বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

The Specific Relief Act, 1877

মোট প্রশ্ন১,১৭২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

The Specific Relief Act, 1877

PrepBank · পাতা / ১২ · ১০০ / ১,১৭২

.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী কয় ধরনের চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যেতে পারে?
ব্যাখ্যা
⇒ যে সকল চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যেতে পারে, সেগুলো সম্বন্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।
-দেওয়ানী আদালত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে ৪ টি ক্ষেত্রে বা ৪ ধরনের চুক্তিকে সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করাতে পারেন বা আদালতে চুক্তি প্রবলের মামলা করে ৪ ধরনের চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যায়।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী ৪টি ক্ষেত্রে চুক্তি বলবৎ করার জন্য মামলা করা যায়:
(১) সম্পত্তিটি যদি সম্পূর্ণ/আংশিক ট্রাস্ট এর অন্তর্ভুক্ত হয়,
(২) ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হল,
(৩) টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হল,
(৪) ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।
 
- অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের মাধ্যমে ৪টি ক্ষেত্রে 'চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন' করা সম্ভব।
.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কত ধারায় স্থাবর সম্পত্তির দখল চ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করতে হয়?
  1. ৮ ধারায়
  2. ৯ ধারায়
  3. ১০ ধারায়
  4. ১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান: স্থাবর সম্পত্তির দখল চ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
-যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
-সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো প্রয়োগযোগ্য নেই।
-আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।
------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-9: Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
.
একজন ভাড়াটিয়া ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাড়ি খালি না করলে, বাড়ির মালিক সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন?
  1. ধারা ৯
  2. ধারা ৩১
  3. ধারা ৩৬
  4. ধারা ৪২
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯ (Recovery of specific immovable property) অনুযায়ী: "যদি কোনো ব্যক্তি তার স্থাবর সম্পত্তির দখল থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত হয়, তবে সে আদালতে মামলা দায়ের করে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।"
- ভাড়াটিয়া যদি ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাড়ি না ছাড়ে, তাহলে সে বেআইনি দখলদার (trespasser) হয়ে যায়।
- বাড়ির মালিক ধারা ৯ এর আওতায় "possession" পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে পারেন।
- এটি দ্রুত প্রতিকার (summary remedy) এবং মালিকানার প্রশ্ন উঠে না — শুধু দখলের অধিকার দেখতে হবে।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৯-এ স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ প্রতিকারের বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি বেআইনিভাবে বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অন্যের স্থাবর সম্পত্তি (যেমন: বাড়ি, জমি) দখলে রাখে, তাহলে সম্পত্তির প্রকৃত মালিক এই ধারা অনুযায়ী একটি সরলীকৃত মামলার মাধ্যমে দখল পুনরুদ্ধার করতে পারেন।

.
তত্ত্বাবধায়কের অধিকার ও ক্ষমতা কিভাবে নির্ধারিত হবে?
  1. আদালতের মৌখিক নির্দেশ দ্বারা
  2. দেওয়ানি কার্যবিধির মাধ্যমে
  3. তত্ত্বাবধায়কের নিজের ইচ্ছা দ্বারা
  4. পক্ষগুলোর চুক্তি দ্বারা
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারা- তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক:
প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স- তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।

Section 44- Appointment of receivers discretionary. Reference to Code of Civil Procedure:
The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.
.
জাহাজের মালিক A তার জাহাজ প্রতারণামূলকভাবে সমুদ্র যাত্রার উপযুক্ত উল্লেখে B এর সাথে বীমার চুক্তি করে। এক্ষেত্রে B চুক্তিটি _________ করতে পারবে।
  1. বাতিল (Cancel)
  2. রদ (Rescind)
  3. পরিবর্তন (Alter)
  4. সংশোধন (Rectify)
ব্যাখ্যা
⇒ The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৩৫ (Section 35) অনুযায়ী, “A contract may be rescinded where it is voidable or terminable by the plaintiff.”
এবং চুক্তিতে যদি প্রতারণা (fraud) থাকে, তাহলে তা voidable হয়—অর্থাৎ, প্রতারণার শিকার পক্ষ (এখানে B) চাইলে চুক্তি রদ (rescission) করতে পারে।

- ধরা যাক A তার অচল, ভাঙা জাহাজকে “চালানোর উপযুক্ত” বলে B-এর সাথে বীমার চুক্তি করল। পরে দুর্ঘটনায় জাহাজ ডুবে যায়। তখন B জানতে পারে, জাহাজটি আদতেই চালানোর উপযুক্ত ছিল না—এটি ছিল A-এর প্রতারণা। তখন B চাইলে এই চুক্তিটি rescission এর মাধ্যমে বাতিল (রদ) করে দিতে পারে।

অর্থাৎ প্রতারণামূলক চুক্তি (Fraudulent Contract)-এর ক্ষেত্রে বীমাকারী (B) চুক্তিটি রদ (Rescind) করতে পারবে।
.
একজন উইলকারীর দুইজন নির্বাহক (executors) হচ্ছে A ও B । B এর অনুমতি আছে এই ভুল ধারণায় A, C এর সাথে উইলকারীর সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য একটি চুক্তি করেন। এক্ষেত্রে 'C'-
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন দাবি করতে পারে না
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন দাবি করতে পারে
  3. চুক্তির সংশোধন দাবি করতে পারে
  4. উল্লিখিত যেকোনো প্রতিকার পাবে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৮ ধারা: যে পক্ষগণকে কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যাবে না- নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে না:

(ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার তুলনায় তৎকর্তৃক গৃহীতব্য প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে, তা নিজে বা অপরাপর পরিস্থিতির সহযোগে প্রতারণা বা বাদী কর্তৃক অন্যায় সুবিধা গ্রহণের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়;

(খ) যদি চুক্তির অধীন যে পক্ষ কর্তৃক কাজ সম্পাদন করা কর্তব্য হয়, সেই পক্ষের সম্মতি ভুল বিবরণ (ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত) গোপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে বা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয়নি;

(গ) যদি ভুল তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্পত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

তবে শর্ত থাকে যে, যখন চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে তখন তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং যদি তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হয় তবে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যেতে পারে।

⇒ এখানে সমস্যাটি হলো, A'র কাছে প্রকৃতপক্ষে সহ-নির্বাহক B এর অনুমতি ছিল না। সুতরাং A এবং B'র মধ্যকার চুক্তিটি আইনত বৈধ নয়। ফলস্বরূপ, C নির্দিষ্ট পালন বা স্পেসিফিক পারফরম্যান্স দাবি করতে পারবে না। কারণ চুক্তিটি ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে করা হয়েছিলো।

Section 28(c)-
if assent was given under the influence of mistake of fact, misapprehension or surprise:
Provided that, when the contract provides for compensation in case of mistake, compensation may be made for a mistake within the scope of such provision, and the contract may be specifically enforced in other respects if proper to be so enforced.

Illustrations- to clause (c)-
A, one of two executors, in the erroneous belief that he had the authority of his co-executor, enters into an agreement for the sale to B of his testator's property. B cannot insist on the sale being completed.
.
চুক্তি বলবৎকরণের মামলায় কখন আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি প্রদান করবেন না?
  1. বাদীর প্রতি অন্যায় সুবিধা থাকলে
  2. বিবাদীর প্রতি কঠোরতা বা কষ্ট সৃষ্টি করবে
  3. চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীর প্রতি কঠোরতা বা কষ্ট সৃষ্টি হবে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ২২ ধারায় বলা হয়েছে যে, চুক্তি বলবৎকরণের মামলায়, যদি বিবাদী প্রমাণ করতে পারে যে:
১) বাদীর প্রতি তার অন্যায় সুবিধা রয়েছে; এবং
২) চুক্তি বলবৎকরণ তার প্রতি কঠোরতা বা কষ্ট সৃষ্টি করবে; কিন্তু
৩) চুক্তি বলবৎ না করলে বাদীর প্রতি এরূপ কোন কঠোরতা সৃষ্টি হবে না;

তাহলে সেক্ষেত্রে আদালত তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে বিবাদীকে ক্ষতিপূরণ (solatium) প্রদান করতে পারবে। এই বিধানের মাধ্যমে আইন বিবাদীর স্বার্থরক্ষা করেছে। যদি চুক্তি বলবৎকরণ বিবাদীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়, তাহলে আদালত ক্ষতিপূরণ বিধান দিয়ে বিবাদীকে অব্যাহতি দিতে পারবে।
.
কোন আইনে প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে সমভাবে প্রযোজ্য হয়?
  1. The Contract Act, 1872
  2. The Evidence Act, 1872
  3. The Registration Act, 1908
  4. The Code of Civil Procedure, 1908
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৩ ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদে বলা আছে, চুক্তি আইনে যে-সব শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এমন যে-সব শব্দ এই আইনে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ উক্ত আইনে অনুরূপ শব্দগুলোর যে অর্থ করা হয়েছে সেরূপ একই অর্থবোধক গণ্য করা হবে।
-----------------
- Section-3: Words defined in Contract Act:
-All words occurring in this Act, which are defined in the Contract Act, 1872, shall be deemed to have the meanings respectively assigned to them by that Act.
.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুসারে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নের মামলা দায়ের করতে হবে কত বছরের মধ্যে?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৬ মাস
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ এর অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী: "চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণ (Specific Performance of Contract) সম্পর্কিত মামলা দায়ের করার তামাদি সময়সীমা ১ বছর, এবং এই সময়সীমা গণনা শুরু হবে যেদিন বাদীর সেই বলবৎকরণ চাওয়ার অধিকার উদ্ভব হয় সেই তারিখ থেকে।"
- তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুসারে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের (Specific Performance) মামলার তামাদি মেয়াদ ১ বছর।
- এই মেয়াদ গণনা শুরু হয় চুক্তিভঙ্গের তারিখ থেকে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী ৪টি ক্ষেত্রে চুক্তি বলবৎ করার জন্য মামলা করা যায়
(১) সম্পত্তিটি যদি সম্পূর্ণ/আংশিক ট্রাস্ট এর অন্তর্ভুক্ত হয়,
(২) ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হল,
(৩) টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ সম্ভব না হল,
(৪) ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে।
-তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ ১১৩ অনুযায়ী ১২ ধারার মামলা ১ বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারার বিধান: যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য: 
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877-Section-12. Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced-
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust;
(b) when there exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done;
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or
(d) when it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done.
Explanation - Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.

১০.
C উত্তরাধিকারসূত্রে একখণ্ড জমির মালিক হয়। D উক্ত জমির দখলে ছিল এবং সে জমির মালিকানা দাবি করে। এই ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারসূত্রে স্বত্বের উপর ভিত্তি করে সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য এবং D-কে উক্ত জমি হতে উচ্ছেদের জন্য C, কত ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে?
  1. ৮ ধারায়
  2. ৯ ধারায়
  3. ১০ ধারায়
  4. ১১ ধারায়
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি বা সম্পত্তির দখল উদ্ধারের জন্য ৮ এবং ৯ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করা যেতে পারে। ৮ ধারায় বিধান করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তিতে দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানী কার্যবিধিতে উল্লেখিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে। অন্যদিকে, ৯ ধারায় বিধান করা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি স্থাবর সম্পত্তি হতে তার সম্মতি ছাড়া এবং যথাযথ আইনগত পন্থা ব্যতী দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবীদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে, যদিও এইরুপ মামলায় অন্য যেকোন স্বত্ব দাবী করা যায়।

উদাহরণ-১:
C উত্তরাধিকারসূত্রে একখণ্ড জমির মালিক হয়। D উক্ত জমির দখলে ছিল এবং সে জমির মালিকানা দাবি করে। এই ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারসূত্রে স্বত্বের উপর ভিত্তি করে সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য এবং D-কে উক্ত জমি হতে উচ্ছেদের জন্য C, ৮ ধারায় মামলা দায়ের করতে পারে।

উদাহরণ-২:
C একখণ্ড জমির দখলে ছিল। D, C-কে সম্মতি এবং আইনগত পন্থা ব্যতীত উক্ত দখল হতে দখলচ্যুত করে । এই ক্ষেত্রে C তার পূর্ববর্তী দখলের উপর ভিত্তি করে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ৯ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। এই ক্ষেত্রে স্বত্ব বা মালিকানা ছিল কি ছিলনা তা বিবেচ্য বিষয় না। পূর্ববর্তী দখল ছিল কিনা এবং সম্মতি ছাড়া এবং আইনগত পন্থা ব্যতীত দখলচ্যুত করা হয়েছে কিনা তা ৯ ধারায় বিবেচ্য বিষয়। ৮ ধারার মোকদ্দমা স্বত্ব বা দখলি স্বত্বের উপর ভিত্তি করে যে মামলা দায়ের করা হয়, সেটা উচ্ছেদের মামলা (a suit for ejectment on the basis of title) নামেও পরিচিত।
১১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারা অনুসারে, আদালত ন্যায় বিচারের স্বার্থে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনসহ ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারে?
  1. ১৫ ধারা
  2. ১৯ ধারা
  3. ২৯ ধারা
  4. ৩৭ ধারা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান- কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।

- এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।

ব্যাখ্যা- চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
১২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা মূলত কোন বিষয়টি নির্দেশ করে?
  1. নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শাস্তি
  2. নিষেধাজ্ঞার প্রকারভেদ
  3. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের শর্তাবলী
  4. নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর না করার ক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারার শিরোনাম "Injunction when refused" বা "নিষেধাজ্ঞা যখন মঞ্জুর করা হয় না" এবং এই ধারায় নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর না করার ১১টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে। 

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা-তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন কোন ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
-এই ধারা অনুযায়ী ১১টি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হবে না। তা হলো:
১. যখন বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে হবে না।
২. যখন কোনো অধীনস্থ আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখতে হবে না।
৩. যখন কোনো ব্যক্তি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে চায়।
৪. যখন সরকারের কোনো সরকারি কার্যক্রম বা বিদেশি সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করতে হবে না।
৫. যখন কোনো ফৌজদারি বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখতে হবে না।
৬. যখন কোনো চুক্তি ভঙ্গের জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাবে না, যদি না সেই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।
৭. যখন উৎপাত নয় এমন কাজ নিষেধ করতে হবে না।
৮. যখন বাদী সম্মতি দিয়েছে এমন ক্রমাগত লঙ্ঘন নিষেধ করতে হবে না।
৯. যখন জিম্মা ভঙ্গের প্রতিকার অন্য কোনো সাধারণ কার্যধারার মাধ্যমে পাওয়া যায়।
১০. যখন আবেদনকারীর আবেদন এমন যে তাকে আদালতের সাহায্য থেকে বঞ্চিত করবে।
১১. যখন মামলার বিষয়বস্তুতে আবেদনকারীর কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

⇒ The Specific Relief Act, 1877: Section- 56. Injunction when refused:
An injunction cannot be granted-
(a) to stay a judicial proceeding pending at the institution of the suit in which the injunction is sought, unless such restraint is necessary to prevent a multiplicity of proceedings;
(b) to stay proceedings in a Court not subordinate to that from which the injunction is sought; 
(c) to restraint persons from applying to any legislative body; 
(d) to interfere with the public duties of any department of the Government, or with the sovereign acts of Foreign Government; 
(e) to stay proceedings in any criminal matter; 
(f) to prevent the breach of a contract the performance of which would not be specifically enforced; 
(g) to prevent, on the ground of nuisance, an act of which it is not reasonably clear that it will be a nuisance; 
(h) to prevent a continuing breach in which the applicant has acquiesced; 
(i) when equally efficacious relief can certainly be obtained by any other usual mode of proceeding except in case of breach of trust; 
(j) when the conduct of the applicant on his agents has been such as to disentitle him to the assistance of the Court; 
(k) where the applicant has no personal interest in the matter.

১৩.
নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন দুটি ধারায় আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. ধারা ৮ এবং ধারা ৯
  2. ধারা ১২ এবং ধারা ৩১
  3. ধারা ৪২ এবং ধারা ৫৪
  4. ধারা ৫৩ এবং ধারা ৩৯
ব্যাখ্যা
• বিবেচনামূলক ক্ষমতা বলতে বোঝায় যে, আদালত আইনত বাধ্য নয় কিন্তু উভয়পক্ষের বিরোধীয় বিষয়ে যুক্তি-প্রমাণে সন্তুষ্ট হয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন দেওয়ানি আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:

১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২);
২. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১);
৩. বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিল বাতিল (ধারা ৩৯);
৪. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২);
৫. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪);
৬. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৪);
৭. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৫);
৮. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৩)।

আদালত ২টি ক্ষেত্রে Discretionary Power প্রয়োগ করতে পারে না:
১. সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা ৮);
২. স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৯)।

সুতরাং বলা যায় যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারা ছাড়া সকল ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
১৪.
'অধিকার ঘোষণা' সম্পর্কিত বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন উপধারায় আছে?
  1. ধারা ৫(ক)
  2. ধারা ৫(খ)
  3. ধারা ৫(গ)
  4. ধারা ৫(ঘ)
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৫(ঘ) অনুসারে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় "ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে"। এটি "অধিকার ঘোষণা" (Declaratory Relief)-এর সরাসরি বিধান, যা পক্ষগুলোর অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই।

অন্যান্য উপধারাগুলো:
(ক): সম্পত্তির দখল গ্রহণ ও প্রদান।
(খ): কোনো কাজ করার আদেশ।
(গ): কোনো কাজ না করার বিরতি (Injunction)।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৫ ধারা মতে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
---------
The Specific Relief Act, 1877 Section-5: Specific relief how given:
-Specific relief is given- 
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant; 
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do; 
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do; 
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or 
(e) by appointing a receiver.

১৫.
'A' কর্তৃক 'B' তার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বেদখল হয়। 'B' কত দিনের মধ্যে 'A' এর বিরুদ্ধে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে?
  1. ৬ মাস
  2. ৩ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১২ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ 'B' ১২ বছরের মধ্যে স্বত্বসহ দখল পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে।

-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ৮ অনুযায়ী,
সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে। 

এক্ষেত্রে,
⇒ বাদীকে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে;
⇒ বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে;
⇒ সরকার বাদী হলে ৬০ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে। (অনুচ্ছেদ-১৪৯)

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮: অনুচ্ছেদ ১৪২-
যখন বাদী স্থাবর সম্পত্তির দখলে, তখন বাদী বেদখল হলে অথবা বাদী তার দখল ত্যাগ করলে, সেই সম্পত্তির দখল লাভের জন্য দখলের তারিখ হতে ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়।
১৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারায় কোন অবস্থায় আদালত চুক্তি রদের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. চুক্তি রেজিস্ট্রিকৃত না হলে
  2. চুক্তি সম্পাদনে জন্য বাধ্য করতে
  3. উভয় পক্ষ অসম্মত হলে
  4. সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের আদেশ দেওয়া সম্ভব না হলে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।

The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.
১৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারা "প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা" সম্পর্কে বিধান করে?
  1. ধারা ২১
  2. ধারা ২২
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২৭
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ২৪-এর শিরোনামই হলো "প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা" (Personal bars to the relief)। ধারা ২৪ অনুসারে যেসব ব্যক্তির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন করা যাবে না:
- যে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না
- যে নিজে চুক্তির কোনো প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করেছে
- যে ইতোমধ্যে অন্য প্রতিকার বেছে নিয়ে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে
- যে চুক্তি সম্পাদনের আগেই বিষয়বস্তুর বিলিবন্দোবস্ত সম্পর্কে জানত
অতএব, সঠিক উত্তর গ) ধারা ২৪।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৪ ধারার বিধান: প্রতিকারের পথে ব্যক্তিগত প্রতিবন্ধকতা:
চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
(ক) যে চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
(খ) যে নিজে চুক্তির কোন প্রয়োজনীয় শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্ত পালন করতে অসমর্থ হয় এবং যার ফলে তার নিজের অংশেরই কাজ সম্পাদন বাকী থাকে;
(গ) যে ইতোমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
(ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।
------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 24- Personal bars to the relief:
Specific performance of a contract cannot be enforced in favor of a person-
(a) who could not recover compensation for its breach;
(b) who has become incapable of performing, or violates, any essential term of the contract that on his part remains to be performed;
(c) who has already chosen his remedy and obtained satisfaction for the alleged breach of contract; or
(d) who, previously to the contract, had notice that a settlement of the subject matter thereof (though not founded on any valuable consideration) had been made and was then in force.

১৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার মামলায় বাদী কী প্রমাণ করতে হবে না?
  1. সম্পত্তিটি বাদীর দখলে ছিল
  2. বাদী ৬ মাসের মধ্যে মামলা করেছে
  3. সম্পত্তিতে বাদীর স্বত্ব রয়েছে
  4. বিবাদী কর্তৃক বাদীকে বেদখল করা হয়েছে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধার করতে হলে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে নালিশি সম্পত্তি তার দখলে ছিল এবং উক্ত সম্পত্তি হতে তাকে গত ৬ মাসের মধ্যে জোরপূর্বক বা বেআইনিভাবে বেদখল করা হয়েছে।
-এই ধারায় ( স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার মামলায়) স্বত্ব প্রমাণ বা স্বত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করার প্রয়োজন নেই, তথাপিও পক্ষ চাইলে উত্থাপন করতে পারেন।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার স্থাবর সম্পত্তির দখল পুরুদ্ধার (স্বত্বছাড়া শুধু দখল পুনুরুদ্ধার/মামলা করার সময়সীমা ৬ মাস)।
-------------------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-9. Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
 
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
১৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারা অনুযায়ী, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার জন্য চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য কখন আদালতে জমা দিতে হবে?
  1. মামলার রায় ঘোষণার পূর্বে
  2. মোকদ্দমা দায়েরের সময়
  3. হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার পর
  4. আদালতের নির্দেশে যেকোনো সময়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ২১ক(খ)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার মামলায় চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য (balance amount of consideration) মোকদ্দমাটি রুজু/দায়েরের কালে (at the time of filing the suit) আদালতে জমা দিতে হবে। এটি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতার জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য: এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রিয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Section 21A Unregistered contract for sale not specifically enforceable: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless– 
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and 
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

২০.
একটি দলিলের মাধ্যমে A তার একটি বাড়ি B কে বিক্রয় করেছে; A, B কে একটি গাড়ি উপহার দিয়েছে এবং B এর বাড়িতে A কে থাকার অধিকার দিয়েছে।
তৃতীয় অংশটি অর্থাৎ B এর বাড়িতে A কে থাকার অধিকার দেওয়ার অংশটি আইনগতভাবে বাতিলযোগ্য। এক্ষেত্রে-
  1. সম্পূর্ণ দলিল বাতিল হবে
  2. সম্পূর্ণ দলিল বহাল থাকবে
  3. সকল অধিকার অবৈধ হবে
  4. অবশিষ্টাংশ বলবৎ থাকবে
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী, এক্ষেত্রে কেবলমাত্র তৃতীয় অংশটিই বাতিল হবে। বাকি দুটি অংশ অর্থাৎ বাড়ি বিক্রয় এবং গাড়ি উপহার দেওয়ার অংশগুলি বলবৎ থাকবে। সুতরাং সমগ্র দলিলটি বাতিল হবে না, শুধুমাত্র বাতিলযোগ্য অংশটিই বাতিল হবে। এভাবে দলিলের বাকি বৈধ অংশগুলি কার্যকর থাকবে।

এই আইনের ৪০ ধারা অনুসারে,
যদি একই দলিল দ্বারা বিভিন্ন অধিকার সৃষ্টি হয় এবং সেই দলিলের কোনো একটি অংশ বাতিলযোগ্য (void) হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে কেবলমাত্র সেই বাতিলযোগ্য অংশটিই বাতিল বলে গণ্য হবে। দলিলের অবশিষ্ট অংশগুলি বলবৎ থাকবে।

অর্থাৎ দলিলের সম্পূর্ণ অংশই বাতিল হবে না, শুধু বাতিলযোগ্য অংশটিই বাতিল বা অকার্যকর হবে। দলিলের অন্যান্য অংশসমূহ যেখানে বৈধ অধিকার সৃষ্টি করা হয়েছে সেগুলি বলবৎ থাকবে।
এই বিধানের উদ্দেশ্য হল একই দলিলের সকল অংশকেই বাতিল না করে, শুধুমাত্র বাতিলযোগ্য অংশকেই বাতিল করা এবং বাকি দলিলটিকে কার্যকর রাখা। এতে দলিলের মূল উদ্দেশ্য বা বৈধ অংশগুলি বলবৎ থাকবে এবং কেবলমাত্র অবৈধ অংশটি বাতিল হবে। এটি দলিলের পক্ষদের স্বার্থরক্ষা করে।
২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার মতে, স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কোন অবস্থায় মামলা করতে পারে?
  1. যদি আদালত সম্মতি দেয়
  2. যদি তার স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়
  3. যদি তার অনুমতি ছাড়া দখলচ্যুত হয়
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী, যদি কোন ব্যক্তি তার অনুমতি ছাড়া এবং আইনগত পন্থা অনুসরণ না করে স্থাবর সম্পত্তি থেকে দখলচ্যুত হয়, তবে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার ব্যক্তি আদালতে মামলা করে সেই সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে পারে। এই ধারা এমন ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যারা অবৈধভাবে তাদের সম্পত্তির দখল হারিয়েছে, এবং এটি সম্পত্তির বৈধতা বা মালিকানা প্রতিষ্ঠা করার জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র দখল পুনরুদ্ধারের জন্য।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান: স্থাবর সম্পত্তির দখল চ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
- যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
- সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো প্রয়োগযোগ্য নেই।
- আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section-9: Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
- Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
- No suit under this section shall be brought against the Government.
- No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.

২২.
The jurisdiction to decree specific performance is __________.
  1. Arbitrary
  2. Mandatory
  3. Discretionary
  4. None
ব্যাখ্যা
⇒ Section 22 Discretion as to decreeing specific performance: The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal. 
The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:- 
i) Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.
ii) Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.
iii) Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.
-----------------
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার (Specific Relief) বলতে ঐ সকল প্রতিকারকে বোঝায় যা কোন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিধান মোতাবেক সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়ার অধিকারী। 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সমূহ কেউ অধিকারবলে দাবী করতে পারবেন না; ইহা আদালতের ইচ্ছার(discretion) উপর নির্ভর করে থাকে। এই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মঞ্জুর করা বা নামঞ্জুর করা আদালতের ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা (Discretionary Power)।আইনটির ২২ ধারা আদালতকে এই ক্ষমতা অর্পণ করেছে। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদানে আদালতকে আইন দ্বারা বাধ্য করা যায়না। পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তবে আদালতের এই ইচ্ছাধীন বা সুবিবেচনামূলক ক্ষমতা অবশ্যই স্বেচ্ছাচারীতামূলক হবে না বরং ন্যায় বিচার সহায়ক হবে।
২৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৩ ধারা কোন বিধান অনুসারে কার্যকর হবে?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ
  2. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ৫২ ধারা
  3. ফৌজদারি কার্যবিধি
  4. তামাদি আইন
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৩ ধারা অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হলো সারাজীবনের জন্য নিষেধাজ্ঞা।
• এটি CPC আইনের আদেশ ৩৯ অনুসারে কার্যকর হবে।
• অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তের মাধ্যমে আর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আরজির মাধ্যমে চাওয়া হয়।
২৪.
'A' স্নেহ ও ভালবাসার কারণে প্রথমে তার ভাইদের এবং তাদের সন্তানদের প্রতি কিছু সম্পত্তি হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে 'A' ৩য় পক্ষের সাথে সেই সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি করে। এক্ষেত্রে বিক্রয় চুক্তি-
  1. 'A' কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য
  2. প্রথম হস্তান্তর বাতিলের শর্তে বাস্তবায়নযোগ্য
  3. 'A' কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য না
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
এই চুক্তিটি 'A' কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়নযোগ্য না।

ধারা ২৫- একজন বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়ার পক্ষে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তি নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়িত করা যাবে না যদি-
(ক) জেনে-শুনে নিজের অধিকারহীন এমন সম্পত্তির বিক্রয় বা ভাড়া দেওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকেন;

(খ) চুক্তি করার সময় যদিও বিশ্বাস করতেন যে তিনি সেই সম্পত্তির উপর সুনির্দিষ্ট অধিকার রাখেন, কিন্তু পক্ষদ্বয়ের বা আদালতের নির্ধারিত সময়ে বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়া ক্রেতা বা ভাড়াটিয়াকে যৌক্তিক সন্দেহাতীতভাবে স্বত্বাধিকার প্রদান করতে অক্ষম হন;

(গ) চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে কোনো মূল্যবান প্রতিফল ছাড়াই চুক্তির বিষয়বস্তুর উপর নিজের অধিকার সমর্পণ করে থাকেন।

(গ) এর শর্তমতে, এই চুক্তিটি নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না। কারণ তা হলে তার পূর্বতন সমর্পণটি বাতিল হয়ে যাবে এবং যাদের উপর সেই সম্পত্তি সমর্পিত হয়েছিল তাদের স্বার্থগুলি ক্ষুণ্ণ হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে A নিজের পূর্বতন কৃত কাজকে বাতিল করে, নতুন চুক্তিটিকে নির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না।
২৫.
লিখিত চুক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে আদালতকে পক্ষগণের কোন বিষয়ে সন্তুষ্ট হতে হবে?
  1. অলাভজনক উদ্দেশ্য
  2. ন্যায়সঙ্গত উদ্দেশ্য
  3. বিবেকসম্মত উদ্দেশ্য
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৩২ ধারা- পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
একটি লিখিত চুক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে, আদালতকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে সকল পক্ষই একটি ন্যায়সঙ্গত এবং বিবেকসম্মত চুক্তি করার উদ্দেশ্য নিয়েছিল।

Section 32- Presumption as to intent of parties-
For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.

⇒ সুতরাং, চুক্তি সংশোধনের জন্য আদালতকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে সকল পক্ষই চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং মর্ম বুঝে একটি ন্যায়সঙ্গত ও বিবেকসম্মত চুক্তি করতে চেয়েছিল, কিন্তু লিখিতভাবে তা সঠিকভাবে প্রকাশ পায়নি। তাই সংশোধনের মাধ্যমে চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রতিফলিত করা প্রয়োজন।
২৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার অধীনে, যদি বিক্রেতা বিক্রির পর সম্পত্তির ওপর নতুন স্বত্ব অর্জন করে, তাহলে ক্রেতার অধিকার কী?
  1. চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।
  2. বিক্রেতাকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করতে পারবেন।
  3. বিক্রেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে পারবেন।
  4. বিক্রেতাকে সেই স্বত্ব দিয়ে চুক্তি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবেন।
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) বিক্রেতাকে সেই স্বত্ব দিয়ে চুক্তি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারবেন।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার অধীনে, যদি বিক্রেতা চুক্তির পর সম্পত্তির ওপর নতুন স্বত্ব অর্জন করেন, তাহলে ক্রেতার অধিকার রয়েছে বিক্রেতাকে সেই স্বত্ব ব্যবহার করে চুক্তি পূরণ করতে বাধ্য করার। অর্থাৎ, বিক্রেতা যদি পরে সম্পত্তির বৈধ মালিকানা পান, তবে ক্রেতা চাইলে সেই মালিকানা দিয়ে বিক্রেতাকে চুক্তি অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য করতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার বিধান ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার:
যেখানে এক ব্যক্তি এমন নির্দিষ্ট সম্পত্তি বিক্রয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যার উপর তার শুধুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব রয়েছে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদারের (যদি না এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধান প্রদান করা হয়) নিম্নলিখিত অধিকার রয়েছে:
(ক) যদি বিক্রেতা বা ইজারাদাতা বিক্রয় বা ইজারা প্রদানের পর পরই সম্পত্তিতে কোন নতুন স্বত্ব অর্জন করেন, তবে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন স্বত্বের জন্য চুক্তি পালন করতে বাধ্য করতে পারেন;
(খ) যেখানে স্বত্ব বৈধ করার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন হয় এবং তারা বিক্রেতা বা ইজারাদাতার অনুরোধে তা করতে বাধ্য থাকে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন সম্মতি সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে পারেন;
(গ) যেখানে বিক্রেতা দায়হীন সম্পত্তি বিক্রয়ের কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেন, কিন্তু বাস্তবে সম্পত্তিটি এমন পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে যা ক্রয়মূল্যকে অতিক্রম করে না এবং বিক্রেতার কাছে শুধুমাত্র তা মুক্ত রাখার অধিকার রয়েছে, সেখানে ক্রেতা তাকে তা বন্ধকমুক্ত করতে এবং বন্ধকগ্রহীতার নিকট হতে হস্তান্তর অর্জন করতে বাধ্য করতে পারেন;
(ঘ) যেখানে বিক্রেতা বা ইজারাদাতা চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেন এবং মামলা তার ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বের অজুহাতে খারিজ হয়ে যায়, সেখানে প্রতিবাদীর অধিকার রয়েছে, সুদসহ জমাকৃত অর্থ (যদি জমা করে থাকে) এবং মামলার খরচ ফেরত পাওয়ার এবং তেমন জমাকৃত অর্থ, সুদ ও খরচের জন্য বিক্রেতা বা ইজারাদার যে জমি বিক্রয় বা ইজারা দিতে সম্মত হয়েছিলেন, তাতে বিক্রেতা বা ইজারাদাতার স্বত্বের উপর পূর্বস্বত্ব অধিকার থাকবে।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections-18. Purchaser's rights against vendor with imperfect title:
Where a person contracts to sell or let certain property, having only an imperfect title thereto, the purchaser or lessee (except as otherwise provide by this Chapter) has the following rights:- 
(a) if the vendor or lessor has subsequently to the sale or lease acquired any interest in the property, the purchaser or lessee may compel him to make good the contract out of such interest; 
(b) where the concurrence of other persons is necessary to validate the title, and they are bound to convey at the vendor's or lessor's request, the purchaser or lessee may compel him to procure such concurrence; 
(c) where the vendor professes to sell unincumbered property, but the property is mortgaged for an amount not exceeding the purchase-money, and the vendor has in fact only a right to redeem it, the purchaser may compel him to redeem the mortgage and to obtain a conveyance from the mortgagee ; 
(d) where the vendor or lessor sues for specific performance of the contract, and the suit is dismissed on the ground of his imperfect title, the defendant has a right to a return of his deposit (if any) with interest thereon, to his costs of the suit, and to a lien for such deposit, interest and costs on the interest of the vendor or lessor in the property agreed to be sold or let.
২৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার অধীনে, যদি বিক্রেতার স্বত্ব বৈধ করার জন্য অন্য ব্যক্তিদের সম্মতির প্রয়োজন হয়, তবে ক্রেতার কী অধিকার থাকে?
  1. চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে পারেন।
  2. আদালতে চুক্তির অবৈধতা প্রমাণ করতে পারেন।
  3. বিক্রেতার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করতে পারেন।
  4. বিক্রেতাকে সেই সম্মতি সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে পারেন।
ব্যাখ্যা
⇒ সঠিক উত্তর: ঘ) বিক্রেতাকে সেই সম্মতি সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে পারেন।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার অধীনে, যদি বিক্রেতার সম্পত্তির স্বত্ব বৈধ করতে অন্য ব্যক্তিদের সম্মতির প্রয়োজন হয় এবং তারা বিক্রেতার অনুরোধে তা দিতে বাধ্য থাকে, তাহলে ক্রেতা বিক্রেতাকে সেই সম্মতি সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে পারেন। এটি ক্রেতার অধিকার, যাতে তিনি বৈধ স্বত্ব সম্পন্ন সম্পত্তি গ্রহণ করতে পারেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৮ ধারার বিধান ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বসম্পন্ন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার অধিকার:
যেখানে এক ব্যক্তি এমন নির্দিষ্ট সম্পত্তি বিক্রয় বা ভাড়া প্রদানের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়, যার উপর তার শুধুমাত্র ত্রুটিপূর্ণ স্বত্ব রয়েছে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদারের (যদি না এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধান প্রদান করা হয়) নিম্নলিখিত অধিকার রয়েছে:ঃ
(ক) যদি বিক্রেতা বা ইজারাদাতা বিক্রয় বা ইজারা প্রদানের পর পরই সম্পত্তিতে কোন নতুন স্বত্ব অর্জন করেন, তবে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন স্বত্বের জন্য চুক্তি পালন করতে বাধ্য করতে পারেন;
(খ) যেখানে স্বত্ব বৈধ করার জন্য অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন হয় এবং তারা বিক্রেতা বা ইজারাদাতার অনুরোধে তা করতে বাধ্য থাকে, সেখানে ক্রেতা বা ইজারাদার তাকে তেমন সম্মতি সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে পারেন;
(গ) যেখানে বিক্রেতা দায়হীন সম্পত্তি বিক্রয়ের কথা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করেন, কিন্তু বাস্তবে সম্পত্তিটি এমন পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছে যা ক্রয়মূল্যকে অতিক্রম করে না এবং বিক্রেতার কাছে শুধুমাত্র তা মুক্ত রাখার অধিকার রয়েছে, সেখানে ক্রেতা তাকে তা বন্ধকমুক্ত করতে এবং বন্ধকগ্রহীতার নিকট হতে হস্তান্তর অর্জন করতে বাধ্য করতে পারেন;
(ঘ) যেখানে বিক্রেতা বা ইজারাদাতা চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেন এবং মামলা তার ত্রুটিপূর্ণ স্বত্বের অজুহাতে খারিজ হয়ে যায়, সেখানে প্রতিবাদীর অধিকার রয়েছে, সুদসহ জমাকৃত অর্থ (যদি জমা করে থাকে) এবং মামলার খরচ ফেরত পাওয়ার এবং তেমন জমাকৃত অর্থ, সুদ ও খরচের জন্য বিক্রেতা বা ইজারাদার যে জমি বিক্রয় বা ইজারা দিতে সম্মত হয়েছিলেন, তাতে বিক্রেতা বা ইজারাদাতার স্বত্বের উপর পূর্বস্বত্ব অধিকার থাকবে।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections-18. Purchaser's rights against vendor with imperfect title:
Where a person contracts to sell or let certain property, having only an imperfect title thereto, the purchaser or lessee (except as otherwise provide by this Chapter) has the following rights:- 
(a) if the vendor or lessor has subsequently to the sale or lease acquired any interest in the property, the purchaser or lessee may compel him to make good the contract out of such interest; 
(b) where the concurrence of other persons is necessary to validate the title, and they are bound to convey at the vendor's or lessor's request, the purchaser or lessee may compel him to procure such concurrence; 
(c) where the vendor professes to sell unincumbered property, but the property is mortgaged for an amount not exceeding the purchase-money, and the vendor has in fact only a right to redeem it, the purchaser may compel him to redeem the mortgage and to obtain a conveyance from the mortgagee ; 
(d) where the vendor or lessor sues for specific performance of the contract, and the suit is dismissed on the ground of his imperfect title, the defendant has a right to a return of his deposit (if any) with interest thereon, to his costs of the suit, and to a lien for such deposit, interest and costs on the interest of the vendor or lessor in the property agreed to be sold or let.
২৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে কোন আইনে প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সমভাবে প্রযোজ্য বলে গণ্য করতে হয়?
  1. The Code of Civil Procedure, 1908 
  2. The Registration Act, 1908
  3. The Contract Act, 1872
  4. The Evidence Act, 1872
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৩ ব্যাখামূলক অনুচ্ছেদে বলা আছে, চুক্তি আইনে যেসব শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এমন যেসব শব্দ এই আইনে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ উক্ত আইনে অনুরূপ শব্দগুলোর যে অর্থ করা হয়েছে সেরূপ একই অর্থবোধক গণ্য করা হবে।
২৯.
The Specific Relief Act, 1877 এর কোন ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মোকদ্দমা করা যায়?
  1. ৪২
  2. ৫৪
ব্যাখ্যা
The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৮ অনুযায়ী  সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার: সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তা দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে নির্ধারিত পন্থায় পুনরুদ্ধার করতে পারে ।

♦ বাদীকে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে। বেদখল হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা করতে হবে (তামাদি আইনের ১৪২ ও ১৪৪ অনুচ্ছেদ)।

♦ সরকার বাদী হলে ৬০ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে (অনুচ্ছেদ-১৪৯)

♦ এটি আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা নয় ।
৩০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ক্ষেত্রে নিচের কোন আইনে প্রদত্ত সব সংজ্ঞা সমভাবে প্রযোজ্য হবে?
  1. The Code of Civil Procedure, 1908
  2. The Registration Act, 1908
  3. The Contract Act, 1872
  4. The Evidence Act, 1872
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ধারা ৩ ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদে বলা আছে, চুক্তি আইনে যে-সব শব্দের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এমন যে-সব শব্দ এই আইনে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ উক্ত আইনে অনুরূপ শব্দগুলোর যে অর্থ করা হয়েছে সেরূপ একই অর্থবোধক গণ্য করা হবে।
-----------------
⇒ Section-3: Words defined in Contract Act:
- All words occurring in this Act, which are defined in the Contract Act, 1872, shall be deemed to have the meanings respectively assigned to them by that Act.
৩১.
Recovery of specific moveable property সংক্রান্ত বিধান সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর কত ধারায় আছে?
  1. ১০
  2. ১১
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য মোকদ্দমা করতে হয় ১০ ধারার বিধান অনুসারে।

♦ স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত হলে ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়।
৩২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারার অধীনে কত দিনের মধ্যে মোকদ্দমা দায়ের করতে হয়?
  1. ৬ মাসের মধ্যে
  2. ১ বছরের মধ্যে
  3. ৩ বছরের মধ্যে
  4. ৬ বছরের মধ্যে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৩৯ ধারায় জাল দলিল বাতিলের মোকদ্দমা দায়ের করা হয়:
⇒ ২টি ক্ষেত্রে আদালত দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় দলিল বাতিলের আদেশ মঞ্জুর করতে পারেন- যে লিখিত দলিল বাতিল/ বাতিলযোগ্য, অথবা যদি বাদীর আশংকা থাকে যে, এরূপ দলিল যদি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা ক্ষতির কারন হতে পারে।
⇒ দলিল বাতিলের আদেশ মঞ্জুর করা- আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা।

The Limitation Act, 1908 এর অনুচ্ছেদ- ৯১:
কোন দলিল রদ [Set aside] বা বাতিল [Cancel] করার জন্য, যে ক্ষেত্রে অন্যকোন বিধান নেই সেক্ষেত্রে যে সকল ঘটনা বাদীকে উক্ত দলিল বাতিল বা রদ করার অধিকার দান করে সেগুলি যখন বাদী অবগত হয় তখন থেকে ৩ বছরের মধ্যে মামলা করতে হবে।
৩৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ অনুসারে নিষেধাজ্ঞা কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৩য় খন্ড বিশ্লেষন করলে ৩ ধরনের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায়- অস্থায়ী, স্থায়ী ও বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা।
• তবে CPC আইনের আদেশ ৩৯ মতে ২ ধরনের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায়।
৩৪.
আদালত দলিল সংশোধনের আদেশ দিতে পারে?
  1. দলিলের পক্ষসমূহের অভিপ্রায় নির্ধারণ করতে
  2. যে কোন ব্যক্তির অভিপ্রায় নির্ধারণ করতে
  3. তৃতীয় পক্ষের অধিকার বাস্তবায়ন করতে 
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৩১ ধারার বিধান- যখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য কোন লিখিত চুক্তি বা অন্য কোন লিখিত দলিল প্রকৃত অর্থে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, তখন যেকোনো পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ- সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিলটি সংশোধিত করে নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে; এব আদালত যদি এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের সময় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করবার ক্ষেত্রে পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে যতদূর পর্যন্ত তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন - যাতে দলিলের এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।
----------------------
• SR Act-Section-31. When instrument may be rectified: When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.

৩৫.
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction) কখন দেওয়া হয়?
  1. মোকদ্দমার শুরুতে,
  2. মোকদ্দমার শেষে রায়ের মাধ্যমে,
  3. মোকদ্দমার শেষে ডিক্রির মাধ্যমে,
  4. মোকদ্দমা চলাকালীন যে কোন সময়ে,
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৫৩ ধারার মতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:-অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে তেমন নিরোধ যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোন পর্যায়েই তা মঞ্জুর করা যায় এবং তা দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবলমাত্র শুনানির পর মামলার গুণাগুণের ভিত্তিতে প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারাই মঞ্জুর করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতিবাদীকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ হতে বা এমন একটি কাজ করা হতে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। যা বাদীর অধিকারের বিপরীত হতে পারে।
--------- 
⇒ Section 53 Temporary injunctions: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.
 
Perpetual injunctions: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit, the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.
৩৬.
কোন ধরনের চুক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে আদালতকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে, সকল পক্ষই একটি ন্যায়সঙ্গত এবং বিবেকসম্মত চুক্তি করার উদ্দেশ্য নিয়েছিল?
  1. মৌখিক চুক্তি
  2. লিখিত চুক্তি
  3. অব্যক্ত চুক্তি
  4. উল্লিখিত সকল চুক্তি
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৩২ ধারা- পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
একটি লিখিত চুক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে, আদালতকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে সকল পক্ষই একটি ন্যায়সঙ্গত এবং বিবেকসম্মত চুক্তি করার উদ্দেশ্য নিয়েছিল।

Section 32- Presumption as to intent of parties-
For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.
৩৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের Section 35-38 এর অধীনে কোন বিষয়টি আলোচিত হয়?
  1. সম্পত্তির দখল
  2. চুক্তির বাতিল
  3. ক্ষতিপূরণের দাবি
  4. চুক্তির সুনির্দিষ্ট পালন
ব্যাখ্যা

⇒ Specific Relief Act 1877-এর ধারা ৩৫-৩৮ এর অধীনে চুক্তির বাতিল (Rescission) সম্পর্কিত বিষয়গুলো আলোচিত হয়। এই ধারাগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, কোনো চুক্তি পক্ষগুলোর পারস্পরিক সম্মতিতে বা আইনগত কারণে বাতিল করা যেতে পারে।

- ধারা ৩৫-৩৮ এর প্রধান বিষয় হলো চুক্তির বাতিল (Rescission), যেখানে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পক্ষগুলো যদি তা বাতিল করতে চায়, তবে তারা আদালতে এর জন্য মামলা দায়ের করতে পারে।
- চুক্তি বাতিল হতে পারে যদি এটি অবৈধ কারণে করা হয়, পক্ষগুলোর মধ্যে প্রতারণা বা ভুল উপস্থাপনা থাকে, অথবা পক্ষগুলো পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তি থেকে মুক্তি পেতে চায়।
- বাতিল সাধারণত পক্ষগুলোর নতুন সম্মতির মাধ্যমে বা আদালতের আদেশের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি চুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে পক্ষগুলোকে মুক্ত করে।
- অর্থাৎ ধারা ৩৫-৩৮ এর অধীনে চুক্তির বাতিল (Rescission) বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়, যেখানে পক্ষগুলো চুক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারে। এটি ন্যায়বিচারের নীতির উপর ভিত্তি করে পক্ষগুলোর অধিকার রক্ষা করে।

৩৮.
‘ক’, ‘খ’-এর কাছে একটি মাঠ বিক্রয় করল। মাঠের উপর দিয়ে যাতায়াতের অধিকার সম্পর্কে ‘ক’-এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল, কিন্তু তা সে 'খ'-এর কাছে লুকিয়ে রাখল। এক্ষেত্রে-
  1. 'ক' চুক্তি রদ করে নেবার অধিকারী
  2. 'খ' চুক্তি রদ করে নেবার অধিকারী
  3. 'ক' চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন দাবী করতে পারে
  4. 'খ' চুক্তি রদ করার অধিকারী নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৫- যখন বিচারপূর্বক রদ করা যায়:
লিখিত চুক্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যক্তি তা রদের লক্ষ্যে মােকদ্দমা রুজু করতে পারে এবং আদালত নিম্নে বর্ণিত যেকোন ক্ষেত্রে বিচারপূর্বক চুক্তি রদ করতে পারেন-
ক) যেক্ষেত্রে চুক্তি বাতিলযােগ্য বা বাদীর মাধ্যমে সমাপনীয়;
খ) যেক্ষেত্রে আপাততঃ দৃশ্যমান নয় এমন কোন কারণে চুক্তি অবৈধ এবং বাদীর তুলনায় প্রতিবাদীকেই দোষী করা যায় বেশি;
গ) যেক্ষেত্রে একটি বিক্রয় চুক্তি বা একটি ইজারা গ্রহণের চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের জন্য ডিক্রি প্রদান করা হয়েছে এবং ক্রেতা ইজারাদার ক্রয়মূল্য বা অপরাপর অর্থ পরিশােধে অক্ষম হয়েছে, যা আদালত তাকে পরিশােধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

যখন ক্রেতা বা ইজারাদার বিষয়বস্তুর দখলকারী থাকে এবং আদালত তেমন দখল অন্যায় মনে করেন, সেখানে আদালত তাকে, তেমন দখলকারী হিসেবে কোন লাভ বা ভাড়া পেয়ে থাকলে তা বিক্রেতা বা ইজারাদাতাকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন। একই ক্ষেত্রে আদালত সে মােকদ্দমায়ই আদেশ কর্তৃক যাতে ডিক্রি প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তদমােতাবেক কাজ করা হয় নি, হয় কর্তব্য অবহেলাকারী পক্ষের বেলায় বা অসম্পূর্ণ চুক্তিই মােকদ্দমার ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা অনুসারে রদ করে দিতে পারেন।

উপধারা-ক এর-
‘ক’, ‘খ’-এর কাছে একটি মাঠ বিক্রয় করল। মাঠের উপর দিয়ে যাতায়াতের অধিকার সম্পর্কে ‘ক’-এর সরাসরি ব্যক্তিগত জ্ঞান ছিল, কিন্তু তা সে খ-এর কাছে লুকিয়ে রাখল। 'খ' চুক্তি রদ করে নেবার অধিকারী।

উপধারা-খ এর-
একজন এটর্নি ক তার মক্কেল একজন হিন্দু বিধবা খ-কে খ-এর পাওনাদারগণের প্রতারণার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি তার নামে হস্তান্তরে প্ররােচিত করল। এখানে পক্ষসমূহ সমভাবে দোষী নয় এবং খ হস্তান্তরের দলিল রদ করে নেওয়ার অধিকারী।
৩৯.
"ক" ১০০ মণ গম "খ"  এর নিকট বিক্রয় করার চুক্তি করে। "ক" উক্ত গম সরবরাহ করে নাই। "খ" এর প্রতিকার কি?
  1. "খ" সুনির্দিষ্টভাবে চুক্তিটি বলবৎ করতে পারে
  2. চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে
  3. "খ" ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারবে
  4. চুক্তিটি প্রকৃতিগত ভাবে প্রত্যাহারযোগ্য
ব্যাখ্যা
♦ চুক্তিভঙ্গের জন্য সাধারণত ২ ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায়। যথা- ক) ক্ষতিপূরণ এবং খ) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন।
♦ তবে উভয় ধরনের প্রতিকার থাকলেও চুক্তিভঙ্গের জন্য সাধারণত ক্ষতিপূরণের প্রতিকার প্রদান করা হয়। কিন্তু যেক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না অথবা যেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত হয় না, সেই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের প্রতিকার প্রদান করে থাকে।  
♦ আদালত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯, ৩৮ এবং ৪১ ধারায় ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করতে পারে।
♦ চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদী কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে অথবা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারামতে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মোকদ্দমা দায়েরের সময় চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বা বিকল্প হিসেবে ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারে।
♦ অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারামতে বাদী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলায় ক) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ও ক্ষতিপূরণ উভয়, অথবা খ) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পরিবর্তে কেবল ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারবে।
♦ অর্থাৎ এখানে "খ" চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পরিবর্তে কেবল ক্ষতিপূরণ দাবী করেতে পারবে। তাই উত্তর হবে "খ" ক্ষতিপূরণ মামলা করতে পারবে।
৪০.
কোন সাল হতে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির অরেজিস্ট্রিকৃত চুক্তিনামা বলবৎ যোগ্য নয়?
  1. ২০০৩
  2. ২০০৪
  3. ২০০৫
  4. ২০০৬
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারায় বিক্রয় চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের বিধান রয়েছে। ২১ক ধারামতে স্থাবর সম্পত্তির অরেজিস্ট্রিকৃত বা অনিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তি (unregistered contract for sale) সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি (contract for sale) সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করতে হলে নিম্নলিখিত শর্তসমূহ পূরণ করতে হয়-

i) চুক্তিটি লিখিত ও রেজিষ্ট্রেশন আইনের অধীনে রেজিষ্ট্রিকৃত বা নিবন্ধিত হতে হবে; এবং
ii) মামলা দায়েরের সময় চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য আদালতে জমা দিতে হবে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারাটি ২০০৪ সালের সংশোধনী দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে যা ১লা জুলাই ২০০৫ থেকে কার্যকর রয়েছে অর্থাৎ ১লা জুলাই ২০০৫ সালের পূর্বে সম্পাদিত স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি অরেজিস্ট্রিকৃত বা অনিবন্ধিত হলেও সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেত, কিন্তু ১লা জুলাই ২০০৫ সালের পর ২১ক ধারার শর্তাবলি পূরণ করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ২১ক ধারাটি শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির জন্য প্রযোজ্য কিন্তু স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক, লিজ বা দান ইত্যাদি চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ বন্ধক, লিজ বা দান ইত্যাদি চুক্তি লিখিত এবং রেজিষ্ট্রিকৃত বা নিবন্ধিত না হলেও তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে; কিন্তু স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি (contract for sale) অবশ্যই লিখিত এবং নিবন্ধিত হতে হবে অন্যথায় তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না।
৪১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারার অধীন আদালত কয়টি ক্ষেত্রে প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১১ ধারার বিধান অনুযায়ী তাৎক্ষণিক দখলের অধিকারী ব্যক্তি (Person entitled to immediate possession) কোন অস্থাবর সম্পত্তির দখলকারী কিন্তু মালিক নন এমন ব্যক্তিকে উক্ত সম্পত্তি প্রদানে বাধ্য করতে পারে। ১১ ধারামতে নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে আদালত বাদীকে প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারে। যথা-
ⅰ) যদি বিবাদী ট্রাস্টি বা এজেন্ট হিসাবে বাদীর অস্থাবর সম্পত্তি ধারণ করে;
ii) অস্থাবর সম্পত্তির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত না হলে;
iii) অস্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণ করা কঠিন হলে;
iv) যেক্ষেত্রে বিবাদী বাদীর অস্থাবর সম্পত্তিটি বেআইনিভাবে দখল করে।
---------------------
Section 11 Liability of person in possession, not as owner to deliver to person entitled to immediate possession:
Any person having the possession or control of a particular article of moveable property, of which he is not the owner, may be compelled specifically to deliver it to the person entitled to its immediate possession, in any of the following cases:-
(a) when the thing claimed is held by the defendant as the agent or trustee of the claimant;
(b) when compensation in money would not afford the claimant adequate relief for the loss of the thing claimed;
(c) when it would be extremely difficult to ascertain the actual damage caused by its loss;
(d) when the possession of the thing claimed has been wrongfully transferred from the claimant.
৪২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৯৭৭-এর ধারা ৩৫ অনুযায়ী, চুক্তি রদের মামলা দায়ের করার সর্বোচ্চ সময়সীমা কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৩৫ এবং তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১১৪ অনুসারে চুক্তি রদের (rescission of contract) মামলা দায়ের করার সর্বোচ্চ সময়সীমা ১ বছর।

⇒ তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ- ১১৪ অনুযায়ী, চুক্তি প্রত্যাহার করার মামলা যে সকল বিষয় বাদীকে চুক্তি বাতিল করার অধিকার‌ প্রদান করে, সেগুলি সম্পর্কে বাদী যখন প্রথম অবগত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে করতে হবে।

৪৩.
"trustee" includes every person holding, expressly, by implication, or constructively, a fiduciary character.- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় এই সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ২ ধারায়
  2. ৩ ধারায়
  3. ৪ ধারায়
  4. ৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
• Section 3- Interpretation-clause:
"trustee" includes every person holding, expressly, by implication, or constructively, a fiduciary character:

এর অর্থ হল:
"ট্রাস্টি" শব্দটি শুধুমাত্র সরাসরি নিযুক্ত ট্রাস্টিদেরই নয়, পরোক্ষভাবে বা প্রকৃতপক্ষে ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য এমন সকল ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যারা আস্থাভাজন চরিত্র বহন করে। এখানে "আস্থাভাজন চরিত্র" বলতে বোঝায় অন্য কারও স্বার্থ বা মঙ্গল রক্ষা করার দায়িত্ব। যেমন - অভিভাবক, এগজিকিউটর, এডমিনিস্ট্রেটর ইত্যাদি।
অর্থাৎ, ট্রাস্টি শুধু সে নয় যাকে সরাসরি এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, বরং যারা পরোক্ষভাবে বা প্রকৃতপক্ষে অন্যের স্বার্থ বা মঙ্গল রক্ষার দায়িত্বে আছে তারাও ট্রাস্টি হিসেবে গণ্য হবে।
৪৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৭ অনুযায়ী, চুক্তি রদ করার আর্জি কে করতে পারেন?
  1. বাদী
  2. বিবাদী
  3. আদালত
  4. চুক্তির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট তৃতীয় ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: (ক) বাদী।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারা অনুযায়ী, বাদী (Plaintiff) যিনি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য মামলা করেছেন, তিনি বিকল্পভাবে আদালতের কাছে চুক্তি রদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
- এই ধারা অনুসারে, বাদী যদি দেখতে পান যে চুক্তি কার্যকর করা সম্ভব নয়, তাহলে তিনি বিকল্পভাবে চুক্তি রদের জন্য প্রার্থনা করতে পারেন।
এছাড়া, যদি আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকর করতে অস্বীকার করে, তাহলে আদালত চুক্তিটি রদের আদেশ দিতে পারে।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৭ ধারার বিধান- সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের মোকদ্দমার বিকল্প হিসাবে রদের আর্জি:
লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মোকদ্দমা রুজুকারী বাদী বিকল্প হিসাবে আবেদন অবহিত করতে পারেন যে, চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা না গেলে তা রদ করা হোক এবং বিলুপ্ত হিসাবে ত্যাগ করা হোক; এবং আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করলে তা রদ করা এবং সে অনুসারে ত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
--------  
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 37- Alternative prayer for rescission in suit for specific performance:
A plaintiff instituting a suit for the specific performance of a contract in writing may pray in the alternative that, if the contract cannot be specifically enforced, it may be rescinded and delivered up to be cancelled; and the Court, if it refuses to enforce the contract specifically, may direct it to be rescinded and delivered up accordingly.
৪৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারা অনুসারে, চুক্তির বৃহত্তর অংশটির জন্য আদালত কী ধরনের নির্দেশ দিতে পারে?
  1. চুক্তি বাতিল
  2. সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন
  3. আর্থিক ক্ষতিপূরণ
  4. নতুন চুক্তি সম্পাদন
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারার বিধান: কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।

The Specific Relief Act, 1877, Section 14: Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
৪৬.
"Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, ________________."
  1. temporary and perpetual
  2. mandatory or perpetual
  3. mandatory and temporary
  4. temporary or perpetual
ব্যাখ্যা
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section 52. Preventive relief how granted:
Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual. 
-----------
-সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারার বিধান নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়: আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।
প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন।
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারীর মাধ্যমে।

- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হলো এক প্রকারের প্রতিরোধমূলক বা নিরোধমূলক প্রতিকার।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী নিরোধমূলক প্রতিকার বা প্রতিরোধমূলক প্রতিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা (অস্থায়ী এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা) হলো সর্বত্তোম পন্থা।
৪৭.
এক মোকদ্দমায় আদালত ঘোষণামূলক রায় প্রদান করেছে। এই ঘোষণামূলক রায় কার উপর বাধ্যকর হবে?
  1. শুধুমাত্র মামলার পক্ষদের উপর
  2. শুধুমাত্র পক্ষদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর
  3. মামলার পক্ষ এবং পক্ষদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর
  4. ঘোষণামূলক রায় কারো উপর বাধ্যকর নয়
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারা- ঘোষণার ফলাফল:
এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।

Section 43: Effect of declaration:
A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees.

এই ধারায় বলা হয়েছে যে,
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে আদালত যে কোনো ঘোষণামূলক রায় প্রদান করবে, তা কার উপর বাধ্যকর হবে সে সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে। এ রায় বাধ্যকর হবে:
১. মামলার পক্ষদের উপর;
২. পক্ষদের দাবিদারদের উপর (যারা পক্ষদের মাধ্যমে দাবি করছে);
৩. যদি কোনো পক্ষ ট্রাস্টি হন, তাহলে সেই ট্রাস্টিদের অধীনে যারা আছেন, তাদের উপর (যদি তারা ঘোষণার সময় বর্তমান থাকতেন);

অর্থাৎ, ঘোষণামূলক রায়টি মামলার অন্তর্গত সরাসরি সম্পর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বাধ্যকর হবে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষের উপর এই রায় বাধ্যকর হবে না।
৪৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ক্ষেত্রে আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না?
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন
  2. ঘোষণামূলক প্রতিকার
  3. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা 
  4. স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা

বিবেচনামূলক ক্ষমতা বলতে আদালতের এমন ক্ষমতাকে বোঝায় যা আদালত তার সন্তুষ্টি অনুযায়ী প্রয়োগ করতে পারে এবং এই ক্ষেত্রে প্রতিকার প্রদানে আদালত আইনত বাধ্য নয়। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীন দেওয়ানি আদালত নিম্নোক্ত ক্ষেত্র বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে:
১. চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন (ধারা ১২);
২. দলিল সংশোধন (ধারা ৩১);
৩. বাতিল বা বাতিলযোগ্য দলিল বাতিল (ধারা ৩৯);
৪. ঘোষণামূলক প্রতিকার (ধারা ৪২);
৫. রিসিভার নিয়োগ (ধারা ৪৪);
৬. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৪);
৭. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৫);
৮. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (ধারা ৫৩)।

আদালত ২টি ক্ষেত্রে বিবেচনামূলক ক্ষমতা  প্রয়োগ করতে পারে না:
১. সুনির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার (ধারা ৮);
২. স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার (ধারা ৯)।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৯ ধারায় পাওয়া প্রতিকারগুলো পক্ষগণের অধিকার।তাই ৮ ও ৯ ধারার অধীনে স্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে না।

৪৯.
ধারা ১৪ এর অধীন কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত-
  1. চুক্তির অসম্পাদিত অংশ পুনরায় যাচাই করবে
  2. সম্পূর্ণরূপে পুনঃচুক্তি করবে
  3. চুক্তির সামগ্রিক মূল্য পুনঃনির্ধারণ করবে
  4. অসম্পাদিত অংশের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৪ ধারামতে-
কোন চুক্তির অসম্পাদিত অংশ ছোট হলে, আদালত ঐ চুক্তির সম্পাদনযোগ্য বৃহত্তর অংশের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের আদেশ এবং বাকী অসম্পাদিত অংশের জন্য ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারে।

১৪ ধারার বিধান:
কোন চুক্তির যদি দুটো অংশ থাকে, যার মধ্যে একটা বৃহত্তর, অন্যটা ক্ষুদ্রতর এবং চুক্তিভুক্ত এক পক্ষ যদি বৃহত্তর অংশটুকু পালন করতে সমর্থ হয় এবং ক্ষুদ্রতর অংশটি অর্থের দ্বারা ক্ষতিপূরণযোগ্য হয়; তাহলে আদালত চুক্তিভুক্ত যে কোন এক পক্ষের মামলা দায়েরক্রমে বৃহত্তর অংশটি সুনির্দিষ্টিভাবে সম্পাদনের, এবং ক্ষুদ্রতর অংশটির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন।

Section 14: Specific performance of part of contract where part unperformed is small:
Where a party to a contract is unable to perform the whole of his part of it, but the part which must be left unperformed bears only a small proportion to the whole in value, and admits of compensation in money, the Court may, at the suit of either party, direct the specific performance of so much of the contract as can be performed, and award compensation in money for the deficiency.
৫০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১০ অনুযায়ী, কে সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে পারে?
  1. সম্পত্তির দাবীদার যেঁ কেউ
  2. দখলদার নয় এমন তৃতীয় পক্ষ
  3. কেবলমাত্র প্রকৃত মালিক
  4. দখলের অধিকারী পক্ষ
ব্যাখ্যা

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।

ব্যাখ্যা- ১:
এই ধারা অনুসারে, একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে, সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।

ব্যাখ্যা- ২:
সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।

৫১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় ঘোষণার ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ৪১ ধারা
  2. ৪২ধারা
  3. ৪৩ ধারা 
  4. ৪৪ ধারা
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ধারা ৪৩:,ঘোষণার ফলাফল: এই অধ্যায়ের অধীনে প্রদত্ত ঘোষণা শুধু মামলার পক্ষগণ, এবং তাহাদের মাধ্যমে দাবিদার ব্যক্তিগণের উপর, এবং, যেক্ষেত্রে পক্ষগণের মধ্যে কোনো ট্রাস্টি থাকেন, সেক্ষেত্রে এইরূপ ব্যক্তিগণের উপর যাহারা ঘোষণার দিন পর্যন্ত বাঁচিয়া থাকিতেন, তাহা হইলে এইরূপ পক্ষগণ যাহাদের জন্য ট্রাস্টি হইতেন তাহাদের উপর, অবশ্য পালনীয় হইবে।
উদাহরণ ক একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী, তাহার কথিত স্ত্রী খ এবং তাহার মাকে বিবাদি করিয়া দায়েরকৃত মামলায় তাহার বিবাহ যথারীতি সম্পন্ন হইয়াছে এই ঘোষণা প্রদান এবং তাহার দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আদেশ প্রদানের আবেদন জানান। আদালত সেইরূপ ঘোষণা ও আদেশ প্রদান করে। গ, খ কে তাহার স্ত্রী দাবি করেন এবং খ-কে উদ্ধার করিবার জন্য ক-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পূর্ববর্তী মামলায় প্রদত্ত ঘোষণা গ-এর উপর বাধ্যকর নহে।
-----------
The Specific Relief Act, 1877, Section 43, Effect of declaration: A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees.
Illustration: A, a Hindu, in a suit to which B, his alleged wife, and her mother, are defendants, seeks a declaration that his marriage was duly solemnized and an order for the restitution of his conjugal rights. The Court makes the declaration and order. C, claiming that B is his wife, then sues A for the recovery of B. The declaration made in the former suit is not binding upon C.

৫২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী কত ধরনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১২ অনুযায়ী, চুক্তির সুনির্দিষ্ট পারফরমেন্স আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নলিখিত চারটি ক্ষেত্রে আদায়যোগ্য:
১) যখন চুক্তিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত কোনো ট্রাস্টের অন্তর্ভুক্ত থাকে।
২) যখন চুক্তিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি হবে তার মানদণ্ড নির্ধারণের কোন উপায় নেই।
৩) যখন চুক্তিভুক্ত কাজ এমন যে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে যথেষ্ট প্রতিকার পাওয়া যায় না।
৪) যখন সম্ভাবনা থাকে যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।
সুতরাং, মোট ৪টি পৃথক পরিস্থিতিতে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ আদায় করতে পারে।

​⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা- যে-সব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য:
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
----------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections-12. Cases in which specific performance enforceable:
Except as otherwise provided in this Chapter, the specific performance of any contract may in the discretion of the Court be enforced-
(a) when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust;
(b) when 4[there] exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done;
(c) when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief; or
(d) When it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done.

Explanation- Unless and until the contrary is proved, the Court shall presume that the breach of a contract to transfer immoveable property cannot be adequately relieved by compensation in money, and that the breach of a contract to transfer moveable property can be thus relieved.

৫৩.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় বাদী সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের পরিবর্তে অথবা সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনসহ অতিরিক্ত হিসেবে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারে?
  1. ১৭ ধারা
  2. ১৮ ধারা 
  3. ১৯ ধারা
  4. ২০ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।
- এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা: চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 19: Power to award compensation in certain cases:
Any person suing for the specific performance of a contract may also ask for compensation for its breach, either in addition to, or in substitution for, such performance.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought not to be granted, but that there is a contract between the parties which has been broken by the defendant and that plaintiff is entitled to compensation for that
If in any such suit the Court decides that specific performance ought to be granted, but that it is not sufficient to satisfy the justice of the case, and that some compensation for breach of the contract should also be made to the plaintiff, it shall award him such compensation accordingly.
Compensation awarded under this section may be assessed in such manner as the Court may direct.

৫৪.
দলিল বাতিলের মোকদ্দমা দায়েরের তামাদির মেয়াদ কত বছর?
  1. ১২
ব্যাখ্যা
♦ তামাদি আইনের  সিডিউল ১, আর্টিকেল ৯১ মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-এর ৩৯ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে হলে এই দলিলের বিষয়ে জানার ৩ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।
৫৫.
'ক' তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের সুনাম ১০০০ টাকায় বিক্রয়ের জন্য 'খ'-এর সাথে চুক্তি করে এবং এই শর্তে রাজি হয় যে, 'ক' উক্ত ব্যবসা চিটাগং-এ পরিচালনা করবেনা। 'খ' ১০০০ টাকা 'ক'-কে পরিশোধ করে কিন্তু ক' চিটাগং-এ উক্ত ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকে। এই ক্ষেত্রে 'খ'________ আদেশ পেতে পারে।
  1. ‘ক’-কে চট্টগ্রামে ব্যবসা পরিচালনা হতে বিরত রাখতে 'খ' নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে
  2. 'ক' কে তার কাস্টমারদের 'খ'-এর নিকট পাঠাতে বাধ্য করতে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে
  3. ‘ক’-এর নিকট হতে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেতে পারে
  4. ‘ক’-এর ব্যবসার উপর চুক্তি বলবৎকরণের আদেশ পেতে পারে।
ব্যাখ্যা
♦The Specific Relief Act, 1877 এর ৫৭ ধারার বিধান হল নেতিবাচক চুক্তি পালন করার জন্যে ইনজাংশনঃ ৫৬ ধারার (চ) অনুচ্ছেদ 'যে চুক্তির কার্য সম্পাদন সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করা যায় না, তেমন চুক্তি নিরোধের উদ্দেশ্যে'- বিধান থাকা সত্ত্বেও যেখানে একটি চুক্তি সুস্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতবোধকভাবে কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ করা এবং কতিপয় নির্দিষ্ট কাজ না করার সম্মতির সমন্বয় যেখানে হ্যা সূচক চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে বাধ্য করতে আদালত অসমর্থ হলেও সে পরিস্থিতি আদালতকে না সূচক কার্যসম্পাদনের ব্যাপারে ইনজাংশন মঞ্জুর করা থেকে নিবারণ করবে না। তবে শর্ত হচ্ছে বাদী দার উপর যতটুকু অবশ্য পালনীয়, চুক্তির ততটুকু পালন করতে ব্যর্থ হয়নি।
♦অর্থাৎ 'ক' কে চট্টগ্রামে ব্যবসা পরিচালনা হতে বিরত রাখতে 'খ' নিষেধাজ্ঞা পেতে পারে।
৫৬.
The Specific Relief Act, 1877 এর 21A ধারায় ‘স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় সংক্রান্ত অরেজিস্ট্রিকৃত কোনো ‍চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়’ - বিধান সংযোজন করা হয় কোন সালে?
  1. ২০০৩
  2. ২০০৪
  3. ২০০৫
  4. ২০১২
ব্যাখ্যা
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১(ক) ধারাটি ২০০৪ সালের সংশোধনী দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে যা ১লা জুলাই ২০০৫ থেকে কার্যকর রয়েছে অর্থাৎ ১লা জুলাই ২০০৫ সালের পূর্বে সম্পাদিত স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি অরেজিস্ট্রিকৃত বা অনিবন্ধিত হলেও সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেত, কিন্তু ১লা জুলাই ২০০৫ সালের পর ২১(ক) ধারার শর্তাবলি পূরণ করতে হবে। 

- উল্লেখ্য যে, ২১(ক) ধারাটি শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তির জন্য প্রযোজ্য কিন্তু স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক, লিজ বা দান ইত্যাদি চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

- অর্থাৎ বন্ধক, লিজ বা দান ইত্যাদি চুক্তি লিখিত এবং রেজিষ্ট্রিকৃত বা নিবন্ধিত না হলেও তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে; কিন্তু স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় চুক্তি (contract for sale) অবশ্যই লিখিত এবং নিবন্ধিত হতে হবে অন্যথায় তা সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাবে না।

- সহজভাবে বলা যায়, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। কিন্তু অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে অরেজিষ্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যেতে পারে।

- The Specific Relief Act, 1877 এর 21A ধারাটি সংযুক্ত হয় ২০০৪ সালের ২৭ নং আইন দ্বারা। আর কার্যকর হয় ১ জুলাই ২০০৫ তারিখ হতে। কার্যকরের তারিখ হতে চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য জমা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়।
৫৭.
'ক' একজন নিলামকারীর কাছে কিছু জমি বিক্রির নির্দেশ দেয়। পরে 'ক' ২০ বিঘা জমির জন্য নিলামকারীর ক্ষমতা বাতিল করে, কিন্তু নিলামকারী অজান্তে সমস্ত জমি 'খ' কে বিক্রি করে দেয়। 'খ' জানত না যে ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, 'খ' কোন ধারার বিধান অনুযায়ী চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকর করতে পারবে না?
  1. ধারা ২৬(গ)
  2. ধারা ২৭(গ)
  3. ধারা ২৮(গ)
  4. ধারা ২৩(গ)
ব্যাখ্যা
ধারা ২৮- যে পক্ষগণকে কার্যসম্পাদনে বাধ্য করা যাবে না:
নিম্ন বর্ণিত ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চুক্তিবদ্ধ পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকরী করা যাবে না –
ক) যদি চুক্তির তারিখে বিরাজমান বিষয়বস্তুর অবস্থার চেয়ে তৎকর্তৃক গৃহীতব্য‌ প্রতিদান এতই অপর্যাপ্ত হয় যে তা নিজেই বা অপরাপর পরিস্থিতির সহযােগে প্রতারণা বা বাদীর মাধ্যমে অন্যায় সুবিধা গ্রহণের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়;

খ) যদি চুক্তির আওতাধীন যে পক্ষের মাধ্যমে কার্যসম্পাদন করা কর্তব্য হয় সে পক্ষের সম্মতি ভুল বিরবণ (ইচ্ছাকৃত হােক বা অনিচ্ছাকৃত হােক) গােপন চক্রান্ত বা অসদাচরণের মাধ্যমে অর্জন করা হয়ে থাকে বা তেমন পক্ষের এমন কোন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, যা উল্লেখযােগ্যভাবে পরিপূর্ণ করা হয় নি;

গ) যদি ভুল তথ্যের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বা অপ্রত্যাশিতভাবে তার সম্পত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে চুক্তিতে ভুলের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিধান থাকে সেক্ষেত্রে তেমন বিধানের আওতার মধ্যে ভুলের জন্য ক্ষতিপূরণ করা যেতে পারে এবং তেমন কার্যকরীকরণ যথাযথ হলে অন্যান্য বিষয়ে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যেতে পারে।

উদাহরণ: উপধারা-গ এর-
ক একজন নিলামকারীকে নির্দিষ্ট জমি বিক্রয়ের নির্দেশ প্রদান করে। ক পরবর্তী সময়ে এই জমির ২০ বিঘার ব্যাপারে নিলামকারীর প্রাধিকার খারিজ করে, কিন্তু নিলামকারী অসতর্কতাবশতঃ সমগ্র জমিটাই খ-এর কাছে বিক্রয় করে, যে খারিজের ব্যাপারটি সম্পর্কে জানত না। খ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করতে পারবে না।
৫৮.
কোন মামলায় আদালত ডিক্রির কপি রেজিস্ট্রি অফিসে প্রেরণ করতে আইনগত বাধ্য?
  1. রেজিস্টার্ড দলিল বেআইনিমর্মে ঘোষণামূলক মোকদ্দমা
  2. রেজিস্টার্ড দলিল সংশোধনের মোকদ্দমা
  3. রেজিস্টার্ড দলিল বাতিলের মোকদ্দমা
  4. রেজিস্টার্ড দলিল রদরহিতের মোকদ্দমা
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৯ ধারায় দলিল বাতিল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। এই ধারানুযায়ী নিবন্ধিত দলিল বাতিল করা হলে, ডিক্রির একটি কপি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে যার কার্যালয়ে উক্ত দলিল নিবন্ধিত হয়েছিলো।

• দলিল বাতিল সংক্রান্ত তথ্য:

⇒ দলিল বাতিলের মোকদ্দমা করতে পারে:
১) দলিলের যেকোনো পক্ষ;
২) দলিলের পক্ষ নয় এমন ব্যক্তি, কিন্তু যার ক্ষতিগ্রস্ত [Serious Injury] হওয়ার সম্ভাবনা আছে;
৩) যেকোনো ব্যক্তি; যার বিরুদ্ধে দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য।

⇒ আদালত বিবেচনামূলক/স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নোক্ত আদেশ দিবে বা প্রতিকার মঞ্জুর করবে:
১. বাতিল বা বাতিলযোগ্য বলে আইনানুযায়ী নিষ্পত্তি করবে,বা
২. দলিলটি অর্পণের আদেশ দিবে, বা
৩. দলিলটি বাতিলের আদেশ দিবে।

তামাদির মেয়াদ: অবগত হওয়ার সময় থেকে ৩ বছর (অনুচ্ছেদ ৯১, তামাদি আইন)।
কোর্ট ফিস: মূল্যানুপাতিক [অ্যাড-ভ্যালোরেম]।

৫৯.
বাদী একটি ফৌজদারী বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। এক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞার আবেদন ________।
  1. স্থগিত রাখবেন
  2. মঞ্জুর করবেন
  3. আংশিক মঞ্জুর করবেন
  4. নামঞ্জুর করবেন
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা অনুযায়ী, আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবেন না এমন ১১টি ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে। 
- The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৫৬(e) (Section 56(e)) অনুযায়ী, আদালত ফৌজদারী কার্যধারা স্থগিত রাখার উদ্দেশ্যে কোনো নিষেধাজ্ঞা (injunction) প্রদান করবেন না।
- ধারা ৫৬(e) এর ভাষ্য:"An injunction cannot be granted to stay proceedings in any criminal matter."
- অর্থাৎ, কোনো ফৌজদারী বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারবেন না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা-তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন কোন ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না। এই ধারা অনুযায়ী ১১টি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হবে না। তা হলো:
১. যখন বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে হবে না।
২. যখন কোনো অধীনস্থ আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখতে হবে না।
৩. যখন কোনো ব্যক্তি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে চায়।
৪. যখন সরকারের কোনো সরকারি কার্যক্রম বা বিদেশি সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করতে হবে না।
৫. যখন কোনো ফৌজদারি বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখতে হবে না।
৬. যখন কোনো চুক্তি ভঙ্গের জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাবে না, যদি না সেই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।
৭. যখন উৎপাত নয় এমন কাজ নিষেধ করতে হবে না।
৮. যখন বাদী সম্মতি দিয়েছে এমন ক্রমাগত লঙ্ঘন নিষেধ করতে হবে না।
৯. যখন জিম্মা ভঙ্গের প্রতিকার অন্য কোনো সাধারণ কার্যধারার মাধ্যমে পাওয়া যায়।
১০. যখন আবেদনকারীর আবেদন এমন যে তাকে আদালতের সাহায্য থেকে বঞ্চিত করবে।
১১. যখন মামলার বিষয়বস্তুতে আবেদনকারীর কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

⇒ The Specific Relief Act, 1877: Section- 56. Injunction when refused:
An injunction cannot be granted-
(a) to stay a judicial proceeding pending at the institution of the suit in which the injunction is sought, unless such restraint is necessary to prevent a multiplicity of proceedings;
(b) to stay proceedings in a Court not subordinate to that from which the injunction is sought;
(c) to restraint persons from applying to any legislative body;
(d) to interfere with the public duties of any department of the Government, or with the sovereign acts of Foreign Government;
(e) to stay proceedings in any criminal matter;
(f) to prevent the breach of a contract the performance of which would not be specifically enforced;
(g) to prevent, on the ground of nuisance, an act of which it is not reasonably clear that it will be a nuisance;
(h) to prevent a continuing breach in which the applicant has acquiesced;
(i) when equally efficacious relief can certainly be obtained by any other usual mode of proceeding except in case of breach of trust;
(j) when the conduct of the applicant on his agents has been such as to disentitle him to the assistance of the Court;
(k) where the applicant has no personal interest in the matter.
৬০.
ধারা _________ অনুসারে, কেবল সাধারণ ভুলের জন্য লিখিত কোনো চুক্তি বাতিল করা যাবে না
  1. ৩৬
  2. ৩৯
  3. ৪৩
  4. ৫১
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা: ভুলের জন্য রদ:
কেবল সাধারণ ভুলের জন্য লিখিত কোনো চুক্তি বাতিল করা যাবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিল করা হবে তাকে অনুরূপ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় যেন চুক্তি করা হয়নি।

Section 36: Rescission for mistake:
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.
৬১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে "Trustee" বলে অন্তর্ভুক্ত হবে কোন ধরনের ব্যক্তি?
  1. শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কিত ব্যক্তি
  2. শুধুমাত্র ব্যবসায়িক সম্পর্কিত ব্যক্তি
  3. আস্থাভাজন বা বিশ্বাসভাজন চরিত্র ধারণকারী ব্যক্তি
  4. শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত ব্যক্তি
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩ ধারা অনুসারে "ট্রাস্টি" শব্দটি প্রত্যেক ব্যক্তিকে বুঝায় যারা স্পষ্টভাবে, গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে বা কাঠামোগতভাবে আস্থাভাজন বা বিশ্বাসভাজন চরিত্র বহন করে।
---------------------------
The Specific Relief Act, 1877, Section 3, Interpretation clause: "trustee" includes every person holding, expressly, by implication, or constructively, a fiduciary character.

৬২.
নিম্নের কোন বিষয়ে ঘোষণামূলক ডিক্রি দেওয়া যায় না?
  1. পদের অধিকার
  2. চুক্তি উদ্ভূত আইনগত অধিকার
  3. সম্পত্তির অধিকার
  4. আইনগত মর্যাদা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
 
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
⇒ ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা মঞ্জুর করে যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি বা Declaratory Decree বলে। অর্থাৎ ৪২ ধারায় আদালত যে ডিক্রি প্রদান করে,তাকে ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) বলে।
 
⇒ অর্থাৎ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ কিন্তু চুক্তি উদ্ভূত আইনগত অধিকারে বিষয়ে ঘোষণামূলক ডিক্রি দেওয়া যায় না।

⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষণামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষণামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষণা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।ঃ
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।
 
⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।
 
⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৬৩.
What does Section 41 allow the Court to do?
  1. Rewrite the cancelled instrument
  2. Automatically restore the cancelled instrument
  3. Close the case without further action
  4. Require the party to pay compensation to the other party
ব্যাখ্যা
Section 41- Power to require party for whom instrument is cancelled to make compensation:
On adjudging the cancellation of an instrument, the Court may require the party to whom such relief is granted to make any compensation to the other which justice may require.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪১ ধারা: যে পক্ষের জন্য দলিল বিলুপ্ত করা হয়েছে, সে পক্ষের নিকট হতে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষমতা:
দলিল বিলুপ্তির রায় প্রদানের সময় আদালত যে পক্ষকে তদ্রুপ প্রতিকার মঞ্জুর করেছেন, সেপক্ষের তরফ হতে অন্য পক্ষকে ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা মোতাবেক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন।
৬৪.
A কোনো নির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলকারী। B দাবি করছে যে, সে ওই সম্পত্তির মালিক এবং A-কে তা হস্তান্তর করার নির্দেশ দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, A কী প্রতিকার পেতে পারে?
  1. কেবল ক্ষতিপূরণ আদায়
  2. চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের
  3. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের
  4. ঘোষণামূলক মামলা দায়ের
ব্যাখ্যা

⇒ A তার দখল বা স্বত্বের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আদালতে ঘোষণামূলক মামলা (Declaratory Suit) করতে পারে, যাতে আদালত ঘোষণা দেয় যে A সত্যিই সেই সম্পত্তি রাখার অধিকারী।

ঘোষণামূলক মামলা ও ডিক্রির সংজ্ঞা:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। আদালত ঘোষণামূলক মামলায় যে ডিক্রি প্রদান করে, তাকে "ঘোষণামূলক ডিক্রি" (Declaratory Decree) বলে। এই ডিক্রির মাধ্যমে বাদীর আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকার ঘোষণা করা হয়।

ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি:
i) বাদীকে আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হতে হবে।
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে- চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট পরিচয় এখানে প্রযোজ্য নয়।
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় বা সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হতে হবে বা অস্বীকারের উদ্যোগ নিতে হবে।

মোকদ্দমা দায়েরের যোগ্যতা:
১. যিনি আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. যিনি সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী, কিন্তু তার অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে।
৩. যাঁর পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৬৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকতে পারে?
  1. আদালত কর্তৃক উল্লেখিত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত
  2. আদালতের পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত
  3. অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত
  4. ক ও খ উভয় 
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৫৩ অনুসারে, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা - অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হইল এইরূপ নিষেধাজ্ঞা যাহা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মামলার যেকোনো সময় ইহা মঞ্জুর করা যাইবে, এবং দেওয়ানি কার্যবিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা।- কেবল শুনানির পর এবং মামলার গুণাগুণের উপর ভিত্তি করিয়া প্রদত্ত ডিক্রি দ্বারা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাইবে: ইহার মাধ্যমে বিবাদিকে চিরস্থায়ীভাবে এমন একটি অধিকার প্রয়োগ, অথবা এমন একটি কাজ করা হইতে বিরত থাকিবার নির্দেশ দেওয়া হয় যাহা বাদির অধিকারের বিপরীতে হইবে।
-----------------
Temporary injunctions section ,53. Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any period of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure.

Perpetual injunction: A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit: the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.

৬৬.
The Specific Relief Act, -এর অধীনে "obligation" বলতে কী বোঝায়?
  1. নৈতিক দায়িত্ব
  2. স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব
  3. শুধুমাত্র চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব
  4. আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য প্রতিটি দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
→ উল্লিখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর: আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য প্রতিটি দায়িত্ব। 

→ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ধারা ৩ এর বিধান: ব্যাখ্যামূলক ধারা: এই আইনের উদ্দেশ্যে, যদি বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গের সাথে সাংঘর্ষিক কিছু না থাকে, তাহলে "দায়বদ্ধতা বা বাধ্যবাধকতা" বলতে আইনের দ্বারা বলবৎযোগ্য প্রতিটি দায়িত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
------------- 
→ The Specific Relief Act, section- 3. Interpretation-clause: In this Act, unless there be something repugnant in the subject or context,- "obligation" includes every duty enforceable by law.
৬৭.
ক” খ” কে নির্দিষ্ট জমি ভাড়া প্রদান করে এবং খ” সেখান থেকে বালি নুড়িপাথর খনন বা উত্তোলন না করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। খ” কে চুক্তি লঙ্ঘনমূলক খনন কাজ থেকে বিরত রাখার উদ্দশ্যে ক” নিম্মলিখিত মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে?
  1. বালি নুড়ি পাথর দখলের জন্য মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে
  2. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে
  3. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আবেদন করতে পারবে
  4. নুড়িপাথর বা বালি উত্তোলনের কোন অধিকার নেই মর্মে ঘোষণার মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে
ব্যাখ্যা
♦ক এবং খ এর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে খ এর বাধ্যবাকতা আছে বালি বা নুরিপাথর উত্তোলন না করার। এই বাধ্যবাদকতা লঙ্ঘন করে যেন নুড়িপাথর তুলতে না পারে,সেই কাজ থেকে বিরত রাখতে ৫৪ ধারার অধীন আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
৬৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১০ ধারা অনুসারে অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি কীভাবে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে?
  1. আদালতের নির্দেশ ছাড়াই পেশীশক্তিতে
  2. সাধারণ আইনের বিধান অনুসারে
  3. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী
  4. ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারার বিধান: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:
- সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।

ব্যাখ্যা-১: এই ধারা অনুসারে একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।
ব্যাখ্যা-২: সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section-10. Recovery of specific moveable property:
A person entitled to the possession of specific moveable property may recover the same in the manner prescribed bythe Code of Civil Procedure.

Explanation 1- A trustee may sue under this section for the possession of property to the beneficial interest in which the person for whom he is trustee is entitled.
Explanation 2- A special or temporary right to the present possession of property is sufficient to support a suit under this section.
৬৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর কোন ধারা অনুযায়ী ২টি ক্ষেত্রে আদালত দলিল বাতিল করা যায়?
  1. ৩১ ধারা
  2. ৩৪ ধারা
  3. ৩৯ ধারা
  4. ৪০ ধারা
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী,
- ২টি ক্ষেত্রে আদালত দলিল বাতিলের মোকদ্দমায় দলিল বাতিলের আদেশ মঞ্জুর করতে পারেন
(কোন লিখিত দলিল বাতিল/ বাতিলযোগ্য, যদি বাদীর চুক্তি সম্পর্কে আশংকা থাকে যে, এরূপ দলিল যদি অনিস্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা ক্ষতির কারন হতে পারে)।এটি আদালতের বিবেচনা মূলক ক্ষমতা।
৭০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুসারে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. বাদী আইন বহির্ভূতভাবে দখলচ্যুত হয়েছে
  2. উক্ত সম্পত্তিতে বাদীর স্বত্ব থাকতে হবে
  3. বাদী অসম্মতিতে বাদীকে দখলচ্যুত করা হয়েছে
  4. সম্পত্তি অবশ্যই স্থাবর হতে হবে
ব্যাখ্যা
 ⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা: যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তবে সে অথবা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে যদিও তেমন মামলায় অপর কোন স্বত্ব খাড়া করা হতে পারে, তথাপিও।
এই ধারার কোন কিছুই তেমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার জন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা দায়েরের পথে প্রতিবন্ধকতা হবে না।
এই ধারা অনুসারে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে না। এই ধারা অনুসারে দায়েরকৃত মামলার প্রদত্ত কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপিল করা যাবে না অথবা তেমন কোন আদেশ বা ডিক্রি পুনর্বিবেচনার কোন অনুমতি প্রদান করা হবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবীদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোন প্রয়োগযোগ্য নেই। আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।

⇒আইন বহির্ভূতভাবে ও সম্মতি ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে স্থাবর সম্পত্তি থেকে দখলচ্যুত করা হলে, উক্ত স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ৯ ধারামতে মামলা করা যাবে। বাদীকে যে যথাযথ আইনের মাধ্যম ছাড়াই বেদখল করেছে, সে যদি মূল মালিকও হয় কিংবা তার দ্বারা কোন দাবিদারও হয় তবু বাদী তার দখলচ্যুতির তারিখ হতে ছয় মাসের মধ্যে তার স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার করতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় মামলা করতে পারবে। ৯ ধারামতে যিনি স্থাবর সম্পত্তির দখলে ছিলেন, তিনিই মামলা করতে পারেন।
 ⇒ কেননা এই ধরনের মামলায় শুধু বাদীর দখল এবং বেদখল প্রমাণ করতে হয় এবং ৯ ধারার অধীনে দখল উদ্ধারের মামলায় স্বত্বের প্রশ্ন অবান্তর।উল্লেখিত প্রশ্নের 'উক্ত সম্পত্তিতে বাদীর স্বত্ব থাকতে হবে' কথাটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা অনুসারে সঠিক নয়। 
৭১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার মামলায় বাদী নিচের কোনটি প্রমাণ করতে হবে না?
  1. সম্পত্তিটি দখলে ছিল
  2. বিবাদী তাকে বেদখল করেছে
  3. সম্পত্তিতে বাদীর স্বত্ব রয়েছে
  4. বাদী ৬ মাসের মধ্যে মামলা করেছে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধার করতে হলে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে নালিশি সম্পত্তি তার দখলে ছিল এবং উক্ত সম্পত্তি হতে তাকে গত ৬ মাসের মধ্যে জোরপূর্বক বা বেআইনিভাবে বেদখল করা হয়েছে।
-এই ধারায় ( স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার মামলায়) স্বত্ব প্রমাণ বা স্বত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করার প্রয়োজন নেই, তথাপিও পক্ষ চাইলে উত্থাপন করতে পারেন।
ধারাঃ ৯- স্থাবর সম্পত্তির দখল পুরুদ্ধার (স্বত্বছাড়া শুধু দখল পুনুরুদ্ধার/মামলা করার সময়সীমা ৬ মাস)
-------------------------
SR Act- Section-9. Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
৭২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪ ধারার উপধারা (ক) অনুযায়ী, কোন প্রতিকার প্রদান করা হবে না?
  1. চুক্তির ভিত্তিতে
  2. ফৌজদারি মামলার ভিত্তিতে
  3. চুক্তি নয় এমন কোন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে
  4. সম্পত্তির অধিকার প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অপ্রযোজ্যতা:
যদি না এই আইনে কোথাও অন্যরূপে সুস্পষ্টভাবে বিধিবদ্ধ থাকে, তবে এই আইনে কোন কিছুকেই এরূপ গণ্য করা হবে না, যাতে-
(ক) চুক্তি নয়, এমন কোন অঙ্গীকারের ব্যাপারে প্রতিকারের কোন অধিকার প্রদান করা হয়;
(খ) কোন ব্যক্তিকে কোন প্রতিকারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা হয়, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ছাড়া, যা সে কোন চুক্তির অধীনে পেতে পারত; অথবা
(গ) দলিলসমূহের উপর রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রয়োগকে প্রভাবিত করা হয়।
৭৩.
কোন পরিস্থিতিতে আদালত নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে বাধ্য করার জন্য নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে?
  1. মামলা দীর্ঘস্থায়ী হলে
  2. পক্ষগণের মধ্যে বিবাদমান বিষয় না পাওয়া গেলে
  3. বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করার রোধের লক্ষ্যে
  4. মামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারা: বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা:
যে ক্ষেত্রে একটি বাধ্যবাধকতার ভঙ্গ করার রোধের লক্ষ্যে এবং এমন নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে বাধ্য করা আবশ্যক হয় এবং আদালতে তা কার্যকরীযোগ্য হয়, সে ক্ষেত্রে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুসারে যে চুক্তি ভঙ্গের অভিযােগ করা হয়েছে তা রােধ করা এবং সে সঙ্গে‌ প্রয়ােজনীয় কাজ সম্পাদনে বাধ্য করার জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন।

Section 55- Mandatory injunctions:
When, to prevent the breach of an obligation, it is necessary to compel the performance of certain acts which the Court is capable of enforcing, the Court may in its discretion grant an injunction to prevent the breach complained of, and also to compel performance of the requisite acts.

• বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা/ Mandatory Injunction-
কোন ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনগত ভাবে বাধ্য থাকা শর্তেও তা করা থেকে বিরত থাকলে আদালত তাকে কাজটি সম্পাদন করতে বাধ্য করে তথা কোন বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ রোধ করার জন্য নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে তা বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা নামে পরিচিত। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৫ ধারায় এই সম্পর্কে বলা হয়েছে।

বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে সে যে কাজ করতে বাধ্য তাকে তা করতে আদেশ দেয়া হয়। সে জন্য ৫৫ ধারার বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা আদালতে প্রার্থনা করা হলে আদালত তার বিবেচনামূলক স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে সন্তুষ্টচিত্তে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে মঞ্জুর করে থাকেন।
৭৪.
According to Section 44 of SR Act,The rights, powers, duties, and liabilities of a receiver are determined by—
  1. The discretion of the judge
  2. The Evidence Act
  3. The Code of Civil Procedure
  4. The agreement between parties
ব্যাখ্যা
Section 44- Appointment of receivers discretionary:
The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.

Reference to Code of Civil Procedure: The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure. 

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারার বিধান- তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক:
প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
- তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়-দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।
৭৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি ঘোষণামূলক মোকদ্দমা করতে পারে যদি সম্পত্তিতে তার-
  1. দখল না থাকে
  2. আংশিক দখল থাকে
  3. প্রতীকী দখল থাকে
  4. একচ্ছত্র দখল থাকে
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় ঘোষণামূলক মামলার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তির আইনগত পরিচয় (Legal Character) কিংবা সম্পত্তিতে তার স্বত্বের অধিকার কেউ যদি অস্বীকার করে, তখন আইনগত পরিচয় বা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী (Person entitled to property) ব্যক্তি তার অধিকার ঘোষণা চেয়ে আদালতে যে মামলা দায়ের করে তাকে ঘোষণামূলক মামলা বা Declaratory Suit বা Suit for Declaration বলে।
⇒ শুধুমাত্র ২টি ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তিতে স্বত্বের ক্ষেত্রে আইনগত পরিচয় কিংবা কোন সম্পত্তির স্বত্বের অধিকারী কোন ব্যক্তি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারে।
 
⇒ কোন ব্যক্তির আইনানুগ পরিচয় বা কোন সম্পত্তিতে তার অধিকার যখন অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অস্বীকার করা হয়, তখন আইনানুগ পরিচয়ের অধিকারী ব্যক্তি বা সম্পত্তিতে অধিকারী ব্যক্তি আদালতের নিকট তার আইনানুগ পরিচয় বা সম্পত্তিতে তার যে অধিকার আছে এই মর্মে ঘোষণা চেয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে।
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রির প্রকৃতি:-
i) ঘোষণামূলক ডিক্রি দ্বারা নতুন কোন অধিকার সৃষ্টি হয় না বরং বাদীর বিদ্যমান অধিকারকে ঘোষণা করে মাত্র। সুতরাং মামলা করার সময় বাদীর অধিকার বিদ্যমান থাকতে হবে, ভবিষ্যতে কোন অধিকার অর্জন হবে তার জন্য ঘোষণামূলক মামলা করা যায় না।
ii) ঘোষণামূলক মামলায় আদালত বিরোধীয় বস্তুতে আইনগত পরিচয় ও স্বত্বের ঘোষণা করে মাত্র, কিন্তু এই ডিক্রির দ্বারা কোন পক্ষকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে আদেশ দেয় না।
iii) ঘোষণামূলক ডিক্রি প্রদান করা আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা।
 
⇒ ৪২ ধারার অধীন ঘোষণামূলক ডিক্রি লাভের আবশ্যকীয় শর্তাবলি-
i) বাদী কোন আইনগত পরিচয় অথবা সম্পত্তিতে স্বত্বের অধিকারী হবে;
ii) বাদীর আইনগত পরিচয় (legal character) আইনের দ্বারা সৃষ্ট হতে হবে, চুক্তি দ্বারা সৃষ্ট কোন পরিচয় নয়; এবং
iii) বিবাদী কর্তৃক বাদীর আইনগত পরিচয় ও সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার বা অস্বীকারের উদ্যোগ গ্রহণ।
 
⇒ মোকদ্দমা দায়ের:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী যার সম্পত্তির স্বত্ব অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
--------------
⇒ SR Act:- Section-42. Discretion of Court as to declaration of status or right. Bar to such declaration:
-Any person entitled to any legal character, or to any right as to any property, may institute a suit against any person denying, or interested to deny, his title to such character or right, and the Court may in its discretion make therein a declaration that he is so entitled, and the plaintiff need not in such suit ask for any further relief:
Provided that no Court shall make any such declaration where the plaintiff, being able to seek further relief than a mere declaration of title, omits to do so.
Explanation:- A trustee of property is a "person interested to deny" a title adverse to the title of some one who is not in existence, and for whom, if in existence, he would be a trustee.
Illustrations:
(a) A is lawfully in possession of certain land. The inhabitants of a neighboring village claim a right of way across the land. A may sue for a declaration that they are not entitled to the right so claimed.
৭৬.
কামাল ও জামাল একটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে। পরে জানা গেল যে, লাভের হিসাবে একটি সাধারণ গণনাগত ভুল হয়েছে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারার বিধান অনুযায়ী কোনটি সঠিক?
  1. চুক্তিটি অবশ্যই বাতিল করতে হবে
  2. চুক্তিটি বাতিল করা যাবে না
  3. চুক্তিটি বাতিল করা যাবে যদি উভয় পক্ষকে পূর্বের অবস্থায় ফেরানো যায়
  4. খ এবং গ উভয় সঠিক
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা: ভুলের জন্য রদ:
কেবল সাধারণ ভুলের জন্য লিখিত কোনো চুক্তি বাতিল করা যাবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিল করা হবে তাকে অনুরূপ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় যেন চুক্তি করা হয়নি।

Section 36: Rescission for mistake:
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.
৭৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩২ ধারা কোন প্রক্রিয়ার জন্য প্রযোজ্য?
  1. চুক্তি বাতিল
  2. চুক্তি কার্যকর
  3. চুক্তি সংশোধন
  4. ক্ষতিপূরণ আদায়
ব্যাখ্যা

ধারা ৩২ – পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
লিখিত চুক্তি সংশোধন (rectification) করার জন্য আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে, চুক্তিতে অংশ নেওয়া সকল পক্ষই ন্যায়সঙ্গত ও বিবেকপূর্ণ (equitable and conscientious) চুক্তি করতে ইচ্ছুক ছিলেন।

সহজভাবে বলা যায়:
যদি আদালত কোনো লিখিত চুক্তি সংশোধন করতে চায়, তাকে প্রথমে দেখতে হবে যে চুক্তির সব পক্ষই চুক্তি করার সময় ন্যায়সঙ্গত ও সতর্কতার সাথে (বিবেকপূর্ণভাবে) কাজ করার অভিপ্রায় রাখতেন।

৭৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী কয় ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনযোগ্য?
  1. ৬টি ক্ষেত্রে
  2. ৫টি ক্ষেত্রে
  3. ৪টি ক্ষেত্রে
  4. ৩টি ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা- যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদায়যোগ্য:
যদি এ অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, তবে যে কোন চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আদায় করা যেতে পারে:
(ক) যখন সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন পুরোপুরি বা অংশত একটি জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হয়;
(খ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ সম্পাদন না করলে কার্যত যে ক্ষতি সাধিত হবে, তার নির্ণয় করার কোন মানদণ্ডের অস্তিত্ব থাকে না;
(গ) যখন সম্মতিভূক্ত কাজ এমন হয় যে, তা সম্পাদন না করে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রতিকার লাভ করা যায় না; অথবা
(ঘ) যখন এই সম্ভাবনা থাকে যে, সম্মতিভুক্ত কাজ সম্পাদন না করার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না।

ব্যাখ্যা: যদি না এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়, আদালত এটা অবশ্যই ধরে নিবে যে, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের পর্যাপ্ত প্রতিকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে সম্ভব নয় এবং অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চুক্তিভঙ্গের প্রতিকার তেমনভাবে করা যায়।
৭৯.
নিচের কোন ধারার মামলার ক্ষেত্রে সম্পত্তিতে বাদীর স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে না?
  1. ৪২
  2. ৫২
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর ৯ ধারায় দখল পুনরুদ্ধার করতে হলে বাদীকে প্রমাণ করতে হবে নালিশি সম্পত্তি তার দখলে ছিল এবং উক্ত সম্পত্তি হতে তাকে গত ৬ মাসের মধ্যে জোরপূর্বক বা বেআইনিভাবে বেদখল করা হয়েছে।
-এই ধারায় ( স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার মামলায়) স্বত্ব প্রমাণ বা স্বত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করার প্রয়োজন নেই, তথাপিও পক্ষ চাইলে উত্থাপন করতে পারেন।

অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারায় স্বত্বছাড়া শুধু দখল পুনুরুদ্ধারের মামলার ক্ষেত্রে সম্পত্তিতে বাদীর স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে না।
 
ধারাঃ ৯- স্থাবর সম্পত্তির দখল পুরুদ্ধার (স্বত্বছাড়া শুধু দখল পুনুরুদ্ধার/মামলা করার সময়সীমা ৬ মাস)
-------------------------
SR Act- Section-9. Suit by person dispossessed of immoveable property:
If any person is dispossessed without his consent of immoveable property otherwise than in due course of law, he or any person claiming through him may, by suit recover possession thereof, notwithstanding any other title that may be set up in such suit.
 
Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.
No suit under this section shall be brought against the Government.
No appeal shall lie from any order or decree passed in any suit instituted under this section, nor shall any review of any such order or decree be allowed.
৮০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. সরকারি হার অনুসারে
  2. উভয় পক্ষের সম্মতিতে
  3. চুক্তিতে উল্লিখিত হার অনুসারে
  4. আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায়
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার শেষ অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।"
সুতরাং, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি সরকারি হার, পক্ষগুলোর সম্মতি বা চুক্তিতে উল্লিখিত হার দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৯ ধারার বিধান কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
কোন ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন।
- এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা: চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এমন পরিস্থিতি আদালত কর্তৃক এই ধারা অর্পিত এখতিয়ার প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে না।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 19: Power to award compensation in certain cases:
Any person suing for the specific performance of a contract may also ask for compensation for its breach, either in addition to, or in substitution for, such performance.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought not to be granted, but that there is a contract between the parties which has been broken by the defendant and that plaintiff is entitled to compensation for that breach, it shall award him compensation accordingly.
If in any such suit the Court decides that specific performance ought to be granted, but that it is not sufficient to satisfy the justice of the case, and that some compensation for breach of the contract should also be made to the plaintiff, it shall award him such compensation accordingly.
Compensation awarded under this section may be assessed in such manner as the Court may direct.
Explanation - The circumstance that the contract has become incapable of specific performance does not preclude the Court from exercising the jurisdiction conferred by this section.

৮১.
The Specific Relief Act, 1877 এর ৬ ধারায় কোন ধরনের প্রতিকার প্রদান করা হয়?
  1. Mandatory
  2. Preventive
  3. Compensatory
  4. Rescissory
ব্যাখ্যা

The Specific Relief Act, 1877: Section 6. Preventive relief:
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারার বিধান: নিরোধক প্রতিকার:
৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।

৮২.
'ক', 'খ'-কে একটি বাড়ি ক্রয় করার লিখিত চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনে বাধ্য করার জন্যে মামলা দায়ের করল। 'খ' এই কথা প্রমাণ করে যে, সে মনে করছিল যে, চুক্তিতে বাড়ির সংলগ্ন, উঠানের কথাও অন্তর্ভুক্ত আছে এবং চুক্তি এমনভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যে, উঠান চুক্তির অন্তর্ভুক্ত না বহির্ভূত, সে সম্পর্কে সন্দেহ থেকে যায়। এক্ষেত্রে আদালত-
  1. চুক্তি বাতিল করার আদেশ দিবেন
  2. 'খ' কর্তৃক দেখানো যুক্তি অস্বীকার করবেন
  3. পরিবর্তন ব্যতীত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করবেন
  4. পরিবর্তন ব্যতীত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করবেন
ব্যাখ্যা
এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৬ ধারার বিধান অনুযায়ী, আদালত পরিবর্তন ব্যতীত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করবেন।

২৬ ধারার মূল কথা হল,
কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যদি বিবাদী একটি লিখিত চুক্তিতে পরিবর্তন দেখায়, তাহলে বাদী সেই মূল চুক্তির নির্দিষ্ট পালন পাবেন না, তবে বিবাদী প্রদত্ত পরিবর্তনসহ পালন পাবেন। এগুলি হল সেই বিশেষ পরিস্থিতিগুলি:
১. প্রতারণা বা ভুলের কারণে চুক্তির শর্তাবলী বিবাদীর ধারণার চেয়ে আলাদা হলে।
২. প্রতারণা, ভুল বা আকস্মিকতার কারণে বিবাদী চুক্তির প্রভাব সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করলে।
৩. বিবাদী বাদীর মিথ্যা বক্তব্য বা অতিরিক্ত শর্তের উপর নির্ভর করে চুক্তিতে প্রবেশ করলে।
৪. পক্ষদ্বয়ের উদ্দেশ্য এবং চুক্তির মধ্যে বিসংগতি থাকলে।
৫. পক্ষদ্বয় পরবর্তীকালে চুক্তি পরিবর্তন করার সম্মত হলে।

এই ধারা বাদীকে মূল চুক্তি অনুযায়ী নয়, বরং বিবাদী দেখানো পরিবর্তনসহ নির্দিষ্ট পালন দাবি করার সুযোগ দেয়। তাই এক্ষেত্রে, আদালত 'খ' এর পরিবর্তন ব্যতীত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করতে অস্বীকার করবেন।
৮৩.
'The Appointment of Receivers' সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর কত ধারার বিধান?
  1. ৩৫
  2. ৪২
  3. ৪০
  4. ৪৪
ব্যাখ্যা
⇒ আদালত যে ব্যক্তিকে কোন জমি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ভাড়া, লাভ, খাজনা আদায় করার জন্য নিয়োগ দেন তাকে তত্ত্বাবধায়ক বা রিসিভার বলে।
অর্থাৎ রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক হচ্ছে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা যিনি মোকদ্দমা চলাকালীন বিরোধীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধান করেন।
রিসিভার নিয়োগ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বা সুবিবেচনার উপর নির্ভরশীল। মামলা চলাকালীন কিংবা মামলা ডিক্রি হওয়ার পর আদালত রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।
⇒ ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারায় রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কিন্তু কখন কী প্রয়োজনে আদালত রিসিভার নিয়োগ করবেন বা রিসিভারের দায়িত্ব কর্তব্য বা অধিকার কী হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশের ১ থেকে ৫ বিধিতে।
 
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৪ ধারার বিধানতত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ সুবিবেচনামূলক:- প্রক্রিয়াধীন মামলায় তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ আদালতের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন।
দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের রেফারেন্স—তার নিয়োগের ধরন ও ফলাফল এবং তার অধিকার, ক্ষমতা, কর্তব্য এবং দায়দায়িত্ব দেওয়ানি কার্যবিধি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।
--------------------
⇒ SR Act Section-44. Appointment of receivers discretionary. Reference to Code of Civil Procedure.
- The appointment of a receiver pending a suit is a matter resting in the discretion of the Court.
- The mode and effect of his appointment, and his rights, powers, duties and liabilities, are regulated by the Code of Civil Procedure.
৮৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪ অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে প্রতিকার পাওয়া যাবে না?
  1. যখন চুক্তিটি মৌখিক
  2. যখন চুক্তিটি বৈধ নয়
  3. যখন চুক্তিটি নিবন্ধিত নয়
  4. যখন চুক্তিটি দুই পক্ষের সম্মতিতে হয়েছে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: যখন চুক্তিটি বৈধ নয়।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪ স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে যে, যদি কোনো চুক্তি বৈধ না হয়, তবে এ আইনের অধীনে তার জন্য কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, কোনো অবৈধ বা আইনত অকার্যকর চুক্তির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দাবি করা যাবে না।
তবে, বৈধ চুক্তির ক্ষেত্রে এ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের দাবির পাশাপাশি অন্যান্য আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকে।

অন্য অপশন গুলোর বিশ্লেষণ: 
(ক) যখন চুক্তিটি মৌখিক:
→ মৌখিক চুক্তিও আইনত কার্যকর হতে পারে যদি সেটি প্রমাণ করা যায়। তাই শুধুমাত্র মৌখিক হওয়ার কারণে প্রতিকার অযোগ্য হবে না।
(গ) যখন চুক্তিটি নিবন্ধিত নয়:
→ কিছু চুক্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, তবে সকল চুক্তির ক্ষেত্রে নয়। যদি চুক্তির নিবন্ধন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হয় এবং তা নিবন্ধিত না হয়, তবে প্রতিকার পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে নিবন্ধন-অপ্রয়োজনীয় চুক্তির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দাবি করা যেতে পারে।
(ঘ) যখন চুক্তিটি দুই পক্ষের সম্মতিতে হয়েছে:
→ দুই পক্ষের সম্মতিতে সম্পাদিত চুক্তি আইনত কার্যকর হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার পাওয়ার জন্য চুক্তিটির বৈধ হওয়া আবশ্যক। অবৈধ চুক্তি বা আইনবহির্ভূত কোনো সমঝোতা থাকলে এ আইনের অধীনে কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ৪ ধারা এই আইনের প্রয়োগসীমা নির্ধারণ করছে। এর প্রধান বিষয়গুলি হল:
(a) এই আইন যে সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে, চুক্তি ব্যতীত অন্য কোনো সমঝোতা/আইনিদৃষ্টিতে বাধ্যবাধকতা না থাকলে তার বিষয়ে কোনো প্রতিকারের অধিকার প্রদান করবে না।
(b) এই আইন কাউকে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ব্যতীত অন্য কোনো চুক্তিজনিত প্রতিকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না।
(c) এই আইন 1908 সালের রেজিস্ট্রেশন আইন এবং নথিপত্রের উপর তার প্রভাব রাখবে না।

সংক্ষেপে,এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো যে, যদি কোনো চুক্তি বৈধ না হয়, তাহলে এ আইনে তার জন্য কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না।
-তবে, বৈধ চুক্তির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ছাড়াও অন্যান্য প্রতিকার পাওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে এবং রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর বিধানাবলি এ আইনের মাধ্যমে প্রভাবিত হবে না।
-----------
⇒ Section 4- Savings: Except where it is herein otherwise expressly enacted, nothing in this Act shall be deemed-
(a) to give any right to relief in respect of any agreement which is not a contract;
(b) to deprive any person of any right to relief, other than specific performance, which he may have under any contract; or
(c) to affect the operation of the Registration Act, 1908 on documents.

৮৫.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারা অনুসারে আদালত কী খতিয়ে দেখে?
  1. দলিলের ভাষাগত ত্রুটি
  2. দলিলের লেখার ধরন
  3. দলিলের প্রকৃত আইনি পরিণতি
  4. দলিলের ন্যায্যতা ও বৈধতা
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারা অনুসারে, যখন আদালত কোনো লিখিত দলিল সংশোধনের (rectification) বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আদালত শুধু দলিলের ভাষা বা লেখার ধরন বিশ্লেষণ করে না। বরং, আদালত খতিয়ে দেখে—
- দলিলটির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল
- পক্ষগণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী দলিলটির কী আইনি পরিণতি হওয়া উচিত
অর্থাৎ, আদালত শুধু দলিলের শব্দ বা ভাষাগত ত্রুটির দিকে তাকিয়ে থাকে না, বরং দলিল প্রণয়নের সময় পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও এর আইনি প্রভাব যাচাই করে।
- অতএব,  ধারা ৩৩ অনুযায়ী, আদালত দলিলের ভাষাগত গঠন বা লেখার ধরন নয়, বরং এর প্রকৃত আইনি পরিণতি এবং পক্ষগণের উদ্দেশ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৩ ধারার বিধান: সংশোধনের মূলনীতিসমূহ:
- লিখিত দলিল সংশোধন করার সময় আদালত অনুসন্ধান করতে পারেন, কি অর্থ বহন করা দলিলের অভিপ্রেত ছিল এবং চুক্তির বৈধ ফলাফল সম্পর্কে অভিপ্রায় কি ছিল, কেবল মাত্র সে ব্যাপারেই অনুসন্ধান সীমিত থাকবে না।
--------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 33. Principles of rectification:
- In rectifying a written instrument, the Court may inquire what the instrument was intended to mean, and what were intended to be its legal consequences, and is not confined to the inquiry what the language of the instrument was intended to be.
৮৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় ঘোষণার ফলাফল (Effect of Declaration) সম্পর্কিত বিধান আছে?
  1. ৪০ ধারায়
  2. ৪১ ধারায়
  3. ৪২ ধারায়
  4. ৪৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪৩ ধারার বিধান ঘোষণার ফলাফল: এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদত্ত ঘোষণা কেবলমাত্র মামলার পক্ষসমূহ এবং তাদের মাধ্যমে দাবিরত ব্যক্তিদের উপর যেক্ষেত্রে পক্ষসমূহের কোন একটি হচ্ছে জিম্মাদার, সেক্ষেত্রে তেমন ব্যক্তিদের উপর ঘোষণার দিন পর্যন্ত তারা বেঁচে থাকলে তেমন পক্ষসমূহ যাদের জন্য জিম্মাদার হত, অবশ্য পালনীয় হবে।
এই ধারায় বলা হয়েছে, আদালতের ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree) কেবল মামলার পক্ষদের জন্যই বাধ্যতামূলক হবে। অর্থাৎ, যেসব ব্যক্তি মামলা করেছে বা যাদের মাধ্যমে মামলা হয়েছে, শুধুমাত্র তাদের জন্যই এই ঘোষণা কার্যকর হবে।
তবে, যদি কোনো পক্ষ জিম্মাদার (Trustee) হয়, তাহলে তার জন্য ঘোষণাটি কার্যকর হবে তাদের ক্ষেত্রেও, যাদের জন্য সে জিম্মাদার হিসেবে কাজ করছে।
- ঘোষণামূলক ডিক্রি তৃতীয় কোনো পক্ষের ওপর বাধ্যতামূলক নয়, এটি কেবল মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য।
-------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877, Section 43:- Effect of declaration:
- A declaration made under this Chapter is binding only on the parties to the suit, persons claiming through them respectively, and, where any of the parties are trustees, on the persons for whom, if in existence at the date of the declaration, such parties would be trustees.

Illustration:
A, a Hindu, in a suit to which B, his alleged wife, and her mother, are defendants, seeks a declaration that his marriage was duly solemnized and an order for the restitution of his conjugal rights. The Court makes the declaration and order. C, claiming that B is his wife, then sues A for the recovery of B. The declaration made in the former suit is not binding upon C.
৮৭.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (Recovering possession of property) সম্পর্কিত ধারা কোন গুলো?
  1. ধারা ৮-১১
  2. ধারা ১২-১৫
  3. ধারা ২০-২৫
  4. ধারা ৩০-৩৫
ব্যাখ্যা
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিষয়বস্তু (Subject matter of Specific Relief Act):
১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনটি ১০টি অধ্যায়ে (Chapter) বিভক্ত এবং এতে মোট ৫৭টি ধারা (Section) সন্নিবেশিত রয়েছে। 

অধ্যায়সমূহ:
⇒ সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (Recovering possession of property)- ধারা (৮-১১);
⇒ চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন (Specific performance of contract)- ধারা (১২-৩০);
⇒ দলিল সংশোধন (Rectification of Instruments)- ধারা (৩১-৩৪);
⇒ চুক্তি রদ (Rescission of a contract)- ধারা (৩৫-৩৮);
⇒ দলিল বাতিল (Cancellation of instrument)- ধারা (৩৯-৪১);
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree)- ধারা (৪২-৪৩);
⇒ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ (Appointment of receiver)- ধারা ৪৪;
⇒ বিলুপ্ত (Omitted)- ধারা (৪৫-৫১);
⇒ সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞা (Injunction generally)- ধারা (৫২-৫৩);
⇒ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunction)- ধারা (৫৪-৫৭)।
৮৮.
'চ' একটি জমি 'ম' কে বিক্রি করার চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে 'চ' জমির দখল 'ম' কে হস্তান্তর করবে। কিন্তু 'চ' চুক্তি এড়িয়ে যায় এবং জমির দখল দেয় না। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ১৯ ধারায় 'ম' কী প্রতিকার পেতে পারে?
  1. জমির দখল পেতে মামলা করতে পারে
  2. চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে
  3. কোনো প্রতিকার পাবে না
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
• এক্ষেত্রে 'ম' আদালতে মামলা করে জমির দখল পেতে (সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন) এবং চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। আদালত যদি দেখে যে, 'ম' কে জমির দখল দেয়া উচিত কিন্তু শুধু তা ই যথেষ্ট নয়, তবে আদালত 'চ' কে জমির দখল দিতে নির্দেশ দেবে এবং পাশাপাশি চুক্তি ভঙ্গের জন্য 'ম' কে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে।

• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা ১৯- কতিপয় ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরের ক্ষমতা:
কোনো ব্যক্তি যে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করেছে, সে হয় তেমন কাজ সম্পাদনের অতিরিক্ত অথবা তার পরিপূরক হিসেবে চুক্তিভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। যদি তেমন কোন মামলায় আদালত সিদ্ধান্ত করেন যে, সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন মঞ্জুর করা আবশ্যক, কিন্তু মামলার ন্যায়বিচারের জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয় এবং চুক্তিভঙ্গের জন্য বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করাও প্রয়োজন, তা হলে আদালত সে অনুসারে তার জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করবেন। এই ধারা অনুসারে যে ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করা হবে তা আদালত কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় নিরূপণ করা যেতে পারে।

⇒ এই ধারা চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে আদালতের ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করে। এর মূল বিষয়গুলো হল:
১. যদি কোন ব্যক্তি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য মামলা দায়ের করে, সে সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারে।
২. আদালত যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করানো প্রয়োজন কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়, তবে আদালত চুক্তি ভঙ্গের জন্য ক্ষতিপূরণ মঞ্জুর করতে পারে।
৩. আদালত নিজের নির্ধারিত পদ্ধতিতে এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করবে।
৪. যদি চুক্তি কার্যকর করা অসম্ভব হয়ে যায়, তাতে আদালতের এই ক্ষতিপূরণ দেয়ার ক্ষমতা ক্ষুণ্ন হবে না।
৮৯.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫ ধারার মতে কোনটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের একটি উপায়?
  1. আপিল দায়ের
  2. রিসিভার নিয়োগ
  3. ফৌজদারি মামলা দায়ের
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার: কোন প্রার্থীকে প্রতিকার প্রদান করাই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের লক্ষ্য। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার হলো এক ধরনের আইনগত প্রতিকার যা বাদী দেওয়ানী আদালতে প্রার্থনা করে এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫ ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা যায় নিম্নোক্ত উপায়ে:
১) সম্পত্তি প্রত্যর্পণের মাধ্যমে;
২) আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে;
৩) নিষেধমূলক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে;
৪) ঘোষণামূলক ডিক্রির মাধ্যমে;
৫) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
- এখানে "রিসিভার নিয়োগ" একটি বৈধ ও স্বীকৃত উপায়, কিন্তু "আপিল দায়ের" এবং "ফৌজদারি মামলা" সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের আওতাভুক্ত নয়।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৫ ধারা মতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করা হয় ৫ ভাবে যথা-
(ক) সুনির্দিষ্ট সম্পত্তির দখল গ্রহণ এবং তা দাবিদারকে প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) কোন কাজ করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে ঐ কাজ করার আদেশ প্রদানের মাধ্যমে;
(গ) কোন কাজ না করতে বাধ্য এমন কোন পক্ষকে তা করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে;
(ঘ) ক্ষতিপূরণের রোয়েদাদ ব্যতীত পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় এবং ঘোষণার মাধ্যমে; অথবা
(ঙ) রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।
---------
⇒ The Specific Relief Act, 1877- Section: 5. Specific relief how given:
- Specific relief is given-
(a) by taking possession of certain property and delivering it to a claimant;
(b) by ordering a party to do the very act which he is under an obligation to do;
(c) by preventing a party from doing that which he is under an obligation not to do;
(d) by determining and declaring the rights of parties otherwise than by an award of compensation; or
(e) by appointing a receiver.

৯০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা অনুসারে একটি দলিল সংশোধিত হতে পারে শুধুমাত্র-
  1. পক্ষগণ দ্বারা 
  2. সম্পাদনকারীগণ দ্বারা
  3. সত্যায়নকারী সাক্ষী দ্বারা 
  4. আদালত দ্বারা
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ ধারা-
যখন দলিল সংশোধন করা যেতে পারে যখন প্রতারণার মাধ্যমে বা পক্ষগণের পারস্পরিক ভুলের জন্য কোন লিখিত চুক্তি বা অন্য কোন লিখিত দলিল প্রকৃত অর্থে তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করে না, তখন যেকোন পক্ষ অথবা তাদের স্বার্থ- সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি দলিলটি সংশোধিত করে নেওয়ার জন্য মামলা দায়ের করতে পারে;
এবং আদালত যদি এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত দেখতে পান যে, দলিল প্রণয়নের সময় প্রতারণা অথবা ভুল করা হয়েছে এবং তা কার্যকর করবার ক্ষেত্রে পক্ষগণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে যতদূর পর্যন্ত তৃতীয় ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারে হস্তক্ষেপ না করেই করা যায়, ততদূর পর্যন্ত দলিল সংশোধন করতে পারেন - যাতে দলিলের এই উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়।
---------------
Section 31- When instrument may be rectified:
When, through fraud or a mutual mistake of the parties, a contract or other instrument in writing does not truly express their intention, either party, or his representative in interest, may institute a suit to have the instrument rectified; and if the Court find it clearly proved that there has been fraud or mistake in framing the instrument, and ascertain the real intention of the parties in executing the same, the Court may in its discretion rectify the instrument so as to express that intention, so far as this can be done without prejudice to rights acquired by third persons in good faith and for value.

৯১.
'A', 'B' এর সাথে নির্দিষ্ট জমি ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করার চুক্তি করেন। পরে 'A' সেই জমি 'C' এর কাছে ৬,০০০ টাকায় বিক্রি করেন, যে কিনা মূল চুক্তির ব্যাপারে অবগত ছিল। এক্ষেত্রে-
  1. 'B' এর সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল হবে
  2. 'B' চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন দাবি করতে পারে না
  3. 'B', 'C' এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন দাবি করতে পারে
  4. 'C', 'B' এর বিরুদ্ধে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন দাবি করতে পারে
ব্যাখ্যা
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২৭ ধারা- পক্ষগণ ও তাদের নিকট প্রাপ্ত পরবর্তী স্বত্বাধীনে দাবিদার ব্যক্তি এবং পক্ষসমূহের বিরুদ্ধে প্রতিকার:

যদি এই অধ্যায়ে অন্যভাবে বিধিবদ্ধ না থাকে, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন কার্যকরী করা যেতে পারে-
(ক) যেকোন পক্ষের বিরুদ্ধে;

(খ) চুক্তির পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত স্বত্ব দ্বারা তার অধীনে দাবিরত যেকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যদি না সে মূল্যের বিনিময়ে এমন একজন হস্তান্তরগ্রহীতা হয়, যে সরল বিশ্বাসে মূল চুক্তি সম্পর্কে অনবহিত থেকে তার অর্থ প্রদান করেছে; উদহারন-
'A', 'B' এর সাথে নির্দিষ্ট জমি ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করার চুক্তি করেন। পরে 'A' সেই জমি 'C' এর কাছে ৬,০০০ টাকায় বিক্রি করেন, যে কিনা মূল চুক্তির ব্যাপারে অবগত ছিল। B সেই চুক্তির নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন C এর বিরুদ্ধে দাবি করতে পারেন।

(গ) এমন স্বত্বের অধীন দাবিদার ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যা যদিও চুক্তির পূর্ববর্তী ছিল এবং বাদীর জানা ছিল, তবুও তা প্রতিবাদী স্থানচ্যুত করে থাকবে;

(ঘ) যখন পাবলিক কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ হয় এবং তার পর পরই তা অন্য পাবলিক কোম্পানির সথে একত্রিত হয়, তখন একত্রিত হওয়ার ফলে উদ্ভূত নূতন কোম্পানির বিরুদ্ধে;

(ঙ) যখন পাবলিক কোম্পানির উদ্যোক্তা ব্যক্তিরা, কোম্পানি গঠিত হওয়ার পূর্বেই চুক্তি করে, তখন কোম্পানির বিরুদ্ধে; যদি কোম্পানি চুক্তি অনুমোদন ও গ্রহণ করিয়া থাকে এবং কোম্পানি গঠনের শর্ত দ্বারা চুক্তি সমর্থিত হয়ে থাকে।

Section 27: Relief against parties and persons claiming under them by subsequent title- 
Except as otherwise provided by this Chapter, specific performance of a contract may be enforced against- 
(a) either party thereto; 

(b) any other person claiming under him by a title arising subsequently to the contract, except a transferee for value who has paid his money in good faith and without notice of the original contract;

(c) any person claiming under a title which, though prior to the contract and known to the plaintiff, might have been displaced by the defendant; 

(d) when a public company has entered into a contract and subsequently becomes amalgamated with another public company, the new company which arises out of the amalgamation; 

(e) when the promoters of a public company have, before its incorporation, entered into a contract, the company: provided that the company has ratified and adopted the contract and the contract is warranted by the terms of the incorporation.
৯২.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুসারে স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরের শর্ত নয় কোনটি?
  1. চুক্তিটি লিখিত হতে হবে
  2. নিবন্ধন আইন অনসারে নিবন্ধিত হতে হবে
  3. হস্তান্তরগ্রহীতা কর্তৃক সম্পত্তির দখল গ্রহণ
  4. চুক্তির বিনিময় মূল্যের অবশিষ্ট আদালতে জমা প্রদান
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ধারা ২১ক। বিক্রয়ের জন্য অনিবন্ধিত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না।- এই আইন বা আপাতত বলবৎ
অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যাইবে না যদিনা-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর অধীন নিবন্ধিত হয়, হস্তান্তরগ্রহীতা সম্পত্তি বা ইহার অংশ বিশেষের দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তির বিনিময় মূল্যের অবশিষ্ট অংশ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলা দায়ের করিবার সময় আদালতে জমা প্রদান করা হয়।
-------------------------
Unregistered contract, 21A: Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, no contract for sale of any immovable property can be specifically enforced unless-
for sale not specifically enforceable.
(a) the contract is in writing and registered under the Registration Act, 1908, whether or not the transferee has taken possession of the property or any part thereof; and
(b) the balance amount of consideration of the contract is deposited in the court at the time of filing the suit for specific performance of the contract.

৯৩.
নির্দিষ্ট বর্ণনার কিছু সংখ্যক রেলওয়ের শেয়ার A বিক্রয় করতে এবং B ক্রয় করতে চুক্তি করেছে। A বিক্রয় করতে অস্বীকার করে। এই ক্ষেত্রে B এর প্রতিকার হতে পারে-
  1. B শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবে।
  2. B, A-কে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়নে বাধ্য করতে পারে
  3. চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন করা যাবে না
  4. B, A-কে শেয়ার বিক্রয় করতে বাধ্য করতে পারেনা।
ব্যাখ্যা
♦ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ধারা-১২. ব্যাখ্যা গ  অনুযায়ী, এই চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে পালন করতে A কে বাধ্য করতে পারে। কারণ শেয়ারগুলোর সংখ্যা সীমিত এবং সর্বদা মার্কেটে পাওয়া যায় না এবং শেয়ারগুলোর দখল শেয়ারের মালিকানা নির্ধারণ করে যা অন্যকোনভাবে অর্জন করা সম্ভব না।

♦ সুতরাং যেহেতু শেয়ার দুষ্প্রাপ্য প্রকৃতি, তাই এই চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য, যদিও শেয়ার অস্থাবর সম্পত্তি এবং B, A-কে শেয়ার বিক্রয় করতে বাধ্য করতে পারে।
৯৪.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা অনুযায়ী কতটি ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হবে না?
  1. ৯ টি
  2. ১০ টি
  3. ১১ টি
  4. ১২ টি
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারা-তে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোন কোন ক্ষেত্রে আদালত নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করবে না।
- এই ধারা অনুযায়ী ১১টি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হবে না।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৬ ধারায় নিষেধাজ্ঞা না মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে যে ১১টি নির্দিষ্ট অবস্থার উল্লেখ করা হয়েছে, তা হলো:
১. যখন বিচার বিভাগীয় কার্যধারা স্থগিত রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে হবে না।
২. যখন কোনো অধীনস্থ আদালতের কার্যধারা স্থগিত রাখতে হবে না।
৩. যখন কোনো ব্যক্তি আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে চায়।
৪. যখন সরকারের কোনো সরকারি কার্যক্রম বা বিদেশি সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করতে হবে না।
৫. যখন কোনো ফৌজদারি বিষয়ে কার্যধারা স্থগিত রাখতে হবে না।
৬. যখন কোনো চুক্তি ভঙ্গের জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা যাবে না, যদি না সেই চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।
৭. যখন উৎপাত নয় এমন কাজ নিষেধ করতে হবে না।
৮. যখন বাদী সম্মতি দিয়েছে এমন ক্রমাগত লঙ্ঘন নিষেধ করতে হবে না।
৯. যখন জিম্মা ভঙ্গের প্রতিকার অন্য কোনো সাধারণ কার্যধারার মাধ্যমে পাওয়া যায়।
১০. যখন আবেদনকারীর আবেদন এমন যে তাকে আদালতের সাহায্য থেকে বঞ্চিত করবে।
১১. যখন মামলার বিষয়বস্তুতে আবেদনকারীর কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।

⇒ The Specific Relief Act, 1877: Section- 56. Injunction when refused:
An injunction cannot be granted- 
(a) to stay a judicial proceeding pending at the institution of the suit in which the injunction is sought, unless such restraint is necessary to prevent a multiplicity of proceedings; 
(b) to stay proceedings in a Court not subordinate to that from which the injunction is sought; 
(c) to restraint persons from applying to any legislative body; 
(d) to interfere with the public duties of any department of the Government, or with the sovereign acts of Foreign Government; 
(e) to stay proceedings in any criminal matter; 
(f) to prevent the breach of a contract the performance of which would not be specifically enforced; 
(g) to prevent, on the ground of nuisance, an act of which it is not reasonably clear that it will be a nuisance; 
(h) to prevent a continuing breach in which the applicant has acquiesced; 
(i) when equally efficacious relief can certainly be obtained by any other usual mode of proceeding except in case of breach of trust; 
(j) when the conduct of the applicant on his agents has been such as to disentitle him to the assistance of the Court; 
(k) where the applicant has no personal interest in the matter.
৯৫.
The Court's discretion in granting specific performance:
  1. Is absolute and arbitrary
  2. Must always be exercised in favor of the plaintiff
  3. Cannot be reviewed by a Court of appeal
  4. Should be based on sound and reasonable judicial principles
ব্যাখ্যা

Section: 22. Discretion as to decreeing specific performance:
The jurisdiction to decree specific performance is discretionary, and the Court is not bound to grant such relief merely because it is lawful to do so; but the discretion of the Court is not arbitrary but sound and reasonable, guided by judicial principles and capable of correction by a Court of appeal. 

The following are cases in which the Court may properly exercise a discretion not to decree specific performance:- 
I. Where the circumstances under which the contract is made are such as to give the plaintiff an unfair advantage over the defendant, though there may be no fraud or misrepresen-tation on the plaintiff's part.

II. Where the performance of the contract would involve some hardship on the defendant which he did not foresee, whereas its non-performance would involve no such hardship on the plaintiff.

III. Where the plaintiff has done substantial acts or suffered losses in consequence of a contract capable of specific performance.

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী,
সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি প্রদানে এখতিয়ার হচ্ছে বিবেচনামূলক এবং কেবলমাত্র তা করা আইনসম্মত, এ কারণেই আদালত এমন প্রতিকার মঞ্জুর করতে বাধ্য না। আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা স্বেচ্ছাধীন হবেনা বরং নিখুঁত এবং যুক্তিযুক্ত, বিচার বিভাগীয় নীতি দ্বারা নিযন্ত্রিত এবং আপিল আদালত কর্তৃক সংশোধনযোগ্য হতে হবে। ২২ ধারায় ২টি ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে পারে। ১টি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের ডিক্রি দিতে যথাযথভাবে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
নিম্নলিখিত ২টি ক্ষেত্রে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ [solatium] প্রদান করতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-

i. বিবাদির প্রতি বাদীর অন্যায় সুবিধা আছে;
যেখানে এমন পরিস্থিতিতে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে যে, তা বাদীকে বিবাদির উপর একটি অন্যায় সুবিধা প্রদান করছে, যদিও সেখানে বাদীর পক্ষ হতে কোন জালিয়াতি বা ভুল বিবরণ নাও থাকতে পারে।

ii. বিবাদির প্রতি কঠোরতা;
যেখানে চুক্তির কাজ সম্পাদন বিবাদীকে কোন কঠোরতায় বা কষ্টে জড়িয়ে ফেলবে যা বিবাদী বুঝতে পারেনা, অপরদিকে উহা না করলে বাদীকে এমন ধরণের কোন কঠোরতায় জড়াবে না। এই দুটি ক্ষেত্রে আদালত চুক্তির সুনির্দিষ্ট বলবৎকরণের ডিক্রি না দিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
৯৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কত ধারায় পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান নিয়ে বলা হয়েছে? 
  1. ৩১ ধারা 
  2. ৩২ ধারা
  3. ৩৩ ধারা
  4. ৩৪ ধারা
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৩২ ধারা- পক্ষসমূহের অভিপ্রায় সম্পর্কে অনুমান:
একটি লিখিত চুক্তি সংশোধনের উদ্দেশ্যে, আদালতকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে সকল পক্ষই একটি ন্যায়সঙ্গত এবং বিবেকসম্মত চুক্তি করার উদ্দেশ্য নিয়েছিল।
--------------
Section 32- Presumption as to intent of parties-
For the purpose of rectifying a contract in writing, the Court must be satisfied that all the parties thereto intended to make an equitable and conscientious agreement.

৯৭.
কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে কোন ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকৃত হলে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারার প্রতিকার পাওয়া সম্ভব?
  1. ৯ ধারা
  2. ৫৪ ধারা
  3. ৩২ ধারা
  4. ৪২ ধারা
ব্যাখ্যা
♦আইনসংগত পরিচয়, পদ, অবস্থান বা সম্পত্তিতে স্বত্ত্বের অধিকা অন্য কেউ অস্বীকার করলে ৪২ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যায়। ঠিক এ কারণেই ৪২ ধারা ঘোষণামূলক মোকদ্দমার ধারা নামে পরিচিত। 
♦ঘোষণামূলক মোকদ্দমা। 'কোনো ব্যক্তির আইনগত পদ/পরিচিতি [Legal Characterj বা সম্পত্তিতে স্বত্ত্বের অধিকার Right to Property) প্রার্থনা করে যে মোকদ্দমা দায়ের করা হয় তাকেই ঘোষণামূলক মোকদ্দমা (Declaratory Suit] বলে”। 
♦ ঘোষণামূলক ডিক্রি: ঘোষণামূলক মোকদ্দমায় আদালত বিবেচনামূলক ক্ষমতাবলে যে ডিক্রি দেয় তাকেই ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree ] বলে।
বিষয়বস্তু/কারণ: ২টি; ১, আইনগত পরিচয় নির্ধারণ করা। ২. সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
♦ মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন:
১. যে আইনগত পরিচয়ের অধিকারী।
২. সম্পত্তিতে স্বত্বের একচ্ছত্র দখলের অধিকারী।
৩. যার পদ, পরিচয় বা অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকার করতে আগ্রহী হয়েছে।
♦মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যায়।  
♦আনুষাঙ্গিক প্রতিকার মূল মোকদ্দমার সাথে চাইতে হয়, চাইলে পাবে, না চাইলে পাবে না। মনে রাখবেন, আনুষাঙ্গিক প্রতিকার দাবি করার থাকলে তা দাবি করা বাদীর জন্য বাধ্যতামূলক।   ঘোষণামূলক ডিক্রি বলবৎ করার জন্য জারি মামলা করার প্রয়োজন নেই। ঘোষণামূলক ডিক্রি অবমাননার জন্য অবমাননার মামলা করার দরকার নেই ।
৯৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে 'What instruments may be partially cancelled' এর বিধান কত ধারায় আছে?
  1. ৩৭ ধারায়
  2. ৪১ ধারায়
  3. ৩১ ধারায়
  4. ৪০ ধারায়
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী কোন দলিল যদি বিভিন্ন অধিকার/বাধ্যবাধকতার সাক্ষী হয় তাহলে আদালত সংশ্লিষ্ট মামলায় তা আংশিক ভাবে বিলোপ করতে পারেন এবং বাকী অংশ বহাল রাখতে পারেন।
-----------------
SR Act Section-40. What instruments may be partially cancelled:
Where an instrument is evidence of different rights or different obligations, the Court may, in a proper case, cancel it in part and allow it to stand for the residue.

Illustration
A draws a bill on B, who endorses it to C, by whom it appears to be endorsed to D, who endorses it to E. C's endorsement is forged. C is entitled to have such endorsement cancelled, leaving the bill to stand in other respects.
৯৯.
যদি একজন ব্যক্তি তার সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি করেন এবং চুক্তির পরদিন সেটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে:
  1. চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে
  2. ক্রেতা সম্পত্তির মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হবে
  3. বিক্রেতা চুক্তি পালনের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হবে
  4. সম্পত্তি পুনঃনির্মাণ না করা পর্যন্ত চুক্তি কার্যকর হবে না
ব্যাখ্যা
Section 13- Contract of which the subject has partially ceased to exist:
Notwithstanding anything contained in section 56 of the Contract Act, a contract is not wholly impossible of performance because a portion of its subject-matter, existing at its date, has ceased to exist at the time of the performance.
[চুক্তি আইনের ৫৬ ধারার কোন বিধান সত্ত্বেও চুক্তি সম্পাদনের সময় অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদনের সময় আংশিকভাবে বিলুপ্ত হবার কারণে চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পাদন পুরোপুরি অসম্ভব নয়।]

Illustrations:
(a) A contracts to sell a house to B for a lakh of taka. The day after the contract is made the house is destroyed by a cyclone. B may be compelled to perform his part of the contract by paying the purchase-money.
(ক) 'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন ঘূর্ণিঝড়ে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেল। এখন ক্রয়মূল্য প্রদানের মাধ্যমে 'খ'-কে চুক্তিতে তার অংশের কাজ সম্পাদনে বাধ্য করা যেতে পারে।

(b) In consideration of a sum of money payable by B, A contracts to grant an annuity to B for B's life. The day after the contract has been made, B is thrown from his horse and killed. B's representative may be compelled to pay the purchase-money.
(খ) 'ক', 'খ'-এর নিকট একটি বাড়ি এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করতে চুক্তিবদ্ধ হল। চুক্তি সম্পন্ন করার পরদিন 'খ' ঘোড়ার পিঠ হতে পড়ে মারা গেল। এখন 'খ'-এর প্রতিনিধিকে উক্ত অর্থ পরিশোধে বাধ্য করা যেতে পারে।
১০০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪ ধারায় কোন আইনকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে?
  1. The Contract Act, 1872
  2. The Code of Civil Procedure, 1908
  3. The Limitation Act, 1908
  4. The Registration Act, 1908
ব্যাখ্যা
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ৪ ধারা এই আইনের প্রয়োগসীমা নির্ধারণ করছে। এর প্রধান বিষয়গুলি হল:
(a) এই আইন যে সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় তা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলে, চুক্তি ব্যতীত অন্য কোনো সমঝোতা/আইনিদৃষ্টিতে বাধ্যবাধকতা না থাকলে তার বিষয়ে কোনো প্রতিকারের অধিকার প্রদান করবে না।
(b) এই আইন কাউকে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন ব্যতীত অন্য কোনো চুক্তিজনিত প্রতিকারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে না।
(c) এই আইন 1908 সালের রেজিস্ট্রেশন আইন এবং নথিপত্রের উপর তার প্রভাব রাখবে না।
 
সংক্ষেপে,এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো যে, যদি কোনো চুক্তি বৈধ না হয়, তাহলে এ আইনে তার জন্য কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে না।
-তবে, বৈধ চুক্তির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ছাড়াও অন্যান্য প্রতিকার পাওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে এবং রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর বিধানাবলী এ আইনের মাধ্যমে প্রভাবিত হবে না।
-----------
⇒ Section 4- Savings: Except where it is herein otherwise expressly enacted, nothing in this Act shall be deemed-
(a) to give any right to relief in respect of any agreement which is not a contract;
(b) to deprive any person of any right to relief, other than specific performance, which he may have under any contract; or
(c) to affect the operation of the Registration Act, 1908 on documents.