বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ২২ / ২৮ · ২,১০১২,২০০ / ২,৭৬৪

২,১০১.
অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  2. শূণ্যপূরাণ
  3. সেক শুভোদয়া
  4. মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয় - সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল।
- 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম।

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
প্রাকৃতপৈঙ্গল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
সেক শুভোদয়া।

​অন্যদিকে,
​মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত।
- এগুলো খ্রিষ্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,১০২.
‘বিদ্যাসুন্দর' নামে অভিহিত মঙ্গলকাব্য-
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

অন্যদিকে,
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- ধর্মমঙ্গল ধারার আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১০৩.
'জঙ্গনামা' কাব্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. রোমান্স ধর্মী
  2. যুদ্ধ-বিগ্রহ
  3. লোক সাহিত্য
  4. দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ-বিগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ-বিগ্রহ
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব মযুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১০৪.
'মালিনী' চরিত্রটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১০৫.
পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি-
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি- ফকির গরীবুল্লাহ।
------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০)  আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।
---------------------
- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
-------------------
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১০৬.
'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1. আবদুল হাকিম
  2. সাবিরিদ খান
  3. আলাওল
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
সাবিরিদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবিরিদ খান
ব্যাখ্যা
• 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্য: 
- 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান/শাহ বারিদ খান। 
- 'হানিফা কয়রাপরী' জঙ্গনামাজাতীয় যুদ্ধকাব্য হলেও প্রেমকাহিনির জন্য তা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত। 
- কবির কাব্যটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে কাব্যের নাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। 

• সাবিরিদ খান: 
- সাবিরিদ খান মধ্যযুগের আখ্যানকবি।
- সাবিরিদ খান ‘বিদ্যাসুন্দর’, ‘রসুল বিজয়’ ও ‘হানিফা-কয়রাপরী’ নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলি খণ্ডিত হওয়ায় কবির ব্যক্তিগত পরিচয় জানা যায় না।
- ভনিতার সামান্য তথ্য থেকে বলা যায়, কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন। 
- তিনি ভারতীয় উৎস থেকে বিদ্যাসুন্দর এবং আরব-ইরান উৎস থেকে রসুল বিজয় ও হানিফা-কয়রাপরী কাব্য রচনা করেন।
- বিদ্যাসুন্দর ও হানিফা-কয়রাপরী রোমান্সসূলভ প্রণয়কাব্য, রসুল বিজয় ইসলামের গৌরব-গাথা।
- হানিফা-কয়রাপরী ও রসুল বিজয় কাব্যে যুদ্ধ-বিগ্রহের প্রাধান্য থাকায় উভয় কাব্যকে জঙ্গনামা নামেও চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১০৭.
মৈমনসিংহ গীতিকার প্রথম ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. চন্দ্রকুমার দে
  2. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. ডব্লিউ বি ইয়েটস
সঠিক উত্তর:
ড. দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকার প্রথম ইংরেজি অনুবাদ করেন — ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
------------------------ 
মৈমনসিংহ গীতিকা: পূর্ব বাংলার মানুষের সাহিত্যগাথা
এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে 'মৈমনসিংহ গীতিকা' (১৯২৩ সালে) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

দীনেশচন্দ্র সেন সংকলিত মৈমনসিংহ গীতিকা আর তার ইংরেজি তরজমা — ইস্টার্ন বেঙ্গল ব্যালাডস ১ম খণ্ড—দুটি বই–ই প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে।

স্মরণীয় যে,
বিদেশি মনীষীরা দীনেশচন্দ্র সেন সংকলিত মৈমনসিংহ-গীতিকার (পূর্ববঙ্গ-গীতিকার ১ম খণ্ড) ইংরেজি ভাষ্য পড়েই প্রশংসামুখর হয়েছিলেন।

গীতিকার সংখ্যা:
মৈমনসিংহ গীতিকায় মোট ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
এগুলো হল:
• মহুয়া, 
• মলুয়া, 
• চন্দ্রাবতী, 
• কমলা, 
• দেওয়ান ভাবনা, 
• দস্যু কেনারামের পালা, 
• রূপবতী, 
• কঙ্ক ও লীলা, 
• কাজলরেখা, 
• দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট, ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
২,১০৮.
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক কে?
  1. ক) শাহ্‌ মুহাম্মদ সগীর
  2. খ) সৈয়দ সুলতান
  3. গ) মনসুর বয়াতি
  4. ঘ) আবদুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
গ) মনসুর বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি
• বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
• বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১০৯.
বৈষ্ণব কবিতার সংকলনগুলোর মধ্যে নিচের কোনটি বৈষ্ণব দাস কর্তৃক সংকলিত?
  1. ক) পদকল্পলতিকা
  2. খ) গীতিচিন্তামণি
  3. গ) পদচিন্তামণিমালা
  4. ঘ) পদকল্পতরু
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদকল্পতরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদকল্পতরু
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব কবিতা যিনি সবার আগে সংকলন করেন, তাঁর নাম বাবা আউল মনােহর দাস। হুগলি জেলার বদনগঞ্জে তাঁর সমাধি রয়েছে। তিনি সম্ভবত ষােড়শ শতাব্দীর শেষপ্রান্তে বৈষ্ণব কবিতা সংকলন করেন। তাঁর এ-সংকলনগ্রন্থটি আকারেও বিশাল, এর নাম পদসমুদ্র। আসলেই এটি এক মহাসাগর, কবিতার মহাসমুদ্র। তিনি এ-গ্রন্থে সংগ্রহ করেন পনেরো হাজার বৈষ্ণব কবিতা।
তার পরে যিনি বৈষ্ণব কবিতা সংকলন করেন, তিনি রাধামােহন ঠাকুর। তাঁর বইয়ের নাম পদামৃতসমুদ্র।

আঠারোশতকের প্রথম দিকে আরাে একটি বৈষ্ণব কবিতাসংকলন প্রকাশ করেন বৈষ্ণব দাস। তাঁর বইয়ের নাম 'পদকল্পতরু'।

এরপরে আরাে অনেক সংকলন হয়েছিলাে, যেমন গৌরীমােহন দাস কবিতা সংকলন করেছিলেন পদকল্পলতিকা নামে, হরিবল্লভের সংকলনের নাম গীতিচিন্তামণি, প্রসাদ দাসের সংকলনের নাম পদচিন্তামণিমালা। এ-সব সংকলনে তিরিশ হাজারেরও অধিক কবিতা সংকলিত হয়েছিলাে।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

২,১১০.
কোন সাহিত্যিকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে? 
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. বিদ্যাপতি
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. রাজা রামমোহন রায় 
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি। ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২,১১১.
ময়মনসিংহ গীতিকার কোন পালাটি দ্বিজ কানাই - এর রচনা?
  1. ক) মহুয়া
  2. খ) মলুয়া
  3. গ) কাজলরেখা
  4. ঘ) দেওয়ানা মদিনা
সঠিক উত্তর:
ক) মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহুয়া
ব্যাখ্যা
- নমশূদ্রদের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মহুয়া পালা রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার - বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- এটি ময়মনসিংহ গীতিকার অন্যতম পালা।
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: - মহুয়া, নদের চাঁদ, হুমরা বেদে, সাধু।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
এর মধ্যে
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১১২.
"অন্নদামঙ্গল" কাব্যের কাহিনি কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
  5. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
• ভারতচন্দ্র রায় ছিলেন আঠারো শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং তাঁর অন্নদামঙ্গল এ সময়ের শ্রেষ্ঠ কাব্য। কাব্যটি তিন খণ্ডে তিনটি স্বতন্ত্র কাহিনিতে পূর্ণতা লাভ করেছে।

- প্রথম খণ্ডে শিবায়ন-অন্নদামঙ্গল,
- দ্বিতীয় খণ্ডে বিদ্যাসুন্দর-কালিকামঙ্গল এবং
- তৃতীয় খণ্ডে মানসিংহ-অন্নপূর্ণামঙ্গল কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

----------------------
• প্রথম উপাখ্যানের মূল ঘটনা পৌরাণিক। এতে সতীর দেহত্যাগ, পার্বতীর বিবাহ, শিবের সংসার ও কাশীতে দেবীর অন্নপূর্ণামূর্তি ধারণের বর্ণনা আছে। সেসঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরিহোড়কে ছেড়ে দেবী কিভাবে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ভবানন্দের পিতৃগৃহে উপস্থিত হন সেই লৌকিক কাহিনি।

• দ্বিতীয়টি বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি। কালিকার কৃপায় কিভাবে সুন্দর বিদ্যার পাণিগ্রহণ করেছিলেন এবং মশান থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন সে কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এখানে।

• তৃতীয় অংশটি অনেকটা ঐতিহাসিক। মানসিংহ কর্তৃক প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত ও বন্দিকরণ এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে ভবানন্দের ‘রাজা-ই-ফরমান’ লাভের ঘটনা এখানে বর্ণিত হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল থেকে তৎকালীন বাঙালি সমাজের অনেক তথ্যই পাওয়া যায়। দেবী ও ঈশ্বরী পাটনীর ঘটনা থেকে দেব-মানুষের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানা যায়।

• ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ দেবীর নিকট ঈশ্বরী পাটনীর এই বর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুমান করা যায় যে, তখন ন্যূনপক্ষে দুধভাত খাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল বাঙালি জীবন-যাত্রার নিম্নতম স্ট্যান্ডার্ড।

• অন্নদামঙ্গলে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের মতো এতে দৈবপ্রাধান্য কম, সে স্থান দখল করেছে মানুষ। এখানে দেবীর সন্তুষ্টিকামনা অপেক্ষা রাজার সন্তুষ্টিকামনা তীব্রতর। মূলত নদীয়ার রাজবংশের গৌরবময় ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে কবি সমকালীন ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে দৈব ঘটনা মিশিয়ে নগরসংস্কৃতিসুলভ একটি আদিরসাত্মক প্রণয়োপাখ্যান রচনা করেছেন। এর সাহিত্যিক মূল্যও অসাধারণ। উপমাদি অলঙ্কার এবং ছন্দপ্রয়োগে তিনি যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তাতে তাঁর মৌলিকত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১১৩.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি বা প্রথম কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. কানাহরি দত্ত
  4. দ্বিজমাধব
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১১৪.
কোনটি 'মর্সিয়া' সাহিত্য নয়?
  1. জয়নালের চৌতিশা
  2. ইমামগণের কেচ্ছা
  3. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. আফৎনামা
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
ব্যাখ্যা
'মর্সিয়া' সাহিত্য: 
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা

অন্যদিকে,
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস’ সুকুর মামুদের লেখা নাথসাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১১৫.
'ব্রজবুলি' ভাষায় রচিত গ্রন্থ-
  1. ক) পুথিসাহিত্য
  2. খ) বৈষ্ণব পদাবলি
  3. গ) চর্যাপদ
  4. ঘ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) বৈষ্ণব পদাবলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৈষ্ণব পদাবলি
ব্যাখ্যা
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়। 

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১১৬.
মঙ্গলকাব্যে মোট কতজন কবির নাম পাওয়া গেছে?
  1. ৫০ জন 
  2. ৬২ জন 
  3. ৭৫ জন 
  4. ৮০ জন 
সঠিক উত্তর:
৬২ জন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬২ জন 
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য হলো এমন একটি মধ্যযুগীয় কাব্যধারা। 
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের, প্রতিবেশীর এবং সমাজের কল্যাণ বা মঙ্গল সাধন। শব্দ ‘মঙ্গল’ মানে কল্যাণ।
- প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যে কাব্য রচনা, পাঠ বা শ্রবণ করলে মানুষের জীবন ও সমাজের মঙ্গল হয়, তা মঙ্গলকাব্য।
- কেউ কেউ বলেন, এই কাব্যগুলো দেবতাদের কাছে মঙ্গল কামনা করে রচিত।
- আবার কেউ মনে করেন মঙ্গলকাব্য বিশেষ মঙ্গল নামের সুরে গাওয়া হতো।

- মঙ্গলকাব্যকে কখনও কখনও মধ্যযুগীয় উপন্যাস হিসেবেও ধরা হয়।
- এটি কাহিনিকেন্দ্রিক; মূলত লোকায়াত দেব-দেবী, বিশেষ করে দেবীর পূজা প্রচার ও গুণগান করাই এর লক্ষ্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেব-দেবীর মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- এই ধারা পনেরো শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠারো শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত প্রায় পাঁচশো বছর ধরে লেখা হয়েছে।
- মঙ্গলকাব্যে মোট ৬২ জন কবির নাম পাওয়া গেছে।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

২,১১৭.
বটতলার সাহিত্য বলতে কী বুঝায়?
  1. বটতলায় রচিত সাহিত্য
  2. বটগাছ নিয়ে রচিত সাহিত্য
  3. বটরূপ সাহিত্য
  4. সস্তা ছাপাখানা থেকে প্রচারিত পুঁথি সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
সস্তা ছাপাখানা থেকে প্রচারিত পুঁথি সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সস্তা ছাপাখানা থেকে প্রচারিত পুঁথি সাহিত্য
ব্যাখ্যা
কলকাতার বটতলার নামক স্থানে অতি সস্তা কাগজ ও মুদ্রণে যে বই ছাপা হতো যে গুলোর কাহিনি রুচির প্রশ্নে অনেক সময়ই নিম্ন রুচির বলে বিবেচিত হতো, সেগুলোকে বটতলার পুথি বলা হয়
এই পুথিসমূহের ভাষা ছিল মিশ্র, পাঠক ছিল গ্রামের খুবই অল্পশিক্ষিত মানুষ।  

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
২,১১৮.
গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা কে? 
  1. চণ্ডীদাস
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
- গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা- গোবিন্দ দাস। 

গৌরচন্দ্রিকা: 
- রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগানের ভূমিকা রূপে গৌরাঙ্গের জীবনেও অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল তা স্মরণ করে রচিত গৌরলীলার পদকেই বলে গৌরচন্দ্রিকা। 

অন্যদিকে, 
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা- চন্ডীদাস। 
- শাক্ত পদাবলীর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা-রামপ্রসাদ সেন। 
- বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি- বিদ্যাপতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
২,১১৯.
'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত কোন কবি?
  1. ক) আলাওল
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত বিদ্যাপতি

• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,১২০.
একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের অংশ নয় কোনটি?
  1. শ্রুতিফল
  2. দেবখণ্ড
  3. তাম্বুল খণ্ড
  4. বন্দনা
সঠিক উত্তর:
তাম্বুল খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাম্বুল খণ্ড
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চন্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল

অন্যদিকে,
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
- এর মধ্যে একটি হচ্ছে - তাম্বুল খণ্ড।
 
উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
২,১২১.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) সেক শুভোদয়া
  2. খ) জঙ্গনামা
  3. গ) ইউসুফ জুলেখা
  4. ঘ) পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
ক) সেক শুভোদয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
- 'সেক শুভোদয়া' হচ্ছে অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্য।

• সেক শুভোদয়া:
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হলো-সেক শুভোদয়া।
- এটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন। 

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২,১২২.
"শ্রীকৃষ্ণবিজয়" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. মালাধর বসু
  3. কাশীরাম দাশ
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু বা গুণরাজ খানের 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়':
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।

- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন-'গৌড়েশ্বর দিলা নাম গুণরাজ খান।' গৌড়েশ্বর রাজকর্মচারী মালাধর বসুর কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবুদ্ধি গুণে। প্রভৃতি গুণে প্রীত হয়ে এই উপাধি দান করেছিলেন। 

- মালাধর বসু ব্যাসদেব কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসরণে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। ১৪৭৩ থেকে ১৪৮০ সাল-এই দীর্ঘ সাত বৎসরের চেষ্টায় কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন। শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বেই কাব্যটি রচিত হয়েছিল।

- চৈতন্যদেব কবি মালাধর বসুর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন এবং তাঁর কাব্যের প্রশংসা করেছেন। কবির পুত্র সত্যরাজ খান এবং পৌত্র রামানন্দ শ্রীচৈতন্যের কৃপা লাভ করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য 'গোবিন্দবিজয়' ও 'গোবিন্দমঙ্গল' নামেও পরিচিত। অনুবাদমূলক হলেও রাগরাগিণীযুক্ত এই পাঁচালি রাধাকৃষ্ণ প্রেমপ্রতীকে ভক্তিবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত বলে ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২,১২৩.
'কালিকামঙ্গল' কাব্যটি কোন মঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা :
- শিবনারায়ণ
- কালিকামঙ্গল
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড

- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরকাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালীর মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - কবি কঙ্ক। এছাড়া, সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন - কালিকা মঙ্গল রচনা করেছেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১২৪.
'মুক্তল হোসেন' কাব্যটি কোন ধারার সাহিত্য?
  1. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. লোকসাহিত্য
  4. নাথসাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
'মুক্তল হোসেন' কাব্য:
- 'মুক্তল হোসেন' মুহম্মদ খান রচিত ফারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ
- মুহম্মদ খান 'মক্তুল হোসেন' কাব্য রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
- ১৬৪৫ সালে 'মক্তুল হোসেন' কাব্য রচিত হয়। এই কাব্যটি ফারসি 'মক্তুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- কবির বৃদ্ধ অবস্থায় এটি রচিত। কাব্যটিতে কবি প্রতিভার উৎকর্ষের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।

মর্সিয়া সাহিত্য:

- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- আরবি ‘মর্সিয়া’ শব্দের অর্থ শোক।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,১২৫.
বৈষ্ণব ধর্মের প্রচারক ছিলেন-
  1. ক) চন্দ্রকুমার দে
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) শ্রী চৈতন্যদেব
  4. ঘ) ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রী চৈতন্যদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রী চৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
শ্রী চৈতন্যদেব ছিলেন একজন বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারক। তার প্রকৃত নাম ছিল বিশ্বম্ভর, নিম বৃক্ষের নিচে জন্মগ্রহণ করেন বলে ডাকনাম ছিল 'নিমাই'। তাঁর গায়ের রং গৌরবর্ণ ছিল বলে সবাই ডাকত 'গৌরাঙ্গ' বা সংক্ষেপে গোরা বলে। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,১২৬.
‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর লেখক কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. কৃত্তিবাস
  3. জয়নাথ
  4.  বড়ু চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
 বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) বড়ু চণ্ডীদাস

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে রচিত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন।
- বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটনা বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: ১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,১২৭.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি কে?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
-  মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয় শেখ ফয়জুল্লাহকে
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত মর্সিয়া সাহিত্যের গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা। গ্রন্থটি ১৫৭০ সালে রচনা করা হয়।
- মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিত গ্রন্থ সমূহ হচ্ছে ‘ইমামগণের কেচ্ছা' ‘আফনামা’।
- ‘মুক্তল হোসেন’ মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
২,১২৮.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগের নিদর্শন?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  3. নিরঞ্জনের রুম্মা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপুরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা'।
- সেক শুভোদয়া

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১২৯.
আবুল ফজলের গ্রন্থ কোনটি?
  1. আয়না
  2. শুভবুদ্ধি
  3. জিঞ্জির
  4. মন্ত্র
সঠিক উত্তর:
শুভবুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুভবুদ্ধি
ব্যাখ্যা

আবুল ফজল-এর প্রবন্ধগ্রন্থ 'শুভবুদ্ধি'। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে ।
- বিচিত্র কথা
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা
- সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন
- সমকালীন চিন্তা
- মানবতন্ত্র
- শেখ মুজিবঃ তাঁকে যেমন দেখেছি
- রবীন্দ্র প্রসঙ্গ
- বিদ্রোহী কবি নজরুল
- একুশ মানে মাথা নত না করা ইত্যাদি আবুল ফজল রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

'আয়না' ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত আবুল মনসুর আহমদের গল্পগ্রন্থ।
'জিঞ্জির' ১৯২৮ সালে প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ।
'মন্ত্র' ১৯০২ সালে প্রকাশিত দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস-মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৩০.
খনার বচনে প্রাধান্য পেয়েছে -
  1. জ্যোতিশাস্ত্র
  2. ঋতু
  3. আবহাওয়া
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৩১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের অংশ নয় কোনটি?
  1. জীবনীখণ্ড
  2. নৌকাখণ্ড
  3. তাম্বুল খণ্ড
  4. জন্মখণ্ড
সঠিক উত্তর:
জীবনীখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনীখণ্ড
ব্যাখ্যা

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের অংশ নয় - জীবনীখণ্ড।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
 ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৩২.
বৈষ্ণব পদাবলিতে কত প্রকার রস রয়েছে?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলী:
- ব্রজবুলি ভাষায় রচিত।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

- 'শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে ৮ প্রকার অভিসার আছে।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৩৩.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য কত খ্রিষ্টাব্দে রচিত হয়েছে?
  1. দ্বাদশ
  2. ত্রয়োদশ
  3. চতুর্দশ
  4. প দশ
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
- বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ কর্তৃক আবিষ্কৃত বড়ু চন্ডীদাসের রচিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের নির্ভরযোগ্য দ্বিতীয় নিদর্শন ও মধ্যযুগের প্রথম নিদের্শন।
- এটিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়। এটি চতুর্দশ খ্রিষ্টাব্দে রচিত হয়েছে।
- এটি ১৯০৯ সালে আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
২,১৩৪.
'পদ্মাবতী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মদুসূদন দত্ত 
  2. আলাওল
  3. দৌলত কাজী
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা

• হিন্দি 'পদুমাবৎ' এর অবলম্বনে 'পদ্মাবতী' কাব্যের রচয়িতা 'আলাওল'।

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

• আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৩৫.
মঙ্গলকাব্যকে কী বলা হয়?
  1. ক) মধ্যযুগের মহাকাব্য
  2. খ) মধ্যযুগের উপন্যাস
  3. গ) মধ্যযুগের কাহিনিগদ্য
  4. ঘ) মধ্যযুগের রূপকথা
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যযুগের উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যযুগের উপন্যাস
ব্যাখ্যা
- মঙ্গলকাব্যকে মধ্যযুগের উপন্যাস বলা হয়।
- প্রায় পাঁচশো বছর ধরে মঙ্গলকাব্য লিখিত হয়েছে। 
- পনেরো শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠারো শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত রচিত হয়েছে। 
- মঙ্গলকাব্য কাহিনি কেন্দ্রিক।

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
২,১৩৬.
আলাওল রচিত প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. সিকান্দরনামা
  2. তোহফা
  3. পদ্মাবতী
  4. হপ্ত পয়কর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্ফা,
- সপ্তপয়কর  ,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,১৩৭.
রামনিধি গুপ্তকে কোন গানের জনক বলা হয়?
  1. ঠুমরি
  2. পালা
  3. জারি
  4. টপ্পা
সঠিক উত্তর:
টপ্পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ্পা
ব্যাখ্যা
• টপ্পা গান:
- কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল।
- হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ তবে বাংলা টপ্পা সর্বতোভাবে পাঞ্জাবি টপ্পার অনুকরণ নয়।
- বাংলা টপ্পাগানের জনক ছিলেন নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা-
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"


অনদিকে, 
• বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক অতুল প্রসাদ সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৩৮.
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রকৃত নাম কী?
  1. নিমাই
  2. কৃষ্ণচৈতন্য
  3. গৌরাঙ্গ মিশ্র
  4. বিশ্বম্ভর মিশ্র
সঠিক উত্তর:
বিশ্বম্ভর মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বম্ভর মিশ্র
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৩৯.
'লাউসেনের কাহিনি' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল 
  3. অন্নদামঙ্গল 
  4. কালিকামঙ্গল 
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।

ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি -
১. রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
২. লাউসেনের কাহিনি।
- এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে।

• ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক। তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসেনের কাহিনি অবলম্বনে 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।
• এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব, নরসিংহ বসু, হৃদয়রাম সাউ, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৪০.
'নিরঞ্জনের উষ্মা' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. শূন্যপুরাণ
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা

'শূন্যপুরাণ':
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
-গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন। 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণের অন্তর্গত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৪১.
'মহাজন' নামে পরিচিত ছিলেন কোন কাব্যধারার পদকর্তারা?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. মঙ্গলকাব্য 
  3. চর্যাপদ
  4. বৈষ্ণব পদাবলি 
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব পদাবলি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব পদাবলি 
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব সাহিত্য বৈষ্ণব ধর্ম ও দর্শনকে কেন্দ্র করে মধ্যযুগে রচিত একটি কাব্যধারা। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর মূল উপজীব্য। বারো শতকে সংস্কৃতে রচিত জয়দেবের গীতগোবিন্দম্ এ ধারার প্রথম কাব্য। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- পদাবলি সাহিত্য বৈষ্ণবতত্ত্বের রসভাষ্য। বৈষ্ণব পদাবলি বৈষ্ণবসমাজে মহাজন পদাবলি এবং বৈষ্ণব পদকর্তাগণ মহাজন নামে পরিচিত। বৈষ্ণবমতে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান। এই প্রেম সম্পর্ককে বৈষ্ণব মতাবলম্বীগণ রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার রূপকের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২,১৪২.
বাংলা সাহিত্যের কোন সময়কে 'অন্ধকার যুগ' বলা হয়?
  1. ৯০১-১২০০ খ্রি.
  2. ১২০১-১৮০০ খ্রি.
  3. ১৫০১-১৯০০ খ্রি.
  4. ১২০০-১৩৫০ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
১২০০-১৩৫০ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০০-১৩৫০ খ্রি.
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- মধ্যযুগ ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারিত।
- অনেকে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়টুকুকে যুগসন্ধি বা অন্ধকার যুগ বলে অভিহিত করে থাকেন। 
- মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য।
- মধ্যযুগের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর পঞ্চদশ শতকে প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য 'ইউসুফ-জোলেখা' রচনা করেন।
- মধ্যযুগের অন্যতম বিশিষ্ট নিদর্শন অনুবাদ সাহিত্য। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,১৪৩.
পুঁথি সাহিত্যর প্রথম ও সার্থক কবি ছিলেন-
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ 
  3. মুহম্মদ কবীর 
  4. দোনা গাজী 
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সোনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৪৪.
মহাকবি আলাওল কত শতকের কবি ছিলেন?
  1. ক) ১৪ শতকের
  2. খ) ১৫ শতকের
  3. গ) ১৬ শতকের
  4. ঘ) ১৭ শতকের
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ শতকের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭ শতকের
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি আলাওল, যাঁর একাধিক গ্রন্থ বিশেষ মূল্যবান। তিনি সতের শতকের কবি। ‘পদ্মাবতী' তার অমর কীর্তি।
বর্তমান ফরিদপুরের পাঠান শাসনকর্তা মজলিশ কুতুবের তিনি মন্ত্রী ছিলেন। স্থানান্তরে যাবার সময় পর্তুগিজদের আক্রমণে তাঁর পিতা নিহত হলেও তিনি আরাকানে নীত হন এবং মুক্তি পেয়ে আরাকান রাজপ্রাসাদে আশ্রয় পান। আরাকানের বৌদ্ধ রাজারা ও তাদের অমাত্যরা আলাওলের উপর খুশি ছিলেন। তাদের আগ্রহে আলাওল অনেকগুলি গ্রন্থ রচনা করেন।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৪৫.
দ্বিজ কানাই রচিত ময়মনসিংহ গীতিকা কোনটি?
  1. মহুয়া
  2. কমলা
  3. চন্দ্রাবতী
  4. দস্যু কেনারামের পালা
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে, 
• 'কমলা' পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান। 
• 'চন্দ্রাবতী' পালার রচয়িতা নয়ানচাঁদ ঘোষ। 
• দস্যু কেনারামের পালার রচয়িতা চন্দ্রাবতী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৪৬.
'শৈবসর্বস্বসার' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) জয়দেব
  3. গ) চন্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি 'শৈবসর্বস্বসার' গ্রন্থটি রচনা করেন।
 
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৭.
চারণকবি হিসেবে বিখ্যাত কে?
  1. আলাওল
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মুকুন্দদাস
  4. মুক্তারাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুকুন্দদাস
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস- 'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত।

• মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৪৮.
চৈতন্যভগবত নামক জীবনীগ্রন্থে কোন অঞ্চলের উপভাষা নিয়ে কৌতুক করা হয়?
  1. বিক্রমপুরের উপভাষা
  2. সিলেটের উপভাষা
  3. চট্টগ্রামের উপভাষা
  4. নোয়াখালির উপভাষা
সঠিক উত্তর:
সিলেটের উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেটের উপভাষা
ব্যাখ্যা
চৈতন্যভগবত নামক জীবনীগ্রন্থে সিলেটেরউপভাষা নিয়ে কৌতুক করা হয়।
-চৈতন্যভগবত নামক জীবনীগ্রন্থের ষোড়শ শতকের কবি বৃন্দাবন দাস লিখেছেন- 
সভার সহিত প্রভু হাস্য কথা রঙ্গে।
কহিলেন যেন মত আছিলেন বঙ্গে।।
বঙ্গদেশি বাক্য অনুকরণ করিয়া ।
বাঙ্গালারে কুদর্থেন হাসিয়া হাসিয়া ।।
বিশেষ চালেন প্রভু দেখি শ্রীহট্টিয়া ।
কদর্থেন সে মত বচন বলিয়া।।

-বিক্রমপুরের উপভাষা নিয়ে হাসির বিষয় হয়েছিলো দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' নাটকে

উৎস: কতো নদী সরোবর, হুমায়ুন আজাদ।
২,১৪৯.
‘ফুল্লরার বারমাস্য’ কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত গ্রন্থ?
  1. ক) ধর্মমঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) চন্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চন্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
‘ফুল্লরার বারমাস্য’ হলো চন্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্তর্গত।

- এখানে ‘ফুল্লরা’ হলো চণ্ডীমঙ্গলের অন্তর্গত একটি অন্যতম প্রধান নায়িকা চরিত্র।
- বারমাস্য বা বারোমাসী শব্দের অর্থ বারোমাস অর্থাৎ পুরো একটি বছরের বিবরণ।
- প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লৌকিক কাহিনি বর্ণানায় নায়ক-নায়িকাদের বারো মাসের সুখ-দুঃখের বিবরণ প্রদানের রীতি দেখা যায়।
- এই কারণে এই ধরণের গ্রন্থকে বারমাস্য বা বারোমাসী বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৫০.
'পদ্মাবতী' - কোন সাহিত্য ধারার উল্লেখযোগ্য কাব্য?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. বৈষ্ণব পদাবলি
  3. নাথ সাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- আরাকান রাজসভার কবিগণ রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার বাংলা কাব্য রচনা করেছিলেন।
- বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানগুলোর একটা অংশ আরাকান রাজসভার কবিগণের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছিল।
- কবি দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর ও আলাওলের মত প্রতিভাশালী কবি আরাকান রাজসভার পৃষ্ঠপোষকতায় রোমান্টিক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- দৌলত কাজীর সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী, কোরেশী মাগন ঠাকুরের চন্দ্রাবতী এবং আলাওলের পদ্মাবতী ও সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কাব্য।
- আরাকান রাজসভার কবিগণের বিস্ময়কর প্রতিভা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গতানুগতিকতা অতিক্রম করে মানবীয় ভাবধারায় সমৃদ্ধ করেছে।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

• 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩। বাংলাপিডিয়া।

২,১৫১.
‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি কোন যুগে সত্য ছিল?
  1. অন্ধকার যুগে 
  2. প্রাচীন যুগে
  3. মধ্যযুগে
  4. সাহিত্যের উন্মেষ যুগে
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগে
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের সাহিত্যধারা:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের ব্যাপ্তিকাল ছিল ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যছিল ধর্মকেন্দ্রিকতা।যেখানে ধর্মটাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই ছিল গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।

- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- 'কানু ছাড়া গীত নাই' উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ছিল ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৫২.
খনার বচনে প্রাধান্য পেয়েছে-
  1. ক) কৃষি
  2. খ) ঋতু
  3. গ) আবহাওয়া
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
খনার বচন: 
খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি। বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যাতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৫৩.
"তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।"
- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্গত?
  1. ক) দেনাপাওনা
  2. খ) শেষের কবিতা
  3. গ) শেষ লেখা
  4. ঘ) গুপ্ত প্রেম
সঠিক উত্তর:
খ) শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
'তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'
- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে- 
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''

'শেষের কবিতা' উপন্যাস 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র -
অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।

- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৫৪.
আলাওলের গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) সেকান্দর নামা
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) হপ্ত পয়কর
  4. ঘ) নূরনামা
সঠিক উত্তর:
ঘ) নূরনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নূরনামা
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিমের কাব্যগ্রন্থ- নূরনামা। আর আলাওলের কাব্যগ্রন্থ- পদ্মাবতী, সেকান্দর নামা, তোহফা ও হপ্ত পয়কর। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২,১৫৫.
নিচের কোনটি নাট্য-গীতিকাব্য?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. নিরঞ্জনের উষ্মা
  3. চর্যাপদ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থের গঠন:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মূলত একটি যাত্রার পালা ছিল বলে মনে করা হয়। কাব্যটি সংস্কৃত গীতগোবিন্দের অনুরূপ গীতি এবং সংলাপবহুল নাট্যলক্ষণাক্রান্ত রচনা বলে তা নাট্যগীতিকাব্য হিসেবেও আখ্যাত হয়েছে। এ কাব্যে নাট্যরসাশ্রয়ী ঘটনা ও সংলাপ থাকলেও তা বর্ণনামূলক কাব্যের মর্যাদার অধিকারী। কোথাও কবি নিজে কাহিনির মধ্যে উপস্থিত থেকে সংলাপের সঙ্গে বর্ণনা যোগ করেছেন, আবার কোথাও সংস্কৃত শ্লোকের সাহায্যে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। গীতিসংলাপমূলক এই আখ্যানকাব্যে নাটকীয়তা বিদ্যমান।

--------------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।

• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র:
- কৃষ্ণ,
- রাধা,
- বড়ায়ি।

অন্যদিকে, 
• চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
• ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত শূন্যপুরাণ নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ একটি কবিতা।
• অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল-সেক শুভোদয়া। এটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২,১৫৬.
বৈষ্ণব পদাবলীর সাথে কোন ভাষা সম্পর্কিত?
  1. ক) সন্ধ্যা ভাষা
  2. খ) অধিভাষা
  3. গ) ব্রজবুলি ভাষা
  4. ঘ) সংষ্কৃত ভাষা
সঠিক উত্তর:
গ) ব্রজবুলি ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্রজবুলি ভাষা
ব্যাখ্যা
• ব্রজবুলি:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- ব্রজবুলি মূলত এক ধরনের কৃত্রিম মিশ্র ভাষা।
- মৈথিলি ও বাংলার মিশ্রিত রূপ হল ব্রজবুলি ভাষা।
- পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এর উদ্ভাবন করেন।
- বৈষ্ণব পদাবলির সাথে সম্পর্কিত ভাষা হচ্ছে - ব্রজবুলি।
- মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলি।
- এর নায়ক নায়িকা - রাধা ও কৃষ্ণ।

• বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়৷
• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বৈষ্ণব পদাবলি রচয়িতা - বিদ্যাপতি, চন্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস।

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৫৭.
'কারবালা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
  3. গ) আবদুল হাকিম
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম: 
- আবদুল হাকিম ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবদুল হাকিম সতেরো শতেকের একজন কবি। 
- তিনি ৮ টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
যথা: 
• লালমতি সয়ফুল মুলুক, 
• নূরনামা, 
• কারবালা
• ইউসুফ জোলেখা, 
• নসীহৎনামা, 
• শহরনামা, 
• শিহাবউদ্দিননামা এবং 
• চারি মোকামভেদ। 

- আবদুল হাকিমের ‘নূরনামা’ কাব্যের বিখ্যাত উক্তি: 
"যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি"। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল আলম), বাংলা সাহিত্যের কথা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) এবং লাল নীল দীপাবলি।
২,১৫৮.
বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. জয়দেব
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,১৫৯.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. মহুয়া পালা
  2. মলুয়া পালা
  3. দস্যু কেনারাম পালা
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ
ব্যাখ্যা
• ‘দস্যু কেনারাম পালা’ ও ‘মলুয়া’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।

-------------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৬০.
ড. সুকুমার সেন নিচের কোন মঙ্গলকাব্যেকে ‘উপকথা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) চন্ডীমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
গ) ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ড. সুকুমার সেন ধর্মমঙ্গল কাব্যকে ‘উপকথা’ বা ‘কেরামতি কাহিনি’ বলে উল্লেখ্য করেছেন।

• এছাড়া তিনি বলেন-
- বাংলা সাহিত্যে যদি মহাকাব্য বলিয়া যদি কিছু থাকে তবে তাহা ধর্মমঙ্গল ।
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। 
- এই কাব্যে প্রায় বিশ জন কবি ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
- ধর্মমঙ্গল  ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্মমঙ্গলের প্রচলিত কাহিনী লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,১৬১.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখাগুলো কী কী?
  1. মনসা, চণ্ডী ও অন্নদামঙ্গল
  2. সারদা, চণ্ডী ও কালিকা
  3. মনসা, চণ্ডী ও ধর্মমঙ্গল
  4. কালিকা, চণ্ডী ও মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসা, চণ্ডী ও ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসা, চণ্ডী ও ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত,মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
- মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,১৬২.
চৈতন্য-চরিতামৃত গ্রন্থটি কে রচনা করেছিলেন?
  1. বৃন্দাবনদাস
  2. লোচনদাস
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. জয়ানন্দ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণদাস কবিরাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণদাস কবিরাজ
ব্যাখ্যা

চৈতন্যদেবের জীবন ও তার সাহিত্য:
- চৈতন্যদেব ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দে নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দে পুরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর নামানুসারে একটি সাহিত্য যুগ সৃষ্টি হয়, যা চৈতন্য যুগ নামে পরিচিত।
- এই যুগ চলেছিল ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।

- চৈতন্যদেব ও তাঁর শিষ্যদের জীবনকাহিনি অবলম্বন করে যে সাহিত্যধারা সৃষ্টি হয়েছিল, তাকে জীবনীকাব্য বলা হয়।
- এই জীবনীকাব্যের মধ্যে বাংলায় প্রথম কাব্য হলো- বৃন্দাবনদাসের ‘শ্রীচৈতন্য-ভাগবত’। 
- এরপর লোচনদাসের ‘চৈতন্যমঙ্গল’; 
- জয়ানন্দের ‘চৈতন্যমঙ্গল’;
- এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’ রচিত হয়।
- বিশেষ করে ‘চৈতন্য-চরিতামৃত’ মনন, দর্শন, তত্ত্বজ্ঞান ও রসবোধের সমন্বয়ের জন্য বৈষ্ণব সমাজে উপনিষদের মর্যাদা পেয়েছে।

- চৈতন্যদেব জীবিতকালে তাঁর পাশে যারা ছিলেন, তাদেরকে ষড়গোস্বামী বলা হয়।
- এদের মধ্যে রূপ গোস্বামী, জীব গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, গোপালহট্ট, রঘুনাথ দাস অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- এছাড়া, চৈতন্যদেবের জীবনকাহিনি অবলম্বন করে যে দৃষ্টি ও অভিজ্ঞতা সাহিত্য হিসেবে রচিত হয়েছে, তাকে কড়চা বা দিনলিপি বলা হয়।- মূল কড়চাগুলো হলো:
- জীবনীকাব্য (জীবনকাহিনি),
- কড়চা (দিনলিপি),
- এবং ষড়গোস্বামীদের উপস্থিতি।
- এগুলো বৈষ্ণব সাহিত্য ও চৈতন্যদেবের জীবনচর্চার কেন্দ্রবিন্দু।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৬৩.
'হারামণি' লোকসঙ্গীত সংকলন গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. মনসুর বয়াতি
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন
ব্যাখ্যা
• লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’:
- মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'।
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

---------------------------
• মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন:
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১৬৪.
'কমলা' - পালার রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ কানাই
  2. দ্বিজ ঈশান
  3. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  4. মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ ঈশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ ঈশান
ব্যাখ্যা

ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়,
যেমন:
- মহুয়া-দ্বিজ কানাই,
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

মৈমনসিংহ গীতিকা:

- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ  পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,১৬৫.
‘শেষ বড় কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. বিদ্যাপতি
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের 'শেষ বড়' কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৬৬.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) মহুয়া : চন্দ্রাবতী
  2. খ) দস্যু কেনারাম : চন্দ্রাবতী
  3. গ) বিদ্যাসুন্দর : কবিকঙ্ক
  4. ঘ) কমলা : দ্বিজ ঈশান
  5. ঙ) দেওয়ানা মদিনা : মনসুর বয়াতি
সঠিক উত্তর:
ক) মহুয়া : চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মহুয়া : চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
উপরে উল্লেখিত সবগুলোই ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহিত পালা ও রূপকথা। এদের মধ্যে মহুয়া পালাটির রচয়িতা দ্বিজ কানাই। (সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর)
২,১৬৭.
মর্সিয়া সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাব্য কোনটি?
  1. জয়নবের চৌতিশা
  2. মক্তুল হোসেন
  3. আমীর হামজা
  4. কাশিমের লড়াই
সঠিক উত্তর:
মক্তুল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মক্তুল হোসেন
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ খান রচিত 'মক্তুল হোসেন' কাব্যটি মর্সিয়া সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'মক্তুল হোসেন' কাব্য সম্পর্কে ড. আহমদ শরীফ মন্তব্য করেছেন, 'মুহম্মদ খানের 'মক্তুল হোসেন' কাব্যটি বিপুল কলেবর। কারবালা সম্বন্ধীয় গ্রন্থগুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠও বটে।'

• মুহম্মদ খান ও 'মক্তুল হোসেন' কাব্য:

মুহম্মদ খান 'মজুল হোসেন' কাব্য রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছিলেন। এই কাব্যটি ফারসি 'মজুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ। তবে এতে কবির নিজের ভাবনা চিন্তা ও কল্পনা প্রাধান্য লাভ করেছিল। মুহম্মদ খান চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। ১৬৪৫ সালে 'মজুল হোসেন কাব্য' রচিত হয়। কবির বৃদ্ধাবস্থায় এটি রচিত। কবি সতের শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন বলে মনে করা হয়। কাব্যটিতে কবি প্রতিভার উৎকর্ষের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। 

অন্যদিকে, 
-------------------
• শেখ ফয়জুল্লাহকে মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। তাঁর রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ। এটি কারবালার কাহিনি নিয়ে রচিত।

• ইংরেজ আমলেও বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া কাব্যের ধারাটি অনুসৃত হয়েছিল। ফকির গরীবুল্লাহ মর্সিয়া সাহিত্যধারার 'জঙ্গনামা' কাব্য রচনা করেছিলেন। পুঁথি সাহিত্যের ভাষায় এই কাব্যটি রচিত। তাঁর অন্যান্য কাব্যের নাম: সোনাভান, আমীর হামজা, ইউসুফ জোলেখা, জঙ্গনামা ও সত্যপীর।

• আঠার শতকের কবি শেখ সেরবাজ চৌধুরী 'কাশিমের লড়াই' কাব্য রচনা করেছিলেন। মহররমের একটি ক্ষুদ্র বিবরণী এ কাব্যে স্থান পেয়েছে। বিষয়বস্তু গতানুগতিক এবং তাতে কোন নতুনত্ব নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২,১৬৮.
‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।’ মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• 'সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- জ্ঞানদাস।

-----------------------
• 'জ্ঞানদাস':
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ(মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

• বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

• তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,১৬৯.
'শুণ্যপুরাণ' গ্রন্থে মোট কতটি অধ্যায় রয়েছে?
  1. ১৩ টি
  2. ২১ টি
  3. ৪৯ টি
  4. ৫১ টি
সঠিক উত্তর:
৫১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১ টি
ব্যাখ্যা
• 'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ- অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৭০.
প্রণয়ােপাখ্যান কাব্যগুলাের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-
  1. ক) দেব-দেবীর প্রাধান্য
  2. খ) অনুকরণপ্রিয়তা
  3. গ) রাজাদের কাহিনী
  4. ঘ) মানবিক প্রেম
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানবিক প্রেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানবিক প্রেম
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে মুসলমান কবিদের উল্লেখযােগ্য অবদান রােমান্টিক প্রণয়ােপাখ্যান।
• এ‌ রােমান্টিক প্রণয়ােপাখ্যান কাব্যগুলােতে মানবীয় প্রেম স্থান পেয়েছে।
• এর পূর্বে মধ্যযুগের সাহিত্যে দেব-দেবীর প্রাধান্য ছিল।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

২,১৭১.
‘বাইশা’ বলা হয় কোন মঙ্গলকাব্যের কবিদের?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে-
১. মনসামঙ্গল,
২. চণ্ডীমঙ্গল ও
৩. ধর্মমঙ্গল।

• মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় - বাইশা।
- ‘বাইশা’ বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে যে পদ সংকলন করা হয়েছিল তা ‘বাইশ কবির মনসামঙ্গল’ বলে।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম, এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৭২.
বাংলা সাহিত্যের যুগ বিচারে নিচের কোনটি অন্যগুলাে থেকে আলাদা?
  1. ক) শূন্যপুরাণ
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) সতী ময়না ও লোর চন্দ্রানী
  4. ঘ) পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
ক) শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
- শূন্যপুরাণ  ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ, রচয়িতা রামাই পন্ডিত।
- রামাই পন্ডিতের কাল মুসলিম বিজয়োত্তর তেরো শতক বলে অনুমান করা হয়।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে।
- তাতে মুসলিম পীর-গাজী কর্তৃক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার থেকে সদ্ধর্মী তথা বৌদ্ধদের রক্ষা করার বিবরণ আছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

অপশনের অন্যান্যগুলো মধ্যযুগের সাহিত্যকর্ম।
২,১৭৩.
বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম একক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) শূন্যপুরাণ
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) বৈষ্ণবপদাবলি
  4. ঘ) অন্নদামঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বড়ুচণ্ডীদাস নামক জনৈক মধ্যযুগীয় কবি রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়কথা বিষয়ক একটি আখ্যানকাব্য।
এটি বাংলা ভাষায় রচিত কোন লেখকের প্রথম একক গ্রন্থ।
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায়ের গােয়ালঘর থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। ১৩২৩ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯১৬) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে বসন্তরঞ্জনের সম্পাদনায় 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে পুথিটি মুদ্রিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলাে হলাে রাধা, কৃষ্ণ ও বড়াই। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। মােট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৭৪.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড কোন ভাষায় পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন?
  1. ইংরেজি ভাষায়
  2. পর্তুগিজ ভাষায়
  3. বাংলা ভাষায়
  4. গ্রিক ভাষায়
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি ভাষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি ভাষায়
ব্যাখ্যা
• অ্যা গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল লেঙ্গুয়েজ:
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।

--------------------------
• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম।
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,১৭৫.
মৈমনসিংহ গীতিকা কত সালে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৩ সালে 
  2. ১৯২৬ সালে 
  3. ১৯২৯ সালে 
  4. ১৯৩৬ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে 
ব্যাখ্যা

 মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- গীতিকাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা ২৩ টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত "সৌরভ" পত্রিকায় এর দুইটি পালা প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৭৬.
"জয়নবের চৌতিশা" কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. লোকসাহিত্য
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- পারস্যের কবিদের দ্বারা মর্সিয়া সাহিত্যের প্রসার ঘটে।
- বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
-  রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা ও অফৎনামা'।
- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে 'জঙ্গনামা' নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য লেখেন। এটি ১৭২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,১৭৭.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন মঙ্গলকাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবি?
  1. ধর্ম মঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

 • মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্য ধারার কবি ছিলেন। 
​​- চণ্ডীমঙ্গল ধারার কবি: মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেনও। 

​অন্যদিকে,
- ​মনসা মঙ্গল কাব্য ধারার কবি: কানাহরি দত্ত, নারায়ণদেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।
- ‘ধর্মমঙ্গল’ ধারার কবি: ময়ূর ভট্ট, আদিরূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, শ্যাম পণ্ডিত, ঘনরাম চক্রবর্তী, নরসিংহ বসু। 
​- 'অন্নদা মঙ্গল’ ধারার কবি: ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৭৮.
কত বঙ্গাব্দে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২১ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩১৬ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩১৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৭৯.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. বিদ্যাসুন্দর
  2. দস্যু কেনারাম পালা
  3. মহুয়া
  4. কমলা
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারাম পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারাম পালা
ব্যাখ্যা
• ‘দস্যু কেনারাম পালা’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।

-------------------
• চন্দ্রাবতী:

- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য:
- রামায়ণ
- মলুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘বিদ্যাসুন্দর’ কবি কঙ্ক প্রণীত পালা।
• ‘কমলা’ পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান।
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৮০.
শ্রীচৈতন্যদেব কেন বিখ্যাত?
  1. ক) বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক
  2. খ) সভাকবি
  3. গ) কাব্যস্রষ্টা হিসেবে
  4. ঘ) অনুবাদক
সঠিক উত্তর:
ক) বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক
ব্যাখ্যা
শ্রীচৈতন্যদেব বৈষ্ণব ধর্মের প্রবরতক।তিনি নিজ্র কোনো গ্রন্থ রচনা করেন নি কিন্তু তাকে ঘিরে রচিত হয়েছে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্য।
তার বিখ্যাত উক্তি - মুচি হয়ে শুচি হয় যদি কৃষ্ণ ভজে। তার প্রকৃত নাম ছিলো বিশ্বম্ভর।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা
২,১৮১.
'রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল, যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. বড়ু চন্ডীদাস
  4. কাশীরাম দাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস একমাত্র কবি যিনি বাংলা ও ব্রজবুলি দুই ভাষা মিলিয়ে পদ রচনা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'মাথুর' ও মুরলীশিক্ষা। জ্ঞানদাস চন্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উক্তি-
''সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল। অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।''
'রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল, যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।',
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর, প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।'

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,১৮২.
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. চাঁদ সওদাগর
  2. ভাঁড়দত্ত
  3. ধনপতি
  4. মানসিংহ
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ সওদাগর
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র হচ্ছে চাঁদ সওদাগর।

• মনসামঙ্গল
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- একে 'পদ্মাপুরাণ' বলেও অভিহিত করা হয়।
- রামায়ণ বা রাধাকৃষ্ণ-কাহিনি মূলত সংস্কৃত প্রভাবিত।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এর লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে মনসামঙ্গলের।
- চাঁদ সদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- এই কাহিনি চৈতন্যপূর্ব যুগ থেকে নদনদী পরিবেষ্টিত গ্রাম বাংলার সর্প ভয়ে ভীত সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়।
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা। এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু।
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।
- এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

অন্যদিকে, 
------------------
- ভাঁড়দত্ত, ধনপতি হচ্ছে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র।
- মানসিংহ হচ্ছে অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৮৩.
অন্নদামঙ্গল কাব্য প্রথম কে মুদ্রিত করেন?
  1. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  2. রামকৃষ্ণ রায়
  3. রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
  4. রামেশ্বর ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য প্রথম মুদ্রিত করেন - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
- এটি ১৮১৬ সালে মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'শিবায়ন' বা 'শিবের মঙ্গল' রচনা করেন - রামকৃষ্ণ রায়।
• দুর্গামঙ্গল কাব্য রচনা করেন - রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
• 'শিবায়ন' বা 'শিব-সংকীর্তন' কাব্য রচনা করেন - রামেশ্বর ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,১৮৪.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি?
  1. ছত্রখণ্ড
  2. হারখণ্ড
  3. বংশীখণ্ড
  4. সর্পখণ্ড
সঠিক উত্তর:
সর্পখণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্পখণ্ড
ব্যাখ্যা

•'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন':
• বাংলা ভাষার মধ্যযুগের প্রাচীনতম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
• ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং পুঁথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রামের এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘরের টিনের চালার নিচ থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
• ১৯১৬ সালে তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামে প্রকাশিত হয়।
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য মোট ১৩টি খণ্ড ও ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।
• খণ্ডগুলো হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড,
- যমুনাখণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড
- বিরহখণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৮৫.
চম্পুকাব্য কোন যুগের সাহিত্য?
  1. ক) প্রাচীন যুগের
  2. খ) অন্ধকার যুগের
  3. গ) মধ্যযুগের
  4. ঘ) বর্তমান যুগের
সঠিক উত্তর:
খ) অন্ধকার যুগের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্ধকার যুগের
ব্যাখ্যা
চম্পুকাব্য অন্ধকার যুগের সাহিত্য।

গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে। 
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন। 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূন্যপুরাণ'।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৮৬.
বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত -
  1. কাশীরাম দাস
  2. বৃন্দাবন দাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা

বৃন্দাবন দাস ও জীবনীকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যে জীবনীকাব্য রচনার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বৃন্দাবন দাস। 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল।
- পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়।
- কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৮৭.
নাথ সাহিত্যের আদি ও প্রধান কবি কে?
  1. দৌলত উজির বাহারাম খান
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. মীননাথ
  4. শ্যামদাস সেন
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
•  নাথ সাহিত্যের আদি ও প্রধান কবি শেখ ফয়জুল্লাহ। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ - গোরক্ষ বিজয়।

• নাথ সাহিত্য:

- শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য নামে পরিচিত।
-  নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

• নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত:
১. মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনি।
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বনেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

• শেখ ফয়জুল্লাহ:
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা (১৫৭০)।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- গোরক্ষ বিজয় - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- গোপীচন্দ্রের সন্যাস - শুকুর মুহম্মদ।
- মীনচেতন - শ্যামাদাস সেন।
- ময়নামতির গান - ভবানী দাস।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২.  বাংলাপিডিয়া।
২,১৮৮.
‘গোরক্ষবিজয়’ কাহিনির রচয়িতা কে?
  1. বিজয় গুপ্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৮৯.
কোথা থেকে প্রথম 'শূন্যপুরাণ' প্রকাশিত হয়?
  1. শ্রীরামপুর মিশন
  2. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা
শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৯০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কৃত হয়-
  1. ১৯০৭ সালে
  2. ১৯০৯ সালে
  3. ১৯০৬ সালে
  4. ১৯১০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৯ সালে
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,১৯১.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতা হচ্ছেন-
  1. শ্রীরাম
  2. ধর্মঠাকুর
  3. শ্রীকৃষ্ণ
  4. শ্রীচৈতন্য
সঠিক উত্তর:
ধর্মঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মঠাকুর
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত। এগুলো খ্রিস্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তিকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল/অন্নদামঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।
মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী দেবী সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৯২.
কবি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কোন ধরনের কাব্য?
  1. ইতিহাসাশ্রিত যুদ্ধকাব্য
  2. ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য
  3. ইতিহাসাশ্রিত পৌরাণিক মহাকাব্য
  4. পৌরাণিক ও অলৌকিক রোমান্টিক প্রেমকাব্য
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' হচ্ছে ইতিহাসাশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য। 

---------------------
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:

- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ। অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ খদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

---------------
• আলাওল রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল,
- রাগতালনামা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,১৯৩.
নিচের কে মধ্যযুগের কবি নয়?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দ দাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দ দাস মধ্যযুগের কবি হলেও গোবিন্দচন্দ্র দাশ আধুনিক যুগের কবি।
উল্লেখ্য, বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দ দাস - বৈষ্ণব পদাবলির কবি।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস গাজীপুরের ভাওয়ালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে স্বভাব কবি বলা হয়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো :
- প্রেম ও ফুল
- কুঙ্কুম
- মগের মুল্লুক
- ফুলরেণু
- বৈজয়ন্তী
- শোক সান্ত্বনা

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

২,১৯৪.
দশারথি রায় কিসের জন্য বিখ্যাত ছিলেন?
  1. ক) শাক্তসঙ্গীত
  2. খ) পাঁচালী গান
  3. গ) ভক্তিগীতি
  4. ঘ) টপ্পা গান
সঠিক উত্তর:
খ) পাঁচালী গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাঁচালী গান
ব্যাখ্যা
কবিগানের যুগে পাঁচালী গান নামে এক ধরনের গান প্রচলিত ছিল এবং এই ধারায় দশারথি রায় শক্তিশালী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন। 
- 'দাশু রায়' নামে তিনি খ্যাত ছিলেন। 
- তিনি নিজেই পাঁচালী দল বেঁধে গান গাইতেন। 
- তাঁর পাঁচালী-পালা ১০ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। 

রামনিধি গুপ্ত ছিলেন - টপ্পা গানের পথিকৃৎ।
শাক্তসঙ্গীত/শ্যামাসঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন - রামপ্রসাদ সেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২,১৯৫.
নিচের কে শাক্তপদাবলির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) রামপ্রসাদ সেন
  2. খ) রামনিধি গুপ্ত
  3. গ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  4. ঘ) গোজলা গুই
সঠিক উত্তর:
ক) রামপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - রামপ্রসাদ সেন।

রামপ্রসাদ সেন (আনু. ১৭২০-১৭৮১)  বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং ‘কবিরঞ্জন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।। 
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে ‘রামপ্রসাদী সুর’ নামে পরিচিত। 
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় গান হলো:
- ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’
- ‘ডুব দেরে মন কালী বলে’
- ‘মা আমায় ঘুরাবি কত’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,১৯৬.
রবীন্দ্রনাথ কার কাব্যকে ‘রাজকন্ঠের মণিমালা’র সাথে তুলনা করেছেন?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) চন্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের সমাপ্তি ঘটে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার অন্নদামঙ্গল কাব্যকে তুলনা করেছেন 'রাজকন্ঠের মণিমালা'র সাথে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৯৭.
'মধুমালতী' - গ্রন্থটি মধ্যযুগের কোন ধারার সাহিত্য?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. জীবনী সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১৯৮.
আলাওল কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. ক) লক্ষণ সেনের রাজসভা
  2. খ) আরাকান রাজসভা
  3. গ) সম্রাট আকবরের রাজসভা
  4. ঘ) সম্রাট শাহজাহানের রাজসভা
সঠিক উত্তর:
খ) আরাকান রাজসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরাকান রাজসভা
ব্যাখ্যা

- মধ্যযুগের সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য মুসলমান কবি ছিলেন আলাওল।
- আরাকান রাজসভার তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- কবি আলাওলের সাহিত্যকর্ম গুলো হলোঃ
- পদ্মাবতী,
- সপ্ত পয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,১৯৯.
মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. কবি কঙ্ক
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি ১৭১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
২,২০০.
কোনটি আলাওল রচিত সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  2. নূরনামা
  3. সিকান্দারনামা
  4. তোহফা
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরনামা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'নূরনামা’ আবদুল হাকিম রচিত কাব্যগ্রন্থ।

আলাওল:

- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।