বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন১,৫৬৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / ১৬ · ৪০১৫০০ / ১,৫৬৭

৪০১.
 কোন বাংলাদেশীয় উপজাতির পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক?
  1. সাঁওতাল
  2.  খাসিয়া
  3. মারমা
  4. ওরাঁও
সঠিক উত্তর:
 খাসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 খাসিয়া
ব্যাখ্যা
• খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠি।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- এদের গাত্রবর্ণ হরিদ্রাভ, নাক-মুখ চেপ্টা, চোয়াল উঁচু, চোখ কালো ও ছোট টানা এবং খর্বকায়।
- খাসিয়ারা প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসে।
- তারা আসামে এসেছিল সম্ভবত তিববত থেকে। এক কালে এ উপজাতিরা ছিল যাযাবর।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- জীবিকার তাগিদে দলেবলে স্থান ত্যাগ করে এরা নতুন পুঞ্জি রচনা করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতিসমূহের মধ্যে খাসিয়া এবং গারো সম্প্রদায়ের পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক।
- সাঁওতাল এবং মারমা ওরাঁও উপজাতির পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪০২.
নিচের কোন উপজাতিটি বাংলাদেশে বসবাস করে না?
  1. ক) মুন্ডা
  2. খ) কোল
  3. গ) উইঘুর
  4. ঘ) গুর্খা
সঠিক উত্তর:
গ) উইঘুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইঘুর
ব্যাখ্যা
উইঘুর উপজাতি বাংলাদেশে বসবাস করে না। এরা চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসকারী মুসলিম জনগোষ্ঠী

অন্যদিকে,
মুন্ডা, কোল এবং গুর্খা বাংলাদেশে বসবাসকারী নৃ-গোষ্ঠী।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা)
৪০৩.
নিচের কোন জেলায় রাজবংশী জনগোষ্ঠীর বসবাস নেই?
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর
  3. রাজশাহী
  4. কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
রাজবংশী:

- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪০৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, কোন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম?
  1. হো
  2. গুর্খা
  3. লুসাই
  4. ভিল
সঠিক উত্তর:
ভিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিল
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দেশে ৫০টি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী রয়েছে।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে শতকরা হিসাবে যা ২৯.২৯ শতাংশ।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।

⇒ চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই দুই জাতিগোষ্ঠী মারমা ও ত্রিপুরা। সংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা সমতলের সাঁওতালদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর। এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে।
- এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০১ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে।
- আর হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৪ জন।
- লুসাই জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ৩৮০ জন।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) প্রথম আলো।

৪০৫.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মুসলিম জনসংখ্যা কত শতাংশ?
  1. ৯০.৫৯%
  2. ৯১.০৮%
  3. ৯২.৬০%
  4. ৯৩.২৩%
সঠিক উত্তর:
৯১.০৮%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯১.০৮%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা,
• মুসলমান - ৯১.০৮%।
• হিন্দু - ৭.৯৬%।
• বৌদ্ধ - ০.৬১%।
• খ্রিষ্টান - ০.৩০%।
• অন্যান্য - ০.০৬%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৪০৬.
দেশে বর্তমানে নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর সংখ্যা -
  1. ২২.২ শতাংশ
  2. ২৩.২ শতাংশ
  3. ২২.৮ শতাংশ
  4. ২৩.৮ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
২৩.২ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩.২ শতাংশ
ব্যাখ্যা
দেশে নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর সংখ্যা:
- ৮ সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। 
- দেশে বর্তমান ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের নাগরিকদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৬.৮ শতাংশ। 
- সেই হিসাবে নিরক্ষর ২৩.২ শতাংশ মানুষ।
- অবশ্য প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার আরও কম।
- ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিবন্ধনের বাইরে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় যাতে না থাকে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা থাকবে।

উল্লেখ্য,
- বিবিএসের প্রায়োগিক সাক্ষরতা জরিপ ২০২৩-এর তথ্য বলছে, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের প্রায়োগিক সাক্ষরতা প্রায় ৭৩ শতাংশ।
- আর ১১ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের এই হার ৭৩ দশমিক ৬৯।

উৎস: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, প্রথম আলো।
৪০৭.
'ওয়ানগালা' কাদের উৎসব?
  1. চাকমাদের
  2. গারোদের
  3. ত্রিপুরাদের
  4. সাঁওতালদের
সঠিক উত্তর:
গারোদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারোদের
ব্যাখ্যা

'গারো' উপজাতি:
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম 'সাংসারেক'। 
- গারোদের প্রধান দেবতা 'তাতারা রাবুগা'। 
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান। 
- গারোদের উৎসব 'ওয়ানগালা'। 
- গারোদের ভাষা মান্দি।
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। 
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস- ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।
- তাছাড়া, শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাতেও কিছু গারো উপজাতি বাস করে।

উল্লেখ্য,
- চাকমাদের প্রধান উৎসবের নাম বিঝু।
- বৈসুক ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসবের নাম।
- সোহরাই হলো সাঁওতালদের প্রধান উসব।

উৎস: ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।

৪০৮.
জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২ অনুসারে, বাংলাদেশের কোন জেলায় সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম?
  1. পিরোজপুর
  2. ভোলা
  3. লক্ষ্মীপুর
  4. জামালপুর
সঠিক উত্তর:
জামালপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামালপুর
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২ অনুসারে, বাংলাদেশের জামালপুর জেলায় সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।

⇒ সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।

⇒ সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।

⇒ সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি পিরোজপুর জেলায়।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম জামালপুর জেলায়।

⇒ সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
৪০৯.
বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট উপজাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে - [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
উপজাতীয় প্রতিষ্ঠান:
- বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ১০টি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যথা:
১. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি নেত্রকোনা;
২. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙ্গামাটি;
৩. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান;
৪. কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কক্সবাজার;
৫. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি;
৬. রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী;
৭. মনিপুরী ললিতকলা একাডেমি, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার;
৮. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, হালুয়াঘাট;
৯. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, দিনাজপুর;
১০. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, নওগাঁ।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪১০.
বাংলাদেশে মোট কয়টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে? (ডিসেম্বর, ২০২৫)
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা

আদমশুমারি:
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৪১১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-অনুসারে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-
  1. চাকমা
  2. খাসিয়া
  3. ত্রিপুরা 
  4. মারমা 
সঠিক উত্তর:
মারমা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারমা 
ব্যাখ্যা

- দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা (৪,৮৩,৩৬৫ জন)।
- জনসংখ্যায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যথাক্রমে মারমা (২,২৪,২৯৯ জন) ও ত্রিপুরা (১,৫৬,৬২০ জন)।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিল (৯৫জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যে জেলায় রাঙ্গামাটি (৩,৭২,৮৭৫ জন)। 
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম যে জেলায় লালমনিরহাট (১১৮ জন)। 

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

৪১২.
৬ষ্ঠ আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে নির্ভরশীলতার অনুপাত কত শতাংশ?
  1. ক) ৫১.৩২
  2. খ) ৫২.৬৪
  3. গ) ৫৪.১২
  4. ঘ) ৫৫.২৪
সঠিক উত্তর:
খ) ৫২.৬৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫২.৬৪
ব্যাখ্যা
নির্ভরশীলতার অনুপাত বলতে কর্মক্ষম জনসংখ্যার (১৫-৬৪ বছর) বিপরীতে নির্ভরশীল জনসংখ্যার (০-১৪ বছর এবং ৬৫ বছর তদূর্ধ্ব) অনুপাতকে বুঝায়।

- ৬ষ্ঠ আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে নির্ভরশীলতার অনুপাত:
- জাতীয় পর্যায়ে ৫২.৬৪
- পল্লী অঞ্চলে : ৫৬.০৯ এবং
- শহরাঞ্চলে ৪৫.৬৩।

বিভাগ অনুসারে:
- সর্বোচ্চ নির্ভরশীলতার অনুপাত : ময়মনসিংহ বিভাগে (৬০.৩৩)
- সর্বনিম্ন : ঢাকা বিভাগে (৪৬.৩২ বছর)।

(তথ্যসূত্র: ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রাথমিক প্রতিবেদন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট)
৪১৩.
বাংলাদেশের স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী নয় কোনটি?
  1. কোচ
  2. পাংখো
  3. মাউরি
  4. খুমি
সঠিক উত্তর:
মাউরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাউরি
ব্যাখ্যা
কোচ:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্যতম প্রাচীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ‘কোচ’।
- বর্তমানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবর্দী উপজেলায় তাদের বসবাস।
- কোচ ও রাজবংশীদের প্রায় সময় একই জাতি মনে করা হয়।

পাংখো:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ‘পাংখো বা পাংখোয়া’।
- বাংলাদেশে চট্টগ্রামের পার্বত্য জেলার রাঙ্গামাটিতে এরা বসবাস করে।

খুমি:
- খুমি  বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী। আদিতে এরা পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার থেকে এসে বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাসমূহে বসবাস শুরু করে। 
- খুমি জনগোষ্ঠী মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত। 

অন্যদিকে -
- মাউরি: নিউজিল্যান্ডের আদিবাসীদের বলা হয় মাউরি।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) Britannica.
৪১৪.
দেশের প্রথম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয় কোথায়?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) শেরপুর
সঠিক উত্তর:
গ) নেত্রকোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
- ‘বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি’ হলো দেশের প্রথম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
- এটি নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত যা ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বিরিশিরি ব্যতীত কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও রাজশাহী জেলায় সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
(সূত্রঃ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৪১৫.
What is the name of the main festival of hill people?
  1. ক) Wangala
  2. খ) Moitora
  3. গ) Boisabi
  4. ঘ) Crama
সঠিক উত্তর:
গ) Boisabi
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Boisabi
ব্যাখ্যা
• বৈসাবি উৎসব:
- পাহাড়ের প্রধান উৎসব বৈসাবি।
- পাহাড়ের প্রধান উৎসব বৈসাবি পালিত হয়- চৈত্র মাসে।
- পাহাড়ের প্রধান তিন সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন নামে উৎসবটি পালন করে।
- পাহাড়ের এই উৎসবকে ত্রিপুরারা বলে ‘বৈসুক’, মারমারা বলে ‘সাংগ্রাই’ আর চাকমারা বলে ‘বিঝু’।
- ত্রিপুরাদের বৈসুক থেকে ‘বৈ’, মারমাদের সাংগ্রাই থেকে ‘সা’, আর চাকমাদের বিজু থেকে ‘বি’ একত্রে ‘বৈসাবি’ নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ।
৪১৬.
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম কী?
  1. বিজু
  2. সাংগ্রাই
  3. ওয়াংগালা
  4. বৈসু
সঠিক উত্তর:
বৈসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈসু
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৪১৭.
UNFPA এর প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত? [জুলাই, ২০২৫]
  1. ১৬ কোটি ৫৭ লাখ
  2. ১৬ কোটি ৮৭ লাখ
  3. ১৭ কোটি ৫৭ লাখ
  4. ১৭ কোটি ৮৭ লাখ
সঠিক উত্তর:
১৭ কোটি ৫৭ লাখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ কোটি ৫৭ লাখ
ব্যাখ্যা
বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন- ২০২৫:
প্রতিবেদনের শিরোনাম: The pursuit of reproductive agency in a changing world.
প্রকাশকাল: জুন ২০২৫।
প্রকাশক: জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA).

প্রতিবেদন অনুযায়ী, 
- বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ,
- প্রজনন হার ২.১, এবং
- গড় আয়ু পুরুষ ৭৪ বছর, নারী ৭৭ বছর 

এছাড়া,
- কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ (১১৫ মিলিয়ন)।
- জনসংখ্যার ৭ শতাংশ প্রায় ১.২ কোটি মানুষ ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন- ২০২৫।
৪১৮.
নিচের কোন নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশে বাস করে না?
  1. কোচ
  2. ডোগরা
  3. চাক
  4. ডালু
সঠিক উত্তর:
ডোগরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোগরা
ব্যাখ্যা

◉ ডোগরা একটি ইন্দো-আর্য নৃগোষ্ঠী, এরা প্রধানত ভারতের জম্মু, হিমাচল প্রদেশ ও পাঞ্জাব অঞ্চলে বসবাস করে। এরা বাংলাদেশে বাস করে না। 

অন্যদিকে: 
চাক:
চাক বাংলাদেশের একটি উপজাতি। বাংলাদেশের বান্দরবান, চট্টগ্রামের চাক পাহাড় ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের বসবাস রয়েছে। চকরা যে ভাষায় কথা বলে সেটি চাক ভাষা নামে পরিচিত। চাকদের ভাষায় 'চক' শব্দের অর্থ 'দাঁড়ানো'।

ডালু:
ডালু জাতি হচ্ছে বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি ক্ষুদ্র জাতির নাম। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও শেরপুরের নালিতাবাড়ি অঞ্চলে ডালু জাতির মানুষদের বাস। তাদের অনেকে মনে করেন মণিপুরিই হচ্ছে তাদের আসল ভাষা।

কোচ:
কোচ বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে বসবাসকারী অন্যতম প্রাচীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। বর্তমানে কোচ জাতির বিস্তৃতি আদিভূমি কোচবিহার ছড়িয়ে ময়মনসিংহ জেলায় তাদের আবাস গড়ে তোলে । বর্তমানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী , নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবর্দী উপজেলায় তাদের বসবাস।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ। 

৪১৯.
জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বনিম্ন কোন সিটি কর্পোরেশনে? [মে, ২০২৫]
  1. রংপুর সিটি কর্পোরেশন
  2. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
  3. বরিশাল সিটি কর্পোরেশন
  4. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
সঠিক উত্তর:
রংপুর সিটি কর্পোরেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর সিটি কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- দেশে মোট জনসংখ্যা - ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার - ১.১২% ।
- জনসংখ্যার মধ্যে পল্লি অঞ্চলে বসবাস করে - ১১ কোটি ৬০ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ জন।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে - ঢাকা বিভাগে (৪৫৬৪৪৫৮৬ জন)।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে কোন - বরিশাল বিভাগে (৯৩২৫৮২০ জন)।
- সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সর্বোচ্চ ৫৯,৯০,৭২৩, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩,০৫,০৬৩ এবং বরিশালে সর্বনিম্ন ৪,১৯,৪৮৪ জনসংখ্যা বসবাস করে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯,৪০৬ জন বসবাস করে।
- অন্যদিকে জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বনিম্ন রংপুর সিটি কর্পোরেশনে যেখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩,৪৪৫ জন বসবাস করে।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২
৪২০.
খাসিয়া পুঞ্জি প্রধানকে কী বলা হয়?
  1. সিয়েম
  2. রোয়াজা
  3. মৌজা প্রধান
  4. মাতবর
সঠিক উত্তর:
সিয়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিয়েম
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:

- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪২১.
বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট-২০১৯ অনুসারে বাংলাদেশের নারীদের গড় প্রজনন হার কত?
  1. ক) ২.০
  2. খ) ২.২
  3. গ) ২.৩
  4. ঘ) ২.৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২.০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২.০
ব্যাখ্যা
১৭ এপ্রিল ২০১৯ জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ৪২তম বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬.৮১ কোটি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১%। গড় আয়ু ৭৭ বছর এবং নারী প্রতি প্রজনন হার ২.০। জনসংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বে ৮ম। (সূত্র: বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট-২০১৯)।
৪২২.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোনটি?
  1. ত্রিপুরা
  2. মারমা
  3. চাকমা
  4. গারো
সঠিক উত্তর:
চাকমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকমা
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- তার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
- সংখ্যার দিক দিয়ে - বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হলো চাকমা। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মারমা। তৃতীয় অবস্থানে আছে ত্রিপুরা।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে রাঙামাটিতে। জেলার দিক দিয়ে -দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ ও প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৪২৩.
হিন্দু ধর্মাবলম্বী নৃগোষ্ঠী হলো -
  1. ক) বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী
  2. খ) ত্রিপুরা
  3. গ) হাজং
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
হাজং, ত্রিপুরা, বিষ্ণুপ্রিয়া (মণিপুরী) সম্প্রদায় হলো সনাতন বা হিন্দু ধর্মের অনুসারী। এছাড়া বর্মন, রাজবংশী, ওরাও, কোচ ও পাহান সম্প্রদায়ের ভেতরেও হিন্দু অনুসারী বৃদ্ধি পাচ্ছে। একমাত্র মুসলিম উপজাতি হলো পাঙন যারা সিলেটে বসবাস করে৷ (সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
৪২৪.
বিবিএসের সাময়িক হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু GDP কত মার্কিন ডলার?
  1. ক) ১৯০৯ ডলার
  2. খ) ১৮২৮ ডলার
  3. গ) ১৯৭০ ডলার
  4. ঘ) ২০৬৪ ডলার
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭০ ডলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৭০ ডলার
ব্যাখ্যা
বিবিএসের সাময়িক হিসাবে ২০১৯-২০২০ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু GDP ১৯৭০ মার্কিন ডলার। মাথাপিছু জাতীয় আয় ২০৬৪ মার্কিন ডলার।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাথাপিছু জাতীয় আয় এবং জিডিপি ছিলো যথাক্রমে ১৯০৯ ও ১৮২৮ মার্কিন ডলার।
(সূত্র: বিবিএস)
৪২৫.
'ফাগুয়া' কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব?
  1. সাঁওতাল
  2. মারমা
  3. ওরাওঁ
  4. গারো
সঠিক উত্তর:
ওরাওঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরাওঁ
ব্যাখ্যা
বর্ষবরণ উৎসব:
- 'ফাগুয়া' ওরাওঁ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- বসন্তে ওরাওঁ উপজাতি বর্ষবরণ উৎসব করে ।
- ফাগুয়া অর্থাৎ ফাল্গুন মাস থেকে ওরাওঁদের বর্ষ গণনা শুরু হয়।
- ওরাওঁ যুবক-যুবতীরা অগ্নিখেলার মধ্য দিয়ে বছরের প্রথম রাতটি উৎযাপন করে।
- এসব উৎসবে  বাদ্যযন্ত্র হিসেবে থাকে ঢোল, মাদল, করতাল ও বাঁশি।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।

অন্যদিকে, 
চাকমা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব- বিজু।
মারমা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব- সাংগ্রাই।
সাঁওতালদের প্রধান উৎসব -  সোহরাই।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
৪২৬.
বাংলাদেশের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২ অনুসারে, অতি দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ৫.৬%
  2. ৭.৬%
  3. ৫.৯%
  4. ৩.৬৫
সঠিক উত্তর:
৫.৬%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫.৬%
ব্যাখ্যা
• দারিদ্র্য পরিস্থিতি :
- সরকার অর্থনীতির কাঠামোগত 'খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২' এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ
- এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৫.৬ শতাংশ।
- বর্তমান সরকার কর্তৃক ২০২৮ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১১ শতাংশে,
- ২০৩১ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের অবসান
- এবং ২০৪১ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎস: খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২।
৪২৭.
রাখাইন নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে -
  1. ক) বান্দরবান জেলায়
  2. খ) বরগুনা জেলায়
  3. গ) সিলেট জেলায়
  4. ঘ) ময়মনসিংহ জেলায়
সঠিক উত্তর:
খ) বরগুনা জেলায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বরগুনা জেলায়
ব্যাখ্যা
• রাখাইন:
- রাখাইন জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বসবাস করে।
- এদের আদিনিবাস মায়ানমারের আরাকান রাজ্য। এরা নিজেদের ‘রাক্ষাইন’ নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- রাখাইনরা এক সময় ‘মগ’ নামে পরিচিত ছিলো।
- অনেক গবেষকের মতে রাখাইন এবং মারমারা একই সম্প্রদায়ভুক্ত।
- রাখাইনরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৪২৮.
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযোগ পাওয়া প্রথম নারী উপাচার্য হলেন-
  1. ক) আনোয়ারা বেগম
  2. খ) খালেদা একরাম
  3. গ) ফারজানা ইসলাম
  4. ঘ) ড. শিরীণ আখতার
সঠিক উত্তর:
গ) ফারজানা ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারজানা ইসলাম
ব্যাখ্যা
দেশের সরকারি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযোগ পাওয়া প্রথম নারী উপাচার্য হলেন অধ্যাপিকা ফারজানা ইসলাম। তিনি ২ মার্চ ২০১৪ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। খালেদা একরাম একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বুযেটের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ড. শিরীণ আখতার ৩ নভেম্বর ২০১৯ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। আনোয়ারা বেগম প্রথম নারী উপচার্য যিনি ২০০৪ সালে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান।(সূত্র: ইউজিসি এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট)
৪২৯.
বিবিএস-এর সর্বশেষ ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় শীর্ষে কোন বিভাগ রয়েছে?
  1. সিলেট বিভাগ
  2. বরিশাল বিভাগ
  3. ময়মনসিংহ বিভাগ
  4. রংপুর বিভাগ
সঠিক উত্তর:
রংপুর বিভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর বিভাগ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় শীর্ষ বিভাগ:
- ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) করা 'ফুড সিকিউরিটি স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩' শীর্ষক এক জরিপ অনুযায়ী -
- তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ০.৮৩ শতাংশ মানুষ।
- মাঝারি ধরনের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ২১.৯১ শতাংশ।
- মাঝারি বা তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় শীর্ষে রয়েছে রংপুর বিভাগ (২৯.৯৮ শতাংশ)।
 
অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়,
- ২য় স্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ (২৬.৪৮ শতাংশ),
- ৩য় স্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ (২৬ শতাংশ),
- ৪র্থ স্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ (২৫.০১ শতাংশ),
- ৫ম স্থানে রয়েছে বরিশাল বিভাগ (২২.৮৩ শতাংশ),
- ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে খুলনা বিভাগ (২২.০৭ শতাংশ),
- ৭ম স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ(১৯.৬৬ শতাংশ),
- ৮ম স্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগ (১৬.৪০ শতাংশ)।
 
উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৪৩০.
রাখাইনদের প্রধান উৎসব কোনটি?
  1. ক) সোহরাই
  2. খ) বিজু
  3. গ) জলকেলি
  4. ঘ) ওয়ানগালা
সঠিক উত্তর:
গ) জলকেলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জলকেলি
ব্যাখ্যা
- রাখাইনদের প্রধান উৎসব জলকেলি।
- রাখাইনদের বসবাস পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়।
- রাখাইনদের আদিনিবাস মিয়ানমার।
- রাখাইনদের ধর্ম বৌদ্ধ।
- ওয়ানগালা হচ্ছে গারো সম্প্রদায়ের একটি নবান্ন উৎসব। 
- সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব হলো সোহরাই।
- চাকমাদের প্রধান উৎসব বিজু।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণি।
৪৩১.
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, অতি দারিদ্রের হার -
  1. ১৮.৭ শতাংশ
  2. ১৪.৮ শতাংশ
  3. ৬.৫ শতাংশ
  4. ৫.৬ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
৫.৬ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫.৬ শতাংশ
ব্যাখ্যা
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ:
- ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী,
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭ শতাংশ।
- অতি দারিদ্রের হার: ৫.৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য,
- দারিদ্র্যের হারে শীর্ষ বিভাগ: বরিশাল।
- বরিশাল বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৬.৯%।
- রংপুর বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৪.৮%।
- ময়মনসিংহ বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৪.২%।
- ঢাকা বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৭.৯%।
- সিলেট বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৭.৪%।
- রাজশাহী বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৬.৭%।
- চট্টগ্রাম বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৫.৮%।
- খুলনা বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৪.৮%।

উৎস: খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২।
৪৩২.
মণিপুরীরা কোথায় বাস করে?
  1. সিলেটে
  2. চট্টগ্রামে
  3. দিনাজপুরে
  4. কুমিল্লায়
সঠিক উত্তর:
সিলেটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেটে
ব্যাখ্যা
মণিপুরী সম্প্রদায়:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়। 
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে বাংলাদেশের মণিপুরীরা তিনটি শাখায় বিভক্ত।
- স্থানীয়ভাবে তারা (১) বিষ্ণুপ্রিয়া, (২) মৈতৈ ও (৩) পাঙন নামে পরিচিত। 
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- তাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বলতম দিক হলো মণিপুরী নৃত্য যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
- মণিপুরীদের মাতৃভাষা মেইতেই লন বা মণিপুরী ভাষা মঙ্গোলীয় ভাষা পরিবারের তিববতি-বর্মি উপ-পরিবারভুক্ত এবং কুকি-চীনা দলভুক্ত।
- ১৯৭৫ সালে ‘বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মণিপুরী সাহিত্যের ইতিহাস নতুন মাত্রা পায়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৩৩.
এ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশে মোট কতটি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা

আদমশুমারি:
- আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় দশ বছর পরপর।
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে যথা: ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম হয় 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

• স্বাধীন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আদমশুমারি সমূহ:
- প্রথম : ১৯৭৪ সালে, 
- দ্বিতীয় : ১৯৮১ সালে, 
- তৃতীয় : ১৯৯১ সালে, 
- চতুর্থ : ২০০১ সালে, 
- পঞ্চম : ২০১১ সালে, 
- ষষ্ঠ : ২০২২ সালে।

উৎস: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

৪৩৪.
কোন নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশে বাস করে না?
  1. কোচ
  2. ডালু
  3. চাক
  4. নাগা
সঠিক উত্তর:
নাগা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগা
ব্যাখ্যা

- নাগা নৃগোষ্ঠী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে।

এছাড়াও, 
কোচ:
কোচ বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে বসবাসকারী অন্যতম প্রাচীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। বর্তমানে কোচ জাতির বিস্তৃতি আদিভূমি কোচবিহার ছড়িয়ে ময়মনসিংহ জেলায় তাদের আবাস গড়ে তোলে । বর্তমানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী , নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবর্দী উপজেলায় তাদের বসবাস।

ডালু:
ডালু জাতি হচ্ছে বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি ক্ষুদ্র জাতির নাম। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও শেরপুরের নালিতাবাড়ি অঞ্চলে ডালু জাতির মানুষদের বাস। তাদের অনেকে মনে করেন মণিপুরিই হচ্ছে তাদের আসল ভাষা।

চাক:
চাক বাংলাদেশের একটি উপজাতি। বাংলাদেশের বান্দরবান, চট্টগ্রামের চাক পাহাড় ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের বসবাস রয়েছে। চকরা যে ভাষায় কথা বলে সেটি চাক ভাষা নামে পরিচিত। চাকদের ভাষায় 'চক' শব্দের অর্থ 'দাঁড়ানো'।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ।

৪৩৫.
বাংলাদেশের খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত বীর বিক্রম একমাত্র মুক্তিযোদ্ধার নাম কী?
  1. ইউ কে চিং
  2. আশুতোষ চাকমা
  3. মং প্রু
  4. অংশু চাকমা
সঠিক উত্তর:
ইউ কে চিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউ কে চিং
ব্যাখ্যা
ইউ কে চিং মারমা:
- ইউ কে চিং মারমা ১৯৩৭ সালে বান্দরবানে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৫২ সাল থেকে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসে কর্মরত ছিলেন।
- আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে একমাত্র তিনি খেতাব লাভ করেন।
- সম্মুখ যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে মুক্তিযুদ্ধের তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ ইপিআরের নায়েক হিসেবে রংপুর জেলার হাতিবান্ধা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন ইউ কে চিং।
- সেখান থেকে মেজর বাশারের নেতৃত্বে ৯ বাঙালি ইপিআর সৈনিক নিয়ে পাটগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেন।
- তিনি কর্মরত বিহারি ও দুই পাঞ্জাবিকে হত্যা করেন। 
- অপারেশন চালান রংপুর, লালমনিরহাট, পাখিউড়া, কাউয়াহাট, বাগভাণ্ডার, হাতিবান্দা, চৌধুরীহাট, ভূরুঙ্গামারী, জয়মনিরহাট, রায়গঞ্জ, নাগেশ্বরী, তিস্তা নদী, কুলাঘাট প্রভৃতি স্থানে।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘দি বাংলাদেশ গেজেট-এক্সট্রা অর্ডিনারি পাবলিশড বাই অথরিটি’ বইয়ের ক্রমিক নম্বর ১০০-তে তার ‘বীর বিক্রম’ প্রাপ্তির উল্লেখ আছে। 

উল্লেখ্য,
- ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: ২৬ জুলাই,২০১৪, bdnews24.com
৪৩৬.
উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৭ সালে
ব্যাখ্যা
উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি:
- বাংলাদেশে প্রথম উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি নেত্রকোনার বিরিশিরিতে অবস্থিত।
- গারো, হাজং, কোচ, বানাই, হদি, মান্দাই প্রভৃতি নৃগোষ্ঠী অনাদিকাল থেকে নিজস্ব জীবন ও সমাজ তথা ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি লালন করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে বসবাস করে আসছে।
- এই সকল নৃগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির চর্চা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ১৯৭৭ সালে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রথম পরিচালক ছিলেন সিস বিভা সাংমা।
- এটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর চারটি শাখা রয়েছে: ক) সংস্কৃতি খ) গবেষণা গ) লাইব্রেরি ও ঘ) জাদুঘর।
- এটি একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত।
- বিরিশিরি ব্যতীত কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও রাজশাহী জেলায় সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪৩৭.
নিচের কোন জেলায় খাসিয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. রাঙ্গামাটি
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:

- বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠি।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৩৮.
'চাপচারকূত' লুসাই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোন ধরনের উৎসব?
  1. শস্য কাটার উৎসব
  2. বিয়ের উৎসব
  3. বসন্ত উৎসব
  4. মৃত আত্মাদের স্মরণে
সঠিক উত্তর:
বসন্ত উৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্ত উৎসব
ব্যাখ্যা

লুসাই:
- লুসাই  নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪৩৯.
ম্রৌ সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব কোনটি?
  1. ক) বৈসু
  2. খ) চিয়াসৎপয়
  3. গ) সানামাহি
  4. ঘ) সাংগ্রাই
সঠিক উত্তর:
খ) চিয়াসৎপয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চিয়াসৎপয়
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী ম্রৌ সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব চিয়াসৎপয়। এটি একটি গো-হত্যা উৎসব। পরিবারের রোগ মুক্তি, সসুখ-সমৃদ্ধি কামনা ও সৃষ্টিকর্তা থুরাইয়ের সন্তুষ্টির জন্যে এই উৎসব পালন করা হয়।
অন্যদিকে সাংগ্রাই হলো মারমা ও রাখাইনদের এবং বৈসু ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব। সানামাহি মেইতেই মণিপুরীদের আদি ধর্মের নাম।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
৪৪০.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, নারী সাক্ষরতার হার -
  1. ৭২.৮২%
  2. ৭৪.৬৬%
  3. ৭২.২২%
  4. ৭৬.৫৬%
সঠিক উত্তর:
৭২.৮২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭২.৮২%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি। 
- চুড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: ৯ এপ্রিল, ২০২৩।
- গণনা পদ্ধতি: Modified Defacto। 
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।    
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.২২%। 
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।  
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব): ৭৪.৬৬%।
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৫৬%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৮২%।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৪৪১.
কোন জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি? [আগস্ট - ২০২৫]
  1. বরিশাল
  2. রাঙামাটি
  3. ঢাকা
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম:
- বিভাগ: বরিশাল বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ৬৮৮ জন।
- জেলা: রাঙামাটি জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০৬ জন।

• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি:
- বিভাগ: ঢাকা বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ২১৫৬ জন।
- জেলা: ঢাকা জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০,০৬৭ জন।

সূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।

৪৪২.
কোন নরগোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে?
  1. নেগ্রিটো
  2. ভোটচীনীয়
  3. দ্রাবিড়
  4. অস্ট্রিক
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা
• বাঙালি জাতির প্রধান অংশ — অস্ট্রিক জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 

• বাঙালির আদি-জনগোষ্ঠী:
- নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক।

- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত অস্ট্রিক জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে।
- এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।

- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

উৎস:
i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া। 
iii)বাংলাপিডিয়া ও বাঙালির ইতিহাস, নিহারঞ্জন রায়।
৪৪৩.
বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ১৫-৫৯ বছর বয়সী জনসংখ্যার হার কত শতাংশ?
  1. ক) ৫৪.৬০ শতাংশ
  2. খ) ৫৮.৫০ শতাংশ
  3. গ) ৬৩.৩০ শতাংশ
  4. ঘ) ৬৭.৪০ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৩.৩০ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৩.৩০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে বিভিন্ন বয়সী জনসংখ্যার হার:
- ১৫-৫৯ বয়সী : ৬৩.৩ শতাংশ
- ১৫-৪৯ বয়সী : ৫৪.৬ শতাংশ।
- ০-১৪ বয়সী : ২৮.৫ শতাংশ
- ৬০ বছর ও উর্ধ্বে : ৮.২ শতাংশ।
(সূত্রঃ বিবিএস SVRS Report-2019)
৪৪৪.
'পলকূত' লুসাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কী ধরনের উৎসব?
  1. বসন্ত উৎসব
  2. শস্য কাটার উৎসব
  3. বর্ষবরণ উৎসব
  4. মৃত আত্মাদের স্মরণে উৎসব
সঠিক উত্তর:
শস্য কাটার উৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শস্য কাটার উৎসব
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৪৫.
‘বল নৃত্য’ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের ঐতিহ্য?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) সিলেট
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) যশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যশোর
ব্যাখ্যা
যশোর অঞ্চলের বিখ্যাত নাচ বল নৃত্য এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যান নাচ হলো জারি।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি - বাংলা একাডেমি)
৪৪৬.
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গারোদের আদি ধর্মের নাম কী?
  1. আচিক
  2. সাংসারেক
  3. ওয়ানগালা
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
সাংসারেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংসারেক
ব্যাখ্যা

'গারো' উপজাতি:
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।
- তাছাড়া শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাতেও কিছু গারো উপজাতি বাস করে।
- গারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক।
- তবে বর্তমানে গারোরা খ্রিস্টধর্মের অনুসারী হচ্ছে।
- তাদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক বা গারো ভাষা।
- এদের সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। অর্থাৎ পরিবারের প্রধান মাতা।
- গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম 'দকবান্দা ও দকসারি' এবং পুরুষরা শার্ট, লুঙ্গি, ধুতি ইত্যাদি পরিধান করে।
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ৯ম-১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৭.
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি কবে সম্পাদিত হয়?
  1. ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
  2. ১২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
  3. ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
  4. ২২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
সঠিক উত্তর:
২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি:
- পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি হলো বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি।
- পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তিচুক্তি পাহাড়ি জনগণের বিশেষ অবস্থান ও মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছে।
- এই শান্তিচুক্তির আওতায় তিন পার্বত্য জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদ সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে।

⇒ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭।
- চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন: বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।
- এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি স্থাপনের পথ সুগম হয়।

উৎস: i) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪৪৮.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. সাওতাল
  2. ত্রিপুরা
  3. চাকমা
  4. মারমা
সঠিক উত্তর:
মারমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারমা
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯। 
- বিভাগ অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৬০ জন বাস করে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগোষ্ঠী চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৯৯।
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জাতিগোষ্ঠী। মারমাদের সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ২৬২।
- আর তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই ত্রিপুরা। ত্রিপুরাদের সংখ্যা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৮।
- চতুর্থ স্থানে আছে সমতলের জাতিগোষ্ঠী সাঁওতাল। তাঁদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।
- জেলার নিরিখে দেশে, রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৪ জন।
- রাঙামাটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বাস করে- চাকমা।
- এরপরই আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। এখানে জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।

৪৪৯.
জনসংখ্যার দিক থেকে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান-
  1. ক) প্রথম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) তৃতীয়
  4. ঘ) চতুর্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুর্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা
• জনসংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান- অষ্টম,
• জনসংখ্যায় মুসলিম বিশ্বে অবস্থান - চতুর্থ। 
• জনসংখ্যার সার্কভুক্ত দেশসমূহে অবস্থান - তৃতীয়।

উৎস:- বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট- ২০২২ ও বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৪৫০.
'রাজবংশী' নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের কোন জেলায় বাস করে?
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর
  3. রাজশাহী
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজবংশী: 
- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদেরকে ক্ষত্রিয় নামক এক কোচ শাখার সঙ্গেও অভিন্ন বলে অনেকে মনে করেন।
- দূরাতীত কালে হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ। এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী।
- বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- ১৯৪১ ও পরবর্তী আদমশুমারিতে রাজবংশীদের হিন্দু জনগোষ্ঠীর অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
- ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এদের মোট জনসংখ্যা পাঁচ হাজারের একটু বেশি।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৪৫১.
কোন জেলায় হিন্দু জনসংখ্যার হার সবচেয়ে বেশী?
  1. খুলনা
  2. গোপালগঞ্জ
  3. মৌলভীবাজার
  4. ঠাকুরগাঁও
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- জনশুমারি ও গৃহগণনা- ২০২২ অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ৯১.০৪ শতাংশ মুসলিম, ৭.৯৫ শতাংশ হিন্দু, ০.৬১ শতাংশ, ০.৩০ শতাংশ খ্রিস্টান এবং ০.১২ শতাংশ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। 
- এর মধ্যে গোপালগঞ্জ সর্বাধিক হিন্দু অধ্যুষিত জেলা।
- গোপালগঞ্জ জেলার ২৬.৯৪ শতাংশ হিন্দু।
এছাড়া,
- ঠাকুরগাঁও, মৌলভীবাজার ও খুলনা জেলার হিন্দু জনসংখ্যা যথাক্রমে ২২.১১, ২৪.৪৪ এবং ২০.৭৫ শতাংশ।
- সবচেয়ে কম হিন্দু জনগোষ্ঠী মেহেরপুরে (১.২০ শতাংশ)।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা- ২০২২। লিঙ্ক
৪৫২.
স্বাধীন বাংলাদেশে মোট কতবার আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে? [নভেম্বর,২০২৫]
  1. ৬টি
  2. ৫টি
  3. ৪টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা

- স্বাধীন বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ২০২২ সালে ৬ষ্ঠ আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

আদমশুমারি:
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- প্রতি ১০ বছর পর পর আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এই পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬ টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে
- ২০২২ সালের ১৫-২১ জুন ৬ষ্ঠ আদমশুমারি হয়।
- যা 'জনশুমারি ও গৃহগণনা' নামে পরিচালিত হয়।
- জনশুমারি পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

৪৫৩.
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহ কতটি সার্কেলে বিভক্ত?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
খ) তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিনটি
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহ তিনটি সার্কেলে বিভক্ত।

এগুলো হলো:
- চাকমা সার্কেল
- বোমাং সার্কেল এবং
- মং সার্কেল।

এর মধ্যে চাকমা সার্কেল রাঙামাটি জেলায়, বোমাং সার্কেল বান্দরবান জেলায় এবং মং সার্কেল খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত।
প্রত্যেক সার্কেল বা প্রশাসনিক এলাকার প্রধান হলেন রাজা। প্রতিটি সার্কেল কতগুলো মৌজায় এবং মৌজাসমূহ আদাম বা পাড়ায় বিভক্ত। মৌজা প্রধানরা হেডম্যান এবং গ্রাম প্রধানরা কার্বারী নামে পরিচিত।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
৪৫৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, নারী সাক্ষরতার হার কত?
  1. ৭২.৯৪%
  2. ৭৩.৭১%
  3. ৭৪.৮২%
  4. ৭৫.৭৬%
সঠিক উত্তর:
৭২.৯৪%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭২.৯৪%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৪৫৫.
বাংলাদেশে কতটি উপজাতীয় প্রতিষ্ঠান আছে?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
• উপজাতীয় প্রতিষ্ঠান:
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ১০টি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
• এগুলো হলো:
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি নেত্রকোনা,
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি, 
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান,
- কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কক্সবাজার,
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি,
- রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী,
- মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার,
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, হালুয়াঘাট,
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, দিনাজপুর,
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, নওগাঁ।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০। [লিঙ্ক]
৪৫৬.
কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় কোনটি?
  1. প্রাণিসম্পদ
  2. শস্য
  3. মৎস্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
কৃষি শুমারি:
- এদেশে ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মত নমুনা আকারে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।

⇒ কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরণ, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর সংখ্যা, মৎস্য উৎপাদন ও চাষাবাদ সংক্রান্ত তথ্যাদি এবং কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
- এ তথ্য-উপাত্ত কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বেঞ্চমার্ক তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- প্রতি দশ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ অনুযায়ী জনশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় ৩টি।
- যথা: শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ।

উৎস: i) কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
ii) BBS ওয়েবসাইট।
৪৫৭.
কারা নিজেদেরকে মান্দাই/মান্দি নামে পরিচয় দিয়ে থাকে?
  1. গারো
  2. ত্রিপুরা
  3. রাখাইন
  4. পাঙন
সঠিক উত্তর:
গারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারো
ব্যাখ্যা
গারো (মান্দি): 
- নৃগোষ্ঠী হিসাবে 'গারো'দের নামকরণ নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে।
- একটি মত অনুসারে, গারো পাহাড়ের নামানুসারে 'গারো' নামকরণ করা হয়।
- অন্য মতে বলা হয়েছে, গারো নৃগোষ্ঠীর নামানুসারে 'গারো পাহাড়' নামকরণ হয়েছে।
- গারোরা নিজেদেরকে মান্দাই/মান্দি নামে পরিচয় দিয়ে থাকে।
- গারো ভাষায় মান্দি অর্থ মানুষ।
- গারো এথনিক সম্প্রদায় দুই শ্রেণিভূক্ত; যথা- ক) অচ্ছিক গারো ও খ) লামদানি গারো।
- বাংলাদেশে প্রধানত লামদানি গারোরা বাস করে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৮.
ষষ্ঠ জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম সিটি কর্পোরেশন কোনটি?
  1. ঢাকা দক্ষিণ
  2. রংপুর
  3. কুমিল্লা
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- খানার আকার: ৩.৯৮।

উল্লেখ্য,
⇒ সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনসংখ্যা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে, সেখানে বাস করেন ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩৭ জন।
- আর সবচেয়ে কম বসবাস বরিশাল সিটি করপোরেশনে, সেখানে বাস করেন চার লাখ ১৯ হাজার ৩৫১ জন।

⇒ সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯৩৫৩ জন)।
- সর্বনিম্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা রংপুর সিটি কর্পোরেশন (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৪৪৪ জন)।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৪৫৯.
মুরং বা ম্রো নৃগোষ্ঠী বাস কোন জেলায়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) দিনাজপুরে
সঠিক উত্তর:
খ) বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
• মুরং বা ম্রো:
- ম্রো একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- এরা ম্রোরা, ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত।
- ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না। ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে।

- ম্রোরা তিব্বতী-বর্মী গ্রুপের একটি বিশেষ ভাষায় কথা বলে।
- বতর্মানে এদের নিজস্ব ভাষায় ও বর্ণমালায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই প্রণীত হয়েছে।
-ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন। ম্রো ভাষায় ‘মারু’ শব্দের অর্থ মানুষ।
- ম্রো সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পিতা পরিবারের প্রধান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৬০.
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি কোথায় অবস্থিত?
  1. ময়মনসিংহ
  2. বান্দরবান
  3. নেত্রকোণা
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোণা
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি:

- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি নেত্রকোণা জেলার বিরিশিরিতে অবস্থিত।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীণ একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি মূল দুটি শাখার মাধ্যমে তার কাজ সম্পাদন করে থাকে।
- একটি সাংস্কৃতিক শাখা এবং অন্যটি গবেষণা শাখা।
- এ ছাড়াও রয়েছে একটি ছোট্ট নৃ-তাত্ত্বিক মিউজিয়াম এবং লাইব্রেরী।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীয়দের বিলীয়মান সংস্কৃতি সংরক্ষণ, অবিরত চর্চার মাধ্যমে তা ধরে রাখা এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সংস্কৃতি-সচেতন হতে সহায়তা করা এবং উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে থাকে।

তথ্যসূত্র - ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ওয়েবসাইট।
৪৬১.
'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৬১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে- 
  1. ২১ কোটি
  2. ২৬ কোটি
  3. ৩২ কোটি
  4. ৩৬ কোটি
সঠিক উত্তর:
২১ কোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ কোটি
ব্যাখ্যা

'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫:
- ২৪ জুলাই ২০২৫ সালে 'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
- রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের এক অনুষ্ঠানে এই নতুন জনসংখ্যা নীতি প্রকাশ করা হয়।
- প্রতিবছর ১১ জুলাই জনসংখ্যা দিবস পালন কর হলেও অনিবার্য কারণে মন্ত্রণালয় গতকাল এই দিবস পালন করেছে।
- এর আগে জনসংখ্যা নীতি ছিল ২০১২ সালের।

- এই নীতির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০৬১ সালের পর আর বাড়বে না।
- তখন দেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটি।
- ২০৬২ সাল থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে এবং মোট জনসংখ্যা কমতে থাকবে।
- ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার লভ্যাংশের যে সুযোগ পেয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকবে ২০৬১ সাল পর্যন্ত।
- তখন সমাজে প্রবীণ মানুষের হার অনেক বেশি থাকবে।

- মানবাধিকার, ন্যায্যতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, জেন্ডার সমতা, বৈষম্যহীনতা, স্বেচ্ছা সম্মতি ও অবহিত পছন্দ, তথ্য প্রাপ্তি, গোপনীয়তা, সেবার মান ও অংশীদারত্ব–অংশগ্রহণকে ২০২৫ সালের জনসংখ্যা নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫ ও প্রথম আলো।

৪৬২.
জনসংখ্যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট বিভাগ কোনটি?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) খুলনা
সঠিক উত্তর:
গ) বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে এর বিভাগ সমূহ:

- বাংলাদেশে মোট ৮টি বিভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে ছোট বিভাগ ময়মনসিংহ।
- এর আয়তন ১০,৫৫২ বর্গ কিমি।
- আয়তনে সবচেয়ে বড় বিভাগ চট্টগ্রাম ৩৩,৯০৪ বর্গ কিমি ।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় বিভাগ ঢাকা এবং সবচেয়ে ছোট বরিশাল বিভাগ।
- সবচেয়ে বেশি জেলা রয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৩টি।
- সবচেয়ে কম ৪টি করে জেলা রয়েছে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৬৩.
নিম্নের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দিনাজপুর অঞ্চলে বাস করে?
  1. রাজবংশী
  2. সাঁওতাল
  3. হাজং
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ
ব্যাখ্যা
⇒ সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে।
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
- সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই।

⇒ রাজবংশী:
- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। 
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- খরা, অনাবৃষ্টি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘হুদুমা’ পূজা রাজবংশীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই। 

⇒ হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
 
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি: সপ্তম শ্রেণি।
৪৬৪.
প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ছিলো কত?
  1. ক) ৭.৩৬ কোটি
  2. খ) ৭.৬৪ কোটি
  3. গ) ৮.১৫ কোটি
  4. ঘ) ৮.৯৯ কোটি
সঠিক উত্তর:
খ) ৭.৬৪ কোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭.৬৪ কোটি
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন আদমশুমারিতে বাংলাদেশর জনসংখ্যা:
- প্রথম আদমশুমারি ১৯৭৪ : ৭.৬৪ কোটি
- দ্বিতীয় আদমশুমারি ১৯৮১ : ৮.৯৯ কোটি
- তৃতীয় আদমশুমারি ১৯৯১ : ১১.১৫ কোটি
- চতুর্থ আদমশুমারি ২০০১ : ১২.৯৩ কোটি
- পঞ্চম আদমশুমারি ২০১১ : ১৫.২৫ কোটি।

১৯৬১ সালের আদমশুমারি : ৫.৫২ কোটি।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট)
৪৬৫.
নিচের কোন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা সিলেট জেলায় বাস করে না?
  1. তঞ্চঙ্গা
  2. খাসিয়া
  3. মনিপুরি
  4. পাঙন
সঠিক উত্তর:
তঞ্চঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তঞ্চঙ্গা
ব্যাখ্যা
তঞ্চঙ্গা:
- পার্বত্য চট্টগ্রামের কতিপয় পাহাড়ি জাতির মতো তনচংগ্যাদের আবাসভূমিও গড়ে ওঠে নদী সংলগ্ন উপত্যকায়।
- পার্বত্য চটগ্রামের রাঙামাটি জেলার কাউখালি উপজেলার রইস্যাবিলি ও কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার আশেপাশের এলাকায়, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে তনচংগা জাতিগোষ্ঠীর বসবাস।

অন্যদিকে:
- মণিপুরি, পাত্র, খাসিয়া, চাকমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, পাঙন সিলেট জেলায় বাস করে।

তথ্যসূত্র - সিলেট জেলা ওয়েবসাইট ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ ওয়েবসাইট।
৪৬৬.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে একমাত্র মুসলমান জনগোষ্ঠী কোনটি?
  1. গারো
  2. সাঁওতাল
  3. চাকমা 
  4. পাঙাল
সঠিক উত্তর:
পাঙাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঙাল
ব্যাখ্যা

মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে। 
- পাঙাল জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী।
- তারা মুসলিম মণিপুরি নামেও পরিচিত।
- তারা পারিবারিকভাবে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় বিশ্বাসী।
- বাংলাদেশে তাদের প্রধান বসতি সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে হলেও, বাংলাদেশের বাইরে ভারতের মণিপুর, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যেও পাঙাল জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা বসবাস করে।
- জাতিগতভাবে তারা মণিপুরি জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- কিন্তু ধর্মীয় দিক থেকে তারা সুন্নি মুসলিম এবং ইসলামই তাদের প্রধান ধর্ম।
- ভাষাগতভাবে তারা মণিপুরি (মেীতৈ) ভাষার একটি স্বতন্ত্র উপভাষা ব্যবহার করে, যা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে স্পষ্ট করে।
- ধর্মবিশ্বাস ও কিছু সামাজিক রীতিনীতিতে তারা মূলধারার বাঙালি মুসলমানদের থেকে কিছুটা ভিন্ন হলেও, তারা প্রথাগত মুসলিম আচার-অনুশীলন মেনে চলে।
----------------------
অন্যদিকে,
- গারো জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ও আদি ধর্মের নাম সাংসারেক।
- সাঁওতালরা প্রধানত সারি ধর্ম বা সারনা ধর্ম অনুসরণ করে।
- চাকমা জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষ থেরবাদী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। 

উৎস: BBC News, বনিক বার্তা ও বাংলাপিডিয়া। 

৪৬৭.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২, অনুসারে দেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) কত? (সেপ্টেম্বর-২০২৫)
  1. ৭২.০০%
  2. ৭৪.৮০%
  3. ৭৫.২৫%
  4. ৭৬.৫০%
সঠিক উত্তর:
৭৪.৮০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৪.৮০%
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- এটি অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে CAPI.
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ ও ১০০।
- দেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৮০%।
- ২০২২ সালে খানার গড় আকার - ৩.৯৮।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

৪৬৮.
চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোনটি?
  1. ক) ওয়ানগালা
  2. খ) বৈশাখী পূর্ণিমা
  3. গ) মাঘী পূর্ণিমা
  4. ঘ) বিজু
সঠিক উত্তর:
খ) বৈশাখী পূর্ণিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৈশাখী পূর্ণিমা
ব্যাখ্যা
চাকমা

- চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের অধিকাংশ গ্রামে ‘কিয়াং’ বা বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। 
- চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বৈশাখী পূর্ণিমা। গৌতম বুদ্ধের জন্ম, মৃত্যু ও বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির দিন এটি।
- তাছাড়া ‘মাঘী পূর্ণিমার' রাতে কিয়াং বা প্যাগোডার প্রাঙ্গণে গৌতম বুদ্ধের সম্মানে ফানুস উড়ায়। 

তথ্যসূত্র:- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণি।
৪৬৯.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুসারে, দেশের কোন বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম?
  1. খুলনা
  2. বরিশাল
  3. রংপুর
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মূল শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ১৫ হতে ২১ জুন ২০২২ সময়ে দেশব্যাপী পরিচালিত হয়।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।

⇒ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (৫বছর ও তদূর্ধ্ব),
- মোট ব্যবহারকারী - ৩০.৬৯%।
- পুরুষ ব্যবহারকারী - ৩৮.০৪%।
- নারী ব্যবহারকারী - ২৩.৫২%।

⇒ ঢাকা বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি - ৪০.৪২%।
⇒ রংপুর বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম - ২৩.৫২%।

⇒ শহর (ইন্টারনেট ব্যবহারকারী) -৪১.৩০%।
- গ্রাম (ইন্টারনেট ব্যবহারকারী) - ২৫.৭৩%।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৪৭০.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, দেশে ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে -
  1. ৪৯৫টি
  2. ৪৯৬টি
  3. ৪৫৯৪টি
  4. ৪৫৯৬টি
সঠিক উত্তর:
৪৫৯৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫৯৬টি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

স্থানীয় সরকার বিভাগ:
- সিটি কর্পোরেশন রয়েছে ১২ টি।
- জেলা রয়েছে ৬৪টি।
- পৌরসভা রয়েছে ৩৩০টি।
- উপজেলা রয়েছে ৪৯৫টি।
- ইউনিয়ন পরিষদ ৪৫৯৬টি।
- গ্রাম ৯০০৪৯টি।
 
উৎস: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা।
৪৭১.
কোন নৃ-গোষ্ঠী নিজেদের ‘মান্দি’ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসে?
  1. ক) খাসিয়া
  2. খ) গারো
  3. গ) রাখাইন
  4. ঘ) সাঁওতাল
সঠিক উত্তর:
খ) গারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গারো
ব্যাখ্যা
গারো নৃ-গোষ্ঠী নিজেদের ‘মান্দি’ হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসে। এরা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইলের মধুপুর এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে বসবাস করে। এছাড়া বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলেও কিছু সংখ্যক গারো বসবাস করে। বাংলাদেশ ব্যতীত ভারতের মেঘালয় ও অন্যান্য রাজ্যে গারোদের বসবাস রয়েছে। তবে এদের আদি নিবাস ছিল তিব্বতে। গারো উপজাতিদের ভাষার নাম আচিক খুসিক। তাদের প্রধান উৎসব ওয়ানগালা। এরা মাতৃতান্ত্রিক। গারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক। তবে বর্তমানে অধিকাংশ গারো খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারি। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৪৭২.
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস -
  1. ৯ জুন
  2. ৯ জুলাই
  3. ৯ আগস্ট
  4. ৯ সেপ্টেম্বর
সঠিক উত্তর:
৯ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ আগস্ট
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস:
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯৪ সালে রেজল্যুশন ৪৯/২১৪ গ্রহণ করে ৯ আগস্টকে আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং তা পালনের জন্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে আহ্বান জানায়।
- ২০০০ সালে জাতিসংঘে স্থায়ী ফোরাম গঠন,
- ২০০১ সাল থেকে এ-বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোটিয়ার নিয়োগ,
- ২০০৫-১৪ সালের সময়কালকে দ্বিতীয় দশক হিসেবে পালন,
- ২০০৭ সালে জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র গ্রহণ,
- ২০১৪ সালে সাধারণ পরিষদের বিশ্ব সম্মেলন আয়োজন এবং
- এ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘আউটকাম ডকুমেন্ট’ গ্রহণ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ‘কাউকে পেছনে ফেলে রাখা নয়’ স্লোগান নিয়ে এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০৩০ যেসব এজেন্ডা জাতিসংঘ গ্রহণ করেছে, সেখানে আদিবাসীদের কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে।

উৎস: ৯ আগস্ট ২০২২, প্রথম আলো।
৪৭৩.
জুম চাষের সাথে জড়িত কোন সম্প্রদায়?
  1. ক) হাজং
  2. খ) মুন্ডা
  3. গ) মুরং
  4. ঘ) কোচ
সঠিক উত্তর:
গ) মুরং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুরং
ব্যাখ্যা
পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল পুড়িয়ে বা পরিষ্কার করে ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার লোকজন যে চাষাবাদ করে তা ই হলো জুম। বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন উপজাতি লোকজন জুম পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে। মুরংরা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা হিসেবে জুম চাষের সাথে জড়িত। কোচ ও হাজংরা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বাস করে। মুন্ডা উপজাতি সিলেটে বসবাস করে। (সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
৪৭৪.
​’খাসিয়া’ সম্প্রদায় বাংলাদেশের কোথায় বাস করে?
  1. পটুয়াখালি
  2. সিলেট
  3. বান্দরবন
  4. বরগুনা
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা

​খাসিয়া :
- বাংলাদেশের সিলেট জেলা ও ভারতের আসামে এই জনগোষ্ঠী বাস করে।
- তারা মাতৃপ্রধান পরিবারে বসবাস করে।
- সিলেট, সুনামগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় তারা বসবাস করছে।

​অন্যদিকে,​
রাখাইন :
- রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম।
- এরা মগ নামেও পরিচিত।
- বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়।

​খিয়াং :
- খিয়াং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী একটি সম্প্রদায়।
- কিছু খিয়াং বান্দরবন জেলায়ও বসবাস করে।

উৎস : nrigostisanad website.

৪৭৫.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমতলে বসবাস করে?
  1. তঞ্চঙ্গা
  2. পাংখোয়া
  3. সাঁওতাল
  4. মারমা
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মোট ৫০টি উপজাতি রয়েছে।
এর মধ্যে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া প্রভৃতি জেলায় বসবাস করে।
সাঁওতালরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে আসে।
অন্যদিকে,
তঞ্চঙ্গা, মারমা ও পাংখোয়া নৃ-গোষ্ঠীসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৪টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে।
এগুলো হলোঃ চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, লুসাই, মুরং, তঞ্চঙ্গা, বম, পাংখোয়া, চাক, খুমি, গুর্খা, বনযোগী, অসমিয়া এবং খ্যাং।
(সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী : পৃষ্ঠা-২১ ও ২৬)
৪৭৬.
কোন নৃ-গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব 'কারাম'?
  1. মণিপুরী
  2. ওরাঁও
  3. খাসিয়া
  4. সাওতাঁল
সঠিক উত্তর:
ওরাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরাঁও
ব্যাখ্যা
- ওরাঁও জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব হলো কারাম উৎসব। প্রতিবছর ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়।
অন্যদিকে,
- সংকীর্তন : মণিপুরীদের উৎসব
- সোহরাই : সাওতাঁলদের উৎসব
- সাড সুক মেনসিম : খাসিয়াদের উৎসব।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণী)
৪৭৭.
'আচিক মান্দি' নামে পরিচিত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী কারা?
  1. গারো
  2. খাসিয়া
  3. রাখাইন
  4. মারমা
সঠিক উত্তর:
গারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারো
ব্যাখ্যা

'আচিক মান্দি' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গারোদের নিজেদের দেওয়া নাম বা পরিচয়। গারো ভাষায় 'আচিক' শব্দের অর্থ পাহাড় এবং 'মান্দি' শব্দের অর্থ মানুষ, অর্থাৎ 'আচিক মান্দি' বলতে "পাহাড়ের মানুষ" বোঝায়।

গারো:

- ‘গারো' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় বাস করে।
- গারো জনগোষ্ঠীর আদি আবাসস্থল তিব্বতে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত। 
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- বর্তমানে গারোদের বেশিরভাগই খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।

৪৭৮.
নিচের কোন জেলায় হাজং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. সিলেট
  2. কক্সবাজার
  3. বান্দরবান
  4. খাগড়াছড়ি
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে।
- প্রতিটি হাজং বাড়িতে ছোট করে হলেও সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য আলাদা একটি ঘর নির্মাণ করে। হাজংরা সেটিকে ‘দেওঘর’ বলে।
- নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় হাজংরা ময়লাদেওয়ের পূজা করে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৭৯.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক?
  1. মারমা ও গারো
  2. চাকমা ও খাসিয়া
  3. খাসিয়া ও গারো
  4. সাঁওতাল ও খাসিয়া
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া ও গারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া ও গারো
ব্যাখ্যা

- গারো এবং খাসিয়া সমাজে পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় মেয়েরা এবং তাদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। 

গারো:
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৮০.
নিচের কোন জেলায় কন্দ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. মৌলভীবাজার
  2. বান্দরবান
  3. কক্সবাজার
  4. রাঙ্গামাটি
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
কন্দ:
- কন্দ বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কন্দরা চা ও রেল শ্রমিক হিসাবে বাংলাদেশে আসে এবং রেললাইন নির্মাণের কাজে যোগদান করে। রেললাইন নির্মাণ শেষে এদের একাংশ চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে এদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যায়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া চা বাগানে কন্দদের দেখা যায়।
- অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে। আবার কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- তাদের সঙ্গে মধ্যভারতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যেমন ভীল, কোল, মুন্ডা প্রভৃতির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাঁচটি দলে বিভক্ত। এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দ সমাজ পুরুষ প্রধান। পরিবারের পুত্রসন্তানেরাই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- কন্দরা হিন্দুদের মতই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় এসব দেবদেবীর নামকরণ করা হয়েছে যেমন ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ প্রভৃতি। এগুলো কন্দদের পারিবারিক দেবতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৮১.
“কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪” অনুযায়ী ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি?
  1. ঠাকুরগাঁও
  2. নওগাঁ
  3. দিনাজপুর
  4. ঝিনাইদহ
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪ বাংলাদেশের কৃষি বিষয়ক সকল রকমের তথ্য নিয়ে পরিসংখ্যানব্যুরো (BBS) প্রতি বছর কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ প্রকাশ করে থাকে।
•  'কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪' প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের জুন মাসে।

• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪ অনুসারে,
- মোট আবাদযোগ্য জমি (Gross Cropped Area): ৩,৯২,৯৬,০০০ একর (১,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর)।
- মোট আবাদী জমি (Net Cropped Area): ১,৯৮,২৯,০০০ একর (৮০,২৮,০০০ হেক্টর)।
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা দিনাজপুর।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা রংপুর।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৪৮২.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষ বিভাগ কোনটি?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. ঢাকা
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে - ঢাকা বিভাগে (৪৫৬৪৪৫৮৬ জন)।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে - বরিশাল বিভাগে (৯৩২৫৮২০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। (২১৫৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। (৬৮৮ জন)।
- সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বাস করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (৫৯,৯০,৭২৩ জন)।
- সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বাস করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (৭,০৮,৫৭০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯,৪০৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩,৪৪৫ জন)।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে - ঢাকা বিভাগ।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে - ময়মনসিংহ বিভাগ।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৪৮৩.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম?
  1. সিলেট
  2. রংপুর
  3. চট্টগ্রাম
  4. খুলনা
সঠিক উত্তর:
রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রংপুর
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ইন্টারনেট ব্যবহারকারী (৫বছর ও তদূর্ধ্ব),
- মোট ব্যবহারকারী - ৩০.৬৯%।
- পুরুষ ব্যবহারকারী - ৩৮.০৪%।
- নারী ব্যবহারকারী - ২৩.৫২%।
- ঢাকা বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি - ৪০.৪২%।
- রংপুর বিভাগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম - ২৩.৫২%।
• শহর -৪১.৩০%।
• গ্রাম - ২৫.৭৩%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৪৮৪.
বাংলাদেশে মণিপুরীদের মূল বাসস্থান কোথায়?
  1. পটুয়াখালী
  2. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  3. সিলেট
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
মণিপুরী:
- মণিপুরী (The Manipuris) বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- প্রাচীনকালের সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এখনকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর এদের আদি বাসস্থান।
- প্রাচীনকালে মণিপুরী সম্প্রদায় ক্যাংলেইপাক, ক্যাংলেইপাং, ক্যাংলেই, মেইত্রাবাক, মেখালি প্রভৃতি নামে পরিচিত ছিল।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে।
- সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৮৫.
তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতি কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. ক) খ্রিস্টান
  2. খ) সনাতন
  3. গ) বৌদ্ধ
  4. ঘ) বৈষ্ণব
সঠিক উত্তর:
গ) বৌদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
• তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতি:
- তঞ্চঙ্গ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী।
- এরা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার বইস্যাবিলি এলাকায়, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে এদের বসবাস।

- ভারতের  ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুর রাজ্যের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে এবং মায়ানমারের  আরাকান অঞ্চলেও তঞ্চঙ্গ্যাদের বসতি রয়েছে। - - - তঞ্চঙ্গ্যারা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর লোক। তাদের ভাষা ভারতীয় আর্য ভাষার অন্তর্গত  পালি,  প্রাকৃত, সদভুত বাংলা ভাষা।
- তঞ্চঙ্গ্যারা বিয়েকে সাঙা বলে।

- তঞ্চঙ্গ্যাদের পেশা মূলত জুমচাষ। 
- তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানকে ‘বিষু’ বলা হয়।
- তঞ্চঙ্গ্যারা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৮৬.
জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট থানা কোনটি?
  1. থানচি
  2. শিবগঞ্জ
  3. রাজস্থলী
  4. শ্যামনগর
সঠিক উত্তর:
থানচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থানচি
ব্যাখ্যা
থানচি উপজেলা: 
- মারমা শব্দ 'থাইন চৈ' বা 'বিশ্রামের স্থান' থেকে থানচি নামটির উৎপত্তি।
- ধারণা করা হয় ১৯৫০ সালে বা তার পূর্বে নৌপথে চলাচল কালে যাত্রীগণ বিশ্রামের জন্য এ স্থানে থামতেন বলে থাইন চৈ নামে স্থানটি পরিচিত ছিল পরে তা থানচি হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।
- উপজেলার উত্তরে রুমা ও বিলাইছড়ি উপজেলা, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য এবং আকাইব জেলা, পূর্বে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলা, পশ্চিমে লামা ও আলীকদম উপজেলা অবস্থিত।
- এই উপজেলায় ১১টি নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর বাস।
- জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট থানা (উপজেলা) থানচি। 
- এই উপজেলায় মোট ২৯৭৯০ জন বসবাস করে। [জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২]
- উপজেলার অন্তর্গত সাকা হাফং, নাফাখুম, তাজিং ডং, বড় পাথর, রাজা পাথর ইত্যাদি স্থান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২
৪৮৭.
প্রতি বছর কোন তারিখে বাংলাদেশে 'জাতীয় জনসংখ্যা দিবস' পালন করা হয়?
  1. ক) ২ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১১ জুলাই
  3. গ) ২ মার্চ
  4. ঘ) ৭ এপ্রিল
সঠিক উত্তর:
ক) ২ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জনসংখ্যানীতি:
- সাধারণভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য যে দিক নির্দেশনা হয় তাকেই বলা হয় দেশটির জনসংখ্যা নীতি।
- দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নীতি প্রণয়ন করা হয়।
- এ নীতির লক্ষ্য হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের নাগরিকদের জীবনমানের উন্নতি এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। 
- বাংলাদেশের জনসংখ্যানীতির মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যগুলো হলো:
১। দেশের সব মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবা পৌঁছে দেওয়া । বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিবার পরিকল্পনার সুযোগ ও অত্যাবশ্যক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। 
২। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা।
৩। শিশু ও নারীর অপুষ্টির হার কমিয়ে আনা।
৪। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। থানা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় ঔষধের সরবরাহ নিশ্চিত করা। প্রতিটি গ্রামে প্রসূতিদের নিরাপদ সন্তান জন্মদানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
৫। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সর্বত্র ও সকলের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া।
৬। দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা।
৭। দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
- জনসংখ্যা সম্পর্কে বর্তমানে বাংলাদেশের স্লোগান হচ্ছে ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়।
- প্রতিবছর ২রা ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ‘জাতীয় জনসংখ্যা দিবস' পালন করা হয়

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
৪৮৮.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সমতলে বাস করে?
  1. খুমি
  2. হাজং
  3. খিয়াং
  4. চাক
সঠিক উত্তর:
হাজং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজং
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে ৫০ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠী বসবাস রয়েছে।
- পার্বত্য তিন জেলায় পার্বত্য বাঙালিসহ ১৩ টি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করছে।
- তারা হল পার্বত্য বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, পাংখোয়া, খিয়াং, খুমি, চাক, লুসাই, রাখাইন এবং তঞ্চঙ্গ্যা।
- দেশের সমতল ভূমির মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
- সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সাঁওতাল, ওরাঁও, মুণ্ডা, মাহালি, পাহান, বর্মন, কোরা, মুশোর, গারো এবং হাজং ইত্যাদি।

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক। [লিঙ্ক]
৪৮৯.
খাসিয়া উপজাতি বাংলাদেশের কোন জেলায় বাস করে?
  1. ময়মনসিংহ 
  2. নেত্রকোনা
  3. সিলেট 
  4. পার্বত্য চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
সিলেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট 
ব্যাখ্যা

- খাসিয়া উপজাতি বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বসবাস করে।

খাসিয়া:

- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৯০.
কোনটি পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের সার্কেল নয়?
  1. ক) চাকমা সার্কেল
  2. খ) ত্রিপুরা সার্কেল
  3. গ) বোমাং সার্কেল
  4. ঘ) মং সার্কেল
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রিপুরা সার্কেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ত্রিপুরা সার্কেল
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি সার্কেল বা প্রথাগত প্রশাসনিক এলাকা বিদ্যমান। এগুলো হলোঃ চাকমা সার্কেল, বোমাং সার্কেল এবং মং সার্কেল। চাকমা সার্কেল রাঙামাটি জেলায়, বোমাং সার্কেল বান্দরবান জেলায় এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মং সার্কেল অবস্থিত। সার্কেল প্রধানরা রাজা নামে পরিচিত। এই প্রথাগত শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশ সরকারের আইন দ্বারা স্বীকৃত। (সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী, পৃষ্ঠা-৩১)
৪৯১.
ওরাওঁ জনগােষ্ঠী কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. রাজশাহী-দিনাজপুর
  2. বরগুনা-পটুয়াখালী
  3. রাঙামাটি-বান্দরবান
  4. সিলেট-হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী-দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী-দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ জনগোষ্ঠী:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- ওরাওঁ নৃগোষ্ঠীর মানুষ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস করে।
- ওরাঁও জনগোষ্ঠী কুঁড়ুখ ভাষায় কথা বলে। এটি দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
- এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। ওরাঁও জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুঁড়ুখ ব্যতীত সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।
- ওরাওঁ সমাজের পার্বণিক উৎসব মূলত ফাগুয়া।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪৯২.
ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগী মূলত কারা?
  1. এতিম শিশু
  2. দুঃস্থ মহিলা
  3. দুঃস্থ ও গরীর জনগণ
  4. কর্মহীন পুরুষ
সঠিক উত্তর:
দুঃস্থ মহিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃস্থ মহিলা
ব্যাখ্যা

ভিজিডি কর্মসূচি:
- এটি একটি সর্ববৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি।
- দুঃস্থ ও অসহায় এবং শারীরিকভাবে সক্ষম মহিলাদের উন্নয়ন স্থায়ীত্বের জন্য খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি, তাদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে উন্নয়ন প্যাকেজ সেবার আওতায় নির্বাচিত এনজিওর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই কর্মসূচির উপকারভোগীরা ১০০% মহিলা।
- ভিজিডি’ কর্মসূচি দুঃস্থ মহিলাদের খাদ্য সহায়তা।
খাদ্য বরাদ্দ- ৪৮৮ টি উপজেলার ভিজিডি উপকারভোগীকে মাসে ৩০কেজি হারে প্রাপ্যতার সাপেক্ষে গম/চাল এবং ৩টি পার্বত্য জেলার ২৫টি উপজেলায় মাথাপিছু ৩০ কেজি হারে আতপ চাল বিতরণ করা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪৯৩.
কোন উপজাতি সম্প্রদায় 'ককবরক' ভাষায় কথা বলে?
  1. সাঁওতাল
  2. গারো
  3. ত্রিপুরা
  4. হাজং
সঠিক উত্তর:
ত্রিপুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
উপজাতি:
- ককবরক ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ভাষা। এর অর্থ মানুষের ভাষা।
- এই ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। বাংলা ও রোমান হরফে লেখা হয়।
- ককবোরক ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারি ভাষা।

অন্যদিকে,
- কুঁড়ুখ ও সাদরি ভাষা : ওঁরাও নৃ-গোষ্ঠী।
- মুন্ডারি ভাষা : মুন্ডা নৃ-গোষ্ঠী ।
- আচিক খুসিক : গারো নৃ-গোষ্ঠী।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, সপ্তম শ্রেণি ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৪৯৪.
ওরাওঁ জনগােষ্ঠী কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. ক) বরগুনা-পটুয়াখালী
  2. খ) রাঙামাটি-বান্দরবান
  3. গ) ময়মনসিংহ-হবিগঞ্জ
  4. ঘ) রংপুর-দিনাজপুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রংপুর-দিনাজপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রংপুর-দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
ওরাও:
- ওরাও বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- ওরাও নৃগোষ্ঠীর মানুষ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস করে।
- ওরাঁও জনগোষ্ঠী কুঁড়ুখ ভাষায় কথা বলে। এটি দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
- এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। ওরাঁও জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুঁড়ুখ ব্যতীত সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।
- ওরাওঁ সমাজের পার্বণিক উৎসব মূলত ফাগুয়া।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪৯৫.
জনশুমারী ও গৃহগণনা- ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. কোচ
  2. ভিল
  3. বম
  4. গুর্খা
সঠিক উত্তর:
ভিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিল
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠ জনশুমারী ও গৃহগণনা- ২০২২:
- দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা - ৫০টি।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী - চাকমা (৪,৮৩,৩৬৫ জন)।
- জনসংখ্যায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যথাক্রমে - মারমা (২,২৪,২৯৯ জন) ও ত্রিপুরা (১,৫৬,৬২০ জন)।
- জনসংখ্যায় ছোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী - ভিল (৯৫জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যে জেলায় - রাঙ্গামাটি (৩,৭২,৮৭৫ জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম যে জেলায় - লালমনিরহাট (১১৮ জন)।

উল্লেখ্য,
- কোচ: ১৩,৭০৪ জন।
- গুর্খা: ১০১ জন।
- বম: ১৩,১৯৩ জন।

উৎস: ষষ্ঠ জনশুমারী ও গৃহগণনা -২০২২।
৪৯৬.
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, উচ্চ দারিদ্র্যের হারে শীর্ষ বিভাগ কোনটি?
  1. রংপুর
  2. খুলনা
  3. বরিশাল
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ:
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী,
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭ শতাংশ।
- অতি দারিদ্রের হার: ৫.৬ শতাংশ। 

• উচ্চ দারিদ্র্যের হারে শীর্ষ বিভাগ: বরিশাল (২৬.৯%)।
• নিম্ন দারিদ্র্যের হারে শীর্ষ বিভাগ: খুলনা (১৪.৮%)।

অন্যদিকে -
- ঢাকা বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৭.৯%।
- রাজশাহী বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৬.৭%।
- চট্টগ্রাম বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৫.৮%। 
- রংপুর বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৪.৮%। 
- ময়মনসিংহ বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৪.২%।
- সিলেট বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৭.৪%।

উৎস: খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২।
৪৯৭.
'ক্যাং' হচ্ছে চাকমাদের-
  1. বৌদ্ধমন্দির
  2. পাড়ার নাম
  3. উৎসবের নাম
  4. ধর্মের নাম
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধমন্দির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধমন্দির
ব্যাখ্যা
চাকমাদের ধর্ম:
- চাকমারা প্রধানত বৌদ্ধধর্মের অনুসারী।
- তাদের বৌদ্ধমন্দির বা বৌদ্ধবিহারের নাম ক্যাং।
- চাকমা অধ্যুষিত বিভিন্ন গ্রামে ক্যাং প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
- প্রতিটি ক্যাং-এ একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু থাকেন যিনি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন।
- প্রদীপ জ্বেলে ফুল, ফল, মিষ্টি ও অন্যান্য উপাচার সহযোগে তারা বুদ্ধের উপাসনা করে।
- চাকমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে হিন্দুধর্মের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
- ঘরে ঘরে চাকমাদের মধ্যে গঙ্গাপূজা এবং লক্ষ্মীপূজার প্রচলন রয়েছে।
- গোজেন নামের ঈশ্বরকে তারা খুব ভক্তি করে।
- তারা রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি ও ফসল রক্ষার জন্য মোরগ ও শূকর বলিদান করে পূজা- অর্চনা করে।
- চাকমাদের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর মানুষ অংশগ্রহণ করে।
- এছাড়া তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব মাঘীপূর্ণিমা আড়ম্বরের সাথে পালন করা হয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৮.
কোন জেলায় চাক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোকের বসতি রয়েছে?
  1. সিলেট
  2. রাজশাহী
  3. রংপুর
  4. বান্দরবান
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
ব্যাখ্যা

চাক:
- চাক বাংলাদেশের ক্ষুদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বাইশারি, নাইক্ষ্যংছড়ি, কামিছড়া, ক্রোক্ষং, বাকখালি, আলেখ্যং, ক্রোয়াংঝিড়ি ও ডুছড়ি এলাকায় চাকদের বসবাস।
- বান্দরবান বোমাং সার্কেলের বোমাং রাজপুস্তিকায় ও রাজ্য অভিষেক অনুষ্ঠানে চাকরা ‘মিঙসাক’ নামে তালিকাভুক্ত আছে।
- চাক সমাজ প্রধানত ২টি গোত্রে বিভক্ত। যা আবার কয়েকটি উপগোত্রে বিভক্ত। গোত্রীয় প্রতীক জালোয়া বা পইত্যা (পাকানো সুতার রশি)।
- চাকদের জীবনধারা বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহ্যমন্ডিত।
- শিশুর জন্ম ও নামকরণ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানাদির মধ্যে নাইংছাঙাহাং-এ অবস্থান, পুতরংবুওয়ে (জন্মপরবর্তী অনুষ্ঠান), ভেগলুংশাত পো (চুংবংলংউচ্ছেং ছাহেকা) উল্লেখযোগ্য।
- বিবাহ সংক্রান্ত প্রথার মধ্যে আচাংগায়ুগা (কনে দেখা), চাঁগায়ুগা (কোষ্ঠী বিচার)-সহ আরো অনেক প্রথা পালন করা হয়।
- ১৯৫৯ সালে চাক ধর্মগুরু মহাথেরো গন্ধর্ব ওয়েংসারের প্রচেষ্টায় চাক সমাজে শিক্ষার বিস্তার ঘটে।
- চাকরা দুই ধারায় বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা (লক্ষ্মীপূজা বা ওয়াইগ্যা, ফুলপূজা, প্রদীপপূজা) করে।
- পিতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামোতে চাকদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী শুধু ছেলেরা।
- চাকরা বাড়িকে ‘কিং’ এবং গ্রামকে ‘ঠি’ বলে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪৯৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) মৌলবী বাজার
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) বান্দারবান
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
সঠিক উত্তর:
খ) রাঙামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

• ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:

- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮। আর পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন৷
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর। এই জনগোষ্ঠীর
মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে ৷
- এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০০ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে।
- হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৩ জন।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ২য় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৫০০.
ওরাওঁদের ভাষার নাম -
  1. ক) খিয়াং
  2. খ) কুরুক
  3. গ) বাগানী
  4. ঘ) মান্দি
সঠিক উত্তর:
খ) কুরুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুরুক
ব্যাখ্যা
• ওরাওঁ উপজাতি:
- ওরাওঁ  বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।
- তাদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক
- এ ভাষার কোনো বর্ণমালা নেই। 
- ওরাওঁ সমাজের পার্বণিক উৎসব মূলত চারটি- ১. সারহুল, ২. কারাম, ৩. পশু উৎসব, ৪. খারিয়ানি, ৫. ফাগুয়া, ৭. সোহরায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।