বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গীতিকা

মোট প্রশ্ন১৫৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গীতিকা

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ১৫৬

.
পূর্ববঙ্গ গীতিকা কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বাংলাদেশ এসিয়াটিক সোসাইটি
  2. খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) বিশ্বভারতী
সঠিক উত্তর:
খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
ড. দীনেশচন্দ্র সেন নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এগুলো সংগ্রহ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে তিন খণ্ডে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
.
নিচের কোনটি বাংলা গীতিকার অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. নাথ গীতিকা
  2. বৈষ্ণব গীতিকা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব গীতিকা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের গীতিকা সাহিত্যে তিন ধরনের গীতিকা প্রচলিত রয়েছে।
যথা:
- নাথ গীতিকা,
- মৈমনসিংহ গীতিকা,
- পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

• বৈষ্ণব গীতিকা- বাংলা গীতিকার অন্তর্ভূক্ত নয়। 
-------------------------
• 'গীতিকা: 
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
- গীতিকা  আখ্যানধর্মী  লোকসাহিত্য।
- গীতিকা ছড়ার মত ছোটো নয়, গীতিকা আকারে অনেক বড়। এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।
- বাংলা সাহিত্যে গীতিকার রয়েছে বিরাট ভান্ডার।
- বাংলা ‘গীতিকা’ ও ইংরেজি ব্যালাড শব্দদুটি প্রায় সমধর্মী।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গীতিকা হচ্ছে - মহুয়া, মলুয়া ও দেওয়ান মদীনা, দস্যু কেনারাম ইত্যাদি।
-  এগুলো প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত 'ময়মনসিংহ গীতিকায়'।
-------------- 
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ  পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
-ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
পূর্ববঙ্গ গীতিকা কোন অঞ্চলের পালা?
  1. ক) নেত্রকোণা
  2. খ) চাঁদপুর
  3. গ) লক্ষ্মীপুর
  4. ঘ) নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
ঘ) নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
ড. দীনেশচন্দ্র সেন নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এগুলো সংগ্রহ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে তিন খ-ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
.
‘কাজলরেখা’ কোন গীতিকার অন্তর্ভুক্ত রচনা?
  1. চট্টগ্রাম গীতিকা
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. নাথ গীতিকা
  4. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা।
- এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩. বাংলাপিডিয়া।

.
মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. কঙ্ক ও লীলা
  3. দেওয়ানা মদিনা
  4. কাফন চোরা
সঠিক উত্তর:
কাফন চোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাফন চোরা
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
• এগুলো হলোঃ
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা।
• অপরদিকে, পূর্ববঙ্গ গীতিকার উপাখ্যান গুলো হলোঃ
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- চৌধুরীর লড়াই,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

.
‘জয়নবের চৌতিশা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ খান
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. রাধারমণ গোপ
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কোন রচনাটি কৃষিসংক্রান্ত জ্ঞানে সমৃদ্ধ?
  1. ব্রতকথা
  2. খনার বচন
  3. মহুয়া
  4. হারামনি
সঠিক উত্তর:
খনার বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খনার বচন
ব্যাখ্যা
• খনার বচন:
খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন। শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি। বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

--------------------
• ব্রতকথা:
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেয়েলি ব্রতের সঙ্গে সম্পর্কিত কাহিনি অবলম্বনে ব্রতকথা নামে এক ধরনের লোককথার বিকাশ ঘটেছে। এ সব কাহিনিতে যে ধর্মবোধের কথা বলা হয়েছে তাতে মেয়েদের জাগতিক কল্যাণই নিহিত। ব্রতকথার কাজ গার্হস্থ্য বর্তব্য সাধন। গার্হস্থ্য সুখসমৃদ্ধি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা মিটানো এর লক্ষ্য।

------------------
• 'মহুয়া' পালা:
- 'মহুয়া' ময়মনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত একটি পালা। এই পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। 
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

-------------------
• লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’:
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'।
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া
.
'দুলাল ও মদিনা' চরিত্র দুটি মৈয়মনসিংহ গীতিকার কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. মহুয়া
  2. দেওয়ানা মদিনা
  3. মলুয়া
  4. দস্যু কেনারামের পালা
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানা মদিনা': 
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি। 
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

• ‘দেওয়ানা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল, 
- দুলাল, 
- মদিনা, 
-সোনাফর। 
----------------------------- 
• মৈমনসিংহ গীতিকা:  
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় উল্লেখযোগ্য গীতিকা: 
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
.
মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের কয়টি ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে?
  1. ৯ টি
  2. ১৫ টি
  3. ২৩ টি
  4. ১০ টি
সঠিক উত্তর:
২৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ টি
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• বাংলা সাহিত্যে তিন ধরনের গীতিকা রয়েছে। যথা :
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা এবং
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় -
  1. জায়সীর পদুমাবতে
  2. মনঝনের মধুমালতে
  3. রূপগোস্বামীর হংসদূতে
  4. সাধনের মৈনাসতে
সঠিক উত্তর:
জায়সীর পদুমাবতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জায়সীর পদুমাবতে
ব্যাখ্যা
• গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় - জায়সীর পদুমাবতে

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথসাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১) মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর পদুমাবতে
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
রামনিধি গুপ্ত বাংলা সাহিত্যে কোনটির প্রবর্তন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন?
  1. মর্সিয়া গান
  2. নাথ গান
  3. টপ্পা গান
  4. পাচাঁলি গান
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গান
ব্যাখ্যা
• টপ্পা সঙ্গীত:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ তবে বাংলা টপ্পা সর্বতোভাবে পাঞ্জাবি টপ্পার অনুকরণ নয়।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

অন্যদিকে,
• কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য৷ মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ৷ তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা (১৫৭০)।

• শিবের উপাশক এক শ্রেণীর যোগী সম্প্রদায় ছিল যাদের ধর্মের নাম ছিল নাথ ধর্ম। এই নাথ ধর্মের কাহিনিই বর্ণিত হয়েছে নাথ সাহিত্যে।  শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের আদি কবি। উনার আখ্যানকাব্যের নাম “গোরক্ষ বিজয়”।

• আগে মঙ্গলকাব্যকেই “পাচাঁলি” নামে আখ্যায়িত করা হত। পরে, দীর্ঘ আখ্যানমূলক কাব্য পাঁচালি নামে পরিচিত হয়। পাঁচালি গানের রচয়িতাদের মধ্যে শক্তিশালী কবি ছিলেন দাশরথি রায়। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১২.
মৈয়মনসিংহ গীতিকার পালাগুলোর মধ্যে 'মহুয়া' পালাটি কে রচনা করেন?
  1. মনসুর বয়াতী
  2. দ্বিজ কানাই
  3. দ্বিজ ঈশান
  4. নয়ানচাঁদ ঘোষ 
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া পালা':
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি — দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"

উল্লেখ্য,
• চন্দ্রাবতী রচিত কয়েকটি পালা হচ্ছে - মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।
• ‘চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র’ নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা। 
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।
• 'দেওয়ানা মদিনা' - পালার লেখক মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৩.
মর্সিয়া সাহিত্যে হিন্দু কবি হলেন-
  1. রামপ্রসাদ সেন 
  2. রামনিধি গুপ্ত 
  3. রাধারমণ গোপ
  4. রাধামন গোপ
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম 'জয়নাবের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ।তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
'মহুয়া' পালাটির প্রণেতা ছিলেন-
  1. দ্বিজ বংশীদাস 
  2. চন্দ্রাবতী 
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. দ্বিজ কানাই
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫.
"নেজাম ডাকাতের পালা" - কোন ধরনের লোকসাহিত্য?
  1. মৈমনসিংহ গীতিকা 
  2. নাথগীতিকা
  3. পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
  4. কবিগান 
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
ব্যাখ্যা

• 'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা':
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। পূর্ববাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাগুলো সংগ্রহ করা হয়। এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীম উদ্‌দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো হলো:
- ভেলুয়া,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- নেজাম ডাকাতের পালা,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে,
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই), মলুয়া (চন্দ্রাবতী), চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র (নয়ানচাঁদঘোষ), কমলা (দ্বিজ ঈশান) কঙ্ক ও লীলা, রূপবতী, । নিজাম ডাকাতের পালা, কাফন চোরা, চৌধুরীর লড়াই, আয়না বিবি, ভেলুয়া ইত্যাদি পূর্ববঙ্গ গীতিকা উপাখ্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

১৬.
'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক কে?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) চন্দ্রকুমার দে
  4. ঘ) দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
চন্দ্রকুমার দে আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
চন্দ্রকুমারের সংগৃহীত পালাগুলি হচ্ছে -
মৈমনসিংহ-গীতিকা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- দস্যু কেনারাম,
- কমলা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- দেওয়ান মদিনা ও
- ধোপার পাট;

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী,
- আন্ধা বন্ধু,
- বন্ডুলার বারমাসী,
- রতন ঠাকুর,
- পীর বাতাসী,
- জিবালনি,
- সোনারামের জন্ম ও
- ভারাইয়া রাজা।

এগুলি ছাড়া তাঁর সংগৃহীত আরও কতগুলি পালা হচ্ছে: অধুয়া সুন্দরী, সুরতজামাল, কাজলরেখা, আসমা, সত্যপীরের পাঁচালি, চন্দ্রাবতীর রামায়ণ, লীলার বারমাসী ও গোপিনী কীর্তন।
পালাগুলির বেশির ভাগ ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে সংগৃহীত হয়েছে। মৌখিক ধারার এসব গান ও সাহিত্য মাঠপর্যায় থেকে সংগ্রহ করে জনসম্মুখে তুলে ধরার মৌলিক কৃতিত্ব চন্দ্রকুমারের। পালা সংগ্রহ ছাড়া চন্দ্রকুমার নিজে বেশ কিছু কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন। ১৯৪৬ সালে ময়মনসিংহে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১৭.
'মীনচেতন' গ্রন্থের সম্পাদক কে?
  1. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
  2. আলি আহমদ
  3. নলিনীকান্ত ভট্টশালী
  4. পঞ্চানন মণ্ডল
সঠিক উত্তর:
নলিনীকান্ত ভট্টশালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নলিনীকান্ত ভট্টশালী
ব্যাখ্যা
• 'মীনচেতন' গ্রন্থের সম্পাদক - নলিনীকান্ত ভট্টশালী

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য। 
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।

গোরক্ষবিজয়:
- নাথসাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়। 
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
→ নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
→ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
→ আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং 
→ পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।

• এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। 
- পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন। 
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম 'মীনচেতন' এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে 'গোরক্ষবিজয়' ও 'গোর্খবিজয়'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮.
'দস্যু কেনারামের পালা' কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নাথ সাহিত্য 
  2. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য 
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি)
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- দেওয়ান ভাবনা, 
- কঙ্ক ও লীলা ও
- কাজলরেখা (রূপকথা)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

১৯.
“টপ্পা” কী?
  1. ক) এক ধরণের গান
  2. খ) বাদ্যযন্ত্র
  3. গ) কাব্যগ্রন্থ
  4. ঘ) নাচের মুদ্রা
সঠিক উত্তর:
ক) এক ধরণের গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এক ধরণের গান
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।

তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ:
নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা।

-তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।


উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে কী বলে?
  1. জঙ্গনামা
  2. নাথসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে মর্সিয়া সাহিত্য বলে।

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

অন্যদিকে,
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা হলো যুদ্ধকাব্য।
- মুসলিম বীরাত্মক কাহিনি নিয়ে মুসলিম কবিদের রচিত গ্রন্থ।

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

লোক সাহিত্য:
মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১.
মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্গত পূর্ব ময়মনসিংহ থেকে সংগৃহীত মোট গীতিকা কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ২৩টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্গত পূর্ব ময়মনসিংহ থেকে সংগৃহীত মোট গীতিকা ১০টি । যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২২.
বাউল মতের উদ্ভব হয় কত শতাব্দীতে?
  1. ক) সপ্তদশ
  2. খ) অষ্টাদশ
  3. গ) ঊনবিংশ
  4. ঘ) বিংশ
সঠিক উত্তর:
ক) সপ্তদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সপ্তদশ
ব্যাখ্যা
বাউল মতের উদ্ভব সপ্তদশ শতাব্দীতে।
বাউল মত জনপ্রিয় হয় ঊনবিংশ শতাব্দীতে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
২৩.
'গীতরত্ন' কোন ধরনের গানের সংকলন?
  1. মর্সিয়া 
  2. মুর্শিদি 
  3. টপ্পা
  4. ঠুমরী
সঠিক উত্তর:
টপ্পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা
ব্যাখ্যা

• রামনিধি গুপ্ত:
- রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের স্থাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টল্লা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম হচ্ছে 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪.
কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে রচিত সাহিত্য ই হলো-
  1. ক) মর্সিয়া সাহিত্য
  2. খ) পুথিসাহিত্য
  3. গ) জঙ্গনামা
  4. ঘ) মৈমনসিংহ-গীতিকা
সঠিক উত্তর:
ক) মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা

কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা (১৫৭০)। 'মুক্তল হােসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷ তার গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

২৫.
‘দস্যু কেনারামের পালা’র রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. চন্দ্রাবতী
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• ‘দস্যু কেনারামের পালা’র রচয়িতা — চন্দ্রাবতী

• চন্দ্রাবতী: 
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ, 
- মলুয়া, 
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘কমলা’ পালার রচয়িতা - দ্বিজ ঈশান।
• 'চন্দ্রাবতী' পালার রচয়িতা - নয়ানচাঁদ ঘোষ।
• ‘দেওয়ানা মদিনা’ -মনসুর বয়াতি প্রণীত পালা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬.
নাথগীতিকা 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' প্রকাশ করেন কে?
  1. স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. ড. দীনেশ চন্দ্র সেন
  4. স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন
ব্যাখ্যা
মানিক চন্দ্র রাজার গান
- ১৮৭৮ সালে ভাষাবিজ্ঞানী জর্জ গ্রিয়ারসন  রংপুরের কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে 'মানিক চন্দ্র রাজার গান' নামে নাথগীতিকাটি প্রকাশ করেন।

নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য  নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য। 
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- নাথসাহিত্যের অন্তর্ভূক্ত 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস' কাব্যের রচয়িতা সুকুর মহম্মদ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা নয়?
  1. মহুয়া
  2. কমলা রানীর গান
  3. চন্দ্রাবতী
  4. দেওয়ান ভাবনা
সঠিক উত্তর:
কমলা রানীর গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলা রানীর গান
ব্যাখ্যা
- মৈমনসিংহ গীতকা নয় - কমলা রানীর গান।
- এটি হচ্ছে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকাগুলো গলো:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- কমলা রানীর গান। 

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
৯ কাজলরেখা ও
১০. দেওয়ানা মদিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২৮.
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ি
 তুমি হও গহিন গাঙ আমি ডুব্যা মরি।"
- কোন পালার পঙ্‌ক্তি?
  1. ক) মহুয়া
  2. খ) মলুয়া
  3. গ) দেওয়ানা মদিনা
  4. ঘ) কাজলরেখা
সঠিক উত্তর:
ক) মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহুয়া
ব্যাখ্যা
ময়মনসিংহ গীতিকার শ্রেষ্ঠ পালা মহুয়া। এটি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেছেন। এটি নেত্রকোণার কাহিনি। 
মহুয়া নদের চাঁদকে উল্লিখিত কথাটি বলেছেন।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
২৯.
'গীতরত্ন' কোন ধরনের গানের সংকলন?
  1. বাউল গানের সংকলন
  2. মর্সিয়া গানের সংকলন
  3. ঠুমরী গানের সংকলন
  4. টপ্পা গানের সংকলন
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গানের সংকলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।

- রামনিধি গুপ্ত ছাপরা জেলায় চাকরি করাকালে একজন মুসলমান ওস্তাদের নিকট সঙ্গীতে তালিম নেওয়ার সময় শোরী মিঞার হিন্দুস্থানি টপ্পার সঙ্গে পরিচিত হন। তিনি চাকরিশেষে কলকাতায় এসে হিন্দুস্থানি টপ্পার আদলে বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তন করেন। তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২)।

- এ গানের বৈশিষ্ট্য হলো একেকটি স্বরের ওপর মধ্যলয়ে দোলায়মান কম্পন দ্বারা গানের কথাগুলির গড়িয়ে গড়িয়ে অবরোহণ। নিধুবাবু বাংলা গানের কাব্যিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য শোরী মিঞার টপ্পার তানে ক্ষিপ্রতার বদলে কোমল কম্পন ব্যবহার করেন। তবে তিনি হিন্দুস্থানি টপ্পার রাগ ও তালের ব্যবহারে সাধারণত কোনো পরিবর্তন আনেননি।

- প্রেমসঙ্গীত ছাড়াও তিনি টপ্পার ছাঁচে ব্রহ্মসঙ্গীত রচনা করেছেন, যেমন: ‘পরমব্রহ্ম তৎপরাৎপর পরমেশ্বর/ নিরঞ্জন নিরাময় নির্বিশেষে সদাশয়/ আপনা আপনি হেতু বিভু বিশ্বধর।’ (বেহাগ/ আড়া)।

- নিধুবাবুর সমসাময়িককালে এবং কিছুকাল পরে যাঁরা বাংলা টপ্পা রচনায় অবদান রাখেন তাঁদের মধ্যে কালী মীর্জা ও শ্রীধর কথকের নাম উল্লেখযোগ্য।

• রামনিধি গুপ্ত রচিত বিখ্যাত টপ্পা:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০.
মৈমনসিংহ গীতিকা কোথা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩১.
'মহুয়া' পালার রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ ঈশান 
  2. দ্বিজ কানাই
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে, 
• 'কমলা' পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান। 
• 'চন্দ্রাবতী' পালার রচয়িতা নয়ানচাঁদ ঘোষ। 
• দস্যু কেনারামের পালার রচয়িতা চন্দ্রাবতী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২.
'ময়নামতীর গান' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. অনুবাদ সাহিত্য
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. নাথসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা
 ⇒ নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা। 
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
জঙ্গনামা হলো -
  1. কাহিনিকাব্য
  2. গীতিকাব্য
  3. মহাকাব্য
  4. যুদ্ধকাব্য
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধকাব্য
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা: 
- জঙ্গনামা হলো যুদ্ধকাব্য। 
- মুসলিম বীরাত্মক কাহিনি নিয়ে মুসলিম কবিদের রচিত গ্রন্থ।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্যের মধ্যে বিষয়গত মিল থাকলেও আঙ্গিক ও রসগত পার্থক্য আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৪.
'কঙ্ক ও লীলা' পালার রচয়িতা কে?
  1. ক) দামোদার দাস
  2. খ) শ্রীনাথ বেনিয়া
  3. গ) নয়াচাঁদ ঘোষ
  4. ঘ) সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবাই
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

'কঙ্ক ও লীলা' পালার রচয়িতা একজন নন। 
- দামোদার দাস, 
- রঘুসুত, 
- শ্রীনাথ বেনিয়া
- নয়াচাঁদ ঘোষ 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫.
বাংলা টপ্পাগানের জনক কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. বিদ্যাপতি
  4. বিজয় গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩০):
- তিনি সঙ্গীতশিল্পী ও টপ্পা গানের জনক।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত।
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ এবং তিনি কলকাতার কুমারটুলিতে সপরিবারে বাস করতেন।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২) 

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৬.
'চন্দ্রাবতী' পালাটির রচয়িতা -
  1. দ্বিজ কানাই
  2. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  3. দ্বিজ ঈশান
  4. মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
নয়ানচাঁদ ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়ানচাঁদ ঘোষ
ব্যাখ্যা

• 'চন্দ্রাবতী' পালাটির রচয়িতা - নয়ানচাঁদ ঘোষ।
-------------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭.
পূর্ববঙ্গ-গীতিকার পালাগুলি প্রধানত কোন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত?
  1. যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা
  2. রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর
  3. ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম
  4. ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- দীনেশচন্দ্র সেন ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম প্রভৃতি অঞ্চল থেকে আরও অনেক গীতিকা সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬) নামে মোট তিন খন্ডে প্রকাশ করেন।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরণের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- তাঁর সহযোগিতায় পল্লী অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে বেশ কিছু গাথা সংগ্রহ করে দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৮.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী পালা
  2. মলুয়া পালা
  3. দস্যু কেনারাম পালা
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা
• ‘দস্যু কেনারাম পালা’ ও ‘মলুয়া’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।

অন্যদিকে,
• 'চন্দ্রাবতী' পালাটির রচয়িতা - নয়ানচাঁদ ঘোষ।
-------------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯.
বাংলাদেশে সংগৃহীত গীতিকা কয় ধরনের?
  1. ৬ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ধরনের
ব্যাখ্যা
• গীতিকা:
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
- গীতিকা ছড়ার মত ছোটো নয়, গীতিকা আকারে অনেক বড়।
- এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।
- বাংলা সাহিত্যে গীতিকার রয়েছে বিরাট ভাণ্ডার।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গীতিকা হচ্ছে - মহুয়া, মলুয়া ও দেওয়ান মদীনা, দস্যু কেনারাম ইত্যাদি। 

• বাংলাদেশে গীতিকা সাহিত্যে ৩ ধরনের গীতিকা প্রচলিত।
যথা: 
১. নাথ গীতিকা,
২. মৈমনসিংহ-গীতিকা ও
৩. পূর্ববঙ্গ গীতিকা। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০.
মৈমনসিংহ গীতিকা কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. বাংলা একাডেমি
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ 
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- এটি ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১.
মর্সিয়া শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) আনন্দ প্রকাশ করা
  2. খ) শোক প্রকাশ করা
  3. গ) ভালোবাসা প্রকাশ করা
  4. ঘ) ভক্তি প্রকাশ করা
সঠিক উত্তর:
খ) শোক প্রকাশ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শোক প্রকাশ করা
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া (বিশেষ্য):
অর্থ - 
১. মৃত্যু উপলক্ষে রচিত শোকগাথা
২. ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালার যুদ্ধে কাহিনী অবলম্বনে রচিত শোকগাথা
৩. মহরমে গীত শোকগাথা

মর্সিয়া শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪২.
বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক সমৃদ্ধ ধারা-
  1. ক) নাটক
  2. খ) ছোট গল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) গীতি কবিতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) গীতি কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গীতি কবিতা
ব্যাখ্যা
কবির মনের একান্ত অনুভূতি, সুখ দুঃখ, আনন্দ বেদনা যে কবিতাতে প্রকাশ পায় তা-ই গীতি কবিতা।
- কবিতা প্রাচীন ও মধ্য যুগের সৃষ্টি হলেও গীতিকবিতা আধুনিক যুগের সৃষ্টি।
- আধুনিক যুগে সৃষ্ঠ এই গীতি কবিতাই এই যুগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা।
উল্লেখ্য,
- মধ্যযুগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ সাহিত্য ধারা - বৈষ্ণব সাহিত্যধারা। 
- হুমায়ুন আজাদের ভাষ্যে 'একে যদি আলোর সাথে তুলনা করি তাহলে বলবো মধ্যযুগে এমন আলো আর জ্বলে নি।'

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলী।
৪৩.
'দেওয়ানা মদিনা' কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. মধ্যযুগের গীতিকবিতা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. নাথ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা   করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ- গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। 

- গীতিকা গুলো হলোঃ
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা
- বিদ্যাসুন্দর
- রামায়ণ  উল্লেখযোগ্য।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৪৪.
'মাণিক রাজার গান'' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. পুর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. নাথগীতিকা
  3. মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. উত্তরবঙ্গ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
নাথগীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথগীতিকা
ব্যাখ্যা

• নাথগীতিকা:
- স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন ১৮৭৮ সালে সংগ্রহ করে 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ থেকে করলে 'নাথগীতিকা' সুধীসমাজের দৃষ্টি ঐতিহাসিক রচনা।
 - ইতিহাসের কোন বিস্মৃত যুগে আকর্ষণ করে।
- এইগুলো এক এই গীতিকার নায়ক রাজা গোপীচাঁদ বা গোবিন্দচন্দ্র মায়ের নির্দেশে তরুণ যৌবনে দুই নবপরিণীতা বধূ প্রাসাদে রেখে সন্ন্যাস অবলম্বন করেছিলেন-এই কাহিনি কেন্দ্র করেই নাথগীতিকার উদ্ভব।
- নাথসম্প্রদায়ভুক্ত গুরুবাদী যোগিগণ তাঁদের গুরুর অলৌকিক মহিমাকীর্তন প্রসঙ্গে এই গীতিকা দেশবিদেশে প্রচার করেছেন।
 - নাথগীতিকার দুটি বিভাগ: প্রথমটি তরুণ রাজপুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসের কাহিনি। এ সম্পর্কিত গীতিকা 'গোরক্ষবিজয়', 'মীনচেতন' নামে পরিচিত।
- অপর শ্রেণির গীতিকাগুলো 'মাণিক রাজার গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গীত', 'ময়নামতীর গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গান', 'গোপীচাঁদের সন্যাস' 'গোপীচাঁদের পাঁচালী' ইত্যাদি নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪৫.
ময়মনসিংহ গীতিকার পালা ‘দেওয়ানা মদিনা’ এর লেখক কে?
  1. নয়ানচাঁদ
  2. মনসুর বয়াতি
  3. কবিকঙ্ক
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
‘দেওয়ানা মদিনা’ হলো মৈমনসিংহ গীতিকার বিখ্যাত পালাগুলোর একটি।
এর রচয়িতা মনসুর বয়াতি।
এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৪৬.
উপকথার মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. রাজকাহিনি প্রচার
  2. নীতিপ্রচার ও কৌতুক সৃষ্টি
  3. পৌরাণিক আখ্যান পরিবেশন
  4. দেবতার বন্দনা
সঠিক উত্তর:
নীতিপ্রচার ও কৌতুক সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীতিপ্রচার ও কৌতুক সৃষ্টি
ব্যাখ্যা

• উপকথা:
পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা।

• উপকথার বৈশিষ্ট্য:
- কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যে উপকথা'র সৃষ্টি।
- এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বা বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু-পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৭.
সুকুর মামুদের লেখা নাথসাহিত্য কোনটি?
  1. গোপীচন্দ্র নাটক
  2. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
  3. গোরক্ষনাথের কাহিনি
  4. গোরক্ষবিজয়
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
ব্যাখ্যা
• সুকুর মামুদের লেখা নাথসাহিত্য - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
 ১. মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর 'পদুমাবৎ' এ।
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' রচনা করেন - সুকুর মামুদ।

উল্লেখ্য, বাংলাপিডিয়ায় 'শুকুর মাহমুদ' দেওয়া আছে। মূলত তারা একই ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮.
'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম কী 
  1. কারবালার পালা 
  2. হাসান-হোসেনের পালা 
  3. আলাল-দুলালের পালা
  4. আলালের পালা 
সঠিক উত্তর:
আলাল-দুলালের পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাল-দুলালের পালা
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি 'দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।

'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

---------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।

এগুলো হলো- 
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয় কাকে?
  1. মহম্মদ খান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ্
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. দৌলত উজির বাহরাম খা
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া কাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িয়ে আছে।
- 'মর্সিয়া' কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা। আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়।
- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়।
- ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।
- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।
- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তার রচিত কাব্য জয়নবের চৌতিশা। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।
- মর্সিয়া সাহিত্যের প্রধান কবি ফকির গরীবুল্লাহ্।

- মর্সিয়া সাহিত্যের অন্যান্য কবিদের মধ্যে-  দৌলত উজির বাহরাম খান, হায়াত মামুদ, মহম্মদ খান, নীর মোশারা হোসেন, কাইকোবাদ প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫০.
ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন-
  1. ভবানী কুমার
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 
  4. চন্দ্রকুমার চন্দ্র
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে
- চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- এটি ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫১.
‘মুক্তল হোসেন’ মর্সিয়া সাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ কবীর
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. মুহম্মদ খান
  4. নওয়াজিস খান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম ‘জয়নবের চৌতিশা’ (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালা কোন অঞ্চলের? 
  1. ক) নেত্রকোণা
  2. খ) কিশোরগঞ্জ
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হবিগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও হবিগঞ্জ জেলার বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙের দেওয়ান পরিবারের পালা হলো দেওয়ান মদিনা। এই পালার লেখক মনসুর বয়াতি।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৫৩.
কার উৎসাহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করা হয়?
  1. আশুতোষ মুখার্জি
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫৪.
মৈমনসিংহ গীতিকা-র অন্যতম জনপ্রিয় পালা “দেওয়ানা মদিনা” কে রচনা করেছিলেন?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. ঈশান চক্রবর্তী
  3. মনসুর বয়াতি
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
  5. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা

দেওয়ানা মদিনা:
- দেওয়ানা মদিনা হলো মৈমনসিংহ গীতিকার একটি প্রাচীন ও করুণ রসপূর্ণ পালা। 
- এই পালাটি ১৮ শতকে মনসুর বয়াতি রচনা করেছিলেন। 
- এটি মূলত বানিয়াচঙের দেওয়ানদের জীবনভিত্তিক এবং মদিনা নামের এক নারীর স্বামী আলী-র প্রতি গভীর বিশ্বাস ও ভালোবাসার কাহিনীকে কেন্দ্র করে গঠিত। 
- পালাটি রোমান্টিক ট্রাজেডি বা করুণ রসের আখ্যান হিসেবে পরিচিত।
- এই পালাটি চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেন, এবং অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন এর নির্দেশনায় মৈমনসিংহ গীতিকা-তে সংকলিত হয়। 
- কাহিনীতে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, আবেগ, সামাজিক টানাপোড়েন এবং নারীর আত্মত্যাগের চিত্র সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। 
- পালায় ধনু নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যা স্থানীয় সমাজ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। 
--------------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা হলো বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল (বর্তমান কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা) থেকে সংগৃহীত প্রাচীন লোকগাথা ও পালাগানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত গল্প ও গানসমূহকে একত্রিত করেছে, যা গ্রামীণ সংস্কৃতির অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় এই গীতিকাগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মূল সংগ্রাহক ছিলেন চন্দ্রকুমার দে।
- মৈমনসিংহ গীতিকার কাহিনিগুলো সাধারণ মানুষের জীবন, নারীর প্রেম, সংগ্রাম ও ট্রাজিক পরিণতি নিয়ে রচিত।
- ভাষা সহজ, সরল ও গ্রামীণ ছন্দময়। 
- এই সংকলন বিশ্বসাহিত্যে স্বীকৃত এবং ২৩টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- সৌরভ পত্রিকায় কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এর দুটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয়। 

- সংকলনে ১০টি গীতিকা ও রূপকথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- যেমন:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা),
- দেওয়ানা মদিনা।
----------------------------
অন্যদিকে, 
- দ্বিজ কানাই ‘মহুয়া পালা’র রচয়িতা।
- ঈশান চক্রবর্তী ‘কমলা’ পালার রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫৫.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতকা নয়?
  1. ক) চন্দ্রবতী
  2. খ) দস্যু কেনারামের পালা
  3. গ) আয়না বিবি
  4. ঘ) দেওয়ান ভাবনা
সঠিক উত্তর:
গ) আয়না বিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আয়না বিবি
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন ইংরেজি ballad-এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে ‘গীতিকা’ শব্দটি গ্রহণ করেন। 

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে যথা :
- মহুয়া, 
- মলুয়া, 
- চন্দ্রাবতী, 
- কমলা, 
- দেওয়ান ভাবনা, 
- দস্যু কেনারামের পালা, 
- রূপবতী, 
- কঙ্ক ও লীলা, 
- কাজলরেখা ও 
- দেওয়ান মদিনা।

= বিঃদ্রঃ 'আয়না বিবি' পূর্ববঙ্গ-গীতিকার পালা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৬.
'মর্সিয়া’ কী?
  1. আনন্দ গীতি
  2. চমাক গীতি
  3. শোক গীতি
  4. পল্লী গীতি
সঠিক উত্তর:
শোক গীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোক গীতি
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া - শোক গীতি

মর্সিয়া কাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িইয়ে আছে।
- ‘মর্সিয়া’ কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা
- আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়। 
- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়।
- ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।
- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, ‘যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৭.
নাথ সাহিত্যের জনক বলা হয় কাকে?
  1. ভীমসেন রায়
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ 
  3. শ্যামাদাস সেন
  4. ভবানী দাস
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্য:
- শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক। মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস। 
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৮.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত?
  1. আয়নাবিবি
  2. কাজলরেখা
  3. কাঞ্চন মালা
  4. কমল সদাগর
সঠিক উত্তর:
কাজলরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজলরেখা
ব্যাখ্যা

• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা। এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি।

অন্যদিকে, 
• আয়নাবিবি, কাঞ্চন মালা ও কমল সদাগর পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা। 

---------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা: 

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯.
মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের কয়টি ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে?
  1. ২৩টি 
  2. ২৪টি 
  3. ২২টি 
  4. ২১টি  
সঠিক উত্তর:
২৩টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩টি 
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে:
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০.
'কঙ্ক ও লীলা' নিচের কোনটির অন্তর্গত?
  1. ক) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  2. খ) মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. গ) মধ্যযুগের গীতিকবিতা
  4. ঘ) নাথ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
খ) মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
উল্লেখযোগ্য ময়মনসিংহ গীতিকাগুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬১.
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা কোন প্রতিষ্ঠান হতে প্রকাশিত হয়?
  1. আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরণের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
- ​পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬২.
ময়মনসিংহ গীতিকার শ্রেষ্ঠ পালা কোনটি?
  1. ক) মলুয়া
  2. খ) মহুয়া
  3. গ) দেওয়ানা মদিনা
  4. ঘ) কাজলরেখা
সঠিক উত্তর:
খ) মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহুয়া
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের ব্যতিক্রমী সাহিত্য হলো ময়মনসিংহ গীতিকা। গীতিকাটি প্রকাশিত হয় ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে। ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র কিছু অংশ ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশতি ‘সৌরভ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
সম্পাদক : ড. দীনেশচন্দ্র সেন
সংগ্রাহক : চন্দ্রকুমার দে এবং জসীমউদ্দীন।
স্থান : নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ। 
শ্রেষ্ঠ পালা : মহুয়া

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৬৩.
কোনটি নাথ সাহিত্য?
  1. দস্যু কেনারামের পালা
  2. গোরক্ষ বিজয়
  3. কঙ্ক ও লীলা
  4. মলুয়া
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষ বিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষ বিজয়
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪.
'নদের চাঁদ', 'হুমরা বেদে' চরিত্র দুটি কোন পালায় পাওয়া যায়?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. ভেলুয়া
  4. কমলা
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
-  ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
- এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫.
'মহুয়া' একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. পালা
  3. উপন্যাস
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মহুয়া' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সবকটি কবিতাই প্রেমবিষয়ক।
- মহুয়ার কবিতাগুলিকে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের নারীবন্দনা। নারীর মাধুর্য ও লাবণ্য এই কাব্যগ্রন্থে বহুভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের প্রেমের কবিতার মধ্যে একদিকে যেমন তরু অন্যদিকে তেমনি সংরাগ প্রকাশিত।
 
- 'মহুয়া' নামের কবিতায় সেই সংরাগের পরিচয় আছে এভাবে:
'তরল যৌবনচিহ্ন মজ্জায় রাখিয়াছিলি ভরে।
কানে কানে কহি তোরে।
বধূরে যেদিন পাবো ডাকিব মহুয়া নাম ধরে।' 
 
অন্যদিকে,
• 'মহুয়া’ পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
 
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।
 
মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৬.
নাথধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য কোনটি?
  1. গোরক্ষবিজয়
  2. মনসাবিজয়
  3. স্পেনবিজয় কাব্য
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরক্ষবিজয়
ব্যাখ্যা
• নাথধর্মমতের কাহিনি অবলম্বনে লেখা কাব্য - গোরক্ষবিজয়

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।

গোরক্ষবিজয়:
- নাথসাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে। সংগ্রাহকরা হলেন:
→ নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
→ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
→ আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং
→ পঞ্চানন মণ্ডল (১টি পুথি)।

• এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত।
- পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম 'মীনচেতন' এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে 'গোরক্ষবিজয়' ও 'গোর্খবিজয়'।

• গোরক্ষবিজয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে পণ্ডিত মহলে বিতর্ক আছে।  
- শেখ ফয়জুল্লাহ ছাড়া কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নাম ভণিতায় পাওয়া যায়।
- তবে ভণিতায় নামের সংখ্যাধিক্যের হিসেবে ফয়জুল্লাহকেই গোরক্ষবিজয়ের কবি মনে করা হয়, অন্যরা ছিলেন গায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৭.
'দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক কে?
  1. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  2. চন্দ্রাবতী
  3. দ্বিজ কানাই
  4. মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা

 দেওয়ানা মদিনা': 
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি। 
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

• ‘দেওয়ানা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল, 
- দুলাল, 
- মদিনা, 
-সোনাফর।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে, 
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৮.
পূর্ববঙ্গ গীতিকা কোন অঞ্চলের পালা?
  1. ক) নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ
  2. খ) কুমিল্লা ও চাঁদপুর
  3. গ) লক্ষ্মীপুর ও ফেনী
  4. ঘ) নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
ড. দীনেশচন্দ্র সেন নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে এগুলো সংগ্রহ করেন। ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে তিন খ-ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৬৯.
খনার বচন মূলত-
  1. ক) জ্যোতিষভিত্তিক
  2. খ) কৃষিতত্ত্বভিত্তিক
  3. গ) ক্ষেত্রতত্ত্বভিত্তিক
  4. ঘ) আবহাওয়া ভত্তিক
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষিতত্ত্বভিত্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কৃষিতত্ত্বভিত্তিক
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন মধ্যযুগের একটি সাহিত্যধারা। বুদ্ধ সমাজের ডাকের বচন এবং হিন্দু সমাজে খনার বচনের উৎপত্তি হয়েছিল। ডাকের বচনে জ্যোতিষ, ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭০.
"কাজলরেখা" কোন সংকলনের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চট্টগ্রামের গীতিকা
  2. মৈমনসিংহ গীতিকা
  3. রাঢ়বঙ্গের গাথা
  4. পূর্ববঙ্গের পালা
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা
• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা।
- এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩. বাংলাপিডিয়া।
৭১.
নাথ-যোগীরা কার উপাসক ছিলেন?
  1. ক) মনসা
  2. খ) কৃষ্ণ
  3. গ) অন্নদা
  4. ঘ) শিব
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শিব
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত।
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনী
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭২.
মৈয়মনসিংহ গীতিকার কোন পালার সাথে কবি দ্বিজ কানাই এর ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে?
  1. মহুয়া পালা
  2. কমলা পালা 
  3. মলুয়া পালা 
  4. দস্যু কেনারামের পালা 
সঠিক উত্তর:
মহুয়া পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া পালা
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া পালা':
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"

অন্যদিকে, 
--------------------
• চন্দ্রাবতী রচিত কয়েকটি পালা হচ্ছে - মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৩.
“জল ভর সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ/হাসি মুখে কওনা কথা, সঙ্গে নাই মোর কেউ”- পঙ্‌ক্তি দুইটি কোন পালার অন্তর্গত?
  1. মলুয়া
  2. কাজলরেখা
  3. মহুয়া
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• “জল ভর সুন্দরী কইন্যা, জলে দিছ ঢেউ/হাসি মুখে কওনা কথা, সঙ্গে নাই মোর কেউ”- পঙ্‌ক্তি দুইটি ‘মহুয়া’ পালার অন্তর্গত।

• 'মহুয়া' পালা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
•'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং মৈমনসিংহ গীতিকা।
৭৪.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. মলুয়া
  2. কমলা
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
মলুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মলুয়া
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মলুয়া’ পালা:
- মলুয়া পালাটির রচয়িতা কে তা সঠিকভাবে জানা যায় না।
- তবে এর সূচনাতে মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর একটি বন্দনা আছে। তাতে অনেকে মনে করেন যে, পালাটির রচয়িতা চন্দ্রাবতী।
 
⇒ চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন। 

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য: 
- রামায়ণ
- মলুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• ‘কমলা’ পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান।
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
• ‘বিদ্যাসুন্দর’ কবি কঙ্ক প্রণীত পালা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৫.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কয়টি গীতিকা স্থান পেয়েছে
  1. ১০টি 
  2. ১১টি 
  3. ১২টি 
  4. ২৩টি 
সঠিক উত্তর:
১০টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি 
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন। গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।

যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৬.
'কাফনচোরা' পালাটি কোন লোকসাহিত্যের অন্তর্গত?
  1. পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
  2. ময়মনসিংহ
  3. নাথ গীতিকা
  4. রূপকথা
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- প্রধান সংগ্রাহক হলেন - চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন,  আশুতোষ চৌধুরী,  জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- দীনেশচন্দ্র ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থসাহায্যে পূর্ববঙ্গ-গীতিকা নামে সেগুলি প্রকাশ করেন। 

পূর্ববঙ্গ-গীতিকার উল্লেখযোগ্য পালা:
- ধোপার পাট,
- মইষাল বন্ধু,
- কাঞ্চন মালা,
- কমলা রানীর গান,
- মদনকুমার ও মধুমালা,
- নেজাম ডাকাতের পালা,
- দেওয়ান ঈশা খাঁ,
- কাফনচোরা,
- ভেলুয়া,
- হাতিখেদা,
- আয়নাবিবি,
- কমল সদাগর, 
- গোপিনী-কীর্তন,
- সুজা-তনয়ার বিলাপ,
- নূরুন্নেছা ও কবরের কথা,
- পরীবানুর হাঁইলা ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৭৭.
‘গোর্খবিজয়’ নাথ সাহিত্যের রচয়িতা কে?
  1. ভবানী দাস
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. শ্যামাদাস সেন
  4. ভীমসেন রায়
সঠিক উত্তর:
ভীমসেন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভীমসেন রায়
ব্যাখ্যা
• নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৭৮.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা?
  1. রূপবতী
  2. মদিনা
  3. কঙ্কবতী
  4. দেওয়ান
সঠিক উত্তর:
রূপবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপবতী
ব্যাখ্যা
• ‘রূপবতী’ মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত একটি পালা।
- পালাটির কবির নাম অজ্ঞত।

অন্যদিকে,
• মদিনা, কঙ্কবতী ও দেওয়ান ময়মনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা নয়।

উল্লেখ্য,
• ‘দেওয়ান মদিনা নামে মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত একটি পালা রয়েছে।

---------------------------
মৈমনসিংহ গীতিকা:

• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া
৭৯.
’মৈমনসিংহ গীতিকা’ কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বাংলা একডেমি
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত পালা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের ,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০.
বাংলায় টপ্পার প্রচলন হয় কত শতকে?
  1. ক) সপ্তদশ শতকে
  2. খ) ঊবিংশ শতকে
  3. গ) অষ্টাদশ শতকে
  4. ঘ) বিংশ শতকে
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টাদশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টাদশ শতকে
ব্যাখ্যা
- বাংলায় অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে টপ্পার প্রচলন।
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে বহু সংগীতজ্ঞ সুললিত, অপূর্ব টপ্পা রচনা করে গেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন রাধামোহন সেন, কালিকা মির্জা, শ্রীধর কথক, দাশরথী রায় বিশেষভাবে  উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮১.
মৈমনসিংহ গীতিকায় মোট কতটি গীতিকা ও রূপকথা অন্তর্ভুক্ত আছে?
  1. ৮টি
  2. ১০টি
  3. ১২টি
  4. ১৪টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৮২.
'লোকসাহিত্য' সংগ্রহে অবদান রেখেছেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩.
'মর্সিয়া' শব্দের অর্থ কী?
  1. শোক বা আহাজারি
  2. বেদনা মিশ্রিত কাব্য
  3. শোক কাব্য
  4. দুঃখ
সঠিক উত্তর:
শোক কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোক কাব্য
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• মর্সিয়া (বিশেষ্য পদ), 
- শব্দটি ফারসি থেকে আগত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- মৃত্যু উপলক্ষ্যে রচিত শোকগাথা। 
- কারবালার যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শোকগাথা,
- মহরমে গীত শোকগাথা/ শোক কাব্য।

ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
অভিগম্য অভিধান অনুসারে মর্সিয়া আরবি ভাষার শব্দ।

[অপশনে আরবি ও ফারসি উভয়টি থাকলে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানকে প্রাধান্য দিয়ে সঠিক উত্তর ফারসি গ্রহণ করতে হবে।]

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮৪.
'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  3. দ্বিজ ঈশান
  4. দ্বিজ কানাই
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উল্লেখ্য,
ভনিতা থেকে আরও কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়, যেমন-
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৫.
'মৈমনসিংহ গীতিকা' কতটি ভাষায় অনুদিত?
  1. ২০টি 
  2. ২২টি
  3. ৩২টি
  4. ২৩টি 
সঠিক উত্তর:
২৩টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩টি 
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৬.
'মৈমনসিংহ গীতিকা'র "দেওয়ানা মদিনা" পালা কার তৈরি?
  1. মনসুর বয়াতি
  2. দ্বিজ কানাই
  3. নয়ান চাঁদ
  4. চন্দ্রাবতী
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
• ‘দেওয়ানা মদিনা’ পালার লেখক : 'মনসুর বয়াতি'। 
--------------- 
• দেওয়ানা মদিনা': 
- পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি। 
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।

• ‘দেওয়ানা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল, 
- দুলাল, 
- মদিনা, 
-সোনাফর।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে, 
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।
----------------------------- 
• মৈমনসিংহ গীতিকা:  
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় উল্লেখযোগ্য গীতিকা: 
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮৭.
'মদিনা' কোন পালার অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. আলাল-দুলালের পালা
  2. দেওয়ান ভাবনা পালা
  3. দস্যু কেনারামের পালা
  4. কাজল রেখা
সঠিক উত্তর:
আলাল-দুলালের পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাল-দুলালের পালা
ব্যাখ্যা

• 'দেওয়ানা মদিনা' পালা:
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালাটির লেখক মনসুর বয়াতি। বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি 'দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- 'দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম 'আলাল-দুলালের' পালা।

'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো:
- আলাল,
- দুলাল,
- মদিনা,
- সোনাফর।

--------------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। যথা:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৮.
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা গানের সংকলনের নাম কী?
  1. ক) শ্যামা সংগীত
  2. খ) গীতরত্ন
  3. গ) জ্ঞানপ্রদীপ
  4. ঘ) সংগীতমাধব
সঠিক উত্তর:
খ) গীতরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গীতরত্ন
ব্যাখ্যা

বাংলা টপ্পা গানের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত।
১৭৯৪ তিনি বাংলা টপ্পা গান রচনা ও পরিবেশন করেন।
তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো-
'নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা গানের সংকলনের নাম- গীতরত্ন(১৮৩২)।
শ্যমা সংগীত- রামপ্রসাদ সেনের গান।
গীতরত্ন- টপ্পা গানের সংকলন।
জ্ঞানপ্রদীপ- সৈয়দ সুলতান রচিত গ্রন্থ।
সংগীতমাধব- গোবিন্দ দাস রচিত নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৮৯.
নাথ সাহিত্যকে কয় ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. দুইভাগে
  2. তিনভাগে
  3. চারভাগে
  4. পাঁচভাগে
সঠিক উত্তর:
দুইভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইভাগে
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।

• নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১. মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯০.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালার চরিত্র হলো-
  1. হুমরা বেদে, সাধু
  2. কঙ্ক ও লীলা
  3. আলাল, দুলাল
  4. রতন , মানিক
সঠিক উত্তর:
আলাল, দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাল, দুলাল
ব্যাখ্যা
দেওয়ানা মদিনা:
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
- ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

অন্যদিকে,
’মহুয়া পালার’ চরিত্র, হুমরা বেদে, সাধু।
কঙ্কা ও লীলা পালার চরিত্র, কঙ্ক ও লীলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১.
'চন্দ্রাবতী' কোনটির অন্তর্গত?
  1. ক) মধ্যযুগের গীতিকবিতা
  2. খ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. গ) মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. ঘ) নাথ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
গ) মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
• এগুলো হলোঃ
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯২.
নিম্নের কোনটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয়?
  1. ক) দেওয়ান ভাবনা
  2. খ) কাসাসুল আম্বিয়া
  3. গ) আমীর হামজা
  4. ঘ) ইউসুফ জোলেখা
সঠিক উত্তর:
ক) দেওয়ান ভাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দেওয়ান ভাবনা
ব্যাখ্যা
• ময়মনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
- 'দেওয়ানা ভাবনা' গীতিকার রচয়িতা চন্দ্রাবতী।

• পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ

বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়- 
১) প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য: 
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি। 

২) যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য: 
জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি। 

৩) পীর পাঁচালি:
গাজী কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি। 

৪) ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য 
কাসাসুল আম্বিয়া, তাজকিরাতুল আউলিয়া, হাজার মসলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৩.
ময়মনসিংহ গীতিকার কোন পালাটি “আলাল-দুলালের” পালা হিসেবে পরিচিত?
  1. ক) মহুয়া
  2. খ) মলুয়া
  3. গ) দেওয়ানা মদিনা
  4. ঘ) কঙ্ক ও লীলা
সঠিক উত্তর:
গ) দেওয়ানা মদিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেওয়ানা মদিনা
ব্যাখ্যা
• দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
• বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
• বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা
• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪.
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২২ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫.
মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি ছিলেন-
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. মালাধর বসু
  3. রাধারমণ গোপ
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬.
কোনটি মর্সিয়া সাহিত্যের গ্রন্থ?
  1. কলিমা জালাল
  2. গুলে বকাওলী
  3. ইমামগণের কেচ্ছা
  4. সিকান্দারনামা
সঠিক উত্তর:
ইমামগণের কেচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমামগণের কেচ্ছা
ব্যাখ্যা

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা-কেন্দ্রিক কাব্যের অপর নাম মর্সিয়া সাহিত্য। আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক। শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়। 
আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়। জঙ্গনামা ও মর্সিয়া সাহিত্য প্রথমত আরবে, পরে পারস্যে বিকাশ লাভ করে এবং মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে এ সাহিত্যধারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলায় এ কাব্যধারা মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল।

- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, 'যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

- শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত। এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

-  মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

অন্যদিকে,
'গুলে বকাওলী' মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের একটি ধারা। সতেরো শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথম 'গুলে বকাওলী' কাব্য রচনা করেন।

• অন্ধকার যুগে রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ ‘কলিমা জালাল’। 

'সিকান্দারনামা' হলো মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি আলাওল-এর লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ, যা তিনি পারস্যের কবি নিজামি-এর 'সিকান্দারনামা' অবলম্বনে বাংলায় অনুবাদ করেন। এই কাব্যটি মূলত আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট বা সিকান্দার-এর জীবন ও কর্ম, বিশেষ করে তাঁর চীন ও ভারত বিজয় অভিযান নিয়ে রচিত

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৭.
'নিজাম ডাকাতের পালা' ও 'ভেলুয়া' পাওয়া যায় নিম্নের কোনটিতে-
  1. ক) ময়মনসিংহ গীতিকা
  2. খ) নাথগীতিকা
  3. গ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  4. ঘ) রূপকথা
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
ব্যাখ্যা
• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন।
- মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন  চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন,  আশুতোষ চৌধুরী,  জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক।
- সেগুলির মধ্যে ধোপার পাট, মইষাল বন্ধু, কাঞ্চন মালা, কমলা রানীর গান, মদনকুমার ও মধুমালা, নেজাম ডাকাতের পালা, দেওয়ান ঈশা খাঁ, মাঞ্জুর মা, কাফেনচোরা, ভেলুয়া, হাতিখেদা, আয়নাবিবি, কমল সদাগর, চৌধুরীর লড়াই, গোপিনী-কীর্তন, সুজা-তনয়ার বিলাপ, বারতীর্থের গান, নূরুন্নেছা ও কবরের কথা, পরীবানুর হাঁইলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- পালাগুলির অধিকাংশই চোদ্দ শতকে রচিত। তবে কিছু কিছু পালা ষোল ও সতের শতকেও রচিত হয়েছে।
- ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরণের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।
৯৮.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. রামনিধি গুপ্ত 
  2. শুকুর মাহমুদ 
  3. ভীমসেন রায়
  4. শ্যামাদাস সেন
সঠিক উত্তর:
শুকুর মাহমুদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকুর মাহমুদ 
ব্যাখ্যা

• নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ। 
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

---------------------------
• শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৯.
'মহুয়া' পালাটি কে রচনা করেন?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. মনসুর বয়াতী
  3. দ্বিজ কানাই
  4. দামোদর দাস
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ কানাই
ব্যাখ্যা
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"

অন্যদিকে, 
- চন্দ্রাবতী রচিত কয়েকটি পালা হচ্ছে - মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।
- চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র পালার রচয়িতা - নয়ানচাঁদ ঘোষ।

সোর্স: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০০.
প্রথম কে ‘মাণিকচন্দ্র রাজার গান' এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন?
  1. আবদুল করিম
  2. স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন
  3. ড. পঞ্চানন মণ্ডল
  4. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী 
সঠিক উত্তর:
স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্যের কবিগণ:
নাথধর্ম সংক্রান্ত গল্পকাহিনি নিয়ে যেসব সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিল। ১৮৭৮ সালে প্রথমবার স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা ‘মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নাম দিয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন। পরবর্তী কালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ‘ময়নামতীর গান', ‘গোপীচন্দ্রের গান,' 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে একই কাহিনিভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাকৃত 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করে প্রকাশ করেছেন। 'গোর্খবিজয়’ নামে অন্য একটি পুঁথি পঞ্চানন মণ্ডল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েও প্রকাশিত হয়েছে। এই সব গ্রন্থ থেকে নাথসাহিত্যের পরিচয় লাভ করা যায়।

গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হল:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লার ‘গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'।

এই তিনটি কাব্যের কবিরা স্বতন্ত্র না একই ব্যক্তি এ সম্পর্কে পণ্ডিতগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন নামে প্রকাশিত এ সব ভণিতার মধ্যে কোন ঐক্য নেই। কবীন্দ্ৰ, শেখ ফয়জুল্লা, ভীমদাস ও শ্যামদাস সেনের ভণিতা বিক্ষিপ্ত ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বিভিন্ন মতামত পর্যালোচনা করে লিখেছেন, 'নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হইতেছে যে গোরক্ষবিজয় বা গোর্খবিজয়ের কবি শেখ ফয়জুল্লা ভিন্ন অন্য কেহ হইতে পারেন না।' 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।