বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন১,৫৬৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা / ১৬ · ১০০ / ১,৫৬৭

.
'রাজবংশী' ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস নেই কোন জেলায়?
  1. বান্দরবান
  2. রংপুর
  3. দিনাজপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
রাজবংশী:

- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী,  জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় উপজাতি -
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. সাঁওতাল
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
 -জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- ২০২২ সালে জনশুমারিতে উপজাতির সংখ্যা উল্লেখ করা হয় - ৫০ টি। উপজাতির মানুষের সংখ্যা - ১৬,৫০,১৫৯ জন।
- নারী উপজাতির সংখ্যা - ৮,২৫,৪০৮ জন। পুরুষ উপজাতির সংখ্যা - ৮,২৪,৭৫১ জন।

এছাড়াও,
- জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় উপজাতি - চাকমা।
- চাকমা উপজাতির সংখ্যা - ৪,৮৩,২৯৯ জন।
- চাকমা বসবাস করে - রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার।
- জনসংখ্যা দিক দিয়ে দ্বিতীয়- মারমা।
- মারমা উপজাতি জনসংখ্যা - ২, ২৪, ২৬২ জন।
- জনসংখ্যা দিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে - ত্রিপুরা।
- ত্রিপুরা উপজাতি সংখ্যা - ১,৫৬,৫৭৮ জন।
- চতুর্থ স্থানে - সাঁওতাল।
- সাঁওতাল উপজাতি সংখ্যা - ১২৯,৪৯ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ রিপোর্ট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
.
'বিজু' কোন নৃগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব?
  1. লুসাই
  2. ত্রিপুরা
  3. মারমা
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে।
- চাকমারা মূলত ছিল মধ্য মায়ানমার ও আরাকান এলাকার অধিবাসী।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বিজু নামে পরিচিত।
- চাকমা ভাষার নিজস্ব লিপি থাকলেও এ লিপি আজকাল আর ব্যবহার করা হয় না।
- চাকমা ভাষা এখন সাধারণত বাংলা লিপিতেই লেখা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
.
২০২২ সালের জনশুমারিতে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে?
  1. ডি-জুরে
  2. হাইব্রিড
  3. মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো
  4. মোডিফাইড ডি-জুরে
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে -  CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে-  মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

.
৬ষ্ঠ আদমশুমারি অনুযায়ী কোন জেলায় স্বাক্ষরতার হার বেশি?
  1. পিরোজপুর
  2. চুয়াডাঙ্গা
  3. রাজশাহী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

- ৬ষ্ঠ আদমশুমারি বা 'জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২' অনুযায়ী, পিরোজপুর জেলায় স্বাক্ষরতার হার বেশি। 

• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

উল্লেখ্য,
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।

⇒ সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি পিরোজপুর জেলায়।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম জামালপুর জেলায়।

তথ্যসূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।

.
নিচের কোন জেলায় 'পাংখোয়া' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. হবিগঞ্জ
  2. সিলেট
  3. রাঙামাটি
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
পাংখোয়া:
- পাংখোয়া বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ।
- প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’।
- তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’।
- খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
- এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান।
- পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ।
- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠীতেই মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
.
ন্যাপ (NAPE) কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকায়
  2. খ) ময়মনসিংহে
  3. গ) রাজশাহীতে
  4. ঘ) কুমিল্লায়
ব্যাখ্যা
• ন্যাপ (NAPE) ময়মনসিংহে অবস্থিত। 

• জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) সর্বপ্রথম ১৯৬৯ সনে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) হিসেবে ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এখানে ২ বৎসর মেয়াদি ইন্টারমিডিয়েট ইন এডুকেশন (আই এড) কোর্স পরিচালিত হয়। 
- ময়মনসিংহ ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, রংপুর ও যশোরে অনুরূপ আরো পাঁচটি জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি) স্থাপিত হয়।
- মহান স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ (জেটিসি)গুলো রূপান্তরিত হয়ে কলেজ অব এডুকেশন নামে যাত্রা  শুরু করে। 
- প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে বার্ষিক প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন।
- প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার অভীক্ষাপদ প্রণয়ন ও যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে।
- প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের জন্য গবেষণা পরিচালনা করে।

সূত্র:  জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। 
.
গারোরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে -
  1. ক) সিলেটে
  2. খ) জামালপুরে
  3. গ) ময়মনসিংহে
  4. ঘ) বান্দরবানে
ব্যাখ্যা
• গারো:
- বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- গারোরা টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় বাস করে। 
- তবে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় এরা অধিক সংখ্যায় বসবাস করে।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ।

- এদের সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষ।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত।

- একই উপগোত্রের মধ্যে বিবাহ গারো সমাজে নিষিদ্ধ।
- গারোরা নিজেদের আচিক্ মান্দে (পাহাড়ের মানুষ) বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- গারোদের প্রধান খাদ্য ভাত।
- বর্তমানে গারোদের শতকরা নিরানব্বইজনই খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী।
- তাদের প্রধান উৎসব- ওয়ানগালা।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
.
রাখাইন জনগোষ্ঠী প্রধানত বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. কক্সবাজার
  2. রাজশাহী
  3. রংপুর
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
রাখাইন: 
- রাখাইন হলো বাংলাদেশে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, এরা মূলত আরাকান (বর্তমান রাখাইন রাজ্য, মিয়ানমার) থেকে অভিবাসিত হয়ে এদেশে বসতি গড়ে তোলে। তারা প্রথমে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে এসে বসবাস শুরু করে।
- বর্তমানে এদের প্রধান আবাসভূমি কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় হলেও রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখাইন বসতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- রাখাইনরা মূলত কৃষিনির্ভর। কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। রাখাইন ভাষার আঞ্চলিক দুটি প্রচলিত নাম হলো ‘র‌্যামরা’ ও ‘মারৌও’।
- রাখাইনদের বর্ষবরণ উৎসবকে বলা হয় ‘সাংগ্রাং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব। 

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ ও বাংলাপিডিয়া।
১০.
বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা-
  1. ক) ৪৭টি
  2. খ) ৪৮টি
  3. গ) ৪৯টি
  4. ঘ) ৫০টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা- ৫০ টি। তবে আদিবাসী ফোরামের মতে ৪৫টি এবং আদমশুমারি-২০১১ অনুসারে ২৭টি। বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ এর ধারা ১৯ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ১৯ মার্চ ২০১৯ সালে উক্ত আইনের তফসিলে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্থলে ৫০ টি গেজেট আকারে প্রকাশ করে।
১১.
মারমা উপজাতি কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. ককবরক
  2. আচিক খুসিক
  3. পালি
  4. মন খেমে
ব্যাখ্যা
উপজাতি ও তাদের ভাষা:
- ককবরক ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ভাষা।
- আচিক খুসিক : গারোদের ভাষা।
- সাদরি ও কুড়ুঁখ : ওরাঁও ও মুন্ডা নৃগোষ্ঠীর ব্যবহৃত ভাষা।
- মন খেমে : খাসিয়াদের ভাষা।
- পালি: মারমা বা মগদের ভাষা।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেনি।
১২.
কোন নৃগোষ্ঠীর ভাষার নাম ককবরক?
  1. বাঙ্গালী
  2. চাকমা
  3. মারমা
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
ত্রিপুরাদের বাসস্থান ও ভাষা:
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, ফরিদপুর, শ্রীমঙ্গল, মৌলভিবাজার, কুমিল্লা, কক্সবাজার প্রভৃতি জেলাসমূহে ত্রিপুরারা বসবাস করে।
- তবে ত্রিপুরাদের প্রায় ৮০ শতাংশের বসবাস পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ করে রামগড় এবং খাগড়াছড়িতে।
- ত্রিপুরাদের ভাষার নাম ককবরক `kok-borok'।
- এ ভাষাটি 'বোডো' দলের ('bodo group') অন্তর্ভূক্ত।
- সিনো-টিবেটান (Sino-Tibetan) পরিবার ভুক্ত টিবেটো-বার্মা (Tibeto-Burma) ভাষার আসাম শাখা থেকে ককবরক ভাষাটির উৎপত্তি।
- ককবরক ভাষার নিজস্ব অক্ষর-লিপি রয়েছে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
বাংলাদেশে সর্বশেষ আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কবে? (ডিসেম্বর, ২০২৫)
  1. ২০২০ সালে
  2. ২০২১ সালে
  3. ২০২২ সালে
  4. ২০২৩ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশে সর্বশেষ আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে।

আদমশুমারি:
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১৪.
'বিজু' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব? 
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. খাসিয়া
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৃহত্তম উপজাতি হলো চাকমা।
- তারা প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় বসবাস করে।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী চাকমা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে সবচেয়ে প্রভাবশালী উপজাতি।
- তাদের গ্রামকে ‘আদাম’ বা ‘পাড়া’ বলা হয়।
- কয়েকটি পরিবার নিয়ে চাকমাদের গ্রাম গঠিত হয়।
- চাকমাগোষ্ঠীর গ্রামের প্রধানকে ‘কার্বারি’ বলা হয়।
- চাকমারা থেরবাদ বৌদ্ধধর্ম অনুসরণ করে।
- তাদের প্রধান উৎসব হলো বিজু, যা পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে তিন দিন ধরে পালিত হয়।
--------------------- 
অন্যদিকে,
• গারো সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব হলো ওয়ানগালা বা নবান্ন উৎসব, যা নতুন ফসল তোলার পর উদযাপিত হয়।
- এই উৎসবে তারা সূর্য দেবতা মিসি সালজংকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে।

• খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব হলো সেং কুটস্নেম। 
- এটি মূলত বর্ষবিদায় ও নতুন বছরের সূচনা উদযাপন করতে প্রতি বছর ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।

• ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক ও বর্ষবরণ উৎসব হলো বৈসু। 
- চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন—মোট তিন দিনব্যাপী এই উৎসব উদযাপিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

১৫.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন জেলায় সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম?
  1. পিরোজপুর
  2. ফরিদপুর
  3. রংপুর
  4. জামালপুর
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে - CAPI.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে- মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১৬.
দেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব (বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটাসটিক্স ২০২৩) -
  1. ১,১১৯ জন
  2. ১,১২১ জন
  3. ১,১৭১ জন
  4. ১,১৮৩ জন
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩:

- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট, ২০২৪।
- সংস্থা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

উল্লেখ্য,
- মোট জনসংখ্যা: ১৭১ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.৩৩%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কি.মি.-এ: ১,১৭১ জন।

এছাড়াও,
- প্রতি হাজার জনসংখ্যায় স্থূল জন্মহার ১৯.৪।
- প্রতি হাজার জনসংখ্যায় স্থূল মৃত্যুহার ৬.১।
- পুরুষদের প্রথম বিবাহের গড় বয়স ২৪.২ বছর এবং নারীদের ১৮.৪ বছর।
- প্রতি হাজার জনসংখ্যায় অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পল্লিতে আগমনের হার ২০.৪ এবং শহরে আগমনের হার ৪৩.৪। 

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১৭.
বম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় প্রধানত কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. হিন্দু 
  2. বৌদ্ধ
  3. মুসলিম
  4. খ্রিস্টান
ব্যাখ্যা

বম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী:
- বম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাংলাদেশের একটি অতি প্রাচীন নৃগোষ্ঠী।
- বমরা কুকি-চিন ভাষাভাষী মঙ্গোলীয় গােষ্ঠীভুক্ত।
- বম জনগােষ্ঠী সবচেয়ে বেশি বাস করে বান্দরবান জেলায়। এ জেলায় রুমা, থানচি, রােয়াংছড়ি ও বান্দরবান সদর থানায় তারা বসবাস করেন। এছাড়া রাঙামাটি জেলায় বিলাইছড়ি থানায়ও এদের আবাস আছে।
- বম নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এ ভাষা তিব্বত-বর্মান ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
- বমরা শুনথলা (Sunthla) এবং পাংহয় (Panghawi) এই দুইটি গােত্রে বিভক্ত।
- বম সমাজ পুরুষতান্ত্রিক।
- বমরা মাটিতে খুঁটি পুঁতে উঁচু পাহাড়ের উপর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাতে বাড়িঘর নির্মাণ করে। তাদের ঘরকে মাচাং বলা হয়।
- বমরা তাদের জীবন পরিচালনা করে বম কাস্টমারি ল’ গ্রন্থের নির্দেশিকা অনুযায়ী।
- বমদের বাঁশনৃত্য তাদের জীবনেরই অপরিহার্য অংশ। বমদের চেরাউ নৃত্য ও সঙ্গীত আসলে কোন আনন্দের বা উৎসবের নৃত্য বা গান নয়। এ নৃত্য ও গান পরিবেশিত হয় বম পরিবারের দুঃখ ও শোকের দিনে। 
- বমদের প্রধান পেশা জুমচাষ।
- এরা প্রধানত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৮.
বাংলাদেশে সর্বশেষ কত সালে জনশুমারি হয়?
  1. ২০২০
  2. ২০২১
  3. ২০২২
  4. ২০২৩
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জনশুমারি:
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম জনশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- সর্বশেষ জনশুমারি হয় ২০২২ সালে যেটা বাংলাদেশ এর ৬ষ্ঠ জনশুমারি।
- ষষ্ঠ জনশুমারির নাম 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।

উল্লেখ্য, 
- ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘পরিসংখ্যান আইন- ২০১৩ অনুযায়ী আদমশুমারি ও গৃহগণনা’ র নাম পরিবর্তন করে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ করা হয়।
- বাংলাদেশে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ অনুষ্ঠিত হয় → ১০ বছর পর।
- বাংলাদেশের ৬টি জনশুমারি যথা: 
১ম → ১৯৭৪
২য় → ১৯৮১
৩য় → ১৯৯১
৪র্থ → ২০০১
৫ম → ২০১১
৬ষ্ঠ → ২০২২

তথ্যসূত্র: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৯.
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কত? [বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪]
  1. ৭১.২ বছর
  2. ৭১.৪ বছর
  3. ৭২.৩ বছর
  4. ৭৩.৩ বছর
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৭১ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.৩৩%।
- গড় আয়ু/প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল: ৭২.৩ বছর (পুরুষ: ৭০.৮; নারী: ৭৩.৮)।
- মোট রপ্তানি আয়: ৩৮,৪৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৪৪,১০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর+): ৭৭.৯%।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত (২০২৩): ৯৬.৩: ১০০।
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭%।
- চরম দারিদ্র্যের হার: ৫.৬%।

এছাড়াও,
- বিবিএস এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান 'বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩' শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুষ্কাল ৭২.৩ বছর।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।

২০.
বর্তমানে বাংলাদেশে কয়টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে? [ জুন, ২০২৫]
  1. ৪৮ টি
  2. ৫০ টি
  3. ৪৫ টি
  4. ৫৫ টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২:
- সময়কাল: ১৫-২১ জুন, ২০২২ সাল।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে।
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- চাকমা জনগোষ্ঠী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- দ্বিতীয় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
২১.
লিখিত বর্ণমালা নেই কোন উপজাতির?
  1. ক) সাঁওতাল
  2. খ) মনিপুরী
  3. গ) রাখাইন
  4. ঘ) খাসিয়া
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়। প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়। তবে ১৮৮১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় যে পাবনা, যশোর, খুলনা, এমনকি চট্টগ্রাম জেলায়ও অল্প সংখ্যায় সাঁওতালদের বসতি ছিল।
সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই। সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপিত হয়।
সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত। কোল ও মুন্ডারি ভাষার সঙ্গে সাঁওতালি ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে। সাঁওতালদের সংস্কৃতিচর্চায় লিখিত সাহিত্যের বিকাশ না ঘটলেও লোকগীতি ও লোককাহিনীর সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে।
সাঁওতালদের যেমন ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।
রেফারেন্সঃ বাংলাপিডিয়া।

২২.
বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র- ২০২২ অনুযায়ী, সবচেয়ে ধনী জেলা কোনটি?
  1. মাদারীপুর
  2. ঢাকা
  3. নোয়াখালী
  4. চট্রগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র- ২০২২:
- বাংলাদেশের দারিদ্রো মানচিত্র - ২০২২, প্রকাশ করে  ৩০ জানুয়ারি ২০২৫।
- বিবিএস ১৯৭৩ সাল থেকে খানার আয় ও ব্যয় জরিপ থেকে দারিদ্র্য পরিমাপ করে আসছে।
- দারিদ্রের হার: ১৯.২%।
- গ্রামে: ২০.৩%।
- শহরে: ১৬.৫%।
- বিভাগ অনুযায়ী দারিদ্র হার বেশি: বরিশালে, (২৬.৬%)।
- বিভাগ অনুযায়ী দারিদ্র হার কম: চট্টগ্রাম, ( ১৫.২%)।
- জেলা অনুযায়ী দারিদ্র হার কম: নোয়াখালী, ( ৬.১%)।
- জেলা অনুযায়ী দারিদ্র হার বেশি: মাদারীপুর, ( ৫৪.৪%)।

উল্লেখ্য,
- সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা- ডাসার, মাদারীপুর৷
- দারিদ্র্যের হার- ৬৩.২%

উৎস: ¡) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
             ¡¡) বণিক বার্তা।
২৩.
পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি ক্ষুদ্র নৃজাতি গোষ্ঠী-
  1. মণিপুরী
  2. কোচ
  3. সাঁওতল
  4. পাংখো
ব্যাখ্যা
•পাংখো:
- চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের একটি উপজাতি, 
-  পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ বলে দাবি করে থাকে।
- তবে একাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মতো প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’, যেমন লুসেইদের ‘পুথিয়ান’। 

অন্যদিকে,
• মণিপুরী:
- মণিপুরী (The Manipuris) বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- প্রাচীনকালের সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এখনকার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর এদের আদি বাসস্থান।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে।
- সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।

• সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।

• কোচ:
- কোচ বাংলাদেশে বসবাসকারী অন্যতম প্রাচীন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- কোচরা মাতৃভূমি কোচবিহার পরিত্যাগ করে ময়মনসিংহ জেলায় তাদের আবাস গড়ে তোলে।
- বর্তমানে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবর্দী উপজেলায় তাদের বসবাস।
- বর্তমানে তাদের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোন বিভাগে সাক্ষরতার হার বেশি?
  1. ঢাকা বিভাগে
  2. চট্টগ্রাম বিভাগে
  3. সিলেট বিভাগে
  4. রাজশাহী বিভাগে
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জনশুমারি ও গৃহগণনা:   

- ২০১৩ সালে প্রণীত পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী, ইতিপূর্বে পরিচিত ‘আদমশুমারি'কে 'জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সে অনুসারে 'আদমশুমারি ও গৃহগণনার' পরিবর্তে ২০২২ সালের জুন মাসে '৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা' অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়।
- ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় ও পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%। 
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%। 
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%। 
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে।
- সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
২৫.
কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. মারমা
  4. পাঙন
ব্যাখ্যা

পাঙন উপজাতি:
- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায়।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
-  বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি পাঙন।
- ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।
- পাঙন- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণি, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৬.
কোনটি বাংলাদেশের এক নম্বর জাতীয় সামাজিক সমস্যা?
  1. নিরক্ষরতা সমস্যা
  2. বেকারত্ব সমস্যা
  3. জনসংখ্যা সমস্যা
  4. মাদকাসক্তির সমস্যা
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশের জনসংখ্যার সমস্যা:
- বাংলাদেশের এক নম্বর জাতীয় সামাজিক সমস্যা হলো 'জনসংখ্যা সমস্যা।'
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ।
- জনসংখ্যার অত্যধিক ঘনত্বের কারণে সেবা ও সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়, যা অন্যান্য সমস্যারও সৃষ্টি করে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, এবং কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- এ কারণে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।
- অধিক জনসংখ্যার কারণে শিক্ষার মান এবং স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা হ্রাস পায়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করলে নিরক্ষরতা এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলি প্রকট হয়ে ওঠে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বনভূমি উজাড়, জলদূষণ, এবং অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যা বৃদ্ধি পায়। এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধীরগতি হয়। এটি সামগ্রিকভাবে দেশের জিডিপি, মাথাপিছু আয়, এবং জীবনযাত্রার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী।
২৭.
২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে বসবাসরত নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা -
  1. ক) ৫৭ টি
  2. খ) ২৭টি
  3. গ) ৫০টি
  4. ঘ) ৪৫টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রধান নরগোষ্ঠী বাঙালি। তবে আবহমান কাল থেকে এখানে অনেকগুলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করছে।
বাংলাদেশে এখন প্রায় ৫৭ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে।
তবে,
- ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ২৭টি।
- এ শুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ১.১৩ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- দেশে মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা হচ্ছে ১৫,৪৮,১৪১ জন।
- পরিসংখ্যান অনুযায়ী চাকমা নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সর্বাধিক (৪,৪৪,৭৪৮জন)।
- দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মারমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। তাদের সংখ্যা ২,০২,৯৭৪ জন।
 
উল্লেখ্য,
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০ এর ধারা ১৯ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ১৯ মার্চ ২০১৯ সালে উক্ত আইনের তফসিলে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্থলে ৫০ টি গেজেট আকারে প্রকাশ করে।
- আদিবাসী ফোরামের মতে ৪৫টি এবং
- আদমশুমারি-২০১১ অনুসারে ২৭টি।

সূত্র: আদম শুমারি-২০১১ ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র (উন্মুক্ত); সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় প্রকাশিত গেজেট,২০১৯।
২৮.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমী কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. রাঙ্গামাটি
  3. বান্দরবান
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি: 
- এটি অবস্থিত বিরিশিরি, নেত্রকোণা। 
- প্রথম প্রতিষ্ঠিত; ১৯৭৭ সালে। 

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ১০টি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যথা:
১. ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি নেত্রকোনা;
২. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙ্গামাটি;
৩. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, বান্দরবান;
৪. কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কক্সবাজার;
৫. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, খাগড়াছড়ি;
৬. রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, রাজশাহী;
৭. মনিপুরী ললিতকলা একাডেমি, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার;
৮. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, হালুয়াঘাট;
৯. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, দিনাজপুর;
১০. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, নওগাঁ। [ব্যাখ্যা আপডেট - জানুয়ারি, ২০২৬]

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

২৯.
কত সালের আইন অনুযায়ী “আদমশুমারি ও গৃহগণনা” এর নাম পরিবর্তন করে “জনশুমারি ও গৃহগণনা” করা হয়-
  1. ২০০৯
  2. ২০১২
  3. ২০১৮
  4. ২০১৩
ব্যাখ্যা

২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ‘আদমশুমারি ও গৃহগণনা’র নাম পরিবর্তন করে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ করা হয়। 
- নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী জনশুমারি বা মানুষ ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হবে ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর।
- সর্বশেষ ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে আদমশুমারি পরিচালিত হয়। 
- ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম আদমশুমারি ও গৃহগণনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

উৎস: Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার।

৩০.
হাজং উপজাতি কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. বৈষ্ণব
  2. ইসলাম
  3. সনাতন
  4. বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
উপজাতির ধর্ম:
- বাংলাদেশে লুসাই, খাসিয়া ও মাহালী, গারো উপজাতির ধর্ম খ্রিস্টান।
- মণিপুরীদের ধর্ম বৈষ্ণব।
- ত্রিপুরা, হাজংদের ধর্ম সনাতন।
- রাখাইন, চাকমা, মারমা, চাক, খুমি, খিয়াং ইত্যাদি উপজাতির ধর্ম বৌদ্ধ।
- পাঙন উপজাতির ধর্ম ইসলাম।

উৎস: বান্দরবান জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া।
৩১.
মৃত আত্মাদের স্মরণে 'মীমতূত' উৎসব পালন করে কোন ক্ষুদ নৃগোষ্ঠী?
  1. গারো
  2. লুসাই
  3. মারমা
  4. হাজং
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩২.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ অনুযায়ী, দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার -
  1. ১৭.১%
  2. ১৮.৭%
  3. ১৯.২%
  4. ২০.৯%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

৩৩.
১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত ছিলো?
  1. ক) ৫.৫২ কোটি
  2. খ) ৭.৬৪ কোটি
  3. গ) ৮.১০ কোটি
  4. ঘ) ৮.১৫ কোটি
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। এ আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিলো ৭ কোটি ৬৪ লক্ষ। দেশ স্বাধীনের আগে ১৯৬১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ছিলো ৫ কোটি ৫২ লক্ষ। সর্বশেষ ২০১১ সালে ৫ম আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৯৭ লক্ষ। ২০২১ সালে পরবর্তী ৬ষ্ঠ আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হবে। (সূত্রঃ জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট)
৩৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
  1. ১.১২%
  2. ১.২১%
  3. ১.৩২%
  4. ১.৩৭%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৩৫.
বাংলাদেশে সর্বশেষ কততম জনশুমারী অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ৪র্থ
  2. খ) ৫ম
  3. গ) ৬ষ্ঠ
  4. ঘ) ৭ম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সর্বশেষ ষষ্ঠ জনশুমারী অনুষ্ঠিত হয়

• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ 
- জানশুমারি পরিচালনা করে - বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS).
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় - ১০ বছর পরপর।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২।
- তবে বন্যা পরিস্থির কারণে কিছু কিছু এলাকায় ২৭ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
- জনসংখ্যা - ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন। 

- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার – ১.২২%
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে – ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ : ১০০
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৬৬%।
- খানার সংখ্যা - ৪,১০,১০,০৫১ জন।
- খানা প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা – ৪.০ জন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। 
৩৬.
নিচের কোন জেলায় কন্দ নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাজশাহী
  3. দিনাজপুর
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

কন্দ:
- কন্দ বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কন্দরা চা ও রেল শ্রমিক হিসাবে বাংলাদেশে আসে এবং রেললাইন নির্মাণের কাজে যোগদান করে। রেললাইন নির্মাণ শেষে এদের একাংশ চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে এদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যায়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া চা বাগানে কন্দদের দেখা যায়।
- অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে। আবার কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- তাদের সঙ্গে মধ্যভারতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যেমন ভীল, কোল, মুন্ডা প্রভৃতির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাঁচটি দলে বিভক্ত। এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দ সমাজ পুরুষ প্রধান। পরিবারের পুত্রসন্তানেরাই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- কন্দরা হিন্দুদের মতই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় এসব দেবদেবীর নামকরণ করা হয়েছে যেমন ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ প্রভৃতি। এগুলো কন্দদের পারিবারিক দেবতা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩৭.
'চেরাউ নৃত্য' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য?
  1. পাংখোয়া
  2. লুসাই
  3. হাজং
  4. বম
ব্যাখ্যা
বম জনগোষ্ঠী:
- বাংলাদেশের বান্দরবানে বেশিরভাগ বম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- বমদের গ্রামগুলির চারপাশে শক্ত গাছের খুঁটি পুঁতে বেষ্টনী তৈরি করা হতো।
- বমরা মাটিতে খুঁটি পুঁতে উঁচু পাহাড়ের উপর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাতে বাড়িঘর নির্মাণ করে। তাদের ঘরকে মাচাং বলা হয়। মাচাং বাঁশ বা কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়।
- সামাজিক আচার-আচরণ, বিচার সালিশ এবং বিবাদ মীমাংসার জন্য এদের নিজস্ব সামাজিক অবকাঠামো আছে।
- এই কাঠামো সামগ্রিকভাবে সামাজিক আচার-ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
- বমরা তাদের জীবন পরিচালনা করে বম কাস্টমারি ল’ গ্রন্থের নির্দেশিকা অনুযায়ী।
- বমদের বাঁশনৃত্য তাদের জীবনেরই অপরিহার্য অংশ। এটি পরিবেশ থেকে নেওয়া নৃত্যানুষ্ঠান।
- 'চেরাউ নৃত্য' বম জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য।
- বমদের চেরাউ নৃত্য ও সঙ্গীত আসলে কোন আনন্দের বা উৎসবের নৃত্য বা গান নয়।
- এ নৃত্য ও গান পরিবেশিত হয় বম পরিবারের দুঃখ ও শোকের দিনে। বিশেষ করে পরিবারের কারও অকাল বা অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে এই গান করা হয়।
- শোকের সময় মানুষকে সান্ত্বনা ও সাহস দেওয়ার এটাই বমদের রীতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩৮.
'সাড সুক মেনসিম' কোন নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী উৎসব?
  1. ক) ওরাঁও
  2. খ) কোচ
  3. গ) খাসিয়া
  4. ঘ) মারমা
ব্যাখ্যা
সাড সুক মেনসিম খাসিয়া জনগোষ্ঠীর ঐহিত্যবাহী উৎসব।
- সাড সুক মেনসিম অর্থ হৃদয়ের আনন্দ নৃত্য
- এটি মূলত নাচ উৎসব। সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্যে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে সাড সুক মেনসিম উৎসব পালন করা হয়।

(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)
৩৯.
দেশের মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত? [মে, ২০২৫]
  1. প্রায় ১ শতাংশ
  2. প্রায় ২ শতাংশ
  3. প্রায় ৫ শতাংশ
  4. প্রায় ৮ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী:
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত। 
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে।
- এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০০ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে।
- হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৩ জন।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ২য় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৪০.
ইউনিয়নের সালিশি আদালত গঠিত হয় -
  1. ক) ৪ জন সদস্য নিয়ে
  2. খ) ৬ সদস্য নিয়ে
  3. গ) ৩ জন সদস্য নিয়ে
  4. ঘ) ৫ জন সদস্য নিয়ে
ব্যাখ্যা

৫ (১) একজন চেয়ারম্যান এবং উভয়পক্ষ কর্তৃক মনোনীত দুইজন করিয়া মোট চারজন সদস্য লইয়া গ্রাম আদালত গঠিত হইবেঃতবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক পক্ষ কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্যের মধ্যে একজন সদস্যকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হইতে হইবে
- [:তবে আরো শর্ত থাকে যে, তফসিলের প্রথম অংশে বর্ণিত ফৌজদারী মামলার সহিত নাবালক এবং তফসিলের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলার সহিত কোন নারীর স্বার্থ জড়িত থাকিলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষ সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে একজন নারীকে সদস্য হিসাবে মনোনয়ন প্রদান করিবেন।]

উৎস: গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ (http://bdlaws.minlaw.gov.bd/)

৪১.
কোন উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ধর্ম ইসলাম
  1. রাখাইন
  2. মারমা
  3. পাঙ্গন
  4. খিয়াং
ব্যাখ্যা

পাঙন:
- বাংলাদেশের একমাত্র মুসলিম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাঙাল বা পাঙন।
- বাংলাদেশের সিলেট ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় এই গোষ্ঠীর অধিকাংশের বসবাস।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
- এরা বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি।

⇒ কথিত আছে যে, মণিপুর রাজ্যে ভারতবর্ষের কোনো এক অঞ্চলের পাঠান মুসলিম ব্যবসা-বাণিজ্য করতে মণিপুর যান। তাঁদের একজন এক মৈতৈ মণিপুরী মেয়ের সঙ্গে প্রেমে আবদ্ধ হন এবং তাঁকে বিবাহ করে সন্তানাদিসহ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। মৈতৈই  মা ও পাঠান মুসলিম পিতার বংশধররাই পরে পাঙান বা মণিপুরী মুসলিম নামে পরিচিতি পায়। তারা মায়ের ভাষায় কথা বলে এবং পিতার ধর্ম পালন করে। 

⇒ পাঙনরা সুন্নী মুসলিম। তবে স্থানীয় বাঙালী মুসলিম জনগোষ্ঠির সঙ্গে পাঙনদের সামাজিক কোনো সম্পর্ক নেই বললেই চলে। তাদের ধর্মাচরণ, সমাজব্যবস্থা ও রীতিনীতির সাথে বাঙালি মুসলমানদের পার্থক্য রয়েছে। পাঙনরা প্রচণ্ড ধর্মভীরু ও রক্ষণশীল।

উৎস: i) ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
ii) BBC.

৪২.
বাংলাদেশে ৬ষ্ঠ আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ২০২৩ সালে
  2. ২০২৪ সালে
  3. ২০২২ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা

- ২০২২ সালে ৬ষ্ঠ আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

আদমশুমারি:
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে।
- তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- প্রতি ১০ বছর পর পর আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এই পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬ টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- যথা- ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে
- ২০২২ সালের ১৫-২১ জুন ৬ষ্ঠ আদমশুমারি হয়।
- যা 'জনশুমারি ও গৃহগণনা' নামে পরিচালিত হয়।
- জনশুমারি পরিচালনা করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

৪৩.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৩ অনুসারে, বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
  1. ১.৩২ শতাংশ
  2. ১.২৭ শতাংশ
  3. ১.৩০ শতাংশ
  4. ১.৩৭ শতাংশ
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৩:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার - ১.৩০%। 
- গড় আয়ু/প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল - ৭২.৩ বছর। 
- সাক্ষরতার হার (৭ বছরের অধিক) - ৭৬.৪% ।  
- স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬.০৩%। 
- অর্থনীতির মোট খাত - ১৯টি। 

সূত্র: অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৩।
৪৪.
বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট-২০২০ অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে কতজন লোক বাস করে?
  1. ক) ১০৭৮ জন
  2. খ) ১০৯০ জন
  3. গ) ১১১৬ জন
  4. ঘ) ১১৬০ জন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল প্রকাশিত বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট-২০২০ অনুসারে বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬.৪৭ কোটি। জনসংখ্যার ঘনত্ব ১,১১৬ জন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১ শতাংশ। জনসংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশ ৮ম।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার-আগস্ট)
৪৫.
৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুষ্ঠিত হবে কবে?
  1. ক) ২০২০ সালে
  2. খ) ২০২১ সালে
  3. গ) ২০২২ সালে
  4. ঘ) ২০২৩ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে পরবর্তী ৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুষ্ঠিত হবে ২০২১ সালের ২ থেকে ৮ জানুয়ারী। এতে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সহায়তা করবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জনশুমারি পরিচালনা করে থাকে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো)
৪৬.
পাঙন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোন ধর্মাবলম্বী?
  1. বৌদ্ধ
  2. খ্রিষ্টান
  3. মুসলিম
  4. হিন্দু
ব্যাখ্যা
পাঙন উপজাতি:
- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
- এরা বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি।
- ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।

সূত্র - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৪৭.
২০২২ সালের জনশুমারি প্রতিবেদনে সাক্ষরতার হারে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা বিভাগ কোনটি?
  1. খুলনা
  2. রংপুর
  3. ময়মনসিংহ
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে CAPI পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
- CAPI এর পূর্ণরূপ: Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে: মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ বিভাগ: ঢাকা (৭৮.২৪%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন বিভাগ: ময়মনসিংহ (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা: পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা: জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৪৮.
NIPORT প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
- NIPORT (নিপোর্ট) বা National Institute of Population Research and Training হলো বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৭৭ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় যা ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।
- নিপোর্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

তথ্যসূত্র: NIPORT ওয়েবসাইট।  
৪৯.
রাজবংশী উপজাতি প্রধানত কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. সিলেট
  2. রংপুর
  3. খাগড়াছড়ি
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা

• রাজবংশী:
- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৫০.
বাংলাদেশের কোথায় জুম চাষ হয়?
  1. রাজশাহী
  2. ময়মনসিংহ
  3. খাগড়াছড়ি
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
জুম চাষ:
- জুমচাষ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীদের মধ্যে অতি পরিচিত একটি পাহাড়ী মিশ্র কৃষি চাষ পদ্ধতি।
- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, জুম চাষ হয়।
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলির প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি।
- পাহাড়ী  এলাকায় তারা প্রধানত জুম চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
- জুম চাষকে স্থানান্তর কৃষি ব্যবস্থাও বলা হয়ে থাকে।
- সাধারণত জুম চাষের জন্য কৃষিভূমি স্থানান্তর করা হয়।
- প্রথমে জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে তাতে আগুন দেয়া হয় এবং তারপর মাটি কুপিয়ে লাইন ধরে বীজ রোপন করা হয়।
- একবার যে ভূমিতে ফসল ফলানো হয় তাতে এক নাগাড়ে চাষ না করে কয়েক বৎসরের জন্য জমিকে বিশ্রাম দিয়ে পতিত রাখা হয়।
- পুনরায় জঙ্গলাকীর্ণ হওয়ার পর এ জমিতে পুনর্বার চাষ হয়।
- জুম চাষের মাধ্যমে ভুট্টা, বিভিন্ন প্রকারের ধান, তিল, শাকসজি, তুলা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৫১.
 বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে?
  1. ২১নং অনুচ্ছেদ
  2.  ২৩(ক) নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৫নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৮(ক) নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- অনুচ্ছেদ ২৩ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি: রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৮ক: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫২.
ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠী কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. কুড়ুঁখ
  2. ককবোরক
  3. সাদরি
  4. আচিক খুসিক
ব্যাখ্যা
উপজাতি:
- ককবোরক ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ভাষা।
- ককবোরক অর্থ মানুষের ভাষা।
- এই ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
- বাংলা ও রোমান হরফে লেখা হয়।

অন্যদিকে,
- আচিক খুসিক : গারোদের ভাষা।
- সাদরি ও কুড়ুঁখ : ওরাঁও ও মুন্ডা নৃগোষ্ঠীর ব্যবহৃত ভাষা।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেনি।
৫৩.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে উপজেলার সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪৯৩টি
  2. ৪৯৪টি
  3. ৪৯৫টি
  4. ৪৯৬টি
ব্যাখ্যা
দেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
- বিভাগ - ৮টি।
- জেলা - ৬৪টি।
- সিটি কর্পোরেশন - ১২টি।
- উপজেলা - ৪৯৫টি।
- ইউনিয়ন - ৪,৫৯৬টি।

তথ্যসূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন।
৫৪.
বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী দিবস কবে পালিত হয়? 
  1. ৯ ডিসেম্বর
  2. ১১ ডিসেম্বর 
  3. ১৯ ডিসেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর 
ব্যাখ্যা

দুর্নীতিবিরোধী দিবস:
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশের একটি স্বতন্ত্র, স্বশাসিত এবং সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা। 
- এই সংস্থা দুর্নীতি প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও তদন্তের জন্য ২০০৪ সালের আইনের অধীনে গঠিত।
- ২০১৭ সালে “আসুন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হই” প্রতিপাদ্য নিয়ে ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন।
- জাতিসংঘ ২০০৩ সালে এই দিনকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
- ২০০৭ সাল থেকে দুদক দিবসটি পালন শুরু করলেও সরকারিভাবে তা কার্যকর হতো না।
- এ প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুরোধ জানানো হয়। 
- পরে সরকার ১৮ জুলাই ২০১৭ তারিখে ৯ ডিসেম্বরকে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
-------------------------------------------- 
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক):
- সংস্থাটি দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান, মামলা দায়ের এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত।
- যেকোনো ব্যক্তি সরাসরি ১০৬ হটলাইন ব্যবহার করে অভিযোগ জানাতে পারেন। 
- এছাড়া লিখিত পদ্ধতি বা দুদকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনভাবে অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব।
- দুদকের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত ১ সেগুন বাগিচা, ঢাকায় অবস্থিত। 
- বর্তমানে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- ২০২৫ সালে সংস্থাটিকে আরও কার্যকর করতে ৪৭টি সংস্কার প্রস্তাবনা সুপারিশ করা হয়েছে।
- দুদক শুধু তদন্ত ও মামলার কার্যক্রম নয়, নিজস্ব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং কনস্টেবল পদের মতো নিয়োগের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্থার কার্যক্রম নির্বাহ করে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৫৫.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে বসবাসকারী মুসলমান জনসংখ্যা কত শতাংশ?
  1. ৮৯.১৪%
  2. ৯০.৬৯%
  3. ৯১.০৮%
  4. ৯২.৩৬%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা,
• মুসলমান - ৯১.০৮%।
• হিন্দু - ৭.৯৬%।
• বৌদ্ধ - ০.৬১%।
• খ্রিষ্টান - ০.৩০%।
• অন্যান্য - ০.০৬%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৫৬.
‘আবছায়া’ চলচ্চিত্রটি কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় নির্মিত হচ্ছে?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) গারো
  3. গ) সাঁওতাল
  4. ঘ) রাখাইন
ব্যাখ্যা
আবছায়া
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গারো নারীদের ১৫ জনের একটি দল যুদ্ধ করেছিল পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে।
- লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই গারো নারী মুক্তিযোদ্ধার জীবনের গল্পে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘আবছায়া’ নির্মাণ করছেন শরিফুল ইসলাম পলাশ।
- গারোদের ‘আচিক’ ভাষায় নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। 
-  ১১ নম্বর সেক্টরের ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন নিরঞ্জন সিংহ চৌহানের গড়া কমলা ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন একদল গারো নারী।
- তাঁরা সবাই নেত্রকোনার সীমান্তঘেঁষা কলমাকান্দার লেঙ্গুরার বাসিন্দা। এ দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন মল্লিকা ঘাগ্রা।
- অন্যদের মধ্যে ছিলেন তুষি হাগিদক, মগ্ধলিনা নেংমিঞ্জ, সঞ্চিতা জরিনা রেমা, পরিচয় চিসিম, সেলিনা হাউই, রিতা নকরেক, জিতা নকরেক, টুরটুরি নকরেক, ছায়া বনোয়ারি, সুজানা জাম্বিল, মুকুল আজিম, রচিতা হাগিদক, বেঞ্জিনা নকরেক ও হাসিনা বনোয়ারিসহ ১৫ জন।
 - ‘আবছায়া’র চিত্রনাট্য লিখেছেন গারো ভাষার কবি মতেন্দ  মানখিন।
- ‘আবছায়া’ শরিফুল ইসলাম পলাশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাধর্মী তৃতীয় প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।
- এর আগে ২০২১ সালে গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার রনি হিজড়ার জীবনের গল্পে ‘অগ্নিঝরা দিনের না বলা কথা’ নির্মাণ করেন।
- রাজবাড়ির তিন সহোদরা মুক্তিযোদ্ধা গীতা, ইরা ও ভক্তি করের গল্পে ‘রণাঙ্গনের তিন কন্যা’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন। 

উৎস: কালেরকণ্ঠ পত্রিকা।
৫৭.
নিচের কোন উপজাতিটি বাংলাদেশে বাস করে না?
  1. ক) মাহাতো
  2. খ) গুর্খা
  3. গ) মাসাই
  4. ঘ) তঞ্চঙ্গা
ব্যাখ্যা
- মাসাই উপজাতি বাংলাদেশে বসবাস করে না। এরা আফ্রিকার তাঞ্জানিয়ায় বসবাসকারী একটি উপজাতি।
- বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এগুলো হলো:
- ওরাওঁ
- কোচ
- কোল
- খাসিয়া/খাসি
- খিয়াং
- খুমি
- গারো
- চাক
- চাকমা
- ডালু
- তঞ্চঙ্গা
- ত্রিপুরা
- পাংখোয়া/পাংখো
- বম
- বর্মণ
- মণিপুরী
- মারমা
- পাহাড়ী/মালপাহাড়ী
- মুন্ডা
- ম্রো/মুরং
- রাখাইন
- লুসাই
- সাঁওতাল
- হাজং
- মাহাতো/কুর্মি মাহাতো/বেদিয়া মাহাতো
- কন্দ
- কড়া
- গঞ্জু
- গড়াইত
- গুর্খা
- তেলী
- তুরি
- পাত্র
- বাগদী
- বানাই
- বড়াইক/বাড়াইক
- বেদিয়া
- ভিল
- ভূমিজ
- ভূঁইমালী
- মালো/ঘাসিমালো
- মাহালী
- মুসহর
- রাজোয়াড়
- লোহার
- শবর
- হুদি
- হো
- খারিয়া/খাড়িয়া
- খারওয়ার/খেড়োয়ার।
(সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট ও ব্রিটানিকা)
৫৮.
নিচের কোনটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. খাসিয়া
  2. ত্রিপুরা
  3. মারমা
  4. লুসাই
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫৯.
ম্রো জনগোষ্ঠীর মধ্যে অধিকাংশ মানুষ কোন ধর্ম অনুসরণ করে?
  1. বৌদ্ধ
  2. ইসলাম
  3. খ্রিস্টান
  4. হিন্দু
ব্যাখ্যা

ম্রো জনগোষ্ঠী:
- ম্রো পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বপ্রাচীন জাতি এবং বান্দরবান জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতি।
- ম্রোদের আদি নিবাস মায়নামারের আরাকান রাজ্য।
- আনুমানিক ১৪৩০ খ্রিঃ অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৫৯২ বছর আগে ম্রোরা বান্দরবান জেলার লামা, আলীকদম, থানছি ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে।
- ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- ম্রো সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পিতা পরিবারের প্রধান। তবে মেয়েরা সামাজিক জীবনে কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- ম্রোরা মূলতঃ প্রকৃতি পূজারী হলেও অধিকাংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
- তবে কয়েক বছর আগে ম্রোদের মধ্যে একটা নতুন ধর্ম ‘ক্রামা’ আর্বিভাবের ফলে বর্তমানে ম্রোদের একটি অংশ ক্রামা ধর্মের অনুসারি।

সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।

৬০.
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ করেছে-
  1. ক) সামার ইনস্টিটিউট অব স্পিচ
  2. খ) সামার ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টিকস
  3. গ) সামার ইনস্টিটিউট অব হিস্টরি
  4. ঘ) ইউনেস্কো
ব্যাখ্যা
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ২২টি ভাষায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অনুবাদ হয়েছে।
- এ কাজ করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন সামার ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টিকস (সিল)।
- সামার ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টিকস,অস্ট্রেলিয়া (সিল) ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার সুরক্ষায় গবেষণার কাজ করে। 
- বিশেষ করে যেসব ভাষা বিপন্ন, সেগুলোর প্রয়োজনমতো বর্ণমালা বা ব্যাকরণ তৈরির কাজও করে প্রতিষ্ঠানটি। 
- ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণটিকে  World’s Documentary Heritage এর মর্যাদা দিয়ে International Memory of the World Register-এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।

 উৎস: প্রথম আলো আর্কাইভ।
৬১.
নিচের কোন উপজাতিটি বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. ক) কুর্মি
  2. খ) মুরং
  3. গ) রোহিঙ্গা
  4. ঘ) খিয়াং
ব্যাখ্যা
রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী নয়। এরা মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
অন্যদিকে,
- কুর্মি উপজাতি সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের চা বাগান এলাকায় বাস করে।
- লুসাই ও খিয়াং জনগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং ব্রিটানিকা)
৬২.
২০২২ সালের জনশুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান কত শতাংশ লোক শহরে বাস করে?
  1. ৪০.০০
  2. ৩৬.৩০
  3. ২৮.৫৮
  4. ৩১.৫১
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩। 
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।    
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%। 
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।  
 
উল্লেখ্য,
- মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (৩১.৫১%) নাগরিক এখন শহরে বাস করে; দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮.৪৯%) থাকে গ্রামে।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।  
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৯,৯০,৭২৩ জন।  
- বরিশালে জনসংখ্যা সর্বনিম্ন ৪,১৯,৪৮৪ জন।
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ।
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন সর্বনিম্ন ঘনবসতিপূর্ণ।
 
উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৬৩.
BARD প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ২৭ মে ১৯৫৯
  2. খ) ১৭ জুন ১৯৭৯
  3. গ) ২১ জুলাই ১৯৬৯
  4. ঘ) ১৪ মে ১৯৬২
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) ১৯৫৯ সালের ২৭ মে পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সূচনালগ্নেই একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. আখতার হামিদ খানের নেতৃত্বে নিবেদিত প্রাণ কিছু গবেষক গ্রামীণ জনগণের সাথে নিয়ে নিরন্তর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে এ দেশে পল্লী উন্নয়নের উপযোগী কিছু মডেল কর্মসূচী উদ্ভাবন করেন। [সূত্র: bard.gov.bd]
৬৪.
সামাজিক সমস্যা সমাজের-
  1. খুব অল্পসংখ্যা মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে
  2. অধিকাংশ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে
  3. সব মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে
  4. কোনো মানুষকেই ক্ষতিগ্রস্থ করে না
ব্যাখ্যা
সামাজিক সমস্যা:
সুতরাং সামাজিক সমস্যা হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত জীবন যাপনের পথে বাধা সৃষ্টিকারী ও সামাজিক অগ্রগতির প্রতিকূল অবস্থা ও পরিবেশ। সামাজিক সমস্যা কোনো তাৎক্ষণিক বা ক্ষণস্থায়ী বিষয় নয়। এটি অনেকটা দীর্ঘমেয়াদি, তবে সমাধানযোগ্য।

সামাজিক সমস্যার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
সমাজবিজ্ঞানীগণ সামাজিক সমস্যা চিহ্নিতকরণের জন্য কতকগুলো বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে থাকেন।  যেমন:
১। অবাঞ্ছিত ও ক্ষতিকর
২। সমাজের অধিকাংশ মানুষকে প্রভাবিত করে
৩। বস্তুগত ও মনোগত দিক
৪। জনগণের সচেতনতা ও পরিবর্তনের জন্য যৌথ প্রচেষ্টা
৫। সমাধান যোগ্যতা
৬। পারস্পরিক নির্ভরশীলতা
৭। সমাজ থেকে উদ্ভূত
৮। স্থায়িত্ব

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫.
সোহরাই কাদের উৎসব?
  1. সাঁওতাল
  2. চাকমা
  3. গারো
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:
→ সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
→ তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
→ সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
→ তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। 

→ সাঁওতালদের প্রধান উৎসব - সোহরাই।
→ সাঁওতালদের সমাজ হলো - পিতৃতান্ত্রিক।
→ সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য (তাদের ভাষায় সিং বোঙ্গা)।
→ সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
→ সাঁওতাল সমাজ প্রধানত কৃষিজীবী।

→ সাঁওতালি ভাষা অস্ট্রিক ভাষার পরিবারভুক্ত। কোল ও মুন্ডারি ভাষার সঙ্গে সাঁওতালি ভাষার সাদৃশ্য রয়েছে।
→ সাঁওতালদের যেমন ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই,
→ তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।
→ সাঁওতালদের মধ্যে এখনও ১২টি গোত্রবিভাগ রয়েছে। 
তাদের সামাজিক অনুষ্ঠান:
→ নববর্ষের মাস ফাল্গুনে অনুষ্ঠিত হয় স্যালসেই উৎসব, তেমনি চৈত্রে বোঙ্গাবোঙ্গি, বৈশাখে হোম, আশ্বিনে দিবি, পৌষ শেষে সোহরাই উৎসব পালিত হয়। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬৬.
বাংলাদেশের বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. মারমা
  2. চাকমা
  3. ত্রিপুরা
  4. সাঁওতাল   
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- চাকমা বাংলাদেশের বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী।
- তারা নিজেদেরকে চাঙমা বলে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই তাদের প্রধান বসতি।
- এখানে তারা আরও কয়েকটি আলাদা আদিবাসী সঙ্গে মিশ্রিত।
- চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত।
- ১৮৬০ সালে জুমচাষ নিষিদ্ধ হলে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্বাঞ্চলে চলে যায়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট।

৬৭.
কোন এলাকার প্রধানকে বোমাং রাজা বলা হয়?
  1. নেত্রকোনা
  2. মৌলভীবাজার
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
পার্বত্য অঞ্চলের রাজকথন:
- ভৌগোলিকভাবে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অবস্থান ছিল আসাম ও পার্বত্য ত্রিপুরা থেকে আরাকান ও মিয়ানমারের সীমান্ত পর্যন্ত। 
- ১৭৬০ সালে চট্টগ্রাম এলাকা মোগলদের কাছ থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে গেলেও পার্বত্য জনগোষ্ঠীর হেডম্যানদের কর্তৃত্ব বহাল রাখা হয়।
-  ১৮৬০ সালে পার্বত্য অঞ্চলকে রেগুলেশন জেলা চট্টগ্রাম থেকে পৃথক করা হয়।
- পাহাড়ি এলাকাকে তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম নামে অভিহিত করা হয়।
- ১৯০০ সালে পার্বত্য অঞ্চলকে চাকমা, বোমাং ও মং সার্কেলে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সার্কেলের চিফ নিযুক্ত করা হয়।
- বর্তমানে রাঙামাটি জেলার বৃহত্তর অংশ ও খাগড়াছড়ি জেলার কিছু অংশ নিয়ে চাকমা সার্কেল।
- খাগড়াছড়ি জেলার বৃহত্তর অংশ নিয়ে মং সার্কেল।
- বান্দরবান জেলার বৃহত্তর অংশ ও রাঙামাটি জেলার কিছু অংশ নিয়ে বোমাং সার্কেল রয়েছে।
- পার্বত্য অঞ্চলের এই তিন সার্কেলপ্রধান স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের কাছে রাজা হিসেবেই বিবেচিত।
- যদিও সরকারিভাবে তাঁদের সার্কেল চিফ বলা হয়। 

উল্লেখ্য,
- খাগড়াছড়ি জেলা মং সার্কেলের অন্তর্গত। 
- চাকমা সার্কেলের প্রধান ‘চাকমা রাজা’। রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও রাজস্থলী উপজেলা নিয়ে চাকমা সার্কেল। 
- বোমাং সার্কেল বান্দরবানে। এ সার্কেলের প্রধান হলেন ‘বোমাং রাজা’। বম বা বনযোগী আদিবাসীরা সেখানে প্রধান।

উৎস: ১৪ অক্টোবর ২০১৯, প্রথম আলো।
৬৮.
বাংলাদেশে বসবাস নেই কোন নৃ-গোষ্ঠীর?
  1. সাঁওতাল
  2. তঞ্চঙ্গ্যা
  3. ম্রো
  4. মাওরি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাস করে না মাওরি নৃ-গোষ্ঠীরা।
- সাঁওতাল, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো এরা সবাই বাংলাদেশে বসবাস করে।

মাওরি: 
- মাওরিরা মূলত নিউজিল্যান্ডের আদিবাসী সম্প্রদায়।
- আনুমানিক ১৩০০ সালের দিকে প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপ থেকে মাওরি জনগোষ্ঠীর লোকজন এখানে আসে।
- এরপর থেকে এরা নিউজিল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- বর্তমানে দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ মাওরি।
- তাদের নিজস্ব ভাষায় "একে ওয়াকাপাপা" বলা হয়। 
- হাঁকা নাচকে মাওরি জনগোষ্ঠীরা প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে ব্যবহার করে।
- এটা তাদের কাছে যুদ্ধ নৃত্য।
- তারা হাঁকা নাচের সময় "কামাতে কামাতে,কামারা কামরা" শব্দ ধ্বনি উচ্চারণ করে।
- ওয়ে টাঙ্গি চুক্তি তাদের সাথে যুক্ত।

উৎস: The Financial Express.
৬৯.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের সময়কাল কত?
  1. ক) ১ জুন থেকে ৭ জুন
  2. খ) ৭ জুন থেকে ১৫ জুন
  3. গ) ১৫জুন থেকে ২১ জুন
  4. ঘ) ২১ জুন থেকে ২৮ জুন
ব্যাখ্যা
• আদমশুমারি:
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়।
- এরপর ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় এবং তারপরে প্রতি দশ বছরের ধারাবাহিকতায় নিয়মিত শুমারি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
- ২০১৩ সালে প্রণীত পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী ইতিপূর্বে পরিচিত ‘আদমশুমারি'-কে ‘জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সে অনুসারে আদমশুমারি ও গৃহগণনার পরিবর্তে ২০২২ সালের জুন মাসে ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মূল শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ১৫ হতে ২১ জুন ২০২২ সময়ে দেশব্যাপী পরিচালিত হয়, তবে আকস্মিক বন্যার কারণে শুমারির আন্তর্জাতিক প্রটোকল প্রতিপালনপূর্বক সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোণা জেলায় তথ্যসংগ্রহের সময়সীমা ২৮ জুন ২০২২ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
- Computer Assisted Personal Interviewing (CAPI) পদ্ধতির মাধ্যমে ডিজিটাল শুমারি সম্পন্ন করা হয়েছে।
- মোট জনসংখ্যা -১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন।

তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭০.
২০২২ সালের জনশুমারী অনুযায়ী বাংলাদেশে Household প্রতি জনসংখ্যা-
  1. ৩.৯৫জন
  2. ৩.৭৬জন
  3. ৩.৮৯জন
  4. ৩.৯৮জন
ব্যাখ্যা
 জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে CAPI.
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ ও ১০০।
- দেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৬৬%।
- ২০২২ সালে খানার গড় আকার - ৩.৯৮।

উল্লেখ্য,
বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।
৭১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, খানার আকার -
  1. ৩.৯৮
  2. ৪.০০
  3. ৪.১৮
  4. ৪.২২
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- খানার আকার: ৩.৯৮।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৭২.
NIPORT (নিপোর্ট) কী?
  1. নদী বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
  2. যোগাযোগ বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
  3. জরুরি সেবা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান
  4. জনসংখ্যা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
• NIPORT (নিপোর্ট) বা National Institute of Population Research and Training হলো বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
• এটি ১৯৭৭ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
• এটি ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।
• নিপোর্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা- কর্মচারিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

তথ্যসূত্র:- NIPORT ওয়েবসাইট
৭৩.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ অনুযায়ী, দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার -
  1. ১৮.৭%
  2. ১৯.২%
  3. ২০.১%
  4. ২১.৯%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

৭৪.
নিন্মোক্ত কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সিলেট অঞ্চলে বাস করে না?
  1. মণিপুরী
  2. তঞ্চঙ্গ্যা
  3. খাসিয়া
  4. পাঙন
ব্যাখ্যা
- মণিপুরী, খাসিয়া, পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বাস করে।
- তঞ্চঙ্গ্যা সিলেট অঞ্চলে বাস করে না। 

তঞ্চঙ্গ্যা:
- তঞ্চঙ্গ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার রইস্যাবিলি, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়ার আশপাশের এলাকায় ও কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার আশপাশের এলাকায়, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে তঞ্চঙ্গ্যা জাতিগোষ্ঠীর বসবাস।
- তঞ্চঙ্গ্যাদের পেশা মূলত কৃষি।
- এরা প্রধানত বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- এদের ভাষায় বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানকে ‘বিষু’ বলা হয়।
- তঞ্চঙ্গ্যা সমাজে পিতার অবর্তমানে পুত্রসন্তানরা সম্পদের মালিকানা পায়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৭৫.
মারমা সমাজের ‘সার্কেল’ প্রধানকে কী বলা হয়?
  1. কারবারি
  2. হেডম্যান
  3. রাজা
  4. মোড়ল
ব্যাখ্যা

- মারমাদের প্রশাসনিক সর্বোচ্চ স্তরের প্রধানকে “রাজা” বলা হয়।

মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- মারমা জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।  
- মারমারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- মারমাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, মারমাদের ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা। বর্ণমালার নাম ম্রাইমাজা।
- বাম থেকে ডান দিকে লেখার রীতি অনুসারী বর্ণমালা উপমহাদেশীয় প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি হতে উদ্ভুত।
- মারমা সমাজে তিন স্তরবিশিষ্ট একটি প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
- এই কাঠামোর সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকেন ‘সার্কেল প্রধান’, যাকে ‘রাজা’ বলা হয়।
- সার্কেল প্রধান মূলত একটি বৃহৎ এলাকার (যেমন একটি উপজেলাভিত্তিক অঞ্চল) প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
- তার অধীনে মৌজা পর্যায়ে হেডম্যান এবং গ্রাম পর্যায়ে কারবারি কাজ করেন।
- সার্কেল প্রধানের প্রধান দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৭৬.
'গারো' উপজাতিরা কোন ধর্মের অনুসারী?
  1. ক) বৌদ্ধ
  2. খ) খ্রিস্টান
  3. গ) জৈন
  4. ঘ) হিন্দু
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।
- তাছাড়াও শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলিবাজার গারো উপজাতি বাস করে।
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সাংসারেক।
- গারোদের প্রধান দেবতা তাতারা রাবুগা।
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান
- গারোদের উৎসব ওয়ানগালা।
- গারোদের ভাষা মান্দি।
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র:- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি , ষষ্ঠ শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৭.
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান কততম? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা

বিশ্বের জনবহুল নগর:
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল নগর।
- ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস ২০২৫–এ বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নগর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা।
- এরপরই ঢাকার অবস্থান।
- ঢাকায় এখন প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছে।
- ২০০০ সালে ঢাকা ছিল বিশ্বের নবম জনবহুল নগর। জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।
- ২৫ বছরের ব্যবধানে ঢাকা তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। এ সময়ে ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
- প্রতিবেদনে আভাস দেওয়া হয়েছে, ২০৫০ সালে সবচেয়ে জনবহুল নগরের বৈশ্বিক তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে আসবে ঢাকা।

উল্লেখ্য,
- ৩ কোটি ৩৪ লাখ বৈশ্বিক জনসংখ্যা নিয়ে তালিকায় জাপানের টোকিও এখন ৩ নম্বরে।
- টোকিওর পর তালিকায় আছে যথাক্রমে ভারতের নয়াদিল্লি ও চীনের সাংহাই।

তথ্যসূত্র- World Urbanization Prospects 2025, পত্রিকা প্রতিবেদন।

৭৮.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বাস করে কোন সিটি কর্পোরেশনে?
  1. ময়মনসিংহ
  2. রংপুর
  3. বরিশাল
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- ঢাকা (১০০৬৭ জন)।
- সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা- রাঙ্গামাটি (১০৬ জন)।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে - ঢাকা বিভাগে (৪৫৬৪৪৫৮৬ জন)।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে - বরিশাল বিভাগে (৯৩২৫৮২০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। (২১৫৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে। (৬৮৮ জন)।
- সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা বাস করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (৫৯,৯০,৭২৩ জন)।
- সবচেয়ে কম জনসংখ্যা বাস করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে (৭,০৮,৫৭০ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯,৪০৬ জন)।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম রংপুর সিটি কর্পোরেশনে (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩,৪৪৫ জন)।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে - ঢাকা বিভাগ।
- ভাসমান জনসংখ্যার দিক দিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে - ময়মনসিংহ বিভাগ।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৭৯.
চাকমা সমাজে পাড়ার প্রধানকে কী বলা হয়?
  1. আদাম
  2. কার্বারি
  3. মৌজা
  4. হেডম্যান
ব্যাখ্যা

চাকমা:
- বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
- নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক।
- তাদের মুখমণ্ডল গোলাকার, নাক চ্যাপ্টা, চুল সোজা এবং কালো, গায়ের রং ঈষৎ হলদেটে।
- বাংলাদেশের বাইরেও চাকমারা ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচলে বসবাস করে।

সামাজিক জীবন:
- চাকমা সমাজে মূল অংশ পরিবার।
- কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় ‘আদাম’ বা ‘পাড়া’।
- পাড়ার প্রধানকে বলা হয় কার্বারি।
- কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা।
- মৌজার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।
- কার্বারি ও হেডম্যান মিলে যথাক্রমে পাড়া ও মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করে।
- কয়েকটি মৌজা মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত হয় এবং এর প্রধান হলেন চাকমা রাজা।
- চাকমা সমাজে রাজার পদটি বংশানুক্রমিক।
- চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। চাকমা পরিবারে পিতাই প্রধান।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।

৮০.
ম্রো জনগোষ্ঠীর মধ্যে অধিকাংশ মানুষ কোন ধর্ম অনুসরণ করে?
  1. হিন্দু
  2. বৌদ্ধ
  3. ইসলাম
  4. খ্রিস্টান
ব্যাখ্যা
ম্রো জনগোষ্ঠী:
- ম্রো পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বপ্রাচীন জাতি এবং বান্দরবান জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতি।
- ম্রোদের আদি নিবাস মায়নামারের আরাকান রাজ্য।
- আনুমানিক ১৪৩০ খ্রিঃ অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৫৯২ বছর আগে ম্রোরা বান্দরবান জেলার লামা, আলীকদম, থানছি ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে।
- ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- ম্রো সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পিতা পরিবারের প্রধান। তবে মেয়েরা সামাজিক জীবনে কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- ম্রোরা মূলতঃ প্রকৃতি পূজারী হলেও অধিকাংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
- তবে কয়েক বছর আগে ম্রোদের মধ্যে একটা নতুন ধর্ম ‘ক্রামা’ আর্বিভাবের ফলে বর্তমানে ম্রোদের একটি অংশ ক্রামা ধর্মের অনুসারি।

তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, বাংলাপিডিয়া।
৮১.
বাংলাদেশের কোন উপজাতি মুসলমান?
  1. গারো
  2. সাঁওতাল
  3. পাঙন
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা

• পাঙন:
- বাংলাদেশের একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি হলো পাঙন।
- এরা বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- এরা সিলেটের মণিপুরী সম্প্রদায়ের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ।

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৮২.
বাংলাদেশের কোন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিজু উৎসব পালন করে? 
  1. চাকমা 
  2. মারমা 
  3. ত্রিপুরা 
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা
বিজু উৎসব:
- চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা যে উৎসব করে তাকে বিজু বলে।
- এই উৎসবের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো পুরনো বছরকে বিদায় জানানো এবং নতুন বছরকে সাদরে গ্রহণ করা।

উল্লেখ্য,
- চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং পহেলা বৈশাখ নিয়ে মোট তিন দিন ধরে বিজু উৎসব চলে।
- বিজু উৎসবে তিন দিনের আলাদা নামকরণ হয়েছে।
- প্রথম দিন ফুলবিজু, দ্বিতীয় দিন মূলবিজু এবং তৃতীয় দিন গজ্যাপজ্যা।
• বছরের শেষ অর্থাৎ চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে ‘ফুল বিজু’।
• চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩০ তারিখে পালন করা হয় মূলবিজু।
• বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পালন করা হয় গজ্যাপজ্যা (গড়িয়ে পড়ার দিন)।

⇒ উৎসবটিকে চাকমারা বিজু হিসেবে পালন করলেও মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসুক নামে পালন করে।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে উক্ত উৎসবটি বৈসাবি নামে পরিচিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৩.
নিচের কোন নৃগোষ্ঠী ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই?
  1. ক) চাকমা ভাষা
  2. খ) সাঁওতালী ভাষা
  3. গ) মুন্ডা ভাষা
  4. ঘ) মণিপুরী ভাষা
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ভাষা সমূহের মধ্যে সাঁওতালী ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
দেবনাগিরি, বাংলা, রোমান, ইংরেজি প্রভৃতি হরফে সাঁওতালী ভাষা লেখা হয়।
অন্যদিকে, চাকমা, মুন্ডা এবং মণিপুরী ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৮৪.
মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. চাকমা
  2. লুসাই
  3. মারমা
  4. খাসিয়া
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৫.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুসারে, বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যিক ব্যাংক কতটি?
  1. ক) ৬০টি
  2. খ) ৫৭টি
  3. গ) ৫৯টি
  4. ঘ) ৫২টি
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুসারে, বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যিক ব্যাংক ৫৯টি এবং বাংলাদেশে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৩৪টি।
নতুন তফসিলি ব্যাংকের অনুমোদনঃ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বাংলাদেশ ব্যাংক এর ৪০২ তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় দেশের ৬০ তম তফসিলি ব্যাংক হিসেবে চুড়ান্তভাবে অনুমোদন পায় বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড। এর প্রধান উদ্যোক্তা হলেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। বর্তমানে দেশে ৬০টি তফসিলি ব্যাংকের মধ্যে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব বাণীজ্যিক ব্যাংক, ৩টি সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বাকি ৫১টি বেসরকারি ব্যাংক যার মধ্য়ে ৯টি বিদেশি মালিকানাধীন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ।
৮৬.
চাকমা মৌজা প্রধান হলেন- 
  1. আদাম
  2. কার্বারী
  3. হেডম্যান
  4. মেম্বার 
ব্যাখ্যা

- মৌজা প্রধান হলেন 'হেডম্যান'।

চাকমা জাতিসত্তা: 

- পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর মধ্যে চাকমারা জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম। 
- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলাতে তাদের বসবাস রয়েছে।
- এছাড়া চাকরিসূত্রে চাকমারা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাস করছে। 
- আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ও দিল্লীসহ বিভিন্ন রাজ্যে অনেক চাকমা বসবাস করে।
- খাগড়াছড়ি জেলার কিছু অংশ এবং রাঙ্গামাটি জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে চাকমা সার্কেল যার প্রধান হলেন চাকমা চীফ বা চাকমা রাজা।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের আরও দুটি সার্কেলের মতো চাকমা সার্কেলও অনেক মৌজা নিয়ে গঠিত। 
- চাকমা ভাষায় গ্রামকে আদাম বা পাড়া বলা হয়। 
- গ্রাম প্রধানের উপাধি হলো 'কার্বারী'। 
- কয়েকটি 'আদাম' বা গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় এক-একটি মৌজা।
- মৌজা প্রধান হলেন 'হেডম্যান'।
- যার নেতৃত্বে মৌজার অধিবাসীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খাজনা আদায়, বিভিন্ন সামাজিক বিরোধের বিচারসহ এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনগণের ভালমন্দ দেখভালের কাজগুলো পরিচালিত হয়। 

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি, ২০১৮ বোর্ড বই।

৮৭.
Which one is the New Year festival of the Tripura tribe?
  1. Bijhu
  2. Wangala
  3. Buisu
  4. Sangrai
  5. None
ব্যাখ্যা
ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
৮৮.
খাসিয়া সম্প্রদায় কোথায় বসবাস করে?
  1. রাজশাহী
  2. রংপুর
  3. হবিগঞ্জ
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
খাসিয়া সম্প্রদায়:
- খাসিয়া (বা খাসি) বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক নৃগোষ্ঠি।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- খাসিয়ারা প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর আগে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসে।
- তারা আসামে এসেছিল সম্ভবত তিববত থেকে।
 - তাদের প্রধান আবাসস্থল উত্তর-পূর্ব ভারত। 
- খাসিয়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে।
- এদের আদি নিবাস ছিলো তিব্বতে।
- খাসিয়া গ্রাম পুঞ্জি এবং পুঞ্জি প্রধান সিয়েম নামে পরিচিত।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট জেলা সমূহের ওয়েবসাইট।
৮৯.
ওরাঁও নৃ-গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?
  1. সংকীর্তন
  2. কারাম
  3. সোহরাই
  4. সাড সুক মেনসিম
ব্যাখ্যা
- ওরাঁও জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব হলো কারাম উৎসব। প্রতিবছর ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়।
অন্যদিকে,
- সংকীর্তন : মণিপুরীদের উৎসব
- সোহরাই : সাওতাঁলদের উৎসব
- সাড সুক মেনসিম : খাসিয়াদের উৎসব।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণী)
৯০.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, পল্লী এলাকায় মোট জনসংখ্যা কত?
  1. ক) ১১৩,০৬৩,৫৮৭
  2. খ) ১১২,০৬৩,৫৮৭
  3. গ) ১১৩,০৬৩,৪৮৭
  4. ঘ) ১১৩,০৯৩,৫৮৭
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
-  বিভাগওয়ারি পল্লী ও শহর এলাকার জনসংখ্যার লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন উল্লেখ করা হয়েছে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, পল্লী এলাকায় মোট জনসংখ্যা ১১৩,০৬৩,৫৮৭ এবং শহর এলাকায় মোট জনসংখ্যা ৫২,০০৯,০৭২।
- দেশে পল্লী এলাকার মোট জনসংখ্যার ৫৫,১৬৬,৮৪২ জন পুরুষ, ৫৭,৮৯০,৪৬২ জন মহিলা ও ৬,২৮৩ জন হিজড়া।
- শহর এলাকার মোট জনসংখ্যার ২৬,৫৪৫,৯৮২ জন পুরুষ, ২৫,৪৫৬,৭৪৪ জন মহিলা ও ৬,৩৪৬ জন হিজড়া।
- পল্লী এলাকায় সর্বাধিক জনসংখ্যা ঢাকা বিভাগে ২৩,৪৪৭,২১৬ জন এবং সর্বনিম্ন জনসংখ্যা বরিশাল বিভাগে ৬,৮০৯,৮৪৪ জন।
- পক্ষান্তরে শহর এলাকায় সর্বাধিক জনসংখ্যা ঢাকা বিভাগে ২০,৭৩৮,৭৩৯ জন এবং সর্বনিম্ন জনসংখ্যা সিলেট বিভাগে ২,০৬৫,১২৩ জন।

তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯১.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা তে বাংলাদেশে মোট কয়টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে?
  1. ৪৫টি
  2. ৪৮টি
  3. ৫০টি
  4. ৫২টি
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫০টি।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)। -
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

উৎস: পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৯২.
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ এর তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে খানা প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা কতজন?
  1. ক) ৩ জন
  2. খ) ৪ জন
  3. গ) ৫ জন
  4. ঘ) ৬ জন
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুসারে,  

- বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন।
- গ্রামে বাস করে ১১ কোটি ৩০ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৭ জন।
- শহরে বাস করে ৫ কোটি ২০ লাখ ৯ হাজার ৭২ জন।
- পুরুষ-নারীর অনুপাত ৯৮ : ১০০।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব ১১১৯ জন (প্রতি বর্গকিলোমিটারে)।
- খানার সংখ্যা ৪,১০,১০,০৫১ জন।
- খানা প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা ৪.০ জন। 
- সাক্ষরতার হার ৭৪.৬৬%। 
- বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২%।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা মোট ৫০ টি। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার, জুলাই ২০২২।
৯৩.
'সোহরাই' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাতীয় উৎসব?
  1. মারমা
  2. সাঁওতাল
  3. ত্রিপুরা
  4. গারো
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৯৪.
কোন জনগোষ্ঠীর ভাষার বর্ণমালার নাম 'হোয়ো'?
  1. খুমি
  2. খেয়াং
  3. তঞ্চঙ্গ্যা
  4. বম
ব্যাখ্যা
হোয়ো:
- বান্দরবানের খেয়াং জনগোষ্ঠীর নিজেদের ভাষার বর্ণমালা তৈরি করা হয়েছে।
- এই বর্ণমালার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হোয়ো’।
- এই বর্ণমালা দিয়ে কম্পিউটারেও লেখালেখি করা যাবে।

উল্লেখ্য,
- এতদিন খেয়াংদের ভাষার কোনো বর্ণমালা ছিল না।
- এ কারণে এই ভাষার কোনো লিখিত রূপও ছিল না।
- গত কয়েক বছর ধরে রোমান হরফে এই ভাষা লেখা হচ্ছিল।
- কিন্তু এতে খেয়াং ভাষার সবগুলো ধ্বনির ও উচ্চারণে মিল রেখে লেখা সম্ভব হচ্ছিল না।
- এ কারণে নতুন বর্ণমালা উদ্ভাবন করার প্রয়োজন দেখা দেয়।
- ফ্রেন্ডস অব এন্ডেঞ্জার্ড এথনিক ল্যাংগুয়েজেস (ফিল) নামের একটি সংগঠন এই ভাষাটিকে কম্পিউটারে ব্যবহার উপযোগী করতে কারিগরি সহায়তা করে।
- দুই মাসের চেষ্টায় তারা এই কাজে সফলতা পেয়েছেন।

উৎস: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। [link]
৯৫.
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) কোথায় অবস্থিত?
  1. শাহবাগ, ঢাকা
  2. সেগুনবাগিচা, ঢাকা
  3. আজিমপুর, ঢাকা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ:
- জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।

উল্লেখ্য, 

- ১৯৭৭ সালে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- নিপোর্ট স্বস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মনোভাবের পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে।
- নিপোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি জোরদার করার জন্য কর্মসূচিভিত্তিক মূল্যায়ন, গবেষণা এবং সার্ভে পরিচালনা করা এবং গবেষণার ফলাফলকে বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থাপন করে কর্মসূচি উন্নয়নে কাজে লাগানো।

সূত্র: জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)।
৯৬.
বাংলাদেশের কোথায় জুম চাষ করা হয়?
  1. বরিশাল
  2. খুলনা
  3. ফরিদপুর
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
জুম চাষ:
- পাহাড়ের ঢালে বন উজাড় করে ও তা আগুনে পুড়িয়ে জমিকে চাষের উপযোগী করার মাধ্যমে যে চাষাবাদ করা হয় তারই নাম জুম চাষ।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় প্রায় ৫,৪৮০ বর্গকিলোমিটার বনভূমির সিংহভাগেই জুম চাষ করা হয়।
- তিন পার্বত্য জেলা হচ্ছে- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি, জুম চাষ করা হয়।
- তিন পার্বত্য জেলায় ৩৫ হাজারেরও বেশি জুমিয়া পরিবার এই জুম চাষের সঙ্গে জড়িত।
- জুম চাষের জন্য পাহাড়ের গাছপালা পোড়ানো হয়।
- জুম চাষকে চাকমা ভাষায় জুম, মারমা ভাষায় ইয়াঁ, ত্রিপুরা ভাষায় হুগ, ম্রো ভাষায় উঃঅ, খিয়াং ভাষায় লাই, বম ভাষায় লাও বলা হয়।
- ভারী বৃষ্টির পর পাহাড়ের মাটি খুঁড়ে রোপণ করা হয় বিভিন্ন ফসল।
- জুমের ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নানাজাতের ধান, কুমড়া, অড়হড়, শিম, শশা, করলা, ঢেঁড়শ, তিল, ভুট্টা, আদা, যব, তুলা, হলুদ, পাহাড়ি আলু, কচু, ইত্যাদি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৭.
বাংলাদেশের ৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুযায়ী কত শতাংশ লোক গ্রামে বাস করে?
  1. ৬৮.৩৪%
  2. ৪১.৬৬%
  3. ৩৭.৩৪%
  4. ৫২.৬৩%
ব্যাখ্যা

• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- অনুষ্ঠিত হয় ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে CAPI.
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১০ বছর পর পর।
- গণনাকৃত জনসংখ্যা ১৬,৫১,৫৮,৬১৬ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১২%।
- জনসংখ্যার মধ্যে পল্লি অঞ্চলে বসবাস করে - ১১,৬০,৬৫,৮০৪ জন (৬৮.৩৪%)।
- জনসংখ্যার মধ্যে শহর অঞ্চলে বসবাস করে- ৫,৩৭,৬৩,১০৭ জন (৩১.৬৬%)
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১,১১৯ জন।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত ৯৮ ও ১০০।
- দেশে সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) ৭৪.৮০%।
- ২০২২ সালে খানার গড় আকার - ৩.৯৮।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)।

৯৮.
পাহাড়ের প্রধান উৎসব বৈসাবি পালিত হয় কখন?
  1. আষাড় এবং শ্রাবণ
  2. ফাল্গুন এবং চৈত্র
  3. মাঘ এবং ফাল্গুন
  4. চৈত্র এবং বৈশাখ
ব্যাখ্যা
বৈসাবি:
- বৈসাবি হচ্ছে বাংলাদেশে তিন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- পাহাড়ে বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর প্রধানতম সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব এটি।
- বাংলাদেশের তিনটি আদিবাসী সম্প্রদায় (ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা) এই বর্ষবরণ উৎসব পালন করে।
- মূলত বৈ’ শব্দাংশটি ত্রিপুরাদের বৈসু থেকে, ‘সা’ মারমাদের সাংগ্রাই থেকে এবং ‘বি’ চাকমাদের বিজু থেকে এসেছে।
- বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু এই তিন নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে 'বৈসাবি' নামের উৎপত্তি।
- চৈত্র মাসের শেষ দুটি দিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন এই তিন দিন অনুষ্ঠান পালন করে।
- প্রতিটি সম্প্রদায় নিজ নিজ বিশ্বাস ও সংস্কার অনুসারে প্রার্থনা করে নতুন বছর যেন সুখে-শান্তিতে কেটে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৯.
চাকমা ভাষায় লিখিত প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
  1. চাকমা
  2. ফেবো
  3. বহান্য
  4. ইনা
ব্যাখ্যা

ফেবো:
- চাকমা ভাষায় লিখিত প্রথম উপন্যাস ফেবো।
- ২০০৪ সালে, প্রকাশিত হয়ে গেছে চাকমা ভাষা ও হরফে দেবপ্রিয় চাকমার লেখা 'ফেবো' নামের একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের পটভূমি হল ১৯৮৬ সালে খাগড়াছড়ি জেলার লোগাংএ সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড, আর শিরোনামে ব্যবহৃত শব্দটির দ্বিবিধ অর্থ হল 'ভয়ার্ত মুহূর্ত' ও 'ভয়ঙ্কর প্রাণি'।

এছাড়াও,
- ২০১৩ সালে কে ভি দেবাশীষ চাকমা নামের আরেক জন লেখকেরও চাকমা ভাষায় একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে, যেটির শিরোনাম 'মুই মত্যেই' ('আমি আমার')।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া।

১০০.
হাজং নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে কোথায়?
  1. বরিশাল ও পিরোজপুর
  2. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  3. ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা
  4. ফরিদপুর ও মাদারীপুর
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলায় বসবাস করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হাজং।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা 'পাথিন' বলে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।