বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Penal Code, 1860

মোট প্রশ্ন২,৪৪৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Penal Code, 1860

PrepBank · পাতা ১৪ / ২৫ · ১,৩০১১,৪০০ / ২,৪৪৭

১,৩০১.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী ‘Stolen property’ বলতে কোন অপরাধের মাধ্যমে হস্তান্তরিত সম্পত্তিকে বোঝানো হয়েছে?
  1. চুরি
  2. বলপূর্বক আদায়
  3. দস্যুতা ও বিশ্বাসভঙ্গ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪১০ ধারা অনুযায়ী “চোরাই সম্পত্তি (Stolen Property)” বলতে বোঝায় এমন সম্পত্তি:
১) চুরি (Theft) এর মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে।
২) বলপূর্বক আদায় (Extortion) এর মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে।
৩) দস্যুতার (Robbery) দ্বারা হস্তান্তরিত।
৪) অপরাধমূলক আত্মসাৎ (Criminal misappropriation) করা হয়েছে।
৫) অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal breach of trust) এর মাধ্যমে বিশ্বাস ভঙ্গ করে দখল নেওয়া হয়েছে।
- উপরোক্ত যেকোনো প্রক্রিয়ায় অর্জিত সম্পত্তি চোরাই মাল হিসেবে গণ্য হয় — সেটা বাংলাদেশের ভিতরে বা বাইরে সংঘটিত হলেও।
- তবে, যদি ওই সম্পত্তি পরবর্তীতে আইনানুগভাবে অধিকারপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির দখলে আসে, তাহলে তা আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
- এই ধারা বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তিকে একইভাবে “চোরাই সম্পত্তি” হিসেবে বিবেচনা করে — ফলে উত্তর “ঘ) উপরের সবগুলো” একমাত্র সঠিক উত্তর।

⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার বিধান চোরাই সম্পত্তি:
- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে "চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি 'চোরাই সম্পত্তি' বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 410: Stolen property:
- Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.

১,৩০২.
‘A’ নিজের জীবন শেষ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ পান করে, কিন্তু প্রতিবেশীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাঁচিয়ে ফেলে। দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুসারে A কোন ধারায় দোষী হবে?
  1. ৩০৮ ধারা
  2. ৩০৯ ধারা
  3. ৩১০ ধারা
  4. ৩০৫ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৯ অনুসারে, আত্মহত্যার চেষ্টা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 'A' বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, তাই সে এই ধারায় দোষী হবে। শাস্তি হলো সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা- আত্মহত্যা করার চেষ্টা:

কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে এবং অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কার্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒The Penal Code, 1860-Section Section 309- Attempt to commit suicide:
Whoever attempts to commit suicide and does any act towards the commission of such offence, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

১,৩০৩.
বাংলাদেশ সরকারের কর্তৃত্ববলে সীলমোহরকৃত ও ইস্যুকৃত ধাতু, যাহা অর্থ হিসাবে ব্যবহৃত-তাহাকে বলা হয়-
  1. মুদ্রা
  2. বাংলাদেশী মুদ্রা
  3. বাংলাদেশী টাকা
  4. বাংলাদেশী নোট
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারার বিধান: 'মুদ্রার' সংজ্ঞা:- বর্তমানে অর্থরূপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।

বাংলাদেশী মুদ্রা:- বাংলাদেশী মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরূপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে; এবং অর্থরূপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশী মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।

---------------------
♦ “Coin” defined Bangladesh coin:

- Section 230. Coin is metal used for the time being as money, and stamped and issued by the authority of some State or Sovereign Power in order to be so used. 
 
- Bangladesh coin is metal stamped and issued by the authority of the Government in order to be used as money; and metal which has been so stamped and issued shall continue to be Bangladesh coin for the purposes of this Chapter, notwithstanding that it may have ceased to be used as money. 
 
Illustrations 
 
(a) Cowries are not coin. 
 
(b) Lumps of unstamped copper, though used as money, are not coin. 
 
(c) Medals are not coin, inasmuch as they are not intended to be used as money. 
 
(d) The coin denominated as the Company's taka is the Queen's coin. 
 
(e) The "Farukhabad" taka, which was formerly used as money under the authority of the Government of India, is Bangladesh coin although it is no longer so used.
১,৩০৪.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় বলা হয়েছে যে একাধিক ব্যক্তি সাধারণ উদ্দেশ্যে অপরাধ করলে প্রত্যেকে এককভাবে দায়ী হবেন?
  1. ধারা ৩৪
  2. ধারা ৩৫
  3. ধারা ৩৬
  4. ধারা ৩৭
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩৪ অনুসারে, যখন একটি অপরাধ একাধিক ব্যক্তি দ্বারা সাধারণ উদ্দেশ্যে (common intention) সংঘটিত হয়, তখন প্রত্যেক ব্যক্তি এমনভাবে দায়ী হবেন যেন তিনি একাই সেই অপরাধটি করেছেন। এই ধারাটি স্পষ্টভাবে বলে যে, অপরাধটি যদি সকলের সাধারণ উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়, তবে প্রত্যেকে সমানভাবে দায়ী।

- দণ্ডবিধির ৩৪ ধারামতে যখন কতিপয় ব্যক্তি (২ বা ততোধিক) দ্বারা সকলের একই অভিপ্রায় পূরণকল্পে (in furtherance of Common Intention) কোন অপরাধমূলক কার্য সম্পাদিত হয় তখন প্রত্যেকে যৌথভাবে দায়ী হবে যেন নিজে কাজটি করেছে।
- উক্ত ধারা অনুযায়ী যখন একই অভিপ্রায় পূরণকল্পে একাধিক ব্যক্তি কোন অপরাধমূলক কাজ সম্পাদন করে তখন তাদের প্রত্যেকে উক্ত কাজের জন্য এমনভাবে দায়ী হবেন যেন প্রত্যেকে আলাদাভাবে কাজটি সম্পাদন করেছে।

- দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার অধীনে সাধারণ অভিপ্রায় প্রমাণ করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয় সমূহ গুরুত্বপূর্ণ:
ⅰ) কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত হবে;
ii) তাদের প্রত্যেকের সাধারণ অভিপ্রায় এবং পূর্ব পরিকল্পনা ছিল উক্ত অপরাধ সংঘটন করা; এবং
iii) অভিপ্রায়কে সফল করার জন্য অপরাধ সংঘটনে অংশগ্রহণ।
--------
⇒ The Penal Code, 1860: Section 34: Acts done by several persons in furtherance of common intention:
- When a criminal act is done by several persons, in furtherance of the common intention of all, each of such persons is liable for that act in the same manner as if it were done by him alone.

১,৩০৫.
কোন স্বামী বা স্ত্রীকে দ্বিগামিতা বা বহুবিবাহের অপরাধের জন্য ৪৯৪ ধারায় দোষী করা যাবে না, যদি দ্বিতীয় বিবাহের সময় তার পূর্ববর্তী স্বামী বা স্ত্রী ক্রমাগতভাবে __________ ধরে অনুপস্থিত থাকে বা সে জীবিত আছে বলে শোনা যায় না।
  1. ৩ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
দ্বিগামিতা [Bigamy]:
দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী একসঙ্গে দুই স্ত্রী বা স্বামী নিয়ে বসবাস বা একই সঙ্গে দুই বিয়ের জন্য দোষী হলো দ্বিবিবাহ বা দ্বিগামিতা [Bigamy]। দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় দ্বিগামিতা বা Bigamy শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দ্বিবিবাহ বা দ্বিগামিতার জন্য কোন ব্যক্তি দণ্ডিত হবে যদি-
১. স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও বিবাহ করে এবং
২. স্বামী বা স্ত্রী জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করার কারণে বিবাহটি বাতিল হলে।

যে যে ক্ষেত্রে দ্বিগামিতা বা বহুবিবাহের অপরাধ সংক্রান্ত ৪৯৪ ধারা প্রযোজ্য হবে না:
১. যেহেতু ইসলামে পুরুষরা বহুবিবাহ (একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ) করতে পারে, তাই এই ধারা মুসলিম পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য না।
২. যে ব্যক্তির বিবাহ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত কর্তৃক বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ সেই ব্যক্তি পুনরায় বিবাহ করলে সে ৪৯৪ ধারায় দণ্ডিত হবে না।
৩. কোন স্বামী বা স্ত্রীকে দ্বিগামিতা বা বহুবিবাহের অপরাধের জন্য ৪৯৪ ধারায় দোষী করা যাবে না যদি দ্বিতীয় বিবাহের সময় তার পূর্ববর্তী স্বামী বা স্ত্রী ক্রমাগতভাবে ৭ বৎসর ধরে অনুপস্থিত থাকে বা সে জীবিত আছে বলে শোনা যায় না

• Section 494- Marrying again during life-time of husband or wife:
Whoever, having a husband or wife living, marries in any case in which such marriage is void by reason of its taking place during the life of such husband or wife, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.

Exception:
This section does not extend to any person whose marriage with such husband or wife has been declared void by a Court of competent jurisdiction, nor to any person who contracts a marriage during the life of a former husband or wife, if such husband or wife, at the time of the subsequent marriage, shall have been continually absent from such person for the space of seven years, and shall not have been heard of by such person as being alive within that time provided the person contracting such subsequent marriage shall, before such marriage takes place, inform the person with whom such marriage is contracted of the real state of facts so far as the same are within his or her knowledge.
১,৩০৬.
দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারার অধীনে কোন ব্যক্তি সরকারী কর্মচারীকে সহায়তা করতে আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও তা না করলে সর্বোচ্চ কতদিনের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ১ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারা- সরকারী কর্মচারীকে সহায়তা করতে আইনত: বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের অনুরূপ সহায়তা না করা:
কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীকে তাঁর সরকারী কর্তব্য সম্পাদনে সহায়তা করতে বা সহায়তা সংগ্রহ করে দিতে আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ সহায়তা দিতে ইচ্ছাপূর্বক অন্যথা করে, তবে সে ব্যক্তি একমাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;
এবং অনুরূপ সহায়তা যদি কোন আদালত হতে আইনসম্মতভাবে দেওয়া সমনাদি বলবৎ করার জন্য অথবা কোন অপরাধের সংঘটন নিবারণের জন্য, অথবা কোন দাঙ্গা বা কলহ দমনের জন্য অথবা কোন অপরাধে বা আইনসম্মত আটক হতে পলায়নের দায়ে অভিযুক্ত বা অপরাধী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার জন্য সহায়তা দাবি করতে আইনসম্মত-ভাবে ক্ষমতাসম্পন্ন কোন সরকারী কর্মচারী দাবি করে থাকেন, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
১,৩০৭.
ডাকাতির মাধ্যমে লব্ধ চোরাই সম্পত্তি কেউ জেনে-বুঝে তার কাছে রাখলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিচের কোনটি?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

ডাকাতির মাধ্যমে চুরি করা সম্পত্তি অসাধু উপায়ে গ্রহণ করা ( দণ্ডবিধির ধারা ৪১২)

যে কেউ অসাধু উপায়ে চুরি করা কোনো সম্পত্তি গ্রহণ বা সংরক্ষণ করবে, যার অধিকার সে জানে বা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে তা ডাকাতির মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে, অথবা যে কেউ এমন কোনো ব্যক্তি থেকে অসাধু উপায়ে সম্পত্তি গ্রহণ করবে, যাকে সে ডাকাত দলের সদস্য হিসেবে চেনে বা বিশ্বাস করার কারণ আছে, এবং জানে বা বিশ্বাস করার কারণ আছে যে সম্পত্তিটি চুরি করা হয়েছে,

তাহলে তার শাস্তি হবে:
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা
- সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কঠোর কারাদণ্ড, এবং
- অর্থদণ্ডও প্রযোজ্য হবে।

১,৩০৮.
করিম সাহেব ব্যথার কষ্ট নিয়ে একজন চিকিৎসকের নিকট গেলেন। চিকিৎসকের অস্ত্রোপচারের ফলে করিম সাহেবের মৃত্যু হতে পারে এটা জেনেও করিম সাহেবের মৃত্যু ঘটানোর কোন অভিপ্রায় ছাড়াই সরল বিশ্বাসে করিম সাহেবের মঙ্গলার্থে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারটি করেন। উক্ত অস্ত্রোপচারের পর করিম সাহেব মারা যান। করিম সাহেবের মৃত্যুতে কোন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
  1. কোন অপরাধ হয়নি
  2. খুন হয়েছে
  3. অপরাধমূলক নরহত্যা হয়েছে
  4. দুই ও তিন
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৮৮ ধারা মতে মৃত্যু ঘটানের অভিপ্রায় ব্যতীত কোন কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতি নিয়ে ঐ ব্যক্তির মঙ্গলের জন্য কাজটি করা হলে তা অপরাধ নয়।
 • চিকিৎসক মৃত্যু ঘটানোর কোন অভিপ্রায় ছাড়াই সরল বিশ্বাসে রোগীর মঙ্গলনার্থে অস্ত্রোপচার করেন তাই এটি কোন অপরাধ নয়।
১,৩০৯.
The Penal Code, 1860 এর কোন ধারায় বেআইনী সমাবেশ এর সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. ১৪৬
  2. ১৪১
  3. ১৪৭
  4. ৪৪৭
ব্যাখ্যা
দন্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনী সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোন সমাবেশ করলে তাকে বেআইনী সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।

♦ দন্ডবিধির ১৪১ ধারামতে ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি কর্তৃক সৃষ্ট সমাবেশে নিম্নলিখিত ৫টি সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object থাকলে তা বেআইনী সমাবেশ বলে গণ্য হবে। সাধারণ উদ্দেশ্যগুলো (common object) নিম্নরূপ যথা-
১) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান;
২) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
৩) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
৪) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত; অথবা
৫) কোন ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

♦ সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object বলতে তদ্রূপ উদ্দেশ্যকে বোঝায় যা পূরণকল্পে সমাবেশের সকল সদস্য সমবেত হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য হাসিল করবে বলে তারা সকলে জানত; অর্থাৎ বেআইনী সমাবেশ করার জন্য যে সকল উদ্দেশ্য থাকে সেই সকল উদ্দেশ্য সমূহ হলো সাধারণ উদ্দেশ্য।
১,৩১০.
ঠগের সংজ্ঞা ছেয়ে কোথায়?
  1. ৩০১ ধারায়
  2. ৩১০ ধারায়
  3. ৩১১ ধারায়
  4. ৩০০ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ৩১০ ধারায় ঠগের সংজ্ঞা (Thug) রয়েছে।  খুন অথবা খুন সহকারে দস্যুতা সংঘটন অথবা শিশু অপহরণ করার উদ্দেশ্যে দুষ্টু মন নিয়ে মেলামেশা করাকে ঠগ (Thug) বলে। অর্থাৎ অভ্যাসগতভাবে কাউকে খুন বা শিশু অপহরন করে দস্যুতার উদ্দেশ্যে মেলামেশা করাকে ঠগ বলা হয়। সমস্ত ঠগই দস্যু এবং ডাকাত কিন্তু সমস্ত দস্যু বা ডাকাত ঠগ নয়।
১,৩১১.
যদি কেউ কারো নাকে ঘুষি মারে এবং নাক ভেঙে মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করে, তাহলে এটি কী ধরনের অপরাধ?
  1. হত্যার চেষ্টা
  2. সাধারণ জখম
  3. গুরুতর জখম
  4. অপরাধই নয়
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) গুরুতর জখম।
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩২০ অনুসারে, "গুরুতর জখম" (Grievous hurt) বলতে এমন কিছু নির্দিষ্ট আঘাতকে বোঝানো হয় যা শারীরিকভাবে স্থায়ী ক্ষতি বা বিকৃতি সৃষ্টি করে।
- উক্ত ধারার ষষ্ঠ অংশে বলা হয়েছে: “মাথা বা মুখমণ্ডলের স্থায়ী বিকৃতি” — এটি গুরুতর জখম হিসেবে গণ্য হবে।
⇒ অর্থাৎ যদি কেউ ঘুষি মেরে অপরের নাক ভেঙে দেয় এবং ফলে মুখমণ্ডলের গঠন স্থায়ীভাবে বিকৃত হয়ে যায়, তবে এটি ধারা ৩২০ এর ষষ্ঠ দফা অনুযায়ী গুরুতর জখম।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংসকরণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 320: Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":-
Firstly.-Emasculation.
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye.
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear.
Fourthly.-Privation of any member or joint.
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint.
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face.
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth.
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
১,৩১২.
Section 55A of the Penal Code preserves the President’s power to:
  1. Impose new punishments
  2. Increase punishments
  3. Overrule court judgments
  4. Grant pardons, reprieves, or remissions
ব্যাখ্যা

Answer: c) Grant pardons, reprieves, or remissions.
⇒ The Penal Code, 1860- Section, 55A. Saving for President’s prerogative:
 - Nothing in section fifty-four or section fifty-five shall derogate from the right of the President to grant pardons, reprieves, respites or remissions of punishment.

ধারা ৫৫ক: রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংরক্ষণ (Saving for President’s prerogative)
"Nothing in section fifty-four or section fifty-five shall derogate from the right of the President to grant pardons, reprieves, respites or remissions of punishment."

- এই ধারাটি নির্দেশ করে যে, ধারা ৫৪ এবং ধারা ৫৫-এ যেসব বিধান রয়েছে, তা রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতা, যেমন মুক্তি, দয়া, দণ্ড মওকুফ, বা দণ্ডে ছাড় দেওয়ার অধিকারকে প্রভাবিত বা খর্ব করতে পারবে না।
 
- রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি দেশের শীর্ষনেতা হিসেবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমার (pardon) বা দণ্ড মওকুফ (reprieve) করার অধিকার রাখেন। এই ক্ষমতা তার নিজস্ব প্রিভিলেজ বা prerogative হিসেবে পরিচিত।
- ধারা ৫৪ এবং ৫৫-এ, বিশেষত, দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি, দণ্ডের পর্যালোচনা বা দণ্ডের মওকুফ সম্পর্কিত কিছু বিধান রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা এই সকল বিধান থেকে স্বাধীন, এবং তার ক্ষমতা কোনোভাবেই কমানো যাবে না।

১,৩১৩.
"Wrongful gain" in The Penal Code, 1860, is:
  1. Lawful gain
  2. Loss of entitled property
  3. Retaining legal property
  4. Unlawful gain of unentitled property
ব্যাখ্যা
"Wrongful gain" refers to acquiring property through unlawful means, where the person gaining the property is not legally entitled to it. According to Section 23 of The Penal Code, 1860:

- Wrongful gain is gain made through unlawful means of property that the person gaining has no legal right to possess or control.
In simpler terms, if someone gains property or an asset in a way that is against the law, or without any legal entitlement, it is termed as wrongful gain. This could include actions like theft, fraud, or cheating, where the property acquired was never rightfully theirs, and they had no legal claim to it.

- For example, if a person steals money from another person, the money gained by the thief is considered wrongful gain because they are not entitled to that money legally.
১,৩১৪.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি কী?
  1. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  3. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  4. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৯৩ অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় বা এমন মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে যাতে তা ওই কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
 দণ্ডবিধির ধারা ১৯৩ অনুযায়ী,
-যদি কোনো ব্যক্তি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় বা মিথ্যা প্রমাণ তৈরি করে, তাহলে তার শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে এবং অর্থদণ্ডও আরোপ করা যেতে পারে।
- অন্যদিকে, বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যায়।

এখানে প্রশ্নে "বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের পর্যায়ে" মিথ্যা সাক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে, তাই সঠিক উত্তর ঘ) ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
১,৩১৫.
The Penal Code এর কোন অধ্যায়ে মানহানি সম্পর্কিত বিধান রয়েছে?
  1. ২১ তম
  2. ১১ তম
  3. ২০ তম
  4. ২২ তত
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং মোট ধারা ৫১১ টি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়: দ্বিতীয় অধ্যায় সাধারণ ব্যাখ্যা সমূহ, তৃতীয় অধ্যায় শাস্তি, চতুর্থ অধ্যায় সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহ, পঞ্চম অধ্যায়ী অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা, পঞ্চম (ক) অধ্যায়ে অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্র, ষষ্ঠ অধ্যায়ের রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ, নবম অধ্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংক্রান্ত অপরাধ, নবম (ক) অধ্যায় নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ, ১৬ তম অধ্যায়ে মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ, ১৭ তম অধ্যায়ে সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ, ২০ তম অধ্যায়ে বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ, ২১তম অধ্যায়ে মানহানি, ২২তম অধ্যায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, অপমান ও বিরক্তিকরণ, ২৩ তম অধ্যায় অপরাধ সংগঠনের উদ্যোগ।
১,৩১৬.
যদি কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য করা হয়, তাহলে এটি-
  1. মানহানি হবে
  2. মানহানি হবে না
  3. শুধুমাত্র অর্থদণ্ডে শাস্তিযোগ্য হবে
  4. শুধুমাত্র কারাদণ্ডে শাস্তিযোগ্য হবে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় মানহানির ১০ টি ব্যতিক্রম (Exception) রয়েছে অর্থাৎ এই ১০ টি ক্ষেত্রে কোন মানহানিকর উক্তি বা তথ্য প্রকাশ করা হলেও মানহানির অপরাধ হবে না।

⇒ ৪৯৯ ধারায় ১০টি ব্যতিক্রম নিচে দেয়া হল-
১) জনস্বার্থে বা জনগণের কল্যাণের জন্য কারো প্রতি সত্য-দোষারোপ করা হলে তা মানহানি হবে না।
২) জনগণের প্রতি সরকারি কর্মচারীর আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৩) কোন জনসমস্যা/গণসমস্যা সম্পর্কে কোন ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৪) কোন আদালতের কার্য বিবরণীর রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।
৫) আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কোন ফৌজদারি বা দেওয়ানি মোকদ্দমার দোষ, গুণ বা সাক্ষী বা সাক্ষ্যের সম্পর্কে সৎ বিশ্বাসে কোন অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়।

৬) কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার জনগণের উপর ন্যস্ত করা হলে তখন এ বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে অভিমত প্রকাশ করা হলে তা মানহানি নয়। যেমন- কোন ব্যক্তি কোন বই প্রকাশ করলে বা প্রকাশ্য স্থানে বক্তৃতা দিলে তখন তা বিচার করার জন্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।
৭) অন্যের উপর আইনসম্মতভাবে ক্ষমতা রয়েছে এমন ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে কোন নিন্দা করলে তা মানহানি হবে না।
৮) ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তির নিকট সৎ বিশ্বাসে অভিমত দেয়া হলে তা মানহানি বলে গণ্য হবে না। যেমন- পুলিশের কাছে কারো ব্যাপারে অভিযোগ করা।
৯) কোন ব্যক্তি নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে বা জনস্বার্থে সৎ বিশ্বাসে কোন দোষারোপ করলে তা মানহানি নয়।
১০) জনকল্যাণে সৎ বিশ্বাসে কোন ব্যক্তিকে সতর্ক করে কিছু বলা হলে তা মানহানি হবে না।
১,৩১৭.
দণ্ডবিধি অনুসারে নিম্নের কোনটি গুরুতর আঘাত হিসেবে গণ্য হবে না?
  1. যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্টসাধন
  2. দুই কর্ণের যে কোনটির শ্রবণশক্তি রহিতকরণ
  3. দুই চক্ষুর যে কোনটিতে দৃষ্টিশক্তি রহিতকরণ
  4. আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দশ দিন মেয়াদের জন্য তীব্র যন্ত্রণা দান করে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।

অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দশ দিন মেয়াদের জন্য তীব্র যন্ত্রণা দান করে এমন আঘাত দণ্ডবিধি অনুসারে গুরুতর আঘাত হিসেবে গণ্য হবে না।
-----------
⇒Section 320. Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
১,৩১৮.
'ক' একজন সরকারি কর্মচারী এবং 'খ' তার স্ত্রী। স্বামীকে প্রভাবিত করে চাকুরির সংস্থান করে দেয়ার উদ্দেশ্যে 'খ' এক লোকের নিকট হতে একটি উপহার গ্রহণ করেন এবং 'ক' তার স্ত্রীর কার্যে সহায়তা করেন। দণ্ডবিধি অনুসারে 'খ' এর সর্বোচ্চ কারাদণ্ড হবে-
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৬৩ ধারার বিধান সরকারী কর্মচারীর উপর ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগের জন্য পারিতোষিক গ্রহণ:- কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারীর উপর তার ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগ করে উক্ত সরকারী কর্মচারীকে দিয়ে কোন সরকারী কাজ করানোর বা করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে বা পুরস্কার হিসাবে, অথবা সরকারী দায়িত্ব পালনকালে কোন ব্যক্তিকে অনুগ্রহ প্রদর্শন বা নিগ্রহ প্রদর্শন করানোর বা করা হতে বিরত রাখার জন্য, অথবা বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভা দ্বারা কিংবা কোন সরকারী কর্মচারী দ্বারা কোন উপকার বা অপকার করানোর জন্য বা তা করানোর চেষ্টায় নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির জন্য কারো নিকট থেকে কোনরূপ পারিতোষিক গ্রহণ করে, বা লাভ করে, বা গ্রহণ করতে সম্মত হয়, বা লাভ করতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উল্লিখিত প্রশ্নে  দণ্ডবিধি অনুসারে 'খ' এর সর্বোচ্চ কারাদণ্ড হবে ১ বছর।


⇒ দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারার বিধান সরকারী কর্মচারী দ্বারা ১৬২ বা ১৬৩ ধারায় বর্ণিত অপরাধগুলো সংঘটনে সহায়তা করার সাজা:- যে সরকারী কর্মচারীকে জড়িত করে উপরে উল্লেখিত সর্বশেষ দুইটি ধারায় বর্ণিত অপরাধসমূহের কোনটি অনুষ্ঠিত হয়, সে সরকারী কর্মচারী যদি সে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন, তবে তিনি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন।

⇒ অর্থাৎ ১৬৩ ধারায় সরকারী কর্মচারীর উপর ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগকারী ব্যক্তি এবং ১৬৪ ধারায় সরকারী কর্মচারী দণ্ডিত হবেন।
১,৩১৯.
দাঁতের বিচ্যুতি (Dislocation) একটি ________।
  1. গুরুতর আঘাত
  2. সাধারণ আঘাত
  3. মারাত্মক অস্ত্রের মাধ্যমে আঘাত
  4. আক্রমণ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩২০ অনুসারে, "গুরুতর আঘাত" (Grievous Hurt) বলতে নির্দিষ্ট কিছু আঘাতকে বোঝানো হয়। এর মধ্যে দাঁতের বিচ্যুতি (dislocation of a tooth) অন্তর্ভুক্ত।
- এটি গুরুতর আঘাত হিসেবে গণ্য হয় কারণ এটি শক্তিসমূহ ধ্বংস বা অঙ্গের স্থানচ্যুতি নির্দেশ করে, যা দীর্ঘস্থায়ী বা স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ Section 320.Grievous hurt:
 The following kinds of hurt only are designated as "grievous":-
Firstly.-Emasculation.
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye.
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear.
Fourthly.-Privation of any member or joint.
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint.
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face.
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth.
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
১,৩২০.
'A', 'B' কে একটি মামলা থেকে বিরত থাকতে প্ররোচিত করার জন্য তার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়, তাহলে 'A' কী অপরাধে দোষী হবে?
  1. দস্যুতা
  2. অনিষ্টসাধন
  3. বলপূর্বক গ্রহণ
  4. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারার বিধান অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করা:- কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তিকে তার দেহের, খ্যাতির বা সম্পত্তির অথবা সে ব্যক্তি যার সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন কোন লোকের দেহের বা খ্যাতির ক্ষতি বা হানি করার ভীতি প্রদর্শন করে এবং সে ব্যক্তির ভয় সরকারের উদ্দেশ্যে অথবা সে ব্যক্তিকে হুমকি হতে বাঁচার জন্য সে আইনতঃ যা করতে বাধ্য নয়, তাকে তা করতে বাধ্য করায়, অথবা সে আইনত যা করার ক্ষমতা সম্পন্ন, তাকে তা করা হতে বিরত থাকতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ ভীতি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করেছে।
ব্যাখ্যা:- ভীতি প্রদর্শিত ব্যক্তির স্বার্থ নিহিত আছে এমন কোন মৃত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার ভীতি প্রদর্শন এই ধারার আওতাধীন হবে। 

⇒ উদাহরণ:
ক খ-কে একটি দেওয়ানী মামলা পরিচালনা করা হতে বিরত করার জন্য খ-এর বাড়ি পুড়ে ফেলার ভীতি প্রদর্শন করে, ক অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দায়ে অপরাধী হবে।
------------------------------- 
⇒ The Penal Code,1860- Section 503. Criminal Intimidation:
- Whoever threatens another with any injury to his person, reputation or property, or to the person or reputation of any one in whom that person is interested, with intent to cause alarm to that person, or to cause that person to do any act which he is not legally bound to do, or to omit to do any act which that person is legally entitled to do, as the means of avoiding the execution of such threat, commits criminal intimidation.
Explanation:- A threat to injure the reputation of any deceased person in whom the person threatened is interested, is within this sect on.

⇒ Illustration:
A, for the purpose of inducing B to desist from prosecuting a civil suit, threatens to burn B's house. A is guilty of criminal intimidation.
১,৩২১.
'ক' মিথ্যা কুৎসা রটানোর ভয় দেখিয়ে 'খ' কে ২ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য করে। 'খ' নিচের কোন ধরনের অপরাধ করেছে?
  1. দস্যুতা
  2. ডাকাতি
  3. চুরি
  4. বলপূর্বক গ্রহণ
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৩৮৩ ধারা মতে কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুর ভয়, আঘাতের ভয় বা পথরুদ্ধ করার ভয় দেখিয়ে বা অন্য কোনো চাপ সৃষ্টি করে কোন কিছু দিতে বাধ্য করলে তাকে বলপূর্বক গ্রহণ বা বলপূর্বক আদায় বলে।
১,৩২২.
দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার বিধান কী?
  1. মানহানির অভিযোগে সাজা প্রদান
  2. সরকারী কাজে বাধার জন্য সাজা প্রদান
  3. রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে সাজা প্রদান
  4. সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য সাজা প্রদান
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার বিধান রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে সাজা প্রদান।

⇒ দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার বিধান রাষ্ট্রদ্রোহিতা:

- কোন ব্যক্তি যদি উচ্চারিত বা লিখিত কথা বা উক্তি দ্বারা, অথবা চিহ্নাদি দ্বারা, অথবা দৃশ্যমান প্রতীকের সহায়তায় অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশে আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে অথবা বৈরিতা উদ্রেক করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন অথবা যে কোন কম মেয়াদের কারাদণ্ডে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে অথবা তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে, অথবা তাকে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

ব্যাখ্যা-১: ‘বৈরিতা' বলতে রাজানুগত্যহীনতা এবং সর্বপ্রকার শত্রুতার ভাব বুঝায়।
ব্যাখ্যা-২: ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করা বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই আইনসম্মত উপায়ে পরিবর্তন বা সংশোধনের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাসমূহের প্রতি অসমর্থন প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।
ব্যাখ্যা-৩: ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করার বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই সরকারের কোন শাসন পরিচালন বিষয়ক বা অন্যরূপ কার্য সম্পর্কে অসমর্থনমূলক অভিমত বা মন্তব্য প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।
-----------
⇒ The Penal Code Section 124A. Sedition:
- Whoever by words, either spoken or written, or by signs, or by visible representation, or otherwise, brings or attempts to bring into hatred or contempt, or excites or attempts to excite disaffection towards, the Government established by law shall be punished with imprisonment for life or any shorter term, to which fine may be added, or with imprisonment which may extend to three years, to which fine may be added, or with fine.
 
Explanation 1.-The expression "disaffection" includes disloyalty and all feelings of enmity. 
Explanation 2.-Comments expressing disapprobation of the measures of the Government with a view to obtain their alteration by lawful means, without exciting or attempting to excite hatred, contempt or disaffection, do not constitute an offence under this section. 
Explanation 3.-Comments expressing disapprobation of the administrative or other action of the Government without exciting or attempting to excite hatred, contempt or disaffection, do not constitute an offence under this section.
১,৩২৩.
নিচের কোন ক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা মর্মে গণ্য হবে?
  1. যখন পাঁচবা ততোধিক ব্যক্তি দ্বারা সংঘটিত হয়
  2. যখন একই সাথে বলপ্রয়োগ করা হয়
  3. যখন তাৎক্ষনিক মৃত্যুর ভয় থাকে
  4. যখন দুই বা ততোধিক তবে পাঁচ জনের কম ব্যক্তি দ্বারা ঘটে
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: যখন তাৎক্ষনিক মৃত্যুর ভয় থাকে।
⇒  দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান অনুযায়ী দস্যুতা সংঘটিত হয় যখন চুরি বা বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী কোনো ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে সম্পত্তি আদায় করে। এর মধ্যে চুরি এবং বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় উভয়ই "দস্যুতা" হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান দস্যুতা:- প্রত্যেক দস্যুতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।
যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে:- চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে 'দস্যুতা'।
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে:- বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী- যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহ্বল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় 'দস্যুতা' বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা:- অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860-Section-390- Robbery: In all robbery there is either theft or extortion:
- When theft is robbery:
Theft is "robbery" if, in order to the committing of the theft, or in committing the theft, or in carrying away or attempting to carry away property obtained by the theft, the offender, for that end, voluntarily causes or attempts to cause to any person death or hurt or wrongful restraint, or fear of instant death or of instant hurt, or of instant wrongful restraint.
- When extortion is robbery:
Extortion is “robbery” if the offender, at the time of committing the extortion, is in the presence of the person put in fear, and commits the extortion by putting that person in fear of instant death, instant hurt, or of instant wrongful restraint to that person, or to some other person, and, by so putting in fear, induces the person so put in fear then and there to deliver up the thing extorted.
⇒ Explanation.-The offender is said to be present if he is sufficiently near to put the other person in fear of instant death, of instant hurt, or of instant wrongful restraint.
১,৩২৪.
দণ্ডবিধির কত ধারায় মিথ্যা সার্টিফিকেট প্রদান বা স্বাক্ষর করলে তার শাস্তির বিধান রয়েছে?
  1. ১৯৩ ধারায়
  2. ১৯১ ধারায়
  3. ১৯৭ ধারায়
  4. ১৯৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৯৭ ধারার বিধান মিথ্যা সার্টিফিকেট ইস্যু করা কিংবা উহাতে স্বাক্ষর করা:- কোন ব্যক্তি যদি আইনের নির্দেশানুসারে কোন সার্টিফিকেট ইস্যু করে কিংবা উহাতে স্বাক্ষর করে কিংবা যে বিষয়ে আইনানুসারে কোন সার্টিফিকেট সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে অনুরূপ সার্টিফিকেট দান বা স্বাক্ষর করে এবং সার্টিফিকেটটি কোন বাস্তব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিক হতে মিথ্যা বলে জানা সত্ত্বেও বা অনুরূপভাবে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও অনুরূপভাবে উহা দান বা স্বাক্ষর করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি স্বয়ং মিথ্যা সাক্ষ্যদান করলে যেভাবে দণ্ডিত হত, এক্ষেত্রেও সে সেভাবে দণ্ডিত হবে।
----------------------------------
Section 197: Issuing or signing false certificate:
-Whoever issues or signs any certificate required by law to be given or signed, or relating to any fact of which such certificate is by law admissible in evidence, knowing or believing that such certificate is false in any material point, shall be punished in the same manner as if he gave false evidence.
১,৩২৫.
দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারা অনুসারে, বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা সাক্ষ্য দানের সর্বোচ্চ শাস্তি কত?
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারার বিধান মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্যদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং
-কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
- ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।
-------------
The Penal Code, 1860-Section-193. Punishment for false evidence: Whoever intentionally gives false evidence in any stage of judicial proceeding, or fabricates false evidence for the purpose of being used in any stage of a judicial proceeding, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine;
and whoever intentionally gives or fabricates false evidence in any other case, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.
Explanation 1.-A trial before a Court-martial is a judicial proceeding.
Explanation 2.-An investigation directed by law preliminary to a proceeding before a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.
Explanation 3.-An investigation directed by a Court of Justice according to law, and conducted under the authority of a Court of Justice, is a stage of a judicial proceeding, though that investigation may not take place before a Court of Justice.

১,৩২৬.
যদি কেউ 'ক' কে হত্যার intention বা knowledge নিয়ে কোন কাজ করে, কিন্তু তার ফলে 'খ' এর মৃত্যু হয় (যার মৃত্যুর intention তার ছিল না), তাহলে অপরাধটি দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুসারে শাস্তিযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে?
  1. ২৯৯ ধারা
  2. ৩০০ ধারা
  3. ৩০১ ধারা
  4. ৩০২ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০১ এ precisely এই নীতিটি বর্ণনা করা হয়েছে, যা Doctrine of Transfer of Malice (দূষ্প্রেচ্ছেদ হস্তান্তর নীতি) নামে পরিচিত।
- এই ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি 'ক' ব্যক্তিকে হত্যার ইচ্ছা (intention) বা জ্ঞান (knowledge) নিয়ে কোনো কাজ করে,
কিন্তু সেই কাজের ফলে 'খ' ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে (যার মৃত্যুর ইচ্ছা বা জ্ঞান অপরাধীর ছিল না),
তাহলে অপরাধীটি 'ক' ব্যক্তির প্রতি তার যে দূষ্প্রেচ্ছেদ (malice) বা অপরাধমূলক ইচ্ছা/জ্ঞান ছিল, তা 'খ' ব্যক্তির ক্ষেত্রে হস্তান্তরিত (transfer) হবে।
অর্থাৎ, অপরাধীটি 'খ' এর মৃত্যুর জন্য ঠিক ততটাই দায়ী হবে, যতটা দায়ী হতো যদি সে 'ক' কেই হত্যা করত।
যদি 'ক' কে হত্যার ইচ্ছা murder (খুন)এর পর্যায়ে পড়ত, তবে 'খ' এর মৃত্যুও murder হিসেবে গণ্য হবে।
যদি এটি culpable homicide not amounting to murder (শাস্তিযোগ্য নরহত্যা কিন্তু খুন নয়) হতো, তবে সেভাবে গণ্য হবে।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:
ক) ২৯৯ ধারা: এটি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার (Culpable Homicide) সাধারণ সংজ্ঞা দেয়। এটি specific ভাবে transfer of malice-এর বিষয়টি covered করে না।
খ) ৩০০ ধারা: এটি খুন (Murder) এর সংজ্ঞা ও ব্যতিক্রমগুলি বর্ণনা করে। এটি সরাসরি এই principle-টি addressed করে না।
ঘ) ৩০২ ধারা: এটি খুনের শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড) নির্ধারণ করে। এটি অপরাধের সংজ্ঞা দেয় না।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হল গ) ৩০১ ধারা, যা specifically এই বিশেষ situation-টির জন্য প্রযোজ্য।
 
 ⇒ দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান: যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:-
-কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুন মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যে-রূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 301: Culpable homicide by causing death of person other than person whose death was intended:
-If a person, by doing anything which he intends or knows to be likely to cause death, commits culpable homicide by causing the death of any person, whose death he neither intends nor knows himself to be likely to cause, the culpable homicide committed by the offender is of the description of which it would have been if he had caused the death of the person whose death he intended or knew himself to be likely to cause.

১,৩২৭.
দন্ডবিধির কত ধারায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষাধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে?
  1. ৫৪ ধারায়
  2. ৫৫ ধারায়
  3. ৫৫ক ধারায়
  4. ৫৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦ সরকার দণ্ডবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হ্রাস করে এবং ৫৫ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস করে যে কোন দণ্ডে রূপান্তর করতে পারে । দণ্ডবিধির ৫৫ক ধারায় বলা হয়েছে, ৫৪ ও ৫৫ ধারার কোন কিছু রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, শাস্তি কমানো, লাঘব বা মওকুফের অধিকার ক্ষতিগ্রস্থ করবে না।

♦ সরকার দন্ডবিধির ৫৪ ও ৫৫ ধারামতে দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দন্ড হ্রাস বা মওকুফ করতে পারে এবং রাষ্ট্রপতির ৫৫ক ধারামতে  ক্ষমা প্রদর্শন, শাস্তি কমানো, লাঘব বা মওকুফ করতে পারে।

♦ সংবিধানের আওতায় ক্ষমা প্রদর্শন- বাংলাদেশ সংবিধানের ৪৯ নং অনুচ্ছেদমতে রাষ্ট্রপতি কোন দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দন্ড হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।
প্রাণ-ভিক্ষা: মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত অপরাধীরা সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ মতে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ-ভিক্ষা করে থাকেন।
১,৩২৮.
নিচের কোন ধারাটি দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার ব্যতিক্রম?
  1. দণ্ডবিধির ৩৫ ধারা
  2. দণ্ডবিধির ৩৬ ধারা
  3. দণ্ডবিধির ৩৭ ধারা
  4. দণ্ডবিধির ৩৮ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒দণ্ডবিধির ৩৮ ধারামতে একই অপরাধ সংঘটন করলেও ভিন্ন অপরাধের দোষী, অর্থাৎ একাধিক ব্যক্তি একই অপরাধ সংঘটন করলেও দণ্ডবিধির ৩৮ ধারা মতে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তি পেতে পারে।
- দণ্ডবিধির ৩৮ ধারাটি ৩৪ ধারার ব্যতিক্রম; কেননা ৩৪ ধারায় অপরাধী যৌথভাবে দায়ী হলেও ৩৮ ধারায় অপরাধী পৃথকভাবে দায়ী হয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার বিধান-কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক একই উদ্দেশ্য সাধানকল্পে কৃত কার্যাবলী:
⇒ যখন কতিপয় ব্যক্তি একত্রিত হয়ে তাদের সকলের একই অভিপ্রায় সাধনকল্পে অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত করে, তখন অনুরূপ ব্যক্তিগণের প্রত্যেকেই উক্ত কাজের জন্য এইরূপে দায়ী হবেন যেন উক্ত কাজ উক্ত ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়েছিল।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৮ ধারার বিধান- অপরাধমূলক কার্যে জড়িত ব্যক্তিগণ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন:
⇒ কোন অপরাধমূলক কাজ সংঘটনে কতিপয় ব্যক্তি ব্যাপৃত থাকলে অথবা উহা সংঘটনের সাথে তারা জড়িত থাকলে, উক্ত কাজের জন্য তারা বিভিন্ন অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হতে পারে।
--------------
⇒ Section 34: Acts done by several persons in furtherance of common intention:
- When a criminal act is done by several persons, in furtherance of the common intention of all, each of such persons is liable for that act in the same manner as if it were done by him alone.
⇒ Section 38: Persons concerned in criminal act may be guilty of different offences:
- Where several persons are engaged or concerned in the commission of a criminal act, they may be guilty of different offences by means of that act.
১,৩২৯.
দণ্ডবিধির ধারা ১০০ অনুযায়ী কয়টি ক্ষেত্রে শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
• ধারা ১০০: দণ্ডবিধির ধারা ১০০ অনুযায়ী নিম্নলিখিত ৬ (ছয়টি) ক্ষেত্রে শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা;

১. এমন আক্রমণ যা মৃত্যু ঘটানোর যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা সৃষ্টি করে;
২. এমন আক্রমণ যা গুরুতর জখমের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা সৃষ্টি করে;
৩. ধর্ষণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ;
৪. অপ্রকৃত কাম লালসার অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ;
৫. মনুষ্যহরণ বা অপহরণের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ;
৬. অবৈধভাবে আটকের অভিপ্রায় নিয়ে আক্রমণ, যেক্ষেত্রে তিনি মনে করে সরকারী কর্তৃপক্ষের সহায়তা পাবে না।
১,৩৩০.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রচলিত স্ট্যাম্প জাল করে, তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
→ দণ্ডবিধির ২৫৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি রাজস্ব সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রচলিত স্ট্যাম্প জাল করে, তবে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এই ধারার অধীনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বোচ্চ শাস্তির হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ২৫৫ ধারা সরকারি স্ট্যাম্প জাল করণ :- কোন ব্যক্তি যদি সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করে বা জ্ঞাতসারে অনুরূপ কোন স্ট্যাম্প জাল করার প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা:- এক মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পকে কোন ব্যক্তি যদি দেখতে অপর মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পের মত করে লয়, তবে সে ব্যক্তি এই অপরাধ অনুষ্ঠান করে বলে পরিগণিত হবে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 255. Counterfeiting Government stamp:- Whoever counterfeits, or knowingly performs any part of the process of counterfeiting, any stamp issued by Government for the purpose of revenue, shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine.

Explanation:- A person commits this offence who counterfeits by causing a genuine stamp of one denomination to appear like a genuine stamp of a different denomination.
১,৩৩১.
কোনো আঘাত সর্বনিম্ন কত দিন পর্যন্ত যন্ত্রণা দিলে, তা মারাত্মক জখম বলে গণ্য হবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ The Penal Code, 1860 এর ৩২০ ধারা অনুযায়ী ৮ শ্রেণির আঘাতকে গুরুতর আঘাত বলা হয়েছে। যথা:
(i) পুরুষত্বহীনকরণ
(ii) স্থায়ীভাবে চোখের দৃষ্টি রহিতকরণ
(iii) স্থায়ীভাবে কানের শ্রুতিশক্তি রহিতকরণ
(iv) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন
(v) যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির স্থায়ী ক্ষতিকরণ
(vi) মাথা বা মুখমন্ডলের স্থায়ী বিকৃতি
(vii) হাড় বা দাঁত ভাঙ্গা
(viii) কোন ব্যক্তিকে ২০ পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা দেয় এমন আঘাত।

⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section: 320: Grievous hurt:
The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
১,৩৩২.
এক সরকারি কর্মচারী দ্বারা শাহিনকে গণ উৎপাত বন্ধ করার জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে, শাহিন পরবর্তীতে আবারও গণ উৎপাত শুরু করে। শাহিনের বিরুদ্ধে কোন ধারা প্রযোজ্য হবে?
  1. ধারা ২৮৯
  2. ধারা ২৯১
  3. ধারা ২৯৫
  4. ধারা ২৯৮
ব্যাখ্যা
ধারা ২৯১: নিষেধাজ্ঞার পরও গণ উৎপাত অব্যাহত রাখা:
যে ব্যক্তি কোন সরকারি কর্মচারী দ্বারা আইনীভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের পরেও গণ উৎপাত পুনরায় চালিয়ে যায় বা অব্যাহত রাখে, তাকে ছয় মাস পর্যন্ত সাধারণ কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

Section 291- Continuance of nuisance after injunction to discontinue:
Whoever repeats or continues a public nuisance, having been enjoined by any public servant who has lawful authority to issue such injunction not to repeat or continue such nuisance, shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to six months, or with fine, or with both.
১,৩৩৩.
গবাদি পশুকে হত্যা, বিষ প্রয়োগ কিংবা বিকলাঙ্গ করার মাধ্যমে ক্ষতি সাধনের শাস্তি-
  1. অনধিক ৫ বৎসর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ড
  2. অনধিক ৩ বৎসর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড
  3. অনধিক ৭ বৎসর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধি ৪২৯ ধারার বিধান যেকোন মূল্যের গবাদিপশু ইত্যাদি বা পঞ্চাশ টাকা মূল্যের কোন জন্তু বিকলাঙ্গ করিয়া অনিষ্ট সাধনঃ

কোন ব্যক্তি যদি যে কোন মূল্যের হাতি, উট, ঘোড়া, খচ্চর, মহিষ, ষাড়, গাভী বা গরু, অথবা পঞ্চাশ টাকা বা তদূর্ধ্ব মূল্যের অপর কোন পশুকে হত্যা করে, বিষ প্রয়োগ করে, বিকলাঙ্গ করে বা অকেজো করে ক্ষতি সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
১,৩৩৪.
খুনের শাস্তির বিধান দণ্ডবিধির কত ধারায় রয়েছে?
  1. ২৯৯
  2. ৩০২
  3. ৩০১
  4. ৩০৪
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিধান খুনের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি খুনের অপরাধ করে তবে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-----------------
⇒ The Penal Code, 1860: Section 302. Punishment for murder:-Whoever commits murder shall be punished with death, or imprisonment for life, and shall also be liable to fine.
১,৩৩৫.
একজন ব্যক্তি যদি তার নিজ স্ত্রীকে ধর্ষণ করে এবং স্ত্রীর বয়স বারো বছরের নিচে না হয়, তবে সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. ২ বছর কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর কারাদণ্ড
  3. ১০ বছর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ২ বছর কারাদণ্ড।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার ব্যতিক্রমী বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি তার নিজ স্ত্রীকে ধর্ষণ করে এবং স্ত্রীটির বয়স বারো বছরের নিচে না হয়, তবে সে ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ২ বছর মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত করা যেতে পারে।
এই বিধানটি একটি Exception হিসেবে ধারা ৩৭৬-এ যুক্ত রয়েছে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারার বিধান ধর্ষণের সাজা:- কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রূপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
--------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 376. Punishment for rape:- Whoever commits rape shall be punished with imprisonment for life or with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine, unless the woman raped is his own wife and is not under twelve years of age, in which case he shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

১,৩৩৬.
যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানোর ইচ্ছা ছিল তার মৃত্যু না ঘটিয়ে, অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটানোর মাধ্যমে অপরাধজনক নরহত্যা ঘটালে- এর বিধান দণ্ডবিধির কত ধারায় বর্ণিত আছে?
  1. ৩০১ ধারায়
  2. ৩০৩ ধারায়
  3. ৩০৫ ধারায়
  4. ২৯৯ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০১ ধারার বিধান: যার মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছিল তাকে ব্যতীত অপর ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া শাস্তি যোগ্য নরহত্যা সংঘটন:-
-কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুণ মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যেরূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।
-------------------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section: 301- Culpable homicide by causing death of person other than person whose death was intended:
-If a person, by doing anything which he intends or knows to be likely to cause death, commits culpable homicide by causing the death of any person, whose death he neither intends nor knows himself to be likely to cause, the culpable homicide committed by the offender is of the description of which it would have been if he had caused the death of the person whose death he intended or knew himself to be likely to cause.
১,৩৩৭.
দণ্ডবিধির ২১০ ধারা অনুযায়ী, যদি একজন ব্যক্তি জালিয়াতি করে এবং অবৈধভাবে আদেশ পায়, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী হবে?
  1. শুধুমাত্র জরিমানা
  2. ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  3. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২১০ ধারা অনুযায়ী, যদি একজন ব্যক্তি জালিয়াতি করে এবং অবৈধভাবে কোনো আদেশ পায়, তবে তাকে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা, বা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। এই ধারা অনুসারে, জালিয়াতি করে কোনো আদেশ লাভ করা বা আদেশটি কার্যকর করা হলে, সে শাস্তির আওতায় আসবে।
অতএব, সঠিক উত্তর হবে: গ) ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। 
----
⇒ The Penal Code, 1860-Section- 210. Fraudulently obtaining decree for sum not due:
- Whoever fraudulently obtains a decree or order against any person for a sum not due, or for a larger sum than is due, or for any property or interest in property to which he is not entitled, or fraudulently causes a decree or order to be executed against any person after it has been satisfied or for anything in respect of which it has been satisfied, or fraudulently suffers or permits any such act to be done in his name, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
১,৩৩৮.
ধারা ৪৭৭ক এর অধীন অভিযোগ আনার ক্ষেত্রে কী উল্লেখ করা প্রয়োজন?
  1. নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম
  2. নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ
  3. প্রতারণার উদ্দেশ্য
  4. নির্দিষ্ট দিনের তারিখ
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৭৭ক:
যে ব্যক্তি একজন কেরানি, কর্মকর্তা, অথবা কর্মচারী হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায়, বা কেরানি, কর্মকর্তা, অথবা কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সময়, ইচ্ছাকৃতভাবে এবং প্রতারণার উদ্দেশ্যে, তার নিয়োগকর্তার মালিকানাধীন বা দখলে থাকা যেকোনো বই, কাগজ, লেখা, মূল্যবান সিকিউরিটি, অথবা হিসাব নষ্ট, পরিবর্তন, কেটে ফেলা অথবা ভুয়া করে, অথবা প্রতারণার উদ্দেশ্যে কোন মিথ্যা তথ্য তৈরি করে বা তৈরিতে সহায়তা করে, অথবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিবর্তন বা বাদ দেয়, অথবা এ ধরনের পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার সহায়তা করে, তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে।

ব্যাখ্যা:
এই ধারার অধীনে অভিযোগ আনার জন্য নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করার বা নির্দিষ্ট কোন পরিমাণ অর্থ উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই, কিংবা অপরাধটি কোন বিশেষ দিনে ঘটেছে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। সাধারণ প্রতারণার উদ্দেশ্য উল্লেখ করলেই যথেষ্ট হবে।
১,৩৩৯.
দণ্ডবিধির ২৮০ ধারার অধীনে বেপরোয়া নৌযান চালানোর জন্য শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমাণ কী?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ১০০০ টাকা
  3. ১৫০০ টাকা
  4. ২০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
→ দণ্ডবিধির ২৮০ ধারা অনুযায়ী, বেপরোয়া বা অবহেলায় নৌযান চালানোর জন্য সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড হিসেবে ১০০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

- দণ্ডবিধির ২৮০ ধারা বেপরোয়াভাবে নৌযান চালনা:- কোন ব্যক্তি যদি এমন বেপরোয়াভাবে বা অবহেলার সাথে কোন নৌযান চালনা করে, যার কারণে কোন মানুষের জীবন বিপদাপন্ন হয় অথবা অপর কোন ব্যক্তির আঘাত লাগার বা জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------------- 
⇒ The Penal Code, 1860- Section 280. Rash navigation of vessel:- Whoever navigates any vessel in a manner so rash or negligent as to endanger human life, or to be likely to cause hurt or injury to any other person, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.
১,৩৪০.
দণ্ডবিধির ২৩০ ধারা অনুযায়ী নিম্নলিখিতগুলোর মধ্যে কোনটি 'মুদ্রা' হিসেবে গণ্য হবে?
  1. কড়ি (কাউরি)
  2. পদক (মেডেল)
  3. ফরুখাবাদী টাকা
  4. স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারায় "মুদ্রা" বলতে সরকার বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতায় স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে বোঝানো হয়েছে, যা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয় বা হওয়ার জন্য তৈরি। "বাংলাদেশি মুদ্রা" হিসেবে এমনকি ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেলেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তা মুদ্রা গণ্য হয়। উদাহরণ (e) অনুসারে, "ফরুখাবাদ" টাকা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবে গণ্য। অন্য অপশনগুলো (কড়ি, মেডেল, স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো) স্ট্যাম্পযুক্ত বা ইস্যুকৃত নয়, তাই মুদ্রা নয়।
অতএব, সঠিক উত্তর: গ) ফরুখাবাদী টাকা।

⇒ দণ্ডবিধির ২৩০ ধারার বিধান: 'মুদ্রার' সংজ্ঞা:- বর্তমানে অর্থরূপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।
- বাংলাদেশি মুদ্রা:- বাংলাদেশি মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরূপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে; এবং অর্থরূপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইস্যুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশি মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।
উদাহরণ:
(ক) কড়ি (কাউরি) মুদ্রা নয়।
(খ) স্ট্যাম্পবিহীন তামার টুকরো, যদিও তা অর্থরূপে ব্যবহৃত হয়, মুদ্রা নয়।
(গ) মেডেল মুদ্রা নয়, কারণ সেগুলো অর্থরূপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয় না।
(ঘ) কোম্পানির টাকা নামে পরিচিত মুদ্রা রানির মুদ্রা।
(ঙ) "ফরুখাবাদ" টাকা, যা পূর্বে ভারত সরকারের কর্তৃত্বে অর্থরূপে ব্যবহৃত হতো, তা বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবেই গণ্য হবে, যদিও তা এখন আর ব্যবহৃত হয় না।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 230. “Coin” defined Bangladesh coin:
- Coin is metal used for the time being as money, and stamped and issued by the authority of some State or Sovereign Power in order to be so used.
- Bangladesh coin is metal stamped and issued by the authority of the Government in order to be used as money; and metal which has been so stamped and issued shall continue to be Bangladesh coin for the purposes of this Chapter, notwithstanding that it may have ceased to be used as money.

Illustrations:
(a) Cowries are not coin.
(b) Lumps of unstamped copper, though used as money, are not coin.
(c) Medals are not coin, inasmuch as they are not intended to be used as money.
(d) The coin denominated as the Company's taka is the Queen's coin.
(e) The "Farukhabad" taka, which was formerly used as money under the authority of the Government of India, is Bangladesh coin although it is no longer so used.

১,৩৪১.
দণ্ডবিধির কত ধারায় "ক্ষতি" (Mischief)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৪১৫ 
  2. ধারা ৪২৫
  3. ধারা ৪২৭
  4. ধারা ৪৩১
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ৪২৫–এ "ক্ষতি" (Mischief)–এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের বা কারও অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জানে যে তার কাজের ফলে অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট হতে পারে, এমন কোনো কাজ করে যার ফলে কোনো সম্পত্তি ধ্বংস, বিনষ্ট বা অবস্থান পরিবর্তিত হয়, এবং এর ফলে সম্পত্তির মূল্য, প্রয়োজনীয়তা বা কার্যকারিতা নষ্ট হয় বা হ্রাস পায়, তবে তা "ক্ষতি" বলে গণ্য হবে।
শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড।
-  তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) ধারা ৪২৫।

⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান ক্ষতি বা অনিষ্ট:- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকতা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা-১: ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।
ব্যাখ্যা-২: যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 425. Mischief:
Whoever, with intent to cause, or knowing that he is likely to cause, wrongful loss or damage to the public or to any person, causes the destruction of any property, or any such change in any property or in the situation thereof as destroys or diminishes its value or utility, or affects it injuriously, commits "mischief".
Explanation-1: It is not essential to the offence of mischief that the offender should intend to cause loss or damage to the owner of the property injured or destroyed. It is sufficient if he intends to cause, or knows that he is likely to cause, wrongful loss or damage to any person by injuring any property, whether it belongs to that person or not.
Explanation-2: Mischief may be committed by an act affecting property belonging to the person who commits the act, or to that person and others jointly.

১,৩৪২.
'ক', 'গ'- এর বিনা সম্মতিতে একটি কুকুরকে 'গ'-এর প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়তে লেলিয়ে দেয়। এইক্ষেত্রে 'ক', 'গ'-কে জখম, ভীত ও বিরক্ত করার ইচ্ছা থাকলে সে 'গ'-এর প্রতি __________ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
  1. আক্রমণ
  2. আঘাত
  3. অপরাধজনক বল প্রয়ােগ
  4. দস্যুতা
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৫০- অপরাধজনক বলপ্রয়ােগ:
কোন লােক যদি কোন অপরাধ সংঘটন করার উদ্দেশ্যে কোন লােকের প্রতি ঐ লােকের বিনা সম্মতিতে বলপ্রয়ােগ করে, বা এরূপ বল প্রয়ােগের সাহায্যে যে লােকের প্রতি বল প্রয়ােগ করা হয় সে লােকের জখম ভীতি বা বিরক্তি উদ্ভব করার অভিপ্রায়ে, বা সে লােকের ক্ষতি, ভীতি বা বিরক্তি উদ্ভব করার আশংকা আছে জেনে, তার বিনা সম্মতিতে তার প্রতি বল প্রয়ােগ করে, সে লােক ঐ অপর লােককে অপরাধজনক বলপ্রয়ােগ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

উদহারণ:
'ক', 'গ'- এর বিনা সম্মতিতে একটি কুকুরকে 'গ'-এর প্রতি ঝাঁপিয়ে পড়তে লেলিয়ে দেয়। এইক্ষেত্রে 'ক', 'গ'-কে জখম, ভীত ও বিরক্ত করার ইচ্ছা থাকলে সে 'গ'-এর প্রতি অপরাধজনক বল প্রয়ােগ করেছে বলে পরিগণিত হবে।
১,৩৪৩.
আইনানুগ অভিভাবকের নিকট হতে কত বছরের ছেলে বা মেয়েকে তাদের অভিভাবকের সম্মতি ব্যতীত অন্যত্র নিয়ে গেলে তা মনুষ্য হরণ হবে বিবেচিত হবে?
  1. ১৪ ও ১৮ বছর
  2. ১৪ ও ১৬ বছর
  3. ১২ ও ১৬ বছর
  4. ৯ ও ১২ বছর
ব্যাখ্যা
• দন্ডবিধির ৩৬১ ধারায় আইনগত অভিভাবকের নিকট থেকে মনুষ্যহরণের বিধান রয়েছে।
• ১৪ বছরের কম বয়স্ক কোন পুরুষ বা ১৬ বছরের কম বয়স্ক কোন নারী বা কোন অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিকে আইনগত অভিভাবকের সম্মতি ব্যতীত তার তত্ত্বাবধান থেকে অন্যত্র নিয়ে গেলে তা আইনগত অভিভাবকের নিকট থেকে মনুষ্যহরণ বলে গণ্য হবে।
• বাংলাদেশ থেকে মনুষ্যহরণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোন বয়সের ব্যক্তিকে বাংলাদেশের বাহিরে নিয়ে যাওয়া বোঝায়।
১,৩৪৪.
নিম্নের কোনটি গুরুতর আঘাত নয়?
  1. পুরুষত্বহীন করণ
  2. দুই কর্ণের যে কোন কোনটির শ্রবণশক্তি রহিতকরণ
  3. আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দশ দিন মেয়াদের জন্য তীব্র যন্ত্রণা দান করে
  4. যে কোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্টসাধন
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩২০ ধারার বিধান গুরুতর আঘাত:- শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই "গুরুতর" বলে পরিগণিত করা যায়:-
প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।
দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।
তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।
চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।
পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।
ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।
সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।
অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।
-----------
⇒ Grievous hurt:
Section 320. The following kinds of hurt only are designated as "grievous":- 
Firstly.-Emasculation. 
Secondly.-Permanent privation of the sight of either eye. 
Thirdly.-Permanent privation of the hearing of either ear. 
Fourthly.-Privation of any member or joint. 
Fifthly.-Destruction or permanent impairing of the powers of any member or joint. 
Sixthly.-Permanent disfiguration of the head or face. 
Seventhly.-Fracture or dislocation of a bone or tooth. 
Eighthly.-Any hurt which endangers life or which causes the sufferer to be during the space of twenty days in severe bodily pain, or unable to follow his ordinary pursuits.
১,৩৪৫.
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মহিলার শাড়ি টান দেয় যাতে তার শালীনতাহানি ঘটে, তাহলে এটি দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য?
  1. ধারা ৩৫২
  2. ধারা ৩৫২ক
  3. ধারা ৩৫৪
  4. ধারা ৩৫৪ক
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মহিলার উপর আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে এবং তার শালীনতায় আঘাত দেয়ার উদ্দেশ্যে বা জ্ঞানসহকারে এটি করে, তাহলে তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়।
- যেহেতু মহিলার শাড়ি টান দেয়ার মাধ্যমে তার শালীনতায় আঘাত করা হচ্ছে, এটি ধারা ৩৫৪ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় হতে পারে।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৪ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি: কোনো নারীর উপর আক্রমণ (assault) বা অপরাধমূলক বল (criminal force) প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য বা জ্ঞানসহকারে যে এতে তার শালীনতায় আঘাত (outrage modesty) পড়বে, তাহলে অপরাধী সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে। কারাদণ্ড (সশ্রম বা বিনাশ্রম) অথবা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি একসাথে প্রযোজ্য।
------
⇒ The Penal Code, 1860- Section- 354. Assault or criminal force to woman with intent to outage her modesty:
Whoever assaults or uses criminal force to any woman, intending to outrage or knowing it to be likely that he will thereby outrage her modesty, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
১,৩৪৬.
বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার শাস্তি কী?
  1. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড
  2. ১ বছরের কারাদণ্ড
  3. অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
- ২৩২ ধারা মতে বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
- কড়িসমূহ, স্ট্যাম্পবিহীন তাম্রখন্ড এবং পদকসমূহ মুদ্রা বলে গণ্য হবে না।
১,৩৪৭.
'P', একজন সরকারি কর্মচারী, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের সময় সরল মনে 'Q' এর মৃত্যু ঘটায়। এটি খুন হিসেবে গণ্য হবে না দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার কোন ব্যতিক্রমের কারণে?
  1. ব্যতিক্রম-২
  2. ব্যতিক্রম-৩
  3. ব্যতিক্রম-৪
  4. ব্যতিক্রম-৫
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩০০ এর ব্যতিক্রম ৩ (Exception 3) অনুযায়ী:
যদি কোনো সরকারি কর্মচারী বা তার সহকারী, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়, আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে, কিন্তু সরল মনে বিশ্বাস করে যে তিনি তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন — এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, কিন্তু কোনো রকম দুরভিসন্ধি ছাড়াই, তবে তা খুন নয়।
→ উদাহরণ: 'P' যদি একজন পুলিশ অফিসার হন এবং তিনি কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে গিয়ে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেন, যার ফলে 'Q' এর মৃত্যু ঘটে — তবে যদি প্রমাণ হয় P "সরল মনে" তার কর্তব্য পালন করছিলেন, তাহলে এটি খুন হবে না, বরং culpable homicide not amounting to murder হিসেবে গণ্য হবে।
→ সঠিক উত্তর: খ) ব্যতিক্রম-৩।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুণ খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুণ অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না:
⇒ ব্যতিক্রম ১:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।
⇒ ব্যতিক্রম ২:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।
⇒ ব্যতিক্রম ৩:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।
⇒ ব্যতিক্রম ৪ :- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
⇒ ব্যতিক্রম ৫:- শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।
১,৩৪৮.
'House-trespass' শব্দটি দণ্ডবিধির কোন ধারায় সংজ্ঞায়িত?
  1. ধারা ৪৪১
  2. ধারা ৪৪২
  3. ধারা ৪৪৪
  4. ধারা ৪৩৮
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৮৬০ এর ৪৪২ ধারায় "অনধিকার গৃহে প্রবেশ" বা House-trespass অপরাধটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে মানুষের বাসস্থান, উপাসনালয় বা সম্পত্তি সংরক্ষণের স্থানে প্রবেশ বা অবস্থান করে, তবে এটি অনধিকার গৃহে প্রবেশ হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার বিধান অনধিকার গৃহে প্রবেশ:- কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 442- House-trespass:- Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".
Explanation: -The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house-trespass.
১,৩৪৯.
চোরাই মাল কেউ অসাধুভাবে গ্রহণ করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড 
  3. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

• চোরাই মাল (Stolen Property):
দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা অনুযায়ী- যে সম্পত্তির দখল চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার ফলে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে বা অপরাধমূলকভাবে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে, সে সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি” বলে গণ্য করতে হবে। অর্থাৎ, যে সম্পত্তি নিম্নোক্ত উপায়ে অর্জিত হয়েছে তাকে "চোরাই সম্পত্তি" বলে গণ্য করা হবে:
১. চুরি করে অর্জিত সম্পত্তি;
২. জোরপূর্বক আত্মসাৎ করে অর্জিত সম্পত্তি;
৩. দস্যুতা করে আনীত সম্পত্তি;
৪. অপরাধমূলক উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি;
৫. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্জিত সম্পত্তি।

শাস্তি:
দণ্ডবিধির ৪১১ ধারা অনুসারে, যে ব্যক্তি চোরাই মাল গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তি ৩ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

১,৩৫০.
'ক' চন্দ্রসূর্য, আকাশ-বাতাসকে সাক্ষী রেখে 'খ' কে বিয়ে করেন। 'ক' জানে যে এটা মিথ্যা বিবাহের অনুষ্ঠান হয়েছে কিন্তু সে 'খ'কে বিশ্বাস করায় যে নিজে 'খ'এর স্বামী। 'খ'ও 'ক'কে স্বামী হিসেবে বিশ্বাস করে। এই ক্ষেত্রে 'ক' দণ্ডবিধির কত ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন?
  1. দণ্ডবিধির ৪৯৫ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৪৯৬ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৯৬ ধারার বিধান আইনসম্মত বিবাহ সম্পাদন ছাড়াই প্রতারণামূলক ভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা:- কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সে আইনতঃ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে না জানা সত্ত্বেও বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
-------------
⇒ Section 496. Marriage ceremony fraudulently gone through without lawful marriage:- Whoever, dishonestly or with a fraudulent intention, goes through the ceremony of being married, knowing that he is not thereby lawfully married, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, and shall also be liable to fine.
১,৩৫১.
দণ্ডবিধি অনুযায়ী সম্পত্তি প্রতিরক্ষার জন্য কয়টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১০৩ ধারামতে সম্পত্তি প্রতিরক্ষার জন্য ৪টি ক্ষেত্রে আক্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানো যায়। যথা-
i) দস্যুতা (Robbery)
ii) রাত্রি বেলায় অপথে গৃহে প্রবেশ (House-breaking by night);
iii) বাসগৃহে বা কোন সম্পত্তি রাখার স্থানে অগ্নি সংযোগ (Mischief by fire committed on any building, tent or vessel, used as a human dwelling); এবং
iv) গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর আশঙ্কাযুক্ত চুরি, ক্ষতি বা অনধিকার গৃহে প্রবেশ (Theft, mischief or house - trespass, under such circumstances as may reasonably cause apprehension of death or grievous hurt)।
---------------------
⇒ দণ্ডবিধির ১০৩ :- যেক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়:
- সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন বা তার অপর কোনরূপ ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে, যদি যে অপরাধটি করার বা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে সে অপরাধটি নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়, যথা:-
প্রথমত (First): দস্যুতা;
দ্বিতীয়ত (Secondly): রাত্রিবেলা ঘর ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করা:
তৃতীয়ত (Thirdly): কোন গৃহ, তাবু বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতি সাধন, যদি গৃহটি, তাবুটি বা যানবাহনটি মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
চতুর্থত (Fourthly): চুরি, অনিষ্টকারিতা, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, সংশ্লিষ্ট আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার উদ্ভব হয়।
---------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section-103: When the right of private defence of property extends to causing death:
The right of private defence of property extends, under the restrictions mentioned in section 99, to the voluntary causing of death or of any other harm to the wrong-doer, if the offence, the committing of which, or the attempting to commit which, occasions the exercise of the right, be an offence of any of the descriptions hereinafter enumerated, namely:-
Firstly.-Robbery;
Secondly.-House-breaking by night;
Thirdly.-Mischief by fire committed on any building, tent or vessel, which building, tent or vessel is used as a human dwelling or as a place for the custody of property;
Fourthly.-Theft, mischief or house-trespass, under such circumstances as may reasonably cause apprehension that death or grievous hurt will be the consequence, if such right of private defence is not exercised;
১,৩৫২.
দণ্ডবিধির ৪৪ ধারার অধীনে "ক্ষতি" বলতে কী বোঝায়?
  1. শারীরিক ক্ষতি
  2. মানসিক ক্ষতি
  3. সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪৪ ধারা- ক্ষতি:
যদি কোনো ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা হয়, তবে তাকে 'ক্ষতি' বলে।

Section 44-“Injury”:
The word "injury" denotes any harm whatever illegally caused to any person, in body, mind, reputation or property.
১,৩৫৩.
রফিক একজন মুদি দোকানি। সে জেনে-বুঝে এমন একটি পাল্লা ব্যবহার করে যা কম ওজন দেখায়, যাতে ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করা যায়। এক্ষেত্রে রফিক দণ্ডবিধির ২৬৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ কী শাস্তি হতে পারে?
  1. শুধু অর্থদণ্ড
  2. ৬ মাস কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়ই
  3. ১ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়ই
  4. ২ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়ই
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২৬৪ ধারা- ওজনের জন্য প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা যন্ত্র ব্যবহার করা:
কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে ওজনের জন্য এমন কোন যন্ত্র ব্যবহার করে, যা মিথ্যা বলে সে জানে, তবে-সেই ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 264- Fraudulent use of false instrument for weighing:
Whoever fraudulently uses any instrument for weighing which he knows to be false, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to one year, or with fine, or with both.

১,৩৫৪.
A, Z-এর বিরুদ্ধে একটি মানহানিকর মিথ্যা অভিযোগ (libel) প্রকাশ করার হুমকি দেয়, যদি না Z তাকে টাকা দেয়। এইভাবে A, Z-কে টাকা দিতে বাধ্য করে। A-এর এই আচরণটি _______ হিসেবে গণ্য হবে।
  1. জালিয়াতি
  2. বলপূর্বক আদায়
  3. ডাকাতি
  4. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারার বিধান- বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়:
কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাঁদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অর্পণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে 'সম্পত্তি আদায়' করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ-
(ক) ক, গ-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, গ তাকে টাকা না দিলে ক গ-এর বিরুদ্ধে মানহানির কুৎসা রটনা করবে। এইভাবে সে তাকে টাকা দিতে গ-কে বাধ্য করে। ক 'বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়' করেছে বলে পরিগণিত হবে।
১,৩৫৫.
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংঘটনের জন্য সর্বনিম্ন কতজন ব্যক্তির অংশগ্রহণ প্রয়োজন?
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১২০ক ধারা অনুযায়ী, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy) গঠনের জন্য ন্যূনতম দুইজন ব্যক্তির প্রয়োজন। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন অবৈধ কাজ করতে বা বৈধ কাজ অবৈধ উপায়ে করতে সম্মত হন, তখন তাদের সম্মতিকে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হবে।
অর্থাৎ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা কমপক্ষে দুইজন হতে হবে, এবং তারা একসাথে ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে যদি কোনও অবৈধ কাজ সংঘটিত করার জন্য সম্মত হন, তবে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section, 120A. Definition of criminal conspiracy.
When two or more persons agree to do, or cause to be done,-
(1) an illegal act, or
(2) an act which is not illegal by illegal means, such an agreement is designated a criminal conspiracy:
Provided that no agreement except an agreement to commit an offence shall amount to a criminal conspiracy unless some act besides the agreement is done by one or more parties to such agreement in pursuance thereof.
Explanation.-It is immaterial whether the illegal act is the ultimate object of such agreement, or is merely incidental to that object.
১,৩৫৬.
দণ্ডবিধির কত ধারায় চোরাই মালের সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায়
  2. দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায়
  3. দণ্ডবিধির ৪১৫ ধারায়
  4. দণ্ডবিধির ৪১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই  মালের সংজ্ঞা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা মতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণা হবে তা হল-

(i) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
(ii) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি
(iii) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি এবং 
(iv) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।

উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।

⇒ ধারা ৪১০ মতে চোরাই সম্পত্তি :- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ‘চোরাই সম্পত্তি' বলে । কিন্তু উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
---------
⇒ Stolen property:
Section 410. Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.
১,৩৫৭.
যদি ডাকাতির সময় কেবল একজন খুন করে, তবে বাকিদের বিচার কীভাবে হবে?
  1. কেবল ডাকাতির জন্য দণ্ডিত হবে
  2. খুনের অভিযোগ থেকে মুক্ত হবে
  3. তাদের বিচার আলাদা হবে
  4. সবাই খুনসহ ডাকাতির জন্য সমভাবে দায়ী হবে
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারা অনুযায়ী যদি পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে ডাকাতি করার সময় তাদের মধ্যে কেউ খুন করে, তাহলে সকল ব্যক্তি দণ্ডনীয় হবে। এই অপরাধের জন্য আদালত নিম্নলিখিত শাস্তি প্রদান করতে পারে:
- মৃত্যুদণ্ড, অথবা
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা
- ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড, এবং অর্থদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারার বিধান- খুনসহকারে ডাকাতি:
যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।
১,৩৫৮.
কুৎসাজনক কথা বা চিহ্ন দ্বারা বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তি প্রকাশের মাধ্যমে কি করা হয়?
  1. ব্যভিচার
  2. মানহানি
  3. প্রতারণা
  4. অশ্লীলতা
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী যখন কোন ব্যক্তি সম্পর্কিত কোন কুৎসা রটনা করা হয় যা উক্ত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করে (harm reputation) তাকে মানহানি বা Defamation বলে। অর্থাৎ কুৎসাজনক কথা বা চিহ্ন দ্বারা বা দৃশ্যমান কল্পমূর্তি প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করা হয়।
১,৩৫৯.
দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারা অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উদ্দেশ্যে উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. এক বছর
  2. দুই বছর
  3. তিন বছর
  4. পাঁচ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ২৯৫ অনুযায়ী যদি কেউ কোনো উপাসনালয় বা ধর্মীয় প্রতীক ধ্বংস, ক্ষতিসাধন বা অপবিত্র করে, এমন উদ্দেশ্যে যে, এতে কোনো শ্রেণির ধর্মীয় অনুভূতি আহত হবে, অথবা এমন জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও যে এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগবে, তবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো দুই বছরের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারা- কোন শ্রেণী বিশেষের ধর্মের প্রতি অবমাননা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে উপসানালয়ের স্থান বিনষ্ট বা অপবিত্র করা:
কোন ব্যক্তি যদি কোন উপাসনা স্থান বিনস্ট করে, ক্ষতিগ্রস্ত করে বা অপব্রিত করে অথবা জনসাধারণের কোন শ্রেণী দ্বারা পবিত্র বলে গণ্য কোন বস্তু বিনষ্ট করে, ক্ষতিগ্রস্ত করে বা অপবিত্র করে, এবং জনসাধারণের কোন শ্রেণীর ধর্মকে অপদস্থ করার মানসেই তা করে অথবা অনুরূপ বিনষ্টকরণ, ক্ষতিসাধন বা অবপবিত্রকরণকে একশ্রেণীর জনসাধারণ তাদের ধর্মের প্রতি অবমাননা বলে বিবেচনা করবে জানা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 295, Injuring or defiling place of worship, with intent to insult the religion of any class:
Whoever destroys, damages or defiles any place of worship, or any object held sacred by any class of persons with the intention of thereby insulting the religion of any class of persons or with the knowledge that any class of persons is likely to consider such destruction, damage or defilement as an insult to their religion, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

১,৩৬০.
দণ্ডবিধির কোন ধারায় "ক্ষতি বা অনিষ্ট" (Mischief) অপরাধের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৪২৬
  2. ধারা ৪২৫
  3. ধারা ৪২৪
  4. ধারা ৪২৩
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪২৫ অনুযায়ী, যদি কেউ জনসাধারণ বা কোনো ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা জেনেও, কোনো সম্পত্তি ধ্বংস বা পরিবর্তন করে, যার ফলে সম্পত্তির মূল্য, কার্যকারিতা বা অবস্থা নষ্ট বা হ্রাস পায়, তাহলে সে ব্যক্তি “ক্ষতি বা অনিষ্ট” (Mischief) করেছে বলে গণ্য হবে।
- সঠিক উত্তর: খ) ধারা ৪২৫। 

⇒ দণ্ডবিধির ৪২৫ ধারার বিধান ক্ষতি বা অনিষ্ট:- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকতা বিনষ্ট হয় বা হ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি 'ক্ষতি' সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।
ব্যাখ্যা-১: ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক।
ব্যাখ্যা-২: যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 425. Mischief:
Whoever, with intent to cause, or knowing that he is likely to cause, wrongful loss or damage to the public or to any person, causes the destruction of any property, or any such change in any property or in the situation thereof as destroys or diminishes its value or utility, or affects it injuriously, commits "mischief".
Explanation-1: It is not essential to the offence of mischief that the offender should intend to cause loss or damage to the owner of the property injured or destroyed. It is sufficient if he intends to cause, or knows that he is likely to cause, wrongful loss or damage to any person by injuring any property, whether it belongs to that person or not.
Explanation-2: Mischief may be committed by an act affecting property belonging to the person who commits the act, or to that person and others jointly.
১,৩৬১.
X, Y কে হত্যার উদ্দেশ্যে, তার ছয় বছরের শিশুকে 'A'-কে একটি এমন কাজ করতে প্ররোচিত করে, যা Y-এর মৃত্যু ঘটাবে। 'A' সেই কাজটি করে, কিন্তু X-এর অনুপস্থিতিতে। A-এর কাজের ফলে Y-এর মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রে-
  1. শুধু A দায়ী হবে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হবে
  2. শুধু X দায়ী হবে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হবে
  3. A এবং X উভয়ে মৃত্যুদণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধে দায়ী হবে
  4. A বা X কেউ দায়ী হবে হবে না
ব্যাখ্যা
• যে সমস্ত কাজ করলে অপরাধ হয় সেই সমস্ত কাজ করার জন্য প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে কোন ইন্ধন যোগান কিংবা সমর্থন করাকে, আইনের ভাষায় প্ররোচনা বা Abetment বলা হয়ে।

দণ্ডবিধির  ১০৭ ধারা অনুযায়ী ৩ ভাবে প্ররোচনা বা অপরাধে সহায়তা অপরাধ হতে পারে-
(i) কাউকে প্ররোচিত করে (instigation);
(ii) ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ করে (engagement);
(iii) কার্য বা কার্যবিরতি দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাহায্য করে (aiding)।

দণ্ডবিধির ১০৮ ধারা অনুযায়ী,
কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধ করতে সহায়তা করে, অথবা এমন একটি কাজে সহায়তা করে যে কাজটি সহায়তাকারীর মতো একই উদ্দেশ্য নিয়ে বা একই জ্ঞানের ভিত্তিতে যে ব্যক্তি আইনানুসারে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে তা করতে সক্ষম সেই ব্যক্তি করলে অপরাধ হত, তাহলে প্রথমোক্ত ব্যক্তি অপরাধ করতে সহায়তা ও প্ররোচনা দান করেছে বলে গণ্য হবে।

X, Y কে হত্যার উদ্দেশ্যে, A যে ছয় বছরের শিশু তাকে প্ররোচিত করে, এমন একটি কাজ করতে যা Y এর মৃত্যু ঘটায়। A, প্ররোচনার ফলে, X এর অনুপস্থিতিতে কাজটি করে এবং তাতে Y এর মৃত্যু ঘটে। এখানে, যদিও A আইনত অপরাধ করার সক্ষম ছিল না, X আইন অনুযায়ী একইভাবে শাস্তির যোগ্য, যেন A আইনত অপরাধ করার সক্ষম ছিল এবং হত্যা করেছে। তাই, X মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য শাস্তির আওতাধীন।
১,৩৬২.
দণ্ডবিধির ধারা ৩০৭ কোন অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. চুরি
  2. খুন
  3. খুনের উদ্যোগ
  4. আত্মহত্যার প্ররোচনা
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) খুনের উদ্যোগ।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩০৭ স্পষ্টভাবে "খুনের উদ্যোগ" (Attempt to murder) এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
- এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ এমন কাজ করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সেটি খুন হিসেবে গণ্য হতো, তবে সে ব্যক্তি খুনের উদ্যোগের দায়ে অভিযুক্ত হবে।
সুতরাং, ধারা ৩০৭ এর মূল উদ্দেশ্য হলো, মৃত্যুর উদ্দেশ্যে সংঘটিত কিন্তু মৃত্যুর আগেই আটকানো বা ব্যর্থ হওয়া অপরাধকে শাস্তিযোগ্য করা।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারার বিধান খুনের উদ্যোগ:- কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সে খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, এবং যদি অনুরূপ কাজের কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয়, তবে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা ইতোপূর্বে যে সাজার উলেখ করা হয়েছে, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
⇒ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির উদ্যোগ:- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি যদি এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করে এবং তার ফলে কেউ আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
--------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 307. Attempt to murder Attempts by life-convicts
 Whoever does any act with such intention or knowledge, and under such circumstances that, if he by that act caused death, he would be guilty of murder, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and, if hurt is caused to any person by such act, the offender shall be liable either to imprisonment for life, or to such punishment as is hereinbefore mentioned. 
- When any person offending under this section is under sentence of imprisonment for life, he may, if hurt is caused, be punished with death.
১,৩৬৩.
দণ্ডবিধির ১৫৩(ক) ধারা কোন অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. জনশান্তি ভঙ্গ
  2. বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বা ঘৃণা প্রচার
  3. বেআইনি সমাবেশে যোগদানে উৎসাহিত বা সহায়তা
  4. মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশে যোগদান
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি ১৫৩ক ধারা: বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা প্রচার করা:
যে কেউ, কথার মাধ্যমে, মৌখিক বা লিখিত, অথবা সংকেতের মাধ্যমে, দৃশ্যমান উপস্থাপনা দ্বারা বা অন্য যেকোনো উপায়ে, বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বা ঘৃণা প্রচার করে বা প্রচারের চেষ্টা করে, তাকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

ব্যাখ্যা: যদি কোনো ব্যক্তি বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্য ছাড়াই এবং প্রকৃতপক্ষে সেই সমস্যাগুলি তুলে ধরে, যা বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বা ঘৃণা সৃষ্টি করছে বা সৃষ্টি করার প্রবণতা রাখে, তাহলে এটি এই ধারার অধীনে অপরাধ বলে গণ্য হবে না।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 153A- Promoting enmity between classes:
Whoever by words, either spoken or written, or by signs, or by visible representations, or otherwise, promotes or attempts to promote feelings of enmity or hatred between different classes of the citizens of Bangladesh, shall be punished with imprisonment which may extend to two years, or with fine, or with both.

Explanation.- It does not amount to an offence within the meaning of this section to point out, without malicious intention and with an honest view to their removal, matters which are producing or have a tendency to produce, feelings of enmity or hatred between different classes of the citizens of Bangladesh.

১,৩৬৪.
The Penal Code, 1860 এর ৩০৪ ধারায় নিচের কোন অপরাধের সাজা বর্ণিত আছে?
  1. খুন
  2. আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া
  3. অপরাধমূলক নরহত্যা, যা খুন নয়
  4. অবহেলাজনিত মৃত্যু
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) অপরাধমূলক নরহত্যা, যা খুন নয়।

দণ্ডবিধি ধারা ৩০৪ — খুন না হওয়া অপরাধমূলক নরহত্যার জন্য দণ্ড:
(Section 304 – Punishment for culpable homicide not amounting to murder)
যে ব্যক্তি অপরাধমূলক নরহত্যা করে, যা খুন নয়, সে ব্যক্তিকে নিচের এক বা একাধিক শাস্তিতে দণ্ডিত করা যেতে পারে:

(১) যদি মৃত্যু ঘটানো হয় —
মৃত্যু ঘটানোর ইচ্ছা নিয়ে, অথবা
এমন শারীরিক আঘাত দেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে যা মৃত্যু ঘটাতে পারে —
তাহলে তাকে আজীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, এবং অর্থদণ্ড-এ দণ্ডিত করা যেতে পারে।

(২) আর যদি কাজটি করা হয় —
এমন জ্ঞানসহ, যে কাজটি মৃত্যু ঘটাতে পারে,
কিন্তু মৃত্যু ঘটানোর কোন ইচ্ছা ছিল না,
তাহলে তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।
১,৩৬৫.
'A' 'Z' কে নিহত করার উদ্দেশ্যে তার ওপর গুলিবর্ষণ করে, ফলে 'Z' এর মৃত্যু হয়। 'A' দণ্ডবিধির কোন ধারায় সংজ্ঞায়িত অপরাধ করেছে?
  1. ২৯৯
  2. ৩০০
  3. ৩০১
  4. ৩০৩
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান খুন:- খুনের সবক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নির্দেশ করা হয়েছে। সে সকল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের জন্যই করা হয়ে থাকে, অথবা
দ্বিতীয়ত, যদি কার্যটি কোন ব্যক্তিকে এমনভাবে দৈহিক আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, যে আঘাতের ফলে যে ব্যক্তিকে আঘাত দেওয়া হল, সে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে বলে অপরাধী জানে, অথবা
তৃতীয়ত, যদি কোন ব্যক্তিকে দৈহিক আঘাত দানের উদ্দেশ্যে কার্যটি করা হয় এবং যদি যে দৈহিক আঘাত দেওয়ার অভিসন্ধি করা হয়েছে, সে আঘাতটি প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিতে মৃত্যু ঘটাবার পক্ষে যথেষ্ট হয়, অথবা
চতুর্থত, যদি যে ব্যক্তি কার্যটি অনুষ্ঠান করে সে ব্যক্তি জানে যে, কার্যটি এমন আশু বিপজ্জনক যে, ইহার দরুন খুব সম্ভব মৃত্যু ঘটবে, অথবা ইহার দরুন অবশ্যই এমন দৈহিক আঘাত ঘটবে, যার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাবার বা অনুরূপ দৈহিক আঘাত ঘটাবার ঝুঁকি গ্রহণের অপর কোন অজুহাত ব্যতিরেকে অনুরূপ কার্য করে।

⇒ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার (উদা: ক)।
--------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 300. Murder:
Except in the cases hereinafter excepted, culpable homicide is murder, if the act by which the death is caused is done with the intention of causing death, or-
Secondly.-If it is done with the intention of causing such bodily injury as the offender knows to be likely to cause the death of the person to whom the harm is caused, or –
Thirdly.-If it is done with the intention of causing bodily injury to any person and the bodily injury intended to be inflicted is sufficient in the ordinary course of nature to cause death, or –
Fourthly.-f the person committing the act knows that it is so imminently dangerous that it must, in all probability, cause death, or such bodily injury as is likely to cause death, and commits such act without any excuse for incurring the risk of causing death or such injury as aforesaid.

Illustrations
(a) 'A' shoots 'Z' with the intention of killing him. 'Z' dies in consequence. 'A' commits murder.
১,৩৬৬.
দণ্ডবিধির কত ধারায় জাল মুদ্রা আমদানি বা রপ্তানির শাস্তির বিধান আছে?
  1. ২৩৫
  2. ২৩৬
  3. ২৩৭
  4. ২৩৮
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ২৩৭ ধারার বিধান: জাল মুদ্রা আমদানি কিংবা রপ্তানি:
-মুদ্রা জাল বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা জাল বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে উহা আমদানি করে অথবা তথা হতে উহা রপ্তানি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

উল্লেখ্য, দণ্ডবিধির ২৩৮ ধারায় বাংলাদেশের জাল মুদ্রা আমদানি বা রপ্তানির বিধান আছে। কিন্তু দণ্ডবিধির ২৩৭ ধারায় শুধু জাল মুদ্রা আমদানি বা রপ্তানির বিধান আছে।
-----------------------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 237: Import or export of counterfeit coin:
- Whoever imports into Bangladesh, or exports there from, any counterfeit coin, knowingly or having reason to believe that the same is counterfeit, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall be liable to fine.
১,৩৬৭.
দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুসারে, প্ররোচিত অপরাধ সংঘটিত হলে প্ররোচনাকারীর শাস্তি কী হবে?
  1. প্ররোচনাকারীকে অর্ধেক শাস্তি দেওয়া হবে
  2. প্ররোচনাকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না
  3. প্ররোচনাকারীকে শুধুমাত্র জরিমানা দেওয়া হবে
  4. প্ররোচনাকারীকে অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি দেওয়া হবে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ঘ) প্ররোচনাকারীকে অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি দেওয়া হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধে প্ররোচনা (Abetment) দেয় এবং সেই প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হয়, তবে প্ররোচনাকারীকে অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি দেওয়া হবে। এই ধারাটি তখন প্রযোজ্য হয় যখন দণ্ডবিধিতে প্ররোচনার জন্য আলাদা বা স্পষ্ট শাস্তির বিধান নেই।

উদাহরণ:
যদি A, B কে কোনো অপরাধ করতে প্ররোচনা দেয় এবং B সেই অপরাধটি করে, তবে A কেও B এর মতো একই শাস্তি দেওয়া হবে, যদি দণ্ডবিধিতে প্ররোচনার জন্য আলাদা শাস্তির বিধান না থাকে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো ঘ) প্ররোচনাকারীকে অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি দেওয়া হবে।
১,৩৬৮.
দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারা কী ধরনের অপরাধের সাথে সম্পর্কিত?
  1. চুরি
  2. জালিয়াতি
  3. শারীরিক আক্রমণ
  4. অনধিকার গৃহে প্রবেশ
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪৪২ "অনধিকার গৃহে প্রবেশ" (House-trespass) সংক্রান্ত। এ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে অন্যের বাসস্থান, উপাসনালয় বা সম্পত্তি হেফাজতের স্থানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে, তবে এটি অনধিকার গৃহে প্রবেশের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
- ব্যাখ্যা অংশে বলা হয়েছে: অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোনো অংশ (যেমন: হাত বা পা) প্রবেশ করলেই এই অপরাধ সম্পন্ন হয়।
- অতএব, এটি চুরি, জালিয়াতি বা শারীরিক আক্রমণ নয়, বরং “অপরাধমূলক প্রবেশ”-এর একটি উন্নততর রূপ, যা একটি নির্দিষ্ট গৃহ বা স্থানে ঘটে।

⇒ দণ্ডবিধির ৪৪২ ধারার বিধান অনধিকার গৃহে প্রবেশ:- কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি 'অনধিকার গৃহে প্রবেশ' অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয়।
ব্যাখ্যা:- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।
----------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 442- House-trespass:- Whoever commits criminal trespass by entering into or remaining in any building, tent or vessel used as a human dwelling or any building used as a place for worship, or as a place for the custody of property, is said to commit "house-trespass".
Explanation: -The introduction of any part of the criminal trespasser's body is entering sufficient to constitute house trespass.
১,৩৬৯.
The Penal Code, 1860 অনুযায়ী দণ্ড কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:

(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty),

(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life),

(iii) কারাদণ্ড (Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple),

(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (Forfeiture of property),

(v) অর্থদণ্ড (Fine)।
১,৩৭০.
একজন শৈল্য চিকিৎসক সরল বিশ্বাসে একজন রােগীকে বলেন "আপনি আর বাঁচবেন না, এতে উক্ত রোগী মানসিক আঘাত পেয়ে মারা যায়। এক্ষেত্রে শৈল্য চিকিৎসক নিচের কোন ধারার অপরাধ করেছেন?
  1. দণ্ডবিধির ৮৮ ধারার
  2. দণ্ডবিধির ৯৩ ধারার
  3. দণ্ডবিধির ৯৫ ধারার
  4. দণ্ডবিধির ৯৬ ধারার
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৯৩ ধারার বিধান সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ:
 কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে আন্তরিক সদিচ্ছাক্রমে কৃত যোগাযোগ বা খবর প্রদান, উক্ত খবর প্রদানের ফলে উক্ত ব্যক্তির কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার দরুণ অপরাধ হবে না।

♦ উদাহরণ
ক একজন সার্জন। তিনি আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে জনৈক রোগীকে তার এই মত জানান যে, সে বাঁচবে না। ইহাতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে রোগীটির মৃত্যু হয়। কএর কাজটি অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না, যদিও তিনি জানতেন যে, তার এইরূপ মত দেওয়ার ফলে রেগিটির মৃত্যু ঘটতে পারে।

------------------------------------
♦ Communication made in good faith
Section 93. No communication made in good faith is an offence by reason of any harm to the person to whom it is made, if it is made for the benefit of that person. 
 
♦ Illustration 
A, a surgeon, in good faith, communicates to a patient his opinion that he cannot live. The patient dies in consequence of the shock. A has committed no offence, though he knew it to be likely that the communication might cause the patient's death.
১,৩৭১.
কোনো ব্যক্তি প্রতারণায় ব্যবহৃত হবে জেনে দলিল জাল করলে তার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড _______ বছর।
  1. ১৪
  2. ১০
ব্যাখ্যা
ধারা ৪৬৮ মতে কোনো ব্যক্তি প্রতারণায় ব্যবহৃত হবে জেনে দলিল জাল করলে তার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
১,৩৭২.
দণ্ডবিধির কত ধারায় অনিচ্ছাকৃত নেশাগ্রস্ততার কারণে বিচারশক্তি রহিত ব্যক্তির কাজ অপরাধ নয় বলে উল্লেখ আছে?
  1. ৮৩
  2. ৮৪
  3. ৮৫
  4. ৮৬
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৮৫ ধারামতে কোন ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে নেশাস্ত হলে অর্থাৎ যে নেশাদ্রব্যের জন্য সে মাতাল হয়েছিল উক্ত নেশাদ্রব্য তার অগোচরে বা তার ইচ্ছার বিরূদ্ধে তাকে খাওয়ানো হয়েছিল এবং এর ফলে অর্থাৎ মাতাল অবস্থায় কোন অপরাধ সংঘটিত হলে উক্ত নেশাস্ত বা মাতাল ব্যক্তি উক্ত অপরাধের জন্য দায়ী হবেনা।
• তবে অপরাধ করার সময় উক্ত মাতাল ব্যক্তির মানসিক অবস্থা এমন থাকবে যে, সে তার কাজের প্রকৃতি ও পরিণতি উপলব্ধি করতে পারবে না।
১,৩৭৩.
দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুসারে নিম্নলিখিত কোনটি প্ররোচনার (Abetment) উপায়?
  1. Instigation
  2. Conspiracy
  3. Intentional Aid
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১০৭ অনুসারে, অপরাধে প্ররোচনা (Abetment) তিনটি উপায়ে সংঘটিত হয়:
১) Instigation (প্ররোচনা বা উসকানি) – কোনো ব্যক্তিকে অপরাধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।
২) Conspiracy (ষড়যন্ত্র) – এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে অপরাধের জন্য গোপন চক্রান্তে লিপ্ত হওয়া, যাতে অবৈধ কাজ বা অস্বীকার ঘটে।
৩) Intentional Aid (ইচ্ছাকৃত সহায়তা) – অপরাধ সংঘটনে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কাজ বা অস্বীকারের মাধ্যমে সাহায্য করা।
- সুতরাং, উল্লিখিত সবগুলোই প্ররোচনার উপায়।

⇒ দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা (Abetment):
অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা বলতে এমন কাজ বা কার্যক্রম বোঝায় যা অন্যকে অপরাধ করতে উসকানির মাধ্যমে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে:
- অনুপ্রেরণা বা উসকানি (Instigation): অন্য কাউকে অপরাধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ বা প্ররোচিত করা।
- ষড়যন্ত্র (Conspiracy): অপরাধ করার জন্য অন্য কারও সাথে গোপনে পরিকল্পনা করা।
- সহায়তা (Assistance): অপরাধ সংঘটনে সরাসরি সাহায্য করা।
-  যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে অপরাধ করতে সাহায্য বা উসকানি দেয়, তখন তাকে অপরাধের সাথে সম্পর্কিত হিসেবে দণ্ডবিধির ১০৮ ধারায় প্ররোচনাকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- দণ্ডবিধির ১০৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করার জন্য কাউকে প্ররোচিত করে বা অপরাধ সংঘটনের জন্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়, তবে তাকে অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনাকারী বলে গণ্য করা হবে।

উদাহরণ: যদি একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে চুরি করতে উসকানি দেয় বা চুরির জন্য তাকে সাহায্য করে, তবে সে সেই অপরাধের জন্য দায়ী হবে।
----------
⇒ The Penal Code, 1860 Section 107: Abetment of a thing: 
- A person abets the doing of a thing, who-
Firstly.- Instigates any person to do that thing; or
Secondly.- Engages with one or more other person or persons in any conspiracy for the doing of that thing, if an act or illegal omission takes place in pursuance of that conspiracy, and in order to the doing of that thing; or
Thirdly.- Intentionally aids, by any act or illegal omission, the doing of that thing.

Explanation-1.- A person who, by wilful misrepresentation, or by wilful concealment of a material fact which he is bound to disclose, voluntarily causes or procures, or attempts to cause or procure, a thing to be done, is said to instigate the doing of that thing.
Explanation-2.- Whoever, either prior to or at the time of the commission of an act, does anything in order to facilitate the commission of that act, and thereby facilitates the commission thereof, is said to aid the doing of that act.

১,৩৭৪.
কোন বেআইনী সমাবেশ ভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেনেও তাতে যোগদান করলে, উক্ত ব্যক্তি অনধিক কত বছরের জেল হতে পারে?
  1. ৬ বছর
  2. ৬ মাসের
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ১৪৫ ধারার বিধান: বেআইনী সমাবেশকে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানা সত্ত্বেও উহাতে যোগদান করা অথবা উহাতে থেকে যাওয়া:- কোন বেআইনী সমাবেশকে আইন-নির্দেশিত পদ্ধতিতে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদান করলে বা উক্ত বেআইনী সমাবেশে থাকলে তাকে দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

-------------------------
♦ Section 145. Joining or continuing in unlawful assembly, knowing it has been commanded to disperse:- Whoever joins or continues in an unlawful assembly, knowing that such unlawful assembly has been commanded in the manner prescribed by law to disperse, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.
১,৩৭৫.
কোন ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রযোজ্য হবে?
  1. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাংলাদেশি কোন নাগরিক কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ
  2. বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিদেশি নাগরিক কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ
  3. বাংলাদেশের নিবন্ধিত জাহাজে বা বিমানে বিদেশি নাগরিক কর্তৃক সংঘটিত অপরাধ
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ২ থেকে ৪ ধারায় দণ্ডবিধির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যে ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রয়াগ হবে-
(i) বাংলাদেশের সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে: দেশে-বিদেশে যেখানেই অপরাধ সংঘটন করুক না কেন।
(ii) বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে: যদি সে বাংলাদেশে অথবা বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংঘটন করে।
(iii) বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংগঠন করার ক্ষেত্রে: উক্ত বাংলাদেশি জাহাজ বা বিমান বাংলাদেশ বা বিদেশে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন।
১,৩৭৬.
দণ্ডবিধির ৩০৩ ধারা কোন ধরনের অপরাধীদের জন্য প্রযোজ্য?
  1. শিশু অপরাধী
  2. যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত
  3. প্রথমবারের মত অপরাধ সংঘটনকারী
  4. যেকোন ধরনের কারাদণ্ড প্রাপ্ত
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধি ৩০৩ ধারার বিধান- যাবজ্জীবন কারাবাসে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক খুনের শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় খুন করে, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

Section 303- Punishment for murder by life-convict:
Whoever, being under sentence of imprisonment for life, commits murder, shall be punished with death.
১,৩৭৭.
অজ্ঞাত পরিচয়ের [anonymous communication] মাধ্যমে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের শাস্তি সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭- অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন:
যে ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে, বা যে ব্যক্তি হুমকি প্রদানের জন্য যার নাম বা অবস্থান গোপন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছরের পর্যন্ত যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া, এই অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী ধারায় প্রদত্ত শাস্তিও তাকে প্রদান করা হবে।

Criminal intimidation by an anonymous communication:
Whoever commits the offence of criminal intimidation by an anonymous communication, or having taken precaution to conceal the name or abode of the person from whom the threat comes, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, in addition to the punishment provided for the offence by the last preceding section.
১,৩৭৮.
'ক', 'চ'-কে বিষ প্রয়োগ করে খুন করার উদ্দেশ্যে বিষ ক্রয় করে এবং খাদ্যে বিষ মিশ্রিত করে। 'ক' বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রবটি 'চ' এর খাবার টেবিলে রাখে। 'ক' কোন ধারার অধীনে অপরাধ করেছে?
  1. ২৯৯ ধারা
  2. ৩০৪ ধারা
  3. ৩০৫ ধারা
  4. ৩০৭ ধারা
ব্যাখ্যা
দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারা- খুনের উদ্যোগ:
কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সে খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, এবং
যদি অনুরূপ কাজের কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয়, তবে অপরাধী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা ইতোপূর্বে যে সাজার উলেখ করা হয়েছে, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

⇒ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির উদ্যোগ:- যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি যদি এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করে এবং তার ফলে কেউ আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

উদাহরণ:
(অ) 'ক', 'চ'-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এমন অবস্থায় গুলি করে, যে অবস্থায় মৃত্যু অনুষ্ঠিত হলে 'ক' খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। 'ক' এই ধারা বলে দণ্ডিত হবে।

(আ) 'ক' একটি অতি অল্প বয়স্ক শিশুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে উহাকে মরুভূমিতে রেখে আসে। ইহার ফলে শিশুটির মৃত্যু না হলেও ‘ক’ এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

(ই) 'ক', 'চ' কে খুন করার উদ্দেশ্যে একটি বন্দুক ক্রয় করে উহা গুলি ভর্তি করে। এতদূর পর্যন্ত 'ক' অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। 'ক', 'চ'-এর প্রতি গুলি বর্ষণ করে। এইক্ষেত্রে সে এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করেছে, এবং এই গুলি বর্ষণের দরুণ যদি সে 'চ'-কে আহত করে থাকে, তবে সে এই ধারার প্রথম অনুচ্ছেদের শেষাংশে নিদিষ্ট দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(ঈ) 'ক', 'চ'-কে বিষ প্রয়োগ করে খুন করার উদ্দেশ্যে বিষ ক্রয় করে এবং খাদ্যে বিষ মিশ্রিত করে; বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রব্যটি 'ক'-এর নিকটই রয়েছে। এতদূর পর্যন্ত 'ক' এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। 'ক' বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রবটি 'চ' এর খাবার টেবিলে রাখে অথবা উহা 'চ'-এর খাবার টেবিলে রাখার জন্য 'চ'-এর চাকরকে প্রদান করে । 'ক' এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
১,৩৭৯.
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ‘X’একজন বাংলাদেশী নাগরিক সে উগান্ডার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। বাংলাদেশের যোগ্যতাসম্পন্ন কোন আদালত ‘X’ এর বিচার করতে পারে, যদি তাকে পাওয়া যায়-
  1. বাংলাদেশে
  2. উগান্ডায়
  3. যুক্তরাজ্যে
  4. যেকোন দেশে
ব্যাখ্যা
♦পেনাল কোড অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক দেশে-বিদেশে যেখানেই পেনাল কোডের অপরাধ করুক তাঁকে বাংলাদেশে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে বিচার করা যাবে। বিদেশী নাগরিক যদি বাংলাদেশে অবস্থান করে কোনো অপরাধ করলে এবং তা পেনাল কোডে দণ্ডনীয় হলে তার বিচার বাংলাদেশে করা যাবে। কিন্তু বিদেশী কোনো নাগরিক বিদেশে অপরাধ করলে সেটি বাংলাদেশে বিচার্য হবে না।
♦দণ্ডবিধির ২ থেকে ৪ ধারায় দণ্ডবিধির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যে ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি প্রয়াগ হবে-
(i)  বাংলাদেশের সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে: দেশে-বিদেশে যেখানেই অপরাধ সংঘটন করুক না কেন।
(ii) বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে: যদি সে বাংলাদেশে অথবা বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংঘটন করে।
(iii) বাংলাদেশের নিবন্ধিত কোন জাহাজ বা বিমানে অপরাধ সংগঠন করার ক্ষেত্রে: উক্ত বাংলাদেশি জাহাজ বা বিমান বাংলাদেশ বা বিদেশে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন।
১,৩৮০.
দণ্ডবিধির ৩০০ ধারায় খুনের সংজ্ঞায় কয়টি ব্যতিক্রম আছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
(i) গুরুতর এবং আকস্মিক উত্তেজনা
(ii) ব্যক্তি প্রতিরক্ষার অধিকার অতিক্রম করা
(iii) সরকারি কর্মচারী ক্ষমতা অতিক্রম করে মৃত্যু ঘটালে
(iv) আকস্মিক কলহ
(v) সম্মতিসহকারে মৃত্যু।
১,৩৮১.
দণ্ডবিধির ৫৫ ধারা মতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস করে সরকার _____________________ কারাদণ্ড দিতে পারে।
  1. অনূর্ধ্ব ১৪ বৎসর মেয়াদের সশ্রম
  2. অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম
  3. যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম
  4. শুধু বিনাশ্রম
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৫৫ ধারার বিধান যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হ্রাস বা পরিবর্তন:- যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ড হ্রাস করে অনূর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন।

-------------------------------
♦ Section 55. Commutation of sentence of imprisonment for life:- In every case in which sentence of imprisonment for life shall have been passed, the Government may, without the consent of the offender, commute the punishment for imprisonment of either description for a term not exceeding twenty years.
১,৩৮২.
Which of the following offenses does not require a minimum of five members?
  1. Rioting
  2. Robbery
  3. Dacoity
  4. Unlawful assembly
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৪১ ধারায় বেআইনি সমাবেশের বিধান রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি জনসাধারণের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কোনো সমাবেশ করলে তাকে বেআইনি সমাবেশ বা Unlawful Assembly বলে।
-দণ্ডবিধির ১৪৬ ধারায় বলা হয়েছে বেআইনি সমাবেশ কর্তৃক বা এর কোনো সদস্য কর্তৃক বলপ্রয়োগ করা  হলে বা সহিংসতা (force or violence) করা হলে তখন সমাবেশের সকল সদস্য দাঙ্গা করেছে মর্মে বলা হবে। অর্থাৎ দাঙ্গার সদস্যও পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি হবে।
-দণ্ডবিধি ৩৯১ ধারা মতে যখন ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিত হয়ে একইসাথে কোন দস্যুতা সংঘটন করে, তখন সেই দস্যুতা ডাকাতি বলে গণ্য হবে।
-দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারা অনুযায়ী চুরি করার উদ্দেশ্যে বা বলপূর্বক গ্রহণের সময় কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে, আঘাত দান করলে বা আটক করে রাখলে অথবা মৃত্যু, আঘাত বা অবৈধ বাধার তাৎক্ষণিক ভয় (instant fear) দেখানো হলে তখন তা দস্যুতা বা Robbery বলে গণ্য হবে।
-দস্যুতার সর্বনিম্ন সদস্য ১ জন এবং সর্বোচ্চ সদস্য ৪ জন। অন্যদিকে ডাকাতির সর্বনিম্ন সদস্য ৫ জন। দস্যুতার সদস্য যদি ৫ বা ততোধিক হয় তখন দস্যুতা ডাকাতিতে পরিণত হয়।
---------------------------------
- সাধারণ উদ্দেশ্য বা common object বলতে তদ্রূপ উদ্দেশ্যকে বোঝায় যা পূরণকল্পে সমাবেশের সকল সদস্য সমবেত হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য হাসিল করবে বলে তারা সকলে জানত; অর্থাৎ বেআইনি সমাবেশ করার জন্য যে সকল উদ্দেশ্য থাকে সেই সকল উদ্দেশ্য সমূহ হলো সাধারণ উদ্দেশ্য।
- সাধারণ উদ্দেশ্যগুলো (common object) নিম্নরূপ যথা-
১) সরকার, সরকারি কর্মচারী বা আইনসভাকে আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগকালে বাধা বা বলপ্রয়োগের হুমকি দান;
২) আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বাধা ।
৩) অনিষ্ট, অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশ বা অপর কোন অপরাধ সংঘটন ।
৪) অপরাধজনক বলপ্রয়োগ পূর্বক সম্পত্তি অর্জন বা কোন ব্যক্তিকে রাস্তা বা পানি ব্যবহার বা দখল থেকে বঞ্চিত; অথবা
৫) কোন ব্যক্তিকে যা করতে বাধ্য নয় তা করাতে ও যা করতে বাধ্য তা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করা।

-দণ্ডবিধি ৩৯১ ধারা মতে যখন ৫ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিত হয়ে একইসাথে কোন দস্যুতা সংঘটন করে, তখন সেই দস্যুতা ডাকাতি বলে গণ্য হবে।

-ডাকাতির উপাদান:
(i) পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;
(ii) উক্ত দলের এক বা একাধিক ব্যক্তি দস্যুতা করেছিল বা করার চেষ্টা করেছিল;
(iii) ডাকাত দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিল এবং এ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেছিল।

-দস্যুতাকে হিংস্রতম চুরি বা হিংস্রতম বলপ্রয়োগ গ্রহণ বলা হয়। কেননা প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।

-দস্যুতার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদান বিদ্যমান-
i)এক বা একাধিক ব্যক্তি তবে ৫ জনের কম যৌথভাবে অপরাধটি সংঘটিত করেছিল;
ii) আঘাতের ভয় বা মৃত্যুভয় দেখিয়ে বা অবৈধ আটকের ভয় দেখিয়েছিল;
iii) অসাধুভাবে সম্পত্তিটি প্রদানে বাধ্য করেছিল; এবং
iv) প্রত্যেক দস্যুতার অপরাধের মধ্যে চুরি বা বলপূর্বক গ্রহণ থাকতে হবে।

- প্রত্যেক ডাকাতির ক্ষেত্রে দস্যুতা ( চুরি অথবা বলপূর্বক গ্রহণ) থাকে। কিন্তু দস্যুতা এবং ডাকাতির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সংখ্যাগত।
১,৩৮৩.
Which of the following is included in the definition of "injury" under Section 44?
  1. Damage to property
  2. Harm to someone’s reputation or mind
  3. Harm to someone's body
  4. All of the above
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৪৪ ধারা- ক্ষতি:
যদি কোনো ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা হয়, তবে তাকে 'ক্ষতি' বলে।

Section 44-“Injury”:
The word "injury" denotes any harm whatever illegally caused to any person, in body, mind, reputation or property.
১,৩৮৪.
দণ্ডবিধি ৪৪৭ ধারা মতে- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের ক্ষেত্রে অনধিক কত টাকা অর্থদণ্ড দেয়া যাবে?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধি ৪৪৭ ধারা মতে-
অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের শাস্তি হলো অনধিক ৩ মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।

Section 447- Punishment for criminal trespass:
Whoever commits criminal trespass shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine which may extend to five hundred taka, or with both.
১,৩৮৫.
কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা দলিল তৈরি করে কাউকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করে, তবে এটি দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারায় তা কোন অপরাধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চুরি
  2. দুর্নীতি
  3. প্রতারণা
  4. জালিয়াতি
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারার বিধান- জালিয়াতি:
 কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের কিংবা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা কোন দাবি বা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রকাশ্য বা অনুক্ত চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে এইরূপ অভিপ্রায়ে, কোন মিথ্যা দলিল কিংবা দলিলের অংশবিশেষ প্রণয়ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে পরিগণিত হবে।
-----------
Section 463- Forgery: 
Whoever makes any false document or part of a document, with intent to cause damage or injury, to the public or to any person, or to support any claim or title, or to cause any person to part with property, or to enter into any express or implied contract, or with intent to commit fraud or that fraud may be committed, commits forgery.
১,৩৮৬.
দণ্ডবিধি আনুসারে ঠগ (Thug) এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ৫ বছর কারাদণ্ড
  2. ৭ বছর কারাদণ্ড
  3. ১০ বছর কারাদণ্ড
  4. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩১০ ধারায় ঠগের সংজ্ঞা (Thug) রয়েছে।  খুন অথবা খুন সহকারে দস্যুতা সংঘটন অথবা শিশু অপহরণ করার উদ্দেশ্যে দুষ্টু মন নিয়ে মেলামেশা করাকে ঠগ (Thug) বলে। অর্থাৎ অভ্যাসগতভাবে কাউকে খুন বা শিশু অপহরন করে দস্যুতার উদ্দেশ্যে মেলামেশা করাকে ঠগ বলা হয়। সমস্ত ঠগই দস্যু এবং ডাকাত কিন্তু সমস্ত দস্যু বা ডাকাত ঠগ নয়।

⇒ দণ্ডবিধির ৩১১ ধারার বিধান ঠগের শাস্তি:-কোন ব্যক্তি যদি ঠগ হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
--------
⇒ Section 310: Thug:
Whoever, at any time after the passing of this Act, shall have been habitually associated with any other or others for the purpose of committing robbery or child-stealing by means of or accompanied with murder, is a thug.
⇒ Section  311:Punishment:
- Whoever is a thug, shall be punished with imprisonment for life, and shall also be liable to fine.
১,৩৮৭.
দণ্ডবিধির কোন ধারার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হবে না?
  1. ৩০২ ধারা
  2. ৩০৩ ধারা
  3. ৩০৪ ধারা
  4. ৩৯৬ ধারা
ব্যাখ্যা
♦ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের জন্য, ৩০৩ ধারায় যাবজ্জীবন দণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক সংঘটিত খুনের জন্য এবং ৩৯৬ ধারায় ডাকাতির সময় খুনের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড।
♦ কিন্তু ৩০৪ ধারায় খুন বলে গণ্য নয় এমন নিন্দনীয় নরহত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড । অর্থাৎ দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারার অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হবে না।
১,৩৮৮.
'Doctrine of alternative danger' দণ্ডবিধির কোন ধারার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ৮১ ধারা
  2. ৮৭ ধারা
  3. ৯১ ধারা
  4. ৯৬ ধারা
ব্যাখ্যা
Doctrine of Alternative Danger অর্থ হলো- বৃহত্তর ক্ষতি এড়ানোর জন্য ক্ষুদ্রতর ক্ষতি মেনে নেওয়া। 'Doctrine of alternative danger' দণ্ডবিধির ৮১ ধারার সাথে সম্পর্কিত।
দণ্ডবিধির ধারা ৮১ অনুসারে, বৃহত্তর ক্ষতি এড়ানোর জন্য ক্ষুদ্রতর ক্ষতি মেনে নেওয়া বৈধ হতে পারে। যদি কোনো সম্ভাব্য ক্ষতিকারক কাজ সৎ উদ্দেশ্যে, শরীর বা সম্পত্তির ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য করা হয়, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।

উদাহরণ:
ধরা যাক, একটি জ্বলন্ত বাড়ির পাশে আরেকটি বাড়িতে বিস্ফোরক পদার্থ রয়েছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী যদি পাশের বাড়ির কিছু অংশ ভেঙে ফেলে, তবে তা ধারা ৮১-এর অধীনে বৈধ বলে গণ্য হবে, কারণ এটি বৃহত্তর ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য করা হয়েছে।

দণ্ডবিধির  ৮১ ধারা- সম্ভাব্য ক্ষতিকারক কার্য, কিন্তু অপরাধমূলক অভিপ্রায় ছাড়া এবং অন্যবিধ ক্ষতিরোধের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত:
 কোন কাজ শুধু ক্ষতিসাধন করতে পারে এইরূপ জানা সত্ত্বেও উহা করার ফলেই অপরাধ বলে বিবেচনা করা হবে না যদি কাজটি ক্ষতিসাধন করার জন্য কোনরূপ অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে সম্পাদিত না হয়ে থাকে এবং উহা শরীরের বা সম্পত্তির অপর কোনরূপ ক্ষতি নিবারণ বা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত হয়ে থাকে।

ব্যাখ্যা: যে ক্ষতিটি নিবারণ বা প্রতিরোধ করতে হবে, উহা এতই আসন্ন বা প্রকট ছিল কিনা এবং উহা এমন প্রকৃতির ছিল কিনা যার ফলে, সম্পাদিত কাজটি ক্ষতি করতে পারে জানা সত্ত্বেও উহা করা বা করার মাধ্যমে ঝুঁকি গ্রহণ মার্জনীয় হবে, বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রশ্নটির মীমাংসা করতে হবে।

Section 81- Act likely to cause harm, but done without criminal intent and to prevent other harm:
Nothing is an offence merely by reason of its being done with the knowledge that it is likely to cause harm, if it be done without any criminal intention to cause harm, and in good faith for the purpose of preventing or avoiding other harm to person or property. 
 
Explanation.-It is a question of fact in such a case whether the harm to be prevented or avoided was of such a nature and so imminent as to justify or excuse the risk of doing the act with the knowledge that it was likely to cause harm.
১,৩৮৯.
According to Section 410 of the Penal Code, 1860, Stolen property includes property that has been transferred by:
  1. Donation or charity
  2. Inheritance or gift
  3. Misrepresentation or error
  4. Theft, extortion, or robbery
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারায় চোরাই মালের সংজ্ঞা রয়েছে।
-দণ্ডবিধির ৪১০ ধারামতে যে সকল মাল বা সম্পত্তি চোরাই মাল বলে গণ্য হবে তা হল-
ক) চুরির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি;
খ) বলপূর্বক গৃহীত সম্পত্তি;
গ) দস্যুতা এবং ডাকাতিমূলে হস্তান্তরিত সম্পত্তি; এবং
ঘ) অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎকৃত ও বিশ্বাসভঙ্গের দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিকে চোরাই মাল বা Stolen Property বলে।

⇒ উক্ত চোরাই মাল যখন আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী লোকের দখলে আসে, তখন সেগুলো আর চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
⇒ দণ্ডবিধির ৪১০ ধারার বিধান চোরাই সম্পত্তি:- চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে "চোরাই সম্পত্তি” বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি 'চোরাই সম্পত্তি' বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।
---------------------- 
⇒ The Penal Code, 1860-Section-410: Stolen property:
- Property, the possession whereof has been transferred by theft, or by extortion, or by robbery, and property which has been criminally misappropriated or in respect of which criminal breach of trust has been committed, is designated as "stolen property," whether the transfer has been made, or the misappropriation or breach of trust has been committed, within or without Bangladesh. But, if such property subsequently comes into the possession of a person legally entitled to the possession thereof, it then ceases to be stolen property.
১,৩৯০.
'A' একজন সৈনিক হিসেবে সুপিরিয়র অফিসারের আদেশে জনতার উপর গুলি চালায়। আইন অনুসরণে করা এই কাজটি অপরাধ নয়। এটি দণ্ডবিধির কত নং ধারার উদাহরণ?
  1. ধারা ৭৬
  2. ধারা ৭৭
  3. ধারা ৭৮
  4. ধারা ৭৯
ব্যাখ্যা

⇒  দণ্ডবিধির ৭৬ ধারা অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি আইন দ্বারা বাধ্য হয়, অথবা সদুদ্দেশ্যে তথ্যের ভুলের কারণে নিজেকে আইন দ্বারা বাধ্য বলে বিশ্বাস করে কোনো কাজ করে, তবে তা অপ্রাধ নয়।
- উল্লিখিত উদাহরণে, 'A' একজন সৈনিক হিসেবে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশে এবং আইনানুসমর্থনে কাজ করেছে। এটি ধারা ৭৬ এর একটি সরাসরি উদাহরণ, যা "আইন দ্বারা বাধ্য" হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।

⇒  দণ্ডবিধির ৭৬ ধারার বিধান- আইনবলে বাধ্য বা ভুল ধারণাবশতঃ নিজেকে আইনবলে বাধ্য বলে বিশ্বাসকারী ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক সম্পাদিত কার্য:
যে ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনত: বাধ্য বলে কোন কাজ সম্পাদন করলে, অথবা আইনের কাজটি ভুল না করে ঘটনা সম্পর্কে ভুলবশত: কাজটি করতে আইনত: বাধ্য বলে সরল মনে বিশ্বাস করে সে ব্যক্তি কোন কাজ সম্পাদন করলে তা অপরাধ হবে না।
উদাহরণসমূহ:
(ক) ক একজন সৈনিক। সে তার উর্ধ্বতন অফিসারের নির্দেশক্রমে আইনের বিধানমতে কোন জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে। ক-এর গুলিবর্ষণ কাজ অপরাধ হবে না।
(খ) বিচারালয়ের জনৈক কর্মকর্তা 'ক' উক্ত বিচারালয় কর্তৃক ম-কে গ্রেফতার করার জন্য আদিষ্ট হয়ে এবং যথাযথ তদন্তের পর 'খ'-কে 'ম' মনে করে 'খ'-কে গ্রেফতার করেন। 'ক' কোন অপরাধ সংঘটন করেন নাই।
---------
⇒The Penal Code, 1860-Section 76: Act done by a person bound, or by mistake of fact believing himself bound, by law:
Nothing is an offence which is done by a person who is, or who by reason of a mistake of fact and not by reason of a mistake of law in good faith believes himself to be, bound by law to do it.
Illustrations:
(a) A, a soldier, fires on a mob by the order of his superior officer, in conformity with the commands of the law. A has committed no offence.
(b) A, an officer of a Court of Justice, being ordered by that Court to arrest Y, and, after due enquiry, believing Z to be Y, arrests Z. A has committed no offence.

১,৩৯১.
The Penal Code,1860 অনুসারে কোন ব্যক্তিকে তার ইচ্ছানুসারে নির্দিষ্ট কোন পথ গমনের ক্ষেত্রে বাধা দিলে কী অপরাধ হবে?
  1. Kidnapping
  2. Criminal force
  3. Wrongful restraint
  4. Wrongful confinement
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারার বিধান অবৈধ বাধা (Wrongful restraint):- যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যতিক্রম:- যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।
⇒ উদাহরণ
যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয়। ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।
--------
Wrongful restraint:
Section 339. Whoever voluntarily obstructs any person so as to prevent that person from proceeding in any direction in which that person has a right to proceed, is said wrongfully to restrain that person. 

Exception: The obstruction of a private way over land or water which a person in good faith believes himself to have a lawful right to obstruct, is not an offence within the meaning of this section. 
Illustration:
A obstructs a path along which Z has a right to pass, A not believing in good faith that he has a right to stop the path. Z is thereby prevented from passing. A wrongfully restrains Z.
১,৩৯২.
Affray এর বিধান রয়েছে কত ধারায়?
  1. ১৫৩ ধারায়
  2. ১৫৯ ধারায়
  3. ১৫৫ ধারায়
  4. ১৪১ ধারায়
ব্যাখ্যা
♦দণ্ডবিধির ১৫৯ ধারায় মারামারির (Affray) সংজ্ঞা রয়েছে। দুই বা ততোধিক ব্যক্তি প্রকাশ্য স্থানে (public place) ঝগড়া করে গণশান্তি (public peace) ভঙ্গ করলে তা মারামারি বা affray বলে গণ্য হবে। অন্যভাবে বলা যায়, ২ বা ততোধিক ব্যক্তি প্রকাশ্য স্থানে কলহ বা ঝগড়া করার ফলে গণশাস্তি বিঘ্নিত হলে তারা মারামারি করেছে বলে গণ্য হবে।
♦ প্রকাশ্য স্থান (public place) বলতে পথ-ঘাট, হাট বাজার অর্থাৎ যেখানে জনসাধারণ সচরাচর যাতায়াত করতে পারে।
১,৩৯৩.
দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারার অধীনে নিম্নের কোনটি জালিয়াতির উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না?
  1. অবৈধ সুবিধা লাভের জন্য দলিল তৈরি করা
  2. কাউকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে দলিল তৈরি করা
  3. জনসাধারণের ক্ষতি করার জন্য দলিল তৈরি করা
  4. আইনগত প্রমাণ হিসেবে সঠিক দলিল তৈরি করা
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারার বিধান জালিয়াতি:- কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের কিংবা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা কোন দাবি বা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রকাশ্য বা অনুক্ত চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে এইরূপ অভিপ্রায়ে, কোন মিথ্যা দলিল কিংবা দলিলের অংশবিশেষ প্রণয়ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

কিন্তু আইনগত প্রমাণ হিসেবে সঠিক দলিল তৈরি করা জালিয়াতির উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হবে না।
-----------
⇒ The Penal Code, 1860- Section 463- Forgery: Whoever makes any false document or part of a document, with intent to cause damage or injury, to the public or to any person, or to support any claim or title, or to cause any person to part with property, or to enter into any express or implied contract, or with intent to commit fraud or that fraud may be committed, commits forgery.
১,৩৯৪.
দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম ৫ কোন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য?
  1.  ভিকটিম যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়
  2. ভিকটিম স্বেচ্ছায় মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করলে
  3. ভিকটিম বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষা করলে
  4. হত্যাকারীর ভুলবশত মৃত্যু ঘটালে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B. ভিকটিম স্বেচ্ছায় মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করলে।

দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান- খুন:

⇒ ব্যতিক্রম ১:
যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না-
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।

⇒ ব্যতিক্রম ২:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।

⇒ ব্যতিক্রম ৩:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।

⇒ ব্যতিক্রম ৪:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।

⇒ ব্যতিক্রম ৫:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।

১,৩৯৫.
দণ্ডবিধির ধারা ১০২ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার কখন থেকে শুরু হয়?
  1. প্রকৃত শারীরিক আঘাত ঘটলে
  2. অপরাধ সম্পূর্ণ সংঘটিত হলে
  3. পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে
  4. যুক্তিসঙ্গতভাবে আঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে
ব্যাখ্যা

⇒  দণ্ডবিধি, ১৮৬০–এর ধারা ১০২ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার তখনই শুরু হয়, যখন শরীরে আঘাতের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা দেখা দেয়। অর্থাৎ, অপরাধ সম্পূর্ণ সংঘটিত হওয়ার আগেই যদি কোনো ব্যক্তি যুক্তিসঙ্গতভাবে মনে করেন যে তার শরীরে আঘাত আসন্ন, তখন থেকেই তিনি আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এই অধিকার ততক্ষণ পর্যন্ত বহাল থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই আঘাতের আশঙ্কা অব্যাহত থাকে। তাই সঠিক উত্তর হলো: ঘ) যুক্তিসঙ্গতভাবে আঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলে।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা-১০২: দেহ বা শরীর সম্পর্কিত আত্মরক্ষার অধিকারের স্থায়িত্ব-
শরীরের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার তখনই শুরু হয়, যখন শরীরে আঘাতের আশঙ্কা যুক্তিসঙ্গতভাবে সৃষ্টি হয় এবং কোনো অপরাধের চেষ্টা বা হুমকি থেকে আসে, যদিও সেই অপরাধটি সম্পূর্ণভাবে সংঘটিত না-ও হতে পারে; এবং এই অধিকার তখন পর্যন্ত বজায় থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই আঘাতের আশঙ্কা অব্যাহত থাকে।
-------------
⇒ The Penal Code, 1860, Section 102- Commencement and continuance of the right of private defence of the body:
The right of private defence of the body commences as soon as a reasonable apprehension of danger to the body arises from an attempt or threat to commit the offence though the offence may not have been committed; and it continues as long as such, apprehension of danger to the body continues.

১,৩৯৬.
মারামারি (Affray) সংঘটনের জন্য সর্বনিম্ন কতজনের অংশগ্রহণ আবশ্যক?
ব্যাখ্যা
♦ দন্ডবিধির ১৫৯ ধারায় মারামারির বিধান রয়েছে। যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা “মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।

♦দন্ডবিধির ১৬০ ধারায় মারামারির শাস্তি বিধান রয়েছে । কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

♦ মারামারি (Affray) সংঘটনের জন্য সর্বনিম্ন দুইজনের অংশগ্রহণ আবশ্যক।
১,৩৯৭.
খুন নহে এমন অপরাধমূলক নরহত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. যাবজীবন কারাদণ্ড
  2. ৫ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  3. ১৪ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা- খুন বলিয়া গণ্য নহে এইরূপ অপরাধজনক নরহত্যার শাস্তি:
কোন ব্যক্তি যদি খুন নয় এমন শাস্তি যোগ্য নরহত্যা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে, ,যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, অথবা এমন দৈহিক জখম করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, যে দৈহিক জখমের দরুণ মৃত্যু ঘটতে পারে,
অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি সম্পাদনের দরুণ মৃত্যু অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা থাকে, অথচ কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্যে করা হয় নাই যে দৈহিক জখম করার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে।
১,৩৯৮.
বাংলাদেশে বলবৎ দণ্ডবিধি প্রণয়নের মূল দায়িত্বে কোন কমিশন ছিল?
  1. সাইমন কমিশন
  2. ম্যাকুলে কমিশন
  3. রাওলাট কমিশন
  4. লিনলিথগো কমিশন
ব্যাখ্যা

⇒ ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ ভারতের শাসনভার গ্রহণের পর প্রথম আইন কমিশন গঠিত হয়, যার সভাপতি ছিলেন লর্ড থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকুলে। এই কমিশনের মূল দায়িত্ব ছিল ভারতবর্ষের জন্য একটি সুসংগঠিত দণ্ডবিধি প্রণয়ন করা। তারা ১৮৩৭ সালে দণ্ডবিধির খসড়া প্রস্তুত করে পেশ করে, যা পরবর্তীতে সংশোধন-নিরীক্ষণের মাধ্যমে ১৮৬০ সালে আইন হিসেবে প্রণয়িত হয় (আইন নং ৪৫)। এটি বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে বর্তমান দণ্ডবিধির ভিত্তি।
অর্থাৎ বাংলাদেশে বলবৎ দণ্ডবিধি প্রণয়নের মূল দায়িত্বে ছিল লর্ড ম্যাকুলে-এর নেতৃত্বাধীন আইন কমিশন, যা ইতিহাসে "ম্যাকুলে কমিশন" নামে পরিচিত। এই কমিশন ১৮৩৭ সালের ১৪ অক্টোবর দণ্ডবিধির প্রথম খসড়া প্রণয়ন করে এবং তা তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড আ্যাকল্যান্ডের নিকট পেশ করে।
- ম্যাকুলে কমিশন-এর গঠন ও সদস্য:
i) সভাপতি-লর্ড ম্যাকুলে।
ii) সদস্য- মিঃ ম্যাকলিউড।
iii) সদস্য-মিঃ এন্ডারসন।
iv) সদস্য-মিঃ মিলার।

১,৩৯৯.
'A' বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হতে ইস্যুকৃত একটি নির্দেশ মোতাবেক উক্ত আদালতে উপস্থিত হতে আইনত বাধ্য। কিন্তু সে ইচ্ছাকৃত আদালতে গরহাজির থাকে। উক্ত কাজের জন্য 'A' দণ্ডবিধির কোন ধারায় দণ্ডিত হবেন?
  1. ১৭৩ ধারায়
  2. ১৭৪ ধারায়
  3. ১৭৫ ধারায়
  4. ১৭৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধির ১৭৪ ধারার বিধান সরকারি কর্মচারীর আদেশানুসারে উপস্থিত না হওয়া- কোন ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হিসেবে আইনত কোন সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণা জারি করার ক্ষমতাসম্পন্ন অনুরূপ সরকারি কর্মচারীর নিকট থেকে উদ্ভূত অনুরূপ সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণার আজ্ঞানুযায়ী স্বয়ং বা প্রতিনিধি মারফত কোন নির্দিষ্ট স্থানে এবং সময়ে হাজির হওয়ার জন্য আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও,- ইচ্ছাকৃত সে স্থানে ও সময়ে উপস্থিত না হয় অথবা যে স্থানে সে উপস্থিত থাকতে বাধ্য সে স্থান হতে যখন তার প্রস্থান করা আইনসম্মত হত তার আগেই প্রস্থান করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;
- অথবা সমন, নোটিশ, আদেশ বা ঘোষণাটি যদি স্বয়ং বা প্রতিনিধি, মারফত কোন আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশবাহী হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ:
(ক) ক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হতে ইস্যুকৃত একটি নির্দেশ মোতাবেক উক্ত আদালতে উপস্থিত হতে আইনত বাধ্য। কিন্তু সে ইচ্ছাকৃত আদালতে গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
(খ) ক-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন দিয়েছেন। ক এ সমন মোতাবেক সাক্ষী হিসেবে উক্ত জেলা জজের সম্মুখে উপস্থিত হতে আইনত বাধ্য। কিন্তু ক ইচ্ছাকৃত গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।
------------------
⇒ The Penal Code, 1860-Section 174. Non-attendance in obedience to an order from public servant:
Whoever, being legally bound to attend in person or by an agent at a certain place and time in obedience to a summons, notice, order or proclamation proceeding from any public servant legally competent, as such public servant, to issue the same, intentionally omits to attend at that place or time, or departs from the place where he is bound to attend before the time at which it is lawful for him to depart,shall be punished with simple imprisonment for a term which may extend to one month, or with fine which may extend to five hundred taka or with both;
or, if the summons, notice, order or proclamation is to attend in person or by agent in a Court of Justice, with simple imprisonment for a term which may extend to six months, or with fine which may extend to one thousand taka, or with both.

Illustrations:
(a) A, being legally bound to appear before the Supreme Court of Bangladesh in obedience to a subpoena issuing from that Court, intentionally omits to appear. A has committed the offence defined in this section.
(b) A, being legally bound to appear before a Zila Judge, as a witness, in obedience to a summons issued by that Zila Judge, intentionally omits to appear. A has committed the offence defined in this section.
১,৪০০.
'A', গুরুতর ও হঠাৎ উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে 'Z'-এর দিকে পিস্তল থেকে গুলি চালায়, কিন্তু 'Z' মারা যায় না। এই পরিস্থিতিতে 'A'-এর অপরাধ দণ্ডবিধির কোন ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হবে?
  1. ৩০৭ ধারা
  2. ৩০৮ ধারা
  3. ৩০৪ ধারা
  4. ৩০০ ধারা 
ব্যাখ্যা

⇒ প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনাটি সরাসরি দণ্ডবিধির ৩০৮ ধারার উদাহরণ (Illustration)-এর সাথে মিলে যায়। ঘটনায় উল্লেখ রয়েছে:
১. 'A' গুরুতর ও হঠাৎ উত্তেজনার (grave and sudden provocation) বশবর্তী হয়েছে।
২. সে 'Z'-এর দিকে পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়েছে।
৩. গুলি লাগলেও 'Z' মারা যায়নি (অর্থাৎ, মৃত্যু ঘটেনি, কিন্তু কাজটি ছিল মৃত্যু ঘটাবার সম্ভাবনাযুক্ত)।
৪. উল্লিখিত পরিস্থিতিতে, যদি মৃত্যু ঘটত, তাহলে 'A' খুন (murder)-এর দায়ে দোষী হত না; বরং তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (culpable homicide not amounting to murder) হত। কারণ দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার প্রথম ব্যতিক্রম (Exception 1) অনুযায়ী, গুরুতর ও হঠাৎ উত্তেজনার ফলে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মৃত্যু ঘটালে তা খুন নয়, বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যা হিসেবে গণ্য হয়।

- যেহেতু এখানে মৃত্যু ঘটেনি, কিন্তু মৃত্যু ঘটানোর মতো কাজ (Act) করা হয়েছে, তাই এটি "শাস্তিযোগ্য নরহত্যার চেষ্টা (Attempt to commit culpable homicide)"-এর আওতায় পড়ে। আর এই অপরাধটিই ধারা ৩০৮ দ্বারা বিচার্য।

অন্যান্য অপশনগুলি এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়:
ক) ৩০৭ ধারা: এটি খুনের চেষ্টা (Attempt to murder)-এর জন্য প্রযোজ্য। এখানে পরিস্থিতি খুনের নয়, বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যার (ব্যতিক্রমের কারণে)।
গ) ৩০৪ ধারা: এটি শাস্তিযোগ্য নরহত্যা (Culpable homicide not amounting to murder)-এর জন্য প্রযোজ্য, যখন প্রকৃতপক্ষে মৃত্যু ঘটে। এখানে মৃত্যু ঘটেনি।
ঘ) ৩০০ ধারা: এটি খুন (Murder)-এর সংজ্ঞা ও শর্ত বর্ণনা করে। এখানে অপরাধটি খুনের আওতায় পড়ে না।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ৩০৮ ধারা।

⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০, ধারা-৩০৮: শাস্তিযোগ্য নরহত্যার চেষ্টা (Attempt to commit culpable homicide):
যে ব্যক্তি এমন অভিপ্রায় বা জ্ঞান সহকারে এবং এমন পরিস্থিতিতে কোন কাজ করে যে, যদি সে সেই কাজ দ্বারা মৃত্যু ঘটাত, তাহলে সে খুন নয় বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধে দোষী হতো, তাহলে তাকে যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, যার মেয়াদ তিন বছর পর্যন্ত হতে পারে, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে; এবং, যদি এই কাজ দ্বারা কোন ব্যক্তির আঘাত (hurt) সৃষ্টি হয়, তাহলে অপরাধীকে যেকোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে, অথবা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। 
উদাহরণ:
'A', গুরুতর ও হঠাৎ উত্তেজনায় (grave and sudden provocation), 'Z' এর দিকে একটি পিস্তল দিয়ে গুলি করে, এমন পরিস্থিতিতে যে, যদি সে এর দ্বারা মৃত্যু ঘটাত, তাহলে সে খুন নয় বরং শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধে দোষী হতো। 'A' এই ধারায় সংজ্ঞায়িত অপরাধটি করেছে।
---------
⇒ The Penal Code, 1860, section-308. Attempt to commit culpable homicide
Whoever does any act with such intention or knowledge and under such circumstances that, if he by that act caused death, he would be guilty of culpable homicide not amounting to murder, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, or with fine, or with both; and, if hurt is caused to any person by such act, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to seven years, or with fine, or with both.
Illustration:
A, on grave and sudden provocation, fires a pistol at Z, under such circumstances that if he thereby caused death he would be guilty of culpable homicide not amounting to murder. A has committed the offence defined in this section.