বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মোট প্রশ্ন৪১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৪১৩

.
অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) চতুর্দশপদী কবিতা
  2. খ) মেঘনাদবধ কাব্য
  3. গ) বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. ঘ) তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
বাংলাভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য'।
- কাব্যটি ১৮৬০ সালে রচিত এবং প্রকাশিত। 
- ৪ সর্গের সমন্বয়ে রচিত এই কাব্য। 
- সৌন্দর্যের প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ এর দ্বন্দ্ব এ কাব্যের উপজীব্য। 

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. ব্রজঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

---------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
’মেঘনাদবধ’ কাব্যে সর্গের সংখ্যা কতটি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য
- এ কাব্য গৃহীত হয়েছে রামায়ণ থেকে।
- ’মেঘনাদবধ’ কাব্যের ৯টি সর্গের  আখ্যানভাগ।
- প্রথম সর্গ মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গের নাম 'অভিষেক'। 
- দ্বিতীয় সর্গ> দ্বিতীয় সর্গের নাম 'অস্ত্রলাভ'। 
- তৃতীয় সর্গ >তৃতীয় সর্গের নাম 'সমাগম'। 
- চতুর্থ সর্গ >চতুর্থ সর্গের নাম 'অশোকবন'।
- পঞ্চম সর্গ >পঞ্চম সর্গের নাম 'উদ্যোগ'। 
- ষষ্ঠ সর্গ> ষষ্ঠ সর্গের নাম 'বধ'। 
- সপ্তম সর্গ> সপ্তম সর্গের নাম 'শক্তিনির্ভেদ'। 
- অষ্টম সর্গ> অষ্টম সর্গের নাম 'শক্তিনির্ভেদ'। 
- নবম সর্গ>নবম সর্গের নাম 'সংস্ক্রিয়া'। 
---------------------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:

• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
মধুসূদন দত্ত কত বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৯ বছর
  3. ২৮ বছর
  4. ২৯ বছর
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
-  পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়। 
-  হিন্দু কলেজে খ্রিস্টানদের অধ্যয়ন নিষিদ্ধ থাকায় মধুসূদন দত্তকে কলেজ ত্যাগ করতে হয়। তাই ১৮৪৪ সালে তিনি বিশপস কলেজে ভর্তি হন।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'মেঘনাদবধ কাব্য' এর কাহিনী কোথা থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মঙ্গলকাব্য
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) ইলিয়াড
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতা জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অমর মহাকাব্যের নাম মেঘনাদবধ কাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।
- মেঘনাদবধ কাব্য নয়টি সর্গে কাহিনীবিস্তার করেছে।
- এই মহাকাব্যে মোট তিনদিন ও দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত।
- কাব্যের ট্রাজেডি সৃজণ হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি কোন গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত?
  1. রমায়াণ থেকে
  2. কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ থেকে
  3. উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান’ থেকে
  4. মহাভারত থেকে
ব্যাখ্যা
'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
.
উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. নীলদর্পণ
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীমসিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

অন্যদিকে, 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মৌলিক ও পাশ্চাত্য শৈলীতে লেখা নাটক। মহাভারতের পৌরাণিক কাহিনির ওপর ভিত্তি করে রচিত এই নাটকটি ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া নাট্যশালায় প্রথম অভিনীত হয়। 

• 'নীলদর্পণ' নাটকের রচয়িতা হলেন দীনবন্ধু মিত্র। এটি ১৮৫৮-১৮৫৯ সালের মধ্যে রচিত একটি বিখ্যাত বাংলা সামাজিক নাটক, যা নীলচাষীদের ওপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন তুলে ধরেছে।

• 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর  শৈলবাসে রচিত। তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী। ১৩৩১ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী। মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।

------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ বাক্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
মেঘনাদবধ কাব্যে মোট কতটি সর্গ আছে?
  1. ৯টি 
  2. ১১টি 
  3. ৭টি 
  4. ৫টি 
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্যে মোট ৯টি সর্গ আছে। 
----------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ২৫ জানুয়ারি, ১৮২৪ সালে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর জন্মস্থান ছিল-  যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদ তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার উকিল, এবং মা জাহ্নবী দেবী।
- তিনি ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হয়ে বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন। 
- কলেজ থাকাকালীনই তিনি কবিতা রচনা শুরু করেন।

- তাঁর কবিতা নানা পত্রিকায় প্রকাশিত হত, যেমন –
- জ্ঞানান্বেষণ,
- Bengal Spectator,
- Literary Gleamer,
- Calcutta Library Gazette,
- Literary Blossom,
- Comet ইত্যাদি।

- ১৮৪৩ সালে ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের পর তিনি ‘মাইকেল’ উপাধি গ্রহণ করেন।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পর ১৮৭৩ সালে কলকাতায় তিনি জীবনাবসান করেন।
-------------------------------- 
‘মেঘনাদবধ কাব্য’র খুঁটিনাটি:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।  
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।
- ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের মহাকাব্য। 

- ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মূলত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে রচিত।
- তবে কবি রাবণ ও মেঘনাদকে ট্রাজিক নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
- নয়টি সর্গে বিভক্ত এই কাব্যটিতে বীরত্ব, প্রেম, শোক ও বিচ্ছেদের সংমিশ্রণ ফুটে উঠেছে। 
- কাহিনীতে দেখা যায়, লঙ্কাপুরে মেঘনাদ ইন্দ্রকে পরাজিত করে;
- পরবর্তীতে নিরস্ত্র অবস্থায় লক্ষ্মণ তাকে হত্যা করে, এবং শেষমেষ মেঘনাদ-পত্নী প্রমীলা সহমরণে মৃত্যুবরণ করে।

- মধুসূদন প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে রাবণ ও মেঘনাদকে মহিমান্বিত করেছেন;
- এবং রাম-লক্ষ্মণকে প্রথাগত মহত্ত্ব থেকে বিচ্যুতভাবে উপস্থাপন করেছেন।
- এটি রামায়ণের আধুনিক ও পাশ্চাত্য প্রভাবমিশ্রিত এক নতুন রূপান্তর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১০.
বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি? 
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  4. দ্য ক্যাপটিভ লেডি
ব্যাখ্যা

• 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য:
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- কাব্যটি মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৮৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১.
'রাধা' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যের নায়িকা?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা )।

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বনে মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৩.
হোমারের রচনার বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. হেক্টরবধ
  3. মেঘনাদবধ
  4. বীরঙ্গনা
ব্যাখ্যা

• হেক্টরবধ:
- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে,
• সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে 'মিলন' খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।

• 'বীরাঙ্গনা কাব্য' একটি পত্র কাব্য। পত্রাকারে এ ধরনের সাহিত্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি।" - কবিতাংশটুকু কোন কবিতার?
  1. বঙ্গভূমির প্রতি
  2. বঙ্গবাণী
  3. বঙ্গভাষা
  4. কপোতাক্ষ নদ 
ব্যাখ্যা

• "হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
তা সবে, অবহেলা করি।" - কবিতাংশটুকু মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। এবং 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত। 

বঙ্গভাষা- কবিতা, 
 মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫.
সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব কোন কাব্যের উপজীব্য?
  1. হেক্টরবধ কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. বিদ্যাসুন্দর কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

--------------------
অন্যদিকে,
• কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে। সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী প্রত্যাশা করে সুন্দর পতির। এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর-পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেননি।

• ‘হেক্টরবধ’ (১৮৭১) হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ। মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়। হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক মহাকাব্য লিখেছেন কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) কাশীরাম দাস
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' (১৮৬১)।
'মহাভারত' সংস্কৃত মহাকাব্য৷ তবে মহাভারত বাংলায় অনেকে অনুবাদ করেছেন। তবে শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস।
'মহাশ্মশান' ও 'অশ্রুমালা' কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য ও কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, ড. সৌমিত্র শেখর
১৭.
কোনটি মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
⇒ 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা )।

⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮.
"দ্য ক্যাপটিভ লেডি" - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - দ্য ক্যাপটিভ লেডি। Captive অর্থ বন্দি।
- এটি ইংরেজিতে রচিত। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৪৯ খ্রষ্টাব্দে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:

- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনকাল কোনটি?
  1. ১৮২৩-১৮৭২
  2. ১৮২৩-১৮৭৩
  3. ১৮২৪-১৮৭৩
  4. ১৮২৪-১৮৭৪
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২০.
মধুসূদন দত্তের শ্রেষ্ঠ অবদান কোনটি?
  1. নাটক রচনা
  2. দেশপ্রেম বিষয়ক রচনা
  3. মহাকাব্য রচনা
  4. সনেটের প্রবর্তন
ব্যাখ্যা
• বাংলা সনেট:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬৩ সালে ভার্সাই নগরীতে অবস্থানকালে ইতালীয় কবি পেত্রার্কের অনুকরণে বাংলায় সনেট লিখতে শুরু করেন।
- বাংলা ভাষায় এটি এক বিস্ময়কর নতুন সৃষ্টি। এর আগে বাংলা ভাষায় সনেটের প্রচলন ছিল না
- ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয় নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি। 
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
-  পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২১.
বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ হিসেবে কোনটি বিবেচিত?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব
  2. মেঘনাদবধ
  3. বীরাঙ্গনা
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলি
ব্যাখ্যা

‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি':
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত। সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ, 
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

২২.
'কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়'- কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) মৃত্যুর আগে
  2. খ) আট বছর আগের একদিন
  3. গ) বনলতা সেন
  4. ঘ) আবার আসিব ফিরে
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কাব্যের 'আবার আসিব ফিরে' কবিতার চরণ- 'আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে- এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয় হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে। হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে, কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঠাঁল-ছায়ায়' উল্লেখ্য ধানসিঁড়ি নদী বর্তমানে ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' নাটকটি রচিত হয়েছে-
  1. ক) পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে
  2. খ) ঐতিহাসিক কাহিনী অবলম্বনে
  3. গ) রাজনৈতিক কাহিনী অবলম্বনে
  4. ঘ) সামাজিক কাহিনী অবলম্বনে
ব্যাখ্যা
১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন 'পদ্মাবতী' নাটক। 
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯) - পুরাণকাহিনি অবলম্বনে 
- পদ্মাবতী (১৮৬০) - পুরাণকাহিনি অবলম্বনে 
- কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) - ঐতিহাসিক কাহিনি অবলম্বনে 

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা’ (১৮৬০) ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২৪.
নিচের কোন গ্রন্থটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) মেঘনাদবধ
  2. খ) ব্রজাঙ্গনা
  3. গ) তিলোত্তমাসম্ভব
  4. ঘ) শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
শর্মিষ্ঠা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি নাটক। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক নাটক।
অন্যদিকে, মেঘনাদবধ, ব্রজাঙ্গনা ও তিলোত্তমাসম্ভব - একই লেখকের রচিত কাব্যগ্রন্থ।
তাই শর্মিষ্ঠা গ্রন্থের ধরন হিসাবে ব্যতিক্রম।
=============
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, (১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মধুসূদনের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি যাকিছু রচনা করেছেন তাতেই নতুনত্ব এনেছেন। তিনিই প্রথম পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ বাংলা সাহিত্যে সার্থকভাবে প্রয়োগ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
• প্রহসন
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• নাটক
- পদ্মাবতী
- কৃষ্ণকুমারী
- শর্মিষ্ঠা

• কাব্য
- মেঘনাদবধ
- ব্রজাঙ্গনা
- তিলোত্তমাসম্ভব


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫.
'ভীমসিংহ, জগৎসিংহ' — এই চরিত্রগুলো মধুসূদন দত্তের কোন নাটকের?
  1. পদ্মাবতী
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. মায়া কানন
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২৬.
‘আশার ছলনে ভুলি’ কার জীবনী নিয়ে লেখা গ্রন্থ?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন ও কর্ম নিয়ে গোলাম মুরশিদের গ্রন্থ ‘আশার ছলনে ভুলি’
- কিন্তু মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ লেখেন যোগীন্দ্রনাথ বসু।
- বইটির নাম ‘মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনচরিত’।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২৭.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক কোনটি?
  1. কীর্তিবিলাস
  2. ভদ্রার্জুন
  3. পদ্মবতী
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণকুমারী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক- কৃষ্ণকুমারী।
- নাটকটির রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- কৃষ্ণকুমারী নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ’রাজস্থান’ নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- নাটকটি রচিত হয়- ১৮৬০ সালে।
- এটি প্রকাশিত হয়- ১৮৬১ সালে।

• নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- কৃষ্ণকুমারী, 
- মদনিকা,
- ভীম সিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন'।
- ১৮৫২ সালে প্রকাশিত প্রথম ট্রাজেডি নাটকের নাম - কীর্তিবিলাস।
- 'পদ্মবতী' বাংলা সাহিত্যের কমেডি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

২৮.
What is the name of the first successful tragedy in Bengali literature?
  1. Nil Darpan
  2. Krishna Kumari
  3. Ratnavali
  4. Basantakumari
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী: 
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। 

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।

- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত চরিত্রকে হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটক-  
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. ভদ্রার্জুন
  3. আমলার মামলা
  4. কবর
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত- শর্মিষ্ঠা। 
---------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য;
- যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং
- এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ:
- কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
--------------------------------------- 
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক নিয়ে কিছু কথা- 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের শর্মিষ্ঠা নাটকটি ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
- একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া নাট্যশালায় প্রথম অভিনীত হয়।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সফল নাটক হিসেবে খ্যাত।

- নাটকের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- শর্মিষ্ঠা, দেবযানী এবং যযাতি।
- নাটকটি মহাভারতের দেবযানী ও যযাতির কাহিনী অবলম্বনে রচিত।
- শর্মিষ্ঠা নাটকের মূল বিষয়বস্তু হলো- মহাভারতের আদিপর্ব থেকে নেওয়া রাজা যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার মধ্যে ত্রিকোণ প্রেম ও বিবাদের গল্প। 
---------------------------- 
অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক হলো 'ভদ্রার্জুন', যা ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদার রচনা করেন। 
• 'আমলার মামলা' নাটকটি লিখেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখক শওকত ওসমান। 
• 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩০.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য?
  1. বৃত্রসংহার
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. মহাশ্মশান
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা

'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।
- কায়কোবাদের মহাকাব্য - মহাশ্মশান।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৩১.
নিম্নের কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ক) কৃষ্ণকুমারী
  2. খ) বিষবৃক্ষ
  3. গ) রিজিয়া
  4. ঘ) হেক্টরবধ্‌
ব্যাখ্যা
'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা। 
'সুলতানা রিজিয়া' মাইকেল মধুসূদন দত্তের অসম্পূর্ণ নাটক। 
'হেক্টরবধ্‌' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়ড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বঙ্গানুবাদ। 

'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত  একটি সামাজিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয় কত সালে?
  1. ১৮৪১
  2. ১৮৩৯
  3. ১৮৪৩
  4. ১৮৫৯
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য),
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (সনেট)।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
মেঘনাদবধ কাব্যে কোন রসের প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. ক) বীররস
  2. খ) প্রেমরস
  3. গ) করুণরস
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক মহাকাব্য মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- কাব্যের কাহিনী রামায়ন থেকে গ্রহণ করা হলেও তা অনেকটা পরিবর্তিত আকারে নেওয়া হয়েছে।
- এই কাব্য নয় সর্গে রচিত। এতে তিন রাত দুই দিনের ঘটনা বর্ণিত আছে।
-----------------
- মেঘনাদবধ কাব্যের বিরাট পটভূমির মধ্যে নানা ধরনের চরিত্র এবং কাব্যের নানা রসের সমাবেশ ঘটেছে।

- বীররসাত্মক কাব্য রচনার উদ্দেশ্য নিয়ে মধুসূদন মেঘনাদবধ কাব্যে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন। কাব্যটির শুরুতে বীররসের কাহিনীর ইঙ্গিতও রয়েছে।
"সম্মুখ সমরে পড়ি, বীর-চূড়ামণি
বীরবাহু, চলি যবে গেলা যমপুরে।"

এই স্বরস্বতী-বন্দনাতেই কবি বলেছেন -
গাইব, মা, বীররসে ভাসি,
মহাগীত; উরি, দাসে দেহ পদছায়া।

তবে, বীররসে কাব্যরচনার এই উদ্দেশ্য সার্থকভাবে রূপায়িত হয়ে ওঠে নি
- বীরবাহু জননী চিত্রাঙ্গদার আর্তনাতে, অশোকবনে বন্দিনী সীতার অশ্রুবিসর্জনে, মেঘনাদপত্নী প্রমীলার চিতারোহণে, সর্বোপরি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুত্রহারা রাবণের হাহকারে করুণ রসেরই প্রাধান্য ঘটেছে।
- প্রথম সর্গে বেদনাকাতর রাবণের অনুভূতি শেষ সর্গে চরম হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রাণপ্রিয় পুত্র মেঘনাদের চিতার সম্মুখে দাঁড়িয়ে তাঁর হৃদয়ের হাহকার ব্যক্ত করেছেন:  
"ছিল আশা, মেঘনাদ, মুদিব অন্তিমে
এ নয়নদ্বয় আমি তোমার সম্মুখে, -
সঁপি রাজ্যভার, পুত্র, তোমায় করিব
মহাযাত্রা! কিন্তু বিধি-বুঝিব কেমনে
তাঁর লীলা? ভাঁড়াইলা সে সুখ আমারে!"

- রাবণ চরিত্রের এই হাহাকারই কাব্যে প্রাধান্য পেয়েছে।
- আর তাই বলা যায়, কবি কাব্যের প্রথমে বীররসের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত করুনরসই প্রাধান্য পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিতের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৪.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' নাটকটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৮৫৮ সালে
  2. ১৮৬২ সালে
  3. ১৮৬০ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' নাটক:
- 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৩৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য কোনটি?   
  1. ব্রজাঙ্গনা 
  2. বাঁধন-হারা
  3. বীরাঙ্গনা 
  4. মেঘনাদবধ 
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বীরাঙ্গনা কাব্য। 

অন্যদিকে, 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। 

• বীরাঙ্গনা পত্রকাব্য:

- বাংলা সাহিত্যে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যটি প্রথম পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরনে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র রয়েছে।
- কাব্যে জনা, কৈকেয়ী, তারা প্রমুখ পৌরাণিক নারী তাদের স্বামী বা প্রেমিকদের নিকট নিজেদের কামনা-বাসনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা নির্ভীকচিত্তে প্রকাশ করে।
- কাব্যটিতে নারী চরিত্রে এরূপ দৃঢ়তার প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে আর কারও রচনায় প্রত্যক্ষ করা যায় না।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:
 নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৩৬.
'ভগ্ন শিবমন্দির' কোন প্রহসনের পূর্বনাম?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. একেই কী বলে সভ্যতা
  3. সধবার একাদশী
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা
• 'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ বাবু, পঞ্চানন বাচস্পতি, গদাধর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী, হানিফ, গাজি প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' শব্দ থেকে এসেছে।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উল্লেখ্য,
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' ও 'সধবার একাদশী' প্রহসনের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
"ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি?"- কোন কবির লেখা?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• "ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি, 
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি।"- আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

বঙ্গভাষা- 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"

উৎস: বঙ্গভাষা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

৩৮.
কোন কাহিনী অবলম্বন করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত “পদ্মাবতী” নাটক রচনা করেন?
  1. হিন্দু পুরাণ
  2. মহাভারতের কাহিনী
  3. গ্রীক পুরাণ
  4. রামায়ণের কাহিনী
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' - নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়।
- ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প ''Apple of Discord'' এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ পদ্মাবতী, ইন্দ্রনীল, শচী, মুরজা, রতী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৩৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক কোনটি?
  1. শকুন্তলা
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. ভদ্রার্জুন
  4. রাবণবধ
ব্যাখ্যা

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক 'শর্মিষ্ঠা'।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক ও সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়। মধুসূদন পরে 'শর্মিষ্ঠা'র ইংরেজি অনুবাদও করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- যযাতি,
- দেবযানি,
- শর্মিষ্ঠা,
- পূর্ণিমা,
- রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ- শকুন্তলা (১৮৫৪)। এটি সংস্কৃত কবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলা নাটকের 'আভজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকের উপখ্যান ভাগের অনুবাদ।

• তারাচরণ শিকদার রচিত 'ভদ্রার্জুন' নামক মৌলিক নাটকটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়। 'ভদ্রার্জুন' ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত পৌরাণিক নাটক 'রাবণবধ'। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা অ সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪০.
'একেই কি বলে সভ্যতা'- এটি মধুসূদন দত্তের কি জাতীয় রচনা?
  1. প্রহসন
  2. মহাকাব্য
  3. উপন্যাস
  4. কাব্য
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। 
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত। 
- 'একেই কি বলে সভ্যতা' ১৮৬০ সালে প্রকাশিত মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'প্রহসন'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৬৫ সালে
  3. ১৮৭৬ সালে
  4. ১৮৬১ সালে
ব্যাখ্যা
• 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যে:
- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেন নি।
- কাব্যটির নায়িকা হলেন 'রাধা'। 'রাধা' সম্পর্কে মধুসূ্ধন বলেছেন ‘Poor Old Mrs. Radha of Braja’( ব্রজের হতভাগিনী নায়িকা রাধা)।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• ‘হেক্টরবধ’ মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২.
কোন চরিত্রটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্যের' নয়?
  1. যযাতি
  2. সরমা
  3. প্রমীলা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- 'যযাতি' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্যের' চরিত্র নয়।
- 'যযাতি' - চরিত্রটি মধুসূধন দত্তের শর্মিষ্ঠা নাটকের।

•‘মেঘনাদবধ কাব্য':

- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' (১৮৬০) তাঁর প্রথম এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ- হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।
- এ কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন কবি মিল্টনের 'প্যারাডাইস লস্ট' মহাকাব্যে শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনা ও ঋজুতা প্রদর্শন করে, মধুসূদনও রাবণকে দিয়ে সে কাজ করিয়েছেন।

• কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

•  তাঁর অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ)
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩. বাংলাপিডিয়া।
৪৩.
নিচের কোনটি মহাকাব্য?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উদ্ধৃতাংশটির কিছু অংশ:

'কি কহিলি বাসন্তি? পর্বতগৃহ ছাড়ি,
বাহিরায় যবে নদী সিন্ধুর উদ্দেশ্যে,
কার হেন সাধ্য যে সে রোধে তার গতি?
দানবনন্দিনী আমি, রক্ষঃকুলবধূ
রাবণ শ্বশুর মম, মেঘনাদ স্বামী
আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?'

---------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
৪৪.
অমিত্রাক্ষর ছন্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ :
  1. ক) হাইকু
  2. খ) ‘সনেট’
  3. গ) ব্লাংকভার্স
  4. ঘ) লিমেরিক
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse (ব্লাংকভার্স)।

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে অন্তমিল থাকে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪৫.
বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
— অমিত্রাক্ষর ছন্দ হলো বাংলা কাব্যের একটি ছন্দ, যা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো — এতে অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস থাকে না, যা ইংরেজি কাব্যের — ব্ল্যাঙ্ক ভার্স (Blank Verse)-এর সঙ্গে তুলনীয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদান:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত — উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে — অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন। তিনি প্রথম এই ছন্দের ব্যবহার করেন তাঁর নাটক — ‘পদ্মাবতী’ (দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) এবং পরবর্তীতে তাঁর কাব্য ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ -এ এই ছন্দের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ করেন।

এই ছন্দের মাধ্যমে তিনি বাংলা কাব্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেন, যা ঐতিহ্যবাহী পায়ার ছন্দ থেকে ভিন্ন এবং ইংরেজি সাহিত্যের ব্ল্যাঙ্ক ভার্সের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এটি বাংলা কাব্যে সুরমুক্তির একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।

৪৬.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. সধবার একাদশী
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন। এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ, গদাগর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক (প্রহসন)।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

'সধবার একাদশী' প্রহসন:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- ‘সধবার একাদশী' প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।

উল্লেখ্য,
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রচিত প্রহসন - একেই কি বলে সভ্যতা, বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ ঘটে- 
  1. কৃষ্ণকুমারী নাটকে
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যে 
  3. পদ্মাবতী নাটকে
  4. মেঘনাদবধ কাব্যে 
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪৮.
'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনার ক্ষেত্রে কোন মহাকাব্যের প্রভাব রয়েছে?
  1. রামায়ণ
  2. মহাভারত
  3. প্যারাডাইস রিগেইন্ড
  4. প্যারাডাইস লস্ট
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত  মহাকাব্য 'রামায়ণের' ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- গ্রন্থটি ১৮৬১ সালেই প্রকাশ পায়। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য।
- রামকে খলনায়ক এবং রাবণকে নায়ক করে তিনি রচনা করেন এই কাব্য। 
- মোট ৩ দিন ২ রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে এই কাব্যে। 
- কবি মিল্টনের প্যারাডাইস লস্ট (Paradise Lost) এর ছায়া অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্য। 
-------------------
মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে ।
- ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- তাঁর ছদ্মনাম টিমোথি পেনপোয়েম
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা' তিনি রচনা করেন ।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য।

তাঁর রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯)
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০)
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০)
- কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১)
- মায়া-কানন (১৮৭৪)

তাঁর রচিত কাব্য
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. তিলোত্তমাসম্ভব
  3. হেক্টরবধ
  4. ব্রজাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

হেক্টরবধ:
- 'হেক্টরবধ' হোমারের 'ইলিয়াড' এর বঙ্গানুবাদ মূলক কাব্য (অসমাপ্ত)।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যটি ১৮৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রিক পুরাণে হেক্টর একজন ট্রোজান রাজকুমার ছিলেন এবং ট্রয়ের যুদ্ধে ট্রয় সেনার প্রধান যোদ্ধা ছিলেন।
- তিনি ট্রয় রক্ষায় ট্রয় সেনা ও তাঁর মিত্রদের পক্ষে নেতৃস্থানীয় ছিলেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫০.
‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন। এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

মধুসূদন দত্তের নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের কত নম্বর কাব্য?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) তৃতীয়
  4. ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্য। এটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এটি মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
কাহিনি : রামায়ণ থেকে নেওয়া হয়েছে। 
উৎসর্গ : রাজা দিগম্বর মিত্র, যিনি মুদ্রণের ব্যয় বহন করেছেন। 
স্থায়িত্বকাল : ৩ দিন ২ রাত। 
সর্গ : নয়টি সর্গ।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৫২.
মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচিত নাটক?
  1. তরঙ্গভঙ্গ 
  2. কুলীন কুলসর্বস্ব
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক- শর্মিষ্ঠা। 
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- যযাতি, দেবযানি, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩.
'ভিমসিংহ' - কোন রচনার চরিত্র?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. পদ্মাবতী
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থথেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীমসিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫৪.
হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;- তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি এই পঙ্ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙ্কতিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"

উৎস: বঙ্গভাষা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৫৫.
মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গের নাম কী?
  1. অভিষেক
  2. উদ্যোগ
  3. শক্তিনির্ভেদ
  4. অশোক বন
ব্যাখ্যা

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 

• মেঘনাদবধ কাব্যে ৯টি সর্গ রয়েছে:

- প্রথম সর্গ > অভিষেক।
- দ্বিতীয় সর্গ > অস্ত্রলাভ।
- তৃতীয় সর্গ > সমাগম।
- চতুর্থ সর্গ > অশোক বন।
- পঞ্চম সর্গ > উদ্যোগ।
- ষষ্ঠ সর্গ > বধ।
- সপ্তম সর্গ > শক্তিনির্ভেদ।
- অষ্টম সর্গ > প্রেতপুরী।
- নবম সর্গ > সংস্ক্রিয়া।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

অন্যদিকে,
- কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- এর বিষয়বস্তু- গ্রামীণ জীবন, নদী-ঘাটকেন্দ্রিক পরিবেশ, প্রেম-বিরহ ও বেদনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন রচনাকারী কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মীর মশাররফ হোসেন 
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রামানারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন রচয়িতা:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম পাশ্চাত্যধারা তথা ইংরেজি Farce-এর বৈশিষ্ট্য ও গুণ সমন্বিত প্রহসন রচনায় কৃতিত্বের অধিকারী হলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- মূলত তাঁর একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) প্রহসনদ্বয়ের মধ্য দিয়েই বাংলা প্রহসন তার স্বকীয়তা লাভ করে।
- প্রথমটিতে মধুসূদন উনিশ শতকের ইংরেজি শিক্ষাপ্রাপ্ত ইয়ংবেঙ্গলদের অতি আধুনিকতা, জীবন উপভোগের প্রবল বাসনা, অমিতাচার ও উগ্রতাকে তীব্র পরিহাসের রূপকে তুলে ধরেছেন।
- আর দ্বিতীয়টিতে তিনি সুতীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে রূপায়িত করেছেন কুলীন ব্রাহ্মণদের নারী উপভোগের বিকৃত বাসনাকে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম নাটক?
  1. পদ্মাবতী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রো।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৫৯.
'হেক্টরবধ' কোন গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত?
  1. দান্তের ডিভাইন কমেডি
  2. ভার্জিনের ইনিদ
  3. হোমারের ওডিসি
  4. হোমারের ইলিয়াড
ব্যাখ্যা
হেক্টরবধ:
- এটি হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭ তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক। এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সনেট সংকলন কোনটি?
  1. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা, অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।
- মিত্রাক্ষর ও অমিত্রাক্ষর উভয়বিদ ছন্দের চতুর্দশ পঙক্তিতে রচিত কবিতাসংকলন এটি।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১.
বাংলা সাহিত্যে পত্রাকারে প্রকাশিত প্রথম কাব্য কোনটি? 
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. বীরাঙ্গনা কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা

• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬২.
‘রিজিয়া’ অসম্পূর্ণ নাটকটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. সেলিম আল দীন
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সুলতানা রিজিয়ার বীরত্বপূর্ণ কাহিনি নিয়ে ইংরেজি অসম্পূর্ণ নাটক হচ্ছে ‘রিজিয়া’।

------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩.
"বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ" কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• "বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ" কবিতাটির রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
---------------------- 
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ- কবিতা, 
কবি- মাইকেল মধূসূদন দত্ত।

“এতক্ষণে”- অরিন্দম কহিলা বিষাদে-
“জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
রক্ষঃপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব
এ কাজ, নিকষা সতী তােমার জননী,
সহােদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ? শূলিশম্ভুনিভ
কুম্ভকর্ণ? ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী!

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ- কবিতা।
৬৪.
নিচের কোনটি মেঘনাদবধ কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. ক) মেঘনাদ
  2. খ) বিভীষণ
  3. গ) রাবণ
  4. ঘ) কাপালিক
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নে 'কাপালিক' চরিত্রটি মেঘনাদবধ কাব্যের নয়।
- মেঘনাদবধ কাব্যটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনা করেন। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতা জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অমর মহাকাব্যের নাম মেঘনাদবধ কাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।
- মেঘনাদবধ কাব্য নয়টি সর্গে কাহিনীবিস্তার করেছে।
- এই মহাকাব্যে মোট তিনদিন ও দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত।
- কাব্যের ট্রাজেডি সৃজণ হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৫.
এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা কোন প্রহসনের মূলকাহিনী?
  1. একেই কী বলে সভ্যতা 
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. গোড়ায় গলদ
  4. বৈকুণ্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' শব্দ থেকে এসেছে।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
 - প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল ‘ভগ্ন-শিবমন্দির’। 
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ বাবু, পঞ্চানন বাচস্পতি,গদাধর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী, হানিফ, গাজি প্রমুখ।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'গোড়ায় গলদ' (১৮৯২) প্রহসনের মূল উপজীব্য হলো ভুল বোঝাবুঝি, ভুল পাত্রে কন্যাদান, এবং ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দাম্পত্য সম্পর্কের হাস্যরসাত্মক জটিলতা

• 'বৈকুণ্ঠের খাতা':
- বৈকুণ্ঠের খাতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনপ্রিয় একটি কৌতুক নাটক।
- এটি ১৮৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এক আত্মভোলা সরল প্রকৃতির বৃদ্ধ এই কাহিনির কেন্দ্র। তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কৌতুকময় ঘটনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৬৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে 'পদ্মাবতী' নাটক রচিত।
  2. "হেক্টরবধ" গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করেন।
  3. 'বীরাঙ্গনা' একটি পত্রকাব্য।
  4. ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারিতে জন্মগ্রহণ করেন।
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসুদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত সম্পর্কে যে তথ্যটি সঠিক নয়, তা হলো: "অক্ষরবৃত্ত ছন্দে 'পদ্মাবতী' নাটক রচিত"। মাইকেল মধুসুদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- বাকি অপশনের তথ্যগুলো সঠিক।

অন্যদিকে,
- "হেক্টরবধ" গ্রন্থটি 'ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে' উৎসর্গ করা হয়েছিল।
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৭.
বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন -
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- মহাকবি, নাট্যকার, মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার জনক ও পথ নির্মাতা।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শৈশবে মা জাহ্নবী দেবীর কাছে শিক্ষার শুরু; রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে ওঠেন মায়ের মাধ্যমেই।
- ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম:
- মাইকেল রচিত বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ১২টি গ্রন্থ এবং ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ৫টি গ্রন্থ রয়েছে।
- ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সার্থক মৌলিক নাটক।
- হোমারের ইলিয়াড অবলম্বনে ১৮৭১ সালে তিনি রচনা করেন হেক্টরবধ।
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্য।
- তাঁর শেষ রচনা মায়াকানন নাটক।

♦ মাইকেল ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্য - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

♦ মেঘনাদবধ কাব্য: 
- ১৮৬১ সালে রামায়ণের কাহিনী নিয়ে তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক মহাকাব্য।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত এই কাব্যের মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের সূচনা ঘটে।
- আর কোন রচনা না থাকলেও মধুসূদন এই একটি কাব্য লিখেই অমর হয়ে থাকতে পারতেন।

♦ প্রহসন:
- ১৮৬০ সালে মাইকেল রচনা করেন একেই কি বলে সভ্যতা ও বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ নামে দুটি প্রহসন।
- একেই কি বলে সভ্যতা এর বিষয় ছিল ইংরেজি শিক্ষিত নব্য বাবু সম্প্রদায়ের উচ্ছৃঙ্খলতা।
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ এর বিষয় ছিল সনাতনপন্থী সমাজপতিদের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন।

তথ্যসূত্র -
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. জনকণ্ঠ,
৪. বাংলাপিডিয়া।
৬৮.
কোন প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত?
  1. বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. সধবার একাদশী
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ:
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ বাবু, পঞ্চানন বাচস্পতি, গদাধর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী, হানিফ, গাজি প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:

- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী , 
- কৃষ্ণকুমারী, 
- মায়াকানন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য কোনটি?
  1. মহাভারত
  2. মহাশ্মশান
  3. মেঘনাদবধ কাব্য 
  4. অশ্রুমালা
ব্যাখ্যা

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসুদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য - কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' একটি গীতিকাব্য। কাব্যটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'মহাভারত' সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য। মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭০.
'মদনিকা' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. কৃষ্ণকুমারী নাটক 
  2. শর্মিষ্ঠা নাটক 
  3. পদ্মাবতী নাটক 
  4. মায়াকানন নাটক 
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক 'শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

-------------
মাইকেল মধুসূদন দত্তের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- মায়াকানন,  
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭১.
রোমান 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে রচিত বাংলা কাব্য কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. হেক্‌টরবধ
ব্যাখ্যা

• 'বীরাঙ্গনা কাব্য':
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।

- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে। বীরাঙ্গনা (১৮৬২) পত্রকাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে। এখানে জনা, কৈকেয়ী, তারা প্রমুখ পৌরাণিক নারী তাদের স্বামী বা প্রেমিকদের নিকট নিজেদের কামনা-বাসনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা নির্ভীকচিত্তে প্রকাশ করে। নারীচরিত্রে এরূপ দৃঢ়তার প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে আর কারও রচনায় প্রত্যক্ষ করা যায় না।
 
-----------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী। 

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য, 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭২.
মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ
  2. হেক্টরবধ
  3. ব্রজাঙ্গনা
  4. তিলোত্তমাসম্ভব
ব্যাখ্যা

• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

--------------------
অন্যদিকে,
• কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে। সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী প্রত্যাশা করে সুন্দর পতির। এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর-পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেননি।

• ‘হেক্টরবধ’ (১৮৭১) হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ। মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়। হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৩.
`হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন‘- কোন কবির উক্তি?
  1. ক) শাহ্ মোহাম্মদ সগীর
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) ফররুখ আহমেদ
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙ্কতিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"

উৎস: বঙ্গভাষা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৭৪.
মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গ কোনটি?
  1. সমাগম
  2. অভিষেক
  3. উদ্যোগ
  4. অস্ত্রলাভ
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।

• মেঘনাদবধ কাব্যে ৯টি সর্গ রয়েছে:

এগুলো হলো:
- প্রথম সর্গ > অভিষেক।
- দ্বিতীয় সর্গ > অস্ত্রলাভ।
- তৃতীয় সর্গ > সমাগম।
- চতুর্থ সর্গ > অশোক বন।
- পঞ্চম সর্গ > উদ্যোগ।
- ষষ্ঠ সর্গ > বধ।
- সপ্তম সর্গ > শক্তিনির্ভেদ।
- অষ্টম সর্গ > প্রেতপুরী।
- নবম সর্গ > সংস্ক্রিয়া।

কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র:
- রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
----------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৫.
বাংলা সাহিত্যের কোন মহাকবি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি।

- তাঁর অন্যান্য কাব্য:
→ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
→ বীরাঙ্গনা কাব্য,
→ ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
→ চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

- তাঁর নাটক:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ শর্মিষ্ঠা,
→ পদ্মাবতী; 

- তাঁর প্রহসন:
→ একেই কি বলে সভ্যতা ও
→ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

• অন্যদিকে: 
- কায়কোবাদ ঢাকা জেলার  নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- নবীনচন্দ্র সেন চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭৬.
কোন দেশীয় কাব্যের অনুসরণে মাইকেল মধুসূদন 'বীরাঙ্গনা কাব্য' রচনা করেন?
  1. রোমান
  2. গ্রীক
  3. ব্রিটিশ
  4. তুর্কী
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 

'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- এতে পত্র সংখ্যা ১১ টি।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরনে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- বাংলায় রচিত মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমা সম্ভব।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন 
- একেই কি বলে সভ্যতা’ (১৮৬০) ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
৭৭.
"ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি।" - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ 
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• "ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি।"- আলোচ্য পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির "চতুর্দশপদী কবিতাবলী'র অন্তর্ভুক্ত।

'চতুর্দশপদী কবিতাবলি':
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি।
- সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭৮.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক কোনটি?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. ব্রজাঙ্গনা
  3. পদ্মবতী
  4. তিলোত্তমাসম্ভব
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক- কৃষ্ণকুমারী।
- নাটকটির রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- কৃষ্ণকুমারী নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ’রাজস্থান’ নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- নাটকটি রচিত হয়-১৮৬০ সালে, প্রকাশিত হয়-১৮৬১ সালে।
- এই নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র : কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীম সিংহ, জগৎসিংহ, ধনদাস প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• পদ্মবতী বাংলা সাহিত্যের কেমেডি নাটক।
• ’তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত  কাব্যগ্রন্থ।
• ব্রজাঙ্গনা হলো রাধা কৃষ্ণ বিষয়ক গীতকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৯.
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।- পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. বঙ্গভাষা
  2. বঙ্গদেশ
  3. বঙ্গবাণী
  4. জন্মভূমি
ব্যাখ্যা
⇒ আলোচ্য পঙ্কতিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
• 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।

==============
⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তার রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে ৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ, 
- ব্রজাঙ্গনা, 
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী। 

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো:
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বঙ্গভাষা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৮০.
'শর্মিষ্ঠা' নাটকটি কোন থিয়েটারে মঞ্চস্থ করার হয়েছিল?
  1. স্টার থিয়েটার
  2. বেলগাছিয়া থিয়েটার
  3. ন্যাশনাল থিয়েটার
  4. মিনার্ভা থিয়েটার
ব্যাখ্যা

'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮১.
'মেঘনাদবধ কাব্যে'র কাহিনির সময়সীমা?
  1. ক) দুই দিন তিন রাত
  2. খ) দুই দিন দুই রাত
  3. গ) তিন দিন দুই রাত
  4. ঘ) তিন দিন তিন রাত
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'
- এটি তাঁর রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন। 
- নয় সর্গে রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য - 
  1. মহাভারত
  2. মহাশ্মশান
  3. মেঘনাদবধ কাব্য 
  4. অশ্রুমালা
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসুদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য - কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' একটি গীতিকাব্য। কাব্যটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'মহাভারত' সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য। মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৩.
"দত্তকুলোদ্ভব কবি" নামে পরিচিত -
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।

- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে ইংরেজিতে লেখা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'The Captive Ladie.'
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখরে এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪.
'বঙ্গভাষা' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আবদুল হাকিম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা
'বঙ্গভাষা' কবিতা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি চতুৰ্দ্দশপদী কবিতাবলী গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট।
- মাতৃভাষার প্রতি কবির সুগভীর হৃদয়াবেগ এই কবিতায় মার্জিত ও পরিশীলিত ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অজস্র ঐশ্বর্য ও সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত হয়েছে কবির নিপুণ বর্ণনায়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৫.
"দত্তকুলোদ্ভব কবি" বলা হয় কাকে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাকে দত্তকুলোদ্ভব কবি বলা হয়।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসুদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- এ নেটিভ।

অন্যদিকে,
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮৬.
কোন কাব্যগ্রন্থটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাব্যগ্রন্থ?
  1. Captive Ladie
  2. তিলোত্তমাসম্ভব
  3. হেক্টরবধ
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলি 
ব্যাখ্যা

• ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ ছিল মাইকেল মধুসূধন দত্তের অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাব্যগ্রন্থ।
- যদিও তিনি প্রথমে 'পদ্মাবতী' নাটকে এই ছন্দ ব্যবহার করেন, তবে এটি ছিল প্রথম প্রয়োগ, যা 'সার্থক প্রয়োগ' ছিলোনা।

'তিলোত্তমাসম্ভব':
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ বাংলা কাব্যের একটি বিশেষ ছন্দরূপ যা ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রবর্তন করেন।
- তিলোত্তমাসম্ভব অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত পৌরাণিক কাব্য। 
- তিলোত্তমাসম্ভব এ মাইকেল প্রথম সফলভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।
---------------------------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে।
- তিনি এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত  ছিলেন কলকাতার আইনজীবী ও জমিদার, আর তার মাতা হলেন জাহ্নবী দেবী। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক কবিতার জনক ও মহাকবি হিসেবে খ্যাত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম ছিল টিমোথি পেনপোয়েম।
- তিনি মাদ্রাজে থাকাকালীন এই ছদ্মনাম ব্যবহার করে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie প্রকাশ করেন।
- তাঁকে “দত্তকুলধর্মী কবি” বলেও অভিহিত করা হয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন, প্রথম ট্র্যাজেডি ও প্রথম সফল নাটক—সবই তাঁরই সৃষ্টি।
-----------------------------------
অন্যদিকে,
'The Captive Ladie':
-  The Captive Ladie হলো মাইকেল মধুসূদন দত্তের লিখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ, যা ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এটি লেখার মাধ্যমে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইউরোপীয় সাহিত্যশৈলীকে বাংলা সাহিত্যের সাথে সংযুক্ত করার একটি প্রাথমিক প্রয়াস শুরু করেন। 
- এই কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তার দেশপ্রেম ফুটে উঠেছিল।

• হেক্টরবধ:

- এটি মাইকেল মধুসূধন দত্তের অসমাপ্ত কাব্যগ্রন্থ।

• 'চতুর্দশপদী কবিতাবলী':
- চতুর্দশপদী কবিতাবলীর বিষয়বস্তু মূলত দেশপ্রেম, সমাজ ও সাহিত্য।
- কবির নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অনুভূতি ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’তে প্রতিফলিত হয়েছে।
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা যার প্রথম উদ্ভব হয় মধ্যযুগে ইতালিতে।
- এর বৈশিষ্ট হল যে- এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়।
- এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে।
- এই কবিতার প্রথম ৮টি চরণকে বলা হয় অষ্টক, যেখানে ভাবের প্রবর্তন করা হয়।
- এবং পরবর্তী ৬টি চরণকে বলা হয় ষটক, যেখানে ভাবের পরিণতি ঘটে। 
- 'কপোতাক্ষ নদ’ একটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা, যা মাইকেল মধুসূদন দত্ত ফ্রান্সে অবস্থানকালে রচনা করেন।
- এটি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ চতুর্দশপদী কবিতাবলী থেকে সংগৃহীত।
- এই গ্রন্থে মোট ১০২টি সনেট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৮৭.
কোনটি রাধাকৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক রচনা?
  1. বীরঙ্গনা
  2. ব্রজঙ্গনা
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
'ব্রজঙ্গনা'  মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক  গীতিকাব্য।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 

- মহাকবি, নাট্যকার, মধুসূদন বাংলা সাহিত্যের তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার জনক ও পথ নির্মাতা।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকবি।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন রচয়িতা।
- ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন বাংলার এই মহা কবি কপর্দকহীন অবস্থায় জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (রাধা-কৃষ্ণ প্রেম বিষয়ক),
- মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য),
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (সনেট)।

•তাঁর রচিত মহাকাব্য:
মেঘনাদবধ কাব্য।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী,
 - মায়াকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮৮.
মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. হেক্টরবধ কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- কাব্যটি মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বনে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৮৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

--------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• 'হেক্টরবধ' হোমারের 'ইলিয়াড' এর বঙ্গানুবাদ মূলক কাব্য (অসমাপ্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৯.
'সেই ধন্য নরকুলে, লোকে যারে নাহি ভুলে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
'সেই ধন্য নরকুলে, লোকে যারে নাহি ভুলে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা = মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- এটি তাঁর 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

বঙ্গভূমির প্রতি

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, - খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে;
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্ব্বজন; -
কিন্তু কোন্ গুণ আছে,
যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৯০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কবিতা কোনটি?
  1. বঙ্গবাণী
  2. পদ্মাবতী
  3. কপোতাক্ষ নদ
  4. কবিতার কথা 
ব্যাখ্যা

• ‘কপোতাক্ষ নদ' কবিতাটির রচয়িতা- 'মাইকেল মধুসূদন দত্ত'।

অন্যদিকে,
• পদ্মাবতী - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক। 
• ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্যে সংকলন করা হয়েছে।
• জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
-  ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
-  বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা।
- পদ্মাবতী।
- কৃষ্ণকুমারী।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।
----------------
কপোতাক্ষ নদ- কবিতা,
-মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।
সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে
শোনে মায়া যন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে
জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, মাইকেল মুধুসূধন দত্ত এর রচনা।

৯১.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান-
  1. যশোর
  2. খুলনা
  3. বরিশাল
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তাঁর অমর কীর্তি 'মেঘনাদ বধ কাব্য'।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 'তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য'।
- তাঁর রচিত ও প্রকাশিত প্রথম বাংলা গ্রন্থ 'শর্মিষ্ঠা' নাটক।
- তাঁর রচিত 'বীরাঙ্গনা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্র কাব্য।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী' রচনা করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
-বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২.
‘শর্মিষ্ঠা’ নাটকটি কোথায় মঞ্চস্থ হয়?
  1. জোড়াসাঁকো নাট্যশালা
  2. বেলগাছিয়া থিয়েটার
  3. বঙ্গীয় নাট্যশালা
  4. মিনার্ভা থিয়েটার
ব্যাখ্যা
'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।
৯৩.
গ্রিক পুরাণের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. মায়াকানন
  3. পদ্মাবতী
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' নাটক:
- ১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনি নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক। এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

অন্নদিকে, 
• তাঁর শেষ রচনা মায়াকানন (১৮৭৩) নাটক। 
• কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) রাজপুত উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি বিয়োগান্তক নাটক। 
• তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্যের রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 
--------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে।
- তিনি এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত  ছিলেন কলকাতার আইনজীবী ও জমিদার, আর তার মাতা হলেন জাহ্নবী দেবী।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক কবিতার জনক ও মহাকবি হিসেবে খ্যাত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম ছিল টিমোথি পেনপোয়েম।
- তিনি মাদ্রাজে থাকাকালীন এই ছদ্মনাম ব্যবহার করে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie প্রকাশ করেন।
- তাঁকে “দত্তকুলধর্মী কবি” বলেও অভিহিত করা হয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন, প্রথম ট্র্যাজেডি ও প্রথম সফল নাটক—সবই তাঁরই সৃষ্টি।

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• তাঁর একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 
--------------------------- 
‘বীরাঙ্গনা’ নিয়ে কিছু কথা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রোমান কবি ওভিডিয়াসের Heroic Epistles অনুকরণে রচিত। 
- মাইকেল এই কাব্যটি কবি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে উৎসর্গ করেছেন।
- মূলত ১১টি পত্রের মাধ্যমে কাব্যটি সম্পন্ন হয়েছে।
- এখানে নারীদের চরিত্রকে সচেতন, স্বাধীনচেতা এবং প্রেমিকামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- কাব্যের উদ্দেশ্য ছিল নারীদের কণ্ঠস্বরকে সমাজে প্রকাশ করা এবং প্রথাগত নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আভাস দেওয়া।

• উল্লেখযোগ্য পত্রসমূহ:
- দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা;
- সোমের প্রতি তারা;
- দ্বারকানাথের প্রতি রুক্মিণী;
- লক্ষ্মণের প্রতি শূর্পণখা;
- দশরথের প্রতি কৈকেয়ী। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক কোনটি? 
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. বীরাঙ্গনা
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. মেঘনাধবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
শর্মিষ্ঠা নাটক: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক- শর্মিষ্ঠা। 
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। 
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- যযাতি, দেবযানি, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাদ্রাজে অবস্থানকালে Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়। 
- রামনারায়ণ তর্করত্নের রত্নাবলী (১৮৫৮) নাটক ইংরেজিতে অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে উপযুক্ত নাটকের অভাব অনুভব করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য এবং 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

মহাকাব্য: 
- মেঘনাধবধ কাব্য । 

নাটক: 
- শর্মিষ্ঠা, 
- মায়াকানন, 
- কৃষ্ণকুমারী এবং 
- পদ্মাবতী। 

প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা এবং 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৯৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুষ্টিয়া
  2. মেহেরপুর
  3. রাজশাহী 
  4. যশোর
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে ইংরেজিতে লেখা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'The Captive Ladie.'
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস:​ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯৭.
'মেঘনাদবধ' কাব্যে মোট কয় দিনের ঘটনার বর্ণনা আছে?
  1. দুই দিন তিন রাতের
  2. তিন দিন দুই রাতের
  3. দুই রাত চার দিনের
  4. চার দিন তিন রাতের
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ'  কাব্য:
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে' বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

রামায়ণের প্রাসঙ্গিক কাহিনিটি এরূপ-
অযোধ্যার রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠপুত্র রামচন্দ্র স্ত্রী সীতা ও ছোটভাই লক্ষ্মণকে সাথে নিয়ে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। বনবাসে গোদাবরী নদীর তীরে পঞ্চবটী বনে বসবাসকালে লঙ্কার রাজা রাবণের বোন শূর্পণখা বনে বেড়াতে এসে রামের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করে। রাম প্রত্যাখ্যান করে তাকে লক্ষ্মণের কাছে বিয়ের জন্য পাঠালে সেখানেও ব্যর্থ হয়। তখন শূর্পণখা রাগ করে সীতাকে খেয়ে ফেলতে চাইলে লক্ষ্মণ তার নাক কান কেটে তাড়িয়ে দেন। এই অপমানের কথা শূর্পণখা তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত দুই রাক্ষস সেনাপতি খর ও দূষণকে জানিয়ে প্রতিকার চায়। তখন রাক্ষস সেনাপতি রামকে আক্রমণ করে সসৈন্যে নিহত হয়। উদ্বিগ্ন শূর্পণখা লঙ্কায় ফিরে গিয়ে রাবণকে সব ঘটনা জানিয়ে সীতাকে হরণের জন্য উত্তেজিত করে। রাবণ ছদ্মবেশে কৌশলে সীতাকে হরণ করেন এবং লঙ্কায় এনে অশোকবনে বন্দী করে রাখেন। রাম স্ত্রীর উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের সাথে বন্ধুত্ব করে সাগরে সেতু তৈরি করে লঙ্কা আক্রমণ করেন। ভয়াবহ যুদ্ধে রাক্ষসবীরেরা একে একে রাম-লক্ষ্মণের হাতে নিহত হয়। রাবণ সবংশে নিহত হলে রাম সীতাকে উদ্ধার করেন। এই যুদ্ধের ঘটনাবলীর মধ্য থেকে রাবণপুত্র মেঘনাদের হত্যার কাহিনী নিয়ে 'মেঘনাদবধ' কাব্য রচিত হয়েছে।

কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: মেঘনাদবধ কাব্য এবং এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮.
`ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি, এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি‘- কোন কবির লেখা?
  1. ক) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. খ) বিহারীপাল চক্রবর্তী
  3. গ) বন্দে আলী মিয়া
  4. ঘ) শাহ্ মোহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙ্কতিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"

উৎস: বঙ্গভাষা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৯৯.
"দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা" - এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
ব্যাখ্যা
'বীরাঙ্গনা' কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' (১৮৬২) মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কবি পাবলিসাস ওভিডিয়াস ন্যাসো সংক্ষেপে ওভিদের 'হেরোইদাইদ্‌স' কাব্যের অনুসরণে এই গ্রন্থ রচিত।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয়-কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করতেও কুণ্ঠিত নয়।
- এই গ্রন্থ রচনার জন্য সমকালে মধুসূদন নিন্দিত হয়েছিলেন।

এই কাব্যে মোট এগারটি পত্র আছে। যথা:
- দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা
- দশরথের প্রতি কৈকেয়ী,
- সোমের প্রতি তারা, 
- নীলধ্বজের প্রতি জনা প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’।
১০০.
কোন চরিত্রটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্যের' নয়?
  1. মাধব্য
  2. বিভীষণ
  3. প্রমীলা
  4. সরমা
ব্যাখ্যা
- 'মেঘনাদবধ কাব্যের' নয় - মাধব্য।
- 'মাধব্য' - চরিত্রটি মধুসূধন দত্তের শর্মিষ্ঠা নাটকের। 

‘মেঘনাদবধ কাব্য':
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে ‘মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য' (১৮৬০) তাঁর প্রথম এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ- হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।
- এ কাব্যের ট্রাজেডি সৃজন হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন কবি মিল্টনের 'প্যারাডাইস লস্ট' মহাকাব্যে শয়তান যেমন দুর্জয় বাসনা ও ঋজুতা প্রদর্শন করে, মধুসূদনও রাবণকে দিয়ে সে কাজ করিয়েছেন।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।