ব্যাখ্যা
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, অক্টোবর ২০২০।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২ / ১৬ · ১০১–২০০ / ১,৫৬৭
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
উল্লেখ্য,
- মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (৩১.৬৬%) নাগরিক এখন শহরে বাস করে; দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮.৩৪%) গ্রামে বাস করে।
• সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।
• ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৯,৯০,৭২৩ জন।
- বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বনিম্ন ৪,১৯,৪৮৪ জন।
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ।
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন সর্বনিম্ন ঘনবসতিপূর্ণ।
উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০ অনুসারে,
- শিশু মৃত্যুহার (প্রতি হাজার জীবিত জন্মে)- ২১ জন (১ বছরের নিচে)
- স্থূল জন্ম হার (প্রতি ১০০০ জনে)- ১৮.১ জন
- স্থূল মৃত্যু হার (প্রতি ১০০০ জনে)- ৪.৯ জন
- মহিলা (১৫-৪৯ বছর) প্রতি উর্বরতা হার- ২.০৪
- গর্ভ নিরোধক ব্যবহারের হার- ৬৩.৪
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর+) ৭৪.৪
- প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল ৭২.৬ বছর
- সুপেয় পানি গ্রহণকারী ৯৮.১
- স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারকারী ৮১.৫
উল্লেখ্য,
৫ বছরের নিচে প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে শিশু মৃত্যুহার ২৮ জন
১ মাসের কম বয়সের শিশুমৃত্যু হার প্রতি হাজারে ১৫ জন
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন (প্রায়-১৭ কোটি)।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।
উল্লেখ্য,
বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।
• মণিপুরী:
- মণিপুরীরা বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এরা প্রধানত সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে বসবাস করে।
তাদের মাতৃভাষা তিব্বতি-বর্মী ভাষা পরিবারের কুকি-চীনা শাখাভুক্ত।
- মণিপুরীদের সমাজ ঐতিহাসিকভাবে ৭টি ইয়েক বা সালাইসে বিভক্ত, যা পরে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে রূপান্তরিত হয়েছে।
- মণিপুরীদের প্রধান ও সর্ববৃহৎ উৎসব হলো মহারাসলীলা বা রাসপূর্ণিমা।
- এটি প্রতি বছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমায় (সাধারণত নভেম্বর) উদযাপিত হয়।
- উৎসবে রাসনৃত্যের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলা ফুটিয়ে তোলা হয়।
- বাংলাদেশে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের মণিপুরীরা, যেমন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, এই উৎসব অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করে।
- মণিপুরী নৃত্যকে জাগই বলা হয়, যা প্রধানত ধ্রুপদী ও ফোকনৃত্যে বিভক্ত।
- ধর্মীয়ভাবে মণিপুরীরা মূলত চৈতন্য ধারার সনাতন ধর্ম অনুসরণ করে।
- তবে মণিপুরী মুসলমান সম্প্রদায়ও রয়েছে যারা একই সঙ্গে পূর্বের বিশ্বাস ও ইসলাম ধর্ম পালন করে।
অন্যদিকে,
• বিজু হলো চাকমাদের বর্ষবরণ উৎসব।
• সাংগ্রাই হলো মারমাদের বর্ষবরণ উৎসব।
• রথযাত্রা হলো হিন্দুদের উৎসব।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
গারো:
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
• সাক্ষরতা:
- সাক্ষরতা হচ্ছে পড়া ও লেখার ক্ষমতা।
- সমাজজীবন যত জটিল হয় ব্যবহারিক সাক্ষরতার স্তর তত উন্নীত হয় বলে একজন নিরক্ষর লোকের পক্ষে কর্মসংস্থান দুরূহ হয়ে ওঠে, দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াও কষ্টকর হয়।
- দেশে প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার ৬২.৯২ শতাংশ।
- দেশে এমন প্রায়োগিক সাক্ষরতা সম্পন্ন মানুষের হার ৬২ দশমিক ৯২। তাদের বয়স সাত বছর থেকে তার বেশি।
- ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায়োগিক সাক্ষরতায় পুরুষের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন নারীরা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভোরের কাগজ পত্রিকা রিপোর্ট।[লিঙ্ক] [লিঙ্ক]
আদমশুমারি ও গৃহগণনা শুমারি ২০১১ অনুযায়ী,
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি ঢাকা বিভাগে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি:
- বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি নেত্রকোণা জেলায় অবস্থিত।
- এটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীণ একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি মূল দুটি শাখার মাধ্যমে তার কাজ সম্পাদন করে থাকে।
- একটি সাংস্কৃতিক শাখা এবং অন্যটি গবেষণা শাখা।
- এ ছাড়াও রয়েছে একটি ছোট্ট নৃ-তাত্ত্বিক মিউজিয়াম এবং লাইব্রেরী।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীয়দের বিলীয়মান সংস্কৃতি সংরক্ষণ, অবিরত চর্চার মাধ্যমে তা ধরে রাখা এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সংস্কৃতি-সচেতন হতে সহায়তা করা এবং উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে থাকে।
সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ওয়েবসাইট।
- রাঙ্গামাটি জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ পরিচালিত হয় ১৫-২১ জুনের মধ্যে। তথ্য সংগ্রহের জন্য CPI পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে এবং গণনার জন্য Modified De-fecto পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১.১২% এবং সাক্ষরতার হার ৭৪.৮০%। ঢাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- রাঙ্গামাটি জেলা ঘনত্বের দিক থেকে সবচেয়ে কম জনবসতি সম্পন্ন এলাকা।
- বরিশাল বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব ও মানুষের সংখ্যা উভয়ই সর্বনিম্ন।
- দেশের গড় জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ১১১৯ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার।
- ঢাকা বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বোচ্চ এবং বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন।
সূত্র: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২
মারমা জনগোষ্ঠী:
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- প্রধান বসতি: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।
- মারমারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- ভাষা: ভোট বর্মী শাখার বর্মী দলভুক্ত।
- বর্ণমালার নাম: ম্রাইমাজা।
- খাদ্য: ভাত ও সিদ্ধ শাকসবজি প্রধান।
- প্রধান ধর্ম: বৌদ্ধ।
- ধর্মীয় উৎসব: ক্ছংলাপ্রে (বুদ্ধ পূর্ণিমা), ওয়াছো (আষাঢ়ী পূর্ণিমা), ওয়াগোয়াই (প্রবারণা পূর্ণিমা)।
- বিশেষ রীতি: প্রবারণা উৎসবে আকাশে রঙ্গিন ফানুস উড়ানো, রথ যাত্রা।
- সবচেয়ে বড় উৎসব: সাংগ্রাই।
উল্লেখ্য,
- ওয়ানগালা গারোদের ধর্মীয় উৎসব।
- বিজু হচ্ছে চাকমাদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
- রংপুরে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী বসবাস করে না.
ত্রিপুরা:
- বাংলাদেশের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করে।
- তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী সমতল এলাকার কুমিল্লা, সিলেট, বৃহত্তর চট্টগামের বিভিন্ন উপজেলা, রাজবাড়ি, চাঁদপুর, ফরিদপুর ইত্যাদি অঞ্চলেও বর্তমানে বসবাস করে।
- এরা ছিল বর্তমান বারীয় রাজ্য ত্রিপুরার পার্বত্য এলাকার অধিবাসী।
- পরবর্তীতে এরা নিজ এলাকা ছেড়ে বাংলাদেশের মূলত কুমিল্লা, সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করে।
- অনেকের মতে, টিপরারা আসাম, বার্মা এবং থাইল্যাণ্ডের অধিবাসী সাধারণ এক উপজাতির পূর্বপুরুষ বডো জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- এ জাতির মূল অংশ বাস করছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। ত্রিপুরা রাজ্য ছাড়াও ভারতের মিজোরাম , আসাম প্রভৃতি প্রদেশেও অনেক ত্রিপুরা বাস করে।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ।
সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয় মহিলা শিক্ষকের হার ৬৪.২০%।
- প্রাথমিক বিদ্যালয় মহিলা শিক্ষকের নিয়োগ বিধি ৬০% প্রণয়ন করার ফলে ১৯৯১ সালে ২১.৯% থেকে ২০২১ সালে ৬৪.২০% উন্নীত হয়েছে।
উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১
- ওয়ানগালা উৎসবে সালজং দেবতাকে ফসল উৎসর্গ করা হয়। এটি গারোদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।
গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- ভারতে মেঘালয় ছাড়াও আসামের কামরূপ, গোয়ালপাড়া ও কারবি আংলং জেলায় এবং বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকাও গাজীপুরজেলায় গারোরা বাস করে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'; যাতে দেবতা মিসি আর সালজং এর উদ্দেশ্যে উৎপাদিত ফসল উৎসর্গ করা হয়।
অন্যদিকে:
- বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা যে উৎসব করে তাকে বিজু বলে।
- মার্মাদের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই।
সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ।
ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- ওরাও নৃগোষ্ঠীর মানুষ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক। এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
- যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম সংগঠন আছে যাকে বলা হয় পাঞ্চেস।
- প্রতিটি গ্রামে একজন হেডম্যান বা মহাতোষ থাকে এবং একজন পুরোহিত বা নাইগাস থাকে।
- ওরাওঁরা জন্মান্তরবাদী। ওরাওঁদের মাঝে খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
- ওরাওঁ সমাজের পার্বণিক উৎসব মূলত ফাগুয়া। ফাগুয়া অর্থাৎ ফাল্গুন মাস থেকে ওরাওঁদের বর্ষ গণনা শুরু হয়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
- ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসবকে বৈসু নামে অভিহিত করে।
বৈসাবি:
- বৈসাবি বাংলাদেশে তিন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু এই তিন নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈসাবি নামের উৎপত্তি।
- তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করে বাংলা নববর্ষ।
- আদিবাসীরা বর্ষবরণ উৎসব পালন করে বিভিন্ন নামে।
- কেউ বৈসু, কেউ সাংগ্রাই আবার কেউ বিজু।
- বর্ষবরণ উৎসবকে ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই ও চাকমারা বিজু বলে অভিহিত করে।
- এবং এগুলি বৈসাবি নামে পরিচিত।
- সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
- প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১১৯ জন মানুষ বাস করেন।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এই গণনা অনুষ্ঠিত হয় ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যে। তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে CPI পদ্ধতি। গণনার পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে Modified De-fecto পদ্ধতি। দেশের মোট জনসংখ্যা এই সময় ছিল ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- দেশের বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নির্ণীত হয়েছে ১.১২%। সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪.৮০%। সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকায়।
- জেলা অনুযায়ী জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম রাঙ্গামাটিতে। বরিশাল বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব কম হওয়ায় এটি দেশের অন্যতম কম ঘনত্বসম্পন্ন এলাকা। বরিশাল বিভাগে মানুষের সংখ্যা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় সবচেয়ে কম।
- সার্বিকভাবে দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ১১১৯ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে পাওয়া গেছে।
সূত্র: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২
খিয়াং:
- খিয়াং পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি নৃজাতি গোষ্ঠী।আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় এ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- খিয়াংরা চীনা-তিববতীয় ভাষাগোষ্ঠীর তিববতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ‘সাংলান’।
- তারা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেয়। তবে তাদের আদি দেব-দেবীদের পূজা করতেও দেখা যায়।
- বর্তমানে অনেকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।।
- পাহাড়ের উপর খোলা জায়গায় এবং ছোট খাল বা ঝর্ণাধারার কাছে এদের গ্রামগুলি গড়ে উঠে।
- এরা ঘরকে বলে ‘ইম’ এবং গ্রামকে বলে ‘নাম’।
- খিয়াংদের সমাজব্যবস্থায় একজন নেতা থাকে যাকে বলা হয় কার্বারী।
- খিয়াংদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
মণিপুরী জাতিসত্তা:
- অবস্থান: মণিপুরী জাতিগোষ্ঠী মূলত ভারতের মণিপুর রাজ্যের বাসিন্দা।
- বাংলাদেশে তাদের বসবাস প্রধানত সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায়।
- অন্য নাম: মণিপুরী জনগোষ্ঠীকে "মেইতেই" নামেও ডাকা হয়।
- উৎপত্তি: এরা মঙ্গোলয়েড জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- ধারণা করা হয়, প্রায় ১৭শ শতাব্দীতে তারা মণিপুর রাজ্য থেকে সিলেট অঞ্চলে আসেন।
- ভাষা: মণিপুরী ভাষা বা "মেইতেই লোন"।
- ভাষাটি তিব্বত-বর্মণ ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
- ধর্ম: মূলত হিন্দু (বিশেষত বৈষ্ণব সম্প্রদায়)।
- কিছু মণিপুরী মুসলিম (পাঙাল বা মণিপুরী মুসলমান নামে পরিচিত)।
- পেশা: কৃষিকাজ, তাঁতশিল্প (বিশেষত শাড়ি ও কাপড় বুনন), এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নিয়োজিত।
- সংস্কৃতি: মণিপুরী নৃত্য (বিশ্ববিখ্যাত শাস্ত্রীয় নৃত্যশৈলী)।
- নিজস্ব উৎসব যেমন রাস উৎসব।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।
• ওরাওঁ :
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী।
- এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- এ কারণে অধিকাংশ গবেষক মনে করেন যে, ওরাওঁরা দ্রাবিড়ভাষী কুড়ুখ জাতির উত্তর পুরুষ।
- ১৮৮১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় যে, তারা বরেন্দ্র অঞ্চল ছাড়াও ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী জেলায়ও বসবাস করত।
কিন্তু বর্তমানে তাদের সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
ঝুমুর রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের নাচ ।
- অদ্ভুত মনোমুগ্ধকর নাচের নাম ঝুমুর নাচ। মূলত ঝুমুর গান প্রাচীন ধারার লোকসঙ্গীত। অনেক কাল আগে বিশেষ করে সাঁওতালদের মাঝে এটির প্রচলন ছিল।
- প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন জনপদেও এ নাচের কথা উল্লেখ রয়েছে। সাহিত্যরত্ন হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের মতে ঝুমুরের সঙ্গে কীর্তন মিশে পরবর্তীকালে যাত্রার উদ্ভব ঘটেছে।
- চা বাগানে বসবাসরত চা শ্রমিকেরা প্রায় দেড়শ’ বছর আগে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এদেশে আসে।
উৎস:বাংলাপিডিয়া
রাখাইন:
- রাখাইনদের প্রধান উৎসব জলকেলি।
- রাখাইনদের বসবাস পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়।
- রাখাইনদের আদিনিবাস মিয়ানমার।
- রাখাইনদের ধর্ম বৌদ্ধ।
অন্যদিকে:
- চাকমা: প্রধান উৎসবের নাম বিজু (এটি মূলত তিন দিনব্যাপী পালিত হয়— ফুল বিজু, মূল বিজু এবং নুজ্যা পিদ্যা বা গোজ্যাপোজ্যা দিন)।
- ত্রিপুরা: এদের প্রধান উৎসবের নাম বৈসু।
সাঁওতাল: এদের প্রধান উৎসবের নাম সোহরাই (এটি মূলত ফসল কাটার উৎসব)। এছাড়া তারা 'বাহা' উৎসবও বেশ ঘটা করে পালন করে।
- ওয়ানগালা হচ্ছে গারো সম্প্রদায়ের একটি নবান্ন উৎসব।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
উল্লেখ্য যে,
- পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের এই উৎসবগুলোকে একত্রে 'বৈসাবি' (বৈসু, সাঙ্গ্রাই ও বিজু) বলা হয়।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি ও প্রথম আলো।
খাসিয়া:
- খাসিয়া ও গারো বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- এদের গাত্রবর্ণ হরিদ্রাভ, নাক-মুখ চ্যাপ্টা, চোয়াল উঁচু, চোখ কালো ও ছোট টানা এবং খর্বকায়।
- এরা পাঁচ শত বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসে।
- খাসিয়াদের গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জিপ্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তরপূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ ,হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার আবাস তাদের।
- ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে।
- বর্তমানে শতকরা ৮০-৯০ ভাগ খাসিয়াই খ্রিষ্টান।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও কোলের কণ্ঠ।
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।
- তাছাড়াও শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলিবাজার গারো উপজাতি বাস করে।
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সাংসারেক।
- গারোদের প্রধান দেবতা তাতারা রাবুগা।
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান।
- গারোদের উৎসব ওয়ানগালা।
- গারোদের ভাষা মান্দি।
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
উৎসঃ ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
পাংখোয়া:
- পাংখোয়া বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ।
- প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’।
- তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’।
- খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
- এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান।
- পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ।
- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠীতেই মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি প্রচলিত।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
জনশুমারি ও গৃহগণনা:
- ২০১৩ সালে প্রণীত পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী, ইতিপূর্বে পরিচিত ‘আদমশুমারি'কে 'জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সে অনুসারে 'আদমশুমারি ও গৃহগণনার' পরিবর্তে ২০২২ সালের জুন মাসে '৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা' অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়।
- ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় ও পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়।
⇒ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।
উল্লেখ্য,
• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি:
- বিভাগ: ঢাকা বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ২১৫৬ জন।
- জেলা: ঢাকা জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০,০৬৭ জন।
• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম:
- বিভাগ: বরিশাল বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ৬৮৮ জন।
- জেলা: রাঙ্গামাটি জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০৬ জন।
উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২’ অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা হলো মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলা যেখানে দারিদ্র্যের হার ৬৩.২%।
বাংলাদেশের দরিদ্র মানচিত্র ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানুয়ারি, ২০২৫-এ 'বাংলাদেশের দারিদ্র্য ম্যাপ ২০২২' প্রকাশ করেছে।
- রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ১৯.২ শতাংশ।
- শহরে দারিদ্র্যের হার ১৬.৫ শতাংশ এবং গ্রামে দারিদ্র্যের হার ২০.৩ শতাংশ।
⇒ দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল বিভাগে ২৬.৬ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫.২ শতাংশ।
- দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলা মাদারীপুর এবং সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা মাদারীপুরের ডাসার।
- অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে ধনী থানা ঢাকার পল্টন; জেলা হিসেবে সবচেয়ে ধনী নোয়াখালী।
উল্লেখ্য,
⇒ দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ১০টি উপজেলা :
১) ডাসার, মাদারীপুর: দারিদ্র্য হার ৬৩.২%
২) হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ: দারিদ্র্য হার ৫৯.৬%
৩) কালকিনি, মাদারীপুর: দারিদ্র্য হার ৫৬.৩% -
৪) রাজৈর, মাদারীপুর: দারিদ্র্য হার ৫৬%
৫) শিবচর, মাদারীপুর: দারিদ্র্য হার ৫৫.১%
৬) নলছিটি, ঝালকাঠি: দারিদ্র্য হার ৫৩.৮% -
৭) গৌরীপুর, ময়মনসিংহ: দারিদ্র্য হার ৫২.৯%
৮) মাদারীপুর সদর: দারিদ্র্য হার ৫০%
৯) বেলাব, নরসিংদী: দারিদ্র্য হার ৪৯.৫%
১০) বোদা, পঞ্চগড়: দারিদ্র্য হার ৪৮.২%।
উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
ii) বণিক বার্তা।
মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তারা মূলত মায়ানমারের আরাকানিদের বংশধর।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- বহু পূর্বে মারমারা ‘‘মগ’’ নামেই পরিচিত ছিল।
- বর্তমানে তারা নিজেদের মারমা বলেই দাবী করে।
- মারমা শব্দটি মারমাজা বা ম্রাইমাচা নামক উপমহাদেশীয় প্রাচীন ব্রাহ্মী হস্তাক্ষর লিপি থেকে উদ্ভুত।
- স্বাধীনতা উত্তরা বাংলাদেশে সরকারিভাবে মারমা জনগোষ্টী স্বতন্ত্র উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান হলেন রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।
- মারমাদের গ্রাম রোয়া।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
• মারমা জনগোষ্ঠী:
- মারমা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- তারা মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে এসে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছে।
- মূলত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি এলাকায় তাদের বসবাস।
- মারমারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- মারমাদের প্রধান বর্ষবরণ উৎসব হলো সাংগ্রাই।
- এটি প্রতি বছর এপ্রিলের ১৩ থেকে ১৫ তারিখে পালিত হয়।
- উৎসবটি বার্মিজ বর্ষপঞ্জি অনুসারে অনুষ্ঠিত হয়।
- তারা এই সময় জলকেলি, শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে আনন্দ উদযাপন করে।
- মারমারা বর্ষবরণ উৎসবে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে পুরনো বছরের সব দুঃখ, কষ্ট ও নেতিবাচক স্মৃতি ধুয়ে মুছে ফেলে;
- এবং খুশি ও আশা নিয়ে নতুন বছরকে স্বাগতম জানায়।
অন্যদিকে,
• চাকমা জনগোষ্ঠীর প্রধান ও সবচেয়ে বড় উৎসব হলো বিজু।
- এটি তাদের বর্ষবরণ উৎসব।
• ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব হলো বৈসু বা বৈসুক।
- এই উৎসব নববর্ষ উপলক্ষে পালন করা হয়।
• খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব হলো খাসি সেং কুটস্নেম।
- এটি তাদের বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উৎসব।
- এই উৎসব সাধারণত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো পত্রিকা।