ব্যাখ্যা
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হলো সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন। এটি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬ / ১৪ · ৫০১–৬০০ / ১,৩১৫
দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
- দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- তিনি ১৯৪০ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের মূল ভিত্তি হিসেবে এই তত্ত্বটি প্রস্তাব করেন।
- দ্বিজাতি তত্ত্ব অনুযায়ী, ভারতীয হিন্দু এবং মুসলিম সমাজ দুটি আলাদা জাতি, যার সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, এবং ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে।
- তিনি মনে করতেন যে, হিন্দু ও মুসলিমরা একত্রে একটি সাধারণ রাষ্ট্রের অধীনে বাস করতে সক্ষম নয়, কারণ তাদের মধ্যে মৌলিকভাবে ভিন্ন জাতিগত পরিচয় রয়েছে।
- জিন্নাহর মতে, মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের প্রয়োজন ছিল, যেখানে তারা নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারবে।
⇒ ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নতুন ভারত শাসন আইন পাশ হয়।
ভারত শাসন আইন:
- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন ভারতীয়দের রাজনৈতিক আশা-আকাংখা পূরণে ব্যর্থ হয়।
- ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ১০ বছর পর ভারতের সাংবিধানিক অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য একটি বিধিবদ্ধ কমিশন গঠনের কথা ছিল।
- এমতাবস্থায় ব্রিটিশ সরকার ১৯২৭ সালে স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করে।
- যা সাইমন কমিশন নামে পরিচিত।
- ১৯২৮ সালে কংগ্রেস নিজেই মতিলাল নেহেরুকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করে।
- এই কমিটি যে রিপোর্ট প্রকাশ করে, তা 'নেহেরু রিপোর্ট' নামে পরিচিত।
- এ রিপোর্টে মুসলমানদের দাবী-দাওয়া পূরণ না হওয়ায় মুসলিম নেতৃবৃন্দ তা বর্জন করেন।
- নেহেরু রিপোর্টের প্রতিবাদে ১৯২৯ সালে মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর চৌদ্দ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৩০ সালে শুরু হয়ে তিন দফায় ১৯৩২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
- ভারতীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার সম্ভাবনা না দেখে ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামজে ম্যাকডোনাল্ড একটি সমাধান প্রদান করেন।
- এতে তিনি আইনসভায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বণ্টনসহ ভারতের জন্য একটি ভবিষ্যত সংবিধানের রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- এটি ম্যাকডোনাল্ডের 'সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ' নামে পরিচিত।
- এই ধারাবাহিকতাতে ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নতুন ভারত শাসন আইন পাশ হয়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- লর্ড ডালহৌসি প্রবর্তিত 'স্বত্ববিলোপ নীতি' (Doctrine of Lapse) অনুসারে ব্রিটিশরা প্রথম যে রাজ্যটি দখল করে সাতারা।
- ১৮৪৮ সালে, যখন সেখানকার রাজা কোনো বৈধ পুরুষ উত্তরাধিকারী না রেখে মারা যান। এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য ডালহৌসির একটি প্রধান কৌশল, যার মাধ্যমে একাধিক রাজ্য ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
• স্বত্ববিলোপ নীতির প্রয়োগ:
- স্বত্ববিলোপ নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে ডালহৌসী প্রথমেই ব্রিটিশ প্রভাবাধীন সাতারা রাজ্যটি দখল করেন ১৮৪৮ খ্রিঃ,
- এরপর ১৮৫৩ সালে নাগপুরের রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে তাঁর রাজ্যটি গ্রাস করা হয়, এক্ষেত্রে ডালহৌসীর যুক্তি ছিল যে, নাগপুর রাজ্যটি নাকি ইংরেজরাই সৃষ্টি করেছিল।
- ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও-এর প্রয়াণ হলে ডালহৌসী তাঁর দত্তক পুত্রকে মেনে নিতে রাজি হলেন না এবং ঝাঁসির রানির মতামতকে উপেক্ষা করেই ঝাঁসি রাজ্যটি দখল করা হল।
এছাড়া ভগৎপুর, করৌলী, সম্বলপুর, উদয়পুর, বাগৎ প্রভৃতি রাজ্যগুলি একই কারণে গ্রাস করা হয়, যদিও উদয়পুর কোম্পানির সৃষ্ট দেশীয় রাজ্য ছিল না।
উৎস: দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস ১ম পত্র বই, বাংলাপিডিয়া।
যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (৭ ডিসেম্বর ১৮৭৯ – ১০ সেপ্টেম্বর ১৯১৫) ছিলেন একজন বাঙালি ব্রিটিশ-বিরোধী বিপ্লবী নেতা।
- তিনি বাঘা যতীন নামেই সকলের কাছে সমধিক পরিচিত।
- ভারতে ব্রিটিশ-বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।
- বাঘা যতীন ছিলেন বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন যুগান্তর দলের প্রধান নেতা।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে কলকাতায় জার্মান যুবরাজের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তিনি জার্মানি থেকে অস্ত্র ও রসদের প্রতিশ্রুতি অর্জন করেছিলেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে 'জার্মান প্লট' তারই মস্তিষ্কপ্রসূত।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা জলপথে উপমহাদেশে আসে।
- প্রাচ্য বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে হল্যান্ডের একদল বণিক 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া বালেশ্বর, কাশিমবাজার এবং বরানগরেও তাদের কুঠি ছিল।
- প্রথমে ওলন্দাজগণ ইংরেজদের সাথে রেশমী সূতা, সুতি কাপড় চাল, ডাল সোরা ও তামাক এদেশ থেকে রপ্তানি করত এবং অন্যদেশ থেকে এদেশে মসলা আমদানি করত।
- ইংরেজদের সাথে তাদের যে বাণিজ্য চুক্তি হয় তা দু'বছরের মধ্যে ভেঙ্গে গিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।
- অন্যদিকে বাংলার শাসনকর্তাদের সাথেও তাদের প্রবল বিরোধ দেখা দেয়।
- এ বিরোধ বেশি বেড়ে গেলে ইংরেজগণ ওলন্দাজ কুঠিগুলো দখল করে ফেলে।
- আর এভাবে ওলন্দাজদের বাণিজ্যিক সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁরা উপমহাদেশ ছেড়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চলে যায়।
- সেখানে তাঁরা উপনিবেশ স্থাপন করে।
- ফলে এদেশে ইংরেজদের শক্তি বেড়ে যায়।
- বর্তমান ইন্দোনেশিয়া ওলন্দাজদের কাছ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে।
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলমন্ত্র একজাতি একরাষ্ট্র।
- হিন্দু ও মুসলিম জনগণ দুটি পৃথক ধর্মীয় দর্শন, সামাজিক আচার-আচরণ এবং সাহিত্যের অধিকারী।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দাবি করেন যে, ''ভারতের হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি পৃথক জাতি। ভারতের মুসলমানরা একটি পৃথক জাতি। তাই তাদের প্রয়োজন একটি পৃথক আবাসভূমি ও রাষ্ট্রের।'' তাই একটি জাতির জন্য একটি রাষ্ট্র দরকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
- এডমন্ড বার্ক মানবজাতির শত্রু বলে অভিহিত করেন ওয়ারেন হেস্টিংসকে।
- এডমন্ড বার্ক ভারতে দুঃশাসনের জন্য হেস্টিংসকে দায়ী করেন।
- ১৭৮৬ সালে বার্ক কমন্স সভায় হেস্টিংসের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও আনয়ন করেন।
- তবে, ঐতিহাসিকগণ বার্ক কর্তৃক হেস্টিংসের এরকম বর্ণনায় পুরোপুরি একমত নন।
উপমহাদেশে পর্তুগিজদের আগমন:
- বাণিজ্যকে মূলধন করে পর্তুগাল থেকে পর্তুগিজরা এ উপমহাদেশে আসলেও ক্রমে তাঁরা সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখে।
- পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে আসার পরপরই পর্তুগিজরা এ দেশে আসতে শুরু করে।
- এরপর ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- উপমহাদেশে আসার অল্পদিনের মধ্যেই তাঁরা এদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে, সিংহলের নানাস্থানে এবং বাংলার হুগলী বন্দরে তাঁদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।
- তাঁদের নৌ ও সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী ছিল।
⇒ পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে।
- পর্তুগিজরাই প্রথম ইউরোপীয় যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কাজে এদেশে সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
- বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
অফিস আদালতে ফারসির বদলে ইংরেজি চালু হয় ১৮৩৭ সালে।
- ইংরেজরা তাদের শাসন পাকাপোক্ত করার জন্য দেশের মধ্যে থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরিতে কোন যোগ দেয়।
- লর্ড বেন্টিঙ্ক এদেশে ইংরেজি শিক্ষার সম্প্রসারণ এর পক্ষে লর্ড মেকলে নামের একটি ইংরেজী শিক্ষা নীতির প্রস্তাব করেন।
- ১৮৩৫ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ এবং বোম্বাই এলফিনস্টোন ইনস্টিটিউশন স্থাপিত করেন যার উচ্চ শিক্ষার মাধ্যম ছিল ইংরেজি।
- ১৮৪৫ চাকুরীতে ইংরেজি শিক্ষিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি প্রবর্তিত হয়।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সপ্তম শ্রেণি
হান্টার কমিশন সরকারিভাবে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন (১৮৮২) নামে পরিচিত। এটি ছিল আধুনিক ভারতের ইতিহাসে প্রথম শিক্ষা কমিশন।
- ভারত সরকার কর্তৃক গঠিত এ কমিশনের কাজ ছিল ১৮৫৪ সালের উড-এর শিক্ষা প্রস্তাবের সময় থেকে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পর্যালোচনা।
-স্যার উইলিয়ম উইলসন হান্টারকে সভাপতি করে গঠিত এ কমিশনের অন্যান্য সদস্যগণ ছিলেন আনন্দমোহন বসু, এ.ডব্লিউ ক্রফট্ (Director of Public Instruction, Bengal), ভূদেব মুখোপাধ্যায়, মহারাজা যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর, কাশীনাথ ত্রিম্বক তীলং এবং স্যার সৈয়দ আহমদ খান।
- অবশ্য সৈয়দ আহমদ খান পরবর্তীসময়ে তাঁর পুত্র সৈয়দ মুহম্মদের পক্ষে নিজের নিযুক্তি প্রত্যাহার করে নেন।
সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অষ্টম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া
ইন্ডিয়া অ্যাক্ট:
- ইন্ডিয়া অ্যাক্ট এর মাধ্যমে ১৮৫৮ ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং এর বদলে সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের প্রত্যক্ষ ফল।
- এভাবে বিপ্লবের অব্যবহিত পরেই পার্লামেন্ট ভারতীয় প্রশাসনের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে।
- ১৮৫৮ সালের ২ আগস্ট পার্লামেন্ট ইন্ডিয়া অ্যাক্ট আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে রাজ শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
- এ আইন বোর্ড অব কন্ট্রোল এবং কোর্ট অব ডাইরেক্টর্স-এর দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটায়।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ১৭৯৩ সালের লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
- ১৭৯৩ সালের ২২মার্চ লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ‘কাগমারি সম্মেলনে’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ ১৯৫৭ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪১ সালের ২৫ আগস্ট লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয় - ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর।
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে’ ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুসলিম লীগের গঠন প্রক্রিয়ার সাথে নওয়াব সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, আগা খান প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।
তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
বঙ্গভঙ্গ:
- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের ফলে সৃষ্ট নতুন প্রদেশ "পূর্ববঙ্গ ও আসাম"-এর রাজধানী করা হয় ঢাকা।
উল্লেখ্য,
- ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসামের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি।
• ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমোদন করেন এবং ১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। সে বছর অক্টোবরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।
- এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
এলাহাবাদ চুক্তি:
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে।
- ১৭৬৫ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।
- কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।
উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• লক্ষ্মৌ চুক্তি:
- ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে হিন্দু–মুসলিম ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল-
- ভারতের বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা,
- পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা,
- এবং সম্মিলিতভাবে স্বরাজ বা আত্মশাসন অর্জনের পথ সুগম করা।
- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ১৯১১ সালে রদ হওয়ায় মুসলমান সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি হয়।
- এর পাশাপাশি ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করতে বাধ্য হয়।
- ফলে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন সমঝোতার পরিবেশ গড়ে ওঠে।
- এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগ—উভয়েই পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।
- ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্মৌ শহরে দুই দল একযোগে তাদের বার্ষিক অধিবেশন আয়োজন করে।
- এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যা ইতিহাসে লক্ষ্মৌ চুক্তি নামে পরিচিত।
- এই চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস মুসলিম লীগের পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থা ও মুসলমানদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়।
- অন্যদিকে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের সঙ্গে একত্রে সাংবিধানিক সংস্কার ও স্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালাতে সম্মত হয়।
- এর ফলে হিন্দু–মুসলিম রাজনৈতিক ঐক্য দৃঢ় হয়।
- এবং ব্রিটিশ সরকারের ওপর সাংবিধানিক সংস্কার আনার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
লর্ড ডালহৌসি:
- ভারতে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়েছিল লর্ড ডালহৌসির শাসনকালে।
- তাঁর সময়েই ১৮৫৩ সালে বোম্বে (মুম্বাই) থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়।
- ডালহৌসিকে ভারতের রেলপথের জনক বলা হয়।
- তাঁর সময়েই ভারতে রেলপথ, টেলিগ্রাফ এবং ডাক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ শুরু হয়েছিল।
উল্লেখ্য,
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ইংল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত যত সাম্রাজ্যবাদী শাসক এ উপমহাদেশে প্রেরণ করেছেন তার মধ্যে লর্ড ডালহৌসী ছিলেন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী। লর্ড ডালহৌসীর সাম্রাজ্যবাদ নীতির তিনটি লক্ষ্য ছিল-
ক. পাশ্চাত্য সভ্যতা ও শাসনের প্রসার,
খ. ইংরেজ সাম্রাজ্যের সংহতি স্থাপন ও,
গ. উপমহাদেশে ব্রিটিশ পণ্যের বাজার সৃষ্টি।
এছাড়াও,
- ডালহৌসী কঠোরতার সাথে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রসারের পথ আরও প্রশস্ত করে তোলেন।
- তিনি গভর্নর জেনারেলের কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যে বাংলার জন্য একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর (ছোট লাট) নিযুক্ত করেন।
- তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাস করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসঙ্গত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসীকে সাহায্য করেন। ডালহৌসী এমন একটি আইন পাস করান যাতে এদেশীয়গণ ধর্মান্তরিত হলেও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করতে পারে।
- তিনি পূর্তবিভাগের প্রতিষ্ঠিত গঙ্গা খাল খনন ও জল সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তিনি রাজপথ ও সড়কগুলোর উন্নয়ন করেন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন এবং চা ও কফি বাগানের প্রসার সাধন করেন।
- তিনি রুরকির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজও স্থাপন করেন।
উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন।
- ১৯৪৬-৪৭ সালে এ আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা।
- তাদের নেতৃত্বে বর্গাচাষিরা ভূমিমালিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়। খুব দ্রুত নিচের স্তরে এর নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
- এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
- আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়।
- এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বর্গাচাষিদের অধিকার আদায়।
• তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ:
- জমির মালিক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ।
- বর্গাচাষীদের উপর জমিদার ও জোতদারদের শোষণ।
- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এবং এর পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট।
- ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ যা উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ চাষীদের দেয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
উল্লেখ্য,
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ সালে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এরকম চরম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা ঘোষণা করে।
- ঠিক এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু।
- প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাস 'বসু-সোহরাওয়ার্দী' প্রস্তাব নামে খ্যাত।
- ১৯৪৭ সালের ২৭শে এপ্রিল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাঁর বক্তব্যে স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং এর পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন।
- মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলা রাষ্ট্রের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- পরবর্তীকালে শরৎচন্দ্র বসু তাঁর এক প্রস্তাবে অখণ্ড বাংলাকে একটি 'সোস্যালিস্ট রিপাবলিক' হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
⇒ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রশাসন কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সরকার ও বাংলার ভূমি মালিকদের (সকল শ্রেণির জমিদার ও স্বতন্ত্র তালুকদারদের) মধ্যে সম্পাদিত একটি স্থায়ী চুক্তি।
- ঐদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির উপর চিরস্থায়ী মালিকানা প্রদান করে যে বন্দোবস্ত করা হয় তা-ই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে পরিচিত।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষক জমির উপর তাদের অধিকার হারায়।
- বিপরীতে জমির উপর জমিদারদের স্থায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ফলশ্রুতিতে জমিদারি প্রথা ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটে।
উৎস:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
জেনানা মিশন বাঙালি ও ভারতীয়দের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিতকরণের লক্ষ্যে ব্রিটেনে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্দোলন।
- এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল জেনানা অর্থাৎ অন্তপুরে গিয়ে নারী কর্তৃক নারীদের পাশ্চাত্য শিক্ষা দেওয়া এবং ওই শিক্ষার মাধ্যমে নারীর সনাতন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানো।
- বাংলা ও ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাঠদান এবং পরিশেষে নারীদেরকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করাই ছিল জেনানা মিশনের মুখ্য উদ্দেশ্য।
- মেরী জেইন কেনার্ড ছিলেন একজন খ্রিস্টান মিশনারি। ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতায় ১৮৫২ সালে তিনি ’জেনানা মিশন’ নামে নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ভারতে মহিলাদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে জেনানা মিশনই প্রথম ভারতে মহিলা ধর্মপ্রচারক প্রেরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- জেনানা মিশন চার্চ মিশনারি সোসাইটি (প্রতিষ্ঠিত. ১৭৯৯ সাল)-এর অঙ্গ সংস্থারূপে ভারতে ধর্মপ্রচার পরিচালনা করে।
- ১৮৬৪ সালে ভারতে জেনানা মিশনের নতুন নাম হয় Indian Female Normal and Instruction Society।
- ১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডে জেনানা মিশন নতুন কর্মকান্ড হিসেবে পাশ্চাত্য চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এর সঙ্গে মিশনের নতুন নামও দেওয়া হয় Zenana Bible and Medical Mission।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক বাংলার সর্বশেষ ( ১৮২৮-১৮৩৩) এবং ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ( ১৮৩৩-১৮৩৫) ছিলেন।
তার অবদানসমূহ-
- তিনি বাংলায় সর্বপ্রথম ‘জুরী ব্যবস্থার’ প্রবর্তন করেন।
- বেন্টিঙ্ক লর্ড মেকলের সহায়তায় আইন কমিশন গঠন করে ‘ইন্ডিয়ান পেনাল কোড’ তৈরি করেন।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরন আইন ( ১৮২৯ ) - রাজা রামমোহন রায় ও প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমর্থন ও সহায়তা লাভ করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- এছাড়া তৎকালীন হিন্দু রীতি অনুযায়ী দেবতাকে খুশি করার জন্য নিজের প্রথম সন্তানকে গঙ্গা নদীতে নিক্ষেপ ও বিবাহ দেয়ার অক্ষমতাহেতু নিজ শিশু কন্যাকে গলাটিপে হত্যা করার নিয়মও বেন্টিঙ্ক চিরতরে বন্ধ করে দেন।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা - ৯ম - ১০ম শ্রেনি এবং ইতিহাস প্রথম পত্র - এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধ জুড়ে ছিল রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের ধারা। দৃঢ়ভাবে সে ধারাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল হিন্দু কলেজের প্রতিভাবান ছাত্রবৃন্দ ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের মাধ্যমে । যার নেতৃত্বে ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ অধ্যাপক হেনরি লুইস ডিরোজিও।
- তিনি তাঁর ছাত্র-অনুসারীদের স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার শিক্ষা দেন।
- ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ডিরোজিও তাঁর স্কুল শিক্ষক ডেভিড ড্রামন্ডের প্রগতিবাদী, সংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ মানবতাবাদী চিন্তাধারা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- বাংলার ‘রেনেসাঁস’ যুগের এই প্রতিভাবান তরুণ মাত্র তেইশ বছর বয়সে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে গড়া অনুসারী, ছাত্ররা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন, রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যনার্জি প্রমুখ।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
দশসালা বন্দোবস্তো:
- ইংরেজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।
- এমতাবস্থায় লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংসকে কোম্পানির গভর্নর জেনারেল করে পাঠানো হয়।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান।
- অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত করেন।
- তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশকে গভর্নর জেনারেল নিয়োগ করা হয়।
- 'দশসালা বন্দোবস্ত' করেন লর্ড কর্নওয়ালিশ।১৭৯০ সালে তিনি 'দশসালা বন্দোবস্ত' প্রবর্তন করেন।
- কর্নওয়াশি ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ 'দশসালা বন্দোবস্ত'কে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' বলে ঘোষণা করেন।
অপরদিকে,
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পাঁচসালা বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আদায় করা।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সৈয়দ আমির আলি:
- সৈয়দ আমির আলি উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণ, ইসলামের আধুনিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. ও বি.এল. ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৮৭৩ সালে লন্ডনের লিংকন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।
•রাজনৈতিক অবদান:
- ভারতের প্রথম মুসলিম নেতা যিনি মুসলমানদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন।
- ১৮৭৭ সালে কলকাতায় সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন।
- মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা ও দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে পৌঁছানোর জন্য সংগঠিত প্রচেষ্টা শুরু করেন।
- ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে স্বাগত জানান এবং ১৯১২ সালে মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
সাহিত্যিক অবদান:
- The Spirit of Islam — ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক ব্যাখ্যা।
- A Short History of the Saracens — ইসলামের অতীত গৌরব তুলে ধরা।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৭৭৪–১৮৩৯)
- ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর-জেনারেল (১৮২৮–১৮৩৫)।
- তিনি শিক্ষা এবং সামাজিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
- ১৮৩৫ সালে ইংরেজি মাধ্যমিক শিক্ষা চালু করার নীতি ঘোষণা করেন।
- বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষাকে সরকারী শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করেন।
- কলকাতা মেডিকেল কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সাহায্য করেন।
- তাঁর পদক্ষেপ আধুনিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করে, তাই তাঁকে “Father of Indian Education” বলা হয়।
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ)
- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন — ভারতবর্ষের প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন।
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন বাংলার নারীশিক্ষার প্রবর্তক, জনহিতৈষী জমিদার, সমাজসেবক, লেখিকা এবং ভারতবর্ষের প্রথম নারী যিনি ‘নবাব’ উপাধি লাভ করেন।
জন্ম ও শিক্ষা:
• জমিদারি ও প্রশাসন:
- পিতার মৃত্যুর পর পশ্চিমগাঁও-এর জমিদারি এবং মাতুল সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে বিশাল জমিদারির মালিক হন।
- প্রজাবৎসল ও কর্মদক্ষ জমিদার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
•নারীশিক্ষা ও সমাজসেবা:
- ১৮৭৩ সালে কুমিল্লায় একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন — ভারত উপমহাদেশে বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যতম।
- পরবর্তীকালে এটি কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং নামকরণ করা হয় নবাব ফয়জুন্নেছা কলেজ।
- দরিদ্র নারীদের চিকিৎসার জন্য ফয়জুন্নেছা জেনানা হাসপাতাল ও দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন।
- জমিদারি এলাকায় বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ করেন।
• সাহিত্যকর্ম:
- আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস রূপজালাল।
- তত্ত্ব ও জাতীয় সংগীত, সংগীত সার ও সংগীত লহরী নামক গ্রন্থ রচনা করেন।
সমকালীন সংবাদপত্র ও সাময়িকী (বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃতি) আর্থিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
সম্মান ও স্বীকৃতি:
- ১৮৮৯ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন — ভারতবর্ষের প্রথম নারী হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন।
- ২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
নীল বিদ্রোহ:
- বাংলার কৃষকেরা ১৮৫৯-৬২ খ্রি. ইউরোপীয় নীলকরদের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক বিদ্রোহ সংঘটন করে।
- তারা সকলে একতাবদ্ধ হয়ে নীল চাষ বর্জন করার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- এই আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষকেরা সাফল্যের সাথে ইংরেজদের নীলভিত্তিক অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছিল।
- এই বিদ্রোহের ফলে নীল শিল্প ধ্বংস হয়ে যায় এবং বাংলার নীলকরেরা তাদের কুঠি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
⇒ ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে কাঁচামাল সংগ্রহের একটি ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয় ব্রিটেনের বাংলা উপনিবেশ। বস্ত্র শিল্পের রঞ্জক হিসেবে নীলের চাষ ও তা ইংল্যান্ডে রপ্তানি করে প্রচুর মুনাফার সম্ভাবনা সূত্র খুঁজে পায় নীলকরেরা। রায়তদের জোর করে নীল চাষে বাধ্য করে তারা। কিন্তু অলাভজনক হওয়ায় রায়তেরা নীলচাষে অনাগ্রহ প্রকাশ করে।
⇒ চরম অত্যাচার আর শোষণে বিপর্যস্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নীল চাষিরা ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রচণ্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। গ্রামে গ্রামে কৃষকরা সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। এই সব বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় নীল চাষিরাই।
- যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেনী মাধব নামে দুই ভাই।
- হুগলীতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার।
- নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই।
⇒ ১৮৬০ সালে সরকার 'ইন্ডিগো কমিশন' বা 'নীল কমিশন' গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।
- দীনবন্ধু মিত্রের লেখা 'নীলদর্পণ' নাটকের কাহিনী চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
উৎস: i) ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) Britannica.
iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
পলাশীর যুদ্ধ:
- পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ২৩ জুন ১৭৫৭।
- যুদ্ধের একপক্ষ ছিলেন বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা।
- অপরপক্ষ ছিল রবার্ট ক্লাইভ নেতৃত্বাধীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- যুদ্ধের ফলাফল: সিরাজুদ্দৌলা পরাজিত হন।
- এই যুদ্ধের ফলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়।
- এর পর বাংলায় প্রায় দুইশ বছরের ইংরেজ শাসন শুরু হয়।
- যুদ্ধের মাধ্যমে মীর জাফরকে নবাব বানানো হয়, যিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পুতুলশাসক হিসেবে কাজ করেন।
- পলাশীর যুদ্ধ ইতিহাসে ভূমিকম্প-সদৃশ পরিবর্তন সূচিত করে- রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে বাংলার শাসন ব্যর্থ হয়।
-এটি মুঘল শাসন অবসানের প্রাক্কালে বাংলার প্রধান ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (নবম–দশম শ্রেণি)।
→ সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয় ব্যারাকপুরে।
সিপাহি বিদ্রোহ:
- সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে মঙ্গলপাণ্ডে নামে এক সিপাহী কর্তৃক গুলি বর্ষণের মাধ্যমে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে।
- দ্রুত এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভারতের প্রায় সর্বত্র। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয় ।
- পরবর্তীতে তা ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
- তবে এ বিদ্রোহের ফলে ভারতে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে।
- ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার সরাসরি তার হাতে নিয়ে নেয়।
তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।