বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৯৬৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ১০ · ৮০১৯০০ / ৯৬৩

৮০১.
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় কোন ধরনের বন্যা দেখা যায়?
  1. আকস্মিক বন্যা
  2. মৌসুমী বন্যা
  3. উপকূলীয় বন্যা
  4. নগর বন্যা
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০২.
বাংলাদেশে প্রথম জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয় -
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
জিআইএস (GIS):
- GIS-এর পূর্ণরূপ: Geographic information systems.
- GIS হলো ভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।
- সাধারণ অর্থে জিআইএস বলতে স্থানিক ও অস্থানিক উপাত্ত সংগ্রহ করে কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সমন্বয় করে তা মানচিত্রে উপস্থাপন করাকে বুঝায়।
- অর্থাৎ জিআইএস হলো কম্পিউটারের মাধ্যমে কোনো তথ্য ধারণ করে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অবস্থানের চিত্র বর্ণনা করা।
 
উল্লেখ্য,
- ১৯৬৪ সালে কানাডিয়ান The Canadian Geographic Information System (CGIS)' এর মাধ্যমে জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়।
- সত্তরের দশকে নগর পরিকল্পনায় প্রথম কম্পিউটারভিত্তিক জিআইএস ব্যবহার করা হয়।
- ১৯৮০ সালের পর জিআইএস এর ব্যাপক প্রসার ঘটে।
- বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে প্রথম জিআইএস এর ব্যবহার শুরু হয়

⇔ জিআইএসের উপাদান (Elements of GIS):
- জিআইএস পাঁচটি উপাদানের সমন্বয়ে কাজ করে থাকে।
১. হার্ডওয়্যার
২. সফট্ওয়্যার
৩. উপাত্ত
৪. উপাত্ত ভিত্তি এবং
৫. প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ৷

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৩.
কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন নয় কোনটি?
  1. বেড়িবাঁধ তৈরি
  2. আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ
  3. নদী খনন
  4. প্রশিক্ষণ
সঠিক উত্তর:
প্রশিক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশিক্ষণ
ব্যাখ্যা

→ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 

→ প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
- কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
- অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০৪.
দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়া এবং অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কোন দুর্যোগটি দেখা দেয়?
  1. টর্নেডো
  2. খরা
  3. কালবৈশাখী
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
খরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা
ব্যাখ্যা
- দীর্ঘকালীন শুষ্ক আবহাওয়া এবং অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে খরা দেখা দেয়। বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার বৃষ্টিপাত অপেক্ষা অধিক হলে এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল অধিক খরা প্রবণ।
অন্যদিকে,
- টর্নেডো ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ নিম্নচাপ।
- গ্রীষ্মকালে দেশের উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আগত বায়ুর সংঘর্ষে কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি হয়।
(তথ্যসূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী এবং দুর্যোগকোষ)
৮০৫.
কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. আর্দ্রতা
  2. নিম্নতাপ
  3. নিম্নচাপ
  4. উচ্চচাপ 
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিম্নচাপ
ব্যাখ্যা
কালবৈখাশী ঝড় (North Westerlies):
- বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো কালবৈখাশী ঝড়।
- এটি গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী বলা হয়।
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে আসে এবং সেই সাথে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো বাতাস প্রবাহিত হয়।
- এটিই কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত। 
- কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হল নিম্নচাপ (Depression)।
- নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
- এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠান্ডাবাতাস প্রচন্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে অগ্রসর হয়।
- ফলে ঝড়ের উৎপত্তি হয়।

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৬.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত NDMC কমিটির প্রধান কে?
  1. ক) বিভাগীয় কমিশনার
  2. খ) জেলা প্রশাসক
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
গ) প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কমিটি হলো NDMC (National Disaster Management Council)। এটির প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও আইনের বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন : ২০১২)
৮০৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে খরার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি?
  1. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  4. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

খরার কারণগুলো:
স্বল্প বৃষ্টিপাত: বার্ষিক বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায়।
তীব্র গ্রীষ্মকাল: গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে মাটির আর্দ্রতা কমে।
জলবায়ুর পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসছে, যা খরার প্রবণতা বাড়ায়।
নদীপ্রবাহের হ্রাস: নদীপ্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যায়।
আবহাওয়ার চক্র: বিশেষ করে রবি ফসলের সময় মাটির আর্দ্রতা কম হওয়ায় ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান: নবম-দশম শ্রেণি ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
৮০৮.
পৃথিবীর কঠিন ভূত্বকের কোনো কোনো অংশ প্রাকৃতিক কোনো কারণে কখনো কখনো অল্প সময়ের জন্য আকস্মিক কম্পনকে কী বলে?
  1. ভূমিক্ষয়
  2. ভূমিকম্প
  3. সুনামি
  4. অগ্ন্যুৎপাত
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake): 
- পৃথিবীর কঠিন ভূত্বকের কোনো কোনো অংশ প্রাকৃতিক কোনো কারণে কখনো কখনো অল্প সময়ের জন্য হঠাৎ কেঁপে ওঠে।
- ভূত্বকের এরূপ আকস্মিক কম্পনকে ভূমিকম্প বলে।
- ভূকম্পন সাধারণত কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয় আবার কখনো কিছু সময় পর পর অনুভূত হয়।
- এ কম্পন কখনো অত্যন্ত মৃদু আবার কখনো অত্যন্ত প্রচন্ড হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮০৯.
বিপর্যয় উপদ্রুত এলাকার জনসাধারণ যখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. বিপদাপন্নতা
  2. প্রতিকূলতা
  3. আপদ
  4. দুর্যোগ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ (Disaster):
- বিপর্যয় উপদ্রুত এলাকার জনসাধারণ যখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

• বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ:
- পৃথিবীর যেকোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়। 
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১০.
কোন দুর্যোগটি ভূমিকম্পের ফলশ্রুতিতে হতে পারে?
  1. সুনামি
  2. বন্যা
  3. মৃত্তিকা ক্ষয়
  4. খরা
সঠিক উত্তর:
সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনামি
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্পের ফলে সুনামি হতে পারে। 

দুর্যোগ (Disaster):

- দুর্যোগ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Disaster, যা গ্রিক শব্দ Dis এবং Aster এর সমন্বয়ে গঠিত। Dis অর্থ মন্দ বা খারাপ এবং Aster অর্থ তারা। প্রাচীন গ্রিক জ্যোতির্বিদগণ বিশ্বাস করতেন, আকাশে কোনো তারা খারাপ অবস্থানে থাকলে খারাপ ঘটনা ঘটে। এই ধারণা থেকেই দুর্যোগ শব্দের উৎপত্তি। দুর্যোগ বলতে এমন একটি বিপর্যয় বোঝায়, যা একটি নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের একটি বড় অংশকে বিপদাপন্ন করে তোলে এবং তাদের তা মোকাবিলার সক্ষমতা অতিক্রম করে।

এছাড়াও, 
- দুর্যোগের কারণে মানুষের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশে ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রচুর মূল্য দিতে হয়। এটি কখনো হঠাৎ সংঘটিত হয়, আবার কখনো এক বা একাধিক ঘটনার ধীরে ধীরে সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় একটি দুর্যোগ অন্য দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, ভূমিকম্প থেকে সুনামি হতে পারে, সুনামি থেকে জলোচ্ছ্বাস এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার সমস্যা তৈরি হতে পারে। সুতরাং, দুর্যোগ কেবল একটি পৃথক ঘটনা নয়, বরং তা একাধিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১১.
প্রতি ঘন্টায় সাইক্লোনের গতিবেগ হয় -
  1. ৪০ কি.মি
  2. ৬৩ কি.মি
  3. ২০০ কি.মি
  4. ৯০ কি.মি
সঠিক উত্তর:
৬৩ কি.মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৩ কি.মি
ব্যাখ্যা
- গ্রীষ্মকালের শেষে বিষুবরেখার ৫° থেকে ২০° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলের গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে যখন প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন চারদিক থেকে ধেয়ে আসা বাতাস এককেন্দ্রিক ঊর্ধ্বমুখী ঘূর্ণনের কারণে স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তাকেই সাইক্লোন বলে।
- সাইক্লোনের গতিবেগ কমপক্ষে প্রতি ঘন্টায় ৬৩ কি.মি. বা ৪০ মাইল হতে হয়। 
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৮১২.
বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. ক) গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প
  2. খ) কাপ্তাই ব্যারেজ প্রকল্প
  3. গ) তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প
  4. ঘ) ফেনী ব্যারেজ প্রকল্প
সঠিক উত্তর:
গ) তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প
ব্যাখ্যা
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প:
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাংলাদেশের সর্ববৄহৎ সেচ প্রকল্প। যা উত্তরাঞ্চলের লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার দোয়ানী নামক স্থানে তিস্তা নদীর উপর অবস্থিত। 
⇒ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মুহুরী প্রজেক্ট।
⇒ আয়তন: মোট প্রকল্প এলাকা ১,৫৪,২৫০ হেক্টর (বাস্তবায়িত ১,২৬,৩১০ হেক্টর) এবং সেচযোগ্য এলাকা ১,১১,৪০৬ হেক্টর।
⇒ বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের প্রায় ৩৫ টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ একর জমিতে পানি সেচের ব্যবস্থা করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

উৎস: নীলফামারী পওর বিভাগ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ।
৮১৩.
শ্রমসাধ্য এবং ব্যয়বহুল বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কোনটি?
  1. নদীর তীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি
  2. নদী শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
  3. ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা
  4. সরকারিভাবে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা
সঠিক উত্তর:
ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত থেকে আসা পানিকে বাঁধের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন করা
ব্যাখ্যা

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
৮১৪.
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশে কোন ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে?
  1. ক) সমুদ্রস্তরের উচ্চতা হ্রাস পাওয়া
  2. খ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হওয়া
  3. গ) সামুদ্রিক মৎস্যের উৎপাদন হ্রাস
  4. ঘ) নদী নাব্যতা কমে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
খ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হওয়া
ব্যাখ্যা
- গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে। যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৮১৫.
লাভা বলতে কী বুঝায়?
  1. ভূমিকম্পে নির্গত পদার্থ
  2. সুনামির উঁচু ঢেউ
  3. আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে নির্গত গলিত পদার্থ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে নির্গত গলিত পদার্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে নির্গত গলিত পদার্থ
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি: 
- ভূত্বকের শিলান্তর সর্বত্র একই ধরনের কঠিন বা গভীর নয়।
- কোথাও নরম আবার কোথাও কঠিন। কোনো কোনো সময় ভূগর্ভের চাপ প্রবল হলে শিলাস্তরের কোনো দুর্বল অংশ ফেটে যায় বা সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়।
- ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশের ফাটল বা সুড়ঙ্গ দিয়ে ভূগর্ভের উষ্ণ বায়ু, গলিত শিলা, ধাতু, ভস্ম, জলীয়বাষ্প, উত্তপ্ত পাথরখন্ড, কাদা, ছাই প্রভৃতি প্রবলবেগে ঊর্ধ্বে উৎক্ষিপ্ত হয়।
- ভূপৃষ্ঠে ঐ ছিদ্রপথ বা ফাটলের চারপাশে ক্রমশ জমাট বেঁধে যে উঁচু মোচাকৃতি পর্বত সৃষ্টি করে তাকে আগ্নেয়গিরি বলে।
- আগ্নেয়গিরির মুখকে জ্বালামুখ এবং জ্বালামুখ দিয়ে নির্গত গলিত পদার্থকে লাভা বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮১৬.
ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে আবহাওয়া বিভাগ কোনটির সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়?
  1. বন্যার
  2. সুনামির
  3. ভূমিকম্পের
  4. জলোচ্ছ্বাসের
সঠিক উত্তর:
জলোচ্ছ্বাসের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলোচ্ছ্বাসের
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস:
- বঙ্গোপসাগরে প্রখর সূর্যতাপের কারণে পানি বাষ্পীভূত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এই নিম্নচাপ শক্তি সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।
- গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। আবহাওয়া বিভাগ এই নিম্নচাপের গভীরতা ও শক্তি পর্যবেক্ষণ করে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দেয়।
- সমুদ্র ও নদী বন্দরের জন্য পৃথক সংকেত প্রচার করা হয়:
- সমুদ্র বন্দরের জন্য: ১ থেকে ১০ নম্বর সংকেত।
- নদী বন্দরের জন্য: ১ থেকে ৪ নম্বর সংকেত।

জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস:
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ, জোয়ার-ভাঁটার সময়কাল এবং এলাকার প্রাকৃতিক গঠন বিবেচনা করে জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
- স্পারসো ও আবহাওয়া বিভাগ রাডার ও উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা, গতিবেগ, গতিপথ এবং জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (CPP):
- সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (CPP) এর আঞ্চলিক দপ্তরগুলো স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মোবাইল ও জনসংযোগের মাধ্যমে ঝড়ের পূর্বাভাস ও সতর্কতা প্রচার করে।
- ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করা হয়।
- এছাড়াও, পতাকা উত্তোলন, মাইক, মেগাফোন ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হয়।
- আবহাওয়া বিভাগ, সিপিপি এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে সতর্ক করে এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।
- এছাড়াও, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জরুরি সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তথ্যসুত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
৮১৭.
বঙ্গোপসাগর থেকে বিশ্বের কত শতাংশ ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়?
  1. ৫%
  2. ৮%
  3. ১০%
  4. ১৫%
সঠিক উত্তর:
১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০%
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়:
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় একটি বিধ্বংসী দুর্যোগ হিসেবে প্রমাণিত।
- ভারত মহাসাগর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়। 
- যা বৈশ্বিক ৮৫ শতাংশ ঘূর্ণিঝড় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির কারণ। 
- ভারত মহাসাগরের হটস্পট নিকোবার এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকট থেকে সৃষ্ট নিম্নচাপ প্রায়শ বিভিন্ন মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় এবং বাংলাদেশে এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বরে আঘাত হানে।

উৎস: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা।

৮১৮.
'দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন' দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন ধাপের কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্রশমন
  2. প্রতিরোধ
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
পূর্বপ্রস্তুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বপ্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:    
♣ প্রতিরোধ: 
• দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে। 
• কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
• অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ, যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।  

♣ প্রশমন:
• দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। 
• মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। 
• দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

♣ পূর্বপ্রস্তুতি:
• দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগপূর্ব সময়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাসমূহকে বোঝায়।   
• আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা ভূমিকা অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত। 

♣ সাড়াদান: 
• সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র। দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। 
• সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

♣ পুনরুদ্ধার: 
• দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুননির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বোঝায়। 
• এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হয়।

♣ উন্নয়ন: 
• ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরপরই ঐ এলাকার উন্নয়ন কাজে হাত দিতে হয়। 
• উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়ার পূর্বে ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের উপর লক্ষ রাখতে হবে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১৯.
নিচের কোনটি গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলাফল?
  1. ক) সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া
  2. খ) মেরু অঞ্চলে বরফ গলে যাওয়া
  3. গ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হওয়া
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে। যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৮২০.
কোনটি বন্যা হওয়ার মানব-সৃষ্ট কারণ?
  1. উজানে প্রচুর বৃষ্টি
  2. বৃক্ষ কর্তন
  3. ভূমিকম্প
  4. তীব্র জোয়ার-ভাটা
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ কর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ কর্তন
ব্যাখ্যা
• বন্যার কারণ (Causes of Flood):
- বন্যা হওয়ার দুটি কারণ যথা : ১. প্রাকৃতিক কারণ, ২. মানব-সৃষ্ট কারণ।

•মানব-সৃষ্ট কারণ:
- নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষ কর্তন ;
- গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ;
- অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব;
- অপরিকল্পিত নগরায়ণ;
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- জলাশয় ভরাট।

• প্রাকৃতিক কারণ:
- উজানে প্রচুর বৃষ্টি;
- ভৌগোলিক অবস্থান;
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব;
- নদীর গভীরতা কম;
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ;
- বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা।
- ভূমিকম্প।

• বন্যা :
- বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা অন্যতম।
- এ দেশের বন্যা অর্থনৈতির ওপর ভয়াবহ  প্রভাব ফেলে।
- প্রকৃতপক্ষে এ দেশের প্রেক্ষিতে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়ে যদি মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতিসাধন হয় তাহলেই বন্যা হয়েছে বলে ধরা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৮২১.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়? 
  1. বায়ু দূষণ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. মহামারী
  4. কালবৈশাখী
সঠিক উত্তর:
কালবৈশাখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালবৈশাখী
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়।

‘আপদ (Hazard):

- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
⇒ প্রাকৃতিক আপদ:
- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন, কালবৈশাখী ইত্যাদি।

⇒ মানবসৃষ্ট আপদ:
- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড, বায়ু দূষণ, দুর্ভিক্ষ, মহামারী  ইত্যাদি।

⇒ কারিগরি আপদ:
- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৮২২.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে কী বলা হয়?
  1. Focus (ফোকাস)
  2. Fault (ফল্ট)
  3. Epicenter (উৎসকেন্দ্র)
  4. Seismic Zone (ভূকম্পীয় অঞ্চল)
সঠিক উত্তর:
Epicenter (উৎসকেন্দ্র)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Epicenter (উৎসকেন্দ্র)
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে। 
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২৩.
NDMAC এর পূর্ণরূপ -
  1. ক) National Disaster Management Advisory Counsel
  2. খ) National Disaster Management Administrative Committee
  3. গ) National Disaster Management Advisory Committee
  4. ঘ) National Disaster Management Administrative Counsel
সঠিক উত্তর:
গ) National Disaster Management Advisory Committee
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) National Disaster Management Advisory Committee
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের পূর্ণরূপঃ
- NDMC = National Disaster Management Council.
- NDMAC = National Disaster Management Advisory Committee
- DDMC = District Disaster Management Committee
- UZDMC = Upazila Disaster Management Committee.
- UDMC = Union Disaster Management Committee
৮২৪.
খরার প্রভাব দেশের কোন অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়?
  1. পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  3. পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
- দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।

• খরা (Drought) :
- দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে।
- অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়।
- সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়।

• অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব:
- আমাদের দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- খাদ্যদ্রব্যের অভাব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়
- উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়
- প্রবল উত্তাপে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে
- পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে
- অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৮২৫.
নিম্নের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ নয়?
  1. নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
  2. শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা
  3. পারমানবিক দুর্ঘটনা
  4. নদী ভাঙ্গন
সঠিক উত্তর:
নদী ভাঙ্গন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী ভাঙ্গন
ব্যাখ্যা

আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
- প্রাকৃতিক আপদ: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
- মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।

৮২৬.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি টনের্ডো কোথায় হয়?
  1. ভিয়েতনাম
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. উত্তর আমেরিকা
  4. ভারত মহাসাগরের নিকট
সঠিক উত্তর:
উত্তর আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
• টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য: 
→ টর্নেডোতে প্রথমত আকস্মিকভাবে বায়ুচাপের হ্রাস ঘটে বলেই বড় বড় ইমারতে ফাটল ধরে।
→ বায়ুর আবর্তন হয় অত্যন্ত দ্রুতবেগে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সম্মুখে প্রতি বর্গফুটে বায়ুচাপের পরিমাণ হয় ১৬০ থেকে
১০০০ পাউন্ড।
→ টর্নেডোর উত্তোলন ক্ষমতা অনেক ভয়ঙ্কর। ভয়ঙ্কর বেগে টর্নেডোর বায়ু উপরের দিকে উত্থিত হয় এবং পথে যা পায়
তাই তুলে নেয়।
→ ভূমিতে টর্নেডোর রৈখিক গতিবেগ বিভিন্ন টর্নেডোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন- উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো দক্ষিণ
পশ্চিম দিক থেকে আসে।
→ টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
→ টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫
মাইল হয়।
→ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডো প্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
→ সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের
উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।
 
তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৭.
নিচের কোনটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard)?
  1. ভূমিকম্প
  2. ভূমিধস
  3. সুনামি
  4. খরা
সঠিক উত্তর:
খরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খরা
ব্যাখ্যা
কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) হচ্ছে খরা।

‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

⇒ খরা ( Drought):
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উওর-পশ্চিমাঞ্চল অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

অন্যদিকে, 
- ভূমিকম্প, ভূমিধস, সুনামি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) নয়।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৮২৮.
ভূমিকম্পের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ভূমিধস
  2. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. টেকটোনিক প্লেটের সরণ
  4. ভূগর্ভস্থ চাপ 
সঠিক উত্তর:
টেকটোনিক প্লেটের সরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকটোনিক প্লেটের সরণ
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্পের প্রধান কারণ:
- ভূমিকম্পের প্রধান কারণ- টেকটোনিক প্লেটের সরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক বিভিন্ন প্লেট বা ফলকে গঠিত।
- এই প্লেটের সঞ্চালন ভূমিকম্পের প্রধান কারণ। 
- টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ, বিচ্যুতি বা ঘর্ষণের ফলে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে বড় আকারের ভূমিকম্প সৃষ্টি করে।
- এছাড়াও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, শিলাচ্যুতি ও ভাঁজ, ভূমিধস এবং ভূগর্ভস্থ বাষ্প বা গ্যাসের চাপও ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে, তবে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়াই মূল কারণ।
- ভূমিকম্প সাধারণত সেই স্থানে হয় যেখানে পৃথিবীর দুটি ব্লক হঠাৎ একে অপরের পাশে পিছলে যায়।
- যে তল বরাবর এই পিছলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, তা চ্যুতিতল বা ফল্ট প্লেন নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থলকে হাইপোসেন্টার বা কেন্দ্র বলা হয়;
- এবং এর ঠিক ওপরে যে স্থান থাকে তাকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র বলা হয়।
- ভূমিকম্পের ধরণে রয়েছে ফোরশক বা পূর্বাভাস কম্পন, যা ছোট আকারের।
- এই কম্পন মূল ভূমিকম্পের আগে ঘটে।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি;
২. প্রথম আলো।

৮২৯.
ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় গঠিত কমিটি-
  1. UZDMC
  2. UDMC
  3. NDMAC
  4. NDMC
সঠিক উত্তর:
UDMC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UDMC
ব্যাখ্যা

UDMC :
- UDMC-এর পূর্ণরূপ: Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় UDMC।
- এই কমিটি দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড করে থাকে।
- স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসের অন্তত একবার UDMC এর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- DMC গঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার এনজিও কর্মকর্তা দুর্যোগের বিপর্যস্ত গ্রুপের প্রতিনিধি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে।
- স্বাভাবিক সময়ে এ কমিটি একটি করে মিটিং করে এবং দুর্যোগ কালীন সময়ে একাধিক মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

• বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের পূর্ণরূপ:
- NDMC: National Disaster Management Council.
- NDMAC: National Disaster Management Advisory Committee.
- DDMC: District Disaster Management Committee.
- UZDMC: Upazila Disaster Management Committee.

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৮৩০.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে ন্যূনতম কত ডিগ্রি সেলসিয়াস প্রয়োজন হয়?
  1. ২৪°
  2. ২৫°
  3. ২৬°
  4. ২৭°
সঠিক উত্তর:
২৭°
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৭°
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস (Cyclone and Tidal Surge):
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে কোনো কোনোটি মারাত্মক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩১.
দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য কী?
  1. দুর্যোগ প্রতিহত করা
  2. দুর্যোগের পরে দ্রুত পুনর্বাসন করা
  3. দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণ করা
  4. দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষতি হ্রাস করা
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষতি হ্রাস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষতি হ্রাস করা
ব্যাখ্যা
দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি:
- দুর্যোগের ফলে ঝুঁকি ও ক্ষতি হ্রাসের লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্বকালে গৃহীত কার্যক্রমকে দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলে। 
- অর্থাৎ দুর্যোগপূর্ব সময়ে গৃহীত ব্যবস্থাপনা যা দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে তাকেই দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলা যায়।

অন্যদিকে,
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি এবং এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩২.
কালবৈশাখী ঝড় সর্বাপেক্ষা বেশি সংঘটিত হয়-
  1. ক) উত্তরাঞ্চলে
  2. খ) পশ্চিমাঞ্চলে
  3. গ) পূর্বাঞ্চলে
  4. ঘ) দক্ষিণাঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্বাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্বাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড় পূর্বাঞ্চলে সর্বাপেক্ষা বেশি সংঘটিত হয় এবং এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও অধিক। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৮৩৩.
কোথায় সুনামি হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক?
  1. দক্ষিণ চীন সাগরে
  2. প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. আটলান্টিক মহাসাগরে
  4. ভারত মহাসাগরে
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশান্ত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা

- সুনামি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এটি মূলত জাপানি শব্দ।
- এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সমুদ্র তলদেশে প্রচন্ড মাত্রার ভূকম্পন বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কিংবা অন্য কোনো কারণেই ভূ আলোড়নের সৃষ্টি হলে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।
- ভূকম্পনে সৃষ্ট এ সমুদ্র ঢেউ সুনামি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর মহাসাগর সমূহের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর অংশে সুনামি হবার সম্ভাবনা সর্বাধিক।

৮৩৪.
ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র “SPARRSO” কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
• SPARRSO:
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: SPARRSO ওয়েবসাইট।
৮৩৫.
জোয়ার-ভাঁটার তেজ কটাল কখন হয়?
  1. ক) পঞ্চমীতে
  2. খ) সপ্তমীতে
  3. গ) অমাবস্যায়
  4. ঘ) অষ্টমীতে
সঠিক উত্তর:
গ) অমাবস্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অমাবস্যায়
ব্যাখ্যা
- পূর্ণিমা ও অমাবস্যার তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- এ সময় চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণের জন্য জোয়ারের পানি খুব বেশি ফুলে ওঠে।
- ফলে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

অন্যদিকে,
- অষ্টমীর তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তাই চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাঁটা হয়।
- চন্দ্র পৃথিবীর নিকট থাকায় তার কার্যকরী শক্তি সূর্য অপেক্ষা বেশি।
- কিন্তু চন্দ্রের আকর্ষণে যে জোয়ার হয়, সূর্যের আকর্ষণের তা বেশি স্ফীত হতে পারে না। ফলে মরা কটাল হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩৬.
কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়?
  1. ক) শৈত্যপ্রবাহ
  2. খ) ঘূর্ণিঝড়
  3. গ) পরিবেশ দূষণ
  4. ঘ) ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবেশ দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিবেশ দূষণ
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান দুর্যোগসমূহকে চার ভাগে ভাগ করেছে।
• এগুলো হলোঃ
১) প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, নদী ভাঙ্গন, ভূমিকম্প, শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি।
২) দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ: মহামারী, খরা ইত্যাদি।
৩) মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: যুদ্ধ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি এবং
৪) দুর্ঘটনাজনিত দুর্যোগ।

৮৩৭.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ এলাকা মূলত কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. উত্তরাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. দক্ষিণাঞ্চলে
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
খরা: 
- দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বৃষ্টি, বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের পরিমাণ বেশি হলে খরার সৃষ্টি হয়।
- এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা দেয় পানির অভাব।
- কুয়া, খাল, বিলের মতো নিত্যব্যবহার্য পানির আধার শুকিয়ে যায়।
- ১৯৬০ থেকে ১৯৯১ সাল, এই সময়সীমার মাঝে বাংলাদেশ মোট ১৯টি খরার মুখোমুখি হয়েছিলো।
- এর মাঝে সবচেয়ে তীব্র ছিল ১৯৬১, ১৯৭২, ১৯৭৬, ১৯৭৯ ও ১৯৮৯ সালের খরা।
- এরপর ১৯৯৭ সালেও তীব্র খরা দেখা দেয়।
- সেই খরার কারণে কৃষিতে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি মোকাবেলা করতে হয় বাংলাদেশকে।
- সেসময় ১০ লাখ টন ধান ক্ষতির শিকার হয়। যার মধ্যে ছয় লাখ টন ছিল রোপা আমন।
- সব মিলিয়ে কৃষিতে এ ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ কোটি ডলার।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক অ্যাটলাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের প্রায় ২২টি জেলা খরার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- এর মধ্যে খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ছয় জেলা।
- খরাপ্রবণ এসব এলাকা মূলত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।

উৎস: বিবিসি বাংলা [৩০ জুন ২০২৪]
৮৩৮.
বাংলাদেশের অতি তীব্র খরাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. রংপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. দিনাজপুর
  4. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
খরা:
- কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

⇒ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র খরাপ্রবণ অঞ্চল: রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র খরাপ্রবণ অঞ্চল: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি খরাপ্রবণ অঞ্চল: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য খরাপ্রবণ অঞ্চল: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৯.
কোনো এক আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনাকে কী বলে?
  1. আপদ
  2. বিপর্যয়
  3. দুর্যোগ
  4. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
সঠিক উত্তর:
বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ও বিপর্যয় (Disaster and Hazard): 
- দুর্যোগ হচ্ছে এরূপ ঘটনা, যা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্ত সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।
- এর জন্য বাইরের সাহায্য বা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়।
- অন্যদিকে বিপর্যয় বলতে বোঝানো হয়েছে কোনো এক আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনাকে।
- এই ঘটনা জীবন, সম্পদ ইত্যাদির উপর প্রতিকূলভাবে আঘাত করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৪০.
ডাউকি ফল্ট বরাবর একটি প্রচণ্ড ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের কোন নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে?
  1. ব্ৰহ্মপুত্র নদী
  2. পদ্মা নদী
  3. কর্ণফুলি নদী
  4. মেঘনা নদী
সঠিক উত্তর:
ব্ৰহ্মপুত্র নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্ৰহ্মপুত্র নদী
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra):
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- ধরলা ও তিস্তা প্রধান উপনদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের মাটির নিচে ভূমিকম্পের দুটি বড় উৎস আছে।
- একটি হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ডাউকি চ্যুতি বা ফাটল (ফল্ট)।
- ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৮৪১.
সিডর- কী?
  1. ক) ঘূর্ণিঝড়
  2. খ) সুনামি
  3. গ) টাইফুন
  4. ঘ) সাইক্লোন
সঠিক উত্তর:
ক) ঘূর্ণিঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
• সিডর হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। 

• সিডর (Sidr)  এ যাবৎকালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী।
- বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভের পরই ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ২৬০ কিমি সাফাইর-সিম্পসন (Saffire-Simpson scale) অনুযায়ী ৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য।
- ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ডভাবে আঘাত করে।
- ঘূর্ণিঝড় এবং তদুপরি জলোচ্ছাসের প্রভাবে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায়।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় ছাড়াও ভারতের চেন্নাই, তামিলনাড়ু এবং আরও কিছু রাজ্য সিডর এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- তবে বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বাধিক। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৮৪২.
প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম-
  1. ক) টর্নেডো
  2. খ) সাইক্লোন
  3. গ) টাইফুন
  4. ঘ) হ্যারিকেন
সঠিক উত্তর:
গ) টাইফুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টাইফুন
ব্যাখ্যা

- প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় টাইফুন।
- আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় হ্যারিকেন।
- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন।
- সাধারণত স্বল্প সময় নিয়ে স্বল্প এলাকায় টর্নেডো হয়ে থাকে। স্থলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে টর্নেডো হয়।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।

৮৪৩.
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হওয়ার সময় কয়টি লক্ষ্য স্থির করা হয়?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
• সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক : ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়।
৮৪৪.
নিচের কোনটি আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া?
  1. জলোচ্ছাস
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বিচূর্ণীভবন
  4. অগ্ন্যুৎপাত
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যুৎপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
• আকষ্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
→ ভূ-গর্ভস্থ গলিত ম্যাগমাসমূহ ভূ-গর্ভে তাপ ও চাপের তারতম্য এবং অন্যান্য ভূমিরূপ গঠনকারী শক্তির প্রভাবে প্রচন্ড আলোড়িত হয়।
→ এইরূপ আকস্মিক আলোড়নের ফলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূ-কম্পন, ভূ-অভ্যন্তরে সংকোচন ও প্রসারণ ইত্যাদি নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। ফলে অত্যন্ত আকস্মিকভাবে, স্বল্প সময়ের জন্য, অপেক্ষাকৃত স্বল্প বিস্তৃত স্থান জুড়ে যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া বলা হয়।
 → অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি আকস্মিক পরিবর্তনকারী প্রক্রিয়া। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৫.
আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. খুলনা অঞ্চল
  2. সিলেট অঞ্চল
  3. উপকূলীয় অঞ্চল
  4. সিরাজগঞ্জ অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
সিলেট অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।
- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
অন্যদিকে,
- বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা দেখা যায়।
- উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
- নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।
(তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
৮৪৬.
অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব কোনটি?
  1. অগ্নিকাণ্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়।
  2. পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে।
  3. উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়।
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব (Rainless or Impact of drought):
• আমাদের দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
• খাদ্যদ্রব্যের অভাব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
• উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়।
• প্রবল উত্তাপে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
• পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে।
•  অগ্নিকাণ্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য,
⇒ খরা (Drought):
দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে। অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়।

⇒ বৃষ্টিহীন ও খরাযুক্ত পরিবেশ মানুষ ও জীবজগতের স্বাভাবিক কাজকর্মের বিঘ্ন সৃষ্টি করে। বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপণ করে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৭.
'হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাকশন' এর মূল উদ্দেশ্য ছিল -
  1. ক) সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ
  2. খ) টেকসই পরিবেশ উন্নয়ন
  3. গ) দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি কমানো
  4. ঘ) নিউক্লিয়ার বর্জ্য ঝুঁকি হ্রাস
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি কমানো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি কমানো
ব্যাখ্যা
- জাপানের কোবে নগরীতে বিশ্বের ১৬৮টি দেশের প্রতিনিধি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ও দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি কমাতে
২০০৫ সালের জানুয়ারিতে একটি সম্মেলন করেন।
-  উক্ত সম্মেলন হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাকশন নামে পরিচিত।
- পরিবেশ বিষয়ক উক্ত কর্মকাঠামোতে টেকসই উন্নয়নের জন্য, বিভিন্নমুখী আপদ মোকাবেলার কৌশল, দুর্যোগের ভয়াবহতা
ও প্রকোপ হ্রাস করা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকে জাতীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড মূলধারায় অন্তর্ভূক্ত করা, ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয়
সামর্থ্যকে শক্তিশালী করা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিনিয়োগ করা, দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনে সুশীল
সমাজকে সম্পৃক্ত করা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
 
উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৮৪৮.
দুর্যোগ জনিত প্রশমনের অংশ হিসেবে কোন পর্যায়ে 'অনুশীলন বা সিমুলেশন' করা হয়ে থাকে?
  1. প্রাক দুর্যোগ
  2. দুর্যোগকালীন
  3. দুর্যোগপরবর্তী
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
প্রাক দুর্যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাক দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
উৎস: স্কুল অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৯.
সম্প্রতি বঙ্গোপসাগর উপকূলে কোন সুপার সাইক্লোনটি আঘাত হানে?
  1. ইয়াস
  2. গুলাব
  3. আম্ফান
  4. ফণী
সঠিক উত্তর:
আম্ফান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আম্ফান
ব্যাখ্যা
- যেসব সাইক্লোনের গতিবেগ ঘন্টায় ১২০ নটিক্যাল মাইল বা ২২২ কিলোমিটারের অধিক হয় তাদের সুপার সাইক্লোন বলা হয়।
- বঙ্গোসাগর উপকূলে আঘাতকারী সর্বশেষ সুপার সাইক্লোন হলো আম্ফান। গত ২০ মে ২০২০ বঙ্গোসাগরের উত্তর উপকূলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে আম্ফান আঘাত হেনেছিলো।
- আম্ফানের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ২৭০ কিলোমিটাররের অধিক। বঙ্গোসাগরে সৃষ্ট সকল ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে আম্ফানের গতিবেগই ছিলো সর্বোচ্চ।
- থাইল্যান্ড ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের নামকরণ করেছিলো। আম্ফান অর্থ আকাশ। তবে আক্ষরিক অর্থ দৃঢ়তা বা স্বাধীন চিত্ত।
অন্যদিকে,
- ফণী (৩ মে ২০১৯), ইয়াস (২৬ মে ২০২১) এবং গুলাব (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১) সুপার সাইক্লোন ছিলো না।
(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা, বিবিসি বাংলা এবং ডেইলি স্টার)
৮৫০.
সমুদ্র বন্দরের জন্য সতর্ক সংকেত কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
সতর্ক সংকেত:
- ঝড়ের সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সমুদ্রবন্দরের ক্ষেত্রে ১১টি এবং নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ৪টি সংকেত নির্ধারিত আছে।
এই সংকেতগুলো সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ভিন্ন বার্তা বহন করে।
- সমুদ্রবন্দর সমূহের জন্যে সংকেত ১১টি।
এগুলো হলো:
• ১-নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত,
• ২-নং দূরবর্তী হুশিয়ারি সংকেত,
• ৩-নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত,
• ৪-নং স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত,
• ৫-নং বিপদ সংকেত,
• ৬-নং বিপদ সংকেত,
• ৭-নং বিপদ সংকেত,
• ৮-নং মহাবিপদ সংকেত,
• ৯-নং মহাবিপদ সংকেত,
• ১০-নং মহাবিপদ সংকেত,
• ১১-নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত।

উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশে নদীবন্দর সমূহের জন্যে দুর্যোগের সংকেত চারটি।
এগুলো হলো:
• ১-নং নৌ সতর্ক সংকেত,
• ২-নং নৌ হুশিয়ারি সংকেত,
• ৩-নং নৌ বিপদ সংকেত,
• ৪-নং নৌ মহাবিপদ।

তথ্যসূত্র - দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৮৫১.
২১ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশে কত মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ৫.২ মাত্রা
  2. ৫.৩ মাত্রা
  3. ৫.৭ মাত্রা
  4. ৫.৯ মাত্রা
সঠিক উত্তর:
৫.৭ মাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫.৭ মাত্রা
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২১ নভেম্বর, ২০২৫ ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়।
- রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭।
- এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে নরসিংদীর জেলার মাধবদী উপজেলায় মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
- এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন মারা গেছেন এবং ছয় শতাধিক আহত হয়েছেন।
- রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

তথ্যসূত্র- বিবিসি, বাসস।

৮৫২.
কোন অঞ্চলে প্রায়শই মেঘ বিস্ফোরণ ঘটে?
  1. পার্বত্য অঞ্চল
  2. উপকূলীয় অঞ্চল
  3. মরুভূমি অঞ্চল
  4. সমতল ভূমি
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পার্বত্য অঞ্চল
ব্যাখ্যা

মেঘ বিস্ফোরণ:
- মেঘ বিস্ফোরণের ইংরেজি শব্দ ‘ক্লাউড ব্রাস্ট’। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
​- যখন কোথাও হঠাৎ করে মেঘ জমে যায় এবং এর প্রভাবে খুবই কম সময়ের মধ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয় তখন এটিকে ক্লাউড ব্রাস্ট বলা হয়। 
​- মেঘ বিস্ফোরণ সবচেয়ে বেশি ঘটে পার্বত্য এলাকায়। 
​- কারণ বজ্রঝড়ের উষ্ণ বায়ুপ্রবাহ সাধারণত পাহাড়ি ঢাল বেয়ে উপরে ওঠে।
​- এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে পানি গিরিখাত ও উপত্যকায় জমা হয়ে আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।

​সম্প্রতি, 
- পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায়, ​ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরে মেঘ বিস্ফোরণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়েছে।
​- যা ভয়াবহ প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে এনেছে।

​​তথ্যসূত্র- ব্রিটানিকা, পত্রিকা প্রতিবেদন।

৮৫৩.
কালবৈশাখী ঝড়ের বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও বজ্রপাত
  2. ভারী বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ
  3. বজ্রপাত ও টানা বৃষ্টিপাত
  4. সমুদ্র উপকূলে ঝড়ের আঘাত
সঠিক উত্তর:
ভারী বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারী বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী:
- বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে সংঘটিত ঝড়ের নাম কালবৈশাখী।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় সুপরিচিত।
- কালবৈশাখী ঝড় বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সংঘটিত হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ ভূ-পৃষ্ঠের উপর আঘাত হানে।
- কালবৈশাখীকে বায়ুপুঞ্জ বজ্রঝড় অথবা পরিচলনগত বজ্রঝড় নামেও আখ্যায়িত করা যায়।
- বাংলাদেশে কালবৈশাখী সৃষ্টির প্রধান কারণ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু যা ঊর্ধ্বে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত আরোহন করে থাকে এবং এ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুর সঙ্গে মিলিত বা মুখোমুখি হয়।
- উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ছোটনাগপুর মালভূমিতে সৃষ্টির পর পূর্বদিকে ধাবিত হয়ে বাংলাদেশের সীমায় উপস্থিত হয়। বিপরীতধর্মী ও অসম এ দু বায়ুপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার ফলে প্রাক-কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড় সৃষ্টি হয়।
- এই ঝড় বৈশাখ মাসে কখনও চৈত্র মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আসে বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বা গ্রীষ্মকালীন উত্তর পশ্চিম ঝড় বা বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়বৃষ্টি বলা হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৪.
পাহাড়ি এলাকায় কোন ধরণের বন্যা হয়?
  1. আকস্মিক বন্যা
  2. মৌসুমি বন্যা
  3. উপকূলীয় বন্যা
  4. নগর বন্যা
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উল্লেখ্য,
- পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল: পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) The Daily Star বাংলা।
৮৫৫.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনটি?
  1. ক) গাছপালা বৃদ্ধি পাওয়া
  2. খ) কল-কারখানা বৃদ্ধি পাওয়া
  3. গ) খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস
  4. ঘ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া
সঠিক উত্তর:
গ) খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হচ্ছে - খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস।

• জলবাযু পরিবর্তন প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বের আবহাওয়ার ধরন দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে।
- সঠিকভাবে কোনো ঋতুতেই আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না।
- বৃষ্টির সময় অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, শীতের সময়ে গরম আবহাওয়া এবং গরমের ভিন্নধর্মী আবহাওয়া ইত্যাদিই জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব।

- অধিবাসীরা এই গ্রীনহাউসের প্রভাবে নানা রকম দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির
নিচে তলিয়ে যাবে এবং বিখ্যাত শহরগুলোও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বাংলাদেশও এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।

- এছাড়াও এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ফুলে উঠা, বন্য জীবজন্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া, লোনা পানির প্রবেশ ঝুঁকি বৃদ্ধি, অসময়ে জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সুপেয় পানি দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস, বাস্তুসংস্থানের উপর হুমকি, খরা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা দ্বারা ফসলি জমির ক্ষতি ইত্যাদিও এই জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব।

ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৬.
নিচের কোনটি দুর্যোগের পরবর্তী ব্যবস্থাপনার উপাদান নয়?
  1. উন্নয়ন
  2. সাড়াদান
  3. প্রতিরোধ
  4. পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
প্রতিরোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ীত্ব হ্রাস এবং দুর্যোগের পূর্ব প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব না হলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার দ্বারা এর ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূখ্য উপাদানসমূহ:
• দুর্যোগ প্রতিরোধ,
• দুর্যোগ প্রশমন এবং
• দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি।

- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
• সাড়াদান,
• পুনরুদ্ধার ও
• উন্নয়ন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
৮৫৭.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০' হচ্ছে একটি -
  1. অর্থনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  2. দুর্যোগ কালীন উন্নয়ন কৌশল
  3. ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  4. দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল  
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল  
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-২০৩০ হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- যা জাতিসংঘের নেতৃত্বে প্রণীত হয়েছে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে।
- এটি ২০১৫ সালের মার্চ মাসে জাপানের সেনদাই শহরে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বিশ্ব দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস সম্মেলনে গৃহীত হয়।

৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্য (Global Targets):
- দুর্যোগে মৃত্যুহার হ্রাস,
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সংখ্যা হ্রাস,
- অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস,
- গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সেবা ব্যবস্থার ক্ষতি হ্রাস,
- DRR কৌশলের সংখ্যা বৃদ্ধি,
- আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি,
- সময়মতো সতর্কবার্তা ও ঝুঁকি সচেতনতা বৃদ্ধি।

উৎস: UNDRR[link]
৮৫৮.
বন্যার মনুষ্যসৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি
  2. বনজ সম্পদ ধ্বংস করা
  3. পাহাড়ি বরফগলা পানি
  4. নিম্নচাপের ফলে ভারী বর্ষণ
সঠিক উত্তর:
বনজ সম্পদ ধ্বংস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনজ সম্পদ ধ্বংস করা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood): সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে। 

বন্যার কারণ: 
প্রাকৃতিক কারণ: 
- বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি
- ভৌগোলিক অবস্থান, ভূমিরূপের গঠন ও প্রকৃতি, 
- পাহাড়ি বরফগলা পানি
- নদীর আকাঁবাঁকা গতিপথ, 
- নিম্নচাপের ফলে ভারী বর্ষণ
- বর্ষা মৌসুমে নদীর অতিরিক্ত পানি, 
- নদীর পানি প্রবাহ ক্ষমতা কমে যাওয়া, 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন প্রভৃতি।

মানবসৃষ্ট কারণ: 
- নদীর গতিপথে বাধা প্রদান, 
- খাল ও নালা ভরাট করে ফেলা, 
- অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাট নির্মাণ, 
- নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলা, 
- বনজ সম্পদ ধ্বংস করা
- প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে নদীশাসন করা, 
- উজানে পানি প্রত্যাহার বা বাঁধ নির্মাণ, 
- পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৯.
নিম্নের কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাসায়নিক দূষণ
  2. পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ
  3. অগ্ন্যুৎপাত
  4. খাদ্যে কীটনাশক ব্যবহার
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যুৎপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক কারণে যে সকল দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে।
• এ ধরনের দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প, 
- অগ্ন্যুৎপাত, 
- ঘূর্ণিঝড়, 
- বন্যা, 
- খরা, 
- নদীভাঙন, 
- লবণাক্ততা, 
- তুষারপাত ইত্যাদি।

• মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানুষের অবহেলা, ভুলভ্রান্তি বা কোনো বিশেষ অভিপ্রায়ের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগকে বুঝায়। অর্থাৎ এ ধরনের দুর্যোগ মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্টি হয়।
- যুদ্ধ, 
- পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ, 
- রাসায়নিক দূষণ, 
- খাদ্যে কীটনাশক ব্যবহার, 

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬০.
কোন সালের ভূমিকম্পের ফলে যমুনা নদী উৎপত্তি লাভ করেছে?
  1. ১৭৮৭ সালে
  2. ১৭৮৯ সালে
  3. ১৮৮৭ সালে
  4. ১৮৮৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮৭ সালে
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna): 
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যার ফলে যমুনা নদী উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়। 
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। 
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা। 
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৬১.
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা অনুযায়ী দুর্যোগ ঝুঁকিপ্রবণ কয়টি হটস্পটে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান:
- ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ১০০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
- ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।

• দুর্যোগ ঝুঁকিপ্রবণ ৬টি হটস্পট:
১. উপকূলীয় অঞ্চল: সাইক্লোনপ্রবণ অঞ্চল- ১৩ টি উপকূলীয় ও ৬ টি নদী বাহিত জেলা।
২. বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল: খরা (মূলত কৃষি)।
৩. হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল: ৭ টি জেলা।
৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল: পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল।
৫. নদী অঞ্চল এবং মোহনা: বন্যাপ্রবণ অঞ্চল।
৬. নগরাঞ্চল: ভূমিকম্প, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।

৮৬২.
বাংলাদেশে শীতকালের সময়কাল -
  1. ক) কার্তিক-অগ্রহায়ণ
  2. খ) ভাদ্র-পৌষ
  3. গ) আশ্বিন-ফাল্গুন
  4. ঘ) কার্তিক-ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্তিক-ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কার্তিক-ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
সাধারণত এ দেশে নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস (কার্তিক-ফাল্গুন) পর্যন্ত সময়কে শীতকাল বলে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের পর তাপমাত্রা কমতে থাকে।
আমাদের দেশে শীতকালে তাপমাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১° সেলসিয়াস।
জানুয়ারি শীতলতম মাস এবং এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭° সেলসিয়াস।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৩.
বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) বনাঞ্চলের স্বল্পতা
  2. খ) পরিবেশ দূষণ
  3. গ) জনসংখ্যার ঘনত্ব
  4. ঘ) ভৌগোলিক অবস্থান
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভৌগোলিক অবস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভৌগোলিক অবস্থান
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিয়ে থাকে।
- বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এর ভৌগোলিক অবস্থান।
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে বছরের অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অধিক থাকে। যার কারণে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি দুর্যোগ নিয়মিত হানা দেয়।
- আবার পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রের প্রবাহের কারণে বাংলাদেশে বন্যা ও নদীভাঙনের প্রকোপ বেশি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি : অষ্টম শ্রেণী ও প্রথম আলো)
৮৬৪.
কয়টি পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে বিভক্ত করা যায়?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি 
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ৩টি। যথা-
১। দুর্যোগ প্রতিরোধ
২। দুর্যোগ প্রশমন
৩। দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:  
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:
- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো: পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।
- এই ৩টি কার্যক্রম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান ।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:-
- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়।
- এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মুকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
৮৬৫.
সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-কম্পন অঞ্চল:
- ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্ট অনুযায়ী, সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে
- অঞ্চলগুলো হলো:
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12

উল্লেখ্য,
- BANGLADESH NATIONAL BUILDING CODE (BNBC) সর্বপ্রথম ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্প সংঘটন অঞ্চলে (Seismic Zone) বিভক্ত করে।
অঞ্চলগুলো হলো:
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা -৭),
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ: মধ্যাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৬),
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা-৫)।
- পরে, ২০০৬ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও,
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রির্পোর্ট অনুসারে, ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ-জাতীয়-বিল্ডিং-কোড-(BNBC Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট) ওয়েবসাইট।
৮৬৬.
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ কোনটি?
  1. ধূলিঝড়
  2. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ:
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস প্রভৃতি বায়ুর সাথে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।

⇒ জৈব ও অজৈব পদার্থ: বিভিন্ন প্রকার জৈব ও অজৈব পদার্থের স্বাভাবিক পচনের ফলে যে গ্যাস
সৃষ্টি হয় তা বায়ুকে দূষিত করে।

দাবানল ও ধূলিঝড়: বিস্তৃত বনাঞ্চলে দাবানল হলে তা ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বায়ুকে দুষিত করে।
- এছাড়া মরু এলাকায় ধূলিঝড়ও বায়ু দূষণ ঘটায়।

গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ: গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে যে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে তা বায়ুকে দূষিত করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৭.
সম্প্রতি, নরসিংদী জেলার মাধবদীতে সংঘটিত ভূমিকম্পটির গভীরতা কত ছিল? 
  1. ৫ কিলোমিটার
  2. ৮ কিলোমিটার
  3. ১০ কিলোমিটার
  4. ১৫ কিলোমিটার
সঠিক উত্তর:
১০ কিলোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

• ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

⇒ ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।
- অঞ্চলগুলো হলো:
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।

উল্লেখ্য। 
- ২১ নভেম্বর, ২০২৫, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর জেলার মাধবদী উপজেলায় মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

তথ্যসূত্র:  i) ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
iii) BBC 

৮৬৮.
কালবৈশাখী ঝড়ের প্রধান কারণ কী?
  1. দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু
  2. উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শীতল বায়ু
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে শীতল বায়ু
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু
ব্যাখ্যা

কালবৈশাখী:
- বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে সংঘটিত ঝড়ের নাম কালবৈশাখী।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় সুপরিচিত।
- কালবৈশাখী ঝড় বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সংঘটিত হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ ভূ-পৃষ্ঠের উপর আঘাত হানে।
- কালবৈশাখীকে বায়ুপুঞ্জ বজ্রঝড় অথবা পরিচলনগত বজ্রঝড় নামেও আখ্যায়িত করা যায়।
- বাংলাদেশে কালবৈশাখী সৃষ্টির প্রধান কারণ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু যা ঊর্ধ্বে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত আরোহন করে থাকে এবং এ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুর সঙ্গে মিলিত বা মুখোমুখি হয়।
- উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ছোটনাগপুর মালভূমিতে সৃষ্টির পর পূর্বদিকে ধাবিত হয়ে বাংলাদেশের সীমায় উপস্থিত হয়। বিপরীতধর্মী ও অসম এ দু বায়ুপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার ফলে প্রাক-কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড় সৃষ্টি হয়।
- এই ঝড় বৈশাখ মাসে কখনও চৈত্র মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আসে বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বা গ্রীষ্মকালীন উত্তর পশ্চিম ঝড় বা বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়বৃষ্টি বলা হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৯.
কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ নয়?
  1. পরিবেশ দূষণ
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. জলাবদ্ধতা
  4. বনাঞ্চল ধ্বংস
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
- ’ঘূর্ণিঝড়’ একটি মানব-সৃষ্ট আপদ নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আপদ।

উল্লেখ্য,
- আপদ হলো এমন এক ধরনের অপ্রত্যাশিত ও ক্ষতিকর ঘটনা, যা মানুষের জীবন, সম্পদ বা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

• প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ
-  প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। 
 যেমন:
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়,
- জলোচ্ছাস,
- টর্নেডো,
- ভূমিকম্প,
- খরা,
- নদীভাঙন,
- সুনামি,
- আগ্নেয়গিরির,  ইত্যাদি।

• মানব- সৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়।
যেমন:
- জলাবদ্ধতা,
- অগ্নিকাণ্ড, 
- রাসায়নিক দূষণ, 
- যুদ্ধ-বিগ্রহ,
- সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা,
- বনাঞ্চল ধ্বংস,
- পরিবেশ দূষণ,
- মরুকরণ,
- অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭০.
গভীর নিম্নচাপ থেকে কী সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?
  1. বন্যা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. কালবৈশাখী
  4. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরে প্রখর সূর্যতাপে পানি বাষ্পীভূত হয়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- এরূপ একটি নিম্নচাপ বেশ কয়েকদিন ধরে শক্তি সঞ্চয় করে ও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়।
- গভীর নিম্নচাপটি থেকে যে কোনো সময়ে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- আবহাওয়া বিভাগ সমুদ্র ও নদী বন্দরের জন্য পৃথক সংকেত প্রচার করে।
- বিপদের গুরুত্ব অনুযায়ী সমুদ্র বন্দরের জন্য এক থেকে দশ (১-১০) ধরনের ও নদী বন্দরের জন্য এক থেকে চার (১-৪) ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করে।
- সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (CPP) এর আঞ্চলিক দপ্তরসমূহ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মোবাইল ও জনসংযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় জনসাধারণকে ঝড়ের পূর্বাভাস দেবার পাশাপাশি তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরিয়ে নিতে কাজ করে।
- সিপিপি ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাসমূহ সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার জনগণকে সর্তক করে।
- ঘূর্ণিঝড়কালিন সময়ে বাতাসের গতিবেগ, জোয়ার-ভাঁটার সময়কাল, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার প্রাকৃতিক গঠন ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করে আবহাওয়া বিভাগ জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়।
- স্পারসো ও আবহাওয়া বিভাগ রাডারের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা, গতিবেগ ও গতিপথ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেবার পাশাপাশি জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কেও পূর্বাভাস দিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭১.
বাংলাদেশে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় কোন মাসে দেখা যায়?
  1. জানুয়ারী- ফেব্রুয়ারি
  2. জুন- জুলাই
  3. মার্চ- এপ্রিল
  4. এপ্রিল- মে
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল- মে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপ্রিল- মে
ব্যাখ্যা
কালবৈখাশী ঝড়: 
- কালবৈখাশী ঝড় (Nor' wester): বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো কালবৈখাশী ঝড়।
- এটি গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী বলা হয়।
- এপ্রিল - মে মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে আসে এবং সেই সাথে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো বাতাস প্রবাহিত হয়।
- এটিই কালবৈশাখী ঝড় নামে পরিচিত।
- কালবৈশাখী ঝড়ে বাৎসরিক এক পঞ্চমাংশ বৃষ্টিপাত হয়।
 - এ ঝড়ের ফলে উষ্ণতা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫০-১০০ সেলসিয়াস কমে যায়।
- কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো নিম্নচাপ (Depression)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭২.
নিম্নের কোন আপদটি (Hazard) পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ?
  1. সড়ক দুর্ঘটনা
  2. তামাক ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ
  3. বায়ু দূষণ
  4. ক্যান্সার
সঠিক উত্তর:
বায়ু দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু দূষণ
ব্যাখ্যা
বায়ু দূষণ আপদটি (Hazard) পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ।

বায়ু দূষণ:
- বায়ু দূষণের ফলে বিশ্বময় উষ্ণায়নের সৃষ্টি হয়েছে।
- বায়ুর দূষকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, ওজোন, নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ, এরোসল প্রভৃতি।
- বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ হলো- জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, যানবাহন ও কল-কারখানার ধোঁয়া, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, ইটভাটা, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি।
- দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বায়ু দূষণ মাত্রা অধিক।
- বায়ু দূষণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় মানব স্বাস্থ্য।
- দূষিত বায়ু গ্রহণের মাধ্যমে শুধুমাত্র শ্বাস-প্রশ্বাসই নয় এর মাধ্যমে জীবনও বিপন্ন হতে পারে।
- বায়ু দূষণের ফলে শ্বাসনালীতে জ্বালা, কাশি ও দম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
- বিশেষ করে সালফারের অক্সাইডগুলো ফুসফুসে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ।
- নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলোর বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় ফুসফুস ফুলে যায় এবং ফুসফুসে পানি জমে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
- অতিমাত্রায় বায়ু দূষণ দীর্ঘস্থায়ী হাঁপানি, শ্বাসনালীর প্রদাহ ও কণ্ঠস্বর ভঙ্গের কারণ হতে পারে।
- মানুষের প্রায় প্রত্যেকটি অঙ্গতন্ত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
- ক্যান্সার , নিউমোনিয়া , জন্ডিসসহ নানা রোগ পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ।


⇒ ‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
- প্রাকৃতিক আপদ: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
- মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৮৭৩.
ভূমিকম্পের সংগে নিচের কোনটি সংঘটনের সম্পর্ক আছে?
  1. ক) আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
  2. খ) সাইক্লোন
  3. গ) ঝড়
  4. ঘ) সুনামি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনামি
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্পের ফলেই সুনামি সংঘটিত হয়।
৮৭৪.
সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে কোন কার্যক্রমকে বুঝায়?
  1. ক) দুর্যোগপূর্ব কার্যক্রম
  2. খ) দুর্যোগকালীন কার্যক্রম
  3. গ) দুর্যোগ পরবর্তী কার্যক্রম
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে দুর্যোগপূর্ব কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন কার্যক্রম এবং দুর্যোগ পরবর্তী কার্যক্রমকে বুঝায়। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৮৭৫.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. পূর্বপ্রস্তুতি
  3. প্রশমন
  4. প্রতিরোধ
সঠিক উত্তর:
পুনরুদ্ধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি - দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

অন্যদিকে,
দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে - 
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।
এইগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭৬.
খরা এর ফলে কোন ধরনের প্রাকৃতিক পরিবর্তন হয়?
  1. মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
  2. বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হয়
  3. শিলা
  4. জমির মধ্যে পানি জমে যায়
সঠিক উত্তর:
মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটি শুকনো হয়ে ফেটে যায়
ব্যাখ্যা
অনাবৃষ্টি ও খরা:
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে, উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর- পূর্বাঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপন করে ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৭.
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করাকে কী বলা হয়?
  1. প্রশমন
  2. পুনরুদ্ধার
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পূর্বপ্রস্তুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বপ্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
পূর্ব প্রস্তুতি:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।

প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।
- দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মজবুত ও পাঁকা ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।

পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে সম্পদ, অবকাঠামো, পরিবেশ ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়। যেমন- ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদিতে অর্থ ও প্রযুক্তি যোগান।

তথ্যসূত্র - ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৮.
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ নয় কোনটি?
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  2. দাবানল ও ধূলিঝড়
  3. শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁয়া
  4. গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ
সঠিক উত্তর:
শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁয়া
ব্যাখ্যা
• বায়ু দূষণের কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১. প্রাকৃতিক কারণ:
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত:
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস প্রভৃতি বায়ুর সাথে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।
• জৈব ও অজৈব পদার্থ:
- বিভিন্ন প্রকার জৈব ও অজৈব পদার্থের স্বাভাবিক পচনের ফলে যে গ্যাস সৃষ্টি হয় তা বায়ুকে দূষিত করে ।
দাবানল ও ধূলিঝড়:
- বিস্তৃত বনাঞ্চলে দাবানল হলে তা ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বায়ুকে দূষিত করে। এছাড়া মরু এলাকায় ধূলিঝড়ও বায়ু দূষণ ঘটায়
গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ:
- গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে যে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে তা বায়ুকে দূষিত করে।

২. মানব-সৃষ্ট কারণ:
• তেজস্ক্রিয় পদার্থ:
- যুদ্ধক্ষেত্র অথবা পারমানবিক চুল্লিতে দুর্ঘটনার ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণ হলে বায়ু দূষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণ।
• এছাড়াও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, শিল্প-কারখানার নির্গত ধোঁয়া, পরিত্যক্ত বর্জ্য পদার্থের দহন, বন উজার, ইটভাটা, কীটনাশক ইত্যাদি মানব-সৃষ্ট কারণসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৯.
পাদদেশীয় সমভূমি কী ধরনের বন্যা কবলিত হয়?
  1. জলোচ্ছাস জনিত বন্যা
  2. নদীজ বন্যা
  3. জোয়ার ভাটাজনিত বন্যা
  4. ঝটতি/আকস্মিক বন্যা
সঠিক উত্তর:
নদীজ বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীজ বন্যা
ব্যাখ্যা
পাদদেশীয় সমভূমি নদীজ বন্যা কবলিত হয়।

পাদদেশীয় সমভূমি:

- পাহাড়ী নদী দ্বারা পর্বতের ঢাল হতে ক্ষয়প্রাপ্ত নানা আকৃতির প্রস্তর ও শিলাখন্ড, কাঁকর, নুড়ি ও বালুকণা প্রভৃতি পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়। এভাবে নদী দ্বারা অবক্ষেপণের ফলে পর্বতের পাদদেশে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে পাদদেশীয় সমভূমি বলে যেমন- বাংলাদেশের দিনাজপুর এবং রংপুর জেলার অধিকাংশই পাদদেশীয় সমভূমি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮০.
উপগ্রহ ও রাডার চিত্রের মাধ্যমে কী করা হয়?
  1. পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ
  2. নদী খনন
  3. বাঁধ নির্মাণ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ
ব্যাখ্যা

উপকূলীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- বাংলাদেশের উপকূল (৭১৬ কি.মি.) অঞ্চল সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা অনবরত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত অসংখ্য নিম্নআয়ের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের দুর্যোগ দ্বারা বিপদাপন্ন অবস্থায় পতিত হচ্ছে। অতএব সুষ্ঠু দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উপকূলীয় জনগণের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা (দুর্যোগ মোকাবেলার ক্ষমতা) বৃদ্ধি ও পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

⇒ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা সম্পর্কে বর্ণনা করা হল:
• আবহাওয়ার তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস ও সর্তীকরণ যথা সময়ে প্রচার করা। 
• বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো-এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
• পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
• ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ, উদ্ধার ও পূর্ণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
• বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮১.
'United Nations Office for Disaster Risk Reduction' এর সদরদপ্তর -
  1. ক) ভিয়েনা
  2. খ) লন্ডন
  3. গ) নাইরোবি
  4. ঘ) জেনেভা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেনেভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জেনেভা
ব্যাখ্যা
• United Nations Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।
- এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জাতীয় কর্মকৌশল বাস্তবায়ন।
- এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।

উৎস: UNDRR'র ওয়েবসাইট।
৮৮২.
বাংলাদেশে খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল কোনটি?
  1. ক) উত্তরাঞ্চল
  2. খ) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  3. গ) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল
  4. ঘ) দক্ষিণাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
-  এ অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।

উৎস: মাধ্যমিক সাধারণ বিজ্ঞান
৮৮৩.
‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ হয়েছিল ইংরেজি কত সালে?
  1. ১৯৪৩ সালে
  2. ১৮৫০ সালে
  3. ১৯২১ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
পঞ্চাশের মন্বন্তর:
- বাংলার ইতিহাসে একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছিল পঞ্চাশের মন্বন্তর।
- ইংরেজি ১৯৪৩ সালে অর্থাৎ বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষটি হয়েছিল বলে এটি পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- ১৭৭০ সালের পর বাংলায় সংঘটিত সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছিল এটি।
- পঞ্চাশের মন্বন্তরে প্রায় সাত লাখ পরিবারের ৩৮ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার মানের মারাত্মক অবনতি ঘটে।
- ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই দুর্ভিক্ষ এবং দুর্ভিক্ষ-পরবর্তী মহামারিতে ৩৫ থেকে ৩৮ লাখ মানুষ মারা যায়।
- এই দুর্ভিক্ষের পেছনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল একটা বড় কারণ।

উৎস: ১৫ মে, ২০১৪, কালের কন্ঠ। 
৮৮৪.
কত সালের মধ্যে 'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' অর্জনের লক্ষ্য এবং রূপরেখা স্থির করা হয়?
  1. ২০২৬ সাল
  2. ২০৩০ সাল
  3. ২০৩৫ সাল
  4. ২০৪০ সাল
সঠিক উত্তর:
২০৩০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৩০ সাল
ব্যাখ্যা
২০৩০ সালের মধ্যে 'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক' অর্জনের লক্ষ্য এবং রূপরেখা স্থির করা হয়।

সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:

- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

⇒ সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
৮৮৫.
বাংলাদেশে ঘর্ণিঝড়ের মৌসুম কোনটি?
  1. অগ্রাহায়ণ-চৈত্র
  2. আশ্বিন-কার্তিক
  3. ভাদ্র-আশ্বিন
  4. আষাঢ়-শ্রাবণ
সঠিক উত্তর:
আশ্বিন-কার্তিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশ্বিন-কার্তিক
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযােগ্য। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও উর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকার আকৃতির কারণে এ দেশে অধিকসংখ্যাক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি, ভূগোল ও পরিবেশ
৮৮৬.
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে কয় ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৩
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় : দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।   
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায় : দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।   

তথ্যসূত্র:- ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৭.
বর্তমানে ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের জন্য কোন স্কেলটি ব্যবহার করা হয়?
  1. সিসমোগ্রাফ 
  2. মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল 
  3. মারকেলি স্কেল 
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল 
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ:
- ভূমিকম্প হলো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এই দুর্যোগ পৃথিবীর অভ্যন্তরস্থ শিলায় জমে থাকা শক্তির হঠাৎ মুক্তির ফলে সৃষ্টি হয়।
- এর ফলে ভূত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়ে ভূ-অভ্যন্তর থেকে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়, যা মৃদু কম্পন থেকে প্রবল ধ্বংসযজ্ঞ পর্যন্ত হতে পারে।
- ভূমিকম্প মূলত টেকটোনিক প্লেটের চলাচল বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ঘটে থাকে।
- আগে ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয়ে রিখটার স্কেল (Richter Scale) ব্যবহার করা হতো।
- যা ১৯৩৫ সালে চার্লস এফ. রিখটার উদ্ভাবন করেন।
- তবে এই স্কেলটি শুধু মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প (magnitude ৩–৭) পর্যন্ত যথাযথ ফল দিত।
- বর্তমানে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেন মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল (Moment Magnitude Scale).

অন্যদিকে,
- সিসমোগ্রাফ: এটি একটি যন্ত্র, যা ভূমিকম্পের কম্পন রেকর্ড করে।
- মারকেলি স্কেল: এটি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা intensity পরিমাপ করে।

উৎস:
১. প্রথম আলো;
২. Britannica.

৮৮৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) কবে গঠন করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) ২০১২ সালে গঠন করা হয়।
- ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২’ অনুমোদনের পর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর আগে ১৯৭৩ সালে গঠিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং ১৯৯২ সালে সৃষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (ডিএমবি) একীভূত হয়ে ডিডিএম গঠিত হয়।
- এই অধিদপ্তর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, 
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাজ করে।
- ডিডিএম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৮৮৯.
কোনটি সুনামি সৃষ্টির অন্যতম কারণ?
  1. বজ্রপাত
  2. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
  3. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
  4. ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

• সুনামি (Tsunami):

- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়। তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেষু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯০.
সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ‘ওটিস‘ কোথায় আঘাত হানে?
  1. মেক্সিকো
  2. লিবিয়া
  3. বাংলাদেশ
  4. নেপাল
সঠিক উত্তর:
মেক্সিকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেক্সিকো
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘ওটিস‘:
- মেক্সিকোয় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি ওটিস।
- ২৭ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ওটিস আঘাত হানে।
- ঝড়টির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬৫ মাইল। এতে ঘরবাড়ি ও হোটেলের ছাদ ভেঙে পড়েছে, রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে, পানিতে বেশ কিছু গাড়ি ডুবে গেছে।

উৎস: ২৭ অক্টোবর, ২০২৩, প্রথম আলো।
৮৯১.
বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্র কোনটি?
  1. ক) BCSIR
  2. খ) BCSCL
  3. গ) SPARRSO
  4. ঘ) NIPORT
সঠিক উত্তর:
গ) SPARRSO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) SPARRSO
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো - SPARRSO
- এর পূর্ণরুপ - (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

অন্যদিকে
- BCSIR (Bangladesh Council of Scientific and Industrial Research) হলো বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ।
- BCSCL (Bangladesh Communication Satellite Company Limited) হলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড।
- NIPORT (National Institute of Population Research and Training) জনসংখ্যা গবেষণা বিষয়ক জাতীয় প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট।
৮৯২.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় সিডর কখন আঘাত হানে?
  1. ১৬ নভেম্বর, ২০০৭
  2. ১৩ নভেম্বর, ২০০৭
  3. ১৫ নভেম্বর, ২০০৭
  4. ১৮ নভেম্বর, ২০০৭
সঠিক উত্তর:
১৫ নভেম্বর, ২০০৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ নভেম্বর, ২০০৭
ব্যাখ্যা

সিডর:
- সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ চোখ।
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয়।
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নাম ঠিক করে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৩.
কোন কোন মাসে কাল-বৈশাখী ঝড় হয়?
  1. ফাল্গুন-চৈত্র
  2. চৈত্র-বৈশাখ
  3. বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য
  4. বৈশাখ
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়:
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।
- দেশের পূর্বাঞ্চলে এ ঝড় অধিক হয়ে থাকে।
- কালবৈশাখী ঝড়ে মানুষ, পশুপাখি ও সম্পদহানি ঘটে এবং কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়।
- এছাড়া ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) ২২ এপ্রিল ২০২২, বিবিসি বাংলা।
৮৯৪.
ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি ও ঘূর্ণনের জন্য কোন বল প্রভাব ফেলে?
  1. ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বল
  2. কোরিওলিস বল
  3. যান্ত্রিক বল
  4. মহাকর্ষ বল
সঠিক উত্তর:
কোরিওলিস বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোরিওলিস বল
ব্যাখ্যা

• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট একটি প্রবল ঘূর্ণায়মান সামুদ্রিক ঝড়, যেখানে তীব্রবেগে বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত ঘুরতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় হলো আবহাওয়া জনিত বায়ুমণ্ডলীয় দুর্যোগ।
- কোরিওলিস বলের কারণে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণনের দিক আলাদা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরে।
- এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ছিল ১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড়।
- এই ঝড় সর্বকালের সবচেয়ে মারাত্মক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় হিসেবে পরিচিত।
- এই ঝড়ে প্রায় ৩ থেকে ৫ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
- এবং প্রায় ১০.৫ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস উপকূলে ধ্বংস সাধন করেছিল।

উৎস: Britannica ও বাংলাপিডিয়া।

৮৯৫.
কোনটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়- 
  1. দুর্যোগ প্রতিরোধ
  2. দুর্যোগ প্রশমন 
  3. সাড়াদান
  4. দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি
সঠিক উত্তর:
সাড়াদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়াদান
ব্যাখ্যা

 - সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:

- সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৬.
ছোট ও মাঝারি তীব্রতার ঘূর্ণিঝড় বন্দরের উপর দিয়ে অতিক্রম করার ক্ষেত্রে কত নং বিপদ সংকেত দেয়া হয়?
  1. ৬ নং
  2. ৭ নং
  3. ৮ নং
  4. ৯ নং
সঠিক উত্তর:
৭ নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ নং
ব্যাখ্যা
সতর্কতা ও বিপদ সংকেত:
ঘূর্ণিঝড়ের সময় সতর্কতা ও বিপদ বুঝানোর জন্য সমুদ্র বন্দরের জন্য ১১টি সংকেত রয়েছে এবং নদীবন্দরের জন্য ৪ টি সংকেত রয়েছে।
সমুদ্র বন্দরের ১১টির মধ্যে প্রথম চারটি সতর্কতা ও স্থানীয় সংকেত। পরের তিনটি বিপদ সংকেত এবং তার পরের তিনটি মহাবিপদ সংকেত। ১১নং সংকেত মূলত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেত।
নিম্নে সমুদ্র বন্দরের ১১টি সংকেতের অর্থ দেওয়া হল
১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।

২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।

৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।

৫ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৬ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৭ নং বিপদ সংকেত:

বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৮ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

৯ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

১০ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।

১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত:
আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

উৎস: ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা।
৮৯৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রকোপ দেখা যায়?
  1. পূর্ব- দক্ষিণাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলে
  4. পশ্চিম- পূর্বাঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
ব্যাখ্যা

খরা (Drought): 
- ফসল জন্মানোর স্বাভাবিক সময়ে শস্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার চাইতে জমিতে কম আর্দ্রতা থাকলে সে সময়কে বাংলাদেশে ক্ষরা অবস্থা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রকোপ দেখা যায়।
- ১৯৯৪-৯৫ খ্রিষ্টাব্দের খরা এবং পরবর্তীতে ১৯৯৫-৯৬ খ্রিষ্টাব্দের খরা খাদ্যশস্যের বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান কৃষিফসল ধান ও পাট মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
- খরার প্রকোপে শাকসবজি, তামাক, কলা, অন্যান্য শস্যের ফলন দারুণভাবে ব্যাহত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯৮.
নিচের কোনটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ?
  1. ইতালির ভিসুভিয়াস
  2. পোপো আগ্নেয়গিরি
  3. জাপানের ফুজিয়ামা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
জাপানের ফুজিয়ামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাপানের ফুজিয়ামা
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরির শ্রেণিবিভাগ:
- পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যেমন:
ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano),
খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano) এবং,
গ. মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano).

⇒ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি:
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়।
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই ধরনের।
- যেমন যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরত লাভা নির্গত হয় সেগুলো অবিরাম আগ্নেয়গিরি।
- অন্যদিকে যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে।
- যেমন: ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি।

⇒ সুপ্ত আগ্নেয়গিরি:
- সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে।
- যেমন: জাপানের ফুজিয়ামা

⇒ মৃত আগ্নেয়গিরি:
- সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থেকে পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে না।
- যেমন: পোপো আগ্নেয়গিরি।
- মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বৃষ্টির পানি জমে হ্রদ সৃষ্টি হলে, তাকে আগ্নেয় হ্রদ (Vent) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৯.
জৈবিক দুর্যোগ নিচের কোনটি দ্বারা সংক্রমিত হয়?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. পরজীবী
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

জৈবিক দুর্যোগ (Biological hazard):
- জৈবিক দুর্যোগ (Biological hazard) হলো এমন ধরনের দুর্যোগ যা জীবাণু, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী অথবা অন্যান্য সংক্রামক এজেন্টের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
- এই ধরনের দুর্যোগ সাধারণত মহামারির আকারে দেখা দেয় এবং সমাজের সবস্তরের মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- জৈবিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোভিড-১৯ মহামারি, ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া প্রাদুর্ভাব, ২০০৭ সালের বার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরের ব্যাপক বিস্তার।
- এছাড়াও সোয়াইন ফ্লু, জিকা ভাইরাস ইত্যাদিও জৈবিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
- এ ধরনের দুর্যোগ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চরম চাপে ফেলে, জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়।
- তাই জৈবিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা অপরিহার্য। 

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০০.
কোন সময়ে আবহাওয়া বিভাগ জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়?
  1. বন্যার সময়ে
  2. ভারী বৃষ্টির সময়ে
  3. ভূমিকম্পের সময়ে
  4. ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়কালিন সময়ে বাতাসের গতিবেগ, জোয়ার-ভাঁটার সময়কাল, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার প্রাকৃতিক গঠন ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করে আবহাওয়া বিভাগ জলোচ্ছাস সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়।
- স্পারসো ও আবহাওয়া বিভাগ রাডারের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা, গতিবেগ ও গতিপথ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেবার পাশাপাশি জলোচ্ছাস সম্পর্কেও পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।