বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন১,৫৬৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / ১৬ · ১০১২০০ / ১,৫৬৭

১০১.
দেশে বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার কত?
  1. ক) ৭২.৫%
  2. খ) ৭৩.২%
  3. গ) ৭৪.৭%
  4. ঘ) ৭৫.৩%
ব্যাখ্যা
দেশে বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার - ৭৪.৭% (প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর প্রদত্ত তথ্য)।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, অক্টোবর ২০২০।
১০২.
সাঁওতাল গ্রামগুলো কি নামে পরিচিত?
  1. পুঞ্জি
  2. আদাম
  3. দিশাম
  4. রোয়া
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। 
- সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাওতালদের সমাজ হলো পিতৃতান্ত্রিক।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য সূর্য।
- সাঁওতাল সমাজ প্রধানত কৃষিনির্ভর। 
- সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত। 
- সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই।
- সাঁওতালদের মধ্যে এখনও ১২টি গোত্রবিভাগ রয়েছে। 
- সাঁওতাল গ্রামগুলো দিশাম নামে পরিচিত।

অন্যদিকে -
- খাসিয়াদের গ্রাম পুঞ্জি।
- চাকমাদের গ্রাম আদাম।
- মারমাদের গ্রাম রোয়া।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি: সপ্তম শ্রেণি।
১০৩.
বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত আদিবাসী ইউ কে চিং কোন উপজাতির?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) খাসিয়া
  4. ঘ) লুসাই
ব্যাখ্যা
বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত আদিবাসী ইউ কে চিং মারমা উপজাতির। (রেফারেন্সঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
১০৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুসারে, দেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব কত?
  1. ১,১২১ জন
  2. ১,১১৭ জন
  3. ১,১১৯ জন
  4. ১,১২৩ জন
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩। 
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।    
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%। 
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।  

উল্লেখ্য,
- মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (৩১.৬৬%) নাগরিক এখন শহরে বাস করে; দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮.৩৪%) গ্রামে বাস করে।

• সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

• ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৯,৯০,৭২৩ জন।
- বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বনিম্ন ৪,১৯,৪৮৪ জন।

• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ।
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন সর্বনিম্ন ঘনবসতিপূর্ণ।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।

১০৫.
কোন জেলাটি বোমাং সার্কেলের অন্তর্গত?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) খাগড়াছড়ি
  3. গ) বান্দরবান
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীসমূহের প্রথাগত শাসন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে মোট তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করা হয়েছে।
এগুলো হলোঃ
- চাকমা সার্কেল (রাঙামাটি)
- বোমাং সার্কেল (বান্দরবান)
- মং সার্কেল (খাগড়াছড়ি)।
- প্রতিটি সার্কেল প্রধান হলেন রাজা। প্রতিটি সার্কেল কতগুলো মৌজা এবং মৌজাসমূহ কতগুলো গ্রামে বিভক্ত।
- সমগ্র বান্দরবান জেলা নিয়ে বোমাং সার্কেল গঠিত। বোমাং সার্কেলের রাজা হলেন মারমা সম্প্রদায়ভুক্ত।
(তথ্যসূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
১০৬.
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০ অনুযায়ী শিশু মৃত্যুহার (প্রতি হাজারে)-
  1. ক) ২৫ জন
  2. খ) ২৩ জন
  3. গ) ২১ জন
  4. ঘ) ১৯ জন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০ অনুসারে,
- শিশু মৃত্যুহার (প্রতি হাজার জীবিত জন্মে)- ২১ জন (১ বছরের নিচে)
- স্থূল জন্ম হার (প্রতি ১০০০ জনে)- ১৮.১ জন
- স্থূল মৃত্যু হার (প্রতি ১০০০ জনে)- ৪.৯ জন
- মহিলা (১৫-৪৯ বছর) প্রতি উর্বরতা হার- ২.০৪
- গর্ভ নিরোধক ব্যবহারের হার- ৬৩.৪
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর+) ৭৪.৪
- প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল ৭২.৬ বছর
- সুপেয় পানি গ্রহণকারী ৯৮.১
- স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারকারী ৮১.৫

উল্লেখ্য,
৫ বছরের নিচে প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে শিশু মৃত্যুহার ২৮ জন
১ মাসের কম বয়সের শিশুমৃত্যু হার প্রতি হাজারে ১৫ জন

১০৭.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা- ২০২২ অনুসারে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
  1. ১.১৩%
  2. ২.০১%
  3. ১.১০%
  4. ১.১২%
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন (প্রায়-১৭ কোটি)।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।

উল্লেখ্য,
বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

১০৮.
মণিপুরিদের প্রধান উৎসব কোনটি?
  1. রাস 
  2. বিজু
  3. সাংগ্রাই
  4. রথযাত্রা
ব্যাখ্যা

• মণিপুরী:
- মণিপুরীরা বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এরা প্রধানত সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে বসবাস করে।
তাদের মাতৃভাষা তিব্বতি-বর্মী ভাষা পরিবারের কুকি-চীনা শাখাভুক্ত।
- মণিপুরীদের সমাজ ঐতিহাসিকভাবে ৭টি ইয়েক বা সালাইসে বিভক্ত, যা পরে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে রূপান্তরিত হয়েছে।

- মণিপুরীদের প্রধান ও সর্ববৃহৎ উৎসব হলো মহারাসলীলা বা রাসপূর্ণিমা।
- এটি প্রতি বছর কার্তিক মাসের পূর্ণিমায় (সাধারণত নভেম্বর) উদযাপিত হয়। 
- উৎসবে রাসনৃত্যের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলা ফুটিয়ে তোলা হয়।
- বাংলাদেশে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের মণিপুরীরা, যেমন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, এই উৎসব অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করে।

- মণিপুরী নৃত্যকে জাগই বলা হয়, যা প্রধানত ধ্রুপদী ও ফোকনৃত্যে বিভক্ত। 
- ধর্মীয়ভাবে মণিপুরীরা মূলত চৈতন্য ধারার সনাতন ধর্ম অনুসরণ করে। 
- তবে মণিপুরী মুসলমান সম্প্রদায়ও রয়েছে যারা একই সঙ্গে পূর্বের বিশ্বাস ও ইসলাম ধর্ম পালন করে।

অন্যদিকে, 
• বিজু হলো চাকমাদের বর্ষবরণ উৎসব।
• সাংগ্রাই হলো মারমাদের বর্ষবরণ উৎসব।
• রথযাত্রা হলো হিন্দুদের উৎসব।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১০৯.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক?
  1. ত্রিপুরা
  2. চাকমা
  3. বম
  4. গারো
ব্যাখ্যা

গারো:
- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
-  বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১১০.
Modified De-facto পদ্ধতিতে পরিচালিত বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি -
  1. তৃতীয়
  2. চতুর্থ
  3. পঞ্চম
  4. ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified de facto) পদ্ধতি:
- এই পদ্ধতিতে খানার সদস্যকে শুমারি মুহূর্তে তাদের অবস্থান গণনাভুক্ত করার পাশাপাশি শুমারি মুহূর্তে যারা ভ্রমণরত; হাসপাতাল ও হোটেলে থাকবেন বা কর্মরত থাকবেন তাদেরকে স্ব স্ব খানায় গণনাভুক্ত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এ 'মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto)' পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।

- বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে যে আদমশুমারি বা জনশুমারিগুলো করা হয়েছে, সেগুলো কাগজে-কলমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
- তার সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার খুব বেশি ছিল না।
- ওয়েবভিত্তিক ইন্টিগ্রেটেড সেনসাস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইসিএমএস) প্রস্তুতসহ জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমে (জিআইএস) ২০২২ সালের জনশুমারির কাজটি করা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
ii) বিবিসি।
১১১.
বাংলাদেশে সর্বশেষ জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭৪ সালে
  2. খ) ২০২২ সালে
  3. গ) ২০২১ সালে
  4. ঘ) ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে সর্বশেষ জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ২০২২। 

• স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১, ২০২২ সালে।

• ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২২ সালেই ষষ্ঠ শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। 

উৎস: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
১১২.
বাংলাদেশের কোন নৃগোষ্ঠী সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ‘পাঞ্চেস’ ব্যবস্থার প্রচলন করেছে?
  1. সাঁওতাল
  2. ওরাঁও
  3. রাজবংশী
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- বাংলাদেশের একটি প্রাচীন নৃগোষ্ঠী হলো ওরাওঁ।
- মূলত তারা দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাস করলেও বর্তমানে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় তারা ছড়িয়ে রয়েছে। নৃবিজ্ঞানীদের মতে, ওরাওঁরা দ্রাবিড় বংশোদ্ভূত একটি জনগোষ্ঠী।

উল্লেখ্য, 
- তারা মূলত কুঁড়ুখ ভাষায় কথা বলে, এটা দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
- এই ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। এছাড়াও ওরাওঁদের মধ্যে সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।

এছাড়াও, 
- ওরাওঁ সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ গ্রাম সংগঠন রয়েছে, যাকে ‘পাঞ্চেস’ বলা হয়।
- পাঞ্চেস সাধারণত গ্রামের সাত থেকে আটজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত হয়, যারা বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করেন এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১৩.
সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফিতি ছিলো কত শতাংশ?
  1. ক) ৫.৪০ শতাংশ
  2. খ) ৫.৪৮ শতাংশ
  3. গ) ৫.৬৫ শতাংশ
  4. ঘ) ৬.০২ শতাংশ
ব্যাখ্যা
সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফিতি ছিলো ৫.৬৫ শতাংশ। এর আগের ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফিতি ছিলো ৫.৪৮ শতাংশ। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে অনুমিত গড় মূল্যস্ফিতি ৫.৪ শতাংশ।
(সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
১১৪.
স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি হয় কবে?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৪ সালে প্রথম জনশুমারি ও গৃহগণনা হয়। 
- ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি হয় এবং
- ১৯৮৬ সালে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালিত হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছয়টি আদম শুমারি ও গৃহগণনা শুমারি পরিচালিত হয় যার সর্বশেষটি হয় ২০২২ সালে।
- ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মূল তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম ১৫-২১ জুন ২০২২ সময়ে সম্পন্ন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১১৫.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুসারে, কত শতাংশ লোক গ্রামে বাস করে?
  1. ৬৬.৫৬%
  2. ৬৬.২৩%
  3. ৬৮.১২%
  4. ৬৮.৩৪%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- এটি দেশের ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

উল্লেখ্য,
- মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (৩১.৬৬%) নাগরিক শহরে বাস করে।
- এবং দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮.৩৪%) নাগরিক গ্রামে বাস করে।

• সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।
১১৬.
বর্তমানে দেশের কোন বিভাগে সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি?
  1. ময়মনসিংহ
  2. বরিশাল
  3. ঢাকা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- স্বাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১১৭.
পাঙন জনগোষ্ঠীর কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. সাদরি
  2. লামদানি
  3. কুঁড়ুখ
  4. মেইতেইলোন
ব্যাখ্যা
- পাঙন সম্প্রদায়ের ভাষার নাম ‘মেইতেইলোন’। এটি একটি মণিপুরী ভাষা।
অন্যদিকে,
- লামদানি : সমতলের গারোদের ভাষার নাম
- সাদরি ও কুঁড়ুখ : ওরাঁওদের ভাষার নাম
(তথ্যসূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী ও সপ্তম শ্রেণী)
১১৮.
টংক আন্দোলনের সাথে কোন নৃগোষ্ঠীর নাম জড়িত?
  1. মণিপুরী
  2. রাখাইন
  3. হাজং
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
টঙ্ক প্রথা হলো টাকার পরিবর্তে ধানের মাধ্যমে খাজনা আদায়৷ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজং সম্প্রদায়ের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো।
ধানের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধে কৃষকদেরকে কয়েকগুণ বেশি খাজনা প্রদান করতে হতো। তাই হাজং কৃষকরা এই প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।
কমরেড মনি সিংহ টঙ্ক আন্দোলনে কৃষকদের নেতৃত্ব দেন।
১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের মাধ্যমে টঙ্ক প্রথা ও টঙ্ক আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
১১৯.
সাংস্কৃতিক সংগঠন ''উদীচী'' র প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) ওয়াহিদুল হক
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সানজিদা বেগম
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন (২৮ মার্চ, ১৯০৭-৫ জানুয়ারি, ১৯৮১) হলেন প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ উদীচী সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি বিপ্লবী, সাহিত্যিক এবং শ্রমিক-সংগঠক।
১২০.
বাংলাদেশের ষষ্ঠ আদমশুমারিতে কারিগরি সহায়তা করবে-
  1. ক) UNFPA
  2. খ) WFP
  3. গ) NASA
  4. ঘ) IFAD
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ আদমশুমারি (জনশুমারি) অনুষ্ঠিত হবে ২৫-৩১ অক্টোবর ২০২১ সালে।
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ আদমশুমারিতে কারিগরি সহায়তা করবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)।
১২১.
'ওয়ানগালা' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব?
  1. সাঁওতাল
  2. গারো
  3. মারমা
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকাও গাজীপুরজেলায় গারোরা বাস করে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।
১২২.
নিচের কোন জেলায় গারোদের বসবাস নেই?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
• গারো:
- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী। 
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস। 
- এদের সংখ্যা প্রায় দেড়লক্ষ। 
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে। 
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- এতে দেবতা মিসি আর সালজং এর উদ্দেশ্যে উৎপাদিত ফসল উৎসর্গ করা হয়। 
- উল্লেখ্য ওয়ানগালা না হওয়া পর্যন্ত মান্দিরা নতুন উৎপাদিত ফসলাদি খেত না। 
- আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
১২৩.
সাক্ষরতা সম্পর্কিত কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. সাক্ষরতা আর শিক্ষা একই
  2. পড়া ও লেখার ক্ষমতা
  3. শুধু পড়তে পারার দক্ষতা
  4. শুধু স্বাক্ষর দেওয়ার জ্ঞান
ব্যাখ্যা

• সাক্ষরতা:
- সাক্ষরতা হচ্ছে  পড়া ও লেখার ক্ষমতা
- সমাজজীবন যত জটিল হয় ব্যবহারিক সাক্ষরতার স্তর তত উন্নীত হয় বলে একজন নিরক্ষর লোকের পক্ষে কর্মসংস্থান দুরূহ হয়ে ওঠে, দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াও কষ্টকর হয়।
- দেশে প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার ৬২.৯২ শতাংশ।
- দেশে এমন প্রায়োগিক সাক্ষরতা সম্পন্ন মানুষের হার ৬২ দশমিক ৯২। তাদের বয়স সাত বছর থেকে তার বেশি।
- ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায়োগিক সাক্ষরতায় পুরুষের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন নারীরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভোরের কাগজ পত্রিকা রিপোর্ট।[লিঙ্ক] [লিঙ্ক]

১২৪.
পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে প্রাচীন বা আদি নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. ক) মুরং
  2. খ) চাকমা
  3. গ) লুসাই
  4. ঘ) মারমা
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো মুরং বা ম্রো সম্প্রদায়। এরা আনুমানিক ১৪৩০ খ্রিষ্টাব্দে আরাকান রাজ্য থেকে বান্দরবান জেলায় এসে বসতি স্থাপন করে। বান্দরবান জেলায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজারের অধিক মুরং জনগোষ্ঠী বাস করে যা সংখ্যায় বান্দরবানের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্প্রদায়। (সূত্র: বান্দরবান জেলা ও নৃগোষ্ঠী সনদ ওয়েবসাইট)
১২৫.
'শিং বোঙ্গা' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান দেবতা?
  1. বম
  2. মুন্ডা
  3. কোল
  4. রনজোগী
ব্যাখ্যা
মুন্ডা:
- মুন্ডা বাংলাদেশে বসবাসরত অন্যতম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল, সিলেট জেলার চা বাগান এবং বৃহত্তর যশোর এবং খুলনা জেলায় এদের বসবাস।
- মুন্ডারা নিজেদের মধ্যে মুন্ডারী ভাষায় কথা বলে।
- মুন্ডাদের পোশাকের নাম হাতকা।
- মৃত্যুর পর মুন্ডাদের মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলাই রীতি।
- ধর্ম বিশ্বাসে মুন্ডারা প্রকৃতি পূজারী।
- তাদের প্রধান দেবতা হচ্ছেন শিং বোঙ্গা। তাদের মতে, তিনিই এ বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করেছেন এবং পরিচালনা করছেন।
- গ্রাম পূজা মুন্ডাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১২৬.
আদমশুমারি-২০১১ অনুযায়ী জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি-
  1. ক) রংপুর বিভাগে
  2. খ) রাজশাহী বিভাগে
  3. গ) সিলেট বিভাগে
  4. ঘ) বরিশাল বিভাগে
ব্যাখ্যা

আদমশুমারি ও গৃহগণনা শুমারি ২০১১ অনুযায়ী,
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি ঢাকা বিভাগে।

১২৭.
 'বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. কক্সবাজার
  3. নেত্রকোণা
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি:
- বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি নেত্রকোণা জেলায় অবস্থিত।
- এটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীণ একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি মূল দুটি শাখার মাধ্যমে তার কাজ সম্পাদন করে থাকে।
- একটি সাংস্কৃতিক শাখা এবং অন্যটি গবেষণা শাখা।
- এ ছাড়াও রয়েছে একটি ছোট্ট নৃ-তাত্ত্বিক মিউজিয়াম এবং লাইব্রেরী।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীয়দের বিলীয়মান সংস্কৃতি সংরক্ষণ, অবিরত চর্চার মাধ্যমে তা ধরে রাখা এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সংস্কৃতি-সচেতন হতে সহায়তা করা এবং উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে থাকে।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ওয়েবসাইট।

১২৮.
বাংলাদেশে জুম চাষ কোথায় হয়?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
- জুম বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের এক ধরনের চাষাবাদ পদ্ধতি।
- পাহাড়ের ঢালু এলাকায় জঙ্গল কেটে বা পুড়িয়ে পাহাড়িরা সাধারণত চাষাবাদ করে থাকে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মাঝে জুম চাষ পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।      

তথ্যসূত্র:- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৯.
জেলা অনুযায়ী সবচেয়ে কম ঘনবসতি কোন জেলায়?
  1. কক্সবাজার
  2. রাঙ্গামাটি
  3. বান্দরবান
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা

- রাঙ্গামাটি জেলার জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম।

- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ পরিচালিত হয় ১৫-২১ জুনের মধ্যে। তথ্য সংগ্রহের জন্য CPI পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে এবং গণনার জন্য Modified De-fecto পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১.১২% এবং সাক্ষরতার হার ৭৪.৮০%। ঢাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। 
- রাঙ্গামাটি জেলা ঘনত্বের দিক থেকে সবচেয়ে কম জনবসতি সম্পন্ন এলাকা।
- বরিশাল বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব ও মানুষের সংখ্যা উভয়ই সর্বনিম্ন।
- দেশের গড় জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ১১১৯ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার।
- ঢাকা বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বোচ্চ এবং বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন।

সূত্র: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২

১৩০.
কোন বিভাগে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ঢাকা
  3. বরিশাল
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
- সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বসবাস করে ঢাকা বিভাগে।

ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- সর্বশেষ ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন।
- তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি: CPI.
- গণনা পদ্ধতি: Modified De-fecto.
- দেশে মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে: ঢাকায়।
- জেলা অনুযায়ী সবচেয়ে কম ঘনত্ব: রাঙ্গামাটি।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯জন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম : বরিশাল বিভাগে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি: ঢাকা বিভাগে।

সূত্র: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
১৩১.
নিচের কোন উপজাতি বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী?
  1. মণিপুরী
  2. খাসিয়া
  3. বম
  4. খিয়াং
ব্যাখ্যা
খিয়াং: 
- খিয়াং  পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে।
- আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- ১৬ ও ১৭ শতকে খিয়াংরা বাংলাদেশে আগমন করে।
- পার্বত্য জেলা বান্দরবানের মুরার নজা পর্বতমালায় খিয়াংরা সর্ব প্রথম বসবাস শুরু করে।
- খিয়াংরা চীন - তিব্বতীয় ভাষাগোষ্ঠীর কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- অতীতে খিয়াংরা ছিল প্রকৃতি পূজারি।
- পরবর্তী সময়ে তারা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেয়। 
- খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ‘সাংলান’।
- গৌতম বুদ্ধকে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে এ উৎসব শুরু হয়।

উল্লেখ্য, 
- মণিপুরীদের ধর্ম বৈষ্ণব ।
- খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারী বম ও খাসিয়ারা ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩২.
মারমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?
  1. বিজু
  2. সাংগ্রাই
  3. লৌহ পূর্ণিমা
  4. ওয়ানগালা
ব্যাখ্যা

মারমা জনগোষ্ঠী: 
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- প্রধান বসতি: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।
- মারমারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- ভাষা: ভোট বর্মী শাখার বর্মী দলভুক্ত।
- বর্ণমালার নাম: ম্রাইমাজা।
- খাদ্য: ভাত ও সিদ্ধ শাকসবজি প্রধান।
- প্রধান ধর্ম: বৌদ্ধ।
- ধর্মীয় উৎসব: ক্ছংলাপ্রে (বুদ্ধ পূর্ণিমা), ওয়াছো (আষাঢ়ী পূর্ণিমা), ওয়াগোয়াই (প্রবারণা পূর্ণিমা)।
- বিশেষ রীতি: প্রবারণা উৎসবে আকাশে রঙ্গিন ফানুস উড়ানো, রথ যাত্রা।
- সবচেয়ে বড় উৎসব: সাংগ্রাই।

উল্লেখ্য,
- ওয়ানগালা গারোদের ধর্মীয় উৎসব।
- বিজু হচ্ছে চাকমাদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৩৩.
'বুদ্ধপূর্ণিমা' কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব?
  1. ক) রবিদাস
  2. খ) মাহাতো
  3. গ) ত্রিপুরা
  4. ঘ) রাখাইন
ব্যাখ্যা
রাখাইনদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব- বুদ্ধপূর্ণিমা। জলকেলি তাদেরই একটি উৎসব।
১৩৪.
নিচের কোনটি পিতৃতান্ত্রিক উপজাতি নয়?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) সাঁওতাল
  3. গ) খাসিয়া
  4. ঘ) মারমা
ব্যাখ্যা
• খাসিয়া:
- খাসিয়াদের মধ্যে হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্টধর্মের প্রভাব লক্ষণীয়। খাসিয়া সম্প্রদায়ের পরিবর্তনটা তাদের ধর্মেই বেশি ঘটেছে।
- দেড় শতাধিক বছর পূর্বে খ্রিস্টান মিশনারিরা খাসিয়াদের মধ্যে ধর্মপ্রচার শুরু করেছিল।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে। 
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে। প্রতি রোববারে খ্রিস্টান খাসিয়ারা গির্জায় প্রার্থনা এবং পুঞ্জির বিষয়াদি নিয়ে কিছুক্ষণ আলাপ-আলোচনা করে।
- খ্রিস্টান যাজকগণ অনেক সময় পুঞ্জির বিচার-আচারেরও দায়িত্ব পালন করেন
- খাসিয়ারা গোড়া থেকেই একেশ্বরবাদী।তাদের বিশ্বাস, ঈশ্বর পৃথিবী সৃষ্টির পর পৃথিবীতে একজোড়া নর-নারী সৃষ্টি করেছিলেন।
- বাংলাদেশের খাসিয়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে।
- খাসিয়াদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
 
• অন্যদিকে:
- বাংলাদেশের বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা- ৫০টি।
- এদের মধ্যে খাসিয়া ও গারো ছাড়া বাকি সব উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 
১৩৫.
বাংলাদেশের কোথায় জুম চাষ করা হয়?
  1. চাঁদপুর
  2. দিনাজপুর
  3. ময়মনসিংহ
  4. রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
জুম চাষ:
- জুমচাষ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীদের মধ্যে অতি পরিচিত একটি পাহাড়ী মিশ্র কৃষি চাষ পদ্ধতি।
- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, জুম চাষ হয়।
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলির প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি।
- পাহাড়ী  এলাকায় তারা প্রধানত জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
- জুম চাষকে স্থানান্তর কৃষি ব্যবস্থাও বলা হয়ে থাকে।
- সাধারণত জুম চাষের জন্য কৃষিভূমি স্থানান্তর করা হয়।
- প্রথমে জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে তাতে আগুন দেয়া হয় এবং তারপর মাটি কুপিয়ে লাইন ধরে বীজ রোপন করা হয়।
- একবার যে ভূমিতে ফসল ফলানো হয় তাতে এক নাগাড়ে চাষ না করে কয়েক বৎসরের জন্য জমিকে বিশ্রাম দিয়ে পতিত রাখা হয়।
- পুনরায় জঙ্গলাকীর্ণ হওয়ার পর এ জমিতে পুনর্বার চাষ হয়।
- জুম চাষের মাধ্যমে ভুট্টা, বিভিন্ন প্রকারের ধান, তিল, শাকসজি, তুলা।

উল্লেখ্য, 
- ইলিশের জন্য বিখ্যাত চাঁদপুর জেলা।
- দিনাজপুর সবচেয়ে বেশী গম উৎপাদন হয়।
- ময়মনসিংহ জেলায় ধান উৎপাদন বেশী হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
১৩৬.
গারো উপজাতি কোন জেলায় বাস করে?
  1. দিনাজপুর
  2. নেত্রকোনা
  3. রাজশাহী
  4. চট্রগ্রাম
ব্যাখ্যা
গারো উপজাতিদের বসবাস- ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল জেলায়।
(রেফারেন্স - ৮ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়)
১৩৭.
According to the final report of Census and Census 2022, which tribe has the largest population in Bangladesh?
  1. Chakma
  2. Garo
  3. Marma
  4. Tripura
  5. Khashia
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে - CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে- মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাস করে চট্টগ্রাম বিভাগে (এ জনগোষ্ঠীর ৬০.০৪%)।
- উপজাতির সংখ্যা সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (০.২৫%)।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
• চাকমা - ৪,৮৩,৩৬৫।
• মারমা - ২,২৪,২৯৯।
• ত্রিপুরা - ১,৫৬,৬২০।
• সাঁওতাল - ১,২৯,০৫৬।
• ওরাওঁ - ৮৫,৮৫৮।
• গারো - ৭৬,৮৫৪।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১৩৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুযায়ী তৎকালীন জনসংখ্যা কত ছিল?
  1. ক) ৭.৫৪ কোটি
  2. খ) ৭.৬৪ কোটি
  3. গ) ৮.২৫ কোটি
  4. ঘ) ৭.৪৮ কোটি
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারি হয় 'জনশুমারি ও গৃহগণনা' নামে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
১৩৯.
বাংলাদেশে মাতৃতান্ত্রিক উপজাতি কারা?
  1. সাঁওতাল
  2. গারো
  3. চাকমা
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৪০.
‘রাসোৎসব’ কাদের প্রধান উৎসব?
  1. খাসিয়া
  2. সাঁওতাল
  3. তঞ্চঙ্গা
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা
মণিপুরীদের প্রধান উৎসব ‘রাসোৎসব’। ভাষাগত এবং ধর্মীয় ভিন্নতার কারণে বাংলাদেশের মণিপুরীরা তিনটি শাখায় বিভক্ত এবং স্থানীয়ভাবে তারা (১) বিষ্ণুপ্রিয়া, (২) মৈতৈ ও (৩) পাঙন নামে পরিচিত। বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এরা বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারী। সূত্র- http://www.nrigostisanad.gov.bd/nrri-goshthi
১৪১.
নিচের কোন জেলায় 'ওরাওঁ' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. রংপুর
  2. কক্সবাজার
  3. চট্টগ্রাম
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- তারা মুঘল শাসনামলে বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং সে অঞ্চলে তাদের স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।
- ওরাওঁরা জড়োপাসক, তাদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
- ওরাওঁরা তাদের সৃষ্টিকর্তা ধরমেশকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য তাঁর উদ্দেশ্যে পূজা করে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে ‘ডানডাকাঁটা’ উৎসবের আয়োজন করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৪২.
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী সবচেয়ে বেশি আদিবাসী কোনটি ?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. গারো
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী:

- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর’ সংখ্যা ৫০টি।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- এর মধ্যে পুরুষ ৪৯.৯৮% ও নারী ৫০.০২%।
- এর মধ্যে ৬০.০৪% চট্টগ্রাম বিভাগে বসবাস।
- এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৪.৮২% রাজশাহী, ৮.২৮% সিলেট, ৫.৫২% রংপুর ও ৪.৯৯% ঢাকা বিভাগে বসবাস করে।

সংখ্যার দিক দিয়ে -
- পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগোষ্ঠী চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মারমা।
- তৃতীয় অবস্থানে আছে ত্রিপুরা। 
- চতুর্থ স্থানে আছে সাঁওতাল। 

জেলার দিক দিয়ে -
- দেশে রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
         ii) ২৭ জুলাই ২০২২, প্রথম আলো।
১৪৩.
বাংলাদেশের কোন জেলায় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী বসবাস করে না?
  1. কুমিল্লা
  2. রাজবাড়ি
  3. রংপুর
  4. চাঁদপুর
ব্যাখ্যা

- রংপুরে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী বসবাস করে না. 

ত্রিপুরা:
- বাংলাদেশের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করে।
- তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী সমতল এলাকার কুমিল্লা, সিলেট, বৃহত্তর চট্টগামের বিভিন্ন উপজেলা, রাজবাড়ি, চাঁদপুর, ফরিদপুর ইত্যাদি অঞ্চলেও বর্তমানে বসবাস করে।
- এরা ছিল বর্তমান বারীয় রাজ্য ত্রিপুরার পার্বত্য এলাকার অধিবাসী।
- পরবর্তীতে এরা নিজ এলাকা ছেড়ে বাংলাদেশের মূলত কুমিল্লা, সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করে।
- অনেকের মতে, টিপরারা আসাম, বার্মা এবং থাইল্যাণ্ডের অধিবাসী সাধারণ এক উপজাতির পূর্বপুরুষ বডো জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 
- এ জাতির মূল অংশ বাস করছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। ত্রিপুরা রাজ্য ছাড়াও ভারতের মিজোরাম , আসাম প্রভৃতি প্রদেশেও অনেক ত্রিপুরা বাস করে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ। 

১৪৪.
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের লোকসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে -
  1. ৯৩৪ জন
  2. ১,১১৭ জন
  3. ১,১১৯ জন
  4. ১,১৩১ জন
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

উল্লেখ্য,
• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি:
- বিভাগ: ঢাকা বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ২১৫৬ জন।
- জেলা: ঢাকা জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০,০৬৭ জন।

• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম:
- বিভাগ: বরিশাল বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ৬৮৮ জন।
- জেলা: রাঙ্গামাটি জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০৬ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
১৪৫.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর জনগণ পূর্বে ‘মগ’ নামে পরিচিত ছিল?
  1. গারো
  2. সাঁওতাল
  3. চাকমা
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা
রাখাইন:

- রাখাইন জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বসবাস করে।
- এদের আদিনিবাস মায়ানমারের আরাকান রাজ্য।
- এরা নিজেদের 'রাক্ষাইন' নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- রাখাইনরা এক সময় 'মগ' নামে পরিচিত ছিলো।
- অনেক গবেষকের মতে রাখাইন এবং মারমারা একই সম্প্রদায়ভুক্ত।
- রাখাইনরা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১৪৬.
'কোচ' উপজাতিরা বাংলাদেশের কোথায় বসবাস করে?
  1. সিলেট
  2. রাঙ্গামাটি
  3. শেরপুর
  4. পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- বাংলাদেশে ৫০টি আদিবাসী বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে। 

কোচ সম্প্রদায়:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্যতম প্রাচীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ‘কোচ’।
- কোচরা মাতৃভূমি কোচবিহার পরিত্যাগ করে ময়মনসিংহ জেলায় তাদের আবাস গড়ে তোলে।
- বর্তমানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবর্দী উপজেলায় তাদের বসবাস।
- কোচ ও রাজবংশীদের প্রায় সময় একই জাতি মনে করা হয়।
- কোচরা গোত্রকে নিকিনি বলে। কোচ সমাজ পিতৃপ্রধান।
- কৃষিকাজ কোচদের প্রধান জীবিকা।

উৎস:
i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) Britannica.
iii) বাংলাপিডিয়া।
১৪৭.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা দেখা যায়?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. খাসিয়া
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা
- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ হচ্ছে সেসব পরিবার বা জনগোষ্ঠী, যাদের পরিবারের দায়িত্ব থাকে একজন নারীর ওপর এবং বংশের ধারাও নির্ধারিত হয় নারীর দিক থেকে।
- মায়ের পরিবার থেকেই উত্তরাধিকার ও বংশ-পদবি নির্ধারিত হয়।
- প্রজন্মে পর প্রজন্ম এ ব্যবস্থায় মাতৃগোত্রীয় বংশাণুক্রমিক ধারা অব্যাহত থাকে।
- বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের খাসিয়া ও গারো নৃগোষ্ঠী মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা অনুসরণ করে।
- এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার মিনানকাবাও, চীনের মোসুও, স্পেনের বাস্কোস, দক্ষিণ আফ্রিকার চরোকি, চক্টো, গিটস্কান, হাইডা, হপি, ইরোকুইস, উত্তর আমেরিকার লিঙ্গট, পশ্চিম সুমাত্রা, মালেশিয়ার নিজারে সিম্বিলান, কেরালার নায়ার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার চাম সম্প্রদায় মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা লালন করে।
- পিতৃকেন্দ্রিক সমাজে বিয়ের পর স্ত্রীকে যেখানে স্বামীর বাড়িতে যেতে হয় এবং স্বামীর সঙ্গে অবস্থান করতে হয়, সে ক্ষেত্রে মাতৃতান্ত্রিক সমাজে বিয়ের পর পুরুষকে স্ত্রীর বাড়িতে চলে যেতে হয়।
- মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সম্পত্তির উত্তরাধিকার মায়ের দিক থেকে আসে।
- মাতৃতান্ত্রিক সমাজ নারী শাসিত হতে হবে এমন নয়, তবে সমাজব্যবস্থা মাতৃকেন্দ্রিক হতে হয়।
- গারো বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েপক্ষ থেকে প্রস্তাব আসে।
- প্রথম স্ত্রীর অনুমতিক্রমে গারো পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে পারে।
- তবে তা তিনের অধিক নয়। গারোদের বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুকের প্রচলন নেই।

উৎস: দৈনিক কালের কণ্ঠ। [লিঙ্ক]
১৪৮.
বাঙালি জাতির প্রধান অংশ কোন মূল জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. দ্রাবিড়
  2. নেগ্রিটো
  3. ভোটচীন
  4. অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা
• বাঙালি জাতির প্রধান অংশ অস্ট্রিক জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 

• বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক।

- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত অস্ট্রিক জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে।
- এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।

- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

উৎস:
i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া। 
iii)বাংলাপিডিয়া ও বাঙালির ইতিহাস, নিহারঞ্জন রায়।
১৪৯.
'সোহরাই' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাতীয় উৎসব?
  1. সাঁওতাল
  2. খাসিয়া
  3. চাক
  4. গারো
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১৫০.
চাকমা সার্কেল কোন জেলার অন্তর্গত?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি সার্কেল বা প্রথাগত প্রশাসনিক এলাকা বিদ্যমান। এগুলো হলো : চাকমা সার্কেল, বোমাং সার্কেল এবং মং সার্কেল।
চাকমা সার্কেল রাঙ্গামাটি জেলায়, বোমাং সার্কেল বান্দরবান জেলায় এবং মং সার্কেল খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত। সার্কেল প্রধানরা রাজা নামে পরিচিত। বর্তমান চাকমা রাজা দেবাশ্বিস রায়। এই প্রথাগত শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশ সরকারের আইন দ্বারা স্বীকৃত।
সূত্র : ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণী এবং পার্বত্য রাঙামাটি জেলা ওয়েবসাইট।
১৫১.
মারমারা গ্রামকে তাদের ভাষায় কী নামে ডাকে?
  1. দিশাম
  2. রোয়া
  3. পুঞ্জি
  4. আদাম
ব্যাখ্যা
মারমা সম্প্রদায় বান্দরবান জেলার বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত। মারমারা গ্রামকে তাদের ভাষায় রোয়া এবং গ্রাম প্রধানকে রোয়াজা বলে। এরা নিজেরা গ্রাম প্রধান নির্বাচিত করে। কয়েকটি গ্রাম মিলে একটি মৌজা এবং কয়েকটি মৌজা নিয়ে একটি সার্কেল গঠিত হয়।
কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় ‘আদাম’ বা ‘পাড়া’। পাড়া প্রধানকে বলা হয় কার্বারি। কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা। মৌজা প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।
খাসিয়া প্রথাগত ধারায় তাদের গ্রামকে পুঞ্জি নামে ডাকা হয়। তাদের পুঞ্জিভিত্তিক হেডম্যান প্রথা চালু আছে।
দিশাম হলো সাঁওতালদের গ্রাম।
[সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণী]
১৫২.
পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নববর্ষকে বরণ উপলক্ষে মারমারা কোন উৎসব উদযাপন করে?
  1. ক) কঠিন চীবর দান
  2. খ) ওয়াগ্যই
  3. গ) সাংগ্রাই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মারমাদের উৎসব

মারমারা পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নববর্ষকে বরণ উপলক্ষে সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন করে।
- এ সময় তারা 'পানিখেলা' বা 'জলোৎসব'-এ মেতে উঠে। 
- এই উৎসবে পানিখেলার নির্দিষ্ট স্থানে নৌকা বা বড় পাত্রে পানি রাখা হয়।
- এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই উৎসব বেশ আনন্দ-উদ্দীপনার সাথে উদযাপিত হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১৫৩.
বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহিলা শিক্ষকের হার কত শতাংশ?
  1. ক) ৭৫.৪৩
  2. খ) ৮৫.২১
  3. গ) ৭২.৪
  4. ঘ) ৬৪.২০
ব্যাখ্যা

বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয় মহিলা শিক্ষকের হার ৬৪.২০%।
- প্রাথমিক বিদ্যালয় মহিলা শিক্ষকের নিয়োগ বিধি ৬০% প্রণয়ন করার ফলে ১৯৯১ সালে ২১.৯% থেকে ২০২১ সালে ৬৪.২০% উন্নীত হয়েছে।

উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১

১৫৪.
গারোদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোনটি?
  1. বিজু
  2. ওয়ানগালা
  3. সাংগ্রাই
  4. রাস পূর্ণিমা
ব্যাখ্যা

- ওয়ানগালা উৎসবে সালজং দেবতাকে ফসল উৎসর্গ করা হয়। এটি গারোদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। 

গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- ভারতে মেঘালয় ছাড়াও আসামের কামরূপ, গোয়ালপাড়া ও কারবি আংলং জেলায় এবং বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকাও গাজীপুরজেলায় গারোরা বাস করে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'; যাতে দেবতা মিসি আর সালজং এর উদ্দেশ্যে উৎপাদিত ফসল উৎসর্গ করা হয়।

অন্যদিকে: 
- বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা যে উৎসব করে তাকে বিজু বলে।
- মার্মাদের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ। 

১৫৫.
ওরাওঁদের প্রধান উৎসব কোনটি?
  1. হুদুমা
  2. পাখাংবো
  3. সোহরাই
  4. ফাগুয়া
ব্যাখ্যা

ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- ওরাও নৃগোষ্ঠীর মানুষ রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে বসবাস করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক। এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
- যাবতীয় বিবাদ মেটানো ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গ্রাম সংগঠন আছে যাকে বলা হয় পাঞ্চেস।
- প্রতিটি গ্রামে একজন হেডম্যান বা মহাতোষ থাকে এবং একজন পুরোহিত বা নাইগাস থাকে। 
- ওরাওঁরা জন্মান্তরবাদী।  ওরাওঁদের মাঝে খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। 
- ওরাওঁ সমাজের পার্বণিক উৎসব মূলত ফাগুয়া। ফাগুয়া অর্থাৎ ফাল্গুন মাস থেকে ওরাওঁদের বর্ষ গণনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫৬.
বাংলাদেশের সাক্ষরতার হার কত? [জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২]
  1. ৭২.২৮%
  2. ৭৪.৮%
  3. ৭৬.৮৮%
  4. ৭৮.৪%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।

⇒ সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।

⇒ সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি পিরোজপুর জেলায়।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম জামালপুর জেলায়।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
১৫৭.
ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসবকে কী নামে অভিহিত করে?
  1. বিজু
  2. হৈসু
  3. বৈসু
  4. মৈতৈই
ব্যাখ্যা

- ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসবকে বৈসু  নামে অভিহিত করে।

বৈসাবি: 
- বৈসাবি  বাংলাদেশে তিন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু এই তিন নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে বৈসাবি নামের উৎপত্তি।
- তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করে বাংলা নববর্ষ।
- আদিবাসীরা বর্ষবরণ উৎসব পালন করে বিভিন্ন নামে।
- কেউ বৈসু, কেউ সাংগ্রাই আবার কেউ বিজু।
- বর্ষবরণ উৎসবকে ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই ও চাকমারা বিজু বলে অভিহিত করে।
- এবং এগুলি বৈসাবি নামে পরিচিত।
- সাধারণত বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয় বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১৫৮.
ত্রিপুরাদের উৎসব -
  1. ওয়ানগালা
  2. বৈসুক
  3. সোহরাই
  4. বিজু
ব্যাখ্যা
উৎসব:
- গারোদের উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- বিজু হলো চাকমাদের বর্ষবরণ উৎসব।
- সোহরাই হলো সাঁওতালদের উৎসব।
- বৈসুক হলো ত্রিপুরাদের উৎসব।
- সাংগ্রাই হলো মারমাদের উৎসব।

উৎস: নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
১৫৯.
পার্বত্য চট্টগ্রামে সার্কেল রয়েছে-
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামে সার্কেল রয়েছে ৩টি। এগুলো হলো- চাকমা সার্কেল (রাঙামাটি), মং সার্কেল (খাগড়াছড়ি) এবং বোমাং সার্কেল (বান্দরবান)। পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ৩ সার্কেল প্রধানরা স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের কাছে 'রাজা' হিসেবেই পরিচিত। সরকারিভাবে সার্কেল প্রধানদের সার্কেল চীফ বলা হয়।
উৎসঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১৬০.
বাংলাদেশে নারীদের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল কত বছর?
  1. ক) ৭২.৮ বছর
  2. খ) ৭৩.২ বছর
  3. গ) ৭৪.৫ বছর
  4. ঘ) ৭৫.২ বছর
ব্যাখ্যা
বিবিএস SVRS Report-2020 অনুসারে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল:
- জাতীয় : ৭২.৮ বছর
- পুরুষ : ৭১.২ বছর
- নারী : ৭৪.৫ বছর।
(তথ্যসূত্রঃ বিবিএস SVRS-2020 রিপোর্ট)
১৬১.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা কবে করা হয়?
  1. ১৫-২১ জুন ২০২২
  2. ১৫-২১ জুলাই ২০২১
  3. ১৫-২১ জুন ২০২৩
  4. ১৫-২১ জুলাই ২০২২
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মূল তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম ১৫-২১ জুন ২০২২ সময়ে সম্পন্ন করা হয়।
- আকস্মিক বন্যাজনিত কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমের সময়সীমা ২৮ জুন ২০২২ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
- শুমারিতে জিআইএস (Geographic Information System) বেইজড ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করে CAPI (Computer Assisted Personal Interviewing) পদ্ধতিতে ট্যাবলেট এর মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ করা হয়।
- এ শুমারিতে প্রথমবারের মতো একটি ওয়েবভিত্তিক Integrated Census Management System (ICMS) প্রবর্তন করা হয়েছে যা ব্যবহার করে সদর দপ্তরে স্থাপিত Network Operations Centre (NOC) এর ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে শুমারিকালীন সকল গণনা এলাকা, গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ের গণনা কার্যক্রম তদারকি সম্ভব হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১৬২.
বাংলাদেশের কোন নৃগোষ্ঠীর পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক?
  1. গারো
  2. রাখাইন
  3. চাকমা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী ৫০টি উপজাতির মধ্যে খাসিয়া এবং গারো বা মান্দি সম্প্রদায়ের পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক। বাকি সবগুলো উপজাতির পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
[সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া]
১৬৩.
ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠীর বসবাসে শীর্ষ জেলা (৬ষ্ঠ জনশুমারি)- 
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) খাগড়াছড়ি
  4. ঘ) রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
- মােট ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬,৫০,১৫৯ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠী মােট জনসংখ্যার ০.৯৯%।
- ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি।
- ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠীর বসবাসে শীর্ষ বিভাগ চট্টগ্রাম; ৯,৯০,৮৬০ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠীর বসবাসে সর্বনিম্ন বিভাগ বরিশাল; ৪,১৮১ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠীর বসবাসে শীর্ষ জেলা রাঙ্গামাটি; ৩,৭২,৮৬৪ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠীর বসবাসে সর্বনিম্ন জেলা লালমনিরহাট; ১১৮ জন।
- কোন ক্ষুদ্র নৃ-গােষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চাকমা; ৪,৮৩,২৯৯ জন।

উৎসঃ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরাে (BBS)
১৬৪.
মুরংদের প্রধান উৎসব কোনটি?
  1. চিয়া-ছট-প্লাই
  2. মুৎসলোং
  3. বিজু
  4. সাংগ্রাই
ব্যাখ্যা
মুরং:
- ম্রো আদিবাসী জনগোষ্ঠী ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত।
- ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন। ম্রো ভাষায় ‘মারু’ শব্দের অর্থ মানুষ।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- জেলার তোইন, মঙ্গু, তৈনফা, লুলোইং, উত্তরহানগড়, দক্ষিণ হানগড়, তঙ্কাবতী, হরিণঝুড়ি, টেকের পানছড়ি, রেনিখ্যং, পানতলা, থানখ্যং, সোয়ালক, তিনডো, সিংপা, আলীখং এবং ভারিয়াতালি মৌজায় এদের বসবাস।

⇒ ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না। ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে। ম্রোরা তিববতী-বর্মী গ্রুপের একটি বিশেষ ভাষায় কথা বলে। ম্রো সমাজে কয়েকটি পরিবার মিলে এক একটি গোত্র গঠিত হয়। একই দল বা গোত্রভুক্ত ছেলেমেয়ের বিয়ে নিষিদ্ধ। ম্রোদের বংশ পরিচয় পিতৃতান্ত্রিক।

⇒ এদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের নাম ‘চিয়া-ছট-প্লাই’ অর্থাৎ গো-হত্যা উৎসব। কলাপাতায় লিপিবদ্ধ করা সৃষ্টিকর্তার পাঠানো মুরংদের ধর্মীয় বিধান ক্ষুধার্ত এক ষাঁড় খেয়ে ফেলার শাস্তিস্বরূপ গো-হত্যা করে এই ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়। উল্লেখ্য, এদের কোনো ধর্মগুরু নেই, ধর্মগ্রন্থ নেই, এমনকি কোনো নিজস্ব মন্দিরও নেই।

⇒ ম্রো ভাষায় কান ফোঁড়ানোকে বলে ‘রইক্ষারাম’। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সকলকে কান ফোঁড়াতে হয়। ম্রোরা ধর্মপ্রাণবাদী এবং তাদের তিনজন দেবতা আছে- তুরাই যিনি বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা, সাংতুং অর্থাৎ পাহাড়ের দেবতা এবং ওরেং যিনি নদীর দেবী। ম্রোদের একাংশ খ্রিস্টান ধর্মমতে বিশ্বাসী। ম্যানলে নামে এক ম্রো প্রবর্তিত নতুন ধর্ম ‘ক্রামা’ চালুর পরে বেশ কিছুসংখ্যক লোক এই ধর্মে দীক্ষিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) আমার বাংলা বই, পঞ্চম শ্রেণি।
১৬৫.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যার দিক দিয়ে কোন বিভাগ সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে?
  1. খুলনা
  2. বরিশাল
  3. ঢাকা
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা: ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনসংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষ বিভাগ: চট্টগ্রাম (৬০.০৪%)।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যার দিক দিয়ে সর্বনিম্ন বিভাগ: বরিশাল (০.২৫%)।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
• চাকমা: ৪,৮৩,৩৬৫।
• মারমা: ২,২৪,২৯৯।
• ত্রিপুরা: ১,৫৬,৬২০।
• সাঁওতাল: ১,২৯,০৫৬।
• ওরাওঁ: ৮৫,৮৫৮।
• গারো: ৭৬,৮৫৪।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১৬৬.
বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩ অনুসারে, ২০২৩ সালে মানুষের গড় আয়ু -
  1. ৭২ দশমিক ১ বছর
  2. ৭২ দশমিক ২ বছর
  3. ৭২ দশমিক ৩ বছর
  4. ৭২ দশমিক ৪ বছর
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

'বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩' শীর্ষক প্রতিবেদন:

- ২০২৩ সালে মানুষের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছর।

অন্যদিকে,
- ২০২২ সালে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭২ দশমিক ৪ বছর।

উল্লেখ্য ২০২৩ সালে -
- জনসংখ্যার সাধারণ বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
- মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের মধ্যে মৃত্যুর প্রথম কারণ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ১.০২৭ শতাংশ।
- পুরুষদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স ২৪.২ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ১৮.৪ বছর।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১৭৯ জন। 

উৎস: বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩।
১৬৭.
বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব কত?
  1. ১১১৯ জন
  2. ১২৩৫ জন
  3. ৯৮৫ জন
  4. ১০৭০ জন
ব্যাখ্যা

- প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১১৯ জন মানুষ বাস করেন।

- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এই গণনা অনুষ্ঠিত হয় ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যে। তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে CPI পদ্ধতি। গণনার পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে Modified De-fecto পদ্ধতি। দেশের মোট জনসংখ্যা এই সময় ছিল ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।

- দেশের বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নির্ণীত হয়েছে ১.১২%। সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪.৮০%। সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকায়। 

- জেলা অনুযায়ী জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম রাঙ্গামাটিতে। বরিশাল বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব কম হওয়ায় এটি দেশের অন্যতম কম ঘনত্বসম্পন্ন এলাকা। বরিশাল বিভাগে মানুষের সংখ্যা অন্যান্য বিভাগের তুলনায় সবচেয়ে কম।

- সার্বিকভাবে দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ১১১৯ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে পাওয়া গেছে।

সূত্র: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ 

১৬৮.
আর্যদের আদি নিবাস ছিলো কোথায়?
  1. ক) তিব্বত মালভূমি
  2. খ) ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে
  3. গ) ইন্দোচীন
  4. ঘ) দক্ষিণ ভারত
ব্যাখ্যা
আর্যদের আদি নিবাস ছিলো ইউরাল পর্বতমালার দক্ষিণে বর্তমান ইরান ও কিরগিজস্থানে। সেখান থেকে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় দুই হাজার অব্দে আর্যরা পশ্চিম প্রদেশ দিয়ে ভারতে আগমন করে। প্রথম তারা সিন্ধু তীরে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তীতে সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলায় আর্যদের আগমন শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার অব্দ থেকে। (সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা)
১৬৯.
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'নিপোর্ট' প্রতিষ্ঠিত কত সালে হয়?
  1. ক) ১৯৮২ সালে
  2. খ) ১৯৭২ সালে
  3. গ) ১৯৭৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'নিপোর্ট' প্রতিষ্ঠিত .১৯৭৭ সালে হয়। 

- নিপোর্ট (NIPORT-National Institute of Population Research and Training) হলো বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নিপোর্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটি ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।

- নিপোর্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

(তথ্যসূত্র: NIPORT ওয়েবসাইট)
১৭০.
জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি বসবাস করে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে) -
  1. ক) ঢাকা বিভাগে
  2. খ) বরিশাল বিভাগে
  3. গ) চট্টগ্রাম বিভাগে
  4. ঘ) খুলনা বিভাগে
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ৪৮৪ জন যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৮১ সালে ৫৯০ জন, ১৯৯১ সালে ৭২০ জন, ২০০১ সালে ৮৪৩ জন, ২০১১ সালে ৯৭৬ জন এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে ১,১১৯ জনে উপনীত হয়েছে।

• বিভাগভিত্তিক জনসংখ্যার ঘনত্ব লক্ষ করলে দেখা যায়, জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে (২,১৫৬ জন) এবং সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে (৬৮৮ জন)।

সূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
১৭১.
‘সাংলান’ কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব?
  1. খিয়াং
  2. গারো
  3. লুসাই
  4. বম
ব্যাখ্যা

খিয়াং:
- খিয়াং পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি নৃজাতি গোষ্ঠী।আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় এ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- খিয়াংরা চীনা-তিববতীয় ভাষাগোষ্ঠীর তিববতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ‘সাংলান’।
- তারা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেয়। তবে তাদের আদি দেব-দেবীদের পূজা করতেও দেখা যায়।
- বর্তমানে অনেকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।।
- পাহাড়ের উপর খোলা জায়গায় এবং ছোট খাল বা ঝর্ণাধারার কাছে এদের গ্রামগুলি গড়ে উঠে।
- এরা ঘরকে বলে ‘ইম’ এবং গ্রামকে বলে ‘নাম’।
- খিয়াংদের সমাজব্যবস্থায় একজন নেতা থাকে যাকে বলা হয় কার্বারী।
- খিয়াংদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১৭২.
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুসারে, জনসংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষ মুসলিম দেশ কোনটি? [নভেম্বর, ২০২৪]
  1. পাকিস্তান
  2. বাংলাদেশ
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. আলজেরিয়া
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

--------------------- 
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুসারে,

• জনসংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষ মুসলিম দেশ — ইন্দোনেশিয়া।
- দেশটির জনসংখ্যা - ২৮ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার।

[স্বাধীন অলাভজনক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’ নিজেদের ওয়েবসাইটে বিশ্বের জনসংখ্যার লাইভ (তাৎক্ষণিক) তথ্য প্রচার-প্রকাশ করে।] 
--------------------------- 
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুসারে, জনসংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা দেওয়া হলো-

১. ভারত:
জনসংখ্যা: ১৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার।

২. চীন:
জনসংখ্যা: ১৪১ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার।

৩. যুক্তরাষ্ট্র:
জনসংখ্যা: ৩৪ কোটি ৫৪ লাখ ২৭ হাজার।

৪. ইন্দোনেশিয়া:
জনসংখ্যা: ২৮ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার।

৫. পাকিস্তান:
জনসংখ্যা: ২৫ কোটি ১২ লাখ ৬৯ হাজার।

৬. নাইজেরিয়া:
জনসংখ্যা: ২৩ কোটি ২৬ লাখ ৭৯ হাজার।

৭. ব্রাজিল:
জনসংখ্যা: ২১ কোটি ১৯ লাখ ৯৯ হাজার।

৮. বাংলাদেশ:
জনসংখ্যা: ১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার।

৯. রাশিয়া:
জনসংখ্যা: ১৪ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার।

১০. ইথিওপিয়া:
জনসংখ্যা: ১৩ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার।

সূত্র: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট, ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ- ২০২৪।
১৭৩.
মণিপুরী জাতিগোষ্ঠী প্রধানত বসবাস করে কোথায়?
  1. কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটি
  2. সিলেট ও মৌলভীবাজার
  3. পটুয়াখালী ও বরগুনা
  4. দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও
ব্যাখ্যা

​মণিপুরী জাতিসত্তা:
- অবস্থান: মণিপুরী জাতিগোষ্ঠী মূলত ভারতের মণিপুর রাজ্যের বাসিন্দা।
- বাংলাদেশে তাদের বসবাস প্রধানত সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায়।
- অন্য নাম: মণিপুরী জনগোষ্ঠীকে "মেইতেই" নামেও ডাকা হয়।
- উৎপত্তি: এরা মঙ্গোলয়েড জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- ধারণা করা হয়, প্রায় ১৭শ শতাব্দীতে তারা মণিপুর রাজ্য থেকে সিলেট অঞ্চলে আসেন।
- ভাষা: মণিপুরী ভাষা বা "মেইতেই লোন"।
- ভাষাটি তিব্বত-বর্মণ ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
- ধর্ম: মূলত হিন্দু (বিশেষত বৈষ্ণব সম্প্রদায়)।
- কিছু মণিপুরী মুসলিম (পাঙাল বা মণিপুরী মুসলমান নামে পরিচিত)।
- পেশা: কৃষিকাজ, তাঁতশিল্প (বিশেষত শাড়ি ও কাপড় বুনন), এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায় নিয়োজিত।
- সংস্কৃতি: মণিপুরী নৃত্য (বিশ্ববিখ্যাত শাস্ত্রীয় নৃত্যশৈলী)।
- নিজস্ব উৎসব যেমন রাস উৎসব।

​উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

১৭৪.
চাকমা গ্রামের প্রধান-
  1. হেডম্যান
  2. মৌজা
  3. কারবারি
  4. পুঞ্জি
ব্যাখ্যা
♦ চাকমাঃ  
- চাকমা গ্রামের প্রধান হলেন কারবারি।
- চাকমাদের কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা।
- চাকমা মৌজার প্রধান হলেন হেডম্যান।
- খাসিয়া গ্রামগুলো পরিচিত পুঞ্জি নামে।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী। 
১৭৫.
ওঁরাও জাতিগোষ্ঠীর প্রধান আবাসস্থল কোথায়?
  1. পাহাড়ি অঞ্চল
  2. বরেন্দ্র অঞ্চলে
  3. উপকূলীয় অঞ্চল
  4. চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চল
ব্যাখ্যা

• ওরাওঁ :
- ওরাওঁ  বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী।
- এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- এ কারণে অধিকাংশ গবেষক মনে করেন যে, ওরাওঁরা দ্রাবিড়ভাষী কুড়ুখ জাতির উত্তর পুরুষ।
- ১৮৮১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় যে, তারা বরেন্দ্র অঞ্চল ছাড়াও ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী জেলায়ও বসবাস করত।
কিন্তু বর্তমানে তাদের সংখ্যা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৭৬.
Who was the first Independent king of Bengal?
  1. ক) Chandragupta Maurja
  2. খ) Vijay Sen
  3. গ) Shashank
  4. ঘ) Gopal
ব্যাখ্যা

-- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
-- তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন।
-- ড. নীহাররঞ্জনের মতে শশাঙ্ক “স্বতন্ত্র স্বাধীন নরপতিরূপে রাজ্যের অধিকারী হইয়াছিলেন।”
-- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
-- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তার লাভ করেছিল।
-- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
-- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ। 
-- তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্যোগ নেন।
-- তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।
-- তিনি ৬৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
-- তার মৃত্যুর প্রায় একশ বছর বাংলার ইতিহাসে যে অরাজকতা, নেতৃত্বের শূন্যতার সৃষ্টি হয় তাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী (এইস এস সি ) বাংলাদেম ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৭.
রাজবংশী নৃ-গোষ্ঠী নিচের কোন জেলায় বাস করে না?
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর
  3. ময়মনসিংহ
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
 রাজবংশী:
- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী।
- বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়। 
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছ ধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা।
- মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- খরা, অনাবৃষ্টি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘হুদুমা’ পূজা রাজবংশীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই। 
- রাজবংশীরা মৃতদেহ পুড়িয়ে সৎকার কাজ সম্পন্ন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭৮.
বাড়িতে অতিথি এলে পান-সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. গারো
  2. রাখাইন
  3. খাসিয়া
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে ও ভারতের আসামে এই জনগোষ্ঠী বাস করে।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- সিলেটের খাসিয়ারা সিনতেং গোত্রভুক্ত জাতি।
- খাসিয়া গ্রাম পুঞ্জি এবং পুঞ্জি প্রধান সিয়েম নামে পরিচিত।
- এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে।
- খাসিয়াদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
- খাসিয়াদের ধর্ম খ্রিস্টান।
- প্রধান দেবতার নাম উব্লাই নাংথউ।

⇒ খাসিয়ারা প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসে।
- তারা আসামে এসেছিল সম্ভবত তিববত থেকে।
- এক কালে এ উপজাতিরা ছিল যাযাবর। 
- তাদের প্রধান আবাসস্থল উত্তর-পূর্ব ভারত। 

⇒ খাসিয়া জনগোষ্ঠী কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
- তারা প্রচুর পান ও মধুর চাষ করে।
- ভাত, মাংস, শুঁটকি মাছ ও মধু খাসিয়াদের প্রধান খাদ্য।
- তারা পান-সুপারিকে খুবই পবিত্র মনে করে।
- বাড়িতে অতিথি এলে পান-সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করায়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পঞ্চম শ্রেণি।
১৭৯.
ঝুমুর কোন অঞ্চলের নাচ হিসেবে স্বীকৃত?
  1. ক) রংপুর, রাজশাহী
  2. খ) দিনাজপুর, গাইবান্ধা
  3. গ) বরিশাল, পটুয়াখালী
  4. ঘ) ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা

ঝুমুর  রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের নাচ ।
- অদ্ভুত মনোমুগ্ধকর নাচের নাম ঝুমুর নাচ। মূলত ঝুমুর গান প্রাচীন ধারার লোকসঙ্গীত। অনেক কাল আগে বিশেষ করে সাঁওতালদের মাঝে এটির প্রচলন ছিল।
- প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন জনপদেও এ নাচের কথা উল্লেখ রয়েছে। সাহিত্যরত্ন হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের মতে ঝুমুরের সঙ্গে কীর্তন মিশে পরবর্তীকালে যাত্রার উদ্ভব ঘটেছে।
- চা বাগানে বসবাসরত চা শ্রমিকেরা প্রায় দেড়শ’ বছর আগে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এদেশে আসে।

উৎস:বাংলাপিডিয়া

১৮০.
জনসংখ্যায় বাংলাদেশের বৃহত্তম বিভাগ কোনটি?
  1. ক) চট্রগ্রাম
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন-
অনুসারে -

• জনসংখ্যায় বৃহত্তম বিভাগ - ঢাকা; (৪,৪২,১৫,১০৭ জন)।
• জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ - বরিশাল; (৯১,০০,১০২ জন)। 
• জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা – ঢাকা (১,৪৭,৩৪,০২৫ জন)। 
• জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম জেলা – বান্দরবান (৪,৮১,১০৯ জন)। 
• বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে (১.৭৪%) । 
• বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে (০.৭৯%)। 
• বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে (প্রতি বর্গকিমি ২,১৫৬ জন)। 
• বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে (প্রতি বর্গকিমি ৬৮৮ জন)। 
• জেলা হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি – ঢাকা জেলায় (প্রতি বর্গকিমি ১০,০৬৭ জন)। 
• জেলা হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম - রাঙ্গামাটি (প্রতি বর্গকিমি ১০৬ জন)। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার- ২০২২।
১৮১.
সিলেটে বসবাস নেই নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর?
  1. সাঁওতাল
  2. তঞ্চঙ্গা
  3. খাসিয়া
  4. মণিপুরি
ব্যাখ্যা
তঞ্চঙ্গা:
- সিলেটে তঞ্চঙ্গা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস নেই।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের কতিপয় পাহাড়ি জাতির মতো তনচংগ্যাদের আবাসভূমিও গড়ে ওঠে নদী সংলগ্ন উপত্যকায়।
- পার্বত্য চটগ্রামের রাঙামাটি জেলার কাউখালি উপজেলার রইস্যাবিলি ও কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার আশেপাশের এলাকায়, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে তনচংগা জাতিগোষ্ঠীর বসবাস।
 
অন্যদিকে: 
- মণিপুরি, খাসিয়া, চাকমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, পাঙন সিলেট জেলায় বাস করে। 
 
তথ্যসূত্র - সিলেট জেলা ওয়েবসাইট ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ ওয়েবসাইট।
১৮২.
'জলকেলি' উৎসব কাদের সংস্কৃতির অংশ?
  1. চাকমা
  2. ত্রিপুরা 
  3. সাঁওতাল
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা

রাখাইন:
- রাখাইনদের প্রধান উৎসব জলকেলি।
- রাখাইনদের বসবাস পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়।
- রাখাইনদের আদিনিবাস মিয়ানমার।
- রাখাইনদের ধর্ম বৌদ্ধ।

অন্যদিকে:
- চাকমা: প্রধান উৎসবের নাম বিজু (এটি মূলত তিন দিনব্যাপী পালিত হয়— ফুল বিজু, মূল বিজু এবং নুজ্যা পিদ্যা বা গোজ্যাপোজ্যা দিন)।
- ত্রিপুরা: এদের প্রধান উৎসবের নাম বৈসু।
সাঁওতাল: এদের প্রধান উৎসবের নাম সোহরাই (এটি মূলত ফসল কাটার উৎসব)। এছাড়া তারা 'বাহা' উৎসবও বেশ ঘটা করে পালন করে।
- ওয়ানগালা হচ্ছে গারো সম্প্রদায়ের একটি নবান্ন উৎসব।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।

উল্লেখ্য যে,
- পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের এই উৎসবগুলোকে একত্রে 'বৈসাবি' (বৈসু, সাঙ্গ্রাই ও বিজু) বলা হয়।


উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি ও প্রথম আলো।

১৮৩.
বাংলাদেশে বসবাসরত মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠী- 
  1. মারমা 
  2. সাঁওতাল
  3. খাসিয়া
  4. ওঁরাও
ব্যাখ্যা

খাসিয়া:
- খাসিয়া ও গারো বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- এদের গাত্রবর্ণ হরিদ্রাভ, নাক-মুখ চ্যাপ্টা, চোয়াল উঁচু, চোখ কালো ও ছোট টানা এবং খর্বকায়।
- এরা পাঁচ শত বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসে।
- খাসিয়াদের গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জিপ্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তরপূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ ,হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার আবাস তাদের।
- ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে।
- বর্তমানে শতকরা ৮০-৯০ ভাগ খাসিয়াই খ্রিষ্টান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও কোলের কণ্ঠ।

১৮৪.
ওরাওঁ নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে কোন জেলায়?
  1. ক) লালমণিরহাট
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
• ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
• তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে। 
• নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়। এ কারণে অধিকাংশ গবেষক মনে করেন যে, ওরাওঁরা দ্রাবিড়ভাষী কুড়ুখ জাতির উত্তর পুরুষ।
• ওরাঁও জনগোষ্ঠী কুঁড়ুখ ভাষায় কথা বলে। এটি দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
• এ ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। ওরাঁও জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুঁড়ুখ ব্যতীত সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।     

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১৮৫.
'গারো উপজাতি' প্রধানত কোন জেলায় বাস করে?
  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  2. টাঙ্গাইল
  3. ময়মনসিংহ
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।
- তাছাড়াও শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলিবাজার গারো উপজাতি বাস করে।
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সাংসারেক।
- গারোদের প্রধান দেবতা তাতারা রাবুগা।
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান।
- গারোদের উৎসব ওয়ানগালা।
- গারোদের ভাষা মান্দি।
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
উৎসঃ ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

১৮৬.
সাঁওতালদের বসবাস নেই কোন অঞ্চলে -
  1. ক) চট্রগ্রাম
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) বগুড়া
  4. ঘ) রংপুর
ব্যাখ্যা
• সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
• তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
• প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।
• সাঁওতালদের ভাষা: সাঁওতালি।
• সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত। কোল ও মুন্ডারি ভাষার সঙ্গে সাঁওতালি ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে।
• সাঁওতালদের যেমন ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই। খ্রিস্টান মিশনারিদের দ্বারা তাদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারিত হচ্ছে। 
• প্রধান উৎস: সোহরাই।

তথ্যসূত্র:- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৮৭.
২০২২ সালে কততম জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়?
  1. ৫ম
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৭ম
  4. ৮ম
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৪ সালে প্রথম জনশুমারি ও গৃহগণনা করা হয়। 
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছয়টি আদম শুমারি ও গৃহগণনা শুমারি পরিচালিত হয় যার সর্বশেষটি হয় ২০২২ সালে।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মূল তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম ১৫-২১ জুন ২০২২ সময়ে সম্পন্ন করা হয়।
- আকস্মিক বন্যাজনিত কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমের সময়সীমা ২৮ জুন ২০২২ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
- শুমারিতে জিআইএস (Geographic Information System) বেইজড ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করে CAPI (Computer Assisted Personal Interviewing) পদ্ধতিতে ট্যাবলেট এর মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ করা হয়।
- এ শুমারিতে প্রথমবারের মতো একটি ওয়েবভিত্তিক Integrated Census Management System (ICMS) প্রবর্তন করা হয়েছে যা ব্যবহার করে সদর দপ্তরে স্থাপিত Network Operations Centre (NOC) এর ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে শুমারিকালীন সকল গণনা এলাকা, গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ের গণনা কার্যক্রম তদারকি সম্ভব হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১৮৮.
বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে কোন সম্প্রদায়ের মানুষ বেশি?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. গারো
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাস করে চট্টগ্রাম বিভাগে (এ জনগোষ্ঠীর ৬০.০৪%)।
- উপজাতির সংখ্যা সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (০.২৫%)।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
চাকমা - ৪,৮৩,৩৬৫।
মারমা - ২,২৪,২৯৯।
ত্রিপুরা - ১,৫৬,৬২০।
সাঁওতাল - ১,২৯,০৫৬।
ওরাওঁ - ৮৫,৮৫৮।
গারো - ৭৬,৮৫৪।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১৮৯.
নিচের কোন জেলায় 'পাংখোয়া' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. সিলেট
  2. দিনাজপুর
  3. রাঙামাটি
  4. ময়মনসিংহ
  5. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

পাংখোয়া:
- পাংখোয়া বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ।
- প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’।
- তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’।
- খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
- এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান।
- পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ।
- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠীতেই মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১৯০.
'ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা' চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে উপজেলার সংখ্যা -
  1. ৪৫৯টি
  2. ৪৯৫টি
  3. ৪৫৬টি
  4. ৪৯৬টি
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার বিভাগ:
- সিটি কর্পোরেশন রয়েছে ১২ টি।
- জেলা রয়েছে ৬৪টি।
- উপজেলা রয়েছে ৪৯৫টি।
- ইউনিয়ন পরিষদ ৪৫৯৬টি।
- গ্রাম ৯০০৪৯টি।

উৎস: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা।
১৯১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২ অনুসারে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার - 
  1. ১.০২%
  2. ১.১২%
  3. ১.২৪%
  4. ১.৩৩%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা:   
- ২০১৩ সালে প্রণীত পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী, ইতিপূর্বে পরিচিত ‘আদমশুমারি'কে 'জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সে অনুসারে 'আদমশুমারি ও গৃহগণনার' পরিবর্তে ২০২২ সালের জুন মাসে '৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা' অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়।
- ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় ও পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

⇒ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।    
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%। 
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%। 
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%। 
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%। 

উল্লেখ্য,
• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি:
- বিভাগ: ঢাকা বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ২১৫৬ জন।
- জেলা: ঢাকা জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০,০৬৭ জন।

• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম:
- বিভাগ: বরিশাল বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ৬৮৮ জন।
- জেলা: রাঙ্গামাটি জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০৬ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।

১৯২.
কোন নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় সাংগ্রাই উৎসব পালন করে?
  1. ক) গারো
  2. খ) ত্রিপুরা
  3. গ) সাঁওতাল
  4. ঘ) রাখাইন
ব্যাখ্যা
রাখাইনদের প্রধান উৎসব হলো সাংগ্রাই। এটা এদের বর্ষবরণ উৎসব যা চৈত্রসংক্রান্তিতে পালন করা হয়। মারমাদের বর্ষবরণ উৎসবও সাংগ্রাই নামে পরিচিত।
গারোদের প্রধান উৎসব হলো ওয়ানগালা। ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসু এবং সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই নামে পরিচিত।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
১৯৩.
‘বাংলাদেশের দরিদ্র মানচিত্র ২০২২’ অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা কোনটি?
  1. রাজৈর, মাদারীপুর
  2. ডাসার, মাদারীপুর
  3. কাউনিয়া, রংপুর
  4. হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২’ অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা হলো মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলা যেখানে দারিদ্র্যের হার ৬৩.২%।

বাংলাদেশের দরিদ্র মানচিত্র ২০২২:

- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানুয়ারি, ২০২৫-এ 'বাংলাদেশের দারিদ্র্য ম্যাপ ২০২২' প্রকাশ করেছে।
- রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ১৯.২ শতাংশ।
- শহরে দারিদ্র্যের হার ১৬.৫ শতাংশ এবং গ্রামে দারিদ্র্যের হার ২০.৩ শতাংশ।

⇒ দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি বরিশাল বিভাগে ২৬.৬ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫.২ শতাংশ।
- দেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলা মাদারীপুর এবং সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা মাদারীপুরের ডাসার।
- অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে ধনী থানা ঢাকার পল্টন; জেলা হিসেবে সবচেয়ে ধনী নোয়াখালী।

উল্লেখ্য,
⇒ দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ১০টি উপজেলা :
১) ডাসার, মাদারীপুর: দারিদ্র্য হার ৬৩.২%
২) হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ: দারিদ্র্য হার ৫৯.৬%
৩) কালকিনি, মাদারীপুর: দারিদ্র্য হার ৫৬.৩% -
৪) রাজৈর, মাদারীপুর: দারিদ্র্য হার ৫৬%
৫) শিবচর, মাদারীপুর: দারিদ্র্য হার ৫৫.১%
৬) নলছিটি, ঝালকাঠি: দারিদ্র্য হার ৫৩.৮% -
৭) গৌরীপুর, ময়মনসিংহ: দারিদ্র্য হার ৫২.৯%
৮) মাদারীপুর সদর: দারিদ্র্য হার ৫০%
৯) বেলাব, নরসিংদী: দারিদ্র্য হার ৪৯.৫%
১০) বোদা, পঞ্চগড়: দারিদ্র্য হার ৪৮.২%।

উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
ii) বণিক বার্তা।

১৯৪.
'মারমারা' পূর্বে কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. মগ
  2. মান্দি
  3. বোডো
  4. ডাইংনেট
ব্যাখ্যা

মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তারা মূলত মায়ানমারের আরাকানিদের বংশধর।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- বহু পূর্বে মারমারা ‘‘মগ’’ নামেই পরিচিত ছিল।
- বর্তমানে তারা নিজেদের মারমা বলেই দাবী করে।
- মারমা শব্দটি মারমাজা বা ম্রাইমাচা নামক উপমহাদেশীয় প্রাচীন ব্রাহ্মী হস্তাক্ষর লিপি থেকে উদ্ভুত।
- স্বাধীনতা উত্তরা বাংলাদেশে সরকারিভাবে মারমা জনগোষ্টী স্বতন্ত্র উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান হলেন রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।
- মারমাদের গ্রাম রোয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৯৫.
'ফেবো' কোন সম্প্রদায়ের উপন্যাস?
  1. সাঁওতাল
  2. ত্রিপুরা
  3. চাকমা
  4. গারো
ব্যাখ্যা
সম্পূর্ণ চাঙমা বর্ণমালা ও ভাষায় দেবাশীষ চাকমার উপন্যাস ফেবো প্রকাশ হয় ২০০৪ সালে।

বাংলাদেশের উপজাতি:

- বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজাতি- চাকমা
- চাকমারা বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার অঞ্চলে বসবাস করে।
- তাদের পারিবারিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক । তারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- তাদের প্রধান ভাষা চাকমা বা চাঙমা। তারা গ্রামকে আদাম এবং গ্রামের প্রধানকে বলে কার্বরী।
- চাকমা সমাজের প্রধান হলো চাকমা রাজা।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা- ৫০ টি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট উপজাতি বসবাস করে- ১১ টি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট। 
১৯৬.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাই’ নামে পরিচিত?
  1. চাকমা
  2. ত্রিপুরা
  3. মারমা
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা

• মারমা জনগোষ্ঠী:
- মারমা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- তারা মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে এসে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছে।
- মূলত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি এলাকায় তাদের বসবাস।
- মারমারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- মারমাদের প্রধান বর্ষবরণ উৎসব হলো সাংগ্রাই।
- এটি প্রতি বছর এপ্রিলের ১৩ থেকে ১৫ তারিখে পালিত হয়।
- উৎসবটি বার্মিজ বর্ষপঞ্জি অনুসারে অনুষ্ঠিত হয়।
- তারা এই সময় জলকেলি, শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে আনন্দ উদযাপন করে।
- মারমারা বর্ষবরণ উৎসবে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে পুরনো বছরের সব দুঃখ, কষ্ট ও নেতিবাচক স্মৃতি ধুয়ে মুছে ফেলে;
- এবং খুশি ও আশা নিয়ে নতুন বছরকে স্বাগতম জানায়। 

অন্যদিকে,
• চাকমা জনগোষ্ঠীর প্রধান ও সবচেয়ে বড় উৎসব হলো বিজু।
- এটি তাদের বর্ষবরণ উৎসব।
• ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব হলো বৈসু বা বৈসুক।
- এই উৎসব নববর্ষ উপলক্ষে পালন করা হয়।
• খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব হলো খাসি সেং কুটস্নেম।
- এটি তাদের বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উৎসব।
- এই উৎসব সাধারণত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

১৯৭.
জলকেলি কাদের উৎসব?
  1. রাখাইন
  2. খুমি
  3. তঞ্চঙ্গ্যা
  4. ম্রো
ব্যাখ্যা
রাখাইন:
- রাখাইন বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে বেশির ভাগ রাখাইনের বসবাস কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায়।
- এ ছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও কিছু রাখাইন বাস করে।

⇒ রাখাইনরা মূলত কৃষিনির্ভর।
- রাখাইনদের ভাষা আঞ্চলিকভাবে ‘র‌্যামরা’ ও ‘মারৌও’ নামে পরিচিত।

⇒রাখাইনদের প্রধান উৎসব জলকেলি (লেই খেখু)।
- রাখাইনদের আরও সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবগুলো হচ্ছে: প্রবারণা পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা, নববর্ষ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯৮.
কোন উপজাতির সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক নয়?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. হাজং
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা
পিতৃতান্ত্রিক উপজাতি:
- চাকমা,
- সাঁওতাল,
- হাজং,
- মারমা।

মাতৃতান্ত্রিক উপজাতি:

- গারো,
- খাসিয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯৯.
সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে জনসংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান -
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) পঞ্চম
  3. গ) দ্বিতীয়
  4. ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা
⇨ জনসংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান - অষ্টম।
⇨ সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে জনসংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান - ৩য়
⇨ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান - ৫ম।
উল্লেখ্য,
⇨ জনসংখ্যা - ১৬ কোটি ৭৯ লাখ। 
⇨ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার - ০.৯%।

তথ্যসূত্র:- বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন ২০২২।
২০০.
বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) নেত্রকোনা
  3. গ) মৌলভীবাজার
  4. ঘ) সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি হলো একটি সরকারি উপজাতি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান যা নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরিতে অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বিরিশিরি ব্যতীত কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও রাজশাহী জেলায় সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়)