বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বানান ও বাক্যশুদ্ধি

মোট প্রশ্ন২,৬৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বানান ও বাক্যশুদ্ধি

PrepBank · পাতা ১৯ / ২৭ · ১,৮০১১,৯০০ / ২,৬৯১

১,৮০১.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. উদ্‌বাস্তু
  2. উদ্‌গিরন 
  3. উদ্‌ঘট্টন
  4. উদ্‌গ্রীব 
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান- উদ্‌গিরন।  

• শুদ্ধরূপ-  উদ্‌গিরণ। 
অর্থ:
- বমন।
 - ঢেকুর।
- নিঃসারণ, নির্গমন (লাভা উদ্গিরণ)।

অন্যদিকে, 
উদ্‌বাস্তু, উদ্‌ঘট্টন ও উদ্‌গ্রীব শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১,৮০২.
"সারা দেশব্যাপী দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে।" - বাক্যটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. বানানঘটিত
  2. সমাস-ঘটিত   
  3. প্রত্যয়জনিত
  4. বাহুল্যজনিত
ব্যাখ্যা

• বাংলা বাক্যে বাহুল্যদোষ হয় তখনই, যখন বাক্যে অনর্থক, অপ্রয়োজনীয়, পুনরুক্ত বা অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়, যার ফলে বাক্যটি ভারাক্রান্ত, অপরিষ্কার বা অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ হয়ে পড়ে।

• সারা দেশব্যাপী দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে:
- ‘উদ্‌যাপন’ বানান শুদ্ধ।
তবে ‘সারা দেশব্যাপী’ অশুদ্ধ, কারণ ‘সারা’ এবং ‘দেশব্যাপী’র দ্বৈত ব্যবহার অপ্রয়োজনীয়।
অর্থ্যাৎ, বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

শুদ্ধ বাক্য: সারা দেশে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে।

সুতরাং, বাক্যটিতে বাহুল্যজনিত - ভুল রয়েছে।

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৮০৩.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) অঙ্কনীয়
  2. খ) অকৃত্রিম
  3. গ) অঙ্গপ্রতঙ্গ
  4. ঘ) অগ্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান = অঙ্গপ্রতঙ্গ

• শুদ্ধ = অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- অঙ্গ+প্রতি+অঙ্গ
অর্থ: দেহের হাত পা প্রভৃতি অঙ্গ, দৈহিক অবয়ক।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৮০৪.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। 
  2. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর। 
  3. আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভবপর। 
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর। 
-------------------------------
• নিয়ম: 
• বহুবচনের অপ্রপ্রয়োগজনিত ভুল:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়।
- বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুবচন অপ্রয়োজনীয়।
- তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুবচক পদ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

- যেমন:
- অশুদ্ধ- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
- শুদ্ধ- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
--------------------------
• কিছু বাক্যশুদ্ধি:

অশুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

অশুদ্ধ- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ- অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
শুদ্ধ- অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।

অশুদ্ধ- অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১,৮০৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) বর্ধীষ্ণূ
  2. খ) বর্ধিষ্ণূ
  3. গ) বর্ধীষ্ণু
  4. ঘ) বর্ধিষ্ণু
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান - বর্ধিষ্ণু
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [√বৃধ্+ইষ্ণু]
অর্থ: ক্রমে বাড়ছে এমন, সমৃদ্ধ হচ্ছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮০৬.
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাংলা বানানের নিয়ম প্রবর্তিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৩৮ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলা বানানের নিয়ম: 
- উনিশ শতকের গোড়া থেকে বাংলা গদ্যরচনা আরম্ভ হলে বাংলা বানানে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে থাকে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ব্যাপারটি অনুধাবন করে একটি বানান-রীতি প্রণয়নের জন্য ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ প্রস্তাবকে সমর্থন জানান।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 'কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার সমিতি' গঠন করে।
- এবং ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ৮ই মে প্রথম বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করে৷
 - বাংলা একাডেমি এই নিয়ম প্রণয়নে উদ্যোগী হয় ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে।

উৎস: দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)
১,৮০৭.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. মন্ত্রীত্ব
  2. দায়িত্ব
  3. কৃতিত্ব
  4. সহযোগিতা
ব্যাখ্যা
ইন- প্রত্যয়ান্ত তৎসম শব্দের সঙ্গে -ত্ব ও -তা প্রত্যয় যুক্ত হলে ‘ই’-কার হবে।
যেমনঃ মন্ত্রিত্ব, দায়িত্ব, সহযোগিতা, কৃতিত্ব ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমী অভিধান]
১,৮০৮.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. সারথি কশাঘাত করিবা মাত্র ঘোড়াগুলি বায়ুবেগে ধাবমান হইল।
  2. দ্বাদশ শ্রেণিতে তেত্রিশ জন ছাত্র আছে, তাদের মধ্যে রহিম সবচেয়ে ভালো।
  3. কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না।
  4. তোমার মতো বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দেখিনি।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: সারথি কশাঘাত করিবা মাত্র ঘোড়াগুলি বায়ুবেগে ধাবমান হইল।
শুদ্ধ: সারথি কশাঘাত করিবামাত্র, অশ্বগণ বায়ুবেগে ধাবমান হইল।

অন্যদিকে,
- তোমার মতো বুদ্ধিমতী বালিকা আমি আর দেখিনি।
- কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না।
- দ্বাদশ শ্রেণিতে তেত্রিশ জন ছাত্র আছে, তাদের মধ্যে রহিম সবচেয়ে ভালো।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮০৯.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।
  2. কীর্তিবাস বাংলা রামায়ন লিখেছেন।
  3. সব পাখি নীড় বাঁধে না।
  4. তার সলিল সমাধি হয়েছে।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ: কীর্তিবাস বাংলা রামায়ন লিখেছেন।
শুদ্ধ: কৃত্তিবাস বাংলা রামায়ণ লিখেছেন।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ: সব পাখি নীড় বাঁধে না।
শুদ্ধ: তার সলিল সমাধি হয়েছে।
শুদ্ধ: শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮১০.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. তদানুসারে
  2. তদনুসারে
  3. তদণুসারে
  4. তদানুশারে
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'তদনুসারে' বানানটি শুদ্ধ।  

• 'তদনুসারে' শব্দ:
- ক্রিয়া বিশেষণ।
- যার অর্থ: সেই প্রকারে, তদ্‌রূপে।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১,৮১১.
কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. চত্বর
  2. দণ্ডায়মান
  3. চন্ডালিকা
  4. দধীচি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'চন্ডালিকা' বানানটি সঠিক নয়। 
এর শুদ্ধ বানান- 'চণ্ডালিকা'।

• 'চণ্ডালিকা' অর্থ : একপ্রকার সেতার। 

অন্যদিকে, 
'চত্বর' শব্দের অর্থ - প্রাঙ্গণ; উঠান; আঙিনা।
'দণ্ডায়মান' শব্দের অর্থ - দণ্ডের মতো খাড়া; দাঁড়িয়ে আছে এরূপ; খাড়া।
'দধীচি' শব্দের অর্থ - বিশ্বের কল্যাণে দেহদানকারী মহাপুরুষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১,৮১২.
নিচের কোন শব্দটিতে ‘ণ’ - এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. আপণ
  2. বিপণি
  3. পিণ্ডারি
  4. নিপুণ
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ণ’ - এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে- পিণ্ডারি শব্দে। 
• 'পিণ্ডারি'  শব্দটির সঠিক বানান - পিন্ডারি।
• 'পিন্ডারি' অর্থ- মহারাষ্ট্রীয় অশ্বারোহী দস্যুদল, বর্গি।
'পিন্ডারি' মারাঠি শব্দ। বিদেশি শব্দে ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম খাটে না।

অন্যদিকে,
----------------
• আপণ- 

→ আপণ একটি পুরনো তদ্ভব শব্দ, যার অর্থ: নিজের মালিকানাধীন বা দোকান।
→ যদিও অনেকেই আপন ভাবেন, আসলে আপণ বানানটিও অভিধানসম্মতভাবে স্বীকৃত।
→ উদাহরণ: “আপণ প্রতিষ্ঠানে সে কর্মরত।”

• বিপণি- 
→ শুদ্ধ বানান: বিপণি (অর্থ: দোকান)
→ ‘ণ’ ব্যবহারে ভুল নেই।

• নিপুণ- 
→ শুদ্ধ বানান: নিপুণ (অর্থ: দক্ষ/কুশলী)
→ সঠিক প্রয়োগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮১৩.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সংসপ্তক
  2. সংশপ্তক
  3. শংসপ্তক
  4. শংশপ্তক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'সংশপ্তক'
- বিশেষ্য পদ।  
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সংসপ্ত+ক। 
অর্থ:
- যুদ্ধে জয়লাভ বা মৃত্যু এমন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সৈনিক।
- মহাভারতোক্ত শ্রীকৃষ্ণের নারায়ণী সেনা। 
- নির্ভীক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮১৪.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. পর্বত
  2. ধর্ম্মসভা
  3. নির্দ্দিষ্ট
  4. কার্য্যালয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - পর্বত

নিয়ম:

রেফ এর পর তৎসম, অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- কার্য্যালয় হবে না, সঠিক বানান হবে কার্যালয়।
- নির্দ্দিষ্ট হবে না, সঠিক বানান নির্দিষ্ট।
- ধর্ম্মসভা বানানটি ভুল, সঠিক বানান হবে ধর্মসভা।
- তেমনি ভাবে পর্ব্বত হবে না , সঠিক বানান হবে পর্বত

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮১৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ঈর্ষাপরায়ন
  2. আদ্যক্ষর
  3. নিষ্প্রাণ
  4. প্রোজ্বলিত
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'নিষ্প্রাণ' বানানটি শুদ্ধ।



অন্যান্য অপশন,
• 'ঈর্ষাপরায়ন' এর শুদ্ধ বানান- 'ঈর্ষাপরায়ণ'। 
• 'আদ্যক্ষর' এর শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে আদ্যাক্ষর।
• 'প্রোজ্বলিত' এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮১৬.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. সৌজন্যতা
  2. সৌজন্য
  3. সৌজনতা
  4. সৌজয়তা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- সৌজন্য। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- সুজনের ভাব বা আচরণ,
- সদাচরণ,
- ভদ্রতা,
- শিষ্টাচার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১,৮১৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. সম্মীলিত
  2. সম্মিলীত
  3. সম্মিলিত
  4. সম্মীলীত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: সম্মিলিত।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- একসঙ্গে মিলিত; জোটবদ্ধ।
- সংযুক্ত।

• স্ত্রীবাচক শব্দ- সম্মিলিতা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮১৮.
অশুদ্ধ বানান -
  1. অনুদীত
  2. শুচিস্মিতা
  3. অধোগতি
  4. সংকীর্ণমনা
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - অনুদীত
- শুদ্ধ বানান - অনূদিত।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- অনুবাদ করা হয়েছে এমন, ভাষান্তরিত।

অন্যদিকে,
- শুচিস্মিতা, অধোগতি এবং সংকীর্ণমনা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮১৯.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  2. তাকে বাড়ি যেতে দাও।
  3. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  4. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: তাকে বাড়ি যেতে দাও।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
 
অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।
 
অশুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
শুদ্ধ বাক্য: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮২০.
__________ না করলে হয়তো সে সত্য কথাটা বলত না।
  1. পীড়াপীড়ী
  2. পিড়াপীড়ি
  3. পীড়াপীড়ি
  4. পীড়াপিড়ি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'পীড়াপীড়ি' - শুদ্ধ বানান।

• 'পীড়াপীড়ি' শব্দের অর্থ:
- বারবার অনুরোধ-উপরোধ বা চাপ প্রয়োগ।

আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
• অপকর্শ এর শুদ্ধ বানান - অপকর্ষ।
• অন্যমনষ্ক এর শুদ্ধ বানান - অন্যমনস্ক।
• অন্যপুর্বা এর শুদ্ধ বানান - অন্যপূর্বা।
• জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান - জাজ্বল্যমান। 
• প্রোজ্বলিত এর শুদ্ধ বানান - প্রজ্বলিত।
• শ্বাশত এর শুদ্ধ বানান - শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮২১.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ব্রাহ্মন
  2. ব্রহ্মান্ড
  3. ব্রহ্মর্ষি
  4. ব্রহ্মপুএ
ব্যাখ্যা
• ‘ব্রহ্মর্ষি’ বাননটি শুদ্ধ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: ঋষির গুণসম্পন্ন ব্রাহ্মণ।

অন্যদিকে,
• ব্রাহ্মণ,
- সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: ব্রহ্মকে জানেন যিনি, ব্রহ্মজ্ঞ ব্যক্তি, আর্যদের চত্র্বর্ণের প্রথম বর্ণ, বামুন ইত্যাদি।

• ব্রহ্মপুত্র,
- সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: হিমালয় পর্বতমালার কৈলাশ শৃঙ্গের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে চীন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রশস্ত ও খরস্রোতা নদবিশেষ।

• ব্রহ্মাণ্ড,
- সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ: বিশ্বজগৎ, মহাবিশ্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা একাডেমি।
১,৮২২.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) পৃথ্বীশ
  2. খ) প্রজ্জলিত
  3. গ) প্রণয়
  4. ঘ) পূষন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি বানান অভিধান অনুসারে, 
প্রজ্জলিত এর সঠিক বানান- প্রজ্বলিত।
প্রজ্বলিত এর অর্থ- জ্বলছে এমন, জ্বলন্ত, প্রদীপ্ত। 

তাছাড়া, 
পৃথ্বীশ- সম্রাট/ রাজা 
পূষন- সূর্য, আদিত্য 
প্রণয়- প্রেম,অনুরাগ, ভালবাসা, 


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
১,৮২৩.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. আজকের সন্ধ্যা বড়ই মনমুগদ্ধকর।
  2. আবাল্য হতে তিনি কাব্য প্রিয়।
  3. তার সব ছেলেই কৃতী।
  4. মনস্কামনা পূর্ণ না হওয়ায় সে মনোস্তাপে ভুগছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: তার সব ছেলেই কৃতী

অন্যান্য অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ:
- আজকের সন্ধ্যা বড়ই মনোমুগদ্ধকর।
- বাল্য হতেই তিনি কাব্য প্রিয়।
- মনস্কামনা পূর্ণ না হওয়ায় সে মনস্তাপে ভুগছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮২৪.
শুদ্ধ বানান -
  1. সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম
  2. সূক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম
  3. সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম
  4. সূক্ষ্মাতীসূক্ষ্ম
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- অতিশয় সূক্ষ্ম; অতি ক্ষুদ্র।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮২৫.
গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত কোনটি?
  1. ক) মড়াদাহ
  2. খ) শবদাহ
  3. গ) শবমড়া
  4. ঘ) শবপোড়া
ব্যাখ্যা
গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত- শবদাহ
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দ এবং দেশীয় শব্দের একসাথে ব্যবহার এর ফলে মাঝেমধ্যে গুরুচন্ডালী দোষ সৃষ্টি হয়। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
শবপোড়া-শব(তৎসম শব্দ) + পোড়া (দেশি শব্দ)
মড়াদাহ- মড়া(দেশি শব্দ)+ দহ(তৎসম শব্দ)
শবদাহ-শব(তৎসম শব্দ)+ দাহ(তৎসম শব্দ)
শবমড়া- শব(তৎসম শব্দ)+ মোড়া(দেশি শব্দ)

উৎসঃ ভাষা ও শিক্ষা - ড হায়াৎ মামুদ
১,৮২৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. নৃসংশ
  2. প্রজ্বলন
  3. নিক্কণ
  4. প্রাতঃরাশ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: প্রজ্বলন।
- বিশেষ্য পদ।

অর্থ:
- বিশেষভাবে জ্বলন,
- প্রদীপন।
- প্রখর দীপ্তি।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• নিক্কন - নিক্বণ। 
• প্রাতঃরাশ - প্রাতরাশ। 
• নৃসংশ - নৃশংস। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮২৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. সরকারী
  2. পদবী
  3. খেয়ালি
  4. মিতালী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'খেয়ালি'
- বিশেষণ পদ।
- আরবি শব্দ।
 অর্থ:
- কল্পনাবিলাসী,
- খেয়ালখুশিমতো চলে এমন।

• শুদ্ধ বানান 'সরকারি'
- বিশেষণ পদ।
- ফারসি শব্দ।
 অর্থ:
- সরকারসম্বন্ধীয়।
- সরকারের কাজ।

• শুদ্ধ বানান 'পদবি'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √পদ্‌ + অবি।
  অর্থ: 
- কুল বা বংশজ্ঞাপক নাম।

• শুদ্ধ বানান 'মিতালি'
- বিশেষ্য পদ।
- বাংলা শব্দ।
 অর্থ:
- সখ্য, বন্ধুত্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮২৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. পানিনি
  2. আটপৌরে
  3. পিপিলিকা
  4. উত্তলন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'আটপৌরে'।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- সর্বদা ব্যবহারের উপযুক্ত (আটপৌরে কাপড়); পোশাকি নয় এমন।

অন্যদিকে,
উত্তলন – উত্তোলন। 
পিপিলিকা – পিপীলিকা। 
পানিনি – পাণিনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮২৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1.  উচ্ছাষিত
  2.  উচ্ছোষিত
  3. উচ্ছ্বোষিত
  4. উচ্ছ্বাষিত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- উচ্ছোষিত। 
- শব্দটি বিশেষণ পদ। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- সম্পূর্ণরূপে শোষিত, শুষ্কীকৃত। 



উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৩০.
কোনটি শুদ্ধ বানান? 
  1. মধূসুদন
  2. মধুসূদন
  3. মধূসূদন
  4. মধুসুদন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - মধুসূদন
 - এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- মধু নামক অসুরকে বধকারী বিষ্ণু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৩১.
কোন বাক্যটি গুরুচন্ডালী দোষমুক্ত?
  1. ক) তার বাহিরে যাবার সময় হয়েছে
  2. খ) সে এখন স্কুলে যাবে
  3. গ) তার বিবাহ হয় নাই
  4. ঘ) তাহারা রওয়ানা হলো
ব্যাখ্যা
‘সে এখন স্কুলে যাবে’ গুরুচন্ডালী দোষমুক্ত বাক্য

গুরুচণ্ডালী দোষ:
গুরুচণ্ডালী দোষ তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এদোষে দুষ্টু শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন- গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ ।
কিন্তু যদি বলা হয় গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩২.
অশুদ্ধ বানান -
  1. প্রাণপণ
  2. জ্বরাজীর্ণ
  3. দারিদ্র্য
  4. তফাত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - জ্বরাজীর্ণ
এর শুদ্ধ বানান - জরাজীর্ণ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- বার্ধক্যের জন্য জীর্ণ ও দুর্বল।

অন্যদিকে,
তফাত, দারিদ্র্য, প্রাণপণ - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৩৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. জ্বরাজীর্ণ
  2. দুরাকাঙ্ক্ষা
  3. বিবাদমান
  4. প্রতিদ্বন্দ্বীতা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান, 'দুরাকাঙ্ক্ষা'।

- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = দুর্‌ঃ + আ + √ কাঙ্ক্ষ্‌ + অ + আ।
 অর্থ:
- দুর্লভ বস্তু লাভ করার আশা। 

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: জ্বরাজীর্ণ।
শুদ্ধ: জরাজীর্ণ।

অশুদ্ধ: বিবাদমান।
শুদ্ধ: বিবদমান।

অশুদ্ধ: প্রতিদ্বন্দ্বীতা
শুদ্ধ: প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৩৪.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. আমি সন্তুষ্ট হলাম।
  2. আমি এ ঘটনা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছি।
  3. বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ দেশ।
  4. 'গীতাঞ্জলি' একখানা কাব্যগ্রন্থ।
ব্যাখ্যা
'আমি এ ঘটনা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছি।' বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো: 'আমি এ ঘটনা  প্রত্যক্ষ করেছি।' / 'আমি এ ঘটনা চাক্ষুস দেখেছি।'

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
১,৮৩৫.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় কর-
  1. দুষ্কৃতকারী
  2. দুস্কৃতকারী
  3. দুস্কৃতিকারী
  4. দুষ্কৃতিকারী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

দুষ্কৃতকারী বানানটি শুদ্ধ।


উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১,৮৩৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিশিথিনী
  2. নীশিথিনী
  3. নিশীথিনী
  4. নিশিথিনি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: নিশীথিনী। 
- এটি বিশেষ্য পদ,
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- রাত্রি;
- রজনী (মধুর হল বিধুর হল মাধবী নিশীথিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৩৭.
_____ অনেকেই চাকরি হারাবার শঙ্কায় আছেন।
  1. কোম্পানীর
  2. কম্পানির
  3. কোম্পাণীর
  4. কোম্পাণির
  5. কোম্পানির
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: কোম্পানি।
- শিব্দটি বিশেষ্য পদ।
- ইংরেজি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ:
- এক বা একাধিক ব্যক্তির যৌথ উদ্যোগে গঠিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান।

সুতরাং শুদ্ধ বাক্য হবে- কোম্পানির অনেকেই চাকরি হারাবার শঙ্কায় আছেন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৩৮.
নিচের কোনটি ঠিক?
  1. ক) বালিকাটি সুন্দরী
  2. খ) মেয়েটি পাগলী
  3. গ) মেয়েটি বিদ্বান
  4. ঘ) মেয়েটি অস্থিরা
ব্যাখ্যা
সাধারণত বিশেষ্য পদের আগে বিশেষণ পদ বসে। কিন্তু বিশেষ্যের পরে বিশেষণ বসলে তাকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
আর বিধেয় বিশেষণ কখনো স্ত্রীবাচক হয় না।
তাই মেয়েটি পাগল, মেয়েটি সুন্দর, মেয়েটি অস্থির - এভাবে লিখলে শুদ্ধ হবে।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৩৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. জীগিষা
  2. জিগীষা
  3. জীগীষা
  4. জিগিষা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - জিগীষা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- জয়লাভ করার ইচ্ছা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৪০.
অশুদ্ধ বানান -
  1. জ্যোতিষ্মান
  2. ভূমণ্ডল
  3. আত্নস্থ
  4. ঋদ্ধিমান
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'আত্নস্থ'
- শব্দের শুদ্ধ বানান - 'আত্মস্থ'
শব্দটির অর্থ:
- আত্মগত; আত্মনিষ্ঠ, প্রকৃতিস্থ, আত্মসমাহিত, আত্মনিমগ্ন।

অন্যদিকে,
- ঋদ্ধিমান, ভূমণ্ডল এবং জ্যোতিষ্মান - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৪১.
"পুরষ্কার-বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত অপরিস্কার"। -বাক্যটির নিম্নরেখ পদে ষ/স ব্যবহারে-
  1. প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  2. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  3. দুটোই অশুদ্ধ
  4. দুটোই শুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যে পুরষ্কার ও পরিস্কার দুইটি বানানই অশুদ্ধ।
• বানানের শুদ্ধরূপ হলো: পুরস্কার ও পরিষ্কার।

----------------------
• নিয়ম:

• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৪২.
ভুল বানান কোনটি?
  1. ভূবন
  2. অন্তঃসার
  3. মুহূর্ত
  4. অদ্ভুত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে-
- ভূবন বানানটি সঠিক নয়।
- শুদ্ধ বানান: ভুবন। 

• ভুবন (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (√ ভূ + অন),
অর্থ: পৃথিবী, জগৎ। 

অন্যদিকে,
অন্তঃসার, মুহূর্ত ও অদ্ভুত বানানগুলো শুদ্ধ।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৪৩.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হয়েছি।
  2. অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
  3. সে কৌতূক করার কৌতুহল সম্বরণ করিতে পারিল না।
  4. অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য: 'অধ্যায়নই ছাত্রদের তপস্যা'।
শুদ্ধ বাক্য: 'অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।'

অন্যদিকে, 
অশুদ্ধ: অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার।
শুদ্ধ: অন্নাভাবে ঘরে ঘরে হাহাকার।

• অশুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হয়েছি।
শুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

• অশুদ্ধ বাক্য: সে কৌতূক করার কৌতুহল সম্বরণ করিতে পারিল না।
শুদ্ধ বাক্য: সে কৌতুক করার কৌতূহল সংবরণ করিতে পারিল না।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৪৪.
"ছেলেটি খুব ভয়ানক ভালো গান গায়।" - বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল রয়েছে?
  1. বাক্যগঠনজনিত ভুল
  2. শব্দের অপপ্রয়োগ
  3. বাচ্যজনিত ভুল
  4. ভুল নেই
ব্যাখ্যা

বাক্যটির প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ বিশ্লেষণ:
- “ভয়ানক” শব্দটি সাধারণত নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয় (যেমন ভয়ানক দুর্ঘটনা)।
এখানে,
ইতিবাচক অর্থে “ভয়ানক” ব্যবহার করা অনুচিত।
সঠিক বাক্যটি হবে - “ছেলেটি খুব চমৎকার গান গায়।”

সঠিক উত্তর: ক) শব্দের অপপ্রয়োগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৪৫.
‘কুরান’ বানানে কেন মূর্ধন্য-ণ হবে না?
  1. শব্দগুলো তৎসম বলে
  2. বিদেশি বা অতৎসম শব্দে ‘ণ’ হয় না
  3. র-কারের নিয়ম এখানে খাটে না
  4. শব্দগুলো বিশেষ্য পদ বলে
ব্যাখ্যা

• বিদেশি বা অতৎসম বানানে ণ হবে না। তার বদলে হবে ন। 
যেমন:
- অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে।
যেমন:
- মাণিক্য, গণ, লবণ, বেণু, কঙ্কণ, কল্যাণ, শোণিত, মণি ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি অভিধান।

১,৮৪৬.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. অতিশয় দুঃখিত হলাম।
  2. ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
  3. অতিলোভে তাতী নষ্ট।
  4. কথাটি সঠিক নয়।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
শুদ্ধ বাক্য: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

অন্যদিকে:
অশুদ্ধ বাক্য: অতিশয় দুঃখিত হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।

অশুদ্ধ বাক্য: কথাটি সঠিক নয়।
শুদ্ধ বাক্য: কথাটি ঠিক নয়।

অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮৪৭.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?  
  1. অধিকারীত্ব
  2. অধিকারিণী 
  3. বিলাসিনী
  4. অপক্ষপাতিত্ব  
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান- অধিকারীত্ব ।
- শুদ্ধ বানান- অধিকারিত্ব।

• অধিকারিত্ব- 
- পদ: বিশেষ্য।
- বিশেষ্যের প্রকার: ভাববাচক / গুণবাচক বিশেষ্য।
- প্রকৃতি–প্রত্যয়:
- প্রকৃতি: অধিকার; প্রত্যয়: ত্ব (তদ্ধিত প্রত্যয়)।
- অর্থ:
• অধিকারের অবস্থা;
• মালিকানা;
• আইনি দাবি বা স্বীকৃত অধিকার। 
---------------------------- 
নিয়ম: 
- কোনো শব্দের শেষে যদি দীর্ঘ ঈ-কার থাকে এবং শব্দটি যদি ‘ইন’ ভাগান্ত হয়, তবে সেই শব্দের পরে ত্ব / তা / নি ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের শেষের দীর্ঘ ঈ-কার পরিবর্তিত হয়ে হ্রস্ব ই-কার হয়ে যায়।
- এটি বাংলা বানানরীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।

- উদাহরণ—
• অধিকারী → অধিকারিণী
• অধিকারী → অধিকারিত্ব,
• বিলাসী → বিলাসিনী,
• অপক্ষপাতী → অপক্ষপাতিত্ব,
• মনোযোগী → মনোযোগিতা।
- এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল শব্দের শেষে দীর্ঘ ঈ-কার থাকলেও প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় তা হ্রস্ব ই-কারে রূপান্তরিত হয়েছে।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

১,৮৪৮.
'সকল সুধীমণ্ডলী উপস্থিত আছেন' বাক্যটি কোন কারনে অশুদ্ধ?
  1. ক) গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. খ) বাহুল্য দোষ
  3. গ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. ঘ) দুর্বোধ্যতা
ব্যাখ্যা
'সকল সুধীমণ্ডলী উপস্থিত আছেন' বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ ঘটেছে। 
এর সঠিক রূপ - সুধীমণ্ডলী উপস্থিত আছেন।

বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন অথবা দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৯.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. দুর্ণীতি
  2. দুল্যোক
  3. বিভুতিভূষণ
  4. হীনমন্য
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপশনের প্রথম চারটি বানানই ভুল তাই উত্তর হবে কোনোটিই নয়।

- অশুদ্ধ বানান: দুর্ণীতি।  
- শুদ্ধ বানান:দুর্নীতি।

- অশুদ্ধ বানান: দুল্যোক। 
- শুদ্ধ বানান: দ্যুলোক। 

- অশুদ্ধ বানান: বিভুতিভূষণ। 
- শুদ্ধ বানান: বিভূতিভূষণ।

- অশুদ্ধ বানান: হীনমন্য। 
- শুদ্ধ বানান: হীনম্মন্যতা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৫০.
“উষা” - শব্দটি কোন ধরনের বানান-নিয়ম অনুসারে লেখা হয়?
  1. অতৎসম শব্দ
  2. তৎসম শব্দ
  3. বিদেশি শব্দ
  4. দেশি শব্দ 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃতের যথাযথ বানানে লিখতে হবে।
তবে, যে-সব বানানে মূল সংস্কৃত ই-কার ও ঈ- কার এবং উ-কার ও উ-কার উভয়ই শুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে বানানগুলোতে শুধু ই-কার এবং উ- কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
- সংস্কৃতে পদবী ও পদবি দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে বাংলায় 'পদবি' গৃহীত হবে।
- সংস্কৃতে ঊষা ও উষা দুটোই শুদ্ধ বানান। এক্ষেত্রে 'উষা' গৃহীত হবে।
এ-রকম আরো উদাহরণ: কিংবদন্তি, শ্রেণি, খঞ্জনি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, ভঙ্গি, মঞ্জুরি, মসি, লহরি, সরণি, সূচি, উর্ণা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, লাইভ এমসিকিউ লেকচার; ভাষা শিক্ষা- ড.  হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৮৫১.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি সঠিক?
  1. কর্ম্ম
  2. অর্জন
  3. মূর্চ্ছা
  4. ঊর্দ্ধ
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে শুদ্ধ বানান - অর্জন।

প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:

- রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন,
- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কর্ম্ম, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে-অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৫২.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অশ্রুতপুর্ব
  2. ইতপূর্বে
  3. শুশ্রূষা
  4. মরুদ্যান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - শুশ্রূষা।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়- [শুশ্রূষা+√কৃ+ইন্+ঈ]
অর্থ: পরিচর্যা, সেবা।

অন্যান্য বানানের শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: অশ্রুতপূর্ব।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: পূর্বে কখনো শোনা যায়নি এমন।

শুদ্ধ বানান: ইতঃপূর্বে,
- ‘ইতঃ’ সংস্কৃত এবং ‘পূর্ব’ বাংলা শব্দ।
- অর্থ: এর আগে।

• শুদ্ধ বানান - মরূদ্যান,
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = (মরু + উদ্যান),
অর্থ: মরুভূমিতে অবস্থিত জল ও বৃক্ষদিপূর্ণ স্থান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৫৩.
শুদ্ধ বাক্য নয় কোনটি?
  1. ক) পরের কাঁধে বন্দুক রেখে শিকার
  2. খ) ক্ষমা একটি মহৎ গুণ
  3. গ) অন্নাভাবে প্রতি ঘরে ঘরে হাহাকার
  4. ঘ) যার লাঠি, তার মাটি
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য -
অন্নাভাবে প্রতি ঘরে হাহাকার।
পরের কাঁধে বন্দুক রেখে শিকার।
ক্ষমা একটি মহৎ গুণ৷
যার লাঠি, তার মাটি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,৮৫৪.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নির্মূলীকরন
  2. নির্মুলীকরণ
  3. নির্মূলিকরণ
  4. নির্মূলীকরণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'নির্মূলীকরণ' - শুদ্ধ বানান।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৫৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. আনুষঙ্গিক
  2. অনুষাঙ্গিক
  3. আনুসাঙ্গিক
  4. আনুষাঙ্গিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - আনুষঙ্গিক
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- সংশ্লিষ্ট; প্রাসঙ্গিক,
- গৌণ, অপ্রধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৫৬.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. কেবলমাত্র গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।
  2. প্রতিযোগীতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।
  3. সব পাখি নীড় বাঁধে না।
  4. সারাজীবন ভূতের মজুরি খেটে গেলাম।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: সব পাখি নীড় বাঁধে না

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: কেবলমাত্র গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।
শুদ্ধ বাক্য: কেবল গায়ের জোরে সব কাজ হয় না।

অশুদ্ধ বাক্য: প্রতিযোগীতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।
শুদ্ধ বাক্য: প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই।

অশুদ্ধ বাক্য: সারাজীবন ভূতের মজুরি খেটে গেলাম।
শুদ্ধ বাক্য: সারাজীবন ভূতের বেগার খেটে গেলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮৫৭.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অপাংক্তেয়
  2. অপাঙ্‌ক্তয়
  3. অপাক্তেয়
  4. অপাঙ্‌ক্তেয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'অপাঙ্‌ক্তেয়'
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি বিশেষণ পদ।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: ন + পঙ্‌ক্তি + এয়।
এর অর্থ:
- একসারিতে বসার অযোগ্য,
- অসমকক্ষ,
- সমাজচ্যুত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৫৮.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) অঙ্কুর
  2. খ) অগ্নিনীর্বাপক
  3. গ) আকর্ষণীয়
  4. ঘ) আকাশচুম্বী
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - অগ্নিনীর্বাপক
• শুদ্ধ - অগ্নিনির্বাপক
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- অগ্নি+নির্বাপক
অর্থ: আগুন নেভায় এমন, দমকলকর্মী।

অঙ্কুর, আকর্ষণীয়, আকাশচুম্বী ইত্যাদি শুদ্ধ বানান।

উৎস: বংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৫৯.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. স্বায়ত্বশাসন
  2. সতন্ত্র
  3. সান্তনা
  4. স্বাচ্ছন্দ্য
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- স্বাচ্ছন্দ্য।
- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত পদ। 
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: স্বচ্ছন্দ + য। 

অর্থ:
- স্বচ্ছন্দতা।
- বাধাহীনতা।
- সুস্থতা।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• স্বায়ত্বশাসন - স্বায়ত্তশাসন। 
• সতন্ত্র - স্বতন্ত্র। 
• সান্তনা- সান্ত্বনা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৬০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) অধ্যয়নরত
  2. খ) অঙ্কশাস্ত্র
  3. গ) অননুজ্ঞাত
  4. ঘ) অনাধিকারপ্রবেশ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - অনাধিকারপ্রবেশ
•  শুদ্ধ - অনধিকারপ্রবেশ 
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়: ন+অধিকার+প্রবেশ
অর্থ: কোনো স্থানে অননুমোদিত প্রবেশ।

অন্যদিকে,
অধ্যয়নরত, অঙ্কশাস্ত্র, অননুজ্ঞাত বানান গুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৬১.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. শিরোপীড়া
  2. শিরঃপীড়া
  3. শিরপীড়া
  4. শিরোঃপীড়া
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: শিরঃপীড়া।
- এটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: (শিরস্‌ + √পীড়্‌ + অ +আ)।
অর্থ:
- মাথাব্যথা,
- উদ্‌বেগের বিষয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৬২.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অগ্রসরন
  2. অনীক
  3. আভ্যন্তরীণ
  4. শিহরণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'অনীক' বানানটি শুদ্ধ।

• 'অনীক' অর্থ:
- সৈন্যদল, সৈনিক।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান,
অগ্রসরন - অগ্রসরণ;
• আভ্যন্তরীণ - অভ্যন্তরীণ;
• শিহরণ - শিহরন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৬৩.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. দুরূহ
  2. হিরন্ময়
  3. আহারি
  4. আলস্যতা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - দুরূহ। 
অর্থ: অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, দুর্বোধ্য, তর্কদ্বারা মীমাংসা কঠিন এমন।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• আহারী (বিশেষণ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: ভোজন কারী, ভোজনরসিক, ভোজনপটু্।

• হিরণ্ময়,
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় =[হিরণ্য+ময়ট্]
অর্থ: স্বর্ণবর্ণ, সোনালি, সোনার তৈরি।

• অলসতা, 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় - (অলস+তা)।
অর্থ: কুঁড়েমি, জড়তা, শ্রমবিমুখতা।
১,৮৬৪.
নিচের কোনটি সঠিক বানান?
  1. ক্ষুৎপিড়ীত
  2. ক্ষুতপীড়িত
  3. ক্ষুৎপীড়িত
  4. ক্ষুৎপিড়িত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
শুদ্ধ বানান — 'ক্ষুৎপীড়িত'।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষণ পদ।
- প্রকৃতি প্রতয়: ক্ষুৎ + √ পীড়্‌ + ত।
শব্দের অর্থ: 
- ক্ষুধায় কাতর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৬৫.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ওষুদ
  2. অষুধ
  3. ঔষধ
  4. ঔষুধ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - ঔষধ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- রোগ নিরাময় ও প্রতিরোধের জন্য প্রযুক্ত দ্রব্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৬৬.
নতুন পৃথিবী সৃষ্টির পাথেয় এই তারুণ্যের ______।
  1. উচ্ছ্বাশ
  2. উচ্ছ্বাস
  3. উচ্ছাস
  4. উৎচ্ছাস
  5. উচ্ছ্বাষ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: উচ্ছ্বাস।
- শিব্দটি বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ:
- প্রবল আবেগ,
- উল্লাস,
- বিকাশ,
- স্ফুরণ।

সুতরাং শুদ্ধ বাক্য হবে- নতুন পৃথিবী সৃষ্টির পাথেয় এই তারুণ্যের উচ্ছ্বাস।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৬৭.
তৎসম শব্দের নিয়মানুযায়ী কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) প্রণব
  2. খ) প্রণয়
  3. গ) প্রণাম
  4. ঘ) প্রয়ান
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দে 'প্র, পরি, নির' প্রভৃতি উপসর্গের পর কতকগুলো শব্দের 'দন্ত্য- ন' পরিবর্তিত হয়ে মূর্ধন্য- ণ' হয়। 
যেমন- প্রণব, প্রণয়, প্রণাম, প্রয়াণ, প্রাণ, প্রণোদন ইত্যাদি।  

• সে অনুসারে, 'প্রয়ান' এর শুদ্ধ বানান হবে- 'প্রয়াণ'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
১,৮৬৮.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
  2. সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  3. আমি অপমানিত হয়েছি।
  4. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।

অন্যদিকে,
- আমি অপমানিত হয়েছি।
- সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।
- আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।
উপরিউক্ত বাক্যগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮৬৯.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
  2. বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ। 
  3. আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যের জায়গায় বিশেষণের কিংবা বিশেষণের বাহুল্য প্রয়োগজনিত ভুল:
বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত বিশেষ্য পদকে বিশেষণ কিংবা বিশেষণ পদকে বিশেষ্য ভেবে পদ পরিবর্তন করে এ ধরনের ভুল করা হয়। যেমন : আবশ্যক শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বদলে -ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো- 
• অশুদ্ধ : অনাবশ্যকীয় ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।
• শুদ্ধ বাক্য: অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়।

• অশুদ্ধ: বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ। 
• শুদ্ধ বাক্য: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ।

• অশুদ্ধ: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দিহান।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি তোমার অপরাধ সম্পর্কে নিঃসন্দেহ।

উল্লিখিত প্রশ্নের সকল অপশন অশুদ্ধ বাক্য। এখানে, কোনো শুদ্ধ বাক্য না থাকায় উত্তর - কোনোটিই নয় গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৮৭০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ধরন
  2. ধারনা
  3. গ্রহন
  4. প্রেরন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ধরন (বিশেষ্য),
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [√ধৃ + অন]
অর্থ: পদ্ধতি, প্রণালি, আকুতি, ভঙ্গি, চালচলন।

অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ রূপ হলো:
• শুদ্ধ বানান: গ্রহণ (বিশেষ্য)।
অর্থ: প্রাপ্তি, পরিগ্রহ, স্বীকার, অবলম্বন, বরণ ইত্যাদি।

• শুদ্ধ বানান: প্রেরণ (বিশেষ্য)।
অর্থ: প্রেষণ, নিয়োগ, প্রণোদন।

• শুদ্ধ বানান: ধারণা (বিশেষ্য)।
অর্থ: বোধ, অনুমান, বিশ্বাস।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৭১.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন:
  1. চূর্ণবিচূর্ণ
  2. চুর্ণবিচুর্ণ
  3. চুর্নবিচূর্ণ
  4. চুর্ণবিচূর্ণ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - চূর্ণবিচূর্ণ
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- সম্পূর্ণ চূর্ণিত,
- ম্পূর্ণ বিনষ্ট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৭২.
সাধু ভাষায় কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) এখানে সে ফিরে আসেনি
  2. খ) সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
  3. গ) তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন
  4. ঘ) তুমি তার কথা বিশ্বাস করো না
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সাধু ভাষার শুদ্ধ বাক্যটি - সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না।
১,৮৭৩.
'দৈন্যতা' শব্দটি অশুদ্ধ কেন? 
  1. সমাসজনিত
  2. বাচ্যজনিত
  3. সন্ধিজনিত 
  4. বাহুল্য দোষে দুষ্ট
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

বানান শুদ্ধি:
- 'দৈন্যতা' শব্দটি মূলত বাহুল্য দোষে দুষ্ট।
- 'দীন' বা 'দৈন' শব্দের সাথে 'য' প্রত্যয় (দীন+য = দৈন্য) যোগ করে বিশেষ্য পদ তৈরি হয়েছে।
- এটি অভাব বা দরিদ্র অবস্থাকে বোঝায়। এর  সাথে পুনরায় 'তা' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্যতা' (দৈন্য+তা) শব্দ তৈরি করা হলে একই অর্থের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাই 'দৈন্যতা শব্দটি ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ। 
- এর সঠিক রূপ- দৈন্য বা দীনতা। 

উৎস:
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান;
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১,৮৭৪.
কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
  2. এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - সবগুলোই। উপরিউক্ত অপশনে সবগুলো বাক্যই অশুদ্ধ।

অশুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ বাক্য: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অশুদ্ধ বাক্য: এটা অপক্ক হাতের লেখা।
শুদ্ধ বাক্য: এটা কাঁচা হাতের লেখা।

অশুদ্ধ বাক্য: সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
শুদ্ধ বাক্য: সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৮৭৫.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ভাষন
  2. ভাষণ
  3. ভাসন
  4. ভাসণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- ভাষণ।
- এটি বিশেষ্য পদ,
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

অর্থ:
- উক্তি; বাক্য; বচন।
- বিবৃতি; বক্তৃতা (সভাপতির ভাষণ)।
- টীকা; ভাষ্য।

উৎস: অভিগম্য অভিধান।
১,৮৭৬.
কোনটি শুদ্ধ শব্দ?
  1. আপদমস্তক
  2. আপাদমস্তক
  3. আপদমস্ত
  4. আপাদমস্ত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'আপাদমস্তক'
- সংস্কৃত শব্দ।
- ক্রিয়া বিশেষণ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: আপাদ + মস্তক।
  অর্থ:
- পা থেকে মাথা পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৭৭.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. ইহার আবশ্যক নেই।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
  4. যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য: যুক্তি খণ্ডিত হয়েছে, তবে মুক্তি মেলেনি

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নেই।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৮৭৮.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. কণ্টক
  2. প্রচণ্ড
  3. লুণ্ঠন
  4. ধরণ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: ধরণ।
• শুদ্ধরূপ: ধরন।

• মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার:
- অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না।
যেমন:
অঘ্রান, ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন।

- তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়।
যেমন:
কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।

- কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে।
যেমন:
গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৭৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. দরিদ্রতা
  2. স্বত্ত্ব
  3. শিরশ্ছেদ
  4. সমীচীন
ব্যাখ্যা
• 'স্বত্ত্ব' বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধরূপ হবে - 'স্বত্ব'।
----------------------
• 'স্বত্ব'- বিশেষ্য শব্দ। 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- যার অর্থ: বিষয়সম্পত্তি ব্যবসায় প্রভৃতিতে অধিকার বা মালিকানা (গ্রন্থস্বত্ব)। 

• অন্যদিকে, 
অপশন ৩টি শব্দ - 'শিরশ্ছেদ, দরিদ্রতা, সমীচীন' শুদ্ধ।
==============
• শিরশ্ছেদ (বিশেষ্য): 
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে শিরোশ্‌ছেদ।
অর্থ: দেহ থেকে মাথা ছিন্নকরণ।
-------------------
দরিদ্রতা (বিশেষ্য):
অর্থ: অসচ্ছলতা, নির্ধনতা ইত্যাদি।

এই শব্দটির অন্য শুদ্ধরূপ - 'দারিদ্র্য'। এটিও বিশেষ্য পদ।
তাই এর সাথে 'তা' প্রত্যয় যোগ করা সঠিক নয়। কারণ পূর্বেই দারিদ্র্য (দারিদ্র্য = দরিদ্র + য) শব্দটির সাথে একটি প্রত্যয় যোগ করা হয়েছে।
-------------------
সমীচীন (বিশেষণ):
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ: সংগত, উপযুক্ত, উত্তম।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৮০.
শুদ্ধ বানান -
  1. অহোরাত্র
  2. অহোরাত্রী
  3. অহরাত্র
  4. অহরাত্রী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'অহোরাত্র'
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- ক্রিয়া বিশেষণ পদ।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: অহন্‌ + রাত্রি।
অর্থ: 
- এক সূর্যোদয় থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত কালপর্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৮১.
সঠিক বানান নির্ণয় করুন-
  1. দুরাকাঙ্ক্ষা
  2. দুরকাঙ্খা
  3. দুরাকাংক্ষা
  4. দুরাকাঙ্খা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• শুদ্ধ বানান: 'দুরাকাঙ্ক্ষা'।
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = দুর্‌ঃ + আ + √ কাঙ্ক্ষ্‌ + অ + আ।
অর্থ:
- দুর্লভ বস্তু লাভ করার আশা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৮২.
তা-প্রত্যয়যোগে কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. উৎকর্ষতা
  2. মৈত্রতা
  3. সরলতা
  4. আলস্যতা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - সরলতা

• ‘তা’, ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’, ‘ত্ব’ বা 'য' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

অন্যদিকে:
• শুদ্ধ বানান - 'অলসতা'
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- কুঁড়েমি, জড়তা, শ্রমবিমুখতা।

• শুদ্ধ বানান - 'মিত্রতা'
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সখ্য,
- সৌহার্দ্য।

• শুদ্ধ বানান - 'উৎকৃষ্টতা'
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- উওম, শ্রেষ্ঠ, উন্নত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৮৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. মাস্টার
  2. তৃণ
  3. গভর্ণর
  4. প্রণয়
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা হবে না।
যেমন- অঘ্রান, ঝরনা, গভর্নর, হর্ন। 

এখানে, 'গভর্ণর' বিদেশি শব্দ। তাই এর শুদ্ধ বানান হবে- 'গভর্নর'। 

অন্যদিকে,
• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• - পরি, প্র, নির- এই তিনটি উপসর্গের পর ণত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি মূর্ধন্য ণ হয়। 
যেমন- প্রণয়, প্রণাম।

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৮৪.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ? 
  1. আকাঙ্খা 
  2. উচ্ছ্বাস 
  3. মূর্ছা
  4. ঈদৃশ 
ব্যাখ্যা

- ‘আকাঙ্খা’ বানানটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ রূপ হলো ‘আকাঙ্ক্ষা’।
- ‘আকাঙ্ক্ষা’ একটি বিশেষ্য পদ এবং সংস্কৃত উৎসজাত শব্দ। 
- ‘আকাঙ্ক্ষা’ শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো আঙ্ক্ষ (আঙ+কাঙ্ক্ষা) বা সংস্কৃত নিয়ম অনুযায়ী অ + কাঙ্ক্ষ + অ (আ+কাঙ্ক্ষ+অ)।
- এটি মূলত একটি কৃদন্ত পদ, যা 'আ' (আঙ) উপসর্গের সাথে 'কাঙ্ক্ষ' ধাতুর যোগে গঠিত হয়েছে। 
- আকাঙ্ক্ষা শব্দের অর্থ হলো তীব্র ইচ্ছা, কামনা, বাসনা, সাধ, অভিলাষ বা প্রত্যাশা।
---------------------- 
অন্যদিকে,
- উচ্ছ্বাস, মূর্ছা, ঈদৃশ- শব্দগুলোর বানান সঠিক। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান

১,৮৮৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. উদ্ধূত
  2. উদ্বুত
  3. ঊদ্ভুত
  4. উদ্ভূত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - উদ্ভূত। 
 - এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি একয়ও সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- উৎপন্ন, জাত, সৃষ্ট।
- প্রকাশিত, উদিত, উদ্‌গত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৮৬.
নিচের কোন বাক্যে তা-প্রত্যয়ের অপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. মেয়েটির সরলতায় আমি মুগ্ধ।
  2. একতাই বল।
  3. আলস্যতা ভালো গুণ নয়।
  4. চনাটির উৎকৃষ্টতা অনস্বীকার্য। 
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য: আলস্যতা ভালো গুণ নয়।
• শুদ্ধরূপ: অলসতা ভালো গুণ নয়।

বাক্যে প্রদত্ত ‘অলস্যতা’ শব্দে তা-প্রত্যয়ের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।
            
এরূপ কিছু অশুদ্ধ মব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৮৮৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) বিদ্যজ্জন
  2. খ) ন্যূন
  3. গ) ক্বচিৎ
  4. ঘ) সিন্দূর
ব্যাখ্যা
‘বিদ্যজ্জন’ বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ রূপ হবে ‘বিদ্বজ্জন’।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৮৮৮.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) অনূদিত
  2. খ) অনূর্ধ্ব
  3. গ) অনূড়
  4. ঘ) প্রনাম
ব্যাখ্যা
অনূড় শব্দের অর্থ- বিবাহিত নয় এমন।
প্রনাম বানানটি সঠিক নয়
সঠিক বানান: প্রণাম।
বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
তৎসম শব্দে 'প্র', পরি, 'নির' প্রভৃতি উপসর্গের পর কতকগুলো শব্দের দন্ত্য- ন পরিবর্তিত হয়ে মুর্ধন্য- ণ হয়। 
যেমন:
প্র- প্রণাম, প্রমাণ,
পরি- পরিমাণ,পরিণয়, পরিণত
নির- নির্ণয়, নির্বাণ, নির্মাণ

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।  
১,৮৮৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. কিম্বদন্তী
  2. কিঞ্চিত
  3. কুৎসিৎ
  4. কূটনীতি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: কূটনীতি। 
- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- পররাষ্ট্রবিষয়ে কৌশলপূর্ণ নীতি।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• কিম্বদন্তী - কিংবদন্তি। 
• কিঞ্চিত - কিঞ্চিৎ। 
• কুৎসিৎ - কুৎসিত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৯০.
বাংলা একাডেমি কোন বছরে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে?
  1. ২০০০
  2. ১৯৯২
  3. ১৯৯০
  4. ১৯৮০
ব্যাখ্যা
•  প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম চালু করেন- বাংলা একাডেমি।
- বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে ১৯৯২ সালে। 

• বাংলা একাডেমি প্রমিত বানানের নিয়ম: 
- বাংলা একাডেমি ড. আনিসুজ্জামানকেই সভাপতি করে বানানের নিয়মগুলো সূত্রবদ্ধ করার জন্য কমিটি গঠন করে।
- এ কমিটি বিশ্বভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রবর্তিত পাঠ্য বইয়ের বানানরীতিকে সমন্বিত করে
- একটি অভিন্ন বানানের নিয়ম নির্ধারণ করেন, যা বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' বলে পরিচিত।
- যার প্রথম প্রকাশ ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর এবং পরিমার্জিত সংস্করণ ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি।
- উক্ত নিয়ম অনুসরণ করে একই কমিটির অন্যতম সদস্য জামিল চৌধুরী প্রণয়ন করেন 'বাংলা বানান-অভিধান'। 
- ১৯৯৪ সালের জুনে বাংলা একাডেমি এটি প্রকাশ করে।
- বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য বাংলাদেশের সমসাময়িক সাহিত্য এবং পত্র-পত্রিকায় ওই বানানকে 'প্রমিত' হিসেবে গণ্য করা হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৮৯১.
শুদ্ধ বানানে লিখিত শব্দ কোনটি?
  1. পূজো
  2. জমিদারী
  3. পূব
  4. কেরামতি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানানে লিখিত শব্দ- কেরামতি।

• (ই, উ) ব্যবহারের নিয়ম:

সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন হিসেবে ‘ ি-কার’ ও ‘ু-কার’ ব্যবহৃত হবে। যেমন:
আরবি, আসামি, ইংরেজি, ইরানি, উনিশ, ওকালতি, কাহিনি, কুমির, কেরামতি, খুশি, খেয়ালি গাড়ি, গোয়ালিনি, চাচি, জমিদারি, জাপানি, জার্মানি, টুপি, তরকারি, দাড়ি, দাদি, দাবি, দিঘি, দিদি, নানি নিচু, পশমি, পাখি, পাগলামি, পাগলি, পিসি, ফরাসি, ফরিয়াদি, ফারসি, ফিরিঙ্গি, বর্ণালি, বাঁশি, বাঙালি, বাড়ি, বিবি, বুড়ি, বেআইনি, বেশি, বোমাবাজি, ভারি (অত্যন্ত অর্থে), মামি, মালি, মাসি, মাস্টারি, রানি, রুপালি, রেশমি, শাড়ি, সরকারি, সিন্ধি, সোনালি, হাতি, হিজরি, হিন্দি, হেঁয়ালি।

- চুন, পুজো, পুব, মুলা, মুলো।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৯২.
গুরুচণ্ডালী দোষ মুক্ত বাক্য কোনটি?
  1. তাহার বাহিরে যাবার সময় হয়েছে
  2. সে স্কুলে যাবে
  3. তার বিবাহ হইলো না
  4. তাহারা রওনা হলো
ব্যাখ্যা
- "সে স্কুলে যাবে।" গুরুচণ্ডালী দোষ মুক্ত বাক্য ।
- বাক্যটি চলিত ভাষায় রচিত।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: তাহার বাহিরে যাবার সময় হয়েছে।
- শুদ্ধ: তাহার বাহিরে যাবার সময় হইয়াছে।

- অশুদ্ধ: তার বিবাহ হইলো না ।
- শুদ্ধ: তাহার বিবাহ হইলো না।

- অশুদ্ধ: তাহারা রওনা হলো।
- শুদ্ধ: তাহারা রওনা হইলো।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৮৯৩.
কোন বানানগুচ্ছ শুদ্ধ?
  1. সত্তেও, সত্তা
  2. অভ্যুথান, বিদ্ব্যান
  3. শুশ্রূষা, বিকেন্দ্রীকরণ
  4. বস্তুত, নিরিক্ষন
ব্যাখ্যা

সঠিক বানানগুচ্ছ হলো - শুশ্রূষা; বিকেন্দ্রীকরণ।
---------------

• অভ্যুথান - অভ্যুত্থান;
• বিদ্ব্যান - বিদ্বান।
- 'নিরিক্ষন' এর শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে নিরীক্ষণ।

ক) সত্তেও, সত্তা:
- সত্তেও — শুদ্ধ নয়; শুদ্ধ হবে: সত্ত্বেও
- সত্তা শুদ্ধ হলেও একটি ভুল থাকায় পুরো গুচ্ছটি অশুদ্ধ।
 
খ) অভ্যুথান, বিদ্ব্যান:
- অভ্যুথান — শুদ্ধ হবে - অভ্যুত্থান;
- বিদ্ব্যান — শুদ্ধ হবে বিদ্বান;
→ এখানে, দুটোই ভুল।

ঘ) বস্তুত, নিরিক্ষন:
- বস্তুত — শুদ্ধ।
- নিরিক্ষন — শুদ্ধ হবে - নিরীক্ষণ;
→ একটি ভুল থাকায় অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৯৪.
'দারিদ্রতা' শব্দটি অশুদ্ধ কেন?
  1. ক) প্রত্যয়ের দ্বিত্যজনিত কারণে
  2. খ) উপসর্গজনিত কারণে
  3. গ) কারকজনিত কারণে
  4. ঘ) অনুসর্গজনিত কারণে
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী অভিধান অনুসারে দারিদ্রতা বানানটি অশুদ্ধ।
সঠিক বানান সম্বলিত এরূপ শব্দ হলো দরিদ্র, দারিদ্র্য, দরিদ্রতা, দারিদ্র।

'দারিদ্র্য' শব্দটার সাথে তা প্রত্যয় যোগ করা সঠিক নয়।
কারণ পূর্বেই দারিদ্র্য (দারিদ্র্য = দরিদ্র + য) শব্দটির সাথে একটি প্রত্যয় যোগ করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত অন্যান্য শব্দ:
দরিদ্র = বিশেষণ
দরিদ্রতা/দারিদ্র্য = বিশেষ্য

তথ্যসূত্র: প্রমিত বাংলা বানান-ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৮৯৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. বিশেষতঃ 
  2. বুভূক্ষু 
  3. ব্যাঙ্গ 
  4. শুশ্রূষা
ব্যাখ্যা

• সঠিক বানানটি হলো - শুশ্রূষা।
- এর অর্থ হলো - পরিচর্যা, সেবা।

অন্য অপশনের শুদ্ধ বানান:
বিশেষতঃ - বিশেষত;
বুভূক্ষু - বুভুক্ষু;
ব্যাঙ্গ- ব্যঙ্গ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,৮৯৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. অপরাহ্ণ
  2. পরাহ্ণ
  3. পূর্বাহ্ণ
  4. প্রাহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
তৎসম শব্দে 'অপর, পরা, পূর্ব, প্রা' ইত্যাদি উপসর্গের সঙ্গে 'অহ্ন' প্রত্যয় যুক্ত হলে 'অহ্ন' শব্দের 'দন্ত- ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমন-
অপরাহ্ণ, পরাহ্ণ, প্রাহ্ণ, পূর্বাহ্ণ ইত্যাদি।

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- 'প্রাহ্ন' বানানটি শুদ্ধ নয়।
- এর শুদ্ধ বানান- 'প্রাহ্ণ'।

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান;
- প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৮৯৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. শারিরীক
  2. শারীরীক
  3. শারীরিক
  4. শারিরিক
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
শুদ্ধ বানান- শারীরিক।

অর্থ:
- শরীরবিষয়ক।

উৎস:
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৯৮.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. সান্ত্বনা
  2. মরূদ্যান
  3. পৈতৃক
  4. বুৎপত্তি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'বুৎপত্তি
- এর শুদ্ধ বানান - 'ব্যুৎপত্তি'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- গভীর জ্ঞান,
- পারদর্শিতা।

অন্যদিকে,
- পৈতৃক, মরূদ্যান এবং সান্ত্বনা - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,৮৯৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ধুর্ত
  2. দ্বন্দ
  3. ধূলিস্যাৎ
  4. ধুমপান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ধূলিস্যাৎ,
- বিশেষণ পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- মাটিতে পরিণত। 

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
দ্বন্দ - দ্বন্দ্ব। 
ধুমপান - ধূমপান। 
ধুর্ত - ধূর্ত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১,৯০০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ নয়?
  1. ক) বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) পক্ব
  3. গ) চট্রোপাধ্যায়
  4. ঘ) সংশয়
ব্যাখ্যা
বন্দ্যোপাধ্যায়, পক্ব ও সংশয় - বানান ৩টি শুদ্ধ।

বাংলা একাডেমী অভিধান অনুসারে,
- বন্দ্যোপাধ্যায় (বিশেষ্য পদ) = কুলীন ব্রাহ্মণের উপাধিবিশেষ, বাঁড়ুয্যে।
- পক্ব (বিশেষণ):
অর্থ: শাদা (পক্ব কেশ); পাকা; কাঁচার বিপরীত (পক্বফল); পরিণত; পটু (পক্ববুদ্ধি)।
- সংশয় (বিশেষ্য পদ) = সন্দেহ, দ্বিধা, দ্বৈধজ্ঞান; অবিশ্বাস; ভয়।
==========
চট্রোপাধ্যায় বানানটি ভুল।
এর শুদ্ধরূপ = চট্টোপাধ্যায়।

চট্টোপাধ্যায় (বিশেষ্য) = বাঙালি ব্রাহ্মণের পদবিবিশেষ; চাটুয্যে; চাটুজ্যে; চ্যাটার্জি।