বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

মোট প্রশ্ন১,৪৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

PrepBank · পাতা / ১৫ · ৪০১৫০০ / ১,৪৯০

৪০১.
'পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে, দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে, দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত।  

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:

- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে। নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।

- এই গ্রন্থ সম্পর্কে সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'

উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন:
• ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে। দুর্বলের আধিপত্য অতি ভয়ংকর।
• মেনে নেওয়া আর মনে নেওয়া, এই দুইয়ের তফাৎ আছে।
• 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
অমিত,
লাবণ্য,
কেতকী,
শোভনলাল প্রমুখ।

উৎস: "শেষের কবিতা" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০২.
'যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হতে পারে, যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না'- উক্তিটি কে করেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'যারা কাজ করে তাদেরই ভুল হতে পারে, যারা কাজ করে না তাদের ভুলও হয় না।" - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

• অসমাপ্ত আত্মজীবনী:
- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও।
- আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।
-------------------
• অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে উদ্ধার করা বঙ্গবন্ধুর কিছু অমর বাণী:
- 'অন্ধ কুসংস্কার ও অলৌকিক বিশ্বাসও বাঙালির দুঃখের আর একটি কারণ' (পৃ: ৪৮)।
- 'নেতারা যদি নেতৃত্ব দিতে ভুল করে, জনগণকে তার খেসারত দিতে হয়' (পৃ: ৭৯)।
- 'আমার যদি কোনো ভুল হয় বা অন্যায় করে ফেলি, তা স্বীকার করতে আমার কোনোদিন কষ্ট হয় নাই' (পৃ: ৮০)।
- 'যে দেশের বিচার ও ইনসাফ মিথ্যার উপর নির্ভরশীল সেদেশের মানুষ সত্যিকারের ইনসাফ পেতে পারে কি না সন্দেহ!' (পৃ: ১৯০)।
- 'আমি মানুষকে মানুষ হিসাবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিষ্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ' (পৃ: ১৯১)।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৪০৩.
“ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে”—উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. কুসুমকুমারী দাশ  
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• “ঐ ক্ষেপেছে পাগলি মায়ের দামাল ছেলে”—উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের।
----------------------------- 
কামাল পাশা 
   - কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
“ঐ খেপেছে পাল্লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোক্সে সামাল সামাল তাই।
কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!”
-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
--------------------------------------------- 
• 'কামাল পাশা' কবিতা নিয়ে কিছু কথা:
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা ‘কামাল পাশা’ তাঁর অন্যতম বীররসাত্মক ও উদ্দীপনামূলক রচনা। এই কবিতাটি তাঁর কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা-এর অন্তর্গত। কবিতাটিতে তুরস্কের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক-এর বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও বিজয়গাথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মূলভাব হলো পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলা, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলা, আত্মত্যাগের মহিমা এবং মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিজয়োল্লাস। এই কবিতার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম মুক্তি, বিদ্রোহ ও মানবিক মর্যাদার চেতনাকে শক্তিশালী ভাষায় প্রকাশ করেছেন।

উৎস:
'কামাল পাশা' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪০৪.
"সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়া গেল |
অমিয়া-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল ||"
- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
"সুখের লাগিয়া                    এ ঘর বাঁধিনু
              অনলে পুড়িয়া গেল |
অমিয়া-সাগরে                    সিনান করিতে
                সকলি গরল ভেল ||"
-
পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা জ্ঞানদাস।

- চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জ্ঞানদাস।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন। 
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দু'শ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। 
- জ্ঞানদাস বাংলা ভাষাকে ভাব প্রকাশের উপযুক্ত বাহন করতে পেরেছিলেন। রচনার মধ্য দিয়ে তিনি শব্দচিত্র ও ধ্বনিচিত্র এ দুয়ের রূপায়ণে কৃতিত্বের পরিচয় দেন। বৈষ্ণবদের মধ্যে তিনিই প্রথম সার্থকভাবে দেহ ও মন, রূপ ও স্বরূপের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করেন। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০৫.
"দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর।
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।" - উক্তিটি কোন লেখকের সাহিত্যকর্মে পাওয়া যায়?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• "দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর্।
   ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।” - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসে, অমিত লাবণ্যকে উক্ত লাইন দুটি শোনায়।

'শেষের কবিতা' উপন্যাস:

- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, শেষের কবিতা উপন্যাস।

৪০৬.
'প্রমীলা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. শ্রীকান্ত
  3. পল্লীসমাজ
  4. চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
বড়দিদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়দিদি
ব্যাখ্যা
• ‘বড়দিদি’ উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' (১৯০৭)।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মাধবী,
- সুরেন্দ্রনাথ,
- ব্রজরাজ,
- প্রমীলা।

অন্যদিকে,
• ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।
• ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
• ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০৭.
"সাফিয়া এবং তোরাব আলী" সেলিনা হোসেন রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. জলোচ্ছ্বাস
  2. নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  3. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  4. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোকামাকড়ের ঘরবসতি
ব্যাখ্যা
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে শাহপরি দ্বীপ নামক এক ছোটো দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মালেক, সাফিয়া, তোরাব আলী প্রমুখ।

সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০৮.
'মহুয়া' পালার চরিত্র নয় কোনটি?
  1. নদের চাঁদ
  2. হুমরা বেদে
  3. কমলা
  4. সাধু
সঠিক উত্তর:
কমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলা
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা: 
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
•'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই। 
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
- ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০৯.
'জাহিদুল কবির' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. জীবন আমার বোন
  2. জলাঙ্গী
  3. আগুনের পরশমণি
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- মুরাদ,
- রহমান,
- ইয়াসিন,
- রঞ্জু প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কালো বরফ, 
- জীবন আমার বোন
- অনুর পাঠশালা, 
- নিরাপদ তন্দ্রা, 
- অশরীরী, 
- চিক্কোর কাবুল, 
- খেলাঘর, 
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।
৪১০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র: সতীশ, সাবিত্রী, কিরণময়ী?
  1. চরিত্রহীন
  2. পল্লীসমাজ
  3. শ্রীকান্ত
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) চরিত্রহীন।

ব্যাখ্যা:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসে সতীশ, সাবিত্রী, এবং কিরণময়ী চরিত্রগুলো রয়েছে। এই উপন্যাসে সতীশ একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, সাবিত্রী হলেন তার স্ত্রী, এবং কিরণময়ী হলেন একটি কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র, যার জীবন ও সম্পর্কের জটিলতা গল্পের মূল বিষয়।
-----------------------
• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।

- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে। প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম — সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম — সুরবালা ও সরোজিনী। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উপন্যাসের চরিত্রগুলোর বর্ণনা:
সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ — সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কিছু উপন্যাসের চরিত্র: 
• 'দেবদাস' উপন্যাসের চরিত্র- দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমূখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।
- 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের চরিত্র - রমা, রমেশ, বললাম, বেণী।
• 'দত্তা' উপন্যাসের চরিত্র- বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, বনমালী।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র - ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অভয়া, গহর প্রমুখ।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র - সুরেশ, মহিম, অচলা।
- 'পথের দাবী' উপন্যাসের চরিত্র - ভারতী, সব্যসাচী ওরফে ডাক্তার সাহেব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪১১.
কোনটি ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. সতীশ
  2. কিরণময়ী
  3. সাবিত্রী
  4. সব্যসাচী
সঠিক উত্তর:
সব্যসাচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব্যসাচী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) সব্যসাচী

চরিত্রহীন:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে উল্লেখিত চরিত্রগুলো হলো: সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- জন্ম: ১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬, দেবানন্দপুর, হুগলি।
- প্রথম উপন্যাস: বড়দিদি।
- প্রথম প্রকাশিত গল্প: মন্দির (১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ)।
- রাজনৈতিক উপন্যাস: পথের দাবী (১৯২৬), যা ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

প্রধান রচিত উপন্যাসসমূহ:
- দোনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়। 

অন্যদিকে, পথের দাবী উপন্যাসের উল্লেখিত চরিত্র হচ্ছে সব্যসাচী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪১২.
'এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়' পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) হেলাল হাফিজ
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) হেলাল হাফিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিটি হেলাল হাফিজ এর ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ কাব্যগ্রন্থের 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' কবিতার অন্তর্গত- 
কবিতাটি নিম্নরূপ - 
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
মিছিলের সব হাত/কণ্ঠ/পা এক নয়।" 

- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি সংস্করণ হয়েছে। যা এর আগে বাংলাদেশের কোনো কবিতার বইয়ের বেলায় ঘটেনি।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ-
- যে জলে আগুন জ্বলে (১৯৮৬)
- কবিতা ৭১ (বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়, একুশে বইমেলা ২০১২)
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা (২০১৯)

উৎস: যে জলে আগুন জ্বলে, হেলাল হাফিজ।
৪১৩.
'অবশেষে সব কাজ সেরে,
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস।' - উক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) পূর্বাভাস
  2. খ) হরতাল
  3. গ) অভিযান
  4. ঘ) ছাড়পত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছাড়পত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছাড়পত্র
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত উক্তিটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পর রচিত হয়।
- বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় গ্রন্থ।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং একই বছর 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪১৪.
'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'- বিখ্যাত উক্তিটি কার রচনায় উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. সেলিম আল দীন 
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'। অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।

- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।

অন্যদিকে, 
হরগজ ও কেরামতমঙ্গল সেলিম আল দীন রচিত নাটক। 

---------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪১৫.
'বদিউল আলম' - চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. আগুনের পরশমণি
  3. জোছনা ও জননীর গল্প
  4. অনীল বাগচীর একদিন
সঠিক উত্তর:
আগুনের পরশমণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা

‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক।
- এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪১৬.
‘আয়েশা ও বিমলা‘ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. মৃণালিনী
  4. যুগলাঙ্গুরীয়
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- দুর্গেশনন্দিনী শব্দের অর্থ প্রধানের কন্যা।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘মৃণালিনী’ চরিত্র: হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
• ‘বিষবৃক্ষ’ চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।

-------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. তিলোত্তমা
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. কুন্দনন্দিনী
  4. মৃণালিনী
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিলোত্তমা
ব্যাখ্যা
• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬)।
- উপন্যাসের চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- কাপালিক পালিতা কন্যা কপালকুণ্ডলার সাথে নবকুমারের বিয়ে এবং সমাজ বন্ধনের দ্বন্দ্বই এ উপন্যাসের মূলকাহিনি।

• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' তাঁর একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল সমসাময়িক বাঙালি হিন্দু সমাজের দুটি প্রধান সমস্যা- বিধবা বিবাহ ও বহুবিবাহ প্রথা।
- বিষবৃক্ষের প্রধান চরিত্রসমূহ: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী।

• ‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৮.
'বছির, আজহার' জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বোবা কাহিনী
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. পদ্মাপাড়
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা

• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

---------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলো,
- বালুচর,
- রূপবতী, ইত্যাদি।

• নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া।

• শিশুতোষ রচনা:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪১৯.
"অমল, ভূপতি" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. নষ্টনীড়
  3. একরাত্রি
  4. শাস্তি
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

• 'অমল; ভূপতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পের চরিত্র। 

-------------------
• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'। 
------------------ 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলা ছোটোগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে, 
গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।

• প্রেমের গল্প হিসেবে: 
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে: শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

 • অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'নষ্টনীড়' গল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।

৪২০.
'সই, কেমনে ধরিব হিয়া? আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া।' - উক্তিটি কার?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
'আমারি বধূয়া আন বাড়ি যায়, আমারি আঙিনা দিয়া।'- লাইনটির রচয়িতা 'দ্বিজ চণ্ডীদাস'।
- চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন। 

 চণ্ডীদাসরে বিখ্যাত উক্তি:
'সই, কেমনে ধরিব হিয়া?

আমার বঁধূয়া আন বাড়ি যায়
আমার আঙিনা দিয়া।'

মধ্যযুগে বাংলা কাব্যে অন্তত চারজন চন্ডীদাসের কবিতা পাওয়া যায়।
তারা হলেন: 
- বড়ু চণ্ডীদাস
- দ্বিজ চণ্ডীদাস
- দীন চণ্ডীদাস
- চণ্ডীদাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২১.
'সব্যসাচী' - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গৃহদাহ
  2. চরিত্রহীন
  3. পথের দাবী
  4. দেবদাস
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
ব্যাখ্যা
'পথের দাবী' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - 'পথের দাবী'।
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র - মহিম, সুরেশ এবং অচলা।
- 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের চরিত্র - সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী।
- 'দেবদাস' উপন্যাসের চরিত্র - দেবদাস, পার্বতী, চন্দ্রমূখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।
৪২২.
"গ্রহণের সূর্যকে জন্তুরা ভয় করে, পূর্ণ সূর্যকে ভয় করে না।" - উক্তিটি কোন রচনার?
  1. কুহেলিকা 
  2. রক্তকরবী
  3. আমার পথ 
  4. রাজবন্দীর জবানবন্দী
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

• "গ্রহণের সূর্যকে জন্তুরা ভয় করে, পূর্ণ সূর্যকে ভয় করে না।" - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রক্তকরবী' নাটকের।

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত।
- তখন এর নামকরণ হয়েছিল যক্ষপুরী।
- ১৩৩০ সনের আশ্বিন মাসে যখন প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় তখন এর নাম হয় রক্তকরবী।
- মানুষের অসীম লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্র ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত করেছে এবং এর ফলে তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কীরূপ ধারণ করেছে এরই প্রতিফলন ঘটেছে এ নাটকটিতে।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নন্দিনী,
- রঞ্জন।

• 'রক্তকরবী' নাটকের: সংক্ষিপ্ত কাহিনী:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ নাটকে য— ক্ষপুরীর রাজার অর্থলোভ ও প্রজাশোষণের চিত্র ফুটে উঠেছে। রাজা সোনার খনির কুলিদের মানুষ হিসেবে নয়, শুধুমাত্র উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে দেখেন। এই যান্ত্রিকতায় মানুষের প্রেম, সৌন্দর্য ও মনুষ্যত্ব পীড়িত। নন্দিনী, প্রেম ও জীবনের প্রতীক, যক্ষপুরীর শোষণের বিরুদ্ধে আনন্দের দূত হয়ে আবির্ভূত হন। তিনি সবাইকে মুক্ত জীবনের দিকে আহ্বান করেন। রাজা শক্তির জোরে নন্দিনীকে পেতে চান, কিন্তু প্রেম ও সৌন্দর্য জয় করা যায় না। রঞ্জন, নন্দিনীর প্রেমাস্পদ, যান্ত্রিকতার শিকার হয়ে নিঃশেষিত হয়। তবু নাটক জীবনের প্রাণশক্তির জয় ও যান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে মানবিকতার সামঞ্জস্যের বার্তা দেয়।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; রবীন্দ্র রচনাবলী; 'রক্তকরবী' নাটক।

৪২৩.
"কিশোর, সুবল" চরিত্রগুলো কোন রচনার?
  1. পদ্মা নদীর মাঝি
  2. তিতাস একটি নদীর নাম
  3. কাঁদো নদী কাঁদো
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
তিতাস একটি নদীর নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ।
- উপন্যাসের চরিত্র - কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী

অন্যদিকে,
- '‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
 - কুবের, কপিলা, মালা, হোসেন মিয়া, ধনঞ্জয়, শীতলবাবু।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'কাঁদো নদী কাঁদো'। 
- উপন্যাসের চরিত্র - মুস্তফা, তবারক, খোদেজা, বদর শেখ, খেদমতুল্লা, কালু মিয়া ইত্যাদি। 

• আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসের চরিত্র:
- ফজল, এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জঙ্গুরুল্লা, জরিনা, রুপজান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৪.
'মধুসূদন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের নায়ক?
  1. যোগাযোগ
  2. গোরা
  3. রাজর্ষি
  4. নৌকাডুবি
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
• 'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

অন্যদিকে,
• 'গোরা' উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী।
• 'রাজর্ষি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: ইন্দ্রনারায়ন, পুরোহিত বিল্বন, হাসি ও তাতা।
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যোগাযোগ' উপন্যাস।
৪২৫.
‘বালক অপু’ কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. দৃষ্টি প্রদীপ
  2. ইছামতী
  3. পথের পাঁচালী
  4. আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা

⇒ পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়।  গ্রন্থকারে প্রকাশিত হয় সজনীকান্ত দাসের রঞ্জন প্রকাশনালয়, কলকাতা থেকে।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ: বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো- 
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪২৬.
"আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।" - কবিতাংশটুকু রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• "আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।" - কবিতাংশটুকু 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' রচনা করেন। কবিতাটি 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
 
১৪০০ সাল
  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
 
আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।
আজি নববসন্তের প্রভাতের আনন্দের
লেশমাত্র ভাগ--
আজিকার কোনো ফুল, বিহঙ্গের কোনো গান,
আজিকার কোনো রক্তরাগ
অনুরাগে সিক্ত করি পারিব না পাঠাইতে
তোমাদের করে
আজি হতে শতবর্ষ পরে।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪২৭.
'তিলোত্তমা' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৮.
"বিষাদ সিন্ধু" উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ইয়াজিদ
  2. ইমাম হোসেন
  3. মাওয়ান
  4. ইব্রাহিম কার্দি
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম কার্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম কার্দি
ব্যাখ্যা

ইব্রাহিম কার্দি বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের চরিত্র নয়।
- মুনীর চৌধুরী রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র ইব্রাহিম কার্দি ।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের চরিত্র: ইয়াজিদ, ইমাম হোসেন, মাওয়ান, ইমাম হাসান, জোবেদা ইত্যাদি।
- এটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস ।

মীর মশাররফ হোসেন এর অন্যান্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- মোসলেম বীরত্ব
- গড়াই ব্রিজ বা গৌরী সেতু 

উপন্যাস:
- রত্নাবতী
- বিষাদ সিন্ধু
- গাজী মিয়ার বস্তানী

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪২৯.
বিখ্যাত ‘ফটিক’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• বিখ্যাত ‘ফটিক’ চরিত্রের স্রষ্টা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• “ছুটি” গল্প:

- “ছুটি” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি ছোটগল্প।
- এটি ১২৯৯ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে রচিত। এবং ১৮৯২ সালে 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের ‘গল্পগুচ্ছ’ গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- ছোট গল্পটির নায়ক বালক ‘ফটিক’, তাকে ঘিরেই গল্প বিকাশিত হয়েছে।

• গল্পের সারসংক্ষেপ:
বালকদিগের সর্দার ফটিক প্রকৃতি লালিত এক বালক, স্বভূমিচ্যুত হয়ে নাগরিক পরিবেশে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে। সেখানকার প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রীতিহীন পরিবেশ তাকে অস্থির করে তোলে। সে সেখানে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। অবশেষে এক বর্ষাস্নাত দিনে জ্বরাক্রান্ত শরীরে বাড়ি যাবে বলে বেরিয়ে পড়ে। প্রচণ্ড জ্বর বিকার গ্রস্ত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আনে। সে মামার কাছে বাড়ি যাবার বায়না ধরলে তিনি জানান পূজার ছুটিতে বাড়ি যাবেন। বিকারের ঘোরে সে কথা বলতে থাকে। মা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলে, ফটিক আস্তে আস্তে পাশ ফিরিয়া কাহাকেও লক্ষ্য না করিয়া মৃদুস্বরে কহিল, “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।”
এ ছুটি চিরকালের ছুটি।

উৎস: ছুটি (ছোটগল্প) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৪৩০.
“এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্তটাই পরিপূর্ণ সত্য। মিথ্যার অস্তিত্ব যদি কোথাও থাকে, তবে সে মনুষ্যের মন ছাড়া আর কোথাও না।” - শরৎচন্দ্রের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. দেনা-পাওনা
  2. দেবদাস
  3. শ্রীকান্ত
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের প্রথম পর্বের অংশবিশেষ:
সোনা মনে করিয়া তাহাকে সিন্দুকে বদ্ধ করিয়া রাখিলেও তাহার সত্যকার মূল্য বৃদ্ধি হয় না, আর পিতল বলিয়া টান মারিয়া বাহিরে ফেলিয়া দিলেও তাহার দাম কমে না। সেদিনও সে পিতল, আজও সে পিতলই। তোমার মিথ্যার জন্য তুমি ছাড়া আর কেহ দায়ীও হয় না, ভ্রূক্ষেপও করে না।
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্তটাই পরিপূর্ণ সত্য। মিথ্যার অস্তিত্ব যদি কোথাও থাকে, তবে সে মানুষের মন ছাড়া আর কোথাও নয়। সুতরাং এই অসত্যকে ইন্দ্র যখন তাহার অন্তরের মধ্যে জানিয়া হোক, না জানিয়া হোক, কোন দিন স্থান দেয় নাই, তখন তাহার বিশুদ্ধ বুদ্ধি যে মঙ্গল এবং সত্যকেই পাইবে, তাহা ত বিচিত্র নয়।
----------------
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।
৪৩১.
শওকত আলী রচিত 'রনজু' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. উত্তরের খেপ
  2. পিঙ্গল আকাশ
  3. যাত্রা
  4. ওয়ারিশ
সঠিক উত্তর:
ওয়ারিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা

'ওয়ারিশ' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ
- যাত্রা
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৩২.
“শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদবুদ,
স্মৃতি গন্ধে ভরপুর একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং ।” - লাইনগুলোর রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

আলোচ্য পঙক্তিটি কবি শামসুর রাহমানের কবিতা ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ থেকে নেয়া হয়েছে ।
শামসুর রহমান ১৯২৯ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ।
বাংলাদেশের সমকালীন কবিদের মধ্যে তাকে শ্রেষ্ঠ মনে করা হয় ।
তিনি ২০০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন ।
তার কাব্যগ্রন্থ :
- বন্দী শিবির থেকে (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- একফোঁটা কোমল অনল
- নিজ বাসভূমে
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
- বিধ্বস্ত নীলিমা

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

৪৩৩.
‘সুরজিত নন্দী’ নুরুল মোমেন রচিত কোন নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. নয়া খান্দান
  2. নেমেসিস
  3. বহুরূপা
  4. রূপলেখা
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেমেসিস
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী।

--------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪৩৪.
‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকের অন্তর্গত চরিত্র কোনটি?
  1. দেবযানী
  2. ধনদাস
  3. বিভীষণ
  4. প্রমীলা
সঠিক উত্তর:
ধনদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধনদাস
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।
• ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

----------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৩৫.
‘যাত্রা’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কে?
  1. মুনির
  2. অধ্যাপক রায়হান
  3. হায়দার
  4. রাশেদ
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাপক রায়হান
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- "যাত্রা" উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রির পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতা, ঢাকা শহরের গণহত্যা, প্রতিরোধ সংগ্রাম, এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।  
- যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন। একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাত্রা' উপন্যাস।
৪৩৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে “সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি” বলে অভিহিত করেছেন?
  1. চণ্ডীদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
♦ চণ্ডীদাস:
-  চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৪৩৭.
'স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে
পানি টলটল মেঘনা নদীর কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।' - পঙ্‌ক্তিগুলো কে রচনা করেছেন?
  1. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. শামসুর রাহমান
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. গাজী মাজহারুল আনোয়ার
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে,
পানি টলটল মেঘনা নদীর কাছে,
আমার অনেক ঋণ আছে।' - পঙ্‌ক্তিগুলো রচনা করেছেন - শামসুর রাহমান। 
- পঙ্‌ক্তিগুলো 'স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে' নামক কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।  

স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে - কবিতা, 
- শামসুর রাহমান। 

স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে
পানি টলটল মেঘনা নদীর কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।
বকের ডানায় ছাওয়া চরের কাছে
চাঁদ জাগা বাঁশ বাগানের কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।।

যখন হাওয়ায় উড়ে কালো হলদে পাখি
আমি কেবল মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকি
উড়ন্ত ঐ পাখির মালার কাছে
আমার অনেক ঋণ আছে।। (সংক্ষেপিত) 
----------------------- 
শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়। 

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪৩৮.
'সাবিত্রী ও কিরণময়ী' - চরিত্র দুটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. বড়দিদি
  2. শেষের পরিচয়
  3. চরিত্রহীন
  4. শ্রীকান্ত
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে।
- প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।
- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে। তার মধ্যে দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।
৪৩৯.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে কোন চরিত্রকে সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. চাঁদ সওদাগর
  2. মনিরাম
  3. কৃষ্ণ
  4. লক্ষিন্দর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সওদাগরকে সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। 
-------------------------------------------------
• মনসামঙ্গল:
- মনসামঙ্গল বাংলা মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যধারার সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় ধারা।
- ‘মনসামঙ্গল কাব্য’-এর আদি কবি কানহরিদত্ত হলেও শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃত বিজয়গুপ্ত।
- বিজয়গুপ্ত ‘পদ্মপুরাণ’ নামে এই কাব্য রচনা করেন।
- এখানে দেবী মনসার জন্ম ও চাঁদ সওদাগরের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এছাড়া এটি সর্পদেবী মনসার পূজা প্রতিষ্ঠা, তাঁর মাহাত্ম্য, শক্তি ও মানবজীবনে তাঁর প্রভাবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে।

- কাহিনীর মূল চরিত্র চাঁদ সওদাগর।
- তিনি প্রথমে মনসাকে তুচ্ছ করলেও পরে দেবীর অলৌকিক শক্তি স্বীকার করে নেন।
- এই বিরোধ, সংকট ও গ্রহণের মধ্য দিয়েই কাব্যের গল্প এগোতে থাকে।
- মনসামঙ্গলে কেবল পৌরাণিক আখ্যানই নয়, সমাজবাস্তবতার দিকও প্রকাশ পেয়েছে।
- চাঁদ ও মনসার দ্বন্দ্বে আর্য–অনার্য সংঘাত, দেব–মানব বিরোধ, এবং সমাজের শ্রেণী-বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছিল।

- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
• দেবী মনসা,
• চাঁদ সওদাগর,
• বেহুলা,
• লক্ষিন্দর,
• সনকা ও
• নেতাইধোপানি।

- মধ্যযুগের সাহিত্যে চাঁদ সওদাগর সর্বাধিক প্রতিবাদী পুরুষ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত। 
- আর বেহুলা সেই যুগের সর্বাধিক প্রতিপ্রাণা নারী চরিত্র— যিনি স্বামীর প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন। 

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম; 
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ। 

৪৪০.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র কোনটি? 
  1. মুনিম 
  2. তপু 
  3. রায়হান 
  4. অপু
সঠিক উত্তর:
মুনিম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনিম 
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাগুন আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুনিম
-আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

• জহির রায়হান রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৪১.
'নলিনাক্ষ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গোরা
  2. দুই বোন
  3. নৌকাডুবি
  4. রাজর্ষি
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা
• 'নলিনাক্ষ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের চরিত্র।

নৌকাডুবি:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- মূল চরিত্র: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ, অন্নদাবাবু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'গোরা' উপন্যাসের চরিত্র - গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, পানুবাবু, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী প্রমুখ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'দুই বোন' উপন্যাসের চরিত্র - শশাঙ্ক, শর্মিলা, ঊর্মিলা প্রমুখ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'রাজর্ষি' উপন্যাসের চরিত্র - গোবিন্দমাণিক্য, পুরোহিত রঘুপতি, হাসি, তাতা, জয়সিংহ, নক্ষত্র রায় প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪৪২.
রাধা ও বড়াই চরিত্র দুটি কোন কাব্যে পাওয়া যায়?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই
- রাধা কৃষ্ণের মাঝে সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক চরিত্র বড়াই।

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা ভাষার মধ্যযুগের প্রাচীনতম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং পুঁথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘরের টিনের চালার নিচ থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে প্রকাশিত হয়।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য মোট ১৩টি খণ্ড ও ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।

• খণ্ডগুলো হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড,
- যমুনাখণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও
- বিরহখণ্ড।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৩.
'কিন্তু মঙ্গল আলোকে আমার শুভ উৎসব উজ্জ্বল হইয়া উঠিল।' - উদ্ধৃতাংশটি রবি ঠাকুরের কোন গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. কাবুলিওয়ালা
  2. পোস্টমাস্টার
  3. জন্মভূমি
  4. হৈমন্তী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কাবুলিওয়ালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুলিওয়ালা
ব্যাখ্যা
• কাবুলিওয়ালা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সামাজিক ছোট গল্প - কাবুলিওয়ালা।
- এই গল্পের শেষ লাইন - কিন্তু মঙ্গল আলোকে আমার শুভ উৎসব উজ্জ্বল হইয়া উঠিল।
- এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র - রহমত, খুকী প্রমুখ।
------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প গুলো হলো:
- ভিখারিণী,
- দেনা-পাওনা,
- শেষকথা,
- পোস্টমাস্টার,
- ছুটি,
- সমাপ্তি,
- কাবুলিওয়ালা,
- ক্ষুধিত পাষাণ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪) কাবুলিওয়ালা ছোটগল্প।
৪৪৪.
'ধনপতি - লহনা - খুলনার কাহিনী' কোন কাব্যের সাথে সম্পর্কিত?
  1. বৈষ্ণপ পদাবলি
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 'চন্ডীমঙ্গল কাব্য' -এর শ্রেষ্ঠ কবি।
- মুকুন্দরাম চন্ডীমঙ্গল কাব্যটি জমিদার রঘুনাথের অনুরোধে লিখেন।

চন্ডীমঙ্গলের কাহিনী ২টি।
যথা -
- কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী,
- ধনপতি - লহনা - খুলনার কাহিনী।

চন্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রথম অংশের চরিত্র:
- কালকেতু, ফুল্লরা, কলিঙ্গের রাজা, মুরারি শীল, ভাঁড়ুদত্ত।

চন্ডীমঙ্গল কাব্যের দ্বিতীয় অংশের প্রধান চরিত্র:
- ধনপতি সওদাগর, লহনা, খুলনা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪৫.
“পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” - উক্তিটি কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) আর কতদিন
  2. খ) একুশের গল্প
  3. গ) আরেক ফাল্গুন
  4. ঘ) হাজার বছর ধরে
সঠিক উত্তর:
খ) একুশের গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) একুশের গল্প
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে 'একুশের গল্প' অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত গল্পের প্রধান চরিত্র তপু ও রেণু।
- “পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” - 'একুশের গল্পে' রেণুর অশ্রুর কথা বলা হয়েছিল।

'একুশের গল্প' - এর মূল্ভাব:
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে। তার কঙ্কাল মেডিক্যাল পড়ুয়া এক বন্ধু আবিস্কার করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৬.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসের নায়ক- 
  1. আদিত্য
  2. গোবিন্দলাল
  3. মধুসূদন
  4. অমিত
সঠিক উত্তর:
অমিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিত
ব্যাখ্যা

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- অমিত রায় 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের নায়ক। 

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 

অন্যদিকে,
• আদিত্য -'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র। 
• যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র - মধুসূদন প্রমুখ।
• ''কৃষ্ণকান্তের উইল'' উপন্যাসের চরিত্র - গোবিন্দলাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'শেষের কবিতা' উপন্যাস।

৪৪৭.
“সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি” - উক্তিটি কোন কবির?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

- জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ কবি ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪৮.
বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ' এর স্রষ্টা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র- 'ইন্দ্রনাথ'।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৪৯.
”ইন্দ্রনাথ” কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. দেনাপাওনা
  2. দেবদাস
  3. পল্লীসমাজ
  4. শ্রীকান্ত
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৫০.
"সুচরিতা এবং আনন্দময়ী" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. গোরা
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।
 
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে-বাইরে,
- চার অধ্যায়,
- মালঞ্চ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫১.
"মজিদ" চরিত্রটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

'লালসালু' উপন্যাস: 
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস 'লালসালু'। এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 

লালসালু উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- মজিদ,
- জমিল,
- আমেন,
- খালেক ব্যাপারি,
- রহিম,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪৫২.
'ওসমান গণি' কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. খােয়াবনামা
  2. দোজখের ওম
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. খোয়ারি
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস।
• কোনো বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে একজন সাধারণ মানুষের মিলতে সক্ষম হওয়ার গল্প এটি।
• একটি বিশেষ সময়ে জনজীবনের সমগ্রতাকে, বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি কোণের মানুষকে লেখক এ উপন্যাসে অত্যন্ত সুচারুভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
• 'চিলেকোঠার সেপাই' ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে 'রোববার' নামের সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১৯৮৬/৮৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসমান গণি দেশবিভাগের কারণে উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসে।
• ওসমানের বাবা থেকে যান ভারতে, বাবা বেঁচে আছে কি না তা-ও জানে না সে। সবকিছু থেকে সে এতটাই বিচ্ছিন্ন আর ছিন্নমূল যে ঢাকার ঘিঞ্জি গলির মধ্যে এক বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করাই তার জন্য যথাযথ হয়।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার,
- আলাউদ্দিন,
- আলতাফ,
- হাড্ডি খিজির,
- রানু প্রমুখ।

-------------------------------- 
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: 
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। 
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫৩.
"সুখ যায় স্মৃতি যায় না, ক্ষত ভালো হয় দাগ যায় না, মানুষ যায় নাম থাকে"-এই উক্তিটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কপালকুণ্ডলা 
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল 
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকান্তের উইল 
ব্যাখ্যা

• "সুখ যায় স্মৃতি যায় না, ক্ষত ভালো হয় দাগ যায় না, মানুষ যায় নাম থাকে", উক্তিটি  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে। 
---------------------------------------------------------------
কৃষ্ণকান্তের উইল: 
- "সুখ যায়, স্মৃতি যায় না; ক্ষত ভালো হয়, দাগ ভালো হয় না; মানুষ যায়, নাম থাকে" - এই উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কৃষ্ণকান্তের উইল'-এর একটি অংশ।
- গোবিন্দলাল ভ্রমরকে ভুলতে না পেরে এই উক্তিটি নিজের মনের ভাব হিসেবে প্রকাশ করছেন। 

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কৃষ্ণকান্তের উইল একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো হলো- কৃষ্ণকান্ত, গোবিন্দলাল, তার স্ত্রী ভ্রমর, এবং সুন্দরী বিধবা রোহিনী।
- উপন্যাসটি ধনী জমিদার কৃষ্ণকান্তের সম্পত্তি বিভাজন ও এর ফলে পুত্র ও ভ্রাতুষ্পুত্রের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। - উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী, সম্পত্তি দখলের লোভ, সামাজিক কুসংস্কার এবং বিধবা রোহিণীর জীবন ফুটে উঠেছে। 
- সম্পত্তি, লোভ ও প্রেমের সঙ্গে সামাজিক নীতি ও মানবিক সম্পর্কের জটিলতাই এই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
---------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কানালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
- তার মৃত্যু ঘটে ১৮৯৪ সালে।
- তাঁর ছদ্মনাম কমলাকান্ত।
- তাঁর উপাধি — বাংলার স্কট, সাহিত্যসম্রাট, এবং আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক।
- বঙ্কিমের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হলো কপালকুণ্ডলা।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী।
- সাম্য তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ, এবং
- মানস ও ললিতা তাঁর কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস Rajmohan’s Wife (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
- বঙ্কিমের বিষবৃক্ষ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সামাজিক উপন্যাস।
- কৃষ্ণকান্তের উইল বঙ্কিমের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- কমলাকান্তের দপ্তর বঙ্কিম রচিত প্রবন্ধ সংকলন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলি হলো:
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- রাধারাণী,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- ইন্দিরা।
------------------------------------------------------ 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

৪৫৪.
'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন। কবিতাটি জসীম উদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫৫.
'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?'- পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাসে উক্তিটি কার?
  1. ডাক্তার পরশের
  2. গোপালের
  3. যাদব পণ্ডিতের
  4. ডাক্তার শশীর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার শশীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার শশীর
ব্যাখ্যা
• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত তৃতীয় উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। উপন্যাসটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। 

- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন-"সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।

- 'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?' উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
- শশী,
- কুসুম,
- গোপাল,
- সেনদিদি,
- যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৬.
‘সারেং বৌ’ উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র কোনটি?
  1. নবিতুন
  2. নীলা
  3. কদমী
  4. পরিনী
সঠিক উত্তর:
নবিতুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবিতুন
ব্যাখ্যা

‘সারেং বৌ’ উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র- নবিতুন।
-------------------------------------------------
'সারেং বৌ’:
- 'সারেং বৌ’ শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি বিখ্যাত উপন্যাস
- এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন তুলে ধরে।
- গল্পের মূল চরিত্র সারেং কদম এবং তার স্ত্রী নবিতুন।
- উপন্যাসে তাদের প্রেম, বিচ্ছেদ, দুঃখ-কষ্ট এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলার গল্প বলা হয়েছে।
- এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রেমকাহিনি নয়;
- বরং সমাজের প্রতিকূলতা, ত্যাগ ও নারীর সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলে।
- এখানে নারীর টিকে থাকার এবং লড়াই করার শক্তি ও ধৈর্যের চিত্র বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
--------------------------------------------------
শহীদুল্লাহ কায়সার:
- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
 ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

• পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। 
- এটি তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন দেশের জীবন, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে তুলে ধরে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘সারেং বৌ’,
- ‘সংশপ্তক’,
- ‘কৃষ্ণচূড়া মেঘ’,
- ‘তিমির বলয়’,
- ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’,
- ‘সমুদ্র ও তৃষ্ণা’,
- ‘চন্দ্রভানের কন্যা’,
- ‘কবে পোহাবে বিভাবরী’ (এবং অসমাপ্ত রচনা)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪৫৭.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসে চরিত্র কোনটি?
  1. খোকা, রঞ্জু
  2. আব্দুল, শিশির
  3. রতন, অপু
  4. নীলা, হোসেন
সঠিক উত্তর:
খোকা, রঞ্জু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খোকা, রঞ্জু
ব্যাখ্যা
• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির 'খোকা' নামের এক নির্লিপ্ত এবং জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- মুরাদ,
- রহমান,
- রঞজু,
- ইয়াসিন,
- জাহিদুল করিম,

• মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।
৪৫৮.
‍বিখ্যাত ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  4. সুনীল চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধতম সৃষ্টি হলো সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী।
- ১৯৩২ সালে 'পথের কাঁটা' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে ব্যোমকেশের আত্মপ্রকাশ।

-------------------
• শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৯-৯৭০):
- তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি লেখক।
- তাঁর জন্ম উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর শহরে নিজ মাতুলালয়ে।

তাঁর ব্যোমকেশ বক্সী সিরিজ:
- ব্যোমকেশের ডায়েরী,
- ব্যোমকেশের কাহিনী,
- ব্যোমকেশের গল্প,
- দুর্গরহস্য,
- চিড়িয়াখানা,
- আদিম রিপু,
- বহ্নি-পতঙ্গ,
- সসেমিরা,
- কহেন কবি কালিদাস,
- ব্যোমকেশের ছ'টি,
- ব্যোমকেশের ত্রিনয়ন,
- মগ্নমৈনাক,
- শজারুর কাঁটা,
- বেণীসংহার।

ঐতিহাসিক উপন্যাস:
- কালের মন্দিরা,
- গৌড়মল্লার,
- তুমি সন্ধ্যার মেঘ,
- কুমারসম্ভবের কবি,
- তুঙ্গভদ্রার তীরে,

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৫৯.
'ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা কে?
  1. অতুল মুখোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
'ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' - গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 

• 'সাজাহান' নাটক:

- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- গানটি রচনা করেন ডি. এল. রায়।
------------------------- 
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে ‘Lyrics of Ind’ (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬০.
'নির্জনতার কবি' এটি কার উপাধি?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৬১.
‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘ব্যাধি সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।’- উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর রচনা।

--------------------
• 'বইপড়া' প্রবন্ধ:

- 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
- ‘ব্যাধি সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।’
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানে বড় নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।’

-------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৬২.
‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।’উক্তিটি কার?  
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯)  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। 
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। 
• ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।’তাঁর বিখ্যাত উক্তি।

• গবেষণাগ্রন্থের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য এবং শিশুসাহিত্যের অনেক মৌলিক গ্রন্থও রচনা করেন। তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ অনুবাদ ও সম্পাদনাও করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

⇒ তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৬৩.
'বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে'- পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. সুকুমার রায়
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুকুমার রায়।
- এটি তাঁর 'জীবনের হিসাব' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

• সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'জীবনের হিসাব' কবিতা, সুকুমার রায়।
৪৬৪.
নিচের কোন সাহিত্যিকের রচনায় 'জয়গুন' কেন্দ্রীয় চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. আবু ইসহাক 
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ 
  4. জহির রায়হান 
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক 
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
--------------------
• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল,

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৬৫.
"জ্যাঠামশায়, শচীন, দামিনী ও শ্রীবিলাস"—এই চারটি চরিত্র রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসের?
  1. চার অধ্যায়
  2. যোগাযোগ 
  3. চতুরঙ্গ
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস - চতুরঙ্গ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক ‘সবুজপত্রে’ এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- জ্যাঠামশায়, 
- শচীশ, 
- দামিনী, 
- শ্রীবিলাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং চতুরঙ্গ উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৪৬৬.
‘ভীমসিংহ’ কোন নাটকের চরিত্র?
  1. পদ্মাবতী
  2. নীলদর্পন
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. জমিদার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন।  এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৭.
'বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!'- চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. আমার কৈফিয়ত
  2. দারিদ্র্য
  3. মানুষ
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
ব্যাখ্যা
• 'বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!'- চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার কৈফিয়ত' কবিতার অংশবিশেষ।
- 'আমার কৈফিয়ত' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আমার কৈফিয়ত,
--- কাজী নজরুল ইসলাম

বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!
--------------------------------------------
বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৬৮.
“মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়।” উক্তিটি কোন নাটক থেকে নেওয়া?
  1. স্বদেশ
  2. চিঠি 
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

“মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়।” উক্তিটি মুনীর চৌধুরী রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটক থেকে নেওয়া হয়েছে। 
---------------------
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।

- মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক থেকে নেওয়া উক্তিটি—
- “মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়।”
- এই উক্তিটি মানুষের জীবনের চিরন্তন সত্য এবং পরিবর্তনশীলতাকে তুলে ধরে। অর্থাৎ, মানুষ মৃত্যুর পর নিস্তব্ধ হয়ে যায়, কিন্তু জীবিত থাকলে তাঁর চরিত্র, আচরণ ও মনোভাব সময়, পরিস্থিতি বা কোনো কারণে বা অকারণে পরিবর্তিত হতে পারে। 
--------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪৬৯.
"কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর,
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরা-সুর।" - পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. শেখ ফজলল করিম
  3. আবদুল হাকিম
  4. ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
"কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর,
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরা-সুর।" - পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা শেখ ফজলল করিম

শেখ ফজলল করিম (১৮৮২-১৯৩৬): 
- কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক শেখ ফজলল করিমের জন্ম রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে, ৯ এপ্রিল ১৮৮২ সালে। 
- শেখ ফজলল করিমের অল্প বয়সের রচনা সরল পদ্য বিকাশ (১৮৯৪)।
- তিনি উর্দু গজলের ভাবাবলম্বনে রচনা করেন তৃষ্ণা (১৯০০)।
- তাঁর পরিত্রাণ (১৯০৩) কাব্য হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন নিয়ে রচিত।
- পরে তিনি রচনা করেন:
- ভগ্নবীণা (১৯০৪),
- প্রেমের স্মৃতি (১৯০৫),
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি (১৯১১),
- পথ ও পাথেয় (১৯১৩),
- গাথা (১৯২০),
- উচ্ছ্বাস প্রভৃতি খন্ড কবিতা ও আখ্যানমূলক কাব্য।

তাঁর আখ্যানধর্মী উপন্যাস- 
- লায়লী-মজনু ও
- হারুন-অর-রশিদ (১৯১৩) 

- বাঙালি মুসলমানের ভাষা নিয়ে সঙ্কটের সময় বাসনা পত্রিকা বাংলা ভাষার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
- হিন্দু-মুসলমান মিলনাকাঙ্ক্ষা ছিল এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য। হিন্দু-মুসলমান সঙ্কটের সময় শেখ ফজলল করিম রচনা করেন:
কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর,
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরা-সুর।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭০.
'নুরু এবং রবিউল' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. প্রলয়শিখা
  2. বাঁধন-হারা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা
‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- ১৯২১ সালে 'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭১.
"একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যথা"
- পঙক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. পাছে লোকে কিছু বলে
  2. হরতাল
  3. কবিতা মুকুল
  4. অমিয়ধারা
সঠিক উত্তর:
পাছে লোকে কিছু বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাছে লোকে কিছু বলে
ব্যাখ্যা
 'একটি স্নেহের কথা
প্রশমিতে পারে ব্যথা' - পঙক্তিদ্বয়  কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 

কামিনী রায় (১৮৬৪-১৯৩৩)
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য (১৮৯১),
- পৌরাণিকী (১৮৯৭),
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ, ১৯০৭),
- মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩),
- অশোকসঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪),
- অম্বা (নাটক, ১৯১৫),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮),
- ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪),
- দীপ ও ধূপ (১৯২৯),
- জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭২.
"ভক্তপ্রসাদ বাবু" চরিত্রটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
ব্যাখ্যা

'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ভক্তপ্রসাদ বাবু,
- পঞ্চানন বাচস্পতি,
- গদাধর,
- পুঁটি,
- ফতেমা প্রমুখ।

তাঁর রচিত অন্যান্য প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪৭৩.
”অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” এই উক্তিটি কোন বিখ্যাত লেখকের?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

⇒ ”অলীক কুনাট্যরঙ্গে মজে লোক রাঢ়েবঙ্গে/নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।” উক্তিটি  মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শর্মিষ্ঠা নাটকের  প্রথম সংস্করণের পুস্তকের প্রারম্ভে এই অংশ প্রস্তাবনা ছিল।

’শর্মিষ্ঠা’

- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• তাঁর রচিত নাটক :
- পদ্মবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা,

উৎস:
i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
ii) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
iii) শর্মিষ্ঠা নাটক।

৪৭৪.
'মহেন্দ্র' ও 'বিনোদিনী' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. ঘরে বাইরে
  2. যোগাযোগ
  3. চোখের বালি
  4. গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনীর ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৭৫.
" মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী":
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।

- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।

- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ ও প্রশ্ন।

- 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: " মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"

উৎস: ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ।
৪৭৬.
'কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত
  1. দারিদ্র্য
  2. ভাঙার গান
  3. সর্বহারা
  4. সিন্ধু-হিন্দোল
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু-হিন্দোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিন্ধু-হিন্দোল
ব্যাখ্যা
• 'কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি তাঁর 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত 'দারিদ্র্য' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

দারিদ্র্য,
--- কাজী নজরুল ইসলাম

হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্‌।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
----------------------------
টলটল ধরণীর মত করুণায়!
তুমি রবি, তব তাপে শুকাইয়া যায়
করুণা-নীহার-বিন্দু! ম্লান হ’য়ে উঠি
ধরণীর ছায়াঞ্চলে! স্বপ্ন যায় টুটি’
সুন্দরের, কল্যাণের। তরল গরল
কন্ঠে ঢালি’ তুমি বল, ‘অমৃতে কি ফল?
জ্বালা নাই, নেশা নাই. নাই উন্মাদনা,-
রে দুর্বল, অমরার অমৃত-সাধনা
এ দুঃখের পৃথিবীতে তোর ব্রত নহে,
তুই নাগ, জন্ম তোর বেদনার দহে।
কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!….
গাহি গান, গাঁথি মালা, কন্ঠ করে জ্বালা,
দংশিল সর্বাঙ্গে মোর নাগ-নাগবালা!….

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; সিন্ধু-হিন্দোল, কাজী নজরুল ইসলাম।
৪৭৭.
"দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর।
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।" - উক্ত ছত্রটি কোন সাহিত্যকর্মে পাওয়া যায়?
  1. গুপ্ত প্রেম
  2. ব্যক্ত প্রেম
  3. শেষের কবিতা
  4. মানসী
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
"দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর্।
   ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।”
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা উপন্যাসে, অমিত লাবণ্যকে উক্ত লাইন দুটি শোনায়।
- এ লাইন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়েছেন - ইংরেজ কবি John Donne এর 'The Canonization' কবিতার বিখ্যাত লাইন "For God's sake hold your tongue, and let me love" থেকে। 

উপন্যাসের অংশবিশেষ নিচে তুলে ধরা হলো -
এই দেখুন-না, আজ সকালে বসে হঠাৎ খেয়াল গেল, আমার জানা সাহিত্যের ভিতর থেকে এমন একটা লাইন বের করি যেটা মনে হবে এইমাত্র স্বয়ং আমি লিখলুম, আর কোনো কবির লেখবার সাধ্যই ছিল না!”
লাবণ্য থাকতে পারলে না, প্রশ্ন করলে, “বের করতে পেরেছেন?”
“হাঁ, পেরেছি।”
লাবণ্যর কৌতূহল আর বাধা মানল না, জিজ্ঞাসা করে ফেললে, “লাইনটা কী বলুন-না।”
“For God’s sake, hold your tongue
    and let me love!”
এর একটু পরেই John Donne এর এই ইংরেজি কবিতার লাইটির বাংলা অনুবাদ করে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন -
ডনের কাব্যমহল নির্জন, ওখানে দুটি মানুষ পাশাপাশি বসবার জায়গাটুকু আছে। তাই অমন স্পষ্ট করে শুনতে পেলুম আমার সকালবেলাকার মনের কথাটি–
 "দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর্।
   ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।”
-------------------------
শেষের কবিতা:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ)।
- ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তথা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কবিকাহিনী।
- রবীন্দ্রনাথের ''ভিখারিণী'' গল্পটি (১৮৭৭) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।
- তার প্রথম গীতিনাট্য বাল্মীকিপ্রতিভা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শেষের কবিতা উপন্যাস ও Poetryfoundation.
৪৭৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. যুবনাশ্ব
  2. চিত্রগুপ্ত
  3. এ নেটিভ
  4. পরশুরাম
সঠিক উত্তর:
এ নেটিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ নেটিভ
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে,
• রাজশেখর বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম - পরশুরাম।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
• মণীশ ঘটক ব্যবহৃত ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭৯.
শরৎচন্দ্রের 'বড়দিদি' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. মাধবী
  2. কিরণময়ী
  3. সাবিত্রী
  4. অন্নদিদি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাধবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধবী
ব্যাখ্যা
• "বড়দিদি" উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' (১৯০৭)। 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
সুরেন্দ্রনাথ খুব ধনী পরিবারের ছেলে; কিন্তু তার বিমাতার অযাচিত শাসন আর বন্ধন তাকে নিজ জীবনের সীমানার মধ্যেই রুদ্ধ করে রাখে। তাই একদিন সে এই বন্ধন ছিন্ন করে চলে যায় কলকাতা শহরে, অথচ সে নিজের খেয়াল নিজে কখনো রাখেনি এবং রাখতেও জানে না। কিন্তু সেখানে সে আশ্রয় পায় বড়দিদির বাড়িতে। বড়দিদি, অর্থাৎ মাধবী খুবই রূপবতী কিন্তু অল্প বয়সেই বিধবা হয়েছিল, তাই বাবার বাড়িতেই এখন তাঁর বসবাস। তাছাড়া বাড়ির গৃহিণীর কাজকর্ম সকল তার দ্বারাই সম্পন্ন হয়, সকলেই তাকে ডাকে ‘বড়দিদি’ বলে। সুরেন্দ্র তাকে কখনো দেখেনি অথচ তার স্থায়ীত্ব ছাড়া যেন সে একেবারে অচল..

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মাধবী,
- সুরেন্দ্রনাথ,
- ব্রজরাজ,
- প্রমীলা।

অন্যদিকে,
• 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

উৎস: "বড়দিদি" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮০.
'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'- সংলাপটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বহিপীর
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. সুড়ঙ্গ
  4. উজানে মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহর পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার ও সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আনে। আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে, সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ রচিত নাটকগুলো হলো-
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮১.
বিদ্রোহী বালিকা বধূ ‘জমিলা’ কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ী
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. লালসালু
  4. তিতাস একটি নদীর নাম
সঠিক উত্তর:
লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু
ব্যাখ্যা
‘লালসালু’ উপন্যাস:
‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।

কাহিনি সংক্ষেপ: 
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে বালিকা বধূ জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
 - আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

অন্যদিকে, 
- 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : কুবের , কপিলা , মালা , গণেশ , শীতলবাবু , হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের চরিত্র - কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৮২.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা' কার উপদেশ ছিল-
  1. ক) জোশুয়া মার্শম্যান
  2. খ) লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
খ) লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ প্রতিক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর পুনরাবৃত্তি উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা।' উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪৮৩.
"কুন্দনন্দিনী" বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।
- লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- বিষবৃক্ষ,
- কপালকুণ্ডলা,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৮৪.
"আরেফ আলী" সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. লালসালু
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. বহিপীর
  4. চাঁদের অমাবস্যা
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত "চাঁদের অমাবস্যা" একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৮৫.
‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।’- উক্তিটি কার রচনা?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
⇒ 'বইপড়া' প্রবন্ধ:
• 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
• এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।’

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৮৬.
"এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে। "- পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সত্যেন সেন
  4. সুকান্ত
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত
ব্যাখ্যা

• আঠারো বছর বয়স। 
       — সুকান্ত ভট্টাচার্য।

"আঠারাে বছর বয়স কী দুঃসহ
স্পর্ধায় নেয় মাথা তােলবার ঝুঁকি,
আঠারাে বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।" 

"আঠারাে বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নােয়াবার নয়
আঠারাে বছয় বয়স জানে না কাঁদা।"

"এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে ষ্টীমারের মতাে চলে,
প্রাণ, দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।" 
---------------------------------------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার মামার বাড়িতে, যা কলকাতার কালীঘাট এলাকায় অবস্থিত।
- তাঁর আদি নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়।
- তাঁর পিতার নাম নিবারণ ভট্টাচার্য এবং মাতার নাম সুনীতি দেবী।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- ‘কলম’।
----------------------------------------------------
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূলভাব:
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি মানবজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণকে চিত্রিত করেছেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কবিতা ‘আঠারো বছর বয়স’ ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- কবিতাটি তাঁর ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় তারুণ্যের শক্তি, বিদ্রোহ ও সম্ভাবনার চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই বয়স শৈশব–কৈশোর পেরিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সময়;
- যখন ভয় কমে গিয়ে দুঃসাহস ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা জাগে।
- তরুণরা অন্যায়ের প্রতিবাদে প্রস্তুত থাকে এবং সমাজের বাধা ভেঙে এগোতে চায়।
- তবে এই বয়সে শুভ–অশুভের দ্বন্দ্ব ও পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
- তবুও কবির বিশ্বাস, ব্যর্থতা অতিক্রম করে এই তারুণ্যই দেশ ও জাতির উন্নয়নের প্রধান শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪৮৭.
'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল?' চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. আহসান হাবীব
  4. মোহিতলাল মজুমদার
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'কোন দেশেতে তরুলতা/ সকল দেশের চাইতে শ্যামল?' চরণদ্বয় সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত 'কোন দেশে' কবিতার অন্তর্গত।

কোন্ দেশে
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

কোন্ দেশেতে তরুলতা
সকল দেশের চাইতে শ্যামল?
কোন্ দেশেতে চলতে গেলেই
দলতে হয় রে দুর্বা কোমল?
কোথায় ফলে সোনার ফসল,
সোনার কমল ফোটে রে?
সে আমাদের বাংলাদেশ,
আমাদেরই বাংলা রে!
(সংক্ষিপ্ত)

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- বাংলা সাহিত্যের ছন্দের জাদুকর (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপাধি দেন), ছন্দের রাজা, বাস্তববাদী কবি নামে সমধিক পরিচিত।
- ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা, 
- অভ্র ও আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত কবিতার লাইনসমূহ:
- মুধুর চেয়ে আছে মধুর\ সে আমার এই দেশের মাটি\ আমার দেশের পথের ধুলা খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি। (খাঁটি সোনা)
- জোটে যদি মোটে একটি পয়সা,/ খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি' /দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার/ ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী। (ফুলের ফসল)
- কালো আর ধলো বাহিরে কেবল/ ভিতরে সবারই সমান রাঙা। (মানুষ জাতি)।
- পালকি চলে/ পালকি চলে... /দুলকি চালে/ নৃত্য তালে! (পালকির গান)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৮৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ কোনটি?
  1. বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।
  2. পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?
  3. আমারে নিবা মাঝি লগে?
  4. সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
সঠিক উত্তর:
পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।

- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।

- উপন্যাসে নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে নায়িকা কপালকুণ্ডলা বলেছেন, "পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?" আর এই কথাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।

উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• শ্রীকান্ত উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'
• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি- "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
• হৈমন্তী গল্পের বিখ্যাত সংলাপ- "সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮৯.
"একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।" বিখ্যাত উক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য-
- "বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।"
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব।"
- "যে হারে, সেই রাগে।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪৯০.
'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?' বিখ্যাত উক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা':
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবকুমার।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র - কপালকুণ্ডলা, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৯১.
'জাগো বাহে কুণ্ঠে সবায়'- এই আহ্বানটি কোন বিখ্যাত চরিত্রের?
  1. ক) আলাউদ্দিন
  2. খ) ক্ষুদিরাম
  3. গ) সূর্যসেন
  4. ঘ) নুরুলদীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নুরুলদীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নুরুলদীন
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত অংশটুকু সৈয়দ শামসুল হক রচিত “নুরুলদীনের সারাজীবন” কাব্যনাট্য থেকে।
- নুরুলদীনের মুখ দিয়ে উদ্ধৃত সংলাপটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পায়।
- ১৭৮৩ সালে রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।

তার অন্যান্য কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- এখানে এখন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯২.
''লোকে কয়, কাঁঠাল সে পাকে নাকি কিলিয়ে?
বুদ্ধি পাকিয়ে তোলে লেখাপড়া গিলিয়ে।'' - উক্তিটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. শেখ ফজলুল করিম
  3. সুকুমার রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

"আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে,
কাঁচা ইঁট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে।
রোদে জলে টিকে রঙ পাকা কই তাহারে।
ফলারটি পাকা হয় লুচি দই আহারে।
হাত পাকে লিখে লিখে চুল পাকে বয়সে,
জ্যাঠামিতে পাকা ছেলে বেশি কথা কয় সে।
লোকে বলে কাঁঠাল সে পাকে নাকি কিলিয়ে?
বুদ্ধি পাকিয়ে তোলে লেখাপড়া গিলিয়ে!
কান পাকে ফোড়া পাকে, পেকে করে টন্‌টন্‌-
কথা যার পাকা নয় কাজে তার ঠন্‌ঠন্‌ ।
রাঁধুনী বসিয়ে পাকে পাক দেয় হাঁড়িতে,
সজোরে পাকালে চোখ ছেলে কাঁদে বাড়িতে।
পাকায়ে পাকায়ে দড়ি টান হয়ে থাকে সে।
দুহাতে পাকালে গোঁফ তবু নাহি পাকে সে।।"

কবিতার নাম - পাকাপাকি
কবি - সুকুমার রায়

৪৯৩.
“অপেক্ষাই জীবন। তার পরে সত্যি একদিন হয়ত কুসুম বনে এসে তরী ঠেকবে।”- উক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৌকাডুবি উপন্যাস থেকে নেওয়া।
----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক তথা দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হচ্ছেন ভারতবর্ষের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ।
- তিনি একাধারে একজন সব্যসাচী লেখক, কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীত রচয়িতা, গায়ক, অভিনেতা, শিক্ষাবীদ, চিত্রশিল্পী।
- কবির পরিবার ছিল- পিরালি ব্রাহ্মণ বংশের।
- মাত্র আট বছর বয়স থেকেই তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বকবি উপাধিতে অবিহিত করা হয়। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলো ‘বউঠাকুরানির হাট’। 
- তাঁর অগ্রন্থিত উপন্যাস হলো ‘করুণা’।
- রবীন্দ্রনাথের মোট ১৩টি উপন্যাস রয়েছে:
• চোখের বালি,
• গোরা,
• ঘরে বাইরে,
• শেষের কবিতা,
• নৌকাডুবি, 
• যোগাযোগ,
• দুই বোন,
• মালঞ্চ,
• চার অধ্যায়,
রাজর্ষি,
• প্রজাপতির নির্বন্ধ। 
---------------------------------------
• নৌকাডুবি: 
"অপেক্ষাই জীবন। তার পরে সত্যি একদিন হয়ত কুসুম বনে এসে তরী ঠেকাবে।
                   — নৌকাডুবি।  

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৌকাডুবি’ (১৯০৬) একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো রমেশ, কমলা, হেমনলিনী ও নলিনাক্ষ।
- ঝড়ের কারণে নৌকাডুবির পর দুটি দম্পতির জীবনের পরিবর্তন ও জটিল পরিণতি নিয়ে উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে।
- রমেশ ভুলবশত কমলাকে নিজের স্ত্রী মনে করে গ্রহণ করেন।
- পরে এই ভুল প্রকাশ পেলে সম্পর্কের টানাপড়েন, প্রেম ও ত্যাগের নতুন বাস্তবতা প্রকাশ পায়। 

উৎস:
'নৌকাডুবি' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

৪৯৪.
'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।' - উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. কবি
  2. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  3. ধাত্রীদেবতা
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি
ব্যাখ্যা

'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
-  উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে। '

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।

৪৯৫.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. রতন 
  2. কানাই 
  3. মধুসূদন 
  4. নিতাই
সঠিক উত্তর:
নিতাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিতাই
ব্যাখ্যা

• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

------------------------
•  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৯৬.
"বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।" - কবিতাংশটু কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সর্বহারা
  2. অগ্নিবীণা
  3. ভাঙার গান
  4. দোলনচাঁপা
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিবীণা
ব্যাখ্যা

• "বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।" - কবিতাংশটু কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৯৭.
'সুরেশ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেবদাস
  2. দেনা-পাওনা
  3. গৃহদাহ
  4. বড়দিদি
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি শ্রেষ্ঠি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়। মাসিক ‘ভারতবর্ষে’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯৮.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মহেশ' গল্পের চরিত্র?
  1. ন্যাড়া
  2. গফুর
  3. শিবু
  4. ইন্দ্রনাথ
সঠিক উত্তর:
গফুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গফুর
ব্যাখ্যা
• ‘মহেশ’ ছোটগল্প:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্থক ছােটগল্প ‘মহেশ'।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এ গল্পে 'মহেশ' একটি ষাঁড়ের নাম।

• গল্পের চরিত্রগুলো হলো:
- গফুর,
- আমেনা,
- মহেশ,
- তর্করত্ন,
- জমিদার শিববাবু প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘বিলাসী’ গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে। গল্পের ন্যাড়া চরিত্র আসলে লেখক নিজেই।

• 'মামলার ফল' গল্পে দুই ভাইয়ের (শিবু ও শম্ভু) মামলায় নিঃসন্তান সঙ্গামণির অপত্য স্নেহ শিশু গয়ারামকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়েছে।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'।

------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে।
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য গল্প:
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'মহেশ' গল্প।
৪৯৯.
'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।' - এটি কোন উপন্যাসের উক্তি?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

 কপালকুণ্ডলা:
- বঙ্কিম রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'। উপন্যাসের নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে এ উক্তিটি করেছেন।
- এই কথাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
- উপন্যাসটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংলাপ হলো: তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন।

​তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৫০০.
'সরলা' ও 'মেহের বয়াতি' সরদার জয়েনউদ্‌দীন - এর কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) অনেক সূর্যের আশা
  2. খ) আদিগন্ত
  3. গ) রোদের ঢেউ
  4. ঘ) বেগম শেফালী
সঠিক উত্তর:
খ) আদিগন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আদিগন্ত
ব্যাখ্যা
সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণনার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে প্রকাশিত হয়েছে সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত ‘আদিগন্ত’ উপন্যাসে।

- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। গ্রামের পির খোরশেদ আলি, বৈষ্ণব কন্যা সরলার সঙ্গে মুসলমান মেহেরের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। খোরশেদ উভয়ের ধর্মের দোহাই দেয়। কিন্তু সরলার প্রতি কাম অনুভব করে খোরশেদ। সরলার দেহ ভোগ করার জন্য কৌশলে কুণ্ডুল বোরেগির সঙ্গে সরলার বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। বিয়ের রাতেই কুণ্ডুলকে কৌশলে হত্যা করায় পির। কিন্তু হত্যার দায়ে মেহেরকে জেলে পাঠান হয়। এই উপন্যাসে গ্রামে বসবাসরত হিন্দুদের দুরবস্থা, বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার দিকটি ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে পির খোরশেদ আলির মতো কামপীড়িত দুর্জনদের স্বরূপ উদ্‌ঘাটিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর