বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুঘল, সুলতান ও নবাবী আমল

মোট প্রশ্ন৪৯২এই পাতা৯১প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুঘল, সুলতান ও নবাবী আমল

PrepBank · পাতা / · ৪০১৪৯১ / ৪৯২

৪০১.
সোনা ও রুপার পরিবর্তে তামার মুদ্রা প্রচলন করেন কে?
  1. সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক
  2. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ বিন তুঘলক: 
- গিয়াসউদ্দীন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- তাঁর রাজত্বকালের প্রথম তেরো বছর দেশে শান্তি বিরাজমান ছিল। 
- এ সময়ের মধ্যে মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। 
-এছাড়াও খোরাসান অভিযান, কারাচিল অভিযান, প্রতীক মুদ্রার প্রচলন, দোয়াবে কর বৃদ্ধি ইত্যাদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। 
- সিন্ধুর বিদ্রোহ দমনকে ক্লান্ত সুলতান মৃত্যু বরণ করেন। 
- তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ পণ্ডিত ছিলেন। 
- মুহম্মদ বিন তুঘলক ভারতে প্রথম প্রতীক মুদ্রা প্রবর্তন করেন। 
- তিনি সোনা ও রুপার পরিবর্তে প্রতীকী তামার মুদ্রা প্রচলন করে মুদ্রামান নির্ধারণ করেন। 

অন্যদিকে,
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুব মিনার নির্মাণ করেন। 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান। তিনি রাজধানী সোনার গায়ে প্রতিষ্ঠা করেন। 
- শায়েস্তা খান লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, সাতগম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন। 
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০২.
পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল কে?
  1. আহমদ শাহ আবদালি
  2. বৈরাম খাঁ
  3. ইব্রাহিম লোদী
  4. হিমু
সঠিক উত্তর:
হিমু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমু
ব্যাখ্যা
• পানি পথের যুদ্ধ:
-
পানিপথ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।
- দিল্লি হতে পানি পথের দূরত্ব- ৯০ কি.মি.
- পানি পথে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।

• পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:

- সময়কাল: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ।
- পক্ষ: আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল: হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

↔ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল: মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

↔পানি পথের প্রথম যুদ্ধ:
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
- পক্ষ: বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী।
- ফলাফল: ইব্রাহিম লোদী পরাজিত হন এবং নিহত হন্।
- এই যুদ্ধে প্রথম কামানের ব্যাবহার হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।
৪০৩.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মধ্যযুগীয় মসজিদ কোনটি?
  1. ক) বাঘা মসজিদ
  2. খ) বড় সােনা মসজিদ
  3. গ) ষাট গম্বুজ মসজিদ
  4. ঘ) সাত গম্বুজ মসজিদ
সঠিক উত্তর:
গ) ষাট গম্বুজ মসজিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষাট গম্বুজ মসজিদ
ব্যাখ্যা
• ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাটগম্বুজ মসজিদ  বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলির মধ্যে বৃহত্তম এবং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম চিত্তাকর্ষক নিদর্শন।
- খান জাহান আলী ছিলেন একজন মুসলিম ধর্মপ্রচারক এবং বাংলাদেশের বাগেরহাটের একজন স্থানীয় শাসক।
- তিনি রাজা গণেশকে পরাজিত করে বাংলার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন।
- পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাগেরহাট জেলায় তিনি বাংলাদেশের মধ্যযুগের সবচেয়ে বড় মসজিদ ‘ষাট গম্বুজ মসজিদ’ নির্মাণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪০৪.
চাঁদ রায় ও কেদার রায় কোন অঞ্চলের জমিদার ছিলেন?
  1. ক) সোনারগাঁও
  2. খ) ভাওয়াল
  3. গ) বিক্রমপুর
  4. ঘ) ভুলুয়া
সঠিক উত্তর:
গ) বিক্রমপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিক্রমপুর
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগে ষোল শতকের মাঝামাঝি থেকে সতের শতকের মধ্য সময় পর্যন্ত পূর্ব বাংলার যেসব জমিদার মুঘলদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে সচেষ্ট ছিলেন তারা ‘বারোভূঁইয়া’ নামে পরিচিত।
বারোভূঁইয়া ও তাদের জমিদারি এলাকা:
- ঈসা খান ও মুসা খান : সোনারগাঁও
- চাঁদ রায় ও কেদার রায় : বিক্রমপুর (মুন্সিগঞ্জ)
- বাহাদুর গাজি : ভাওয়াল
- সোনাগাজি : সরাইল (উত্তর ত্রিপুরা)
- ওসমান খান : বোকাইনগর (সিলেট)
- বীর হামির বিষ্ণুপুর (বাকুড়া)
- লক্ষণ মানিক্য : ভুলুয়া (নোয়াখালী)
- পরমানন্দ রায় : চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল)
- বিনোদ রায়/মধু রায় : চান্দপ্রতাপ (মানিকগঞ্জ)
- মুকুন্দরা/সত্রজিৎ : ভূষণা (ফরিদপুর)
- রাজা কন্দর্পনারায়ণ/রামচন্দ্র : বরিশাল জেলার অংশবিশেষ।
- ১৬১১ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান বারোভূঁইয়াদের দমন করে সমগ্র বাংলা মুঘল অধিকারে আনেন।


(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৪০৫.
মনসবদারি প্রথা প্রচলন করেন কে?
  1. সম্রাট বাবর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
মনসবদারি প্রথা: 
- মনসবদারি প্রথা প্রচলন করেন সম্রাট আকবর। 

- মনসবদারি ‘মনসব’ থেকে ‘মনসবদারি’ শব্দের উৎপত্তি।
- এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হল পদবি।
- মুঘল সম্রাট আকবর সমগ্র সামরিক বিভাগকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন এবং তা মনসবদারি প্রথা নামে পরিচিত।
- প্রতিটি মনসবের অধিকারী ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং আদেশ মতো কর্মসম্পাদনে বাধ্য থাকতেন।
- রাষ্ট্রের সকল সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এই প্রথা মতে পদমর্যাদা পেতেন।
- এই প্রথায় ১০ থেকে ১০,০০০ পর্যন্ত বাহিনীর পরিচালকগণ ৩৩টি পদমর্যাদায় বিন্যস্ত ছিলেন।
- আকবরের রাজত্বের মধ্যভাগ পর্যন্ত সাধারণ কর্মকর্তাগণ বড়জোর ৫০০০ সৈন্য পরিচালনার পদ পেতে পারতেন।
- ৭০০০ এবং ১০,০০০ সৈন্য পরিচালনার পদমর্যাদা শুধু শাহজাদাদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল।
- আকবরের পরবর্তী সম্রাটদের আমলে এই পদমর্যাদা বেড়ে ২০,০০০ বা তারও বেশিতে পৌঁছায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪০৬.
বাংলার বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন কে?
  1. ক) ভাওয়াল গাজী
  2. খ) চাঁদ রায়
  3. গ) ঈশা খান
  4. ঘ) পরমানন্দ রায়
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঈশা খান
ব্যাখ্যা
- মুঘল আমলে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাধীনচেতা জমিদারগণ ‘বারোভূঁইয়া’ নামে পরিচিত।
- বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন সোনারগাঁও এর জমিদার ঈসা খান এবং তার পুত্র মুসা খান।
- সম্রাট আকবরের সময় রাজমহলের যুদ্ধে দাউদ কররানী পরাজিত হলেও সমগ্র বাংলা মুঘলদের অধিকারে আসেনি। বারোভূঁইয়ারা স্বাধীনভাবেই তাদের জমিদারি বজায় রাখে।
- পরবর্তীতে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় বাংলার সুবাদার ইসলাম খান ১৬১১ সালে বারোভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে সমগ্র বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে আনেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪০৭.
ঢাকা গেইটের নির্মাতা কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. মীর জুমলা 
  3. আবদুল গনি
  4.  লর্ড কার্জন
সঠিক উত্তর:
মীর জুমলা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর জুমলা 
ব্যাখ্যা

ঢাকা গেইট:
- ঢাকা গেইট ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা।
- এটি মীর জুমলা গেইট, ময়মনসিংহ গেইট বা রমনা গেইট নামেও পরিচিত ছিল।
- 'ঢাকা গেইট' এর নির্মাতা হলেন 'মীর জুমলা'।
- মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময়ে বাংলার গভর্নর হয়ে আসেন মীর জুমলা।
- মীর জুমলা ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ সালের মধ্যে ঢাকা গেইট নির্মাণ করেছিলেন।
-সীমানা চিহ্নিত করতে এবং স্থলপথে শত্রুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি নির্মাণ করা হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪০৮.
কোন মুঘল সম্রাটের সময়ে 'দিওয়ান-ই-খাস' নির্মাণ করা হয়?
  1. বাবর
  2. আকবর
  3. শাহজাহান
  4. আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- সমরকুশলী হিসেবে সম্রাট শাহজাহান দক্ষতার পরিচয় দেন।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০৯.
মোঘল আমলে সুবে বাংলার রাজধানী ছিল -
  1. সোনারগাঁ
  2. ঢাকা
  3. গৌড়
  4. নদীয়া
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
১৬১০ সালে বাংলায় মোঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মোঘল পূর্ব যুগে বাংলার হিন্দু ও মুসলিম শাসকগণ ঢাকার চারদিকে বিভিন্ন অবস্থানে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন।
- এরকম উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রাজধানী হলো - সোনারগাঁ, বিক্রমপুর, ভাওয়াল ইত্যাদি।

পরবর্তীতে,
- ইসলাম খানের হাত ধরে ১৬১০ সালে বাংলায় মোঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
- ঢাকার নতুন নামকরণ করা হয় - জাহাঙ্গীরনগর।
- বাংলায় মোঘল শাসনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো - ঢাকা।

উৎস: ঢাকা জেলার ওয়েবসাইট।
৪১০.
'বাংলার আকবর' বলা হয় কাকে?
  1. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  2. কুতুব উদ্দিন আইবেক
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. মুহাম্মদ ঘুরি
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন।
- সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি 'বাংলার আকবর' হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব "বৈষ্ণব ধর্ম" প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাপিডিয়া।

৪১১.
মুঘল শাসনামলে রাষ্ট্রভাষা ছিল কোনটি?
  1. বাংলা
  2. হিন্দী
  3. ফার্সি
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
ফার্সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফার্সি
ব্যাখ্যা
মুঘল আমল:
- মুঘল সম্রাটরা ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও এ সময়ে ভারতবর্ষে বিভিন্ন ধর্মের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে সমান মর্যাদায় দেখা হতো।
- শিক্ষা ক্ষেত্রে মুঘল শাসনামল ছিল বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
- সম্রাট আকবর ছিলেন বিশেষ শিক্ষানুরাগী। তার সময়ে ভারতীয শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হয়।
- জাহাঙ্গীর, শাহজাহান, আওরঙ্গজেবও শিক্ষানুরাগী ছিলেন।
- মুঘল আমলে রাষ্ট্র ভাষা ছিল ফার্সি।
- মুঘল যুগ ছিল সাহিত্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গৌরবময়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১২.
কোন শাসককে 'জগৎভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. আলাউদ্দিন আলী শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:

- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৩.
পানি পথের প্রথম যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১৫৫৬ সালে
  2. ১৫২৮ সালে
  3. ১৫২৬ সালে
  4. ১৫২০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ সালে
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ: 
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দ। 
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। 
- সম্রাট বাবর পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয় লাভ করেন। 
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। 
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন। 
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। 
- শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন। 

উল্লেখ্য,
পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল-১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ
- পক্ষ - আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ বনাম আফগান নেতা হিমু।
- ফলাফল - হিমু পরাজিত ও নিহত হন।

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ:
- সময়কাল - ১৪ জানুয়ারি, ১৭৬১ সালে।
- আহমদ শাহ আবদালি বনাম মারাঠা।
- ফলাফল - মারাঠা বাহিনী পরাজিত হন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৪.
'মালজামিনি' ভূমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থাটি কে প্রবর্তিত করেন?
  1. সুজাউদ্দিন খান
  2. নবাব মুর্শিদ কুলি খান
  3. আলিবর্দি খান
  4. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
নবাব মুর্শিদ কুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা
• মুর্শিদ কুলি খান:
- মুর্শিদ কুলি খান দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়-বাণিজ্যে প্রসারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন।
- ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বাংলায় একটি নতুন ভূমি বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- তার প্রবর্তিত এ ব্যবস্থাটি 'মালজামিনি' প্রথা নামে পরিচিত।
- জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ইংরেজ, ফরাসি ও পারসিক ব্যবসায়ীদের তিনি উৎসাহ প্রদান করতেন।
- ব্যবসায়ীরা যাতে নির্দিষ্ট হারে প্রচলিত কর প্রদান করে এবং তাদের প্রতি যাতে কোনো অবিচার করানা হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়েছিল।
- কলকাতা, চুঁচুড়া ও চন্দননগর বিভিন্ন বিদেশি বণিকদের ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
- ১৭২৭ খ্রিষ্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান মৃত্যুবরণ করেন।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪১৫.
দিল্লির কোন শাসক ইলিয়াস শাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন?
  1. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  2. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  3. শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ শাহ তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিরোজ শাহ তুঘলক
ব্যাখ্যা
- ইলিয়াস শাহের শাসনামলে দিল্লির শাসক ছিলেন ফিরোজ শাহ তুঘলক। 
- ইলিয়াস শাহ দিল্লির মুসলমান শাসকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজ নামে খুতবা পাঠ ও মুদ্রা জারি করায় সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।
- প্রথম দিকে দিল্লির সুলতান বাংলার এ স্বাধীনতা মেনে নেননি।
- সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৫৩ থেকে ১৩৫৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ইলিয়াস শাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
- তাঁর চেষ্টা ছিল বাংলাকে দিল্লির মুসলিম অধিকারে নিয়ে আসা। কিন্তু তিনি সফল হননি।
- ইলিয়াস শাহ দুর্ভেদ্য একডালা দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
- এদিকে বর্ষা এলে জয়ের কোনো সম্ভাবনা না থাকায়, ফিরোজ শাহ সন্ধির মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতাকে মেনে নিয়ে ইলিয়াস শাহের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে দিল্লি ফিরে যান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪১৬.
‘আলমগীর পাদশাহ গাজী’ উপাধি গ্রহণ করে কোন মুঘল সম্রাট?
  1. আকবর
  2. আওরঙ্গজেব
  3. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
আওরঙ্গজেব:
- সম্রাট আওরঙ্গজেব উত্তরাধিকার যুদ্ধে জয়লাভের পর ‘আলমগীর পাদশাহ গাজী’ উপাধি গ্রহণ করে দিল্লির সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর রাজত্বকালে উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম এবং দক্ষিণে মুঘল সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটে।
- উত্তর-পূর্বে আসাম এবং চট্টগ্রামে মুঘল সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটে।
- একজন ধর্মপ্রাণ সুন্নি মুসলমান হিসেবে সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁর শাসনকার্য পরিচালনায় কুরআন-এর নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন।
- তিনি সরল, অনাড়ম্বর ও একজন সাধারণ ধার্মিকের মতো জীবন অতিবাহিত করেন।
- তিনি রাজদরবারে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করেন এবং রাজকীয় অনুষ্ঠানাদিতে জাঁকজমক পরিহার করেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব মুসলিম ধর্মতত্ত্বে গভীর উৎসাহী ছিলেন।
- আকার ও আয়তনে সর্ববৃহৎ মুঘল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য আওরঙ্গজেবের প্রশংসা করা হয়। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর জীবদ্দশাতেই এ বিশাল সাম্রাজ্যের ক্রম অবক্ষয় শুরু হয়।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে সম্রাটের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সংঘাত, সাম্রাজ্যের বিশালত্ব, মারাঠাদের সঙ্গে যুদ্ধে প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতি এবং সাম্রাজ্যে অভিজাতবর্গ বা আমলাতন্ত্রের দুর্বলতা প্রভৃতি মুঘল সাম্রাজ্যের ক্রম পতনের প্রধান কয়েকটি কারণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪১৭.
"The Prince of Builders or Engineer King" নামে পরিচিত কে?
  1. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  2. আকবর 
  3. জাহাঙ্গীর
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র ছিলেন সম্রাট শাহজাহান। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর শাহজাহান ১৬২৮ খ্রি. ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজী উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন। আসফ খানকে শাহাজাহান 
- শাহজাহানের রাজত্বকাল মুঘল ইতিহাসের স্বর্ণময় এক অধ্যায়।
- তিনি ছিলেন তার পূর্ববর্তী শাসকদের মতই সামরিক প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনায় দক্ষ এক নৃপতি।
- তার সময়কাল মুঘল ইতিহাসের চিত্রকলা ও স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ বলে বিবেচিত ও প্রশংসিত। 
- মুঘল ইতিহাসে তিনি প্রিয়তমা পত্নীর স্মৃতিতে তাজমহলের স্রষ্টা ও 'Prince of builders' নামে আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন।

⇒ মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল "The Age of Marble" নামে খ্যাত।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন শিল্পকলা, স্থাপত্য ও সৌন্দর্যের পূজারী। তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে "The Prince of Builders or Engineer King" নামে পরিচিত। তার স্থাপত্যরীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তিনি লাল পাথরে স্থলে মূল্যবান শ্বেত মর্মম পাথর (White marbel) ব্যবহার করেছেন।
- তার রাজত্বকালে দিল্লি, আগ্রা, লাহোরে ব্যাপক স্থাপত্য শৈলী তৈরী করা হয়েছিল।
- কাবুল, কান্দাহার ও কাশ্মিরে মনোরম উদ্যান, প্রাসাদ, মসজিদ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল।
- রাজধানী আগ্রাতে তিনি নির্মাণ করেছিলেন দীউয়ান-ই-আম, দীউয়ান-ই-খাস, মোতি মসজিদ, সালিমার উদ্যান, শীষ মহল ইত্যাদি।
- শাহজাহান ১৬৩৮ খ্রি. রাজধানী আগ্রা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করেন এবং নতুন নগরীর নাম দেন শাহজাহানাবাদ। এখানে তিনি লালকেল্লা, মমতাজ মহল ইত্যাদি নির্মাণ করেন।
- তার মসজিদ স্থাপত্যের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ছিল দিল্লির জামে মসজিদ।
- এছাড়াও তিনি বহু মূল্যবান রত্ন খচিত জগৎবিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন তৈরি করেন।

⇒ সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। ভারতীয় ও পারসিক শিল্পকলার মিলন ঘটিয়ে তাজমহল নির্মিত হয়েছে। 

⇒ আওরঙ্গজেব তার পিতা শাহজাহানকে আগ্রাদুর্গে বন্দি করে রাখেন।
- পুত্র আওরঙ্গজেব কর্তৃক দীর্ঘ আট বছর আগ্রা দুর্গে অন্তরীণ থেকে ১৬৬৬ খ্রি. ২২ জানুয়ারি ৭৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৮.
কোন মুগল সম্রাটকে শের শাহ যুদ্ধে পরাজিত করেন?
  1. হুমায়ুন
  2. বাবর
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
শেরশাহ:
→ পানিপথের যুদ্ধে সম্রাট বাবর আফগান শক্তিকে পরাজিত করলেও সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে পারেন নি। পরবর্তীকালে যাঁর নেতৃত্বে আফগানরা নতুনভাবে শক্তি সঞ্চয় করে তিনি হচ্ছেন শেরশাহ।
→ বাল্যকালে তার নাম ফরিদ।
→ শেরশাহের জন্ম ১৪৭২ খ্রিস্টাব্দে।
→ তিনি বিহারের শাসনকর্তা বাহারাম খানের অধীনে কর্মরত থাকাকালীন নিজগুণে তাঁর আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। এ সময় একটি বাঘ হত্যা করে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিলে ফরিদ ‘শের খান’ উপাধিতে ভূষিত হন।
→ পরবর্তীকালে চৌসার যুদ্ধে সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে ‘শেরশাহ’ উপাধি ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে বসেন তিনি।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৯.
কার সময়ে 'বারোভূঁইয়া' দের দমন করা হয়?
  1. সম্রাট হুমায়ুন
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
আফগান শাসন ও বারোভূঁইয়া (১৫৩৮-১৫৭৬ সাল): 
- ১৫৩৮ সালে আরব এবং পারস্যের অভিজাত মুসলমানদের হাতে প্রতিষ্ঠিত বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান হলে বাংলাকে একে একে অন্যান্য বিদেশি শক্তিসমূহ গ্রাস করতে থাকে।
- মুঘল সম্রাট হুমায়ুন অল্প কিছুকাল বাংলার রাজধানীর ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আফগান নেতা শের শাহের কাছে পরাজয় মানতে হয়।
- শেষ পর্যন্ত মুঘল সম্রাট আকবর আফগানদের হাত থেকে বাংলার ক্ষমতা কেড়ে নেন।
- অবশ্য রাজধানী দখল করলেও মুঘলরা বাংলার অভ্যন্তরে অনেক দিন পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।
- এ সময় বাংলায় অনেক বড় বড় স্বাধীন জমিদার ছিলেন।
- 'বারোভূঁইয়া' নামে পরিচিত এ সকল জমিদার মুঘলদের অধিকার মেনে নেননি।
- সম্রাট আকবরের সময় মুঘল সুবাদারগণ 'বারোভূঁইয়া'দের দমন করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি।
- 'বারোভূঁইয়া' দের দমন করা হয় সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪২০.
বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৫৪৮ সালে
  2. খ) ১৫৫৬ সালে
  3. গ) ১৫৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৫৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৮৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৮৪ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলা বর্ষপঞ্জি ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর প্রবর্তন করেন।
- এই নতুন বর্ষপঞ্জিটি প্রথমে তারিখ-ই-এলাহী নামে পরিচিত ছিল ।
- ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ এটি বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়।
- নতুন এই সালটি আকবরের রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষে প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে, কারণ এদিন আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তারিখ-ই-এলাহীর উদ্দেশ্য ছিল আকবরের বিজয়কে মহিমান্বিত করে রাখা এবং একটি অধিকতর পদ্ধতিগত উপায়ে রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করা।
- এর পূর্বে মুগল সম্রাটগণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে হিজরি বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করেতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২১.
বড় কাটরা কে নির্মাণ করেছেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. ইসলাম খান
  3. শাহ সুজা
  4. মুর্শিদকুলি খান
সঠিক উত্তর:
শাহ সুজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ সুজা
ব্যাখ্যা

বড় কাটরা:
- মুগল রাজধানী ঢাকার চক বাজারের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে অবস্থিত।
- শাহ সুজা বাংলাদেশে অন্যতম মুঘল স্থাপত্য ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন।
- ১৬৪৪ সালে শাহ সুজা বড় কাটরা নির্মাণ করেন।

• ছোট কাটরা:
- পুরাতন ঢাকার একটি মুঘল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পুরান ঢাকার চকবাজারের হাকিম হাবিবুর রহমান লেনে অবস্থিত।
- মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান ১৬৬৪ সালের দিকে এটি নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২২.
পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন-
  1. নব সিং হাজারী
  2. ইয়ার লতিফ
  3. মোহন লাল
  4. মীর মর্দান
সঠিক উত্তর:
ইয়ার লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়ার লতিফ
ব্যাখ্যা
• পলাশী যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন সকাল ৮টার দিকে যুদ্ধ আরম্ভ হয়।
- মীর মর্দান, মোহন লাল, খাজা আব্দুল হাদী খান, নব সিং হাজারী প্রমুখের অধীন নওয়াব সেনা বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ চালায়,
- অন্যদিকে মীরজাফর, ইয়ার লতিফ এবং রায় দুর্লভরামের অধীন নওয়াবের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ সেনা নিষ্ক্রিয়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে ও পরিস্থিতি অবলোকন করে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪২৩.
'শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ' নাম নিয়ে সিংহাসনে বসেন কে?
  1. হাজি ইলিয়াস
  2. আলি শাহ
  3. আলি মুবারক
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
হাজি ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজি ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
ইলিয়াস শাহি বংশ: 
- সোনারগাঁয়ে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ যখন স্বাধীন সুলতান তখন লখনৌতির সিংহাসন দখল করেছিলেন সেখানকার সেনাপতি আলি মুবারক।
- সিংহাসনে বসে তিনি 'আলাউদ্দিন আলি শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- লখনৌতিতে তিনিও স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন।
- পরে রাজধানী স্থানান্তর করেন পাণ্ডুয়ায় (ফিরোজাবাদ)।
- আলি শাহ ক্ষমতায় ছিলেন ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- তাঁর দুধভাই ছিলেন হাজি ইলিয়াস।
- তিনি আলি শাহকে পরাজিত ও নিহত করে 'শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ' নাম নিয়ে সিংহাসনে বসেন।
- বাংলায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজবংশের নাম ইলিয়াস শাহি বংশ।
- এরপর ইলিয়াস শাহের বংশধরগণ অনেক দিন বাংলা শাসন করেন।
- মাঝখানে কিছুদিনের জন্য রাজা গণেশের রাজত্বের উত্থান ঘটেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪২৪.
পলাশীর যুদ্ধে কোন ফরাসি সেনানায়ক বাংলার নবাবের পক্ষে লড়াই করে?
  1. ক) ক্যাপ্টেন হকিন্স
  2. খ) সিন ফ্রে
  3. গ) বার্থালিউ দিয়াজ
  4. ঘ) আল বুকার্ক
সঠিক উত্তর:
খ) সিন ফ্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিন ফ্রে
ব্যাখ্যা
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন ইংরেজদের সাথে সংঘটিত পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনানায়ক সিন ফ্রে নবাব সিরাজদ্দৌলার পক্ষে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন।
- অন্যদিকে, নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর সহ আরো কয়েকজন নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করাই নবাব যুদ্ধে পরাজিত হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : এসএসসি - উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৪২৫.
মুসলমান শাসনের ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ‘ বলা হয় -
  1. ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসন আমলকে
  2. খ) ফখরুদ্দীন মোবারক শাহের শাসন আমলকে
  3. গ) গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসন আমলকে
  4. ঘ) আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসন আমলকে
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসন আমলকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসন আমলকে
ব্যাখ্যা
•  আলাউদ্দিন হুসেন শাহ (১৪৯৩-১৫১৯):
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময় বাংলার রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়।
- তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- মুসলমান শাসনের ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ‘ বলা হয় - আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসন আমলকে।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধরবসু ‘ভগবদ গীতা’, কৃত্তিবাস ‘রামায়ন’ সংস্কৃত থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন।
- রামায়ন অনুবাদের জন্য হোসেন শাহ তাঁকে ‘গুনরাজ খাঁ’ উপাধি দেন।
- তাছাড়া কবি মালাধর বসু, মনসা মঙ্গল এর রচিয়তা বিজয় গুপ্ত, মনসা বিজয়ের লেখক বিপ্রদাস অনেকেই তাঁর সহযোগিতা পেয়েছিলেন।
- তাঁর অধীনস্থ চট্টগ্রামের শাসনকর্তা পরাগল খাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর নামক জনৈক পন্ডিত বাংলা ভাষায় ‘মহাভারত’ অনুবাদ করেন।
- গৌড়ের বিখ্যাত ছোট সোনা মসজিদ, মানিকগঞ্জ জেলার নাচাইল মসজিদ, গোমতি ফটক ছাড়া অগণিত মসজিদ, মাদ্রসা, সমাধি ও দূর্গ নির্মাণ করে তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি ‘বাদশাহী সড়ক’ সহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের চলাচলের জন্য অনেক রাস্তাঘাট নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২৬.
বাংলাকে ‍‘বুলগাকপুর’ হিসেবে অভিহিত করেন কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) ইবনে বতুতা
  3. গ) জিয়াউদ্দিন বারানী
  4. ঘ) সম্রাট হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
গ) জিয়াউদ্দিন বারানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জিয়াউদ্দিন বারানী
ব্যাখ্যা
- বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রথম পর্যায়ে (১২০৪-১৩৩৮ খ্রি.) বাংলার শাসকগণ পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না। তারা দিল্লির সুলতানদের অধীনে বাংলা শাসন করতেন।
- তবে এই সময়ের শাসকগণ প্রায়ই দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চেয়েছেন। কিন্তু দিল্লির সুলতানদের বারবার আক্রমণে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ফলে বাংলায় এই সময়ে মুসলিম শাসন ছিলো বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলাপূর্ণ।
- যার কারণে ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ বা ‘বিদ্রোহের নগরী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪২৭.
কোন নদীর তীরে পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ক) ভাগীরথী নদী
  2. খ) করোতোয়া নদী
  3. গ) গোমতী নদী
  4. ঘ) যমুনা নদী
সঠিক উত্তর:
ক) ভাগীরথী নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাগীরথী নদী
ব্যাখ্যা
পলাশী যুদ্ধ:

- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলা ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- পলাশী যুদ্ধের সুদূর প্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৮.
‘মধ্যযুগের গোপাল’ বলে কাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. সুলতান সিকান্দার শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা

সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
- তার শাসনামলে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।
- হুসেন শাহ কামরূপ ও কামতা জয় করেন।
- ঊড়িষ্যা এবং ত্রিপুরার কিছু অংশ তার শাসনাধীন আসে।
- এছাড়া তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে 'নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪২৯.
ঢাকার ঐতিহাসিক বড় কাটরা কে নির্মাণ করেন? 
  1. শায়েস্তা খান
  2. শাহ সুজা
  3. ইসলাম খান
  4. ইলতুৎমিশ
সঠিক উত্তর:
শাহ সুজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ সুজা
ব্যাখ্যা

• বড় কাটরা:
-
বড় কাটরা ঢাকায় অবস্থিত মুঘল আমলের নিদর্শন।
- বড় কাটরা ১৬৪৪–১৬৪৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত হয়।
- এটি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র এবং তৎকালীন বাংলার সুবাদার শাহ সুজার আদেশে তার দেওয়ান মীর আবুল কাসিম নির্মাণ করেন।
- প্রথমে এটি শাহ সুজার বাসস্থানের জন্য তৈরি হলেও পরে মুসাফিরখানা (সরাই) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বড় কাটরা ঢাকার পুরান অংশে, চকবাজারের দক্ষিণে, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- ঢাকার ইতিহাস ও মুঘল স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বড় কাটরা আজও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

উল্লেখ্য,
- ছোট কাটরা হল ঢাকায় মুঘল শাসনামলে নির্মিত দুটি কাটরার মধ্যে একটি।
- এটি ১৬৬৩–১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে সুবাহদার শায়েস্তা খান কর্তৃক নির্মিত হয়।
- ছোট কাটরা অবস্থিত বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে, হাকিম হাবিবুর রহমান লেনে।
- মূলত এটি শায়েস্তা খানের ব্যক্তিগত বসবাস এবং তার পরিবারের জন্য নির্মিত হলেও, তৎকালীন সুবাদারি প্রশাসনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসাবেও ব্যবহৃত হতো।
- মুঘল স্থাপত্যের সঙ্গে ঢাকার প্রাচীন কাঠামোর সমন্বয়ে নির্মিত এই কাটরা পরে সরকারি কর্মকর্তা এবং অতিথিদের থাকার জন্যও ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া;
২. প্রথম আলো।

৪৩০.
বাংলাদেশের কোন এলাকা থেকে বিখ্যাত 'গ্রান্ড ট্রাঙ্ক' রোডটি শুরু হয়েছে?
  1. ক) সোনারগাঁও
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) মানিকগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ক) সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা

- শের শাহের গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- তিনি এ পথে গমনকারী পথচারীদের সুবিধার জন্য রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপণ ও সরাইখানা স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

- এছাড়াও শেরশাহ ‘ঘোড়ার ডাক’ এবং কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথার প্রচলন করেন।]
- তিনি ‘দাম’ নামক রূপার মুদ্রার প্রচলন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৩১.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কোথায় রাজধানী স্থাপন করেন?
  1. গৌড়
  2. সোনারগাঁও
  3. একডালা
  4. বিহার
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ:
- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ।
- তার রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।

⇒ ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার শাসকগণ দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের শাসনামলে বাংলাকে সোনারগাঁও, লখনৌতি ও সাতগাঁও এই তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হলে ফখরুদ্দিন নামে তাঁর একজন সিলাদার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- তিনি 'মুবারক শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।

⇒ ফখরুদ্দিন বাংলায় তাঁর কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করলে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাংলায় দু'শো বছরের স্বাধীন ইতিহাসের সূচনা হয়। 
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান।
- একজন যোগ্য শাসক ও কূটকৌশলী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি নিজ নামে মুদ্রা জারি করেন।
- তিনি তাঁর রাজ্যসীমা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অনেকটা সম্প্রসারণ করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম বিজয় করেন এবং এ পর্যন্ত সমগ্র ভূ-ভাগে তাঁর সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণে ছিল। 
- তিনি তাঁর রাজ্যে অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ ইত্যাদি নির্মাণ করেন। 

⇒ ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন (১৩৪৬)।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩২.
‘হাজিগঞ্জ দুর্গ’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চাঁদপুর
  2. দিনাজপুর
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. বাগেরহাট
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

- নারায়ণগঞ্জ জেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত হাজিগঞ্জ দুর্গ (বর্তমানে খিজিরপুর দুর্গ নামে পরিচিতি)।
- সম্ভবত সুবাদার মীর জুমলা (১৬৬০-১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দ) এটি নির্মাণ করেন।
- মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য এ দুর্গ তৈরি করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।

৪৩৩.
হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. নাসিরুদ্দিন বরবক শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা: 
- হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ। 
- তিনি ছিলেন আরবের সৈয়দ বংশের লোক। 
- তিনি হাবশি সুলতান বরবক শাহের আমলে বাংলায় আসেন এবং চাকুরি গ্রহণ করেন। 
- সর্বশেষ হাবশি সুলতান মুজাফ্ফর শাহ তাঁকে উজির নিযুক্ত করেন।
- মুজাফ্ফর শাহের স্বৈর শাসনে দেশে বিদ্রোহ দেখা দেয়।
- গৌড়ের অনেক অধিবাসীকে তিনি নির্মমভাবে হত্যা করেন।
- দেশের এরূপ পরিস্থিতিতে হোসেন শাহ হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- তিনি আলাউদ্দিন হোসেন শাহ উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর নামানুসারেই তাঁর বংশের নাম হয় হোসেন শাহী বংশ।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৪.
কার সময় থেকে বাংলা সুবা প্রায় স্বাধীন হয়ে পড়ে?
  1. শায়েস্তা খান 
  2. আলিবর্দি খান 
  3. সুজাউদ্দিন খান
  4. মুর্শিদ কুলি খান
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা
নবাব মুর্শিদ কুলি খান: 
- নবাব মুর্শিদ কুলি খানের সময় থেকেই বাংলা সুবা প্রায় স্বাধীন হয়ে পড়ে।
- এ সময় সুবাকে বলা হতো 'নিজামত' আর সুবাদারের বদলে পদবি হয় 'নাজিম'।
- নাজিম পদটি হয়ে পড়ে বংশগত। সুবাদার বা নাজিমগণ বাংলার সিংহাসনে বসে মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে শুধু একটি অনুমোদন নিয়ে নিতেন।
- তাই আঠারো শতকের বাংলায় মুঘল শাসনের ইতিহাস নিজামত বা নবাবি আমলরূপে পরিচিত।
- আর প্রায় স্বাধীন শাসকগণ পরিচিত হন 'নবাব' হিসেবে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৩৫.
ছোট সোনা মসজিদ কোন আমলের স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. গুপ্ত
  2. সুলতানি
  3. নবাবী
  4. মুঘল
সঠিক উত্তর:
সুলতানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতানি
ব্যাখ্যা

ছোট সোনা মসজিদ:
- ছোট সোনা মসজিদ সুলতানি আমলের একটি অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। এটি 'সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন' বলে আখ্যায়িত। 
- মধ্যযুগের সুলতানি আমলের গৌড়নগরীর এক ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনামসজিদ।
- মসজিদটিকে বলা হতো ‘গৌড়ের রত্ন’।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রধানতম নিদর্শন হচ্ছে ছোট সোনামসজিদ।
- মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে (১৪৯৩-১৫১৯) নির্মিত হয় সোনামসজিদ। 
- প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৩৬.
নিম্নের কোনটি পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের অন্যতম কারণ?
  1. মীর জাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাস ঘাতকতা।
  2. নবাবের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অভাব।
  3. নবাবের অপরিপক্ক সমরজ্ঞান।
  4. রবার্ট ক্লাইভ সুক্ষ্ণ কূটনীতি, উন্নত রণকৌশল।
সঠিক উত্তর:
মীর জাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাস ঘাতকতা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর জাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাস ঘাতকতা।
ব্যাখ্যা

পলাশী যুদ্ধ:
- পলাশীর যুদ্ধ নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এ যুদ্ধ আট ঘণ্টার মতো স্থায়ী ছিল।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক।
- এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

নবাবের পতনের কারণ
- পলাশীর যুদ্ধকে একটি বিরাট ও ভয়াবহ যুদ্ধ না বলে একটি খণ্ড যুদ্ধ বলা যায়।
- কারণ এ যুদ্ধের পরিস্থিতি ও গুরুত্ব বিচার করলে এ যুদ্ধকে কখনই বিরাট যুদ্ধ রূপে চিহ্নিত করা যায় না। পলাশীর যুদ্ধে নবাব বাহিনীর

• পরাজয়ের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ ছিল:

প্রথমত: মীর জাফর ও তার সহযোগীদের বিশ্বাসঘাতকতাই ছিল নবাবের পতনের প্রধান কারণ। বিজয়ের মুহূর্তে প্রধান সেনাপতি হিসাবে তিনি নবাবকে ভুল পরামর্শ দেন ও যুদ্ধ ক্ষেত্রে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

দ্বিতীয়ত: তরুণ নবাবের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতার অভাব এবং মাতামহের অত্যাধিক স্নেহ প্রাচুর্যের মধ্যে লালিত পালিত হওয়ায় সিরাজের চরিত্রে কঠোরতা ও দৃঢ়তার অভাব ছিল। ফলে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির মুখে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া সত্বেও তিনি দুর্বলতার কারণে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাহসী হন নাই।

তৃতীয়ত: যুদ্ধক্ষেত্রে সুনিশ্চিত বিজয়কে উপেক্ষা করে নবাবের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করা তাঁর সমরনীতির অপরিপক্কতার ও পরনির্ভরশীলতার পরিচয় বহন করে যা তাঁর পতনকে তরান্বিত করে।

চতুর্থত: এ সময় মানুষের মধ্যে চারিত্রিক দৃঢ়তার অভাব দেখা দিয়েছিল। ফরাসিরা তাঁর বিরুদ্ধে ইংরেজদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তাঁকে হুঁশিয়ার করে দেয়ার পরেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেন নি। নবাব আলীবর্দী খানও মৃত্যুর আগে সিরাজকে ইংরেজদের শক্তি বৃদ্ধি সম্পর্কে সতর্ক করে যান।

পঞ্চমত: কর্মচারী, সভাসদ, সেনাপতি, ব্যবসায়ী, ধনকুবের ও সৈন্যরা নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করে নি।

ষষ্ঠত: সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মূল নায়ক রবার্ট ক্লাইভ সূক্ষ্ণ কূটনীতি, উন্নত রণকৌশল এবং রণসম্ভারে নবাব অপেক্ষা অনেক বেশি পারদর্শী ছিলেন। ফলে ক্লাইভের নিকট নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় অবধারিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৭.
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কোন বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নির্বাসিত করে?
  1. মারাঠা বিদ্রোহ
  2. আফগান বিদ্রোহ
  3. বার্মা বিদ্রোহ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

⇒ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নির্বাসিত করে।

মুঘল সাম্রাজ্যের পতন:
- ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে।
- সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর ভারতবর্ষে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য পতনের জন্য দায়ী -
• রাজনৈতিক,
• অর্থনৈতিক,
•বহিঃআক্রমন

- পারস্য সম্রাট নাদির শাহ এবং পরবর্তীকালে আফগান রাজা আহমদ শাহ আবদালীর দিল্লি আক্রমণ ও লুণ্ঠনে মুঘল সাম্রাজ্য দুর্দশায় ও পতনুম্মুখ হয়ে পড়ে।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৮.
মুঘল প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ফৌজদার ছিলেন -
  1. সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা
  2. পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা
  3. সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক
  4. রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস
সঠিক উত্তর:
সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৯.
কোন মুঘল সম্রাটের আমলে বাংলার বারভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে দমন করা সম্ভব হয়?
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) সম্রাট আকবর
  3. গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও-এর জমিদার ঈসা খানের নেতৃত্বে জমিদারদের বাহিনী সম্রাট আকবরের সেনাপতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বহু ক্ষেত্রে তাঁদের পরাভূত করেন। সেজন্য সম্রাট আকবরের শাসনকালে বাংলার অধিকাংশ জায়গায় মুঘল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। ঈসা খানের মৃত্যুর পর বারভূঁইয়াদের নেতা হন মুসা খান। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে সুবেদার ইসলাম খান বারভূঁইয়াদের নেতা মুসা খানকে পরাস্ত করে বাংলায় সুবেদারি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪০.
ভারতবর্ষে সুলতান মাহমুদ কত বার আক্রমন করেন?
  1. ১৩ বার
  2. ১৭ বার
  3. ১১ বার
  4. ১৫ বার
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ বার
ব্যাখ্যা
• সুলতান মাহমুদ: 
- সুলতান উপাধিধারী প্রথম শাসক গজনভির মাহমুদ বা সুলতান মাহমুদ (৯৭১-১০৩০)।
- তাঁর পুরো নাম ইয়ামিনউদ্দৌলা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে সবুক্তগিন। মাহমুদ-ই জাবুলি নামেও তিনি পরিচিত।
- সুলতান মাহমুদ ছিলেন গজনভি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সবুক্তগিনের (আবু মনসুর সবুক্তগিন) জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- পিতার মৃত্যুর পর ৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে বসেন।
- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত (১০৩০) তিনি পূর্ব ইরানীয় ভূমি এবং ভারত উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশ (বর্তমান আফগানিস্তান ও পাকিস্তান) জয় করেন।
- সামরিক মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে তিনি ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন এবং প্রতিবারই বিজয়ী হন।

সূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ।
৪৪১.
সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. ক) নবীন মাধব
  2. খ) মেঘলা সর্দার
  3. গ) মজনু শাহ
  4. ঘ) ভবানী পাঠক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবানী পাঠক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভবানী পাঠক
ব্যাখ্যা
বাংলায় ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন। আঠারো শতকের ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
এই আন্দোলনে সন্ন্যাসীদের নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক। অন্যদিকে ফকিরদের নেতৃত্ব দেন মজনু শাহ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৪২.
বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. সুবাদার ইসলাম খান
  3. শেরশাহ
  4. মুর্শিদকুলি খান
সঠিক উত্তর:
সুবাদার ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবাদার ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
• মুঘল শাসন: 
- বাংলার বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে এদেশে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের ।
- আর এ কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদার ইসলাম খান ।
- সুবাদার ইসলাম খান রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকায় প্রবেশ করেন।
- এ সময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী।
- সম্রাটের নাম অনুসারে ঢাকার নাম রাখা হয় 'জাহাঙ্গীরনগর'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৪৩.
কোন মুঘল সম্রাটের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে?
  1. দ্বিতীয় শাহ আলম
  2. ফারুখসিয়ার
  3. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
  4. শাহ আলম
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা

মুঘল সাম্রাজ্যের পতন:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।
- পারস্য সম্রাট নাদির শাহ এবং পরবর্তীকালে আফগান রাজা আহমদ শাহ আবদালীর দিল্লি আক্রমণ ও লুণ্ঠনে মুঘল সাম্রাজ্য দুর্দশায় ও পতনুম্মুখ হয়ে পড়ে।
- এমনি মুমূর্ষ অবস্থায় ইংরেজ শক্তির ক্ষমতা দখল করার ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৪.
'অন্ধকূপ হত্যা' নামক কল্প কাহিনীর জনক কে?
  1. হলওয়েল
  2. ড্রেক
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. ওয়াটসন
সঠিক উত্তর:
হলওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলওয়েল
ব্যাখ্যা
'অন্ধকূপ-হত্যা' কাহিনী:
- কথিত আছে নবাবের আদেশে ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে ১৮×১৪ চওড়া বিশিষ্ট ছোট কক্ষে রাখা হয়েছিল।
- জুন মাসের প্রচণ্ড গরমে এদের মধ্যে ১২৩ জন শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যায়।
- বাকী ২৩ জন কোনো রকমে বেঁচে যায়।
- হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত এ কাহিনী 'অন্ধকূপ হত্যা' নামে পরিচিত।
- 'অন্ধকূপ-হত্যা' কাহিনীর পেছনে কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না।
- শুধু নবাবের বিরুদ্ধে ইংরেজদেরকে উত্তেজিত করার জন্য এটি একটি কল্পিত-কাহিনী মাত্র।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৪৪৫.
মাত্র তেরো বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন- 
  1. লক্ষ্মণ সেন
  2. ইলিয়াস শাহ্‌
  3. সম্রাট আকবর
  4. বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

• সম্রাট আকবর:
- সম্রাট আকবর ছিলেন তৃতীয় মুঘল সম্রাট।
- তাঁর পূর্ণ নাম অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- তাঁর পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে বসেন।
- আকবরের শাসনামলে মোগল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় হয়।
- তিনি সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- তাঁর দরবারে জ্ঞানী, গুণী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে তাঁর শাসনামলের বিস্তারিত বর্ণনা আছে।
- সম্রাট আকবরের শাসনকালে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- আকবর সমন্বয়বাদী চিন্তার ধারক-বাহক ছিলেন।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে তিনি বাংলা সন বা ফসলি সন প্রবর্তন করেন, যা পরে বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর দীন-ই-ইলাহি ধর্ম প্রবর্তন করেন এবং জিজিয়া কর বাতিল করেন। 

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৪৪৬.
'লাহোরের বাদশাহী মসজিদ' কোন মুঘল সম্রাটের স্থাপত্য শিল্পের বিশেষ নিদর্শন?
  1. আকবর
  2. জাহাঙ্গীর
  3. আওরঙ্গজেব
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
মুঘল স্থাপনা:
- মুঘল যুগে স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- প্রায় সব মুঘল সম্রাট স্থাপত্য শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকর্ষণীয় সৌধ, ইমারত, মসজিদ, উদ্যান এমনকি ময়ূর সিংহাসন মুঘলদের কীর্তির অবিনশ্বর স্বাক্ষর বহন করে।
- মুঘল যুগে চিত্রশিল্পও বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে ছিল।

• বাবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আগ্রায় পানিপথের কাবুলিবাগ নামক স্থানে মসজিদ নির্মিত হয়।

• হুমায়ুনের সময় স্থাপত্যসমূহ:
- হুমায়ুনের আমলে দিল্লিতে দীন-পানাহ ভবন, আগ্রায় ও ফতেহাবাদে নির্মিত মসজিদ তাঁর সময় কালের স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

• আকবরের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- আকবরের আমলে নির্মিত প্রাসাদ, দুর্গ, মসজিদ ও সৌধগুলোর মধ্যে ফতেহপুর সিক্রি, হুমায়ুনের সমাধি, ইবাদতখানা, বুলন্দ দরওয়াজা, পাঁচ মহল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

• জাহাঙ্গীরের ভূমিকা:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে আকবরের সমাধি সৌধ, ইতমাতুদ্দৌলার সমাধি সৌধ এবং তাঁর নিজের জন্য নির্মিত সমাধি সৌধের নাম উল্লেখ করা যায়।

• শাহজাহানের সময় কালের স্থাপত্যসমূহ:
- তিনি তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর অবিনশ্বর প্রেমের এক অনিন্দ্য সুন্দর সৌধ তাজমহল নির্মাণ করেন।
- তাঁর আমলে আগ্রার মতি মসজিদ, দিল্লির জামে মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস নির্মিত হয়। দিওয়ান-ই-খাসের অপূর্ব নির্মাণ শৈলী এবং শিল্পকর্মের চমৎকারিত্যের জন্য এটি 'দুনিয়ার বেহেস্ত' বলে অভিহিত।
- ভুবন বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন মনি-মুক্তা, হীরা ও মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি। ময়ূর সিংহাসন সম্রাট শাহজাহানের শিল্পানুরাগের অন্যতম কীর্তি।
- তিনি 'শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন শহরও নির্মাণ করেন যা বর্তমানে নতুন দিল্লি নামে পরিচিত।

• আওরঙ্গজেবের সময়ের স্থাপত্যসমূহ:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত লাহোরের বাদশাহী মসজিদ স্থাপত্য শিল্পের এক বিশেষ নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৭.
সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা সনের প্রবর্তনের সাথে কোন নামটি জড়িত?
  1. ক) টোডরমল
  2. খ) আবুল ফজল
  3. গ) ফৈজি
  4. ঘ) ফতুল্লা সিরাজী
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফতুল্লা সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফতুল্লা সিরাজী
ব্যাখ্যা

বাদশাহ আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য ইরানি জ্যোতির্বিদ ফতুল্লা সিরাজী ১৫৮৪ সাল থেকে তারিখ ই এলাহি নামে নতুন বছর গণনা চালু করেন।
- বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয় ১৫৫৬ সাল থেকে, যার প্রবক্তা ছিলেন মুঘল সম্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- সম্রাট আকবর তার সিংহাসনে আহরণের দিন থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন।
- আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) পিতা হুমায়ুনের আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে মুঘল সিংহাসনে আরোহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৪৪৮.
বাংলাকে ‘বিদ্রোহের নগরী’ নামে অভিহিত করেন কে?
  1. আমির খসরু
  2. জিয়াউদ্দিন বারানী
  3. বখতিয়ার খলজি
  4. ইবনে বতুতা
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
ব্যাখ্যা

বিদ্রোহের নগরী:
- ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী মধ্যযুগীয় বাংলা বা তৎকালীন বাংলাকে ‘বুলগাকপুর’ বা ‘বিদ্রোহের নগরী’ নামে অভিহিত করেন। 


উল্লেখ্য,
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। এরপর রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনকাল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না। তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকে সুযোগ পেলেই বিদ্রোহ ঘোষণা করতেন।
- এজন্য বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।
- দিল্লির ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলার নাম রেখেছিলেন 'বুলগাকপুর'।
- জিয়াউদ্দিন বারানী ছিলেন সুলতান মোহাম্মদ বিন তুঘলক ও ফিরোজ শাহ তুঘলকের সময় দিল্লি সালতানাতের একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বণিক বার্তা।

৪৪৯.
বাংলার ইতিহাসে বারোভূঁইয়াদের আবির্ভাব কত শতকে ঘটে?
  1. ক) ষোল-সতেরো শতকে
  2. খ) চৌদ্দ-পনেরো শতকে
  3. গ) আঠারো-উনিশ শতকে
  4. ঘ) তের-চৌদ্দ শতকে
সঠিক উত্তর:
ক) ষোল-সতেরো শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ষোল-সতেরো শতকে
ব্যাখ্যা
- বাংলার ইতিহাসে বারোভূঁইয়াদের আর্বিভাব ষোলো শতকের মাঝামাঝি থেকে সতেরো শতকের মধ্যবর্তী সময়ে ঘটে।
- আলোচ্য সময়ে মুঘলদের বিরুদ্ধে য়াঁরা নিজেদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন, ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে তাঁরাই বারোভূঁইয়া।
- প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান।
- ১৫৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ঈসা খানের মৃত্যু হলে বারোভূঁইয়াদের নেতা হন তার পুত্র মুসা খান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫০.
‘The Prince of Builder’ নামে কে পরিচিত?
  1. আকবর
  2. বাবর
  3. শাহজাহান
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
- স্থাপত্যে অসামান্য অবদানের জন্য শাহজাহানকে “The Prince of Builder” বলা হয়।

শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- মোগল ইতিহাসে সম্রাট শাহজাহানের জীবনালেখ্য বৈচিত্র্যময় ঘটনায় পরিপূর্ণ।
- তিনি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম নিজে তদারক করতেন এবং প্রজাদেরকে সন্তানতুল্য বিবেচনা করতেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন ও স্ত্রীর প্রতি তার ভালবাসার অনন্য বহি:প্রকাশ।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।
- ‘শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন নগর তিনি নির্মাণ করান যা বর্তমানে নতুন দিল্লী নামে পরিচিত।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
সম্রাট শাহজাহানের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি -
  1. মতি মসজিদ
  2. দিওয়ান-ই-খাস
  3. দিওয়ান-ই-আম
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- মোগল ইতিহাসে সম্রাট শাহজাহানের জীবনালেখ্য বৈচিত্র্যময় ঘটনায় পরিপূর্ণ।
- তিনি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম নিজে তদারক করতেন এবং প্রজাদেরকে সন্তানতুল্য বিবেচনা করতেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন ও স্ত্রীর প্রতি তার ভালবাসার অনন্য বহি:প্রকাশ।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।
- ‘শাহজাহানাবাদ' নামে একটি নতুন নগর তিনি নির্মাণ করান যা বর্তমানে নতুন দিল্লী নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫২.
বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় কার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে?
  1. ইব্রাহিম লোদি
  2. দাউদ খান কররানি
  3. শের শাহ সুরি
  4. হুসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
দাউদ খান কররানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাউদ খান কররানি
ব্যাখ্যা

মুঘল শাসন :  
- মুঘল শাসন (১৭৫৭ পর্যন্ত)  ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুলাই রাজমহলের যুদ্ধে খান জাহানের কাছে কররানী আফগান সুলতান  দাউদ খান এর পরাজয়ের পর বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দাউদ খানের বিরুদ্ধে খান জাহানের জয় লাভের পর মুঘলরা বাংলায় তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় সংকল্প নিয়ে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যায়।
- এবং শেষ পর্যন্ত ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দে জাহাঙ্গীর-এর সুবাহদার  ইসলাম খান চিশতি সমগ্র বাংলা (চট্টগ্রাম ছাড়া) মুঘলদের কর্তৃত্বাধীনে আনেন।
- দাউদ খানের পরাজয়ের সঙ্গেই বাংলায় সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে।
- কিন্তু এর অর্থ কোনোভাবেই এ নয় যে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার প্রতিরোধ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কতিপয় সামরিক দলপতি ও ভূঁইয়াদের কেউ কেউ রাজা উপাধি গ্রহণের মতো শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন এবং তারা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন দলপতি হিসেবে তাঁরা মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।
- মুঘল আগ্রাসন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে বারো ভুঁইয়া নামে পরিচিত ভূঁইয়ারা ছিলেন সর্বাধিক খ্যাত।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।

৪৫৩.
১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন কে?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. আলাউদ্দিন আলী শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সুলতানি আমল (১৩৩৮ ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দ): 
- দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক বিদ্রোহপ্রবণ বাংলাকে দিল্লির অধীনে রাখার জন্য বাংলাকে তিনটি প্রশাসনিক ইউনিটে ভাগ করেন।
- ইউনিটগুলো হলো লাখনৌতি, সাতগাঁও ও সোনারগাঁ।
- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা বাহরাম খানের মৃত্যু হয়।
- বাহরাম খানের বর্মরক্ষক ছিলেন 'ফখরা' নামের একজন রাজকর্মচারী।
- ১৩৩৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রভুর মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং 'ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ' নাম নিয়ে সোনারগাঁয়ের সিংহাসনে বসেন।
- এভাবেই সূচনা হয় বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের।
- দিল্লির সুলতান মুহম্মদ-বিন-তুঘলকের পক্ষে এ সময় বাংলার দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
- তাই সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতার সূচনা হলেও ধীরে ধীরে স্বাধীন অংশের সীমা বিস্তৃত হতে থাকে।
- পরবর্তী দুই'শ বছর এ স্বাধীনতা কেউ কেড়ে নিতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৫৪.
মুর্শিদকুলী খানকে প্রথমে বাংলার কোন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়?
  1. শাসনকর্তা
  2. দিউয়ান
  3. সুবাদার
  4. নবাব
সঠিক উত্তর:
দিউয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিউয়ান
ব্যাখ্যা
মুর্শিদকুলী খান:
- দক্ষ সুবাদার হিসেবে বাংলার শাসন ক্ষমতায় আসেন মুর্শিদকুলী খান (১৭০০-১৭২৭)।
- প্রথমে তাঁকে বাংলার দিউয়ান পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
- দিউয়ানের কাজ ছিল সুবার রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।
- সম্রাট ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে মুর্শিদকুলী খান বাংলার সুবাদার পদ দেয়া হয়।
- এদেশের রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য তিনি খ্যাতিমান হয়ে আছেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দুর্বল মোগল সম্রাটগণ দূরবর্তী সুবাগুলোর দিকে তেমন দৃষ্টি দিতে পারেন নি।
- ফলে এসব অঞ্চলের সুবাদারগণ অনেকটা স্বাধীনভাবে নিজেদের অঞ্চল শাসন করতে থাকেন।
- মুর্শিদকুলী খানও অনেকটা স্বাধীন হয়ে পরেন।
- তিনি নামেমাত্র সম্রাটের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতেন এবং সম্রাটকে বার্ষিক ১ কোটি ৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব পাঠাতেন।
- মুর্শিদকুলী খানের পর তাঁর জামাতা সুজাউদ্দিন খান বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- এভাবে বাংলার সুবাদারী বংশগত হয়ে পরে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৪৫৫.
গৌড়ের সোনা মসজিদ নির্মিত হয় কার আমলে?
  1. ক) নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
  2. খ) মোবারক শাহ
  3. গ) হোসেন শাহ
  4. ঘ) বরবক শাহ
সঠিক উত্তর:
গ) হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
হোসেন শাহ (১৪৯৪-১৫১৯) বাংলার হোসেনশাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা।

- তিনি হাবশী সুলতান শামসুদ্দীন মুজাফফর শাহের উজির ছিলেন। তিনি সুলতানকে হত্যা করে সিংহাসন অধিকার করেন।
- ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি নেতৃস্থানীয় আমীরদের দ্বারা সুলতান নির্বাচিত হন এবং আলাউদ্দিন হুসেন শাহ নাম ধারন করেন।
- তিনিই হুসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন।
- গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ তার আমলে নির্মিত হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫৬.
ঢাকার "ধোলাই খাল" খনন করেন কে?
  1. ইসলাম খান
  2. শাহজাহান
  3. মীর জুমলা
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
মুগল সুবাদার ইসলাম খান: 
- ঢাকার "ধোলাই খাল" খনন করেন ঢাকার প্রথম মুগল সুবাদার ইসলাম খান।
- ১৬০৮-১৬১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি এই খালটি খনন করেন।
- খালটি শহরের সুরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগের সুবিধা প্রদান করতে খনন করা হয়েছিল।
- এটি এক সময় ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা, যেমন লালবাগ দুর্গ, আহসান মঞ্জিল, বড় কাটরা ইত্যাদির নিকটবর্তী ছিল।  

উল্লেখ্য, 
- মুগল সুবাদার ইসলাম খান ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীর নগর।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৫৭.
মধ্যযুগে সোনারগাঁও কাদের রাজধানী ছিল?
  1. পাল রাজাদের
  2. মুঘল সম্রাটদের
  3. চন্দ্র রাজাদের
  4. মুসলিম সুলতানদের
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সুলতানদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সুলতানদের
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
- বর্তমান ঢাকা থেকে ২৭ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সোনারগাঁও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ'র স্ত্রী সোনাবিবি'র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন ঈশা খাঁ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৫৮.
লালবাগ দুর্গে সমাহিত শায়েস্তা খানের কন্যার আসল নাম কী ছিল?
  1. সোবিয়াত
  2. পরীবিবি
  3. ইরান দুখ্‌ত
  4. ইবায়ারা
সঠিক উত্তর:
ইরান দুখ্‌ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান দুখ্‌ত
ব্যাখ্যা

• লালবাগ কেল্লা:
লালবাগ কেল্লার নাম ছিল কেল্লা আওরঙ্গবাদ বা আওরঙ্গবাদ দুর্গ। এই কেল্লার নকশা করেন শাহ আজম। মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব-এর ৩য় পুত্র আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার সুবেদারের বাসস্থান হিসেবে এ দুর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। নবাব শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে ঢাকায় এসে পুনরায় দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু করেন।

- শায়েস্তা খানের কন্যা পরী বিবির মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।
- পরী বিবিকে দরবার হল এবং মসজিদের ঠিক মাঝখানে সমাহিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- পরী বিবির আসল নাম ইরান দুখত রেহমত বানু। 

- ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটি নামে একটি আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্গের উন্নয়ন কাজ শুরু করে। এ সময় দুর্গটি লালবাগ দুর্গ নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯১০ সালে লালবাগ দুর্গের প্রাচীর সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে আনা হয়। এটি মোগল আমল এর একটি চমৎকার নিদর্শন। 

উৎস:
i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ৯ ডিসেম্বর ২০১৬, প্রথম আলো।
iii) বাংলাপিডিয়া।

৪৫৯.
'দিওয়ান-ই-আম' কোন মুঘল সম্রাটের সময়ে নির্মিত?
  1. আকবর
  2. বাবর
  3. শাহজাহান
  4. হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- সমরকুশলী হিসেবে সম্রাট শাহজাহান দক্ষতার পরিচয় দেন।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬০.
রাজা টোডরমল কোন মুঘল সম্রাটের অর্থমন্ত্রী ছিলেন?
  1. আকবর
  2. জাহাঙ্গীর
  3. বাবর
  4. আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা

→ রাজা টোডরমল সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

 সম্রাট আকবরের শাসনকাল:
- সম্রাট আকবর ভারতে মুঘল শাসন বিস্তার ও সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
- এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তার রাজপুত নীতি, ভূমি ব্যবস্থা তথা মনসবদারী প্রথা ইত্যাদি।
- ভারতে মুঘল রাজ্য বিস্তারের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল রাজপুত জাতি।
- জাতিগতভাবে রাজপুতরা ছিল বীর ও স্বজাত্যবোধে সচেতন যোদ্ধা।
- তিনি রাজা টোডরমল, রাজা বিহারী মল, ভগবান দাস এবং মানসিংহকে প্রশাসনের উচ্চ পদে নিযুক্ত করেন।
- তিনি কবি পণ্ডিত ও চিত্রশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- আকবরের রাজপুত নীতি মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।
- সম্রাট আকবরের ভূমি শাসন ব্যবস্থা অনন্য কৃতিত্বের দাবীদার।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬১.
বাংলার কোন সুবাদার শক্ত হাতে পর্তুগিজদের দমন করেন?
  1. ক) শাহ সুজা
  2. খ) ইসলাম খান চিশতি
  3. গ) ইসলাম খান মাসহাদি
  4. ঘ) কাসিম খান জুয়িনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাসিম খান জুয়িনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাসিম খান জুয়িনী
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান ক্ষমতা গ্রহণ করার পর ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে কাসিম খান জুয়িনীকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিয়োগ করেন। হুসেন শাহি যুগ থকেই বাংলায় পর্তুগিজরা বাণিজ্য করত। এ সময় পর্তুগিজ বণিকদের প্রতিপত্তি অনেক বেড়ে যায়। ক্রমে তা বাংলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। কাসিম খান জুয়িনী শক্ত হাতে পর্তুগিজদের দমন করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪৬২.
বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয় কে?
  1. মীর কাসিম
  2. নওয়াব সুজাউদ্দৌলা
  3. দ্বিতীয় শাহ আলম
  4. বর্ণিত সকলেই
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সকলেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সকলেই
ব্যাখ্যা
• বক্সারের যুদ্ধ:
- ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হন বাংলার সাবেক নওয়াব মীর কাসিম, মুগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে তারা একটি সম্মিলিত মিত্রশক্তি গঠন করেছিলেন।
- কিন্তু ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে কোম্পানির বাহিনী তাদের পরাজিত করে।
- এই যুদ্ধে মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন, শাহ আলম ইংরেজদের শিবিরে আশ্রয় নেন এবং সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান।
- বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয়ের ফলে বাংলার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত হয় এবং
- পরবর্তীতে ১৭৬৫ সালে কোম্পানি মুগল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৬৩.
“ফাতোয়া-ই-আলমগিরী” কার পৃষ্ঠপোষকতায় প্রণীত হয়?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. শাহজাহান
  3. জাহাঙ্গীর
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
ধর্মপ্রাণ ও শিক্ষানুরাগ মুসলমান:
→ সম্রাট আওরঙ্গজেব ছিলেন একজন বিদ্বান ব্যক্তি। তিনি শিক্ষাবিদদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন এবং বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছিলেন।
→ মুসলিম ধর্মশাস্ত্রে তাঁর অগাধ পান্ডিত্য ছিল।
→ পবিত্র কুরআন তাঁর মুখস্থ ছিল এবং বহু হাদিস তাঁর জানা ছিল।
→ তাঁর উদার পৃষ্ঠপোষকতায় বিখ্যাত ফেকাহ গ্রন্থ ফতোয়া-ই-আলমগিরী প্রণীত হয়।
→ তিনি নিজ হাতে কোরআন শরীফ নকল করতেন ও টুপি সেলাই করতেন। সম্রাট আওরঙ্গজেব বহু সদগুণের অধিকারী ছিলেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৪.
ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপনের সময় মোগল সুবেদার কে ছিলেন?
  1. ইসলাম খান
  2. ইব্রাহীম খান
  3. শায়েস্তা খান
  4. মীর জুমলা
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতি বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে ইসলাম খান ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
- ঢাকা পাঁচবার বাংলার রাজধানী হয়।
- ১৬১০,
- ১৬৬০,  
- ১৯০৫,
- ১৯৪৭,
- ১৯৭১ সাল।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৫.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন কত সালে?
  1. ক) ১৩৩৩
  2. খ) ১৩৪৫
  3. গ) ১৩৩৮
  4. ঘ) ১৩৫৩
সঠিক উত্তর:
গ) ১৩৩৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৩৩৮
ব্যাখ্যা
উত্তর: ১৩৩৮ 

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ

- বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে। 
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন এবং স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- স্বীয় মুদ্রায় ফখরুদ্দীন আল-সুলতানুল আযম ফখরুদ্দুনিয়া ওয়াদ-দ্বীন আবুল মুজাফফর মুবারক শাহ আল-সুলতান উপাধি গ্রহণ করেন।
- সোনারগাঁও দখল করে সাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন ১৩৩৮ সালে। 
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন (১৩৪৬)।
- তিনি বাংলায় তাঁর ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৬৬.
মুর্শিদ কুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে কোথায় স্থানান্তর করেন?
  1. কলকাতা
  2. রাজমহল
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. পাটনা
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা

মুর্শিদ কুলি খান: নবাবি শাসন প্রতিষ্ঠা
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নবাবি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান হাজী শফী ইস্পাহানী অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন এবং তার নাম রাখেন মুহাম্মদ হাদী।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সম্রাটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দাক্ষিণাত্য যান এবং এ সাক্ষাতে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ উপাধি লাভ করেন। 

⇒ ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী খান বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন।
- ১৭১৭ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে বাংলার পূর্ণ সুবাদারের মর্যাদা দেয়া হয়।
- তিনি অসংখ্য উপাধি ও পদবিতে ভূষিত হন। প্রথমে তিনি ‘জাফর খান’ উপাধি পান এবং পরে তাঁকে ‘মুতামিন-উল-মুলক আলা-উদ-দৌলা জাফর খান নাসিরী নাসির জঙ্গ বাহাদুর' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁকে সাত হাজারি মনসব প্রদান করা হয়।
- ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মুর্শিদকুলী খানের মৃত্যু হয়।

⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪৬৭.
সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন কে?
  1. ক) মীর জুমলা
  2. খ) ইসলাম খান
  3. গ) শায়েস্তা খান
  4. ঘ) সুজাউদ্দিন খান
সঠিক উত্তর:
গ) শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
শায়েস্তা খান (১৬৬৪ - ১৬৮৮:
- তিনি মগদের উৎপাত থেকে বাংলার জনগণের জান-মাল রক্ষা করেন।
- তিনি সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন
- সুবাদার শায়েস্তা খান কুচবিহার, কামরূপ, ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চলে মুঘল শাসন সুষ্ঠুভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তারও ব্যবস্থা করা হয়। 

• শায়েস্তা খানের শাসনকাল বাংলার স্থাপত্য শিল্পের জন্য বিশেষ উল্লেখযোগ্য। 
- স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য এ যুগকে বাংলায় মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ” হিসেবে অভিহিত করা যায়।
- তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছোট কাটারা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির সমাধি সৌধ, হোসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
৪৬৮.
কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন হয় কবে?
  1. ক) ১৬০৫ সালে
  2. খ) ১৬৬০ সালে
  3. গ) ১৬৯০ সালে
  4. ঘ) ১৭১০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৬৯০ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৬৯০ সালে জব চার্নব নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারি ভাগীরথী নদীর তীরের কোলকাতা, গোবিন্দপুর এবং সুতানটি নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি লাভের মাধ্যমে কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৬৯.
কোন মুঘল সম্রাট ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট হুমায়ূন
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭০.
প্রথম জীবনে মির্জা মুহম্মদ আলী নামে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. ক) আলিবর্দী খাঁ
  2. খ) শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ
  3. গ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
  4. ঘ) মুর্শিদকুলী খান
সঠিক উত্তর:
ক) আলিবর্দী খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলিবর্দী খাঁ
ব্যাখ্যা
আলীবর্দী খান:

- আলিবর্দী খাঁ(১৬৭৬-১৭৫৬) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নওয়াব (১৭৪০-১৭৫৬)।
- তিনি প্রথম জীবনে মির্জা মুহম্মদ আলী নামে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ছিলেন আরব বংশোদ্ভূত মির্জা মুহম্মদের পুত্র।
- মির্জা মুহম্মদ ছিলেন আওরঙ্গজেব-এর দ্বিতীয় পুত্র মির্জা আজম শাহের দরবারের একজন কর্মচারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৭১.
বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন কে?
  1. রাজা মানসিংহ
  2. কেদার রায়
  3. ইসলাম খান
  4. ঈসা খান
সঠিক উত্তর:
রাজা মানসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা মানসিংহ
ব্যাখ্যা
রাজা মানসিংহ:
- বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন রাজা মানসিংহ।
- তিনি ছিলেন রাজপুত এবং একজন দক্ষ সেনাপতি।
- মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ভাটি আক্রমণ করতে পাঠান।
- ব্রহ্মপুত্র তীরে এগারসিন্ধুতে ঈসা খান দুর্জন সিংহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
- ঈসা খানের সাথে মানসিংহের একক যুদ্ধ হয়।
- ঈসা খান মানসিংহকে একক যুদ্ধে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধে জয়ী যিনি হবেন তিনিই বাংলার কর্তৃত্ব লাভ করবেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭২.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক-
  1. ফৌজদার
  2. সুবাহদার
  3. দিউয়ান
  4. শিকদার
সঠিক উত্তর:
সুবাহদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুবাহদার
ব্যাখ্যা
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ও শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৩.
বাংলায় সম্রাট আকবরের শেষ সুবাদার কে ছিলেন?
  1. ইসলাম খান
  2. রামচন্দ্র
  3. শাহবাজ খান
  4. মানসিংহ
সঠিক উত্তর:
মানসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসিংহ
ব্যাখ্যা
রাজা মানসিংহ:
- বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন রাজা মানসিংহ।
- তিনি ছিলেন রাজপুত এবং একজন দক্ষ সেনাপতি।
- মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ভাটি আক্রমণ করতে পাঠান।
- ব্রহ্মপুত্র তীরে এগারসিন্ধুতে ঈসা খান দুর্জন সিংহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
- ঈসা খানের সাথে মানসিংহের একক যুদ্ধ হয়।
- ঈসা খান মানসিংহকে একক যুদ্ধে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধে জয়ী যিনি হবেন তিনিই বাংলার কর্তৃত্ব লাভ করবেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৪.
বখতিয়ার খিলজি বাংলা জয় করেন কোন সালে?
  1. ১২১২
  2. ১২০০
  3. ১২০৪
  4. ১২১১
সঠিক উত্তর:
১২০৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০৪
ব্যাখ্যা
• ত্রয়োদশ শতকে — ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি কর্তৃক নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়।
----------------------
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজী:

- বখতিয়ার খিলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। 
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। 
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৭৫.
কোন মোঘল সম্রাট পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন?
  1. শাহজাহান
  2. আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট বাবর
  4. সিরাজউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
ইউরোপীয় বনিক:
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না।
- তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত।
- এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- তাঁরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত।
- এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে।
- পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত।
- অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে উচ্ছেদ করেন।

উল্লেখ্য,
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ,
- আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৬.
রাজা মানসিংহ কোন মুঘল সম্রাটের শেষ সুবাদার ছিলেন?
  1. সম্রাট শাহজাহান
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. সম্রাট হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
রাজা মানসিংহ:
- বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন রাজা মানসিংহ।
- তিনি ছিলেন রাজপুত এবং একজন দক্ষ সেনাপতি।
- মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ভাটি আক্রমণ করতে পাঠান।
- ব্রহ্মপুত্র তীরে এগারসিন্ধুতে ঈসা খান দুর্জন সিংহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
- ঈসা খানের সাথে মানসিংহের একক যুদ্ধ হয়।
- ঈসা খান মানসিংহকে একক যুদ্ধে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধে জয়ী যিনি হবেন তিনিই বাংলার কর্তৃত্ব লাভ করবেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৭.
মুঘল সম্রাটদের মধ্যে কে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছিলেন?
  1. সম্রাট হুমায়ুন
  2. সম্রাট শাহজাহান
  3. সম্রাট বাবর
  4. সম্রাট আকবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা

মুঘল সম্রাটদের মধ্যে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছিলেন সম্রাট বাবর। তার রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তযুক-ই-বাবরী'। 

সম্রাট বাবর:
- জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ছিলেন ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।
- বাবরের পিতা উমর শেখ মির্জা ছিলেন দুধর্ষ সমর নেতা তৈমুরের বংশধর এবং মাতা কুতলুঘ নিগার খানম ছিলেন মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খানের অধস্তন বংশধর ইউনুস খানের কন্যা।
- মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর পিতৃ সিংহাসনে উপবেশন করেন।
- বাবর অল্পদিনের মধ্যেই সমগ্র আফগানিস্তানে নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে 'পাদশাহ' (বাদশাহ) উপাধি গ্রহণ করে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কাবুলের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে উজবেকদের সাথে সংঘটিত এক যুদ্ধে বাবর পরাজিত হয়ে সমরকন্দ থেকে বিতাড়িত হন। অতঃপর মধ্য এশিয়ায় রাজ্য স্থাপন অসম্ভব মনে করে বাবর ভারতবর্ষের দিকে মনোনিবেশ করেন।

⇒  ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদীকে, ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধে মেবারের রাজপুত নেতা রানা সংগ্রাম সিংহকে, ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে চান্দেরী অভিযানের সময় মেদেনী রাওকে এবং সর্বশেষ ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে গোগরার যুদ্ধে সম্মিলিত আফগান শক্তিকে পরাস্ত করার মধ্যে বাবরের উন্নত সামরিক কৌশল, রণনিপুণতা এবং একজন সফল সমর নায়কের কৃতিত্ব ফুটে উঠে। 

⇒ জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্য শাসন করেন। তাঁর সময় মুঘল সাম্রাজ্য পশ্চিমে কাবুল থেকে পূর্বে বিহার এবং উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে চান্দেরি পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। মাত্র চার বছরের সংক্ষিপ্ত রাজত্বকালে বাবর বিশাল সাম্রাজ্যে সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখেন।
- তবে বাবর খলিফার ক্ষমতাকে অস্বীকার করে স্বয়ং 'বাদশাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- বাবর সমগ্র সাম্রাজ্যব্যাপী ১৫ মাইল অন্তর অন্তর ডাকচৌকির ব্যবস্থা করেন।
- তিনি তুর্কি ও ফার্সি ভাষায় অসংখ্য কবিতা রচনা করেন। তাঁর রচিত তুর্কি কবিতার সংকলন 'দিওয়ান' নামে পরিচিত। জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের সাহিত্যানুরাগের শ্রেষ্ঠ নির্দশন তুর্কি ভাষায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তযুক-ই-বাবরী'। 'তুযুক-ই-বাবরী' মুঘল ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৮.
ইলিয়াস শাহ নিচের কোন উপাধি ধারণ করেন?
  1. শাহ-ই-বাঙ্গালা
  2. শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান
  3. হুসেন শাহ
  4. ক ওখ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ওখ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ওখ উভয়ই
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সুলতানি আমল:
- ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- এভাবে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয়।
- তবে সমগ্র বাংলার এক বৃহদাংশ অধিকার করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করার মাধ্যমে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন বলে ধরা হয়।
- ইলিয়াস শাহ 'শাহ-ই-বাঙ্গালা' ও 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি ধারণ করেন।
- স্বাধীন সুলতানি আমলের অপর অন্যতম উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ।  

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৪৭৯.
বাংলার কোন সুলতানের শাসনামলকে স্বর্ণযুগ বলা হয়?
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  2. নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
  3. আলাউদ্দিন হােসেন শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হােসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হােসেন শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ:
• সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন হুসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান। 
• তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে 'আলাউদ্দিন হুসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। 
• তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন। 
• তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত। 
• তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
• তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব “বৈষ্ণব ধর্ম” প্রচার করেন। 
• তাঁর সমাধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত। 
---------------------
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ: কৃতিত্ব- 

অত্যুজ্জ্বল রাজত্বকাল: মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে হোসেন শাহের রাজত্বকাল অত্যুজ্জ্বল ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। তার শাসনামলে বাংলার সালতানাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটে।

সামরিক বিজয়: হুসেন শাহ কামরূপ ও কামতা জয় করেন। ঊড়িষ্যা এবং ত্রিপুরার কিছু অংশ তার শাসনাধীন আসে। এছাড়া তিনি আরাকানীদের চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন।

প্রশাসন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ:
তিনি বাংলার রাজনীতি হাবসি দাসদের প্রভাবমুক্ত করেন এবং প্রশাসন ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেন।

শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা:
ক্ষমতাগ্রহণের পর তিনি রাজ্যের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন।

দিল্লীর আক্রমণ প্রতিহত:
দিল্লীর লোদী সাম্রাজ্যের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তিনি রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।

হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতি:
তিনি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রতি স্থাপনের জন্য প্রচেষ্টা চালান, যা তৎকালীন সমাজজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

সাহিত্যানুরাগী:
হুসেন শাহ সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার শাসনামলে বাংলা সাহিত্যের ব্যাপক উন্নতি ঘটে। তার সময়ের বিখ্যাত কবিদের মধ্যে ছিলেন রূপ গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, এবং পরাগল খান।

তথ্যসূত্র:
- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
- বাংলাপিডিয়া।
৪৮০.
গৌড়ের নাম 'জান্নাতাবাদ' কে রাখেন?
  1. শেরশাহ
  2. জাহাঙ্গীর
  3. আকবর
  4. হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
- মুঘল সম্রাট বাবর ও তাঁর পুত্র হুমায়ুন হুসেন শাহি যুগের শেষ দিক থেকেই চেষ্টা করেছিলেন বাংলাকে মুঘল অধিকারে নিয়ে আসতে।
- কিন্তু আফগানদের কারণে মুঘলদের এ উদ্দেশ্য প্রথম দিকে সফল হয়নি।
- আফগান নেতা শের খান শূরের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন সম্রাট হুমায়ুন।
- সমগ্র ভারতের অধিপতি হওয়ার স্বপ্ন ছিল শের খানের তাই গোপনে তিনি নিজের শক্তি বৃদ্ধি করতে থাকেন।
- এ লক্ষ্যে অল্প সময়ের মধ্যে শের খান শক্তিশালী চুনার দুর্গ ও বিহার অধিকার করেন।
- তিনি ১৫৩৭ খ্রিষ্টাব্দে দুইবার বাংলার রাজধানী গৌড় আক্রমণ করেন।
- এর পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির মুঘল সম্রাট হুমায়ুন শের খানের পিছু ধাওয়া করে বাংলার রাজধানী গৌড় অধিকার করে নেন।
- গৌড়ের চমৎকার প্রাসাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে হুমায়ুন এর নামকরণ করেন 'জান্নাতবাদ'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৪৮১.
প্রতাপাদিত্য, চাঁদ রায়, কেদার রায় প্রমুখ কে ছিলেন?
  1. রাজপুত
  2. বাংলার সুলতান
  3. বাংলার জমিদার
  4. বাংলার নবাব
সঠিক উত্তর:
বাংলার জমিদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলার জমিদার
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বাংলার স্থানীয় প্রধান ও জমিদার, যাঁরা আকবর ও জাহাঙ্গীর এর রাজত্বকালে মুগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
- বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া। 
- বারো ভূঁইয়া শব্দটি নির্ভুলভাবে বারোজন ভূঁইয়া বা প্রধানকে বোঝায় না; বহু সংখ্যক বুঝাতে এ শব্দটি ব্যবহূত হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন। 
- সমগ্র বাংলাকে বিবেচনায় নিলে ভূঁইয়াদের সংখ্যা বারোর চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
- আকবরের বিরুদ্ধে লড়াইরত ঈসা খান তাঁর রাজত্বকালেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং তাঁর পুত্র  মুসা খান তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে জাহাঙ্গীরের আমলে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
- আকবরের রাজত্বকালে চাঁদ রায় ও কেদার রায় ছিলেন বিক্রমপুর ও শ্রীপুরের জমিদার। 
- যশোহরের জমিদার প্রতাপাদিত্য নিহত হন ইসলাম খানের সময়ে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া।
৪৮২.
কত সালে সুবাহদার ইসলাম খান ঢাকাকে রাজধানী ঘোষণা করেন?
  1. ১৬০২ সালে 
  2. ১৬০৮ সালে 
  3. ১৬১০ সালে 
  4. ১৬১২ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সালে 
ব্যাখ্যা

ইসলাম খান চিশতি:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতিকে বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত করেন।
- সুবাহদার ইসলাম খান ১৬১০ সালে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং এর নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর।

উল্লেখ্য,
- ইসলাম খান চিশতি পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বাংলার মুগল সুবাহদার ছিলেন।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি। সম্রাট  জাহাঙ্গীর তাঁকে ইসলাম খান উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত পূর্বসূরিগণ যেখানে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেখানে চট্টগ্রাম ছাড়া সমগ্র বাংলা জয় করে মুগলদের নিয়ন্ত্রণে আনার সাফল্য লাভ করায় বাংলার সুবাহদার হিসেবে ইসলাম খান খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- জাহাঙ্গীরের অধিনস্ত প্রথম কয়েকজন সুবাহদার বাংলা জয়ে সাফল্য অর্জণে ব্যর্থ হলে তরুণ ও উদ্যমী ইসলাম খানকে তিনি বাংলা জয়ের জন্য নির্বাচিত করেন ও সুবাহদার হিসেবে ১৬০৮ সালে বাংলায় প্রেরণ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম -১০ম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪৮৩.
বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন কে?
  1. ঈশা খাঁ
  2. বখতিয়ার খিলজি
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ 
  4. শেরশাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ 
ব্যাখ্যা

সোনারগাঁও:
- সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ কর্তৃক ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বাংলার প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।
- আর তখন থেকেই শুরু হয় সোনারগাঁয়ের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের।

• রাজধানী সোনারগাঁও:
- আনুমানিক তেরো শতকের সত্তুরের দশকে রাজা দনুজ রায়ের (দশরথদেব দনুজমাধব) অধীনে সোনারগাঁও স্বাধীন বঙ্গরাজ্যের রাজধানীতে পরিণত হয়। তখন থেকে পূর্ববঙ্গে স্বাধীন হিন্দু রাজত্বের অবসানের (১৩০২) পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁ বঙ্গরাজ্যের রাজধানী ছিল।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।

- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে লখনৌতির সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের হাতে ফখরুদ্দীনের রাজবংশের পতনের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ চৌদ্দ বছর সোনারগাঁও সমগ্র পূর্ববঙ্গ ও দক্ষিণপূর্ব বঙ্গের সুলতানি শাসনের রাজধানীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিল।
- সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ও সিকান্দর শাহের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গ প্রদেশের রাজধানী।
- পূর্ববঙ্গে গিয়াসুদ্দীন আযম শাহের স্বাধীন শাসনামলে তাঁর রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।
- ঈসা খান (ঈশা খাঁ) প্রতিষ্ঠিত ভাটি রাজ্যের রাজধানী ছিল সোনারগাঁও।
- ঈশা খাঁ ১৫৮১-৮২ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে ভাটি অঞ্চলের অধিপতি হিসেবে ঘোষণা দেন এবং নিজেই ‘মসনদ-ঈ-আলা উপাধি’ গ্রহণ করেন। সূত্র অনুযায়ী, এ সময় তিনি তাঁর প্রশাসনিক কেন্দ্র সরাইল থেকে সোনারগাঁও-এ স্থানান্তর করেন।

- মুগল সুবাদার ইসলাম খানের নিকট ঈশা খাঁর পুত্র মুসা খান মসনদ-ই-আলার পতনের পর সোনারগাঁয়ের রাজনৈতিক প্রাধান্য লোপ পায় এবং মুগলদের বাংলা সুবাহ একটি প্রশাসনিক কেন্দ্রে পর্যবসিত হয়।
- ঢাকায় মুগল রাজধানী প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সোনারগাঁও নগরীর দ্রুত অবক্ষয় ঘটে।

- উল্লেখ্য যে, বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন কে?
- অপশনে শুধু ঈশা খাঁ উল্লেখ থাকলে এটিই উত্তর হবে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৮৪.
ঢাকার প্রথম মুঘল সুবাদার ছিলেন -
  1. শাহ সুজা
  2. মীর জুমলা
  3. শায়েস্তা খান
  4. ইসলাম খান
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
⇒ ঢাকার প্রথম মুঘল সুবাদার ইসলাম খান এই খাল খনন করেন।

জাহাঙ্গীরনগর:

- মুঘল সুবাদার ইসলাম খান চিশতি বারোভূঁইয়াদের দমন করে।
- ইসলাম খান ১৬১০ সালে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে তিনি ঢাকার নাম রাখেন 'জাহাঙ্গীরনগর'।
- ইসলাম খান চিশতি ১৬১১ সালে বারোভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে সমগ্র বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে নিয়ে আসেন।
- ধোলাই খাল পুরান ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক এলাকা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৫.
কে চূড়ান্তভাবে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকা অধিকার করেন?
  1. মানসিংহ
  2. মীর জুমলা
  3. ইসলাম খান
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
বাংলায় মোগল শাসন: 
- সম্রাট আকবরের সময় ১৫৭৬ সালে পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অনেকটা অংশ মোগলদের অধিকারে আসে।
- বাংলার পূর্বাংশ অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশ অংশ সহজে মোগলরা দখল করতে পারে নি।
- বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত পূর্ববাংলার জমিদাররা একযোগে মোগল আক্রমণ প্রতিহত করেন।
- আকবরের সেনাপতি মানসিংহ কয়েকবার চেষ্টা করেও বারোভূঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারে নি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬১০ সালে মোগল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি চূড়ান্তভাবে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকা অধিকার করেন এবং তৎকালীন দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম অনুসারে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ করেন।
- এভাবেই বাংলায় মোগল অধিকার সম্পন্ন হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪৮৬.
বাংলার সুবাদার হিসাবে ইসলাম খান চিশতীকে নিযুক্ত করেন-
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট শাহজাহান
  3. সম্রাট বাবর
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৭.
আলীনগর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কার কার মধ্যেকার?
  1. ক) নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট
  2. খ) মীর কাসিম ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট
  3. গ) মীর কাসিম ও ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  4. ঘ) নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা ও ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা ও ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা ও ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ব্যাখ্যা
আলীনগর চুক্তি ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলার নওয়াব  সিরাজউদ্দৌলা ও ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- নওয়াব কলকাতার ইংরেজ বসতি অধিকার করেন (১৮-২০ জুন ১৭৫৬) এবং ইংরেজরা তাঁর প্রকৃত ক্ষতিসমূহের প্রতিবিধান করতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের কলকাতা শহর থেকে বিতাড়িত করেন।
- তিনি এ শহরের নতুন নামকরণ করেন আলীনগর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৮৮.
কোন সুলতানের রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. সিকান্দার শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. ইখতিয়ার উদ্দিন গাজী শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়। এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক’ বলে উল্লেখ করেছেন।

- দুইবাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয় এবং সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ বলা হয়।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’’ এবং ‘সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে বাংলার প্রথম প্রকৃত স্বাধীন সুলতান হিসেবে অভিহিত করা হয়

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৮৯.
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ ঘুরী
  2. বখতিয়ার খলজী
  3. ইলতুৎমিশ
  4. আলাউদ্দিন খলজী
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খলজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খলজী
ব্যাখ্যা

বখতিয়ার খলজী:
- বখতিয়ার খলজী ১২০৫ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকে নদীয়া জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম ইখতিয়ারউদ্দীন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজী।
- তিনি তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।
- তাঁর আদি নিবাস ছিল উত্তর আফগানিস্তানের গরমশির (আধুনিক দস্ত-ই-মার্গ) অঞ্চল।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে তিনি ঝাড়খন্ডের দুর্গম অরণ্যাঞ্চল অতিক্রম করে সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনের অবকাশকালীন রাজধানী নদীয়া আক্রমণ ও জয় করেন।
- নদীয়া জয়ের পর তিনি স্বল্প সময় সেখানে অবস্থান করেন।
- ৬০১ হিজরি (১২০৫ খ্রিস্টাব্দে) তিনি বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন।
- গৌড় জয়ের পর তিনি সেখানে লখনৌতি নামে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- গৌড়ের পূর্ব নাম ছিল লক্ষণাবতী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি) ও বাংলাপিডিয়া।

৪৯০.
কে সর্বপ্রথম স্বাধীন সুলতানী আমলের সূচনা করেছিলেন?
  1. ক) আলাউদ্দিন খলজি
  2. খ) মুহম্মদ ঘোরি
  3. গ) শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  4. ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুতুবউদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
সুলতানী শাসন:

- ১২০৬ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগীয় ভারতে পাঁচটি রাজবংশ শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করে।
- এই পাঁচটি রাজবংশের অন্যতম হলো দিল্লির তথাকথিত দাস বংশ। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১১৯২ খ্রি.) জয়লাভকারী মুইজউদ্দিন মুহম্মদ বিন সাম ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র, তৎকালীন ঘুর রাজ্যের শাসনকর্তা এবং উত্তরাধিকারী গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ তরাইনের যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি এবং মুহাম্মদ ঘোরির আস্থাভাজন কুতুবউদ্দিন আইবেককে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে সনদ ও 'সুলতান' উপাধি প্রদান করেন। - ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের নেতৃত্বে ভারতে স্বাধীন সুলতানদের শাসনের সূচনা হয়।
- কুতুবউদ্দিন আইবেক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে তথাকথিত ‘দাস বংশ' নামে সমধিক পরিচিত।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯১.
মীর কাশিম কোন যুদ্ধে ইংরেজদের বিরুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন?
  1. তুকারোইয়ের যুদ্ধ
  2. বক্সারের যুদ্ধ
  3. পলাশীর যুদ্ধ
  4. পানিপথের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্সারের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- তার মাত্র চার বছরের রাজত্বকাল ১৭৬০ থেকে শুরু হয়ে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল।
 
⇒ মীর কাসিম নবাব হয়ে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন। ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন।
- নবাব মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের বিরোধ চরমে উঠলে তা পাটনায় সংঘর্ষের রূপ নেয়।
- এরপর ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়।
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল। নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন।
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়।
- নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।