বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মোট প্রশ্ন৪১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৪১৩

১০১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
- মাইকেল মধুসূদন দত্তকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০২.
বাংলা সাহিত্যে চতুর্দশপদী কবিতার প্রবর্তক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
চতুর্দশপদী কবিতাবলী:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী'। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে। 
- ইতালীয় কবি পেত্রার্ক ও শেক্সপিয়ারের অনুকরণে এসব সনেট রচনা করেন 'মাইকেল মধুসূদন দত্ত'। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- বাংলা সাহিত্য চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটের প্রবর্তক - মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা যার প্রথম উদ্ভব হয় মধ্যযুগে ইতালিতে। 
- চতুর্দশপদীর বৈশিষ্ট হল যে, এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে। 
- এর প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক এবং পরবর্তী ছয় চরণের স্তবককে ষষ্টক বলে। 
- অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তন এবং ষষ্টকে ভাবের পরিণতি থাকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
১০৩.
'দি অ্যাংলো-স্যাক্সন অ্যান্ড দ্য হিন্দু' প্রবন্ধের রচয়িতা -
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মহাকবি, নাট্যকার, মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার জনক ও পথ নির্মাতা।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শৈশবে মা জাহ্নবী দেবীর কাছে শিক্ষার শুরু; রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন মায়ের মাধ্যমেই।
- ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- মাইকেল রচিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ১২টি গ্রন্থ এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ৫টি গ্রন্থ রয়েছে।
- ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক মৌলিক নাটক।
- হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।
- তাঁর শেষ রচনা মায়াকানন নাটক।

প্রহসন: 
- ১৮৬০ সালে মাইকেল রচনা করেন একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ নামে দুটি প্রহসন।
- একেই কি বলে সভ্যতা এর বিষয় ছিল ইংরেজি শিক্ষিত নব্য বাবু সম্প্রদায়ের উচ্ছৃঙ্খলতা।
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ এর বিষয় ছিল সনাতনপন্থী সমাজপতিদের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন।

♦ প্রবন্ধ সাহিত্য:
- দি অ্যাংলো-স্যাক্সন অ্যান্ড দ্য হিন্দু।

তথ্যসূত্র -
১..বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. জনকণ্ঠ।
৪. বাংলাপিডিয়া।
১০৪.
রোমান 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'বীরাঙ্গনা কাব্য':
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।

- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে। বীরাঙ্গনা (১৮৬২) পত্রকাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে। এখানে জনা, কৈকেয়ী, তারা প্রমুখ পৌরাণিক নারী তাদের স্বামী বা প্রেমিকদের নিকট নিজেদের কামনা-বাসনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা নির্ভীকচিত্তে প্রকাশ করে। নারীচরিত্রে এরূপ দৃঢ়তার প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে আর কারও রচনায় প্রত্যক্ষ করা যায় না।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী। 

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

১০৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য কোনটি?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. মেঘনাদবধ
  3. তিলোত্তমাসম্ভব
  4. বীরাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

• ‘ব্রজাঙ্গনা’ গীতিকাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'।
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড জাতীয় গীতি কবিতা। 
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'।
- 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা )।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণের' কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দের কাহিনির অবলম্বনে রচিত। সৌন্দর্য‍্যের প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে
সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে রচিত 'বীরাঙ্গনা কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। এ কাব্যে পত্রের সংখ্যা মোট ১১ টি।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০৬.
‘আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে?’- এখানে রাঘব বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
  1. ইন্দ্রজিৎ কে
  2. রাবনকে
  3. রামকে
  4. বিভীষণকে
সঠিক উত্তর:
রামকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামকে
ব্যাখ্যা

আমি কি ডরাই সখি ভিখারী রাঘবে? এখানে রাঘব বলতে রামকে বোঝানো হয়েছে ।
উক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মেঘনাদবধ (১৮৬১) কাব্যের অন্তর্গত ।

বাংলা সাহিত্যের সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য এটি |
অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত কাব্যের সর্গ সংখ্যা ৯ ।
এই মহাকাব্যের কাহিনীর উৎস সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ ।
প্রধান চরিত্র: মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ), প্রমিলা, রাবণ, বিভীষণ ইত্যাদি ।

- অরিন্দম বলতে রাবণ পুত্র ইন্দ্রজিৎ কে বোঝায় ।
- যুদ্ধের সময় পশ্চিম দুয়ারে রক্ষক হিসেবে ছিলেন দাশরথি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

১০৭.
'নীল-দর্পণ' নাটকের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৬০
  2. খ) ১৮৬১
  3. গ) ১৮৬২
  4. ঘ) ১৮৬৩
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮৬১
ব্যাখ্যা
নীল-দর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror'।
- অনুবাদটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে এই অনুবাদ করেন। 

- দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০৮.
মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচিত নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. পদ্মাবতী
  3. মায়াকানন
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে 'শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়। মধুসূদন পরে 'শর্মিষ্ঠা'র ইংরেজি অনুবাদও করেন। 

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- যযাতি,
- দেবযানী,
- শর্মিষ্ঠা,
- মাধব্য,
- পূর্ণিমা,
- রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

------------
• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন ছদ্মনামে 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন?
  1. টিমোথি পেনপয়েম
  2. গৌড়তটবাসী মশা
  3. দত্তকুলোদ্ভব কবি
  4. এ নেটিভ
সঠিক উত্তর:
এ নেটিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ নেটিভ
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত' A Native' ছদ্মনামে 'নীলদর্পণ' নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861)

--------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি ও নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক তিনি।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)। 
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত। মাদ্রাজে অবস্থানকালেই Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

অন্যদিকে,
• 'গৌড়তটবাসী মশা' হলো বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন-এর একটি সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১০.
‘পদ্মাবতী’ নাটকটি কোন গল্প অবলম্বনে রচনা করা হয়েছে?
  1. Arnals and Anliquities
  2. Apple of Discords
  3. পাদুমাবত
  4. Paradise Lost
সঠিক উত্তর:
Apple of Discords
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Apple of Discords
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত,(১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- তিনি কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের বেলগাছিয়া থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। এমন একটি পরিস্থিতিতে নাট্যকার হিসেবেই মধুসূদনের বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে পদার্পণ ঘটে। তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

 তার রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯) -পৌরাণিক নাটক।
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০) - প্রহসন।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) - প্রহসন।
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০) - পৌরাণিক নাটক

১৮৬০ সালেই মধুসূদন রচনা করেন পদ্মাবতী নাটকটি।
- এই নাটকের ভিত্তি পুরোপুরি ভারতীয় পুরাণ নয়। গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অফ ডিসকর্ড’ গল্পটি ভারতীয় পুরাণের মোড়কে পরিবেশন করেছেন মধুসূদন। গ্রিক পুরাণের জুনো, প্যালাস ও ভেনাস এই নাটকে হয়েছেন শচী, মুরজা ও রতি। হেলেন ও প্যারিস হয়েছেন পদ্মাবতী ও ইন্দ্রনীল। তিন দেবীর মধ্যে রতিকে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী নির্বাচিত করলে অন্য দুই দেবী ইন্দ্রনীলের প্রতি রুষ্টা হন এবং ইন্দ্রনীলের জীবনে বিপর্যয় নামিয়ে আনেন। শেষে রতি ও ভগবতীর চেষ্টায় ইন্দ্রনীল উদ্ধার পান এবং বিচ্ছিন্না স্ত্রী পদ্মাবতীর সঙ্গে তার মিলন ঘটে। মূল গ্রিক উপাখ্যানটি বিয়োগান্তক হলেও, মাইকেল এই নাটকটিকে ইংরেজি ট্র্যাজি-কমেডির ধাঁচে করেছেন মিলনান্তক। এই নাটকে সংস্কৃত নাট্যরীতির প্রভাব অল্পই। প্লট-নির্মাণ, নাটকীয় দ্বন্দ্ব উপস্থাপনা ও চরিত্র চিত্রণে মাইকেল এখানে আগের থেকে পরিণত হয়েছেন।

কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১) - প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক, ঐতিহাসিক নাটক।
মায়া-কানন (১৮৭৪) - নাটকটি তিনি শেষ করতে পারেন নি।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জুন আলিপুর জেনারেল হাসপাতালে কপর্দকহীন (অর্থাভাবে) অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে কলকাতার সার্কুলার রোডে সমাধি দেওয়া হয়।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া

১১১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. ভদ্রার্জুন 
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. পদ্মবতী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

• কৃষ্ণকুমারী: 
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক রচনা করেন। 

• এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।

- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত চরিত্রকে হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করেন ।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

• তাঁর অন্যান্য কাব্য:

→ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
→ বীরাঙ্গনা কাব্য,
→ ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
→ চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ শর্মিষ্ঠা,
→ পদ্মাবতী; 

• তাঁর রচিত প্রহসন:
→ একেই কি বলে সভ্যতা ও
→ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১২.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘পদ্মাবতী’ নাটকটি কোন ছন্দে রচিত ?
  1. ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  2. খ) মাত্রবৃত্ত ছন্দে
  3. গ) স্বরবৃত্ত ছন্দে
  4. ঘ) অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
সঠিক উত্তর:
ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অমিত্রাক্ষর ছন্দে
ব্যাখ্যা
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, (১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মধুসূদনের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি যাকিছু রচনা করেছেন তাতেই নতুনত্ব এনেছেন। তিনিই প্রথম পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ বাংলা সাহিত্যে সার্থকভাবে প্রয়োগ করেন।
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক। এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
প্রহসন
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

নাটক
- পদ্মাবতী
- কৃষ্ণকুমারী

কাব্য
-মেঘনাদবধ
- বীরঙ্গনা
- তিলোত্তমাসম্ভব

উৎস: বংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।
১১৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের শেষ রচনা কোনটি?
  1. হেক্টরবধ
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. মায়াকানন
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের সর্বশেষ রচনা - 'মায়াকানন'।
- এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী, 
- মায়া-কানন। 

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ ।

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১৪.
মধুসূদন দত্ত পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রথম ব্যবহার করেন কোন গ্রন্থে?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. পদ্মাবতী
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. হেক্টরবধ
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসুদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন 'পদ্মাবতী' নাটক।

- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।

- 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

• পরের বছর ১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনি নিয়ে একই ছন্দে তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'। এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য। এই কাব্যের মাধ্যমেই তিনি মহাকবির মর্যাদা লাভ করেন এবং তাঁর নব আবিষ্কৃত অমিত্রাক্ষর ছন্দও বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

• হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।

উৎস: 'পদ্মাবতী' নাটক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'র উৎস কি?
  1. ভাগবত
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. মহাভারত
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১৬.
"নৈবদ্য, কৌষিক বস্ত্র আদি বলি যত,
অবহেলা করে দেব, দাতা যে যদ্যপি
অসৎ! এ সার কথা কহিনু তোমারে!"
- কার রচিত পংক্তি?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে উল্লিখিত কবিতার অংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে।
- উল্লেখ্য, এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
১১৭.
কোনটি মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য?
  1. মেঘনাদবধ
  2. ব্রজাঙ্গনা
  3. তিলোত্তমাসম্ভব
  4. বীরাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে 'মিলন' খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি। কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'।'
- রাধা' সম্পর্কে মধুসুধন বলেছেন 'Poor Old Mrs. Radha of Braja' (ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত। সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- - রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরণে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ এর উৎস কোনটি?
  1. কুমারসম্ভব
  2. ভাগবত
  3. মহাভারত
  4. রামায়ণ
সঠিক উত্তর:
মহাভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাভারত
ব্যাখ্যা
তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য। 
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য। 
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১৯.
কপোতাক্ষ নদ- কবিতায় "সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে" এ পঙ্‌ক্তিটির মধ্যে কোন ভাবটি ফুটে উঠেছে?
  1. ভ্রান্তির ছলনা
  2. স্মৃতিকাতরতা
  3. মায়ের স্লেহডোর
  4. স্বদেশপ্রেম
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকাতরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকাতরতা
ব্যাখ্যা

• 'কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্য গ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন।
-‘কপোতাক্ষ নদ’ এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা, এই স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশপ্রেমের সঙ্গে যুক্ত।

- ফ্রান্সে বসে দেশের নদী কপোতাক্ষের কথা কবির মনে পড়ে। বহু দেশের বিচিত্র নদী কবি দেখেছেন। কিন্তু ওই নদীর তুলনা আর কোথাও পাননি। 

- এ কবিতায় কবির শৈশবে দেখা কপোতাক্ষ নদের প্রতি ভালোবাসার অন্তরালে স্বদেশপ্রেমের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। সাময়িক মোহে পাশ্চাত্য সাহিত্যে আত্মপ্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে প্রবাস জীবনে স্বদেশের প্রতি অনুরাগের স্বরূপ তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বর্ণনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কবির আকূল আকুতি কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁর স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর নিকট ব্যক্ত করে।

কপোতাক্ষ নদ- কবিতা,
মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। (সংক্ষেপিত)। 
-------------------

• সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে- লাইনটিতে, 
এটি স্পষ্টভাবে স্মৃতিকাতরতা প্রকাশ করে — অর্থাৎ অতীতের স্মৃতিতে বিহ্বল হয়ে ওঠা, বারবার মনে পড়া, আকুলতা ও বেদনার সঙ্গে স্মৃতির পুনরাবৃত্তি।

উল্লেখ্য,
ঘ) স্বদেশপ্রেম → কবিতার সামগ্রিক ভাবে স্বদেশপ্রেম আছে ঠিকই, কিন্তু এই নির্দিষ্ট পঙক্তিটিতে প্রধানত স্মৃতিকাতরতা ফুটে উঠেছে।

সুতরাং এই পঙ্‌ক্তিতে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: স্মৃতিকাতরতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২০.
বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক কমেডি নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. পদ্মাবতী
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. মায়াকানন
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

 
'পদ্মাবতী' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি ধাচের নাটক 'পদ্মাবতী'।
- এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। এটি  ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী, ইন্দ্রনীল, শচী, মুরজা, রতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১২১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. ব্রজঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. মহাশ্মশান
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১২২.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সর্বশেষ নাটক কোনটি? 
  1. রাবণবধ
  2. পদ্মাবতী
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. মায়াকানন
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
ব্যাখ্যা
- 'মায়াকানন' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সর্বশেষ নাটক। 
- এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। 
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে। 
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত। 

তাঁর রচিত কাব্য: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা কাব্য, 
- হেক্টরবধ কাব্য এবং 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

তাঁর রচিত নাটক: 
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী এবং 
- মায়াকানন। 

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা এবং 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

অন্যদিকে, 
• 'রাবণবধ' গিরিশচন্দ্র ঘোষের পৌরাণিক নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচনা কোনটি?
  1. ক) রাজমোহনস ওয়াইফ
  2. খ) দ্য ওয়াস্‌ট ল্যান্ড
  3. গ) ক্যাপটিভ লেডী
  4. ঘ) ল্যাবরেটরী
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপটিভ লেডী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপটিভ লেডী
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত। বাংলায় রচিত মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমা সম্ভব।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
১২৪.
কোনটি পত্রকাব্য?
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
'বীরাঙ্গনা কাব্য':
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এতে পত্র সংখ্যা ১১ টি।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরণে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।

অন্যদিকে,
- 'ব্রজাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত গীতিকাব্য।
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে কী নামে পরিচিত?
  1. সনেটের কবি
  2. ছন্দকবি
  3. মধুকবি
  4. ট্র্যাজেডি কবি
সঠিক উত্তর:
মধুকবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুকবি
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি। তিনি তাঁর কাব্যের বিষয় সংগ্রহ করেছিলেন প্রধানত সংস্কৃত কাব্য থেকে, কিন্তু পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ অনুযায়ী সমকালীন ইংরেজি শিক্ষিত বাঙালির জীবনদর্শন ও রুচির উপযোগী করে তিনি তা কাব্যে রূপায়িত করেন এবং তার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

• উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদন তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভার দ্বারা বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি আবিষ্কার করে এই ভাষা ও সাহিত্যের যে উৎকর্ষ সাধন করেন, এরফলেই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২৬.
বাংলা ভাষায় প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য কোনটি?
  1. মহাশ্মশান
  2. অশ্রুমালা
  3. মহাভারত
  4. মেঘনাদবধ
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• মহাশ্মশান কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
• অশ্রুমালা কায়কোবাদ রচিত গীতিকাব্য।
• মহাভারত মহাকবি বেদব্যাস রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য। 

---------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্যে' কবির কোন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে?
  1. Timothy Penpoem
  2. এ নেটিভ
  3. Captive Ladie
  4. দত্তকুলোদ্ভব কবি
সঠিক উত্তর:
দত্তকুলোদ্ভব কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দত্তকুলোদ্ভব কবি
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।

• কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখরে এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৮.
‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকের অন্তর্গত চরিত্র কোনটি?
  1. দেবযানী
  2. ধনদাস
  3. বিভীষণ
  4. প্রমীলা
সঠিক উত্তর:
ধনদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনদাস
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।
• ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৯.
বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত :
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষরে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো ”তিলোত্তমাসম্ভব” কাব্য।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩০.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. সধবার একাদশী
  4. এর উপায় কি?
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• 'একেই কি বলে সভ্যতা':
- প্রহসনে তৎকালীন নব্যবঙ্গীয় সম্প্রদায়ের সুরাপান এবং ইংরেজ অনুকরণের প্রতি ব্যঙ্গ করা হয়েছে।
- বেলগাছিয়া নাট্যশালায় অভিনয়ের জন্য মধুসূদন যে দুটো প্রহসন রচনা করেন ‘একেই কি বলে সভ্যতা' তার একটি।
- প্রকাশিত হয়েছে ১৮৬০ সালে।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র - 
- নবকুমার,
- কালীনাথ,
- তীয় বাবাজী,
- নিতম্বিনী,
- কর্তামশাই,
- প্রসন্নময়ী,
- পয়োধরী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- এর উপায় কি? প্রহসনটি মীর মশাররফ হোসেন রচনা করেন।
- “বিয়ে পাগলা বুড়ো”, “সধবার একাদশী” প্রহসনটির রচয়িতা- দীনবন্ধু মিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৩১.
"কপোতাক্ষ নদ" মধুসূদন দত্তের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
• "কপোতাক্ষ নদ" কবিতা:
- বাংলা কাব্য-সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' নামক সনেট কাব্য থেকে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি সঙ্কলিত হয়েছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।

- ফ্রান্সে বসে দেশের নদী কপোতাক্ষের কথা কবির মনে পড়ে। বহু দেশের বিচিত্র নদী কবি দেখেছেন। কিন্তু ওই নদীর তুলনা আর কোথাও পাননি। 

- এ কবিতায় কবির শৈশবে দেখা কপোতাক্ষ নদের প্রতি ভালোবাসার অন্তরালে স্বদেশপ্রেমের বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। সাময়িক মোহে পাশ্চাত্য সাহিত্যে আত্মপ্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে প্রবাস জীবনে স্বদেশের প্রতি অনুরাগের স্বরূপ তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বর্ণনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কবির আকূল আকুতি কপোতাক্ষ নদ যেন তাঁর স্বদেশের প্রতি হৃদয়ের কাতরতা বঙ্গবাসীর নিকট ব্যক্ত করে।

কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো:

কপোতাক্ষ নদ
-মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে!
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে;
সতত (যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!

উৎস: বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩২.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘পদ্মাবতী’ নাটকটি কোন কাহিনী অবলম্বনে রচনা করেন?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মহাভারত
  3. গ) গ্রিক পুরাণ
  4. ঘ) রোমান কাব্য
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিক পুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিক পুরাণ
ব্যাখ্যা

১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘পদ্মাবতী’ নাটকটি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন। 
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন । 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]

১৩৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৮৪৩
  2. ১৮৫০
  3. ১৮৪৯
  4. ১৮৫২
সঠিক উত্তর:
১৮৪৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৪৯
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ:
প্রথম কাব্যগ্রন্থ — দ্য ক্যাপটিভ লেডি।
- এটি ইংরেজিতে রচিত।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ খ্রষ্টাব্দে। 
- Captive অর্থ বন্দি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৪.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের দেশপ্রেমের প্রবল প্রকাশ ঘটেছে কোন রচনার মধ্যে?
  1. উপন্যাসে
  2. নাটকে
  3. সনেটে
  4. পত্রকাব্যে
সঠিক উত্তর:
সনেটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেটে
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের দেশপ্রেমের প্রবল প্রকাশ ঘটেছে তার সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতাবলিতে বিশেষ করে 'বঙ্গভাষা', 'কপোতাক্ষ নদ' প্রভৃতি কবিতায় তাঁর দেশপ্রেম প্রবলভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

--------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক। তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তিত অমিত্রাক্ষর ছন্দ বাংলা কোন ছন্দের নব-রূপ?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. বর্ণবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।
- 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ' প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।

অক্ষরবৃত্ত:
- উৎপত্তির বিচারে যে ছন্দটিকে খাঁটি বাংলা অর্থাৎ 'তদ্ভব ছন্দ' নামে আখ্যায়িত করা হয়, তাকেই প্রচলিত ভাষায় বলা হয় অক্ষরবৃত্ত ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যের প্রধান ছন্দ।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে তানপ্রধান ছন্দও বলে।
- পয়ার হচ্ছে অক্ষরবৃত্ত ছন্দের ৮/৬ মাত্রার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি শ্রেণিবিভাগ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ; বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৬.
‘একেই কি বলে সভ্যতা’ — এটি কোন ধরণের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রহসন 
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ 
সঠিক উত্তর:
প্রহসন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রহসন 
ব্যাখ্যা

• ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রহসন।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩৭.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম প্রহসন রচয়িতা
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৩৮.
মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) নীলদর্পণ
  3. গ) বসন্তকুমারী
  4. ঘ) শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• মধুসূদন ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি।  উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদন তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভার দ্বারা বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি আবিষ্কার করে এই ভাষা ও সাহিত্যের যে উৎকর্ষ সাধন করেন, এরফলেই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

• পরের বছর মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
নাটক
- পদ্মাবতী
- কৃষ্ণকুমারী

কাব্য
-মেঘনাদবধ
- বীরঙ্গনা
- তিলোত্তমাসম্ভব

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।
১৩৯.
"ভক্তপ্রসাদ বাবু" চরিত্রটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ভক্তপ্রসাদ বাবু,
- পঞ্চানন বাচস্পতি,
- গদাধর,
- পুঁটি,
- ফতেমা প্রমুখ।

তাঁর রচিত অন্যান্য প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪০.
”অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” এই উক্তিটি কোন বিখ্যাত লেখকের?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

⇒ ”অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” উক্তিটি  মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শর্মিষ্ঠা নাটকের  প্রথম সংস্করণের পুস্তকের প্রারম্ভে এই অংশ প্রস্তাবনা ছিল।

’শর্মিষ্ঠা’

- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত নাটক :
- পদ্মবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,

উৎস:
i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
ii) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
iii) শর্মিষ্ঠা নাটক।

১৪১.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের কোন গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব
  2. ব্রজাঙ্গনা
  3. হেক্টরবধ
  4. মেঘনাদবধ
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ
ব্যাখ্যা
• 'হেক্টরবধ' গ্রন্থ:
- হেক্টরবধ (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা। গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল।

--------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

•  'হেক্টরবধ' গদ্যে রচিত অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটকের লেখক কে?
  1. মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন 
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শর্মিষ্ঠা। 
----------------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।
------------------------------ 
- 'শর্মিষ্ঠা' নাটক নিয়ে কিছু কথা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘শর্মিষ্ঠা’ (১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক। এটি মহাভারতের রাজা যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার ত্রিকোণ প্রেম কাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত। নাটকে দৈত্যরাজ কন্যা শর্মিষ্ঠা ও দৈত্যগুরু কন্যা দেবযানীর মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব থাকলেও যযাতিকে ঘিরে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও বিবাদের সৃষ্টি হয়। রাজা যযাতি দেবযানীকে বিয়ে করার পর শর্মিষ্ঠাকে নিজ দাসী হিসেবে নিয়ে আসে, পরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা নাটকের প্রধান দ্বন্দ্ব। শেষপর্যন্ত শুক্রাচার্যের মধ্যস্থতা এবং দেবযানীর ক্ষমার মাধ্যমে শর্মিষ্ঠা দাসী থেকে যযাতির দ্বিতীয় পত্নীর মর্যাদা পায়, এবং নাটকটি শুভ সমাপ্তি ঘটে। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৪৩.
মেঘনাদবধ কাব্যের মোট কয়টি সর্গ রয়েছে?
  1. ৫ টি
  2. ৯ টি
  3. ১১ টি
  4. ১৩ টি
সঠিক উত্তর:
৯ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ টি
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- এটি সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- ১৮৬১ সালে 'মেঘনাদবধ কাব্য' প্রকাশিত হয়।
- নয়(৯) সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।

• মেঘনাদবধ কাব্যে ৯টি সর্গ রয়েছে।
এগুলো হলো:
- প্রথম সর্গ: অভিষেক।
- দ্বিতীয় সর্গ: অস্ত্রলাভ।
- তৃতীয় সর্গ: সমাগম।
- চতুর্থ সর্গ: অশোক বন।
- পঞ্চম সর্গ: উদ্যোগ।
- ষষ্ঠ সর্গ: বধ।
- সপ্তম সর্গ: শক্তিনির্ভেদ।
- অষ্টম সর্গ: প্রেতপুরী।
- নবম সর্গ: সংস্ক্রিয়া।

• কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৪.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. যুবনাশ্ব
  2. চিত্রগুপ্ত
  3. এ নেটিভ
  4. পরশুরাম
সঠিক উত্তর:
এ নেটিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ নেটিভ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে,
• রাজশেখর বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম - পরশুরাম।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
• মণীশ ঘটক ব্যবহৃত ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৪৫.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ ঘটে-
  1. পদ্মাবতী নাটকে
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে
  3. মেঘনাদবধ কাব্যে
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী নাটকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী নাটকে
ব্যাখ্যা
• প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ:
- ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন 'পদ্মাবতী' নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার করেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য কাব্য:
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪৬.
‘রাম’ ও ‘বিভীষণ’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যের অন্তর্গত চরিত্র?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. মেঘনাদবধ
  3. বীরাঙ্গনা
  4. তিলোত্তমাসম্ভব
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
⇒ মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

================
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তার রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ, 
- ব্রজাঙ্গনা, 
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪৭.
'বীরাঙ্গনা' পত্রকাব্যে মোট কতটি পত্র রয়েছে?
  1. ১১টি
  2. ১৩টি
  3. ১৮টি
  4. ২২টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা

• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- ‘বীরাঙ্গনা কাব্য পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কবি পাবলিসাস ওভিডিয়াস ন্যাসো সংক্ষেপে ওভিদের ‘হেরোইদাইস' কাব্যের অনুসরণে এই গ্রন্থ রচিত।
- এখানে মোট এগারটি পত্ৰ আছে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।

- তাঁর অন্যান্য কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৪৮.
'সিংহল সমুদ্র হতে নিশিথের অন্ধকারে মালয় সাগরে, সেখানেও ছিলাম আমি' এটি কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) বিদ্রোহী
  3. গ) বনলতা সেন
  4. ঘ) আমার স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
গ) বনলতা সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বনলতা সেন
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নোক্ত কবিতার লাইন - জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

বনলতা সেন
- জীবনানন্দ দাশ
"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে - সব নদী - ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।"

জীবনানন্দ দাশের অন্যান্য কাব্য:
- ঝরা পালক,
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বনলতা সেন কবিতা।
১৪৯.
উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' গ্রন্থের কাহিনি অনুসারে রচিত নাটক কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫০.
''অলীক কূনাট্য রঙ্গে
মজে লোকে রাঢ়ে ও বঙ্গে
নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।'' - চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• শর্মিষ্ঠা নাটক:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক (আধুনিক) নাটক - শর্মিষ্ঠা। এটি প্রকাশিত হয় - ১৮৫৯ সালে।
 -এর রচয়িতা ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি শর্মিষ্ঠা নাটকের শুরুতে সেকালের নাটকের গ্রাম্যতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
- শর্মিষ্ঠা নাটকের কাহিনী 'মহাভারত' থেকে সংগৃহীত।

তিনি বলেছেন -
''অলীক কূনাট্য রঙ্গে
মজে লোকে রাঢ়ে ও বঙ্গে
নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।''
------------------------- 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।

• তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।

• তাঁর অন্যান্য কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর নাটক:
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর 
২. বাংলাপিডিয়া।
১৫১.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত জীবিত ছিলেন -
  1. সপ্তদশ শতাব্দীতে
  2. অষ্টাদশ শতাব্দীতে
  3. উনবিংশ শতাব্দীতে
  4. বিংশ শতাব্দীতে
সঠিক উত্তর:
উনবিংশ শতাব্দীতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনবিংশ শতাব্দীতে
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত জীবিত ছিলেন - উনবিংশ শতাব্দীতে

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫২.
"মেঘনাদবধ" কাব্যের খলনায়ক চরিত্র কোনটি?
  1. রাবণ
  2. বিভীষণ
  3. রাম
  4. মেঘনাদ
সঠিক উত্তর:
রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাম
ব্যাখ্যা
• "মেঘনাদবধ" কাব্য:
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কৃতি এবং তাঁর রচিত দ্বিতীয় কাব্য। 
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন মহাকাব্যটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।

কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: "মেঘনাদবধ" কাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫৩.
বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শামসুর রাহমান
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তার জন্ম।
- তিনি বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
          ২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
          ৩) বাংলাপিডিয়া।

১৫৪.
”সততা হে নদ তুমি পড় মোর মনে” পঙক্তিটির রচিতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
কপোতাক্ষ নদ:
- কবিতাটির রচিতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ’চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি একটি সনেট জাতীয় কবিতা।
- ”সততা হে নদ তুমি পড় মোর মনে” পঙক্তিটি কপোতাক্ষ নদ কবিতার অন্তর্গত।
----------------------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫৫.
'পদ্মাবতী' (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) নাটকে মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম কোন ছন্দের প্রয়োগ করেন?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. মুক্তক ছন্দ
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. সনেট
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাতে এ ছন্দের সুরমুক্তি ঘটে।
- অর্থাৎ, 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- তিনি 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী। 

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম 
- একেই কি বলে সভ্যতা,  
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো, 

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
১৫৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. দ্য ক্যাপটিভ লেডি
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
দ্য ক্যাপটিভ লেডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্য ক্যাপটিভ লেডি
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম সাহিত্য চর্চা:
মধুসূদন ভাগ্যান্বেষণে ১৮৪৮ সালে মাদ্রাজ গমন করেন। মাদ্রাজে অবস্থানকালেই Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 
হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।

তার রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
১৫৭.
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী' সনেটে সংকলনটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮৬৪ সালে
  3. ১৮৬৫ সালে
  4. ১৮৬৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৬৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয় নি।
- সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা, অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত ।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।
- মিত্রাক্ষর ও অমিত্রাক্ষর উভয়বিদ ছন্দের চতুর্দশ পঙক্তিতে রচিত কবিতাসংকলন এটি।

----------------
⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫৮.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি কে?
  1. আলাওল
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. নবীনচন্দ্র সেন 
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫৯.
"জন্মিলে মরিতে হবে
অমর কে কোথা কবে।"
- কার লেখা?
  1. ক) ঈশ্বরগুপ্ত
  2. খ) মাইকেল
  3. গ) বিহারীলাল
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ
সঠিক উত্তর:
খ) মাইকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাইকেল
ব্যাখ্যা
এটি 'বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার অংশ। এটি মাইকেল মধুসূদের লেখা। 

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১৬০.
'ক্ষুদ্র শত্রু ভবি লােকে অবহেলা যারে,/বহুবিধ সঙ্কটে সে ফেলাইতে পারে।' কবিতার লাইন দুটি কার রচনা?
  1. ক) ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. খ) নবীনচন্দ্র সেন
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) বড়ু চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
উপরের উল্লেখিত পংক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সিংহ ও মশক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

বিবিধ: সিংহ ও মশক

"হইল বিষম রণ, তুলনা না মিলে;
ভীম দুর্য্যোধনে,
ঘোর গদা-রণে,
হ্রদ দ্বৈপায়নে,
তীরস্থ সে রণ-ছায়া পড়িল সলিলে;
ডরাইয়া জল-জীবী জল-জন্তুচয়ে,
সভয়ে মনেতে ভাবিল,
প্রলয়ে বুঝি এ বীরেন্দ্র-দ্বয় এ সৃষ্টি নাশিল!

মেঘনাদ মেঘের পিছনে,
অদৃশ্য আঘাতে যথা রণে;
কেহ তারে মারিতে না পায়,
ভয়ঙ্কর স্বপ্নসম আসে,—এসে যায়,
জর-জরির শ্রী রামের কটক লঙ্কায়।
কভু নাকে, কভু কাণে,
ত্রিশূল-সদৃশ হানে
হুল, মশা বীর।
না হেরি অরিরে হরি,
মুহুর্মুহু নাদ করি,
হইলা অধীর।
হায়! ক্রোধে হৃদয় ফাটিল;—
গত-জীব মৃগরাজ ভূতলে পড়িল!

ক্ষুদ্র শত্রু ভাবি লোক অবহেলে যারে,
বহুবিধ সঙ্কটে সে ফেলাইতে পারে;—
এই উপদেশ কবি দিলা অলঙ্কারে।"
১৬১.
যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন-
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জসীমউদ্দীন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মধুসূদনের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি যাকিছু রচনা করেছেন তাতেই নতুনত্ব এনেছেন। তিনিই প্রথম পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ বাংলা সাহিত্যে সার্থকভাবে প্রয়োগ করেন।

• মাইকের মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য “মেঘনাদবধ”। গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যের কাহিনি সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে। এটি মধুসূদনের রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। নয় সর্গে সম্পূর্ণ ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• নাটক:
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা।

• কাব্য:
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- তিলোত্তমাসম্ভব।

অন্যদিকে,
জসীমউদ্দীন ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
সৈয়দ মুজতবা আলী সিলেট জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬২.
মধুসূদন দত্তের কোন রচনায় পূর্ববঙ্গীয় ভাষায় বহুল ব্যবহার দেখা যায়?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. চতুর্দশপদী কবিতালি
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' :
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।

উল্লেখ্য,
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ প্রহসনে পূর্ববঙ্গীয় (বিশেষ করে যশোর অঞ্চলের) ভাষার বহুল ব্যবহার দেখা যায়।
এটি একটি ব্যঙ্গরচনা, যেখানে তিনি তৎকালীন সমাজের ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে আঘাত করেছেন।
এই প্রহসনে মধুসূদন সচেতনভাবে আঞ্চলিক শব্দ, বাক্যরীতি ও পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণ প্রয়োগ করেন, যা তাঁর অন্যান্য রচনায় দেখা যায় না।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ভক্তপ্রসাদ বাবু,
- পঞ্চানন বাচস্পতি,
- গদাধর,
-পুঁটি,
- ফতেমা প্রমুখ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন।

১৬৩.
"কৃষ্ণকুমারী" নাটক প্রথম অভিনীত হয় কত সালে?
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৬৭ সালে
  4. ১৮৬৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৬৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬৭ সালে
ব্যাখ্যা
• "কৃষ্ণকুমারী" নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে। রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক 'শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- ভীমসিংহ,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৪.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বীরাঙ্গনা কাব্য'-টি কী ধরণের?
  1. মহাকাব্য
  2. পত্রকাব্য
  3. গীতিকবিতা
  4. আখ্যানকাব্য
সঠিক উত্তর:
পত্রকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পত্রকাব্য
ব্যাখ্যা

বীরাঙ্গনা কাব্য: 
- ‘বীরাঙ্গনা' মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি পত্রকাব্য। 
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। 
- এতে পত্র সংখ্যা ১১ টি। 
- রোমান কাব্যের অনুসরণে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি একজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। 
- এটি ইংরেজিতে রচিত। 
- বাংলায় রচিত মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'তিলোত্তমা সম্ভব'। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা’ ও 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬৫.
সনেটের ষষ্টকে কি থাকে?
  1. ক) ভাবের পরিণতি
  2. খ) ভাবের প্রবর্তনা
  3. গ) ভাবের গভীরতা
  4. ঘ) ভাবের ব্যাকুলতা
সঠিক উত্তর:
ক) ভাবের পরিণতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাবের পরিণতি
ব্যাখ্যা
সনেটের প্রথম আট চরনকে অষ্টক এবং শেষের ছয় চরনকে ষষ্টক বলে। অষ্টকে থাকে মূলভাবের প্রবর্তনা এবং ষষ্টকে থাকে ভাবের পরিণতি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৬.
কোনটি বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক কমেডি নাটক?
  1. পদ্মাবতী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. ভদ্রার্জুন
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক কমেডি নাটক 'পদ্মাবতী'।

• 'পদ্মাবতী' নাটক:

- নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প ''Apple of Discord'' এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: পদ্মাবতী, ইন্দ্রনীল, শচী, মুরজা, রতী ইত্যাদি।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:

- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রকাশিত প্রথম বাংলা নাটক।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক
- এর প্রকাশকাল ১৮৫৯।

• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থথেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• 'ভদ্রার্জুন' নাটক:
- ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা তারাচরণ শিকদার।
- এটি একটি কমেডি নাটক।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৬৭.
নিম্নোক্ত শব্দগুলোর মধ্যে একটি মাইকেলি ধাতুর দৃষ্টান্ত হলো -
  1. ক) বেড়ি
  2. খ) পবিত্রি
  3. গ) ঢালি
  4. ঘ) রাঙ্গি
সঠিক উত্তর:
গ) ঢালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঢালি
ব্যাখ্যা

বাংলা কবিতায় ভাষার সংস্কৃত বিশেষ্য শব্দ অনেক সময় ধাতুরুপে ব্যবহৃত হয়।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত তার কবিতায় ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রত্যয়যোগে ধাতু ব্যবহার করেছেন।
যেমনঃ
"মিত্রাক্ষর" কবিতায় একটি পংক্তি হচ্ছে এরকম -
'কি কাজ পবিত্রি মন্ত্রে জাহ্নবীর জলে?
কি কাজ সুগন্ধ ঢালি পারিজাত - বাসে?'
এখানে 'ঢালি' একটি মাইকেলি ধাতু।

১৬৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. সেলিম আল দীন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রাম নারায়ণ তর্করত্ন
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক 'শর্মিষ্ঠা'।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক ও সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- যযাতি,
- দেবযানি,
- শর্মিষ্ঠা,
- পূর্ণিমা,
- রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৬৯.
"জগৎসিংহ" কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. পদ্মাবতী
  4. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

"কৃষ্ণকুমারী" নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম- সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১৭০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. সনেট
  2. অমিত্রাক্ষর
  3. পয়ার
  4. ত্রিপদী
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা
• 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭১.
'অলীক কুনাট্য রঙ্গে/মজে লোকে রাঢ়ে বঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।' _______ উক্তিটি কার?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. দুর্গাদাস কর
  3. হরচন্দ্র ঘোষ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক (আধুনিক) নাটক - শর্মিষ্ঠা। এটি প্রকাশিত হয় - ১৮৫৯ সালে।
- এর রচয়িতা ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- তিনি শর্মিষ্ঠা নাটকের শুরুতে সেকালের নাটকের গ্রাম্যতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন -
''অলীক কূনাট্য রঙ্গে
মজে লোকে রাঢ়ে ও বঙ্গে
নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।''
----------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।
 
• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
• তাঁর নাটক:
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী; 
 
তাঁর প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা? ও 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।
------------------
অন্যদিকে,
• রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বিধিবদ্ধ নাটক রচনার জন্য তিনি ‘নাটুকে রামনারায়ণ’ নামে পরিচিত ছিলেন।

দুর্গাদাস কর:
- ১৮৫৫ সালে দুর্গাদাস স্বর্ণশৃঙ্খল নাটক রচনা করেন। পরের বছর এটি বরিশালের আধুনিক মঞ্চে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- ১৮৬৩ সালে নাটকটি ঢাকা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় এবং ওই বছর বরিশালে পুনরায় মঞ্চস্থ হয়।

হরচন্দ্র ঘোষ:
তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রীতির সংমিশ্রণে আধুনিক নাট্যরীতি প্রবর্তনের চেষ্টা করেন।
- তাঁর ভানুমতী-চিত্তবিলাস (১৮৫৩), চারুমুখ-চিত্তহরা (১৮৬৪) ও রজতগিরিনন্দিনী (১৮৭৪) নাটকত্রয় যথাক্রমে শেক্সপীয়রের মার্চেন্ট অফ ভেনিস, রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট এবং দি সিলভার হিল নাটক অবলম্বনে রচিত।

সূত্র: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১৭২.
নিচের কোনটি জাত মহাকাব্য নয়?
  1. ইলিয়াড
  2. ওডেসি
  3. মহাভারত
  4. মেঘনাদ বধ
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদ বধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদ বধ
ব্যাখ্যা
• মেঘবাদবধ জাত মহাকাব্য নয়।

• মেঘনাদবধ কাব্য:

- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

---------------
- পৃথিবীতে জাত মহাকাব্য আছে চার ৪টি।

• রামায়ণ:
- শ্রীরাম চন্দ্রের জীবনী বিষয়ক
- রচয়িতা - বাল্মিকী।

• মহাভারত:
- কুরু ও পান্ডবদের নিয়ে রচিত।
-রচয়িতা- বেদব্যাস

• ইলিয়াড ও ওডিসি:
- ট্রয় যুদ্ধ নিয়ে রচিত।
- রচয়িতা - গ্রিক কবি হোমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. নীলদর্পণ
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. জমিদার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক।
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭৪.
মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো 'ওড্' জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭৫.
মাইকেল মদুসূদন দত্তের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮৫৯ সালে
  3. ১৮৫৭ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৭৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্য সাহিত্যে কী প্রবর্তন করেন?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. পায়রাবৃত্ত ছন্দ
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. স্বরবৃত্ত ছন্দ
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষরে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো ”তিলোত্তমাসম্ভব” কাব্য।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৭৭.
'কপোতক্ষ নদ' কোন জাতীয় কবিতা? 
  1. সনেট 
  2. গদ্য কবিতা 
  3. গীতি কবিতা 
  4. কাব্য নাট্য 
সঠিক উত্তর:
সনেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট 
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কপোতাক্ষ নদ' সনেট জাতীয় রচনা। 

• 'কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা: 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্য গ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা।
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন।
-‘কপোতাক্ষ নদ’ এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা,
- এই স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশ প্রেমের সঙ্গে যুক্ত।

কপোতাক্ষ নদ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। (সংক্ষেপিত)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭৮.
'Timothy Penpoem' ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. The Captive Ladie
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
The Captive Ladie
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Captive Ladie
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।

- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক। মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)। 

- মাদ্রাজে অবস্থানকালেই 'Timothy Penpoem' ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'The Captive Ladie' (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন 'শর্মিষ্ঠা' নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

- পরের বছর মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। প্রথমটিতে তিনি ইংরেজি শিক্ষিত ইয়ং বেঙ্গলদের মাদকাসক্তি, উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারকে কটাক্ষ করেন এবং দ্বিতীয়টিতে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের আচারসর্বস্ব ও নীতিভ্রষ্ট সমাজপতিদের গোপন লাম্পট্য তুলে ধরেন।

- মধুসূদনের এ সময়কার অপর দুটি রচনা হলো 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) ও 'ব্রজাঙ্গনা' (১৮৬১)। প্রথমটি রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি বিয়োগান্তক নাটক এবং দ্বিতীয়টি রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।

- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।

- মধুসূদনের কাব্যে এক ধরনের নারীবিদ্রোহের সুর লক্ষ করা যায়। তারা পুরুষের নিকট নিজেদের ভাল-মন্দ, সুখ-দুঃখ এবং কামনা-বাসনা প্রকাশে হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। তাঁর 'বীরাঙ্গনা কাব্য' (১৮৬২) পত্রকাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. এর উপায় কি?
  2. সধবার একাদশী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. একেই কি বলে সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন: 'একেই কি বলে সভ্যতা'।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'এর উপায় কি?' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৮০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. মেঘনাদবধ
  3. মহাশ্মশান
  4. রৈবতক
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত “মেঘনাদবধ” একটি মহাকাব্য।

• মেঘনাদবধ:

- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের কাহিনি সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে।
- এটি মধুসূদনের রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি, এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন

- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• নাটক
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য।
‘বৃত্রসংহার’ হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।
‘রৈবতক’  নবীনচন্দ্র সেন রচিত মহাকাব্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৮১.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত "হেক্টরবধ" কাব্যটি কোন উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত?
  1. ভার্জিনের 'ইনীদ
  2. বাল্মীকীর 'রামায়ণ'
  3. হোমারের 'ইলিয়াড'
  4. গ্রীক পুরাণের হেক্টরবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
হোমারের 'ইলিয়াড'
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোমারের 'ইলিয়াড'
ব্যাখ্যা

• হেক্টরবধ:
- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

১৮২.
‘ইয়ংবেঙ্গল’ তরুণ ছাত্রগোষ্ঠীদের নিয়ে কে প্রহসন লিখেছেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
ডিরোজিও প্রভাবিত ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ছাত্রগোষ্ঠীকে নিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ নামে একটি প্রহসন লিখেছেন।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৮৩.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচিত হয়েছে কতটি সর্গে?
  1. সাত
  2. আট
  3. নয়
  4. দশ
সঠিক উত্তর:
নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য’ মোট ৯টি সর্গে রচিত হয়েছে। 

'মেঘনাদবধ' কাব্য:

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'। মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৮৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. কীর্তিবিলাস
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. রিজিয়া
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী’ বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি হিসেবে স্বীকৃত।
----------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের একজন প্রধান কবি ও নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
--------------------------- 
কৃষ্ণকুমারী’ নাটক সম্পর্কিত তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী'।
- এটি ১৮৬০ সালে রচিত এবং ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- নাটকের কাহিনি মূলত উইলিয়াম টডের রাজস্থান গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

- নাটকে প্রধান চরিত্রগুলো হল-
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, বিলাসবতী, ভীমসিংহ, জগৎসিংহ, মানসিংহ ও ধনদাস। 

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকটি নায়িকা কৃষ্ণকুমারী-এর জীবনকাহিনী ঘিরে আবর্তিত।
- কাহিনীর কেন্দ্রে আছে কৃষ্ণকুমারীর জীবন ও বিবাহসংক্রান্ত জটিলতা, যেখানে ধনদাসের হীন আচরণ, জগৎসিংহের ব্যাকুলতা এবং মদনিকার মধ্যস্থতা নাটকের উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
- রাজপুত্র জগৎসিংহ কৃষ্ণকুমারীকে বিবাহের জন্য আকৃষ্ট হন, আর ধনদাস টাকার লোভে নানা চক্রান্ত চালায়।
- কৃষ্ণকুমারীর ব্যক্তিগত সম্মান, নায়কের আকাঙ্ক্ষা ও নায়িকার চরম সিদ্ধান্ত আর  রাজ্যশক্তি ও প্রেমের দ্বন্দ্বই নাটকের মূল ট্রাজেডি।
----------------------
অন্যদিকে, 
- কীর্তিবিলাস – প্রথম ট্রাজেডি হলেও সফল নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১৮৫.
কৃষ্ণকুমারী নাটকের চরিত্র কোনটি ?
  1. ক) ধনদাস
  2. খ) কৃষ্ণকুমারী
  3. গ) জগৎসিংহ
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী।'
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনী উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান’ নামক গ্রন্থ থেকে গৃহীত।
এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- মদনিকা 
- ভীম সিংহ 
- ধনদাস
- কৃষ্ণকুমারী 
- জগৎসিংহ 

[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

১৮৬.
'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রহসন
  3. কাব্য
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রহসন
ব্যাখ্যা
'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় কে?
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) তারিণীচরণ মিত্র
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

- ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য।
- কলেজের বাঙালি শিক্ষকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বিখ্যাত ছিলেন রামরাম বসু, তারিণীচরণ মিত্র ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার। এ সকল পন্ডিতের সাহায্যে কলেজের অধ্যাপকগণ বাংলা ভাষার মান উন্নয়ন ও বাংলা গদ্য রীতির প্রবর্তনের কাজে সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করেন।

অর্থাৎ, সঠিক উত্তর হবে রামরাম বসু।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৮৮.
'কপোতাক্ষ নদ' কোন জাতীয় কবিতা?
  1. গদ্য কবিতা
  2. গীতিকবিতা
  3. সনেট
  4. পয়ার
সঠিক উত্তর:
সনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনেট
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কপোতাক্ষ নদ' সনেট জাতীয় রচনা। 
 
• 'কপোতাক্ষ নদ’ কবিতা: 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি কোন কাব্য গ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা। 
- কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাটি রচনা কালে কবি ফ্রান্সে অবস্থান করেছিলেন। 
-‘কপোতাক্ষ নদ’ এর মূলভাব হলো স্মৃতিকাতরতা,
- এই স্মৃতিকাতরতা যদি কেন্দ্রিক হলেও তা আসলে স্বদেশ প্রেমের সঙ্গে যুক্ত।
---------------- 
কপোতাক্ষ নদ- কবিতা, 
-মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে। (সংক্ষেপিত)। 
--------------------- 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
 - মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম: 
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে 'মেঘনাদবধ' কাব্যটি রচনা করেন?
  1. মহাভারতের যুদ্ধের কাহিনির
  2. অসহযোগ আন্দোলনের
  3. স্বদেশী আন্দোলনের
  4. সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতার
সঠিক উত্তর:
সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতার
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উল্লেখ্য,
• 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' নাটকটির প্রকাশকাল কত?
  1. ১৮৬২ সালে
  2. ১৮৬০ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬০ সালে
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

১৯১.
"দেবযানী" চরিত্রটি কোন নাটকের অন্তর্গত?
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. শর্মিষ্ঠা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন । এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম,বাংলাপিডিয়া।
১৯২.
'কেলিনু শৈবালে ভুলি কমল-কানন' এখানে 'কমল-কানন শব্দের ব্যঞ্জনার্থ-
  1. ফুলের বাগান
  2. পদ্ম বাগান
  3. বাংলা ভাষা
  4. উপহার
সঠিক উত্তর:
বাংলা ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ভাষা
ব্যাখ্যা

• "কেলিনু শৈবালে ভুলি কমল-কানন" পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের "বঙ্গভাষা" কবিতার একটি অংশ।

- এই কবিতায় কবি তাঁর মাতৃভাষা বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। 

• পঙ্‌ক্তিটির ব্যাখ্যা:
• "কেলিনু শৈবালে" অর্থাৎ তিনি শৈবাল (জলজ উদ্ভিদ) নিয়ে খেলেছেন,বলতে কবি ইংরেজি ভাষার ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণকে বুঝিয়েছেন।
• "ভুলি কমল-কানন" বলতে তাকে তার মাতৃভাষা/বাংলাভাষা (কমল-কানন) ভুলিয়ে দিয়েছিল।

• এই পঙ্‌ক্তির সারমর্ম হলো, কবি তাঁর মাতৃভাষার বিশুদ্ধতা ও মূল্য ভুলে অন্য ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ভুল করেছেন, যা তিনি এখন উপলব্ধি করছেন। শৈবালে (অস্থায়ী ও নিম্নতর ইংরেজি ভাষা) মোহগ্রস্ত হয়ে তিনি কমল-কানন (বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মহত্ত্ব) থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

১৯৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘হেক্টরবধ’ গ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ভূদেব মুখোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ভূদেব মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূদেব মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত  রচিত ‘হেক্টরবধ’ গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।

• হেক্টরবধ:

- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১৯৪.
'জন্মিলে মরিতে হবে, 
অমর কে কথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, 
হয় রে জীবন নদে?' - কোন কবির উক্তি? 
  1. নবীন চন্দ্র
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূধন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূধন দত্ত
ব্যাখ্যা
বঙ্গভূমির প্রতি
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত---সংকলিত (মাইকেল মধুসূদন দত্ত) 

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, – খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে;
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্ব্বজন; –
কিন্তু কোন্ গুণ আছে,
যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!
তবে যদি দয়া কর,
ভুল দোষ, গুণ ধর,
অমর করিয়া বর দেহ দাসে, সুবরদে! –
ফুটি যেন স্মৃতি-জলে,
মানসে, মা, যথা ফলে
মধুময় তামরস কি বসন্ত, কি শরদে!
১৯৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. মেঘনাদবধ
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• পদ্মাবতী- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক। 

• 'পদ্মাবতী' নাটক: 
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা;
- পদ্মাবতী;
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম 
- একেই কি বলে সভ্যতা;
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৯৬.
হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের বঙ্গানুবাদ কাব্য কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. হেক্টরবধ কাব্য
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেক্টরবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'হেক্টরবধ' কাব্য:
- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে,
--------------------
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য। ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত। সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

• 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেননি।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সর্বশেষ সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. রত্নাবলী
  4. মায়াকানন
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়াকানন
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্ম
- মাইকেল রচিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ১২টি গ্রন্থ এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ৫টি গ্রন্থ রয়েছে।
- ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক মৌলিক নাটক।
- হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।
- তাঁর শেষ রচনা মায়াকানন নাটক।

♦ মাইকেল ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্য - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

♦ মেঘনাদবধ কাব্য
- ১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনী নিয়ে তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য।

♦ প্রহসন
- ১৮৬০ সালে মাইকেল রচনা করেন একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নামে দুটি প্রহসন।
- একেই কি বলে সভ্যতা এর বিষয় ছিল ইংরেজি শিক্ষিত নব্য বাবু সম্প্রদায়ের উচ্ছৃঙ্খলতা।
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ এর বিষয় ছিল সনাতনপন্থী সমাজপতিদের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন।

♦ অনুবাদ গ্রন্থ - হেক্‌টর-বধ
♦ কাব্যনাট্য - রিজিয়া: ইমপ্রেস অফ ইন্ডে

♦ অনুবাদ নাটক
- রত্নাবলী
- শর্মিষ্ঠা
- নীল দর্পণ অর দি ইন্ডিগো প্ল্যান্টিং মিরর।

♦ প্রবন্ধ সাহিত্য
- দি অ্যাংলো-স্যাক্সন অ্যান্ড দ্য হিন্দু।

তথ্যসূত্র - ১..বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. জনকণ্ঠ।
৪. বাংলাপিডিয়া।
১৯৮.
'হেমন্ত গোধূলি' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. সমর সেন
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'হেমন্ত গোধূলি' কাব্যগ্রন্থের লেখক - মোহিতলাল মজুমদার।
• গ্রন্থটি বাংলা ১৩৪৮ সালে প্রকাশিত হয়। 

মোহিতলাল মজুমদার:

- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়। 
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন পসারী,
- স্মরগরল,
- বিস্মরনী,
- হেমন্ত গোধূলি (গ্রন্থটি বাংলা ১৩৪৮ সালে প্রকাশিত হয়)।

 উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ও সমালোচনা গ্রন্থ হলো:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- কবি শ্রীমধুসূদন,
- বিচিত্র কথা,
- সাহিত্য কথা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৯৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের সনেট সংকলন 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬১
  2. ১৮৬৯
  3. ১৮৬৬
  4. ১৮৫৯
সঠিক উত্তর:
১৮৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬৬
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- ইতালীয় কবি পেত্রার্ক ও শেক্সপিয়ারের অনুকরণে এসব সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।


- মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত (২৫ জানুয়ারি ১৮২৪ – ২৯ জুন ১৮৭৩) ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার এবং প্রহসন রচকার।
- মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০০.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• ‘মেঘনাদবধ কাব্যে':
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' (১৮৬০) তাঁর প্রথম এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ- হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।
- এ কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন কবি মিল্টনের 'প্যারাডাইস লস্ট' মহাকাব্যে শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনা ও ঋজুতা প্রদর্শন করে, মধুসূদনও রাবণকে দিয়ে সে কাজ করিয়েছেন।

• কাব্যের প্রধান চরিত্র:
→ রাবণ,
→ মেঘনাদ,
→ লক্ষ্মণ,
→ রাম,
→ প্রমীলা,
→ বিভীষণ,
→ সীতা,
→ সরমা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।