- খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে নিম্ন মেসোপটেমিয়ায়র অন্তর্হগত সুমেরীয় সভ্যতায় (আধুনিক ইরাক) চাকাটি আবিষ্কৃত হয়েছিল,
- যেখানে সুমেরীয়রা কাঠের শক্ত চাকতিতে ঘূর্ণায়মান অক্ষ স্থাপন করেছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালেই হালকা চাকা তৈরির জন্য চাকতিগুলিকে ফাঁকা করে ফেলা শুরু হয়েছিল।
- এই উদ্ভাবনের ফলে দুটি প্রধান ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হয়েছিল।
- প্রথমত, পরিবহন: চাকাটি গাড়ি এবং যুদ্ধের রথে ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল।
- দ্বিতীয়ত, এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, এটি কৃষি (পশু পরিবহন, ফসল সেচ) এবং কারুশিল্প শিল্পের যান্ত্রিকীকরণে অবদান রেখেছিল (উদাহরণস্বরূপ, চাকার কেন্দ্রাতিগ বল হল বায়ুকলের মৌলিক প্রক্রিয়া)।
• সুমেরীয় সভ্যতা :
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাচীন যে সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল, তার নাম - সুমেরীয় সভ্যতা।
- বর্তমানে ইরাকের টাইগ্রীস ও ইউফ্রেটিস (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর স্থানে সুমেরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটে।
- দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার আদি অ-সেমেটিকবাসীরা সাধারণভাবে ‘সুমেরিয়ান’ নামে পরিচিত ছিল।
• সুমেরীয়দের উল্লেখযোগ্য অবদানঃ
সুমেরীয়দের অবদান মূলত কৃষি কেন্দ্রিক। কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তাদের অবদান অতুলনীয়। নিম্নে সুমেরীয়দের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অবদানের কথা উল্লেখ করা হল -
⇒ ‘চাকা’ আবিষ্কার ও উন্নত সেচ ব্যবস্থা - টাইগ্রিস সুমেরীয়রা প্রথম চাকার ব্যবহার শুরু করে। তাদের কৃষকরা প্রথম দুই চাকা বিশিষ্ট ‘রথ’ (Chariot) ব্যবহার শুরু করেছিল। পরবর্তীতে সেগুলো যুদ্ধের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়।
ও ইউফ্রিটিস নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষির উন্নতির জন্য তারা উন্নত সেচ ব্যবস্থার উদ্ভাবন করেছিলো। তাছাড়া ঐ সময় তারা জমি চাষের উন্নত লাঙ্গল ও ফসল মজুদ করার জন্য বড় পাত্র তৈরী করেছিলো।
⇒ লিখন-পদ্ধতির আবিষ্কার - সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতির নাম - “কিউনিফর্ম” (Cuneiform)। কিউনিফর্ম লিপি বাম থেকে ডানদিকে লেখাঁ হত এবং এর বর্ণের সংখ্যা ছিলো - ৩২টি।
তারা বিশ্বের প্রথম মহাকাব্য হিসাবে বিবেচিত - “গিলগামেশের মহাকাব্য” (Epic of Gilgamesh) রচনা করেছিলেন।
⇒ ‘উল’ থেকে কাপড় তৈরীর পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিল - সুমেরীয়রা। এছাড়াও বাড়ি নির্মানের জন্য মাটি দিয়ে ইট তৈরী করত। জলঘড়ি ও চন্দ্রপঞ্জিকা আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে সুমেরীয়রা।
উৎস: ব্রিটানিকা, হিস্টরি.কম।