বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জটিল বাক্য

মোট প্রশ্ন২৪৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জটিল বাক্য

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৪৪

১০১.
যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন—কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) ইচ্ছাসূচক
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যের মধ্যে একটি প্রধান বাক্য থাকে এবং একাধিক বাক্যকে প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল দেখা যায়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে৷
যেমন-
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে৷
যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

১০২.
কোনটি জটিল বাক্যের উদাহরণ?
  1. উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
  2. যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
  3. বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
  4. দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
সঠিক উত্তর:
যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।
ব্যাখ্যা

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। 

যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য - বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ। উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
সরল বাক্য - দোষ স্বীকার করলে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৩.
'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।'- এটি একটি কী ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. মিশ্র
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা

‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’- এটি একটি জটিল বাক্য।
=================
সাপেক্ষ সর্বনামের বা সাপেক্ষ যোজক ছাড়াও নিম্নের উপায়ে জটিল বাক্য হতে পারে। এই জায়গা অনেক অনেক এবং অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই অবশ্যই ভালো করে বুঝে নিতে হবে।  

শর্টকাট : সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ + সরল বাক্য = জটিল বাক্য

'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। - এই উদাহরণটি অনেক বইয়ে সরল বাক্য বা যৌগিক বাক্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। চলুন সরল বাক্যের শর্তগুলো মনে করি।

সরল বাক্যে অবশ্যই একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে। আর যৌগিক বাক্যে অবশ্যই অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে শুধু কমা থাকবে এবং বাক্যগুলো একটা আরেকটার ওপর নির্ভর করবে না, অর্থাৎ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হবে। 

এবার ওপরের বাক্যটিকে ভেঙে লিখি। 
মা ছিল না - বলে - কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।

‘মা ছিল না।’ এটি একটি সরল বাক্য এবং এখানে সমাপিকা ক্রিয়া (ছিল) আছে। 
‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।’ এটিও একটি সরল বাক্য এবং এখানেও সমাপিকা ক্রিয়া (দেয়নি) আছে।   
‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়া আছে এবং একাধিক সরল বাক্য পাওয়া গেছে। সুতরাং এটি সরল বাক্য নয়। 

এবার দেখি এটি যৌগিক বাক্য কি না। যৌগিক বাক্যের মূল কথা হলো দুটি সরল বা জটিল বাক্য বাক্য অব্যয় দ্বারা সংযোগ থাকবে অথবা দুটি সরল বাক্যের মাঝে অব্যয়ের পরিবর্তে কমা থাকবে। যোৗগিক বাক্যের সরল বাক্যগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে, অর্থাৎ একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে না। 

‘মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের অন্তর্গত ‘মা ছিল না’ এবং ‘কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি’ বাক্যের মাঝে কোনো সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয় নেই এবং বাক্য দুটি স্বাধীন নয়, একটি অন্যটির ওপর নির্ভর করছে, এখানে অব্যয়ের পরিবর্তে ‘বলে’ নামক অনুসর্গ আছে, তাই এটি যৌগিক বাক্যের শর্ত পূরণ করতে পারে না। 

এবার তবে জটিল বাক্যের শর্তের দিকে যাই। জটিল বাক্যে একটি বাক্য আরেকটি বাক্যের সঙ্গে সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে। এখানে ‘বলে’ অনুসর্গ দুটি বাক্যকে একটির সঙ্গে আরেকটির সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে। ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে বসে একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের নির্ভরশীলতা বা সাপেক্ষ অবস্থা বুঝিয়েছে। যদি ‘বলে’ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত  হতো তবে সেটি সরল বাক্য হতো। 

অব্যশই অব্যশই মনে রাখতে হবে : বলে দ্বারা যদি ক্রিয়া না বোঝায় তবে ধরে নিতে হবে সেটি ক্রিয়া হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়নি ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর অবশ্যই বাক্যটি জটিল বাক্য হবে। প্রসঙ্গত ক্রিয়াবাচক অনুসর্গগুলো দেখে নেই। 

[ক্রিয়াজাত অনুসর্গ : ক্রিয়া থেকে নির্মিত অনুসর্গকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। এ জাতীয় অনুসর্গ হলো : বলে, করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে ইত্যাদি। যেমন : ভালো করে পড়াশুনা করো। মন দিয়ে কাজ করো।]

 > কয়েকটি উদাহরণ লক্ষ করি, যে উদাহরণগুলো প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় এসেছে।
 - ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।’ [৩৩তম বিসিএস]
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। [৩২তম বিসিএস]
 - তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
 ====================

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জটিল বাক্যের সমার্থক হিসেবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মিশ্র বাক্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এটি গ্রহণীয় নয়। কারণ, মিশ্র শব্দটি অনেকাংশে যৌগিক শব্দের সমার্থক হয়ে যায়। তাই পরীক্ষায় জটিল ও মিশ্র থাকলে আর সেটি যদি জটিল বাক্য হয় হবে জটিল উত্তর করবেন।

সূত্র: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।

১০৪.
'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য'- বাক্যটির জটিলরূপ কী হবে?
  1. লোকগুলো দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
  3. যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  4. যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা
• 'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য'- বাক্যটিরজটিল রূপ হচ্ছে 'যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য'। 

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১০৫.
'যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. খণ্ড কাব্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. জটিল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।

অন্যান্য অপশন:
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;, কোলন (:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।
- তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
- বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে।

• সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে। পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১০৬.
'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে/তবে একলা চলো রে'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. সাধারণ
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
• 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে/তবে একলা চলো রে'- এটি জটিল বাক্য।

• যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরষ্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলােরে' এই বাক্যে-

‘তবে একলা চলাে রে' - প্রধান খণ্ডবাক্য,
'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে'- আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১০৭.
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা, সখিনা বিবির কপাল ভাঙল।' এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. মিশ্র
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. বিভ্রমপূর্ণ বাক্য
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
ব্যাখ্যা

জটিল বা মিশ্র বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যেমন:
- কোথাও পথ পেলাম না বলে তোমার কাছে এসেছি।
- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।
-মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।

উৎস: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির 'বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।

১০৮.
'যতদিন তাদের শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা না হচ্ছে ততদিন তাদের দুরবস্থা ঘুচবে না।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সংযোগমূলক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যতদিন তাদের শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা না হচ্ছে ততদিন তাদের দুরবস্থা ঘুচবে না।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১০৯.
'যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) মিশ্র বাক্য
  4. ঘ) সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

“যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম”- এটি জটিল বাক্য।

- যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-- - তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন – যে ছেলেটি এখানে এসেছিল সে আমার ভাই ।

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
- বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন – তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন ।

• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।

১১০.
‘যে অন্ধ তাকে আলো দাও’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে অন্ধ, তাকে আলো দাও।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১১১.
‘যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।’-এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- সে যে কোথায়, তা আমার জানা নেই। 
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১১২.
'তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ'- বাক্যটিকে জটিল বাক্যে পরিণত করলে হবে -
  1. ক) তুমি চেষ্টা করোনি এবং ব্যর্থ হয়েছ।
  2. খ) তুমি চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছ।
  3. গ) যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
  4. ঘ) তুমি চেষ্টা করিয়া ব্যর্থ হয়েছ।
সঠিক উত্তর:
গ) যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের জটিল রূপ হচ্ছে যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর করার নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১১৩.
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে তাকে কোন বাক্য বলে?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: সরল, জটিল ও যৌগিক।

- সরল বাক্য: একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

- জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন – যদি তােমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলাে।

- যৌগিক বাক্য: এক বা একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করে।
যেমন - রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

১১৪.
'তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।' - এটি কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য হলো—
যে বাক্যে একটি প্রধান বাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন (নির্ভরশীল) বাক্য থাকে, এবং সেগুলো সাপেক্ষ যোজক (যেমন: যে, যদি, বলে, যখন, যেহেতু ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত থাকে।

বাক্যটি —
“তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।”

এখানে—
প্রধান বাক্য: আমি অপেক্ষা করছি।
অধীন বাক্য: তুমি আসবে।
সাপেক্ষ যোজক: বলে।
অধীন বাক্যটি প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল, তাই এটি জটিল বাক্য।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১১৫.
’যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে’ -
  1. ক) নির্দেশক বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) জটিল বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য
একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যেমন: 
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।
১১৬.
'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. ইহাদের ন্যায় রূপবতী এবং রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
  2. ইহারা রূপবতী ও রমণী ইহাদের ন্যায় আমার অন্তঃপুরে কেউ নাই।
  3. ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
  4. ইহারা রূপবতী রমণী কিন্তু ইহাদের ন্যায় আমার অন্তঃপুরে নাই।
সঠিক উত্তর:
ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।
ব্যাখ্যা
• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

সরল বাক্যকে জটিল বাক্যতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কতিপয় যোজক ও সর্বনাম:
• সাপেক্ষ যোজক: বটে-কিন্তু, যেই-সেই, বরঞ্চ-তথাপি, হয়-নয়, এত-যে, যেমন-তেমন, একে-তায়, যদি-তবু। তাহলে, এরূপ-যে-সে, যত-তত, যাই-তাই ইত্যাদিকে সাপেক্ষ যোজক বলে।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এক প্রকার সংযোগমূলক সর্বনামই সাপেক্ষ সর্বনাম। যেমন: যে-সে, যিনি-তিনি, যা-তা, যার-তার, যতক্ষণ-ততক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৭.
'যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে৷' - সরল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. তারা এ কথা বিশ্বাস করবে কারণ তাদের বুদ্ধি নেই।
  2. যেহেতু তাদের বুদ্ধি নেই, তাই তারা এ কথা বিশ্বাস করবে।
  3. বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
  4. যাদের বুদ্ধি নেই কিন্তু তারাই বিশ্বাস করবে এ কথা।
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।
ব্যাখ্যা
মিশ্র বাক্য: যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে৷
সরল বাক্য: বুদ্ধিহীনরা এ কথা বিশ্বাস করবে।

সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- আঁখি সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার জন্য কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১১৮.
"যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো।" - এটি কোন বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ। এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যেমন -
- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
- যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো।
- যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৯.
‘যে ছেলেটি এখানে এসেছিল সে আমার ভাই।’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ডিত বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যেমন দেখতে লোভনীয়, তেমন খেতেও মজা।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২০.
‘যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।’- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যেমন বিপদ আসে তেমনই দুঃখও আসে।
  2. বিপদ আসলে দুঃখ আসে।
  3. বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  4. বিপদ দুঃখ একসঙ্গে আসে।
সঠিক উত্তর:
বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- সূত্র ক: আশ্রিত খণ্ড বাক্যগুলোকে নিরপেক্ষ খণ্ড বাক্যে পরিণত করতে হবে।
- সূত্র খ: জটিল বা মিশ্র বাক্যের উপযোগী শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সবকটি খণ্ডবাক্যের সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
- সূত্র গ: সাপেক্ষবাচক সর্বনাম বর্জন করে যোজক পদ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন বাক্যগুলোকে যুক্ত করতে হবে।
যেমন:
• জটিল বাক্য: যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।

• জটিল: যদি পরিশ্রম কর, তাহলে ফল পাবে।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর, তবে ফল পাবে।

• জটিল: যে রক্ষক সেই ভক্ষক।
• যৌগিক: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।

• জটিল:যদি সাফল্য চাও তাহলে পরিশ্রম কর।
• যৌগিক: পরিশ্রম কর এবং সাফল্য লাভ কর।

• জটিল: যদিও তিনি দরিদ্র তথাপি সৎ।
• যৌগিক: তিনি দরিদ্র, কিন্তু সৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২১.
'যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।" কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১২২.
‘যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যা হয়।’- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সংযুক্ত বাক্য
  4. সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যথাবাক্য: আশ্রিত বাক্য - প্রধান বাক্য।
- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।
- যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণে)।
১২৩.
‘সে যে অপরাধ করেছে, তা মুখ দেখেই বুঝেছি।’- কোন ধরনের বাক্য?
  1. খণ্ডবাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক দিয়ে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন -
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যথা -
- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।
- সে যে অপরাধ করেছে, তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২৪.
‘যদি সত্য বল তাহলে মুক্তি পাবে।’ -এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সংযুক্ত বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠন অনুযায়ী বাক্যের প্রকারভেদ,
• বাক্য তিন প্রকার :
-  সরল বাক্য,
-  মিশ্র বা জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- এখানে ‘পদ্মফুল' উদ্দেশ্য এবং ‘জন্মে’ বিধেয়।

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যথা:
• আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
-  সে যে অপরাধ করেছে,
- যদি সত্য বল, 
• প্রধান খণ্ডবাক্য
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।
- তাহলে মুক্তি পাবে।

যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য:
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১২৫.
‘যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল তবে সেটা স্বভাবের ষোল।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. অনজ্ঞাসূচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল তবে সেটা স্বাভাবের ষোল।- এটি একটি জটিল বাক্য।

অন্যদিকে
• বাক্যের যৌগিকরূপ:
শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, কিন্তু সেটা স্বভাবের ষোল।

--------------------
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১২৬.
নিচের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করো না।
  2. যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
  3. মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
  4. সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
সঠিক উত্তর:
যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
ব্যাখ্যা
• জটিল বা মিশ্র বাক্য (complex sentence):
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- (আশ্রিত বাক্য) যিনি পরের উপকার করেন, (প্রধান খণ্ডবাক্য) তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।

এরূপ-
- যারা নির্বোধ তারাই শুধু এ কাজ করে।
- যে ব্যক্তি কর্মরত আছে, তাকে বিরক্ত করো না।
- যেহেতু তুমি মিথ্যা কথা বলেছ, সেহেতু তোমার পাপ হবে।
- যাদের ধন আছে, তারা প্রায়ই কৃপণ হয়।
- আমার যে কলমটি হারিয়েছিল, সেটি ফিরে পেয়েছি
- যদি গাড়িঘোড়া চড়তে চাও, তবে লেখাপড়া কর।

অন্যদিকে, 
- কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করো না।
- মিথ্যা কথা বলার জন্য তোমার পাপ হবে।
- সত্য কথা না বলে বিপদে পড়েছি।
এগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৭.
‘দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।’- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. তিনি দুর্জন লোক তাই পরিত্যাজ্য।
  2. যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  3. সে দুর্জন লোক এবং পরিত্যাজ্য।
  4. তিনি দুর্জন লোক ফলে পরিত্যাজ্য।
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
• সরল বাক্য: পয়লা পয়লা কাজে নেমে সবাই ভিমরি খায়।
• জটিল বাক্য: পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।

• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
• জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
১২৮.
‘খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’ কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. আশ্রিত বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।
[বাক্যে খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, (আশ্রিত বাক্য)  আমার দেশের মাটি। (প্রধান খণ্ডবাক্য)]

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১২৯.
'যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো:
• যে - সে, যা - তা, যিনি - তিনি, যাঁরা - তাঁরা ইত্যাদি।

• নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন - তখন, যেমন- তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু - সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩০.
'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।' এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) খণ্ড
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
ব্যাখ্যা
• দুটি বাক্যের মাঝে কমা হলে যৌগিক ও জটিল বাক্য হতে পারে। তবে জটিল বাক্যে দুটি বাক্য সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে, একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে, বা কোনো শর্তের অধীন থাকবে। যেমন: 

- তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। 
- ‘খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’
- ‘ধনধান্যে পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ।
১৩১.
'যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১৩২.
‘যে সত্যবাদি, তাকে সবাই ভালোবাসে।’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. অনুজ্ঞামূলক
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

• যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। যেমন –

যেমন:
- যে সত্যবাদি, তাকে সবাই ভালোবাসে।
(বাক্যটিতে ‘যে সত্যবাদি’ অপ্রধান খণ্ড বাক্য আর ‘তাকে সবাই ভালোবাসে’ অংশটি প্রধান খণ্ড বাক্য।)

- যেহেতু তুমি বেশি নম্বর পেয়েছ, সুতরাং তুমি প্রথম হবে।
- যে সত্যবাদি, তাকে সবাই ভালোবাসে।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩৩.
কোনটি মিশ্র বাক্য?
  1. ক) ধনধান্য পুস্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা
  2. খ) সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি
  3. গ) বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে
  4. ঘ) তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি
সঠিক উত্তর:
ক) ধনধান্য পুস্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধনধান্য পুস্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা
ব্যাখ্যা
‘ধনধান্য পুস্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা' এটি জটিল বা মিশ্র বাক্যের উদাহরণ। যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যেমনঃ যে পরিশ্রম করে, সে ই সুখ লাভ করে।
‘তার বয়স হলেও বুদ্ধি হয়নি’ এটি সরলবাক্য। 'সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি' এবং ‘বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে’ বাক্যদুটি যৌগিক বাক্য।
(সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
১৩৪.
'খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক শব্দ
  4. ঘ) খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• দুটি বাক্যের মাঝে কমা হলে যৌগিক ও জটিল বাক্য হতে পারে। তবে জটিল বাক্যে দুটি বাক্য সাপেক্ষ অবস্থায় থাকবে, একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করবে, বা কোনো শর্তের অধীন থাকবে।
যেমন: 
- তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। 
- ‘খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’
- ‘ধনধান্যে পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।

• ‘খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।’- বাক্যটির 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি' অংশটি বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩৫.
তুমি যে ওখানে ছিলে না তা আমি জানি।- কী ধরণের বাক্য?
  1. ক) জটিল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) সরল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল
ব্যাখ্যা
জটিল বা মিশ্রবাক্য:
যে বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্যর সমন্বয়ে বা দুটো খণ্ডবাক্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় বা যে বাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে তাকে জটিল বাক্য বলে।
- এখানে প্রধান খণ্ডবাক্যটি স্বাধীন এবং অপ্রধান খণ্ডবাক্যটি তার অধীন বা আশ্রিত।

[মনে রাখতে হবে জটিল বাক্যের খণ্ডবাক্যগুলোতে যদিও, তথাপি, যিনি, তিনি, তাঁকে, যে, সে, যখন, তখন ইত্যাদি সর্বনাম অব্রয় পদ থাকে।]
যেমন:
- যে নির্বোধ, সে এ কাজ করে।
-  তুমি যে ওখানে ছিলে না তা আমি জানি।
- তার দৃঢ় বিশ্বাস যে তার বাবা বিকেলেই ফিরবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩৬.
যে সত্যবাদি, তাকে সবাই ভালোবাসে।- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। 
যেমন:
- যে সত্যবাদি, তাকে সবাই ভালোবাসে।
(বাক্যটিতে 'যে সত্যবাদি' অপ্রধান খণ্ড বাক্য আর 'তাকে সবাই ভালোবাসে' অংশটি প্রধান খণ্ড বাক্য।)

এরূপ 
- যেহেতু তুমি বেশি নম্বর পেয়েছ, সুতরাং তুমি প্রথম হবে।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩৭.
'যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল 
  2. জটিল 
  3. যৌগিক
  4. অনজ্ঞাসূচক
সঠিক উত্তর:
জটিল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল 
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
১৩৮.
'যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।'-এটি কোন ধরণের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- কোন কোন বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এ অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ। এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যেমন -
- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
- যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো।
- যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

তেমনিভাবে,
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৯.
"যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।" - কোন জাতীয় বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. সাপেক্ষ বাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল/মিশ্র বাক্য তৈরি হয়।

- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে । যেমন –
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।
- যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ৯২০১৯- সংস্করণ)।

১৪০.
জটিল বাক্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
  2. হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে। 
  3. যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম। 
  4. তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই। 
সঠিক উত্তর:
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম। 
ব্যাখ্যা
গঠন-বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাংলা বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন - 

সরল বাক্য: 
- যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। 
যেমন – 
• পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে। 
তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। 

- সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে। 
যেমন – 
• আমরা তিন ভাইবােন। 

- বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। 
যেমন – 
• তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন। 

জটিল বাক্য: 
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যারা-তাবা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলাে যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। 
যেমন – 
• যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। 
• যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে। 
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম। 

যৌগিক বাক্য: 
- দুই বা ততােধিক স্বাধীন বাক্য যখন যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। 
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যােজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যােজকের কাজ করে। 
যেমন – 
হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে। 
• সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল। 
• অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল। 
তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৪১.
''লোকটি যদিও ধনী, তবুও সে কৃপণ” কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) যৌগিক
  2. খ) সরল
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) খন্ড
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে।
এদের মধ্যে একটি প্রধান থাকে, এবং অন্যগুলো সেই বাক্যের উপর নির্ভর করে।
যেমন-
লোকটি যদিও ধনী, তবুও সে কৃপণ।
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।
সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪২.
‘যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য। 

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৩.
‘যদিও তিনি ধনী তথাপি সে গরিবকে ভালোবাসে।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. অমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বলে।
 
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যদিও তিনি ধনী, তথাপি সে গরিবকে ভালোবাসে।
- যে সহে, সে রহে।
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৪.
"যখন বৃষ্টি শুরু হলো, তখন আমরা ঘরে ফিরে এলাম।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য 
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. আশ্রিত খণ্ড বাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য 
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি শুরু হলো, তখন আমরা ঘরে ফিরে এলাম।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
(বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৫.
'যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. হ্যাঁ-বাচক বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
» সরল বাক্য,
» জটিল বাক্য,
» যৌগিক বাক্য।

জটিল বাক্য:
এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে। একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
- মূল অর্থ ঠিক রেখে জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য দুটির মাঝে কমা দিতে হবে।

» সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

» সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: আমার দেখাবে আমার সত্য।
জটিল বাক্য: যা আমার পথ তাই আমাকে পথ দেখাবে।

» সরল বাক্য: সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।
• জটিল বাক্য: যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৬.
'ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. বিস্ময়সূচক বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা -
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)
- ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)

তদ্রুপ - তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪৭.
মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। - এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জটিল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য + ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ (বলে) + সরল বাক্য = জটিল বাক্য
মা ছিল না। কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। বাক্য দুটিকে বলে ক্রিয়াবাচক অনুসর্গ দ্বারা যুক্ত হয়ে সাপেক্ষ অবস্থা সৃষ্টি করেছে বলে এটি জটিল বাক্য। 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: জটিল বাক্যের সমার্থক হিসেবে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মিশ্র বাক্য ব্যবহার করেছেন, কিন্তু এটি গ্রহণীয় নয়। কারণ, মিশ্র শব্দটি অনেকাংশে যৌগিক শব্দের সমার্থক হয়ে যায়। তাই পরীক্ষায় জটিল ও মিশ্র থাকলে আর সেটি যদি জটিল বাক্য হয় হবে জটিল উত্তর করবেন।

উৎস: বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
১৪৮.
'মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।' কোন ধরেনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

জটিল বা মিশ্র বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যেমন:
- কোথাও পথ পেলাম না বলে তোমার কাছে এসেছি।
- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৪৯.
‘অন্ধকার হয়ে এসেছে বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।’ এটি কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫০.
'যদিও তার বয়স বেড়েছে, তথাপি বুদ্ধি বাড়েনি' বাক্যটি কোন ধরণের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।
১৫১.
'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলাে রে’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. আশ্রিত খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরষ্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে পরস্পর সাপেক্ষ যে বাক্যগুলাে থাকে তাদের সাধারণত খণ্ডবাক্য বলে।
'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলােরে' বাক্যে ‘তবে একলা চলােরে' প্রধান খণ্ডবাক্য।
'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে' আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৫২.
যে স্থানে আমার বাড়ি তুমি আমায় সেখানে পৌছে দাও। বাক্যটির ধরণ নির্ণয় করুন।
  1. ক) জটিল
  2. খ) সরল
  3. গ) কঠিন
  4. ঘ) যৌগিক
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে । যেমন –

- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যে স্থানে আমার বাড়ি তুমি আমায় সেখানে পৌছে দাও।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫৩.
জটিল বাক্য কোনটি?
  1. এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
  2. লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
  3. মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।
  4. তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
সঠিক উত্তর:
লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।

• বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা:
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। (আশ্রিত বাক্যটি 'সেই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।

তদ্রুপ-
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।'
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।'
- 'যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।'

অন্যদিকে, 
-----------------
- এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।
- তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

[উপরে প্রদত্ত বাক্যগুলো যৌগিক বাক্য।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৫৪.
‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’ বাক্যটিতে রয়েছে-
  1. ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য
  2. খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
  3. গ) ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
আশ্রিত খন্ডবাক্য ৩ প্রকার।
যথা -
১. বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য
২. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য
৩. ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খন্ডবাক্য

‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’ বাক্যটিতে রয়েছে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য (Adjective clause)। যে অধীন খণ্ডবাক্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণস্থানীয় অধীন খণ্ডবাক্য বলে। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।
১৫৫.
নিচের কোনটি জটিল বাক্য?
  1. যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
  2. মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।
  3. তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
  4. হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
সঠিক উত্তর:
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

[বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।]

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন: 
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- রহিম রাতে ভাত খাই আর রহিমা খায় রুটি।
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ  ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১৫৬.
‘যে সহে, সে রহে।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. অমিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বলে।
 
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যদিও তিনি ধনী, তথাপি সে গরিবকে ভালোবাসে।
- যে সহে, সে রহে।
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫৭.
যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে - কী বাক্য?
  1. ক) জটিল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) ব্যাস বাক্য
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
এখানে,'আমি এসেছি' প্রধান বাক্য আর 'কারণ তোমাকে নিয়ে যাবো' হলো অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য।
অনুরূপভাবে প্রশ্নোক্ত বাক্যটিও জটিল বাক্য।

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

১৫৮.
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল।'- এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. মিশ্র
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. বিভ্রমপূর্ণ
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি হলো 'মিশ্র' বাক্যের অন্তর্গত।

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
১৫৯.
'যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে' বাক্যটি গঠন অনুসারে-
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) খণ্ড বাক্য
  4. ঘ) যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ড বাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে। এখানে আশ্রিত বাক্য‌ যে পরিশ্রম করে এবং প্রধান খণ্ডবাক্য সে-ই সুখ লাভ করে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
১৬০.
'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল'- এটি কোন বাক্য?
  1. সরল
  2. মিশ্র
  3. যৌগিক
  4. জটিল
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যেমন:
- কোথাও পথ পেলাম না বলে তোমার কাছে এসেছি।
- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। 
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।

উৎস: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
১৬১.
'বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়'- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
  2. তিনি বিদ্বান, তাই সর্বত্র আদরণীয়।
  3. তিনি বিদ্বান, ফলে সর্বত্র আদরণীয়।
  4. বিদ্বান যিনি, সর্বত্র আদরণীয়।
সঠিক উত্তর:
যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

জটিল বাক্য হলো সেই বাক্য, যেখানে একটি প্রধান বাক্য এবং একটি বা একাধিক আশ্রিত বাক্য থাকে এবং আশ্রিত বাক্যটি অব্যয় বা সম্পর্কবাচক সর্বনাম দ্বারা প্রধান বাক্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

যেমন:
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
- যে লোক দুর্জন, সে পরিত্যাজ্য।
- যদিও তার চুল পেকেছে, তবু তার বুদ্ধি পাকেনি।
- বিকেল যখন পাঁচটা, তখন কুমিল্লা পৌঁছলাম।
- যারা ধার্মিক, তারা সুখী।
- যদি কলম থাকত, তাহলে লেখা যেত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬২.
'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. নেতিবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যথা -
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। (আশ্রিত বাক্যটি 'সেই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।
তদ্রুপ -
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।'
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।'
- যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৩.
“যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়” কী ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. মৌলিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যথাবাক্য: আশ্রিত বাক্য - প্রধান বাক্য।
- যে পরিশ্রম করে - সে-ই সুখ লাভ করে।
- যেখানে বাঘের ভয় - সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণে)।
১৬৪.
"যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে" কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. যৌগিক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। 
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৫.
‘দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য’ বাক্যটিকে জটিল বাককে পরিণত করলে হবে ?
  1. ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. খ) যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  3. গ) দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য
  4. ঘ) দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা

- যে - সে, যিনি - তিনি, যারা - তারা, যা - তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং 
- যদি - তবে, যেহেতু- সেহেতু, যখন - তখন, যত - তত , যেমন তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
- যেমন-
- সরল বাক্য : তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
- জটিল বাক্য:যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

১৬৬.
"যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. আশ্রিত খণ্ডবাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।' একটি জটিল বাক্য।

• জটিল বাক্য:

- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৬৭.
“ভিক্ষুককে দান কর।” – বাক্যটির মিশ্রবাক্য কোনটি?
  1. ভিক্ষুক ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
  2. যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
  3. ভিক্ষা চাওয়া ভিক্ষুক কে দান কর।
  4. ভিক্ষা চায়, ভিক্ষা দাও।
সঠিক উত্তর:
যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য: ভিক্ষুককে দান কর।
• মিশ্র বাক্য: যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।

• সরল বাক্যকে মিশ্র বাক্যে রূপান্তর:

- প্রথমে সরল বাক্যের একটি অংশ নির্বাচন করতে হবে যেটিকে খণ্ডবাক্যে রূপান্তর করা যায়।
- এরপর খণ্ডবাক্যটির শুরুতে বা মাঝে সম্বন্ধসূচক শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য ও প্রধান বাক্যকে সঠিকভাবে যুক্ত করে মিশ্র বাক্য তৈরি করতে হবে।
- অর্থ যেন স্পষ্ট থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

• উদাহরণসমূহ:
• সরল বাক্য: ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
• মিশ্র বাক্য: যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

• সরল বাক্য: তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।
• মিশ্র বাক্য: যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

১৬৮.
‘সে আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. সরল
  3. জটিল
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
• ‘সে আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।’ - এটি মিশ্র বা জটিল বাক্য ধরনের বাক্য। 

মিশ্র বা জটিল বাক্য:

- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- সে আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬৯.
‘ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।’- কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা খণ্ড বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

⇒ যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
• সরল বাক্য: ইন্দ্রের ঐরাবতের মতো আমার পদ্মা।
• জটিল বাক্য: ইন্দ্রের যেমন ঐরাবত আমার তেমনি পদ্মা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭০.
‘যতই করিবে দান, ততই যাবে বেড়ে’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
বিশেষভাবে,
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে তবে এখনই বলে ফেলো।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।
-----------------
সে অনুসারে,
‘যতই করিবে দান, ততই যাবে বেড়ে’ - এটি জটিল বাক্য।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।
-------------------
গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• সরল বাক্য:
- একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে।

• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(;), কোলন(:), ড্যাশ(-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন: 
- রহিম রাতে ভাত খাই আর রহিমা খায় রুটি।
- তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
১৭১.
‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সখিনা বিবির কপাল ভাঙল’ এটি কোন বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) মিশ্র
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) সংযুক্ত
সঠিক উত্তর:
খ) মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মিশ্র
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যটি হলো 'মিশ্র' বাক্যের অন্তর্গত।

মিশ্র বা জটিল বাক্য:

যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।

উৎস
: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
১৭২.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. তুমি ভালো হও এবং সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
  2. সেসব দিন আর নেই, কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে রয়েছে।
  3. পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
  4. তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।
সঠিক উত্তর:
পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- পিতা যখন আছেন, তখন পুত্রকে খোঁজ কেন?
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

অন্যদিকে,
যৌগিক বাক্য:
- তুমি ভালো হও এবং সকলে তোমাকে ভালোবাসবে।
- সেসব দিন আর নেই, কিন্তু সেসব স্মৃতি এখনো জেগে রয়েছে।
- তার আভাস পেতাম, কিন্তু নাগাল পেতাম না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৭৩.
‘যতই করিবে দান, ততই যাবে বেড়ে’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. বিবৃতিমূলক
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য। 

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন:
- ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।’
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৪.
‘সে যে কোথায় তা আমার জানা নেই’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. জটিল
  3. সরল
  4. খণ্ড বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ‘সে যে কোথায় তা আমার জানা নেই’ এটি কোন ধরনের বাক্য? 

• জটিল বাক্য:

- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, সে-যে, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
- সে যে কোথায় তা আমার জানা নেই। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)।
১৭৫.
‘যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।’- কী ধরনের বাক্য?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. মৌলিক বাক্য
  4. সরল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যথাবাক্য: আশ্রিত বাক্য - প্রধান বাক্য।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই এ কথা বিশ্বাস করবে।
- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।
- যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭৬.
'যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়'- বাক্যটির সরল বাক্যরূপ কোনটি?
  1. ক) বিদ্বান যিনি সর্বত্র তিনি আদরণীয়
  2. খ) তিনি বিদ্বান তাই সর্বত্র আদরণীয়
  3. গ) বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়
  4. ঘ) বিদ্বান সকলক্ষেত্রে সর্বত্র আদরণীয়
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়
ব্যাখ্যা
- 'যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়'- বাক্যটির সরল বাক্যরূপ হচ্ছে বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়

জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- জটিল বাক্যকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে সাপেক্ষ সর্বনাম ও সাপেক্ষ যোজককে বাদ দিতে হয়।
যেমন:
জটিল বাক্য: যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র আদরণীয়।
সরল বাক্য: বিদ্বান সর্বত্র আদরণীয়।

জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো ।
সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।

জটিল বাক্য: যারা পরিশ্রম করে, তারা জীবনে সফল হয়।
সরল বাক্য: পরিশ্রমীরা জীবনে সফল হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১৭৭.
‘যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে’ কোন ধরণের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) সংযুক্ত
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
• যেমন -
- যিনি পরের উপকার করেন, তাঁকে সবাই শ্রদ্ধা করে।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই ।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
১৭৮.
'যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।' -এটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মৌলিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল/মিশ্র বাক্য তৈরি হয়।

- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে । যেমন –
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।
- যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ৯২০১৯- সংস্করণ)।
১৭৯.
নিচের কোন যোজকটি সাধারণত জটিল বাক্যে ব্যবহৃত হয়?
  1. অথবা
  2. কিন্তু
  3. যেহেতু
  4. সেজন্য
সঠিক উত্তর:
যেহেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেহেতু
ব্যাখ্যা

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন অব্যয়যোগ এক অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য:

যে-সে, যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

১৮০.
"তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।" - বাক্যে কোন প্রকার আশ্রিত খণ্ডবাক্য ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
  2. ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
  3. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
  4. অব্যয় স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা:
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে।
- ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।

বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা-
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। (আশ্রিত বাক্যটি 'সেই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।
তদ্রুপ -
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।'
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।'
- যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮১.
"কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করো না" - বাক্যের জটিল রূপ কোনটি?
  1. কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করা উচিত নয়।
  2. যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।
  3. কর্মরত ব্যক্তি বিরক্ত হয় না।
  4. সে কর্মরত ব্যক্তি এবং তাকে বিরক্ত করো না।
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে ।
- জটিল বাক্য হলো সেই বাক্য, যেখানে একটি প্রধান বাক্য এবং একটি বা একাধিক আশ্রিত বাক্য থাকে এবং আশ্রিত বাক্যটি অব্যয় বা সম্পর্কবাচক সর্বনাম দ্বারা প্রধান বাক্যের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

বাক্য বিশ্লেষণ:
কর্মরত ব্যক্তিকে বিরক্ত করো না → এটি সরল বাক্য।

এর জটিল বাক্য রূপ হবে:
"যে ব্যক্তি কর্মরত, তাকে বিরক্ত করো না।"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮২.
'যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক 
  2. সরল 
  3. খণ্ডবাক্য 
  4. জটিল 
সঠিক উত্তর:
জটিল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল 
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি।
নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন তখন, যেমন- তেমন, বরং তবু, যেইনা- অমনি, যেহেতু সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।
যেমন:
- যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮৩.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে?
  1. ক) সে বই পড়ছে
  2. খ) সে গভীর চিন্তায় মগ্ন
  3. গ) সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
  4. ঘ) সে ঘুমিয়ে আছে
সঠিক উত্তর:
গ) সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম একই ধাতু থেকে গঠিত হলে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলে। এখানে ‘চাল' কর্ম এবং চেলেছে ক্রিয়াপদ একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হয়েছে। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৮৪.
নিচের কোনটি জটিল বাক্যের উদাহরণ?
  1. বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
  2. যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
  3. সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।
  4. পড়াশোনা কর, নচেৎ ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
সঠিক উত্তর:
যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন:
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি সে কাল আসে, তাহলে আমি যাব।

অন্যদিকে, 
• যৌগিক বাক্য: বিপদ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে।
• যৌগিক বাক্য: সেই রক্ষক, অথচ সেই ভক্ষক।
• যৌগিক বাক্য: পড়াশোনা কর, নচেৎ ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 

১৮৫.
'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. নেতিবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য (Adjective clause):
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যথা -
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। (আশ্রিত বাক্যটি 'সেই' সর্বনামের অবস্থা প্রকাশ করছে)।
তদ্রুপ -
- 'খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি।'
- 'ধনধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা।'
- যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮৬.
যদি সত্য বল, তাহলে মুক্তি পাবে'— এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সংযুক্ত বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) সরল বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
একটি পূর্ণ বাক্যে যদি একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য পরস্পর সম্পর্কযুক্ত থাকে, তবে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। যেমন- যদি সত্য বল, তাহলে মুক্তি পাবে।
১৮৭.
"যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।" কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য 
  4. মৌলিক বাক্য 
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা

• "যে সকল পশু মাংস ভোজন করে তারা অত্যন্ত বলবান।" এটি একটি জটিল বাক্য। 

বাক্য বিশ্লেষণ -
উপবাক্য (অধীন-বিশেষণ উপবাক্য): “যে সকল পশু মাংস ভোজন করে”- এখানে যে দ্বারা উপবাক্য শুরু হয়েছে। এটি মূল বাক্যের কর্তা “পশু”-কে বিশেষণ করছে।
মূল বাক্য: “তারা অত্যন্ত বলবান।”

---------------------
• জটিল বাক্য:

একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। 
- যদি কাব্য ম্যাজিক হয়, তবে সমালোচনা লজিক হতে বাধ্য।
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যখন তিনি ভাত খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে গেলেন।
- যাদের বুদ্ধি নেই, তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
- যে সকল পশু মাংস ভোজন করে, তারা অত্যন্ত বলবান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৮.
'যদি সত্য বলো, তাহলে মুক্তি পাবে'- এটি কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. নেতিবাচক বাক্য
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'যদি সত্য বলো, তাহলে মুক্তি পাবে'- এটি 'মিশ্র বা জটিল বাক্য' এর উদাহরণ। 

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন-
সে যে অপরাধ করেছে (আশ্রিত বাক্য), তা মুখ দেখেই বুঝেছি (প্রধান খণ্ডবাক্য)।
সে যে অপরাধ করেছে, তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯সংস্করণ)।
১৮৯.
'যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল/মিশ্র বাক্য তৈরি হয়।
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে । 

যেমন:
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।
- যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ৯২০১৯- সংস্করণ)।
১৯০.
'তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না।' - কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিস্ময়সূচক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. জটিল বাক্য
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না।' - জটিল বাক্য

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

• আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:
(ক) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(খ) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
(গ) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা -
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)
- তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। (বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত)

তদ্রুপ - ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯১.
জটিল বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যোজক নয় কোনটি?
  1. বরং - তবু
  2. যেমন - তেমন
  3. যেইনা - অমনি
  4. এবং - কিন্তু
সঠিক উত্তর:
এবং - কিন্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এবং - কিন্তু
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যোজক নয় 'এবং - কিন্তু'। 
'এবং ও  কিন্তু' যোজক যৌগিক বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় । 

-----------------
• জটিল বাক্য:

যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

• উল্লেখ্য যে, জটিল বাক্যে সাপেক্ষ সর্বনাম ও নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় যোগে প্রধান খণ্ডবাক্যের সঙ্গে অপ্রধান খণ্ডবাক্যকে যুক্ত করা হয়।

সাপেক্ষ সর্বনামগুলো হলো:
যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি। নত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন-তখন; যেমন-তেমন, বরং- তবু, যেইনা-অমনি, যেহেতু-সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- তার কাছে যে যা চাইত, সে তাই পেত।
- তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
- যিনি বিদ্বান, তিনি সর্বত্র পূজিত হন।
- যে সত্য কথা বলে তাকে সকলেই ভালোবাসে।
- যেমন কর্ম করবে, তেমন ফল পাবে।
- যদি দোষ স্বীকার কর, তবে তোমার কোনো শাস্তি হবে না।
- যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯২.
‘দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।’- বাক্যটির জটিলরূপ কোনটি?
  1. দোষ করেছ, তাই শাস্তি পাবে।
  2. যেহেতু দোষ করেছ শাস্তি পাবে।
  3. দোষ করাই, তুমি শাস্তি পাবে।
  4. যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
সঠিক উত্তর:
যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য: দোষ করেছ অতএব শাস্তি পাবে।
• বাক্যের জটিলরূপ: যেহেতু তুমি দোষ করেছ, সেহেতু তুমি শাস্তি পাবে।

----------------------
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
১৯৩.
'যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।'- বাক্যটি সরল বাক্যের রূপান্তর কী হবে?
  1. ছেলেটির বয়স অল্প; এবং বেশ বুদ্ধিমান। 
  2. ছেলেটির বয়স অল্প; কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান
  3. ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
  4. ছেলেটির বয়স অল্প, তথাপি বেশ বুদ্ধিমান। 
সঠিক উত্তর:
ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।
ব্যাখ্যা
⇒ 'যদিও ছেলেটির বয়স অল্প, তবু বেশ বুদ্ধিমান।'
⇒ সরলরূপ: ছেলেটির বয়স অল্প হলেও বেশ বুদ্ধিমান।

⇒ যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।

যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।
১৯৪.
'রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. যৌগিক
  3. জটিল
  4. অনুজ্ঞামূলক
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা ইত্যাদি।
নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন তখন, যেমন- তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।

যেমন:
- যদিও শিশিরের বয়স যথাসময়ে ষোল হইল, তবে সেটা স্বভাবের ষোল।
- রোদে যে বাইরের আকাশ পুড়ছে, তা আমাদের অজানা নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৫.
'দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য' বাক্যের জটিল রূপ কোনটি?
  1. ক) তারা দুর্জন বলেই পরিত্যাজ্য।
  2. খ) তারা দুর্জন এবং তারা পরিত্যাজ্য।
  3. গ) যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
ব্যাখ্যা
বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের পারস্পরিক রূপান্তর করা সম্ভব।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৬.
“যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।” – বাক্যটির সরল বাক্য কী?
  1. তার দর্শন পেলাম, আমরা প্রস্থান করলাম
  2. তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করি
  3. তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম
  4. তার দর্শন পাওয়ার পর আমরা প্রস্থান করলাম
সঠিক উত্তর:
তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্যকে মিশ্র বাক্যে রূপান্তর:

- প্রথমে সরল বাক্যের একটি অংশ নির্বাচন করতে হবে যেটিকে খণ্ডবাক্যে রূপান্তর করা যায়।
- এরপর খণ্ডবাক্যটির শুরুতে বা মাঝে সম্বন্ধসূচক শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
- খণ্ডবাক্য ও প্রধান বাক্যকে সঠিকভাবে যুক্ত করে মিশ্র বাক্য তৈরি করতে হবে।
- অর্থ যেন স্পষ্ট থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

 উদাহরণসমূহ:
• সরল বাক্য: ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
• মিশ্র বাক্য: যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।

• সরল বাক্য: তার দর্শনমাত্রই আমরা প্রস্থান করলাম।
• মিশ্র বাক্য: যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম।

• সরল বাক্য: ভিক্ষুককে দান কর।
• মিশ্র বাক্য: যে ভিক্ষা চায়, তাকে দান কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।
১৯৭.
‘আমি জানি যে সে চলে যাবে’ কোন ধরনের বাক্যে?
  1. খণ্ড
  2. জটিল
  3. যৌগিক
  4. সরল
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- আমি জানি যে, সে চলে যাবে।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
বাক্যে যদিও__তবু/যদিও__তথাপি থাকলে জটিল বাক্য হয়ে থাকে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৯৮.
'যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম'- এটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) মৌলিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যেমন- যেই তার দর্শন পেলাম (আশ্রিত বাক্য), সেই আমরা প্রস্থান করলাম (প্রধান খণ্ডবাক্য)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৯.
‘যদি সত্য বল, তাহলে মুক্তি পাবে’ - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সংযুক্ত বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• ‘যদি সত্য বল, তাহলে মুক্তি পাবে’ - এটি জটিল বা মিশ্র বাক্যে দৃষ্টান্ত।

⇒ জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যথাবাক্য: আশ্রিত বাক্য - প্রধান বাক্য।
- যে পরিশ্রম করে - সে-ই সুখ লাভ করে।
- যেখানে বাঘের ভয় - সেখানে সন্ধ্যা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণে)।
২০০.
'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলাে রে’ এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) সাধারণ
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জটিল
ব্যাখ্যা
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরষ্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। জটিল বাক্যে পরস্পর সাপেক্ষ যে বাক্যগুলাে থাকে তাদের সাধারণত খণ্ডবাক্য বলে। 'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলােরে' বাক্যে ‘তবে একলা চলােরে' প্রধান খণ্ডবাক্য। 'যদি তাের ডাক শুনে কেউ না আসে' আশ্রিত খণ্ডবাক্য। মূলত এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গান। ১৯০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভাণ্ডার পত্রিকায় 'একা' শিরােনামে গানটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।