বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুঘল, সুলতান ও নবাবী আমল

মোট প্রশ্ন৪৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুঘল, সুলতান ও নবাবী আমল

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৪৯২

২০১.
‘মাল জামিনী’ রাজস্ব ব্যবস্থা প্রচলন করেন কে?
  1. ক) নবাব মুর্শিদকুলী খান
  2. খ) নবাব আলীবর্দী খান
  3. গ) সুবেদার ইসলাম খান
  4. ঘ) সুবেদার শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
ক) নবাব মুর্শিদকুলী খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নবাব মুর্শিদকুলী খান
ব্যাখ্যা
বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলী খান। ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে উড়িষ্যার নায়েব সুবাদার এবং পরের বছর বিহারের দেওয়ান নিযুক্ত করেন। ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী বাংলার সুবাদার হন। কার্যত এ সময় থেকেই বাংলার নবাবী আমলের শুরু। তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। মুর্শিদকুলী কর্তৃক প্রবর্তিত রাজস্ব ব্যবস্থার নাম ছিল ‘মাল জামিনী'। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০২.
কোন আমলে 'মসলিন কাপড়' ঢাকায় তৈরি হতো?
  1. পাল আমলে
  2. সেন আমলে
  3. মুঘল আমলে
  4. ইংরেজ আমলে
সঠিক উত্তর:
মুঘল আমলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল আমলে
ব্যাখ্যা
মসলিন কাপড়:
- মসলিন ‘ঢাকাই মসলিন’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এক ধরনের মিহি সুতিবস্ত্র।
- ঢাকা শহর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্থানীয় কারিগররা ফুটি কার্পাস নামক তুলা থেকে তৈরি অতি চিকন সুতা দিয়ে মসলিন প্রস্তুত করত।
- মুঘল আমলে প্রাচীন বাংলার গৌরব মসলিন কাপড় ঢাকায় তৈরী হতো।

⇒ মুঘল আমলে বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে ঢাকাই মসলিনের খ্যাতি বেড়ে যায়।
- মুঘল সম্রাট ও অভিজাতরা ঢাকার মসলিন শিল্পের প্রসারে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- সে সময়ে সম্রাট, প্রাদেশিক শাসনকর্তা এবং পদস্থ কর্মকর্তা ও অভিজাতদের ব্যবহারের জন্য প্রচুর পরিমাণে সূক্ষ্ম মসলিন বস্ত্র সংগ্রহ করা হতো।
- সম্রাট, উজির, নওয়াব ও অভিজাত শ্রেণির জন্য বোনা হতো সূক্ষ্ম ও মিহি বস্ত্র এবং দরিদ্রদের জন্য মোটা ও ভারী কাপড়।
- কাপড়ের সূক্ষ্মতা ও স্বচ্ছতা, উৎপাদনের উৎস এবং ব্যবহারভেদে ঢাকাই মসলিনের মলমল, ঝুনা, রঙ্গ, আবিরাওয়ান, খাস, শবনম, আলাবালি, তনজিব, নয়ন-সুখ, জামদানি ইত্যাদি নাম দেওয়া হতো।
- বিভিন্ন রকম মসলিনের মধ্যে জামদানি এখনো প্রচলিত।

⇒ কথিত আছে, মসলিনে তৈরি করা পোশাকগুলো এতই সূক্ষ্ম ছিল যে ৫০ মিটার দীর্ঘ মসলিনের কাপড়কে একটি দিয়াশলাই বাক্সে ভরে রাখা যেত।

উল্লেখ্য,
- ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে।
- ইতিমধ্যেই ঢাকাই মসলিনের জিআই স্বত্বের অনুমোদন পাওয়া গেছে। 

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
২০৩.
ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন কোন মুঘল সম্রাট?
  1. সম্রাট বাবর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেছিলেন।
- তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ইসলাম খান চিশতী বার ভূঁইয়াদের দমন করেন।
- সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন ১৬১০ সালে।
- ইসলাম খান চিশতী এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- তিনি বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৪.
লালন শাহ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) মাগুরা
  2. খ) যশোর
  3. গ) ঝিনাইদহ
  4. ঘ) কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ঝিনাইদহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঝিনাইদহ
ব্যাখ্যা
বাউল সম্রাট লালন শাহ ১৭৭২ সালে ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে অন্য একটি মতে তার জন্ম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীতে।
তিনি প্রায় দুইহাজার বাউল গান রচনা করেন। কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে লালনের আখড়া অবস্থিত।
এখানেই ১৮৯০ সালে তিনি মারা যান।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
২০৫.
বাংলার নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেছিলেন -
  1. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  2. ইলিয়াস শাহ
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
• বাংলা নববর্ষ:
- পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন।
- এ দিনটি বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়।
- এটি বাঙালি জাতির একটি সর্বজনীন লোক উৎসব।
- এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা - ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে।
- তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতু নির্ভর।
- এই কৃষি কাজের সুবিধার্থেই মুঘল সম্রাট আকবর — ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
- নতুন সনটি প্রথমে 'ফসলি সন' নামে পরিচিত ছিল যা পরে 'বঙ্গাব্দ' নামে পরিচিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০৬.
নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোন ইংরেজ সেনাপতির নিকট পরাজিত হন?
  1. হেনরি রাইফেল
  2. রবার্ট ক্লাইভ
  3. উইলিয়াম হেস্টিংস
  4. টমাস রোয়ান
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
পলাশীর যুদ্ধ: 
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশী যুদ্ধের সময় ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের নিকট পরাজিত হন।
- সিরাজউদ্দৌলাকে অনেক অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়।
- এর মধ্যে মীর জাফর- নবাবের সেনাপতি, তার বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজদের সাথে হাত মেলায়।
- ইংরেজরা মীর জাফরের সাহায্য নিয়ে পলাশী যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে।
- নবাবের সেনাপতি মীর মদন ও ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকলেও, মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে সিরাজউদ্দৌলা এই যুদ্ধে পরাজিত হন এবং ১৭৫৭ সালে মোহাম্মদী বেগের হাতে নিহত হন। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
২০৭.
মুর্শিদ কুলী প্রবর্তিত রাজস্ব ব্যবস্থার নাম ছিল-
  1. ক) নানকর
  2. খ) ভূমিকর
  3. গ) জিজিয়া
  4. ঘ) মালজামিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মালজামিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মালজামিনী
ব্যাখ্যা
বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলী খান। ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদকুলী বাংলার সুবাদার হন। কার্যত এ সময় থেকেই বাংলার নবাবী আমলের শুরু। তিনি বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন। মুর্শিদকুলী কর্তৃক প্রবর্তিত রাজস্ব ব্যবস্থার নাম ছিল ‘মাল জামিনী'। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস, এসএসএইচএল)।
২০৮.
বিখ্যাত ’গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোডটি বাংলাদেশের কোন অঞ্চল থেকে শুরু হয়েছে?
  1. কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি
  2. ঢাকা জেলার পূর্বাচল
  3. যশোর জেলার ঝিকরগাছা
  4. নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
’গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোড:
- নির্মাতা: গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোডের নির্মাতা শেরশাহ।
- দৈর্ঘ্য: আড়াই হাজার কিলোমিটার।
- বিস্তার: সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাব বিস্তৃত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সড়ক।
- এটি নির্মাণ করা হয়- ষোল শতকে।
- মূল পরিকল্পনায় রাজধানী আগ্রাকে পূর্বে সোনারগাঁও, পশ্চিমে দিল্লি ও লাহোর হয়ে মূলতান, দক্ষিণে বোরহানপুর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে যোধপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
- সড়ক- ই- আজম নামে পরিচিত এ সড়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
২০৯.
বড় সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন-
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) হোসেন শাহ
  3. গ) নুসরাত শাহ
  4. ঘ) শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
গ) নুসরাত শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নুসরাত শাহ
ব্যাখ্যা
- সুলতানি আমলে বড় সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন নুসরত শাহ।
- ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২১০.
রানী চাঁদ সুলতানা কোন মুসলিম রাজ্যের রানী ছিলেন?
  1. খান্দেশ 
  2. গোলকুন্ডা
  3. বিজাপুর
  4. আহমদ নগর
সঠিক উত্তর:
আহমদ নগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ নগর
ব্যাখ্যা
রানী চাঁদ সুলতানা আহমদ নগর মুসলিম রাজ্যের রানী ছিলেন।

• আহমদ নগর:
- সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে দাক্ষিণাত্যে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুন্ডা, বিদর এবং খান্দেশ এই পাঁচটি স্বাধীন মুসলিম রাজ্য ছিল। এদের মধ্যে আহমদনগর ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
- আকবর প্রথমে দূত পাঠিয়ে এসব রাজ্যের সুলতানদের মোগল আধিপত্য মেনে নেয়ার প্রস্তাব দেন।
কিন্তু একমাত্র খান্দেশের সুলতান সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকার করে। ফলে আকবর সমরাভিযানের প্রস্তুতি মনোনিবেশ নেন।
- ১৫৯৫ খ্রিস্টাব্দে মোগল বাহিনী আহমদনগর অভিযানে বের হয়।
- আহমদনগরের রাণী চাঁদ সুলতানা আকবরকে বেরার প্রদেশ দান করে তাঁর সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে চাঁদ সুলতানার মৃত্যুর পর আহমদনগর আকবরের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১১.
হোসেনী দালান কোন আমলে নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়?
  1. তুুর্কি আমল
  2. ব্রিটিশ আমল
  3. মুঘল আমল 
  4. সুলতানি আমল
সঠিক উত্তর:
মুঘল আমল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুঘল আমল 
ব্যাখ্যা

- হোসেনী দালান পুরানো ঢাকায় অবস্থিত।
- এটি শিয়া সম্প্রদায়ের একটি ইমারত।
- ইমারতটি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
- শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ৬১ হিজরির ১০ মুহররম (৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ১০ অক্টোবর) তারিখে আল-হোসেনের  শহীদত্ব স্মরণ করতে এই ইমারত নির্মাণ করা হয়।
- শাহ সুজার শাসনকালে সৈয়দ মুরাদ প্রথম হোসেনী দালান নির্মাণ করেন।
- শাহ সুজা সুন্নি মুসলমান হলেও শিয়াদের রীতিনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে আগ্রহী ছিলেন।
- প্রচলিত লোককাহিনী অনুসারে, সৈয়দ মুরাদ স্বপ্নে আল-হোসেনকে ‘তাজিয়াখানা’ নির্মাণ করতে দেখে এই ইমারত নির্মাণে উৎসাহিত হন।
- সৈয়দ মুরাদই ইমারতের নাম রাখেন হোসেনী দালান।
- প্রাথমিকভাবে এটি একটি ছোট্ট স্থাপনা ছিল।
- পরবর্তীতে ১৮০৭ ও ১৮১০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্যোগে সংস্কার করা হয়।
- ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পর ইমারতের কিছু অংশ নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়।
- সংস্কার ও সম্প্রসারণের ফলে ইমারতটি বর্তমান রূপ ধারণ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২১২.
বাংলা কবে মুঘল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়?
  1. ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭৮ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• বাংলা অধিকার:
 → ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার শেষ আফগান শাসক দাউদ খান কররানি মোগল সেনাবাহিনীর হাতে রাজমহলের যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হলে বাংলা মোগল সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।
→ তবে ঢাকাসহ পূর্ব বাংলার কয়েকজন প্রভাবশালী জমিদার মোগল বাদশার আনুগত্য অস্বীকার করে সতের শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৩.
মুঘল সম্রাট শাহজাহানের সময়ের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন কোনটি?
  1. দিওয়ান-ই-খাস
  2. দিওয়ান-ই-আম
  3. মতি মসজিদ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- সমরকুশলী হিসেবে সম্রাট শাহজাহান দক্ষতার পরিচয় দেন।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৪.
বর্গীর হাঙ্গামা থকে বাংলাকে রক্ষা করেন কোন নবাব?
  1. ক) নবাব মুর্শিদকুলী খান
  2. খ) নবাব সুজাউদ্দিন খান
  3. গ) নবাব আলীবর্দী খান
  4. ঘ) নবাব সরফরাজ খান
সঠিক উত্তর:
গ) নবাব আলীবর্দী খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নবাব আলীবর্দী খান
ব্যাখ্যা
নবাব আলিবর্দী খানকে তাঁর রাজত্বের বেশির ভাগ সময় মারাঠাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপৃত থাকতে হয়। ১৭৪২ থেকে ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১০ বছর কাল তিনি মারাঠা হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন ইতিহাসে মারাঠা আক্রমণের ঘটনাবলী বর্গীর হামলা নামে সুপরিচিত। প্রায় প্রতি বছরই মারাঠা শক্তি বাংলা ও উড়িষ্যায় হামলা চালায়। নবাব আলিবর্দী খান অবিরাম প্রতিরোধ যুদ্ধে আপোষহীনভাবে হানাদারদের বিতাড়িত করে দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
২১৫.
নিচের মোগল সম্রাটদের মধ্যে কে প্রথম আত্মজীবনী লিখেছিলেন?
  1. আকবর
  2. বাবর
  3. শাহজাহান
  4. হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবর
ব্যাখ্যা
• তুজুক-ই-বাবুরী: 
- তুজুক-ই-বাবুরী ভারতে মুগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দীন বাবরের আত্মজীবনী।
- এটি বাবুরনামা বা বাবরের স্মৃতিকথা নামেও পরিচিত।
- মোগল সম্রাটদের মধ্যে বাবর প্রথম আত্মজীবনী লিখেছেন।
- বাবুর এটি তুর্কি ভাষায় রচনা করেন।
- এটি মুগল রাজ কর্মকর্তা বৈরাম খান খান-ই-খানানের পুত্র আবদুর রহিম খান-ই-খানান কর্তৃক ফারসি ভাষায় অনূদিত হয়। 
- ইউরোপীয় পন্ডিতদের সমাদৃত এ গ্রন্থ বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৬.
রাজমহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৬০ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৭২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭০ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• রাজমহল ‍যুদ্ধ:
- আকবর বাংলার বিপর্যয়ের সংবাদ পেয়ে খান-ই-জাহানকে সুবেদার নিযুক্ত করেন।
- তাঁকে বাংলার হৃত ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য পাঠানো হয়।
- খান-ই-জাহান ও টোডরমল তেলিয়াগর্হি অধিকার করেন।
- তারপর মোগল বাহিনী রাজমহলের দিকে এগিয়ে যান।
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলে মোগল বাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধে হয় দাউদ কররানির।
- এ যুদ্ধে দাউদ পরাজিত ও বন্দি হন।
- পূর্ববর্তীকালে সন্ধি ভঙ্গের অপরাধে দাউদ খান কে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।
- এভাবে কররানি শাসনের অবসান ঘটার পাশাপাশি বাংলার একাংশে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তবে তখনো পূর্ব বাংলায় ঈসা খাঁর নেতৃত্বে বার ভূইয়াদের শাসন চলছিল।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৭.
’দ্বীন-ই-ইলাহী‘ ধর্ম কে প্রবর্তন করেন?
  1. সম্রাট শাহজাহান
  2. সম্রাট বাবর
  3. সম্রাট আকবর
  4. ফিরোজ শাহ তুঘলক
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

দ্বীন-ই-ইলাহী:
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রি. দ্বীন-ই-ইলাহী নামক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
- প্রকৃত অর্থে এটি ছিল একটি ভ্রাতৃত্বের সংঘ।
- আকবর ফতেহপুর সিক্রিতে একটি ইবাদাতখানা তৈরী করেন।
- হিন্দু পন্ডিত, আলেম-উলেমা, জেসুইট মিশনারী ও অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতেন।
- আকবর সকলের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এই সকল ধর্মের দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে সকল ধর্মের ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
- এটিই দ্বীন-ই-ইলাহী নামে পরিচিত।
- আকবর নিজে 'ইমাম-ই-আদিল' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সম্রাটের ধর্মনীতির মূল কথাই ছিল পরধর্ম সহিঞ্চুতা বা "সুলহ-ই-কুল"।
- প্রতি রবিবার সম্রাট নিজে এই ধর্মের দীক্ষা দিতেন।
- সম্রাট আকবরের মৃত্যুর সাথে সাথে দ্বীন-ই-ইলাহীরও অবসান ঘটে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৮.
১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হন কে?
  1. মীর নিসার আলী
  2. মীর কাসিম
  3. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  4. আলীবর্দি খান
সঠিক উত্তর:
মীর কাসিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর কাসিম
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ: 
- ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হন বাংলার সাবেক নওয়াব মীর কাসিম, মুগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে তারা একটি সম্মিলিত মিত্রশক্তি গঠন করেছিলেন।
- কিন্তু ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে কোম্পানির বাহিনী তাদের পরাজিত করে।
- এই যুদ্ধে মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন, শাহ আলম ইংরেজদের শিবিরে আশ্রয় নেন এবং সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান।
- বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয়ের ফলে বাংলার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত হয় এবং
- পরবর্তীতে ১৭৬৫ সালে কোম্পানি মুগল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দীউয়ানি লাভ করে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

২১৯.
’দ্বীন-ই-ইলাহী‘ ধর্ম কে প্রবর্তন করেন?
  1. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  2. মহম্মদ বিন তুঘলক
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
দ্বীন-ই-ইলাহী:
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রি. দ্বীন-ই-ইলাহী নামক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
- প্রকৃত অর্থে এটি ছিল একটি ভ্রাতৃত্বের সংঘ।
- আকবর ফতেহপুর সিক্রিতে একটি ইবাদাতখানা তৈরী করেন।
- হিন্দু পন্ডিত, আলেম-উলেমা, জেসুইট মিশনারী ও অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতেন।
- আকবর সকলের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এই সকল ধর্মের দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে সকল ধর্মের ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
- এটিই দ্বীন-ই-ইলাহী নামে পরিচিত।
- আকবর নিজে 'ইমাম-ই-আদিল' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সম্রাটের ধর্মনীতির মূল কথাই ছিল পরধর্ম সহিঞ্চুতা বা "সুলহ-ই-কুল"।
- প্রতি রবিবার সম্রাট নিজে এই ধর্মের দীক্ষা দিতেন।
- সম্রাট আকবরের মৃত্যুর সাথে সাথে দ্বীন-ই-ইলাহীরও অবসান ঘটে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২০.
বাংলায় কররানি (আফগান) শাসনের অবসান এবং মুঘল শাসনের সূচনা হয় কোন যুদ্ধের মাধ্যমে?
  1. ক) চৌসার যুদ্ধ
  2. খ) কণৌজের যুদ্ধ
  3. গ) রাজমহলের যুদ্ধ
  4. ঘ) বিলগ্রামের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) রাজমহলের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজমহলের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানী গৌড় অধিকার করে মুঘল শাসনের সূচনা করেন। কিন্তু বাংলায় তাঁর অধিকার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে পরাজয়ের পর বিজয়ী আফগান নেতা শের খান গৌড় দখল করেন এবং বাংলায় আফগান শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলার প্রবেশ পথ রাজমহলের নিকটে বাংলার শেষ আফগান শাসক দাউদ খান ও মুঘল বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয়। যা রাজমহলের যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে দাউদ খান পরাজিত ও বন্দি হলে বাংলায় মুঘল শাসনের সূত্রপাত হয়।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র (উন্মুক্ত)]
২২১.
হুমায়ূনের শাসনকালে গৌড় কোন অঞ্চলের রাজধানী ছিল?
  1. বিহার
  2. বাংলা
  3. গুজরাট
  4. সিন্ধু
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন:
- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬) মুঘল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
- হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

২২২.
কোন যুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করা হয়?
  1. খানুয়ার যুদ্ধ
  2. গোগরার যুদ্ধ
  3. তরাইনের যুদ্ধ
  4. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- স্থান: বর্তমান ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে হরিয়ানা রাজ্য।
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল।
- বাবরের সেনাবাহিনীতে ছিল ১২,০০০ পদাতিক, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অশ্বারোহী ও গোলন্দাজ। অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ১,০০,০০০ সৈন্য ও ১০০ হস্তী।
- ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন।
- সম্রাট বাবর এই যুদ্ধে ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। ভারতবর্ষে তিনিই সর্বপ্রথম গোলন্দাজ বাহিনী নামে একটি বিশেষ বাহিনী গড়ে তুলেন।
- ফলাফল: শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন। ফলে উপমহাদেশে সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদীকে, ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দে খানুয়ার যুদ্ধে মেবারের রাজপুত নেতা রানা সংগ্রাম সিংহকে, ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দে চান্দেরী অভিযানের সময় মেদেনী রাওকে এবং সর্বশেষ ১৫২৯ খ্রিস্টাব্দে গোগরার যুদ্ধে সম্মিলিত আফগান শক্তিকে পরাস্ত করার মধ্যে বাবরের উন্নত সামরিক কৌশল, রণনিপুণতা এবং একজন সফল সমর নায়কের কৃতিত্ব ফুটে উঠে। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৩.
সুবাহ্ ব্যবস্থা চালু করেন কোন মুঘল সম্রাট?
  1. ক) মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
  2. খ) মুঘল সম্রাট আকবর
  3. গ) মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) মুঘল সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
খ) মুঘল সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুঘল সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

- মুঘল প্রদেশগুলো ‘সুবা’ নামে পরিচিত ছিল।
- সুবাহ্ ব্যবস্থা চালু হয় ১৫৭৯-১৫৮০ সালে ।
- এর প্রবর্তন করেন তৃতীয় মুঘল সম্রাট আকবর ।
- প্রথমে তার সাম্রাজ্যকে বারোটি (১২) সুবাহতে বিভক্ত করেন।
- ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আসেন এবং ঢাকাকে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এর নাম করেন জাহাঙ্গীরনগর।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৪.
মুঘল শাসনামলে পরগনার প্রধান নির্বাহী কর্তাকে কী বলা হত?
  1. ফৌজদার
  2. শিকদার
  3. সুবাহদার
  4. ওয়াজির
সঠিক উত্তর:
শিকদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিকদার
ব্যাখ্যা
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ও শিকদার ছিলেন পরগনার প্রধান নির্বাহী কর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৫.
বাংলার কোন নবাবের উপাধি ছিল 'করতলব খান'?
  1. সরফরাজ খানের
  2. মুর্শিদকুলি খানের
  3. আলীবর্দী খানের
  4. সুজাউদ্দিন খানের
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খানের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খানের
ব্যাখ্যা
মুর্শিদকুলি খান:
- মুর্শিদকুলি খান দক্ষিণ ভারতের একটি দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন।
-  হাজী শফী ইস্পাহানী ছিলেন দাক্ষিণাত্যে শায়েস্তা খানের দিওয়ান।
- তিনি অল্প বয়সী মুর্শিদ কুলিকে কিনে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করেন।
- প্রথমে তার নাম রাখা হয় মুহাম্মদ হাদী।
- রাজস্ব আদায়ের কাজে তাঁর অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত সম্রাট আওরঙ্গজেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- কর্মদক্ষতার গুণে আপ্লুত আওরঙ্গজেব তাঁকে হায়দারাবাদের দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে "করতলব খান" উপাধি প্রদান করেন।
- মুর্শিদকুলি খানের উপাধি "করতলব খান"।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র,  এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৬.
শ্রীকর নন্দী কোন সুলতানের আদেশে মহাভারত অনুবাদ করেন?
  1. ক) নুসরত শাহ
  2. খ) ইলিয়াস শাহ
  3. গ) ফিরুজ শাহ
  4. ঘ) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
ক) নুসরত শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নুসরত শাহ
ব্যাখ্যা
শ্রীকর নন্দী নুসরত শাহের আদেশে মহাভারত অনুবাদ করেন। 

নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ (শাসনকাল ১৫১৯-১৫৩২খ্রি.) ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র। তাঁর সময়ে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাঁর আমলের কীর্তি: 
-গৌড়ের বারদুয়ারি বা বড় সোনা মসজিদ তাঁর আমলের কীর্তি।
-তিনি বাগেরহাটের মিঠাপুকুর এর নির্মাতা।
-তাঁর আদেশে কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারতের কিয়দংশ বাংলায় অনুবাদ করেন।
-শ্রীকর নন্দী মহাভারতের অশ্বমেধপর্বের বঙ্গানুবাদ করেন
- জ্ঞান ও শিক্ষা প্রসারের জন্য নুসরত শাহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লাইব্রেরি স্থাপন করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২২৭.
সর্বপ্রথম কে সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে একক শাসনাধীনে নিয়ে আসেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ: 
- ইলিয়াস শাহের রাজত্বকাল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
- ১৩৫২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁ দখলের মাধ্যমে সমগ্র বাংলা একত্রিত করে এক রাজ্যে পরিনত করেন।
- তাই তাকে বাংলায় সুলতানি শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
- একজন সামান্য শাসক থেকে একত্রিত বৃহৎ বাংলা প্রতিষ্ঠিত করে এখানে সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে জনকল্যাণমূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত করায় ইলিয়াস শাহ বাংলার ইতিহাসে উচ্চ স্থান অধিকার করে আছেন।
- দুই বাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয় এবং সামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ বলা হয়।
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়।
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৮.
সাত গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন কে?
  1. ইসলাম খান
  2. শায়েস্তা খাঁ
  3. উমিদ খাঁ
  4. মীর জুমলা
সঠিক উত্তর:
উমিদ খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উমিদ খাঁ
ব্যাখ্যা

সাত গম্বুজ মসজিদ: 
- অবস্থান: ঢাকা, মোহাম্মদপুর (কাটাসুর-বাঁশবাড়ী সড়কের পাশে)।
- নির্মাণকাল: ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ।
- নির্মাতা: উমিদ খাঁ (মোগল সুবাদার শায়েস্তা খাঁর পুত্র)।
- গম্বুজ সংখ্যা: ৭টি (৩টি বড় গম্বুজ ও ৪টি অনু গম্বুজ)।
- মিনার সংখ্যা: ৪টি (চার কোণায়)।
- মসজিদটি লালবাগ কেল্লার মসজিদ ও খাজা আম্বর মসজিদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

২২৯.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে কে কাকে পরাজিত করেন?
  1. ক) আকবর হিমুকে
  2. খ) বাবর ইব্রাহিম লোদীকে
  3. গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
  4. ঘ) আকবর রানা প্রতাপকে
সঠিক উত্তর:
গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আহমেদ শাহ আবদালি মারাঠাদিগকে
ব্যাখ্যা

- পানিপথের (বর্তমানে হরিয়ানা, ভারত) তৃতীয় যুদ্ধ ১৪ই জানুয়ারি ১৭৬১ সালে দিল্লির ৯৭ কিলোমিটার উত্তরে পানিপথ নামক স্থানে মারাঠাদের সাথে দোয়াবের আফগান রোহিলা ও আয়ুব এর সম্রাট সুজা-উদ-দৌল্লার যৌথ সমর্থনে আফগানিস্থানের সম্রাট আহমেদ শাহ আবদালির মধ্যে সংঘটিত হয়।

- এছাড়া ১৫২৬ সালে বাবুর ও ইব্রাহিম লোদীর মধ্যে পানিপথের প্রথম যুদ্ধ । এবং
- ১৫৫৬ সালে আকবরের সেনাপতি বৈরাম খান ও আফগান নেতা হিমুর মধ্যে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংগঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

২৩০.
'আহসান মঞ্জিল' এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. নবাব আব্দুল লতিফ
  2. নওয়াব সলিমুল্লাহ
  3. নওয়াব আবদুল গনি
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল গনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল গনি
ব্যাখ্যা

• আহসান মঞ্জিল:
- আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
- এটি পূর্বে ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ।
- বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ঢাকার নবাব নওয়াব আব্দুল গনি। তিনি তার পুত্র খাজা আহসানুল্লাহ’র নামানুসারে এর নামকরণ করেন।
- এর নির্মাণকাল ১৮৫৯-১৮৭২ সাল।
- নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান।
- ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।
- এই প্রাসাদের ছাদের উপর সুন্দর একটি গম্বুজ আছে। এক সময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২৩১.
রাজা মানসিংহ কোন মুঘল সম্রাটের শেষ সুবাদার ছিলেন?
  1. হুমায়ুন
  2. আওরঙ্গজেব
  3. আকবর
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা

রাজা মানসিংহ:
- বাংলায় আকবরের শেষ সুবাদার ছিলেন রাজা মানসিংহ।
- তিনি ছিলেন রাজপুত এবং একজন দক্ষ সেনাপতি।
- মানসিংহ তাঁর ছেলে দুর্জন সিংহকে বিশাল বাহিনী নিয়ে ভাটি আক্রমণ করতে পাঠান।
- ব্রহ্মপুত্র তীরে এগারসিন্ধুতে ঈসা খান দুর্জন সিংহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
- ঈসা খানের সাথে মানসিংহের একক যুদ্ধ হয়।
- ঈসা খান মানসিংহকে একক যুদ্ধে আহ্বান করেন এবং ঘোষণা করেন যে, যুদ্ধে জয়ী যিনি হবেন তিনিই বাংলার কর্তৃত্ব লাভ করবেন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩২.
পলাশীর যুদ্ধে কে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেনি?
  1. ক) মীরজাফর
  2. খ) মীরমদন
  3. গ) রায় দুর্লভ
  4. ঘ) ইয়ার লতিফ
সঠিক উত্তর:
খ) মীরমদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মীরমদন
ব্যাখ্যা
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলার সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয় । যুদ্ধক্ষেত্রে নবাবের সেনাপতি মীরজাফর, জগৎশেঠ, রায় দুর্লভ, ইয়ারলতিফ, উমিচাঁদ প্রমূখ তাদের সৈন্যবাহিনীসহ নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে ইংরেজদের জয়ের সুযোগ করে দেয়।
তবে মীরমদন, মোহনলাল প্রমুখ দেশপ্রেমিক সৈনিকগণ ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রাণপণে যুদ্ধ করেন এবং ইংরেজদের গোলার আঘাতে মীরমদনের মৃত্যু হয়।
নবাব পরাজিত ও নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সেনাদের একটি দল 'সিনফ্রে'র সেনাপতিত্বে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - নবম দশম শ্রেণী।
২৩৩.
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগ শুরু হয় কোন শাসকের মাধ্যমে?
  1. রাজা গণেশ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4.  ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
 ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
- এরপর থেকে রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসন ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনের অধীনে থাকে।
- ১২০৪–১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খলজি, তুর্কি ও বলবনী শাসকগণ প্রধানত দিল্লির সুলতানদের নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।
- অনেক শাসক দূরবর্তী বাংলায় স্বাধীনতার সুযোগ পেয়ে দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেন।
- বাংলাকে তখন “বুলঘাকপুর” বা “বিদ্রোহের নগরী” বলা হতো।
- ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগ শুরু করেন।
- ১৩৩৮–১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা প্রায় দুই শতাব্দী স্বাধীন থাকে।
- এই স্বাধীন যুগে শাসক ছিলেন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ, ইলিয়াস শাহী বংশ, রাজা গণেশের বংশ, হাবশি সুলতান ও হোসেন শাহী বংশ।
শাসকগণ ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ নৃপতিদের পাশে স্থান করে নেন।
- তারা বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাসংস্কৃতি উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- এই দুই শতাব্দীর স্বাধীন সুলতানি যুগকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৪.
বর্তমান কোন জেলা প্রাচীন 'বরেন্দ্র' অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
গ) রাজশাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজশাহী
ব্যাখ্যা
প্রাচীন যুগে বাংলা কোন একক বা অখণ্ড রাষ্ট্র ছিলো না।
- সমগ্র বাংলা তখন কতগুলো ছোট ছোট অংশে বিভক্ত ছিলো।
- এসব ছোট ছোট অংশ জনপদ নামে পরিচিত। প্রাচীন শিলালিপি ও সাহিত্যগ্রন্থে প্রাচীন বাংলায় প্রায় ষোলটি জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- বরেন্দ্র ছিল উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ। অনুমান করা হয় পুন্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্র এর অবস্থান। 
- বগুড়া, রাজশাহী ও দিনাজপুর জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলা জুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৩৫.
মুঘল শাসন ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্তাকে কী বলা হত?
  1. ফৌজদার
  2. শিকদার
  3. সুবাহদার
  4. সম্রাট
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
ব্যাখ্যা
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৬.
’শাহ-ই-বাঙ্গালা’ নামে উপাধি কার ছিল?
  1. মুহাম্মদ বিন তুঘলক
  2. গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ
  3. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ:
- সুলতানি যুগের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। 
- অতি সাধারণ অবস্থা থেকে লখনৌতির শাসক হয়ে লখনৌতি, সাতগাঁও, সোনারগাঁ ও বিহার অধিকার করে সমগ্র বাংলাকে একটি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে এনে ইলিয়াস শাহ বাংলার ইতিহাসে অমর স্থান অধিকার করে আছেন। 
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র ও সোনারগাঁও-এর শাসক ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে পূর্ব বঙ্গে রাজ্য সম্প্রসারণ করেন। 
- তাঁর রাজত্বকালে বাঙালিরা সর্বপ্রথম একটি জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। 
- এ সময় বাংলার লোকেরা বাঙালি হিসেবে পরিচিত হয়। 
- এ কারণে ঐতিহাসিকগণ তাঁকে 'বাঙালি জাতীয়তাবাদের জনক' বলে উল্লেখ করেছেন।  
- লখনৌতি, সাতগাঁও এবং এর সাথে সোনারগাঁও অধিকার করে ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলার একচ্ছত্র অধিপতির মর্যাদা লাভ করেন। 
- ইতিপূর্বে এই বিরল গৌরব আর কোন মুসলমান শাসক অর্জন করতে পারেন নি। 
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই- সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ" এবং 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন। 

উল্লেখ্য, 
- দুই বাংলার সমগ্র সীমানাকে একত্রিত করে বাঙ্গালাহ নামটি তাঁর সময়েই প্রচলিত হয়।
- বাংলার ইতিহাসের এ মহানায়ক সুদীর্ঘ ১৬ বছর রাজত্ব করার পর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৭.
ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন -
  1. জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
  2. আজহারউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
  3. জলিলউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
  4. মহিউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
সঠিক উত্তর:
জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর
ব্যাখ্যা
বাবর:
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- পিতার দিক থেকে বাবর ছিলেন বিখ্যাত তুর্কি তৈমুর লং-এর অধস্তন পঞ্চম পুরুষ এবং মায়ের দিক থেকে তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান।
- উপমহাদেশে বাবরের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ মুঘল বংশ নামে পরিচিত হয়েছে মোঙ্গলদের সাথে তাঁর সম্পর্ক থাকার কারণেই।
- বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে মধ্য এশিয়ার ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ওমর মির্জা ফারগনার শাসনকর্তা ছিলেন।
- পিতার মৃত্যুর পর বাবর বার বছর বয়সে ফারগানার অধিপতি হন।
- ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে উজবেক শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথম বারের মতো বাবর কাবুল জয় করেন।
- কাবুল বিজয়ের পরও বাবর পিতৃসিংহাসন পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করেন।
- কাবুল অধিকারের পর বাবর ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা করেন।
- এসময় ভারতের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন লোদী সুলতানরা।
- বাবরের আক্রমণের পূর্বে ভারতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- ভারতের কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে বাবর এদেশে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৮.
The first independent Nawab of Bengal -
  1. ক) Alivardi Khan
  2. খ) Alauddin Hussain Shah
  3. গ) Shamsuddin Ilyas Shah
  4. ঘ) Murshid Quli Khan
সঠিক উত্তর:
ঘ) Murshid Quli Khan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Murshid Quli Khan
ব্যাখ্যা
• নবাবী শাসনামল (১৭০৭ - ১৭৫৭):
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় স্বাধীন নবাবী আমল।
- ১৭৬০ - ৬৩ সাল পর্যন্ত মীর কাসিম নবাব ছিলেন।
- ১৭৬৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত নবাব নবাব মীর কাসিম, মোঘল সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা বাহিনীর সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলা সহ অন্যান্য অঞ্চলে নবাবী শাসন বিলুপ্ত হয় এবং ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ চূড়ান্তভাবে শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
২৩৯.
বাংলার বারো ভূঁইয়াদের দমন করেন কে?
  1. ইসলাম খান
  2. সম্রাট শাহজাহান
  3. শায়েস্তা খান
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বাংলায় কররানী বংশের রাজত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলার সোনারগাঁ, খুলনা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলে কিছুসংখ্যক জমিদার স্বাধীন রাজার মতো রাজত্ব শুরু করে।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অধিকাংশই দখল করে নেন।
- এক দল জমিদার বা ভূস্বামী একযোগে পূর্ব বাংলার ওপর মোগল আক্রমণ প্রতিহত করেন।
- এরাই বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।
- বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ।
- আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বারবার চেষ্টা করেও ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলেও বারো ভূঁইয়ারা মোগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- তবে শেষ পর্যন্ত বারো ভূঁইয়াগণ মুঘল সুবাদার ইসলাম খানের হাতে পরাজিত হন এবং মুঘল বশ্যতা স্বীকার করেন।
- ফলে বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে দক্ষতার সাথে বারভূঁইয়াদের দমন করেন সুবাদার ইসলাম খান।
- ১৬০৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুবাদার হয়ে আসেন ইসলাম খান চিশতী। তার মূল লক্ষ্য ছিল বারভূঁইয়াদের পরাস্ত করা।
- সুবাদার ইসলাম খান ঢাকায় প্রবেশ করে ঢাকাকে রাজধানী ঘোষণা করেন এবং সম্রাটের নামে তার নতুন নামকরণ করেন - জাহাঙ্গীরনগর। এরপর সেখান থেকে বারভূঁইয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে শুরু করেন।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২৪০.
কার শাসনামল থেকে বাংলায় নবাবি শাসন চালু হয়?
  1. মীর জুমলা
  2. মুর্শিদকুলী খান
  3. সুজাউদ্দীন খান
  4. আলীবর্দী খান
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খান
ব্যাখ্যা
বাংলার নবাবী শাসন (১৭১৭-১৭৫৭ খ্রি.): 
- মুর্শিদকুলী খানের শাসনামল থেকে বাংলায় নবাবী শাসন চালু হয়। 
- মুর্শিদকুলী খানের শাসনামল (১৭১৭ খ্রি.) থেকে সুবা-বাংলার চরিত্রে কিছু শব্দ ও চরিত্রগত পরিবর্তন আসে।
- সুবাকে তখন 'নিজামত' (নবাবী) এবং সুবাদারকে 'নাজিম' (নবাব) বলা হতো।
- আগে মুঘলরা সুবেদার নিয়োগ করতেন।
- এই সময় (১৭১৭ খ্রি.) থেকে নবাবি প্রাপ্তির বিষয়টি বংশগতভাবে অব্যাহত থাকার নিয়ম করা হয়।
- প্রথা হিসেবে মুঘল সম্রাটদের কাছে একটি আবেদন করা হতো।
- নবাবগণ প্রদেশের স্বাধীন শাসকের মর্যাদা লাভ করেন।
- এর ফলে দিল্লির শাসন ব্যবস্থায় প্রদেশের শাসন ক্ষমতায় পারিবারিক উত্তরাধিকারদের আইনগত বৈধতা লাভ ঘটে যা সুবাদারী শাসনে ছিল না।
- মুর্শিদকুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
- নবাবী ব্যবস্থার প্রথম সুযোগ গ্রহণ করেন মুর্শিদকুলী খানের উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁর কন্যার স্বামী।
- তাঁর কন্যা জিনাত-উন-নেসার স্বামী সুজাউদ্দীন খান (১৭২৭-১৭৩৯ খ্রি.) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মতো তিন প্রদেশের স্বাধীন নবাব-এর মর্যাদা নিয়ে সিংহাসনে বসেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪১.
বিখ্যাত সাধক শাহ সুলতান বলখির মাজার অবস্থিত-
  1. ক) মহাস্থানে
  2. খ) শাহজাদপুরে
  3. গ) নেত্রকোণায়
  4. ঘ) রামপালে
সঠিক উত্তর:
ক) মহাস্থানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহাস্থানে
ব্যাখ্যা
শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রঃ) একজন দরবেশ।
তিনি বগুড়া জেলার মহাস্থানে সমাহিত।
শাহ সুলতান মাহিসওয়ারের ইতিহাস অস্পষ্ট।
কথিত আছে যে, তিনি বলখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন এবং এজন্য তিনি বলখী নামেও পরিচিত।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২৪২.
কোন শাসককে পরাজিত করে শের খান ‘শের শাহ’ উপাধি লাভ করেন?
  1. ক) সম্রাট বাবর
  2. খ) আদিল শাহ শূর
  3. গ) গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহ
  4. ঘ) সম্রাট হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
- ১৫৩৯ খ্রিষ্টাব্দে শের খান অপ্রস্তুত মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে ‘শের শাহ’ উপাধি নেন এবং নিজেকে স্বাধীন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল শাসনকর্তা আলী কুলিকে পরাজিত করে তিনি বাংলা দখল করেন এবং এ বছরই তিনি হুমায়ুনকে কনৌজের নিকট বিলগ্রামের যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন।                                                                                                                                                   
- চট্টগ্রাম ও সিলেট পর্যন্ত সমগ্র বাংলাদেশ শের শাহের সম্রাজ্যভুক্ত ছিল। শের শাহ শূর বংশের বলে এ সময়ের বাংলার শাসন ছিল শূর আফগান বংশের শাসন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৩.
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ছিলেন?
  1. শিকদার
  2. ফৌজদার
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. ওয়াজির
  5. সুবাহদার
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
ব্যাখ্যা

মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা।
- শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৪.
মুর্শিদকুলী খানের আমলে রাজস্ব বন্দোবস্ত কোন নামে পরিচিত ছিল?
  1. টোডরমল বন্দোবস্ত
  2. শাহ সুজা বন্দোবস্ত
  3. মাল জমিনী
  4. জাফরী বন্দোবস্ত
সঠিক উত্তর:
মাল জমিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাল জমিনী
ব্যাখ্যা

• মুর্শিদকুলী খান (১৭০০–১৭২৭):

- মুর্শিদকুলী খান বাংলায় নওয়াবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা। 
- তিনি প্রাদেশিক দীউয়ান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে একে একে উড়িষ্যা ও বাংলার নাজিম, বিহারের দীউয়ান এবং বিভিন্ন জেলার ফৌজদার পদে অধিষ্ঠিত হন। 

- ১৭০০ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে বাংলার দীউয়ান হিসেবে নিয়োগ দেন। 
- তিনি রাজস্ব ও প্রশাসনে দক্ষতা প্রদর্শন করেন এবং সৎ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তা হিসেবে খ্যাত হন। 
- রাজকীয় স্বার্থ ও নাজিমের সঙ্গে বিবাদ সত্ত্বেও সম্রাটের হস্তক্ষেপে তিনি সুরক্ষিত থাকেন। 
- ১৭০৩ সালে তিনি ‘মুর্শিদকুলী খান’ খেতাব লাভ করেন এবং মকসুদাবাদকে মুর্শিদাবাদ নামে পরিচিত করেন।

- ১৭১৬ সালে তিনি বাংলার নাজিম পদে উন্নীত হন। 
- তার আমলে বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কারিত হয়, যা “মাল জমিনী” নামে পরিচিত।
- হিন্দু জমিদারদের অগ্রাধিকার দিয়ে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়। 
- তিনি অভ্যন্তরীণ ও বহির্বাণিজ্যকে উৎসাহিত করেন এবং অসৎ ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি দিতেন। 
- ইউরোপীয় কোম্পানি এবং আরব, পারস্য ও আর্মেনীয় ব্যবসায়ীরা তার আমলে সক্রিয়ভাবে বাণিজ্যে যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৪৫.
রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন-
  1. ক) লর্ড ক্যানিং
  2. খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. গ) লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. ঘ) লর্ড বেন্টিঙ্ক
সঠিক উত্তর:
খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা হয় তাকেই "চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত" বলা হয়।
ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত এবং একসালা বন্দোবস্ত করে ভূমিব্যবস্থায় পরিবর্তন আনেন। তবে এই ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়।
এই পরিস্থিতিতে কর্নওয়ালিস প্রথমে দশসালা পরে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে একে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে ঘোষণা করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী]
২৪৬.
ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত হলেন -
  1. ক) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. খ) সম্রাট শাহজাহান
  3. গ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
  4. ঘ) সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা

- মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত।
- তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত ।
- সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং বাংলাপিডিয়া।

২৪৭.
কোন মুঘল সুবাদার বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন?
  1. মুর্শিদ কুলি খান
  2. ইসলাম খান
  3. রাজা মানসিংহ
  4. শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
ইসলাম খান চিশতী:
- মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করেন।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বার ভূঁইয়াদের দমন করেন এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- তিনি ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র, তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
- ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- ১৬১০ সালে তিনি ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন।
- তিনি এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর।
- ইসলাম খান বাংলার জমিদারদেরকে দমন করে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৮.
কোন সুলতানের শাসনামলে ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মিত হয়?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
  3. জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহ
  4. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করা হয়। 
- সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। 
- খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়। 
- তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট।

• মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। 
- মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। 
- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

২৪৯.
কোন মুঘল সুবেদার লালবাগ কেল্লা তৈরি করেন?
  1. ক) ইসমাইল খাঁ
  2. খ) শায়েস্তা খাঁ
  3. গ) আলীবর্দী খান
  4. ঘ) মীর মানস
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খাঁ
ব্যাখ্যা

- মীরজুমলার মৃত্যুর পর শায়েস্তা খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন। তাঁর সুবাদারী শাসনকাল দুপর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম দফায় ১৬৬৪ থেকে ১৬৭৮ খ্রি: পর্যন্ত এবং শেষে ১৬৭৯ থেকে ১৬৮৮ খ্রি: পর্যন্ত তিনি বাংলার সুবাদার ছিলেন।
শায়েস্তা খানের কীর্তি-
- চট্টগ্রাম জয় করে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ।
- সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম অধিকার করে আরাকানি জলদস্যুদের সম্পূর্ণরূপে উৎখাত করেন।
- তিনি বাংলা থেকে ইংরেজদের বিতাড়িত করেন।
- তাঁর আমলে নির্মিত স্থাপত্য কর্মের মধ্যে ছােট কাটারা, লালবাগ কেল্লা, বিবি পরির সমাধিসৌধ, হােসেনী দালান, সফি খানের মসজিদ, বুড়িগঙ্গার মসজিদ, চক মসজিদ প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।

২৫০.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে?
  1. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  2. আলীবর্দী খান
  3. মুর্শিদকুলি খান
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলি খান
ব্যাখ্যা
মুর্শিদ কুলি খান:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবি আমলের সূচনা হয়।
- তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ সন্তান।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
 - তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- তাঁর কন্যা জিনাত-উন-নেসা।

⇒ অপরদিকে,
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন হোসেন শাহী যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- বাংলায় বর্গীদের দমনে সবচেয়ে অবদান আলীবর্দী খান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫১.
কোন মুঘল সুবাদার বারোভূঁইয়াদের দমন করেন?
  1. ক) কাসিম খান
  2. খ) ইসলাম খান
  3. গ) শায়েস্তা খান
  4. ঘ) ইব্রাহীম খান
সঠিক উত্তর:
খ) ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
- মুঘল সুবাদার ইসলাম খান চিশতি বারোভূঁইয়াদের দমন করে। 
- তিনি ১৬১০ সালে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। 
- তৎকালীন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে তিনি ঢাকার নাম রাখেন 'জাহাঙ্গীরনগর'। 
- ইসলাম খান চিশতি ১৬১১ সালে বারোভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে সমগ্র বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে নিয়ে আসেন। 
- ধোলাই খাল পুরান ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক এলাকা।
- ঢাকার প্রথম মুগল সুবাদার ইসলাম খান এই খাল খনন করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫২.
কোন মুঘল সম্রাটের সময় লালবাগ দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল?
  1. ক) আকবর
  2. খ) শাহজাহান
  3. গ) জাহাঙ্গীর
  4. ঘ) আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
ঘ) আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময় লালবাগ দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছিল। 

- লালবাগ দুর্গ মুগল প্রাসাদ দুর্গ। এটি আওরঙ্গাবাদ দুর্গ নামেও পরিচিত।
- পুরাতন ঢাকা নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দূর্গটির অবস্থান।
- নদীটি বর্তমানে আরও দক্ষিণে সরে গিয়ে দুর্গ থেকে বেশ খানিকটা দূর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

- যুবরাজ মুহম্মদ আজম বাংলার সুবাহদার থাকাকালীন ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
- কিন্তু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই আওরঙ্গজেব তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠান।
- তাঁর উত্তরসূরি শায়েস্তা খান ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করলেও দুর্গের কাজ সমাপ্ত করেন নি।
- ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে শায়েস্তা খানের কন্যা বিবি পরী এখানে মারা গেলে দুর্গটিকে তিনি অপয়া হিসেবে বিবেচনা করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

উৎস : বাংলাপিডিয়া
২৫৩.
সম্রাট আকবর বাংলা বিজয় করেন-
  1. ক) ১৫৫৬ সালে
  2. খ) ১৫৬০ সালে
  3. গ) ১৫৭৬ সালে
  4. ঘ) ১৫৮৭ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট আকবর ছিলেন ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। পৃথিবীর ইতিহাসে মহান শাসকদের অন্যতম মহামতি আকবর নামেও পরিচিত তিনি। পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আকবর ভারতের শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি মনসবদারী প্রথার প্রচলন করেন, জিজিয়া কর ও তীর্থকর রহিত করেন, বুলান্দ দরওয়াজ ও অমৃতসর স্বর্ণমন্দির নির্মাণ করেন। সম্রাট আকবর বাংলা বিজয় করেন ১৫৭৬ সালে। তাঁর সময়ে সমগ্র বঙ্গ দেশ ‘সুবহ-ই-বাঙ্গালাহ’ নামে পরিচিত ছিল। বাংলায় বার ভূঁইয়াদের অভ্যুত্থান ঘটে আকবরের আমলে। তিনি বাংলা সনের প্রবর্তক ছিলেন। সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি) ও বাংলাপিডিয়া।
২৫৪.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
  1. আলীবর্দী খান
  2. সিরাজ-উ-দ্দৌলা
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. মীর কাসিম
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা

নবাবী আমল:
- বাংলায় স্বাধীন নবাবী আমল ১৭০৭-১৭৫৭ সাল।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় স্বাধীন নবাবী আমল।
- ১৭৬০ - ৬৩ সাল পর্যন্ত মীর কাসিম নবাব ছিলেন।
- ১৭৬৪ সালে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত নবাব নবাব মীর কাসিম, মোঘল সম্রাট শাহ আলম ও অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা বাহিনীর সাথে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর যুদ্ধ হয় যা বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- উক্ত যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলা সহ অন্যান্য অঞ্চলে নবাবী শাসন বিলুপ্ত হয় এবং ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ চূড়ান্তভাবে শুরু হয়

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫৫.
মুঘল শাসন ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা -
  1. শিকদার
  2. পাদশাহ
  3. ফৌজদার
  4. সুবাহদার
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফৌজদার
ব্যাখ্যা
মুঘল যুগের প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
- মুঘল শাসনব্যবস্থা এক-কেন্দ্রিক ও স্বৈরতন্ত্রী হলেও জনকল্যাণকামী ছিল।
- এই শাসনব্যবস্থা ছিল প্রধানত সামরিক শক্তি নির্ভর।
- একমাত্র সদর ও কাজী ছাড়া অন্যসব কর্মচারিকে সামরিক দায়িত্ব পালন করতে হত।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি রচিত হয় তুর্কি-পারস্য শাসন ব্যবস্থার অনুকরণে।
- মুঘলরা একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাদেশিক শাসন কাঠামোও গড়ে তুলেছিল।
- মুঘল শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার উৎস ছিলেন 'পাদশাহ' বা সম্রাট।
- তিনি একাধারে রাষ্ট্রীয় প্রধান, সামরিক প্রধান এবং প্রধান বিচারক হিসেবে রাজ্য পরিচালনা ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন।
- সম্রাটের পরই প্রধানমন্ত্রী বা ওয়াজিরের স্থান ছিল।
- বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের সুষ্ঠু শাসনের জন্য সমগ্র সাম্রাজ্যকে কতগুলো 'সুবাহ' বা প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল।
- সুবাহদার ছিলেন সুবাহর প্রধান কর্ম নির্বাহক।
- মুঘল আমলে প্রতিটি প্রদেশ কয়েকটি সরকার বা জেলায় এবং প্রতিটি সরকার কয়েকটি পরগনায় বিভক্ত ছিল।
- ফৌজদার ছিলেন সরকারের প্রধান নির্বাহীকর্তা ও শিকদার ছিলেন পরগণার প্রধান নির্বাহীকর্তা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৬.
চৌসার যুদ্ধে কে পরাজিত হয়েছিলেন?
  1. শেরশাহ
  2. সম্রাট হুমায়ুন
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা

চৌসার যুদ্ধ (১৫৩৯): 
- সম্রাট হুমায়ুন গৌড় পরিত্যাগ করার পূর্বে জাহাঙ্গীর কুলী বেগকে বাংলার শাসনভার অর্পণ করেন।
- বক্সারের নিকটবর্তী চৌসা নামক স্থানে শেরখান ও তাঁর আফগান অনুচরেরা সম্রাট হুমায়ুনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জুন চৌসায় উভয়পক্ষের মধ্যে এক তীব্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে চৌসার যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- এই যুদ্ধে হুমায়ুন শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়।
- শেরখানের নেতৃত্বে আফগান বাহিনী মুঘল বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
- চৌসার যুদ্ধে শের খানের জয়লাভ ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- কেননা এর ফলে শের খানের রাজ্য পশ্চিম দিকে কনৌজ হতে পূর্বে আসাম ও চট্টগ্রাম এবং উত্তর দিকে রোটাস হতে দক্ষিণ দিকে বীরভূম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।
- এই যুদ্ধের পর শেরখান শেরশাহ উপাধি ধারণ করেন এবং নিজ নামে মুদ্রা প্রচলন ও পাঠের নির্দেশ প্রদান করেন।
- পক্ষান্তরে এই যুদ্ধে হুমায়ুনের পরাজয়ের মাধ্যমে মুঘলদের সামরিক ও কূটনৈতিক দুর্বলতা প্রস্ফুটিত হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৭.
ঢাকার ঐতিহাসিক বড় কাটরা নির্মাণ করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. ইসলাম খান
  3. শাহজাদা সুজা
  4. মীর আবুল কাশেম
সঠিক উত্তর:
শাহজাদা সুজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাদা সুজা
ব্যাখ্যা
বড় কাটরা:
- বড় কাটরা, ঢাকা মুগল রাজধানী ঢাকার চক বাজারের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে অবস্থিত।
- মধ্য এশিয়ার ক্যারাভান সরাই-এর ঐতিহ্য অনুসরণে নির্মিত।
- বড় কাটরা দারুণভাবে সুরক্ষিত এবং মুগল রাজকীয় স্থাপত্য-রীতির সকল বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি বিদ্যমান।
- বড় কাটরায় ফারসি ছন্দোবদ্ধ পংক্তিযুক্ত দুটি শিলালিপি আছে।
- এর একটিতে উৎকীর্ণ আছে যে, ইমারতটি ১০৫৩ হিজরিতে (১৬৪৩-৪৪ খ্রি) নির্মিত এবং অন্যটিতে আছে ১০৫৫ হিজরিতে (১৬৪৫-৪৬ খ্রি) নির্মিত।
- শাহজাদা সুজা বড় কাটড়া নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে,
- ছোট কাটড়া নির্মাণ করেন শায়েস্তা খান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৫৮.
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ কত খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন?
  1. ১৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৩৫৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সুলতানি যুগ: 
- ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হলে বাংলার ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- কেননা এরপর থেকে রাজা গণেশের স্বল্পকালীন শাসনামল ব্যতীত ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না, বরং তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকেই সুযোগ পেলেই স্বাধীনতার জন্য দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
- এজন্য বাংলাকে বুলগাকপুর বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন
- তখন থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দু'শ বছর ধরে বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতা ভোগ করেছিল।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৫৯.
দানশীলতার জন্য কাকে লাখবক্স বলা হয়?
  1. সুলতান নাসির উদ্দিন
  2. শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ
  3. মুহাম্মদ ঘুরী
  4. কুতুবুদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
কুতুবুদ্দিন আইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুতুবুদ্দিন আইবেক
ব্যাখ্যা
•সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেক:  
- সুলতান কুতুবুদ্দিন আইবেক হলেন মুহাম্মদ ঘুরীর ক্রীতদাস। 
- তিনি দিল্লিতে মুসলীম শাসনের গোড়াপত্তন করেন। 
- দানশীলতার জন্য কুতুবুদ্দিন আইবেক কে লাখবক্স বলা হত। 
- তিনি তুর্কিস্থানের অধিবাসী। 
- দিল্লির প্রথম স্বাধীন সুলতান। 
- কুতুব মিনার নির্মাণ করেন। 
- উপমহাদেশের স্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ও দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা। 

⇒ অপরদিকে, 
- শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ ছিলেন কুতুবুদ্দিনের জামাতা। 
- দিল্লির সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা: শামসুদ্দিন ইলতুতমিশ। 
- তার উপাধি ছিল সুলতান-ই-আযম। 
- ইলতুতমিশের কন্যার নাম সুলতানা রাজিয়া। 
- দিল্লির সিংহাসনে আরোহণকারী প্রথম মুসলিম নারী সুলতানা রাজিয়া।
- সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমদ শাহ ছিলেন ইলতুৎমিশের পুত্র।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র , এইচ এস এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬০.
কে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত করেন?
  1. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  2. নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
  3. সুবাদার ইসলাম খান
  4. নবাব শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
ব্যাখ্যা
• নবাব মুর্শিদকুলি খান:
- মুর্শিদকুলি খান বাংলায় নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা  থেকে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।
- সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব।

অন্যদিকে -
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব।

ইসলাম খান:
- ইসলাম খান পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য বাংলার মুঘল সুবাদার ছিলেন।
- প্রকৃত নাম শেখ আলাউদ্দীন চিশতি।
- তিনি বাংলার প্রথম সুবাদার ছিলেন।

শায়েস্তা খান:
- ইরানি বংশোদ্ভূত শায়েস্তা খান মোগল আমলে বাংলার একজন বিখ্যাত সুবাদার ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু তালিব।
- মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর তাঁকে শায়েস্তা খান নাম দেন।
- শায়েস্তা খান সম্রাট আওরঙ্গজেবের মামা ছিলেন

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২৬১.
কোন শাসকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলায় দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটে?
  1. নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহ
  2. আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ ১৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহকে হত্যা করে গৌড়ের সিংহাসনে বসেন। তাঁর পাঁচ বছরের রাজত্বকালে উল্লেখযোগ্য ঘটনা আফগান নেতা শেরশাহ শূরের সাথে সংঘর্ষ।
অবশেষে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহ গৌড় দখল করে বাংলায় আফগানি শাসনের সূত্রপাত করেন।
১৩৩৮ সালে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওয়ে যে স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেছিলেন ১৫৩৮ সালে গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলায় দুইশ বছরের স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান ঘটে।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
২৬২.
আলিবর্দী খাঁ এর প্রকৃত নাম কী?
  1. ক) মির্জা মুহাম্মদ আলী
  2. খ) সরফরাজ খাঁ
  3. গ) সুজাউদ্দিন
  4. ঘ) হাজি আহমদ
সঠিক উত্তর:
ক) মির্জা মুহাম্মদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মির্জা মুহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা
আলীবর্দী খান:
 - আলিবর্দী খাঁ(১৬৭৬-১৭৫৬)  বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নওয়াব (১৭৪০-১৭৫৬)।
- তিনি প্রথম জীবনে মির্জা মুহম্মদ আলী নামে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ছিলেন আরব বংশোদ্ভূত মির্জা মুহম্মদের পুত্র।
- মির্জা মুহম্মদ ছিলেন আওরঙ্গজেব-এর দ্বিতীয় পুত্র মির্জা আজম শাহের দরবারের একজন কর্মচারী।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২৬৩.
লোদী বংশের শেষ সুলতান কে?
  1. ইব্রাহিম লোদী
  2. বাহলুল লোদী
  3. দৌলত খান লোদী
  4. সিকান্দার লোদী
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম লোদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম লোদী
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ:
→ বাবর বুঝেছিলেন পানিপথের প্রান্তরের যুদ্ধে জয় লাভ করলে তাঁর দিল্লির সিংহাসনে বসার পথ সহজ হয়ে যাবে।
→ তাই তিনি দিল্লির নিকটবর্তী পানিপথ প্রান্তরে দিল্লির লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন। তারিখটি ছিল ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে ১২ এপ্রিল।
→ বাবরের আত্মজীবনী তুযুক-ই-বাবরী থেকে জানা যায়, এ সময়ে তাঁর সাথে বার হাজার সৈন্য ছিল।
→ তাছাড়া পাঞ্জাব জয়ের পর কিছু সংখ্যক অতিরিক্ত সৈন্যও তাঁর সাথে যোগদান করে।
→ তাঁর জ্যৈষ্ঠপুত্র হুমায়ুনও তাঁর সাথে যোগ দিয়েছিলেন।
→ অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন।
→ প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন। আর ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৪.
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ চালু করেন কে?
  1. সম্রাট আকবর 
  2. সম্রাট বাবর 
  3. বিজয় সেন 
  4. লক্ষ্মণ সেন
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর 
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- সম্রাট আকবর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
- যুদ্ধক্ষেত্র, সমরনীতি, কূটনীতি ও প্রশাসন সকল ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মুঘলদের মধ্যে সর্বশেষ্ঠ শাসক। ইতিহাসে তাই তিনি 'Akbar the Great' নামে পরিচিত।
- সম্রাট হুমায়ুন যখন শেরশাহ এর নিকট পরাজিত ও রাজ্যচ্যুত হয়ে স্ত্রী হামিদাবানুকে নিয়ে পারস্য অভিমুখে যাত্রাকালে, রাজস্থানের অমরকোটে ২৩ নভেম্বর, ১৫৪২ সালে আকবর জন্মলাভ করেন।
- জন্মের পর হুমায়ুন শিশুপুত্রের নামকরন করেন জালালউদ্দিন। 

⇒ ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ আকবর উপাধি নিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন। 
- উত্তরে কাশ্মীর হতে দক্ষিণে আহমেদনগর ও মধ্য এশিয়ার কাবুল কান্দাহার হতে পূর্ব বাংলা পর্যন্ত একচ্ছত্র মুঘল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রি. দ্বীন-ই-ইলাহী নামক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। আকবর সকলের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এই সকল ধর্মের দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে সকল ধর্মের ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন। এটিই দ্বীন-ই-ইলাহি নামে পরিচিত।

⇒ রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য আকবর শের শাহের রাজস্ব নীতি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
- আকবর ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। 
- সম্রাট আকবর পদাতিক, অশ্বারোহী, গোলন্দাজ ও নৌ-বাহিনী এই চার ভাগে তার সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করেন। 
- কৃষিকাজের ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন। এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii)ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৫.
কার সময়ে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়?
  1. ক) ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. খ) জন কার্টিয়ার
  3. গ) রবার্ট ক্লাইভ
  4. ঘ) লর্ড কর্ণওয়ালিস
সঠিক উত্তর:
গ) রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
এলাহাবাদ চুক্তির মাধ্যমে মোগল সম্রাট শাহ আলমের নিকট থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি বা রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা লাভ করে।
অন্যদিকে নবাবকে শাসন ও বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইতিহাসে এটিই দ্বৈতশাসন নামে পরিচিত।
ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা বাতিল করেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৬৬.
কোন মুঘল সম্রাটের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে?
  1. আওরঙ্গজেব
  2. দ্বিতীয় শাহ আলম
  3. আহমদ শাহ বাহাদুর
  4. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা

মুঘল সাম্রাজ্যের পতন:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মুঘল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মুঘল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মুঘল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।
- পারস্য সম্রাট নাদির শাহ এবং পরবর্তীকালে আফগান রাজা আহমদ শাহ আবদালীর দিল্লি আক্রমণ ও লুণ্ঠনে মোগল সাম্রাজ্য দুর্দশায় ও পতনুম্মুখ হয়ে পড়ে।
- এমনি মুমূর্ষ অবস্থায় ইংরেজ শক্তির ক্ষমতা দখল করার ফলে মোগল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৭.
'করতলব খান' কার উপাধি?
  1. আলিবর্দী খান
  2. সিরাজউদ্দৌলা
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. মীর কাসিম
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা
• মুর্শিদ কুলি খান:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- মুর্শিদ কুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবি আমলের সূচনা হয়।
- তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ সন্তান।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে 'করতলব খান' উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২৬৮.
টিপু সুলতান কোন অঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন?
  1. সুরাট
  2. মহীশূর
  3. বিহার
  4. দিল্লি
সঠিক উত্তর:
মহীশূর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহীশূর
ব্যাখ্যা
- টিপু সুলতানকে মহীশূরের বাঘ বলা হয়। ভারতের বর্তমান কর্নাটক রাজ্যের পূর্বনাম মহীশূর।
- টিপু সুলতান ১৭৮২ সাল থেকে ১৭৯৯ সাল পর্যন্ত মহীশূর রাজ্যের শাসক ছিলেন।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে কয়েক দফা যুদ্ধে জয় লাভ করলেও ১৭৯৯ সালে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি লর্ড ওয়েলেসলির নিকট পরাজিত ও নিহত হন।
- ভারতের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাম্রাজ্য বিস্তারের অন্যতম বড় বাধা ছিলো টিপু সুলতান।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস ও বিবিসি বাংলা)
২৬৯.
মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল কোন নামে পরিচিত?
  1. The Age of Marble
  2. The Golden Age
  3. The Age of Expansion
  4. The Dark Age
সঠিক উত্তর:
The Age of Marble
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Age of Marble
ব্যাখ্যা

সম্রাট শাহজাহান:
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের পুত্র ছিলেন সম্রাট শাহজাহান। 
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর শাহজাহান ১৬২৮ খ্রি. ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজী উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন।
- তার সময়কাল মুঘল ইতিহাসের চিত্রকলা ও স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ বলে বিবেচিত ও প্রশংসিত। 
- মুঘল ইতিহাসে তিনি প্রিয়তমা পত্নীর স্মৃতিতে তাজমহলের স্রষ্টা ও 'Prince of builders' নামে আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন।
- মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল "The Age of Marble" নামে খ্যাত।

উল্লেখ্য,
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন শিল্পকলা, স্থাপত্য ও সৌন্দর্যের পূজারী। তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তার স্থাপত্যরীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তিনি লাল পাথরে স্থলে মূল্যবান শ্বেত মর্মম পাথর (White marbel) ব্যবহার করেছেন।
- তার রাজত্বকালে দিল্লি, আগ্রা, লাহোরে ব্যাপক স্থাপত্য শৈলী তৈরী করা হয়েছিল।
- কাবুল, কান্দাহার ও কাশ্মিরে মনোরম উদ্যান, প্রাসাদ, মসজিদ ইত্যাদি নির্মিত হয়েছিল।
- রাজধানী আগ্রাতে তিনি নির্মাণ করেছিলেন দীউয়ান-ই-আম, দীউয়ান-ই-খাস, মোতি মসজিদ, সালিমার উদ্যান, শীষ মহল ইত্যাদি।

এছাড়াও,
- শাহজাহান ১৬৩৮ খ্রি. রাজধানী আগ্রা হতে দিল্লিতে স্থানান্তর করেন এবং নতুন নগরীর নাম দেন শাহজাহানাবাদ। এখানে তিনি লালকেল্লা, মমতাজ মহল ইত্যাদি নির্মাণ করেন।
- তার মসজিদ স্থাপত্যের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ছিল দিল্লির জামে মসজিদ।
- এছাড়াও তিনি বহু মূল্যবান রত্ন খচিত জগৎবিখ্যাত ময়ূর সিংহাসন তৈরি করেন।

⇒ সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য বিশ হাজার দক্ষ শিল্পী ও কারিগর সুদীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। ভারতীয় ও পারসিক শিল্পকলার মিলন ঘটিয়ে তাজমহল নির্মিত হয়েছে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭০.
নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন কবে?
  1. ১৭৫৫ সালে
  2. ১৭৫৬ সালে
  3. ১৭৫৮ সালে
  4. ১৭৫৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

সিরাজউদ্দৌলা:
- আলীবর্দী খানের কোনো পুত্র ছিল না।
- তার তিন কন্যা আমেনা, ময়মুনা ও ঘষেটি ।
- ময়মুনা ও আমেনার দুই পুত্র ছিল।
- কিন্তু ঘষেটি বেগমের কোনো পুত্র ছিল না।
- আলীবর্দী খান আমেনার পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।
- এ কারণে তাঁকেই তাঁর জীবিতকালে বাংলার নবাব পদে মনোনীত করে যান।
- আলীবর্দী খান দৌহিত্য ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- সিরাজ ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর পিতার নাম মির্জা মুহম্মদ হাসিম মইনুদ্দীন খান।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হয়।
- তখন ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন।
- নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ১৭৫৬ সালে কলকাতায় ইংরেজদের ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ অধিকার করেন।
- তিনি কলকাতা অধিকার করে এর নাম রাখেন আলীনগর।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭১.
সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন কবে? 
  1. ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৪৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৬৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• সিরাজউদ্দৌলা:
- আলীবর্দী খানের কোনো পুত্র ছিল না।
- তার তিন কন্যা আমেনা, ময়মুনা ও ঘষেটি ।
- ময়মুনা ও আমেনার দুই পুত্র ছিল।
- কিন্তু ঘষেটি বেগমের কোনো পুত্র ছিল না।
- আলীবর্দী খান আমেনার পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।
- এ কারণে তাঁকেই তাঁর জীবিতকালে বাংলার নবাব পদে মনোনীত করে যান।
- আলীবর্দী খান দৌহিত্য ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- সিরাজ ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর পিতার নাম মির্জা মুহম্মদ হাসিম মইনুদ্দীন খান।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হয়।
- তখন ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭২.
বখতিয়ার খলজী বাংলার কোন রাজাকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন?
  1. বল্লাল সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. কেশব সেন
  4. লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা

বখতিয়ার খিলজির নদীয়া অভিযান:
- ১২০৪ সালে লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে তুর্কী বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা করেন।

- বিহারকে মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি পূর্ব দিকে সেনারাজ্য আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
- বাংলার সেনবংশীয় বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন।
- সেনদের আদি রাজধানী ছিল ঢাকার বিক্রমপুরে।
- নদীয়া ছিল তাদের দ্বিতীয় রাজধানী।
- বখতিয়ার খিলজি ১২০৪ খ্রি. নদীয়া জয় করেন।
- নদীয়া আক্রমণের সময় বখতিয়ার বাংলার সাধারণ প্রবেশ পথ তেলিয়াগর্হির গিরিপথ দিয়ে না ঢুকে উড়িষ্যার ঝড়খন্ডের জঙ্গলের দূর্গম পথে বাংলায় প্রবেশ করেন।
- তিনি ঘোড়া ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে মাত্র ১৭ বা ১৮ জন অগ্রগামী অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে দ্রুতগতিতে নদীয়ার দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হন।
- মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি রাজপ্রাসাদের রক্ষীদের হত্যা করে প্রাসাদে ঢুকে অতর্কিতে আক্রমণ শুরু করেন।
- ইতিমধ্যে তাঁর মূল বাহিনী এসে পড়ে।
- এ সময় রাজা লক্ষণ সেন মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত ছিলেন।
- তিনি এ আকস্মিক আক্রমণে ভীত হয়ে কোন প্রতিরোধ ছাড়াই পেছনের দরজা দিয়ে নৌকা যোগে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে পালিয়ে যান।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৩.
কোন খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর সুলতানি শাসনের অবসান হয়?
  1. ক) ১৫২৭
  2. খ) ১৫২৩
  3. গ) ১৫২৬
  4. ঘ) ১৫২৪
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫২৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৫২৬
ব্যাখ্যা
ইব্রাহিম লোদীর উদ্ধত আচরণ ও কঠোর দমন নীতির ফলে অসন্তুষ্ট আফগান অভিজাত শ্রেণি, পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান লোদী এবং ইব্রাহীম লোদীর পিতৃব্য আলম খান এবং রাজপুতনার মেবারের রানা সংগ্রাম সিংহ কাবুলের অধিপতি জহিরুদ্দীন মুহম্মদ বাবরকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান। উচ্চাভিলাষী এবং সাম্রাজ্যবাদী বাবর এই আহবানে সাড়া দিয়ে ভারত আক্রমণ করেন। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের সর্বশেষ শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘোষণা করেন এবং ভারতর্ষে মুঘল শাসনের গোড়াপত্তন করেন।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)
২৭৪.
অবিভক্ত বাংলায় কার সময়ে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) লর্ড ডানডাস
  2. খ) লর্ড আর্থার জেমস
  3. গ) লর্ড মেয়ো
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক আদমশুমারি হয় ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়োর সময়।
এই আদমশুমারি নানাবিদ কারণে মানসম্মত হয়নি। তবে এই আদমশুমারির মাধ্যমেই বাংলা প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাজ্যরূপে বিবেচিত হয়।
এরপর ১৮৮৯ এবং ১৮৯১ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বিবিএস)
২৭৫.
কার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে?
  1. ক) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. খ) গোলাম রসুল
  3. গ) দুদু মিয়া
  4. ঘ) পরাগল শাহ
সঠিক উত্তর:
গ) দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
প্রথমদিকে এটি ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। তবে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং তিনি একে রাজনৈতিক রূপ দেন।
দুদু মিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
২৭৬.
'মতি মসজিদ' কোন মুঘল সম্রাটের সময়ের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি?
  1. সম্রাট শাহজাহান
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট বাবর
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- সমরকুশলী হিসেবে সম্রাট শাহজাহান দক্ষতার পরিচয় দেন।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৭.
কোন মুঘল সম্রাট বাংলা সন প্রবর্তন করেন?
  1. আকবর
  2. শাহজাহান
  3. বাবর
  4. হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা
পহেলা বৈশাখ:
- এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে।
- তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর।
- এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- তা কার্যকর হয় তাঁর সিংহাসন আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)।
- হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
- নতুন সনটি প্রথমে 'ফসলি সন' নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত আকবরের সময় থেকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৭৮.
কোন মুঘল সম্রাটের সমাধি ভূমি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে?
  1. দ্বিতীয় আকবর
  2. বাহাদুর শাহ জাফর
  3. দ্বিতীয় আলমগীর
  4. আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
বাহাদুর শাহ জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহাদুর শাহ জাফর
ব্যাখ্যা
সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর:
- বৃটিশ ফৌজি কমিশনের দ্বারা ১৮৫৮ সালে সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের বিচারের নামে এক প্রহসন অনুষ্ঠিত হয়।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, হত্যা ইত্যাদির অভিযোগে অভিযুক্ত করে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
- আর এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয় ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের ইতিহাস।
- ১৮৫৮ সালের অক্টোবরে সপরিবারে নেওয়া হয় রেঙ্গুনের পথে।
- পরিত্যক্ত বাড়ির কক্ষে শুরু হয় ভারতের শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরের নির্বাসন। 
- শেষ জীবনে বাহাদুর শাহ নিজের সকল ব্যথা ভুলে থাকতে অধিকাংশ সময় স্রষ্টার ধ্যানে কাটাতেন।
- ১৮৬২ সালের ২৬ অক্টোবর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
- অবশেষে ১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর তিনি নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।
- ইয়াঙ্গুনে ( তৎকালীন রেঙ্গুন) সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর সমাধি।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
২৭৯.
পরীবিবি কে ছিলেন?
  1. আওরঙ্গজেবের কন্যা 
  2. শায়েস্তা খানের কন্যা
  3. মুর্শিদকুলি খানের স্ত্রী
  4. আজিমুসশানের মাতা
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খানের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খানের কন্যা
ব্যাখ্যা

পরী বিবি:
- পরী বিবি বাংলার মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান এর কন্যা।
- বাদশাহ আওরঙ্গজেব এর পুত্র মুহম্মদ আজম এর স্ত্রী।
- তাঁর আসল নাম ইরান দুখত।

উল্লেখ্য,
- ঢাকাকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে ১৬১৮ সালে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় ছেলে আজম শাহ নির্মাণ করেন লালবাগ দুর্গ। 
- লালবাগ কেল্লা ১৭শ শতকে নির্মিত একটি অসমাপ্ত মুঘল দুর্গ স্থাপনা।
- এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ১৬৭৮ সালে, মুঘল সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ কর্তৃক।
- মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন। কিন্তু ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে কন্যা বিবি পরীর অকাল মুত্যৃতে তিনি দুর্গ নির্মাণ একটি অশুভ লক্ষণ ভেবে বন্ধ করে দেন। দুর্গের অভ্যন্তরে মসজিদের পূর্ব দিকে বিবি পরীকে সমাহিত করা হয়। শায়েস্তা খান কন্যার সমাধির উপর একটি সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।

২৮০.
লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে কার সমাধি রয়েছে?
  1. ক) শাহজাহানের স্ত্রী
  2. খ) শায়েস্তা খানের কন্যা
  3. গ) ঈসা খানের বোন
  4. ঘ) মীর জুমলার কন্যা
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খানের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শায়েস্তা খানের কন্যা
ব্যাখ্যা
ঢাকার লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে শায়্স্তা খানের কন্যা ইরান দুখত রহমত বানু এর সমাধি অবস্থিত।
তিনি পরীবিবি নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র মুহাম্মদ আযম এর স্ত্রী।
মৃত্যুর পর তাকে লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে সমাহিত করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
২৮১.
'বুলবুল-ই-হিন্দ' বলা হয় কাকে?
  1. মীর তকি
  2. গালিব
  3. ইকবাল
  4. তানসেন
সঠিক উত্তর:
তানসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তানসেন
ব্যাখ্যা

→ তানসেনকে 'বুলবুল-ই-হিন্দ' বলা হয়।

তানসেন:
- তানসেন ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ।
- তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের রাজদরবারের সঙ্গীতজ্ঞ ও সভাকবি ছিলেন।
- তিনি শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
- তিনি মুঘল বাদশাহ আকবরের রাজদরবারের নবরত্নের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
- তিনি দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

২৮২.
কোন সুলতানের শাসনামলে হযরত শাহাজালাল (র.) সিলেটে আগমন করেন?
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ
  3. গিয়াস উদ্দিন আযম শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ শাসনামলে হযরত শাহাজালাল (র) সিলেটে আগমন করেন।

• শাহ জালাল (র.):
- শাহ জালাল (র.) বাংলার একজন প্রখ্যাত সুফি দরবেশ।
-সুলতান শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনামলে হযরত শাহ জালাল ৩৬০ জন সাথী ও মুরিদ নিয়ে বাংলায় আসেন।
- হযরত শাহজালাল (র.) আরবের ইয়েমেনের অধিবাসী ছিলেন।
- শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের সিলেট অভিযানে হযরত শাহ জালাল মুসলমান সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন।
- মুসলমান সৈন্যরা জয়লাভ করে।
- গৌর গোবিন্দ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং সিলেট মুসলমানদের শাসনাধীন হয়।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া। 
২৮৩.
'করতলব খান' কার উপাধি?
  1. ইসলাম খান
  2. শায়েস্তা খান
  3. মুর্শিদকুলী খান
  4. আলীবর্দী খান
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খান
ব্যাখ্যা

মুর্শিদকুলী খান ও নবাবী আমলের সূচনা:
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়। বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- মুর্শিদকুলী খানের প্রাথমিক জীবন খুবই চমকপ্রদ।
- তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ সন্তান।
- ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে করতলব খান উপাধি দিয়ে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- পরে তিনি সুবেদার হন।
- মুর্শিদকুলী খানের রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল যুগোপযোগী।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন। 
- মুর্শিদকুলী খানের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।
- তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে কন্যা জিনাত-উন-নেসার স্বামী সুজাউদ্দীন খান (১৭২৭-১৭৩৯ খ্রি.) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসনে বসেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৪.
ভারতবর্ষে 'জিজিয়া কর' রহিত করেন কে?
  1. ফারুখসিয়ার
  2. জাহাঙ্গীর
  3. শাহজাহান
  4. আকবর
সঠিক উত্তর:
আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকবর
ব্যাখ্যা

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মুঘল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর ।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর বাংলার শাসনভার গ্রহন করেন।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মুঘল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলেই 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

২৮৫.
গৌড়ের ’ছোট সোনামসজিদ' কার শাসনামালে নির্মিত হয়েছিল?
  1. ফকরুদ্দিন মোবারক শাহ
  2. নুসরাত শাহ
  3. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা

ছোট সোনামসজিদ: 
- গৌড় শহরের দক্ষিণ প্রান্তে বর্তমান ফিরোজাবাদ গ্রামে 'ছোট সোনামসজিদ' নির্মিত হয়েছিল।
- এ মসজিদটি ছিল আকারে ছোট। তবে এ মসজিদেও সোনালি রঙের গিলটির কারুকার্য ছিল।
- সম্ভবত এ কারণেই এটি ছোট সোনা মসজিদ নামে পরিচিত।
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহের আমলে জনৈক ওয়ালি মুহাম্মদ এটির নির্মাতা ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- বড় সোনা মসজিদের আর এক নাম 'বারোদুয়ারী মসজিদ'।
- এতে বৃহৎ বারোটি দরজা ছিল। এ মসজিদে সোনালি রঙের গিলটি করা কারুকার্য ছিল।
- সম্ভবত এজন্যই এটি সোনা মসজিদ নামে অভিহিত হতো। এ মসজিদটি গৌড়ের বৃহত্তম মসজিদ।
- আসাম বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য হুসেন শাহ এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন।
- ১৫২৭ সালে নসরত শাহ এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮৬.
কোন যুদ্ধের মাধ্যমে দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটে?
  1. তারাইনের যুদ্ধ
  2. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  3. কানৌজের যুদ্ধ
  4. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (২১ এপ্রিল, ১৫২৬ খ্রি.):
→ ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ২১ এপ্রিল লোদী বংশের সর্বশেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদী ও জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের মধ্যে ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। 

→  ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দে বাবর কাবুল থেকে আগমন করে পাঞ্জাবের শাসক দৌলত খান লোদীকে পরাজিত করে লাহোর তথা সমগ্র পাঞ্জাব অধিকার করেন। 

→ 'তুযুক-ই-বাবুরী' বা 'বাবরনামা'র বিবরণ অনুযায়ী পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবরের সেনাবাহিনীতে ছিল ১২,০০০ পদাতিক, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অশ্বারোহী ও গোলন্দাজ। এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্যবাহিনীতে ছিল ১,০০,০০০ সৈন্য ও ১০০ হস্তী। 

- ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবর সর্বপ্রথম এই যুদ্ধে কামানের ব্যবহার করেন। 

• পানিপথের প্রথম যুদ্ধের ফলাফল:
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ঘটনা।
- এই যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদীর পরাজয়ের মাধ্যমে তিন শতাধিক বছর স্থায়ী দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটে।
- বাবরের বিজয়ের ফলে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়।
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয়লাভের ফলে ভারতের বিপুল ধন-সম্পদ বাবরের অধীনে আসে।
- বাবর ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম ‘গোলন্দাজ বাহিনী’ নামে বিশেষ একটি বাহিনী গড়ে তোলেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৭.
মুঘল কোন সম্রাট বাংলা সনের প্রবর্তন করেন?
  1. সম্রাট বাবর
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট হুমায়ূন
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা
• পহেলা বৈশাখ:
- পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন।
- এ দিনটি বাংলাদেশে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়।
- এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোক উৎসব।
- এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে।
- কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ।
- অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ।
- এদিন সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।

- এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে।
- তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর।
- এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং তা কার্যকর হয় তার সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)।
- হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত আকবরের সময় থেকেই।
- সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্রমাসের শেষদিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূ-স্বামীর খাজনা পরিশোধ করত।
----------------------------------------

সম্রাট আকবর:
- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৮.
হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন -
  1. জাহানাবাদ
  2. জান্নাতাবাদ
  3. শাহজাহানাবাদ
  4. ফতেহাবাদ
সঠিক উত্তর:
জান্নাতাবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জান্নাতাবাদ
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন:
- হুমায়ুন (১৫৩০-১৫৫৬) মুঘল সম্রাট বাবরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
- ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- হুমায়ুনের শাসনামলে বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়।
- সম্রাট হুমায়ুন বাংলার রাজধানীর নতুন নামকরণ করেন 'জান্নাতাবাদ'।
- হুমায়ূন এখানে ছয়মাস অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

২৮৯.
ইরানের কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ হয়েছিল বাংলার কোন সুলতানের?
  1. গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
  2. আলাউদ্দীন হুসেন শাহ
  3. ফখরুদ্দীন মোবারক শাহ
  4. ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ
ব্যাখ্যা
• গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ: 
- গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান।
- সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
- পারস্যের বিখ্যাত কবি — হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল।
- একবার তিনি হাফিজের নিকট কবিতার একটি চরণ লিখে পাঠান এবং কবিতাটিকে পূর্ণ করার জন্য কবিকে অনুরোধ জানান।
- হাফিজ দ্বিতীয় চরণটি রচনা করে কবিতাটি পূর্ণ করে পাঠান।
- তিনি সুলতানের নিকট একটি গজলও লিখে পাঠান।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন। 

উৎস: ইতিহাস, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৯০.
কুমিল্লার শালবন বিহার কোন শতকের কীর্তি?
  1. ক) ষষ্ঠ শতক
  2. খ) সপ্তম শতক
  3. গ) অষ্টম শতক
  4. ঘ) নবম শতক
  5. ঙ) দশম শতক
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টম শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অষ্টম শতক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার যা দেব সাম্রাজ্যের কীর্তি। এটি দেববংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব খ্রিস্টীয় আট শতকে নির্মাণ করেন। সুতরাং, এর আসল নাম “ভবদেব মহাবিহার”। বিহারে মোট ১১৫টি ভিক্ষুকক্ষ ও মধ্যভাগে প্রধান মন্দির সহ অনেকগুলো মন্দির রয়েছে।
উৎসঃ শালবন বিহারের নাম-ফলক।
২৯১.
বাবরের ভারত বিজয়ের প্রাক্কালে দিল্লির সুলতান ছিলেন কে?
  1. দৌলত খান লোদী
  2. আলম খান লোদী
  3. ইব্রাহিম লোদী
  4. দরিয়া খান
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম লোদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম লোদী
ব্যাখ্যা
বাবর:
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- পিতার দিক থেকে বাবর ছিলেন বিখ্যাত তুর্কি তৈমুর লং-এর অধস্তন পঞ্চম পুরুষ এবং মায়ের দিক থেকে তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান।
- উপমহাদেশে বাবরের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ মুঘল বংশ নামে পরিচিত হয়েছে মোঙ্গলদের সাথে তাঁর সম্পর্ক থাকার কারণেই।
- বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে মধ্য এশিয়ার ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ওমর মির্জা ফারগনার শাসনকর্তা ছিলেন।
- পিতার মৃত্যুর পর বাবর বার বছর বয়সে ফারগানার অধিপতি হন।
- ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে উজবেক শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথম বারের মতো বাবর কাবুল জয় করেন।
- কাবুল বিজয়ের পরও বাবর পিতৃসিংহাসন পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করেন।
- কাবুল অধিকারের পর বাবর ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা করেন।
- এসময় ভারতের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন লোদী সুলতানরা।
- বাবরের আক্রমণের পূর্বে ভারতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- ভারতের কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে বাবর এদেশে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯২.
'Prince of Builders' নামে খ্যাত কে?
  1. আকবর
  2. আওরঙ্গজেব
  3. শাহজাহান
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- 'The Prince of Builder' নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৩.
রাজ মহলের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৫৭৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৫৬০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• রাজমহল ‍যুদ্ধ:
- আকবর বাংলার বিপর্যয়ের সংবাদ পেয়ে খান-ই-জাহানকে সুবেদার নিযুক্ত করেন।
- তাঁকে বাংলার হৃত ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য পাঠানো হয়।
- খান-ই-জাহান ও টোডরমল তেলিয়াগর্হি অধিকার করেন।
- তারপর মোগল বাহিনী রাজমহলের দিকে এগিয়ে যান।
- ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহলে মোগল বাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধে হয় দাউদ কররানির।
- এ যুদ্ধে দাউদ পরাজিত ও বন্দি হন।
- পূর্ববর্তীকালে সন্ধি ভঙ্গের অপরাধে দাউদ খান কে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।
- এভাবে কররানি শাসনের অবসান ঘটার পাশাপাশি বাংলার একাংশে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তবে তখনো পূর্ব বাংলায় ঈসা খাঁর নেতৃত্বে বার ভূইয়াদের শাসন চলছিল।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৪.
কত খ্রিস্টাব্দে পানি পথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ১৫২৪ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৫২৫ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৫২৭ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে পানি পথের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ):

- বাবর বুঝেছিলেন পানিপথের প্রান্তরের যুদ্ধে জয় লাভ করলে তাঁর দিল্লির সিংহাসনে বসার পথ সহজ হয়ে যাবে।
- তিনি ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দের ১২ এপ্রিল দিল্লির নিকটবর্তী পানিপথ প্রান্তরে দিল্লির লোদী বংশের শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পরেন।
- বাবরের আত্মজীবনী তুযুক-ই-বাবরী থেকে জানা যায়, এ সময়ে তাঁর সাথে বার হাজার সৈন্য ছিল।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। 
- যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।
- এই বিখ্যাত পানিপথ প্রান্তরের যুদ্ধে ইব্রাহীম লোদী পরাজিত হলে প্রাথমিকভাবে বাবরের ভারত বিজয় সম্পন্ন হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
২৯৫.
কোন নবাবকে পরাজিত করে আলীবর্দী খান বাংলার শাসন ক্ষমতা দখল করেন?
  1. মুর্শিদকুলী খান
  2. সরফরাজ খান
  3. সুজাউদ্দিন খান
  4. নিজামউদ্দিন খান
সঠিক উত্তর:
সরফরাজ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরফরাজ খান
ব্যাখ্যা
আলীবর্দী খান:
- ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে গিরিয়ার যুদ্ধে বাংলার দুর্বল নবাব সরফরাজকে পরাজিত ও নিহত করে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন আলীবর্দী খান।
- নবাব সুজাউদ্দিন ১৭৩৩ সালের দিকে আলীবর্দী খানকে বিহারের সহকারী সুবাদার পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
- সুজাউদ্দিনের মৃত্যুর পর তার অযোগ্য ছেলে সরফরাজ খান বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- অযোগ্যতা, অক্ষমতার পাশাপাশি নানা কারণে তাঁর সাথে আলীবর্দীর সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল। 
- অবশেষে ১৭৪০ সালে গিরিয়ার রণক্ষেত্রে নবাব সরফরাজ খান পরাজিত ও নিহত হন।
- তার পরাজয়ের পরে বাংলার মসনদে বসেন আলীবর্দী খান।
- পাশাপাশি মুঘল সম্রাট মুহাম্মদ শাহের থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার মসনদ লাভ করেছিলেন তিনি। 
- ১৭৪২ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় প্রথম মারাঠা আক্রমণ শুরু হয়।
- সাহসী নেতৃত্ব ও সুযোগ্য শাসনের মাধ্যমে তিনি বাংলাকে মারাঠাদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন।
- আলীবর্দীর রাজত্বকাল ছিল বাংলার ইতিহাসের অন্যতম সমৃদ্ধ সময়।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৬.
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের উপাধি ছিল-
  1. 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ'
  2. 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান'
  3. সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নামের উৎপত্তি: 
- সংবিধান অনুযায়ী নাম হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।
- মহাভারত এবং গ্রিক ঐতিহাসিক টলেমির লেখায় 'বাংলা' নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দে শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ সর্বপ্রথম বাংলার তিনটি প্রধান কেন্দ্র একত্র করেন।
- লখনৌতি বা লক্ষণাবতী (গৌড়), সাতগাঁও (রাঢ়) ও সোনারগাঁ (বঙ্গ)-কে একত্র করে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এর স্বাধীনতা ২০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- ইলিয়াস শাহের উপাধি ছিল 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ', 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান', 'সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ'।
- আর তখন থেকে সমগ্র বাংলা অঞ্চল 'বাঙ্গালাহ' নামে পরিচিতি লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- মুঘল আমলে সম্রাট আকবরের সময় থেকে বাংলার পরিচয় হয় 'সুবাহ বাংলা' নামে।
- পর্তুগিজরা 'বেঙ্গালা' নামে অভিহিত করেছে এই অঞ্চলকে এবং ইংরেজরা বলত 'বেঙ্গল'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৭.
সুবাদার ইসলাম খান ‘বারোভূঁইয়া’দের দমন করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কোন সম্রাটের রাজত্বকালে?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. সম্রাট হুমায়ুন
  4. সম্রাট শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
সম্রাট আকবর বাংলায় কররানি (আফগান) শাসনের অবসান ঘটিয়ে মুঘল শাসনের সূত্রপাত করলেও ‘বারোভূঁইয়া’দের বাধার মুখে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে সুবাদার ইসলাম খান ‘বারোভূঁইয়া’দের দমন করে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামে এর নামকরণ করেন ‘জাহাঙ্গীরনগর’।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি]
২৯৮.
প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা কে ছিলেন?
  1. ঈসা খান
  2. দাউদ কররানি
  3. কেদার রায়
  4. চাঁদ রায়
সঠিক উত্তর:
ঈসা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈসা খান
ব্যাখ্যা
বারোভূঁইয়াদের ইতিহাস: 
- সম্রাট আকবর সমগ্র বাংলার ওপর তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
- বাংলার বড় বড় জমিদার মুঘলদের অধীনতা মেনে নেননি।
- জমিদারগণ তাঁদের নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন। তাঁদের শক্তিশালী সৈন্য বাহিনী ও নৌবহর ছিল।
- স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তাঁরা একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।
- বাংলার ইতিহাসে এ জমিদারগণ 'বারোভূঁইয়া' নামে পরিচিত।
- এ 'বারো' বলতে বারোজনের সংখ্যা বোঝায় না।
- ধারণা করা হয় অনির্দিষ্ট সংখ্যক বড় বড় 'ভূঁইয়া' বা জমিদারদের বোঝাতেই 'বড়' থেকে 'বারো' শব্দটি প্রচলিত হয়েছে।
- প্রথম দিকে বারোভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান।
- হুসেন শাহি বংশের অবসান হলে ঈসা খানের পিতা সোলায়মান খান সোনারগাঁ অঞ্চলে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।
- খিজিরপুর দুর্গ ছিল তাঁর শক্তির প্রধান কেন্দ্র।
- সোনারগাঁ ও খিজিরপুরের নিকটবর্তী কারাবু তাঁর রাজধানী ছিল।
- দাউদ কররানির পতনের পর তিনি সোনারগাঁয়ে রাজধানী স্থাপন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২৯৯.
মুর্শিদকুলী খান কত সালে বাংলায় নবাবী শাসনের সূত্রপাত করেন?
  1. ক) ১৭০৩ সালে
  2. খ) ১৭১১ সালে
  3. গ) ১৭০৯ সালে
  4. ঘ) ১৭০৭ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭০৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭০৭ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০৭ সালে নবাবী শাসনের সূচনা করেন।
- ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌলার ইংরেজদের হাতে পরাজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় নবাবী আমল।
- তারপর থেকে শুরু হয় ইংরেজ উপনেবেশিক যুগ।
উল্লেখ্য,
- বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান - শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তবে সুলতানী আমল শুরু করেন - ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৩০০.
বাংলায় স্বাধীন নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. আলীবর্দী খান
  2. সিরাজ-উদ-দৌলা
  3. মুর্শিদকুলী খান
  4. সুজাউদ্দিন খান
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদকুলী খান
ব্যাখ্যা

বাংলায় নবাবী শাসন: 
- মুর্শিদকুলী খান বাংলায় নবাবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মুঘল সম্রাট কর্তৃক নিযুক্ত বাংলার শেষ সুবাদার ছিলেন মুর্শিদকুলি খান।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর দিল্লির দুর্বল শাসনে বাংলার সুবাদারগণ প্রায় স্বাধীনভাবে বাংলা শাসন করতে থাকেন।
- মোগল আমলের এই যুগ নবাবী আমল নামে পরিচিত।
- নবাবদের শাসনকালের পরিধি ছিল ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৫০ বছর।
- বাংলার নবাবী শাসনের সূচনাকারী নবাব মুর্শিদকুলী খান।

এছাড়াও, 
- বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
- আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলাদেশের হুসেন শাহী রাজবংশের এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম শাসক।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ (১৩৩৮-১৩৪৯) বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।

সূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।