উত্তর
ব্যাখ্যা
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যশুদ্ধি:
- তিনি সস্ত্রীক বাজারে গেছেন।
- দৈন্য / দীনতা সবসময় ভালো নয়।
- বমাল বা মালশুদ্ধ চোর ধরা পড়েছে।
- বাংলাদেশ একটি উন্নতিশীল বা উন্নয়নশীল আধুনিক রাষ্ট্র।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৮ / ২৭ · ৭০১–৮০০ / ২,৬৯১
শুদ্ধ বাক্যঃ
- শিল্পায়নের সাহায্যে দেশ সমৃদ্ধ হইতে পারে৷
- নাটিকাটি সবাইকে মুগ্ধ করল।
- তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ৷
- মেয়েটি স্বয়ংবরা৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
অশুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
অন্যদিকে,
- বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।
- আমি অপমানিত হয়েছি।
- আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান - 'নিস্পৃহ'।
নিস্পৃহ অর্থ: বাসনাহীন, নিরাকাঙ্ক্ষ; অনাসক্ত।
অন্যদিকে,
• প্রাঙ্গন - প্রাঙ্গণ (উঠান);
• মনযোগ - মনোযোগ (বাসনাহীন);
• বঙ্গপসাগর - বঙ্গোপসাগর(গরমকাল)।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান- বাঁধা।
- ক্রিয়াবিশেষণ ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- এটি একটি অর্ধ-তৎসম শব্দ।
অন্যদিকে,
----------------------
• পূণ্য শব্দটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধরূপ: পুণ্য।
- অর্থ: পবিত্র কাজ।
• দূর্যোগ শব্দটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধরূপ: দুর্যোগ।
- অর্থ: বিপদ বা দুর্ঘটনা।
• মন্ত্রনা শব্দটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধরূপ: মন্ত্রণা।
- অর্থ: পরামর্শ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।' - বাক্যটি শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: আসছে আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।
- শুদ্ধ বাক্য: আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।
- অশুদ্ধ বাক্য:আকণ্ঠ পর্যন্ত আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
- শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
- অশুদ্ধ বাক্য: একটি গোপন কথা বলি।
- শুদ্ধ বাক্য: একটি গোপনীয় কথা বলি।
উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• অশুদ্ধ বাক্য: আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।
• শুদ্ধ বাক্য: আমরা তার বিদেহ আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।
অন্যদিকে,
শুদ্ধ: চোখে সরষেফুল দেখছি।
শুদ্ধ: এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।
শুদ্ধ: শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী কতিপয় শুদ্ধ বানান হলো-
• রুক্মিণী
• নিশীথিনী,
• তিতিক্ষা,
• সংশপ্তক,
• সমীচীন (সংগত, উপযুক্ত, উত্তম),
• মুহুর্মুহু,
• মনীষী,
• শুশ্রূষা,
• ত্রিভুজ,
• পাষাণ,
• মরীচিকা,
• মুমূর্ষু,
• কৃষিজীবী,
• বিকিরণ,
• দধীচি,
• মন্ত্রিসভা,
• মন্ত্রিপরিষদ,
• শিরশ্ছেদ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- অতৎসম অর্থাৎ নিজস্ব (অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ইত্যাদি) ও বিদেশি শব্দে সর্বদা ঈ-কার এবং ঊ-কার বর্জিত হবে।
যেমন: তরকারি, মুলা, দিঘি, সরকারি, শাড়ি, পশমি, ইমান, কুরান, নিচু, ভুখা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
• শুদ্ধ বানান - কৃত্তিবাস।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
শব্দের অর্থ:
- মহাদেব, শিব।
- রামায়ণের বাংলা অনুবাদক।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - স্নেহাশিস।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- স্নেহার্শীবাদ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ নিম্নে দেওয়া হলো:
- নৈর্ঋত,
- দুর্দশাগ্রস্ত,
- আনুষঙ্গিক।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মীমাংসা' - শুদ্ধ বানান।
অন্যদিকে,
• 'পূর্বাহ্ন' এর শুদ্ধ বানান - পূর্বাহ্ণ।
• 'নুপুর' এর শুদ্ধ বানান - নূপুর।
• 'স্তুপ' এর শুদ্ধ বানান - স্তূপ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - স্বত্ত্ব।
- এর শুদ্ধ বানান - স্বত্ব।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
শব্দের অর্থ:
- বিষয়সম্পত্তি ব্যবসায় প্রভৃতিতে অধিকার বা মালিকানা (গ্রন্থস্বত্ব)।
অন্যদিকে,
- চূর্ণবিচূর্ণ,
- সর্বাঙ্গীণ,
- উপর্যুক্ত।
উপরিউক্ত শব্দের বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: অতিশয় দুঃখিত হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
অশুদ্ধ বাক্য: সে তাকে দেখে চমৎকার হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: সে তাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছে।
অশুদ্ধ বাক্য: নিন্দক ব্যক্তি সকল দেশেই আছে।
শুদ্ধ বাক্য: নিন্দুক সকল দেশেই আছে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান- মূর্ছা।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কৰ্ম্ম ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, মূর্ছা ইত্যাদি।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
•অশুদ্ধ বানান - বিকিরন।
- শুদ্ধ বানান - বিকিরণ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- বিক্ষেপ, বিস্তৃতি।
- কোনো বিন্দু থেকে শক্তি (আলোক তাপ প্রভৃতি রশ্মি) বিচ্ছুরণ, নির্গমন, radiation।
অন্যদিকে,
- ঔজ্জ্বল্য, প্রত্যুদ্গমন, পুনরুজ্জীবন - বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
‘আকণ্ঠ পর্যন্ত ভোজন ভালো নয়’ বাক্যের শুদ্ধরূপ হবে ‘আকণ্ঠ/কণ্ঠ পর্যন্ত পর্যন্ত ভোজন ভালো নয়’।
অপশন ক), খ) ও গ) তে প্রদত্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
সঠিক উত্তর: খ) কথোপকথন।
-------------------
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান - খ) কথোপকথন।
অর্থ: কথাবার্তা।
অন্যান্য অপশন আলোচনা:
ক) নিশিথিনি- অশুদ্ধ বানান।
শুদ্ধ বানান: নিশীথিনী।
অর্থ: গভীর রাত।
গ) পিপিলিকা- অশুদ্ধ বানান।
শুদ্ধ বানান: পিপীলিকা।
অর্থ: পিঁপড়া।
ঘ) সমিচিন অশুদ্ধ বানান।
শুদ্ধ বানান: সমীচীন।
অর্থ: সংঘত, উত্তম।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'অহোরাত্রি' – সমাসজনিত অশুদ্ধি।
- ‘অহোরাত্রি’ শব্দটি ভুল, কারণ এটি দ্বন্দ্ব সমাসে ‘অহ + রাত্রি’ থেকে এসেছে।
- সমাসবদ্ধ শব্দে শেষ পদের দীর্ঘ রূপ (রাত্রি) হ্রস্ব হয়ে ‘রাত্র’ হয়ে আসে।
- তাই শুদ্ধ রূপ হলো অহোরাত্র।
------------------
• সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি-
- সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি হলো সমাসবদ্ধ শব্দের ভুল ব্যবহার বা বানানের ভুল।
- সাধারণত ভুল বাক্য গঠন বা নিয়ম না মানার কারণে ঘটে।
- এই ধরনের ভুল সাধারণত অতিরিক্ত পদ বা ‘নী’, ‘ঈ’ যুক্ত করার কারণে বেশি দেখা যায়।
• সমাস-ঘটিত শুদ্ধি-অশুদ্ধি-
- শুদ্ধ — অশুদ্ধ
- নিরপরাধ — নিরপরাধী,
- অহোরাত্র — অহোরাত্রি,
- দিবারাত্র — দিবারাত্রি,
- নির্দোষ — নির্দোষী,
- পিতৃহারা — পিতাহারা,
- মাতৃজাতি — মাতাজাতি,
- যুবরাজ যুবরাজা,
- রাজগণ রাজাগণ,
- সুবুদ্ধি সুবুদ্ধিমান।
----------------------------
অন্যদিকে,
• সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি- হলো বাংলায় একই অর্থের দুইটি শব্দ পাশাপাশি ব্যবহার করার কারণে যে অনাবশ্যক বা অতিরিক্ততা তৈরি হয়।
- সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত শুদ্ধি-অশুদ্ধি:
- শুদ্ধ — অশুদ্ধ
- অদ্যাপি — অদ্যাপিও,
- অশ্রু — অশ্রুজল,
- সময় — সময় কাল,
- ঠিক — সঠিক
• প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি হলো- বাংলায় কোনো শব্দের শেষে ভুল বা অপ্রয়োজনীয় প্রত্যয় যুক্ত করার কারণে যে ভুল ঘটে।
- উৎকর্ষবাচক -তর, -তম প্রত্যয়জনিত শুদ্ধি-অশুদ্ধি-
- শুদ্ধ — অশুদ্ধ
- কনিষ্ঠ — কনিষ্ঠতর,
- সর্বকনিষ্ঠ — কনিষ্ঠতম,
- গরিষ্ঠ — গরিষ্ঠতর,
- গরিষ্ঠ — গরিষ্ঠতম,
- শ্রেষ্ঠ — শ্রেষ্ঠতর,
- শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ — শ্রেষ্ঠতম।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা বানানে ঙ/ং এর ব্যবহার:
- সন্ধিতে ( তৎসম শব্দে) প্রথম শব্দের শেষে ম্ থাকলে ক-বর্গের পূর্বে ম স্থানে ং (অনুস্বার) হবে।
যেমন: অহংকার (অহম্+কার), কিংকর, কিংবদন্তি, ঝংকার, ভয়ংকর ইত্যাদি।
- উপর্যুক্ত নিয়মে সন্ধিজাত না হলে ক-বর্গের পূর্বে ম স্থানে ঙ (উয়ো) হবে।
যেমন: আকাঙ্খা, অঙ্কুর, অঙ্গ, ইঙ্গিত, কঙ্কাল, পঙ্কজ ইত্যাদি।
- প্রত্যয় ও বিভক্তিহীন শব্দের শেষে ং (অনুস্বার) হয়।
যেমন: আড়ং, ইদানীং, এবং, ঠ্যাং, পালং ইত্যাদি।
- অনুস্বারযুক্ত শব্দে বিভক্তি বা প্রত্যয় বা স্বরবর্ণ যুক্ত হলে ং এর স্থলে ঙ হয়।
যেমন: আড়ঙে, টঙে, ঢঙে, ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, অষ্টম শ্রেণি।
• অশুদ্ধ বানান - প্রতিদন্দ্বিতা।
- শুদ্ধ বানান - প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- পরস্পরের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ।
- প্রতিযোগিতা।
অন্যদিকে,
- বিদূষিত,
- কারিগরি,
- কিংবদন্তি।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বচনঘটিত শুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ-
পাখিসব কিচির মিচির করছে।
গ্রন্থসমূহ প্রকাশিত হয়েছে।
অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
সঠিক বানানগুলো হলো:
- দধীচি
- অন্তঃসত্ত্বা
- সত্তা
- সরস্বতী
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
• 'তা' প্রত্যয়ের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে- দৈন্যতা শব্দে।
------------------
• বানানের নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।
এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান: স্বায়ত্তশাসন।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান- তারুণ্যের।
• শুদ্ধ বাক্য- নতুন পৃথিবী সৃষ্টির পাথেয় এই তারুণ্যের উচ্ছ্বাস।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা বানানের ক্ষেত্রে তৎসম শব্দে রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হয় না।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।
[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমী অভিধান]
সঠিক উত্তর: ক) বিরাট শব্দটি হাটকে বিশেষিত করছে।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ:
• "বিরাট" একটি বিশেষণ (adjective) যা পরবর্তী বিশেষ্য (noun) কে বিশেষিত করে।
এখানে, "বিরাট" শব্দটি "হাট" কে বিশেষিত করছে, "গরু-ছাগল" কে নয়। অর্থাৎ, শিরোনামটির প্রকৃত অর্থ হলো— "বিরাট (বৃহৎ) গরু-ছাগলের হাট"।
• গঠনগতভাবে, "গরু-ছাগলের" একটি সম্বন্ধ পদ যা হাটের ধরন বোঝাচ্ছে (গরু-ছাগলের জন্য নির্দিষ্ট হাট)। সঠিক পদক্রম:বিরাট (বিশেষণ) + গরু-ছাগলের (সম্বন্ধ পদ) + হাট (বিশেষ্য)।
অপপ্রয়োগ না হওয়ার কারণ:
বাংলা বাক্যের গঠন অনুযায়ী, বিশেষণ সাধারণত যে বিশেষ্যকে বিশেষিত করে, তার আগে বা কাছাকাছি অবস্থান করে। এখানে ‘বিরাট’ শব্দটি ‘হাট’-এর আকার, পরিমাণ বা গুরুত্বের বর্ণনা দিচ্ছে, যা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক এবং অর্থপূর্ণ। তাই এটিকে অপপ্রয়োগ বলা যায় না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• শুদ্ধ বাক্য: সর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করা উচিত।
অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ-
• তোমার গোপনীয় কথা শোনা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
• সলজ্জ হাসি হেসে মেয়েটি উত্তর দিল।
• দরিদ্রতা আমাদের প্রধান সমস্যা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - 'কৃষিজীবী'।
--------------
বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী কতিপয় শুদ্ধ বানান হলো-
• বিকিরণ,
• মুমূর্ষু,
• কৃষিজীবী,
• মরীচিকা,
• দধীচি,
• মন্ত্রিসভা,
• মন্ত্রিপরিষদ,
• শিরশ্ছেদ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।
• শুদ্ধ বানান - জগদ্ব্যাপী।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
-পৃথিবীর সর্বত্র পরিব্যাপ্ত,
- বিশ্বময়।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
⇒ বর্ণমালায় ছ, দ, ধ, ন, ম এই বর্ণগুলোর মধ্যে ছ বর্ণ আগে বসে এরপর পর্যায়ক্রমে দ, ন, ও ম বর্ণ বসবে। সুতরাং অভিধানে আগে বসবে ‘ছদ্মনাম’ শব্দটি।
• ছদ্মনাম,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [ছদ্ম + নামন্]
অর্থ: পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে গৃহীত পন্থা।
এরপর পর্যায়ক্রমে বসবে,
• ছন্দতত্ত্ব,
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: ছন্দবিজ্ঞান।
• ছন্নছাড়া,
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: নিরাশ্রয়, লক্ষ্মীছাড়া, উৎসন্নে গেছে এমন।
• ছমছমে,
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: ভীতিকর।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান - কনকাঞ্জলি।
- এতই একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- মাঙ্গলিক ক্রিয়াকর্মে অঞ্জলিপূর্ণ স্বর্ণ প্রদানের সংস্কার।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ বানান - পীড়াপিড়ী।
- শব্দটির শুদ্ধ বানান - পীড়াপীড়ি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- বারবার অনুরোধ উপরোধ বা চাপ প্রয়োগ।
অন্যদিকে,
- বাষ্পীয়, সময়োপযোগী এবং জিগীষা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
• বাক্যের অত্যাশব্যকীয় গুণ তিনটি।
এগুলো হলো: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি এবং যোগ্যতা।
- এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছা হলো আকাঙ্ক্ষা।
- বাক্যে ব্যবহৃত পদসমূহের সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস হলো আসত্তি।
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম হলো যোগ্যতা।
- 'ঘোড়া মাংস খায়।' - বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ, এখানে বাক্যটিতে যোগ্যতার অভাব রয়েছে।
- "ঘোড়া মাংস খায়।" বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ - ঘোড়া সাধারণত মাংস খায় না ।
• শুদ্ধ বাক্য হবে: ঘোড়া ঘাস খায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• শুদ্ধ বানান - দুস্থ।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধরূপ: - বিদুষী, নির্বাণ, নিরুপম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
'সন্ন্যাসী' বানানটি শুদ্ধ।
আরো কতিপয় শুদ্ধ বানান :
- শুশ্রূষা,
- মুহুর্মুহু,
- মুমূর্ষু,
- রামায়ণ,
- সার্থকতা,
- শিরশ্ছেদ,
[উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ]
ষ-ত্ব বিধান মতে :
- ঋ-কারের পর সাধারণত মূর্ধন্য হয়। যেমন - ঋশভ, কৃষি, ঋষি, তৃষনা, কিন্তু বুতিক্রম অস্পৃশ্য দৃশ্য, কৃশ,।
- আগে অ আ ছাড়া অন্য স্বর (অর্থাৎ ই, ঈ, উ, ঊ, এ, ও) থাকলে অপরের ‘স’ ‘ষ’ হবে। যেমন- শিষ্য, ঊষা, বিষম, দোষ, শ্রীচরণেষু, চতুশপদ, পরিষ্কার ইত্যাদি।
- ফ- এর সঙ্গে যুক্ত স অপরবর্তত থাকবে। যেমন- পরিস্ফুট, বিস্ফোরণ, বিস্ফুরিত ইত্যাদি। ্কিন্তু নিষ্ফলা, দুষ্ফলা।
উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ
শুদ্ধ বানান- চাকুরিজীবী।
- এখানে 'চাকুরি' ফারসি শব্দ এবং 'জীবী' সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।