বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

মোট প্রশ্ন২,৭৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ

PrepBank · পাতা ১৭ / ২৮ · ১,৬০১১,৭০০ / ২,৭৬৪

১,৬০১.
মধ্যযুগের সময় হলো -
  1. ক) ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. খ) ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. গ) ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ঘ) ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লার মতে মধ্যযুগ হলো ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। এই মত প্রায় অনেকে গ্রহণ করেছেন।

উৎস: চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১,৬০২.
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ কোন কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. জঙ্গনামা
  3. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. সেক শুভোদয়া
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
'নিরঞ্জনের উষ্মা’:
- নিরঞ্জনের উষ্মা অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর ‘যবন’ মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত 'শূন্যপুরাণ' নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- ‘শূন্যপুরাণে’ কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
- এছাড়া নানা মতান্তরের কারণে ‘নিরঞ্জনের উষ্মার’ রচনাকাল নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬০৩.
আরাকান রাজসভায় রচিত বাংলা সাহিত্য কোনটি?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. গুলে বকাওলী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. নবীবংশ
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য'চন্দ্রাবতী'।
------------------------- 
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্য: 

- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।
-------------------------------- 
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। 

• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

'নবীবংশ' গ্রন্থ: 
- 'নবীবংশ' গ্রন্থটির রচয়িতা - সৈয়দ সুলতান।
- নবীবংশ গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত হয়। হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবনীকাব্য এটি।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৬০৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচনাকাল - 
  1. পঞ্চদশ শতাব্দীর
  2. চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীর
  3. ঊনবিংশ শতাব্দীর
  4. চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীর
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য:
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রমুখের মতে এই কাব্যের ভাষা চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতাব্দীর।
- রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, 'এই পুথি ১৩৫৮ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে সম্ভবত চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে লিখিত।'
- গোপাল হালদারের মতে, 'এসব পদ রচিত হয়ে থাকবে খৃঃ ১৪৫০ থেকে খৃঃ ১৫০০-এর মধ্যে।'
- সুকুমার সেনের মতে, 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের লিপিকাল অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধের আগে হইতে পারে না, সম্ভবত ঊনবিংশ শতাব্দীর।' পণ্ডিতগণ এসব অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধান পুথির লিপিকে অবলম্বন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬০৫.
রামায়ণ মহাকাব্যটি কতটি কাণ্ডে বিভক্ত?
  1. পাঁচটি
  2. ছয়টি
  3. সাতটি
  4. আটটি
সঠিক উত্তর:
সাতটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতটি
ব্যাখ্যা
রামায়ণ মহাকাব্যটি সাতটি কাণ্ডে বিভক্ত।

• রামায়ণ:
- রামায়ণ আদি মহাকাব্য।
- শিল্পসম্মত ও আলঙ্কারিক কাব্যকৃতি রূপে রামায়ণই প্রথম কাব্য।
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি।
- রামায়ণ মহাকাব্যে আর্য-সভ্যতা ও সংস্কৃতির সর্বাত্মক বিকাশের রূপ ফুটে উঠেছে।
- রামায়ণ সপ্ত কাণ্ডে বিভক্ত। কাণ্ডগুলো হল বাল, অযোধ্যা, আরণ্য, কিষ্কিন্ধ্যা, সুন্দর, লঙ্কা ও উত্তর কাণ্ড।
- চব্বিশ হাজার অনুষ্টুপ শ্লোকে এটি রচিত।
- এই দুই কাণ্ডে রামকে বিষ্ণুর অবতার বলে নির্দেশ করে ভক্তি দেখানো হয়েছে।
- কিন্তু বাকি পাঁচটি কাণ্ড সংহত ও মহাকাব্যের রীতি অনুসারে রচিত এবং এগুলোতে রাম বীর ও আদর্শ চরিত্র রূপে অঙ্কিত হয়েছে।

- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা।
- মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম সূত্রপাত করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- তিনি তাঁর অমর সৃষ্টির মাধ্যমে যে অবিনশ্বর ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তাকে ড. সুকুমার সেন 'অসমসাহসিকতার নামান্তর' বলে অভিহিত করেছেন।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন চন্দ্রাবতী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬০৬.
জয়দেব কত শতকের কবি ছিলেন?
  1. দশম শতক
  2. বারো শতক
  3. পনেরো শতক
  4. আঠারো শতক
সঠিক উত্তর:
বারো শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বারো শতক
ব্যাখ্যা

জয়দেব:
- জয়দেব (বার'শ শতক) সংস্কৃত ভাষার কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
- বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্' রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬০৭.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান বলে গণ্য ছিল?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা: 
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।
 
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬০৮.
‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্যটি কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে?
  1. সংস্কৃত
  2. উর্দু
  3. ফারসি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ। কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- কাব্যটি ফারসি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়। 
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬০৯.
বাংলা সাহিত্যে কবিগান ধারার প্রবর্তক- 
  1. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. গোঁজলা গুঁই 
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ 
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা গুঁই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা গুঁই 
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যে কবিগান ধারার প্রবর্তক- গোঁজলা গুঁই। 
-------------------------------------------
• গোঁজলা গুঁই:
-  গোঁজলা গুঁই ছিলেন অষ্টাদশ শতকের একজন খ্যাতনামা বাঙালি লোকগায়ক ও কবিওয়ালা।
- তাঁকে বাংলা কবিগানের আদিগুরু ও প্রবর্তক বলা হয়।
- সেই সময় বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কবিগান নামে এক ধরনের সঙ্গীতধর্মী সাহিত্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- গোঁজলা গুঁই প্রথম পেশাদার কবিদল গঠন করে ধনীদের বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে কবিগান পরিবেশন করতেন।
- তিনি মূলত টপ্পা রীতিতে গান রচনা করতেন।
- তাঁর গানগুলো নায়ক-নায়িকার সংলাপের মতো করে লেখা হতো।
- ‘এসো এসো চাঁদ বদনি’ ও ‘প্রাণ, তোরে হেরিয়ে’—এই ধরনের গান টপ্পা রীতির বৈশিষ্ট্য বহন করে। 
- তাঁর শিষ্য লালু, নন্দলাল, কেষ্টা মুচি, রঘুনাথ দাস ও রামজী পরবর্তীকালে কবিগানকে আরও সমৃদ্ধ ও জনপ্রিয় করে তোলেন।
----------------------------------------------------
কবিগান: 
- মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের অবক্ষয়ের যুগে দুই ধরনের কবি মঞ্চে অবতীর্ণ হয়ে পরস্পরকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে যে গান রচনা ও পরিবেশন করতেন, তাকে কবিগান বলা হয়।
- এই ধরনের গান যাঁরা রচনা করতেন ও গাইতেন, তাঁদের বলা হতো কবিওয়ালা।
- এই সঙ্গীত কবিওয়ালারা আসরে গেয়ে শোনাতেন। 
- সমাজের উঁচু–নিচু সব শ্রেণির মানুষই কবিগান শুনে আনন্দ পেত।
- এই কবিওয়ালাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন—নিতাই বৈরাগী, কেষ্টা মুচি, গোঁজলা গুঁই, রাসু, ভোলা ময়রা, নীলমণি পাটনি ও অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি।
- কবিগানের আদিকবি হিসেবে গোঁজলা গুঁইকে গণ্য করা হয়।
- এবং বিদেশি কবিওয়ালাদের মধ্যে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধরার সূচনা করেছিলেন শাহ মুহাম্মদ সগীর।
• রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পাগানের জনক। 
• শেখ ফয়জুল্লাহকে বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া সাহিত্য ধারার প্রবর্তক বলা হয়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৬১০.
কোনটি রামাই পন্ডিত রচিত অন্ধকার যুগের কাব্য?
  1. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  2. শূন্যপুরাণ
  3. ডাকার্ণব
  4. সেক শুভোদয়া
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা

• 'শূন্যপুরাণ': 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'। 
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬১১.
বাংলা সাহিত্যের 'অন্ধকার যুগ' বলা হয় -
  1. ১২০১ - ১৫০০ সাল
  2. ৯৫০ - ১৩৫০ সাল
  3. ১২০১-১৩৫০ সাল
  4. ১২০১-১৪৫০ সাল
সঠিক উত্তর:
১২০১-১৩৫০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০১-১৩৫০ সাল
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।

বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
১২০১ - ১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ,
১৫০১ - ১৬০০ চৈতন্য যুগ;
১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬১২.
‘চন্দ্রাবতী’ পালাটির রচয়িতা কে?
  1. নয়ানচাঁদ ঘোষ
  2. দ্বিজ ঈশান
  3. মনসুর বয়াতি
  4. দ্বিজ কানাই
সঠিক উত্তর:
নয়ানচাঁদ ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নয়ানচাঁদ ঘোষ
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

গীতিকাগুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা, 
- চন্দ্রাবতী
- রামায়ণ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া
১,৬১৩.
মর্সিয়া সাহিত্য মূলত কিসের উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. বৌদ্ধ ধর্মীয় উপাখ্যান
  2. মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস
  3. রামায়ণ কাহিনী
  4. কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনী
সঠিক উত্তর:
কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনী
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ।
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬১৪.
মঙ্গলকাব্যে কবি নন কে?
  1. মানিক দত্ত
  2. জয়দেব
  3. দ্বিজমাধম
  4. ঘনরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্যে কবি নন- জয়দেব। 
- 'জয়দেব' ছিলেন বৈষ্ণব পদাবলী কবি। 

---------------
• মঙ্গলকাব্য:

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনিকাব্য। ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।

- মঙ্গলকাব্য কাব্যের প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে এই কাব্যগুলো রচনা করেছেন। এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি। মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়।
                                                                                                                    
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬১৫.
‘সত্যপীরের পুথি’-এর লেখক কে?
  1. ক) রামপ্রসাদ সেন
  2. খ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
  3. গ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
খ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ ১৮শ শতকের মধ্যভাগে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি মূলত ছিলেন কবি, পুথি সাহিত্যের দোভাষী।
তাঁর উল্ল্যেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো,
-আমীর হামজা,
-সোনাভান,
-জঙ্গনামা,
-সত্যপীরের পুথি ও
-ইউসুফ জোলেখা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৬১৬.
কার আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন?
  1. রাজা শিবসিংহ
  2. লক্ষণ সেন
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. রাজা রাজবল্লভ
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা

‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬১৭.
নাথ সাহিত্যকে কয় ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. দুইভাগে
  2. তিনভাগে
  3. চারভাগে
  4. পাঁচভাগে
সঠিক উত্তর:
দুইভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইভাগে
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।

• নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১. মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২. রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৬১৮.
বৈষ্ণব সাহিত্য কত ধরনের?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।

- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলস্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬১৯.
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন?
  1. অবহট্‌ঠ
  2. ব্রজবুলি
  3. বাংলা
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
ব্রজবুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি ও কবিগণ:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।

• মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথা:
১. জীবনীকাব্য,
২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও
৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

• বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয় তবে তাঁর রচিত পদের ভাষা ছিল সংস্কৃত। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।

• পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
• বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি।

১,৬২০.
কোনটিকে লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলা হয়?
  1. উপকথা
  2. রূপকথা
  3. ছড়া
  4. গীতিকা
সঠিক উত্তর:
গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতিকা
ব্যাখ্যা
• গীতিকা:
- গীতিকা লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ‌।
- গীতিকা হয় বেশ দীর্ঘ; তাতে বড় কাহিনি বলা হয়ে থাকে কিন্তু অধিকাংশ গীতিকার লেখকের নাম পাওয়া যায় না।
- এতে বলা হয় নরনারীর জীবন ও হৃদয়ের কথা।

- কয়েকটি গীতিকা: মহুয়া, দেওয়ানা মদিনা, মলুয়া ইত্যাদি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লোকসাহিত্যের অনুরাগী ছিলেন।
- লোকসাহিত্যের পৃথিবী হচ্ছে পল্লী। তবুও সাহিত্য পল্লীর মানুষের আনন্দকে ফুটিয়েছে ফুলের মতন, বেদনাকে বাজিয়েছে একতারার সুরের মতন। লোকসাহিত পল্লীর মানুষের বুকের বাঁশরি।

অন্যদিকে,
• রূপকথা:
অন্যান্য লোককথার চেয়ে রূপকথার কাহিনি দীর্ঘতর হয়ে থাকে। রূপকথার মাধ্যমে এক অজানা রহস্যময় জগতের বিচিত্র কাহিনি শ্রোতার কাছে পরিবেশিত হয়। এসব কাহিনিতে বিভিন্ন রাজ্য ও রাজপুত্রের উল্লেখ থাকে। ভৌগলিক মাপকাঠিতে সে সব রাজ্যের কোন পরিচয় থাকে না। নানা অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য ঘটনা এতে ভীড় করে। বাস্তব রাজ্যের সঙ্গে রূপকথার কোন সম্পর্ক নেই।

• উপকথা:
পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা। কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যে উপকথা'র সৃষ্টি। এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বা বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু-পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।

• ছড়া:
লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি ছড়া। ছড়াগুলো বিশেষ কোনো ব্যক্তির সৃষ্টি বলে মনে করা হয় না, এর সৃষ্টির পিছনে সমষ্টিমনের প্রভাব কার্যকর।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬২১.
চম্পুকাব্য কী?
  1. ক) বাংলা ও মৈথিলি মিশ্রিত কাব্য
  2. খ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
  3. গ) সংস্কৃত ও প্রাকৃত মিশ্রিত কাব্য
  4. ঘ) চম্পুক রাজ্যে লিখিত কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
ব্যাখ্যা
• গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- চম্পুকাব্যের একটি নিদর্শন হচ্ছে রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’।
- আরেকটি হচ্ছে হলায়ূধ মিশ্রের 'সেক শুভোদয়া'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,৬২২.
"রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মনভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজমাধব
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
"রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মনভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা জ্ঞানদাস

জ্ঞানদাস:
- তিনি চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে আনুমানিক ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম।
- জ্ঞানদাস পদ রচনার ক্ষেত্রে মধ্যযুগের গতানুগতিক ধারা পরিহার করে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অর্থাৎ রাধাকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত-ভগবানের আধ্যাত্মিক লীলা বর্ণনা করেন।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়।

গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:
- সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়ে গেল।

- রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল,
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬২৩.
নিচের কোনটি নাথ সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. গোর্খবিজয়
  2. ময়নামতির গান
  3. গোপীচন্দ্রের সন্যাস
  4. জয়নবের চৌতিশা
সঠিক উত্তর:
জয়নবের চৌতিশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়নবের চৌতিশা
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত কাব্য 'জয়নবের চৌতিশা'। এটি মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ।

নাথ সাহিত্য:

- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো গোরক্ষবিজয়।

উল্লেখ্য,
- শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক।
- মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬২৪.
জীবনী সাহিত্যের ধারা কার জীবনকাহিনীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে?
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. শ্রীকৃষ্ণ
  3. বিদ্যাপতি
  4. ধর্মঠাকুর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
• শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।

-------------------
• চৈতন্য জীবনী:
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

চৈতন্যদেবের বাংলা জীবনী:
• বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬২৫.
‘পূর্ববঙ্গ-গীতিকা’ শিরোনামে প্রকাশিত পালাগুলোর সংগ্রাহক কে?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. চন্দ্রকুমার দে
  3. সুকুমার সেন
  4. দক্ষিণারঞ্জন রায় মিত্র
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রকুমার দে:
- চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায়  মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও  পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬২৬.
রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলার পটভূমিতে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. রামায়ণ
  2. ভাগবত
  3. মহাভারত
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
⇒ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।

• এটি মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। খণ্ডগুলি হলো:
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বূল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালীয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড (রাধাবিরহ)।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)। 

⇒ পদসংখ্যা:
- খণ্ডিত পদসহ মোট পদে সংখ্যা: ৪১৮টি। 
- সংস্কৃত শ্লোক : ১৬১টি।
- পুঁথির পাতার সংখ্যা : ২২৬টি।
- পুঁথির পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪৫২টি।
- বিলুপ্ত পৃষ্ঠা সখ্যা : মাঝের ৪৫টি।
- প্রাপ্ত পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪০৭টি। 
- লিপিকারের সংখ্যা : ৩ জন বা তিন হাতের লেখা।
- কবির ভণিতা সংখ্যা : ৪০৯টি। 

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১,৬২৭.
মধ্যযুগের সাহিত্যধারার মধ্যে কোনটি ভিন্ন?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. লোক সাহিত্য
  3. অনুবাদ সাহিত্য
  4. চরিত সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যযুগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬২৮.
কবি যশোরাজ খান বৈষ্ণবপদ রচনা করেন কোন ভাষায়?
  1. ক) ব্রজবুলি
  2. খ) বাংলা
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
ক) ব্রজবুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা
ব্রজবুলি ভাষা:
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা। 
- মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এই কৃত্রিম ভাষার উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন। 
- এ ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করেন। পদগুলিতে রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ব্রজবুলি।

- বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলায় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল; বিশেষত চৈতন্যদেব এই পদ আস্বাদন করায় এর ভাষার প্রতি বাংলার কবিগণ আকৃষ্ট হন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- আধুনিক কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

- বাংলাদেশে প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনা করেন যশোরাজ খান, আসামে শংকরদেব এবং উড়িষ্যায় রামানন্দ রায়
- তারা তিনজনই ছিলেন ষোল শতকের কবি। ব্রজবুলির শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ছিলেন - গোবিন্দদাস কবিরাজ (১৬শ-১৭শ শতক)।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৬২৯.
অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. আমীর হামজা
  2. কয়রাপরী
  3. নিরঞ্জনের রুম্মা
  4. নসিহৎনামা
সঠিক উত্তর:
নিরঞ্জনের রুম্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরঞ্জনের রুম্মা
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর 'কলিমা জালাল' বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা'। রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ'।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'।

অন্যদিকে,
- সাবিরিদ খান রচিত গ্রন্থ হানিফা- কয়রাপরী।
- 'নসিহৎনামা' গ্রন্থ রচনা করেন-শেখ পরান, আবদুল হাকিম, শেখ সুলায়মান। 
- 'আমীর হামজা' গ্রন্থ রওনা করেন- আবদুন নবী, সৈয়দ হামজা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
১,৬৩০.
'ব্রজবুলি' ভাষায় কোন দুটি ভাষার মিশ্রণ ঘটেছে?
  1. বাংলা ও বিহারী
  2. বাংলা ও ওড়িয়া
  3. বাংলা ও মৈথিলি
  4. বাংলা ও আসামী
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও মৈথিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও মৈথিলি
ব্যাখ্যা
ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।

- এ ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করেন।
- পদগুলিতে রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ব্রজবুলি।
- অবশ্য এই পদগুলি তখন ব্রজধামে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল বলেও একে ব্রজবুলি বলা হতো। 

- বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলায় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল; বিশেষত  চৈতন্যদেব এই পদ আস্বাদন করায় এর ভাষার প্রতি বাংলার কবিগণ আকৃষ্ট হন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।
- বাংলা ছাড়া আসাম এবং উড়িষ্যাতেও ব্রজবুলির বেশ চর্চা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৩১.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’- পঙক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
⇒ অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো-
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৩২.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
১,৬৩৩.
মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৭৬০
  2. খ) ১৭৫২
  3. গ) ১৭৪২
  4. ঘ) ১৭১২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭১২
ব্যাখ্যা
মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তিনি ১৭১২ সালে জন্মগ্রহণ করেন ও ১৭৬০ সালে মারা যান। তিনি অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ডঃ. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৩৪.
কোন গ্রন্থটি শুধুমাত্র আলাওল কর্তৃক রচিত নয়?
  1. ক) রাগতালনামা
  2. খ) তোহ্ফা
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
ঘ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা

সতীময়না লোরচন্দ্রাণী মূলত দৌলত কাজী রচিত অনুবাদ গ্রন্থ। এটি সাধনের “মৈনাসত” কাব্য থেকে অনুদিত। এই কাব্যগ্রন্থটির তৃতীয় খন্ড আলাওলের রচনা। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত। সেগুলির মধ্যে -
- আখ্যানকাব্য হচ্ছে পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩);
- নীতিকাব্য - তোহফা (১৬৬৪) এবং
- সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য - রাগতালনামা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,৬৩৫.
আলাওলের পদ্মাবতী অনুবাদ করা হয়-
  1. হিন্দি সাহিত্য থেকে
  2. সংস্কৃত সাহিত্য থেকে
  3. মারাঠি সাহিত্য থেকে
  4. আরাকান সাহিত্য থেকে
সঠিক উত্তর:
হিন্দি সাহিত্য থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি সাহিত্য থেকে
ব্যাখ্যা

 ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া

১,৬৩৬.
'রসুলবিজয়' কাব্য কে রচনা করেন?
  1. জৈনুদ্দীন
  2. আবদুল হাকিম
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
জৈনুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈনুদ্দীন
ব্যাখ্যা

জৈনুদ্দীন:
- জৈনুদ্দীন (১৫শ শতক)  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি। তিনি ছিলেন সুফি ধারার অনুসারী; শাহ্ মোহাম্মদ খান ছিলেন তাঁর পীর। কবির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন গৌড়ের যুবরাজ ইছপ খান (ইউসুফ খান), যিনি পরে শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮২) নামে গৌড়ের সুলতান হন। 
- রসুলবিজয় কাব্য রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- তার রচিত রসুলবিজয় যুদ্ধবিষয়ক একটি কাহিনীকাব্য।
- এতে  হযরত মুহাম্মদ (স.) ও ইরাকাধিপতি জয়কুমের মধ্যেকার দীর্ঘযুদ্ধের বর্ণনা আছে। যুদ্ধে ইসলামের বিজয় দেখানো হয়েছে।
- কাব্যটিতে রসুলের মধুর বাণী আছে বটে, কিন্তু যুদ্ধের ঘনঘটা ও শৌর্যবীর্যের যে ব্যাপক বর্ণনা আছে, তাতে কবিত্বের পরিচয় আছে কমই।
- কাব্যের উৎস ফারসি সাহিত্য হলেও কবি কোন কাব্য অনুসরণ করেছেন তা জানা যায় না।

উল্লেখ্য, অপশনে থাকা শেখ চাঁদ ও জৈনুদ্দীন - উভয়ই 'রসুল বিজয়' কাব্য রচনা করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৩৭.
'বেহুলা-লক্ষিন্দরের কাহিনী' পাওয়া যায় কোন মঙ্গলকাব্যে?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৩৮.
কার আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করা হয়?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. রাজা লক্ষ্মণ সেন
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. রাজা নারায়ণ দেব
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা

'অন্নদামঙ্গল' কাব্য: 
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ। 
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম। 

অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা : 
- শিবনারায়ণ, 
- কালিকামঙ্গল, 
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৩৯.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকায় স্থান পেয়েছে?
  1. ভেলুয়া
  2. নেজাম ডাকাতের পালা
  3. কঙ্ক ও লীলা
  4. কাফেনচোরা
সঠিক উত্তর:
কঙ্ক ও লীলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঙ্ক ও লীলা
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

অন্যদিকে,
- পূর্ববঙ্গ গীতিকা পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। সেগুলির মধ্যে ধোপার পাট, মইষাল বন্ধু, কাঞ্চন মালা, কমলা রানীর গান, মদনকুমার ও মধুমালা, নেজাম ডাকাতের পালা, দেওয়ান ঈশা খাঁ, মাঞ্জুর মা, কাফেনচোরা, ভেলুয়া, হাতিখেদা, আয়নাবিবি, কমল সদাগর, চৌধুরীর লড়াই, গোপিনী-কীর্তন, সুজা-তনয়ার বিলাপ, বারতীর্থের গান, নুরুন্নেছা ও কবরের কথা, পরীবানুর হাঁইলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৬৪০.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালার চরিত্র হলো-
  1. হুমরা বেদে, সাধু
  2. কঙ্ক ও লীলা
  3. আলাল, দুলাল
  4. রতন , মানিক
সঠিক উত্তর:
আলাল, দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাল, দুলাল
ব্যাখ্যা
দেওয়ানা মদিনা:
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
- বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
- বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল ও দুলালের বিচিত্র জীবনকাহিনি এবং দুলাল ও গৃহস্থকন্যা মদিনার প্রেম কাহিনি ‘দেওয়ানা মদিনা' এর মূল বিষয়।
- ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
- ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

অন্যদিকে,
’মহুয়া পালার’ চরিত্র, হুমরা বেদে, সাধু।
কঙ্কা ও লীলা পালার চরিত্র, কঙ্ক ও লীলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪১.
কোরেশী মাগন ঠাকুর কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. ১৭শ শতক
  2. ১৬শ শতক
  3. ১৫শ শতক
  4. ১৪শ শতক
সঠিক উত্তর:
১৭শ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭শ শতক
ব্যাখ্যা

কোরেশী মাগন ঠাকুর:
- কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৭শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। তিনি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল।
- রোসাঙ্গের কবি আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং তাঁরই নির্দেশে পদ্মাবতী (১৬৫২) ও সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৫৯) কাব্য রচনা করেন। মাগন ঠাকুর গুণীর সমাদর করতেন এবং তিনি নিজেও ছিলেন নানা গুণের অধিকারী।
- তাঁর রচিত চন্দ্রাবতী কাব্যের একটিমাত্র পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনি আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য। বর্ণনাধর্মী এ কাব্যে সাহিত্যিক গুণের অভাব থাকলেও মধ্যযুগের কাব্য হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৪২.
'লাউসেনের কাহিনি' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত। প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।
- ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য প্রচারের জন্য ধর্মমঙ্গল কাব্যের ধাররি সূত্রপাত হয়েছে।
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনি-১ রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি এবং ২. লাউসেনের কাহিনি। এর মধ্যে লাউসেনের কাহিনিই কাব্যে অধিকতর প্রাধান্য পেয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক। তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসের কাহিনি অবলম্বনে 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।

এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব, নরসিংহ, হৃদয়রাম, গোবিন্দরাম প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৪৩.
আলাওলের 'তোহফা' কে কি ধরনের কাব্য বলা হয়?
  1. ক) প্রণয়কাব্য
  2. খ) নীতিকাব্য
  3. গ) আত্মজীবনী
  4. ঘ) জঙ্গনামা
সঠিক উত্তর:
খ) নীতিকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নীতিকাব্য
ব্যাখ্যা
 আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩);

নীতিকাব্য
- তোহফা (১৬৬৪)

সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
- রাগতালনামা।

এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।
- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।
- 'পদ্মাবতী' কাব্যটি মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত, 'সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী' সাধনকৃত 'মৈনাসত', 'সপ্তপয়কর' নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি 'হফত্ পয়কর', 'তোহফা' ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল এবং সিকান্দরনামা নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে রচিত।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪৪.
'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকুমার দে
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা'র লোকপালাসমূহের সংগ্রাহক ছিলেন- চন্দ্রকুমার দে।

---------------------
• চন্দ্রকুমার দে:

- চন্দ্রকুমার দে (১৮৮৯-১৯৪৬) লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লেখক।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার রাঘবপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- চন্দ্রকুমার আমৃত্যু পল্লীর এ লোকসম্পদ সংগ্রহে নিয়োজিত থেকে বহু সংখ্যক পালা সংগ্রহ করেন।
- সেগুলির অধিকাংশই দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) ও পূর্ববঙ্গ-গীতিকা (১৯২৬) নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয় এবং দেশবিদেশের বহু গুণিজনের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

চন্দ্রকুমারের সংগৃহীত পালাগুলি হচ্ছে -
• মৈমনসিংহ-গীতিকা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- দস্যু কেনারাম,
- কমলা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- দেওয়ান মদিনা ও
- ধোপার পাট;

• পূর্ববঙ্গ-গীতিকা:
- ভেলুয়া সুন্দরী,
- মইষাল বন্ধু,
- কমলারাণী,
- দেওয়ান ঈসা খাঁ,
- ফিরোজ খাঁ দেওয়ান,
- আয়না বিবি,
- শ্যামরায়,
- শিলাদেবী,
- আন্ধা বন্ধু,
- বন্ডুলার বারমাসী,
- রতন ঠাকুর,
- পীর বাতাসী,
- জিবালনি,
- সোনারামের জন্ম ও
- ভারাইয়া রাজা।

- এগুলি ছাড়া তাঁর সংগৃহীত আরও কতগুলি পালা হচ্ছে: অধুয়া সুন্দরী, সুরতজামাল, কাজলরেখা, আসমা, সত্যপীরের পাঁচালি, চন্দ্রাবতীর রামায়ণ, লীলার বারমাসী ও গোপিনী কীর্তন।
- পালাগুলির বেশির ভাগ ময়মনসিংহ ও সিলেট থেকে সংগৃহীত হয়েছে। মৌখিক ধারার এসব গান ও সাহিত্য মাঠপর্যায় থেকে সংগ্রহ করে জনসম্মুখে তুলে ধরার মৌলিক কৃতিত্ব চন্দ্রকুমারের। পালা সংগ্রহ ছাড়া চন্দ্রকুমার নিজে বেশ কিছু কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৪৫.
'সোনাভান' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ:
- তিনি দোভাষী পুথি রচয়িতা।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার হাফেজপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর নামে প্রচলিত এ যাবৎ পাঁচখানি কাব্যের সন্ধান পাওয়া যায়। 
- ইউসুফ জোলায়খা, জঙ্গনামা ও আমীর হামজা কাব্যের উৎস আরবি ও ইরানি সাহিত্য, আর সোনাভান ও সত্যপীরের কথা কাব্যের উৎস ভারতীয় সাহিত্য।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য:
- আমীর হামজা, 
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৬৪৬.
কোন গ্রাম থেকে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' আবিষ্কার কর হয়?
  1. জয়দেবপুর
  2. কাঁকিল্যা
  3. বৃষ্ণপুর
  4. বাঁকুড়া
সঠিক উত্তর:
কাঁকিল্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁকিল্যা
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৩ খন্ডের কাব্য। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪৭.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান ধারা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল কাব্য:
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয় - বাইশা।
- ‘বাইশা’ বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গলের জনপ্রিয়তার জন্য বিভিন্ন কবির রচিত কাব্য থেকে বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ করে যে পদ সংকলন করা হয়েছিল তা ‘বাইশ কবির মনসামঙ্গল’ বলে।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
- মনসামঙ্গলের এই কাহিনি মূলত নিগৃহীত মানবতার জীবনকথা।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৪৮.
নাথ সাহিত্য কয় ভাগে বিভক্ত হয়েছে?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
ব্যাখ্যা
নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।
 
• শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৬৪৯.
কোন গ্রন্থটি মালাধর বসু অনূদিত?
  1. হংসদূত
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. নূরনামা
  4. ভাগবত
সঠিক উত্তর:
ভাগবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগবত
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু:
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫০.
খনার খ্যাতির কারণ-
  1. ক) ধাঁধা
  2. খ) ছড়া
  3. গ) শ্লোক
  4. ঘ) বচন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বচন
ব্যাখ্যা
খনার বচন মধ্যযুগের একটি সাহিত্যধারা। হিন্দু সমাজে খনার বচনের উৎপত্তি হয়েছিল। খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৬৫১.
মঙ্গলকাব্যের মধ্যে কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
 - 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
 - চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গর ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।
- অপরাপর মঙ্গলকাব্যে যেখানে একটি কাহিনি বর্তমান, 'চণ্ডীমঙ্গল' এর ব্যতিক্রম, এতে আছে দুটি কাহিনি।
- কাব্যের কাহিনি দুই খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রথম-আক্ষেটিক খণ্ড এবং দ্বিতীয়- বণিক খণ্ড।
- প্রথম খণ্ডে আক্ষেটিক বা ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি এবং দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ধর্মমঙ্গল কাব্যেরও দুটি কাহিনি রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬৫২.
কোন কবির উপাধি 'গুণরাজ খান'?
  1. গোবিন্দদাস
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা

মালাধর বসু:
- তিনি মূলত মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তিনি ১৫ শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে বর্ধমান জেলার কুলিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'।
- এই কাব্যে ভগবত অনুসরণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও তাঁর লীলা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৫৩.
'খনার বচন’ - রচয়িতার প্রকৃত নাম কী?
  1. পদ্মাবতী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. লীলাবতী
  4. শকুন্তলা
সঠিক উত্তর:
লীলাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীলাবতী
ব্যাখ্যা

খনার বচন:
- ‘খনার বচন’ বলতে এমন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তিকে বোঝায়, যেটি জীবনের নীতি, শুভাশুভ, বিধিবিধান, উপদেশ ও দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব ঘটনা-ভিত্তিক উপলব্ধিকে সহজ করে।
- এগুলিকে ইংরেজিতে saying বা proverb–এর সমার্থক বলা যায়, তবে বচনের তাৎপর্য তা থেকেও বেশি বিস্তৃত।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে এটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৫৪.
শূন্যপুরাণ গ্রন্থের টীকার নাম কী?  
  1. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. নিরঞ্জনের টীকা
  3. নিরঞ্জনের উষ্মা
  4. ক+গ 
সঠিক উত্তর:
ক+গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+গ 
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ ও নিদর্শন": 
- বাংলা সাহিত্যের “অন্ধকার যুগ” বলতে ১২০১–১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কালকে বোঝানো হয়।
- এ যুগকে “সন্ধ্যাযুগ” বা “বন্ধ্যাযুগ” ও বলা হয়।
- বখতিয়ার খলজির বঙ্গবিজয়ের (১২০৪ খ্রিঃ) পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাহিত্যচর্চা প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
- তবুও এই সময়ের কিছু উল্লেখযোগ্য নিদর্শন পাওয়া যায়।
 - যার মধ্যে ‘সেক্‌ শুভোদয়া' ও “শূন্যপুরাণ” অন্যতম।
 “শূন্যপুরাণ” ও “সেক্‌ শুভোদয়া”—উভয়ই সংস্কৃত ভাষায় রচিত - দুইটি গ্রন্থই গদ্য-পদ্য মিশ্র রচনাশৈলীতে লেখা হয়েছে।
- গদ্য-পদ্য মিশ্র রচনাশৈলীতে লেখার কারণে এদের বলা হয় “চম্পু কাব্য”।

“শূন্যপুরাণ':
- এই যুগে রামাই পণ্ডিত রচিত “শূন্যপুরাণ” বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- এই গ্রন্থটি প্রাকৃত-অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।
- এটি পূজা-প্রচারমূলক ধর্মগ্রন্থ।
- রামাই পণ্ডিত এখানে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সমন্বয়ে এক নতুন মতবাদ-“শূন্যধর্ম” প্রচারের চেষ্টা করেছেন।
- “শূন্যপুরাণ” গ্রন্থটির অন্তর্গত টীকা হলো “নিরঞ্জনের রুষ্মা বা উষ্মা”।

“নিরঞ্জনের রুষ্মা বা উষ্মা”:
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ বা ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ হলো শূন্যপুরাণ কাব্যের অন্তর্গত একটি অংশ।
- এতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচারের গল্প বর্ণনা করা হয়েছে।
- পাশাপাশি মুসলমানদের জাজপুরে আগমন এবং ব্রাহ্মণ্য দেবদেবীদের রাতারাতি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণের কাল্পনিক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- এটি দেখায় যে, ব্রাহ্মণ শাসনের অবসান এবং মুসলিম শাসনের প্রবর্তনের পক্ষে রচনাকারীর মনোভাব, যা তৎকালীন সামাজিক পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক;
বাংলাপিডিয়া।  

১,৬৫৫.
শাহ মুহম্মদ সগীর কার নির্দেশে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন?
  1. সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. ইলিয়াস শাহ
  3. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম কবি এবং ইউসুফ-জোলেখা কাব্যের রচয়িতা। তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০ খ্রিস্টাব্দ) রাজত্বকালে এই কাব্য রচনা করেন।
- তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাব্যে উল্লেখ নেই, তবে পণ্ডিতদের গবেষণার ভিত্তিতে তাঁর জন্মস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কিত তথ্য:
- ড. মুহম্মদ এনামুল হক তাঁর গবেষণায় শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কতিপয় শব্দের ব্যবহার লক্ষ করেছেন, যেমন স্থানীয় ভাষার প্রভাব ও শব্দচয়ন।এই ভিত্তিতে তিনি অনুমান করেছেন যে শাহ মুহম্মদ সগীর চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম তৎকালীন সময়ে আরাকানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যা তাঁর কাব্যচর্চার পটভূমির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

- তাঁর কাব্যে বাংলার স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপ ফুটে উঠেছে, যা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পটভূমির সঙ্গে মিলে যায়।

শাহ মুহম্মদ সগীর সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম [প্রাচীনতম] মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ্ মুহম্মদ সগীর।

-------------------
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
এই কাব্যে রাজবন্দনায় তিনি নিজেকে সুলতান গিয়াসউদ্দিনের আজ্ঞার অধীন বলে উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর সভাকবি হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
- কবি 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্যের রাজবন্দনা অংশে লিখেছেন- "মনুষ্যের মৈদ্ধে জেহ্ন ধর্ম অবতার। মহা নরপতি গোজন পিরথিম্বীর সার।।"
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। সগীর বাইবেল পড়েন নি; তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মুহম্মদ এনামুল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৫৬.
'চন্দ্রাবতী' কোনটির অন্তর্গত?
  1. ক) মধ্যযুগের গীতিকবিতা
  2. খ) পূর্ববঙ্গ গীতিকা
  3. গ) মৈমনসিংহ গীতিকা
  4. ঘ) নাথ গীতিকা
সঠিক উত্তর:
গ) মৈমনসিংহ গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৈমনসিংহ গীতিকা
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
• এগুলো হলোঃ
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা উল্লেখযোগ্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৬৫৭.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্যটি আবিষ্কারক করেন কে?
  1. বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
  4. চন্দ্রকুমার দে
সঠিক উত্তর:
বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। 
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।  মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত। 

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া 
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৫৮.
"জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী" কোন কবির উক্তি?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. মোজাম্মেল হক
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ’জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।’ - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের পঙ্‌ক্তি।

• অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, যা সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে।
যেমন -
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬৫৯.
ভবানী দাস রচিত 'ময়নামতির গান' কোন যুগের নিদর্শন?
  1. প্রাচীন যুগের
  2. মধ্য যুগের
  3. আধুনিক যুগের
  4. অন্ধকার যুগের
সঠিক উত্তর:
মধ্য যুগের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য যুগের
ব্যাখ্যা

• ভবানী দাস রচিত 'ময়নামতির গান' মধ্য যুগের নিদর্শন।

• ময়নামতির গান:
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'ময়নামতির গান' হলো মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা নাথ সাহিত্যের অন্তর্গত।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬০.
আধুনিক যুগের কোন কবি মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগের মীর মশাররফ হোসেন ও কায়কোবাদ মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
১,৬৬১.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মতে প্রাচীন যুগের সময়কাল-
  1. ক) ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. খ) ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. গ) ৬৫০-১০৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ঘ) ৯৫০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
খ) ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

• প্রাচীন যুগের সময়কাল,
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

১,৬৬২.
'জঙ্গনামা' কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. গ) সৈয়দ সুলতান
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
খ) দৌলত উজির বাহরাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা
'জঙ্গনামা' কাব্যটির রচয়িতা- 'দৌলত উজির বাহরাম খান'

- তার রচিত প্রথম কাব্যের নাম ‘জঙ্গনামা’ বা মক্তুল হোসেন।
- তার ২য় কাব্য ‘লায়লী মজনু’।
- এটি তিনি পারসি কবি আব্দুর রহমান জামির ‘লায়লী মজনু’ অবলম্বনে রচনা করেন।

'জঙ্গনামা' কাব্য
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। 
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৬৩.
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি?
  1. কেতকামঙ্গল
  2. শিবনারায়ণ
  3. কালিকামঙ্গল
  4. মানসিংহ-ভবানন্দ
সঠিক উত্তর:
কেতকামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেতকামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের খণ্ড নয়- কেতকামঙ্গল।

---------------------
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:

- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে।
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৬৪.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে মানুষ ছিল গৌণ?
  1. অবক্ষয় যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. প্রাচীন যুগ
  4. আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৬৫.
'গীতগোবিন্দম্' গ্রন্থটি কোন ভাষায় রচিত?
  1. বাংলা 
  2. ব্রজবুলি
  3. সংস্কৃত 
  4. হিন্দি 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 
ব্যাখ্যা

• 'গীতগোবিন্দম্':
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত একটি গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬৬.
নিম্নলিখিত কোন দুইটি আখ্যানকাব্য দৌলত উজির বাহরাম খানের রচনা?
  1. ইমামগনের কেচ্ছা ও ইউসুফ জুলেখা
  2. লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়
  3. ইউসুফ জুলেখা ও নূরনামা
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়
ব্যাখ্যা
দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- তাঁর প্রকৃত নাম - আসাউদ্দীন। তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন: লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়। উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৬৭.
মধ্যযুগের সাহিত্যিক শেখ ফয়জুল্লাহ কত শতকের কবি?
  1. ১৫শ শতক
  2. ১৬শ শতক
  3. ১৪শ শতক
  4. ১৭শ শতক
সঠিক উত্তর:
১৬শ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬শ শতক
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্ম:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়, 
- সত্যপীর,
- জয়নবের চৌতিশা এবং
- রাগনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬৮.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্র কী বলেছেন?
  1. প্রথম নবজাগরণের কবি
  2. খাঁটি বাঙালি কবি
  3. সন্ধিক্ষণের কবি
  4. সংবাদপত্রকার কবি
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাঙালি কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাঙালি কবি
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধিক্ষণের কবি, অবক্ষয় যুগের (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাকে 'খাঁটি বাঙালি' কবি বলেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৬৯.
সৈয়দ সুলতানের শিষ্য ছিলেন কে?
  1. ভারতচন্দ্র
  2. মুহম্মদ খান
  3. দৌলত কাজী
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৭০.
'নদের চাঁদ' - চরিত্রটি কোন পালার অন্তর্ভুক্ত?
  1. রূপবতী
  2. মলুয়া
  3. কমলা
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। 

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৭১.
পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. নিজাম ডাকাতের পালা
  2. আয়না বিবি
  3. দস্যু কেনারামের পালা
  4. চৌধুরীর লড়াই
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারামের পালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্যু কেনারামের পালা
ব্যাখ্যা
• "দস্যু কেনারামের পালা" পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত নয়।

• পূর্ববঙ্গ গীতিকার উপাখ্যান গুলো হলো:

- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- চৌধুরীর লড়াই,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া ইত্যাদি।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা রয়েছে।
• এগুলো হলো:
- চন্দ্রাবতী (নয়ানচাঁদ ঘোষ),
- দেওয়ানা মদিনা (মনসুর বয়াতি),
- মহুয়া (দ্বিজ কানাই),
- মলুয়া (চন্দ্রাবতী),
- কমলা (দ্বিজ ঈশান),
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা (চন্দ্রাবতী),
- রূপবতী,
- কাজল রেখা,
- কঙ্ক ও লীলা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৬৭২.
নিম্নের কোনটি পুঁথি সাহিত্যের অন্তর্গত নয়?
  1. ক) দেওয়ান ভাবনা
  2. খ) কাসাসুল আম্বিয়া
  3. গ) আমীর হামজা
  4. ঘ) ইউসুফ জোলেখা
সঠিক উত্তর:
ক) দেওয়ান ভাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দেওয়ান ভাবনা
ব্যাখ্যা
• ময়মনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
- 'দেওয়ানা ভাবনা' গীতিকার রচয়িতা চন্দ্রাবতী।

• পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।
- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুঁথি সাহিত্যের আদি ও সার্থক কবি হলেন ফকির গরীবুল্লাহ

বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েক ভাগে বিভক্ত করা যায়- 
১) প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্য: 
ইউসুফ জোলেখা, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামান, লাইলী মজনু, পদ্মাবতী, গুলে বাকওয়ালী ইত্যাদি। 

২) যুদ্ধ সম্পর্কিত কাব্য: 
জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান, কারবালার যুদ্ধ ইত্যাদি। 

৩) পীর পাঁচালি:
গাজী কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি। 

৪) ইসলাম ধর্ম, ইতিহাস নবী আউলিয়ার জীবনী ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কাব্য 
কাসাসুল আম্বিয়া, তাজকিরাতুল আউলিয়া, হাজার মসলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৭৩.
মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'-
  1. মহাভারতের বাংলা অনুবাদ
  2. ভাগবতের বাংলা অনুবাদ
  3. শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী
  4. রামায়ণের বাংলা অনুবাদ
সঠিক উত্তর:
ভাগবতের বাংলা অনুবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগবতের বাংলা অনুবাদ
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' গ্রন্থ:
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন-'গৌড়েশ্বর দিলা নাম গুণরাজ খান।' গৌড়েশ্বর রাজকর্মচারী মালাধর বসুর কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবুদ্ধি গুণে। প্রভৃতি গুণে প্রীত হয়ে এই উপাধি দান করেছিলেন।

- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর অনুবাদ কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।

- মালাধর বসু ব্যাসদেব কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসরণে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। ১৪৭৩ থেকে ১৪৮০ সাল-এই দীর্ঘ সাত বৎসরের চেষ্টায় কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন। শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বেই কাব্যটি রচিত হয়েছিল।

- চৈতন্যদেব কবি মালাধর বসুর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন এবং তাঁর কাব্যের প্রশংসা করেছেন। কবির পুত্র সত্যরাজ খান এবং পৌত্র রামানন্দ শ্রীচৈতন্যের কৃপা লাভ করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য 'গোবিন্দবিজয়' ও 'গোবিন্দমঙ্গল' নামেও পরিচিত। অনুবাদমূলক হলেও রাগরাগিণীযুক্ত এই পাঁচালি রাধাকৃষ্ণ প্রেমপ্রতীকে ভক্তিবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত বলে ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১,৬৭৪.
বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ কত বঙ্গাব্দে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন?
  1. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২১ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩১৬ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩১৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৭৫.
বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-ভাগবত
  2. চৈতন্য-মঙ্গল
  3. শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত
  4. চৈতন্যচরিতামৃত
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-ভাগবত
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।

• শ্রীচৈতন্যদেব:

- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- ১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'।
- মুরারিগুপ্ত রচিত চৈতন্যজীবনী শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত।  

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৭৬.
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রাম বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য- 
  1. বৈষ্ণব পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে 
  2. মনসামঙ্গল কাব্যের পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে 
  4. শূন্যপুরাণের পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে 
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে 
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

- কাব্যটি মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।
১,৬৭৭.
কবি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' একটি- 
  1. মৌলিক রচনা
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. অনুবাদ গ্রন্থ
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য সম্পর্কে কিছু তথ্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে — দুইটি পর্ব রয়েছে।
এদের মধ্যে- 
প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 
---------------------
• সাহিত্যিক পরিচিতি: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া

১,৬৭৮.
'পদ্মাবতী' কাব্যের প্রথম পর্বে কার সফল অভিযানের বিবরণ আছে?
  1. আলাউদ্দিন খিলজির
  2. চিতোররাজ রত্নসেনের
  3. মাগন ঠাকুরের
  4. সাদ থদোমিন্ডারের
সঠিক উত্তর:
চিতোররাজ রত্নসেনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিতোররাজ রত্নসেনের
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্ডারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৭৯.
কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনা কোনটি?
  1. গুলে বকাওলী
  2. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  3. মক্তুল হোসেন
  4. হানিফা কয়রাপরী
সঠিক উত্তর:
মক্তুল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মক্তুল হোসেন
ব্যাখ্যা
'মক্তুল হোসেন':
• মুহম্মদ খানের 'মুক্তল হোসেন' কারবালার কাহিনি বিষয়ক মর্সিয়া সাহিত্য। কারবালায় শহীদ ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদদের উদ্দেশে লিখিত শোকগাথা ও প্রশংসামূলক কবিতা মর্সিয়া সাহিত্য নামে অভিহিত হয়েছে।

• মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ মর্সিয়া কাব্য মক্তুল হোসেন। এ কাব্যের রচয়িতা চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার জোবরা গ্রামের অধিবাসী মুহম্মদ খান (১৫৮০-১৬২০ খ্রি.)। এ কাব্যটি ফারসি কাব্য মক্তুল হোসেন এর ভাবানুবাদ হলেও এতে কবির নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা ও কল্পনার প্রাধান্য আছে।

অন্যদিকে, 
• গুলে বকাওলী, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল ও হানিফা কয়রাপরী রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কাব্য। 

-----------------
• 'জঙ্গনামা':

- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি 'জঙ্গ' শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর 'জঙ্গনামা' শব্দের অর্থ যুদ্ধ বা তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। অর্থ্যাৎ 'জঙ্গনামা' কাব্যের বিষয় যুদ্ধ-বিগ্রহ।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়। যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।  বাংলা সাহিত্যে 'জঙ্গনামা' বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:
• শেখ ফয়জুল্লাহ, (জয়নবের চৌতিশা),
• দৌলত উজির বাহরাম খান (জঙ্গনামা),
• মুহম্মদ খান (মক্তুল হোসেন),
• শেরবাজ (কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা),
• হেয়াত মামুদ (জারি-জঙ্গনামা),
• জাফর (শহীদ-ই-কারবালা ও সখিনার বিলাপ),
• হামিদ (সংগ্রাম হুসেন),
• ফকির গরিবুল্লাহ (জঙ্গনামা ও সোনাভান),
• মুহম্মদ হামিদুল্লাহ খান (গুলজার-ই-সাহাদৎ) এবং
• ওয়াহিদ আলী (বড় জঙ্গনামা)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম ।
১,৬৮০.
সন্ধ্যাযুগকে সাহিত্যিকভাবে “অন্ধকার যুগ” বলা হয়েছে মূলত কোন কারণে?
  1. সাহিত্য সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হওয়ায়
  2. রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাহিত্যচর্চায় ভাটা পড়ায়
  3. সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার বন্ধ হওয়ায়
  4. সাহিত্যিক চর্চার জন্য সহায়ক প্রতিষ্ঠান ও সমর্থনের অভাবে
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাহিত্যচর্চায় ভাটা পড়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাহিত্যচর্চায় ভাটা পড়ায়
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দের সময়কালকে সাধারণত “অন্ধকার যুগ” বা “সন্ধ্যাযুগ ” বলা হয়।
- এটি বন্ধ্যা যুগ নামেও পরিচিত। 
- এই সময়কালে বখতিয়ার খলজির ১২০৪ সালের বঙ্গবিজয়ের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণে সাহিত্যচর্চায় উল্লেখযোগ্য ভাটা দেখা দেয়।
- ফলে সাহিত্যের কোনো বড় নিদর্শন এই সময় থেকে পাওয়া যায়নি।
- তাই অনেক সমালোচক এবং লেখক (যেমন—হুমায়ুন আজাদ, লাল নীল দীপাবলি) এ সময়কালকে সাহিত্যিকভাবে “অন্ধকার যুগ” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

- তবুও এই যুগে কিছু সীমিত সাহিত্যকর্ম রচিত হয়েছিল।
- উল্লেখযোগ্য নিদর্শনের মধ্যে আছে ‘সেক শুভোদয়া’ ও ‘শূন্যপুরাণ’।
- দুটোই সংস্কৃত ভাষায় রচিত এবং গদ্য-পদ্য মিশ্র রচনাশৈলীতে লেখা হয়েছে।
- ফলে এদের চম্পু কাব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- সমালোচকরা মনে করেন, যদিও এই সময়ে সাহিত্যচর্চা খুবই সীমিত আকারে হয়েছে, তবে একেবারেই বিলুপ্ত হয়নি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ। 

১,৬৮১.
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. চণ্ডীদাস
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস।
- তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারারূপে চিত্রিত করেছেন।
- দেহগত কামনা- বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। কবি তাকে মর্ত্যলোক থেকে বহু দূরদুর্গম অধ্যাত্মতীর্থে স্থান দিয়েছেন।
- চণ্ডীদাস রাধার কামগন্ধহীন প্রেম অত্যন্ত সহজ সরল কথায় ছন্দে ও অলঙ্কার প্রয়োগে প্রস্ফুটিত করেছেন।
- কবি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনা তীব্রতর করে রূপ দিয়েছেন।

- কবি এই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন :
এমন পিরীতি কভু নাহি দেখি শুনি।
পরাণে পরাণ বান্ধা আপনা আপনি॥
দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।
আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া॥

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,৬৮২.
সেক শুভোদয়া গ্রন্থকে 'dog sanskirt' বলে উল্লেখ করেছেন কে?
  1. ড. সুকুমার সেন
  2. ড. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ 
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ুধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হলো- সেক শুভোদয়া। এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা। গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,৬৮৩.
ড. সুকুমার সেন ‘উপকথা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন নিচের কোনটিকে?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ড. সুকুমার সেন 'ধর্মমঙ্গল' কাব্যকে ‘উপকথা’ বা ‘কেরামতি কাহিনি’ বলে উল্লেখ্য করেছেন।
• এছাড়া তিনি বলেন-
- বাংলা সাহিত্যে যদি মহাকাব্য বলিয়া যদি কিছু থাকে তবে তাহা ধর্মমঙ্গল।
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। 
- এই কাব্যে প্রায় বিশ জন কবি ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্মমঙ্গলের প্রচলিত কাহিনী লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৪.
'কড়চা' বলতে কী বুঝেন?
  1. ক) ছড়া
  2. খ) এক প্রকার চটুল কাব্য
  3. গ) জীবনী সাহিত্য
  4. ঘ) ডায়েরি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডায়েরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডায়েরি
ব্যাখ্যা
- 'কড়চা' কথাটির আধুনিক অর্থ দাড়িয়েছে দিনিলিপি বা ডায়েরি। 
- তবে মুরারি গুপ্ত ও স্বরুপ দামোদারের কল্যানে চৈতন্যজীবনি গ্রন্থ কড়চা বলে অভিহিত হয়েছে। 
- তাঁরা  চৈতন্যজীবন কাহিনি শ্লোকে পরিবেশন করে কড়চা বলে নির্দেশ করেছেন। 
- সুকুমার সেনের মতে, "কড়চা শব্দটি আসিয়াছে প্রাকৃত 'কটকচ্চ' সংস্কৃত 'কৃতকৃত্য' হইতে। কট শব্দটি প্রাচীন অনুশাসনে 'খসড়া লেখা' (original draft)অর্থেই পাওয়া গিয়াছে। কড়চার অর্থও এই বুৎপত্তির অনুরূপ খসড়া রচনা , স্মারকলিপি, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।"

উৎস:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৮৫.
কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে-
  1. ক) ডাকের বচনে
  2. খ) খনার বচনে
  3. গ) কবিগানে
  4. ঘ) দোহাকোষে
সঠিক উত্তর:
খ) খনার বচনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খনার বচনে
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার  বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি  বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তবে এগুলো যে রূপে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর কোন লিখিত নিদর্শন নেই এবং তা মুখে মুখে প্রচলিত থাকার ফলে তার ভাষাও হয়ে পরেছে আধুনিক যুগের মত। 
- ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার  বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।
- ডাক ও খনার  বচনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে। 

খনার বচনের একটি উদাহরণ নিম্নরূপ- 
'খাটে খাটায় লাভের গাঁতি।
তার অর্ধেক কাঁধে ছাতি।।
ঘরে বসে পুছে বাত।
তার ভাগ্যে হাভাত।।"

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬৮৬.
মহাকবি আলাওল রচিত কাব্য-
  1. চন্দ্রবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. মধুমালতী
  4. লাইলী মজনু
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উল্লেখ্য,
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পদ্মাবতী একটি নাটক।

অন্যদিকে,
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা। ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।
• লাইলী-মজনু কাব্যের রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খাঁ। 

--------------
• আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না,
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৮৭.
চন্ডীদাস কোন যুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি?
  1. ক) প্রাচীনযুগ
  2. খ) মধ্যযুগ
  3. গ) আধুনিকযুগ
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যযুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা
চন্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি।
এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়: 

১. বড়ু চন্ডীদাস
২. দ্বিজ চন্ডীদাস
৩. দীন চন্ডীদাস ও 
৪. চন্ডীদাস

- এই চারটি নামের মধ্যে শেষ তিনটি নাম একজনের নাকি তাঁরা পৃথক কবি তা নিশ্চিত করে আজও বলা যাচ্ছে না। এই সমস্যাকে চণ্ডীদাস-সমস্যা বলে।
- তবে এঁদের মধ্যে বড়ু চন্ডীদাসকে মোটামুটিভাবে চিহ্নিত করা গেছে। তাঁর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নান্নুর গ্রামে (মতান্তরে ছাতনা-বাঁকুড়া)। তাঁর পিতা দুর্গাদাস বাগচী ছিলেন বরেন্দ্র শ্রেণীর ব্রাহ্মণ।
- বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে। বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া থেকে এ কাব্যের পুথি আবিষ্কার করে ১৯১৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্যদিকে,
- আধুনিক যুগের নাগরিক কবি - শামসুর রাহমান।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,৬৮৯.
শ্রীচৈতন্যদেবের জন্ম কোথায়?
  1. ক) নদীয়ায়
  2. খ) নবদ্বীপে
  3. গ) সিলেটে
  4. ঘ) পুরীতে
সঠিক উত্তর:
খ) নবদ্বীপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নবদ্বীপে
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে একটি পঙক্তি না লিখেও শ্রীচৈতন্যদেবের নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে। 
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্যদেবের অবদান অপরিসীম। 

শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৫৩৩ সালে পুরীতে মারা যান। 
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। 
- প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯০.
’শূন্যপুরাণ’ কাব্যগ্রন্থটির অংশবিশেষ-
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. নিরঞ্জনের উষ্মা
  4. সেক শুভোদয়া
সঠিক উত্তর:
নিরঞ্জনের উষ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরঞ্জনের উষ্মা
ব্যাখ্যা
’শূন্যপুরাণ’ কাব্যগ্রন্থটির অংশবিশেষ- নিরঞ্জনের উষ্মা।
নিরঞ্জনের উষ্মা সম্পর্কে ভূদেব চৌধুরির অভিমত, এই অংশটুকু তুর্কি আক্রমনের পরবর্তীকালে রচনা।
- নিরঞ্জনের উষ্মা অংশের প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
----------------------------------------------
'শূন্যপুরাণ':
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম 'শূন্যপুরাণ'।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।
-  এই কাব্যে ’শূন্যময় দেবতা’ ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯১.
'মহুয়া' পালার চরিত্র কোনটি? 
  1. মদিনা
  2. সাধু
  3. সোনার
  4. আলাল
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা
মহুয়া পালা: 
- 'মহুয়া' পালার রচয়িতা- দ্বিজ কানাই। 
- মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাই পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিবাসী। 
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তি জীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়। 
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: 
• মহুয়া, 
• নদের চাঁদ, 
• হুমরা বেদে, 
সাধু প্রমুখ। 

অন্যদিকে, 
- 'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: 
• আলাল, 
• দুলাল, 
• মদিনা, 
• সোনার প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯২.
''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।" - কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) নূরনামা
  2. খ) বঙ্গবাণী
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) চতুর্দশপদী কবিতা
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবাণী
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি আবদুল হাকিম রচিত 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের "বঙ্গবাণী" কাব্য/কবিতার অংশ।
- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ বিশেষভাবে প্রশংসিত।  

আবদুল হাকিম মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
আবদুল হাকিম রচিত পাঁচটি গ্রন্থ:  
- ইউসুফ-জুলেখা,  
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলক এবং
- হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯৩.
দেবতার পূজা প্রচারের জন্য কোনটি সৃষ্টি হয়েছে? 
  1. ক) চণ্ডীমঙ্গল
  2. খ) সারদামঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
ধর্মঠাকুর পুরুষ। ধর্মঠাকুরকে পূজার উদ্দেশ্যে এ কাব্য লেখা হয়। 
এ কাব্যের দুটি কাহিনি :
- রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি
- লাউসেনের কাহিনি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবি ময়ূরভট্ট। 
- ধর্মমঙ্গরের শ্রেষ্ট ঘনরাম চক্রবর্তী। 

উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১,৬৯৪.
মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র কোনটি?
  1. ক) বেহুলা
  2. খ) ফুল্লরা
  3. গ) রাধা
  4. ঘ) খুল্লনা
সঠিক উত্তর:
ক) বেহুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেহুলা
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের সংগ্রামী, ব্যক্তিত্ববান চরিত্র চাঁদ সওদাগর
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র বেহুলা

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১,৬৯৫.
পশুপাখির চরিত্র অবলম্বনে সৃষ্ট কাহিনিকে কী বলে?
  1. রূপকথা
  2. ব্রতকথা
  3. উপকথা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপকথা
ব্যাখ্যা
উপকথা:
 - পশুপক্ষীর চরিত্র অবলম্বনে যেসব কাহিনি গড়ে উঠেছে সেগুলোর নাম উপকথা। কৌতুকসৃষ্টি ও নীতিপ্রচারের জন্যই এগুলোর সৃষ্টি।
- এতে মানবচরিত্রের মতই পশুপাখির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে বক্তব্য পরিবেশিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মতই পশু- পাখিরা কথাবার্তা বলে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছে।
- কেবল পশুপক্ষীর চরিত্রই যে উপকথার বিষয়বস্তু তা নয়, মানবচরিত্রও এগুলোতে স্থান পেয়েছে।
- পশুপক্ষী অনেক ক্ষেত্রে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। গল্পের বর্ণনায় পুনরাবৃত্তি এসে বর্ণনাকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬৯৬.
যুগসন্ধিক্ষণের সাহিত্য বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. সম্পূর্ণ মধ্যযুগীয় দেবকেন্দ্রিক কাব্য
  2. সম্পূর্ণ আধুনিক মানবকেন্দ্রিক সাহিত্য
  3. মধ্যযুগীয় দেবকেন্দ্রিক ও আধুনিক মানবকেন্দ্রিক ভাবধারার সংমিশ্রণ
  4. শুধু আখ্যানকাব্য ও মঙ্গলকাব্য
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগীয় দেবকেন্দ্রিক ও আধুনিক মানবকেন্দ্রিক ভাবধারার সংমিশ্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যযুগীয় দেবকেন্দ্রিক ও আধুনিক মানবকেন্দ্রিক ভাবধারার সংমিশ্রণ
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধিক্ষণ:
- বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিক্ষণ (১৭৬০–১৮৬০) হলো মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মধ্যবর্তী সময়কাল।
- এটি  সাহিত্যিক অবক্ষয় ও পরিবর্তনের যুগ হিসেবে পরিচিত।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর (১৭৬০) পর থেকে মাইকেল মধুসূদন দত্তের আবির্ভাব (১৮৬০) পর্যন্ত এই শতাব্দীতে নতুন আঙ্গিক ও ভাবধারার সংমিশ্রণ ঘটেছিল।

- যুগসন্ধিক্ষণের সাহিত্য বৈশিষ্ট্য হলো মধ্যযুগের দেবকেন্দ্রিক সাহিত্য ও আধুনিক মানবকেন্দ্রিক ভাবধারার সংমিশ্রণ। 
- এই সময়কে অনেক লেখক অবক্ষয় বা বন্ধ্যকাল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- কারণ এই যুগে মৌলিক প্রতিভার অভাব ছিল এবং অনুকরণপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছিল।
- তবে হিন্দু সমাজে কবিওয়ালা ও মুসলিম সমাজে শায়েরের উদ্ভব ঘটেছিল।
- এবং ছোটখাটো খণ্ডকবিতা, লৌকিক কবিতা, ছড়া ও বিতর্কধর্মী গান রচনার মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা সীমিত আকারে অব্যাহত ছিল।
- এই যুগে মঙ্গলকাব্যের অবসান ঘটে এবং খণ্ডকবিতা ও লৌকিক কবিতা জনপ্রিয়তা পায়। 
- যুগের শেষের দিকে বাংলা গদ্যের বিকাশ শুরু হয়, যা আধুনিক সাহিত্যের সূচনা হিসেবে গণ্য।

- এই সময়ের প্রধান কবি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাহিত্যকর্মে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের ছাপ একসাথে দেখা যায়।
- যদিও তিনি মূলত মধ্যযুগীয় কবি, তাঁর রচনায় আধুনিক সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যও প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ কারণে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
- অর্থাৎ, তিনি মধ্যযুগের বাংলায় সাহিত্য রচনা করেছেন এবং সেই সঙ্গে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রভাবও তার কাজের মধ্যে রেখেছেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের উল্লেখযোগ্য কাব্য হলো—
• ভারত সন্তানের প্রতি, 
• ভারতের অবস্থা এবং
• ভারতের ভাগ্যবিপ্লব। 

- এছাড়া এই যুগে সমসাময়িক সমাজ, স্বদেশপ্রেম ও ঐতিহাসিক বিষয়গুলোও সাহিত্যিক চর্চায় প্রতিফলিত হয়। 
- এইভাবে যুগসন্ধিক্ষণ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সংযোগকাল হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৬৯৭.
কবীন্দ্র পরমেশ্বরের অনুবাদকৃত মহাভারতকে কী বলা হয়?
  1. ভারত পাচালী
  2. পাচালী মহাভারত
  3. ছুটি খাঁনী মহাভারত
  4. পরাগলী মহাভারত
সঠিক উত্তর:
পরাগলী মহাভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগলী মহাভারত
ব্যাখ্যা

পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৬৯৮.
বাংলাভাষায় সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী কোনটি?
  1. চৈতন্য মঙ্গল
  2. চৈতন্য-ভাগবত
  3. চৈতন্য- জীবনামৃত
  4. চৈতন্য-চরিতামৃত
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-চরিতামৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-চরিতামৃত
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিতামৃত' (১৬১৫)।

• শ্রীচৈতন্যদেব:

- বাংলা সাহিত্যে একটি পক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে।
- তাঁর জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ, নবদ্বীপ; মৃত্যু ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ, পুরী।
- শ্রীচৈতন্যদেবের পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র; ডাকনাম নিমাই।
- বাংলা সাহিত্যে ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- তাঁর জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থের নাম লোচন দাসের 'চৈতন্য মঙ্গল'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৯৯.
শীতলামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. অকিঞ্চন চক্রবর্তী
  2. নিত্যানন্দ চক্রবর্তী
  3. মাণিকরাম গাঙ্গুলী
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
নিত্যানন্দ চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যানন্দ চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
নিত্যানন্দ চক্রবর্তী:
- কবি আঠার শতকের শেষ পাদে বর্তমান ছিলেন।
- তিনি মেদিনীপুরের অন্তর্গত কাশীযোড়ার রাজা রাজনারায়ণের সভাসদ ছিলেন।
- শীতলামঙ্গল কাব্যের আদি কবি নিত্যানন্দ চক্রবর্তী।
- তিনি ১৭৭৭-৮৩ সালের মধ্যে শীতলামঙ্গল রচনা করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- কবির ভাষা সুমার্জিত এবং কিছুটা আধুনিকতার পরিচায়ক।
- তাঁর রচনা সরল।

অন্যদিকে,
• চণ্ডীমঙ্গলের সর্বশেষ কবি - অকিঞ্চন চক্রবর্তী।
• ধর্মমঙ্গল ও শীতলামঙ্গল কাব্য রচনা করেন - মাণিকরাম গাঙ্গুলী।
• ধর্মমঙ্গল ধারার কবি - রূপরাম চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৭০০.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য' কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?
  1. নেপালের রাজদরবার থেকে 
  2. গোয়ালঘর থেকে 
  3. পাঠশালা থেকে
  4. কান্তজীর মন্দির থেকে
সঠিক উত্তর:
গোয়ালঘর থেকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়ালঘর থেকে 
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। 

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো-
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।