

- উচ্চারণের সময়ের তারতম্য অনুসারে স্বরধ্বনিগুলোকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়।
যেমন: ক. হ্রস্বস্বর ও খ. দীর্ঘস্বর।

হ্রস্বস্বর:
- যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে। অ, ই, উ, ঋ হ্রস্বস্বর।

দীর্ঘস্বর:

- যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে। আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ দীর্ঘস্বর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯০৭.
সম্প্রকর্ষ - এর উদাহরণ হলো-
  1. ক) বাক্‌স > বাস্‌ক
  2. খ) ফাল্গুন > ফাগুন
  3. গ) আলাহিদা > আলাদা
  4. ঘ) জানালা > জান্‌লা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জানালা > জান্‌লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জানালা > জান্‌লা
ব্যাখ্যা
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ৷
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা।
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন- বাক্‌স > বাস্‌ক, রিক্‌সা > রিস্‌কা।
ফাল্গুন > ফাগুন, আলাহিদা > আলাদা হলো অন্তর্হতির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০৮.
শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যথ + অযথ = যথাযথ
  2. দণ্ডা + আদেশ = দণ্ডাদেশ
  3. দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক
  4. যথা + আর্থ = যথার্থ
সঠিক উত্তর:
দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি:
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এসব সন্ধিকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।
যেমন:
• তদ্ + কর = তস্কর;
• এক + দশ = একাদশ।
• দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক।
• ষট্ + দশ = ষোড়শ।
• হরি + চন্দ্র= হরিশ্চন্দ্র।
• বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
• গো + পদ = গোষ্পদ।
• আ + পদ = আস্পদ।
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি।
• পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ।
• বাক্ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী।
• বিশ্ব+ মিত্র = বিশ্বামিত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

• স্বরসন্ধি:
স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। এর কিছু নিয়ম হলো:
• নিয়ম: অ + আ = আ;
- হিম + আলয় = হিমালয়।
- সিংহ + আসন = সিংহাসন।
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ।
- হত + আশ = হতাশ।

• নিয়ম: আ + অ = আ;
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ।
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- যথা + অযথ = যথাযথ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯০৯.
'সন্ত্রাস' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সম্ + ত্রাস
  2. সৎ + ত্রাস
  3. সন্ + ত্রাস
  4. সদ্‌ + ত্রাস
সঠিক উত্তর:
সম্ + ত্রাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + ত্রাস
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।

যেমন:
- কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিৎ, 
- সম্ + ত্রাস = সন্ত্রাস,
- কিম্ + তু = কিন্তু, 
- সম্ + ধি = সন্ধি, 
- সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯১০.
তৎসম শব্দের সন্ধি কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের সন্ধি:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে।
- এসব শব্দই তৎসম (তৎ = তার + সম = সমান)।
- তার সমান অর্থাৎ সংস্কৃতের সমান।
- এ শ্রেণির শব্দের সন্ধি সংস্কৃত ভাষার নিয়মেই সম্পাদিত হয়ে এসেছে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম সন্ধি তিন প্রকার:
যেমন:
(১) স্বরসন্ধি,
(২) ব্যঞ্জন সন্ধি ও
(৩) বিসর্গ সন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯১১.
কারবর্ণ নয় কোনটি?
  1. ও-কার
  2. ঋ-কার
  3. র-কার
  4. ঊ-কার
সঠিক উত্তর:
র-কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
র-কার
ব্যাখ্যা
• কারবর্ণ নয়- র-কার।

• কারবর্ণ:

স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোকে কারবর্ণ বলে। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হস্চিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

• ১০টি কারবর্ণ হলো:
- আ-কার,
- এ-কার,
- ঈ-কার,
- ই-কার,
- উ-কার,
- ঊ-কার,
- ঋ-কার,
- ও-কার,
- ঔ-কার,
- ঐ-কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৯১২.
উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনির ব্যবহার ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. হুঙ্কার
  2. বাড়ি
  3. নতুন
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
হুঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুঙ্কার
ব্যাখ্যা
• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ)- এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

অন্যদিকে,
• তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অথার্ৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায় তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
 যেমন:
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- লাল শব্দে ল পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯১৩.
অভিশ্রুতির ক্ষেত্রে কোন স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়?
  1. ক) এ, ঐ
  2. খ) ই, এ
  3. গ) ই, উ
  4. ঘ) ই, ঔ
সঠিক উত্তর:
গ) ই, উ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ই, উ
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতির ফলে আগে উচ্চারিত ই/উ তার পাশাপাশি স্বরধ্বনির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সন্ধিতে মিলিত হয়ে স্বরধ্বনির যে পরিবর্তন ঘটায় তাকে অভিশ্রুতি বলে। 
করিয়া > কইর‌্যা > করে
দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে
গাছুয়া > গাউছা > গেছো
কন্যা > কইন্যা > কনে
ভাতুয়া > ভাউতা > ভেতো

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
৯১৪.
‘বন্ধন' শব্দের সঠিক অক্ষর বিন্যাস কোনটি?
  1. ক) ব+ন্+ধ+ন্
  2. খ) বন্+ধন্
  3. গ) ব+ন্ধ+ন
  4. ঘ) বান্+ধন্
সঠিক উত্তর:
খ) বন্+ধন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বন্+ধন্
ব্যাখ্যা
বন্ধন (বিশেষ্য)
{(তৎসম বা সংস্কৃত) √বন্ধ্‌ + অন(ল্যুট্‌)}
এর সঠিক অক্ষর বিন্যাস -  বন্‌ধন্‌ =  বন্‌ + ধন্‌
অর্থ:
- বাঁধন,
- অবরোধ; আটক; কয়েদ,
- আবেষ্টন; বদ্ধভাব (বেণী - বন্ধন),
- নির্মাণ; গ্রন্থন (সেতু - বন্ধন),
- নিয়ন্ত্রণ; সংযম; নিরোধ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৯১৫.
‘উল্লাস’ কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. স্বর + ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন + স্বর
  4. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জন:
- ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন -
- চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র।
- বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক।
- উৎ + লাস = উল্লাস
- বাক্ + দান = বাগ্দান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৯১৬.
‘ঞ্ছ’ কোন দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ছ্ + ঞ
  2. ঙ্ + ছ
  3. ঞ্ + ছ
  4. জ্ + ছ
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + ছ
ব্যাখ্যা
⇒ যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত (ক্ + ত), 
ক্ম (ক্ + ম), 
ক্ষ (ক্ + ষ), 
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স), 
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ), 
ঙ্গ (ঙ্ + গ), 
জ্ঞ (জ্ + ঞ), 
ঞ্চ (ঞ্ + চ), 
ঞ্ছ (ঞ্ + ছ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ), 
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ), 
হৃ (হ্ + ঋ), 
হ্ন (হ্ + ন), 
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯১৭.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. স্ব + আয়ত্ত = স্বায়ত্ত
  2. সর্ব + স্বান্ত = সর্বস্বান্ত
  3. দন্ডা + আদেশ = দন্ডাদেশ
  4. স্বা + অধীন = স্বাধীন
সঠিক উত্তর:
স্ব + আয়ত্ত = স্বায়ত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব + আয়ত্ত = স্বায়ত্ত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- স্ব + আয়ত্ত = স্বায়ত্ত। 

• স্বরসন্ধির নিয়ম:

প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির যোগে আ-ধ্বনি হয়। বানানে তা আ-কার রূপে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- নব + অন্ন = নবান্ন;
- স্ব + অধীন = স্বাধীন;
- সর্বস্ব + অন্ত = সর্বস্বান্ত;
- সূর্য + অস্ত = সূর্যাস্ত;
- সিংহ + আসন = সিংহাসন;
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ;
- হত + আশ = হতাশ,
- স্ব + আয়ত্ত = স্বায়ত্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯১৮.
'ফলাহার' থেকে 'ফলার' শব্দটি হবার কারণ?
  1. ক) বর্ণবিপর্যয়
  2. খ) বর্ণদ্বিত্ব
  3. গ) বর্ণাগম
  4. ঘ) বর্ণলোপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বর্ণলোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বর্ণলোপ
ব্যাখ্যা

শব্দের মধ্যে কোনাে ব্যঞ্জনধ্বনি লােপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন- আলাহিদা > আলাদা, ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯১৯.
'রত্ন > রতন' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) সমীভবন
  2. খ) ধ্বনি বিপর্যয়
  3. গ) বিষমীভবন
  4. ঘ) বিপ্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, ক্রু » ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯২০.
নিচের কোন জোড়টি যুক্তবর্ণের প্রকারভেদ প্রকাশ করে?
  1. ক) কার ও ফলা
  2. খ) স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ
  3. গ) অস্বচ্ছ ও উন্মুক্ত
  4. ঘ) স্বচ্ছ ও যুক্ত
সঠিক উত্তর:
খ) স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ
ব্যাখ্যা
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলােকে দেখে কখনাে সহজে চেনা যায়, কখনাে সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯২১.
শ বর্ণের এর [স] উচ্চারণ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) শসা
  2. খ) শ্রদ্ধা
  3. গ) শঙ্খ
  4. ঘ) শতদল
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রদ্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রদ্ধা
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স এর উচ্চারণ:  শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯২২.
[এ] এবং [ও] - এগুলো কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
  1. উচ্চ স্বরধ্বনি
  2. নিম্ন স্বরধ্বনি
  3. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
  4. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

• উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯২৩.
স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হলে 'ঋ' এর উচ্চারণ হবে- 
  1. ই-কার এর মতো 
  2. র-ফলার মতো 
  3. রী-এর মতো 
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
রী-এর মতো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রী-এর মতো 
ব্যাখ্যা

'ঋ' বর্ণের উচ্চারণ:
স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হলে ঋ-এর উচ্চারণ রি অথবা রী-এর মতো হয়। আর ব্যঞ্জন ধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হলে র-ফলা + ই-কার এর মতো হয়। যেমন- ঋণ, ঋতু, (রীন, রীতু), মাতৃ (মাত্রি), কৃষ্টি (ক্রিষ্টি)।

দ্রষ্টব্য: বাংলায় ঋ-ধ্বনিকে স্বরধ্বনি বলা চলে না। সংস্কৃতে এই ধ্বনিটি স্বরধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয়। সংস্কৃত প্রয়োগ অনুসারেই বাংলা বর্ণমালায় এটি স্বরবর্ণের মধ্যে রক্ষিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)।

৯২৪.
'ণিজন্ত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী? 
  1. নিচ্‌ + অন্ত
  2. ণিচ্ + অন্ত 
  3. ণিজ্‌ + অন্ত
  4. ণীজ্‌ + অন্ত
সঠিক উত্তর:
ণিচ্ + অন্ত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণিচ্ + অন্ত 
ব্যাখ্যা
• ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে ,গ্‌, জ্, ড্ (ড়), দ্‌, ব্‌ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- ক্ + অ = গ;  দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
- চ্ + অ = জ;  ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
- ট্ + আ = ড়;  ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- ত্ + অ = দ ; তৎ + অবধি = তদবধি।
- প্ + অ = ব;  সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯২৫.
'শ্রমিক' - শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. স্রোমিক্‌
  2. শ্রোমিক্‌
  3. স্রোমিইক্‌
  4. শ্রমিইক্‌
সঠিক উত্তর:
স্রোমিক্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্রোমিক্‌
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯২৬.
'হর্ষ > হরষ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিপ্রকর্ষ
  2. বিষমীভবন
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।

ই:
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ:
- মুক্তা > মুকুতা,
- তুর্ক > তুরুক,
- ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।

এ:
- গ্রাম > গেরাম,
- প্ৰেক > পেরেক,
- স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

ও:
- শ্লোক > শােলােক,
- মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯২৭.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনির বিভাজন নয় কোনটি? 
  1. সম্মুখ স্বরধ্বনি
  2. মধ্য স্বরধ্বনি
  3. অন্ত্য স্বরধ্বনি
  4. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অন্ত্য স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ত্য স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনির বিভাজন নয়- অন্ত্য স্বরধ্বনি।  

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বরধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন: [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৯২৮.
‘রান্না’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. রাদ্ + না
  2. রান্ + না
  3. রাধ্ + না
  4. রানঃ + না
  5. রাধন্ + না
সঠিক উত্তর:
রাধ্ + না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধ্ + না
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ, দ্‌, ধ্‌ এবং পরে ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ, দ্‌ বা ধ্‌ স্থানে ন্‌ হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি;
- ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি;
- রাধ্‌ + না = রান্না;
- তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র;
- সৎ + মার্গ = সন্মার্গ;
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯২৯.
অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ
  2. পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান
  3. অন্তঃ + রিত = অন্তরিত
  4. পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার
সঠিক উত্তর:
অন্তঃ + রিত = অন্তরিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তঃ + রিত = অন্তরিত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- অন্তঃ + রিত = অন্তরিত। 
- শুদ্ধরূপ- শুদ্ধ- অন্তঃ + ইত = অন্তরিত। 

------------------
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:

অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ (অন্তর্, পুনর্, প্রাতর্) ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ 'র' হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ। 
- পুনঃ + অধিকার = পুনরধিকার।
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ। 
- অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা।
- অন্তঃ + ইন্দ্রিয় = অন্তরিন্দ্রিয়।
- অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ,
- অন্তঃ + ঈপ = অন্তরীপ।
- পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান,
- পুনঃ + উক্তি = পুনরুক্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৩০.
কোন দুটি তালব্য বর্ণ?
  1. ন, স
  2. ছ, জ
  3. থ, দ
  4. প, ম
সঠিক উত্তর:
ছ, জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছ, জ
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
- প, ম - ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন।
- ন, স - দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন।
- থ, দ - দন্ত্য ব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৯৩১.
‘বস্তু’ শব্দের যুক্তবর্ণটিকে বিশ্লেষণ করলে কি পাওয়া যাবে?
  1. ক) স + ত + ত
  2. খ) স + ত + উ
  3. গ) ষ + ত + ত
  4. ঘ) স + ও
সঠিক উত্তর:
খ) স + ত + উ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স + ত + উ
ব্যাখ্যা
‘বস্তু’ শব্দের যুক্তবর্ণটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যাবে - স + ত + উ।
৯৩২.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি অশুদ্ধ?
  1. যথা + অযথ = যথাযথ
  2. ত্বরা + ন্বিত = ত্বরান্বিত
  3. স্ব + অধীন = স্বাধীন
  4. প্রাণ + অধিক = প্রাণাধিক
সঠিক উত্তর:
ত্বরা + ন্বিত = ত্বরান্বিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরা + ন্বিত = ত্বরান্বিত
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ: ত্বরা + ন্বিত = ত্বরান্বিত।
শুদ্ধরূপ: ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত।

• স্বরসন্ধির নিয়ম:

অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয় এবং এই আ-কার পূর্ব বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।

সূত্র: অ + অ = আ:
• নব + অন্ন = নবান্ন;
• স্ব + অধীন = স্বাধীন;
• প্রাণ + অধিক = প্রাণাধিক;
• হত + আশ = হতাশ;
• সূর্য + অস্ত = সূর্যাস্ত।

সূত্র: আ + অ = আ:
• আশা + অতীত = আশাতীত;
• মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ;
• ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত;
• যথা + অযথ = যথাযথ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৩৩.
'কুজ্ঝটিকা' শব্দের যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের সংযােগে গঠিত?
  1. ক) জ্‌ + ঝ
  2. খ) ঝ+ ঝ
  3. গ) ঝ + জ
  4. ঘ) ঝ + ব
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌ + ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌ + ঝ
ব্যাখ্যা
'কুজ্ঝটিকা' শব্দের যুক্তবর্ণটি জ্ঝ=  জ্‌ + ঝ

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- ষ্ণ = ষ + ণ।
- ঞ্চ = ঞ্ + চ 
- ঞ্ছ =  ঞ্ + ছ
- ঞ্জ = ঞ্ + জ

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
৯৩৪.
'ভয়ার্ত' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভয়+ঋত
  2. ভয়া+ঋত
  3. ভয়+আর্ত
  4. ভয়া+আর্ত
সঠিক উত্তর:
ভয়+ঋত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভয়+ঋত
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়।

যেমন:
- শীত + ঋত = শীতার্ত, 
- তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত,
- ভয় + ঋত = ভয়ার্ত

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৩৫.
‘ক্ষ্ণ’ যুক্তবর্ণটির বিশ্লিষ্ট রূপ কোনটি?  
  1. ক্+ষ্+ন
  2. ক্+ষ্+ণ
  3. ক্+ষ্+ম 
  4. ক্+ষ+হ
সঠিক উত্তর:
ক্+ষ্+ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্+ষ্+ণ
ব্যাখ্যা

• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।

• গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণের গঠন দেখানো হলো:
 ক্+ষ্+ণ =‘ক্ষ্ণ’- তীক্ষ্ণ
ঞ্+জ = ঞ্জ -ব্যঞ্জন, গুঞ্জন।
ক্+ষ = ক্ষ - কক্ষ, বৃক্ষ।
ষ্+ণ = ষ্ণ - তৃষ্ণা, কৃষ্ণা।
ঙ্+ক = ঙ্ক - অঙ্ক, অঙ্কন।
ঙ্+খ = ঙ্খ - শঙ্খচিল, শঙ্খিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৩৬.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ?
  1. সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
  2. পরম + ঔষধ = পরমৌষধ
  3. প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ
  4. প্রতি + এক = প্রত্যেক
সঠিক উত্তর:
সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:

- ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ্, ড্ (ড়), দৃ, বৃ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন-
- ক্ + অ = গ; দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।
- চ্ + অ = জ; ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
- ট্ + আ = ড়; ষট্ + আনন = ষড়ানন।
- ত্ + অ = দ; তৎ + অবধি = তদবধি।
- প্ + অ = ব; সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।

অন্যদিকে,
- প্রতি + এক = প্রত্যেক; 
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ; 
- পরম + ঔষধ = পরমৌষধ; 
- এগুলো স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৩৭.
ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী কোন বানানটি  সঠিক?
  1. ঘন্টা
  2. ভীষন
  3. দুর্ণীতি
  4. হরিণ
সঠিক উত্তর:
হরিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিণ
ব্যাখ্যা

• ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী সঠিক বানান - হরিণ।

- অশুদ্ধ:ঘন্টা
- শুদ্ধ: ঘণ্টা

- অশুদ্ধ: ভীষন
- শুদ্ধ: ভীষণ

- অশুদ্ধ: দুর্ণীতি
- শুদ্ধ: দুর্নীতি

• ণ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯৩৮.
'তত্ত্বাবধান' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. তৎতাবদান্‌
  2. তত্‌তাবদান্‌
  3. তততোবদান্‌
  4. তত্তাবদান্‌
সঠিক উত্তর:
তত্‌তাবদান্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তত্‌তাবদান্‌
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'তত্ত্বাবধান' এর সঠিক উচ্চারণ — 'তত্‌তাবদান্‌'।

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ:  
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৯৩৯.
'আশা > আশ' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরলোপ
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. স্বরাগম
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
স্বরলোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরলোপ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন - বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): যেমন - অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বৰ্ণ ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

- স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৪০.
উষ্মধ্বনির কোনটি ঘোষ মহাপ্রাণ?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

• উষ্মধ্বনি:
- শ, ষ, স, হ - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
শ, ষ, স- এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৪১.
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন -

কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
•তালব্য ব্যঞ্জন - জ।
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন - ম।
• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন - হ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৪২.
অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ না নিচের কোনটি?
  1. দিশ্ > দিশা
  2. প্রেক > পেরেক
  3. পোখত্ > পোক্ত
  4. বেঞ্চ > বেঞ্চি
সঠিক উত্তর:
প্রেক > পেরেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেক > পেরেক
ব্যাখ্যা
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম। যেমন- দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্য। মধ্যস্বরাগম এর কয়েকটি উদাহরণ- প্রেক > পেরেক, রত্ন > রতন, প্রীতি > পিরীতি, ধর্ম > ধরম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৯৪৩.
উৎ + শৃঙ্খল - এটি কোন সন্ধি?
  1. জটিল সন্ধি
  2. নিপাতনে সিদ্ধ
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. স্বরসন্ধি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• উচ্ছৃঙ্খল = উৎ + শৃঙ্খল।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

সূত্র:
- ত্ (ৎ) ও দ্‌ এর পর শ্‌ থাকলে ত্‌ ও দ্‌-এর স্থলে চ্‌ এবং শ্‌-এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। 
যেমন -
- ত্‌ + শ = চ্‌ + ছ = চ্ছ  ⇒ উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস।

এরূপ,  
- উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল,
- চলৎ + শক্তি = চলচ্ছক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সন্সকরণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৪.
'ফলাহার' থেকে 'ফলার' শব্দটি হওয়ার কারণ -
  1. ক) ধ্বনি বিপর্যয়
  2. খ) অন্তর্হতি
  3. গ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
খ) অন্তর্হতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি । যেমন – ফাল্গুন ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি ।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। যেমন— কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি ৷ 

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি। যেমন— বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি । 

• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন : - ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি। অনুরূপ – পিশাচ, পিচাশ, লাফ, ফাল।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৪৫.
ভুল সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনঃ + কষ্ট
  2. ইতঃ + পূর্বে
  3. সিম্ + হ
  4. শ্রু + অন
সঠিক উত্তর:
সিম্ + হ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিম্ + হ
ব্যাখ্যা
• ভুল সন্ধি বিচ্ছেদ - সিম্ + হ
- 'সিংহ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - সিন্‌ + হ।

অন্যদিকে,
• 'মনঃকষ্ট' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - মনঃ + কষ্ট।
• 'ইতঃপূর্বে' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - ইতঃ + পূর্বে।
• 'শ্রবণ' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - শ্রু + অন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৪৬.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে?
  1. অণু
  2. অনাথ
  3. পক্ষ
  4. মন
সঠিক উত্তর:
অনাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাথ
ব্যাখ্যা
• 'অনাথ' শব্দে 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে।

-------------------------------------
• 'অ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• 'অ' বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৪৭.
বিপ্রকর্ষের অপর নাম কী?
  1. অন্ত্যস্বরাগম
  2. মধ্য স্বরাগম
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. স্বরলোপ
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
• বিপ্রকর্ষের অপর নাম - মধ্য স্বরাগম।

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
- অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন স্বপন, হর্ষ > হরষ, ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি » পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, > ভুরু ইত্যাদি।
- এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ » সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক » শশালােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন:
- বসতি > বস্‌তি,
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৪৮.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ঙ্ + ঈ = ঙ্গ
  2. ষ্ + ণ = ষ্ণ
  3. ঙ + ঞ = জ্ঞ
  4. ঞ্ + য = ঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ষ্ + ণ = ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্ + ণ = ষ্ণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - ষ্ + ণ = ষ্ণ

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- ঙ্ + গ = ঙ্গ, 
- জ্ + ঞ = জ্ঞ, 
- ঞ্ + জ = ঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯৪৯.
জিভের উচ্চতা অনুসারে 'আ' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. উচ্চ স্বরধ্বনি
  2. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি
  3. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
  4. নিম্ন স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
নিম্ন স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্ন স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

• আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৫০.
'বিলাতি > বিলিতি' কিসের উদাহরণ?
  1. ক) প্রগত
  2. খ) পরাগত
  3. গ) মধ্যগত
  4. ঘ) অনন্যান্য
সঠিক উত্তর:
গ) মধ্যগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মধ্যগত
ব্যাখ্যা
স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony) : একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর ঘরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন – দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

⇒ প্রগত (Progressive) : আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা » মুলাে, শিকা » শিকে, তুলা > তুলল।
⇒ পরাগত (Regressive) : অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে রাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখাে> আখুয়া > এখাে, দেশি > দিশি।
⇒ মধ্যগত (Mutual) : আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি।
⇒ অনন্যান্য (Reciprocal) ; আদ্য ও অন্ত্য দুই সরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অনন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন – মােজা > মুজো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৫১.
খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি কয় ধরনের?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে -

• সন্ধি প্রধানত দুই প্রকার:
- খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি;
- তৎসম শব্দের সন্ধি।

• খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি দুই রকমের।
যথা - 
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জন সন্ধি।

• তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার।
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জন সন্ধি,
- বিসর্গ সন্ধি।

আবার, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,
• সন্ধি তিন প্রকার:
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জনসন্ধি,
- বিসর্গসন্ধি।
৯৫২.
নিচের কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. পরম + ঈশ = পরমেশ
  2. ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত
  3. সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
  4. দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
সঠিক উত্তর:
পরম + ঈশ = পরমেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরম + ঈশ = পরমেশ
ব্যাখ্যা
• পরম + ঈশ = পরমেশ; স্বরসন্ধির উদাহরণ।

• সূত্র:

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।

অন্যদিকে,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
- ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।
সূত্র: 
ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্‌, জ, ড্ (ড়), দ্‌, ,ব্‌ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৫৩.
'ব্রাহ্মণ' শব্দের যুক্ত বর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ক) ম্ + হ
  2. খ) ক্ + ষ
  3. গ) হ্ + ম
  4. ঘ) ষ্ + ক
সঠিক উত্তর:
গ) হ্ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হ্ + ম
ব্যাখ্যা
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
' হ্ম' যুক্তবর্ণটির এর সঠিক রূপ হলো: হ্ + ম = হ্ম

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণঃ
- হ্ + ম = হ্ম
- হ্ + উ = হু
- হ্ + ঋ = হৃ
- হ্ + ন = হ্ন

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
৯৫৪.
কোনটি শুদ্ধ যুক্তবর্ণ?
  1. ক্ + শ = ক্ম
  2. ক্‌ + ক্ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম
  3. ক্ + ম = ক্স
  4. ক্ + ষ = ক্ষ
সঠিক উত্তর:
ক্ + ষ = ক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + ষ = ক্ষ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - ক্ + ষ = ক্ষ

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্‌ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম,
- ক্ + ম = ক্ম,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৯৫৫.
কোনটি ধ্বনি বিপর্যয় ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধোবা > ধোপা
  2. ধাইমা > দাইমা
  3. ফাল্গুন  > ফাগুন
  4. লাফ > ফাল
সঠিক উত্তর:
লাফ > ফাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাফ > ফাল
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়:
- শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্‌সা > রিস্‌কা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ব্যঞ্জন বিকৃতি: 
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন: কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে। যেমন- ফাল্গুন  > ফাগুন, আলাহিদা  > আলাদা, ফলাহার > ফলার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯৫৬.
জিভের উচ্চতা অনুযায়ী নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি কোনগুলো?
  1. অ্যা, আ
  2. এ, ও
  3. অ্যা, অ
  4. ই, উ
সঠিক উত্তর:
অ্যা, অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা, অ
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি: ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতিউচ্চ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৫৭.
'ষোড়শ' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ষাট্ + দশ
  2. ষট্ + দশ
  3. ষোড় + অশ
  4. ষড় + দশ
সঠিক উত্তর:
ষট্ + দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষট্ + দশ
ব্যাখ্যা

'ষোড়শ' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ = ষট্ + দশ।

• কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:
- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯৫৮.
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-
  1. বর্ণ
  2. অক্ষর
  3. বাক্য
  4. শব্দ
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
ব্যাখ্যা
• অক্ষর (Syllable):
- বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার। 
যথা: মুক্তাক্ষর ও বদ্ধাক্ষর।
---------------
• মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন: ‘ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?’
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর। 

- মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে। 
যেমন: অপরিচিত। 

• বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে। বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে। 
যেমন : 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
এখানে (সোম্) (বার্) (দিন্) (রাত) (হর্) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর। 

বদ্ধাক্ষর ( - ) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৯.
কোনটি মধ্যস্বরাগমের উদাহরণ?
  1. ক) রতন
  2. খ) স্বর্ণ
  3. গ) মশারি
  4. ঘ) আশ
সঠিক উত্তর:
ক) রতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রতন
ব্যাখ্যা

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন -
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন স্বপন, হর্ষ > হরষ, ইত্যাদি।
ই - প্রীতি » পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ » সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক » শশালােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।


সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
 
শব্দের মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ বলে। যেমন, ‘বসতি’ (ব+অ+স+অ+ত+ই)-র মাঝের ‘অ’ স্বরধ্বনি লোপ পেয়ে হয়েছে ‘বস্তি’ (ব+অ+স+ত+ই)। স্বরলোপ ৩ প্রকার-
ক. আদিস্বরলোপ: শব্দের শুরুর স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরাগম বলে। যেমন, অলাবু˃ লাবু˃ লাউ, এড়ন্ড˃ (‘এ’ লোপ পেয়ে) রেড়ী, উদ্ধার˃ উধার˃ ধার।
খ. মধ্যস্বরলোপ: শব্দের মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বরাগম বলে। যেমন, গামোছা˃ গামছা, অগুরু˃ অগ্রু, সুবর্ণ˃ স্বর্ণ
গ. অন্ত্যস্বরলোপ: শব্দের শেষের স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বরাগম বলে। যেমন, আশা˃ আশ, আজি˃ আজ, চারি˃ চার, সন্ধ্যা˃ সঞ্ঝ্যা˃ সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৬০.
'মহেশ' এর সঠিক সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হবে-
  1. মহা + ঈশ
  2. মহা + ইশ
  3. মহা + এশ
  4. মহী + এশ
সঠিক উত্তর:
মহা + ঈশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + ঈশ
ব্যাখ্যা
• 'মহেশ' এর সঠিক সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ-  মহা + ঈশ।

• সূত্র:

- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৬১.
'অনুশাসন' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ওনুশাশোন্
  2. ওনুশাসোন্‌
  3. ওনুসাশোন্
  4. ওনুসাসোন্‌
সঠিক উত্তর:
ওনুশাশোন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওনুশাশোন্
ব্যাখ্যা
• বানান: অনুশাসন।
- সঠিক উচ্চারণ: ওনুশাশোন্
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: অনু + √শাস্ + অন।
- অর্থ: আদেশ; বিধান।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯৬২.
কোনটি স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ?
  1. প্রাগুক্ত
  2. অজন্ত
  3. প্রাণাধিক
  4. অবিন্ধন
সঠিক উত্তর:
প্রাণাধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাণাধিক
ব্যাখ্যা
⇒ স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয় এবং এই আ-কার পূর্ব বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।

⇒ সূত্র: অ + অ = আ:
• নব + অন্ন = নবান্ন;
• স্ব + অধীন = স্বাধীন;
• প্রাণ + অধিক = প্রাণাধিক;
• হত + আশ = হতাশ;
• সূর্য + অস্ত = সূর্যাস্ত।

⇒ সূত্র: আ + অ = আ:
• আশা + অতীত = আশাতীত;
• মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ;
• ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত;
• যথা + অযথ = যথাযথ।

অন্যদিকে,
⇒ ব্যঞ্জন ও স্বরধ্বনি যোগে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধির কিছু উদাহরণ হলো:
• প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত।
• ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
• অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
• ষট্ + অঙ্গ = ষড়ঙ্গ।
• ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু।
• ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য।
• ষট্ + আনন = ষড়ন।
• সৎ+ অর্থক = সদর্থক।
• সৎ + ইচ্ছা = সদিচ্ছা।
• মৃৎ + অঙ্গ = মৃদঙ্গ।
• অপ্ + অগ্নি = অবগ্নি।
• অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন।
• অপ্ + অন্ত = সুবন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৬৩.
'স্বৈর' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কী?
  1. স্বর + ইর
  2. স্বীয় + ইর
  3. স+ ঈর
  4. স্ব + ঈর
সঠিক উত্তর:
স্ব + ঈর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব + ঈর
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বৈর = স্ব + ঈর।
- কুলটা = কুল + অটা। 
- অন্যান্য = অন্য + অন্য।
- প্রৌঢ় = প্র + ঊঢ় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৪.
শিকা > শিকে, তুলা > তুলো - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) পরাগত স্বরসঙ্গতি
  2. খ) মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. গ) প্রগত স্বরসঙ্গতি
  4. ঘ) অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
গ) প্রগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
প্রগত:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমনঃ
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে
- তুলা > তুলো

পরাগত:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
- আখো > আখুয়া> এখো
- দেশি > দিশি

মধ্যগত:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
বিলাতি > বিলিতি

অন্যোন্য:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
মোজা > মুজো

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯] 
 
৯৬৫.
'অগুরু > অগ্রু' - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. আদিস্বরলোপ
  2. অন্ত্যস্বর লোপ
  3. মধ্যস্বর লোপ
  4. অপনিহিতি
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বর লোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বর লোপ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ তিন ধরনের হয়ে থাকে।
সেগুলো হলো:

আদিস্বরলোপ:
যেমন:
- অলাবু > লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ:
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ,
- তৈআরি > তৈরি।

অন্ত্যস্বর লোপ:
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- পোকা > পোক্‌
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৬.
‘তুর্ক > তুরুক' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. স্বরভক্তি
  3. অন্ত্যস্বরাগম
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি পরিবর্তন:
উচ্চারণের সময় সহজীকরণের প্রবণতায় শব্দের মূল ধ্বনির যেসব পরিবর্তন ঘটে তাকে বলা হয় ধ্বনি পরিবর্তন।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।

ই:
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।

উ:
- মুক্তা > মুকুতা,
- তুর্ক > তুরুক,
- ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।

এ:
- গ্রাম > গেরাম,
- প্ৰেক > পেরেক,
- স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।

ও:
- শ্লোক > শােলােক,
- মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

---------------------
অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে ।
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৭.
'ভিখারি > ভিখিরি' এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
  2. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  4. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি (Mutual):
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। 

যেমন:
- বিলাতি > বিলিতি; 
- ভিখারি > ভিখিরি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৬৮.
'পুনরায়' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুন +রায়
  2. পুনঃ +আয়
  3. পুনঃ + রায়
  4. পুনো + রায়
সঠিক উত্তর:
পুনঃ +আয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ +আয়
ব্যাখ্যা
• 'পুনরায়' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ পুনঃ + আয়।

• বিসর্গ ও ব্যঞ্জনের সন্ধি:
- অ-কারের পরস্থিত র্-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনোটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন-
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- অন্তঃ ধান = অন্তর্ধান,
- পুনঃ+ আয় = পুনরায়,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- অহঃ + অহ = অহরহ।
- এরূপ – পুনর্জন্ম, পুনর্বার, অন্তর্ভুক্ত, পুনরপি, অন্তবর্তী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৬৯.
'সুধীন্দ্র' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী হবে?
  1. সুধি + ইন্দ্র
  2. সুধী + ইন্দ্র
  3. সুধি + ঈন্দ্র
  4. সুধী + ঈন্দ্র
সঠিক উত্তর:
সুধী + ইন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধী + ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
• 'সুধীন্দ্র' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ সুধী + ইন্দ্র।

• সূত্র:

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়।
দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
- ই + ই = ঈ; অতি + ইত = অতীত।
- ই + ঈ= ঈ; পরি+ ঈক্ষা পরীক্ষা।
- ঈ + ই = ঈ; সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র।
- ঈ + ঈ= ঈ; সতী + ঈশ সতীশ।

এরূপ- গিরীন্দ্র, ক্ষিতীশ, মহীন্দ্র, শ্রীশ, পৃথ্বীশ, অতীব, প্রতীক্ষা, প্রতীত, রবীন্দ্র, দিল্লীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৭০.
'মৃন্ময়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মৃন্‌ + ময়
  2. মৃৎ + ময়
  3. মৃত + ময়
  4. মৎ + ময়
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃৎ + ময়
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
ন্‌ বা ম্ পরে থাকলে ক্ স্থানে ঙ, চ্ স্থানে ঞ, ট্ স্থানে প্, ত স্থানে ন্ এবং প্ স্থানে ম্ হয়, অর্থাৎ বর্গের প্রথম ধ্বনি সন্ধিতে পঞ্চম ধ্বনিতে পরিণত হয়।
যেমন:
- দিক্ + নির্ণয় = দিনির্ণয়,
- দিক্ + নিরূপণ = দিনিরূপণ,
- ষট্ + নবতি = স্বপ্নবতি,
- উৎ + নয়ন = উন্নয়ন,
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- চিৎ + ময় = চিন্ময়,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৭১.
বাংলা একাডেমি অনুসারে যথার্থ দ্বিস্বর/যৌগিক স্বর কয়টি?
  1. ক) ৭
  2. খ) ১৭
  3. গ) ২৪
  4. ঘ) ২৫
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৭
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরের সংখ্যা : সম্ভাবনা ও বাস্তব
মোট চব্বিশটি হল স্বর+অর্ধস্বর ক্রমে বাংলা দ্বিস্বরের সম্ভাবনা।
- এ সম্ভাবনা নেহাত গাণিতিক।
- বস্তুত, বাংলা ভাষায় এর সবকটির দেখা মেলে না ।
- প্রান্তিক দ্বিস্বর বলে সতেরোটি দ্বিস্বরকেও যথার্থ স্বাভাবিক মান্য বাংলার দ্বিস্বর হিসাবে গ্রহণ করা হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৯৭২.
বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য কী ধরণের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্ত্যস্বরাগম
  2. অপিনিহিতি
  3. অসমীকরণ
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis) :
কোনাে কোনাে সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন –
দিশ > দিশা,
পােখত্ >পােত,
বেঞ্চ > বেঞ্চি,
সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অপিনিহিতি (Apenthesis) :
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন –
আজি > আইজ,
সাধু > সাউধ,
রাখিয়া > রাইখ্যা,
বাক্য > বাইক্য,
সত্য > সইত্য,
চারি > চাইর,
মারি > মাইর ইত্যাদি।

অসমীকরণ (Dissimilation) :
একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ,
টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

ধ্বনি বিপর্যয় :
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন – ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক,
জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি।
অনুরূপ – পিশাচ > পিচাশ,
লাফ > ফাল।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ]
৯৭৩.
'বিচ্ছিন্ন' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বিদ + ছিন্ন
  2. বিৎ + ছিন্ন
  3. বিধ্‌ + ছিন্ন
  4. বি + ছিন্ন
সঠিক উত্তর:
বি + ছিন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বি + ছিন্ন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম (স্বর + ব্যঞ্জনে সন্ধি):
পূর্বপদের শেষে যদি স্বরধ্বনি থাকে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ছ হয় তবে দুয়ের সন্ধিতে ছ-ধ্বনি চ্ছ হয়ে যায়। স্বরধ্বনি চ্ছ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- প্র + ছদ = প্রচ্ছদ;
- মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি;
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে;
- পরি + চ্ছে = পরিচ্ছেদ;
- বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া;
- এক + ছত্র = একচ্ছত্র;
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ;
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন;
- তরু + ছায়া = তরুচ্ছায়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৭৪.
কোনটি মধ্যস্বর লোপের উদাহরণ?
  1. আশা > আশ
  2. আজি > আজ
  3. চারি > চার
  4. সুবর্ণ > স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
সুবর্ণ > স্বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবর্ণ > স্বর্ণ
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন:
- বসতি বস্তি,
- জানালা > জাল্লা ইত্যাদি।

আদিস্বরলোপ:
যেমন-
- অলাবু >  লাবু >  লাউ,
- উদ্ধার  > উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ:
যেমন-
- অগুরু > অগ্নু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ

অন্ত্যস্বর লোপ:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৭৫.
নিচের কোন সন্ধি-বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) জন + এক = জনৈক
  2. খ) পরী + ঈক্ষা = পরীক্ষা
  3. গ) আশা + অতীত = আশাতীত
  4. ঘ) গো + আদি = গবাদি
সঠিক উত্তর:
খ) পরী + ঈক্ষা = পরীক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পরী + ঈক্ষা = পরীক্ষা
ব্যাখ্যা
পরী + ঈক্ষা = পরীক্ষা এর সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।
- সন্নিহিত দুইটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি।
যেমন : 
প্রতি + এক = প্রত্যেক।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু সন্ধি :
 জন + এক = জনৈক
 গো + আদি = গবাদি।
 বন + ওষধি = বনৌষধি।
 মহা + ঋষি = মহর্ষি।
 আশা + অতীত = আশাতীত

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৭৬.
'গবাক্ষ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গো + অক্ষ 
  2. গোঃ+ অক্ষ 
  3. গ + বাক্ষ 
  4. গো + বাক্ষ
সঠিক উত্তর:
গো + অক্ষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গো + অক্ষ 
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- কুল + অটা = কুলটা,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৭৭.
কখন ন হয় না
  1. ক বর্গের আগে
  2. চ বর্গের আগে
  3. ট বর্গের আগে
  4. ত বর্গের আগে
সঠিক উত্তর:
ট বর্গের আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট বর্গের আগে
ব্যাখ্যা
ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে কখনো ‘ন’ ব্যবহৃত হয় না।

• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
 
• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।
 
যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৭৮.
'পরিচ্ছেদ' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. স্বর + ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + স্বর
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• 'পরিচ্ছেদ'- 'স্বর + ব্যঞ্জন' নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি।

• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
ব্যঞ্জনসন্ধি সাধারণত চার নিয়মে হয়, 
১. স্বর+ব্যঞ্জন,
২. ব্যঞ্জন + স্বর,
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন,
৪. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।
--------------------
• 'স্বর + ব্যঞ্জন' নিয়ম: 
- স্বর + ছ = স্বর + চ্ছ।
যেমন,
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।
এখানে পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ- এর জায়গায় 'চ্ছ' হয়েছে।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
৯৭৯.
কোনটি হ্রস্বস্বর?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

হ্রস্বস্বর:
- যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে।
যেমন: অ, , উ, ঋ এই (৪টি হ্রস্বস্বর)।

দীর্ঘস্বর:
- যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে।
যেমন: আ, , ঊ, এ, , , ঔ এই ৭টি দীর্ঘস্বর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৮০.
কোনটি অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি- জ।

---------------------------------
• ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৮১.
'অঙ্কুর' শব্দে যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের মিলনে তৈরি?
  1. ঙ্‌ + গ
  2. ঙ্‌ + ক
  3. ঞ্‌ + ক
  4. ন্‌ + ক
সঠিক উত্তর:
ঙ্‌ + ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ্‌ + ক
ব্যাখ্যা

• 'অঙ্কুর' শব্দে যুক্তবর্ণটি 'ঙ্‌ + ক = ঙ্ক' দুটি বর্ণের মিলনে তৈরি।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- হ্‌ + ম = হ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৯৮২.
'দৃশ্য' শব্দের উচ্চারণ কীরূপ?
  1. দৃশশো
  2. দৃশ্‌শ
  3. দ্ৰিশ্শাে‌
  4. দ্ৰিশ্‌শ
সঠিক উত্তর:
দ্ৰিশ্শাে‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্ৰিশ্শাে‌
ব্যাখ্যা
ঋ বর্ণের উচ্চারণ রি-এর মতাে:
- ঋতু [রিতু],
- ঋণ [রিন্],
- কৃষক [ক্রিশক্‌],
- দৃশ্য [দ্ৰিশ্শাে‌]।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে,
দৃশ্য [দৃশ্‌শো]:
অর্থ - দেখা যায় এমন বিষয় বা বস্তু, নাটকের গর্ভাঙ্ক ইত্যাদি।
৯৮৩.
‘আশীর্বাদ’ কোন সন্ধির নিয়ম সাধিত শব্দ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গসন্ধি
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি: বিসর্গের সাথে স্বর বা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। বিসর্গ সন্ধি দুই ভাগে বিভক্ত যথা-
 ১. র্-জাত বিসর্গ।
 ২. স্-জাত বিসর্গ।

সংস্কৃত ভাষার নিয়মে সংস্কৃত শব্দের শেষে ‘সৃ’ বা ‘র্’ থাকলে ‘স’ বা ‘র’ লোপ পেয়ে বিসর্গ সন্ধি হয়।
যেমন:
• র্-জাত বিসর্গ: নির্>নিঃ; দুর্>দুঃ, অন্তর্>অন্তঃ ইত্যাদি।
• স্-জাত বিসর্গ: সরস্>সরঃ; মনস্>মনঃ; পুরস্>পুরঃ ইত্যাদি।

⇒ বিসর্গ ও ব্যঞ্জনের সন্ধি:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন:
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৮৪.
ত - বর্গীয় ধ্বনিকে কী বলে?
  1. মূর্ধন্য ধ্বনি
  2. কণ্ঠ ধ্বনি
  3. দন্ত ধ্বনি
  4. তালব্য ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
দন্ত ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত ধ্বনি
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।

এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৮৫.
'তীক্ষ্ণ' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন কোন বর্ণের সংযোগ ঘটেছে?
  1. ক) ক্‌ + ষ
  2. খ) ক্‌ + ষ্‌ + ন
  3. গ) ক্‌ + ষ্‌ + ণ
  4. ঘ) ক্‌ + ষ্‌ + ম
সঠিক উত্তর:
গ) ক্‌ + ষ্‌ + ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্‌ + ষ্‌ + ণ
ব্যাখ্যা
তীক্ষ্ণ শব্দে ক্ষ্ণ = ক্‌ + ষ্‌ + ণ
লক্ষ্মণ, লক্ষ্মী শব্দে ক্ষ্ম = ক্‌ + ষ্‌ + ম 
বক্ষ, ক্ষুদ্র, লক্ষ শব্দে ক্ষ = ক্‌ + ষ

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৬.
'পদ্ম > পদ্দ' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্যোন্য সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
  4. প্রগত সমীভবন
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৮৭.
'ন, র, ল, স' প্রভৃতি কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. ক) মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. খ) দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. গ) দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  4. ঘ) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
গ) দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তাছাড়া-

প, ফ, ব, ভ, ম = ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন।
ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় = মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনি
ত, থ, দ, ধ দন্ত্য = দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৯৮৮.
স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. অন্বেষণ
  2. দুর্যোগ
  3. ষড়ানন
  4. সুবন্ত
সঠিক উত্তর:
অন্বেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্বেষণ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির উদাহরণ - অন্বেষণ (অনু + এষণ)।

অন্যদিকে,
• বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ - দুর্যোগ (দুঃ + যোগ)।
• ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ - ষড়ানন (ষট্‌ + আনন), সুবন্ত (সুপ্‌ + অন্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৮৯.
নিচের কোন শব্দটি 'ল' দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. জাল
  2. লাল
  3. ছাগল
  4. ঢোল
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা

- লাল শব্দটির 'ল' দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:

- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। যথা-
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, , স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, , , ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৬-সংস্করণ)।

৯৯০.
ষ -ত্ব বিধান অনুয়ায়ী গঠিত শুদ্ধ শব্দ কোনটি? 
  1. ষড়যন্ত্র
  2. ঔষধ
  3. পোষাক
  4. বিষম
সঠিক উত্তর:
বিষম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষম
ব্যাখ্যা
• 'বিষম' ষ -ত্ব বিধান অনুয়ায়ী গঠিত শুদ্ধ শব্দ।
 
সূত্র: 
- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
- যেমন: সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- ষড়যন্ত্র ও ঔষধ শব্দে স্বভাবতই ষ বসেছে।
- 'পোষাক' বিদেশি শব্দ তাই এর শুদ্ধ বানান হবে 'পোশাক'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৯১.
তালব্য, অল্পপ্রাণ ধ্বনি কোনটি?
  1. গ 
  2. ত 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• 'জ' - তালব্য, অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

• মহাপ্রাণ ধ্বনি: 
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- যথা- (খ, ঘ), (ছ, ঝ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি। 

• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।

এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৯২.
'রাষ্ট্রপতি' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) রাশ্‌ট্রপতি
  2. খ) রাশ্‌ট্রোপতি
  3. গ) রাষট্রপতি
  4. ঘ) রাশ্‌ট্রোপোতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাশ্‌ট্রোপোতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাশ্‌ট্রোপোতি
ব্যাখ্যা
'রাষ্ট্রপতি' এর সঠিক উচ্চারণ- 'রাশ্‌ট্রোপোতি'। 

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:  
শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]। 
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
৯৯৩.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক্ + র = ক্ত
  2. ঞ্‌ + চ = ঞ্ছ
  3. ঙ্ + গ = ঙ্গ
  4. ঙ্ + জ = ঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ঙ্ + গ = ঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ্ + গ = ঙ্গ
ব্যাখ্যা
সঠিক যুক্তবর্ণ হলো:  ঙ্ + গ = ঙ্গ

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ত্ + থ = ত্থ
- ঙ্ +ক = ঙ্ক
- ক্ + র = ক্র
- ঞ্ + ঝ =ঞ্ঝ
- ক + ষ = ক্ষ
- হ + ম = হ্ম 
- জ + ঞ = জ্ঞ
- ষ + ণ = ষ্ণ 

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
৯৯৪.
সংযুক্ত বর্ণের কোন রূপটি শুদ্ধ?
  1. ঙ্ + ছ = ঞ্ছ
  2. জ্ + ঞ = ঞ্জ
  3. ণ্ + ঢ = ণ্ড
  4. ত্ + থ = ত্থ
সঠিক উত্তর:
ত্ + থ = ত্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্ + থ = ত্থ
ব্যাখ্যা
• সংযুক্ত বর্ণের শুদ্ধরূপ: ত্ + থ = ত্থ।

অন্যদিকে,
• ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ।
• ঞ্‌ + জ = ঞ্জ।
• ণ্‌ + ড = ণ্ড।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- হ্‌ + ণ = হ্ণ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- হ্‌ + ম = হ্ম।
- ক্‌ + ষ = ক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯৫.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ছেলে + মি = ছেলেমি
  2. সং + সার= সংসার
  3. উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
  4. আহঃ + রহ = অহরহ
সঠিক উত্তর:
উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- বাক্ + দান = বাগদান,
- ষট্ + যন্ত্ৰ ষড়যন্ত্র,
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন,
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ,
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন,
- তৎ + রূপ = তদ্রুপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
• 'অহরহ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = অহঃ + অহ।
• 'সংসার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = সম্‌ + সার।
• 'ছেলেমি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = ছেলে + আমি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
৯৯৬.
ষ-ত্ব বিধানের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
  2. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে 'ষ' যুক্ত হয়।
  3. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ'' যুক্ত হয়।
  4. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে 'ষ' যুক্ত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে 'ষ' যুক্ত হয়।
ব্যাখ্যা

• 'সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে 'ষ' যুক্ত হয়।'- 'ষ-ত্ব' বিধানের ক্ষেত্রে এই উক্তিটি অশুদ্ধ। 

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ'' যুক্ত হয়। যেমন কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়।
যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ , কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
- খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে 'ষ' হয় না। যেমন দেশি, বসবাস, করিস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯৯৭.
‘ভাষাচার্য’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভাষা + আচর্য
  2. ভাষা + চার্য
  3. ভাষা + আচার্য
  4. ভাষা + আর্য
সঠিক উত্তর:
ভাষা + আচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা + আচার্য
ব্যাখ্যা
⇒ স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয় এবং এই আ-কার পূর্ব বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।

• সূত্র: আ + আ = আ:
- ভাষা + আচার্য = ভাষাচার্য;
- ব্যথা + আতুর = ব্যথাতুর;
- কারা + আগার = কারাগার;
- মহা + আশয় = মহাশয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৯৮.
মাত্রার উপর ভিত্তি করে বর্ণসমূহকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
• উপযুক্ত বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 

⇒ মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ,ঁ)। 

⇒অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)। 

⇒ পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৯.
বাংলা বর্ণমালায় 'মাত্রাহীন' বর্ণ কয়টি?
  1. ৬ টি
  2. ৮টি
  3. ১০ টি
  4. ১২ টি
সঠিক উত্তর:
১০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ টি
ব্যাখ্যা
• বর্ণ:
• ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

• বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ্ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি ( খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ- ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,০০০.
নিচের কোন শব্দটিতে নিত্য মূর্ধন্য 'ণ' হয়নি?
  1. পুণ্য
  2. কণিকা
  3. পাণি
  4. ভীষণ
সঠিক উত্তর:
ভীষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভীষণ
ব্যাখ্যা

• 'ভীষণ' শব্দে ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী মূর্ধন্য-ণ বসেছে। এখানে, নিত্য মুর্ধন্য 'ণ' হয়নি।

ণ-ত্ব বিধান সূত্র:
- ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন : ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।  

• কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু বিপণি, গণিকা।
আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।