বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৯৬৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ১০ · ১০০ / ৯৬৩

.
UDMC এর পূর্ণরূপ-
  1. Union Disaster Management Committee
  2. Union Disaster Management Community
  3. Union Disaster Management Centre
  4. Union Disaster Management Council
সঠিক উত্তর:
Union Disaster Management Committee
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Union Disaster Management Committee
ব্যাখ্যা
• UDMC:
- UDMC-এর পূর্ণরূপ: Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় UDMC।
- এই কমিটি দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড করে থাকে।
- স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসের অন্তত একবার UDMC এর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
.
বাকল্যান্ড বাঁধ কোন নদীর তীরে শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ?
  1. ক) কর্ণফুলী
  2. খ) বুড়িগঙ্গা
  3. গ) শীতলক্ষ্যা
  4. ঘ) তুরাগ
সঠিক উত্তর:
খ) বুড়িগঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বুড়িগঙ্গা
ব্যাখ্যা
বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ।
১৮৬৪ সনে তৎকালীন নগর কমিশনার সি.টি বাকল্যান্ড এই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন। নদীর ঘাট পর্যন্ত কার্গো ও যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল সুগম করার জন্য পাড়ের নিম্নভাগে পলি প্রতিরোধ করা এবং প্লাবন ও ভাঙন থেকে ঢাকা শহর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে এই বাঁধ নির্মিত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
.
বিপর্যয় উপদ্রুত এলাকার জনসাধারণ যখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তখন তাকে কী বলে?
  1. প্রতিকূলতা
  2. বিপদাপন্নতা
  3. দুর্যোগ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগ
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ:
- একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পরিবেশ উন্নয়নে কবে বাংলাদেশ জাতীয় বন-নীতি গ্রহণ করেছে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা

'জাতীয় বন-নীতি':
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৪ সালে 'জাতীয় বন-নীতি' ঘোষণা করে।

জাতীয় বননীতির উদ্দেশ্য:
- বনজ সম্পদের বিনাশ ও বনের অবক্ষয় রোধকল্পে যথাযথ কর্মসূচি এবং প্রকল্পের মাধ্যমে ৫০% ঘনত্ব সম্পন্ন দেশের বৃক্ষাচ্ছাদিত (tree cover) এলাকার পরিমাণ ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যূনপক্ষে ২০% বৃক্ষাচ্ছাদিত এলাকাসমৃদ্ধ এবং সম্প্রসারণ করা।
- সরকারি বনভূমির কঠোর সংরক্ষণ, বনের বৃদ্ধি, বন বাস্তুতান্ত্রিক সেবার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বনজদ্রব্য, বাজার প্রভাবের আওতাধীন রেখে বন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের স্বার্থে বন প্রত্যয়নপত্র প্রদান (Forest Certification) ব্যবস্থা চালু করা।
- সরকারি বনের বাইরে শহর এলাকাসহ সরকারি এবং বেসরকারি মালিকানাধীন ভূমিতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি  বনের উপর বন-নির্ভর জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতা হ্রাস করার জন্য সকল প্রকার অংশীদারিত্বমূলক বনায়ন কার্যক্রম এবং বনের বাইরে (off-forest) কর্মসংস্থান সৃষ্টি উৎসাহিত করা।
- রক্ষিত এলাকা ও অন্যান্য আবাসস্থলে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ পদ্ধতির উন্নয়ন করা।
- বন বাস্তুতন্ত্রের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
- নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাভূমির জল-বিভাজিকা (catchment) চিহ্নিত করা এবং কঠোর প্রাকৃতিক রক্ষিত এলাকা (strict protected area) হিসেবে ঘোষণা করা।
- ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহ বৃদ্ধি ও বছর জুড়ে নদীপ্রবাহ নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপিত বনভূমির ৩০% এলাকা 'রক্ষিত এলাকা'য় সম্প্রসারণ করা।
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জনসংখ্যার চাপ, শহরায়নসহ বিদ্যমান এবং উদ্ভূত সমস্যা মোকাবিলার জন্য বন বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের মাধ্যমে গবেষণা, শিক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি কার্যক্রম জোরদার করা।
- বাস্তুতান্ত্রিক সেবার মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পরিশোধ, বন বাস্তুতান্ত্রিক পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করা।
- বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা ২০০৯ (Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan, 2009)-এ চিহ্নিত সংশ্লিষ্ট সুপারিশসমূহের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
- বিবৃত নীতিমালা এবং এর অধীনে প্রণীত কার্যক্রম যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ও মূল্যায়ন এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা সেল প্রতিষ্ঠা করা।
- কাঠ ও কাঠের বিকল্প সক্ষম কারখানা স্থাপন সহজীকরণ এবং সেইসাথে কাঠের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- বিভিন্ন বহুপাক্ষিক পরিবেশ চুক্তি সম্পর্কিত বাংলাদেশের অঙ্গীকারসমূহ যেমন CITES, CBD, UNCED, Ramsar ইত্যাদি যাতে পরিপালিত হয় তা নিশ্চিত করা।
- বনায়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিশেষ করে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে নারীর সম্পৃক্ততা উৎসাহিত করা হবে।
- নীতির রূপরেখাকে কার্যে পরিণত করার লক্ষ্যে সমানুপাতিক আর্থিক সংশ্লেষ এবং যথার্থ জবাবদিহিতাসহ যথপোযুক্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
তুলনামূলকভাবে কম দুর্যোগপ্রবণ জেলা কোনটি?
  1. খুলনা
  2. ময়মনসিংহ
  3. সুনামগঞ্জ
  4. নওগাঁ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
- সমুদ্র এবং প্রবাহমান নদীসমূহ থেকে অবস্থানগত দূরত্বের কারণে দেশের ছয়টি জেলা তুলনামূলকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্যে কম ‍ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
জেলাসমূহ হলো:
- ময়মনসিংহ
- শেরপুর
- গাজীপুর
- নীলফামারী
- মাগুরা এবং
- ঝিনাইদহ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০)
.
পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ কোন দুর্যোগের ক্ষেত্রে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ?
  1. ক) বন্যা
  2. খ) ঝড়
  3. গ) সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. ঘ) লবণাক্ততা
সঠিক উত্তর:
ক) বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বন্যা
ব্যাখ্যা
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে। এগুলো হলোঃ মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে বন্যা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১ নম্বরে। ঝড়ের ঝুঁকিতে ২ নম্বর এবং সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ১০ নম্বর।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
.
SMOG হচ্ছে -
  1. ক) ঘন কুয়াশা
  2. খ) দূষিত বাতাস
  3. গ) ধোঁয়া
  4. ঘ) কালো ধোঁয়া
সঠিক উত্তর:
খ) দূষিত বাতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দূষিত বাতাস
ব্যাখ্যা
'SMOG' অর্থ দূষিত বাতাস। Smoke এবং Fog এর সমন্বয়ে SMOG শব্দটি সৃষ্টি হয়েছে।

Smog, community-wide polluted air. Its composition is variable.
- The term is derived from the words smoke and fog, but it is commonly used to describe the pall of automotive or industrial origin that lies over many cities.
- The term was probably first used in 1905 by H.A. Des Voeux to describe atmospheric conditions over many British towns.

[source: britannica.com]
.
‘লা-নিনা’ কোন ভাষার শব্দ এবং এর দ্বারা কী বোঝায়?
  1. মালয়েশীয় : বিপৎসংকেত
  2. স্প্যানিশ : বৃষ্টিপাত ও বন্যা
  3. লাতিন : শৈত্যপ্রবাহ
  4. গ্রিক : খরা ও ঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর:
স্প্যানিশ : বৃষ্টিপাত ও বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্প্যানিশ : বৃষ্টিপাত ও বন্যা
ব্যাখ্যা
‘লা-নিনা’ স্প্যানিশ শব্দ এবং এর দ্বারা বোঝায় বৃষ্টিপাত ও বন্যা।

লা নিনা:

- লা-নিনা (La Lina) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট মেয়ে।
- ‘লা-নিনা’ শীতল প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ।
- লা-নিনা’র সময় বেশি বৃষ্টি আর বেশি বন্যা দেখা যায় এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়।
- দীর্ঘকালীন গড় তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় লা-নিনা।
- লা-নিনার স্থায়ীত্ব ৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
- তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর এই চক্র ফিরে আসতে পারে।
- সাধারণত এল নিনো শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লা-নিনার গঠন শুরু হয়।
- দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের জেলেরা প্রায় ১০০ বছর আগে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এটির নামকরণ করে।

উৎস: i) National Oceanic and Atmospheric Administration.
ii) BBC.
.
নিম্নের কোনটি 'hydro-meteorological' দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. বন্যা
  2. ভূমিধস
  3. ক ও খ উভয়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
Hydro-meteorological দুর্যোগ:
- Hydro-meteorological শব্দটি দুটি অংশ থেকে গঠিত: Hydro এর অর্থ পানি সংশ্লিষ্ট এবং Meteorological অর্থ আবহাওয়া বা জলবায়ু সংক্রান্ত ঘটনা।
- hydro-meteorological দুর্যোগ বলতে মূলত জলবায়ু ও আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলিকে বোঝায়।
- বন্যা, ভূমিধস উভয় hydro-meteorological দুর্যোগ হিসেবে পরিচিত।
- এই দুর্যোগগুলো সরাসরি জলবায়ু (Climate) এবং আবহাওয়ার (Weather) পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- প্রধানত বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতি, তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার পরিবর্তন এই দুর্যোগগুলির কারণ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
১০.
নিচের কোনটি 'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০' এর নির্দিষ্ট অভীষ্ট নয়?
  1. দূর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণ
  2. ভূমি ও পানি সম্পদের সর্বোত্তম সমন্বিত ব্যবহার
  3. পানি ব্যবহারে অধিকতর দক্ষতা বৃদ্ধি
  4. জলাভূমি এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ
সঠিক উত্তর:
দূর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দূর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে পদক্ষেপ গ্রহণ
ব্যাখ্যা
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০: 

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তে প্রাথমিকভাবে একুশ শতকের শেষের দিকে বাংলাদেশ ব-দ্বীপের সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তারিত রূপকল্প প্রণয়নের প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, একটি সমন্বিত, বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি ব-দ্বীপ রূপকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ:
• রূপকল্প: “নিরাপদ, জলবায়ু পরিবর্তনে অভিঘাতসহিষ্ণু সমৃদ্ধশালী ব-দ্বীপ গড়ে তোলা”।

• অভিলক্ষ্য:  “দৃঢ়, সমন্বিত ও সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল কার্যকরী কৌশল অবলম্বন এবং পানিসম্পদ 66 ব্যবস্থাপনায় ন্যায়সঙ্গত সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত এবং অন্যান্য ব-দ্বীপ সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবেলা করে দীর্ঘমেয়াদে পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ”।

এ দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য এটিকে নির্দিষ্ট অভীষ্ট বা লক্ষ্যে রূপান্তর করা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ফলাফল হিসেবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন, পানি ও জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকি কমানো এবং তার সাথে পরিবেশগত সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা যুক্ত করে এটি সর্বোত্তমভাবে সম্পন্ন করা যায়।

• অভীষ্ট: ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তে উচ্চতর পর্যায়ের ৩টি জাতীয় অভীষ্ট এবং ব-দ্বীপ সংশ্লিষ্ট ৬টি নির্দিষ্ট অভীষ্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। ব-দ্বীপ সংশ্লিষ্ট অভীষ্টসমূহ উচ্চতর পর্যায়ের অভীষ্ট অর্জনে অবদান রাখবে।

• উচ্চ পর্যায়ের অভীষ্ট: 
- অভীষ্ট ১: ২০৩০ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ;
- অভীষ্ট ২: ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন; এবং
- অভীষ্ট ৩: ২০৪১ সাল নাগাদ একটি সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জন।

• ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০'র নির্দিষ্ট অভীষ্টসমূহ: 
- অভীষ্ট ১: বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিপর্যয় থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
- অভীষ্ট ২: পানির নিরাপত্তা এবং পানি ব্যবহারে অধিকতর দক্ষতা বৃদ্ধি করা;
- অভীষ্ট ৩: সমন্বিত ও টেকসই নদী অঞ্চল এবং মোহনা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা;
- অভীষ্ট ৪: জলাভূমি এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ এবং তাদের যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা;
- অভীষ্ট ৫: অন্তঃ ও আন্তঃদেশীয় পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও ন্যায়সঙ্গত সুশাসন গড়ে তোলা; এবং
- অভীষ্ট ৬: ভূমি ও পানি সম্পদের সর্বোত্তম সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করা।

উৎস: বাংলাদেশ ব দ্বীপ পরিকল্পনা (সরকারি ওয়েবসাইট)। 
১১.
বিশ্ব সুনামি সতর্কতা দিবস কত তারিখ?
  1. ১ এপ্রিল
  2. ১০ জানুয়ারি
  3. ৫ নভেম্বর
  4. ২ মার্চ
সঠিক উত্তর:
৫ নভেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
• ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভার মাধ্যমে ৫ নভেম্বর কে World Tsunami Awareness Day হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

• সুনামি:
- সুনামি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এটি মূলত জাপানি শব্দ। এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সমুদ্র তলদেশে প্রচণ্ড মাত্রার ভূকম্পন বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কিংবা অন্য কোনো কারণে ভূ-আলোড়নের সৃষ্টি হলে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।
- ভূকম্পনে সৃষ্ট এ সমুদ্র ঢেউ সুনামি নামে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
বাংলাদেশের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়?
  1. কুড়িগ্রাম
  2. বান্দরবান
  3. রংপুর
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
ব্যাখ্যা
বন্যা:
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
- এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।

বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র - বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
১৩.
'সাইক্লোন' শব্দটির অর্থ কী?
  1. ক) এক চোখা ঘোড়া
  2. খ) বিশালাকার দানব
  3. গ) ঘূর্ণিপাক
  4. ঘ) কুন্ডলী পাকানো সাপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুন্ডলী পাকানো সাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুন্ডলী পাকানো সাপ
ব্যাখ্যা
সাইক্লোন' শব্দটির অর্থ হচ্ছে কুন্ডলী পাকানো সাপ। 

- ঘূর্ণিঝড় (Cyclone)  ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলী ঝড় বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়।
- এটি সাধারণ  প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের একটি।
- ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় (Tropical cyclone) বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘সাইক্লোন’ গ্রিক শব্দ ‘কাইক্লোস’ (Kyklos) থেকে এসেছে।
- ব্রিটিশ-ভারতীয় বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ  হেনরী পিডিংটন ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত সামুদ্রিক দুর্যোগ বিষয়ক পুস্তক The Sailor’s Horn-book for the Law of Storms -এ প্রথমবারের মতো সাইক্লোন শব্দটি ব্যবহার করেন। 

সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১৪.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  2. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. উত্তর- পূর্বাঞ্চলে
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
অনাবৃষ্টি ও খরা:
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ফলে, উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপন করে ও ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যায়।

 উৎস:  বাংলাপিডিয়া ও ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
নিচের কোনটি অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা?
  1. বেড়িবাঁধ তৈরি
  2. ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ
  3. নদী খনন
  4. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
গণসচেতনতা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণসচেতনতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:  
• দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। 
• সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয় । 
• দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন। 
• অতীতে দুর্যোগে  সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো। 

♣ প্রতিরোধ:
• প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
• দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
• কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়।
• কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। 
অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ, যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।  

♣ সাড়াদান: 
• সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র। দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। 
• সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়। 

উৎস:
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬.
বাংলাদেশের সর্বশেষ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কোনটি? (অক্টোবর, ২০২৪)
  1. বেতবুনিয়া
  2. তালিবাবাদ
  3. মহাখালী
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র:
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা:
- বেতবুনিয়া (রাঙ্গামাটি), 
- তালিবাবাদ (গাজীপুর),
- মহাখালী (ঢাকা) এবং 
- সিলেট।

- প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র বেতবুনিয়া (১৯৭৫) এবং সর্বশেষ কেন্দ্র সিলেট (১৯৯৭)।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৭.
ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
সতর্কতা ও বিপদ সংকেত:
ঘূর্ণিঝড়ের সময় সতর্কতা ও বিপদ বুঝানোর জন্য ১১টি সংকেত রয়েছে।
- তার মধ্যে প্রথম চারটি সতর্কতা ও স্থানীয় সংকেত। বাকিগুলো বিপদ সংকেত।
নিম্নে ১১টি সংকেতের অর্থ দেওয়া হলঃ

১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।
২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।
৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।
৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।
৫ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৬ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৭ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
৮ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
৯ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।
১০ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।
১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত:
আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

উৎসঃ ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা।
১৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়?
  1. পুনর্বাসন
  2. পুনরুদ্ধার
  3. প্রতিরোধ
  4. প্রস্তুতি
সঠিক উত্তর:
পুনর্বাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনর্বাসন
ব্যাখ্যা
পুনর্বাসন পর্যায়ে দুর্যোগের ক্ষতি মূল্যায়ন করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- সাধারণভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার জন্য দুর্যোগ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে যে কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় সেগুলোর সমন্বিতরূপকে বুঝায়।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বলে ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের জন্য বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
- নতুবা দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে মানবজীবন হয়ে উঠে দুর্বিষহ।
- দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত আলোচিত বিষয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য:
১. দুর্যোগকালীন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
২. দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ জনগণের জন্য স্বল্প সময়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ, চিকিৎসাসামগ্রী ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
৩. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।

‘‘পুনর্বাসন’’ অর্থ-
- দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পূর্বাবস্থায় বা অধিকতর ভাল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। 
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মানসিক, অর্থনৈতিক ও ভৌত কল্যাণ সাধনসহ তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আক্রান্ত এলাকায় স্বাভাবিক জীবন, জীবিকা ও কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনা;
- ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে, প্রয়োজনে, অন্যত্র স্থানান্তর করা;
- ক্ষতিগ্রস্ত গবাদি পশু, মৎস্য, ইত্যাদির সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট খামার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা;
- পুকুর, নদী-নালা, খাল, বিল, জলাধারে মৃত মানুষ, গবাদি পশু, মৎস্য, ইত্যাদি অপসারণের ত্বড়িৎ ব্যবস্থা করা এবং এদের বিষাক্ত পানি শোধনের ব্যবস্থা করাসহ মানুষ ও জীব-জন্তুর জন্য বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা;
- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিষাক্ততা অপসারণের লক্ষ্যে বিষাক্ত জীবাণু ও ময়লা-আবর্জনা পরিস্কারের ব্যবস্থাসহ এটি হতে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
১৯.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা -
  1. ক) প্রশান্ত মহাসাগরের নিকট
  2. খ) বাল্টিক সাগর ও নর্দিক অঞ্চল
  3. গ) ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা
  4. ঘ) উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
• টর্নেডো: 
- টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়।
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়।
- টর্নেডোর ভিতরে ও বাইরের বায়ু চাপের গড় পার্থক্য প্রায় ২ ইঞ্চি। 
 
• টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য টর্নেডোর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে আলোচিত হলো-
১. টর্নেডোতে প্রথমত আকস্মিকভাবে বায়ু চাপের হ্রাস ঘটে বলেই বড় বড় ইমারতে ফাটল ধরে।
২. বায়ুর আবর্তন হয় অত্যন্ত দ্রুতবেগে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সম্মুখে প্রতি বর্গফুটে বায়ুচাপের পরিমাণ হয় ১৬০ থেকে ১০০০ পাউন্ড।
৩. টর্নেডোর উত্তোলন ক্ষমতা অনেক ভয়ঙ্কর। ভয়ঙ্কর বেগে টর্নেডোর বায়ু উপরের দিকে উত্থিত হয় এবং পথে যা পায় তাই তুলে নেয়।
৪. ভূমিতে টর্নেডোর রৈখিক গতিবেগ বিভিন্ন টর্নেডোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন- উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে আসে ।
৫. টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
৬. টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ মাইল হয়।
৭. পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া
৮. সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।
৯. টর্নেডো ব্যাপক জানমাল ও পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
বঙ্গোপসাগর থেকে বিশ্বের কত শতাংশ ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়?
  1. ৫%
  2. ১০%
  3. ২০%
  4. ৩০%
সঠিক উত্তর:
১০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০%
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় একটি বিধ্বংসী দুর্যোগ হিসেবে প্রমাণিত।
- ভারত মহাসাগর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়। 
- যা বৈশ্বিক ৮৫ শতাংশ ঘূর্ণিঝড় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির কারণ। 
- ভারত মহাসাগরের হটস্পট নিকোবার এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকট থেকে সৃষ্ট নিম্নচাপ প্রায়শ বিভিন্ন মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় এবং বাংলাদেশে এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-নভেম্বরে আঘাত হানে।

উৎস: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা।
২১.
নিচের কোনটি বাংলাদেশ সরকার প্রণীত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নয়?
  1. CDMP
  2. SFDRR
  3. NPDM
  4. NDMAC
সঠিক উত্তর:
SFDRR
উত্তর
সঠিক উত্তর:
SFDRR
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত অপশন সমূহের মধ্যে SFDRR (Sendai Framework for Disaster Risk Reduction) হলো জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০১৫ সালে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলনে গৃহীত পরিকল্পনা।
- এই পরিকল্পনার মেয়াদকাল ২০১৫-২০৩০। SFDRR পরিকল্পনায় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সাতটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
অন্যদিকে
- NDMAC : National Disaster Management Advisory Committee
- DDMC : District Disaster Management Committee
- UZDMC : Upazila Disaster Management Committee.
- UDMC: Union Disaster Management Committee
- CDMP: Comprehensive Disaster Management Programme
- NPDM: National Plan for Disaster Management

সূত্রঃ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা - ২০১৫, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর
২২.
বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে সংঘটিত ঝড়ের নাম কী?
  1. কালবৈশাখী
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. টর্নেডো
  4. সাইক্লোন
সঠিক উত্তর:
কালবৈশাখী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালবৈশাখী
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী:
- বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে সংঘটিত ঝড়ের নাম কালবৈশাখী।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় সুপরিচিত।
- কালবৈশাখী ঝড় বায়ুপ্রবাহ ও ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে সংঘটিত হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ ভূ-পৃষ্ঠের উপর আঘাত হানে।
- কালবৈশাখীকে বায়ুপুঞ্জ বজ্রঝড় অথবা পরিচলনগত বজ্রঝড় নামেও আখ্যায়িত করা যায়।
- বাংলাদেশে কালবৈশাখী সৃষ্টির প্রধান কারণ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আসা উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু যা ঊর্ধ্বে ২ কিলোমিটার পর্যন্ত আরোহন করে থাকে এবং এ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুর সঙ্গে মিলিত বা মুখোমুখি হয়।
- উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ছোটনাগপুর মালভূমিতে সৃষ্টির পর পূর্বদিকে ধাবিত হয়ে বাংলাদেশের সীমায় উপস্থিত হয়। বিপরীতধর্মী ও অসম এ দু বায়ুপ্রবাহের মুখোমুখি হওয়ার ফলে প্রাক-কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বজ্র-বিদ্যুৎপূর্ণ ঝড় সৃষ্টি হয়।
- এই ঝড় বৈশাখ মাসে কখনও চৈত্র মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক হতে আসে বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বা গ্রীষ্মকালীন উত্তর পশ্চিম ঝড় বা বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ঝড়বৃষ্টি বলা হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ নয় কোনটি?
  1. ঘন ঘন বন্যা
  2. সমুদ্র দূষণ
  3. ত্রুটিপূর্ণ সমুদ্র শাসন
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘন ঘন বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘন ঘন বন্যা
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ঘন ঘন বন্যাব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নের জন্য বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়।

Blue economy:
- সুনীল অর্থনীতি বা Blue economy হচ্ছে সমুদ্রের সম্পদনির্ভর অর্থনীতি।
- সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ও এর তলদেশের বিভিন্ন প্রকার সম্পদকে কাজে লাগানোর অর্থনীতি।
- ব্লু ইকোনমি সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন বেলজিয়ামের অর্থনীতিবিদ গ্রুন্টার পাউলি।
- ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

⇒ বিশ্বব্যাংক আধুনিক ব্লু ইকোনোমির সংজ্ঞায় বলেছে - ব্লু ইকোনোমি হলো টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সামুদ্রিক পরিবেশের সুরক্ষা করে সমুদ্রের ব্যবহারযোগ্য সকল ধরণের সম্পদ সঠিকমাত্রায় ব্যবহার করা। এখানে, ইকোনোমি শুধু ব্যবসায়িক দিক বুঝায় না, বরং সমুদ্রের জীবন্ত প্রাণীদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাও বুঝায়।
- ২০১৪ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারের নিকট থেকে সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর বঙ্গোপসাগরে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ব্লু ইকোনমির বড় অংশীদার হয়। বিশাল সমুদ্রজয়ের পর সমুদ্র অর্থনীতি ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু হয় বাংলাদেশের।
- বাংলাদেশের 'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা - ২১০০' বাস্তবায়নে ব্লু ইকোনমির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমির চ্যালেঞ্জ:
- পর্যাপ্ত নীতিমালার ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাব।
- দক্ষ জনশক্তির অভাব।
- প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব।
- সম্পদের পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে সঠিক তথ্যের অভাব।
- মেরিন রিসোর্সভিত্তিক পর্যাপ্ত গবেষণা না হওয়া।
- ব্লু-ইকোনমি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগের অভাব।
- সমুদ্রে গমন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য গবেষণা জাহাজ না থাকা।

উৎস: i) United Nation ওয়েবসাইট।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৪.
গত তিন দশকে বাংলাদেশের কোন অংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে?
  1. ক) উত্তরাংশ
  2. খ) পূর্বাংশ
  3. গ) দক্ষিণাংশ
  4. ঘ) পশ্চিমাংশ
সঠিক উত্তর:
খ) পূর্বাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পূর্বাংশ
ব্যাখ্যা
গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া প্রভৃতি স্থানে। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
২৫.
ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়।
  2. ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।
  3. বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
  4. ঘূর্ণিঝড় একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড় একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড় একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone):
- প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য।
 • স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
 • ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত।এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
 •  বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিকসংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
 • ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

উল্লেখ্য
 গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। 
- বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ের সময়কাল, নাম ও মৃত মানুষের সংখ্যা নিম্নের সারণিতে দেখানো হলো।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬.
SPARRSO কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮৪ সালে
  2. ১৯৮৮ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৮৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
• SPARRSO:
- বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (SPARRSO) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- SPARRSO পূর্ণরূপ: Bangladesh Space Research and Remote Sensing Organization (SPARRSO)
- ১৯৮০ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।

সূত্র: SPARRSO এর ওয়েবসাইট।
২৭.
কোনটি মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র?
  1. ক) সিপিপি
  2. খ) সিআরবি
  3. গ) বিডিপি
  4. ঘ) স্পারসো
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্পারসো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্পারসো
ব্যাখ্যা

- SPARRSO (স্পারসো) এর পূর্ণরূপ- Space Research and Remote Sensing Organisation (মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র)।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।

উৎস: স্পারসোর ওয়েবসাইট।

২৮.
ভূমিকম্প সৃষ্টির কারণ কোনটি?
  1. ক) শিলাচ্যুতি
  2. খ) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) প্লেটসমূহের সঞ্চালন
  4. ঘ) সবকটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো - পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে। আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়। তাছাড়া শিলাচ্যুতি, তাপ বিকিরণ, ভূগর্ভস্থ বাষ্প, হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি কারণেও ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি
২৯.
কোন সালের বন্যায় দেশের সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়?
  1. ক) ১৯৭৪ সাল
  2. খ) ১৯৮৮ সাল
  3. গ) ১৯৯৮ সাল
  4. ঘ) ২০০৭ সাল
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৮ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৮ সাল
ব্যাখ্যা
বন্যা বাংলাদেশের একটি অতিপরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রায় প্রতিবছরই এদেশে কোথাও না কোথাও বন্যা দেখা দেয়। এদের মধ্যে ১৯৯৮, ১৯৮৮, ২০০৪ এবংং ২০০৭ সালের বন্যা ছিলো ভয়াবহতম।

বেশি এলাকা প্লাবিত বন্যাসমূহ:
¬- ১৯৯৮ সালে : ৬৮ শতাংশ
¬- ১৯৮৮ সালে : ৬১ শতাংশ
¬- ২০০৭ সালে : ৪২ শতাংশ
- ২০১৭ সালে : ৪২ শতাংশ।

¬(তথ্যসূত্র: বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ওয়েবসাইট)
৩০.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়? 
  1. ভবনধ্বস
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. বায়ু দূষণ
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা

’ঘূর্ণিঝড়’ মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়।

• ‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
⇒ প্রাকৃতিক আপদ:
- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন, কালবৈশাখী ইত্যাদি।

⇒ মানবসৃষ্ট আপদ:
- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড, বায়ু দূষণ, দুর্ভিক্ষ, মহামারী  ইত্যাদি।

⇒ কারিগরি আপদ:
- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।

৩১.
বাংলাদেশের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যার প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) বগুড়া
  2. খ) রংপুর
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) নেত্রকোনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেত্রকোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়। এগুলো হলো:
১। বৃষ্টিজনিত বন্যা
২। উপকূলীয় বন্যা
৩। নদীসৃষ্ট বন্যা
৪। আকস্মিক বন্যা।

আকস্মিক বন্যা
• এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পযার্য়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
• এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।
• আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
নিচের কোনটি বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ? 
  1. অতিরিক্ত বৃষ্টি
  2. নদী ভাঙন 
  3. ভৌগোলিক অবস্থান
  4. অপরিকল্পিত নগরায়ণ
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত নগরায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিকল্পিত নগরায়ণ
ব্যাখ্যা

বন্যা:
- বন্যা বলতে সাধারণত প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে- জলাশয়, নদী বা খালের পানি উপচে পড়ে পার্শ্ববর্তী স্থলভূমি প্লাবিত হওয়াকে বোঝায়। 
- বন্যা সংঘটিত হওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট- উভয় ধরনের কারণই দায়ী।
- প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত,
• ভৌগোলিক অবস্থান,
• মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব,
• নদীর গভীরতা ক্রমশ কমে যাওয়া,
• হিমালয় অঞ্চলের বরফ গলে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ,
•বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা এবং
• ভূমিকম্পের প্রভাব।

অন্যদিকে,
•মানবসৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে-
• নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষনিধন,
• গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ,
• অন্যান্য নদীর উপর নির্মিত বাঁধসমূহের প্রভাব এবং
অপরিকল্পিত নগরায়ণ। 
- এসব প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণের সম্মিলিত প্রভাবে বন্যা সৃষ্টি হয়ে মানুষের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা। 

৩৩.
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও বনায়ন কর্মসূচি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন কার্যক্রমের অংশ?
  1. পরিকল্পনা
  2. প্রশমন
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. সাড়াদান
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা
আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও বনায়ন কর্মসূচি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রশমন কার্যক্রমের অংশ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:

- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

⇒ পূর্বপ্রস্তুতি:
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

⇒ প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহন, যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত স্কুল ও ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন ইত্যাদি বুঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত তৈরি করা কষ্টসাধ্য। অপরদিকে, অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

⇒ প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

⇒ সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

⇒ পুনরুদ্ধার:
- :দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুন:নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

⇒ উন্নয়ন:
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪.
কালবৈখাশী ঝড় (North Westerlies) সম্পর্কিত নিচের কোন তথ্যটি ভুল?
  1. কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হল নিম্নচাপ (Depression)।
  2. আর্দ্র ও শুষ্ক বায়ুপুঞ্জ পরস্পর মুখোমুখি হলে কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হয়।
  3. সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে কালবৈশাখী ঝড় হতে দেখা যায়।
  4. বাংলাদেশে সারাবছর কালবৈখাশী ঝড় হয়।
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশে সারাবছর কালবৈখাশী ঝড় হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশে সারাবছর কালবৈখাশী ঝড় হয়।
ব্যাখ্যা
 কালবৈখাশী ঝড় (North Westerlies):
- সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী বলা হয়।
- মূলত আর্দ্র ও শুষ্ক বায়ুপুঞ্জ পরস্পর মুখোমুখি হলে এইরূপ কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হয়।
- কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হল নিম্নচাপ (Depression)
-  নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
- এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠান্ডাবাতাস প্রচন্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে অগ্রসর হয়। ফলে ঝড়ের উৎপত্তি হয়।
- মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে মাসের মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় তীব্র রূপ ধারণ করে।
- যখন কোনো স্থানে সূর্য খাড়াভাবে কিরণ দেয় তখন ঐ স্থানের বায়ুর তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাপ পেয়ে বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়, ফলে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায়।
- এত বায়ুচাপ কমে যায়। তাই কোনো স্থানের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বায়ুচাপ কমে যায় অর্থাৎ নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।

সূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৫.
বাংলাদেশের কোন সরকারি সংস্থা সমুদ্র উপকূলে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হবার পূর্বাভাস প্রচার করে?
  1. সিপিপি
  2. রেড ক্রিসেন্ট
  3. আবহাওয়া বিভাগ
  4. পানি উন্নয়ন বোর্ড
সঠিক উত্তর:
সিপিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিপিপি
ব্যাখ্যা
উপকূলীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:
- বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চল সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা অনবরত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

• উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
- ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
- জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা।
- বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
- সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন: অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা।
- এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬.
ঢাকা সিটিতে বৃষ্টিপাতের পরে প্রায়ই জলাবদ্ধতা বন্যায় রূপ নেয়। এটি কোন ধনের বন্যা?
  1. মৌসুমী বন্যা
  2. আকস্মিক বন্যা
  3. উপকূলীয় বন্যা
  4. নগর বন্যা
সঠিক উত্তর:
নগর বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নগর বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood) 
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে। 
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন, যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

- সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে।
- যথা:
১. মৌসুমী বা বৃষ্টিজনিত বন্যা,
২. আকস্মিক বন্যা,
৩. উপকূলীয় বন্যা,
৪. নগর বন্যা। 

আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭.
কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে কী বলে?
  1. এপিসেন্টার
  2. ফোকাস
  3. ফ্রাকচার
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
এপিসেন্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিসেন্টার
ব্যাখ্যা
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।

ভূমিকম্প:
- ভূমিকম্প হলো ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের ফলে ভূ-পৃষ্ঠে অনুভূত একটি প্রাকৃতিক কম্পন।
- যখন ভূ-ভাগের অভ্যন্তরে ভৌগোলিক চাপের ফলে শিলাস্তর ভেঙে যায় বা স্থানচ্যুত হয়, তখন কম্পন সৃষ্টি হয়, এটি ভূ-পৃষ্ঠেও অনুভূত হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- এই কেন্দ্রবিন্দু থেকে ঠিক সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি পড়ে, তাকে বলা হয় উপকেন্দ্র (Epicentre)।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু সাধারণত ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬ থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত থাকে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তি বিন্দু থেকে দূরত্ব যত বাড়ে, ততই কম্পনের তীব্রতা বা শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের মাত্রা ও শক্তি নির্ণয়ের জন্য যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ (Seismograph) বলা হয়।  

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮.
২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিন বা দক্ষিন পশ্চিম অঞ্চলে সর্বপ্রথম কোন হারিকেনটি আঘাত হানে?
  1. আইভান
  2. রিটা
  3. ডায়না
  4. ক্যাটরিনা
সঠিক উত্তর:
ক্যাটরিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাটরিনা
ব্যাখ্যা
হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।

⇒ হারিকেন ক্যাটরিনা ছিল একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় যা ২০০৫ সালের আগস্টের শেষের দিকে দক্ষিণ-পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানে।
- হারিকেন এবং এর পরবর্তী সময়ে ১৮০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
- এটি মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে স্থান পায়।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।
৩৯.
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কমিটি কোনটি?
  1. NDMAC
  2. NDMC
  3. CDMP
  4. DDMC
সঠিক উত্তর:
NDMC
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NDMC
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কমিটি হলো NDMC (National Disaster Management Council)। এটির প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও আইনের বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।

অন্যদিকে,
NDMAC হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি।
CDMP হলো সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি
DDMC হলো জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

(তথ্যসূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা - ২০১৫)
৪০.
কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. নদী ভাঙন
  2. তুষারপাত
  3. পারমাণবিক বিস্ফোরণ
  4. অগ্ন্যুৎপাত
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক বিস্ফোরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমাণবিক বিস্ফোরণ
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক কারণে যেসব দুর্যোগ সংঘটিত হয় তাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়।
প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প
- অগ্ন্যুৎপাত
- নদীভাঙন
- তুষারপাত
- ঘূর্ণিঝড়
- খরা
- জলোচ্ছ্বাস
- বন্যা
- লবণাক্ততা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- রাসায়নিক দূষণ
- যুদ্ধ
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ
- মরুকরণ
- অগ্নিকাণ্ড
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
- বনউজারকরণ ইত্যাদি।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৪১.
নিচের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়?
  1. বন্যা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. ভূমিকম্প
  4. অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- অর্থাৎ ভূমিকম্প ভূ-পৃষ্ঠে সংঘটিত আকস্মিক ও অস্থায়ী কম্পন।
- ভূমিকম্প একটি এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।
- ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্ট অনুযায়ী, সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।
- ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রের নাম সিসমোগ্রাফ।
- ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম রিখটার স্কেল।
- ভূমিকম্পের মূল কারণ হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের শক্তি,
- যা শিলাস্তরগুলির মধ্যে চাপ সৃষ্টি করে এবং একসময় এই চাপ মুক্ত হয়।

অন্যদিকে,
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এসবের জন্য কিছু পূর্ব সতর্কতার ব্যবস্থা থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৪২.
বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
স্পারসো:
- বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটির ম্যান্ডেট হচ্ছে- কৃষি, বন, মৎস্য, ভূতত্ত্ব, মানচিত্র অংকন, পানি সম্পদ, ভূমি ব্যবহার, আবহাওয়া, পরিবেশ, ভূগোল, সমুদ্র বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রে মহাকাশ ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা এবং উক্ত প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য গবেষণা কাজ পরিচালনা করা।
- ১৯৮০ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৯ নম্বর আইন দ্বারা স্পারসোকে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
- মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, বন, সমুদ্রবিজ্ঞান, মহাকাশ ও বায়ুমন্ডল, পানিসম্পদ বিষয়ে গবেষণার দ্বারা নিজস্ব সক্ষমতা উন্নীতকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবীক্ষণ ও পূর্বাভাস প্রদান করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

তথ্যসূত্র - স্পারসো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪৩.
নিচের কোনটি ভূমিকম্পের কারণ নয়?
  1. ভিত্তিশিলা চ্যুতি বা ফাটল বরাবর আকস্মিক ভূআলোড়ন হলে ভূমিকম্প হয়।
  2. আগ্নেয়গিরির লাভা প্রচন্ড শক্তিতে ভূঅভ্যন্তর থেকে বের হয়ে আসার সময়ও ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
  3. ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকের কোনো স্থানে শিলা ধসে পড়লে বা শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়।
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের কারণ:
⇒  ভূমিকম্পের কারণ অনুসন্ধানকালে বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেন পৃথিবীর বিশেষ কিছু এলাকায় ভূকম্পন বেশি হয়। এ সমস্ত এলাকায় নবীন পর্বতমালা অবস্থিত। পৃথিবীর ব্যবচ্ছেদে দেখা যায় যে ভূ-ত্বক ৮টি বড় বড় টুকরা এবং ৬টি আঞ্চলিক টুকরা দ্বারা বিভক্ত। এগুলো টেকটনিক প্লেট নামে পরিচিত।
- ভূ-পৃষ্ঠে যেসব কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হলো এই প্লেটগুলোর বিভিন্ন রকমের স্থানান্তর বা বিচ্যুতি।

এছাড়াও অন্য যেসব কারণে ভূমিকম্প হয়:
• ভিত্তিশিলা চ্যুতি বা ফাটল বরাবর আকস্মিক ভূআলোড়ন হলে ভূমিকম্প হয়।
• আগ্নেয়গিরির লাভা প্রচন্ড শক্তিতে ভূঅভ্যন্তর থেকে বের হয়ে আসার সময়ও ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
• ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ভূ-নিম্নস্থ শিলাস্তরে ভারের সামঞ্জস্য রক্ষার্থে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টির ফলে ভূকম্পন অনুভূত হয়।
• ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকের কোনো স্থানে শিলা ধসে পড়লে বা শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়।
• এছাড়াও পাশাপাশি অবস্থানরত দুটি প্লেটের একটি অপরটির সীমানা বরাবর তলদেশে ঢুকে পড়ে অথবা অনুভূমিকভাবে আগে-পিছে সরে যায়। এ ধরনের সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

⇒  উল্লেখিত প্রশ্নে চাওয়া হয়েভহে "নিচের কোনটি ভূমিকম্পের কারণ নয়?" এখানে 'ক' 'খ' 'গ' অপশনে তিনটাই ভূমিকম্পের কারণ দেওয়া আছে তাই সঠিক উত্তর 'ঘ'  "কোনটি নয়" হবে। 

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪.
কোন ধরনের দূষণে প্রতিবছর বিশ্বে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ মারা যায়?
  1. ক) ‍মৃত্তিকা দূষণ
  2. খ) বায়ু দূষণ
  3. গ) শব্দ দূষণ
  4. ঘ) পানি দূষণ
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ু দূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বায়ু দূষণ
ব্যাখ্যা
- বিশ্বে প্রতিবছর সর্বাধিক সংখ্যক মানুষ মারা যায় বায়ুদূষণের কারণে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বিশ্বে প্রতিবছর মোট মৃত্যুবরণকারী প্রতি ৮ জনের ১ জন মারা যায় বায়ুদূষণের ফলে।
- বায়ুদূষণের ফলে মানুষের মাথাপিছু গড় আয়ুষ্কাল ২.৯ বছর হ্রাস পাচ্ছে।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট)
৪৫.
বাংলাদেশে সংঘটিত বন্যার রেকর্ড অনুযায়ী (১৯৭১-২০০৭) কোন সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়? 
  1. ১৯৭৪
  2. ১৯৮৮
  3. ১৯৯৮
  4. ২০০৭
সঠিক উত্তর:
১৯৯৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৮
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- বন্যা বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে।
- প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়।
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

⇒ মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০০, ২০০৪ ও ২০০৭ সালে সংঘটিত বন্যার প্রভাব সবচেয়ে ব্যাপক ছিলো।
- ১৯৮৮ সালে পানি ১১২ সেন্টিমিটার ও ১৯৯৮ সালে বিপদসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করেছিল।

এছাড়াও,
- গঙ্গা তথা পদ্মার পানি ১৯৮৮ সালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৬২ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- ১৯৯৮ সালের বন্যায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপরে ছিল।
- ১৯৮৮ সালের বন্যায় মেঘনা নদীর ভৈরব বাজার পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপদসীমার ১৮১ সেন্টিমিটার উপরে ছিল এবং ১৯৯৮ সালে সেটি ১০৮ সেন্টিমিটার উপরে দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- ১৯৮৮ সালে যেটা হয়েছিল যে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র দুটো নদীর পানির উচ্চতা একসঙ্গে বেড়ে গিয়েছিল।
- ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের ৬১% ও ১৯৯৮ সালে ৬৮% এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। 

⇔ তাই বলা যায়, ১৯৯৮ সালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) ২৪ অগাস্ট ২০১৭, BBC।
৪৬.
ভূমিকম্প বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা -
  1. ঢাকা
  2. সিলেট
  3. বরিশাল
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূপৃষ্ঠের টেকটোনিক প্লেটগুলো একে অপরের সঙ্গে পাশাপাশি লেগে থাকে।
- কোনো কারণে এগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হলেই তৈরি হয় শক্তি।
- এই শক্তি সিসমিক তরঙ্গ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। যদি তরঙ্গ শক্তিশালী হয়, তাহলে সেটি পৃথিবীর উপরিতলে এসে পৌঁছায়।
- আর সেখানে পৌঁছানোর পর শক্তি অটুট থাকলে সেটা ভূত্বককে কাঁপিয়ে তোলে। এই কাঁপুনিই ভূমিকম্প।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।
- ভূমিকম্প নির্ণয় যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।

⇒ ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।
- অঞ্চলগুলো হলো:
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।

উৎস: i) ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৪৭.
নিম্নের কোনটি কারিগরি আপদ (Hazard)?
  1. পারমানবিক দুর্ঘটনা
  2. বজ্রঝড়
  3. ভবনধ্বস
  4. নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
সঠিক উত্তর:
পারমানবিক দুর্ঘটনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারমানবিক দুর্ঘটনা
ব্যাখ্যা
আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
- প্রাকৃতিক আপদ: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
- মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৪৮.
কত সাল থেকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়?
  1. ১৫৪৮ সাল
  2. ১৫৫২ সাল
  3. ১৫৬২ সাল
  4. ১৫৭৮ সাল
সঠিক উত্তর:
১৫৪৮ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৪৮ সাল
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে, উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে মূলত বৃহদাকার ফাটল ও দুইটি প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।
- বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাসমূহ ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- আজকের চঞ্চলা যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে ১৫৪৮ সালে।
- এর ফলে বর্তমানে চট্টগ্রাম ও সিলেটের অবস্থান যেখানে, এই অঞ্চলে নানা জায়গায় মাটি ফেটে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।
- সেখান থেকে দুর্গন্ধযুক্ত কাদা-পানি বেরোনোর তথ্যও পাওয়া যায়। 

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) The Business Standard।
৪৯.
'সাড়াদান' বলতে কোন ধরনের কার্যক্রমকে বুঝায়?
  1. দুর্যোগ পূর্ব সময়ে উদ্ধার কার্যে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংগ্রহ
  2. দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহকে চিহ্নিতকরণ
  3. দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
  4. দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের অব্যবহিত পরে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা
ব্যাখ্যা
পূর্বপ্রস্তুতি (Preparedness):
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়।
- ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

পুনরুদ্ধার (Recovery):
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়।
- এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

উন্নয়ন (Developement):
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০.
প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগ নয় কোনটি?
  1. ক) অগ্ন্যুৎপাত
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) ঘূর্ণিঝড়
  4. ঘ) যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ (Disaster): একটি বিপর্যয় যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের বেশির ভাগ মানুষকে বিপদাপন্ন করে তুলে এবং তাদের নিজস্ব মোকাবিলা ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন তাকে দুর্যোগ বলে।
- দুর্যোগ একটি এলাকার স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্থ সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি সহজে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না ।

• বিশ্বব্যাপী দুর্যোগসমূহের প্রকারভেদ: পৃথিবীর যে কোনো দেশে দুই ধরনের দুর্যোগ সংঘটিত হয়। যেমন: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও খ) মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ।
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলতে প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট দুর্যোগ বলতে মানব কর্মকান্ডের ফলে সংঘটিত দুর্যোগসমূহকে বুঝায়। যেমন: জলাবদ্ধতা, অগ্নিকান্ড, রাসায়নিক দূষণ, যুদ্ধ ইত্যাদি।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
পার্বত্য এলাকায় অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে কী বলা হয়?
  1. আকস্মিক বন্যা
  2. স্বাভাবিক বন্যা
  3. মৌসুমী বন্যা
  4. জোয়ার-ভাঁটা জনিত বন্যা
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকস্মিক বন্যা
ব্যাখ্যা

• পার্বত্য এলাকায় অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে আকস্মিক বন্যা বলা হয়।

• বন্যা:
- বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।
- অধিক বৃষ্টিপাতের দরুণ ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
- ২০০৭ সালের বন্যায় বাংলাদেশের ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটসহ দেশের সকল বিভাগে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে, বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদসহ মোট ৫০০ লোকের প্রাণহানি হয়।
- বন্যার পানিতে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি, মানুষসহ অন্যান্য প্রাণির প্রাণহানি, অর্থ-সম্পদ ধ্বংস এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে।
- বাংলাদেশে বিগত শতাব্দীতে বড় ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়েছে।
- ১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ।
- এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে বলে -
  1. ফোকাস
  2. এপিসেন্টার
  3. ফ্রাকচার
  4. ফল্ট
সঠিক উত্তর:
এপিসেন্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিসেন্টার
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে বলে এপিসেন্টার।

ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।
- সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে।
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
- ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
- ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে।

⇒ ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

⇒ ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- শিলাচ্যুতি,
- তাপ বিকিরণ,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৫৩.
২০২৫ সালের হারিকেন এরিন কোন মহাসাগরে সক্রিয় ছিল?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আর্কটিক মহাসাগর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

হারিকেন:
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।
- এটি প্রতি ঘন্টায় ১১৯ কিলোমিটার (৭৪ মাইল প্রতি ঘন্টা) বেগে প্রবাহিত হয়।
- একটি হ্যারিকেন থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বন্যা হতে পারে।
- সাফির -সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেল হল ১ থেকে ৫ রেটিং বা বিভাগ, হারিকেনের সর্বাধিক স্থায়ী বাতাসের উপর ভিত্তি করে।
- ক্যাটাগরি যত বেশি, হারিকেনের সম্পত্তির ক্ষতির সম্ভাবনা তত বেশি।

উল্লেখ্য,
- আটলান্টিক মহাসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুততম শক্তি অর্জনকারী ঝড়গুলোর একটি হারিকেন এরিন। 
​- ২০২৫ সালের আগস্টে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
​- এটি খুব দ্রুত শক্তি অর্জন করে ক্যাটাগরি ৫ স্তরে পৌঁছেছিল।
​- এটি আটলান্টিকের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত শক্তি অর্জনকারী ঝড়ে পরিণত হয়। 
​- ঝড়ের প্রভাবে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) NOAA ওয়েবসাইট।

৫৪.
২০০৭ সালে বাংলাদেশে সিডর আক্রান্ত এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিলিফ কার্যক্রমের নাম-
  1. অপারেশন ব্লু স্টোর্ম
  2. অপারেশন বুশ
  3. অপারেশন সি-এঞ্জেল-২
  4. অপারেশন মান্না
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সি-এঞ্জেল-২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন সি-এঞ্জেল-২
ব্যাখ্যা

- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- এই ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমের সাংকেতিক নাম 'অপারেশন সি-এঞ্জেল-২'।
- অপরদিকে, ২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের সময় ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী 'অপারেশন মান্না' সাংকেতিক নামে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।
- এসময় বাংলাদেশে মার্কিন টাস্কফোর্স 'অপারেশন সি-এঞ্জেল' ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনা করে।

৫৫.
কোন ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ বাংলাদেশ করেছে?
  1. মিধিলি
  2. বিপর্যয়
  3. হামুন
  4. মিগজাউম
সঠিক উত্তর:
বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নামকরণ- বিপর্যয়। 
মায়ানমারের নামকরণ-  মিগজাউম।
ইরানের নামকরণ - হামুন।
মালদ্বীপের নামকরণ - মিধিলি।

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ

-  ১৯৫৩ সালে অ্যামেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড়ো শহর মায়ামির জাতীয় হ্যারিকেন সেন্টার আটলান্টিক অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য প্রস্তাব দেয়।
- পরবর্তীতে জাতিসংঘের একটি ইউনিট ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের বৈঠকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের জন্য একটি তালিকা তৈরি করা হয়।
- ওয়ার্ল্ড মেটিরিওলজিকাল ওয়েদার অর্গানাইজেশন এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় জন্য জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন ২০০০ সালে এর সদস্য দেশগুলোর পরামর্শ নিয়ে ঘূর্ণিঝড় ঝড়ের জন্য নাম প্রস্তুত করার কাজ শুরু করে।
- বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, ওমান, পাকিস্তানের মতো আরও ১২টি দেশকে সাথে নিয়ে।
- শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এই প্যানেলের অংশ।
- আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যে মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়—তার অববাহিকায় থাকা দেশগুলো নামকরণ করে।
- পৃথিবীতে মোট ১১টি সংস্থা ঝড়ের নামকরণ করে থাকে।
- নামকরণের এই সামগ্রিক বিষয়টা নিয়ন্ত্রণিত হয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিওএমও) মাধ্যমে। 

সূত্র: Tropical Cyclone Naming/World Meteorological Organization. 
৫৬.
ঘুর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ নামকরণ করে কোন দেশ?
  1. ক) থাইল্যান্ড
  2. খ) ভুটান
  3. গ) নেপাল
  4. ঘ) ভিয়েতনামি
সঠিক উত্তর:
ক) থাইল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• ২৪ অক্টোবর ২০২২ ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশের উপকূলবর্তী বরিশাল, চট্রগ্রাম ও খুলনা বিভাগে আঘাত হানে।
• ‘সিত্রাং’ নামকরণ করে থাইল্যান্ড
• ভিয়েতনামি ভাষায় যার অর্থ ‘পাতা’।

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, নভেম্বর-২০২২।
৫৭.
ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সকল বড় শহরে কোন ধরনের বন্যা দেখা যায়?
  1. মৌসুমী বন্যা
  2. উপকূলীয় বন্যা
  3. আকস্মিক বন্যা
  4. নগর বন্যা
সঠিক উত্তর:
নগর বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নগর বন্যা
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী বন্যাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা।

মৌসুমী বন্যা:
- বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে মৌসুমী বন্যা বলে।
- কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না তবে কখনো কখনো মারাত্মক ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে।
- মৌসুমী বন্যার মাত্রা স্বাভাবিক হলে ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমে আকস্মিক বৃষ্টিপাতের ফলে বা পাহাড়ি ঢলে যে বন্যার সৃষ্টি হয় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা এবং কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় প্রতি বছর আকস্মিক বন্যা হতে দেখা যায়।

উপকূলীয় বন্যা:
- উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয় তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাসমূহে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়।

নগর বন্যা:
- নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে বন্যা দেখা দেয়।
- এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে।
- ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮.
কোন কোন মাসে নদীভাঙন বেশি হয়?
  1. ক) জুন থেকে সেপ্টেম্বর
  2. খ) জুন থেকে জুলাই
  3. গ) আগস্ট থেকে অক্টোবর
  4. ঘ) জানুয়ারি থেকে মার্চ
সঠিক উত্তর:
ক) জুন থেকে সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জুন থেকে সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
নদীভাঙন বাংলাদেশের একটি চলমান প্রক্রিয়া বিশেষ। এ দেশের প্রধান নদী ও শাখানদী দ্বারা কম-বেশি নদীভাঙন প্রক্রিয়া চলে। দেশের প্রায় ১০০টি উপজেলায় নদীভাঙন সংঘটিত হয়। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতে নদীভাঙনে জমির মালিকগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তারা কখনই আর সে জমি পুনরুদ্ধার করতে পারে না। (রেফারেন্সঃ নবম দশম শ্রেণির ভূগোল)
৫৯.
খরা সংঘটিত হওয়ার কারণ হলো-
  1. ক) প্রচুর বৃষ্টিপাত
  2. খ) লবণাক্ততা
  3. গ) অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত
  4. ঘ) ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর:
গ) অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে। অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আদ্রতা কমে যায়। সেই সঙ্গে মাটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়। আমাদের দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৬০.
 দুর্যোগের সময় উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয় প্রদানের কার্যক্রম কোন ধাপে সম্পন্ন হয়?
  1. পূর্বপ্রস্ততি
  2. প্রশমন
  3. সাড়া প্রদান
  4. উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
সাড়া প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাড়া প্রদান
ব্যাখ্যা

◉ সাড়া প্রদান কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়, বস্ত্র, ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রভৃতি।

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- দুর্যোগ কালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

সাড়া প্রদান (Response):
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে সাড়াপ্রদান গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।
- দুর্যোগ সংঘটিত হওয়ার পর নিজের এবং অন্যের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করাকে সাড়া প্রদান বলে।
- সাড়া প্রদান কার্যক্রমসমূহের মধ্যে রয়েছে উদ্ধার, চিকিৎসা, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়, বস্ত্র, ধ্বংসস্তুপ অপসারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, পুনর্বাসন কার্যক্রম প্রভৃতি।
- উপযুক্ত সাড়া প্রদানের মাধ্যমে দুর্যোগ আক্রান্ত এলাকার লোকজন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
- এসব কারণে দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়া প্রদান প্রয়োজন হয়। 

অন্যদিকে:  
প্রশমন (Mitigation):
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।

পূর্ব প্রস্তুতি (Preparedness):
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে। 

সূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১.
Cyclone শব্দের উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. সিংহলি
  4. জাপানি
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিক
ব্যাখ্যা
Cyclone হলো ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Kyklos থেকে যার অর্থ Coil of Snakes বা সাপের কুণ্ডলী। সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় স্যাটেলাইটের ছবিতে সাপের কুণ্ডলীর মতো দেখায়।

ঘূর্ণিঝড় আমাদের দেশে সাইক্লোন নামে পরিচিত হলেও দূরপ্রাচ্যে এটি টাইফুন এবং আমেরিকায় হ্যারিকেন নামে পরিচিত।

(তথ্যসূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
৬২.
নিচের কোনটি জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. ভূমিকম্প
  3. ডেঙ্গু
  4. বজ্রপাত
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
ব্যাখ্যা

- ডেঙ্গু জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভুক্ত। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ: 

- প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ।
- দুর্যোগের ধরন ও দুর্যোগ সৃষ্টির কারণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে দুর্যোগঝুঁকির পরিবেশকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

যথা-
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ,
- মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ এবং
- জৈবিক দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশ।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিসমূহ হলো- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প এবং বজ্রপাত ।
- এছাড়াও বাংলাদেশে মানব সৃষ্ট দুর্যোগ ঝুঁকির পরিবেশের মধ্যে বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহারের কারণে প্রায় চামড়া শিল্প, জাহাজভাঙ্গা শিল্প, রাসায়নিক শিল্পের দুঘর্টনা উল্লেখযোগ্য।
- মহামারি কোভিড-১৯ সহ বিগত বছরগুলোতে যেমন ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া, ২০০৭ সালে ব্রার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ জৈবিক হ্যাজার্ডের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়াও ডেঙ্গু, সোয়াইন ফ্ল, নিপাহ ভাইরাস, জিকা ভাইরাস প্রভৃতিও জৈবিক হ্যাজার্ড এর অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩.
বাংলাদেশকে কতটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূমিকম্প অঞ্চল:
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এ, দেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মাটির গতিবিধি বিভিন্ন স্তরের।
অঞ্চল ১: Z = ০.১২
অঞ্চল ২: Z = ০.২
অঞ্চল ৩: Z = ০.২৮
অঞ্চল ৪: Z = ০.৩৬

- প্রতিটি অঞ্চলে একটি সিসমিক জোন সহগ (Z) রয়েছে, যা মাটির সর্বোচ্চ বিবেচিত ত্বরণ (PGA) নির্দেশ করে।
- এই ত্বরণ কঠোর মাটি/শিলা (সাইট ক্লাস SA) এর জন্য g (মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ) এর এককে মাপা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভূমিকম্প তথ্য:
অঞ্চল ৪ (সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ): উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট) অন্তর্ভুক্ত। PGA = ০.৩৬g।
ঢাকা শহর: মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২)।
চট্টগ্রাম শহর: উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২৮)।

ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এ, 
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
অঞ্চল ১: (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
অঞ্চল ২: (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); মধ্য অঞ্চল
অঞ্চল ৩: (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০। 

৬৪.
দুর্যোগে যে ক্ষতি হয়ে থাকে, তা পুননির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে কী বলে?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. উন্নয়ন
  3. সাড়াদান
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পুনরুদ্ধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা

পূর্ব প্রস্তুতি:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।

প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।
- দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মজবুত ও পাঁকা ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।

পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে সম্পদ, অবকাঠামো, পরিবেশ ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়। যেমন- ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদিতে অর্থ ও প্রযুক্তি যোগান।

তথ্যসূত্র - ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫.
নিচের কোনটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়?
  1. ক) ভূমিকম্প
  2. খ) অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) বায়ুদূষণ
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) বায়ুদূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বায়ুদূষণ
ব্যাখ্যা
বিপর্যয় মানেই দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের আশঙ্কা বা সম্ভাবনা মাত্র। যে বিপর্যয়ে মানুষের কোনো হাত নেই তাকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে। যেমন- ভূমিকম্প, কালবৈশাখী ঝড়, অগ্নুৎপাত ইত্যাদি। আর মানবসৃষ্ট বিপর্যয় হচ্ছে- যুদ্ধ, বায়ুদূষণ, রাসায়নিক বিক্রিয়া ইত্যাদি।
৬৬.
অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ঘূর্ণিঝড়কে কী নামে ডাকা হয়?
  1. হারিকেন
  2. টাইফুন
  3. উইলি উইলিছ
  4. বাগুই
সঠিক উত্তর:
উইলি উইলিছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলি উইলিছ
ব্যাখ্যা

ঘূর্ণিঝড়: 
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় (Cyclone) ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড় (Anti-cyclone)।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- সাধারণত মার্চ ও নভেম্বর মাসে আমাদের দেশে প্রায় প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

• সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত। যেমন-
- চীন ও জাপানের উপকূলে টাইফুন,
- ভারত মহাসাগরে সাইক্লোন,
- ফিলিপাইনের উপকূলে বাগুই,
- অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে উইলি উইলিছ,
- ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মেক্সিকো উপসাগর অঞ্চলে হারিকেন প্রভৃতি নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
  2. মহাশুন্যে অভিযান
  3. সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন
  4. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮.
সিলেট এলাকায় কি ধরণের বৃষ্টিপাত হয়?
  1. পরিচলন বৃষ্টি
  2. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি
  4. সংঘর্ষ বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ:
- মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
- এই ৪টি প্রকারভেদ হলো, 
১। পরিচলন বৃষ্টিপাত: ভূ-পৃষ্ঠের বায়ু উষ্ণ হলে প্রচুর জলীয়বাষ্প সম্পন্ন হালকা বায়ু উপরে উঠে যায়।
- এ সময়ে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে পরিণত হয়ে সোজা নিচে নেমে আসে।
- এই বৃষ্টিপাতকে বলা হয় পরিচলন বৃষ্টি। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় কারণ এই সব এলাকার উর্ধ্বগামী বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু থাকে। 
২। শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়। 
৩। ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত: ঘূর্ণিবাত কেন্দ্রের বায়ু যখন উপরে উঠে যায় তখন তাপমাত্রা হ্রাস পায় ও শীতল হয়।
- এ সময় বায়ুতে থাকা জলীয়বাষ্প অতিরিক্ত ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত ঘটায়।
৪। সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত: শীতল ও উষ্ণ বায়ুপুঞ্জ যখন মুখোমুখি হয় তখন শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় এবং শিশিরাঙ্কে পৌঁছায়।
- আরও ঘনীভূত হয়ে বায়ুপুঞ্জের সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রকার বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত। এই ধরনের বৃষ্টি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৯.
নিচের কোনটি আপদ?
  1. খরা
  2. ভূমিকম্প
  3. বন্যা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা, যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে হতে পারে।
এর ফলে মানুষের জীবন ও জীবিকার মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
আপদ কোনো দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ।
যেমন: বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, নদী ভাঙ্গন, সুনামি ইত্যাদি হলো আপদ।
কিন্তু এই আপদগুলো যখন প্রাণহানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করে জীবন ও জীবিকার অপূরণীয় ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করে তখনই তা দুর্যোগে পরিণত হয়। 

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০.
মনু নদী প্রকল্প কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চাঁদপুর
  2. মৌলভীবাজার
  3. হবিগঞ্জ
  4. রাঙ্গামাটি
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
FCDI এর প্রধান সেচ প্রকল্পগুলো হচ্ছে:
• গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প (জিকে প্রজেক্ট) - কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনিয়াদহ, মাগুড়া।
• ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা প্রকল্প(DND প্রজেক্ট) - বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল।
• কর্ণফুলী বহুমুখী প্রকল্প - রাঙ্গামাটি
• উপকূলীয় বেরিবাঁধ প্রকল্প - উপকূলের ১৪ টি জেলা।
• উত্তরাঞ্চল নলকূপ প্রকল্প - দিনাজপুর ও ঠঁকুরগাও।
• মেঘনা- ধনাগোদা প্রকল্প - চাঁদপুর।
• মনু নদী প্রকল্প - মৌলভীবাজার
• খোয়াই নদী প্রকল্প - হবিগঞ্জ

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭১.
নিচের কোন দেশটি সর্বাধিক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. পর্তুগাল
  2. ইকুয়েডর
  3. ফিনল্যান্ড
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
ইকুয়েডর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইকুয়েডর
ব্যাখ্যা
অবস্থান ও গঠনগত কারণে পৃথিবীর সর্বত্র ভূমিকম্পের প্রবণতা সমান নয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেটের বাহিরের দিকের সীমানা বরাবর অঞ্চল, ভূমধ্যসাগরের উত্তর-পূর্ব উপকূল এবং মধ্য এশিয়া অঞ্চল বিশ্বের মধ্যে ভূমিকম্পের জন্যে সর্বাধিক ঝুকিপূর্ণ।

এই অঞ্চলে অবস্থিত ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলো হলো:
- চিলি
- পেরু
- ইকুয়েডর
- যুক্তরাষ্ট্র
- জাপান
- ফিলিপাইন
- ইন্দোনেশিয়া
- ইরান
- আফগানিস্তান
- চীন
- ইতালি
- অ্যালিউশান দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকা মহাদেশ এবং পর্তুগাল, ফিনল্যান্ডসহ উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ ভূমিকম্পের জন্যে ঝুকিপূর্ণ নয়।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৭২.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল সবচেয়ে বেশি  ভূমিকম্পপ্রবণ?
  1. ঢাকা
  2. রাজশাহী
  3. সিলেট
  4. খুলনা
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা

• ভূমিকম্প:
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে।
- কোনো স্থানের ভূকম্পনের জন্য ফল্ট লাইন এবং টেকনিক স্ট্রেস ফিল্ড গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- যদিও বাংলাদেশ প্লেট বাউন্ডারির মধ্যে নয়, তথাপি ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান ও বিন্যাসের স্বকীয়তা বাংলাদেশকে ভূমিকম্প মণ্ডলের আশপাশেই ফেলেছে। 
- বাংলাদেশকে ভূকম্পনের তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে।
- সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জোন হিসেবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু স্থান যেমন: সিলেট, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার উল্লেখযোগ্য।
- ঢাকা ও চট্টগ্রাম মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ।
- পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সর্বাপেক্ষা কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত।
- আবহাওয়া দপ্তর ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামে একটি ভূকম্পন মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করে।
- এটিই দেশের একমাত্র মানমন্দির।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
          ii)প্রথম আলো।

৭৩.
বাংলাদেশের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানে -
  1. ৭ নভেম্বর, ২০০৭
  2. ১৫ নভেম্বর, ২০০৭
  3. ১৭ নভেম্বর, ২০০৭
  4. ২১ নভেম্বর, ২০০৭
সঠিক উত্তর:
১৫ নভেম্বর, ২০০৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ নভেম্বর, ২০০৭
ব্যাখ্যা

সিডর:
- ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর।
- এই ঘূর্ণিঝড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়, ধ্বংস হয় মানুষের ঘরবাড়ি।বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নামটি ঠিক করে।
- যার অর্থ চোখ।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।
- তবে এ সময় দমকা হাওয়ার বেগ উঠছিল ঘণ্টায় ৩০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- সিডরের প্রভাবে উপকূলে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ নভেম্বর ২০২১।

৭৪.
নিচের কোনটি দুর্যোগ প্রতিরোধের উদাহরণ? 
  1. বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত
  2. শস্য বহুমুখীকরণ
  3. জরুরি অবস্থার জন্য ঔষধপত্র প্রস্তুত রাখা
  4. ত্রাণ বিতরণ
সঠিক উত্তর:
বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন। 

• পূর্বপ্রস্তুতি:
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

• প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহন, যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত স্কুল ও ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন ইত্যাদি বুঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত তৈরি করা কষ্টসাধ্য। অপরদিকে, অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

• প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

• সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

• পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুন:নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

• উন্নয়ন:
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫.
ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে বলা হয়- 
  1. চোখ
  2. মোখা 
  3. ঢেউ
  4. ফণী
সঠিক উত্তর:
চোখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখ
ব্যাখ্যা

- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।

• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় পশ্চিমা বায়ু প্রবাহ দ্বারা মধ্য অক্ষাংশ অঞ্চলের নিম্নচাপ ও উচ্চচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- এছাড়াও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলা হয়।
- ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সমূহের ব্যাস ২০০-৭০০ কি.মি হয় এবং গভীরতা হয় ১২-১৬ কি.মি পর্যন্ত।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় কেন্দ্রের ভিতরের দিকে বায়ুচাপ দ্রুত কমতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ বয়ে আনে।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।

 উৎস: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬.
ঘূর্ণিঝড়ের সময় কোন ধরনের বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. ক) নিয়ত বায়ু
  2. খ) অনিয়মিত বায়ু
  3. গ) সাময়িক বায়ু
  4. ঘ) স্থানীয় বায়ু
সঠিক উত্তর:
খ) অনিয়মিত বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনিয়মিত বায়ু
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়ের সময় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহিত হয়। এরূপ বায়ু দুই প্রকার, যথা- ঘূর্ণিবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণিবাত। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৭৭.
ভূতাত্ত্বিক গঠনগত দিক থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা কোনটি?
  1. ক) উত্তর - দক্ষিণাঞ্চল
  2. খ) দক্ষিণ -পশ্চিমাঞ্চল
  3. গ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  4. ঘ) পূর্ব - পশ্চিমাঞ্চল
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
ভূতাত্ত্বিক গঠনগত দিক থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা -  উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল ।

- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে ভূমিকম্প সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
- ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-গাঠনিক কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এদেশ।
- ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।

এগুলো হলো-
রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৭ হলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ,
মাত্রা ৬ হলে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং
মাত্রা ৫ হলে কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গণ্য হবে।

তাত্ত্বিক গঠনগত দিক থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা যথাক্রমে - 
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের মধ্যাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল- দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত।


উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮.
নিম্নের কোন জেলায় আকস্মিক বন্যা হয়?
  1. বরিশাল
  2. লালমনিরহাট
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বন্যা (Flood):
- সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে। 

- সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে।
যথা:
১. মৌসুমী বন্যা,
২. আকস্মিক বন্যা,
৩. উপকূলীয় বন্যা,
৪. নগর বন্যা.

আকস্মিক বন্যা (Flash Flood):
- এপ্রিল-মে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্পস্থায়ী ভারি বর্ষণের দরুন পাহাড়ি নদীর পানি উপচে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এলাকায় আকস্মিক ভাবে যে বন্যা দেখা যায় তাকে আকস্মিক বন্যা বলে। এদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রভৃতি আকস্মিক বন্যাপ্রবণ জেলা।

উল্লেখ্য, 
- ২০০২, ২০০৪, ২০০৭, ২০০৯, এবং ২০১০ সালে আকস্মিক বন্যা উত্তর পূর্ব হাওড় অঞ্চলের শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯.
অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি? 
  1. গণসচেতনতা বৃদ্ধি
  2. প্রশিক্ষণ
  3. পূর্বপ্রস্তুতি
  4. বেড়িবাঁধ তৈরি
সঠিক উত্তর:
বেড়িবাঁধ তৈরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেড়িবাঁধ তৈরি
ব্যাখ্যা

• প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে।
- দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে।
- কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়। 
- কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
• অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ‍ও পরিবেশ, এসএসসি, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০.
কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের কত অংশ সংঘটিত হয়?
  1. এক-তৃতীয়াংশ
  2. এক-চতুর্থাংশ
  3. এক-পঞ্চমাংশ
  4. এক-দশমাংশ
সঠিক উত্তর:
এক-পঞ্চমাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-পঞ্চমাংশ
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়:
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।
- কালবৈশাখী ঝড়ের অপর নাম নরওয়েস্টার।
- কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বিবিসি বাংলা।
৮১.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি কমানোর ধাপ কোনটি?
  1. প্রশমন
  2. প্রতিরোধ
  3. সাড়াদান
  4. পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
-
দুর্যোগ হলো এমন একটি আকস্মিক এবং গুরুতর ঘটনা, যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে ঘটে এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের   ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র হলো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
- এর ছয়টি ধাপ রয়েছে: প্রতিরোধ, প্রশমন, প্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, এবং উন্নয়ন।
- এই চক্রে ঝুঁকি হ্রাস থেকে শুরু করে দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্গঠন পর্যন্ত সব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি কমানোর ধাপ হচ্ছে- প্রশমন প্রক্রিয়া।

উল্লেখ্য, 
• প্রতিরোধ (Prevention): দুর্যোগ ঘটতেই না পারে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ, যেমন: বন্যাপ্রতিরোধী বাঁধ নির্মাণ।
• প্রশমন (Mitigation): দুর্যোগের প্রভাব কমানোর দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ, যেমন: ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন তৈরি।
• প্রস্তুতি (Preparedness): দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়া, যেমন: মহড়া, ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রাখা, পরিকল্পনা তৈরি।
• সাড়াদান (Response): দুর্যোগ চলাকালীন বা সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য প্রদান, যেমন: উদ্ধার, খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা।
• পুনরুদ্ধার (Recovery): দুর্যোগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, যেমন: অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনর্গঠন।
• উন্নয়ন (Development): ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি হ্রাস ও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি, যা পরবর্তী চক্রের প্রস্তুতি ও প্রশমনে সাহায্য করে।
- এই ধাপগুলো চক্রাকারে চলতে থাকে, যার মূল লক্ষ্য মানুষের জীবন, সম্পদ রক্ষা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২.
পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যার স্থায়িত্বকাল কত?
  1. ৫-৬ ঘণ্টা 
  2. ২৪-৪৮ ঘণ্টা 
  3. ৫-৬ দিন
  4. ১০-১২ দিন 
সঠিক উত্তর:
৫-৬ ঘণ্টা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫-৬ ঘণ্টা 
ব্যাখ্যা

আকস্মিক বন্যা:
- বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তথা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়।
- বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
- পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যার স্থায়িত্বকাল ৫-৬ ঘন্টা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩.
ঘূর্ণীঝড় ‘ফণী’ বাংলাদেশে আঘাত হানে কবে?
  1. ক) ২ মে ২০১৯
  2. খ) ৩ মে ২০১৯
  3. গ) ৫ জুন ২০১৯
  4. ঘ) ৯ নভেম্বর ২০১৯
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ মে ২০১৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ মে ২০১৯
ব্যাখ্যা
২০১৯ সালের ৩ মে বাংলাদেশে আঘাত হানে ঘূর্ণীঝড় ‘ফণী’। ঘূর্ণিঝড় 'ফণী' এর নাম দিয়েছে বাংলাদেশ, এর অর্থ সাপ। উৎসঃ প্রথম আলো
৮৪.
এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  2. সেচ প্রকল্প
  3. পানি নিষ্কাশন
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
এফসিডিআই প্রকল্প:
- FCDIP-এর পূর্ণরপ Flood Control, Drainage and Irrigation Projects.
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects) অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।
- Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972 (P. O. No. 59 of 1972) - এর অধীন প্রতিষ্ঠিত Bangladesh Water Development Board সংক্রান্ত বিধানাবলী রহিত করিয়া পানি সম্পদের উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০০০ নামে পরিচিত।

⇒ এফসিডিআই প্রকল্পের উদ্দেশ্য -
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
- পানি নিষ্কাশন ও
- সেচ প্রকল্প।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
৮৫.
বাংলাদেশের সবচেয়ে খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. দক্ষিণ-পূর্ব
  2. উত্তর-পূর্ব
  3. উত্তর-পশ্চিম
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু অংশ খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
• খরার কারণগুলো:
- স্বল্প বৃষ্টিপাত: বার্ষিক বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে মাটি আর্দ্রতা হারায়।
- তীব্র গ্রীষ্মকাল: গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে মাটির আর্দ্রতা কমে।
- জলবায়ুর পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসছে, যা খরার প্রবণতা বাড়ায়।
- নদীপ্রবাহের হ্রাস: নদীপ্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নেমে যায়।
- আবহাওয়ার চক্র: বিশেষ করে রবি ফসলের সময় মাটির আর্দ্রতা কম হওয়ায় ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান: নবম-দশম শ্রেণি ও ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬.
খরার প্রভাবে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন কমে যায়?
  1. উপকূলীয় অঞ্চলে
  2. পার্বত্য চট্টগ্রামে
  3. মধ্যাঞ্চলে
  4. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে 
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে 
ব্যাখ্যা

খরা:
- খরা হলো দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়ার অবস্থা।
- খরা মূলত স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়া, অতিরিক্ত বাষ্পীভবন ও উদ্ভিদের প্রস্বেদনের কারণে সৃষ্টি হয়।
• খরা এর ফলে:
- জলসম্পদের ঘাটতি দেখা দেয়;
- নদী–খাল ও কুয়া শুকিয়ে যায়;
- ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যায়;
- এবং পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
• খরার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত,
- দীর্ঘস্থায়ী গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া,
- বেশি তাপমাত্রাজনিত বাষ্পীভবন;
- এবং ভূ-পৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ জলের স্বল্পতা।
- এসব কারণে মাটির আর্দ্রতা কমে যায় এবং স্বাভাবিক জলচক্র ব্যাহত হয়।
- খরার প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন কমে যায়, ফসল নষ্ট হয় এবং খাদ্য সংকট দেখা দেয়।
- পাশাপাশি পানীয় জল ও সেচ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়।
- অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয় এবং পরিবেশগতভাবে ভূমি অনুর্বর হয়ে মরুকরণের ঝুঁকি বাড়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো পত্রিকা।

৮৭.
'সাড়াদান' বলতে কোন ধরনের কার্যক্রমকে বুঝায়?
  1. দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরানো, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্য
  2. দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহকে চিহ্নিতকরণ
  3. দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন
  4. দুর্যোগ পূর্ব সময়ে উদ্ধার কার্যে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংগ্রহ
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরানো, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্যোগের পর নিরাপদ স্থানে সরানো, তল্লাশি ও উদ্ধার কার্য
ব্যাখ্যা
পূর্বপ্রস্তুতি (Preparedness):
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়।
- ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

পুনরুদ্ধার (Recovery):
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়।
- এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

উন্নয়ন (Developement):
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮.
বৃষ্টিপাতকে প্রধানত কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ৫ ভাগে
  2. খ) ৬ ভাগে
  3. গ) ৩ ভাগে
  4. ঘ) ৪ ভাগে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাত
• জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু উপরে উঠে শীতল হয়ে যায় ও ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। এই মেঘের মধ্যে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণা থাকে তা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়। মূলত পানির কণাগুলো যখন বড় বড় কণায় পরিণত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসে তাকেই বলা হয় বৃষ্টিপাত।

বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ
• ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাতকে প্রধানত ৪টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা -  
১। পরিচলন বৃষ্টিপাত
২। শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
৩। ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত 
৪। সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত 

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৯.
SPARRSO কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. খুলনা
  3. যশোর
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

- মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র (SPARRSO- Space Research and Remote Sensing Organisation) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালে।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটি ঢাকা শহরের আগারগাঁও এ অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

উৎস: স্পারসোর ওয়েবসাইট।

৯০.
বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কয়টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে?
  1. ১০টি
  2. ৭টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে ।

• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- যথা- বন্যা, ঝড়, মরুকরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি হয়েছে।
- সেই তালিকায় ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

এছাড়াও,
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। ’আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়বে।

- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা যাবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
- ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১.
প্রথমবার 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়' নামকরণ করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৮২ সালে
  2. খ) ১৯৮৮ সালে
  3. গ) ১৯৯৪ সালে
  4. ঘ) ২০০৪ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তি সময়ে ১৯৭২ সালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় নামে দুটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।
- ১৯৮২ সালে দুটি মন্ত্রণালয় একীভূত হয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাদ্য বিভাগ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ নামে দুটি বিভাগ হয়।
- ১৯৮৮ সালে পুনরায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগকে ত্রাণ মন্ত্রণালয় নামকরণ করা হয়।
- ১৯৯৪ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নাম হয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
- ২০০৪ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়কে একীভূত করে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় করা হয়।
- ২০০৯ সালে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য বিভাগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ গঠন করা হয়।
- ২০১২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ  বিভাগকে পুনরায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হিসেবে রূপান্তর করা হয়।
 
উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৯২.
কোন অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ভূমধ্যসাগর
  2. আর্কটিক সাগর
  3. উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর
  4. বঙ্গোপসাগর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়:
- সাইক্লোন, টাইফুন ও হারিকেন সবগুলোই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়।

• হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

• টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

• সাইক্লোন:
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।
- এ ছাড়াও, দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।
- আর দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৯৩.
'হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর একশন' নিচের কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) বায়ু দূষণরোধ
  2. খ) ওজন স্তর
  3. গ) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধি
  4. ঘ) দুর্যোগ প্রশমন
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুর্যোগ প্রশমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দুর্যোগ প্রশমন
ব্যাখ্যা
হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর একশন:
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দুর্যোগ প্রশমনের ওপর ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে, জাপানের কোবে নগরীতে ১৬৮টি দেশের সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ও দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি কমাতে অধিকতর সামর্থ ও সক্ষম করার লক্ষ্যে একটি বিশ্ব সম্মেলনের আয়োজন করে যা ‘হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর একশন' নামে পরিচিত।
- মূলত দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এটি আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত স্বয়ংসম্পূর্ণ মানদন্ড হিসেবে বিবেচিত।
 
• প্রত্যাশিত ফলাফল এবং কৌশলগত লক্ষ্যকে সামনে রেখে হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক-এ নিম্নবর্ণিত পাঁচটি অগ্রাধিকারকে বিবেচনায় নেয়া হয়;
১। বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসকে জাতীয় ও স্থানীয় অগ্রাধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা;
২। দুর্যোগ ঝুঁকিসমূহ চিহ্নিত, পর্যালোচনা এবং পরিবীক্ষণ এবং আগাম সতর্ক বার্তাকে শক্তিশালী করা;
৩। জ্ঞান, উদ্ভাবন ও শিক্ষার মাধ্যমে দুর্যোগসহিষ্ণু ও নিরাপদ সংস্কৃতি গড়ে তোলা;
৪ । ঝুঁকির অন্তর্নিহিত উপাদান গুলোকে কমিয়ে আনা এবং
৫ ৷ সকল স্তরে কার্যকর সাড়া প্রদানের লক্ষ্যে দুর্যোগ প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করা।

সূত্র: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫।
৯৪.
কখন সমুদ্রবায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়?
  1. ক) রাত্রিতে
  2. খ) মধ্যাহ্নে
  3. গ) অপরাহ্ণে
  4. ঘ) সকালে
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাহ্ণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অপরাহ্ণে
ব্যাখ্যা

- দিনের বেলায় স্থলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় বলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, কিন্তু জলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় না বলে সেখানকার বায়ু উচ্চচাপ যুক্ত হয়। ফলে এ সময় জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। একে সমুদ্রবায়ু বলে।
- এ বায়ু সকাল ১০টা থেকে প্রবাহিত হতে থাকে।
- বিকালে (অপরাহ্ণে) এ বায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়।
- রাত ৩টায় স্থলবায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫.
UNDRR এর পূর্ণরূপ-
  1. United Nations Office for Disaster Risk Reduction
  2. United Nations Division for Relief and Rehabilitation
  3. United Nations Disaster Risk Reduction Agency
  4. United Nations Department of Relief and Rehabilitation
সঠিক উত্তর:
United Nations Office for Disaster Risk Reduction
উত্তর
সঠিক উত্তর:
United Nations Office for Disaster Risk Reduction
ব্যাখ্যা

• UNDRR:
- পূর্ণরূপ: United Nations Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR).
- প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।
- এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জাতীয় কর্মকৌশল বাস্তবায়ন।
- এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।

উৎস: UNDRR'র ওয়েবসাইট।

৯৬.
’অগ্নিকাণ্ড’ কোন প্রকারের দুর্যোগ?
  1. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  2. মহাকাশীয় দুর্যোগ
  3. মানব সৃষ্ট দুর্যোগ
  4. ভূ-অভ্যন্তরস্থ দুর্যোগ
সঠিক উত্তর:
মানব সৃষ্ট দুর্যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানব সৃষ্ট দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
অগ্নিকাণ্ড বা দাবানল:
- আমাদের দেশে দাবানলের ঘটনা সাধারণত ঘটে না।
- কাজেই আমাদের দেশে অগ্নিকাণ্ডকে ঠিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা যাবে না।
- এখানে দুর্ঘটনা বা মানুষের অসাবধানতাই অগ্নিকাণ্ডের কারণ।
- অগ্নিকাণ্ড এটি মানব সৃষ্ট দুর্যোগ।
- দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড সাধারণত শিল্পকারখানা, তেলশোধনাগার, গার্মেন্টস শিল্প, পাটকল, রাসায়নিক গুদাম বা কারখানা, এমনকি বসতবাড়ি, দোকানপাট, অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে
ঘটতে দেখা যায়।
- এছাড়াও আমাদের দেশে গ্রাম ও শহরাঞ্চলে জ্বলন্ত চুলা, কুপি, মশার কয়েল, সিগারেটের আগুন, হারিকেন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট প্রভৃতি থেকেও অসাবধানতাবশত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৯৭.
বাকল্যান্ড বাধ কোন নদীর তীরে তৈরী?
  1. ক) সুরমা
  2. খ) কুশিয়ারা
  3. গ) শীতলক্ষ্যা
  4. ঘ) বুড়িগঙ্গা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুড়িগঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বুড়িগঙ্গা
ব্যাখ্যা
বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ। ১৮৬৪ সনে তৎকালীন নগর কমিশনার সি.টি বাকল্যান্ড এই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন। নদীর ঘাট পর্যন্ত কার্গো ও যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল সুগম করার জন্য পাড়ের নিম্নভাগে পলি প্রতিরোধ করা এবং প্লাবন ও ভাঙন থেকে ঢাকা শহর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে এই বাঁধ নির্মিত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৯৮.
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশের জন্য কোন তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে?
  1. ঝড়, মরুকরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  2. ঝড়, বন্যা, কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
  3. বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, ঝড়, মরুকরণ
সঠিক উত্তর:
বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বাংলাদেশের ঝুঁকি:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- যার মধ্যে ৩টি দিক বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
- এই তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ দিক হলো: বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো:
১. মরুকরণ
২. বন্যা
৩. ঝড়
৪. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
৫. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা দেশের তালিকা:
১. বন্যা ঝুঁকি:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
২. ঝড় ঝুঁকি:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
৩. মরুকরণ ঝুঁকি:
- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, ইরাক, কেনিয়া, ইরান।
৪. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ঝুঁকি:
- সব নীচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিশর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
৫. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ঝুঁকি:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]

৯৯.
ঋতুভিত্তিক বন্যা বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) আকস্মিক বন্যা
  2. খ) মৌসুমী বন্যা
  3. গ) জোয়ার-ভাটাজনিত বন্যা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) মৌসুমী বন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৌসুমী বন্যা
ব্যাখ্যা
মৌসুমী বন্যাকে ঋতুভিত্তিক বন্যা বলা হয়। মৌসুমী বন্যার বিস্তৃতি ব্যাপক। এই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
১০০.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদানগুলো কী?
  1. পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন ও প্রশমন
  2. প্রতিরোধ, পুনরুদ্ধার ও সাড়াদান
  3. প্রতিরোধ, প্রশমন ও পূর্বপ্রস্তুতি
  4. প্রতিরোধ, প্রশমন ও পুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর:
প্রতিরোধ, প্রশমন ও পূর্বপ্রস্তুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিরোধ, প্রশমন ও পূর্বপ্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি হলো দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এই ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।