বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

চৌম্বক ও চৌম্বকত্ব

মোট প্রশ্ন১১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

চৌম্বক ও চৌম্বকত্ব

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ১১৫

.
একটি আয়তাকার পরিবাহকের মধ্য দিয়ে X-অক্ষ বরাবর তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে এবং Y-অক্ষ বরাবর একটি সমসত্ত্ব চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে Z-অক্ষ বরাবর হল বিভব সৃষ্টি হলো। যদি উপরের পৃষ্ঠের বিভব নিচের পৃষ্ঠের বিভবের চেয়ে বেশি হয়, তবে আধান বাহক কেমন হবে?
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. পরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
ধনাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনাত্মক
ব্যাখ্যা

• হল প্রভাবের ক্ষেত্রে উপরের পৃষ্ঠের বিভব নিচের পৃষ্ঠের বিভবের চেয়ে বেশি হলে হল বিভব ধনাত্মক হয় এবং আধান বাহক ধনাত্মক।

• হল প্রভাব (Hall Effect):
- কোনো পরিবাহকের মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ প্রবাহিত অবস্থায় প্রবাহের লম্বভাবে চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে পরিবাহকের দুই পার্শ্বে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- এই বিভব পার্থক্যকে হল বিভব (Hall Voltage) এবং ঘটনাটিকে হল প্রভাব বলা হয়।

• অক্ষ ভিত্তিক ব্যাখ্যা:
- যদি X-অক্ষ বরাবর তড়িৎ প্রবাহিত হয়।
- Y-অক্ষ বরাবর চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করা হয়।
- তবে Z-অক্ষ বরাবর হল বিভব সৃষ্টি হয়।

• হল প্রভাবের কারণ:
- চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে প্রবাহিত আধান কণার উপর চৌম্বক বল ক্রিয়া করে।
- আধান কণাগুলি এক পার্শ্বে সঞ্চিত হয়।
- বিপরীত পার্শ্বে সমপরিমাণ বিপরীত আধান সঞ্চিত হয়।
- ফলে দুই পার্শ্বে বিভব পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

• আধানের প্রকৃতি নির্ণয়:
- যদি উপরের পৃষ্ঠের বিভব (Vb) নিচের পৃষ্ঠের বিভব (Va)-এর চেয়ে বেশি হয়, অর্থাৎ Vb > Va হয়।
- তবে VH = Vb – Va ধনাত্মক হবে।
- এ ক্ষেত্রে আধান বাহক ধনাত্মক।
- যদি Va > Vb হয়।
- তবে VH ঋণাত্মক হবে।
- এ ক্ষেত্রে আধান বাহক ঋণাত্মক।

• অর্ধপরিবাহকের ক্ষেত্রে হল প্রভাব:
- হল বিভব ধনাত্মক হলে আধান বাহক ধনাত্মক আধান (হোল)।
- এ ক্ষেত্রে অর্ধপরিবাহকটি P-টাইপ।
- হল বিভব ঋণাত্মক হলে আধান বাহক ইলেকট্রন।
- এ ক্ষেত্রে অর্ধপরিবাহকটি N-টাইপ।

• হল বিভবের রাশিমালা:
- হল বিভব চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতার উপর নির্ভরশীল।
- হল বিভব তড়িৎ প্রবাহের উপর নির্ভরশীল।
- হল বিভব আধান বাহকের ঘনত্বের উপর নির্ভরশীল।

• হল প্রভাবের প্রয়োগ:
- আধান বাহকের প্রকৃতি নির্ণয়।
- আধান বাহকের ঘনত্ব নির্ণয়।
- অর্ধপরিবাহকের ধরন নির্ণয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. রিমেনেন্স
  2. চৌম্বক ধারকতা 
  3. কুরি তাপমাত্রা
  4. চৌম্বক সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
কুরি তাপমাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরি তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

.
চুম্বকের আকর্ষণ শক্তি মূলত কোথায় বেশি কার্যকর? 
  1. চুম্বকের মাঝামাঝি অঞ্চলে
  2. চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
  3. চুম্বকের উত্তর মেরু অঞ্চলে
  4. চুম্বকের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

• চুম্বকের আকর্ষণ শক্তি মূলত চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে বেশি কার্যকর। চুম্বক একটি চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, যেখানে ক্ষেত্রের ঘনত্ব এবং লাইনগুলো প্রায়শই প্রান্তের দিকে ঘন হয়ে থাকে। এই কারণে, চুম্বকের মধ্যভাগে চৌম্বকীয় প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকে, কারণ সেখানে চৌম্বক ক্ষেত্রের লাইনগুলো সমানভাবে ছড়িয়ে থাকে। অন্যদিকে, চুম্বকের উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু বা প্রান্তগুলোতে চৌম্বক ক্ষেত্রের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় আকর্ষণ শক্তিও সর্বাধিক হয়। তাই যেকোনো লোহার বা চৌম্বকীয় পদার্থ চুম্বকের প্রান্তের দিকে স্থাপন করলে সর্বোচ্চ আকর্ষণ অনুভব করা যায়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: খ) চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে।

চুম্বক: 
- চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে। 
- যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদেরকে চুম্বক বলে। 
- প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক। 
- চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ। 
- যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

.
কাঁচা লোহার চৌম্বক প্রবণতা ইস্পাতের তুলনায় কেমন হয়?
  1. কম
  2. বেশি
  3. সমান
  4. চৌম্বক প্রবণতা শূন্য
সঠিক উত্তর:
বেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি
ব্যাখ্যা
•  চৌম্বক প্রবণতা (Magnetic Susceptibility) হলো একটি পদার্থ কতটা সহজে চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা চুম্বকিত হতে পারে, তার পরিমাপ। এটি পদার্থটির চৌম্বক হওয়ার সক্ষমতা নির্দেশ করে।

কাঁচা লোহা (Soft Iron):
-  কাঁচা লোহার ডোমেইনগুলোকে বহিঃচৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে সহজে বিন্যস্ত করে চুম্বকে পরিণত করা যায়।  কিন্তু চৌম্বকক্ষেত্রের অপসারণে এরা আবার বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ফিরে যায়।
-  ফলে এদের চুম্বকত্ব নষ্ট হয়ে যায়। এজন্যে কাঁচা লোহাকে কলিংবেলের মতো যেখানে অস্থায়ী চুম্বকের প্রয়োজন হয় সেখানে ব্যবহার করা হয়।

কাঁচা লোহার বৈশিষ্ট্য: 
-  অত্যন্ত উচ্চ চৌম্বক প্রবণতা সম্পন্ন। 
-  দ্রুত চৌম্বকিত হয় ও দ্রুতই চৌম্বকত্ব হারায়। 
-  চুম্বক তৈরির জন্য Temporary Magnet হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

অপরদিকে,
ইস্পাত (Steel):
-  ইস্পাতের ক্ষেত্রে ডোমেইনগুলো সহজে বিন্যস্ত হতে চায় না। এজন্য বেশ শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের প্রয়োজন হয় এবং একবার চুম্বকে পরিণত হলে সহজে চুম্বকত্ব হারায় না। এজন্যে ভালো স্থায়ী চুম্বক তৈরি করতে ইস্পাতের প্রয়োজন হয়।

ইস্পাতের বৈশিষ্ট্য: 
-  তুলনামূলকভাবে কম চৌম্বক প্রবণতা সম্পন্ন।
-  ধীরে চৌম্বকিত হয়, কিন্তু একবার চৌম্বক হলে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
-  ব্যবহৃত হয় Permanent Magnet তৈরিতে। 

অতএব, কাঁচা লোহা ইস্পাতের তুলনায় অনেক বেশি সহজে চৌম্বকিত হয়, অর্থাৎ কাঁচা লোহার চৌম্বক প্রবণতা বেশি।

তথ্যসূত্র: 
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. শাহজাহান তপন। 
- Encyclopaedia Britannica. 
.
শক্তিশালী চুম্বক তৈরীর জন্য কোন ধরনের চৌম্বক পদার্থ প্রয়োজন?
  1. ক) ফেরো-চৌম্বক পদার্থ
  2. খ) প্যারা-চৌম্বক পদার্থ
  3. গ) ডায়া-চৌম্বক পদার্থ
  4. ঘ) যে কোনো চৌম্বক পদার্থ
সঠিক উত্তর:
ক) ফেরো-চৌম্বক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফেরো-চৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরনের চৌম্বক পদার্থঃ
- প্যারা-চৌম্বক পদার্থঃ যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, এদেরকে প্যারা - চৌম্বক বলে। প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে।
যেমন - অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, পন্টিনিয়াম, টিন ইত্যাদি।
- ডায়া-চৌম্বক পদার্থঃ যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি।
- ফেরো-চৌম্বক পদার্থঃ যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
.
কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা সম্ভব?
  1. স্বর্ণ
  2. পিতল
  3. তামা
  4. ইস্পাত
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
যেমন- লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি অচৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
চুম্বকত্বের উপর সাধারণত কোন বাহ্যিক প্রভাব থাকতে পারে? 
  1. আয়তন 
  2. তাপমাত্রা 
  3. ভর 
  4. ঘনত্ব 
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা 
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এসকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম, কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
Which train does not touch the rail tracks?
  1. Electric train
  2. Coal powered train
  3. Magnetic train
  4. Diesel train
সঠিক উত্তর:
Magnetic train
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Magnetic train
ব্যাখ্যা
• ম্যাগনেটিক ট্রেন (Magnetic levitation train বা Maglev train) হলো এমন একটি ট্রেন যা চুম্বকের সাহায্যে রেললাইন থেকে একটু উপরে ভেসে চলে। এতে চাকা থাকে না এবং এটি রেললাইন স্পর্শ করে না।

- এটি ম্যাগনেটিক লেভিটেশন (Magnetic Levitation) প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলে, যেখানে চুম্বকের বিপরীত মেরু একে অপরকে ঠেলে দেয়, ফলে ট্রেনটি রেললাইন থেকে সামান্য উপরে উঠে ভেসে চলে।

• অপশন আলোচনা:
ক) Electric train – এটি বিদ্যুৎচালিত হলেও রেললাইন স্পর্শ করে চাকার মাধ্যমে চলে।

খ) Coal powered train – এটি কয়লা ব্যবহার করে এবং রেললাইন স্পর্শ করে চলে।

ঘ) Diesel train – এটি ডিজেল ব্যবহার করে এবং রেললাইন স্পর্শ করে চলে।

সঠিক উত্তর: গ) Magnetic train

সূত্র: ব্রিটানিকা।
.
চুম্বকের চারপাশে যে অঞ্চলে চৌম্বক বল অনুভূত হয় তাকে কী বলে?
  1. চুম্বক শক্তি
  2. চৌম্বক প্রবাহ
  3. চৌম্বক ক্ষেত্র
  4. চৌম্বক বল
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক ক্ষেত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক ক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

◉ চুম্বকের চারপাশে যে অঞ্চলে চৌম্বক বল অনুভূত হয় তাকে বলা হয় চৌম্বক ক্ষেত্র

চৌম্বক ক্ষেত্র:
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে।
- লম্বা সোজা পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করা হলে এর চারদিকে যে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তা চুম্বক শলাকার সাহায্যে চৌম্বক ক্ষেত্র রেখা (বা চৌম্বক আবেশ রেখা) অঙ্কিত করে দেখানো যায়। রেখাগুলিকে চৌম্বক বলরেখাও বলা হয়ে থাকে।
- লম্বা সোজা পরিবাহীর জন্য কোনো বিন্দুতে চৌম্বক ক্ষেত্রের মান (১) পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের সমানুপাতিক এবং (২) বিন্দু থেকে পরিবাহীর দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক।

- এটি একটি অদৃশ্য বল ক্ষেত্র, যা চুম্বকের চারপাশে বিস্তৃত থাকে।
- যখন কোনো চৌম্বকীয় বস্তু বা চার্জযুক্ত কণা এই অঞ্চলে প্রবেশ করে, তখন এটি চৌম্বক বলের প্রভাব অনুভব করে।
- চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্ধারণ করা হয় উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুর দিকে।
- টেসলা হচ্ছে চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু কোন দিককে নির্দেশ করে? 
  1. পূর্ব দিক
  2. পশ্চিম দিক
  3. দক্ষিণ দিক
  4. উত্তর দিক
সঠিক উত্তর:
উত্তর দিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর দিক
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকেই চুম্বক আকর্ষণ করে তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট এবং অধিকাংশ ইস্পাতকে আকর্ষণ করে তাই এই পদার্থগুলোকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পিতল, কাঠ, রৌপ্য, প্লাস্টিক ইত্যাদি পদার্থগুলোকে আকর্ষণ করে না তাই এই পদার্থগুলোকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে।
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়।
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান।
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে; এখানে, দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে
- কিন্তু একটি উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে। ফলে ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১১.
পানির অণু একটি - 
  1. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  2. অ্যান্টি-ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  3. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  4. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
সঠিক উত্তর:
ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
প্যারাচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ডায়াচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরোচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
যেসকল পদার্থকে চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপন করা হলে চুম্বকায়কারী ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে সামান্য চুম্বকত্ব লাভ করে তাকে বলে-
  1. প্যারাচৌম্বক পদার্থ
  2. ডায়াচৌম্বক পদার্থ
  3. ফেরোচৌম্বক পদার্থ
  4. এন্টিফেরোচৌম্বক পদার্থ
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা
• ডায়াচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করা হলে চুম্বকায়নকারী ক্ষেত্রের বিপরীত দিকে সামান্য চুম্বকত্ব লাভ করে তাদেরকে ডায়াচৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ। 
 
• প্যারাচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক বলে। প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
যেমন: অ্যালুমিনিয়াম, সোডিয়াম, এন্টিমনি, প্লাটিনাম, ম্যাঙ্গানিজ, ক্রোমিয়াম, তরল অক্সিজেন প্রভৃতি প্যারাচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ।

• ফেরোচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি হলো ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ। 
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
তারের কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে তার চারপাশে কী তৈরি হয়?
  1. রোধকত্ব
  2. চৌম্বকক্ষেত্র
  3. তড়িৎপ্রবাহ
  4. কিছুই ঘটে না
সঠিক উত্তর:
চৌম্বকক্ষেত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বকক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
• যখন কোনো তার বা কুণ্ডলীতে (coil) দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ (electric current) চালানো হয়, তখন তার চারপাশে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) তৈরি হয়।
-   এটি একটি মৌলিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ঘটনা, যা অ্যাম্পিয়ারের নিয়ম (Ampere’s Law) ও অয়েরস্টেড পরীক্ষণ  (Oersted’s Experiment)-এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

আবার, 
• ফারাডের গবেষণা অনুযায়ী, কুণ্ডলীর আশপাশে চৌম্বকক্ষেত্র পরিবর্তন করলে তাতে তড়িৎপ্রবাহ উৎপন্ন হয়।
-  ঠিক উল্টোভাবে, কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চালালে তার চারপাশে চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয়।
- যখন কুণ্ডলীর মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তখন এটি একটি চুম্বকের মতো আচরণ করে। 

• এটি আবার দুইরকম হয়। যেমনঃ

→ একটি সোজা কুণ্ডলীতে বিদ্যুৎ চালালে তার ভেতরে একটি সুষম এবং শক্তিশালী চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হয়।
→ এর ভেতরে একটি লৌহ দণ্ড (iron core) দিলে এটি একটি শক্তিশালী অস্থায়ী চুম্বকে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় ইলেক্ট্রোম্যাগনেট (Electromagnet)।
→  বৈদ্যুতিক মোটর, ট্রান্সফরমার, জেনারেটর ইত্যাদি যন্ত্রে চৌম্বকক্ষেত্র ব্যবহার হয়।


তথ্যসূত্র: 
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান।
১৪.
তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কোন যন্ত্র তৈরি করা হয়?
  1. ট্রানজিস্টর
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. জেনারেটর
  4. ফিউজ
সঠিক উত্তর:
জেনারেটর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেটর
ব্যাখ্যা
তাড়িতচৌম্বক আবেশঃ

কোনো বদ্ধ কুন্ডলী এবং কোনো চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আপেক্ষিক গতি থাকলে ঐ কুন্ডলীতে
একটি আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে।

যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করার যন্ত্রকে জেনারেটর বলে। তড়িৎ
চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে জেনারেটর তৈরি করা হয়।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৫.
ট্রান্সফরমার কোন শক্তি রূপান্তর করে? 
  1. যান্ত্রিক শক্তি
  2. বিভব পার্থক্য
  3. তাপ শক্তি
  4. রাসায়নিক শক্তি
সঠিক উত্তর:
বিভব পার্থক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিভব পার্থক্য
ব্যাখ্যা

• ট্রান্সফরমার হলো একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তির ভোল্টেজ বা বিভব পার্থক্য পরিবর্তন করতে ব্যবহৃত হয়।

- এটি AC (Alternating Current) সার্কিটে কাজ করে এবং শক্তির ক্ষতি ছাড়াই ভোল্টেজ বৃদ্ধি (Step-up) বা হ্রাস (Step-down) করতে সক্ষম।
- ট্রান্সফরমারের মূল কাঠামোতে থাকে দুটি কয়েল প্রাইমারি কয়েল এবং সেকেন্ডারি কয়েল, যা একটি লৌহ কোরের মাধ্যমে একে অপরের সাথে চৌম্বকীয়ভাবে সংযুক্ত থাকে।
- যখন প্রাইমারি কয়েলে বৈদ্যুতিক প্রবাহ আসে, তখন এটি একটি চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি করে।
- এই চৌম্বক ক্ষেত্র সেকেন্ডারি কয়েলে ইনডাকশন ঘটায়, ফলে সেকেন্ডারি কয়েলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
- এই পদ্ধতিতে ভোল্টেজ পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু শক্তির ধরণ পরিবর্তিত হয় না

সারসংক্ষেপে, ট্রান্সফরমার যান্ত্রিক শক্তি, তাপ শক্তি বা রাসায়নিক শক্তি নয়, বরং বিদ্যুতের বিভব পার্থক্য রূপান্তর করে, যাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় দূরত্ব অনুযায়ী ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
- Britannica [লিংক]।

১৬.
কোন চুম্বকত্ব অপসারণের সাথে বিলুপ্ত হয়?
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. সিরামিক চুম্বক
  3. সংকর চুম্বক 
  4. অস্থায়ী চুম্বক 
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক 
ব্যাখ্যা

কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- ১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক এবং ২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক।

অস্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

স্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক আবার দুই ধরনের হয়। 
যথা- ১। সংকর চুম্বক ও ২। সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭.
চুম্বক আবিষ্কৃত হয় কোন দেশে?
  1. ক) আমেরিকায়
  2. খ) ইংল্যান্ডে
  3. গ) গ্রীসে
  4. ঘ) তুরস্কে
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রীসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রীসে
ব্যাখ্যা

চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে
যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদে কে চুম্বক বলে।

প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক।

চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ।

যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে তার দুই প্রান্তে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান, যুগান্তর পত্রিকা (ব্যাখ্যা)

১৮.
Among these scientists, who first observed the magnetic effect of electric current?
  1. James Clerk Maxwell
  2. Michael Faraday
  3. Isaac Newton
  4. Albert Einstein
  5. Hans Christian Ørsted
সঠিক উত্তর:
Hans Christian Ørsted
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hans Christian Ørsted
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া: 
- তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কার করেন হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড। 
- কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর চারপাশে একটি চৌম্বকক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, একে তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া বলে। 
- ১৮২০ সালে তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কৃত হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া যান্ত্রিক বল উৎপন্ন করে। 
- বৈদ্যুতিক ফ্যান, মোটর ইত্যাদিতে চৌম্বক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- একটি চুম্বক শলাকাকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে তার উত্তর মেরু যে দিক নির্দেশ করে তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
চুম্বক দ্বারা আকৃষ্ট হয় না-
  1. নিকেল
  2. আয়রন
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চুম্বক দ্বারা প্রবলভাবে আকৃষ্ট হয়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।
- এ সকল পদার্থকে সহজেই চুম্বকে পরিণত করা যায়।

• অচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- কাঠ, কাঁচ, তামা, সোনা, রুপা ইত্যাদতসঃ

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
২০.
কুরি তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব -
  1. সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
  2. অর্ধেক নষ্ট হয়
  3. আংশিক নষ্ট হয়
  4. এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
ব্যাখ্যা
কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২১.
স্থায়ী চুম্বক কোথায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়?
  1. কলিং বেল
  2. ট্রান্সফরমারে
  3. কম্পাসে
  4. জেনারেটরে
সঠিক উত্তর:
কম্পাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাসে
ব্যাখ্যা

কম্পাসে দিক নির্ণয়ের জন্য ছোট ও হালকা স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়, যেটি পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে।

​স্থায়ী চুম্বক: 
​- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
​- চৌম্বক কম্পাস, মাইক্রোফোন, স্পিকার ইত্যাদিতে ​স্থায়ী চুম্বক ব্যব অহার করা হয়। 

​অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়। 

​তড়িৎ চুম্বক: 
- একটি বৃত্তাকার কুন্ডলী বা সলিনয়েডে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর মধ্যে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় এবং এটি একটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের ফলে এ চুম্বক সৃষ্টি হয় বলে একে তড়িৎ চুম্বক বলে। 
​- কলিং বেলে ​তড়িৎ চুম্বক ব্যবহার করা হয়। 

​উৎস: 
​১। পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
​২। পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
ট্রান্সফরমার তৈরিতে কোন ধরনের চুম্বক ব্যবহার করা হয়? 
  1. কঠিন চুম্বক
  2. স্থায়ী চুম্বক
  3. অস্থায়ী চুম্বক
  4. সংকর চুম্বক
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

কৃত্রিম চুম্বক: 
কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- 
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক এবং 
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক। 

অস্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়। 

স্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩.
লম্বা সোজা পরিবাহীর চারপাশে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্ণয় করার নিয়ম কোনটি?
  1. লেফট হ্যান্ড শিফট নিয়ম
  2. হ্যান্ডের ডান হস্ত নিয়ম
  3. ফ্লেমিঙের দক্ষিণ হস্ত নিয়ম
  4. ফ্লেমিঙের বাম হস্ত নিয়ম
সঠিক উত্তর:
ফ্লেমিঙের দক্ষিণ হস্ত নিয়ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লেমিঙের দক্ষিণ হস্ত নিয়ম
ব্যাখ্যা

চৌম্বক ক্ষেত্র: 
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- লম্বা সোজা পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করা হলে এর চারদিকে যে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তা চুম্বক শলাকার সাহায্যে চৌম্বক ক্ষেত্র রেখা (বা চৌম্বক আবেশ রেখা) অঙ্কিত করে দেখানো যায়। রেখাগুলিকে চৌম্বক বলরেখাও বলা হয়ে থাকে। 
- লম্বা সোজা পরিবাহীর জন্য কোনো বিন্দুতে চৌম্বক ক্ষেত্রের মান (১) পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের সমানুপাতিক এবং (২) বিন্দু থেকে পরিবাহীর দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক। 
- ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা এর নামানুসারে একে টেসলা (T) বলে। 
- টেসলা হচ্ছে চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক। 
- এক চৌম্বকক্ষেত্র 1 কুলম্ব (C) আধান ক্ষেত্রের দিকের সাথে সমকোণে 1 ms-1 গতিশীল হলে 1 N বল অনুভব করে সেই চৌম্বকক্ষেত্রের মানকে 1 টেসলা বলে। 

- কোনো চুম্বক অথবা একটি গতিশীল চার্জের, চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চুম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ চুম্বক বা গতিশীল চার্জের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- একটি একক চার্জ একক বেগে চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে সমকোণে গতিশীল হলে যে বল লাভ করে তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের মান। 
- একটি চুম্বক শলাকাকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে তার উত্তর মেরু যে দিক নির্দেশ করে, তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক। 
- তড়িৎবাহী তারের জন্য চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক ফ্লেমিঙের দক্ষিণ হস্ত নিয়ম দ্বারা নির্ণয় করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়, তাকে কী বলা হয়?
  1. পরম শূন্য তাপমাত্রা
  2. কুরি তাপমাত্রা
  3. রিমেনেন্স
  4. চৌম্বক সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
কুরি তাপমাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরি তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা

• কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

• রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

• চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

• চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

• পরম শূন্য তাপমাত্রা:
- এটি হলো সর্বনিম্ন তাত্ত্বিক তাপমাত্রা (0 K বা - 273.15°C), যেখানে পদার্থের অণুগুলোর গতিশক্তি শূন্য হয়ে যায়। এর সাথে চুম্বকত্ব নষ্ট হওয়ার সরাসরি সম্পর্ক নেই।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২৫.
কোনটিকে চুম্বকে পরিণত করা যায়?
  1. তামা
  2. ইস্পাত
  3. পিতল
  4. স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায়, তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে।
- বেশির ভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থও বলা হয়।
- ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা।
- উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।

• অচৌম্বক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না, তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. লোহা - চৌম্বক পদার্থ
  2. অ্যালুমিনিয়াম - অচৌম্বক পদার্থ
  3. নিকেল - চৌম্বক পদার্থ
  4. পারদ - চৌম্বক পদার্থ
সঠিক উত্তর:
পারদ - চৌম্বক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারদ - চৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) পারদ - চৌম্বক পদার্থ (কারণ পারদ একটি অচৌম্বক পদার্থ)

- পারদ একটি অচৌম্বক পদার্থ (বিশেষত ডায়াম্যাগনেটিক), তাই এটি চৌম্বক পদার্থ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
- লোহা, নিকেল এবং কোবাল্ট হলো ফেরোচৌম্বক পদার্থ, যার অর্থ এগুলো চুম্বক দ্বারা দৃঢ়ভাবে আকৃষ্ট হয় এবং চুম্বক ক্ষেত্রে রাখলে নিজেরাও চুম্বকে পরিণত হতে পারে।

- অ্যালুমিনিয়াম একটি প্যারাচৌম্বক পদার্থ, যা চুম্বক দ্বারা খুব কম পরিমাণে আকৃষ্ট হয়, তাই এটিকে প্রায়শই অচৌম্বক পদার্থের শ্রেণীভুক্ত করা হয়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

২৭.
অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহৃত হয় -
  1. মোটর তৈরিতে
  2. টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায়
  3. ক) ও খ) উভয়ই
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মোটর তৈরিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোটর তৈরিতে
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বকঃ কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক
অস্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।
স্থায়ী চুম্বকঃ চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮.
টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় কোন ধরনের চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়? 
  1. অস্থায়ী চুম্বক
  2. কোমল চুম্বক
  3. সিরামিক চুম্বক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সিরামিক চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরামিক চুম্বক
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- 
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
ট্রান্সফরমার কী কাজে ব্যবহৃত হয়? 
  1. বিদ্যুৎ উৎপাদন করা
  2. ব্যাটারির চার্জ সংরক্ষণ করা
  3. এসি (AC) ভোল্টেজ বাড়ানো বা কমানো
  4. ডিসি (DC) ভোল্টেজ পরিবর্তন করা
সঠিক উত্তর:
এসি (AC) ভোল্টেজ বাড়ানো বা কমানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসি (AC) ভোল্টেজ বাড়ানো বা কমানো
ব্যাখ্যা
ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়-এই নীতি ব্যবহার করে ট্রান্সফরমার তৈরি করা হয়। 
- যে পদ্ধতিতে সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই একটি কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়, সেই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সফরমার। 
- তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশের ব্যবহার করে AC বা পরিবর্তী তড়িৎ বিভব বৃদ্ধি বা কমানো হয়, যে যন্ত্রের মাধ্যমে এই কাজ করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- এই ট্রান্সফরমার দিয়ে অত্যন্ত চমকপ্রদ কিছু বিষয় করা যায়। 
- দুই পাশে কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা যদি সমান হয়, তাহলে বাম দিকে যে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হবে ডান দিকে ঠিক সেই এসি ভোল্টেজ ফেরত পাওয়া যাবে। ডান দিকে প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ বেশি হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ বেশি হবে। প্যাঁচের সংখ্যা যদি দশ গুণ কম হয় তাহলে ভোল্টেজ দশ গুণ কম হবে। 
- বাম দিকের কয়েল যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তার নাম প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী এবং ডান দিকে যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয় তার নাম সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী। 
- প্রতি সেকেন্ডে কতটুকু বৈদ্যুতিক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেটা পরিমাপ করা হয় VI (ভোল্টেজ × কারেন্ট) দিয়ে, একটা ট্রান্সফরমারে প্রাইমারিতে যে পরিমাণ VI প্রয়োগ করা হয়, সেকেন্ডারি কয়েল থেকে ঠিক সেই পরিমাণ VI ফেরত পাওয়া যায়। কাজেই সেকেন্ডারিতে যদি ভোল্টেজ দশ গুণ বাড়িয়ে নেয়া যায় তাহলে সেখানে বিদ্যুৎও দশ গুণ কমে যাবে। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা বেশি হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে বেড়ে যায়, তাকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজকে অনেক গুণ বাড়ানো হয়। 
- যে ট্রান্সফরমারে প্রাইমারি কয়েলের তুলনায় সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচসংখ্যা কম হয় এবং সে কারণে প্রাইমারি কয়েলে প্রয়োগ করা এসি ভোল্টেজ সেকেন্ডারি কয়েলে কমে যায় তাকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০.
তাড়িতচুম্বক তৈরি করার জন্য সলিনয়েডের মধ্যে সাধারণত কোন ধাতুটি ঢোকানো হয়? 
  1. রূপা
  2. লোহা
  3. তামা
  4. অ্যালুমিনিয়াম
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা
তাড়িতচুম্বক (Electromagnet): 
- শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। তবে, যদি একটি লোহার টুকরো কয়েল বা সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয় এবং সলিনয়েড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়, তাহলে অনেক শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। 
- লোহা, কোবাল্ট এবং নিকেল এই ধাতুগুলোর চৌম্বকীয় ধর্ম রয়েছে। এদের ভেতর ছোট ছোট চৌম্বকের মতো অনেক কণিকা এলোমেলোভাবে থাকে। ফলে সাধারণ অবস্থায় লোহা চৌম্বক হিসেবে কাজ করে না। 
- কিন্তু যখন লোহার টুকরোটি বিদ্যুৎপ্রবাহিত সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয়, তখন ওই চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে লোহার অভ্যন্তরের ছোট ছোট চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয়। ফলে লোহার নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র গঠিত হয় এবং এটি সলিনয়েডের চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। 
- এইভাবে তৈরি হওয়া চুম্বককে বলা হয় তাড়িতচুম্বক। 
- যখন সলিনয়েডে বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন লোহার অভ্যন্তরের চৌম্বক কণিকাগুলো আবার এলোমেলো হয়ে পড়ে এবং চৌম্বকত্ব হারিয়ে যায়। 
- স্পিকারে বা এয়ারফোনে যে শব্দ শোনা যায় সেখানে তাড়িতচুম্বক ব্যবহার করা হয়। এখানে শব্দের কম্পন এবং তীব্রতার সমান বিদ্যুৎপ্রবাহ পাঠানো হয়, সেই বিদ্যুৎ একটা তাড়িতচুম্বক বা ইলেকট্রোম্যাগনেটের চৌম্বকত্ব শব্দের কম্পন বা তীব্রতার উপযোগী করে তৈরি করে সেটা একটা ডায়াফ্রামকে কাঁপায় এবং সেই ডায়াফ্রাম সঠিক শব্দ তৈরি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে কোনটি? 
  1. ট্রান্সফরমার
  2. অ্যামপ্লিফায়ার 
  3. ডায়োড 
  4. ট্রান্সজিস্টর 
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বক আবেশ: 
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে। 

ট্রান্সফরমার: 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে। 
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এটি পরিবর্তী প্রবাহে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- ১। স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও ২। স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে কোন মেরু হিসেবে কাজ করে?
  1. দক্ষিণ মেরু
  2. উত্তর মেরু
  3. পশ্চিম মেরু
  4. পূর্ব মেরু
সঠিক উত্তর:
উত্তর মেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর মেরু
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে। 
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়। 
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান। 
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে। 
- এখানে দন্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে। কিন্তু একটি উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে, ফলে ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৩৩.
Among these scientists, who first proposed that "Earth itself is a big magnet"?
  1. Galileo Galilei
  2. Nikola Tesla
  3. Michael Faraday
  4. William Gilbert
  5. Isaac Newton
সঠিক উত্তর:
William Gilbert
উত্তর
সঠিক উত্তর:
William Gilbert
ব্যাখ্যা
চুম্বকত্ব: 
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্ম বিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং যাকে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিয়ে সাম্যাবস্থায় একটি নির্দিষ্ট দিকে (উত্তর -দক্ষিণে) মুখ করে থাকে, তাকেই সাধারণ ভাবে চুম্বক বলা হয়। 
- যে ধর্মের জন্য একটি চুম্বক অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে সেই ধর্মকে বলা হয় চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের একটি ভৌত ধর্ম। 

- কোন পদার্থকে কৃত্রিম উপায়ে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা ইত্যাদির তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- আর যেসব বস্তু চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত বা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ (Magnetic substance) বলা হয়। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ। 

- একটি চুম্বক শলাকাকে এর ভারকেন্দ্রে অনুভূমিকভাবে ঝুলিয়ে দিলে শলাকাটি সর্বদাই উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকে। 
- চুম্বকের এই অবস্থায় সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রানী এলিজাবেথের গৃহ চিকিৎসক ড. গিলবার্ট সর্বপ্রথম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, একটি চুম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে অর্থাৎ পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক। 
- পৃথিবীর এ চুম্বকত্বকে ভূ-চুম্বকত্ব বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
তথ্য প্রযুক্তির বৈপ্লবিক ও ব্যাপক বিকাশের সূচনা মূলত কোন ঘটনার মাধ্যমে ঘটে?
  1. উপগ্রহ যোগাযোগের সূচনা
  2. মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার
  3. ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ব্যবহার
  4. ইন্টেলস্যাট উপগ্রহ উৎক্ষেপণ
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার
ব্যাখ্যা

• মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার — ১৯৭০-৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার ও সফল কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির প্রকৃত বিকাশ শুরু হয়।

• তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবিকাশ:
- আধুনিক যুগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ।
- এ প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল।
- প্রাচীনকালে মানুষ আকার-ইঙ্গিতে তথ্য আদান-প্রদান করত।
- পরবর্তীতে দেয়ালে আঁচড় কেটে, পাথর খোদাই করে তথ্য সংরক্ষণ করা হতো।
- কাগজ-কলমের আবির্ভাব তথ্য সংরক্ষণে নতুন ধাপ সৃষ্টি করে।
- আধুনিক সভ্যতার উন্নয়ন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের উপর নির্ভরশীল।

• ইলেক্ট্রনিক্স ও উপগ্রহ যোগাযোগ:
- ইলেক্ট্রনিক্স, ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ, কম্পিউটার প্রযুক্তির সমন্বয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে।
- ইলেক্ট্রনিক্স প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটিং, কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক্সকে পৃথকভাবে কল্পনা করা যায় না।
- ষাটের দশকে উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগে নতুন অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
- ১৯৬৫ সালে প্রতিটি ইন্টেলস্যাট উপগ্রহে ২৪০টি টেলিফোন সার্কিট অথবা একটি টেলিভিশন চ্যানেল পরিবহনের ব্যবস্থা ছিল।

• তথ্য প্রযুক্তির প্রকৃত বিকাশ:
- ১৯৭০-৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসরের আবিষ্কার তথ্য প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
- ১৯৭৬ সালে মাইক্রোকম্পিউটার, ১৯৮১ সালে পার্সোনাল কম্পিউটার, ১৯৮৪ সালে মেকিনটোশ, ১৯৯৬ সালে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও ইন্টারনেট গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
- আধুনিক টেলিযোগাযোগ, ডাটা নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট এ প্রযুক্তির ভিত্তি।

• ডিজিটাল যুগ ও ফাইবার অপটিক:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বশেষ ধারা হলো ডিজিটাল প্রযুক্তি।
- ডিজিটাল প্রযুক্তির ভিত্তি বাইনারি পদ্ধতি।
- বর্তমান যুগকে ডিজিটাল যুগ বলা হয়।
- ফাইবার অপটিক ক্যাবল আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
- ফাইবার অপটিক সংকেতের মান উপগ্রহ সংকেতের তুলনায় উন্নত।

• অন্যান্য অপশন:
- উপগ্রহ যোগাযোগের সূচনা → ষাটের দশকে টেলিযোগাযোগে নতুন ধাপের সূচনা করে।
- ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ব্যবহার → আন্তর্জাতিক যোগাযোগে উচ্চগতির ডাটা পরিবহনে ব্যবহৃত।
- ইন্টেলস্যাট উপগ্রহ উৎক্ষেপণ → ১৯৬৫ সালে ২৪০টি টেলিফোন সার্কিট পরিবহনের সক্ষমতা ছিল।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
একটি পদার্থ বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতেও নিজে থেকেই চুম্বকত্ব প্রদর্শন করে। নিচের কোনটি এই প্রকার পদার্থের উদাহরণ?
  1. প্যারাম্যাগনেটিক পদার্থ
  2. ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থ
  3. ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ
  4. অ্যান্টিফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ
সঠিক উত্তর:
ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ
ব্যাখ্যা

• ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ (Ferromagnetic Materials):
- এই ধরনের পদার্থ বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্র ছাড়াও স্থায়ীভাবে চৌম্বকত্ব ধারণ করতে সক্ষম।
- এদের মধ্যে ইলেকট্রনের স্পিন ও কক্ষপথীয় চৌম্বক মুহূর্ত (magnetic moment) একই দিকে সজ্জিত থাকে।
- উদাহরণ: লোহা (Fe), কোবাল্ট (Co), নিকেল (Ni), এবং কিছু সংকর ধাতু।

• প্যারাম্যাগনেটিক পদার্থ (Paramagnetic Materials):
- এদের মধ্যে অসম জোড় ইলেকট্রন থাকে, ফলে বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগে চৌম্বকত্ব দেখা দেয়।
- উদাহরণ: অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম।

• ডায়াম্যাগনেটিক পদার্থ (Diamagnetic Materials):
- এরা বাহ্যিক চৌম্বক ক্ষেত্রের বিপরীতে দুর্বল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে।
- চৌম্বকত্ব সাধারণত খুবই দুর্বল এবং বিপরীতমুখী।
- উদাহরণ: বিসমাথ, তামা।

• অ্যান্টিফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ (Antiferromagnetic Materials):
- এদের পরমাণবিক ডাইপোল বিপরীতমুখী এবং সমান মানের, ফলে নিট চৌম্বকত্ব থাকে না।
- উদাহরণ: ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড (MnO)

উৎস: Encyclopaedia Britannica. [লিংক]

৩৬.
চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কৌণিক ব্যবধানকে বলা হয় - 
  1. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
  2. বিচ্যুতি 
  3. চৌম্বক মেরু 
  4. চৌম্বক ক্ষেত্র
সঠিক উত্তর:
বিচ্যুতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচ্যুতি 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক মধ্যতল (Geographic Meridian) এবং চৌম্বক মধ্যতলের (Magnetic Meridian) মধ্যবর্তী যে সূক্ষ্ম কোণ উৎপন্ন হয়, তাকে ওই স্থানের চৌম্বক বিচ্যুতি (Magnetic Declination) বলা হয়।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এই বিচ্যুতির মান ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

• চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

• চুম্বকত্ব (Magnetism): 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম। 
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

• চৌম্বক মেরু (Magnetic pole): 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। 
- চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মের° N ও S দেখানো হয়েছে। 
 
N = North Pole (উত্তর মেরু), 
S = South Pole (দক্ষিণ মেরু)। 

• চৌম্বক অক্ষ (Magnetic axis): 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে। চিত্রে AB দন্ডচুম্বকের অক্ষ। 

• ভৌগোলিক মধ্যতল (Geographical meridian): 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমের বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে। 
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে। 

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য (Magnetic length): 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। চিত্রে NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য। 

• চৌম্বক মধ্যতল (Magnetic meridian): 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলড্ কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে। 

• চৌম্বক ক্ষেত্র:
- কোনো চুম্বকের চারপাশে যে অঞ্চল জুড়ে তার প্রভাব বা আকর্ষণ-বিকর্ষণ বল অনুভূত হয়, তাকে চৌম্বক ক্ষেত্র বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
ফ্যারাডের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী, তাড়িতচালক শক্তি উৎপন্ন হয় -
  1. চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক অনুযায়ী
  2. চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হারে
  3.  চৌম্বক ফ্লাক্সের মানের উপর নির্ভর না করে
  4. চৌম্বক ক্ষেত্রের ঘনত্বের সাথে সরাসরি সমানুপাতিকভাবে
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হারে
ব্যাখ্যা

• ফ্যারাডের তড়িৎ চৌম্বকীয় আবেশের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী-
- যখন কোনো বন্ধ বর্তনীতে চৌম্বক ফ্লাক্স পরিবর্তিত হয়, তখন তাতে একটি তাড়িতচালক শক্তি আবিষ্ট হয়।
- সুত্র, e = - (dΦ/dt)
- তাড়িতচালক শক্তি (e)-এর মান চৌম্বক ফ্লাক্সের পরিবর্তনের হার এর সমানুপাতিক।
- ঋণাত্মক চিহ্ন (-) নির্দেশ করে লেন্জের সূত্র, উৎপন্ন তাড়িতচালক শক্তির দিক এমন হবে যা মূল ফ্লাক্সের পরিবর্তনকে প্রতিহত করবে।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ- শ্রেণি।

৩৮.
চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বকে কী বলে? 
  1. চৌম্বক মধ্যতল
  2. চৌম্বক মেরু 
  3. ভৌগোলিক মধ্যতল 
  4. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

চৌম্বক মেরু (Magnetic pole): 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে।
- চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মেরু N ও S দেখানো হয়েছে।

N = North Pole (উত্তরমেরু),
S = South Pole (দক্ষিণমেরু)।

চৌম্বক অক্ষ (Magnetic axis): 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে।
চিত্রে, AB দন্ড চুম্বকের অক্ষ।

চৌম্বক দৈর্ঘ্য (Magnetic length): 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে
চিত্রে, NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য।

চৌম্বক মধ্যতল (Magnetic meridian): 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলড্ কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে।

ভৌগোলিক মধ্যতল (Geographical meridian): 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমের বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে।
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
"পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক" এটি সর্বপ্রথম কে বলেন?
  1. প্লেটো
  2. ওয়েবার
  3. নরম্যান
  4. গিলবার্ট
সঠিক উত্তর:
গিলবার্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিলবার্ট
ব্যাখ্যা
চুম্বকত্ব: 
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্ম বিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং যাকে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিয়ে সাম্যাবস্থায় একটি নির্দিষ্ট দিকে (উত্তর -দক্ষিণে) মুখ করে থাকে, তাকেই সাধারণ ভাবে চুম্বক বলা হয়।
- যে ধর্মের জন্য একটি চুম্বক অন্য বস্তুকে আকর্ষণ করে সেই ধর্মকে বলা হয় চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের একটি ভৌত ধর্ম। 
- কোন পদার্থকে কৃত্রিম উপায়ে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা ইত্যাদির তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না।
- আর যেসব বস্তু চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত (বা বিকর্ষিত) হয় অর্থাৎ চুম্বক দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদের কে চৌম্বক পদার্থ (Magnetic substance) বলা হয়। যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ।
- একটি চুম্বক শলাকাকে এর ভারকেন্দ্রে অনুভূমিকভাবে ঝুলিয়ে দিলে শলাকাটি সর্বদাই উত্তর-দক্ষিণ দিকে মুখ করে থাকে।
- চুম্বকের এই অবস্থায় সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রানী এলিজাবেথের গৃহ চিকিৎসক ডঃ গিলবার্ট সর্বপ্রথম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, একটি চুম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীকে ঘিরে রয়েছে অর্থাৎ পৃথিবী নিজেই একটি বড় চুম্বক। 
- পৃথিবীর এ চুম্বকত্বকে ভূ-চুম্বকত্ব বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০.
নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের-
  1. বর্গের সমানুপাতিক
  2. সমানুপাতিক
  3. বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
  4. ব্যস্তানুপাতিক
সঠিক উত্তর:
বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
ব্যাখ্যা
• কুলম্বের সূত্র:
- দুটি বিন্দু আধানের মধ্যবর্তী আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল সম্পর্কে বিজ্ঞানী কুলম্ব একটি সূত্র বিবৃত করেন। একে কুলম্বের সূত্র বলে।
সূত্র :
- নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি বিন্দু আধানের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান আধানদ্বয়ের গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল আধানদ্বয়ের সংযোজক সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।

- দুটি আধানের পরিমাণ যথাক্রমে q1 ও q2 ও এবং মধ্যবর্তী দূরত্ব d। 
- এদের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলকে স্থির তড়িৎ বল বা কুলম্ব বল বলে এবং এ বলের মান F হলে, কুলম্বের সূত্রানুসারে,

∴ F α q1q2/d2

∴ F = C q1q2/d2
এখানে C একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক যার মান রাশিগুলোর একক এবং বিন্দু আধানদ্বয়ের মধ্যবর্তী মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। এ ধ্রুবককে অনেক সময় কুলম্ব ধ্রুবক বলা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৪১.
পানির অণু কী ধরনের চুম্বকীয় প্রকৃতি প্রদর্শন করে?
  1. ডায়াচুম্বক
  2. অ্যান্টিফেরােচুম্বক
  3. ফেরােচুম্বক
  4. প্যারাচুম্বক
সঠিক উত্তর:
ডায়াচুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচুম্বক
ব্যাখ্যা

• প্যারাচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।

• ডায়াচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
- অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।

• ফেরোচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২.
কোনটি ফেরো চৌম্বক পদার্থ?
  1. লোহা
  2. পানি
  3.  সোডিয়াম
  4. সোনা
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) লোহা

ফেরো চৌম্বকত্ব:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
- যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।

প্যারা চৌম্বকত্ব:
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
- যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি।

ডায়া চৌম্বক:
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
চুম্বকত্ব কী? 
  1. পদার্থের গন্ধের ধর্ম
  2. পদার্থের তাপ ধর্ম
  3. পদার্থের ভৌত ধর্ম
  4. পদার্থের বৈদ্যুতিক ধর্ম
সঠিক উত্তর:
পদার্থের ভৌত ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদার্থের ভৌত ধর্ম
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম। 
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪.
যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি পরিমাপ করা হয় তাকে কী বলে?
  1. গ্যালভানোমিটার
  2. তড়িৎ প্রবাহ মিটার
  3. অ্যামমিটার
  4. ভোল্টমিটার
সঠিক উত্তর:
অ্যামমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামমিটার
ব্যাখ্যা
অ্যামমিটার (Ammeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে কোনো বর্তনীর তড়িৎ প্রবাহমাত্রা সরাসরি অ্যাম্পিয়ার এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে অ্যামমিটার বলে। 
- এর আসল নাম অ্যাম্পিয়ার মিটার, সংক্ষেপে একে অ্যামমিটার বলে। 
- এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- বর্তনীর প্রবাহমাত্রা নির্ণয়ের জন্য অ্যামমিটারকে বর্তনীর সাথে শ্রেণী সমবায়ে যুক্ত করা হয়। 

ভোল্টমিটার (Voltmeter): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বর্তনীর যেকোনো দু'বিন্দুর মধ্যকার বিভব পার্থক্য সরাসরি ভোল্ট এককে পরিমাপ করা হয়, তাকে ভোল্টমিটার বলে। 
- এটিও প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ধরনের গ্যালভানোমিটার। 
- একে বর্তনীতে সমান্তরাল সমবায়ে যুক্ত করতে হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫.
ক্যাসেটের ফিতার শব্দ কী হিসেবে রক্ষিত থাকে? 
  1. কার্বন ক্ষেত্র হিসেবে
  2. বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র হিসেবে
  3. চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
  4. মেমোরি চিপ হিসেবে
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বক ক্ষেত্র হিসেবে
ব্যাখ্যা
- কম্পিউটার ও টেপ-রেকর্ডার বা ক্যাসেটের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক থাকে। 
- এক্ষেত্রে স্মৃতির ফিতা বা টেপে ব্যবহৃত ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড (CrO2) পদার্থের বহি:চৌম্বক ক্ষেত্র সরিয়ে নিলেও আবিষ্ট চৌম্বকত্বের বেশিরভাগই অটুট থাকে অর্থাৎ, এর আবিষ্ট চুম্বকত্ব স্থায়ী হয়। 
- ১৯৩০ সালের দিকে জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয় শব্দ সংরক্ষণের এই পদ্ধতি। 
চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়েই ক্যাসেটের ফিতাতে শব্দ সংরক্ষণ করা হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়। যথা- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৪৬.
যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয়, তাকে কী বলে?
  1. রিমেনেন্স
  2. কুরি বিন্দু
  3. চৌম্বক ধারকত্ব
  4. চৌম্বক সহনশীলতা
সঠিক উত্তর:
কুরি বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরি বিন্দু
ব্যাখ্যা
কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু বলে। 

চৌম্বক ধারকত্ব: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সরিয়ে নেওয়ার পরেও কোনো চৌম্বব পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে চৌম্বক ধারকতা বলে। 
- ইস্পাত ও নরম লোহাকে একই সমপরিমাণ চুম্বকায়িত করে রেখে দিলে নরম লোহার চেয়ে ইস্পাতের ক্ষেত্রে চুম্বকত্ব হ্রাসের পরিমাণ কম। 

চৌম্বক সহনশীলতা: 
- চুম্বকত্ব হ্রাসের নিয়ামকসমূহ থাকা সত্ত্বেও কোনো চৌম্বক পদার্থের মধ্যে উৎপন্ন চুম্বকত্ব বজায় রাখার ক্ষমতাকে ঐ পদার্থের চৌম্বক সহনশীলতা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা কোথায় বেশি? 
  1. চুম্বকের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে
  2. চুম্বকের উত্তর মেরু অঞ্চলে
  3. চুম্বকের মাঝামাঝি অঞ্চলে
  4. চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক আবিষ্কৃত হয় গ্রীসে। 
- যে সকল বস্তুর আকর্ষণ ও দিক নির্দেশক ধর্ম আছে তাদেরকে চুম্বক বলে। 
- প্রাকৃতিক অবস্থায় পাওয়া চুম্বককে প্রাকৃতিক চুম্বক এবং মানুষের তৈরি চুম্বককে বলা হয় কৃত্রিম চুম্বক। 
- চুম্বক যাদের আকর্ষণ করে তাদের বলা চুম্বকীয় পদার্থ। 
- যে কোনো আকারের চুম্বকই হোক না কেন, চুম্বকের মাঝখান থেকে চুম্বকের দুই প্রান্তের কাছাকাছি সরু অঞ্চলে আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৪৮.
ক্যাসেটের ফিতাতে শব্দ সংরক্ষণের জন্য কোন পদার্থটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. কপার সালফেট 
  2. নিকেল ক্লোরাইড
  3. ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড
  4. ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড 
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা

- কম্পিউটার ও টেপ-রেকর্ডার বা ক্যাসেটের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক থাকে। 
- এক্ষেত্রে স্মৃতির ফিতা বা টেপে ব্যবহৃত ক্রোমিয়াম ডাই অক্সাইড (CrO2) পদার্থের বহি:চৌম্বক ক্ষেত্র সরিয়ে নিলেও আবিষ্ট চৌম্বকত্বের বেশিরভাগই অটুট থাকে অর্থাৎ, এর আবিষ্ট চুম্বকত্ব স্থায়ী হয়। 
- ১৯৩০ সালের দিকে জার্মানিতে আবিষ্কৃত হয় শব্দ সংরক্ষণের এই পদ্ধতি। 
- চৌম্বক শক্তিকে কাজে লাগিয়েই ক্যাসেটের ফিতাতে শব্দ সংরক্ষণ করা হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৪৯.
লোহার টুকরো সলিনয়েডের ভেতরে রাখলে এবং সলিনয়েডে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে কী ঘটে?
  1. চৌম্বক ক্ষেত্র উৎপন্ন হয় না
  2. লোহা চৌম্বকত্ব হারিয়ে ফেলে
  3. লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এলোমেলো থাকে
  4. লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয়
সঠিক উত্তর:
লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহার চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয়
ব্যাখ্যা

• তাড়িতচুম্বক (Electromagnet): 
- শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। তবে, যদি একটি লোহার টুকরো কয়েল বা সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয় এবং সলিনয়েড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়, তাহলে অনেক শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। 
- লোহা, কোবাল্ট এবং নিকেল এই ধাতুগুলোর চৌম্বকীয় ধর্ম রয়েছে। এদের ভেতর ছোট ছোট চৌম্বকের মতো অনেক কণিকা এলোমেলোভাবে থাকে। ফলে সাধারণ অবস্থায় লোহা চৌম্বক হিসেবে কাজ করে না। 
- কিন্তু যখন লোহার টুকরোটি বিদ্যুৎপ্রবাহিত সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয়, তখন ওই চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে লোহার অভ্যন্তরের ছোট ছোট চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয়। ফলে লোহার নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র গঠিত হয় এবং এটি সলিনয়েডের চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। 
- এইভাবে তৈরি হওয়া চুম্বককে বলা হয় তাড়িতচুম্বক। 
- যখন সলিনয়েডে বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন লোহার অভ্যন্তরের চৌম্বক কণিকাগুলো আবার এলোমেলো হয়ে পড়ে এবং চৌম্বকত্ব হারিয়ে যায়। 
- স্পিকারে বা এয়ারফোনে যে শব্দ শোনা যায় সেখানে তাড়িতচুম্বক ব্যবহার করা হয়। এখানে শব্দের কম্পন এবং তীব্রতার সমান বিদ্যুৎপ্রবাহ পাঠানো হয়, সেই বিদ্যুৎ একটা তাড়িতচুম্বক বা ইলেকট্রোম্যাগনেটের চৌম্বকত্ব শব্দের কম্পন বা তীব্রতার উপযোগী করে তৈরি করে সেটা একটা ডায়াফ্রামকে কাঁপায় এবং সেই ডায়াফ্রাম সঠিক শব্দ তৈরি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০.
পানি একটি- 
  1. প্যারাচৌম্বক পদার্থ
  2. ফেরোচৌম্বক পদার্থ
  3. ডায়াচৌম্বক পদার্থ
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা
• প্যারাচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।

• ডায়াচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।

• ফেরোচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন - লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ ও চৌম্বক তীব্রতার অনুপাতকে কী বলে?
  1. চৌম্বক প্রবেশ্যতা
  2. চৌম্বক প্রাবল্য
  3. চৌম্বক প্রবণতা
  4. চৌম্বক গ্রাহিতা
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক প্রবেশ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক প্রবেশ্যতা
ব্যাখ্যা
• চৌম্বক প্রবেশ্যতা:
- চৌম্বকক্ষেত্রে স্থাপিত কোনো চৌম্বক পদার্থের চৌম্বক আবেশ (B) ও চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুাতকে ঐ পদার্থের চৌম্বক প্রবশ্যেতা বলে।
- একে μ (মিউ) দ্বারা প্রকাশ করা হয়
- এর একক TmA-1.

• চৌম্বক প্রাবল্য:
- চৌম্বকক্ষেত্রের কোনো চৌম্বক আবেশ এবং চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতকে চৌম্বক প্রাবল্য বা তীব্রতা বলে ।
- একে H দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
এর একক Am-1

• চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা:
- কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকায়ন তীব্রতা (I) এবং চৌম্বক তীব্রতা (H) এর অনুপাতকে চৌম্বক গ্রাহিতা বা প্রবণতা বলে ।
- এটি একটি এককবিহীন রাশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২.
একটি চুম্বকের কোন মেরুদ্বয় পরস্পরকে আকর্ষণ করে?
  1. দক্ষিণ-দক্ষিণ
  2. উত্তর-উত্তর
  3. উত্তর-দক্ষিণ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর-দক্ষিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

• একটি চুম্বকের বিপরীত মেরুদ্বয় অর্থাৎ উত্তর-দক্ষিণ মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। 

• চুম্বক:
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়।

• চুম্বকত্ব (Magnetism):
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম। কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে।

• চুম্বকের (Magnet) বিপরীত মেরুগুলো পরস্পরকে আকর্ষণ করে, অর্থাৎ উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু একে অপরকে আকর্ষণ করে।
- এটি চুম্বকত্বের একটি মৌলিক নীতি।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
লোহার কুরী তাপমাত্রা-
  1. ৩৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ৬৬৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ৭২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ৭৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৭৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
 কুরি বিন্দু বা কুরি তাপমাত্রা:
- যে তাপমাত্রায় কোন একটি চুম্বকের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়, তাকে উক্ত চুম্বকের উপাদানের কুরি বিন্দু বলে।
- এই তাপমাত্রার নামকরণ করা হয়েছে ফরাসি পদার্থবিদদের জন্যপিয়েরে কুরি , যিনি ১৮৯৫ সালে এমন সূত্রগুলি আবিষ্কার করেছিলেন যা তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।
- লোহার কুরি বিন্দু বা কুরি তাপমাত্রা ৭৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এছাড়াও, কোবাল্টের জন্য কুরি তাপমাত্রা হলো ১১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস যাসর্বোচ্চ কুরি বিন্দুগুলির মধ্যে একটি।

উৎস: একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান ও ব্রিটানিকা।
৫৪.
কোন পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে শক্তিশালী চুম্বকায়ন ঘটে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে অভিমুখী হয়?
  1. প্যারাচৌম্বক পদার্থ
  2. ফেরোচৌম্বক পদার্থ
  3. অর্ধচৌম্বক পদার্থ
  4. ডায়াচৌম্বক পদার্থ
সঠিক উত্তর:
ফেরোচৌম্বক পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরোচৌম্বক পদার্থ
ব্যাখ্যা

ফেরোচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে, কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। 
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন- এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে। 

প্যারাচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। 
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে। 
- ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না। 

ডায়াচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। 
- এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। 
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫.
স্থায়ী চুম্বক বলতে কী বোঝায়?
  1. যে চুম্বক কেবল লোহার উপর কাজ করে
  2. যে চুম্বক তড়িৎ প্রবাহে তৈরি হয়
  3. যে চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয়
  4. যে চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না 
সঠিক উত্তর:
যে চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না 
ব্যাখ্যা

- স্থায়ী চুম্বক এমন পদার্থ দিয়ে তৈরি যা একবার চুম্বকিত হলে তার চৌম্বক ধর্ম দীর্ঘকাল ধরে রাখে এবং বাইরের কোনো শক্তি (যেমন- তাপ, আঘাত) প্রয়োগ না করলে সহজে চুম্বকত্ব হারায় না। 

স্থায়ী চুম্বক: 
- যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত চুম্বক স্থায়ী হলেও তা অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতির হয়। তাই চৌম্বক পদার্থের সাথে অন্য পদার্থের মিশ্রণে অথবা বিশেষ প্রক্রিয়ায় (স্পর্শ-ঘর্ষণ পদ্ধতি) স্থায়ী শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করা হয়। 

অস্থায়ী চুম্বক: 
- যদি কোনো চৌম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চৌম্বক ধর্ম প্রদর্শন করে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতে যদি তা চুম্বকত্ব হারায় তবে তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

তড়িৎ চুম্বক: 
- একটি বৃত্তাকার কুন্ডলী বা সলিনয়েডে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর মধ্যে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় এবং এটি একটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- তড়িৎ প্রবাহের ফলে এ চুম্বক সৃষ্টি হয় বলে একে তড়িৎ চুম্বক বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬.
একটি দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু সর্বদা কোন মেরুকে আকর্ষণ করে? 
  1. পশ্চিম মেরু 
  2. পূর্ব মেরু 
  3. উত্তর মেরু 
  4. দক্ষিণ মেরু 
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ মেরু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ মেরু 
ব্যাখ্যা

চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকেই চুম্বক আকর্ষণ করে তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট এবং অধিকাংশ ইস্পাতকে আকর্ষণ করে তাই এই পদার্থগুলোকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পিতল, কাঠ, রৌপ্য, প্লাস্টিক ইত্যাদি পদার্থগুলোকে আকর্ষণ করে না তাই এই পদার্থগুলোকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দন্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে।
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়।
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান।
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে।
এখানে, দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে। কিন্তু একটি উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে। ফলে ভূচুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৫৭.
অচৌম্বক পদার্থ নিচের কোনটি? 
  1. লোহা 
  2. কোবাল্ট
  3. ইস্পাত 
  4. তামা 
সঠিক উত্তর:
তামা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা 
ব্যাখ্যা

চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
যেমন- লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি চৌম্বক পদার্থ। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি অচৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮.
তড়িৎ চুম্বক তৈরিতে নিচের কোন পদার্থ সবচেয়ে বেশি উপযোগী? 
  1. ইস্পাত
  2. নিকেল
  3. কাঁচা লোহা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম 
সঠিক উত্তর:
কাঁচা লোহা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁচা লোহা 
ব্যাখ্যা

স্থায়ী চুম্বক: 
- যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত চুম্বক স্থায়ী হলেও তা অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতির হয়। তাই চৌম্বক পদার্থের সাথে অন্য পদার্থের মিশ্রণে অথবা বিশেষ প্রক্রিয়ায় (স্পর্শ-ঘর্ষণ পদ্ধতি) স্থায়ী শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করা হয়। 

অস্থায়ী চুম্বক: 
- যদি কোনো চৌম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চৌম্বক ধর্ম প্রদর্শন করে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতে যদি তা চুম্বকত্ব হারায় তবে তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।  

তড়িৎ চুম্বক: 
- একটি বৃত্তাকার কুন্ডলী বা সলিনয়েডে তড়িৎ প্রবাহিত হলে এর মধ্যে চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় এবং এটি একটি চুম্বকে পরিণত হয়।
- তড়িৎ প্রবাহের ফলে এ চুম্বক সৃষ্টি হয় বলে একে তড়িৎ চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বকের জন্য ইস্পাত এবং বৈদ্যুতিক চুম্বকের জন্য কাঁচা লোহা উপযোগী হওয়ার কারণ:
• ইস্পাতের তুলনায় কাঁচা লোহার রিমেনেন্স বা ধারণশীলতা কিছু বেশি কিন্তু নিগ্রাহিতা অনেক কম। স্থায়ী চুম্বকের জন্য ধারণশীলতা ও নিগ্রাহিতা উচ্চমানের হওয়া প্রয়োজন। এজন্য স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে ইস্পাত ব্যবহার করা হয়। 
বৈদ্যুতিক চুম্বকের জন্য ক্ষণস্থায়ী ও শক্তিশালী চুম্বকের প্রয়োজন। কাঁচা লোহার রিমেনেন্স বা ধারণশীলতা বেশি এবং নিগ্রাহিতা কম বলে এর চুম্বকত্ব শক্তিশালী ও ক্ষণস্থায়ী হয়। এজন্য বৈদ্যুতিক চুম্বকের ক্ষেত্রে কাঁচা লোহা ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯.
চৌম্বক অক্ষ বরাবর দুই মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বকে কী বলে?
  1. চৌম্বক মেরু
  2. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
  3. চৌম্বক মধ্যতল
  4. চৌম্বক বিভব
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক দৈর্ঘ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৌম্বক দৈর্ঘ্য
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

চৌম্বক মেরু: 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। 
- চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মেরু N ও S দেখানো হয়েছে।

N = North Pole (উত্তরমেরু), 
S = South Pole (দক্ষিণমেরু)। 

চৌম্বক অক্ষ: 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে। 
চিত্রে, AB দন্ড চুম্বকের অক্ষ। 

চৌম্বক দৈর্ঘ্য: 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। 
চিত্রে, NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য। 

চৌম্বক মধ্যতল: 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলড্ কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে। 

ভৌগোলিক মধ্যতল: 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমের বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে। 
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০.
তাপ প্রয়োগ করলে চুম্বকের চুম্বকত্ব-
  1. ক) হ্রাস পায়
  2. খ) বৃদ্ধি পায়
  3. গ) অপরিবর্তিত থাকে
  4. ঘ) কখনো বৃদ্ধি পায় কখনো হ্রাস পায়
সঠিক উত্তর:
ক) হ্রাস পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
Heat

Heat will reduce the magnetic force of a magnet. Heat speeds up the rate at which the particles within the magnet move. When they move faster, they move more sporadically and misalign. In order for a magnetic to be a magnetic most of the magnetic molecules must be facing the same direction, so that each end of the magnet has opposite charges. When the particles begin moving faster the polar molecules move around as well and not as many of them will end up facing the same direction. This results in a decrease in the magnetism of the magnet
source:usmagnetix.com

৬১.
চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ বল সম্পর্কে সূত্র আবিস্কার করেন-
  1. মাইকেল ফ্যারাডে
  2. উইলিয়াম গিলবার্ট
  3. চার্লস অগাস্টিন কুলম্ব
  4. উইলহেলম এডুয়ার্ড ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
চার্লস অগাস্টিন কুলম্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস অগাস্টিন কুলম্ব
ব্যাখ্যা
• কূলম্বের সূত্র:
১৭৮৫ খৃষ্টাব্দে ফরাসী বিজ্ঞানী কুলম্ব চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ বল সম্পর্কে একটি সূত্র আবিস্কার করেন।
তাঁর নামানুসারে এই সূত্রটিকে কূলম্বের সূত্র বলে।
সূত্র: নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি পৃথক চুম্বকের মেরুর মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বা বলের মান মেরুদ্বয়ের শক্তির গুণফলের সমানুপাতিক, এদের মধ্যকার দূরত্বের বর্গের ব্যাস্তানুপাতিক এবং এই বল মেরুদ্বয়ের সংযোগ সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
ধরা যাক, মেরুদ্বয়ের শক্তি যথাক্রমে m1 ও m2 এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্ব d । মেরুদ্বয়ের মধ্যকার ক্রিয়াশীল বল F হলে,



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২.
চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক কোনটি? 
  1. লুমেন
  2. ওয়াট
  3. টেসলা
  4. ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
টেসলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেসলা
ব্যাখ্যা

চৌম্বক ক্ষেত্র: 
- কোনো তড়িৎবাহী তারের চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চৌম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ তড়িৎবাহী তারের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- লম্বা সোজা পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করা হলে এর চারদিকে যে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তা চুম্বক শলাকার সাহায্যে চৌম্বক ক্ষেত্র রেখা (বা চৌম্বক আবেশ রেখা) অঙ্কিত করে দেখানো যায়। রেখাগুলিকে চৌম্বক বলরেখাও বলা হয়ে থাকে। 
- লম্বা সোজা পরিবাহীর জন্য কোনো বিন্দুতে চৌম্বক ক্ষেত্রের মান (ক) পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহের সমানুপাতিক এবং (খ) বিন্দু থেকে পরিবাহীর দূরত্বের ব্যস্তানুপাতিক। 
- ক্রোয়েশিয়ার বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা এর নামানুসারে একে টেসলা (T) বলে। 
- টেসলা হচ্ছে চৌম্বক ক্ষেত্রের এস.আই একক। 
- এক চৌম্বকক্ষেত্র 1 কুলম্ব (C) আধান ক্ষেত্রের দিকের সাথে সমকোণে 1 ms-1 গতিশীল হলে 1 N বল অনুভব করে সেই চৌম্বকক্ষেত্রের মানকে 1 টেসলা বলে। 
- কোনো চুম্বক অথবা একটি গতিশীল চার্জের, চতুর্দিকে যে অঞ্চল জুড়ে একটি চুম্বক শলাকা বিক্ষেপ দেখায় তাকে ঐ চুম্বক বা গতিশীল চার্জের চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। 
- একটি একক চার্জ একক বেগে চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে সমকোণে গতিশীল হলে যে বল লাভ করে তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের মান। 
- একটি চুম্বক শলাকাকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করলে তার উত্তর মেরু যে দিক নির্দেশ করে, তাই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক। তড়িৎবাহী তারের জন্য চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক ফ্লেমিঙের দক্ষিণ হস্ত নিয়ম দ্বারা নির্ণয় করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩.
টেপ রেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় কোন ধরনের ব্যবহৃত হয়?
  1. অস্থায়ী চুম্বক
  2. সিরামিক চুম্বক
  3. কোমল চুম্বক 
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সিরামিক চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরামিক চুম্বক
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। 
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। 
যথা- 
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 

২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪.
বৈদ্যুতিক কলিংবেলে কোন চুম্বক ব্যবহৃত হয়?
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. পারম্যালয়
  3. অস্থায়ী চুম্বক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক
ব্যাখ্যা
• চুম্বক:
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়।

• স্থায়ী চুম্বক:
- কোনো ফেরোচৌম্বক পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করার পর চুম্বকায়ন শক্তি অপসারণ করলেও যদি চুম্বকত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে ঐ চুম্বককে স্থায়ী চুম্বক বলে।
• অস্থায়ী চুম্বক:
- যদি কোনো চৌম্বক পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে চৌম্বক ধর্ম প্রদর্শন করে এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের অনুপস্থিতিতে যদি তা চুম্বকত্ব হারায় তবে তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলা হয়।
• অস্থায়ী চুম্বকের বৈশিষ্ট্য:
- এটি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ প্রবাহ চলাকালীন চুম্বকের মতো কাজ করে।
- সাধারণত নরম লোহার কোর ব্যবহার করা হয়, যা সহজে চুম্বকত্ব হারায়।
- এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে বৈদ্যুতিক কলিংবেল তৈরি করতে অস্থায়ী চুম্বকের প্রয়োজন হয়। 

• বৈদ্যুতিক কলিংবেল (Electric Bell) কাজ করে তড়িৎ-চুম্বকীয় নীতির (Electromagnetic Principle) উপর।
- এতে একটি অস্থায়ী চুম্বক (Electromagnet) ব্যবহৃত হয়, যা বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে চুম্বকে পরিণত হয় এবং প্রবাহ বন্ধ হলে চুম্বকত্ব হারায়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
৬৫.
একটি আহিত বস্তুর চারপাশের যে অঞ্চলে তার প্রভাব থাকে তাকে কী বলা হয়? 
  1. তড়িৎ প্রাবল্য
  2. তড়িৎ বিভব
  3. তড়িৎ ক্ষেত্র
  4. তড়িৎ দ্বিমেরু
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ ক্ষেত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ ক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
তড়িৎ ক্ষেত্র: 
একটি আহিত বস্তুর চারপাশে যে অঞ্চলব্যাপী তার প্রভাব বজায় থাকে অর্থাৎ অন্য কোনো আহিত বস্তু আনা হলে সেটি আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বল লাভ করে সেই অঞ্চলকে ঐ আহিত বস্তুর তড়িৎ ক্ষেত্র বলে। 

তড়িৎ বিভব: 
- অসীম থেকে প্রতি একক ধনাত্মক আধানকে তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে আনতে সম্পন্ন কাজের পরিমাণকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ বিভব বলে। 

তড়িৎ দ্বিমেরু: 
- এক জোড়া সমান ও বিপরীত বিন্দু আধান অল্প দূরত্বে অবস্থিত থাকলে তাকে তড়িৎ দ্বিমেরু বলে। 

তড়িৎ প্রাবল্য: 
- তড়িৎ ক্ষেত্রের কোনো বিন্দুতে একটি একক ধনাত্মক আধান স্থাপন করলে সেটি যে বল অনুভব করে তাকে ঐ বিন্দুর তড়িৎ প্রাবল্য বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৬৬.
কোন যন্ত্র ব্যবহার করে তাড়িতচুম্বক তৈরি করা হয়?
  1. সলিনয়েড
  2. ব্যাটারি
  3. ক্যাপাসিটর 
  4. রেজিস্টর
সঠিক উত্তর:
সলিনয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সলিনয়েড
ব্যাখ্যা

- তাড়িতচুম্বক (Electromagnet) তৈরির মূল ভিত্তি হলো বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে সৃষ্ট চৌম্বক ক্ষেত্র। একটি অন্তরিত তামার তারকে যখন সিলিন্ডার বা কুণ্ডলীর আকারে পেঁচানো হয়, তখন তাকে সলিনয়েড বলা হয়। এই সলিনয়েডের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে এর ভেতরে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়, যা এটিকে একটি সাময়িক চুম্বকে পরিণত করে। সলিনয়েডের ভেতরে কাঁচা লোহার দণ্ড রাখলে এর চৌম্বক শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। 

তাড়িতচুম্বক (Electromagnet): 
- শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। তবে, যদি একটি লোহার টুকরো কয়েল বা সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয় এবং সলিনয়েড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়, তাহলে অনেক শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। 
- লোহা, কোবাল্ট এবং নিকেল এই ধাতুগুলোর চৌম্বকীয় ধর্ম রয়েছে। এদের ভেতর ছোট ছোট চৌম্বকের মতো অনেক কণিকা এলোমেলোভাবে থাকে। ফলে সাধারণ অবস্থায় লোহা চৌম্বক হিসেবে কাজ করে না। কিন্তু যখন লোহার টুকরোটি বিদ্যুৎপ্রবাহিত সলিনয়েডের ভেতরে রাখা হয়, তখন ওই চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে লোহার অভ্যন্তরের ছোট ছোট চৌম্বক কণিকাগুলো এক সারিতে সজ্জিত হয়। ফলে লোহার নিজস্ব চৌম্বক ক্ষেত্র গঠিত হয় এবং এটি সলিনয়েডের চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। এইভাবে তৈরি হওয়া চুম্বককে বলা হয় তাড়িতচুম্বক। 
- যখন সলিনয়েডে বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন লোহার অভ্যন্তরের চৌম্বক কণিকাগুলো আবার এলোমেলো হয়ে পড়ে এবং চৌম্বকত্ব হারিয়ে যায়। 
- স্পিকারে বা এয়ারফোনে যে শব্দ শোনা যায় সেখানে তাড়িতচুম্বক ব্যবহার করা হয়। এখানে শব্দের কম্পন এবং তীব্রতার সমান বিদ্যুৎপ্রবাহ পাঠানো হয়, সেই বিদ্যুৎ একটা তাড়িতচুম্বক বা ইলেকট্রোম্যাগনেটের চৌম্বকত্ব শব্দের কম্পন বা তীব্রতার উপযোগী করে তৈরি করে সেটা একটা ডায়াফ্রামকে কাঁপায় এবং সেই ডায়াফ্রাম সঠিক শব্দ তৈরি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭.
সর্বপ্রথম তড়িৎ চুম্বকের ধারণা দেন কে?
  1. ওয়েবার
  2. ওয়েরস্টেড
  3. গিলবার্ট
  4. কুলম্ব
সঠিক উত্তর:
ওয়েরস্টেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়েরস্টেড
ব্যাখ্যা

তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বক ক্রিয়া:
- আধুনিক বিজ্ঞান জগতে তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বক ক্রিয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশী অবদান রেখেছে।
- ফ্যান, মোটর, ইত্যাদি ঘূর্ণায়মান সকল যন্ত্রই তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়ার প্রভাবে কাজ করে।
- তড়িৎ প্রবাহ চারিদিকে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি করে।
- এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ঘটনার আবিষ্কারক কোপেনহেগেনের অধ্যাপক বিজ্ঞানী হেন্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড (1820)।
- ওয়েরস্টডের এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তাঁর নাম অনুসারে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্যের একক ওয়েরস্টেড (Oersted) করা হয়েছিল।
- তড়িৎ প্রবাহ যেহেতু গতিশীল তড়িৎ আধান, অতএব তড়িৎ আধান গতিশীল হলেই চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
- আধান স্থির থাকলে একে ঘিরে যে তড়িৎ ক্ষেত্র বর্তমান থাকে, আধান গতিশীল হলে তা দূরীভূত হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের উদ্ভব হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮.
কোনো চুম্বকের আকষর্ণী ও দিক নির্দেশক ধর্মকে এর ______ বলে।
  1. চৌম্বক মেরু
  2. চৌম্বক অক্ষ
  3. চৌম্বক দৈর্ঘ্য
  4. চুম্বকত্ব
সঠিক উত্তর:
চুম্বকত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বকত্ব
ব্যাখ্যা

চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে।
- এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়।

চুম্বক সংক্রান্ত কয়েকটি প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা: 
১. চুম্বকত্ব (Magnetism):
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব।
- কোনো চুম্বকের আকষর্ণী ও দিক নির্দেশক ধর্মকে এর চুম্বকত্ব বলে।  
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম।
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে।

২. চৌম্বক মেরু (Magnetic pole): 
- চুম্বকের দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি। 
- এই দুই প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। 

৩. চৌম্বক অক্ষ (Magnetic axis):  
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে।

৪. চৌম্বক দৈর্ঘ্য (Magnetic length):
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৯.
চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামকের একক কোনটি?
  1. ওয়েবার
  2. টেসলা
  3. অ্যাম্পিয়ার-মিটার2
  4. নিউটন-মিটার
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার-মিটার2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাম্পিয়ার-মিটার2
ব্যাখ্যা

• চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামকের একক অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2), কারণ M = m(2l) এবং মেরুশক্তি ও চৌম্বক দৈর্ঘ্যের গুণফলই ভ্রামক।

• চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক:
- কোনো চুম্বকের একটি মেরুশক্তি (m) ও চৌম্বক দৈর্ঘ্য (2l)-এর গুণফলকে চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক বলে।
- গাণিতিক রূপ: M = m(2l)।
- এটি একটি ভেক্টর রাশি।
- একক = অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2)।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য:
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর দুই মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্ব।
- জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চৌম্বক মেরু:
- চুম্বকের দুই প্রান্তে আকর্ষণ বল সর্বাধিক।
- উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু থাকে।

• অন্যান্য অপশন:
- ওয়েবার → চৌম্বক ফ্লাক্সের একক।
- টেসলা → চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্বের একক।
- নিউটন-মিটার → কাজ বা টর্কের একক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০.
Among these materials, which is classified as a paramagnetic material?
  1. Iron
  2. Cobalt
  3. Oxygen
  4. Nickel
  5. All are paramagnetic materials
সঠিক উত্তর:
Oxygen
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oxygen
ব্যাখ্যা
• ডায়া চৌম্বক পদার্থ:
এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।

• প্যারা চৌম্বক পদার্থ:
এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।

• ফেরো চৌম্বক পদার্থ:
এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১.
কুরি তাপমাত্রা চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব কতটুকু নষ্ট হয়?
  1. আংশিক নষ্ট হয়
  2. দুই ভাগের এক ভাগ
  3. সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
  4. চার ভাগের এক ভাগ
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পূর্ণ নষ্ট হয়
ব্যাখ্যা
চুম্বক: 
- চুম্বক হচ্ছে সেই সকল পদার্থ যাদের আকর্ষণ ও দিকদর্শী ধর্ম আছে। এ সকল পদার্থ দিয়ে উপযুক্ত পদার্থকে চুম্বক ধর্ম প্রদান করা যায়। 

চুম্বকত্ব: 
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। 
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম, কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। 


চৌম্বক মেরু: 
- যেকোনো চুম্বকের যে দুই প্রান্তের আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি সে প্রান্তকে চৌম্বক মেরু বলে। চিত্রে একটি দন্ডচুম্বকের দুটি মের N ও S দেখানো হয়েছে। N = North Pole (উত্তরমেরু), S = South Pole (দক্ষিণমেরু)। 

চৌম্বক অক্ষ: 
- যেকোনো চুম্বকের মেরু দুটিকে সংযোগ করে যে সরলরেখা পাওয়া যায়, তাকে চৌম্বক অক্ষ বলে। চিত্রে AB দন্ডচুম্বকের অক্ষ। 

কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু: 
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। 

রিমেনেন্স: 
- চুম্বকায়ন বলের প্রভাব সারিয়ে নেওয়ার পর চৌম্বক পদার্থে যে চুম্বকায়ন মাত্রা অবশিষ্ট থাকে তাকে রিমেনেন্স বলে। 

চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক বা চৌম্বক ভ্রামক: 
- কোনো একটি চুম্বকের যে কোনো একটি মেরু শক্তি এবং চৌম্বক দৈর্ঘ্যের গুণফলকে ঐ চুম্বকের দ্বিমেরু ভ্রামক বা চৌম্বক ভ্রামক বলে। 
- কোনো চুম্বকের মেরু শক্তি m এবং চৌম্বক দৈর্ঘ্য 2l হলে চৌম্বক ভ্রামক M = m (2l)। 
- চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামকের একক অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2)। 

চৌম্বক ফ্লাক্স বা চৌম্বক আবেশ: 
- কোনো চৌম্বকক্ষেত্রের একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত বলরেখার সংখ্যাকে চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্ব বা চৌম্বকক্ষেত্র ভেক্টর বলে। 
- চৌম্বক আবেশ বা ফ্লাক্স ঘনত্বের একক ওয়েবার/মি2 (Wbm-2) বা টেসলা। 

চৌম্বক দৈর্ঘ্য: 
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর চুম্বকের দুটি মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বের দৈর্ঘ্যকে চৌম্বক দৈর্ঘ্য বলে। চিত্রে NS = চৌম্বক দৈর্ঘ্য। 

চৌম্বক মধ্যতল: 
- চুম্বকের ভারকেন্দ্র দিয়ে মুক্তভাবে ঝুলন্ত কোনো একটি স্থির চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে। 

ভৌগলিক মধ্যতল: 
- পৃথিবীর কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর ও দক্ষিণমেরু বরাবর কল্পিত উলম্ব তলকে ঐ স্থানের ভৌগোলিক বা জ্যামিতিক মধ্যতল বলে। 
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যকার কিছুটা কৌণিক ব্যবধান থাকে, যাকে বিচ্যুতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২.
তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের উদ্ভাবক কে?
  1. ক) ভ্যান মুসচেন ব্রোয়েক
  2. খ) বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
  3. গ) সি. এফ. ডুফে
  4. ঘ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

- লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যান মুসচেন ব্রোয়েক ১৭৪৬ সালে তড়িৎ ধারক অবিষ্কার করেন.।
- বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ১৭৪৭ সালে আবিষ্কার করেন যে চার্জ দুই প্রকারঃ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক।
- সি. এফ. ডুফে ১৭৩৩ সালে আবিষ্কার করেন যে ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন চার্জ বিপরীতধর্মী।
- জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের উদ্ভাবন করেন এবং এর সাহয্যে তিনি তড়িৎ বল এবং চৌম্বক বলকে একীভূত করেন।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৭৩.
নিচের কোনটি স্থায়ী চুম্বক?
  1. সেমিরিয়াম কোবাল্ট
  2. অ্যালনিকো
  3. নিউডাইমিয়াম আয়রন বোরন
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে চৌম্বক পদার্থের মিশ্রণের বিভিন্নতার উপর ভিত্তি করে নিম্নে চার ধরনের স্থায়ী চুম্বক দেখানো হলো:

১। নিওডাইমিয়াম আয়রন বোরন:
নিওডাইমিয়াম আয়রন বোরন এ ধরনের স্থায়ী চুম্বক ল্যান্থানাইড শ্রেণিভুক্ত এবং শক্তিশালী প্রকৃতির।
এদেরকে সহজে বিচুম্বকায়ন করা যায় না।

২। সেমিরিয়াম কোবাল্ট:
এটিও এক প্রকার স্থায়ী চুম্বক।

৩। অ্যালনিকো: এটি অ্যালুমিনিয়াম, নিকেল ও কোবাল্টের সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি। এটি স্থায়ী চুম্বক হলেও
বিচুম্বকায়ন করা যায়। এটি বহুল ব্যবহৃত হয় তবে এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল।

৪। ফেরাইট:
এটি বহুল ব্যবহৃত স্থায়ী চুম্বক। এর চুম্বকত্ব তাপমাত্রার উপর খুব বেশি নির্ভরশীল।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭৪.
What is an example of a magnetic material?
  1. Aluminum
  2. Copper
  3. Cobalt
  4. Silver
  5. Zinc
সঠিক উত্তর:
Cobalt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cobalt
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বা ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
উদাহরণ- লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদেরকে চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ- সোনা, রূপা, তামা, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা, টিন, কাঠ, কাগজ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫.
ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হল-
  1. hλ/c
  2. hc/λ
  3. cλ/h
  4. chλ
সঠিক উত্তর:
hc/λ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
hc/λ
ব্যাখ্যা
◉ ফোটন শক্তি 'E' এর সমীকরণটি হলো- E = hc/λ

ফোটন কণা:
- ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ, আলো তড়িৎ ক্রিয়া, কম্পটন ক্রিয়াগুলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য বিকিরণ শক্তিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেটের গুচ্ছ প্রবাহ আকারে বিবেচনা করা হয়। এই শক্তিকে আলোর কোয়ান্টা (quanta) বা ফোটন (photon) বলে।

• প্রতিটি ফোটনের শক্তি মান E = hf, যেখানে কম্পাংক, f = c/λ.
বা, E = hf
বা, E = h × c/λ
∴ E = hc/λ

এখানে, λ হলো বিকিরণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬.
সর্বপ্রথম তড়িৎ চুম্বকের ধারণা দেন কে?
  1. ওয়ারস্টেড
  2. ওয়েবার
  3. গিলবার্ট
  4. কুলম্ব
সঠিক উত্তর:
ওয়ারস্টেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারস্টেড
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বক ক্রিয়া:
- আধুনিক বিজ্ঞান জগতে তড়িৎ প্রবাহে চৌম্বক ক্রিয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশী অবদান রেখেছে।
- ফ্যান, মোটর, ইত্যাদি ঘূর্ণায়মান সকল যন্ত্রই তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়ার প্রভাবে কাজ করে।
- তড়িৎ প্রবাহ চারিদিকে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি করে।
- এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ঘটনার আবিষ্কারক কোপেনহেগেনের অধ্যাপক বিজ্ঞানী হেন্স ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড (1820)।
- ওয়েরস্টডের এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য তাঁর নাম অনুসারে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্যের একক ওয়েরস্টেড (Oersted) করা হয়েছিল।
- তড়িৎ প্রবাহ যেহেতু গতিশীল তড়িৎ আধান, অতএব তড়িৎ আধান গতিশীল হলেই চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
- আধান স্থির থাকলে একে ঘিরে যে তড়িৎ ক্ষেত্র বর্তমান থাকে, আধান গতিশীল হলে তা দূরীভূত হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের উদ্ভব হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
জেনারেটরে কোন ধরনের চুম্বক ব্যবহার করা হয়?
  1. অস্থায়ী চুম্বক
  2. স্থায়ী চুম্বক
  3. সংকর চুম্বক
  4. সিরামিক চুম্বক
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক
ব্যাখ্যা

• জেনারেটরে সাধারণত স্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয় না। জেনারেটরে মূলত চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করতে অস্থায়ী চুম্বক বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেট ব্যবহার করা হয়। ইলেক্ট্রোম্যাগনেট তৈরি হয় লোহা বা লৌহকাঠের সলিড কোরের চারপাশে কয়েল ওয়্যার ঘোরানোর মাধ্যমে, যেখানে বৈদ্যুতিক ধারা প্রবাহিত করলে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হয়। এটি শক্তিশালী এবং নিয়ন্ত্রিত চৌম্বক ক্ষেত্র প্রদান করতে সক্ষম, যা ঘূর্ণমান রটার বা কুণ্ডলীর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। তাই, জেনারেটরে সাধারণভাবে অস্থায়ী চুম্বক (ইলেক্ট্রোম্যাগনেট) ব্যবহার করা হয়, যা চাহিদা অনুযায়ী চালু-বন্দ করতে বা চুম্বকীয় শক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধাজনক।

- সঠিক উত্তর: ক) অস্থায়ী চুম্বক।

কৃত্রিম চুম্বক: কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়।
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক

অস্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে।
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়।

স্থায়ী চুম্বক:
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
- স্থায়ী চুম্বক দুই ধরনের হয়- সংকর চুম্বক ও সিরামিক চুম্বক।
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮.
​ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ কোনটি? 
  1. রূপা 
  2. পানি 
  3. লোহা 
  4. অক্সিজেন 
সঠিক উত্তর:
লোহা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা 
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, তাদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে।
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে।
- কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোল গুলো এলোমেলোভাবে থাকে।
- ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ থাকে না।

ডায়াচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায, তাদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি।
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না।
- এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়।
- এক জোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে।
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না।

ফেরোচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, তাদেরকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি।
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট্ চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে, কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না।
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন- এ বিভক্ত থাকার ফলে সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়।
- ফেরো চৌম্বক পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে বা চুম্বকের কাছে আনলে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিকে কিছু কিছু ডোমেইনের আকার এক সময় বৃহৎ ডোমেইন গঠন করে এবং দ্বিপোলগুলো ক্ষেত্রের দিকে পদার্থটির চুম্বকায়ন ঘটে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯.
রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম কী?
  1. এক্স-রে
  2. আলোক তরঙ্গ
  3. ইনফ্রারেড
  4. মাইক্রোওয়েভ
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোওয়েভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোওয়েভ:
- রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম মাইক্রোওয়েভ।
- রাডার যন্ত্রে, নৌ ও বিমান চালনায়, রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায়, শিল্প কারখানায় মাইক্রোওয়েভ ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া খাবার গরম করা ও রান্নার কাজে মাইক্রোওভেন ব্যবহৃত হয়।
- মাইক্রোওয়েভ এর ফ্রিকুয়েন্সী রেঞ্জ হচ্ছে ৩০০MHz থেকে ৩০০GHz.
- মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমে মূলত দুটো ট্রান্সসিভার (Transceiver) থাকে।
- এর একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিট (Transmit) করে এবং অন্যটি রিসিভ (Receive) করে।

• মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগ দু' ধরনের হতে পারে। যথা:
১. টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (Terrestrial Microwave) ও
২. স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ (Satellite Microwave)।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা
২. পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০.
তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কোন যন্ত্র তৈরি করা হয়? 
  1. বৈদ্যুতিক হিটার
  2. অ্যামপ্লিফায়ার
  3. ট্রান্সফরমার
  4. ডায়োড
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফরমার
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বক আবেশ (Electromagnetic Induction) হলো সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে কোনো পরিবাহীতে তড়িৎ চালক শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
- ট্রান্সফরমার এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি স্থির যন্ত্র, যা পারস্পরিক আবেশের মাধ্যমে এক কুন্ডলী থেকে অন্য কুন্ডলীতে শক্তি স্থানান্তর করে এবং ভোল্টেজ পরিবর্তন করে।

• তাড়িতচৌম্বক আবেশ: 
- একটি তারের কুণ্ডিলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার সময় কুন্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে। 
- তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় বৈদ্যুতিক মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার ইত্যাদি। 

• ট্রান্সফরমার (Transformer): 
- যে যন্ত্র পর্যাবৃত্ত উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভবে বা নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তর করে তাকে ট্রান্সফরমার বলে।
- ট্রান্সফরমার একটি তড়িৎ যন্ত্র। 
- এটি পরিবর্তি প্রবাহে কাজ করে। 
- ট্রান্সফরমার যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। 
- এখানে মূলত দুটি কুণ্ডলী থাকে। 
- ট্রান্সফরমার সাধারণত দুই প্রকারের হয়। 
যথা- স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার ও স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১.
তড়িৎ মোটরে সংঘটিত শক্তির রূপান্তর কোনটি? 
  1. তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
  2. তড়িৎ শক্তি আলোক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
  3. তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
  4. তড়িৎ শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
ব্যাখ্যা
তড়িৎ মোটর: 
- তড়িৎবাহী তারের উপর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তড়িৎ মোটর তৈরি করা হয়। 
- যে তড়িৎ যন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে। 
- ডি.সি মোটর ও এ.সি মোটর নামে দুই ধরনের মোটর তৈরি হয়। 
- মোটরের গতি এবং শক্তি নিম্নোক্তভাবে ভাবে বৃদ্ধি করা যায়- 
১। তড়িৎ প্রবাহের মান বৃদ্ধি করে। 
২। কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা বৃদ্ধি করে। 
৩। শক্তিশালী চুম্বক ব্যবহার করে। 
৪। কুণ্ডলীর ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২.
চুম্বককে সুতোয় ঝুলিয়ে মুক্তভাবে রাখলে কোন দিকে স্থির হয়?
  1. পূর্ব–পশ্চিম
  2. উত্তর–দক্ষিণ
  3. উত্তর–পূর্ব
  4. দক্ষিণ–পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
উত্তর–দক্ষিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর–দক্ষিণ
ব্যাখ্যা

• চুম্বককে সুতোয় ঝুলিয়ে মুক্তভাবে স্থির অবস্থায় রাখলে এটি পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে উত্তর–দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে।

• চুম্বক (Magnet):
- চুম্বক হলো এমন একটি বস্তু যা লোহা, নিকেল, কোবাল্ট প্রভৃতি চৌম্বকীয় পদার্থকে আকর্ষণ করতে পারে।
- চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা মূলত তার চারপাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে সৃষ্টি হয়।
- একটি চুম্বকের দুটি প্রান্ত থাকে, যেগুলোকে চৌম্বক মেরু বলা হয়।
- চুম্বকের এক প্রান্তকে উত্তর মেরু (North Pole) এবং অন্য প্রান্তকে দক্ষিণ মেরু (South Pole) বলা হয়।
- সমধর্মী মেরু পরস্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীতধর্মী মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে।
- চুম্বককে সুতোয় ঝুলিয়ে মুক্তভাবে স্থির অবস্থায় রাখলে এটি সর্বদা উত্তর–দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে।
- চুম্বকের আকর্ষণ ক্ষমতা তার মেরু অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি এবং মাঝখানে তুলনামূলকভাবে কম হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮৩.
নিচের কোনটি ফেরোচৌম্বক পদার্থের উদাহরণ?
  1. লোহা 
  2. পানি 
  3. প্লাটিনাম
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
লোহা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা 
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বকীয় পদার্থ (Paramagnetic elements): 
- যে সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়, এদেরকে প্যারা চৌম্বক বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি। 
- প্যারা চৌম্বক পদার্থের অণু, পরমাণু, বা আয়নের স্থায়ী চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। 
- এসব দ্বিপোল এক একটি স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সাধারণ তাপমাত্রায় তাপজনিত কম্পন বেশি হওয়ার ফলে এই দ্বিপোলগুলো এলোমেলোভাবে থাকে। ফলস্বরূপ পদার্থের কোন এক দিকে নীট চুম্বকায়ণ (magnedisation) থাকে না। 
- এ সকল পদার্থকে বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রে স্থাপন করলে দ্বিপোলসমূহ ক্ষেত্রের অভিমুখ বরাবর সজ্জিত হওয়ার চেষ্ঠা করে। কিন্তু তাপীয় উত্তেজনা এ সজ্জিতকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করে। 
- ফলে কিছু দ্বিপোল সজ্জিত হয় এবং ক্ষেত্রের দিকে কিছু চুম্বকায়ন ঘটায় অর্থাৎ নীট ফল হিসেবে পদার্থটি একটি চৌম্বক মোমেন্ট অর্জণ করে এবং এ চৌম্বক মোমেন্টের অভিমুখ প্রযুক্ত চৌম্বকক্ষেত্রের দিকে হয়। 

ফেরোচৌম্বকীয় পদার্থ (Ferromagnetism elements): 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয় এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 
- ফেরো চৌম্বক পদার্থের পরমাণু তথা অণুসমূহের প্রত্যেকের নীট চৌম্বক দ্বিপোল মোমেন্ট থাকে। কিন্তু দ্বিপোলগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে কাজ করে না। 
- এই দ্বিপোলগুলো বিভিন্ন ডোমেইন-এ বিভক্ত থাকে। ফলে, সমষ্টিগতভাবে নীট মোমেন্ট শূন্য হয়। 

ডায়াচৌম্বকীয় পদার্থ (Diamagnetism elements): 
- যে সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায় অর্থাৎ সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয় এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি। 
- ডায়া চৌম্বক পদার্থের পরমাণুমূহের কোন স্থায়ী চৌম্বক মোমেন্ট থাকে না। এসব পরমাণুতে ইলেকট্রনের কক্ষীয় ও স্পিন গতি থেকে চৌম্বক মোমেন্ট উৎপত্তি হয়। 
- একজোড়া ইলেককট্রনের মধ্যে একটির মোমেন্ট অন্যটির সমান ও বিপরীত হলে, এদের নীট মোমেন্ট শূন্য হবে। 
- যেহেতু ডায়াচৌম্বক পদার্থের পরমাণুতে এ রকম বহু সংখ্যক জোড়ার সমাহার সেহেতু পদার্থের পরমাণুতে কোনো দ্বিপোল থাকে না এবং কোন নীট মোমেন্টও থাকে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪.
লোহা একটি -
  1. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
  2. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  3. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
  4. অ্যান্টি-ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
সঠিক উত্তর:
ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
প্যারাচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরোচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

ডায়াচৌম্বক: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫.
চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে যেসব পদার্থ শক্তিশালী চুম্বকত্ব ধারণ করে, সেগুলোকে কী বলে? 
  1. ডায়াচৌম্বক
  2. আয়নচৌম্বক
  3. ফেরোচৌম্বক
  4. প্যারাচৌম্বক
সঠিক উত্তর:
ফেরোচৌম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেরোচৌম্বক
ব্যাখ্যা

প্যারাচৌম্বক: 
- এসকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ডায়াচৌম্বক: 
- এসকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইত্যাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরোচৌম্বক: 
- এসকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়, এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
উদাহরণ: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬.
নিচের কোন ধাতুটি চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত হয় না? 
  1. নিকেল
  2. তামা
  3. লোহা
  4. কোবাল্ট
সঠিক উত্তর:
তামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা
ব্যাখ্যা
চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকেই চুম্বক আকর্ষণ করে তাদেরকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট এবং অধিকাংশ ইস্পাতকে আকর্ষণ করে তাই এই পদার্থগুলোকে চৌম্বক পদার্থ বলে। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না তাদেরকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- তামা, অ্যালুমিনিয়াম, পিতল, কাঠ, রৌপ্য, প্লাস্টিক ইত্যাদি পদার্থগুলোকে আকর্ষণ করে না তাই এই পদার্থগুলোকে অচৌম্বক পদার্থ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮৭.
দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু সর্বদা কোন মেরুকে আকর্ষণ করে?
  1. দক্ষিণ মেরু
  2. উত্তর মেরু
  3. পূর্ব মেরু 
  4. পশ্চিম মেরু
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ মেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ মেরু
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র: 
- একটি দণ্ড চুম্বককে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলে স্থির অবস্থায় তা সব সময়ই উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে। 
- পৃথিবীর চুম্বকত্বের জন্যই এ রকম হয়। 
- পৃথিবীর সব জায়গাতেই ভূচুম্বকের প্রভাব বর্তমান। 
- ঝুলন্ত অবস্থায় দণ্ড চুম্বকের দুই মেরু পৃথিবীর দুই চৌম্বক মেরুকে নির্দেশ করে; এখানে, দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু উত্তর দিককে নির্দেশ করে। 
- কিন্তু একটি দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু সর্বদা দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে, ফলে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু আসলে উত্তর মেরু হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৮৮.
পদার্থ কোন তাপমাত্রায় চুম্বকত্ব হারায় ?
  1. পরম শূন্য তাপমাত্রায়
  2. কক্ষ তাপমাত্রায়
  3. কুরি তাপমাত্রায়
  4. স্ফুটনাংকে
সঠিক উত্তর:
কুরি তাপমাত্রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুরি তাপমাত্রায়
ব্যাখ্যা
• চুম্বকত্ব (Magnetism):
- চুম্বক পদার্থের ধর্মই হলো চুম্বকত্ব। চুম্বকত্ব পদার্থের ভৌত ধর্ম।
- কারণ পদার্থকে চুম্বকে পরিণত করলে এর ভর, ঘনত্ব, আয়তন ও তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- তবে চুম্বকত্বের উপর তাপমাত্রার বাহ্যিক প্রভাব রয়েছে। অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে তাপ প্রয়োগে পদার্থের চুম্বকত্ব নষ্ট হয়ে যায়। 

• কুরি তাপমাত্রা বা কুরি বিন্দু (Curie temperature or Curie point):
- যে তাপমাত্রায় কোনো চৌম্বক পদার্থের চুম্বকত্ব সম্পূর্ণ নষ্ট হয় তাকে কুরি তাপমাত্রা বলে। এই তাপমাত্রার পর পদার্থের আর কোন চুম্বকত্ব থাকে না।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯.
অচৌম্বক পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. চুম্বক আকর্ষণ করে কিন্তু চুম্বকে পরিণত হয় না
  2. চুম্বক আকর্ষণ করে না কিন্তু চুম্বকে পরিণত হতে পারে
  3. চুম্বক আকর্ষণ করে এবং চুম্বকে পরিণত হতে পারে
  4. চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং চুম্বকে পরিণত করা যায় না
সঠিক উত্তর:
চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং চুম্বকে পরিণত করা যায় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং চুম্বকে পরিণত করা যায় না
ব্যাখ্যা

- অচৌম্বক পদার্থ বলতে সেই সকল পদার্থকে বোঝায় যাদের চুম্বক দ্বারা আকর্ষণ বা বিকর্ষণ করা যায় না, যেহেতু এসব পদার্থের মধ্যে কোনো চৌম্বক প্রবেশ্যতা নেই, তাই এদের সাধারণ উপায়ে চুম্বকেও পরিণত করা সম্ভব নয়। 

চৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে এবং যাদের চুম্বকে পরিণত করা যায় তাদের চৌম্বক পদার্থ বলে। 
- বেশিরভাগ চৌম্বক পদার্থে লোহা থাকে তাই চৌম্বক পদার্থকে ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। ফেরো শব্দটির অর্থ লোহা। 
- উদাহরণ: লোহা, ইস্পাত, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি। 

অচৌম্বক পদার্থ: 
- যে সকল পদার্থকে চুম্বক আকর্ষণ করে না এবং যাদের চুম্বকে পরিণত করা যায় না তাদের অচৌম্বক পদার্থ বলে। 
- উদাহরণ: অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল, সোনা, রূপা, তামা, পিতল, দস্তা ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯০.
বাতাস একটি -
  1. ডায়াচুম্বকীয় পদার্থ
  2. প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
  3. ফেরোচুম্বকীয় পদার্থ 
  4. অ্যান্টিফেরোচুম্বকীয় পদার্থ 
সঠিক উত্তর:
প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারাচুম্বকীয় পদার্থ
ব্যাখ্যা
- বায়ু যা প্রাথমিকভাবে নাইট্রোজেন (N2), অক্সিজেন (O2) এবং কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), জলীয় বাষ্প (H2O) এবং গ্যাসের মতো অল্প পরিমাণে অন্যান্য গ্যাস নিয়ে গঠিত। 
এদের মধ্যে,
- অক্সিজেন একটি প্যারাম্যাগনেটিক উপাদান। 
- নাইট্রোজেন, আর্গন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ডায়াম্যাগনেটিক উপাদান। 
যাইহোক, 
- অক্সিজেনের প্যারাম্যাগনেটিক বৈশিষ্ট্য অন্যান্য গ্যাসগুলোর ডায়াম্যাগনেটিক বৈশিষ্ট্যের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই, সামগ্রিকভাবে বায়ুকে একটি প্যারাম্যাগনেটিক উপাদান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 

নিচে Introduction to Electricity, Magnetism, and Circuits by Samuel J. Ling; Jeff Sanny; William Moebs; and Daryl Janzen বইটি থেকে সরাসরি কিছু প্যারাম্যাগনেটিক এবং ডায়াম্যাগনেটিক উপাদানের তালিকা দেয়া হল। 

--------------------
⇒ দুটি বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে আমরা ডায়াচৌম্বক ও প্যারাচৌম্বক পদার্থ নির্ণয় করতে পারি -
প্রথমত, 
• ডায়াচৌম্বক পদার্থের চৌম্বক গ্রাহীতা (χm) ক্ষুদ্র কিন্তু ঋণাত্মক অর্থাৎ (χm < 0),  
• অপরদিকে প্যারাচৌম্বক পদার্থের চৌম্বক গ্রাহীতা (χm) ক্ষুদ্র কিন্তু ধণাত্মক অর্থাৎ (χm > 0) । 
→ বায়ুর চৌম্বক গ্রাহীতা [Magnetic Susceptibility] (χair) হচ্ছে 3.6 × 10-7 বা 0.00000036, যা ধনাত্মক অর্থাৎ (χm > 0) । 

[উৎস: Introduction to Electricity, Magnetism, and Circuits by Samuel J. Ling; Jeff Sanny; William Moebs; and Daryl Janzen.] 

দ্বিতীয়ত, 
• ডায়াচৌম্বক পদার্থের আপেক্ষিক চৌম্বক প্রবেশ্যতার (μr) মান 1 এর চেয়ে ছোট অর্থাৎ (μr < 1), 
• অপরদিকে প্যারাচৌম্বক পদার্থের আপেক্ষিক চৌম্বক প্রবেশ্যতার (μr) মান 1 এর চেয়ে সামান্য বড় অর্থাৎ (μr > 1)। 
→ বায়ুর আপেক্ষিক চৌম্বক প্রবেশ্যতার [Relative Magnetic Permeability] (μair) মান 1.00000036, যা 1 এর চেয়ে সামান্য বড় অর্থাৎ (μr > 1)। 

[উৎস: Introduction to Magnetic Materials (2nd edition), B. D. Cullity and C. D. Graham (2008)] 

আবার, 
• অক্সিজেন একটি প্যারাচৌম্বক পদার্থ যার চৌম্বক গ্রাহীতা (χ) হচ্ছে 1.8 × 10-6 [ধনাত্মক মান দ্বারা প্যারাচৌম্বক পদার্থ বোঝায়]। 
• নাইট্রোজেন একটি ডায়াচৌম্বক পদার্থ যার চৌম্বক গ্রাহীতা (χn) হচ্ছে - 6.7 × 10-9 [ঋণাত্মক মান দ্বারা ডায়াচৌম্বক পদার্থ বোঝায়]। 

→ বায়ুমণ্ডলের বাতাসে নাইট্রোজেনের পরিমাণ 78.02% এবং অক্সিজেনের পরিমাণ 20.71% । 
→ বায়ুমণ্ডলের নির্দিষ্ট পরিমাণ বাতাসে অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের চৌম্বক গ্রাহীতা (1.8 × 10-6) × 20.71%  > (6.7 × 10-9) × 78.02% [অর্থাৎ,  χ > χn
→ তাই বাতাসে অক্সিজেনের প্যারাম্যাগনেটিক বৈশিষ্ট্য নাইট্রোজনের ডায়াম্যাগনেটিক বৈশিষ্ট্যের তুলনায় অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী। 

[উৎস: Introduction to Electricity, Magnetism, and Circuits by Samuel J. Ling; Jeff Sanny; William Moebs; and Daryl Janzen.] 

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বায়ুতে প্যারাচৌম্বক পদার্থের সকল বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। 
তাই, সামগ্রিকভাবে বায়ুকে একটি প্যারাম্যাগনেটিক পদার্থ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 
=========================
ডায়া চৌম্বক পদার্থ: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়। 
- অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ। 

প্যারা চৌম্বক পদার্থ: 
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। 
- এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ। 

ফেরো চৌম্বক পদার্থ: 
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। 
- এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে। 
যেমন- লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১.
চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের অনুপাত প্রায় কত?
  1. 0.55
  2. 0.70
  3. 0.85
  4. 1.00
সঠিক উত্তর:
0.85
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.85
ব্যাখ্যা

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের অনুপাত প্রায় 0.85, অর্থাৎ চৌম্বক দৈর্ঘ্য জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চুম্বক ও চুম্বকত্ব:
- যে বস্তু অন্য বিশেষ ধর্মবিশিষ্ট বস্তুকে আকর্ষণ করতে পারে এবং মুক্তভাবে ঝুলালে উত্তর-দক্ষিণ দিকে অবস্থান করে, তাকে চুম্বক বলে।
- চুম্বক পদার্থের ভৌত ধর্মই হলো চুম্বকত্ব।
- চুম্বকত্ব পদার্থের ভর, ঘনত্ব, আয়তন, তাপমাত্রা পরিবর্তন করে না।
- তবে তাপমাত্রা চুম্বকত্বের উপর প্রভাব ফেলে।

• চৌম্বক মেরু:
- চুম্বকের যে দুই প্রান্তে আকর্ষণ বল সর্বাধিক, সেগুলোকে চৌম্বক মেরু বলে।
- উত্তর মেরু (North Pole) এবং দক্ষিণ মেরু (South Pole) থাকে।

• চৌম্বক অক্ষ:
- চুম্বকের দুই মেরুকে সংযোগকারী সরলরেখাকে চৌম্বক অক্ষ বলে।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য:
- চৌম্বক অক্ষ বরাবর দুই মেরুর মধ্যবর্তী দূরত্বই চৌম্বক দৈর্ঘ্য।

• জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য:
- দণ্ডচুম্বকের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্বকে জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য বলে।

• চৌম্বক দৈর্ঘ্য ও জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের সম্পর্ক:
- চৌম্বক দৈর্ঘ্য / জ্যামিতিক দৈর্ঘ্য ≈ 0.85 অর্থাৎ চৌম্বক দৈর্ঘ্য জ্যামিতিক দৈর্ঘ্যের তুলনায় কিছুটা কম।

• চৌম্বক মধ্যতল:
- মুক্তভাবে ঝুলন্ত চুম্বকের চৌম্বক অক্ষের মধ্য দিয়ে কল্পিত তলকে চৌম্বক মধ্যতল বলে।

• ভৌগোলিক মধ্যতল:
- কোনো স্থানে ভৌগোলিক উত্তর-দক্ষিণ বরাবর কল্পিত উল্লম্ব তলকে ভৌগোলিক মধ্যতল বলে।
- চৌম্বক মধ্যতল ও ভৌগোলিক মধ্যতলের মধ্যে কৌণিক ব্যবধানকে বিচ্যুতি বলে।

• চৌম্বক দ্বিমেরু:
- প্রতিটি অণুচুম্বক দুই মেরুবিশিষ্ট, তাই চুম্বককে চৌম্বক দ্বিমেরু বলা যায়।
- একটি দণ্ডচুম্বকও চৌম্বক দ্বিমেরু।

• চৌম্বক দ্বিমেরু ভ্রামক:
- কোনো একটি মেরুশক্তি (m) ও চৌম্বক দৈর্ঘ্য (2l)-এর গুণফলই দ্বিমেরু ভ্রামক।
- M = m(2l).
- একক = অ্যাম্পিয়ার-মিটার2 (Am2)।

• চৌম্বক ফ্লাক্স বা আবেশ:
- একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে লম্বভাবে অতিক্রান্ত বলরেখার সংখ্যাই চৌম্বক আবেশ।
- একক = ওয়েবার/মিটার2 বা টেসলা।

• চৌম্বক ক্ষেত্র:
- চুম্বক বা বিদ্যুৎবাহী তারের চারপাশের সেই অঞ্চল, যেখানে চৌম্বক প্রভাব অনুভূত হয়, তাকে চৌম্বক ক্ষেত্র বলে।

• চুম্বকায়ন:
- প্রতি একক আয়তনে চৌম্বক ভ্রামককে চুম্বকায়ন বলে।
- I = M / V.
- একক = অ্যাম্পিয়ার/মিটার।

• চৌম্বক প্রাবল্য:
- চৌম্বক আবেশ ও চৌম্বক প্রবেশ্যতার অনুপাতই চৌম্বক প্রাবল্য।
- একক = অ্যাম্পিয়ার/মিটার।

• চৌম্বক প্রবেশ্যতা:
- μ = B / H.
- শূন্যস্থানে μ₀ = B₀ / H.
- একক = টেসলা-মিটার/অ্যাম্পিয়ার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২.
আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা প্রদান করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) হেন্রিখ হার্জ
  2. খ) ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  3. গ) ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাংক
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভ‚তপূর্ব উন্নতি ঘটে।
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৮৩১-১৮৭৯) আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্তে¡র ধারণা দেন।
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেন্রিখ হার্জের (১৮৫৭-১৮৯৪) পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী (১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে
সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন।
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও (১৮৫৮-১৯৩৭) একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়।

উৎস: এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩.
জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার তৈরিতে কোন ধরনের চুম্বক ব্যবহার করা হয়? 
  1. স্থায়ী চুম্বক
  2. অস্থায়ী চুম্বক
  3. সংকর চুম্বক
  4. সিরামিক চুম্বক
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থায়ী চুম্বক
ব্যাখ্যা
কৃত্রিম চুম্বক: 
- কৃত্রিম চুম্বক দুই ধরনের হয়। যথা- 
১. অস্থায়ী বা কোমল চুম্বক এবং 
২. স্থায়ী বা কঠিন চুম্বক। 

অস্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক পদার্থকে কোন চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে আনলে সেটি চুম্বকে পরিণত হয়। 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত হবার সাথে সাথে যে কৃত্রিম চুম্বকের মত চুম্বকত্ব বিলুপ্ত হয় তাকে অস্থায়ী চুম্বক বলে। 
- মোটর, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি তৈরিতে অস্থায়ী চুম্বক ব্যবহার করা হয়। 

স্থায়ী চুম্বক: 
- চৌম্বক ক্ষেত্র অপসারিত করলেও যে কৃত্রিম চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে বিলুপ্ত হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে। 
- স্থায়ী চুম্বক আবার দুই ধরনের হয়। যথা- 
১। সংকর চুম্বক ও 
২। সিরামিক চুম্বক। 
- টেপরেকর্ডার ও কম্পিউটারের স্মৃতির ফিতায় সিরামিক চুম্বক বহুল ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪.
দিক নির্ণায়ক কম্পাসে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্থায়ী চুম্বক
  2. খ) বৈদ্যুতিক চুম্বক
  3. গ) অস্থায়ী চুম্বক
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) স্থায়ী চুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্থায়ী চুম্বক
ব্যাখ্যা

যে সকল চুম্বকের চুম্বকত্ব সহজে নষ্ট হয় না তাকে স্থায়ী চুম্বক বলে।
স্থায়ী চুম্বকের ব্যবহারঃ
চৌম্বক কম্পাস বা দিকদর্শন যন্ত্র: সমুদ্রে জাহাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য চৌম্বক কম্পাস বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি নৌবাহবিজ্ঞানের (Navigation) অন্তর্ভূক্ত একটি যন্ত্র।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৯৫.
ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে
  2. খ) কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে
  3. গ) প্রশান্ত মহাসাগরের কিরিবাতি দ্বীপে
  4. ঘ) দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপে
সঠিক উত্তর:
ক) এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে
ব্যাখ্যা

১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের পারিবারিক চিকিৎসক ড. গিলবার্ট বিভিন্ন পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে পৃথিবী একটি চুম্বক।
এই ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু কানাডার উত্তর দিকে বুথিয়া উপদ্বীপে এবং উত্তর মেরু এন্টার্কটিকা মহাদেশের ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত।
প্রকৃতপক্ষে ভূ-চুম্বকের দক্ষিণ মেরু ভৌগলিক উত্তর মেরু থেকে প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূ-চুম্বকের উত্তর মেরু ভৌগলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ২২০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯৬.
চৌম্বকক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে কোনটি তৈরি হয়?
  1. শব্দতরঙ্গ
  2. বিদ্যুৎপ্রবাহ
  3. আলোকতরঙ্গ
  4. তাপশক্তি
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যুৎপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
• তাড়িতচৌম্বক আবেশ:
- একটি তারের কুণ্ডলীতে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করার মাধ্যমে কুণ্ডলীর ভেতর ভোল্টেজ এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি করাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলা হয়। 

যখন চৌম্বক ক্ষেত্র পরিবর্তন হয় শুধু তখন বিদ্যুৎপ্রবাহ সৃষ্টি হয়।
- একটা কয়েলের মাঝখানে প্রচণ্ড শক্তিশালী একটা চুম্বক রেখে দিলে কিন্তু নড়াচড়া না করলে কয়েল দিয়ে কোনো বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে না।
- শুধু যখন চুম্বকটি নাড়িয়ে চৌম্বক ক্ষেত্র পরিবর্তন করা হবে তখনই এর ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৯৭.
পানির অণু একটি-
  1. প্যারাচুম্বক
  2. ডায়াচুম্বক
  3. ফেরােচুম্বক
  4. অ্যান্টিফেরােচুম্বক
সঠিক উত্তর:
ডায়াচুম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াচুম্বক
ব্যাখ্যা
• প্যারাচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থ চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দূর্বল চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং এরা চুম্বকের দিকে মুখ করে থাকতে চায়। এদেরকে প্যারা চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: অক্সিজেন, সোডিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাটিনাম, টিন ইত্যাদি প্যারা চৌম্বক পদার্থ।

• ডায়াচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে দুর্বল চুম্বকত্ব সৃষ্টি হয় এবং এরা চৌম্বক ক্ষেত্র থেকে সরে যায়।
- অর্থাৎ, সৃষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বিপরীত দিকে হয়। এদেরকে ডায়া চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: হাইড্রোজেন, পানি, সোনা, রূপা, তামা, বিসমাথ ইতাদি ডায়া চৌম্বক পদার্থ।

• ফেরোচৌম্বক:
- এ সকল পদার্থকে চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে, পদার্থের মধ্যে শক্তিশালী চুম্বকত্ব আবিষ্ট হয় এবং আবিষ্ট চুম্বকায়নের অভিমুখ বহিঃচৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখের বরাবর হয়। এদের ফেরো চৌম্বক পদার্থ বলে।
- উদাহরণ: লোহা, নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি ফেরো চৌম্বক পদার্থ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮.
কোনো চার্জযুক্ত কণিকা যদি চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে ৯০° কোণে চলে, তবে- 
  1. কোনো বল থাকে না
  2. সর্বাধিক বল কাজ করে
  3. বলের মান অর্ধেক হয়
  4. বলের মান শূন্য হয়
সঠিক উত্তর:
সর্বাধিক বল কাজ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বাধিক বল কাজ করে
ব্যাখ্যা

চৌম্বক ক্ষেত্রের উপর চলন্ত চার্জ q-এর ওপর প্রয়োগিত লরেঞ্জ বলের সূত্র হলো:
F = qv × B
যেখানে,
q = চার্জের মান
v = কণিকার বেগ
B = চৌম্বক ক্ষেত্র
θ = v এবং B-এর মধ্যে কোণ

লরেঞ্জ বলের মান নির্ণয় হয়:
F = qv × B. sinθ
sinθ সর্বাধিক হয় যখন, θ = 90° 
অর্থাৎ, বেগ এবং চৌম্বক ক্ষেত্র পরস্পর লম্ব হলে sin⁡90° = 1
তাই, Fmax​ = qvB হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৯৯.
সলিনয়েডে চুম্বকক্ষেত্রের শক্তি বাড়াতে কী করা যেতে পারে? 
  1. বৈদ্যুতিক প্রবাহ বাড়ানো
  2. বিদ্যুৎ অপসারণ করা
  3. শক্ত লোহা স্থাপন করে প্রবাহ বন্ধ করা
  4. কুণ্ডলির পাক সংখ্যা কমানো
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক প্রবাহ বাড়ানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদ্যুতিক প্রবাহ বাড়ানো
ব্যাখ্যা
সলিনয়েড (Solenoid): 
- যদি কোনো তার সোজা থাকে এবং তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তাহলে তার চারপাশে চৌম্বক বলরেখা সৃষ্টি হয়। 
- ডান হাতের নিয়ম ব্যবহার করে চৌম্বক বলরেখার দিক নির্ধারণ করা যায়। বুড়ো আঙুল বিদ্যুৎপ্রবাহের দিক নির্দেশ করলে, হাতের বাকী আঙুলগুলো চৌম্বক বলরেখার দিক নির্দেশ করে। 
- যদি তারটি সোজা না হয়ে বৃত্তাকার হয়, তবে তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে বৃত্তাকার তারের ভেতরে চৌম্বক বলরেখাগুলো একত্রিত হয়। এ ক্ষেত্রেও ডান হাতের নিয়ম ব্যবহার করা যায়। যদি হাতের আঙুলগুলো বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক নির্দেশ করে, তাহলে বুড়ো আঙুলটি চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্দেশ করবে। 


- বিদ্যুৎপ্রবাহ যত বেশি হবে, তত বেশি শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হবে। 
- তবে তারের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুৎ একটি সীমা পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব, কারণ বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তারটি I2R সূত্র অনুযায়ী উত্তপ্ত হয়ে যায়। 
- বিদ্যুৎ প্রবাহের সর্বোচ্চ সীমা নির্ভর করে বিদ্যুৎ উৎসের ক্ষমতার ওপর। 
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করতে কেবল একটি বৃত্তাকার লুপের ওপর নির্ভর না করে, অপরিবাহী আস্তরণ দিয়ে ঢাকা তার ব্যবহার করে একটি কুণ্ডলী বা কয়েল তৈরি করা হয়। এরকম কুণ্ডলীকে বলা হয় সলিনয়েড। 
- সলিনয়েড একটি দণ্ড চুম্বকের মতো কাজ করে। 
- ডান হাতের নিয়ম অনুযায়ী বুড়ো আঙুলের দিকটি সলিনয়েডের উত্তর মেরু নির্দেশ করে। 
- সলিনয়েডের প্রত্যেক লুপ বিদ্যুতের জন্য পৃথক চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। ফলে সম্মিলিত চৌম্বক ক্ষেত্র অনেক শক্তিশালী হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০০.
চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্ণয় করা যায় কোন যন্ত্রের সাহায্যে?
  1. তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্র
  2. গ্যালভানোমিটার
  3. কম্পাস
  4. ভোল্টমিটার
সঠিক উত্তর:
কম্পাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাস
ব্যাখ্যা
• চৌম্বকক্ষেত্র: 
 - কোন চুম্বক যেখানে অবস্থান করে সেখানে তার চারিদিকে যতদূর পর্যন্ত তার বলের প্রভাব ( আকর্ষণ জনিত কিংবা বিকর্ষণ জনিত ) বিস্তৃত থাকে, সেই অঞ্চলকে চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) বলা হয়।  

কম্পাস-
- কম্পাস একটি ছোট চৌম্বক সূঁচবিশিষ্ট যন্ত্র, যা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
-  এটি চৌম্বক ক্ষেত্রের উপস্থিতিতে ঘুরে গিয়ে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্দেশ করে।
- চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্ণয়ের জন্য কম্পাসকে চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে স্থাপন করা হয়।
-  সূঁচটি যেদিকে স্থির হয়, সেটিই চৌম্বক ক্ষেত্ররেখার দিক।

অন্যদিকে,
• তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কোন বস্তুতে আধানের উপস্থিতি নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়। 
• গ্যালভানোমিটার তড়িৎ প্রবাহ ও তড়িৎ প্রবাহের দিক নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
• ভোল্টমিটার তড়িৎ বিভব নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ব্রিটানিকা।